অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৮১/১. সুস্থতা আর অবসর, আখিরাতের জীবনই সত্যিকারের জীবন।
মোট ১৮২ টি হাদিস
হাদিস নং: ৬৪৩২
সহিহ (Sahih)
محمد بن كثير عن سفيان عن الاعمش عن ابي واىل عن خباب قال هاجرنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم قصه.
৬৪৩২. খাব্বাব (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হিজরত করেছিলাম। [১২৭৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৮৯)
হাদিস নং: ৬৪৩৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا سعد بن حفص، حدثنا شيبان، عن يحيى، عن محمد بن ابراهيم القرشي، قال اخبرني معاذ بن عبد الرحمن، ان ابن ابان، اخبره قال اتيت عثمان بطهور وهو جالس على المقاعد، فتوضا فاحسن الوضوء ثم قال رايت النبي صلى الله عليه وسلم توضا وهو في هذا المجلس، فاحسن الوضوء ثم قال " من توضا مثل هذا الوضوء، ثم اتى المسجد فركع ركعتين، ثم جلس، غفر له ما تقدم من ذنبه ". قال وقال النبي صلى الله عليه وسلم " لا تغتروا ".
আবূ আবদুল্লাহ বলেন, السَّعِيْرِ-এর বহুবচন سُعُرٌ আর মুজাহিদ বলেন, الْغَرُوْرُ- এর অর্থ শায়ত্বন।
৬৪৩৩. ইবনু আবান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’উসমান ইবনু ’আফফান (রাঃ)-এর কাছে অযূর পানি নিয়ে এলাম। তখন তিনি বসার স্থানে বসা ছিলেন। তিনি সুন্দরভাবে অযূ করলেন। তারপর তিনি বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ স্থানেই দেখেছি, তিনি সুন্দরভাবে অযূ করলেন, অতঃপর তিনি বললেন, যে লোক এ অযূর মতো অযূ করবে, তারপর মসজিদে এসে দু’রাক’আত সালাত আদায় করে সেখানে বসবে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন যে, তোমরা ধোঁকায় পড়ো না।[1]
আবূ আবদুল্লাহ বলেন, তিনি হুমরান ইবনু আবান। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৯০)
৬৪৩৩. ইবনু আবান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’উসমান ইবনু ’আফফান (রাঃ)-এর কাছে অযূর পানি নিয়ে এলাম। তখন তিনি বসার স্থানে বসা ছিলেন। তিনি সুন্দরভাবে অযূ করলেন। তারপর তিনি বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ স্থানেই দেখেছি, তিনি সুন্দরভাবে অযূ করলেন, অতঃপর তিনি বললেন, যে লোক এ অযূর মতো অযূ করবে, তারপর মসজিদে এসে দু’রাক’আত সালাত আদায় করে সেখানে বসবে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন যে, তোমরা ধোঁকায় পড়ো না।[1]
আবূ আবদুল্লাহ বলেন, তিনি হুমরান ইবনু আবান। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৯০)
নোট: [1] ভাল করে ওযু করে মসজিদে ঢুকে বসার পূর্বেই দু’রাকাত সালাত আদায় করা সুন্নাত এবং রসূল দু’রাক‘আত সুন্নাত আদায় না করে বসতেও নিষেধ করেছেন। অনেককেই দেখা যায় তারা মসজিদে ঢুকে বসে পড়েন অতঃপর উঠে সুন্নাত পড়েন, এটা সুন্নাতের বিপরীত কাজ।
হাদীসের শেষ বাক্য দ্বারা উদ্দেশ্য শুধুমাত্র ছোট গুনাহ ক্ষমা হবে। জেনে রাখা প্রয়োজন যে, ছোট গুনাহগুলোও যদি বারবার করা হয় তাহলে তা কাবীরা গুনাহের রূপান্তরিত হয়ে যায়। আর তখন কিন্তু ক্ষমা করা হবে না। (ফাতহুল বারী)
হাদীসের শেষ বাক্য দ্বারা উদ্দেশ্য শুধুমাত্র ছোট গুনাহ ক্ষমা হবে। জেনে রাখা প্রয়োজন যে, ছোট গুনাহগুলোও যদি বারবার করা হয় তাহলে তা কাবীরা গুনাহের রূপান্তরিত হয়ে যায়। আর তখন কিন্তু ক্ষমা করা হবে না। (ফাতহুল বারী)
হাদিস নং: ৬৪৩৪
সহিহ (Sahih)
يحيى بن حماد حدثنا ابو عوانة عن بيان عن قيس بن ابي حازم عن مرداس الاسلمي قال قال النبي صلى الله عليه وسلم يذهب الصالحون الاول فالاول ويبقى حفالة كحفالة الشعير او التمر لا يباليهم الله بالة قال ابو عبد الله يقال حفالة وحثالة.
৬৪৩৪. মিরদাস আসলামী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নেক্কার ব্যক্তিরা একে একে চলে যাবেন। আর অবশিষ্টরা যব ও খেজুরের অব্যবহার্য অংশের মত পড়ে থাকবে। আল্লাহ্ এদের প্রতি গ্রাহ্যও করবেন না। [৪১৫৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৯১)
হাদিস নং: ৬৪৩৫
সহিহ (Sahih)
حدثني يحيى بن يوسف، اخبرنا ابو بكر، عن ابي حصين، عن ابي صالح، عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ـ قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " تعس عبد الدينار والدرهم والقطيفة والخميصة، ان اعطي رضي، وان لم يعط لم يرض ".
وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى (إِنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلاَدُكُمْ فِتْنَةٌ)
আল্লাহর বাণীঃ ’তোমাদের ধন-সম্পদ আর সন্তান-সন্ততি হচ্ছে পরীক্ষার সামগ্রী মাত্র।’ (সূরাহ আত্-তাগাবূন ৮/২৮)
৬৪৩৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দ্বীনার, দিরহাম, রেশমী চাদর, পশমী কাপড়ের দাসরা ধ্বংস হোক। ওদের এসব দেয়া হলে খুশি থাকে আর দেয়া না হলে নাখোশ হয়।[1] [২৮৮৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ,৫৯৮৬ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৯২)
আল্লাহর বাণীঃ ’তোমাদের ধন-সম্পদ আর সন্তান-সন্ততি হচ্ছে পরীক্ষার সামগ্রী মাত্র।’ (সূরাহ আত্-তাগাবূন ৮/২৮)
৬৪৩৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দ্বীনার, দিরহাম, রেশমী চাদর, পশমী কাপড়ের দাসরা ধ্বংস হোক। ওদের এসব দেয়া হলে খুশি থাকে আর দেয়া না হলে নাখোশ হয়।[1] [২৮৮৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ,৫৯৮৬ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৯২)
নোট: [1] দুনিয়া লোভী বিবেকহীন লোকেরা নিজেরাই পেতে চায়, অন্যেরা যে বেশি অভাবগ্রস্ত, বেশী হকদার তারা তা বুঝেনা। হকদারদের হক নষ্ট করে হলেও বিবেকহীনরা নিজে পেলেই খুশি হয়-প্রকৃত অভাবীর অভাবের কথা চিন্তাও করে না।
হাদিস নং: ৬৪৩৬
সহিহ (Sahih)
ابو عاصم عن ابن جريج عن عطاء قال سمعت ابن عباس يقول سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول لو كان لابن ادم واديان من مال لابتغى ثالثا ولا يملا جوف ابن ادم الا التراب ويتوب الله على من تاب.
৬৪৩৬. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যদি আদম সন্তানের দু’ উপত্যকা ভরা মালধন থাকে তবুও সে তৃতীয়টার আকাঙ্ক্ষা করবে। আর মাটি ভিন্ন বানী আদমের পেট কিছুতেই ভরবে না।[1] আর যে তওবা করবে, আল্লাহ্ তার তওবা কবূল করবেন। [৬৪৩৭; মুসলিম ১২/৩৯, হাঃ ১০৪৯, আহমাদ ৩৪০১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৯৩)
নোট: [1] এখানে বাস্তব মাটি উদ্দেশ্য নয়, বরং এর দ্বারা পরোক্ষভাবে মৃত্যু উদ্দেশ্য। অর্থ্যাৎ আদম সন্তানের চাহিদার সমাপ্তি ঘটাবে একমাত্র তার মৃত্যু। মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাদের চাহিদার কোন শেষ নেই। (ফাতহুল বারী)
হাদিস নং: ৬৪৩৭
সহিহ (Sahih)
حدثني محمد، اخبرنا مخلد، اخبرنا ابن جريج، قال سمعت عطاء، يقول سمعت ابن عباس، يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " لو ان لابن ادم مثل واد مالا لاحب ان له اليه مثله، ولا يملا عين ابن ادم الا التراب، ويتوب الله على من تاب ". قال ابن عباس فلا ادري من القران هو ام لا. قال وسمعت ابن الزبير يقول ذلك على المنبر.
৬৪৩৭. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেনঃ বানী আদমের জন্য যদি এক উপত্যকা পরিমাণ ধনমাল থাকে, তবুও সে আরো ঐ পরিমাণ সম্পদের জন্য লালায়িত থাকবে। বানী আদমের চোখ মাটি ছাড়া আর কিছুতেই ভরবে না। তবে যে তওবা করবে আল্লাহ্ তার তওবা কবূল করবেন।
ইবনু ’আব্বাস(রাঃ) বলেন, সুতরাং আমি জানি না- এটি কুরআনের অন্তর্গত কিনা। তিনি বলেন, আমি ইবনুয যুবায়রকে এটা মিম্বরের উপর বলতে শুনেছি। [৬৪৩৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৯৪)
ইবনু ’আব্বাস(রাঃ) বলেন, সুতরাং আমি জানি না- এটি কুরআনের অন্তর্গত কিনা। তিনি বলেন, আমি ইবনুয যুবায়রকে এটা মিম্বরের উপর বলতে শুনেছি। [৬৪৩৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৯৪)
হাদিস নং: ৬৪৩৮
সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا عبد الرحمن بن سليمان بن الغسيل عن عباس بن سهل بن سعد قال سمعت ابن الزبير على المنبر بمكة في خطبته يقول يا ايها الناس ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يقول لو ان ابن ادم اعطي واديا ملىا من ذهب احب اليه ثانيا ولو اعطي ثانيا احب اليه ثالثا ولا يسد جوف ابن ادم الا التراب ويتوب الله على من تاب.
৬৪৩৮. ’আব্বাস ইবনু সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। আমি ইবনুয্ যুবায়র (রাঃ)-কে মক্কায় মিম্বারের উপর তার খুত্বার মধ্যে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ হে লোকেরা! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, যদি বানী আদমকে স্বর্ণে ভরা এক উপত্যকা মাল দেয়া হয়, তথাপিও সে দ্বিতীয়টার জন্য লালায়িত হয়ে থাকবে। আর তাকে দ্বিতীয়টি যদি দেয়া হয়, তাহলে সে তৃতীয়টার জন্য লালায়িত থাকবে। বানী আদমের পেট মাটি ছাড়া ভরতে পারে না। তবে যে তওবা করবে, আল্লাহ্ তার তওবা কবূল করবেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৯৫)
হাদিস নং: ৬৪৩৯
সহিহ (Sahih)
عبد العزيز بن عبد الله حدثنا ابراهيم بن سعد عن صالح عن ابن شهاب قال اخبرني انس بن مالك ان رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قال لو ان لابن ادم واديا من ذهب احب ان يكون له واديان ولن يملا فاه الا التراب ويتوب الله على من تاب.
৬৪৩৯. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যদি বানী আদমের স্বর্ণ ভরা একটা উপত্যকা থাকে, তথাপি সে তার জন্য দু’টি উপত্যকা হওয়ার কামনা করবে। তার মুখ মাটি ব্যতীত অন্য কিছুতেই ভরবে না। তবে যে ব্যক্তি তওবা করবে, আল্লাহ্ তার তওবা কবূল করবেন।[1] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৯৬)
নোট: [1] অত্র তিনটি হাদীসে পরস্পর চোখ, মুখ ও পেটের কথা বলা হয়েছে; আর এ তিনটি হচ্ছে পৃথিবী ভোগ করতে গিয়ে ধেঁকিায় পড়ার মাধ্যম। কাজেই আদম সন্তানকে এ তিনটি অঙ্গের ব্যাপারে খুব সর্তক থাকতে হবে।
হাদিস নং: ৬৪৪০
সহিহ (Sahih)
وقال لنا ابو الوليد حدثنا حماد بن سلمة عن ثابت عن انس عن ابي قال كنا نرى هذا من القران حتى نزلت (الهاكم التكاثر).
৬৪৪০. অন্য এক সূত্রে আনাস (রাঃ) ’উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমরা ধারণা করছিলাম এটা কুরআনেরই অন্তর্গত। অবশেষে (সূরায়ে) তাকাসুর নাযিল হলো। [সূরাহ আত্-তাকাসুর ১০২/১) [মুসলিম ১২/৩৯, হাঃ ১০৪৮] (আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৯৬)
হাদিস নং: ৬৪৪১
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا سفيان قال سمعت الزهري يقول اخبرني عروة وسعيد بن المسيب عن حكيم بن حزام قال سالت النبي صلى الله عليه وسلم فاعطاني ثم سالته فاعطاني ثم سالته فاعطاني ثم قال هذا المال وربما قال سفيان قال لي يا حكيم ان هذا المال خضرة حلوة فمن اخذه بطيب نفس بورك له فيه ومن اخذه باشراف نفس لم يبارك له فيه وكان كالذي ياكل ولا يشبع واليد العليا خير من اليد السفلى.
قَالَ عُمَرُ اللهُمَّ إِنَّا لاَ نَسْتَطِيعُ إِلاَّ أَنْ نَفْرَحَ بِمَا زَيَّنْتَهُ لَنَا اللهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ أَنْ أُنْفِقَهُ فِي حَقِّهِ
’উমার (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহ্! আপনি আমাদের জন্য যেসব জিনিস মনোহর করে দিয়েছেন, তজ্জন্য খুশি না হয়ে পারি না। হে আল্লাহ্! অবশ্যই আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি, যেন আমি এগুলোকে সঠিকভাবে ব্যয় করতে পারি।
৬৪৪১. হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কিছু চাইলাম। তিনি আমাকে দিলেন। আমি তাঁর কাছে আবার চাইলাম। তিনি আমাকে দিলেন। আমি তাঁর কাছে আবার চাইলাম। তিনি দিলেন। এরপর বললেনঃ এ ধন-সম্পদ সুফ্ইয়ানের বর্ণনামতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে হাকীম! এ মাল সবুজ ও সুমিষ্ট। যে লোক তা খুশি মনে গ্রহণ করবে, তার জন্য তাতে বরকত দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি তা লালসা নিয়ে গ্রহণ করবে, তার জন্য তাতে বরকত দেয়া হবে না। বরং সে ঐ ব্যক্তির মত যে খায়, কিন্তু তৃপ্ত না। আর উপরের (দাতার) হাত নিচের (গ্রহীতার) হাত থেকে শ্রেষ্ঠ।[1] [১৪৭২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৯১ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৯৭)
’উমার (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহ্! আপনি আমাদের জন্য যেসব জিনিস মনোহর করে দিয়েছেন, তজ্জন্য খুশি না হয়ে পারি না। হে আল্লাহ্! অবশ্যই আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি, যেন আমি এগুলোকে সঠিকভাবে ব্যয় করতে পারি।
৬৪৪১. হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কিছু চাইলাম। তিনি আমাকে দিলেন। আমি তাঁর কাছে আবার চাইলাম। তিনি আমাকে দিলেন। আমি তাঁর কাছে আবার চাইলাম। তিনি দিলেন। এরপর বললেনঃ এ ধন-সম্পদ সুফ্ইয়ানের বর্ণনামতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে হাকীম! এ মাল সবুজ ও সুমিষ্ট। যে লোক তা খুশি মনে গ্রহণ করবে, তার জন্য তাতে বরকত দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি তা লালসা নিয়ে গ্রহণ করবে, তার জন্য তাতে বরকত দেয়া হবে না। বরং সে ঐ ব্যক্তির মত যে খায়, কিন্তু তৃপ্ত না। আর উপরের (দাতার) হাত নিচের (গ্রহীতার) হাত থেকে শ্রেষ্ঠ।[1] [১৪৭২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৯১ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৯৭)
নোট: [1] এ হাদীসে অন্যের কাছে হাত পাতাকে ঘৃণিত কাজ বলে গণ্য করা হয়েছে এবং দান করাকে উৎসাহিত করা হয়েছে।
হাদিস নং: ৬৪৪২
সহিহ (Sahih)
عمر بن حفص حدثني ابي حدثنا الاعمش قال حدثني ابراهيم التيمي عن الحارث بن سويد قال عبد الله قال النبي صلى الله عليه وسلم ايكم مال وارثه احب اليه من ماله قالوا يا رسول الله ما منا احد الا ماله احب اليه قال فان ماله ما قدم ومال وارثه ما اخر.
৬৪৪২. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বর্ণনা করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি, নিজের সম্পদ হতে তার উত্তরাধিকারীর সম্পদকে অধিক প্রিয় মনে করে? তারা সবাই জবাব দিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে তার নিজের সম্পদকে সবচেয়ে অধিক প্রিয় মনে করে না। তখন তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই মানুষের নিজের সম্পদ তা-ই, যা সে (সৎ কাজে ব্যয়ের মাধ্যমে) আগে পাঠিয়েছে। আর সে পিছনে যা রেখে যাবে তা তার ওয়ারিছের মাল। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৯৮)
হাদিস নং: ৬৪৪৩
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا جرير عن عبد العزيز بن رفيع عن زيد بن وهب عن ابي ذر قال خرجت ليلة من الليالي فاذا رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يمشي وحده وليس معه انسان قال فظننت انه يكره ان يمشي معه احد قال فجعلت امشي في ظل القمر فالتفت فراني فقال من هذا قلت ابو ذر جعلني الله فداءك قال يا ابا ذر تعاله قال فمشيت معه ساعة فقال ان المكثرين هم المقلون يوم القيامة الا من اعطاه الله خيرا فنفح فيه يمينه وشماله وبين يديه ووراءه وعمل فيه خيرا قال فمشيت معه ساعة فقال لي اجلس ها هنا قال فاجلسني في قاع حوله حجارة فقال لي اجلس ها هنا حتى ارجع اليك قال فانطلق في الحرة حتى لا اراه فلبث عني فاطال اللبث ثم اني سمعته وهو مقبل وهو يقول وان سرق وان زنى قال فلما جاء لم اصبر حتى قلت يا نبي الله جعلني الله فداءك من تكلم في جانب الحرة ما سمعت احدا يرجع اليك شيىا قال ذلك جبريل عليه السلام عرض لي في جانب الحرة قال بشر امتك انه من مات لا يشرك بالله شيىا دخل الجنة قلت يا جبريل وان سرق وان زنى قال نعم قال قلت وان سرق وان زنى قال نعم وان شرب الخمر قال النضر اخبرنا شعبة حدثنا حبيب بن ابي ثابت والاعمش وعبد العزيز بن رفيع حدثنا زيد بن وهب بهذا قال ابو عبد الله حديث ابي صالح عن ابي الدرداء مرسل لا يصح انما اردنا للمعرفة والصحيح حديث ابي ذر قيل لا÷بي عبد الله حديث عطاء بن يسار عن ابي الدرداء قال مرسل ايضا لا يصح والصحيح حديث ابي ذر وقال اضربوا على حديث ابي الدرداء هذا اذا مات قال لا اله الا الله عند الموت.
(مَنْ كَانَ يُرِيْدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِيْنَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيْهَا وَهُمْ فِيْهَا لاَ يُبْخَسُوْنَ أُولٰئِكَ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْاٰخِرَةِ إِلاَّ النَّارُ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوْا فِيْهَا وَبَاطِلٌ مَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ)
আল্লাহর বাণীঃ যারা এ দুনিয়ার জীবন আর তার শোভা সৌন্দর্য কামনা করে, তাদেরকে এখানে তাদের কর্মের পুরোপুরি ফল আমি দিয়ে দেই, আর তাতে তাদের প্রতি কোন কমতি করা হয় না। কিন্তু আখিরাতে তাদের জন্য আগুন ছাড়া কিছুই নাই, এখানে যা কিছু তারা করেছে তা নিস্ফল হয়ে গেছে, আর তাদের যাবতীয় কাজকর্ম ব্যর্থ হয়ে গেছে। (সূরাহ হূদ ১১/১৫-১৬)
৬৪৪৩. আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাতে আমি বের হলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একাকী হেঁটে যেতে দেখলাম, তাঁর সাথে অন্য লোক ছিল না। আমি মনে করলাম, তাঁর সাথে কেউ চলুক হয়ত তিনি তা অপছন্দ করবেন। তাই আমি চন্দ্রালোকের ছায়ায় তাঁর পেছনে পেছনে চলতে লাগলাম। তিনি পেছনে তাকিয়ে আমাকে দেখে ফেললেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কে এটা? আমি বললাম, আমি আবূ যার। আল্লাহ্ আপনার জন্য আমাকে উৎসর্গ করুন। তিনি বললেনঃ আবূ যার, এসো। আমি তাঁর সাথে কিছুক্ষণ চললাম। তারপর তিনি বললেনঃ ধনীরাই আসলে কিয়ামতের দিন গরীব। তবে যাকে আল্লাহ্ সম্পদ দান করেন এবং সে সম্পদকে তা ডানে, বামে, আগে ও পেছনে ব্যয় করে আর মঙ্গলজনক কাজে তা লাগায়, (সে ছাড়া)।
তারপর আমি আরও কিছুক্ষণ তাঁর সঙ্গে চলার পর তিনি আমাকে বললেনঃ এখানে বস। (একথা বলে) তিনি আমাকে চারিদিকে পাহাড় বেষ্টিত একটি প্রান্তরে বসিয়ে দিয়ে বললেনঃ আমি ফিরে না আসা পর্যন্ত তুমি এখানেই বসে থেকো। তিনি বলেন, এরপর তিনি প্রস্তরময় প্রান্তরের দিকে চলে গেলেন। এমন কি তিনি আমার দৃষ্টির আড়ালে চলে গেলেন। এবং বেশ দীর্ঘক্ষণ অতিবাহিত হয়ে গেল। অতঃপর তিনি ফিরে আসার সময় আমি তাঁকে বলতে শুনলাম, যদিও সে চুরি করে, যদিও সে ব্যভিচার করে। তারপর তিনি যখন ফিরে এলেন, তখন আমি ধৈর্য হারা হয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ্ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন। আপনি এই পাথরময় প্রান্তরে কার সঙ্গে কথা বললেন? আপনার কথার উত্তর দিতে কাউকে তো শুনলাম না। তখন তিনি বললেনঃ তিনি ছিলেন জিবরীল (আঃ)। তিনি এই প্রস্তরময় প্রান্তরে আমার কাছে এসেছিলেন।
তিনি বললেন, আপনার উম্মাতদের খোশ খবর দিন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক না করে মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, হে জিব্রীল! যদিও সে চুরি করে, যিনা করে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললামঃ যদিও সে চুরি করে আর যিনা করে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আবার আমি বললামঃ যদিও সে চুরি করে আর যিনা করে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, যদি সে শরাবও পান করে।
নযর (রহ.) ..... আবূদ্ দারদা (রাঃ) থেকে এরকমই বর্ণনা করেছেন। আবূদ্ দারদা হতে আবূ সালিহের বর্ণনা মুরসাল, যা সহীহ নয়। আমরা পরিচয়ের জন্য এনেছি। ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, তবে এ খোশ খবর দেয়া হয়েছে, যদি সে তওবা করে আর মৃত্যুর সময় ’লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ বলে।[1] [১৩৩৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৯৯)
আল্লাহর বাণীঃ যারা এ দুনিয়ার জীবন আর তার শোভা সৌন্দর্য কামনা করে, তাদেরকে এখানে তাদের কর্মের পুরোপুরি ফল আমি দিয়ে দেই, আর তাতে তাদের প্রতি কোন কমতি করা হয় না। কিন্তু আখিরাতে তাদের জন্য আগুন ছাড়া কিছুই নাই, এখানে যা কিছু তারা করেছে তা নিস্ফল হয়ে গেছে, আর তাদের যাবতীয় কাজকর্ম ব্যর্থ হয়ে গেছে। (সূরাহ হূদ ১১/১৫-১৬)
৬৪৪৩. আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাতে আমি বের হলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একাকী হেঁটে যেতে দেখলাম, তাঁর সাথে অন্য লোক ছিল না। আমি মনে করলাম, তাঁর সাথে কেউ চলুক হয়ত তিনি তা অপছন্দ করবেন। তাই আমি চন্দ্রালোকের ছায়ায় তাঁর পেছনে পেছনে চলতে লাগলাম। তিনি পেছনে তাকিয়ে আমাকে দেখে ফেললেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কে এটা? আমি বললাম, আমি আবূ যার। আল্লাহ্ আপনার জন্য আমাকে উৎসর্গ করুন। তিনি বললেনঃ আবূ যার, এসো। আমি তাঁর সাথে কিছুক্ষণ চললাম। তারপর তিনি বললেনঃ ধনীরাই আসলে কিয়ামতের দিন গরীব। তবে যাকে আল্লাহ্ সম্পদ দান করেন এবং সে সম্পদকে তা ডানে, বামে, আগে ও পেছনে ব্যয় করে আর মঙ্গলজনক কাজে তা লাগায়, (সে ছাড়া)।
তারপর আমি আরও কিছুক্ষণ তাঁর সঙ্গে চলার পর তিনি আমাকে বললেনঃ এখানে বস। (একথা বলে) তিনি আমাকে চারিদিকে পাহাড় বেষ্টিত একটি প্রান্তরে বসিয়ে দিয়ে বললেনঃ আমি ফিরে না আসা পর্যন্ত তুমি এখানেই বসে থেকো। তিনি বলেন, এরপর তিনি প্রস্তরময় প্রান্তরের দিকে চলে গেলেন। এমন কি তিনি আমার দৃষ্টির আড়ালে চলে গেলেন। এবং বেশ দীর্ঘক্ষণ অতিবাহিত হয়ে গেল। অতঃপর তিনি ফিরে আসার সময় আমি তাঁকে বলতে শুনলাম, যদিও সে চুরি করে, যদিও সে ব্যভিচার করে। তারপর তিনি যখন ফিরে এলেন, তখন আমি ধৈর্য হারা হয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ্ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন। আপনি এই পাথরময় প্রান্তরে কার সঙ্গে কথা বললেন? আপনার কথার উত্তর দিতে কাউকে তো শুনলাম না। তখন তিনি বললেনঃ তিনি ছিলেন জিবরীল (আঃ)। তিনি এই প্রস্তরময় প্রান্তরে আমার কাছে এসেছিলেন।
তিনি বললেন, আপনার উম্মাতদের খোশ খবর দিন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক না করে মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, হে জিব্রীল! যদিও সে চুরি করে, যিনা করে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললামঃ যদিও সে চুরি করে আর যিনা করে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আবার আমি বললামঃ যদিও সে চুরি করে আর যিনা করে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, যদি সে শরাবও পান করে।
নযর (রহ.) ..... আবূদ্ দারদা (রাঃ) থেকে এরকমই বর্ণনা করেছেন। আবূদ্ দারদা হতে আবূ সালিহের বর্ণনা মুরসাল, যা সহীহ নয়। আমরা পরিচয়ের জন্য এনেছি। ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, তবে এ খোশ খবর দেয়া হয়েছে, যদি সে তওবা করে আর মৃত্যুর সময় ’লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ বলে।[1] [১৩৩৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৯৯)
নোট: [1] এ হাদীসের ব্যাখ্যা ৫৮৬৭ নং হাদীসের টীকায় দ্রষ্টব্য।
হাদিস নং: ৬৪৪৪
সহিহ (Sahih)
الحسن بن الربيع حدثنا ابو الاحوص عن الاعمش عن زيد بن وهب قال قال ابو ذر كنت امشي مع النبي صلى الله عليه وسلم في حرة المدينة فاستقبلنا احد فقال يا ابا ذر قلت لبيك يا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ما يسرني ان عندي مثل احد هذا ذهبا تمضي علي ثالثة وعندي منه دينار الا شيىا ارصده لدين الا ان اقول به في عباد الله هكذا وهكذا وهكذا عن يمينه وعن شماله ومن خلفه ثم مشى فقال ان الاكثرين هم الاقلون يوم القيامة الا من قال هكذا وهكذا وهكذا عن يمينه وعن شماله ومن خلفه وقليل ما هم ثم قال لي مكانك لا تبرح حتى اتيك ثم انطلق في سواد الليل حتى توارى فسمعت صوتا قد ارتفع فتخوفت ان يكون قد عرض للنبي صلى الله عليه وسلم فاردت ان اتيه فذكرت قوله لي لا تبرح حتى اتيك فلم ابرح حتى اتاني قلت يا رسول الله لقد سمعت صوتا تخوفت فذكرت له فقال وهل سمعته قلت نعم قال ذاك جبريل اتاني فقال من مات من امتك لا يشرك بالله شيىا دخل الجنة قلت وان زنى وان سرق قال وان زنى وان سرق.
৬৪৪৪. যায়দ ইবনু ওয়াহ্ব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ যার (রাঃ) বলেন, একবার আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মদিনার প্রস্তরময় প্রান্তরে হেঁটে যাচ্ছিলাম। ইতোমধ্যে উহুদ আমাদের নজরে পড়ল। তখন তিনি বললেনঃ হে আবূ যার! আমি বললাম, আমি হাজির, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ আমার নিকট এ উহুদ পরিমাণ স্বর্ণ হোক, আর তা ঋণ পরিশোধ করার জন্য রেখে দেয়া ছাড়া একটি দ্বীনারও তা থেকে আমার কাছে জমা থাকুক আর এ অবস্থায় তিন দিন অতিবাহিত হোক তা আমাকে আনন্দ দিবে না। বরং আমি তা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এভাবে এভাবে এভাবে বিলিয়ে দেব। তিনি তাঁর ডান দিকে, বাম দিকে এবং পেছন দিয়ে ইশারা করলেন। এরপর তিনি সামনে অগ্রসর হয়ে আবার বললেনঃ জেনে রেখো, ধনের অধিকারীরাই কিয়ামতের দিন গরীব হবে। অবশ্য যারা এভাবে, এভাবে, এভাবে ডানে, বামে ও পেছনে ব্যয় করবে, তারা এর ব্যতিক্রম। কিন্তু এ রকম লোক খুবই কম।
তারপর আমাকে বললেনঃ তুমি এখানে থাক। আমি ফিরে না আসা পর্যন্ত এ স্থান ত্যাগ কর না। অতঃপর তিনি রাতের আঁধারে চলে গেলেন। এমনকি আড়াল হয়ে গেলেন। এরপর আমি একটা উচ্চ আওয়াজ শুনলাম। এতে আমি ভীত হয়ে গেলাম যে, তিনি কোন বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। কাজেই আমি তাঁর কাছে যেতে মনস্থ করলাম। কিন্তু তখনই আমার প্রতি তাঁর কথা স্মরণ হল যে, আমি না আসা পর্যন্ত তুমি স্থান ত্যাগ কর না। তাই আমি সেদিকে আর গেলাম না। তিনি ফিরে আসলে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একটা শব্দ শুনে ভীত হয়ে গিয়েছিলাম। তাঁকে ঘটনা বর্ণনা করলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি শব্দ শুনেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ ইনি জিব্রীল (আঃ)। তিনি আমার কাছে এসে বললেনঃ আপনার উম্মাতের কেউ আল্লাহর সাথে শরীক না করা অবস্থায় মারা গেলে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, যদি সে যিনা করে, যদি সে চুরি করে? তিনি বললেনঃ যদিও সে যিনা করে, যদিও সে চুরি করে।[1] [১২৩৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৯৪ , ইসলামিক ফাউন্ডেশন-৬০০০)
তারপর আমাকে বললেনঃ তুমি এখানে থাক। আমি ফিরে না আসা পর্যন্ত এ স্থান ত্যাগ কর না। অতঃপর তিনি রাতের আঁধারে চলে গেলেন। এমনকি আড়াল হয়ে গেলেন। এরপর আমি একটা উচ্চ আওয়াজ শুনলাম। এতে আমি ভীত হয়ে গেলাম যে, তিনি কোন বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। কাজেই আমি তাঁর কাছে যেতে মনস্থ করলাম। কিন্তু তখনই আমার প্রতি তাঁর কথা স্মরণ হল যে, আমি না আসা পর্যন্ত তুমি স্থান ত্যাগ কর না। তাই আমি সেদিকে আর গেলাম না। তিনি ফিরে আসলে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একটা শব্দ শুনে ভীত হয়ে গিয়েছিলাম। তাঁকে ঘটনা বর্ণনা করলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি শব্দ শুনেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ ইনি জিব্রীল (আঃ)। তিনি আমার কাছে এসে বললেনঃ আপনার উম্মাতের কেউ আল্লাহর সাথে শরীক না করা অবস্থায় মারা গেলে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, যদি সে যিনা করে, যদি সে চুরি করে? তিনি বললেনঃ যদিও সে যিনা করে, যদিও সে চুরি করে।[1] [১২৩৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৯৪ , ইসলামিক ফাউন্ডেশন-৬০০০)
নোট: [1] ধন-সম্পদ জমা করে না রেখে অধিক হারে দান করার জন্য এ হাদীসের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।
হাদিস নং: ৬৪৪৫
সহিহ (Sahih)
احمد بن شبيب حدثنا ابي عن يونس وقال الليث حدثني يونس عن ابن شهاب عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة قال ابو هريرة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لو كان لي مثل احد ذهبا لسرني ان لا تمر علي ثلاث ليال وعندي منه شيء الا شيىا ارصده لدين.
৬৪৪৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার জন্য উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও যদি হয় আর কিয়দংশ তিনদিন পার হবার পরও আমার কাছে থাকবে- তা আমাকে খুশী করবে না। তবে যদি ঋণ পরিশোধের জন্য হয় (তবে তা ভিন্ন কথা)। [২৩৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০০১)
হাদিস নং: ৬৪৪৬
সহিহ (Sahih)
احمد بن يونس حدثنا ابو بكر حدثنا ابو حصين عن ابي صالح عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ليس الغنى عن كثرة العرض ولكن الغنى غنى النفس.
(أَيَحْسِبُوْنَ أَنَّ مَا نُمِدُّهُمْ بِهٖ مِنْ مَالٍ وَبَنِيْنَ) إِلَى قَوْلِهِ تَعَالَى (مِنْ دُوْنِ ذَلِكَ هُمْ لَهَا عَامِلُوْنَ قَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ لَمْ يَعْمَلُوْهَا لاَ بُدَّ مِنْ أَنْ يَعْمَلُوْهَا)
আল্লাহর বাণীঃ তারা কি ভেবে নিয়েছে, আমি যে তাদেরকে ধনৈশ্বর্য ও সন্তানাদির প্রাচুর্য দিয়ে সাহায্য করেছি....করতে থাকবে, পর্যন্ত। (সূরা আল-মু’মিনূন ২৩/৫৫-৬৩)
৬৪৪৬. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ধনের আধিক্য হলে ধনী হয় না, অন্তরের ধনীই প্রকৃত ধনী।[1] [মুসলিম ১২/৪০, হাঃ ১০৫১, আহমাদ ৭৩২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০০২)
আল্লাহর বাণীঃ তারা কি ভেবে নিয়েছে, আমি যে তাদেরকে ধনৈশ্বর্য ও সন্তানাদির প্রাচুর্য দিয়ে সাহায্য করেছি....করতে থাকবে, পর্যন্ত। (সূরা আল-মু’মিনূন ২৩/৫৫-৬৩)
৬৪৪৬. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ধনের আধিক্য হলে ধনী হয় না, অন্তরের ধনীই প্রকৃত ধনী।[1] [মুসলিম ১২/৪০, হাঃ ১০৫১, আহমাদ ৭৩২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০০২)
নোট: [1] আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাওয়াক্কুলই মানুষকে প্রকৃতপক্ষে ধনী অন্তঃকরণ দান করে, যার ফলে সে গরীব হয়েও দান করতে ভয় করে না। অপরপক্ষে আল্লাহর প্রতি যার বিশ্বাস ও নির্ভরতা দৃঢ় নয়, সে অগাধ সম্পদের অধিকারী হয়েও, গরীব হয়ে যাওয়ার ভয়ে দান করা থেকে বিরত থাকে।
হাদিস নং: ৬৪৪৭
সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني عبد العزيز بن ابي حازم عن ابيه عن سهل بن سعد الساعدي انه قال مر رجل على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال لرجل عنده جالس ما رايك في هذا فقال رجل من اشراف الناس هذا والله حري ان خطب ان ينكح وان شفع ان يشفع قال فسكت رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم مر رجل اخر فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم ما رايك في هذا فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم هذا رجل من فقراء المسلمين هذا حري ان خطب ان لا ينكح وان شفع ان لا يشفع وان قال ان لا يسمع لقوله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم هذا خير من ملء الارض مثل هذا.
৬৪৪৭. সাহল ইবনু সা’দ সা’ঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশ দিয়ে গেলেন। তখন তিনি তাঁর কাছে উপবিষ্ট একজনকে জিজ্ঞেস করলেন, এ লোক সম্পর্কে তোমার অভিমত কী? তিনি বললেন, এ ব্যক্তি তো একজন সম্ভ্রান্ত বংশের লোক। আল্লাহর কসম! তিনি কোথাও বিয়ের প্রস্তাব দিলে তা গ্রহণ করা হবে। আর কারো জন্য সুপারিশ করলে তা শুনা হবে। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব থাকলেন।
অতঃপর আরেক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশ দিয়ে গেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপবিষ্ট লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার অভিমত কী? তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! এ ব্যক্তি তো এক দরিদ্র মুসলিম। এ ব্যক্তি কোথাও বিয়ের প্রস্তাব দিলে তা গৃহীত হবে না। আর সে সুপারিশ করলে তা কবূলও হবে না। এবং যদি সে কথা বলে, তার কথা শুনাও হবে না। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দুনিয়া ভরা আগের ব্যক্তি চেয়ে এ ব্যক্তি উত্তম।[1] [৫০৯১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৯৭ , ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০০৩)
অতঃপর আরেক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশ দিয়ে গেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপবিষ্ট লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার অভিমত কী? তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! এ ব্যক্তি তো এক দরিদ্র মুসলিম। এ ব্যক্তি কোথাও বিয়ের প্রস্তাব দিলে তা গৃহীত হবে না। আর সে সুপারিশ করলে তা কবূলও হবে না। এবং যদি সে কথা বলে, তার কথা শুনাও হবে না। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দুনিয়া ভরা আগের ব্যক্তি চেয়ে এ ব্যক্তি উত্তম।[1] [৫০৯১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৯৭ , ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০০৩)
নোট: [1] আল্লাহর নিকট প্রকৃত মর্যাদার বিষয় হল ঈমান। একজন নিঃস্ব ফকীর ঈমানদার ব্যক্তি দুনিয়া ভর্তি বিত্তশালী ঈমানহীন ব্যক্তির চেয়ে আল্লাহর নিকট শ্রেষ্ঠ।
হাদিস নং: ৬৪৪৮
সহিহ (Sahih)
الحميدي حدثنا سفيان حدثنا الاعمش قال سمعت ابا واىل قال عدنا خبابا فقال هاجرنا مع النبي صلى الله عليه وسلم نريد وجه الله فوقع اجرنا على الله فمنا من مضى لم ياخذ من اجره منهم مصعب بن عمير قتل يوم احد وترك نمرة فاذا غطينا راسه بدت رجلاه واذا غطينا رجليه بدا راسه فامرنا النبي صلى الله عليه وسلم ان نغطي راسه ونجعل على رجليه شيىا من الاذخر ومنا من اينعت له ثمرته فهو يهدبها.
৬৪৪৮. আবূ ওয়ায়িল (রহ.) বর্ণনা করেন। একবার আমরা খাব্বাব (রাঃ)-এর শুশ্রূষায় গেলাম। তখন তিনি বললেনঃ আমরা আল্লাহর সন্তোষ অর্জনের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হিজরত করেছি; শ্রমফল আল্লাহর কাছেই আমাদের প্রাপ্য। আমাদের মধ্যে অনেকেই এ শ্রমফল দুনিয়াতে লাভ করার আগেই ইন্তিকাল করেছেন। তন্মধ্যে মুস্’আব ইবনু ’উমায়র (রাঃ), যিনি উহুদের যুদ্ধে শহীদ হন, তিনি শুধু একখানা কাপড় রেখে যান। আমরা কাফনের জন্য এটা দিয়ে তাঁর মাথা ঢাকলে পা বের হয়ে যেত এবং পা ঢাকলে মাথা বের হয়ে যেত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের আদেশ দিলেন, তা দিয়ে মাথাটা ঢেকে দিতে এবং পায়ের উপর ’ইয্খির’ ঘাস দিয়ে দিতে। আর আমাদের মধ্যে এমনও আছে, যাঁদের ফল পেকেছে এবং তারা তা সংগ্রহ করছেন।[1] [১২৭৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০০৪)
নোট: [1] ঈমানদার ব্যক্তি তার সৎ আমলের প্রতিফল দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানে লাভ করবে। তবে হয়তো অনেকের ক্ষেত্রে সৎ আমলের প্রতিদান এ দুনিয়াতে পাওয়া নাও যেতে পারে, কিন্তু আখিরাতে নিঃসন্দেহে তা পাওয়া যাবে।
হাদিস নং: ৬৪৪৯
সহিহ (Sahih)
ابو الوليد حدثنا سلم بن زرير حدثنا ابو رجاء عن عمران بن حصين عن النبي صلى الله عليه وسلم قال اطلعت في الجنة فرايت اكثر اهلها الفقراء واطلعت في النار فرايت اكثر اهلها النساء تابعه ايوب وعوف وقال صخر وحماد بن نجيح عن ابي رجاء عن ابن عباس.
৬৪৪৯. ’ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি জান্নাতের মধ্যে ঝুঁকে দেখলাম, অধিকাংশ জান্নাতবাসী দরিদ্র আর আমি জাহান্নামের দিকে ঝুঁকে দেখলাম, অধিকাংশ জাহান্নামী মহিলা।[1] [৩২৪১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০০৫)
নোট: [1] اطَّلَعْتُ فِي الْجَنَّةِ فَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا الْفُقَرَاءَ বর্ণনাটি সম্পদশালীর উপর দরিদ্রের ফযীলত অপরিহার্য করবে না। কারণ বর্ণনাটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জান্নাতে ধনীদের তুলনায় দরিদ্রদের আধিক্যের সংবাদ প্রদান। যেমন কারো দুনিয়ার অবস্থা সম্পর্কে সংবাদ দেয়া যে, দুনিয়ার অধিকাংশ জনগোষ্ঠী দরিদ্র। সুতরাং জান্নাতে যাওয়ার মাপকাঠী দারিদ্র্য নয় বরং সততা। কেননা- দরিদ্র যদি সৎ ও ভাল না হয় তবে তাকে মর্যাদা দেয়া যাবে না। (ফাতহুল বারী)
হাদিস নং: ৬৪৫০
সহিহ (Sahih)
ابو معمر حدثنا عبد الوارث حدثنا سعيد بن ابي عروبة عن قتادة عن انس قال لم ياكل النبي صلى الله عليه وسلم على خوان حتى مات وما اكل خبزا مرققا حتى مات.
৬৪৫০. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু পর্যন্ত টেবিলের উপর আহার করেননি আর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত পাতলা রুটি খেতে পাননি। [৫৩৮৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০০৬)
হাদিস নং: ৬৪৫১
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن ابي شيبة حدثنا ابو اسامة حدثنا هشام عن ابيه عن عاىشة قالت لقد توفي النبي صلى الله عليه وسلم وما في رفي من شيء ياكله ذو كبد الا شطر شعير في رف لي فاكلت منه حتى طال علي فكلته ففني
৬৪৫১. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করলেন। তখন যৎসামান্য যব ছাড়া কোন প্রাণী খেতে পারে এমন কিছু আমার তাকের উপর ছিল না। তাত্থেকে বেশ কিছুদিন খেলাম। একবার মেপে নিলাম, তখন তা শেষ হয়ে গেল। [৩০৯৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০০৭)