অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৮১/১. সুস্থতা আর অবসর, আখিরাতের জীবনই সত্যিকারের জীবন।
মোট ১৮২ টি হাদিস
হাদিস নং: ৬৫১২
সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني مالك عن محمد بن عمرو بن حلحلة عن معبد بن كعب بن مالك عن ابي قتادة بن ربعي الانصاري انه كان يحدث ان رسول الله صلى الله عليه وسلم مر عليه بجنازة فقال مستريح ومستراح منه قالوا يا رسول الله ما المستريح والمستراح منه قال العبد المومن يستريح من نصب الدنيا واذاها الى رحمة الله والعبد الفاجر يستريح منه العباد والبلاد والشجر والدواب
৬৫১২. ক্বাতাদাহ ইবনু রিবঈ আনসারী (রাঃ) বর্ণনা করেন। একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশ দিয়ে একটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হলো। তিনি বললেনঃ সে সুখী অথবা (অন্য লোকেরা) তার থেকে শান্তি লাভকারী। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! ’মুস্তারিহ’ ও ’মুস্তারাহ মিনহু’-এর অর্থ কী? তিনি বললেনঃ মু’মিন বান্দা দুনিয়ার কষ্ট ও যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়ে আল্লাহর রহমতের দিকে পৌঁছে শান্তি প্রাপ্ত হয়। আর গুনাহগার বান্দার আচার-আচরণ থেকে সকল মানুষ, শহর-বন্দর, বৃক্ষলতা ও জীবজন্তু শান্তিপ্রাপ্ত হয়। [৬৫১৩; মুসলিম ১১/২১, হাঃ ৯৫০, আহমাদ ২২৬৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৬৮)
হাদিস নং: ৬৫১৩
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى عن عبد ربه بن سعيد عن محمد بن عمرو بن حلحلة حدثني ابن كعب عن ابي قتادة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال مستريح ومستراح منه المومن يستريح
৬৫১৩. আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তি হয়ত নিজে শান্তিপ্রাপ্ত হবে অথবা লোকজন তার থেকে শান্তি লাভ করবে। মু’মিন (দুনিয়ার কষ্ট হতে) শান্তি লাভ করে। [৬৫১২; মুসলিম ১১/২১, হাঃ ৯৫০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৬৯)
হাদিস নং: ৬৫১৪
সহিহ (Sahih)
الحميدي حدثنا سفيان حدثنا عبد الله بن ابي بكر بن عمرو بن حزم سمع انس بن مالك يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يتبع الميت ثلاثة فيرجع اثنان ويبقى معه واحد يتبعه اهله وماله وعمله فيرجع اهله وماله ويبقى عمله
৬৫১৪. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি বস্ত্ত মৃত ব্যক্তির অনুসরণ করে। দু’টি ফিরে আসে, আর একটি তার সঙ্গে থেকে যায়। তার পরিবারবর্গ, তার মাল ও তার ’আমল তার অনুসরণ করে। তার পরিবারবর্গ ও তার মাল ফিরে আসে, এবং তার ’আমল তার সঙ্গে থেকে যায়। [মুসলিম পর্ব ৫৩/হাঃ ২৯৬০, আহমাদ ১২০৮১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৭০)
হাদিস নং: ৬৫১৫
সহিহ (Sahih)
ابو النعمان حدثنا حماد بن زيد عن ايوب عن نافع عن ابن عمر قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا مات احدكم عرض عليه مقعده غدوة وعشيا اما النار واما الجنة فيقال هذا مقعدك حتى تبعث اليه
৬৫১৫. ইবনু ’উমার (রাঃ) বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তির মৃত্যু হলে, (কবরে) প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় তার জান্নাত অথবা জাহান্নামের ঠিকানা তার সামনে পেশ করা হয়। এবং বলা হয় যে, এই হলো তোমার ঠিকানা তোমার পুনরুত্থান পর্যন্ত (এটা তোমার সামনে পেশ করা হতে থাকবে)। [১৩৭৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৭১)
হাদিস নং: ৬৫১৬
সহিহ (Sahih)
علي بن الجعد اخبرنا شعبة عن الاعمش عن مجاهد عن عاىشة قالت قال النبي صلى الله عليه وسلم لا تسبوا الاموات فانهم قد افضوا الى ما قدموا
৬৫১৬. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা মৃতদেরকে গালি দিও না। কারণ তারা তাদের কৃতকর্মের (পরিণাম ফল) পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। [১৩৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৭২)
হাদিস নং: ৬৫১৭
সহিহ (Sahih)
عبد العزيز بن عبد الله قال حدثني ابراهيم بن سعد عن ابن شهاب عن ابي سلمة بن عبد الرحمن وعبد الرحمن الاعرج انهما حدثاه ان ابا هريرة قال استب رجلان رجل من المسلمين ورجل من اليهود فقال المسلم والذي اصطفى محمدا على العالمين فقال اليهودي والذي اصطفى موسى على العالمين قال فغضب المسلم عند ذلك فلطم وجه اليهودي فذهب اليهودي الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخبره بما كان من امره وامر المسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لا تخيروني على موسى فان الناس يصعقون يوم القيامة فاكون في اول من يفيق فاذا موسى باطش بجانب العرش فلا ادري اكان موسى فيمن صعق فافاق قبلي او كان ممن استثنى الله
قَالَ مُجَاهِدٌ الصُّورُ كَهَيْئَةِ الْبُوقِ (زَجْرَةٌ) صَيْحَةٌ.
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ النَّاقُورُ الصُّورُ.
(الرَّاجِفَةُ) النَّفْخَةُ الأُولَى. وَ(الرَّادِفَةُ) النَّفْخَةُ الثَّانِيَةُ.
মুজাহিদ বলেছেন, শিঙ্গা হচ্ছে ডংকার আকৃতির, ’যাযরাহ’ অর্থ চিৎকার, এবং ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, ’নাকুর’ অর্থ শিঙ্গা, ’রাযিফা’ প্রথম ফুৎকার, ’নাদিফা’ দ্বিতীয় ফুৎকার।
৬৫১৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দু’ব্যক্তি এক অন্যকে গালমন্দ করল। একজন মুসলিম, অন্যজন ইয়াহূদী। মুসলিম বলল, ঐ সত্তার শপথ, যিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জগতবাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। ইয়াহূদী বলল, ঐ সত্তার শপথ, যিনি মূসা (আঃ)-কে জগতবাসীর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। রাবী বলেন, এতে মুসলিম রেগে গেল এবং ইয়াহূদীর মুখে একটি চড় মারল। তখন ইয়াহূদী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে তার মাঝে এবং মুসলিমের মাঝে যা ঘটেছিল সে সম্পর্কে তাঁকে জানাল।
তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা আমাকে মূসা (আঃ)-এর ওপর প্রাধান্য দিও না। কারণ কিয়ামতের দিন সব মানুষ অচেতন হয়ে যাবে, আর আমিই হব সেই ব্যক্তি যে সর্বপ্রথম চেতনা ফিরে পাবে। তখন দেখব মূসা (আঃ) আরশের কিনারা ধরে আছেন। আমি জানি না মুসা (আঃ) কি সেই লোক যিনি অচেতন হওয়ার পর আমার আগেই চেতনা ফিরে পেয়েছেন। নাকি তিনি সেই লোকদের অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে আল্লাহ্ অচেতন হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন। [২৪১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৭৩)
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ النَّاقُورُ الصُّورُ.
(الرَّاجِفَةُ) النَّفْخَةُ الأُولَى. وَ(الرَّادِفَةُ) النَّفْخَةُ الثَّانِيَةُ.
মুজাহিদ বলেছেন, শিঙ্গা হচ্ছে ডংকার আকৃতির, ’যাযরাহ’ অর্থ চিৎকার, এবং ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, ’নাকুর’ অর্থ শিঙ্গা, ’রাযিফা’ প্রথম ফুৎকার, ’নাদিফা’ দ্বিতীয় ফুৎকার।
৬৫১৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দু’ব্যক্তি এক অন্যকে গালমন্দ করল। একজন মুসলিম, অন্যজন ইয়াহূদী। মুসলিম বলল, ঐ সত্তার শপথ, যিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জগতবাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। ইয়াহূদী বলল, ঐ সত্তার শপথ, যিনি মূসা (আঃ)-কে জগতবাসীর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। রাবী বলেন, এতে মুসলিম রেগে গেল এবং ইয়াহূদীর মুখে একটি চড় মারল। তখন ইয়াহূদী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে তার মাঝে এবং মুসলিমের মাঝে যা ঘটেছিল সে সম্পর্কে তাঁকে জানাল।
তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা আমাকে মূসা (আঃ)-এর ওপর প্রাধান্য দিও না। কারণ কিয়ামতের দিন সব মানুষ অচেতন হয়ে যাবে, আর আমিই হব সেই ব্যক্তি যে সর্বপ্রথম চেতনা ফিরে পাবে। তখন দেখব মূসা (আঃ) আরশের কিনারা ধরে আছেন। আমি জানি না মুসা (আঃ) কি সেই লোক যিনি অচেতন হওয়ার পর আমার আগেই চেতনা ফিরে পেয়েছেন। নাকি তিনি সেই লোকদের অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে আল্লাহ্ অচেতন হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন। [২৪১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৭৩)
হাদিস নং: ৬৫১৮
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب حدثنا ابو الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة قال النبي صلى الله عليه وسلم يصعق الناس حين يصعقون فاكون اول من قام فاذا موسى اخذ بالعرش فما ادري اكان فيمن صعق رواه ابو سعيد عن النبي صلى الله عليه وسلم
৬৫১৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অচেতন হওয়ার সময় সব মানুষই অচেতন হবে। আর আমিই হব সর্বপ্রথম ব্যক্তি, যে চৈতন্য হয়ে দাঁড়াবে। আর সে অবস্থায়, মূসা (আঃ) আরশ ধরে থাকবেন। আমি জানি না, যারা অচৈতন্য হয়েছিল তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত কি না? এ হাদীস আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। [২৪১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৭৪)
হাদিস নং: ৬৫১৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن مقاتل، اخبرنا عبد الله، اخبرنا يونس، عن الزهري، حدثني سعيد بن المسيب، عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " يقبض الله الارض، ويطوي السماء بيمينه، ثم يقول انا الملك اين ملوك الارض ".
رَوَاهُ نَافِعٌ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
এ কথা নাফী’ (রহ.) ইবনু ’উমার (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
৬৫১৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (কিয়ামতের দিন) আল্লাহ্ দুনিয়াকে আপন মুষ্ঠিতে আবদ্ধ করবেন আর আকাশকে ডান হাতে গুটিয়ে নিবেন। অতঃপর তিনি বলবেনঃ ’’আমি একমাত্র বাদশাহ্, দুনিয়ার রাজা বাদশাহরা কোথায়?’’[1] [৪৮১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৭৫)
এ কথা নাফী’ (রহ.) ইবনু ’উমার (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
৬৫১৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (কিয়ামতের দিন) আল্লাহ্ দুনিয়াকে আপন মুষ্ঠিতে আবদ্ধ করবেন আর আকাশকে ডান হাতে গুটিয়ে নিবেন। অতঃপর তিনি বলবেনঃ ’’আমি একমাত্র বাদশাহ্, দুনিয়ার রাজা বাদশাহরা কোথায়?’’[1] [৪৮১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৭৫)
নোট: [1] স্বীয় ক্ষমতা সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তারা আল্লাহর যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়না। কিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী তাঁর হাতের মুষ্টিতে থাকবে, আর আকাশ মন্ডলী থাকবে ভাঁজ করা অবস্থায় তাঁর ডান হাতে-(সূরাহ আয-যুমার-৬৭)
হাদিস নং: ৬৫২০
সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا الليث عن خالد عن سعيد بن ابي هلال عن زيد بن اسلم عن عطاء بن يسار عن ابي سعيد الخدري قال النبي صلى الله عليه وسلم تكون الارض يوم القيامة خبزة واحدة يتكفوها الجبار بيده كما يكفا احدكم خبزته في السفر نزلا لاهل الجنة فاتى رجل من اليهود فقال بارك الرحمن عليك يا ابا القاسم الا اخبرك بنزل اهل الجنة يوم القيامة قال بلى قال تكون الارض خبزة واحدة كما قال النبي صلى الله عليه وسلم فنظر النبي صلى الله عليه وسلم الينا ثم ضحك حتى بدت نواجذه ثم قال الا اخبرك بادامهم قال ادامهم بالام ونون قالوا وما هذا قال ثور ونون ياكل من زاىدة كبدهما سبعون الفا
৬৫২০. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন সারা জগৎ একটি রুটি হয়ে যাবে। আর আল্লাহ্ জান্নাতীদের মেহমানদারীর জন্য তাকে হাতের মধ্যে নিয়ে এমনভাবে উল্টা পাল্টা করবেন। যেমন তোমাদের মধ্যে কেউ সফরের সময় তাড়াহুড়া করে এ হাতে সে হাতে নিয়ে রুটি প্রস্তুত করে। এমন সময় একজন ইয়াহূদী এসে বলল, হে আবুল কাসিম! দয়াময় আপনার উপর বারাকাত প্রদান করুন। কিয়ামতের দিন জান্নাতবাসীদের মেহেমানদারি সম্পর্কে আপনাকে কি জানাব না? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। লোকটি বলল, (সে দিন) দুনিয়াটা একটি রুটি হয়ে যাবে।
যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন (লোকটিও তেমনি বলল)। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে তাকালেন এবং হাসলেন। এমনকি তাঁর চোয়ালের দাঁতগুলো প্রকাশিত হল। এরপর তিনি বললেনঃ তবে কি আমি তোমাদেরকে (তাদের) তরকারী সম্পর্কে বলব না? তিনি বললেনঃ বালাম এবং নুন। সাহাবাগণ বললেন, সেটা কী জিনিস? তিনি বললেনঃ ষাঁড় এবং মাছ। যাদের কলিজার গুরদা হতে সত্তর হাজার লোক খেতে পারবে। [মুসলিম ৫০/৩, হাঃ ২৭৯২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৭৬)
যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন (লোকটিও তেমনি বলল)। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে তাকালেন এবং হাসলেন। এমনকি তাঁর চোয়ালের দাঁতগুলো প্রকাশিত হল। এরপর তিনি বললেনঃ তবে কি আমি তোমাদেরকে (তাদের) তরকারী সম্পর্কে বলব না? তিনি বললেনঃ বালাম এবং নুন। সাহাবাগণ বললেন, সেটা কী জিনিস? তিনি বললেনঃ ষাঁড় এবং মাছ। যাদের কলিজার গুরদা হতে সত্তর হাজার লোক খেতে পারবে। [মুসলিম ৫০/৩, হাঃ ২৭৯২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৭৬)
হাদিস নং: ৬৫২১
সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن ابي مريم، اخبرنا محمد بن جعفر، قال حدثني ابو حازم، قال سمعت سهل بن سعد، قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول " يحشر الناس يوم القيامة على ارض بيضاء عفراء كقرصة نقي ". قال سهل او غيره ليس فيها معلم لاحد.
৬৫২১. সাহল ইবনু সা’দ সা’ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের দিন মানুষকে সাদা ধবধবে রুটির ন্যায় যমীনের ওপর একত্রিত করা হবে। সাহল বা অন্য কেউ বলেছেন, তার মাঝে কারও কোন পরিচয়ের পতাকা থাকবে না। [মুসলিম ৫০/২, হাঃ ২৭৯০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৭৭)
হাদিস নং: ৬৫২২
সহিহ (Sahih)
معلى بن اسد حدثنا وهيب عن ابن طاوس عن ابيه عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال يحشر الناس على ثلاث طراىق راغبين راهبين واثنان على بعير وثلاثة على بعير واربعة على بعير وعشرة على بعير ويحشر بقيتهم النار تقيل معهم حيث قالوا وتبيت معهم حيث باتوا وتصبح معهم حيث اصبحوا وتمسي معهم حيث امسوا
৬৫২২. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্র নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন মানুষকে একত্রিত করা হবে তিন প্রকারে। একদল হবে আল্লাহর প্রতি আসক্ত ও দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত। দ্বিতীয় দল হবে দু’জন, তিনজন, চারজন বা দশজন এক উটের ওপর আরোহণকারী। আর অবশিষ্ট যারা থাকবে অগ্নি তাদেরকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। যেখানে তারা থামবে আগুনও তাদের সঙ্গে সেখানে থামবে। তারা যেখানে রাত্রি কাটাবে আগুনও সেখানে তাদের সঙ্গে রাত্রি কাটাবে। তারা যেখানে সকাল করবে আগুনও সেখানে তাদের সঙ্গে সকাল করবে। যেখানে তাদের সন্ধ্যা হবে আগুন সেখানেও তাদের সাথে অবস্থান করবে। [মুসলিম ৫১/১৪, হাঃ ২৮৬১] (আধুনিক প্রকাশনী-৬০৭২ , ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৭৮)
হাদিস নং: ৬৫২৩
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا يونس بن محمد البغدادي حدثنا شيبان عن قتادة حدثنا انس بن مالك ان رجلا قال يا نبي الله كيف يحشر الكافر على وجهه قال اليس الذي امشاه على الرجلين في الدنيا قادرا على ان يمشيه على وجهه يوم القيامة قال قتادة بلى وعزة ربنا
৬৫২৩. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর নবী! মুখের ভরে কাফিরদেরকে কিভাবে হাশরের ময়দানে উঠানো হবে? তিনি বললেনঃ দুনিয়াতে যে সত্তা দু’পায়ের উপর হাঁটান, তিনি কি কিয়ামতের দিন মুখের ভরে করে হাঁটাতে পারবেন না? তখন ক্বাতাদাহ (রাঃ) বললেন, আমাদের প্রতিপালকের ইয্যতের কসম!, অবশ্যই (পারবেন)। [৪৭৬০] (আধুনিক প্রকাশনী- ,৬০৭৩ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৭৯)
হাদিস নং: ৬৫২৪
সহিহ (Sahih)
علي حدثنا سفيان قال عمرو سمعت سعيد بن جبير سمعت ابن عباس سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول انكم ملاقو الله حفاة عراة مشاة غرلا قال سفيان هذا مما نعد ان ابن عباس سمعه من النبي صلى الله عليه وسلم
৬৫২৪. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই তোমরা নগ্ন পদে নগ্ন দেহে পায়ে হেঁটে ও খাতনা বিহীন অবস্থায় আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হবে। সুফ্ইয়ান বলেন, এ হাদীসকে ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) এর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে স্বয়ং শুনা হাদীসসমূহের অন্তর্ভুক্ত মনে করা হয়। [৩৩৪৯; মুসলিম ৫১/১৪, হাঃ ২৮৬০, আহমাদ ১৯১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৮০)
হাদিস নং: ৬৫২৫
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا سفيان عن عمرو عن سعيد بن جبير عن ابن عباس قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يخطب على المنبر يقول انكم ملاقو الله حفاة عراة غرلا
৬৫২৫. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিম্বারে দাঁড়িয়ে এই বলে খুতবা দিতে শুনেছি যে, নিশ্চয়ই তোমরা আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে নগ্ন পদ, নগ্ন দেহ ও খাতনাবিহীন অবস্থায়। [৩৩৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৮১)
হাদিস নং: ৬৫২৬
সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة عن المغيرة بن النعمان عن سعيد بن جبير عن ابن عباس قال قام فينا النبي صلى الله عليه وسلم يخطب فقال انكم محشورون حفاة عراة غرلا (كما بدانا اول خلق نعيده) الاية وان اول الخلاىق يكسى يوم القيامة ابراهيم وانه سيجاء برجال من امتي فيوخذ بهم ذات الشمال فاقول يا رب اصحابي فيقول انك لا تدري ما احدثوا بعدك فاقول كما قال العبد الصالح (وكنت عليهم شهيدا ما دمت فيهم) الى قوله (الحكيم) قال فيقال انهم لم يزالوا مرتدين على اعقابهم
৬৫২৬. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন। এরপর বললেনঃ নিশ্চয়ই তোমাদের হাশর করা হবে নগ্ন পা, নগ্ন দেহে ও খাতনাবিহীন অবস্থায়। আয়াতঃ كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيْدُهُ অর্থাৎ আল্লাহ্ বলেন, যেভাবে আমি প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম, সেভাবে আবার সৃষ্টি করব। আর কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম ইব্রাহীম (আঃ)-কে বস্ত্র পরিধান করানো হবে। আমার উম্মাত হতে কিছু লোককে হাজির করা হবে আর তাদেরকে আনা হবে বাম হাতে ’আমলনামা প্রাপ্তদের ভিতর থেকে। তখন আমি বলব, হে আমার প্রতিপালক! এরা তো আমার উম্মাত। তখন আল্লাহ্ বলবেনঃ ’’তুমি জান না তোমার পরে এরা কী করেছে। তখন আমি নিবেদন করব, যেমন নিবেদন করেছে পুণ্যবান বান্দা অর্থাৎ ’ঈসা (আঃ)’’ وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيْدًا مَا دُمْتُ فِيْهِمْ ..... الْحَكِيْمُ আয়াত পর্যন্ত। অর্থাৎ আর তাদের কাজ কর্মের ব্যাপারে সাক্ষী ছিলাম যদ্দিন আমি তাদের মাঝে ছিলাম الْحَكِيْمُ..... পর্যন্ত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এরপর বলা হবে। এরা সর্বদাই দ্বীন ত্যাগ করে পূর্বাবস্থায় ফিরে যেত। [৩৩৪৯; মুসলিম ৫১/১৪, হাঃ ২৮৬০, আহমাদ ২০৯৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৮২)
হাদিস নং: ৬৫২৭
সহিহ (Sahih)
قيس بن حفص حدثنا خالد بن الحارث حدثنا حاتم بن ابي صغيرة عن عبد الله بن ابي مليكة قال حدثني القاسم بن محمد بن ابي بكر ان عاىشة قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم تحشرون حفاة عراة غرلا قالت عاىشة فقلت يا رسول الله الرجال والنساء ينظر بعضهم الى بعض فقال الامر اشد من ان يهمهم ذاك
৬৫২৭. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষকে হাশরের মাঠে উঠানো হবে নগ্ন পদ, নগ্ন দেহ ও খাতনাবিহীন অবস্থায়। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি তখন বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তখন তাহলে পুরুষ ও নারীগণ একে অপরের দিকে তাকাবে। তিনি বললেন: এরকম ইচ্ছে করার চেয়ে তখনকার অবস্থা হবে অতীব সংকটময়। [মুসলিম ৫১/১৪, হাঃ ২৮৫৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৮৩)
হাদিস নং: ৬৫২৮
সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن بشار، حدثنا غندر، حدثنا شعبة، عن ابي اسحاق، عن عمرو بن ميمون، عن عبد الله، قال كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في قبة فقال " اترضون ان تكونوا ربع اهل الجنة ". قلنا نعم. قال " ترضون ان تكونوا ثلث اهل الجنة ". قلنا نعم. قال " اترضون ان تكونوا شطر اهل الجنة ". قلنا نعم. قال " والذي نفس محمد بيده اني لارجو ان تكونوا نصف اهل الجنة، وذلك ان الجنة لا يدخلها الا نفس مسلمة، وما انتم في اهل الشرك الا كالشعرة البيضاء في جلد الثور الاسود او كالشعرة السوداء في جلد الثور الاحمر ".
৬৫২৮. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা এক তাঁবুতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমাদের সংখ্যা জান্নাতীদের এক-চতুর্থাংশ হলে তোমরা কি খুশি হবে? আমরা বললাম, হ্যাঁ। তিনি আবার বললেনঃ তোমরা জান্নাতীদের এক-তৃতীয়াংশ হলে তোমরা কি খুশি হবে? আমরা বললাম, হ্যাঁ। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ঐ সত্তার কসম! যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ। আমি দৃঢ় আশা রাখি যে, তোমরা জান্নাতীদের অর্ধেক হবে। আর জান্নাতে কেবল মুসলিমগণই প্রবেশ করতে পারবে। আর মুশরিকদের তুলনায় তোমাদের অবস্থা, যেমন কাল ষাঁড়ের চামড়ার উপর একটি সাদা পশম। অথবা লাল ষাঁড়ের চামড়ার উপর একটি কালো পশম। [৬৬৪২; মুসলিম ১/৯৫, হাঃ ২২১, আহমাদ ৩৬৬১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৮৪)
হাদিস নং: ৬৫২৯
সহিহ (Sahih)
اسماعيل حدثني اخي عن سليمان عن ثور عن ابي الغيث عن ابي هريرة ان النبي صلى الله عليه وسلم قال اول من يدعى يوم القيامة ادم فتراءى ذريته فيقال هذا ابوكم ادم فيقول لبيك وسعديك فيقول اخرج بعث جهنم من ذريتك فيقول يا رب كم اخرج فيقول اخرج من كل ماىة تسعة وتسعين فقالوا يا رسول الله اذا اخذ منا من كل ماىة تسعة وتسعون فماذا يبقى منا قال ان امتي في الامم كالشعرة البيضاء في الثور الاسود
৬৫২৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম আদম (আঃ)-কে ডাকা হবে। তিনি তাঁর সন্তানদেরকে দেখতে পাবেন। তখন তাদেরকে বলা হবে, ইনি তোমাদের পিতা আদম (আঃ)। তখন তারা বলবে لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ আমরা তোমার খিদমাতে হাযির! এরপর তাঁকে আল্লাহ্ বলবেন, তোমার জাহান্নামী বংশধরকে বের কর। তখন আদম (আঃ) বলবেন, হে আমার প্রতিপালক! কী পরিমাণ বের করব? আল্লাহ্ বলবেনঃ প্রতি একশ’ তে নিরানব্বই জনকে বের কর। তখন সাহাবাগণ বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রাসূল! প্রতি একশ’ থেকে যখন নিরানব্বই জনকে বের করা হবে তখন আর আমাদের কে বাকী থাকবে? তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয়ই অন্যান্য সকল উম্মাতের তুলনায় আমার উম্মাত হল কাল ষাঁড়ের গায়ে একটি সাদা চুলের মত। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৮৫)
হাদিস নং: ৬৫৩০
সহিহ (Sahih)
حدثني يوسف بن موسى، حدثنا جرير، عن الاعمش، عن ابي صالح، عن ابي سعيد، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يقول الله يا ادم. فيقول لبيك وسعديك والخير في يديك. قال يقول اخرج بعث النار. قال وما بعث النار قال من كل الف تسعماىة وتسعة وتسعين. فذاك حين يشيب الصغير، وتضع كل ذات حمل حملها، وترى الناس سكرى وما هم بسكرى ولكن عذاب الله شديد ". فاشتد ذلك عليهم فقالوا يا رسول الله اينا الرجل قال " ابشروا، فان من ياجوج وماجوج الف ومنكم رجل ـ ثم قال ـ والذي نفسي في يده اني لاطمع ان تكونوا ثلث اهل الجنة ". قال فحمدنا الله وكبرنا، ثم قال " والذي نفسي في يده اني لاطمع ان تكونوا شطر اهل الجنة، ان مثلكم في الامم كمثل الشعرة البيضاء في جلد الثور الاسود او الرقمة في ذراع الحمار ".
৬৫৩০. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ ডেকে বলবেন, হে আদম! তিনি বলবেন, আমি তোমার খিদমতে হাযির। যাবতীয় কল্যাণ তোমারই হাতে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ্ বলবেন, জাহান্নামীদের (নিক্ষেপ করার জন্য) বের কর। আদম (আঃ) বলবেন, কী পরিমাণ জাহান্নামী বের করব? আল্লাহ্ বলবেন, প্রতি হাজারে নয়শ’ নিরানব্বই জন। আর এটা ঘটবে ঐ সময়, যখন (কিয়ামতের ভয়াবহতায়) শিশু বুড়িয়ে যাবে। (আয়াত) : আর প্রত্যেক গর্ভবতী গর্ভপাত করে ফেলবে, আর মানুষকে দেখবে মাতাল, যদিও তারা প্রকৃতপক্ষে মাতাল নয়, কিন্তু আল্লাহর শাস্তি বড়ই কঠিন (যার কারণে তাদের ঐ অবস্থা ঘটবে)- (সূরাহ হাজ্জ ২২/২)।
এ ব্যাপারটি সাহাবাগণের নিকট বড় কঠিন মনে হল। তখন তাঁরা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্য থেকে (মুক্তি প্রাপ্ত) সেই লোকটি কে হবেন? তিনি বললেনঃ তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর যে ইয়ায়ুয ও মাযূয থেকে এক হাজার আর তোমাদের হবে একজন। এরপর তিনি বললেনঃ শপথ ঐ সত্তার, যাঁর করতলে আমার প্রাণ! আমি আশা রাখি যে তোমরা জান্নাতীদের এক-তৃতীয়াংশ হবে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমরা ’আল হামদুলিল্লাহ্’ ও ’আল্লাহু আকবার’ বলে উঠলাম। তিনি আবার বললেনঃ শপথ ঐ সত্তার, যাঁর হাতের মুঠোয় আমার প্রাণ! আমি অবশ্যই আশা রাখি যে তোমরা জান্নাতীদের অর্ধেক হবে। অন্য সব উম্মাতের তুলনায় তোমাদের দৃষ্টান্ত হচ্ছে কাল ষাঁড়ের চামড়ায় একটি সাদা চুলের মত। অথবা সাদা দাগ, যা গাধার সামনের পায়ে হয়ে থাকে। [৩৩৪৮; মুসলিম ১/৯২, হাঃ ২২২, আহমাদ ১১২৮৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৮৬)
এ ব্যাপারটি সাহাবাগণের নিকট বড় কঠিন মনে হল। তখন তাঁরা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্য থেকে (মুক্তি প্রাপ্ত) সেই লোকটি কে হবেন? তিনি বললেনঃ তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর যে ইয়ায়ুয ও মাযূয থেকে এক হাজার আর তোমাদের হবে একজন। এরপর তিনি বললেনঃ শপথ ঐ সত্তার, যাঁর করতলে আমার প্রাণ! আমি আশা রাখি যে তোমরা জান্নাতীদের এক-তৃতীয়াংশ হবে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমরা ’আল হামদুলিল্লাহ্’ ও ’আল্লাহু আকবার’ বলে উঠলাম। তিনি আবার বললেনঃ শপথ ঐ সত্তার, যাঁর হাতের মুঠোয় আমার প্রাণ! আমি অবশ্যই আশা রাখি যে তোমরা জান্নাতীদের অর্ধেক হবে। অন্য সব উম্মাতের তুলনায় তোমাদের দৃষ্টান্ত হচ্ছে কাল ষাঁড়ের চামড়ায় একটি সাদা চুলের মত। অথবা সাদা দাগ, যা গাধার সামনের পায়ে হয়ে থাকে। [৩৩৪৮; মুসলিম ১/৯২, হাঃ ২২২, আহমাদ ১১২৮৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৮৬)
হাদিস নং: ৬৫৩১
সহিহ (Sahih)
اسماعيل بن ابان حدثنا عيسى بن يونس حدثنا ابن عون عن نافع عن ابن عمر عن النبيا صلى الله عليه وسلم (يوم يقوم الناس لرب العالمين) قال يقوم احدهم في رشحه الى انصاف اذنيه
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: (وَتَقَطَّعَتْ بِهِمُ الأَسْبَابُ) قَالَ الْوُصُلاَتُ فِي الدُّنْيَا.
(وَتَقَطَّعَتْ بِهِمْ) সম্পর্কে ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, সেদিন দুনিয়ার যাবতীয় যোগসূত্র ছিন্ন হয়ে যাবে।
৬৫৩১. ইবনু ’উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। আল্লাহর বাণীঃ যেদিন মানুষ বিশ্বজগতের প্রতিপালকের সামনে দাঁড়াবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মানুষ দন্ডায়মান হবে কান পর্যন্ত ঘামে ডুবে থাকা অবস্থায়। [৪৯৩৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৮৭)
(وَتَقَطَّعَتْ بِهِمْ) সম্পর্কে ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, সেদিন দুনিয়ার যাবতীয় যোগসূত্র ছিন্ন হয়ে যাবে।
৬৫৩১. ইবনু ’উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। আল্লাহর বাণীঃ যেদিন মানুষ বিশ্বজগতের প্রতিপালকের সামনে দাঁড়াবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মানুষ দন্ডায়মান হবে কান পর্যন্ত ঘামে ডুবে থাকা অবস্থায়। [৪৯৩৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৮৭)