অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৮১/১. সুস্থতা আর অবসর, আখিরাতের জীবনই সত্যিকারের জীবন।
মোট ১৮২ টি হাদিস
হাদিস নং: ৬৫৩২
সহিহ (Sahih)
عبد العزيز بن عبد الله قال حدثني سليمان عن ثور بن زيد عن ابي الغيث عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال يعرق الناس يوم القيامة حتى يذهب عرقهم في الارض سبعين ذراعا ويلجمهم حتى يبلغ اذانهم
৬৫৩২. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন মানুষের ঘাম ঝরবে। এমনকি তাদের ঘাম যমীনে সত্তর হাত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়বে এবং তাদের মুখ পর্যন্ত ঘামে ডুবে যাবে; এমনকি কান পর্যন্ত। [মুসলিম ৫১/১৫, হাঃ ২৮৬৩, আহমাদ ৯৪২৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৮৮)
হাদিস নং: ৬৫৩৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا عمر بن حفص، حدثنا ابي، حدثنا الاعمش، حدثني شقيق، سمعت عبد الله ـ رضى الله عنه ـ قال النبي صلى الله عليه وسلم" اول ما يقضى بين الناس بالدماء ".
وَهْيَ الْحَاقَّةُ لأَنَّ فِيهَا الثَّوَابَ وَحَوَاقَّ الأُمُورِ، الْحَقَّةُ وَالْحَاقَّةُ وَاحِدٌ، وَالْقَارِعَةُ، وَالْغَاشِيَةُ، وَالصَّاخَّةُ، وَالتَّغَابُنُ غَبْنُ أَهْلِ الْجَنَّةِ أَهْلَ النَّارِ.
কিয়ামতের আরেক নাম (الْحَاقَّةُ) যেহেতু সেই দিন সাওয়াব পাওয়া যাবে এবং সমস্ত কাজের বিনিময় পাওয়া যাবে الْحَاقَّةُ -এর একই অর্থ। তেমনি الْقَارِعَةُ، الْغَاشِيَةُ، الصَّاخَّةُ কিয়ামতের নাম। [1] التَّغَابُنُ এর অর্থ জান্নাতবাসীরা জাহান্নামবাসীদেরকে ভুলিয়ে দেবে।
৬৫৩৩. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (কিয়ামতের দিন) মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম হত্যার বিচার করা হবে। [2] [৬৮৬৪; মুসলিম ২৮/৮, হাঃ ১৬৭৮, আহমাদ ৩৬৭৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৮৯)
[1] الحاقة والقارعة والغاثية والصاخة والتغابن এগুলো কিয়ামত দিবসের এক একটি নাম। ইমাম কুরতবী কিয়ামত দিবসের নাম প্রায় আশিটির মত একত্রিত করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলোঃ
يوم الجمع ويوم الفزع الأكبر ويوم التناد ويوم الوعيد ويوم الحسرة ويوم التلاق ويوم المآب ويوم الفصل ويوم العرض على الله ويوم الخروج ويوم الخلود ومنها يوم عظيم ويوم عسير ويوم مشهود ويوم عبوس قمطرير ومنها يوم تبلى السرائر ومنها يوم لاتملك نفس لنفس شيئا ويوم يدعون إلى نار جهنم ويوم تشخص فيه الابصار ويوم لا ينفع الظالمين معذرتهم ويوم لا ينطقون ويوم لا ينفع مال ولا بنون ويوم لا يكتمون الله حديثا ويوم لا مرد له من الله ويوم لا بيع فيه ولا خلال ويوم لا ريب فيه। (ফাতহুল বারী)
[2] এই হাদীসটির সাথে সুনানে বর্ণিত আবু হুরায়রা (রাঃ)’র হাদীসের কোন দ্বন্দ্ব নেই। কারণ আবূ হুরায়রার (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিঃ إن أول ما يحاسب به العبد يوم القيامة صلاته আল্লাহর তা’আলার ইবাদতের (আল্লাহর হক্বের) সাথে সংশ্লিষ্ট। সুতরাং এই বিষয়ের মধ্যে সর্বপ্রথম সালাতের হিসাব হবে। আর এখানে বর্ণিত হাদীসটি সৃষ্ট জীবের (বান্দার হক্বের) সাথে সংশ্লিষ্ট। সুতরাং এই বিষয়ের মধ্যে সর্বপ্রথম খুনের হিসাব হবে। হাদীসটি থেকে আরো জানা যায় : (১) খুনের ব্যাপার অত্যন্ত মারাত্মক। এ বিষয়ে পবিত্র কুরআন ও হাদীসে কঠোর বিধান বর্ণনা করা হয়েছে। (ফাতহুল বারী)
হাদিস নং: ৬৫৩৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل، قال حدثني مالك، عن سعيد المقبري، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " من كانت عنده مظلمة لاخيه فليتحلله منها، فانه ليس ثم دينار ولا درهم من قبل ان يوخذ لاخيه من حسناته، فان لم يكن له حسنات اخذ من سيىات اخيه، فطرحت عليه ".
৬৫৩৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার ভাই-এর ওপর যুলুম করেছে সে যেন তার কাছ থেকে ক্ষমা নিয়ে নেয়, তার ভাই-এর পক্ষে তার নিকট হতে পুণ্য কেটে নেয়ার আগেই। কারণ সেখানে কোন দ্বীনার বা দিরহাম পাওয়া যাবে না। তার কাছে যদি পুণ্য না থাকে তবে তার (মাজলুম) ভাই-এর গোনাহ্ এনে তার উপর চাপিয়ে দেয়া হবে। [২৪৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৯০)
হাদিস নং: ৬৫৩৫
সহিহ (Sahih)
حدثني الصلت بن محمد، حدثنا يزيد بن زريع، (ونزعنا ما في صدورهم من غل) قال حدثنا سعيد عن قتادة عن ابي المتوكل الناجي ان ابا سعيد الخدري ـ رضى الله عنه ـ قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يخلص المومنون من النار، فيحبسون على قنطرة بين الجنة والنار، فيقص لبعضهم من بعض، مظالم كانت بينهم في الدنيا، حتى اذا هذبوا ونقوا اذن لهم في دخول الجنة، فوالذي نفس محمد بيده لاحدهم اهدى بمنزله في الجنة منه بمنزله كان في الدنيا ".
৬৫৩৫. (وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِمْ مِنْ غِلٍّ)-এর তাৎপর্যে সালত ইবনু মুহাম্মাদ (রহ.) ..... আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিনগণ জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার পর একটি পুলের ওপর তাদের দাঁড় করানো হবে, যা জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যস্থলে অবস্থিত। দুনিয়ায় তারা একে অপরের উপর যে যুলুম করেছিল তার প্রতিশোধ গ্রহণ করানো হবে। তারা যখন পাক-সাফ হয়ে যাবে, তখন তাদের জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে। সেই সত্তার কসম! যাঁর হাতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রাণ, প্রত্যেক ব্যক্তি তার দুনিয়ার বাসস্থানের তুলনায় জান্নাতের বাসস্থানকে উত্তমরূপে চিনতে পারবে। [২৪৪০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৯১)
হাদিস নং: ৬৫৩৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبيد الله بن موسى، عن عثمان بن الاسود، عن ابن ابي مليكة، عن عاىشة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من نوقش الحساب عذب ". قالت قلت اليس يقول الله تعالى (فسوف يحاسب حسابا يسيرا). قال " ذلك العرض ". حدثني عمرو بن علي، حدثنا يحيى، عن عثمان بن الاسود، سمعت ابن ابي مليكة، قال سمعت عاىشة ـ رضى الله عنها ـ قالت سمعت النبي صلى الله عليه وسلم مثله. وتابعه ابن جريج ومحمد بن سليم وايوب وصالح بن رستم عن ابن ابي مليكة عن عاىشة عن النبي صلى الله عليه وسلم.
৬৫৩৬. ’আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ যার হিসাব খতিয়ে দেখা হবে তাকে ’আযাব দেয়া হবে। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি তখন বললাম, আল্লাহ কি বলেননি যে, তার হিসাব সহজভাবেই নেয়া হবে? তিনি বলেন, তা তো কেবল পেশ করা মাত্র। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৯২)
’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ রকম বলতে শুনেছি। ইবনু জুরায়জ, মুহাম্মদ ইবনু সুলায়ম, আইউব ও সারিহ্ ইবনু রুস্তম, ইবনু আবূ মুলাইকা ’আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরূপ বর্ণনার অনুসরণ করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৯৩)
’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ রকম বলতে শুনেছি। ইবনু জুরায়জ, মুহাম্মদ ইবনু সুলায়ম, আইউব ও সারিহ্ ইবনু রুস্তম, ইবনু আবূ মুলাইকা ’আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরূপ বর্ণনার অনুসরণ করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৯৩)
হাদিস নং: ৬৫৩৭
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن منصور حدثنا روح بن عبادة حدثنا حاتم بن ابي صغيرة حدثنا عبد الله بن ابي مليكة حدثني القاسم بن محمد حدثتني عاىشة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ليس احد يحاسب يوم القيامة الا هلك فقلت يا رسول الله اليس قد قال الله تعالى: (فاما من اوتي كتابه بيمينه فسوف يحاسب حسابا يسيرا) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم انما ذلك العرض وليس احد يناقش الحساب يوم القيامة الا عذب
৬৫৩৭. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন যারই হিসাব নেয়া হবে সে ধ্বংস হয়ে যাবে। [’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন] আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ্ কি বলেননি, অতঃপর যার ’আমলনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে তার হিসাব সহজভাবেই নেয়া হবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তা কেবল পেশ করা মাত্র। কিয়ামতের দিন যার হিসাব খতিয়ে দেখা হবে তাকে অবশ্যই আযাব দেয়া হবে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৯৪)
হাদিস নং: ৬৫৩৮
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا معاذ بن هشام قال حدثني ابي عن قتادة عن انس عن النبي صلى الله عليه وسلم ح و حدثني محمد بن معمر حدثنا روح بن عبادة حدثنا سعيد عن قتادة حدثنا انس بن مالك ان نبي الله صلى الله عليه وسلم كان يقول يجاء بالكافر يوم القيامة فيقال له ارايت لو كان لك ملء الارض ذهبا اكنت تفتدي به فيقول نعم فيقال له قد كنت سىلت ما هو ايسر من ذلك
৬৫৩৮. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ কিয়ামতের দিন কাফিরকে হাযির করা হবে। অতঃপর তাকে বলা হবে তোমার যদি দুনিয়া ভর্তি সোনা থাকত তাহলে তুমি কি বিনিময়ে তা দিয়ে আযাব থেকে বাঁচতে চাইতে না? সে বলবে, হাঁ। এরপর তাকে বলা হবে তোমার কাছে তো এর চেয়ে বহু ক্ষুদ্র বস্ত্ত (তৌহীদ) চাওয়া হয়েছিল। [৩৩৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৯৫)
হাদিস নং: ৬৫৩৯
সহিহ (Sahih)
عمر بن حفص حدثنا ابي قال حدثني الاعمش قال حدثني خيثمة عن عدي بن حاتم قال قال النبي صلى الله عليه وسلم ما منكم من احد الا وسيكلمه الله يوم القيامة ليس بين الله وبينه ترجمان ثم ينظر فلا يرى شيىا قدامه ثم ينظر بين يديه فتستقبله النار فمن استطاع منكم ان يتقي النار ولو بشق تمرة
৬৫৩৯. আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন তোমাদের প্রত্যেক লোকের সাথে আল্লাহ্ কথা বলবেন। আর সেদিন আল্লাহ ও বান্দার মাঝে কোন দোভাষী থাকবে না। অতঃপর বান্দা দৃষ্টিপাত করে তার সামনে কিছুই দেখতে পাবে না। সে আবার তার সামনে দৃষ্টি ফেরাবে। তখন তার সামনে হাজির হবে জাহান্নাম। তোমাদের মধ্যে যে জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ পেতে চায়, সে যেন এক টুকরা খেজুর দিয়ে হলেও নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। [১৪১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৯৬)
হাদিস নং: ৬৫৪০
সহিহ (Sahih)
قال الاعمش حدثني عمرو عن خيثمة عن عدي بن حاتم قال قال النبي صلى الله عليه وسلم اتقوا النار ثم اعرض واشاح ثم قال اتقوا النار ثم اعرض واشاح ثلاثا حتى ظننا انه ينظر اليها ثم قال اتقوا النار ولو بشق تمرة فمن لم يجد فبكلمة طيبة
৬৫৪০. আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচ। এরপর তিনি পিঠ ফিরালেন এবং মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। আবার বললেনঃ তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচ। এরপর তিনি পিঠ ফিরালেন এবং মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। তিনবার এরূপ করলেন। এমন কি আমরা ভাবছিলাম যে তিনি বুঝি জাহান্নাম সরাসরি দেখছেন। তিনি আবার বললেনঃ তোমরা এক টুকরা খেজুর দিয়ে হলেও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচ। আর যদি কেউ সেটাও না পাও তাহলে উত্তম কথার দ্বারা হলেও (আগুন থেকে নিজেকে রক্ষা কর)। [১৪১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৯৭)
হাদিস নং: ৬৫৪১
সহিহ (Sahih)
حدثنا عمران بن ميسرة، حدثنا ابن فضيل، حدثنا حصين،. وحدثني اسيد بن زيد، حدثنا هشيم، عن حصين، قال كنت عند سعيد بن جبير فقال حدثني ابن عباس، قال قال النبي صلى الله عليه وسلم" عرضت على الامم، فاخذ النبي يمر معه الامة، والنبي يمر معه النفر، والنبي يمر معه العشرة، والنبي يمر معه الخمسة، والنبي يمر وحده، فنظرت فاذا سواد كثير قلت يا جبريل هولاء امتي قال لا ولكن انظر الى الافق. فنظرت فاذا سواد كثير. قال هولاء امتك، وهولاء سبعون الفا قدامهم، لا حساب عليهم ولا عذاب. قلت ولم قال كانوا لا يكتوون، ولا يسترقون، ولا يتطيرون، وعلى ربهم يتوكلون ". فقام اليه عكاشة بن محصن فقال ادع الله ان يجعلني منهم. قال " اللهم اجعله منهم ". ثم قام اليه رجل اخر قال ادع الله ان يجعلني منهم. قال " سبقك بها عكاشة ".
৬৫৪১. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আগের উম্মাতদের আমার সামনে পেশ করা হয়। কোন নবী তাঁর বহু উম্মাতকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন। কোন নবীর সঙ্গে অপেক্ষাকৃত ছোট দল। কোন নবীর সঙ্গে আছে দশজন উম্মাত। কোন নবীর সাথে আছে পাঁচজন আবার কোন নবী একা একা যাচ্ছেন। দৃষ্টি দিতেই, হঠাৎ দেখি অনেক বড় একটি দল। জিজ্ঞেস করলামঃ হে জিব্রীল! ওরা কি আমার উম্মাত? তিনি বললেন, না। তবে আপনি শেষ প্রান্তের দিকে তাকিয়ে দেখুন! আমি দৃষ্টি দিলামঃ হঠাৎ দেখি অনেক বড় একটি দল। তিনি বললেন, ওরা আপনার উম্মাত। আর তাদের অগ্রবর্তী সত্তর হাজার লোকের কোন হিসাব হবে না, তাদের কোন আযাব হবে না।
আমি বললাম, কারণ কী! তিনি বললেন, তারা শরীরে দাগ লাগাত না, ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নিত না এবং শুভ অশুভ লক্ষণ মানত না। আর তারা কেবল তাদের প্রতিপালকের ওপরই নির্ভর করত। তখন উক্কাশা ইবনু মিহসান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে দাঁড়িয়ে বললেন, আপনি আমার জন্য দু’আ করুন আল্লাহ্ যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ’’হে আল্লাহ্ তুমি তাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত কর।’’ এরপর আরেক জন উঠে দাঁড়িয়ে বলল, আমার জন্য দু’আ করুন আল্লাহ্ যেন আমাকে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ ব্যাপারে উক্কাশা তোমার আগে চলে গেছে।[1] ]৩৪১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ,৬০৯০ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৯৮)
আমি বললাম, কারণ কী! তিনি বললেন, তারা শরীরে দাগ লাগাত না, ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নিত না এবং শুভ অশুভ লক্ষণ মানত না। আর তারা কেবল তাদের প্রতিপালকের ওপরই নির্ভর করত। তখন উক্কাশা ইবনু মিহসান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে দাঁড়িয়ে বললেন, আপনি আমার জন্য দু’আ করুন আল্লাহ্ যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ’’হে আল্লাহ্ তুমি তাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত কর।’’ এরপর আরেক জন উঠে দাঁড়িয়ে বলল, আমার জন্য দু’আ করুন আল্লাহ্ যেন আমাকে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ ব্যাপারে উক্কাশা তোমার আগে চলে গেছে।[1] ]৩৪১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ,৬০৯০ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৯৮)
নোট: [1] ‘উক্কাশা বিন মিহসান ইসলামের প্রাথমিক যুগেই ইসলামে প্রবেশ করেন। তাঁর উপনাম আবূ মিহ্সান। তিনি পুরুষ সহাবাদের মধ্যে অধিক সুন্দর ছিলেন। মক্কা হতে মদীনায় হিজরত করার গৌরব অর্জন করেন। বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেন। খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বাধীন ইসলাম ত্যাগী মুরতাদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকালে ১২ হিজরীতে শহীদ হন। (ফাতহুল বারী)
হাদিস নং: ৬৫৪২
সহিহ (Sahih)
حدثنا معاذ بن اسد، اخبرنا عبد الله، اخبرنا يونس، عن الزهري، قال حدثني سعيد بن المسيب، ان ابا هريرة، حدثه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " يدخل من امتي زمرة هم سبعون الفا، تضيء وجوههم اضاءة القمر ليلة البدر ". وقال ابو هريرة فقام عكاشة بن محصن الاسدي يرفع نمرة عليه فقال يا رسول الله ادع الله ان يجعلني منهم. قال " اللهم اجعله منهم ". ثم قام رجل من الانصار فقال يا رسول الله ادع الله ان يجعلني منهم. فقال " سبقك عكاشة ".
৬৫৪২. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, আমার উম্মাত থেকে কিছু লোক দল বেঁধে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের সংখ্যা সত্তর হাজার। তাদের চেহারাগুলো পূর্ণিমার চাঁদের আলোর মত জ্বল জ্বল করবে। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, এতদশ্রবণে উক্কাশা ইবনু মিহসান আসাদী তাঁর গায়ে চাদর জড়ানো অবস্থায় দাঁড়ালেন, এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য দু’আ করুন, আল্লাহ্ যেন আমাকে তাঁদের মধ্যে শামিল করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’আ করলেনঃ হে আল্লাহ্! আপনি একে তাদের মধ্যে শামিল করুন। এরপর আনসার সম্প্রদায়ের এক লোক দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর নিকট দু’আ করুন, তিনি যেন আমাকে তাদের মধ্যে শামিল করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’আ করলেনঃ হে আল্লাহ্! আপনি একে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। এরপর আনসার সম্প্রদায়ের এক লোক দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসূল্লাল্লাহ্! আল্লাহর নিকট দু’আ করুন, তিনি যেন আমাকে তাদের মধ্যে শামিল করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ উক্কাশা এ ব্যাপারে তোমার চেয়ে এগিয়ে গেছে। [৫৮১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৯৯)
হাদিস নং: ৬৫৪৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن ابي مريم، حدثنا ابو غسان، قال حدثني ابو حازم، عن سهل بن سعد، قال قال النبي صلى الله عليه وسلم" ليدخلن الجنة من امتي سبعون الفا او سبعماىة الف ـ شك في احدهما ـ متماسكين، اخذ بعضهم ببعض، حتى يدخل اولهم واخرهم الجنة، ووجوههم على ضوء القمر ليلة البدر ".
৬৫৪৩. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের সত্তর হাজার অথবা সাত লাখ লোক একে অপরের হাত ধরে জান্নাতে দাখিল হবে। বর্ণনাকারীর এ দু’সংখ্যার মাঝে সন্দেহ রয়েছে। তাদের প্রথম থেকে শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত সকলেই জান্নাতে দাখিল হবে আর তাদের চেহারাগুলো পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় জ্বল জ্বল করতে থাকবে। [৩২৪৭] (ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১০০)
হাদিস নং: ৬৫৪৪
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا يعقوب بن ابراهيم حدثنا ابي عن صالح حدثنا نافع عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال يدخل اهل الجنة الجنة واهل النار النار ثم يقوم موذن بينهم يا اهل النار لا موت ويا اهل الجنة لا موت خلود
৬৫৪৪. ইবনু ’উমার (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে আর জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তখন তাদের মাঝে একজন ঘোষণাকারী দাঁড়িয়ে ঘোষণা দেবে যে, হে জাহান্নামবাসীরা! এখানে মৃত্যু নেই। আর হে জান্নাতবাসীরা! এখানে মৃত্যু নেই। এ জীবন চিরন্তন। [৬৫৪৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১০১)
হাদিস নং: ৬৫৪৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، حدثنا ابو الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، قال قال النبي صلى الله عليه وسلم
" يقال لاهل الجنة خلود لا موت. ولاهل النار يا اهل النار خلود لا موت ".
" يقال لاهل الجنة خلود لا موت. ولاهل النار يا اهل النار خلود لا موت ".
৬৫৪৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (কিয়ামতের দিন) জান্নাতবাসীদেরকে বলা হবে, এ জীবন চিরন্তন, মৃত্যু নেই। জাহান্নামের অধিবাসীদেরকে বলা হবে, হে জাহান্নামীরা! এ জীবন চিরন্তন, মৃত্যু নেই। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১০২)
হাদিস নং: ৬৫৪৬
সহিহ (Sahih)
عثمان بن الهيثم حدثنا عوف عن ابي رجاء عن عمران عن النبي صلى الله عليه وسلم قال اطلعت في الجنة فرايت اكثر اهلها الفقراء واطلعت في النار فرايت اكثر اهلها النساء
وَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ قَالَ النَّبِيُّصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوَّلُ طَعَامٍ يَأْكُلُهُ أَهْلُ الْجَنَّةِ زِيَادَةُ كَبِدِ حُوتٍ عَدْنٌ خُلْدٌ عَدَنْتُ بِأَرْضٍ أَقَمْتُ وَمِنْهُ الْمَعْدِنُ فِي مَقْعَدِ صِدْقٍ فِي مَنْبِتِ صِدْقٍ
আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতবাসীরা সর্বপ্রথম যে খাদ্য খাবে তা হল মাছের কলিজা সংলগ্ন অতিরিক্ত অংশ গুর্দা। عَدْنٌ অর্থ সর্বদা থাকা- (সূরাহ আত্ তওবা ৯/৭২), عَدَنْتُ بِأَرْضٍ অর্থ আমি অবস্থান করেছি- (সূরাহ আল-ক্বামার ৫৪/৫৫। এত্থেকেই مَعْدِنُ এসেছে فِي مَنْبِتِ صِدْقٍ যেখান হতে সত্য বের হয়।
৬৫৪৬. ’ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জান্নাতে উঁকি দিয়ে দেখতে পেলাম, তার অধিকাংশ অধিবাসীই দরিদ্র। আবার জাহান্নামে উঁকি দিয়ে দেখলাম যে এর অধিকাংশ অধিবাসীই মহিলা। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১০৩)
আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতবাসীরা সর্বপ্রথম যে খাদ্য খাবে তা হল মাছের কলিজা সংলগ্ন অতিরিক্ত অংশ গুর্দা। عَدْنٌ অর্থ সর্বদা থাকা- (সূরাহ আত্ তওবা ৯/৭২), عَدَنْتُ بِأَرْضٍ অর্থ আমি অবস্থান করেছি- (সূরাহ আল-ক্বামার ৫৪/৫৫। এত্থেকেই مَعْدِنُ এসেছে فِي مَنْبِتِ صِدْقٍ যেখান হতে সত্য বের হয়।
৬৫৪৬. ’ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জান্নাতে উঁকি দিয়ে দেখতে পেলাম, তার অধিকাংশ অধিবাসীই দরিদ্র। আবার জাহান্নামে উঁকি দিয়ে দেখলাম যে এর অধিকাংশ অধিবাসীই মহিলা। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১০৩)
হাদিস নং: ৬৫৪৭
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا اسماعيل اخبرنا سليمان التيمي عن ابي عثمان عن اسامة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال قمت على باب الجنة فكان عامة من دخلها المساكين واصحاب الجد محبوسون غير ان اصحاب النار قد امر بهم الى النار وقمت على باب النار فاذا عامة من دخلها النساء
৬৫৪৭. উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জান্নাতের দরজায় দাঁড়ালাম। (দেখলাম) সেখানে যারা প্রবেশ করেছে তারা অধিকাংশই দরিদ্র। আর ধনীরা আবদ্ধ অবস্থায় আছে। আর জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যাবার হুকুম দেয়া হয়েছে। এবং আমি জাহান্নামের দরজায় গিয়ে দাঁড়ালাম। (দেখলাম) সেখানে যারা প্রবেশ করেছে তাদের অধিকাংশই হচ্ছে নারী। [৫১৯৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৯৬ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১০৪)
হাদিস নং: ৬৫৪৮
সহিহ (Sahih)
معاذ بن اسد اخبرنا عبد الله اخبرنا عمر بن محمد بن زيد عن ابيه انه حدثه عن ابن عمر قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا صار اهل الجنة الى الجنة واهل النار الى النار جيء بالموت حتى يجعل بين الجنة والنار ثم يذبح ثم ينادي مناد يا اهل الجنة لا موت ويا اهل النار لا موت فيزداد اهل الجنة فرحا الى فرحهم ويزداد اهل النار حزنا الى حزنهم
৬৫৪৮. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতীরা জান্নাতে আর জাহান্নামীরা জাহান্নামে যাওয়ার পর, তখন মৃত্যুকে উপস্থিত করা হবে, এমন কি জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্য স্থানে রাখা হবে। এরপর তাকে যবেহ করে দেয়া হবে, অতঃপর একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দিবে যে, হে জান্নাতীরা! (আর) মৃত্যু নেই। হে জাহান্নামীরা! (আর) মৃত্যু নেই। তখন জান্নাতীগণের বাড়বে আনন্দের উপর আনন্দ। আর জাহান্নামীদের বাড়বে দুঃখের উপর দুঃখ। [৬৫৪৪; মুসলিম ৫১/১৪, হাঃ ২৮৫০, আহমাদ ৬০০০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১০৫)
হাদিস নং: ৬৫৪৯
সহিহ (Sahih)
معاذ بن اسد اخبرنا عبد الله اخبرنا مالك بن انس عن زيد بن اسلم عن عطاء بن يسار عن ابي سعيد الخدري قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان الله تبارك وتعالى يقول لاهل الجنة يا اهل الجنة فيقولون لبيك ربنا وسعديك فيقول هل رضيتم فيقولون وما لنا لا نرضى وقد اعطيتنا ما لم تعط احدا من خلقك فيقول انا اعطيكم افضل من ذلك قالوا يا رب واي شيء افضل من ذلك فيقول احل عليكم رضواني فلا اسخط عليكم بعده ابدا
৬৫৪৯. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ জান্নাতীদেরকে লক্ষ্য করে বলবেন, হে জান্নাতীগণ! তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! হাযির, আমরা আপনার খেদমতে হাযির। এরপর আল্লাহ্ বলবেন, তোমরা কি খুশি হয়েছ? তারা বলবে, কেন খুশি হব না, আপনি আমাদেরকে এমন বস্তু দান করেছেন যা আপনার সৃষ্টি জগতের আর কাউকেই দান করেননি। তখন তিনি বলবেন, আমি এর চেয়েও উত্তম বস্ত্ত তোমাদেরকে দান করব। তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! এর চেয়েও উত্তম সে কোন্ বস্তু? আল্লাহ্ বলবেন, তোমাদের ওপর আমি আমার সন্তুষ্টি অবধারিত করব। অতঃপর আমি আর কক্ষনো তোমাদের ওপর নাখোশ হব না। [৭৫১৮; মুসলিম ৫১/২, হাঃ ২৮২৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১০৬)
হাদিস নং: ৬৫৫০
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا معاوية بن عمرو حدثنا ابو اسحاق عن حميد قال سمعت انسا يقول اصيب حارثة يوم بدر وهو غلام فجاءت امه الى النبي صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله قد عرفت منزلة حارثة مني فان يك في الجنة اصبر واحتسب وان تكن الاخرى ترى ما اصنع فقال ويحك اوهبلت اوجنة واحدة هي انها جنان كثيرة وانه لفي جنة الفردوس
৬৫৫০. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদরের যুদ্ধে হারিসা (রাঃ) শহীদ হলেন। আর তখন তিনি নাবালক ছিলেন। তাঁর মা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার অন্তরে হারিসার স্থান সম্পর্কে আপনি তো জানেন। সে যদি জান্নাতী হয়; আমি ধৈর্য ধারণ করব এবং সাওয়াব মনে করব। আর যদি অন্য কিছু হয় তবে দেখবেন আমি কী করি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার জন্য আফসোস! অথবা তুমি কি নির্বোধ হয়ে গেলে! জান্নাত মাত্র একটাই না কি? জান্নাতের সংখ্যা অনেক। আর সে আছে জান্নাতুল ফিরদাউসে। [২৮০৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১০৭)
হাদিস নং: ৬৫৫১
সহিহ (Sahih)
معاذ بن اسد اخبرنا الفضل بن موسى اخبرنا الفضيل عن ابي حازم عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ما بين منكبي الكافر مسيرة ثلاثة ايام للراكب المسرع
৬৫৫১. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্র নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কাফিরের দু’কাঁধের মাঝের দূরত্ব একজন দ্রুতগতি অশ্বারোহীর তিন দিনের ভ্রমণপথের সমান হবে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১০৮)