অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৮১/১. সুস্থতা আর অবসর, আখিরাতের জীবনই সত্যিকারের জীবন।
মোট ১৮২ টি হাদিস
হাদিস নং: ৬৫৫২ সহিহ (Sahih)
وقال اسحاق بن ابراهيم اخبرنا المغيرة بن سلمة حدثنا وهيب عن ابي حازم عن سهل بن سعد عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان في الجنة لشجرة يسير الراكب في ظلها ماىة عام لا يقطعها
৬৫৫২. ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম (রহ.) ... সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ জান্নাতের মাঝে এমন একটি বৃক্ষ হবে যার ছায়ায় একজন আরোহী একশ’ বছর পর্যন্ত চলবে, তবুও বৃক্ষের ছায়াকে অতিক্রম করতে পারবে না। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১০৮)
হাদিস নং: ৬৫৫৩ সহিহ (Sahih)
قال ابو حازم فحدثت به النعمان بن ابي عياش فقال حدثني ابو سعيد عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ان في الجنة لشجرة يسير الراكب الجواد المضمر السريع ماىة عام ما يقطعها
৬৫৫৩. রাবী আবূ হাযিম বলেন, আমি এই হাদীসটি নু’মান ইবনু আবূ আইয়্যাশ (রহ.)-এর নিকট বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) আমার কাছে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ নিশ্চয়ই জান্নাতের মাঝে এমন একটি বৃক্ষ হবে যার ছায়ায় উৎকৃষ্ট, চটপটে ও দ্রুতগামী অশ্বের একজন আরোহী একশ’ বছর পর্যন্ত চলতে পারবে। কিন্তু তার ছায়া অতিক্রম করতে পারবে না। [মুসলিম ৫১/১, হাঃ ২৮২৭, ২৮২৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১০৮)
হাদিস নং: ৬৫৫৪ সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا عبد العزيز عن ابي حازم عن سهل بن سعد ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ليدخلن الجنة من امتي سبعون الفا او سبع ماىة الف لا يدري ابو حازم ايهما قال متماسكون اخذ بعضهم بعضا لا يدخل اولهم حتى يدخل اخرهم وجوههم على صورة القمر ليلة البدر
৬৫৫৪. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাত হতে সত্তর হাজার অথবা সাত লক্ষ লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে। রাবী আবূ হাযিম জানেন না যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত দু’টি সংখ্যা হতে কোনটি বলেছেন। তারা একে অপরের হস্ত দৃঢ়ভাবে ধারণ করতঃ জান্নাতে প্রবেশ করবে। প্রথম ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না সর্বশেষ ব্যক্তি তাতে প্রবেশ করবে। তাদের চেহারাগুলো পূর্ণিমার রাতের চাঁদের ন্যায় জ্যোতির্ময় হবে। [৩২৪৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১০৯)
হাদিস নং: ৬৫৫৫ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن مسلمة حدثنا عبد العزيز عن ابيه عن سهل عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ان اهل الجنة ليتراءون الغرف في الجنة كما تتراءون الكوكب في السماء
৬৫৫৫. সাহল (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জান্নাতীরা জান্নাতে বালাখানাগুলো দেখতে পাবে, যেমন তোমরা আকাশে তারকাগুলো দেখতে পাও। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১০২ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১১০)
হাদিস নং: ৬৫৫৬ সহিহ (Sahih)
قال ابي فحدثت النعمان بن ابي عياش، فقال اشهد لسمعت ابا سعيد يحدث ويزيد فيه"‏ كما تراءون الكوكب الغارب في الافق الشرقي والغربي ‏"‏‏.‏
৬৫৫৬. রাবী বলেন, আমার পিতা বলেছেন যে, আমি এ হাদীসটি নু’মান ইবনু আবূ আইয়্যাশকে বলেছি। অতঃপর তিনি বলেছেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি অবশ্যই আবূ সা’ঈদকে এ হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি এবং এতে তিনি এটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন ’যেমন তোমরা পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্তে অস্তগামী নক্ষত্রকে দেখে থাক।’[1] [৩২৫৬; মুসলিম ৫১/৩, হাঃ ২৮৩০] (আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১১০)
নোট: [1] পূর্ব ও পশ্চিম উল্লেখ করার ফায়দা হল ঊচ্চতা এবং দূরত্বের আধিক্য বর্ণনা করা। (ফাতহুল বারী)
হাদিস নং: ৬৫৫৭ সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن بشار، حدثنا غندر، حدثنا شعبة، عن ابي عمران، قال سمعت انس بن مالك ـ رضى الله عنه ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال"‏ يقول الله تعالى لاهون اهل النار عذابا يوم القيامة لو ان لك ما في الارض من شىء اكنت تفتدي به فيقول نعم‏.‏ فيقول اردت منك اهون من هذا وانت في صلب ادم ان لا تشرك بي شيىا فابيت الا ان تشرك بي ‏"‏‏.‏
৬৫৫৭. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কম শাস্তি প্রাপ্ত লোককে আল্লাহ্ বলবেন, দুনিয়ার মাঝে যত সম্পদ আছে তার তুল্য সম্পদ যদি (আজ) তোমার কাছে থাকত, তাহলে কি তুমি তার বিনিময়ে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করতে? সে বলবে, হ্যাঁ। এরপর আল্লাহ্ বলবেন, আমি তোমাকে এর চেয়েও সহজ কাজের হুকুম দিয়েছিলাম, যখন তুমি আদমের পৃষ্ঠদেশে ছিলে। তা এই যে, তুমি আমার সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না। কিন্তু তুমি তা অস্বীকার করলে আর আমার সাথে শরীক করলে। [৩৩৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১১১)
হাদিস নং: ৬৫৫৮ সহিহ (Sahih)
ابو النعمان حدثنا حماد عن عمرو عن جابر ان النبي صلى الله عليه وسلم قال يخرج من النار بالشفاعة كانهم الثعارير قلت ما الثعارير قال الضغابيس وكان قد سقط فمه فقلت لعمرو بن دينار ابا محمد سمعت جابر بن عبد الله يقول سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول يخرج بالشفاعة من النار قال نعم
৬৫৫৮. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শাফা’আতের মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে (মানুষকে) বের করা হবে। যেমন তারা সা’আরীর। (রাবী জাবির বলেন) আমি বললাম সা’আরীর কী? তিনি বললেনঃ সা’আরীর মানে যাগাবীস (কচি ঘাস)। আর ঐ সময় (আমরের) মুখের দাঁত পড়ে গিয়েছিল। (রাবী বলেন) আমি আবূ মুহাম্মাদ ’আমর ইবনু দ্বীনারকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্কে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শাফাআতের দ্বারা লোকদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। তিনি বললেন, হাঁ।[1] [মুসলিম ১/৮৪, হঃ ১৯১, আহমাদ ১৪৩১৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১১২)
নোট: [1] মু‘তাযিলা ও খারেজী সম্প্রদায় গুনাহগার (মু’মিন) ব্যক্তিদের যারা জাহান্নামে প্রবেশ করেছে, তাদের জাহান্নাম হতে শাফা‘আতের মাধ্যমে বের হওয়াকে অস্বীকার করে। তারা তাদের স্বপক্ষে যে প্রমাণ পেশ করে থাকে তার মধ্যে একটি আয়াত হল : {فَمَا تَنفَعُهُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِينَ} (৪৮) سورة المدثر আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত তাদের এই আয়াত দ্বারা দলীল গ্রহণের উত্তরে বলেন যে, আয়াতটি কাফিরদের ব্যাপারে। তারা তাদের স্বপক্ষে যে প্রমাণ পেশ করেন তা হল : (১) উল্লেখিত হাদীসটি ছাড়াও শাফা‘আতের মাধ্যমে জাহান্নাম হতে মু‘মিন গুনাহগার ব্যক্তিদের বের হওয়া অনেক মুতাওয়াতির হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত। (২) আল্লাহ তা‘আলার বাণী : {وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَّكَ عَسَى أَن يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَّحْمُودًا} (৭৯) سورة الإسراء জামহুর উলামা বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল শাফা‘আত। (৩) ইমাম ওয়াহেদী অতিরঞ্জন করেছেন এবং এ ব্যাপারে ইজমা বর্ণনা করেছেন। (ফাতহুল বারী)

শাফা‘আতের মাধ্যমে (মানুষদেরকে) জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। কিন্তু কিয়ামতের দিনে আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউই মুখ খুলতে পারবে না। আল্লাহ যাকে যার জন্য শাফা‘আত করার অনুমতি দিবেন, তিনি কেবল তার জন্যই সুপারিশ করতে পারবেন। আর সে সুপারিশও হবে যথাযথ ও প্রকৃত সত্য ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ নিজেই যার জন্য শাফা‘আতের ইচ্ছে করবেন, কেবল তার জন্যই শাফা‘আত করতে বলবেন, এ কথাই ধ্বনিত হয়েছে তাঁর এ সব বাণীতে- ‘‘এমন কে আছে যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করবে?’’ (বাকারা ২৫৫ আয়াত)

আরো দেখুন আন‘আম ৭০, ৯৪ আয়াত, আস সিজদা ৪ আয়াত, সাবা ২৩ আয়াত, যুমার ৪৪ আয়াত, ইনফিতার ১৯ আয়াত।
হাদিস নং: ৬৫৫৯ সহিহ (Sahih)
هدبة بن خالد حدثنا همام عن قتادة حدثنا انس بن مالك عن النبي صلى الله عليه وسلم قال يخرج قوم من النار بعد ما مسهم منها سفع فيدخلون الجنة فيسميهم اهل الجنة الجهنميين
৬৫৫৯. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আযাবে চামড়ায় দাগ পড়ে যাবার পর একদল লোককে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। তখন জান্নাতীগণ তাদেরকে জাহান্নামী বলেই ডাকবে। [৭৪৫০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১১৩)
হাদিস নং: ৬৫৬০ সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى، حدثنا وهيب، حدثنا عمرو بن يحيى، عن ابيه، عن ابي سعيد الخدري ـ رضى الله عنه ـ ان النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏"‏ اذا دخل اهل الجنة الجنة، واهل النار النار يقول الله من كان في قلبه مثقال حبة من خردل من ايمان فاخرجوه‏.‏ فيخرجون قد امتحشوا وعادوا حمما، فيلقون في نهر الحياة، فينبتون كما تنبت الحبة في حميل السيل ـ او قال ـ حمية السيل ‏"‏‏.‏ وقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ الم تروا انها تنبت صفراء ملتوية ‏"‏‏.‏
৬৫৬০. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতীগণ যখন জান্নাতে আর জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে তখন আল্লাহ্ বলবেন, যার অন্তঃকরণে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান আছে তাকে বের কর। অতঃপর তাদেরকে এমন অবস্থায় বের করা হবে যে তারা পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। তাদেরকে জীবন-নদে নামিয়ে দেয়া হবে। এতে তারা তর-তাজা হয়ে উঠবে যেমন নদী তীরে জমাট আবর্জনায় সজীব উদ্ভিদ গজিয়ে ওঠে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বললেনঃ তোমরা কি দেখ না সেগুলো হলুদ রঙের হয়ে আঁকাবাঁকা হয়ে উঠতে থাকে? [২২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১১৪)
হাদিস নং: ৬৫৬১ সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة قال سمعت ابا اسحاق قال سمعت النعمان سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول ان اهون اهل النار عذابا يوم القيامة لرجل توضع في اخمص قدميه جمرة يغلي منها دماغه
৬৫৬১. নু’মান ইবনু বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের দিন ঐ ব্যক্তির সর্বাপেক্ষা লঘু ’আযাব হবে, যার দু’পায়ের তলায় রাখা হবে জ্বলন্ত অঙ্গার, তাতে তার মগয ফুটতে থাকবে। [৬৫৬২; মুসলিম ১/৯১, হাঃ ২১৩, আহমাদ ১৮৪৪১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১১৫)
হাদিস নং: ৬৫৬২ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن رجاء حدثنا اسراىيل عن ابي اسحاق عن النعمان بن بشير قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول ان اهون اهل النار عذابا يوم القيامة رجل على اخمص قدميه جمرتان يغلي منهما دماغه كما يغلي المرجل والقمقم
৬৫৬২. নু’মান ইবনু বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে,কিয়ামতের দিন ঐ ব্যক্তির সর্বাপেক্ষা লঘু ’আযাব হবে, যার দু’পায়ের তলায় দু’টি প্রজ্জ্বলিত অঙ্গার রাখা হবে। এতে তার মগয টগবগ করে ফুটতে থাকবে। যেমন ডেক বা কলসী ফুটতে থাকে। [৬৫৬১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১১৬)
হাদিস নং: ৬৫৬৩ সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب حدثنا شعبة عن عمرو عن خيثمة عن عدي بن حاتم ان النبي صلى الله عليه وسلم ذكر النار فاشاح بوجهه فتعوذ منها ثم ذكر النار فاشاح بوجهه فتعوذ منها ثم قال اتقوا النار ولو بشق تمرة فمن لم يجد فبكلمة طيبة
৬৫৬৩. আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) জাহান্নামের উল্লেখ করলেন। এরপর তিনি তাঁর চেহারা ফিরিয়ে নিলেন এবং এর থেকে নিরাপত্তা চাইলেন। আবার তিনি জাহান্নামের উল্লেখ করে মুখ ফিরিয়ে নিলেন ও এর থেকে নিরাপত্তা চাইলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমরা জাহান্নামের আগুন হতে নিজেদেরকে রক্ষা কর এক টুকরা খেজুরের বিনিময়ে হলেও। আর যে তাতেও অক্ষম সে যেন ভাল কথার বিনিময়ে হলেও নিজেকে রক্ষা করে।[1] [১৪১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১১৭)
নোট: [1] জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমাদেরকে যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে। হক্কুল্লাহর সাথে সাথে হক্কুল ইবাদ করে যেতে হবে। অপর বান্দার কল্যাণ সাধন করতে হবে- বেশি আর কম, যার পক্ষে যতখানি সম্ভব। এজন্য দান খয়রাত করতে হবে, খাদ্য খাওয়াতে হবে- হোকনা তা অতি সামান্য। ভাল কথা, ভাল শিক্ষা, সৎ পরামর্শ- এ সবও আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচার ব্যাপারে সাহায্য করবে।
হাদিস নং: ৬৫৬৪ সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن حمزة حدثنا ابن ابي حازم والدراوردي عن يزيد عن عبد الله بن خباب عن ابي سعيد الخدري انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وذكر عنده عمه ابو طالب فقال لعله تنفعه شفاعتي يوم القيامة فيجعل في ضحضاح من النار يبلغ كعبيه يغلي منه ام دماغه
৬৫৬৪. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন; যখন তাঁর কাছে তাঁর চাচা আবূ তালিব সম্পর্কে উল্লেখ করা হল। তখন তিনি বললেনঃ কিয়ামতের দিন আমার শাফাআত সম্ভবত তাঁর উপকারে আসবে। আর তখন তাকে জাহান্নামের অগ্নিতে রাখা হবে যা পায়ের গিরা পর্যন্ত পৌঁছে। তাতে তার মাথার মগজ টগবগ করে ফুটতে থাকবে। [৩৮৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১১৮)
হাদিস নং: ৬৫৬৫ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا ابو عوانة عن قتادة عن انس قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يجمع الله الناس يوم القيامة فيقولون لو استشفعنا على ربنا حتى يريحنا من مكاننا فياتون ادم فيقولون انت الذي خلقك الله بيده ونفخ فيك من روحه وامر الملاىكة فسجدوا لك فاشفع لنا عند ربنا فيقول لست هناكم ويذكر خطيىته ويقول اىتوا نوحا اول رسول بعثه الله فياتونه فيقول لست هناكم ويذكر خطيىته اىتوا ابراهيم الذي اتخذه الله خليلا فياتونه فيقول لست هناكم ويذكر خطيىته اىتوا موسى الذي كلمه الله فياتونه فيقول لست هناكم فيذكر خطيىته اىتوا عيسى فياتونه فيقول لست هناكم اىتوا محمدا صلى الله عليه وسلم فقد غفر له ما تقدم من ذنبه وما تاخر فياتوني فاستاذن على ربي فاذا رايته وقعت ساجدا فيدعني ما شاء الله ثم يقال لي ارفع راسك سل تعطه وقل يسمع واشفع تشفع فارفع راسي فاحمد ربي بتحميد يعلمني ثم اشفع فيحد لي حدا ثم اخرجهم من النار وادخلهم الجنة ثم اعود فاقع ساجدا مثله في الثالثة او الرابعة حتى ما بقي في النار الا من حبسه القران وكان قتادة يقول عند هذا اي وجب عليه الخلود
৬৫৬৫. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ সমস্ত মানুষকে একত্রিত করবেন। তখন তারা বলবে, আমাদের জন্য আমাদের প্রতিপালকের কাছে যদি কেউ শাফাআত করত, যা এ সংকট থেকে আমাদের উদ্ধার করত। তখন তারা সকলেই আদম (আঃ)-এর কাছে এসে বলবে, আপনি ঐ ব্যক্তি যাঁকে আল্লাহ্ নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন। আপনার মাঝে নিজে থেকে রূহ্ ফুঁকে দিয়েছেন এবং ফেরেশতাদেরকে হুকুম করেছেন; তাঁরা আপনাকে সিজদা করেছে। আপনি আমাদের জন্য আমাদের প্রতিপালকের কাছে শাফাআত করুন। তিনি বলবেনঃ আমি তোমাদের জন্য এ কাজের উপযুক্ত নই এবং স্বীয় অপরাধের কথা উল্লেখ করে বলবেন, তোমরা নূহ (আঃ)-এর কাছে চলে যাও-যাকে আল্লাহ্ প্রথম রাসূল হিসাবে পাঠিয়েছিলেন। তখন তারা তাঁর কাছে আসবে। তিনিও নিজ অপরাধের কথা উল্লেখ করে বলবেনঃ আমি তোমাদের জন্য এ কাজের উপযুক্ত নই। তোমরা ইব্রাহীমের কাছে যাও, যাঁকে আল্লাহ্ খলীলরূপে গ্রহণ করেছেন। তখন তারা তাঁর কাছে আসবে। তিনিও নিজ অপরাধের কথা উল্লেখ করে বলবেনঃ আমি তোমাদের এ কাজের যোগ্য নই।

তোমরা মূসা (আঃ)-এর কাছে যাও, যার সঙ্গে আল্লাহ্ কথা বলেছেন। তখন তারা তাঁর কাছে আসবে। তিনিও বলবেনঃ আমি তোমাদের জন্য এ কাজের যোগ্য নই। তিনি নিজ অপরাধের কথা উল্লেখ করবেন। তিনি বলবেনঃ তোমরা ঈসা (আঃ)-এর কাছে যাও। তারা তাঁর কাছে আসবে। তখন তিনিও বলবেনঃ আমি তোমাদের জন্য এ কাজের যোগ্য নই। তোমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যাও। তাঁর অগ্র-পশ্চাতের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। তখন তারা সকলেই আমার কাছে আসবে। তখন আমি আমার প্রতিপালকের কাছে অনুমতি চাইব। যখনই আমি আল্লাহ্ দেখতে পাব তখন সিজদায় পড়ে যাব। আল্লাহ্ যতক্ষণ ইচ্ছা আমাকে এ অবস্থায় রাখবেন।

এরপর আমাকে বলা হবে, তোমার মাথা উঠাও। চাও, তোমাকে দেয়া হবে। বল, তোমার কথা শুনা হবে। সুপারিশ কর, তোমার সুপারিশ কবূল করা হবে। তখন আমি মাথা উঠাবো এবং আল্লাহ্ আমাকে যে প্রশংসার বাণী শিক্ষা দিয়েছেন তার মাধ্যমে আমার প্রতিপালকের প্রশংসা করব। এরপর আমি সুপারিশ করব, তখন আমার জন্য সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হবে। অতঃপর আমি তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে বেহেশ্তে প্রবেশ করিয়ে দেব। এরপর আমি আগের মত করব। অতঃপর তৃতীয়বার অথবা চতুর্থবার সিজদায় পড়ে যাব। অবশেষে কুরআনের বাণী মুতাবিক যারা অবধারিত জাহান্নামী তাদের ছাড়া আর কেউই জাহান্নামে অবশিষ্ট থাকবে না। ক্বাতাদাহ (রহ.) উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় তখন বলেছিলেন, চিরস্থায়ী জাহান্নাম যাদের জন্য আবশ্যিকভাবে নির্ধারিত হয়ে গেছে।[1] [৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১১৯)
নোট: [1] কোন কোন পীর সাহেব বলেন- তিনি আল্লাহর কাছে নিজের মুরীদদের জন্য শাফা‘আত করে মুরীদকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করবেন। কিন্তু অত্র হাদীস থেকে আমরা জানতে পারছি, পূর্বেকার সমস্ত নবীগণ বলবেন- আমরা শাফা‘আত করার যোগ্য নই। তাহলে কোন কোন পীর সাহেব শাফা‘আত করার যোগ্য হলেন কী করে? সর্বশেষ রসূল (সাঃ) ভিন্ন আর কেউই এ কথা বলার অধিকার রাখেনা যে, আমি অমুকের জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করব। সুপারিশে দু’টি শর্তের উপস্থিতি একান্ত অপরিহার্য- (১) আল্লাহর অনুমতি লাভ করা ব্যতীত কেউই কারো জন্য সুপারিশ করতে পারবেনা। (২) সুপারিশ হবে একান্তই যথাযথ, প্রকৃত সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। আর রসূল (সাঃ) এর সুপারিশ হবে বড় গুনাহের সাথে জড়িতদের জন্য। কারণ রসূল (সাঃ) হাদীসের মধ্যে বলেছেনঃ ‘‘আমার সুপারিশ হবে আমার উম্মাতের মধ্য থেকে কাবিরাগুনাহে জড়িতদের জন্যে।’’ (হাদীসটি আবূ দাঊদ, ইবনে মাজাহ্ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন, হাদীসটি সহীহ্ দেখুন ‘‘সহীহ্ আবী দাঊদ’’ (৪৭৩৯), ‘‘সহীহ্ তিরমিযী’’ (২৪৩৫, ২৪৩৬) ও ‘‘সহীহ্ ইবনে মাজাহ্’’ (৪৩১০)। কিন্তু কোন্ কাবীরাহ্ গুনাহকারী এ সুপারিশের অন্তর্ভুক্ত হবে তা তো কেউ জানে না। অতএব তাঁর সুপারিশের উপর ভরসা করে বড় গুনাহে জড়িত হওয়া হবে বিবেকহীনের কাজ। উল্লেখ্য কোন ব্যক্তি কাফির বা মুশরিক অবস্থায় মারা গেলে সে রসূল -এর সুপারিশের অন্তর্ভুক্ত হবে না।
হাদিস নং: ৬৫৬৬ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى عن الحسن بن ذكوان حدثنا ابو رجاء حدثنا عمران بن حصين عن النبي صلى الله عليه وسلم قال يخرج قوم من النار بشفاعة محمد صلى الله عليه وسلم فيدخلون الجنة يسمون الجهنميين
৬৫৬৬. ’ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শাফাআতে একদল লোককে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদেরকে জাহান্নামী বলেই সম্বোধন করা হবে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১২০)
হাদিস নং: ৬৫৬৭ সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا اسماعيل بن جعفر عن حميد عن انس ان ام حارثة اتت رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد هلك حارثة يوم بدر اصابه غرب سهم فقالت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم قد علمت موقع حارثة من قلبي فان كان في الجنة لم ابك عليه والا سوف ترى ما اصنع فقال لها هبلت اجنة واحدة هي انها جنان كثيرة وانه في الفردوس الاعلى
৬৫৬৭. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, বদরের যুদ্ধে হারিসা (রাঃ) অজ্ঞাত তীরের আঘাতে শাহাদাত লাভ করলে তাঁর মা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার অন্তরে হারিসার মায়া-মমতা যে কত গভীর তা তো আপনি জানেন। অতএব সে যদি জান্নাতে থাকে তবে আমি তার জন্য রোনাজারি করব না। আর যদি তা না হয় তবে আপনি শীঘ্রই দেখবেন আমি কী করি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি কি জ্ঞানশূন্য হয়ে গেছ। জান্নাত কি একটি, না কি অনেক? আর সে তো সবচেয়ে উন্নত মর্যাদার জান্নাত ফিরদাউসে আছে। [২৮০৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১২১)
হাদিস নং: ৬৫৬৮ সহিহ (Sahih)
وقال غدوة في سبيل الله او روحة خير من الدنيا وما فيها ولقاب قوس احدكم او موضع قدم من الجنة خير من الدنيا وما فيها ولو ان امراة من نساء اهل الجنة اطلعت الى الارض لاضاءت ما بينهما ولملات ما بينهما ريحا ولنصيفها يعني الخمار خير من الدنيا وما فيها
৬৫৬৮. তিনি আরও বললেনঃ এক সকাল বা এক বিকাল আল্লাহর পথে চলা দুনিয়া ও তার মাঝের সবকিছুর চেয়ে উত্তম। তোমাদের কারো ধনুক পরিমাণ বা পা রাখার জায়গা পরিমাণ জান্নাতের জায়গা দুনিয়া ও তার মাঝের সবকিছুর চেয়ে উত্তম। জান্নাতের কোন নারী যদি দুনিয়ার প্রতি উঁকি মারে তবে তামাম দুনিয়া আলোকিত ও সুঘ্রাণে পূর্ণ হয়ে যাবে। জান্নাতি নারীর ওড়না দুনিয়া ও তার ভিতরের সব কিছুর চেয়ে উত্তম। [২৭৯২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১২১)
হাদিস নং: ৬৫৬৯ সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب حدثنا ابو الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة قال النبي صلى الله عليه وسلم لا يدخل احد الجنة الا اري مقعده من النار لو اساء ليزداد شكرا ولا يدخل النار احد الا اري مقعده من الجنة لو احسن ليكون عليه حسرة
৬৫৬৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন লোকই জান্নাতে প্রবেশ করবে, অপরাধ করলে জাহান্নামে তার ঠিকানাটা কোথায় হত তা তাকে দেখানো হবে যেন সে অধিক অধিক শোকর আদায় করে। আর যে কোন লোকই জাহান্নামে প্রবেশ করবে নেক কাজ করলে জান্নাতে তার স্থান কোথায় হত তা তাকে দেখানো হবে যেন এতে তার আফসোস হয়। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১২২)
হাদিস নং: ৬৫৭০ সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا اسماعيل بن جعفر عن عمرو عن سعيد بن ابي سعيد المقبري عن ابي هريرة انه قال قلت يا رسول الله من اسعد الناس بشفاعتك يوم القيامة فقال لقد ظننت يا ابا هريرة ان لا يسالني عن هذا الحديث احد اول منك لما رايت من حرصك على الحديث اسعد الناس بشفاعتي يوم القيامة من قال خالصا من قبل نفسه
৬৫৭০. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামতের দিন আপনার শাফা’আত দ্বারা সমস্ত মানুষ থেকে অধিক ভাগ্যবান হবে কোন্ ব্যক্তি? তখন তিনি বললেনঃ হে আবূ হুরাইরাহ! আমি ধারণা করেছিলাম যে তোমার আগে কেউ এ ব্যাপারে আমাকে জিজ্ঞেস করবে না। কারণ হাদীসের প্রতি তোমার চেয়ে বেশি আগ্রহী আমি আর কাউকে দেখিনি। কিয়ামতের দিন আমার শাফা’আত দ্বারা সবচেয়ে ভাগ্যবান ঐ ব্যক্তি হবে যে বিশুদ্ধ অন্তর থেকে বলে لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ। [৯৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১২৩)
হাদিস নং: ৬৫৭১ সহিহ (Sahih)
حدثنا عثمان بن ابي شيبة، حدثنا جرير، عن منصور، عن ابراهيم، عن عبيدة، عن عبد الله ـ رضى الله عنه ـ قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ اني لاعلم اخر اهل النار خروجا منها، واخر اهل الجنة دخولا رجل يخرج من النار كبوا، فيقول الله اذهب فادخل الجنة‏.‏ فياتيها فيخيل اليه انها ملاى، فيرجع فيقول يا رب وجدتها ملاى، فيقول اذهب فادخل الجنة‏.‏ فياتيها فيخيل اليه انها ملاى‏.‏ فيقول يا رب وجدتها ملاى، فيقول اذهب فادخل الجنة، فان لك مثل الدنيا وعشرة امثالها‏.‏ او ان لك مثل عشرة امثال الدنيا‏.‏ فيقول تسخر مني، او تضحك مني وانت الملك ‏"‏‏.‏ فلقد رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم ضحك حتى بدت نواجذه، وكان يقال ذلك ادنى اهل الجنة منزلة‏.‏
৬৫৭১. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সবশেষে যে লোক জাহান্নাম থেকে বের হবে এবং সবশেষে যে ব্যক্তি জান্নাতে দাখিল হবে তার সম্পর্কে আমি জানি। এক ব্যক্তি হামাগুড়ি দেয়া অবস্থায় জাহান্নাম থেকে বের হবে। তখন আল্লাহ্ বলবেন, যাও জান্নাতে দাখিল হও। তখন সে জান্নাতের কাছে এলে তার ধারণা হবে যে, জান্নাত ভরতি হয়ে গেছে এবং সে ফিরে আসবে ও বলবে, হে প্রতিপালক! জান্নাত তো ভরতি দেখতে পেলাম। আবার আল্লাহ্ বলবেন, যাও জান্নাতে দাখিল হও। তখন সে জান্নাতের কাছে এলে তার ধারণা হবে যে, জান্নাত ভর্তি হয়ে গেছে। তাই সে ফিরে এসে বলবে, হে প্রতিপালক! জান্নাত তো ভর্তি দেখতে পেলাম।

তখন আল্লাহ বলবেন, যাও জান্নাতে দাখিল হও। কেননা জান্নাত তোমার জন্য দুনিয়ার সমতুল্য এবং তার দশগুণ। অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুনিয়ার দশ গুণ। তখন লোকটি বলবে, (হে প্রতিপালক)! তুমি কি আমার সঙ্গে ঠাট্টা বা হাসি-তামাশা করছ? (রাবী বলেন) আমি তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর মাড়ির দাঁত প্রকাশ করে হাসতে দেখলাম। এবং তিনি বলছিলেন এটা জান্নাতীদের সর্বনিম্ন অবস্থা।[1] [৭৫১১; মুসলিম ১/৮৩, হাঃ ১৮৬, আহমাদ ৩৫৯৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১২৪)
নোট: [1] আল্লাহ তা‘আলার হাসা, রাগ হওয়া আল্লাহর ইচ্ছার সাথে সম্পৃক্ত। তাঁর ক্রিয়াবাচক সিফাত যা তাঁর জন্য প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং (ضحك) বা হাসার অর্থ নেকী, সন্তুষ্টি গ্রহণ করা সঠিক নয়। যেমন (غضب) বা রাগের অর্থ শাস্তি বা অসন্তুষ্টি গ্রহণও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের আকীদা বিশ্বাসের (আক্বীদা) পরিপন্থী। (ফাতহুল বারী)

উল্লেখ্য যে, আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআন মাজীদে নিজের যে সমস্ত নাম ও গুণাবলী উল্লেখ করেছেন, অথবা তাঁর রাসূল (সাঃ) বিশুদ্ধ হাদীসে আল্লাহর যে সব গুণাবলী বর্ণনা করেছেন সেগুলো যথাযথভাবে মেনে নিতে হবে। এর মধ্যে কোন প্রকারের বিকৃতি, অস্বীকৃতি, ধরন বা প্রকৃতি নির্ণয় অথবা অপব্যাখ্যা, সাদৃশ্য পেশ করা যাবে না। সুতরাং আল্লাহ যে নামে নিজেকে আখ্যায়িত বা গুণান্বিত করেছেন তাঁর উপর ঠিক সেই ভাবেই ঈমান আনা অত্যাবশ্যক, রূপক অর্থে নয়।
অধ্যায় তালিকা