অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৯২/১. আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ সতর্ক থাক সেই ফিতনা হতে...
মোট ৮৯ টি হাদিস
হাদিস নং: ৭০৮৮
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن عبد الرحمن بن عبد الله بن ابي صعصعة عن ابيه عن ابي سعيد الخدري انه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يوشك ان يكون خير مال المسلم غنم يتبع بها شعف الجبال ومواقع القطر يفر بدينه من الفتن.
৭০৮৮. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শীঘ্রই এমন এক সময় আসবে যখন মুসলিমদের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট সম্পদ হবে ছাগল। ফিতনা থেকে দ্বীন রক্ষার্থে পলায়নের জন্য তারা এগুলো নিয়ে পর্বতের চূড়ায় এবং বৃষ্টিপাতের জায়গাগুলোতে আশ্রয় নেবে।[1] [১৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬০৯)
নোট: [1] মুসলিম সমাজে যখন হত্যা, হানাহানি, বিবাদ, বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়বে, তখন ঈমান নিয়ে বাঁচার জন্য নিভৃত অবস্থানই হবে উত্তম পন্থা। শিরকও একটি অতি বড় ফিতনা যা বিভিন্ন পন্থায় আমাদের বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়ছে।
হাদিস নং: ৭০৮৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا معاذ بن فضالة، حدثنا هشام، عن قتادة، عن انس ـ رضى الله عنه ـ قال سالوا النبي صلى الله عليه وسلم حتى احفوه بالمسالة، فصعد النبي صلى الله عليه وسلم ذات يوم المنبر فقال " لا تسالوني عن شىء الا بينت لكم ". فجعلت انظر يمينا وشمالا، فاذا كل رجل راسه في ثوبه يبكي، فانشا رجل كان اذا لاحى يدعى الى غير ابيه فقال يا نبي الله من ابي فقال " ابوك حذافة ". ثم انشا عمر فقال رضينا بالله ربا، وبالاسلام دينا، وبمحمد رسولا، نعوذ بالله من سوء الفتن. فقال النبي صلى الله عليه وسلم " ما رايت في الخير والشر كاليوم قط، انه صورت لي الجنة والنار حتى رايتهما دون الحاىط ". قال قتادة يذكر هذا الحديث عند هذه الاية (يا ايها الذين امنوا لا تسالوا عن اشياء ان تبد لكم تسوكم)
৭০৮৯. আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, লোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে প্রশ্ন করত। এমন কি প্রশ্ন করতে করতে তারা তাঁকে বিরক্ত করে তুলত। একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে আরোহণ করলেন এবং বললেনঃ তোমরা (আজ) আমাকে যে প্রশ্নই করবে, আমি তারই উত্তর দিব। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি ডানে বামে তাকাচ্ছিলাম। দেখতে পেলাম প্রত্যেকেই আপন বস্ত্রে মাথা গুঁজে কাঁদছে। তখন এমন এক লোক পারস্পরিক ঝগড়ার সময় যাকে অন্য এক লোকের (যে আসলে তার পিতা নয়) সন্তান বলে সম্বোধন করা হত উঠে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর নবী! আমার পিতা কে? তিনি বললেনঃ হুযাফা তোমার পিতা।
এরপর ’উমার (রাঃ) সম্মুখে এলেন আর বললেন, আমরা রব হিসেবে আল্লাহকে, দ্বীন হিসাবে ইসলামকে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাসূল হিসেবে মেনে পরিতুষ্ট। ফিতনার অনিষ্ট থেকে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আজকের মত এত উত্তম বস্তু এবং এত খারাপ বস্তু আমি ইতোপূর্বে কখনো দেখিনি। আমার সামনে জান্নাত ও জাহান্নামের ছবি পেশ করা হয়েছিল। এমনকি আমি সে দু’টোকে এ দেয়ালের পাশেই দেখতে পাচ্ছিলাম। ক্বাতাদাহ বলেন, উপরে বর্ণিত হাদীসটি নিম্নোক্ত আয়াত প্রসঙ্গে বলে উল্লেখ করা হয়। ইরশাদ হলোঃ ’’হে ঈমানদারগণ! তোমরা এমন বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হলে তা তোমাদেরকে কষ্ট দিবে ’’- (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/১০১)। [৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১০)
এরপর ’উমার (রাঃ) সম্মুখে এলেন আর বললেন, আমরা রব হিসেবে আল্লাহকে, দ্বীন হিসাবে ইসলামকে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাসূল হিসেবে মেনে পরিতুষ্ট। ফিতনার অনিষ্ট থেকে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আজকের মত এত উত্তম বস্তু এবং এত খারাপ বস্তু আমি ইতোপূর্বে কখনো দেখিনি। আমার সামনে জান্নাত ও জাহান্নামের ছবি পেশ করা হয়েছিল। এমনকি আমি সে দু’টোকে এ দেয়ালের পাশেই দেখতে পাচ্ছিলাম। ক্বাতাদাহ বলেন, উপরে বর্ণিত হাদীসটি নিম্নোক্ত আয়াত প্রসঙ্গে বলে উল্লেখ করা হয়। ইরশাদ হলোঃ ’’হে ঈমানদারগণ! তোমরা এমন বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হলে তা তোমাদেরকে কষ্ট দিবে ’’- (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/১০১)। [৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১০)
হাদিস নং: ৭০৯০
সহিহ (Sahih)
وقال عباس النرسي حدثنا يزيد بن زريع حدثنا سعيد حدثنا قتادة ان انسا حدثهم ان نبي الله صلى الله عليه وسلم بهذا وقال كل رجل لافا راسه في ثوبهৃ يبكي وقال عاىذا بالله من سوء الفتن او قال اعوذ بالله من سواى الفتن.
৭০৯০. আব্বাস নারসী (রহ.) ..... আনাস (রাঃ) থেকে পূর্বোক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এ সূত্রে আনাস (রাঃ) كُلُّ رَجُلٍ رَأْسَهُ فِي ثَوْبِه يَبْكِي এর স্থলে كُلُّ رَجُلٍ لاَفًّا رَأْسَهُ فِي ثَوْبِه يَبْكِي (প্রত্যেক ব্যক্তি তার মাথায় কাপড় দিয়ে অচ্ছাদিত করে কাঁদছিল) বলে উল্লেখ করেছেন। এবং تَعَوَّذُ بِاللهِ مِنْ سُوءِ الْفِتَنِ এর স্থলে عَائِذًا بِاللهِ مِنْ سُوءِ الْفِتَنِ অথবা أَعُوذُ بِاللهِ مِنْ سَوْأَى الْفِتَن উল্লেখ করেছেন। [৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১০)
হাদিস নং: ৭০৯১
সহিহ (Sahih)
و قال لي خليفة حدثنا يزيد بن زريع حدثنا سعيد ومعتمر عن ابيه عن قتادة ان انسا حدثهم عن النبي بهذا وقال عاىذا بالله من شر الفتن.
৭০৯১. ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, খালীফা (রহ.) .... আনাস (রাঃ)-এর বর্ণনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পূর্বোক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এ সূত্রে তিনি عَائِذًا بِاللهِ مِنْ شَرِّ الْفِتَنِ বলেছেন। [৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১০)
হাদিস নং: ৭০৯২
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا هشام بن يوسف عن معمر عن الزهري عن سالم عن ابيه عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قام الى جنب المنبر فقال الفتنة ها هنا الفتنة ها هنا من حيث يطلع قرن الشيطان او قال قرن الشمس.
৭০৯২. সালিমের পিতা ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একবার তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বারের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেনঃ ফিতনা এ দিকে, ফিতনা সে দিকে যেখান থেকে শয়তানের শিং উদিত হবে। কিংবা বলেছিলেনঃ সূর্যের মাথা উদিত হয়। [৩১০৪; মুসলিম ৫২/১৬, হাঃ ২৯০৫, আহমাদ ৪৯৮০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১১)
হাদিস নং: ৭০৯৩
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا ليث عن نافع عن ابن عمر انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو مستقبل المشرق يقول الا ان الفتنة ها هنا من حيث يطلع قرن الشيطان.
৭০৯৩. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পূর্ব দিকে মুখ করে বলতে শুনেছেন, সাবধান! ফিতনা সে দিকে যে দিক থেকে শয়তানের শিং উদিত হয়। [৩১০৪; মুসলিম ৫২/১৬, হাঃ ২৯০৫, আহমাদ ৫৪১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১২)
হাদিস নং: ৭০৯৪
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا ازهر بن سعد عن ابن عون عن نافع عن ابن عمر قال ذكر النبي صلى الله عليه وسلم اللهم بارك لنا في شامنا اللهم بارك لنا في يمننا قالوا يا رسول الله وفي نجدنا قال اللهم بارك لنا في شامنا اللهم بارك لنا في يمننا قالوا يا رسول الله وفي نجدنا فاظنه قال في الثالثة هناك الزلازل والفتن وبها يطلع قرن الشيطان.
৭০৯৪. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলোচনা করছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ্! আমাদের জন্য আমাদের সিরিয়ায় বারকাত দাও। হে আল্লাহ্! আমাদের জন্য আমাদের ইয়ামানে বরকত দাও। লোকেরা বলল, আমাদের নজদেও। তিনি বললেন, হে আল্লাহ্! আমাদের জন্য আমাদের সিরিয়ায় বরকত দাও। হে আল্লাহ্! আমাদের জন্য বরকত দাও আমাদের ইয়ামানে। লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের নজদেও। (বর্ণনাকারী বলেন) আমার মনে হয়, তৃতীয়বারে তিনি বললেনঃ সেখানে তো কেবল ভূমিকম্প আর ফিতনা। আর তথা হতে শয়তানের শিং উদিত হবে।[1] [১০৩৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১৩)
নোট: [1] ‘পূর্ব প্রান্ত হতে ফিৎনা প্রকাশ পাবে’ রাসূল (সাঃ)’র এই কথা বলার কারণ ছিল সেই সময় মদীনার পূর্বাঞ্চালের অধিবাসীরা ছিল কাফির গোষ্ঠী। রাসূল (সাঃ)’র এই কথা হুবহু বাস্তবায়িত হয়েছিল। কারণ প্রথম ফিতনা আরম্ভ হয়েছিল পূর্ব প্রান্ত হতেই। আর ঐ ফিৎনাই মুসলিমদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির অন্যতম কারণ ছিল। তেমনি ভাবে ঐ প্রান্ত হতেই বিদ’আত উৎপন্ন হয়েছিল। ইমাম খাত্তাবী বলেন : নাজ্দ হচ্ছে পূর্ব দিকে। মদীনাহয় অবস্থানকারী ব্যক্তির নিকট নাজদের অবস্থান হচ্ছে ইরাক ও তার আশপাশের মরু অঞ্চল। আর তা মদীনাবাসীর পূর্ব প্রান্ত। নাজদের মূল সংজ্ঞা হল, যমীন থেকে প্রত্যেক উঁচু জায়গাকে নাজ্দ বলে। অর্থাৎ ঊচ্চভূমি যা নিম্নভূমির বিপরীত। সম্পূর্ণ তিহামা অঞ্চল নিম্নভূমির অন্তর্গত। আর মক্কা এই তিহামা অঞ্চলেই অবস্থিত। সুতরাং যারা বলে নাজদ ইরাকের দিকে তারা ‘‘নাজদ’’ নামক নির্দিষ্ট জায়গা ধারণা করেছেন। যেমন, দাউদী। কিন্তু তা আদৌ ঠিক নয়। বরং আরবী ভাষায় প্রত্যেক উচ্চভূমি যা নিম্নভূমির বিপরীত তাকেই নাজদ নামে অভিহিত করা হয়। আর নিম্নভূমিকে গাওর নামে অভিহিত করা হয়। (ফাতহুল বারী)
হাদিস নং: ৭০৯৫
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن شاهين الواسطي حدثنا خالد عن بيان عن وبرة بن عبد الرحمن عن سعيد بن جبير قال خرج علينا عبد الله بن عمر فرجونا ان يحدثنا حديثا حسنا قال فبادرنا اليه رجل فقال يا ابا عبد الرحمن حدثنا عن القتال في الفتنة والله يقول وقاتلوهم حتى لا تكون فتنة فقال هل تدري ما الفتنة ثكلتك امك انما كان محمد صلى الله عليه وسلم يقاتل المشركين وكان الدخول في دينهم فتنة وليس كقتالكم على الملك.
৭০৯৫. সা’ঈদ ইবনু যুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) আমাদের নিকট আসলেন। আমরা আশা করছিলাম যে, তিনি আমাদের একটি উত্তম হাদীস বর্ণনা করবেন। এক ব্যক্তি তাঁর দিকে আমাদের চেয়ে এগিয়ে গিয়ে বলল, হে আবূ ’আবদুর রহমান! ফিতনার সময় যুদ্ধ করা সম্বদ্ধে আমাদের কিছু বলুন। কেননা, আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেছেনঃ ’তাদের সঙ্গে যুদ্ধ কর, যতক্ষণ না ফিতনার অবসান ঘটে’- (সূরাহ আল-বাক্বারাহ ২/১৯৩)। তখন তিনি বললেন, তোমার মা তোমার জন্য বিলাপ করুক। ফিতনা কাকে বলে জান কি? মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো যুদ্ধ করতেন মুশরিকদের বিরুদ্ধে। কেননা, তাদের শিরকের মধ্যে থাকাটাই আসলে ফিতনা। কিন্তু তা তোমাদের রাজ্য নিয়ে লড়াইর মতো ছিল না। [৩১৩০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১৪)
হাদিস নং: ৭০৯৬
সহিহ (Sahih)
عمر بن حفص بن غياث حدثنا ابي حدثنا الاعمش حدثنا شقيق سمعت حذيفة يقول بينا نحن جلوس عند عمر اذ قال ايكم يحفظ قول النبي صلى الله عليه وسلم في الفتنة قال فتنة الرجل في اهله وماله وولده وجاره تكفرها الصلاة والصدقة والامر بالمعروف والنهي عن المنكر قال ليس عن هذا اسالك ولكن التي تموج كموج البحر قال ليس عليك منها باس يا امير المومنين ان بينك وبينها بابا مغلقا قال عمر ايكسر الباب ام يفتح قال بل يكسر قال عمر اذا لا يغلق ابدا قلت اجل قلنا لحذيفة اكان عمر يعلم الباب قال نعم كما يعلم ان دون غد ليلة وذلك اني حدثته حديثا ليس بالاغاليط فهبنا ان نساله من الباب فامرنا مسروقا فساله فقال من الباب قال عمر.
وَقَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ خَلَفِ بْنِ حَوْشَبٍ كَانُوا يَسْتَحِبُّونَ أَنْ يَتَمَثَّلُوا بِهَذِهِ الأَبْيَاتِ عِنْدَ الْفِتَنِ قَالَ امْرُؤُ الْقَيْسِ:
الْحَرْبُ أَوَّلُ مَا تَكُونُ فَتِيَّةً ** تَسْعَى بِزِينَتِهَا لِكُلِّ جَهُولِ
حَتَّى إِذَا اشْتَعَلَتْ وَشَبَّ ضِرَامُهَا ** وَلَّتْ عَجُوزًا غَيْرَ ذَاتِ حَلِيلِ
شَمْطَاءَ يُنْكَرُ لَوْنُهَا وَتَغَيَّرَتْ ** مَكْرُوهَةً لِلشَّمِّ وَالتَّقْبِيلِ
ইবনু ’উয়াইনাহ (রহ.) খালফ্ ইবনু হাওশাব (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, পূর্ববর্তী লোকেরা নিম্নোক্ত কবিতার দ্বারা ফিতনার উপমা দিতে পছন্দ করতেন।
যুদ্ধের প্রথম অবস্থা যুবতীর মত,
যে তার রূপ-রং নিয়ে অপরিণামদর্শীর উদ্দেশে ছুটাছুটি করে।
কিন্তু যখন যুদ্ধের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠে
এবং তার ফুল্কিগুলো হয় পূর্ণ যৌবনা, তখন সে বৃদ্ধা বিধবার মত পালিয়ে যায়,
যার চুল বেশিরভাগই সাদা হয়ে গেছে, রঙ ফিকে হয়ে বদলে গেছে,
যার ঘ্রাণ নিতে ও চুমু খেতে ঘৃণা লাগে।
৭০৯৬. হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে তিনি বলেন, একবার আমরা ’উমার (রাঃ)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। হঠাৎ তিনি বললেন, ফিতনা সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্তব্য তোমাদের মধ্যে কে স্মরণ রেখেছে? হুযাইফাহ (রাঃ) বললেন, (নবী সাঃ বলেছেন) মানুষ নিজের পরিবার, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি ও প্রতিবেশীর ব্যাপারে যে ফিতনায় পতিত হয় সালাত, সাদাকা, সৎকাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ তার সে পাপকে মুছে ফেলে। তিনি বললেন, আমি তোমাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিনি এবং সে ফিতনার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছি যা সাগর লহরীর মত ঢেউ খেলবে। হুযাইফাহ (রাঃ) বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! সে ফিতনায় আপনার কোন অসুবিধা হবে না। কেননা, সে ফিতনা ও আপনার মাঝে একটি বন্ধ দরজা আছে। ’উমার (রাঃ) বললেন, দরজাটি কি ভেঙ্গে ফেলা হবে, না খুলে দেয়া হবে? তিনি বললেন, না বরং ভেঙ্গে ফেলা হবে।
’উমার (রাঃ) বললেন, তা হলে তো সেটা আর কখনো বন্ধ করা যাবে না। (হুযাইফাহ বলেন) আমি বললাম, হ্যাঁ। (শাকীক বলেন) আমরা হুযাইফাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, ’উমার (রাঃ) কি দরজাটি সম্পর্কে জানতেন? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ। যেমন আমি সুনিশ্চিতভাবে জানি যে আগামী দিনের পর রাত আসবে। কেননা আমি তাকে এমন একটি হাদীস বর্ণনা করেছিলাম যা ত্রুটিমুক্ত। (শাকীক বলেন) দরজাটি কে সে সম্পর্কে হুযাইফাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করতে আমরা ভয় পাচ্ছিলাম, তাই আমরা মাসরুককে জিজ্ঞেস করতে বললাম। তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, দরজাটি কে? উত্তরে তিনি বললেন, ’উমার (রাঃ) (নিজেই)।[1] [৫২৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১৫)
الْحَرْبُ أَوَّلُ مَا تَكُونُ فَتِيَّةً ** تَسْعَى بِزِينَتِهَا لِكُلِّ جَهُولِ
حَتَّى إِذَا اشْتَعَلَتْ وَشَبَّ ضِرَامُهَا ** وَلَّتْ عَجُوزًا غَيْرَ ذَاتِ حَلِيلِ
شَمْطَاءَ يُنْكَرُ لَوْنُهَا وَتَغَيَّرَتْ ** مَكْرُوهَةً لِلشَّمِّ وَالتَّقْبِيلِ
ইবনু ’উয়াইনাহ (রহ.) খালফ্ ইবনু হাওশাব (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, পূর্ববর্তী লোকেরা নিম্নোক্ত কবিতার দ্বারা ফিতনার উপমা দিতে পছন্দ করতেন।
যুদ্ধের প্রথম অবস্থা যুবতীর মত,
যে তার রূপ-রং নিয়ে অপরিণামদর্শীর উদ্দেশে ছুটাছুটি করে।
কিন্তু যখন যুদ্ধের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠে
এবং তার ফুল্কিগুলো হয় পূর্ণ যৌবনা, তখন সে বৃদ্ধা বিধবার মত পালিয়ে যায়,
যার চুল বেশিরভাগই সাদা হয়ে গেছে, রঙ ফিকে হয়ে বদলে গেছে,
যার ঘ্রাণ নিতে ও চুমু খেতে ঘৃণা লাগে।
৭০৯৬. হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে তিনি বলেন, একবার আমরা ’উমার (রাঃ)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। হঠাৎ তিনি বললেন, ফিতনা সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্তব্য তোমাদের মধ্যে কে স্মরণ রেখেছে? হুযাইফাহ (রাঃ) বললেন, (নবী সাঃ বলেছেন) মানুষ নিজের পরিবার, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি ও প্রতিবেশীর ব্যাপারে যে ফিতনায় পতিত হয় সালাত, সাদাকা, সৎকাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ তার সে পাপকে মুছে ফেলে। তিনি বললেন, আমি তোমাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিনি এবং সে ফিতনার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছি যা সাগর লহরীর মত ঢেউ খেলবে। হুযাইফাহ (রাঃ) বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! সে ফিতনায় আপনার কোন অসুবিধা হবে না। কেননা, সে ফিতনা ও আপনার মাঝে একটি বন্ধ দরজা আছে। ’উমার (রাঃ) বললেন, দরজাটি কি ভেঙ্গে ফেলা হবে, না খুলে দেয়া হবে? তিনি বললেন, না বরং ভেঙ্গে ফেলা হবে।
’উমার (রাঃ) বললেন, তা হলে তো সেটা আর কখনো বন্ধ করা যাবে না। (হুযাইফাহ বলেন) আমি বললাম, হ্যাঁ। (শাকীক বলেন) আমরা হুযাইফাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, ’উমার (রাঃ) কি দরজাটি সম্পর্কে জানতেন? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ। যেমন আমি সুনিশ্চিতভাবে জানি যে আগামী দিনের পর রাত আসবে। কেননা আমি তাকে এমন একটি হাদীস বর্ণনা করেছিলাম যা ত্রুটিমুক্ত। (শাকীক বলেন) দরজাটি কে সে সম্পর্কে হুযাইফাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করতে আমরা ভয় পাচ্ছিলাম, তাই আমরা মাসরুককে জিজ্ঞেস করতে বললাম। তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, দরজাটি কে? উত্তরে তিনি বললেন, ’উমার (রাঃ) (নিজেই)।[1] [৫২৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১৫)
নোট: [1] উমার (রাঃ) এর শাহাদাতের পর ফিতনার সর্বগ্রাসী ঢেউ মুসলিম দুনিয়াকে গ্রাস করে নিয়েছে। এ ফিতনার ঢেউ কখনই আর বন্ধ হবে না।
হাদিস নং: ৭০৯৭
সহিহ (Sahih)
سعيد بن ابي مريم اخبرنا محمد بن جعفر عن شريك بن عبد الله عن سعيد بن المسيب عن ابي موسى الاشعري قال خرج النبي صلى الله عليه وسلم يوما الى حاىط من حواىط المدينة لحاجته وخرجت في اثره فلما دخل الحاىط جلست على بابه وقلت لاكونن اليوم بواب النبي صلى الله عليه وسلم ولم يامرني فذهب النبي صلى الله عليه وسلم وقضى حاجته وجلس على قف البىر فكشف عن ساقيه ودلاهما في البىر فجاء ابو بكر يستاذن عليه ليدخل فقلت كما انت حتى استاذن لك فوقف فجىت الى النبي صلى الله عليه وسلم فقلت يا نبي الله ابو بكر يستاذن عليك قال اىذن له وبشره بالجنة فدخل فجاء عن يمين النبي صلى الله عليه وسلم فكشف عن ساقيه ودلاهما في البىر فجاء عمر فقلت كما انت حتى استاذن لك فقال النبي صلى الله عليه وسلم اىذن له وبشره بالجنة فجاء عن يسار النبي صلى الله عليه وسلم فكشف عن ساقيه فدلاهما في البىر فامتلا القف فلم يكن فيه مجلس ثم جاء عثمان فقلت كما انت حتى استاذن لك فقال النبي صلى الله عليه وسلم اىذن له وبشره بالجنة معها بلاء يصيبه فدخل فلم يجد معهم مجلسا فتحول حتى جاء مقابلهم على شفة البىر فكشف عن ساقيه ثم دلاهما في البىر فجعلت اتمنى اخا لي وادعو الله ان ياتي قال ابن المسيب فتاولت ذلك قبورهم اجتمعت ها هنا وانفرد عثمان.
৭০৯৭. আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রয়োজনবশত মাদ্বীনাহর (দেয়াল ঘেরা) বাগানগুলোর একটি বাগানের উদ্দেশে বের হলেন। আমি তাঁর পিছনে গেলাম। তিনি যখন বাগানে প্রবেশ করলেন, আমি এর দরজায় বসে থাকলাম এবং মনে মনে বললাম, আজ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রহরীর কাজ করব। অবশ্য তিনি আমাকে এর নির্দেশ দেননি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভিতরে গেলেন এবং স্বীয় প্রয়োজন সেরে নিলেন। এরপর একটি কূপের পোস্তার উপর বসলেন এবং হাঁটুর নিচের অংশের কাপড় তুলে নিয়ে দু’ পা কূপের মধ্যে ঝুলিয়ে দিলেন। এমন সময় আবূ বকর (রাঃ) এসে তার নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। আমি বললাম, আপনি অপেক্ষা করুন, যতক্ষণ না আমি আপনার জন্য অনুমতি নিয়ে আসছি। তিনি অপেক্ষা করলেন। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম এবং বললাম, হে আল্লাহর নবী! আবূ বকর (রাঃ) আপনার কাছে প্রবেশের অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেনঃ তাঁকে আসার অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।
আবূ বকর (রাঃ) প্রবেশ করলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ডান পার্শ্বে গিয়ে বসলেন। এরপর তিনিও হাঁটুর নিচের অংশ অনাবৃত করে উভয় পা কুপের মধ্যে ঝুলিয়ে দিলেন। এরপর ’উমার (রাঃ) আসলেন। আমি বললাম, আপনি নিজ জায়গায় অপেক্ষা করুন। আমি আপনার জন্য অনুমতি নিয়ে আসি। (অনুমতি প্রার্থনা করলে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাঁকে আসার অনুমতি দাও এবং জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তিনি এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাম দিকে বসলেন এবং হাঁটুর নিচের অংশ অনাবৃত করে দু’ পা কূপের মধ্যে ঝুলিয়ে দিলেন। এতে কূপের পোস্তা পূর্ণ হয়ে গেল এবং সেখানে বসার আর কোন স্থান অবশিষ্ট বাকী থাকল না। এরপর ’উসমান (রাঃ) আসলেন। আমি বললাম, আপনি নিজ জায়গায় অপেক্ষা করুন, যতক্ষণ আমি আপনার জন্য অনুমতি নিয়ে না আসি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাঁকে আসার অনুমতি দাও এবং তাকে বিপদগ্রস্ত হওয়াসহ জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তিনি প্রবেশ করলেন। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে বসার কোন জায়গা পেলেন না। কাজেই তিনি উল্টো দিকে এসে তাঁদের মুখোমুখী হয়ে কুয়ার পাড়ে বসে গেলেন এবং হাঁটুদ্বয়ের নিচের অংশ অনাবৃত করে উভয় পা কুয়ার ভিতরে ঝুলিয়ে দিলেন। আমি তখন আমার অন্য এক ভাই-এর (আগমন) কামনা করছিলাম এবং আল্লাহর নিকট দু’আ করছিলাম যেন সে (এ মূহূর্তে) আগমন করে।
ইবনু মুসাইয়্যাব বলেন, আমি এ ঘটনার ভাবার্থ এভাবে গ্রহণ করেছি যে, তা হল তাঁদের তিনজনের কবর যা এখানে একসঙ্গে হয়েছে। আর ’উসমান (রাঃ)-এর অন্য স্থানে। [৩৬৭৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১৬)
আবূ বকর (রাঃ) প্রবেশ করলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ডান পার্শ্বে গিয়ে বসলেন। এরপর তিনিও হাঁটুর নিচের অংশ অনাবৃত করে উভয় পা কুপের মধ্যে ঝুলিয়ে দিলেন। এরপর ’উমার (রাঃ) আসলেন। আমি বললাম, আপনি নিজ জায়গায় অপেক্ষা করুন। আমি আপনার জন্য অনুমতি নিয়ে আসি। (অনুমতি প্রার্থনা করলে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাঁকে আসার অনুমতি দাও এবং জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তিনি এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাম দিকে বসলেন এবং হাঁটুর নিচের অংশ অনাবৃত করে দু’ পা কূপের মধ্যে ঝুলিয়ে দিলেন। এতে কূপের পোস্তা পূর্ণ হয়ে গেল এবং সেখানে বসার আর কোন স্থান অবশিষ্ট বাকী থাকল না। এরপর ’উসমান (রাঃ) আসলেন। আমি বললাম, আপনি নিজ জায়গায় অপেক্ষা করুন, যতক্ষণ আমি আপনার জন্য অনুমতি নিয়ে না আসি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাঁকে আসার অনুমতি দাও এবং তাকে বিপদগ্রস্ত হওয়াসহ জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তিনি প্রবেশ করলেন। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে বসার কোন জায়গা পেলেন না। কাজেই তিনি উল্টো দিকে এসে তাঁদের মুখোমুখী হয়ে কুয়ার পাড়ে বসে গেলেন এবং হাঁটুদ্বয়ের নিচের অংশ অনাবৃত করে উভয় পা কুয়ার ভিতরে ঝুলিয়ে দিলেন। আমি তখন আমার অন্য এক ভাই-এর (আগমন) কামনা করছিলাম এবং আল্লাহর নিকট দু’আ করছিলাম যেন সে (এ মূহূর্তে) আগমন করে।
ইবনু মুসাইয়্যাব বলেন, আমি এ ঘটনার ভাবার্থ এভাবে গ্রহণ করেছি যে, তা হল তাঁদের তিনজনের কবর যা এখানে একসঙ্গে হয়েছে। আর ’উসমান (রাঃ)-এর অন্য স্থানে। [৩৬৭৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১৬)
হাদিস নং: ৭০৯৮
সহিহ (Sahih)
بشر بن خالد اخبرنا محمد بن جعفر عن شعبة عن سليمان سمعت ابا واىل قال قيل لاسامة الا تكلم هذا قال قد كلمته ما دون ان افتح بابا اكون اول من يفتحه وما انا بالذي اقول لرجل بعد ان يكون اميرا على رجلين انت خير بعد ما سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول يجاء برجل فيطرح في النار فيطحن فيها كطحن الحمار برحاه فيطيف به اهل النار فيقولون اي فلان الست كنت تامر بالمعروف وتنهى عن المنكر فيقول اني كنت امر بالمعروف ولا افعله وانهى عن المنكر وافعله.
৭০৯৮. আবূ ওয়ায়িল (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসামাহ (রাঃ)-কে বলা হল আপনি কি এ সম্পর্কে কিছু বলবে না? তিনি বললেন, আমি এ সম্পর্কে বলেছি, তবে এমন পথে নয় যে, আমি তোমার জন্য একটি দ্বার (ফিতনার) উন্মোচিত করব যাতে আমিই হব এর প্রথম উন্মোচনকারী এবং আমি এমন ব্যক্তি নই যে, কোন লোক দুই ব্যক্তির আমীর নিযুক্ত হবার পর তার ব্যাপারে বলব, আপনি উত্তম। কেননা, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে (কিয়ামতের দিন) এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে এবং তাকে জাহান্নামে ফেলা হবে। এরপর তাকে গাধা দিয়ে চাকা ঘুরিয়ে যেমন গম পিষা হয়, তেমনি পিষে ফেলা হবে। জাহান্নামবাসীরা তার পাশে এসে জড় হবে এবং বলবে, হে অমুক! তুমিই কি আমাদের ভাল কাজের হুকুম ও মন্দ কাজের থেকে নিষেধ করতে না? তখন সে বলবে, হ্যাঁ, আমি ভালকাজের হুকুম দিতাম, তবে আমি নিজে তা করতাম না এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করতাম, তবে আমি নিজেই তা করতাম। [৩২৬৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১৭)
হাদিস নং: ৭০৯৯
সহিহ (Sahih)
عثمان بن الهيثم حدثنا عوف عن الحسن عن ابي بكرة قال لقد نفعني الله بكلمة ايام الجمل لما بلغ النبي صلى الله عليه وسلم ان فارسا ملكوا ابنة كسرى قال لن يفلح قوم ولوا امرهم امراة.
৭০৯৯. আবূ বকরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একটি কথা দিয়ে আল্লাহ্ জঙ্গে জামাল (উষ্ট্রের যুদ্ধ) এর সময় আমাকে বড়ই উপকৃত করেছেন। (তা হল) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যখন এ খবর পৌঁছল যে, পারস্যের লোকেরা কিসরার মেয়েকে তাদের শাসক নিযুক্ত করেছে, তখন তিনি বললেনঃ সে জাতি কক্ষনো সফলকাম হবে না, যারা তাদের শাসনভার কোন স্ত্রীলোকের হাতে অর্পণ করে।[1] [৪৪২৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১৮)
নোট: [1] মুসলিমরা যদি সফলতা পেতে চায় তবে তাদেরকে অবশ্যই নারী নেতৃত্ব পরিহার করতে হবে।
হাদিস নং: ৭১০০
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا يحيى بن ادم حدثنا ابو بكر بن عياش حدثنا ابو حصين حدثنا ابو مريم عبد الله بن زياد الاسدي قال لما سار طلحة والزبير وعاىشة الى البصرة بعث علي عمار بن ياسر وحسن بن علي فقدما علينا الكوفة فصعدا المنبر فكان الحسن بن علي فوق المنبر في اعلاه وقام عمار اسفل من الحسن فاجتمعنا اليه فسمعت عمارا يقول ان عاىشة قد سارت الى البصرة و والله انها لزوجة نبيكم صلى الله عليه وسلم في الدنيا والاخرة ولكن الله تبارك وتعالى ابتلاكم ليعلم اياه تطيعون ام هي.
৭১০০. আবূ মারইয়াম ’আবদুল্লাহ্ ইবনু যিয়াদ আসাদী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ত্বলহা, যুবায়র ও ’আয়িশাহ (রাঃ) যখন বস্রার দিকে গেলেন, তখন ’আলী (রাঃ) আম্মার ইবনু ইয়াসির ও হাসান ইবনু ’আলী (রাঃ)-কে পাঠালেন। তাঁরা আমাদের কুফায় আসলেন এবং (মসজিদের) মিম্বরে উপবেশন করলেন। হাসান ইবনু ’আলী (রাঃ) মিম্বারের সর্বোচ্চ ধাপে উপবিষ্ট ছিলেন, আর আম্মার (রাঃ) হাসান (রাঃ)-এর নিচের ধাপে দন্ডায়মান ছিলেন। আমরা এসে তাঁর নিকট জড় হলাম। এ সময় আমি শোনলাম, আম্মার (রাঃ) বলেছেন, ’আয়িশাহ (রাঃ) বস্রার দিকে রওনা হয়ে গেছেন। নিঃসন্দেহে তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে তোমাদের (আমাদের) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্নী। কিন্তু আল্লাহ্ এ কথা স্পষ্ট করে জেনে নেয়ার জন্য তোমাদের পরীক্ষায় ফেলেছেন যে, তোমরা কি তাঁরই আনুগত্য কর, না তাঁর [অর্থাৎ ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর] আনুগত্য কর। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১৯)
হাদিস নং: ৭১০১
সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا ابن ابي غنية عن الحكم عن ابي واىل قام عمار على منبر الكوفة فذكر عاىشة وذكر مسيرها وقال انها زوجة نبيكم صلى الله عليه وسلم في الدنيا والاخرة ولكنها مما ابتليتم.
৭১০১. আবূ ওয়ায়িল (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আম্মার (রাঃ) কূফার (মসজিদের) মিম্বরে দাঁড়ালেন এবং তিনি ’আয়িশাহ (রাঃ)-ও তাঁর সফরের কথা উল্লেখ করলেন। এরপর তিনি বললেন, তিনি (’আয়িশাহ (রাঃ) দুনিয়া ও আখিরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্নী। কিন্তু বর্তমানে তোমরা তাঁকে নিয়ে ভীষণ পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছ। [৩৭৭২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬২০)
হাদিস নং: ৭১০২
সহিহ (Sahih)
حدثنا بدل بن المحبر حدثنا شعبة اخبرني عمرو سمعت ابا واىل يقول دخل ابو موسى وابو مسعود على عمار حيث بعثه علي الى اهل الكوفة يستنفرهم فقالا ما رايناك اتيت امرا اكره عندنا من اسراعك في هذا الامر منذ اسلمت فقال عمار ما رايت منكما منذ اسلمتما امرا اكره عندي من ابطاىكما عن هذا الامر وكساهما حلة حلة ثم راحوا الى المسجد.
৭১০২-৭১০৩-৭১০৪. আবূ ওয়ায়িল (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আলী (রাঃ) যখন যুদ্ধে অংশগ্রহণের আহবান জানাতে আম্মার (রাঃ)-কে কূফাবাসীদের নিকট পাঠালেন, তখন আবূ মূসা ও আবূ মাস’ঊদ (রাঃ) তাঁর কাছে হাজির হয়ে বললেন, তোমার ইসলাম গ্রহণের পর থেকে আমাদের জানামতে বর্তমান বিষয়ে (যুদ্ধের জন্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করার বিষয়ে) দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করার চেয়ে অপছন্দনীয় কোন কাজ করতে আমরা তোমাকে দেখিনি। তখন আম্মার (রাঃ) বললেন, যখন থেকে আপনারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন, আমি আপনাদের কোন কাজ দেখিনি যা আমাদের কাছে অপছন্দনীয় মনে হয়েছে বর্তমানের এ কাজে দেরী করা ব্যতীত। তখন আবূ মাস’ঊদ (রাঃ) তাদের দু’জনকেই একজোড়া করে পোশাক পরিয়ে দিলেন। এরপর সকলেই (কূফা) মসজিদের দিকে রওনা হলেন। [৭১০৫, ৭১০৬, ৭১০৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬২১)
হাদিস নং: ৭১০৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا بدل بن المحبر حدثنا شعبة اخبرني عمرو سمعت ابا واىل يقول دخل ابو موسى وابو مسعود على عمار حيث بعثه علي الى اهل الكوفة يستنفرهم فقالا ما رايناك اتيت امرا اكره عندنا من اسراعك في هذا الامر منذ اسلمت فقال عمار ما رايت منكما منذ اسلمتما امرا اكره عندي من ابطاىكما عن هذا الامر وكساهما حلة حلة ثم راحوا الى المسجد.
৭১০২-৭১০৩-৭১০৪. আবূ ওয়ায়িল (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আলী (রাঃ) যখন যুদ্ধে অংশগ্রহণের আহবান জানাতে আম্মার (রাঃ)-কে কূফাবাসীদের নিকট পাঠালেন, তখন আবূ মূসা ও আবূ মাস’ঊদ (রাঃ) তাঁর কাছে হাজির হয়ে বললেন, তোমার ইসলাম গ্রহণের পর থেকে আমাদের জানামতে বর্তমান বিষয়ে (যুদ্ধের জন্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করার বিষয়ে) দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করার চেয়ে অপছন্দনীয় কোন কাজ করতে আমরা তোমাকে দেখিনি। তখন আম্মার (রাঃ) বললেন, যখন থেকে আপনারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন, আমি আপনাদের কোন কাজ দেখিনি যা আমাদের কাছে অপছন্দনীয় মনে হয়েছে বর্তমানের এ কাজে দেরী করা ব্যতীত। তখন আবূ মাস’ঊদ (রাঃ) তাদের দু’জনকেই একজোড়া করে পোশাক পরিয়ে দিলেন। এরপর সকলেই (কূফা) মসজিদের দিকে রওনা হলেন। [৭১০৫, ৭১০৬, ৭১০৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬২১)
হাদিস নং: ৭১০৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا بدل بن المحبر حدثنا شعبة اخبرني عمرو سمعت ابا واىل يقول دخل ابو موسى وابو مسعود على عمار حيث بعثه علي الى اهل الكوفة يستنفرهم فقالا ما رايناك اتيت امرا اكره عندنا من اسراعك في هذا الامر منذ اسلمت فقال عمار ما رايت منكما منذ اسلمتما امرا اكره عندي من ابطاىكما عن هذا الامر وكساهما حلة حلة ثم راحوا الى المسجد.
৭১০২-৭১০৩-৭১০৪. আবূ ওয়ায়িল (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আলী (রাঃ) যখন যুদ্ধে অংশগ্রহণের আহবান জানাতে আম্মার (রাঃ)-কে কূফাবাসীদের নিকট পাঠালেন, তখন আবূ মূসা ও আবূ মাস’ঊদ (রাঃ) তাঁর কাছে হাজির হয়ে বললেন, তোমার ইসলাম গ্রহণের পর থেকে আমাদের জানামতে বর্তমান বিষয়ে (যুদ্ধের জন্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করার বিষয়ে) দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করার চেয়ে অপছন্দনীয় কোন কাজ করতে আমরা তোমাকে দেখিনি। তখন আম্মার (রাঃ) বললেন, যখন থেকে আপনারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন, আমি আপনাদের কোন কাজ দেখিনি যা আমাদের কাছে অপছন্দনীয় মনে হয়েছে বর্তমানের এ কাজে দেরী করা ব্যতীত। তখন আবূ মাস’ঊদ (রাঃ) তাদের দু’জনকেই একজোড়া করে পোশাক পরিয়ে দিলেন। এরপর সকলেই (কূফা) মসজিদের দিকে রওনা হলেন। [৭১০৫, ৭১০৬, ৭১০৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬২১)
হাদিস নং: ৭১০৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبدان عن ابي حمزة عن الاعمش عن شقيق بن سلمة كنت جالسا مع ابي مسعود وابي موسى وعمار فقال ابو مسعود ما من اصحابك احد الا لو شىت لقلت فيه غيرك وما رايت منك شيىا منذ صحبت النبي صلى الله عليه وسلم اعيب عندي من استسراعك في هذا الامر قال عمار يا ابا مسعود وما رايت منك ولا من صاحبك هذا شيىا منذ صحبتما النبي صلى الله عليه وسلم اعيب عندي من ابطاىكما في هذا الامر فقال ابو مسعود وكان موسرا يا غلام هات حلتين فاعطى احداهما ابا موسى والاخرى عمارا وقال روحا فيه الى الجمعة.
৭১০৫-৭১০৬-৭১০৭. শাক্বীক্ব ইবনু সালামাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ মাস’ঊদ (রাঃ), আবূ মূসা (রাঃ) ও আম্মার (রাঃ)-এর কাছে উপবিষ্ট ছিলাম। তখন আবূ মাস’ঊদ (রাঃ) বললেন, তুমি ছাড়া তোমার সঙ্গীদের মাঝে এমন কেউ নেই, যার ব্যাপারে আমি ইচ্ছা করলে কিছু না কিছু বলতে না পারি। তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গ লাভ করার পর থেকে এ ব্যাপারে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করার চেয়ে আমার দৃষ্টিতে দূষণীয় কোন কাজ তোমার নিকট হতে দেখিনি। তখন আম্মার (রাঃ) বললেন, হে আবূ মাস’ঊদ! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে তোমাদের সঙ্গ লাভ করার পর থেকে এ ব্যাপারে ইতস্তত করার চেয়ে আমার দৃষ্টিতে অধিক দূষণীয় কোন কাজ তোমার থেকে এবং তোমার এ সঙ্গী থেকে দেখিনি। আবূ মাস’ঊদ (রাঃ) ধনবান ব্যক্তি ছিলেন। তিনি (তার খাদেমকে) বললেন, হে বৎস! দু’জোড়া পোশাক নিয়ে এস। এরপর তিনি তার একটি আবূ মূসা (রাঃ)-কে ও অন্যটি আম্মার (রাঃ)-কে দিলেন এবং বললেন, এগুলো পরে জুমু’আহর সালাতে যাও। [৭১০২, ৭১০৩, ৭১০৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬২২)
হাদিস নং: ৭১০৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبدان عن ابي حمزة عن الاعمش عن شقيق بن سلمة كنت جالسا مع ابي مسعود وابي موسى وعمار فقال ابو مسعود ما من اصحابك احد الا لو شىت لقلت فيه غيرك وما رايت منك شيىا منذ صحبت النبي صلى الله عليه وسلم اعيب عندي من استسراعك في هذا الامر قال عمار يا ابا مسعود وما رايت منك ولا من صاحبك هذا شيىا منذ صحبتما النبي صلى الله عليه وسلم اعيب عندي من ابطاىكما في هذا الامر فقال ابو مسعود وكان موسرا يا غلام هات حلتين فاعطى احداهما ابا موسى والاخرى عمارا وقال روحا فيه الى الجمعة.
৭১০৫-৭১০৬-৭১০৭. শাক্বীক্ব ইবনু সালামাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ মাস’ঊদ (রাঃ), আবূ মূসা (রাঃ) ও আম্মার (রাঃ)-এর কাছে উপবিষ্ট ছিলাম। তখন আবূ মাস’ঊদ (রাঃ) বললেন, তুমি ছাড়া তোমার সঙ্গীদের মাঝে এমন কেউ নেই, যার ব্যাপারে আমি ইচ্ছা করলে কিছু না কিছু বলতে না পারি। তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গ লাভ করার পর থেকে এ ব্যাপারে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করার চেয়ে আমার দৃষ্টিতে দূষণীয় কোন কাজ তোমার নিকট হতে দেখিনি। তখন আম্মার (রাঃ) বললেন, হে আবূ মাস’ঊদ! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে তোমাদের সঙ্গ লাভ করার পর থেকে এ ব্যাপারে ইতস্তত করার চেয়ে আমার দৃষ্টিতে অধিক দূষণীয় কোন কাজ তোমার থেকে এবং তোমার এ সঙ্গী থেকে দেখিনি। আবূ মাস’ঊদ (রাঃ) ধনবান ব্যক্তি ছিলেন। তিনি (তার খাদেমকে) বললেন, হে বৎস! দু’জোড়া পোশাক নিয়ে এস। এরপর তিনি তার একটি আবূ মূসা (রাঃ)-কে ও অন্যটি আম্মার (রাঃ)-কে দিলেন এবং বললেন, এগুলো প’রে জুমু’আহর সালাতে যাও। [৭১০২, ৭১০৩, ৭১০৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬২২)
হাদিস নং: ৭১০৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبدان عن ابي حمزة عن الاعمش عن شقيق بن سلمة كنت جالسا مع ابي مسعود وابي موسى وعمار فقال ابو مسعود ما من اصحابك احد الا لو شىت لقلت فيه غيرك وما رايت منك شيىا منذ صحبت النبي صلى الله عليه وسلم اعيب عندي من استسراعك في هذا الامر قال عمار يا ابا مسعود وما رايت منك ولا من صاحبك هذا شيىا منذ صحبتما النبي صلى الله عليه وسلم اعيب عندي من ابطاىكما في هذا الامر فقال ابو مسعود وكان موسرا يا غلام هات حلتين فاعطى احداهما ابا موسى والاخرى عمارا وقال روحا فيه الى الجمعة.
৭১০৫-৭১০৬-৭১০৭. শাক্বীক্ব ইবনু সালামাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ মাস’ঊদ (রাঃ), আবূ মূসা (রাঃ) ও আম্মার (রাঃ)-এর কাছে উপবিষ্ট ছিলাম। তখন আবূ মাস’ঊদ (রাঃ) বললেন, তুমি ছাড়া তোমার সঙ্গীদের মাঝে এমন কেউ নেই, যার ব্যাপারে আমি ইচ্ছা করলে কিছু না কিছু বলতে না পারি। তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গ লাভ করার পর থেকে এ ব্যাপারে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করার চেয়ে আমার দৃষ্টিতে দূষণীয় কোন কাজ তোমার নিকট হতে দেখিনি। তখন আম্মার (রাঃ) বললেন, হে আবূ মাস’ঊদ! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে তোমাদের সঙ্গ লাভ করার পর থেকে এ ব্যাপারে ইতস্তত করার চেয়ে আমার দৃষ্টিতে অধিক দূষণীয় কোন কাজ তোমার থেকে এবং তোমার এ সঙ্গী থেকে দেখিনি। আবূ মাস’ঊদ (রাঃ) ধনবান ব্যক্তি ছিলেন। তিনি (তার খাদেমকে) বললেন, হে বৎস! দু’জোড়া পোশাক নিয়ে এস। এরপর তিনি তার একটি আবূ মূসা (রাঃ)-কে ও অন্যটি আম্মার (রাঃ)-কে দিলেন এবং বললেন, এগুলো প’রে জুমু’আহর সালাতে যাও। [৭১০২, ৭১০৩, ৭১০৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬২২)