অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৯২/১. আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ সতর্ক থাক সেই ফিতনা হতে...
মোট ৮৯ টি হাদিস
হাদিস নং: ৭১২৮
সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب عن سالم عن عبد الله بن عمر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال بينا انا ناىم اطوف بالكعبة فاذا رجل ادم سبط الشعر ينطف او يهراق راسه ماء قلت من هذا قالوا ابن مريم ثم ذهبت التفت فاذا رجل جسيم احمر جعد الراس اعور العين كان عينه عنبة طافية قالوا هذا الدجال اقرب الناس به شبها ابن قطن رجل من خزاعة
৭১২৮. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ঃ আমি ঘুমের অবস্থায় দেখতে পেলাম যে, আমি কা’বার তাওয়াফ করছি। হঠাৎ একজন লোককে দেখতে পেলাম ধূসর বর্ণের আলুথালু কেশধারী, তার মাথা থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে কিংবা টপকে পড়ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? লোকেরা বলল, ইনি মারিয়ামের পুত্র। এরপর আমি তাকাতে লাগলাম, হঠাৎ দেখতে পেলাম, এক ব্যক্তি স্থুলকায় লাল বর্ণের, কোঁকড়ানো চুল, এক চোখ কানা, চোখটি যেন ফোলা আঙ্গুরের মত। লোকেরা বলল এ-হল দাজ্জাল! তার সঙ্গে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ লোক হল ইবনু কাতান, বানী খুযা’আর এক লোক। [৩৪৪০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৪৩)
হাদিস নং: ৭১২৯
সহিহ (Sahih)
عبد العزيز بن عبد الله حدثنا ابراهيم بن سعد عن صالح عن ابن شهاب عن عروة ان عاىشة قالت سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يستعيذ في صلاته من فتنة الدجال.
৭১২৯. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাতের ভিতরে দাজ্জালের ফিতনা হতে পানাহ চাইতে শুনেছি। [৮৩২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৪৪)
হাদিস নং: ৭১৩০
সহিহ (Sahih)
عبدان اخبرني ابي عن شعبة عن عبد الملك عن ربعي عن حذيفة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال في الدجال ان معه ماء ونارا فناره ماء بارد وماوه نار قال ابو مسعود انا سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم.
৭১৩০. হুযাইফাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি দাজ্জাল সম্পর্কে বলেছেনঃ তার সঙ্গে পানি ও আগুন থাকবে। আসলে তার আগুনই হবে শীতল পানি, আর তার পানি হবে আগুন।
আবূ মাস’ঊদ (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, আমিও এ হাদীসটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি। [৩৪৫০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৪৫)
আবূ মাস’ঊদ (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, আমিও এ হাদীসটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি। [৩৪৫০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৪৫)
হাদিস নং: ৭১৩১
সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب حدثنا شعبة عن قتادة عن انس قال قال النبي صلى الله عليه وسلم ما بعث نبي الا انذر امته الاعور الكذاب الا انه اعور وان ربكم ليس باعور وان بين عينيه مكتوب كافر فيه ابو هريرة وابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم.
৭১৩১. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন কোন নবী প্রেরিত হন নি যিনি তার উম্মাতকে এই কানা মিথ্যাবাদী সম্পর্কে সতর্ক করেননি। জেনে রেখো, সে কানা, আর তোমাদের রব কানা নন। আর তার দুই চোখের মাঝখানে কাফির كَافِرٌ শব্দটি লিপিবদ্ধ থাকবে। এ সম্পর্কে আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) ও ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। [৭৪০৮; মুসলিম ৫২/২০, হাঃ ২৯৩৩, আহমাদ ১৩৩৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৪৬)
হাদিস নং: ৭১৩২
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري اخبرني عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود ان ابا سعيد قال حدثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما حديثا طويلا عن الدجال فكان فيما يحدثنا به انه قال ياتي الدجال وهو محرم عليه ان يدخل نقاب المدينة فينزل بعض السباخ التي تلي المدينة فيخرج اليه يومىذ رجل وهو خير الناس او من خيار الناس فيقول اشهد انك الدجال الذي حدثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم حديثه فيقول الدجال ارايتم ان قتلت هذا ثم احييته هل تشكون في الامر فيقولون لا فيقتله ثم يحييه فيقول والله ما كنت فيك اشد بصيرة مني اليوم فيريد الدجال ان يقتله فلا يسلط عليه.
৭১৩২. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে দাজ্জাল সম্পর্কে দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করলেন। তিনি তার সম্পর্কে আমাদেরকে যা কিছু বলেছিলেন, তাতে এও বলেছেন যে, দাজ্জাল আসবে, তবে মাদ্বীনাহর প্রবেশপথে তার প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ থাকবে। মাদ্বীনাহর নিকটবর্তী বালুময় একটি স্থানে সে অবস্থান নিবে। এ সময় তার দিকে এক ব্যক্তি আসবে, যে মানুষের মাঝে উত্তম। কিংবা উত্তম ব্যক্তিদের একজন। সে বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুই সেই দাজ্জাল, যার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে তাঁর হাদীস বর্ণনা করেছেন। তখন দাজ্জাল বলবে, তোমরা দেখ- আমি যদি একে হত্যা করে আবার জীবিত করে দেই তাহলে কি তোমরা এ ব্যাপারে সন্দেহ করবে? লোকেরা বলবে, না। এরপর সে তাকে হত্যা করবে এবং আবার জীবিত করবে। তখন সে লোকটি বলবে, আল্লাহর কসম! তোর সম্পর্কে আজকের মত দৃঢ় বিশ্বাসী ছিলাম না। তখন দাজ্জাল তাকে হত্যা করতে চাইবে। কিন্তু সে তা করতে পারবে না। [১৮৮২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৪৭)
হাদিস নং: ৭১৩৩
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن مسلمة عن مالك عن نعيم بن عبد الله المجمر عن ابي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم على انقاب المدينة ملاىكة لا يدخلها الطاعون ولا الدجال.
৭১৩৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাদ্বীনার প্রবেশপথগুলোতে ফেরেশতা নিযুক্ত আছেন। কাজেই সেখানে প্লেগ ও দাজ্জাল প্রবেশ করবে না।[1] [১৮৮০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৪৮)
নোট: [1] হাদীসটিতে মদীনার ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। মদীনার আরোও ফযীলত হচ্ছে :
১. রসূলুল্লাহ (সাঃ) মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করার পূর্বে মদীনার নাম ছিল ইয়াসরিব। ফলে রসূল (সাঃ) সেখানে হিজরত করার কারণে তার নামকরণ করা হয়েছে মদীনাতুল রাসূল বা মদীনাতুন নববী।
২. সেখানে রসূলের হিজরত হবার কারণে মদীনার আরেকটি নাম হলো দারুল হিজরাহ।
৩. রসূল (সাঃ) এর নামকরণ করেন ত্বায়্যিবাহ, ত্বীবা ইত্যাদী নামে।
৪. ইবরাহীম u যেমন মক্কার জন্য দু‘আ করেছিলেন তেমনি রসূল (সাঃ)ও মদীনার বরকতের জন্য দু‘আ করেছিলেন। যথা : اللهم اجعل في المدينة ضعفي ما مكة من البركة (বুখারী ও মুসলিম) (ফাতহুল বারী)
৫. মদীনাহ ঈমানের অবস্থানস্থল ও ঠিকানা। দ্বীন এখান থেকেই প্রসারিত হয়েছিল আবার এখানে ফিরে আসবে। নাবী (সাঃ) বলেন, إن الإيمان ليأرز إلى المدينة كما تأرز الحية إلى جحرها (বুখারী ও মুসলিম)
৬. রসূল (সাঃ) মদীনাবাসীদের জন্য বরকতের দু‘আ করেন যথা : اللهم بارك لأهل المدينة।
১. রসূলুল্লাহ (সাঃ) মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করার পূর্বে মদীনার নাম ছিল ইয়াসরিব। ফলে রসূল (সাঃ) সেখানে হিজরত করার কারণে তার নামকরণ করা হয়েছে মদীনাতুল রাসূল বা মদীনাতুন নববী।
২. সেখানে রসূলের হিজরত হবার কারণে মদীনার আরেকটি নাম হলো দারুল হিজরাহ।
৩. রসূল (সাঃ) এর নামকরণ করেন ত্বায়্যিবাহ, ত্বীবা ইত্যাদী নামে।
৪. ইবরাহীম u যেমন মক্কার জন্য দু‘আ করেছিলেন তেমনি রসূল (সাঃ)ও মদীনার বরকতের জন্য দু‘আ করেছিলেন। যথা : اللهم اجعل في المدينة ضعفي ما مكة من البركة (বুখারী ও মুসলিম) (ফাতহুল বারী)
৫. মদীনাহ ঈমানের অবস্থানস্থল ও ঠিকানা। দ্বীন এখান থেকেই প্রসারিত হয়েছিল আবার এখানে ফিরে আসবে। নাবী (সাঃ) বলেন, إن الإيمان ليأرز إلى المدينة كما تأرز الحية إلى جحرها (বুখারী ও মুসলিম)
৬. রসূল (সাঃ) মদীনাবাসীদের জন্য বরকতের দু‘আ করেন যথা : اللهم بارك لأهل المدينة।
হাদিস নং: ৭১৩৪
সহিহ (Sahih)
يحيى بن موسى حدثنا يزيد بن هارون اخبرنا شعبة عن قتادة عن انس بن مالك عن النبي صلى الله عليه وسلم قال المدينة ياتيها الدجال فيجد الملاىكة يحرسونها فلا يقربها الدجال قال ولا الطاعون ان شاء الله.
৭১৩৪. আনাস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন যে, মাদ্বীনাহর দিকে দাজ্জাল আসবে, সে ফেরেশ্তাদেরকে মাদ্বীনাহ প্রহরারত অবস্থায় দেখতে পাবে। অতএব দাজ্জাল ও প্লেগ এর নিকটবর্তী হবে না ইনশা আল্লাহ্। [১৮৮১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৪৯)
হাদিস নং: ৭১৩৫
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري ح و حدثنا اسماعيل حدثني اخي عن سليمان عن محمد بن ابي عتيق عن ابن شهاب عن عروة بن الزبير ان زينب بنت ابي سلمة حدثته عن ام حبيبة بنت ابي سفيان عن زينب بنت جحش ان رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل عليها يوما فزعا يقول لا اله الا الله ويل للعرب من شر قد اقترب فتح اليوم من ردم ياجوج وماجوج مثل هذه وحلق باصبعيه الابهام والتي تليها قالت زينب بنت جحش فقلت يا رسول الله افنهلك وفينا الصالحون قال نعم اذا كثر الخبث.
৭১৩৫. যাইনাব বিন্ত জাহাশ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদ্বিগ্ন অবস্থায় এরূপ বলতে বলতে আমার গৃহে প্রবেশ করলেন যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন উপাস্য নাই। আক্ষেপ আরবের জন্য মন্দ থেকে যা যতি নিকটবর্তী। বৃদ্ধাঙ্গুল ও তৎসংলগ্ন আঙ্গুল গোলাকৃতি করে তার দিকে ইশারা করে বললেনঃ আজ ইয়াজূজ ও মাজূজের দেয়াল এ পরিমাণ খুলে গেছে। যাইনাব বিন্ত জাহাশ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মাঝে সৎ লোকেরা উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? উত্তরে তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, যদি পাপকাজ বৃদ্ধি পায়। [৩৩৪৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৫০)
হাদিস নং: ৭১৩৬
সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا وهيب حدثنا ابن طاوس عن ابيه عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال يفتح الردم ردم ياجوج وماجوج مثل هذه وعقد وهيب تسعين.
৭১৩৬. আবূ হুরাইরাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেনঃ ইয়াজূজ-মাজূজেরস দেয়াল এ পরিমাণ খুলে গেছে। রাবী ওহায়ব নব্বই সংখ্যা নির্দেশক গোলাকৃতি তৈরি করে (দেখালেন)। [৩৩৪৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৫১)