হাদিস নং: ৭৩৬
সহিহ (Sahih)
محمد بن مقاتل قال اخبرنا عبد الله قال اخبرنا يونس عن الزهري اخبرني سالم بن عبد الله عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا قام في الصلاة رفع يديه حتى يكونا حذو منكبيه وكان يفعل ذلك حين يكبر للركوع ويفعل ذلك اذا رفع راسه من الركوع ويقول سمع الله لمن حمده ولا يفعل ذلك في السجود.
৭৩৬. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছি, তিনি যখন সালাতের জন্য দাঁড়াতেন তখন উভয় হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন। এবং যখন তিনি রুকূ‘র জন্য তাকবীর বলতেন তখনও এ রকম করতেন। আবার যখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠাতেন তখনও এমন করতেন এবং سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলতেন। তবে সিজদার সময় এ রকম করতেন না। (৭৩৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭০০)
হাদিস নং: ৭৩৭
সহিহ (Sahih)
اسحاق الواسطي قال حدثنا خالد بن عبد الله عن خالد عن ابي قلابة انه راى مالك بن الحويرث اذا صلى كبر ورفع يديه واذا اراد ان يركع رفع يديه واذا رفع راسه من الركوع رفع يديه وحدث ان رسول الله صلى الله عليه وسلم صنع هكذا.
৭৩৭. আবূ কিলাবাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস (রাযি.)-কে দেখেছেন, তিনি যখন সালাত আদায় করতেন তখন তাকবীর বলতেন এবং তাঁর দু’ হাত উঠাতেন। আর যখন রুকূ‘ করার ইচ্ছা করতেন তখনও তাঁর উভয় হাত উঠাতেন, আবার যখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠাতেন তখনও তাঁর উভয় হাত উঠাতেন এবং তিনি বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন। (মুসলিম ৪/৯ হাঃ ৩৯১, আহমাদ ২০৫৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭০১)
হাদিস নং: ৭৩৮
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان قال اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرنا سالم بن عبد الله ان عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال رايت النبي رضى الله عنهما افتتح التكبير في الصلاة فرفع يديه حين يكبر حتى يجعلهما حذو منكبيه واذا كبر للركوع فعل مثله واذا قال سمع الله لمن حمده فعل مثله وقال ربنا ولك الحمد ولا يفعل ذلك حين يسجد ولا حين يرفع راسه من السجود.
وَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ فِي أَصْحَابِهِ رَفَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ.
আবূ হুমাইদ (রহ.) তাঁর সাথীদের বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাঁধ বরাবর হাত উঠাতেন।
৭৩৮. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তাকবীর দিয়ে সালাত শুরু করতে দেখেছি,তিনি যখন তাকবীর বলতেন তখন তাঁর উভয় হাত উঠাতেন এবং কাঁধ বরাবর করতেন। আর যখন রুকূ’র তাকবীর বলতেন তখনও এ রকম করতেন। আবার যখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলতেন, তখনও এ রকম করতেন এবং رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ বলতেন। কিন্তু সিজদা্য় যেতে এ রকম করতেন না। আর সিজদা্ হতে মাথা উঠাবার সময়ও এমন করতেন না। (৭৩৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭০২)
আবূ হুমাইদ (রহ.) তাঁর সাথীদের বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাঁধ বরাবর হাত উঠাতেন।
৭৩৮. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তাকবীর দিয়ে সালাত শুরু করতে দেখেছি,তিনি যখন তাকবীর বলতেন তখন তাঁর উভয় হাত উঠাতেন এবং কাঁধ বরাবর করতেন। আর যখন রুকূ’র তাকবীর বলতেন তখনও এ রকম করতেন। আবার যখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলতেন, তখনও এ রকম করতেন এবং رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ বলতেন। কিন্তু সিজদা্য় যেতে এ রকম করতেন না। আর সিজদা্ হতে মাথা উঠাবার সময়ও এমন করতেন না। (৭৩৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭০২)
হাদিস নং: ৭৩৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا عياش، قال حدثنا عبد الاعلى، قال حدثنا عبيد الله، عن نافع، ان ابن عمر، كان اذا دخل في الصلاة كبر ورفع يديه، واذا ركع رفع يديه، واذا قال سمع الله لمن حمده. رفع يديه، واذا قام من الركعتين رفع يديه. ورفع ذلك ابن عمر الى نبي الله صلى الله عليه وسلم. رواه حماد بن سلمة عن ايوب عن نافع عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم. ورواه ابن طهمان عن ايوب وموسى بن عقبة مختصرا.
৭৩৯. নাফি‘ (রহ.) বর্ণিত যে, ইবনু ‘উমার (রাযি.) যখন সালাত শুরু করতেন তখন তাকবীর বলতেন এবং দু’ হাত উঠাতেন আর যখন রুকূ‘ করতেন তখনও দু’ হাত উঠাতেন। অতঃপর যখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলতেন তখনও দু’ হাত উঠাতেন এবং দু’রাক‘আত আদায়ের পর যখন দাঁড়াতেন তখনও দু’হাত উঠাতেন। এ সমস্ত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত বলে ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলেছেন। এ হাদীসটি হাম্মাদ ইবনু সালাম ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। ইবনু তাহমান, আইয়ূব ও মূসা ইবনু ‘উক্বাহ (রহ.) হতে এ হাদীসটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।* (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭০৩)
নোট: * আধুনিক প্রকাশনীর ৬৯৫ নং হাদীসের বিশাল এক টীকা লেখা হয়েছে বহু মারফু‘ হাদীসকে প্রত্যাখ্যান করে মাযহাবী রসম রেওয়াজ চালু রাখার জন্য। হানাফী মাযহাবে তাকবীরে তাহরীমাহ ছাড়া কোথাও রাফ‘উল ইয়াদাঈন করা হয় না অথচ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজীবন সালাতে তাকবীরে তাহরীমা ছাড়াও রাফ‘উল ইয়াদাঈন বা হাত উত্তোলন করেছেন। নিম্নের হাদীস তার জ্বলন্ত প্রমাণ ঃ
৭৩৬، ৭৩৯. عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ إِذَا قَامَ فِي الصَّلاَةِ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يَكُونَا حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ وَكَانَ يَفْعَلُ ذَلِكَ حِينَ يُكَبِّرُ لِلرُّكُوعِ وَيَفْعَلُ ذَلِكَ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْ الرُّكُوعِ وفي رواية وَإِذَا قَامَ مِنْ الرَّكْعَتَيْنِ رَفَعَ يَدَيْهِ
আবদুল্লাহ ইবনে ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি তিনি যখন সালাতের জন্য দাঁড়াতেন তখন উভয় হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন। এবং যখন তিনি রূকূ‘র জন্য তাকবীর বলতেন তখনও এরূপ করতেন। এবং যখন রূক‘ু হতে মাথা উঠাতেন তখনও এরূপ করতেন। ইমাম বুখারী এটা বর্ণনা করেছেন। তাঁর অপর বর্ণনায় এটাও আছে যে, যখন তিনি {রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম} দ্বিতীয় রাক‘আত হতে (তৃতীয় রাক‘আতের জন্য) দাঁড়াতেন তখনও দু’ হাত (কাঁধ বরাবর) উঠাতেন।
(বুখারী ১ম খণ্ড ১০২ পৃষ্ঠা। মুসলিম ১৬৮ পৃষ্ঠা। আবূ দাঊদ ১ম খণ্ড ১০৪,১০৫ পৃষ্ঠা। তিরমিযী ১ম খণ্ড ৫৯ পৃষ্ঠা। নাসাঈ ১৪১, ১৫৮, ১৬২ পৃষ্ঠা। ইবনু খুযায়মাহ ৯৫,৯৬। মেশকাত ৭৫ পৃষ্ঠা। ইবনে মাজাহ ১৬৩ পৃষ্ঠা। যাদুল মা‘আদ ১ম খণ্ড ১৩৭,১৩৮,১৫০ পৃষ্ঠা। হিদায়া দিরায়াহ ১১৩-১১৫ পৃষ্ঠা। কিমিয়ায়ে সায়াদাত ১ম ১৯০ পৃষ্ঠা। বুখারী আধুনিক প্রকাশনী ১ম হাদীস নং ৬৯২, ৬৯৩, ৬৯৫। বুখারী আযীযুল হক ১ম খণ্ড হাদীস নং ৪৩২-৪৩৪। বুখারী ইসলামীক ফাউন্ডেশন ১ম খণ্ড হাদীস নং ৬৯৭-৭০১ অনুচ্ছেদসহ। মুসলিম ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২য় খণ্ড হাদীস নং ৭৪৫-৭৫০। আবূ দাঊদ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১ম হাদীস নং ৮৪২-৮৪৪। তিরমিযী ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২য় খণ্ড হাদীস নং ২৫৫। মেশকাত নূর মোহাম্মদ আযমী ও মাদরাসা পাঠ্য ২য় খণ্ড হাদীস নং ৭৩৮-৭৩৯, ৭৪১,৭৪৫। বুলূগুল মারাম ৮১ পৃষ্ঠা। ইসলামিয়াত বি-এ. হাদীস পর্ব ১২৬-১২৯ পৃষ্ঠা
৭৩৬، ৭৩৯. عَنْ ابن عمر كَانِ رسول الله صلى الله عليه وسلم إذَا افْتَتَحَ الصلاةَ رفع يديه وإذَا رَكَعَ وإذَا رَفَعَ رأسَهُ مِنَ الرُّكُوْعِ فَكَانَ لا يفعل ذلك في السجود فمازالت تلك صلوته حتى لقي الله تعالى رواه البيهقي، هدايه مع الدراية
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শুরু করতেন, যখন রুকু‘ করতেন এবং যখন রুকু‘ থেকে মাথা উঠাতেন তখন হস্তদ্বয় উত্তোলন করতেন কিন্তু সিজদার মধ্যে হস্তদ্বয় উত্তোলন করতেন না। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ অর্থাৎ তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত সর্বদাই তাঁর সালাত এরূপ করতেন। (বায়হাকী, হেদায়াহ দেরায়াহ ১ম খণ্ড ১১৪ পৃষ্ঠা)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলেন, রফউল ইয়াদাঈন হল সালাতের সৌন্দর্য, রুকু‘তে যাবার সময় ও রুকু‘ হতে উঠার সময় কেউ রফ‘উল ইয়াদাঈন না করলে তিনি তাকে ছোট পাথর ছুঁড়ে মারতেন। (নায়লুল আওত্বার ৩/১২, ফাতহুল বারী ২/২৫৭)
হাদীস জগতের শ্রেষ্ঠ ইমাম ইসমা‘ঈল বুখারী জুযউর রফ‘ইল ইয়াদাইন নামক একটি স্বতন্ত্র হাদীস গ্রন্থই রচনা করেছেন। যার মধ্যে ১৯৮টি হাদীস বিদ্যমান। (ছাপা তাওহীদ পাবলিকেশন্স, ঢাকা)
যুগ শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী তার সিফাতু সালাতুন্নাবী গ্রন্থে বুখারী ও মুসলিমের হাদীস “তিনি রুকু‘ থেকে সোজা হয়ে দাঁড়াবার সময় দু’হাত উঠাতেন” উল্লেখ করে টীকায় লিখেছেন এ হস্ত উত্তোলন নাবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে সাব্যস্ত। কিছু সংখ্যক হানাফী আলিম সহ বেশিরভাগ আলিম হাত উঠানোর পক্ষে মত পোষণ করেন।
রফ‘উল ইয়াদাইন ও খোলাফাইর রাশিদীন এবং আশরা মুবাশশারীনঃ
ইমাম যায়লা‘ঈ হানাফী (রহ.), আল্লামা আব্দুল হাই লাখনাবী হানাফী (রহ.), আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী হানাফী (রহ.) এবং হাফিয ইবনু হাজার আসকালানী (রহ.) সবাই ইমাম হাকেম (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেনঃ
قال الحاكم : لا نعلم سنة اتفق على روايتها الخلفاء ثم العشرة-المبشرين بالجنة-فمن بعدهم من أكابر الصحابة على تفرقهم في البلاد الشاسعة غير هذه السنة (نصب الرأية ১/৪১৮، نيل الفرقردين ২৬، وتلخيص الحبير ১/৮২)
ইমাম হাকিম (রহঃ) বলেছেনঃ “রফয়ে য়াদাইন ব্যতীত অন্য কোন সুন্নাতের বর্ণনার ক্ষেত্রে খোলাফায়ে রাশেদীন, আশরা মোবাশ্শারা (জান্নাতের শুভসংবাদ প্রাপ্ত দশজন সহাবা) এবং বড় বড় সাহাবীগণ (তাদের দূর দেশে ছড়িয়ে পড়ার পরেও) একত্রিত হয়েছেন বলে আমার জানা নেই। (নাসবুর রায়াহ ১/৪১৮ পৃষ্ঠা, নাইলুল ফারকাদাইন পৃষ্ঠা ২৬, তালখীছ আলহাবীর ১/৮২)
শায়খ আব্দুল কাদের জীলানী ও রফ‘উল ইয়াদাইন ঃ
শায়খ আব্দুল কাদির জীলানী (রহঃ) সালাতের সুন্নাতসমূহ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেনঃ
ورفع اليدين عند الإفتتاح والركوع الرفع منه (غنية الطالبين)
“ছলাত শুরু করার সময়, রুকু‘তে যাওয়ার সময় এবং রুকূ‘ থেকে উঠার সময় রফ‘উল ইয়াদাইন করা সুন্নাত।” (গুনইয়াতুত ত্বালিবীন পৃষ্ঠা ১০)
হানাফী ‘আলিমগণ ও রফ‘উল ইয়াদাইনঃ
শায়খ আবুত্বলিব মাক্কী হানাফী (রহঃ) তার ক্বূতুল ক্বূলুব নামক গ্রন্থে ছলাতের সূন্নাত সমূহ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ
ورفع اليدين والتكبير للركوع سنة ثم رفع اليدين بقول سعم الله لمن حمده سنة
“রুকু‘তে যাওয়ার সময় রফউল ইয়াদাইন করা এবং তাকবীর বলা সূন্নাত। তারপর ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে রফ‘উল ইয়াদাইন করা সুন্নাত।” (কূতুল কুলূব ৩/১৩৯)
কাযী ছানাউল্লাহ পানিপত্তি (রহঃ) বলেনঃ
رفع يدين درين وقت نزد اكثر علماء سنت ست، اكثر فقهاء ومحدثين اثبات أن مي كند
“বর্তমান সময়ে অধিকাংশ আলেমের দৃষ্টিতে রফয়ে ইয়াদাইন সুন্নাত। অধিকাংশ ফকীহ এবং মুহাদ্দিসগণ একে প্রমাণ করে থাকেন।”(মালা বুদ্দা মিনহু পৃষ্ঠা ৪২, ৪৪)
ইমাম আবূ ইউসুফ-এর শিষ্য ইছাম ও রফ‘উল ইয়াদাইনঃ
আল্লামা ‘আবদুল হাই লাখনোভী বলেনঃ “এছাম ইবনু ইউসুফ ইমাম আবু ইউসূফ (রহঃ)-এর শাগরিদ ছিলেন এবং হানাফী ছিলেন।
وكان يرفع يديه عند الركوع وعند رفع الرأس منه
তিনি রুকু‘তে যাওয়ার সময় এবং রুকু‘ থেকে উঠার সময় দু’হাত উঠাতেন।”(আল ফাওয়ায়েদুল বাহিয়্যাহ ১১৬ নূর মোহাম্মদ প্রেস)
‘আবদুল্লাহ ইবনুল মোবারক, সুফ্ইয়ান ছাওরী এবং শু’বাহ বলেন ঃ “এছাম ইবনু ইউসুফ মুহাদ্দিছ ছিলেন তাই তিনি রফউল ইয়াদাইন করতেন। (আল ফাওয়ায়েদুল বাহিয়্যাহ ১১৬ নূর মোহাম্মদ প্রেস)
আল্লামা আব্দুল হাই লাখনাবী (রহঃ) বলেনঃ
وأن ثبوته عن النبي صلى الله عليه وسلم أكثر وأرجح
“নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে রফয়ে ইয়াদাইন এর প্রমাণ বেশী এবং অগ্রাধিকার যোগ্য।”(আত্তা‘লীকুল মুমাজ্জাদ ৯১ পৃষ্ঠা)
তিনি আরো বলেনঃ
والحق أنه لا شك في ثبوت رفع اليدين عند الركوع والرفع منه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وكثير من أصحابه بالطريق القوبة والأخبار الصحيحة
“সত্য কথা হলো রুকু‘তে যাওয়া এবং রুকু‘ থেকে মাথা উঠানোর সময় ‘রফ‘উল ইয়াদাইন’ করা রসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং অনেক সাহাবী (রাযিঃ) থেকে শক্তিশালী সানাদ এবং ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। (আসসিয়ায়াহ ১/২১৩)
রুকু‘তে যাওয়া ও রুকু‘ হতে উঠার সময়ে রফ‘উল ইয়াদাঈন করা সম্পর্কে চার খলীফাহ সহ প্রায় ২৫ জন সাহাবী থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীস বিদ্যমান। একটি হিসাব মতে রফ‘উল ইয়াদাঈন-এর হাদীসের রাবী সংখ্যা আশারায়ে মুবাশ্শরাহ সহ অনুন্য ৫০ জন সাহাবী (ফিকহুস সুন্নাহ ১/১০৭, ফাতহুল বারী ২/২৫৮) এবং সর্বমোট সহীহ হাদীস ও আসারের সংখ্যা অনুন্য ৪০০ শত। ইমাম সুয়ূতী রফ‘উল ইয়াদাঈন এর হাদীসকে মুতাওয়াতির পর্যায়ের বলে মন্তব্য করেছেন।
কতিপয় নির্বোধ লোকের কথা আছে যে, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় যারা নতুন ঈমান এনেছিলেন তারা নাকি তাদের পুরাতন আচরণের বশবর্তী হয়ে বগলে পুতুল রাখতেন এবং এটা রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পারলে তিনি রফ‘উল ইয়াদাঈনের নির্দেশ দেন। পরে তাদের ঈমান মজবুত হয়ে গেলে রফ‘উল ইয়াদাঈন করার নির্দেশ মানসূখ হয়ে যায়। এ কথাটি নিতান্তই আল্লাহর রসূলের সাহাবীদের ঈমানের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ। কারণ তাদের ঈমান আমাদের ঈমান অপেক্ষা অনেক দৃঢ় ও মজবুত ছিল। তাছাড়া এ কথাটি সাহাবীদের উপর মিথ্যা অপবাদেরই নামান্তর।
রফ‘উল ইয়াদাঈন সম্পর্কে সাহাবী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদের হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয় রফ‘উল করা যাবে না। কিন্তু মুহাদ্দিসীনে কিরামের নিকট এ কথাটি প্রসিদ্ধ যে, তাঁর শেষ বয়সে বার্ধক্যজনিত কারণে স্মৃতি ভ্রম ঘটে, ফলে হতে পারে এ হাদীসটিও সে সবের অন্তর্ভুক্ত। কারণ তিনি কয়েকটি বিষয়ে সকল সাহাবীগণের বিপরীতে কথা বলেছেন। যেমন ঃ (১) মুয়াব্বিযাতাইন- সূরাহ্ নাস ও ফালাক সূরাহ্দ্বয় কুরআনের অংশ নয় মনে করতেন। (২) তাত্বীক- রুকু‘তে তাত্বীক বা দু’হাতকে জোড় করে হাঁটু দ্বারা চেপে রাখতে বলতেন। (৩) দু’জন সালাতে দাঁড়ালে কীভাবে দাঁড়াবে। (৪) আরাফাহর ময়দানে কীভাবে তিনি (সঃ) দু‘ওয়াক্ত একসঙ্গে আদায় করেছেন। (৫) হাত বিছিয়ে সিজদা করা। (৬) وما خلق الذكر والأنثى কীভাবে পড়েছেন। (৭) রফউল ইয়াদাইন একবার করেছেন। [নাসবুর রাইয়াহ (ইমাম যাইলায়ী) ৩৯৭-৪০১ পৃষ্ঠা, ফিকহুস সুন্নাহ ১/১৩৪]
৭৩৬، ৭৩৯. عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ إِذَا قَامَ فِي الصَّلاَةِ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يَكُونَا حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ وَكَانَ يَفْعَلُ ذَلِكَ حِينَ يُكَبِّرُ لِلرُّكُوعِ وَيَفْعَلُ ذَلِكَ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْ الرُّكُوعِ وفي رواية وَإِذَا قَامَ مِنْ الرَّكْعَتَيْنِ رَفَعَ يَدَيْهِ
আবদুল্লাহ ইবনে ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি তিনি যখন সালাতের জন্য দাঁড়াতেন তখন উভয় হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন। এবং যখন তিনি রূকূ‘র জন্য তাকবীর বলতেন তখনও এরূপ করতেন। এবং যখন রূক‘ু হতে মাথা উঠাতেন তখনও এরূপ করতেন। ইমাম বুখারী এটা বর্ণনা করেছেন। তাঁর অপর বর্ণনায় এটাও আছে যে, যখন তিনি {রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম} দ্বিতীয় রাক‘আত হতে (তৃতীয় রাক‘আতের জন্য) দাঁড়াতেন তখনও দু’ হাত (কাঁধ বরাবর) উঠাতেন।
(বুখারী ১ম খণ্ড ১০২ পৃষ্ঠা। মুসলিম ১৬৮ পৃষ্ঠা। আবূ দাঊদ ১ম খণ্ড ১০৪,১০৫ পৃষ্ঠা। তিরমিযী ১ম খণ্ড ৫৯ পৃষ্ঠা। নাসাঈ ১৪১, ১৫৮, ১৬২ পৃষ্ঠা। ইবনু খুযায়মাহ ৯৫,৯৬। মেশকাত ৭৫ পৃষ্ঠা। ইবনে মাজাহ ১৬৩ পৃষ্ঠা। যাদুল মা‘আদ ১ম খণ্ড ১৩৭,১৩৮,১৫০ পৃষ্ঠা। হিদায়া দিরায়াহ ১১৩-১১৫ পৃষ্ঠা। কিমিয়ায়ে সায়াদাত ১ম ১৯০ পৃষ্ঠা। বুখারী আধুনিক প্রকাশনী ১ম হাদীস নং ৬৯২, ৬৯৩, ৬৯৫। বুখারী আযীযুল হক ১ম খণ্ড হাদীস নং ৪৩২-৪৩৪। বুখারী ইসলামীক ফাউন্ডেশন ১ম খণ্ড হাদীস নং ৬৯৭-৭০১ অনুচ্ছেদসহ। মুসলিম ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২য় খণ্ড হাদীস নং ৭৪৫-৭৫০। আবূ দাঊদ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১ম হাদীস নং ৮৪২-৮৪৪। তিরমিযী ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২য় খণ্ড হাদীস নং ২৫৫। মেশকাত নূর মোহাম্মদ আযমী ও মাদরাসা পাঠ্য ২য় খণ্ড হাদীস নং ৭৩৮-৭৩৯, ৭৪১,৭৪৫। বুলূগুল মারাম ৮১ পৃষ্ঠা। ইসলামিয়াত বি-এ. হাদীস পর্ব ১২৬-১২৯ পৃষ্ঠা
৭৩৬، ৭৩৯. عَنْ ابن عمر كَانِ رسول الله صلى الله عليه وسلم إذَا افْتَتَحَ الصلاةَ رفع يديه وإذَا رَكَعَ وإذَا رَفَعَ رأسَهُ مِنَ الرُّكُوْعِ فَكَانَ لا يفعل ذلك في السجود فمازالت تلك صلوته حتى لقي الله تعالى رواه البيهقي، هدايه مع الدراية
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শুরু করতেন, যখন রুকু‘ করতেন এবং যখন রুকু‘ থেকে মাথা উঠাতেন তখন হস্তদ্বয় উত্তোলন করতেন কিন্তু সিজদার মধ্যে হস্তদ্বয় উত্তোলন করতেন না। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ অর্থাৎ তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত সর্বদাই তাঁর সালাত এরূপ করতেন। (বায়হাকী, হেদায়াহ দেরায়াহ ১ম খণ্ড ১১৪ পৃষ্ঠা)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলেন, রফউল ইয়াদাঈন হল সালাতের সৌন্দর্য, রুকু‘তে যাবার সময় ও রুকু‘ হতে উঠার সময় কেউ রফ‘উল ইয়াদাঈন না করলে তিনি তাকে ছোট পাথর ছুঁড়ে মারতেন। (নায়লুল আওত্বার ৩/১২, ফাতহুল বারী ২/২৫৭)
হাদীস জগতের শ্রেষ্ঠ ইমাম ইসমা‘ঈল বুখারী জুযউর রফ‘ইল ইয়াদাইন নামক একটি স্বতন্ত্র হাদীস গ্রন্থই রচনা করেছেন। যার মধ্যে ১৯৮টি হাদীস বিদ্যমান। (ছাপা তাওহীদ পাবলিকেশন্স, ঢাকা)
যুগ শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী তার সিফাতু সালাতুন্নাবী গ্রন্থে বুখারী ও মুসলিমের হাদীস “তিনি রুকু‘ থেকে সোজা হয়ে দাঁড়াবার সময় দু’হাত উঠাতেন” উল্লেখ করে টীকায় লিখেছেন এ হস্ত উত্তোলন নাবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে সাব্যস্ত। কিছু সংখ্যক হানাফী আলিম সহ বেশিরভাগ আলিম হাত উঠানোর পক্ষে মত পোষণ করেন।
রফ‘উল ইয়াদাইন ও খোলাফাইর রাশিদীন এবং আশরা মুবাশশারীনঃ
ইমাম যায়লা‘ঈ হানাফী (রহ.), আল্লামা আব্দুল হাই লাখনাবী হানাফী (রহ.), আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী হানাফী (রহ.) এবং হাফিয ইবনু হাজার আসকালানী (রহ.) সবাই ইমাম হাকেম (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেনঃ
قال الحاكم : لا نعلم سنة اتفق على روايتها الخلفاء ثم العشرة-المبشرين بالجنة-فمن بعدهم من أكابر الصحابة على تفرقهم في البلاد الشاسعة غير هذه السنة (نصب الرأية ১/৪১৮، نيل الفرقردين ২৬، وتلخيص الحبير ১/৮২)
ইমাম হাকিম (রহঃ) বলেছেনঃ “রফয়ে য়াদাইন ব্যতীত অন্য কোন সুন্নাতের বর্ণনার ক্ষেত্রে খোলাফায়ে রাশেদীন, আশরা মোবাশ্শারা (জান্নাতের শুভসংবাদ প্রাপ্ত দশজন সহাবা) এবং বড় বড় সাহাবীগণ (তাদের দূর দেশে ছড়িয়ে পড়ার পরেও) একত্রিত হয়েছেন বলে আমার জানা নেই। (নাসবুর রায়াহ ১/৪১৮ পৃষ্ঠা, নাইলুল ফারকাদাইন পৃষ্ঠা ২৬, তালখীছ আলহাবীর ১/৮২)
শায়খ আব্দুল কাদের জীলানী ও রফ‘উল ইয়াদাইন ঃ
শায়খ আব্দুল কাদির জীলানী (রহঃ) সালাতের সুন্নাতসমূহ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেনঃ
ورفع اليدين عند الإفتتاح والركوع الرفع منه (غنية الطالبين)
“ছলাত শুরু করার সময়, রুকু‘তে যাওয়ার সময় এবং রুকূ‘ থেকে উঠার সময় রফ‘উল ইয়াদাইন করা সুন্নাত।” (গুনইয়াতুত ত্বালিবীন পৃষ্ঠা ১০)
হানাফী ‘আলিমগণ ও রফ‘উল ইয়াদাইনঃ
শায়খ আবুত্বলিব মাক্কী হানাফী (রহঃ) তার ক্বূতুল ক্বূলুব নামক গ্রন্থে ছলাতের সূন্নাত সমূহ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ
ورفع اليدين والتكبير للركوع سنة ثم رفع اليدين بقول سعم الله لمن حمده سنة
“রুকু‘তে যাওয়ার সময় রফউল ইয়াদাইন করা এবং তাকবীর বলা সূন্নাত। তারপর ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে রফ‘উল ইয়াদাইন করা সুন্নাত।” (কূতুল কুলূব ৩/১৩৯)
কাযী ছানাউল্লাহ পানিপত্তি (রহঃ) বলেনঃ
رفع يدين درين وقت نزد اكثر علماء سنت ست، اكثر فقهاء ومحدثين اثبات أن مي كند
“বর্তমান সময়ে অধিকাংশ আলেমের দৃষ্টিতে রফয়ে ইয়াদাইন সুন্নাত। অধিকাংশ ফকীহ এবং মুহাদ্দিসগণ একে প্রমাণ করে থাকেন।”(মালা বুদ্দা মিনহু পৃষ্ঠা ৪২, ৪৪)
ইমাম আবূ ইউসুফ-এর শিষ্য ইছাম ও রফ‘উল ইয়াদাইনঃ
আল্লামা ‘আবদুল হাই লাখনোভী বলেনঃ “এছাম ইবনু ইউসুফ ইমাম আবু ইউসূফ (রহঃ)-এর শাগরিদ ছিলেন এবং হানাফী ছিলেন।
وكان يرفع يديه عند الركوع وعند رفع الرأس منه
তিনি রুকু‘তে যাওয়ার সময় এবং রুকু‘ থেকে উঠার সময় দু’হাত উঠাতেন।”(আল ফাওয়ায়েদুল বাহিয়্যাহ ১১৬ নূর মোহাম্মদ প্রেস)
‘আবদুল্লাহ ইবনুল মোবারক, সুফ্ইয়ান ছাওরী এবং শু’বাহ বলেন ঃ “এছাম ইবনু ইউসুফ মুহাদ্দিছ ছিলেন তাই তিনি রফউল ইয়াদাইন করতেন। (আল ফাওয়ায়েদুল বাহিয়্যাহ ১১৬ নূর মোহাম্মদ প্রেস)
আল্লামা আব্দুল হাই লাখনাবী (রহঃ) বলেনঃ
وأن ثبوته عن النبي صلى الله عليه وسلم أكثر وأرجح
“নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে রফয়ে ইয়াদাইন এর প্রমাণ বেশী এবং অগ্রাধিকার যোগ্য।”(আত্তা‘লীকুল মুমাজ্জাদ ৯১ পৃষ্ঠা)
তিনি আরো বলেনঃ
والحق أنه لا شك في ثبوت رفع اليدين عند الركوع والرفع منه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وكثير من أصحابه بالطريق القوبة والأخبار الصحيحة
“সত্য কথা হলো রুকু‘তে যাওয়া এবং রুকু‘ থেকে মাথা উঠানোর সময় ‘রফ‘উল ইয়াদাইন’ করা রসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং অনেক সাহাবী (রাযিঃ) থেকে শক্তিশালী সানাদ এবং ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। (আসসিয়ায়াহ ১/২১৩)
রুকু‘তে যাওয়া ও রুকু‘ হতে উঠার সময়ে রফ‘উল ইয়াদাঈন করা সম্পর্কে চার খলীফাহ সহ প্রায় ২৫ জন সাহাবী থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীস বিদ্যমান। একটি হিসাব মতে রফ‘উল ইয়াদাঈন-এর হাদীসের রাবী সংখ্যা আশারায়ে মুবাশ্শরাহ সহ অনুন্য ৫০ জন সাহাবী (ফিকহুস সুন্নাহ ১/১০৭, ফাতহুল বারী ২/২৫৮) এবং সর্বমোট সহীহ হাদীস ও আসারের সংখ্যা অনুন্য ৪০০ শত। ইমাম সুয়ূতী রফ‘উল ইয়াদাঈন এর হাদীসকে মুতাওয়াতির পর্যায়ের বলে মন্তব্য করেছেন।
কতিপয় নির্বোধ লোকের কথা আছে যে, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় যারা নতুন ঈমান এনেছিলেন তারা নাকি তাদের পুরাতন আচরণের বশবর্তী হয়ে বগলে পুতুল রাখতেন এবং এটা রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পারলে তিনি রফ‘উল ইয়াদাঈনের নির্দেশ দেন। পরে তাদের ঈমান মজবুত হয়ে গেলে রফ‘উল ইয়াদাঈন করার নির্দেশ মানসূখ হয়ে যায়। এ কথাটি নিতান্তই আল্লাহর রসূলের সাহাবীদের ঈমানের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ। কারণ তাদের ঈমান আমাদের ঈমান অপেক্ষা অনেক দৃঢ় ও মজবুত ছিল। তাছাড়া এ কথাটি সাহাবীদের উপর মিথ্যা অপবাদেরই নামান্তর।
রফ‘উল ইয়াদাঈন সম্পর্কে সাহাবী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদের হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয় রফ‘উল করা যাবে না। কিন্তু মুহাদ্দিসীনে কিরামের নিকট এ কথাটি প্রসিদ্ধ যে, তাঁর শেষ বয়সে বার্ধক্যজনিত কারণে স্মৃতি ভ্রম ঘটে, ফলে হতে পারে এ হাদীসটিও সে সবের অন্তর্ভুক্ত। কারণ তিনি কয়েকটি বিষয়ে সকল সাহাবীগণের বিপরীতে কথা বলেছেন। যেমন ঃ (১) মুয়াব্বিযাতাইন- সূরাহ্ নাস ও ফালাক সূরাহ্দ্বয় কুরআনের অংশ নয় মনে করতেন। (২) তাত্বীক- রুকু‘তে তাত্বীক বা দু’হাতকে জোড় করে হাঁটু দ্বারা চেপে রাখতে বলতেন। (৩) দু’জন সালাতে দাঁড়ালে কীভাবে দাঁড়াবে। (৪) আরাফাহর ময়দানে কীভাবে তিনি (সঃ) দু‘ওয়াক্ত একসঙ্গে আদায় করেছেন। (৫) হাত বিছিয়ে সিজদা করা। (৬) وما خلق الذكر والأنثى কীভাবে পড়েছেন। (৭) রফউল ইয়াদাইন একবার করেছেন। [নাসবুর রাইয়াহ (ইমাম যাইলায়ী) ৩৯৭-৪০১ পৃষ্ঠা, ফিকহুস সুন্নাহ ১/১৩৪]
হাদিস নং: ৭৪০
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن مسلمة عن مالك عن ابي حازم عن سهل بن سعد قال كان الناس يومرون ان يضع الرجل اليد اليمنى على ذراعه اليسرى في الصلاة قال ابو حازم لا اعلمه الا ينمي ذلك الى النبي صلى الله عليه وسلم قال اسماعيل ينمى ذلك ولم يقل ينمي.
৭৪০. সাহল ইবনু সা‘দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকদের নির্দেশ দেয়া হত যে, সালাতে প্রত্যেক ডান হাত বাম হাতের উপর রাখবে।* আবূ হাযিম (রহ.) বলেন, সাহল (রহ.) এ হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করতেন বলেই জানি। ইসমাঈল (রহ.) বলেন, এ হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতেই বর্ণনা করা হতো। তবে তিনি এমন বলেননি যে, সাহল (রহ.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করতেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭০৪)
নোট: * আধুনিক প্রকাশনীর ৬৯৬ নম্বরে অত্র হাদীসের অনুবাদে একটি বিরাট জালিয়াতি ও ধোঁকাবাজি করা হয়েছে। পাঠকগণের সুবিধার্থে মূল হাদীসের ইবারত সহ সংক্ষিপ্ত আলোচনা তুলে ধরা হলো-
সালাতে নাভির নীচে হাত বাঁধার কথা সহীহ হাদীসে নাই। নাভির নীচে হাত বাঁধার কথা প্রমাণহীন। বরং হাত বুকের উপর বাঁধার কথা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
عن وائل بن حجر رضي الله عنه قال صليت مع النبي صلى الله عليه وسلم فوضع يده اليمنى على يده اليسرى على صدره رواه ابن خزيمة في صحيحة
ওয়ায়িল বিন হুজর (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সালাত আদায় করেছি। তিনি তার বুকে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখতেন।
বুখারীর হাদীসের আরবী ইবারতে ذراعه শব্দের অর্থ করেছেন হাতের কব্জি। কিন্তু এমন কোন অভিধান নেই যেখানে ذراع অর্থ কব্জি করা হয়েছে। আরবী অভিধানগুলোতে ذراع শব্দের অর্থ পূর্ণ একগজ বিশিষ্ট হাত। অনুবাদক শুধুমাত্র সহীহ হাদীসকে ধামাচাপা দিয়ে মাযহাবী মতকে অগ্রাধিকার দেয়ার উদ্দেশে ইচ্ছাকৃতভাবে অনুবাদে পূর্ণ হাতের পরিবর্তে কব্জি উল্লেখ করেছেন। তথাপিও সংশয় নিরসনের লক্ষে এ সম্পর্কে খানিকটা বিশদ আলোচনা উদ্ধৃত করা হলো-
ওয়াইল বিন হুজ্র (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করেছি। (আমি দেখেছি) নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে বুকের উপর রাখলেন।
(বুখারী ১০২ পৃষ্ঠ। সহীহ ইবনু খুযায়মাহ ২০ পৃষ্ঠা। মুসলিম ১৭৩ পৃষ্ঠা। আবূ দাঊদ ১ম খণ্ড ১১০, ১২১, ১২৮ পৃষ্ঠা। তিরমিযী ৫৯ পৃষ্ঠা। নাসাঈ ১৪১ পৃষ্ঠা। ইবনু মাজাহ ৫৮, ৫৯ পৃষ্ঠা, মেশকাত ৭৫ পৃষ্ঠা। মুয়াত্তা মালিক ১৭৪ পৃষ্ঠা। মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ১৬০ পৃষ্ঠা। যাদুল মায়াদ ১২৯ পৃষ্ঠা। হিদায়া দিরায়াহ ১০১ পৃষ্ঠা। কিমিয়ায়ে সাআদাত ১ম খণ্ড ১৮৯ পৃষ্ঠা। বুখারী আযীযুল হক ১ম খণ্ড হাদীস নং ৪৩৫। বুখারী আধুনিক প্রকাশনী ১ম খণ্ড হাদীস নং ৬৯৬। বুখারী ইসলামিক ফাউণ্ডেশন ২য় খণ্ড হাদীস নং ৭০২; মুসলিম ইসলামিক ফাউণ্ডেশন ২য় খণ্ড হাদীস নং ৮৫১। আবূদাঊদ ইসলামিক ফাউণ্ডেশন ১ম খণ্ড হাদীস নং ৭৫৯, তিরমিযী ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১ম খণ্ড হাদীস নং ২৫২, মেশকাত নূর মোহাম্মদ আযমী ২য় খণ্ড ও মাদ্রাসা পাঠ্য ২য় খণ্ড হাদীস নং ৭৪১, ৭৪২। বুলুগুল মারাম বাংলা ৮২ পৃষ্ঠা)
বুকের উপর হাত বাঁধা সম্বন্ধে একটি হাদীস বর্ণিত হল- সীনা বা বুকের উপর এরূপভাবে হাত বাঁধতে হবে যেন ডান হাত উপরে এবং বাম হাত নীচে থাকে। (মুসলিম, আহমাদ ও ইবনু খুযাইমাহ)
হাত বাঁধার দু’টি নিয়ম-
প্রথম নিয়ম- ডান হাতের কব্জি বাম হাতের কব্জির জোড়ের উপর থাকবে। (ইবনু খুযাইমাহ)
দ্বিতীয় নিয়ম- ডান হাতের আঙ্গুলগুলি বাম হাতের কনুই-এর উপর থাকবে, অর্থাৎ সমস্ত ডান হাত বাম হাতের উপর থাকবে। (বুখারী)
এটাই যিরা‘আহর উপর যিরা‘আহ রাখার পদ্ধতি।
বুকে হাত বাঁধা সম্পর্কে আলোচনা-
বুকে হাত বাঁধা সম্বন্ধে আল্লামা হায়াত সিন্ধী একখানা আরবী রিসালা লিখে তাতে তিনি প্রমাণিত করেছেন যে, সালাতে সীনার উপর হাত বাঁধতে হবে। তাঁর পুস্তিকার নাম “ফতহুল গফূর ফী তাহকীকে ওযয়িল ইয়াদায়নে আলাস সদূর”। পুস্তিকা খানা ৮ পৃষ্ঠায় সমাপ্ত। তা হতে কয়েকটি দলীল উদ্ধৃত করছি।
১। ইমাম আহমাদ স্বীয় মসনদে কবীসহা বিন হোল্ব তিনি স্বীয় পিতা (হোলব) হতে রিওয়ায়াত করেছেন যে, তিনি (হোলব) বলেন যে, আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (সালাত হতে ফারেগ হতে মুসল্লীদের দিকে) ডান ও বাম দিকে ফিরতে দেখেছি, আর দেখেছি তাঁকে স্বীয় সীনার উপর হাত বাঁধতে। উক্ত হাদীসে ‘ইয়াহইয়া’ নামক রাবী স্বীয় দক্ষিণ হস্ত বাম হস্তের কব্জির উপর রেখে দেখালেন। আল্লামা হায়াত সিন্ধী বলেন যে, আমি ‘তাহকীক’ কিতাবে يضع يداه على صدره তিনি স্বীয় সীনার উপর হাত রাখলেন, এ কথা দেখেছি। আর আমরা বলছি যে, হাফিয আবূ উমর ইবনু আবদুল বর স্বীয় “আল ইসতিআব ফী মাআরিফাতিল আসহাব” কিতাবে উক্ত হাদীস ‘হোলব’ সাহাবী হতে তাঁর পুত্র কবীসা রিওয়ায়াত করেছেন এ কথা উল্লেখ করে উক্ত হাদীস সহীহ বলেছেন। (২য় খণ্ড, ৬০০ পৃঃ)
২। ইমাম আবূ দাঊদ তাউস (তাবিঈ) হতে সীনার উপর হাত বাঁধার হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
৩। ইমাম ইবনু ‘আবদুল বর “আত্ তামহীদ লিমা ফীল মুয়াত্তা মিনাল মাআনী ওয়াল আসানীদ” কিতাবে উক্ত ‘তাউস’ তাবি‘ঈর হাদীস উল্লেখ করে সীনার উপর হাত বাঁধার কথা বলেছেন। এতদ্ব্যতীত ওয়ায়েল বিন হুজর হতেও সীনার উপর হাত বাঁধার হাদীস উল্লেখ করেছেন।
৪। ইমাম বাইহাকী ‘আলী “ফাসল্লি লি রব্বিকা ওয়ান্হার”, এর অর্থ এরূপ বর্ণনা করেছেন- তুমি নামায পড়ার সময় ডান হাত বাম হাতের উপর রাখ। (জওহারুন্ নকীসহ সুনানে কুবরা ২৪-৩২ পৃঃ)
৫। ইমাম বুখারী স্বীয় ‘তারীখে’ ‘উকবাহ বিন সহবান, তিনি (‘উকবাহ) ‘আলী (রাযি.) হতে রিওয়ায়াত করেছেন যে, ‘আলী (রাযি.) বাম হাতের উপর ডান হাত রেখে (হস্তদ্বয়) সীনার উপর বেঁধে “ফাসল্লি লি রব্বিকা ওয়ান্হার” (আয়াতের) অর্থ বুঝালেন। অর্থাৎ উক্ত আয়াতের অর্থ ‘তুমি সীনার উপর হাত বেঁধে সালাতে যাও’। এর বাস্তব রূপ তিনি [‘আলী (রাযি.)] সীনার উপর হাত বেঁধে দেখালেন। উক্ত আয়াতের অর্থ ‘আবদুল্লাহ বিন ‘আব্বাস (রাযি.) হতেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এখন নাভির নীচে হাত বাঁধার কোন হাদীস আছে কিনা তা-ই দেখা যাক।
নাভির নীচে হাত বাঁধা ঃ
ইমাম বাইহাকী ‘আলী হতে নাভির নীচে হাত বাঁধার একটি হাদীস উল্লেখ করে তাকে যঈফ বলেছেন।
নাভির নীচে হাত বাঁধার কোন সহীহ হাদীস নাই-
আল্লামা সিন্ধী হানাফী বিদ্বানগণের কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, যদি তুমি বল যে, ইবনু আবী শায়বার ‘মুসান্নাফ’ (হাদীসের কিতাবের নাম) হতে শায়খ কাসিম বিন কাতলুবাগা ‘তাখরীজু আহাদিসিল এখতিয়ার’ কিতাবে ‘ওকী’ মুসা বিন ওমায়রাহ হতে, মূসা আলকামা বিন ওয়ায়িল বিন হুজর হতে যে রিওয়ায়াত করেছেন তাতে ‘নাভির নীচে’ হাত বাঁধার কথা উল্লেখ আছে। তবে আমি (আল্লামা সিন্ধী) বলি যে, ‘নাভির নীচে’ হাত বাঁধার হাদীস ভুল। ‘মুসান্নাফ’ এর সহীহ গ্রন্থে উক্ত সনদের উল্লেখ আছে। কিন্তু ‘নাভির নীচে’ এই শব্দের উল্লেখ নাই। উক্ত হাদীসের পরে (ইবরাহীম) ‘নখয়ী’ এর আসার (সহাবা ও তাবিঈদের উক্তি ও আচরণকে ‘আসার’ বলে) উল্লেখ আছে। উক্ত ‘আসার’ ও হাদীসের শব্দ প্রায় নিকটবর্তী। উক্ত ‘আসার’-এর শেষ ভাগে ‘ফিস্সালাতে তাহ্তাস সুররাহ’ অর্থাৎ নামাযের মধ্যে নাভির নীচে (হাত বাঁধার উল্লেখ আছে)। মনে হয় লেখকের লক্ষ্য এক লাইন হতে অন্য লাইনে চলে যাওয়ায় ‘মওকুফ’ (হাদীসকে) ‘মরফু’ লিখে দিয়েছেন। (যে হাদীসের সম্বন্ধÑসহাবার সাথে হয় তাকে ‘মওকুফ’ আর যার সম্বন্ধ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হয় তাকে ‘মরফু’ হাদীস বলে)। আর আমি যা কিছু বললাম আমার কথা হতে এটাই প্রকাশ পায় যে, ‘মুসান্নাফ’ এর সব খণ্ড মিলিতভাবে নাভির নীচে হাত বাঁধা বিষয়ে এক নয় অর্থাৎ সবগুলোতে নাভির নীচে হাত বাঁধার কথাটি উল্লেখ নাই। তাছাড়া বহু আহলে হাদীস (মুহাদ্দিস) উক্ত হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। অথচ ‘নাভির নীচে’ এর কথা কেউই উল্লেখ করেননি। আর আমি তাঁদের মধ্যেকার কোন ব্যক্তি হতে শুনিওনি। কেবল ‘কাসেম বিন কাতলুবাগা ঐ কথার (নাভির নীচে) উল্লেখ করেছেন। তিনি ‘তাম্হীদ’ কিতাবের কথা উল্লেখ করে লিখেছেন যে, (আহলে হাদীসদের মধ্যে প্রথম) ইবনু আব্দিল বর উক্ত কিতাবে বলেছেন যে, সওরী ও আবূ হানীফা নাভির নীচের কথা বলেন। আর সেটা ‘আলী ও ইব্রাহীম নখঈ হতে বর্ণিত হয়ে থাকে বটে, কিন্তু ঐ দু’জন (‘আলী ও নখঈ) হতে সঠিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। যদি সেটা হাদীস হতো তাহলে ইবনু ‘আবদুল বর ‘মুসান্নাফ’ হতে ওটা অবশ্য উল্লেখ করতেন। কেননা হাত বাঁধা সম্বন্ধে ইবনু আবী শায়বা হতে তিনি বহু রিওয়ায়াত এনেছেন। ২য় ইবনু হজর আসকালানী, (আহলে হাদীস) ৩য় মুজ্দুদ্দীন ফিরোজাবাদী, (আহলে হাদীস) ৪র্থ আল্লামা সৈয়ূতী, (আহলে হাদীস) ৫ম আল্লামা যয়লয়ী, (মুহাককিক) ৬ষ্ঠ আল্লামা আয়নী (আহলে তাহ্কীক) ও ৭ম ইবনু আমীরিল হাজ্জ (আহলে হাদীস) প্রভৃতির উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন যে, যদি “নাভির নীচে”-এর কথা থাকত তাহলে সকলেই তা উল্লেখ করতেন। কেননা তাঁদের সকলের কিতাব ইবনু আবী শায়বার বর্ণিত হাদীস দ্বারা পূর্ণ। তিনি এ সম্পর্কিত হাদীসদ্বয়ের আলোচনা করে বুকে হাত বাঁধাকে ওয়াজিব বলেছেন।
সিন্ধী সাহেব উপসংহারে লিখেছেন “জেনে রাখ যে, ‘নাভির নীচে’-এ কথা প্রমাণের দিক দিয়ে না ‘কত্য়ী’ (অকাট্য), না ‘যন্নী’ (বলিষ্ঠ ধারণামূলক)। বরং প্রমাণের দিক দিয়ে ‘মওহূম’ (কল্পনা প্রসূত) আর যা মওহূম তদ্দ্বারা শরীয়তের হুকুম প্রমাণিত হয় না।....... কাজেই শুধু শুধু কল্পনা করে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে কোন বস্তুর সম্বন্ধ করা জায়েয নয়। অর্থাৎ শুধু কল্পনার উপর নির্ভর করে নাভির নীচে হাত রাখার নিয়মকে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সম্পর্কিত করা জায়েয নয়। যখন উপরিউক্ত আলোচনা হতে স্পষ্টভাবে প্রকাশ হয়ে গেল যে, নামাযের মধ্যে সীনার উপর হাত বাঁধা নয় যে, ওটা হতে মুখ ফিরিয়ে নেন। আর ঐ বস্তু হতে কিরূপ মুখ ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব যা রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে প্রমাণিত হয়েছে। কেননা রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আমি যা এনেছি (অর্থাৎ আল্লাহর ব্যবস্থা), যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের মধ্যে কেউ তার প্রবৃত্তিকে তার অনুগামী না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না। অতএব, প্রত্যেক মুসলিম (স্ত্রী-পুরুষের) উচিত তার উপর আমল করা, আর কখনো কখনো এই দু‘আ করা
প্রভু হে, যে বিষয়ে মতভেদ করা হয়েছে তাতে আমাদেরকে সত্য পথের সন্ধান দাও। কেননা তুমিই তো যাকে ইচ্ছা ‘সিরাতে মুস্তাকীমের’ পথ দেখিয়ে থাক”। (উক্ত কিতাব ২-৮ পৃঃ ও ইবকারুল মিনান ৯৭-১১৫ পৃঃ)
আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী তাঁর সিফাত গ্রন্থে হাত বাঁধা সম্পর্কে লিখতে গিয়ে শিরোনাম এসেছেন ঃ وضعهما على الصدر
বুকের উপর দু’ হাত রাখা। অতঃপর তিনি হাদীস উল্লেখ করে নিচে টীকা লিখেছেন। যা বন্ধনীর মধ্যে দেখানো হলো।
“নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাম হাতের পিঠ, কব্জি ও বাহুর উপর ডান হাত রাখতেন।” [(আবূ দাউদ, নাসাঈ, ১/৪/২ ছহীহ সনদে, আর ইবনু হিব্বানও ছহীহ আখ্যা দিয়েছেন। ৪৮৫]
“এ বিষয়ে স্বীয় ছাহাবাগণকেও আদেশ প্রদান করেছেন।”(মালিক, বুখারী ও আবূ আওয়ানাহ)
তিনি কখনো ডান হাত দ্বারা বাম হাত আঁকড়ে ধরতেন।” (নাসাঈ, দারাকুত্বনী, ছহীহ সনদ সহকারে। এ হাদীছ প্রমাণ করছে যে, হাত বাঁধা সুন্নাত। আর প্রথম হাদীছ প্রমাণ করছে যে, হাত রাখা সুন্নাত। অতএব উভয়টাই সুন্নাত। কিন্তু হাত বাঁধা ও হাত রাখার মধ্যে সমন¦য় বিধান করতে গিয়ে পরবর্তী হানাফী ‘আলিমগণ যে পদ্ধতি পছন্দ করেছেন তা হচ্ছে বিদআত; যার রূপ তারা এভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ডান হাতকে বাম হাতের উপর কনিষ্ঠ ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা আঁকড়ে ধরবে এবং অপর তিন অঙ্গুলি বিছিয়ে রাখবে (ইবনু আবিদীন কর্তৃক দুররে মুখতারের টীকা (১/৪৫৪)। অতএব হে পাঠক! পরবর্তীদের (মনগড়া) এ কথা যেন আপনাকে ধোঁকায় না ফেলে।
“তিনি হস্তদ্বয়কে বুকের উপর রাখতেন।” [আবু দাউদ, ইবনু খুযাইমাহ স্বীয় ছহীহ গ্রন্থে (১/৫৪/২) আহমাদ, আবুশ্ শাইখ স্বীয় “তারীখু আছবাহান” গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১২৫) ইমাম তিরমিযীর একটি সানাদকে হাসান বলেছেন। গভীরভাবে চিন্তা করলে এর বক্তব্য মুওয়াত্বা ইমাম মালিক এবং বুখারীতে পাওয়া যাবে। এ হাদীছের বিভিন্ন বর্ণনাসূত্র নিয়ে আমি أحكام الجنائز কিতাবের (১১৮) পৃষ্ঠায় বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
জ্ঞাতব্য: বুকের উপর হাত রাখাটাই ছহীহ হাদীছ দ্বারা সাব্যস্ত। এছাড়া অন্য কোথাও রাখার হাদীছ হয় দুর্বল আর না হয় ভিত্তিহীন। এই সুন্নাতের উপর ইমাম ইসহাক বিন রাহভিয়া ‘আমল করেছেন। মারওয়াযী المسائل গ্রন্থে ২২২ পৃষ্ঠাতে বলেন, ইসহাক আমাদেরকে নিয়ে বিত্রের ছলাত পড়তেন এবং তিনি কুনূতে হাত উঠাতেন আর রুকু‘র পূর্বে কুনূত পড়তেন। তিনি বক্ষদেশের উপরে বা নীচে হাত রাখতেন। কাযী ‘ইয়াযও الإعلام কিতাবের ১৫ পৃষ্ঠায় (রিবাত্ব তৃতীয় সংস্করণ) এ مستحبات الصلاة ছলাতের মুস্তাহাব কাজ বর্ণনার ক্ষেত্রে অনুরূপ কথা বলেছেন, ডান হাতকে বাম হাতের পৃষ্ঠের উপর বুকে রাখা। ‘আবদুল্লাহ ইবনু আহমাদের বক্তব্যও এর কাছাকাছি, তিনি তার المسائل এর ৬২ পৃষ্ঠায় বলেন ঃ আমার পিতাকে দেখেছি যখন তিনি ছলাত পড়তেন তখন তার এক হাতকে অপর হাতের উপর নাভির উপরস্থলে রাখতেন দেখুন إرواء الغليل (৩৫৩)।] (দেখুন নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী কৃত সিফাতু সালাতুন্নাবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
সালাতে নাভির নীচে হাত বাঁধার কথা সহীহ হাদীসে নাই। নাভির নীচে হাত বাঁধার কথা প্রমাণহীন। বরং হাত বুকের উপর বাঁধার কথা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
عن وائل بن حجر رضي الله عنه قال صليت مع النبي صلى الله عليه وسلم فوضع يده اليمنى على يده اليسرى على صدره رواه ابن خزيمة في صحيحة
ওয়ায়িল বিন হুজর (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সালাত আদায় করেছি। তিনি তার বুকে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখতেন।
বুখারীর হাদীসের আরবী ইবারতে ذراعه শব্দের অর্থ করেছেন হাতের কব্জি। কিন্তু এমন কোন অভিধান নেই যেখানে ذراع অর্থ কব্জি করা হয়েছে। আরবী অভিধানগুলোতে ذراع শব্দের অর্থ পূর্ণ একগজ বিশিষ্ট হাত। অনুবাদক শুধুমাত্র সহীহ হাদীসকে ধামাচাপা দিয়ে মাযহাবী মতকে অগ্রাধিকার দেয়ার উদ্দেশে ইচ্ছাকৃতভাবে অনুবাদে পূর্ণ হাতের পরিবর্তে কব্জি উল্লেখ করেছেন। তথাপিও সংশয় নিরসনের লক্ষে এ সম্পর্কে খানিকটা বিশদ আলোচনা উদ্ধৃত করা হলো-
ওয়াইল বিন হুজ্র (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করেছি। (আমি দেখেছি) নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে বুকের উপর রাখলেন।
(বুখারী ১০২ পৃষ্ঠ। সহীহ ইবনু খুযায়মাহ ২০ পৃষ্ঠা। মুসলিম ১৭৩ পৃষ্ঠা। আবূ দাঊদ ১ম খণ্ড ১১০, ১২১, ১২৮ পৃষ্ঠা। তিরমিযী ৫৯ পৃষ্ঠা। নাসাঈ ১৪১ পৃষ্ঠা। ইবনু মাজাহ ৫৮, ৫৯ পৃষ্ঠা, মেশকাত ৭৫ পৃষ্ঠা। মুয়াত্তা মালিক ১৭৪ পৃষ্ঠা। মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ১৬০ পৃষ্ঠা। যাদুল মায়াদ ১২৯ পৃষ্ঠা। হিদায়া দিরায়াহ ১০১ পৃষ্ঠা। কিমিয়ায়ে সাআদাত ১ম খণ্ড ১৮৯ পৃষ্ঠা। বুখারী আযীযুল হক ১ম খণ্ড হাদীস নং ৪৩৫। বুখারী আধুনিক প্রকাশনী ১ম খণ্ড হাদীস নং ৬৯৬। বুখারী ইসলামিক ফাউণ্ডেশন ২য় খণ্ড হাদীস নং ৭০২; মুসলিম ইসলামিক ফাউণ্ডেশন ২য় খণ্ড হাদীস নং ৮৫১। আবূদাঊদ ইসলামিক ফাউণ্ডেশন ১ম খণ্ড হাদীস নং ৭৫৯, তিরমিযী ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১ম খণ্ড হাদীস নং ২৫২, মেশকাত নূর মোহাম্মদ আযমী ২য় খণ্ড ও মাদ্রাসা পাঠ্য ২য় খণ্ড হাদীস নং ৭৪১, ৭৪২। বুলুগুল মারাম বাংলা ৮২ পৃষ্ঠা)
বুকের উপর হাত বাঁধা সম্বন্ধে একটি হাদীস বর্ণিত হল- সীনা বা বুকের উপর এরূপভাবে হাত বাঁধতে হবে যেন ডান হাত উপরে এবং বাম হাত নীচে থাকে। (মুসলিম, আহমাদ ও ইবনু খুযাইমাহ)
হাত বাঁধার দু’টি নিয়ম-
প্রথম নিয়ম- ডান হাতের কব্জি বাম হাতের কব্জির জোড়ের উপর থাকবে। (ইবনু খুযাইমাহ)
দ্বিতীয় নিয়ম- ডান হাতের আঙ্গুলগুলি বাম হাতের কনুই-এর উপর থাকবে, অর্থাৎ সমস্ত ডান হাত বাম হাতের উপর থাকবে। (বুখারী)
এটাই যিরা‘আহর উপর যিরা‘আহ রাখার পদ্ধতি।
বুকে হাত বাঁধা সম্পর্কে আলোচনা-
বুকে হাত বাঁধা সম্বন্ধে আল্লামা হায়াত সিন্ধী একখানা আরবী রিসালা লিখে তাতে তিনি প্রমাণিত করেছেন যে, সালাতে সীনার উপর হাত বাঁধতে হবে। তাঁর পুস্তিকার নাম “ফতহুল গফূর ফী তাহকীকে ওযয়িল ইয়াদায়নে আলাস সদূর”। পুস্তিকা খানা ৮ পৃষ্ঠায় সমাপ্ত। তা হতে কয়েকটি দলীল উদ্ধৃত করছি।
১। ইমাম আহমাদ স্বীয় মসনদে কবীসহা বিন হোল্ব তিনি স্বীয় পিতা (হোলব) হতে রিওয়ায়াত করেছেন যে, তিনি (হোলব) বলেন যে, আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (সালাত হতে ফারেগ হতে মুসল্লীদের দিকে) ডান ও বাম দিকে ফিরতে দেখেছি, আর দেখেছি তাঁকে স্বীয় সীনার উপর হাত বাঁধতে। উক্ত হাদীসে ‘ইয়াহইয়া’ নামক রাবী স্বীয় দক্ষিণ হস্ত বাম হস্তের কব্জির উপর রেখে দেখালেন। আল্লামা হায়াত সিন্ধী বলেন যে, আমি ‘তাহকীক’ কিতাবে يضع يداه على صدره তিনি স্বীয় সীনার উপর হাত রাখলেন, এ কথা দেখেছি। আর আমরা বলছি যে, হাফিয আবূ উমর ইবনু আবদুল বর স্বীয় “আল ইসতিআব ফী মাআরিফাতিল আসহাব” কিতাবে উক্ত হাদীস ‘হোলব’ সাহাবী হতে তাঁর পুত্র কবীসা রিওয়ায়াত করেছেন এ কথা উল্লেখ করে উক্ত হাদীস সহীহ বলেছেন। (২য় খণ্ড, ৬০০ পৃঃ)
২। ইমাম আবূ দাঊদ তাউস (তাবিঈ) হতে সীনার উপর হাত বাঁধার হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
৩। ইমাম ইবনু ‘আবদুল বর “আত্ তামহীদ লিমা ফীল মুয়াত্তা মিনাল মাআনী ওয়াল আসানীদ” কিতাবে উক্ত ‘তাউস’ তাবি‘ঈর হাদীস উল্লেখ করে সীনার উপর হাত বাঁধার কথা বলেছেন। এতদ্ব্যতীত ওয়ায়েল বিন হুজর হতেও সীনার উপর হাত বাঁধার হাদীস উল্লেখ করেছেন।
৪। ইমাম বাইহাকী ‘আলী “ফাসল্লি লি রব্বিকা ওয়ান্হার”, এর অর্থ এরূপ বর্ণনা করেছেন- তুমি নামায পড়ার সময় ডান হাত বাম হাতের উপর রাখ। (জওহারুন্ নকীসহ সুনানে কুবরা ২৪-৩২ পৃঃ)
৫। ইমাম বুখারী স্বীয় ‘তারীখে’ ‘উকবাহ বিন সহবান, তিনি (‘উকবাহ) ‘আলী (রাযি.) হতে রিওয়ায়াত করেছেন যে, ‘আলী (রাযি.) বাম হাতের উপর ডান হাত রেখে (হস্তদ্বয়) সীনার উপর বেঁধে “ফাসল্লি লি রব্বিকা ওয়ান্হার” (আয়াতের) অর্থ বুঝালেন। অর্থাৎ উক্ত আয়াতের অর্থ ‘তুমি সীনার উপর হাত বেঁধে সালাতে যাও’। এর বাস্তব রূপ তিনি [‘আলী (রাযি.)] সীনার উপর হাত বেঁধে দেখালেন। উক্ত আয়াতের অর্থ ‘আবদুল্লাহ বিন ‘আব্বাস (রাযি.) হতেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এখন নাভির নীচে হাত বাঁধার কোন হাদীস আছে কিনা তা-ই দেখা যাক।
নাভির নীচে হাত বাঁধা ঃ
ইমাম বাইহাকী ‘আলী হতে নাভির নীচে হাত বাঁধার একটি হাদীস উল্লেখ করে তাকে যঈফ বলেছেন।
নাভির নীচে হাত বাঁধার কোন সহীহ হাদীস নাই-
আল্লামা সিন্ধী হানাফী বিদ্বানগণের কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, যদি তুমি বল যে, ইবনু আবী শায়বার ‘মুসান্নাফ’ (হাদীসের কিতাবের নাম) হতে শায়খ কাসিম বিন কাতলুবাগা ‘তাখরীজু আহাদিসিল এখতিয়ার’ কিতাবে ‘ওকী’ মুসা বিন ওমায়রাহ হতে, মূসা আলকামা বিন ওয়ায়িল বিন হুজর হতে যে রিওয়ায়াত করেছেন তাতে ‘নাভির নীচে’ হাত বাঁধার কথা উল্লেখ আছে। তবে আমি (আল্লামা সিন্ধী) বলি যে, ‘নাভির নীচে’ হাত বাঁধার হাদীস ভুল। ‘মুসান্নাফ’ এর সহীহ গ্রন্থে উক্ত সনদের উল্লেখ আছে। কিন্তু ‘নাভির নীচে’ এই শব্দের উল্লেখ নাই। উক্ত হাদীসের পরে (ইবরাহীম) ‘নখয়ী’ এর আসার (সহাবা ও তাবিঈদের উক্তি ও আচরণকে ‘আসার’ বলে) উল্লেখ আছে। উক্ত ‘আসার’ ও হাদীসের শব্দ প্রায় নিকটবর্তী। উক্ত ‘আসার’-এর শেষ ভাগে ‘ফিস্সালাতে তাহ্তাস সুররাহ’ অর্থাৎ নামাযের মধ্যে নাভির নীচে (হাত বাঁধার উল্লেখ আছে)। মনে হয় লেখকের লক্ষ্য এক লাইন হতে অন্য লাইনে চলে যাওয়ায় ‘মওকুফ’ (হাদীসকে) ‘মরফু’ লিখে দিয়েছেন। (যে হাদীসের সম্বন্ধÑসহাবার সাথে হয় তাকে ‘মওকুফ’ আর যার সম্বন্ধ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হয় তাকে ‘মরফু’ হাদীস বলে)। আর আমি যা কিছু বললাম আমার কথা হতে এটাই প্রকাশ পায় যে, ‘মুসান্নাফ’ এর সব খণ্ড মিলিতভাবে নাভির নীচে হাত বাঁধা বিষয়ে এক নয় অর্থাৎ সবগুলোতে নাভির নীচে হাত বাঁধার কথাটি উল্লেখ নাই। তাছাড়া বহু আহলে হাদীস (মুহাদ্দিস) উক্ত হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। অথচ ‘নাভির নীচে’ এর কথা কেউই উল্লেখ করেননি। আর আমি তাঁদের মধ্যেকার কোন ব্যক্তি হতে শুনিওনি। কেবল ‘কাসেম বিন কাতলুবাগা ঐ কথার (নাভির নীচে) উল্লেখ করেছেন। তিনি ‘তাম্হীদ’ কিতাবের কথা উল্লেখ করে লিখেছেন যে, (আহলে হাদীসদের মধ্যে প্রথম) ইবনু আব্দিল বর উক্ত কিতাবে বলেছেন যে, সওরী ও আবূ হানীফা নাভির নীচের কথা বলেন। আর সেটা ‘আলী ও ইব্রাহীম নখঈ হতে বর্ণিত হয়ে থাকে বটে, কিন্তু ঐ দু’জন (‘আলী ও নখঈ) হতে সঠিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। যদি সেটা হাদীস হতো তাহলে ইবনু ‘আবদুল বর ‘মুসান্নাফ’ হতে ওটা অবশ্য উল্লেখ করতেন। কেননা হাত বাঁধা সম্বন্ধে ইবনু আবী শায়বা হতে তিনি বহু রিওয়ায়াত এনেছেন। ২য় ইবনু হজর আসকালানী, (আহলে হাদীস) ৩য় মুজ্দুদ্দীন ফিরোজাবাদী, (আহলে হাদীস) ৪র্থ আল্লামা সৈয়ূতী, (আহলে হাদীস) ৫ম আল্লামা যয়লয়ী, (মুহাককিক) ৬ষ্ঠ আল্লামা আয়নী (আহলে তাহ্কীক) ও ৭ম ইবনু আমীরিল হাজ্জ (আহলে হাদীস) প্রভৃতির উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন যে, যদি “নাভির নীচে”-এর কথা থাকত তাহলে সকলেই তা উল্লেখ করতেন। কেননা তাঁদের সকলের কিতাব ইবনু আবী শায়বার বর্ণিত হাদীস দ্বারা পূর্ণ। তিনি এ সম্পর্কিত হাদীসদ্বয়ের আলোচনা করে বুকে হাত বাঁধাকে ওয়াজিব বলেছেন।
সিন্ধী সাহেব উপসংহারে লিখেছেন “জেনে রাখ যে, ‘নাভির নীচে’-এ কথা প্রমাণের দিক দিয়ে না ‘কত্য়ী’ (অকাট্য), না ‘যন্নী’ (বলিষ্ঠ ধারণামূলক)। বরং প্রমাণের দিক দিয়ে ‘মওহূম’ (কল্পনা প্রসূত) আর যা মওহূম তদ্দ্বারা শরীয়তের হুকুম প্রমাণিত হয় না।....... কাজেই শুধু শুধু কল্পনা করে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে কোন বস্তুর সম্বন্ধ করা জায়েয নয়। অর্থাৎ শুধু কল্পনার উপর নির্ভর করে নাভির নীচে হাত রাখার নিয়মকে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সম্পর্কিত করা জায়েয নয়। যখন উপরিউক্ত আলোচনা হতে স্পষ্টভাবে প্রকাশ হয়ে গেল যে, নামাযের মধ্যে সীনার উপর হাত বাঁধা নয় যে, ওটা হতে মুখ ফিরিয়ে নেন। আর ঐ বস্তু হতে কিরূপ মুখ ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব যা রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে প্রমাণিত হয়েছে। কেননা রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আমি যা এনেছি (অর্থাৎ আল্লাহর ব্যবস্থা), যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের মধ্যে কেউ তার প্রবৃত্তিকে তার অনুগামী না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না। অতএব, প্রত্যেক মুসলিম (স্ত্রী-পুরুষের) উচিত তার উপর আমল করা, আর কখনো কখনো এই দু‘আ করা
প্রভু হে, যে বিষয়ে মতভেদ করা হয়েছে তাতে আমাদেরকে সত্য পথের সন্ধান দাও। কেননা তুমিই তো যাকে ইচ্ছা ‘সিরাতে মুস্তাকীমের’ পথ দেখিয়ে থাক”। (উক্ত কিতাব ২-৮ পৃঃ ও ইবকারুল মিনান ৯৭-১১৫ পৃঃ)
আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী তাঁর সিফাত গ্রন্থে হাত বাঁধা সম্পর্কে লিখতে গিয়ে শিরোনাম এসেছেন ঃ وضعهما على الصدر
বুকের উপর দু’ হাত রাখা। অতঃপর তিনি হাদীস উল্লেখ করে নিচে টীকা লিখেছেন। যা বন্ধনীর মধ্যে দেখানো হলো।
“নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাম হাতের পিঠ, কব্জি ও বাহুর উপর ডান হাত রাখতেন।” [(আবূ দাউদ, নাসাঈ, ১/৪/২ ছহীহ সনদে, আর ইবনু হিব্বানও ছহীহ আখ্যা দিয়েছেন। ৪৮৫]
“এ বিষয়ে স্বীয় ছাহাবাগণকেও আদেশ প্রদান করেছেন।”(মালিক, বুখারী ও আবূ আওয়ানাহ)
তিনি কখনো ডান হাত দ্বারা বাম হাত আঁকড়ে ধরতেন।” (নাসাঈ, দারাকুত্বনী, ছহীহ সনদ সহকারে। এ হাদীছ প্রমাণ করছে যে, হাত বাঁধা সুন্নাত। আর প্রথম হাদীছ প্রমাণ করছে যে, হাত রাখা সুন্নাত। অতএব উভয়টাই সুন্নাত। কিন্তু হাত বাঁধা ও হাত রাখার মধ্যে সমন¦য় বিধান করতে গিয়ে পরবর্তী হানাফী ‘আলিমগণ যে পদ্ধতি পছন্দ করেছেন তা হচ্ছে বিদআত; যার রূপ তারা এভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ডান হাতকে বাম হাতের উপর কনিষ্ঠ ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা আঁকড়ে ধরবে এবং অপর তিন অঙ্গুলি বিছিয়ে রাখবে (ইবনু আবিদীন কর্তৃক দুররে মুখতারের টীকা (১/৪৫৪)। অতএব হে পাঠক! পরবর্তীদের (মনগড়া) এ কথা যেন আপনাকে ধোঁকায় না ফেলে।
“তিনি হস্তদ্বয়কে বুকের উপর রাখতেন।” [আবু দাউদ, ইবনু খুযাইমাহ স্বীয় ছহীহ গ্রন্থে (১/৫৪/২) আহমাদ, আবুশ্ শাইখ স্বীয় “তারীখু আছবাহান” গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১২৫) ইমাম তিরমিযীর একটি সানাদকে হাসান বলেছেন। গভীরভাবে চিন্তা করলে এর বক্তব্য মুওয়াত্বা ইমাম মালিক এবং বুখারীতে পাওয়া যাবে। এ হাদীছের বিভিন্ন বর্ণনাসূত্র নিয়ে আমি أحكام الجنائز কিতাবের (১১৮) পৃষ্ঠায় বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
জ্ঞাতব্য: বুকের উপর হাত রাখাটাই ছহীহ হাদীছ দ্বারা সাব্যস্ত। এছাড়া অন্য কোথাও রাখার হাদীছ হয় দুর্বল আর না হয় ভিত্তিহীন। এই সুন্নাতের উপর ইমাম ইসহাক বিন রাহভিয়া ‘আমল করেছেন। মারওয়াযী المسائل গ্রন্থে ২২২ পৃষ্ঠাতে বলেন, ইসহাক আমাদেরকে নিয়ে বিত্রের ছলাত পড়তেন এবং তিনি কুনূতে হাত উঠাতেন আর রুকু‘র পূর্বে কুনূত পড়তেন। তিনি বক্ষদেশের উপরে বা নীচে হাত রাখতেন। কাযী ‘ইয়াযও الإعلام কিতাবের ১৫ পৃষ্ঠায় (রিবাত্ব তৃতীয় সংস্করণ) এ مستحبات الصلاة ছলাতের মুস্তাহাব কাজ বর্ণনার ক্ষেত্রে অনুরূপ কথা বলেছেন, ডান হাতকে বাম হাতের পৃষ্ঠের উপর বুকে রাখা। ‘আবদুল্লাহ ইবনু আহমাদের বক্তব্যও এর কাছাকাছি, তিনি তার المسائل এর ৬২ পৃষ্ঠায় বলেন ঃ আমার পিতাকে দেখেছি যখন তিনি ছলাত পড়তেন তখন তার এক হাতকে অপর হাতের উপর নাভির উপরস্থলে রাখতেন দেখুন إرواء الغليل (৩৫৩)।] (দেখুন নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী কৃত সিফাতু সালাতুন্নাবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
হাদিস নং: ৭৪১
সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني مالك عن ابي الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال هل ترون قبلتي ها هنا والله ما يخفى علي ركوعكم ولا خشوعكم واني لاراكم وراء ظهري.
৭৪১. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কি মনে কর যে, আমার কিব্লা শুধুমাত্র এদিকে? আল্লাহর শপথ, তোমাদের রুকূ’ তোমাদের খুশু‘ কোন কিছুই আমার নিকট গোপন থাকে না। আর নিঃসন্দেহে আমি তোমাদের দেখি আমার পিছন দিক হতেও। (৪১৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭০৫)
হাদিস নং: ৭৪২
সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار قال حدثنا غندر قال حدثنا شعبة قال سمعت قتادة عن انس بن مالك عن النبي صلى الله عليه وسلم قال اقيموا الركوع والسجود فوالله اني لاراكم من بعدي وربما قال من بعد ظهري اذا ركعتم وسجدتم.
৭৪২. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা রুকূ‘ ও সিজদা্গুলো যথাযথভাবে আদায় করবে। আল্লাহর শপথ! আমি আমার পিছনে হতে বা রাবী বলেন, আমার পিঠের পিছনে হতে তোমাদের দেখতে পাই, যখন তোমরা রুকূ‘ ও সিজদা্ কর। (৪১৯; মুসলিম ৪/২৪, হাঃ ৪২৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭০৬)
হাদিস নং: ৭৪৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا حفص بن عمر، قال حدثنا شعبة، عن قتادة، عن انس، ان النبي صلى الله عليه وسلم وابا بكر وعمر ـ رضى الله عنهما ـ كانوا يفتتحون الصلاة ب ـ (الحمد لله رب العالمين)
৭৪৩. আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , আবূ বকর (রাযি.) এবং ‘উমার (রাযি.) الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ দিয়ে সালাত শুরু করতেন। (মুসলিম ৪/১৩, হাঃ ৩৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭০৭)
হাদিস নং: ৭৪৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل، قال حدثنا عبد الواحد بن زياد، قال حدثنا عمارة بن القعقاع، قال حدثنا ابو زرعة، قال حدثنا ابو هريرة، قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يسكت بين التكبير وبين القراءة اسكاتة ـ قال احسبه قال هنية ـ فقلت بابي وامي يا رسول الله، اسكاتك بين التكبير والقراءة ما تقول قال " اقول اللهم باعد بيني وبين خطاياى كما باعدت بين المشرق والمغرب، اللهم نقني من الخطايا كما ينقى الثوب الابيض من الدنس، اللهم اغسل خطاياى بالماء والثلج والبرد ".
৭৪৪. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীরে তাহরীমা ও কিরাআতের মধ্যে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকতেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মাতাপিতা আপনার উপর কুরবান হোক, তাকবীর ও কিরাআত এর মধ্যে চুপ থাকার সময় আপনি কী পাঠ করে থাকেন? তিনি বললেনঃ এ সময় আমি বলি-
‘‘হে আল্লাহ! আমার এবং আমার গুনাহের মধ্যে এমন ব্যবধান করে দাও যেমন ব্যবধান করেছ পূর্ব এবং পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ আমাকে আমার গুনাহ হতে এমনভাবে পবিত্র কর যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার হয়। হে আল্লাহ আমার গোনাহকে বরফ, পানি ও শিশির দ্বারা ধৌত করে দাও।’’ (মুসলিম ৫/২৭, হাঃ ৫৯৮, আহমাদ ৭১৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭০৮)
‘‘হে আল্লাহ! আমার এবং আমার গুনাহের মধ্যে এমন ব্যবধান করে দাও যেমন ব্যবধান করেছ পূর্ব এবং পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ আমাকে আমার গুনাহ হতে এমনভাবে পবিত্র কর যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার হয়। হে আল্লাহ আমার গোনাহকে বরফ, পানি ও শিশির দ্বারা ধৌত করে দাও।’’ (মুসলিম ৫/২৭, হাঃ ৫৯৮, আহমাদ ৭১৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭০৮)
হাদিস নং: ৭৪৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن ابي مريم، قال اخبرنا نافع بن عمر، قال حدثني ابن ابي مليكة، عن اسماء بنت ابي بكر، ان النبي صلى الله عليه وسلم صلى صلاة الكسوف، فقام فاطال القيام، ثم ركع فاطال الركوع، ثم قام فاطال القيام، ثم ركع فاطال الركوع ثم رفع، ثم سجد فاطال السجود، ثم رفع، ثم سجد فاطال السجود، ثم قام فاطال القيام ثم ركع فاطال الركوع ثم رفع فاطال القيام ثم ركع فاطال الركوع ثم رفع فسجد فاطال السجود، ثم رفع، ثم سجد فاطال السجود ثم انصرف فقال " قد دنت مني الجنة حتى لو اجترات عليها لجىتكم بقطاف من قطافها، ودنت مني النار حتى قلت اى رب وانا معهم فاذا امراة ـ حسبت انه قال ـ تخدشها هرة قلت ما شان هذه قالوا حبستها حتى ماتت جوعا، لا اطعمتها، ولا ارسلتها تاكل ". قال نافع حسبت انه قال " من خشيش او خشاش الارض ".
৭৪৫. আসমা বিনত আবূ বকর (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার সালাতুল কুসূফ (সূর্য গ্রহণের সালাত) আদায় করলেন। তিনি সালাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর রুকূ‘তে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ থাকলেন। অতঃপর দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর আবা রুকূ‘তে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ রুকূ‘তে থাকলেন। অতঃপর উঠলেন, পরে সিজদা্য় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদা্য় রইলেন। আবার সিজদা্য় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদা্য় থাকলেন। অতঃপর আবার দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। আবার রুকূ‘তে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ রকূ‘তে থাকলেন। অতঃপর রুকূ‘ হতে উঠে আবার দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন এবং আবার রুকূ‘তে থাকলেন। অতঃপর রুকূ‘ হতে উঠে আবার দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন এবং আবার রুকূ‘তে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ থাকলেন। অতঃপর রুকূ‘ হতে উঠে সিজদা্য় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদা্য় থাকলেন। অতঃপর উঠে সিজদা্য় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদা্য় থাকলেন। অতঃপর সালাত শেষ করে ফিরে বললেনঃ জান্নাত আমার খুবই নিকটে এসে গিয়েছিল এমনকি আমি যদি চেষ্টা করতাম তাহলে জান্নাতের একগুচ্ছ আঙ্গুর তোমাদের এনে দিতে পারতাম। আর জাহান্নামও আমার একেবারে নিকটবর্তী হয়ে গিয়েছিল। এমনকি আমি বলে উঠলাম, ইয়া রব! আমিও কি তাদের সাথে? আমি একজন স্ত্রী লোককে দেখতে পেলাম। আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) বলেন, আমার মনে হয়, তিনি বলেছিলেন, একটি বিড়াল তাকে খামচাচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ স্ত্রী লোকটির এমন অবস্থা কেন? মালাকগণ জবাব দিলেন, সে একটি বিড়ালকে আটকিয়ে রেখেছিল, ফলে বিড়ালটি অনাহারে মারা যায়। উক্ত স্ত্রী লোকটি তাকে খেতেও দেয়নি এবং তাকে ছেড়েও দেয়নি, যাতে সে আহার করতে পারে। নাফি‘ (রহ.) বলেন, আমার মনে হয়, ইবনু আবূ মুলায়কাহ (রাযি.) বর্ণনা করেছিলেন, যাতে সে যমীনের পোকা মাকড় খেতে পারে। (২৩৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭০৯)
হাদিস নং: ৭৪৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى، قال حدثنا عبد الواحد، قال حدثنا الاعمش، عن عمارة بن عمير، عن ابي معمر، قال قلنا لخباب اكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرا في الظهر والعصر قال نعم. قلنا بم كنتم تعرفون ذاك قال باضطراب لحيته.
وَقَالَتْ عَائِشَةُ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاَةِ الْكُسُوفِ فَرَأَيْتُ جَهَنَّمَ يَحْطِمُ بَعْضُهَا بَعْضًا حِينَ رَأَيْتُمُونِي تَأَخَّرْتُ.
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে কুসূফ বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেন, তোমরা যখন আমাকে পিছিয়ে আসতে দেখেছিলে তখন আমি জাহান্নাম দেখেছিলাম; তার এক অংশ অপর অংশকে বিচূর্ণ করছে।
৭৪৬. আবূ মা‘মার (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খাব্বাব (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি যুহর ও ‘আসরের সালাতে কিরাআত পড়তেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা কী করে বুঝতে পারতেন? তিনি বললেন, তাঁর দাড়ির নড়াচড়া দেখে। (৭৬০, ৭৬১, ৭৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭১০ )
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে কুসূফ বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেন, তোমরা যখন আমাকে পিছিয়ে আসতে দেখেছিলে তখন আমি জাহান্নাম দেখেছিলাম; তার এক অংশ অপর অংশকে বিচূর্ণ করছে।
৭৪৬. আবূ মা‘মার (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খাব্বাব (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি যুহর ও ‘আসরের সালাতে কিরাআত পড়তেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা কী করে বুঝতে পারতেন? তিনি বললেন, তাঁর দাড়ির নড়াচড়া দেখে। (৭৬০, ৭৬১, ৭৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭১০ )
হাদিস নং: ৭৪৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا حجاج، حدثنا شعبة، قال انبانا ابو اسحاق، قال سمعت عبد الله بن يزيد، يخطب قال حدثنا البراء، وكان، غير كذوب انهم كانوا اذا صلوا مع النبي صلى الله عليه وسلم فرفع راسه من الركوع قاموا قياما حتى يرونه قد سجد.
৭৪৭. বারাআ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আর তিনি মিথ্যাবাদী ছিলেন না, তাঁরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সালাত আদায় করতেন, তখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দেখতেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা্য় গেছেন। (৬৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭১১)
হাদিস নং: ৭৪৮
সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني مالك عن زيد بن اسلم عن عطاء بن يسار عن عبد الله بن عباس رضي الله عنهما قال خسفت الشمس على عهد رسول الله فصلى قالوا يا رسول الله صلى الله عليه وسلم رايناك تناولت شيىا في مقامك ثم رايناك تكعكعت قال اني اريت الجنة فتناولت منها عنقودا ولو اخذته لاكلتم منه ما بقيت الدنيا.
৭৪৮. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে একবার সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। তখন তিনি এজন্য সালাত আদায় করেন। সাহাবা-ই-কিরাম (রাযি.) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সালাতে দাঁড়ানো অবস্থায় আপনাকে দেখলাম যেন কিছু একটা ধরতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু পরে দেখলাম, আবার পিছিয়ে এলেন। তিনি বললেন, আমাকে জান্নাত দেখানো হয় এবং তারই একটি আঙ্গুরের ছড়া নিতে যাচ্ছিলাম। আমি যদি তা নিয়ে আসতাম, তাহলে দুনিয়া স্থায়ী থাকা পর্যন্ত তোমরা তা হতে খেতে পারতে। (২৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭১২)
হাদিস নং: ৭৪৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن سنان، قال حدثنا فليح، قال حدثنا هلال بن علي، عن انس بن مالك، قال صلى لنا النبي صلى الله عليه وسلم ثم رقا المنبر، فاشار بيديه قبل قبلة المسجد ثم قال " لقد رايت الان منذ صليت لكم الصلاة الجنة والنار ممثلتين في قبلة هذا الجدار، فلم ار كاليوم في الخير والشر " ثلاثا.
৭৪৯. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং মসজিদের কিব্লার দিকে ইশারা করে বললেন, এইমাত্র আমি যখন তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলাম তখন এ দেওয়ালের সামনের দিকে আমি জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেলাম। আজকের মতো এত ভাল ও মন্দ আমি আর দেখিনি, একথা তিনি তিনবার বললেন। (৯৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭১৩)
হাদিস নং: ৭৫০
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله، قال اخبرنا يحيى بن سعيد، قال حدثنا ابن ابي عروبة، قال حدثنا قتادة، ان انس بن مالك، حدثهم قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " ما بال اقوام يرفعون ابصارهم الى السماء في صلاتهم ". فاشتد قوله في ذلك حتى قال " لينتهن عن ذلك او لتخطفن ابصارهم ".
৭৫০. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকদের কী হলো যে, তারা সালাতে আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকায়? এ ব্যাপারে তিনি কঠোর বক্তব্য রাখলেন; এমনকি তিনি বললেনঃ যেন তারা অবশ্যই এ হতে বিরত থাকে, অন্যথায় অবশ্যই তাদের দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেয়া হবে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭১৪)
হাদিস নং: ৭৫১
সহিহ (Sahih)
مسدد قال حدثنا ابو الاحوص قال حدثنا اشعث بن سليم عن ابيه عن مسروق عن عاىشة قالت سالت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الالتفات في الصلاة فقال هو اختلاس يختلسه الشيطان من صلاة العبد.
৭৫১. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাতে এদিক ওদিক তাকানো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ এটা এক ধরনের ছিনতাই, যার মাধ্যমে শয়তান বান্দার সালাত হতে অংশ বিশেষ ছিনিয়ে নেয়। (৩২৯১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ৭১৫)
হাদিস নং: ৭৫২
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، قال حدثنا سفيان، عن الزهري، عن عروة، عن عاىشة، ان النبي صلى الله عليه وسلم صلى في خميصة لها اعلام فقال " شغلتني اعلام هذه، اذهبوا بها الى ابي جهم واتوني بانبجانية ".
৭৫২. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি নকশা করা চাদর পরে সালাত আদায় করলেন। সালাতের পরে তিনি বললেনঃ এ চাদরের কারুকার্য আমার মনকে আকর্ষিত করেছিল। এটি আবূ জাহমের নিকট নিয়ে যাও এবং এর বদলে একটি ‘আম্বজানিয়্যাহ’ (নকশা ছাড়া মোটা কাপড়) নিয়ে এসো। (৩৭৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭১৬)
হাদিস নং: ৭৫৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد، قال حدثنا ليث، عن نافع، عن ابن عمر، انه قال راى النبي صلى الله عليه وسلم نخامة في قبلة المسجد، وهو يصلي بين يدى الناس، فحتها ثم قال حين انصرف " ان احدكم اذا كان في الصلاة فان الله قبل وجهه، فلا يتنخمن احد قبل وجهه في الصلاة ". رواه موسى بن عقبة وابن ابي رواد عن نافع.
وَقَالَ سَهْلٌ الْتَفَتَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَرَأَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
সাহল (রহ.) বলেছেন, আবূ বকর (রাযি.) তাকালেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখলেন।
৭৫৩. ইবনু ’উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের সামনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন, এমতাবস্থায় মসজিদে কিব্লার দিকে থুথু দেখতে পেয়ে তা পরিষ্কার করে ফেললেন। অতঃপর তিনি সালাত শেষ করে বললেনঃ তোমাদের কেউ যখন সালাতে থাকে, তখন আল্লাহ্ তার সামনে থাকেন। কাজেই সালাতে থাকা অবস্থায় কেউ সামনের দিকে থুথু ফেলবে না। মূসা ইবনু ’উক্বাহ ও ইবনু আবূ রাওয়াদও (রহ.) নাফি’ (রহ.) হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭১৭)
সাহল (রহ.) বলেছেন, আবূ বকর (রাযি.) তাকালেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখলেন।
৭৫৩. ইবনু ’উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের সামনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন, এমতাবস্থায় মসজিদে কিব্লার দিকে থুথু দেখতে পেয়ে তা পরিষ্কার করে ফেললেন। অতঃপর তিনি সালাত শেষ করে বললেনঃ তোমাদের কেউ যখন সালাতে থাকে, তখন আল্লাহ্ তার সামনে থাকেন। কাজেই সালাতে থাকা অবস্থায় কেউ সামনের দিকে থুথু ফেলবে না। মূসা ইবনু ’উক্বাহ ও ইবনু আবূ রাওয়াদও (রহ.) নাফি’ (রহ.) হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭১৭)
হাদিস নং: ৭৫৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن بكير، قال حدثنا ليث بن سعد، عن عقيل، عن ابن شهاب، قال اخبرني انس، قال بينما المسلمون في صلاة الفجر لم يفجاهم الا رسول الله صلى الله عليه وسلم كشف ستر حجرة عاىشة فنظر اليهم وهم صفوف، فتبسم يضحك، ونكص ابو بكر رضى الله عنه على عقبيه ليصل له الصف فظن انه يريد الخروج، وهم المسلمون ان يفتتنوا في صلاتهم، فاشار اليهم اتموا صلاتكم، فارخى الستر، وتوفي من اخر ذلك اليوم.
৭৫৪. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুসলিমগণ ফজরের সালাতে রত এ সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর হুজরার পর্দা উঠালে তাঁরা চমকে উঠলেন। তিনি তাঁদের দিকে তাকিয়ে দেখলেন, তাঁরা কাতারবদ্ধ হয়ে আছেন। তা দেখে তিনি মুচকি হাসলেন। আবূ বকর (রাযি.) তাঁর ইমামাতের স্থান ছেড়ে দিয়ে কাতারে শামিল হবার জন্য পিছিয়ে আসতে চাইলেন। তিনি মনে করেছিলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হতে চান। মুসলিমগণও সালাত ছেড়ে দিতে উদ্যত হয়েছিলেন। তিনি ইঙ্গিতে তাঁদের বললেন, তোমরা তোমাদের সালাত পুরো করো। অতঃপর তিনি পর্দা ফেলে দিলেন। এ দিনেরই শেষে তাঁর ওফাত হয়। (৬৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭১৮)
হাদিস নং: ৭৫৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى، قال حدثنا ابو عوانة، قال حدثنا عبد الملك بن عمير، عن جابر بن سمرة، قال شكا اهل الكوفة سعدا الى عمر ـ رضى الله عنه ـ فعزله واستعمل عليهم عمارا، فشكوا حتى ذكروا انه لا يحسن يصلي، فارسل اليه فقال يا ابا اسحاق ان هولاء يزعمون انك لا تحسن تصلي قال ابو اسحاق اما انا والله فاني كنت اصلي بهم صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم ما اخرم عنها، اصلي صلاة العشاء فاركد في الاوليين واخف في الاخريين. قال ذاك الظن بك يا ابا اسحاق. فارسل معه رجلا او رجالا الى الكوفة، فسال عنه اهل الكوفة، ولم يدع مسجدا الا سال عنه، ويثنون معروفا، حتى دخل مسجدا لبني عبس، فقام رجل منهم يقال له اسامة بن قتادة يكنى ابا سعدة قال اما اذ نشدتنا فان سعدا كان لا يسير بالسرية، ولا يقسم بالسوية، ولا يعدل في القضية. قال سعد اما والله لادعون بثلاث، اللهم ان كان عبدك هذا كاذبا، قام رياء وسمعة فاطل عمره، واطل فقره، وعرضه بالفتن، وكان بعد اذا سىل يقول شيخ كبير مفتون، اصابتني دعوة سعد. قال عبد الملك فانا رايته بعد قد سقط حاجباه على عينيه من الكبر، وانه ليتعرض للجواري في الطرق يغمزهن.
৭৫৫. জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কূফাবাসীরা সা‘দ (রাযি.)-এর বিরুদ্ধে ‘উমার (রাযি.)-এর নিকট অভিযোগ করলে তিনি তাঁকে দায়িত্ব হতে অব্যাহতি দেন এবং আম্মার (রাযি.)-কে তাদের শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। কূফার লোকেরা সা‘দ (রাযি.)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গিয়ে এ-ও বলে যে, তিনি ভালরূপে সালাত আদায় করতে পারেন না। ‘উমার (রাযি.) তাঁকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, হে আবূ ইসহাক! তারা আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে, আপনি নাকি ভালরূপে সালাত আদায় করতে পারেন না। সা‘দ (রাযি.) বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের অনুরূপই সালাত আদায় করে থাকি। তাতে কোন ত্রুটি করি না। আমি ‘ইশার সালাত আদায় করতে প্রথম দু’ রাক‘আত একটু দীর্ঘ ও শেষের দু’ রাক‘আত সংক্ষেপ করতাম। ‘উমার (রাযি.) বললেন, হে আবূ ইসহাক! আপনার সম্পর্কে আমার এ-ই ধারণা। অতঃপর ‘উমার (রাযি.) কূফার অধিবাসীদের এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক বা একাধিক ব্যক্তিকে সা‘দ (রাযি.)-এর সঙ্গে কূফায় পাঠান। সে ব্যক্তি প্রতিটি মসজিদে গিয়ে সা‘দ (রাযি.) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো এবং তাঁরা সকলেই তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করলেন। অবশেষে সে ব্যক্তি বনূ আব্স গোত্রের মসজিদে উপস্থিত হয়। এখানে উসামা ইবনু কাতাদাহ্ নামে এক ব্যক্তি যাকে আবূ সা‘দাহ্ বলে ডাকা হত- দাঁড়িয়ে বলল, যেহেতু তুমি আল্লাহর নামের শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করেছ, সা‘দ (রাযি.) কখনো সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে যান না, গানীমাতের মাল সমভাবে বণ্টন করেন না এবং বিচারে ইনসাফ করেন না। তখন সা‘দ (রাযি.) বললেন, মনে রেখো, আল্লাহর কসম! আমি তিনটি দু‘আ করছিঃ হে আল্লাহ্! যদি তোমার এ বান্দা মিথ্যাবাদী হয়, লোক দেখানো এবং আত্মপ্রচারের জন্য দাঁড়িয়ে থাকে তাহলে- ১. তার হায়াত বাড়িয়ে দিন, ২. তার অভাব বাড়িয়ে দিন এবং ৩. তাকে ফিতনার সম্মুখীন করুন। পরবর্তীকালে লোকটিকে (তার অবস্থা সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করা হলে সে বলতো, আমি বয়সে বৃদ্ধ, ফিতনায় লিপ্ত। সা‘দ (রাযি.)-এর দু‘আ আমার উপর লেগে আছে। বর্ণনাকারী আবদুল মালিক (রহ.) বলেন, পরে আমি সে লোকটিকে দেখেছি, অতি বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তার ভ্রু চোখের উপর ঝুলে গেছে এবং সে পথে মেয়েদের বিরক্ত করত এবং তাদের চিমটি দিত। (৭৫৮, ৭৭০; মুসলিম ৪/৩৪, হাঃ ৪০৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭১৯)