হাদিস নং: ৬৪৩
সহিহ (Sahih)
عياش بن الوليد قال حدثنا عبد الاعلى قال حدثنا حميد قال سالت ثابتا البناني عن الرجل يتكلم بعد ما تقام الصلاة فحدثني عن انس بن مالك قال اقيمت الصلاة فعرض للنبي صلى الله عليه وسلم رجل فحبسه بعد ما اقيمت الصلاة.
৬৪৩. হুমাইদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) হয়ে যাবার পর কোন ব্যক্তি কথা বললে তার সম্পর্কে আমি সাবিত বুনানীকে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত একটি হাদীস বর্ণনা করলেন। তিনি বলেন, সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হয় এমন সময় এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এলো এবং ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের পরও তাঁকে কথার মধ্যে ব্যস্ত রাখল। (৬৪২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬১৫)
হাদিস নং: ৬৪৪
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف قال اخبرنا مالك عن ابي الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال والذي نفسي بيده لقد هممت ان امر بحطب فيحطب ثم امر بالصلاة فيوذن لها ثم امر رجلا فيوم الناس ثم اخالف الى رجال فاحرق عليهم بيوتهم والذي نفسي بيده لو يعلم احدهم انه يجد عرقا سمينا او مرماتين حسنتين لشهد العشاء.
وَقَالَ الْحَسَنُ إِنْ مَنَعَتْهُ أُمُّهُ عَنِ الْعِشَاءِ فِي الْجَمَاعَةِ شَفَقَةً لَمْ يُطِعْهَا.
হাসান বাসরী (রহ.) বলেন, কোনো মা যদি তার সন্তানের প্রতি স্নেহবশত ‘ইশার সালাত জামা‘আতে আদায় করতে নিষেধ করেন, তবে এ ক্ষেত্রে সন্তান তার মায়ের আনুগত্য করবে না।
৬৪৪. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ! আমার ইচ্ছা হয়, জ্বালানী কাঠ সংগ্রহ করতে আদেশ দেই, অতঃপর সালাত কায়েমের আদেশ দেই, অতঃপর সালাতের আযান দেয়া হোক, অতঃপর এক ব্যক্তিকে লোকদের ইমামত করার নির্দেশ দেই। অতঃপর আমি লোকদের নিকট যাই এবং তাদের (যারা সালাতে শামিল হয়নি) ঘর জ্বালিয়ে দেই। যে মহান সত্তার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম! যদি তাদের কেউ জানত যে, একটি গোশ্তহীন মোটা হাড় বা ছাগলের ভালো দু’টি পা পাবে তাহলে অবশ্যই সে ‘ইশা সালাতের জামা‘আতেও হাযির হতো। (৬৫৭, ২৪২০, ৭২২৪; মুসলিম ৫/৪২, হাঃ ৬৫১, আহমাদ ৭৩৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬১৬)
হাসান বাসরী (রহ.) বলেন, কোনো মা যদি তার সন্তানের প্রতি স্নেহবশত ‘ইশার সালাত জামা‘আতে আদায় করতে নিষেধ করেন, তবে এ ক্ষেত্রে সন্তান তার মায়ের আনুগত্য করবে না।
৬৪৪. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ! আমার ইচ্ছা হয়, জ্বালানী কাঠ সংগ্রহ করতে আদেশ দেই, অতঃপর সালাত কায়েমের আদেশ দেই, অতঃপর সালাতের আযান দেয়া হোক, অতঃপর এক ব্যক্তিকে লোকদের ইমামত করার নির্দেশ দেই। অতঃপর আমি লোকদের নিকট যাই এবং তাদের (যারা সালাতে শামিল হয়নি) ঘর জ্বালিয়ে দেই। যে মহান সত্তার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম! যদি তাদের কেউ জানত যে, একটি গোশ্তহীন মোটা হাড় বা ছাগলের ভালো দু’টি পা পাবে তাহলে অবশ্যই সে ‘ইশা সালাতের জামা‘আতেও হাযির হতো। (৬৫৭, ২৪২০, ৭২২৪; মুসলিম ৫/৪২, হাঃ ৬৫১, আহমাদ ৭৩৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬১৬)
হাদিস নং: ৬৪৫
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف قال اخبرنا مالك عن نافع عن عبد الله بن عمر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال صلاة الجماعة تفضل صلاة الفذ بسبع وعشرين درجة.
وَكَانَ الْأَسْوَدُ إِذَا فَاتَتْهُ الْجَمَاعَةُ ذَهَبَ إِلَى مَسْجِدٍ آخَرَ وَجَاءَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ إِلَى مَسْجِدٍ قَدْ صُلِّيَ فِيهِ فَأَذَّنَ وَأَقَامَ وَصَلَّى جَمَاعَةً
জামা‘আত না পেলে আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ (রাযি.) অন্য মসজিদে চলে যেতেন। আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) এমন এক মসজিদে গেলেন যেখানে আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিয়ে জামা‘আতে সালাত আদায় করলেন।
৬৪৫. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জামা‘আতে সালাতের ফাযীলত একাকী আদায়কৃত সালাত অপেক্ষা সাতাশ গুণ বেশী। (৬৪৯; মুসলিম ৫/৪২, হাঃ ৬৫০, আহমাদ ৫৩৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬১৭)
জামা‘আত না পেলে আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ (রাযি.) অন্য মসজিদে চলে যেতেন। আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) এমন এক মসজিদে গেলেন যেখানে আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিয়ে জামা‘আতে সালাত আদায় করলেন।
৬৪৫. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জামা‘আতে সালাতের ফাযীলত একাকী আদায়কৃত সালাত অপেক্ষা সাতাশ গুণ বেশী। (৬৪৯; মুসলিম ৫/৪২, হাঃ ৬৫০, আহমাদ ৫৩৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬১৭)
হাদিস নং: ৬৪৬
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف اخبرنا الليث حدثني ابن الهاد عن عبد الله بن خباب عن ابي سعيد الخدري انه سمع النبي يقول صلاة الجماعة تفضل صلاة الفذ بخمس وعشرين درجة.
৬৪৬. আবূ সা‘ঈদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছেন, একাকী সালাত আদায়ের চেয়ে জামা‘আতে সালাত আদায়ের ফাযীলাত পঁচিশ গুণ বেশী। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ নাই )
হাদিস নং: ৬৪৭
সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل قال حدثنا عبد الواحد قال حدثنا الاعمش قال سمعت ابا صالح يقول سمعت ابا هريرة يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة الرجل في الجماعة تضعف على صلاته في بيته وفي سوقه خمسا وعشرين ضعفا وذلك انه اذا توضا فاحسن الوضوء ثم خرج الى المسجد لا يخرجه الا الصلاة لم يخط خطوة الا رفعت له بها درجة وحط عنه بها خطيىة فاذا صلى لم تزل الملاىكة تصلي عليه ما دام في مصلاه اللهم صل عليه اللهم ارحمه ولا يزال احدكم في صلاة ما انتظر الصلاة.
৬৪৭. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তির জামা‘আতের সাথে সালাতের সওয়াব, তার নিজের ঘরে ও বাজারে আদায়কৃত সালাতের সওয়াবের চেয়ে পঁচিশ গুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়। এর কারণ এই যে, সে যখন উত্তমরূপে উযূ করলো, অতঃপর একমাত্র সালাতের উদ্দেশে মসজিদে রওয়ানা করল তখন তার প্রতি কদমের বিনিময়ে একটি মর্তবা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি গুনাহ মাফ করা হয়। সালাত আদায়ের পর সে যতক্ষণ নিজ সালাতের স্থানে থাকে, মালাকগণ তার জন্য এ বলে দু‘আ করতে থাকেন - ‘‘হে আল্লাহ! আপনি তার উপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তার প্রতি অনুগ্রহ করুন।’’ আর তোমাদের কেউ যতক্ষণ সালাতের অপেক্ষায় থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে সালাতে রত বলে গণ্য হয়। (১৭৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬১৮)
হাদিস নং: ৬৪৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، قال اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال اخبرني سعيد بن المسيب، وابو سلمة بن عبد الرحمن ان ابا هريرة، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " تفضل صلاة الجميع صلاة احدكم وحده بخمس وعشرين جزءا، وتجتمع ملاىكة الليل وملاىكة النهار في صلاة الفجر ". ثم يقول ابو هريرة فاقرءوا ان شىتم (ان قران الفجر كان مشهودا)
৬৪৮. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছেন যে, জামা‘আতের সালাত তোমাদের কারো একাকী সালাত হতে পঁচিশ গুণ অধিক সওয়াব রাখে। আর ফজরের সালাতে রাতের ও দিনের মালাকগণ একত্রিত হয়। অতঃপর আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) বলতেন, তোমরা চাইলে (এর প্রমাণ স্বরূপ)’ (إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا) অর্থাৎ ‘‘ফজরের সালাতে (মালাকগণ) উপস্থিত হয়’’- (সূরাহ্ ইসরা ১৭/৭৮) এ আয়াত পাঠ কর। (১৭৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ,৬১২ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬১৯)
হাদিস নং: ৬৪৯
সহিহ (Sahih)
قال شعيب وحدثني نافع عن عبد الله بن عمر قال تفضلها بسبع وعشرين درجة.
৬৪৯. শু‘আয়ব (রহ.) বলেন, আমাকে নাফি‘ (রহ.) ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণনা করে শুনিয়েছেন যে, জামা‘আতের সালাতে একাকী সালাত হতে সাতাশ গুণ অধিক সওয়াব হয়। (৬৪৫; মুসলিম ৫/৪২, হাঃ ৬৫০, আহমাদ ৫৯২৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১২ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬১৯ শেষাংশ)
হাদিস নং: ৬৫০
সহিহ (Sahih)
عمر بن حفص قال حدثنا ابي قال حدثنا الاعمش قال سمعت سالما قال سمعت ام الدرداء تقول دخل علي ابو الدرداء وهو مغضب فقلت ما اغضبك فقال والله ما اعرف من امة محمد شيىا الا انهم يصلون جميعا.
৬৫০. উম্মুদ দারদা (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আবূ দারদা (রাযি.) ভীষণ রাগান্বিত অবস্থায় আমার নিকট এলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কিসে তোমাকে রাগান্বিত করেছে? তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উম্মাতের মধ্যে জামা‘আতে সালাত আদায় বাদ দিয়ে তাঁর তরীকার আর কিছুই দেখছি না। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬২০)
হাদিস নং: ৬৫১
সহিহ (Sahih)
محمد بن العلاء قال حدثنا ابو اسامة عن بريد بن عبد الله عن ابي بردة عن ابي موسى قال قال النبي صلى الله عليه وسلم اعظم الناس اجرا في الصلاة ابعدهم فابعدهم ممشى والذي ينتظر الصلاة حتى يصليها مع الامام اعظم اجرا من الذي يصلي ثم ينام.
৬৫১. আবূ মূসা (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (মসজিদ হতে) যে যত অধিক দূরত্ব অতিক্রম করে সালাতে আসে, তার তত অধিক পুণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে সালাত আদায় করা পর্যন্ত অপেক্ষা করে, তার পুণ্য সে ব্যক্তির চেয়ে অধিক, যে একাকী সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়ে। (মুসলিম ৫/৫০, হাঃ ৬৬২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬২১)
হাদিস নং: ৬৫২
সহিহ (Sahih)
قتيبة عن مالك عن سمي مولى ابي بكر بن عبد الرحمن عن ابي صالح السمان عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال بينما رجل يمشي بطريق وجد غصن شوك على الطريق فاخره فشكر الله له فغفر له .
৬৫২. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে চলার সময় রাস্তায় একটি কাঁটাযুক্ত ডাল দেখতে পেয়ে তা সরিয়ে ফেলল। আল্লাহ তা’আলা তার এ কাজ সাদরে কবুল করে তার গুনাহ মাফ করে দিলেন। (২৪৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১৫ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬২২)
হাদিস নং: ৬৫৩
সহিহ (Sahih)
ثم قال الشهداء خمسة المطعون والمبطون والغريق وصاحب الهدم والشهيد في سبيل الله وقال لو يعلم الناس ما في النداء والصف الاول ثم لم يجدوا الا ان يستهموا لاستهموا عليه.
৬৫৩. অতঃপর আল্লাহর রাসূল বললেনঃ শহীদ পাঁচ প্রকার- ১. প্লেগে মৃত ব্যক্তি ২. কলেরায় মৃত ব্যক্তি ৩. পানিতে নিমজ্জিত ব্যক্তি ৪. চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি এবং ৫. আল্লাহর পথে (জিহাদে) শহীদ। তিনি আরও বলেছেনঃ মানুষ যদি আযান দেয়া এবং প্রথম কাতারে সালাত আদায় করার কী ফাযীলাত তা জানত আর কুরআহর মাধ্যমে ফায়সালা করা ছাড়া সে সুযোগ না পেতো, তাহলে কুরআহর মাধ্যমে হলেও তারা সে সুযোগ গ্রহণ করতো। (৭২০, ২৮২৯, ৫৭৩৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬২২ দ্বিতীয় অংশ)
হাদিস নং: ৬৫৪
সহিহ (Sahih)
ولو يعلمون ما في التهجير لاستبقوا اليه ولو يعلمون ما في العتمة والصبح لاتوهما ولو حبوا.
৬৫৪. আর আউয়াল ওয়াক্ত (যুহরের সালাতে যাওয়ার) কী ফাযীলত তা যদি মানুষ জানত, তাহলে এর জন্য তারা অবশ্যই সর্বাগ্রে যেত। আর ‘ইশা ও ফজর সালাত (জামা‘আতে) আদায়ে কী ফাযীলাত, তা যদি তারা জানত তা হলে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এজন্য অবশ্যই উপস্থিত হতো। (৬১৫; মুসলিম ৩৩/৫১, হাঃ ১৯১৪, আহমাদ ১০২৯৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১৫ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬২২ শেষাংশ)
হাদিস নং: ৬৫৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن عبد الله بن حوشب، قال حدثنا عبد الوهاب، قال حدثنا حميد، عن انس، قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " يا بني سلمة الا تحتسبون اثاركم ". وقال مجاهد في قوله (ونكتب ما قدموا واثارهم) قال خطاهم.
৬৫৫. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে বানী সালিমাহ! তোমরা কি (মসজিদে আসার পথে) তোমাদের পদক্ষেপের নেকী কামনা কর না? وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآثَارَهُمْ ‘‘তাদের কর্ম ও কীর্তিসমূহ লিখে রাখি’’ (সূরাহ্ ইয়া সীন ৩৬/১২) তাঁর এ বাণী সম্পর্কে মুজাহিদ বলেন। خُطَاهُمْ অর্থাৎ তোমাদের পদক্ষেপসমূহ। (৬৫৬, ১৮৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ নাই)
হাদিস নং: ৬৫৬
সহিহ (Sahih)
وقال ابن ابي مريم اخبرنا يحيى بن ايوب حدثني حميد حدثني انس ان بني سلمة ارادوا ان يتحولوا عن منازلهم فينزلوا قريبا من النبي صلى الله عليه وسلم قال فكره رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يعروا المدينة فقال الا تحتسبون اثاركم قال مجاهد خطاهم اثارهم ان يمشى في الارض بارجلهم.
৬৫৬. ইবনু মারইয়াম (রহ.) বলেন, আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। বানী সালিমা গোত্রের লোকেরা নিজেদের ঘর-বাড়ি ছেড়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বসতি স্থাপন করতে চেয়েছিল। আনাস (রাযি.) বলেন, কিন্তু মাদ্বীনার কোনো এলাকা একেবারে শূন্য হওয়াটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পছন্দ করেননি। তাই তিনি বলেনঃ তোমরা কি (মসজিদে আসা যাওয়ায়) তোমাদের পদচিহ্নগুলোর সওয়াব কামনা কর না? মুজাহিদ (রহ) বলেন, خُطَاهُمْ آثَارُهُمْ অর্থাৎ যমীনে চলার পদচিহ্নসমূহ। (৬৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১৬ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬২৩)
হাদিস নং: ৬৫৭
সহিহ (Sahih)
عمر بن حفص قال حدثنا ابي قال حدثنا الاعمش قال حدثني ابو صالح عن ابي هريرة قال قال النبي ليس صلاة اثقل على المنافقين من الفجر والعشاء ولو يعلمون ما فيهما لاتوهما ولو حبوا لقد هممت ان امر الموذن فيقيم ثم امر رجلا يوم الناس ثم اخذ شعلا من نار فاحرق على من لا يخرج الى الصلاة بعد.
৬৫৭. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুনাফিকদের জন্য ফজর ও ‘ইশার সালাত অপেক্ষা অধিক ভারী সালাত আর নেই। এ দু’ সালাতের কী ফাযীলাত, তা যদি তারা জানতো, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা উপস্থিত হতো। (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন) আমি ইচ্ছে করেছিলাম যে, মুয়ায্যিনকে ইকামাত দিতে বলি এবং কাউকে লোকদের ইমামত করতে বলি, আর আমি নিজে একটি আগুনের মশাল নিয়ে গিয়ে অতঃপর যারা সালাতে আসেনি, তাদের উপর আগুন ধরিয়ে দেই। (৬৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬২৪)
হাদিস নং: ৬৫৮
সহিহ (Sahih)
مسدد قال حدثنا يزيد بن زريع قال حدثنا خالد الحذاء عن ابي قلابة عن مالك بن الحويرث عن النبي صلى الله عليه وسلم قال اذا حضرت الصلاة فاذنا واقيما ثم ليومكما اكبركما
৬৫৮. মালিক ইব্নু হুওয়াইরিস (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে র্বর্ণিত, তিনি বলেন: সালাতের সময় হলে তোমাদের দু’জনের একজন আযান দিবে এবং ইক্বামাত(ইকামত/একামত) বলবে। অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে বয়সে অধিক বড় সে ইমামাত করবে। (৬২৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬২৫)
হাদিস নং: ৬৫৯
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن مسلمة عن مالك عن ابي الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال الملاىكة تصلي على احدكم ما دام في مصلاه ما لم يحدث اللهم اغفر له اللهم ارحمه لا يزال احدكم في صلاة ما دامت الصلاة تحبسه لا يمنعه ان ينقلب الى اهله الا الصلاة.
৬৫৯. আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যতক্ষণ তার সালাতের স্থানে থাকে তার উযূ ভঙ্গ না হওয়া পর্যন্ত তার জন্য মালাকগণ এ বলে দু‘আ করেন যে, হে আল্লাহ্! আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন, হে আল্লাহ্! আপনি তার উপর রহম করুন। আর তোমাদের মাঝে যে ব্যক্তির সালাতই তাকে বাড়ি ফিরে যাওয়া হতে বিরত রাখে, সে সালাতে রত আছে বলে পরিগণিত হবে। (১৭৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬২৬)
হাদিস নং: ৬৬০
সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار بندار قال حدثنا يحيى عن عبيد الله قال حدثني خبيب بن عبد الرحمن عن حفص بن عاصم عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال سبعة يظلهم الله في ظله يوم لا ظل الا ظله الامام العادل وشاب نشا في عبادة ربه ورجل قلبه معلق في المساجد ورجلان تحابا في الله اجتمعا عليه وتفرقا عليه ورجل طلبته امراة ذات منصب وجمال فقال اني اخاف الله ورجل تصدق اخفى حتى لا تعلم شماله ما تنفق يمينه ورجل ذكر الله خاليا ففاضت عيناه.
৬৬০. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে দিন আল্লাহর (রহমতের) ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নিজের (আরশের) ছায়ায় আশ্রয় দিবেন।
১. ন্যায়পরায়ণ শাসক,
২. সে যুবক যার জীবন গড়ে উঠেছে তার প্রতিপালকের ইবাদতের মধ্যে,
৩. সে ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে,
৪. সে দু’ ব্যক্তি যারা পরস্পরকে ভালবাসে আল্লাহর ওয়াস্তে, একত্র হয় আল্লাহর জন্য এবং পৃথকও হয় আল্লাহর জন্য,
৫. সে ব্যক্তি যাকে কোনো উচ্চ বংশীয় রূপসী নারী আহবান জানায়, কিন্তু সে এ বলে প্রত্যাখ্যান করে যে, ‘আমি আল্লাহকে ভয় করি’,
৬. সে ব্যক্তি যে এমন গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত যা খরচ করে বাম হাত তা জানে না,
৭. সে ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহর যিকর করে, ফলে তার দু’ চোখ দিয়ে অশ্রুধারা বইতে থাকে।
(১৪২৩, ৬৪৭৯; মুসলিম ১২/৩০, হাঃ ১০৩১,আহমদ ৯৬৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬২৭)
১. ন্যায়পরায়ণ শাসক,
২. সে যুবক যার জীবন গড়ে উঠেছে তার প্রতিপালকের ইবাদতের মধ্যে,
৩. সে ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে,
৪. সে দু’ ব্যক্তি যারা পরস্পরকে ভালবাসে আল্লাহর ওয়াস্তে, একত্র হয় আল্লাহর জন্য এবং পৃথকও হয় আল্লাহর জন্য,
৫. সে ব্যক্তি যাকে কোনো উচ্চ বংশীয় রূপসী নারী আহবান জানায়, কিন্তু সে এ বলে প্রত্যাখ্যান করে যে, ‘আমি আল্লাহকে ভয় করি’,
৬. সে ব্যক্তি যে এমন গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত যা খরচ করে বাম হাত তা জানে না,
৭. সে ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহর যিকর করে, ফলে তার দু’ চোখ দিয়ে অশ্রুধারা বইতে থাকে।
(১৪২৩, ৬৪৭৯; মুসলিম ১২/৩০, হাঃ ১০৩১,আহমদ ৯৬৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬২৭)
হাদিস নং: ৬৬১
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، قال حدثنا اسماعيل بن جعفر، عن حميد، قال سىل انس هل اتخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم خاتما فقال نعم، اخر ليلة صلاة العشاء الى شطر الليل، ثم اقبل علينا بوجهه بعد ما صلى فقال " صلى الناس ورقدوا ولم تزالوا في صلاة منذ انتظرتموها ". قال فكاني انظر الى وبيص خاتمه.
৬৬১. হুমাইদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আংটি ব্যবহার করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এক রাতে তিনি ‘ইশার সালাত অর্ধরাত পর্যন্ত বিলম্বে আদায় করলেন। সালাত শেষ করে আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, লোকেরা সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে গেছে। কিন্তু তোমরা যতক্ষণ সালাতের জন্য অপেক্ষা করেছ, ততক্ষণ সালাতে রত ছিলে বলে গণ্য করা হয়েছে। আনাস (রাযি.) বলেন, এ সময় আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আংটির উজ্জ্বলতা লক্ষ্য করছিলাম। (৫৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬২৮)
হাদিস নং: ৬৬২
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله قال حدثنا يزيد بن هارون قال اخبرنا محمد بن مطرف عن زيد بن اسلم عن عطاء بن يسار عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من غدا الى المسجد وراح اعد الله له نزله من الجنة كلما غدا او راح.
৬৬২. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে বা সন্ধ্যায় যতবার মসজিদে যায়, আল্লাহ্ তা‘আলা তার জন্য জান্নাতে ততবার মেহমানদারীর ব্যবস্থা করে রাখেন। (মুসলিম ৫/৫১, হাঃ ৬৬৯, আহমাদ ১০৬১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬২৯)