হাদিস নং: ১২৯৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار حدثنا عبد الرحمن حدثنا سفيان عن الاعمش عن عبد الله بن مرة عن مسروق عن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ليس منا من ضرب الخدود وشق الجيوب ودعا بدعوى الجاهلية
১২৯৭. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যারা শোকে গন্ডে চপেটাঘাত করে, জামার বক্ষ ছিন্ন করে ও জাহিলী যুগের মত চিৎকার দেয়, তারা আমাদের দলভুক্ত নয়। (১২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২১৯)
হাদিস নং: ১২৯৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا عمر بن حفص حدثنا ابي حدثنا الاعمش عن عبد الله بن مرة عن مسروق عن عبد الله قال قال النبي صلى الله عليه وسلم ليس منا من ضرب الخدود وشق الجيوب ودعا بدعوى الجاهلية
১২৯৮. ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ যারা শোকে গন্ডে চপেটাঘাত করে, জামার বক্ষ ছিন্ন করে ও জাহিলী যুগের মত চিৎকার দেয়, তারা আমাদের দলভুক্ত নয়। (১২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২২০)
হাদিস নং: ১২৯৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن المثنى حدثنا عبد الوهاب قال سمعت يحيى قال اخبرتني عمرة قالت سمعت عاىشة قالت لما جاء النبي صلى الله عليه وسلم قتل ابن حارثة وجعفر وابن رواحة جلس يعرف فيه الحزن وانا انظر من صاىر الباب شق الباب فاتاه رجل فقال ان نساء جعفر وذكر بكاءهن فامره ان ينهاهن فذهب ثم اتاه الثانية لم يطعنه فقال انههن فاتاه الثالثة قال والله لقد غلبننا يا رسول الله صلى الله عليه وسلم فزعمت انه قال فاحث في افواههن التراب فقلت ارغم الله انفك لم تفعل ما امرك رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم تترك رسول الله صلى الله عليه وسلم من العناء
১২৯৯. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন (মুতা-র যুদ্ধ ক্ষেত্র হতে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খিদমতে (যায়দ) ইবনু হারিসা, জা‘ফর ও ইবনু রাওয়াহা (রাঃ)-এর শাহাদাতের খবর পৌঁছল, তখন তিনি (এমনভাবে) বসে পড়লেন যে, তাঁর মধ্যে দুঃখের চিহ্ন ফুটে উঠেছিল। আমি (‘আয়িশাহ (রাযি.)] দরজার ফাঁক দিয়ে তা প্রত্যক্ষ করছিলাম। এক ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে জা‘ফর (রাঃ)-এর পরিবারের মহিলাদের কান্নাকাটির কথা উল্লেখ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলেন, তিনি যেন তাঁদেরকে (কান্নাকাটি করতে) নিষেধ করেন, লোকটি চলে গেলো এবং দ্বিতীয়বার এসে (বলল) তারা তাঁর কথা মানেনি। তিনি ইরশাদ করলেনঃ তাঁদেরকে নিষেধ করো। ঐ ব্যক্তি তৃতীয়বার এসে বললেন, আল্লাহ্র কসম! হে আল্লাহ্র রাসূল! তাঁরা আমাদের হার মানিয়েছে। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমার মনে হয়, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিরক্তির সাথে বললেনঃ তাহলে তাদের মুখে মাটি নিক্ষেপ কর। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ্ তোমার নাকে ধূলি মিলিয়ে দেন। তুমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নির্দেশ পালন করতে পারনি। অথচ তুমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বিরক্ত করতেও দ্বিধা করোনি। (১৩০৫, ৪২৬৩, মুসলিম ১১/১০৬/১৭, হাঃ ৯৩৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২২১)
হাদিস নং: ১৩০০
সহিহ (Sahih)
حدثنا عمرو بن علي حدثنا محمد بن فضيل حدثنا عاصم الاحول عن انس قال قنت رسول الله صلى الله عليه وسلم شهرا حين قتل القراء فما رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم حزن حزنا قط اشد منه
১৩০০. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (বীর-ই মাউনার ঘটনায়) ক্বারী (সাহাবীগণের) শাহাদাতের পর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ফজরের সালাতে) একমাস যাবৎ কুনুত-ই নাযিলা পাঠ করেছিলেন। (বর্ণনাকারী বলেন) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আমি আর কখনো এর চেয়ে অধিক শোকাভিভূত হতে দেখিনি। (১০০১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২২২)
হাদিস নং: ১৩০১
সহিহ (Sahih)
حدثنا بشر بن الحكم حدثنا سفيان بن عيينة اخبرنا اسحاق بن عبد الله بن ابي طلحة انه سمع انس بن مالك يقول اشتكى ابن لا÷بي طلحة قال فمات وابو طلحة خارج فلما رات امراته انه قد مات هيات شيىا ونحته في جانب البيت فلما جاء ابو طلحة قال كيف الغلام قالت قد هدات نفسه وارجو ان يكون قد استراح وظن ابو طلحة انها صادقة قال فبات فلما اصبح اغتسل فلما اراد ان يخرج اعلمته انه قد مات فصلى مع النبي ثم اخبر النبي بما كان منهما فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لعل الله ان يبارك لكما في ليلتكما قال سفيان فقال رجل من الانصار فرايت لهما تسعة اولاد كلهم قد قرا القران
وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ كَعْبٍ الْقُرَظِيُّ الْجَزَعُ الْقَوْلُ السَّيِّئُ وَالظَّنُّ السَّيِّئُ وَقَالَ يَعْقُوبُ عَلَيْهِ السَّلاَم (إِنَّمَا أَشْكُو بَثِّي وَحُزْنِي إِلَى اللهِ)
মুহাম্মদ ইবনু কা‘ব (রহ.) বলেন, অস্থিরতা হচ্ছে মন্দ বাক্য উচ্চারণ করা, কুধারণা পোষণ করা। ই‘য়াকূব আলাইহিস্ সালাম বলেছেনঃ ‘‘আমি আমার অসহনীয় বেদনা ও আমার দুঃখ শুধু আল্লাহ্র নিকট নিবেদন করছি।’’ (সূরা ইউসুফ (১২) : ৮৬)
১৩০১. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ তালহাহ্ (রাঃ)-এর এক পুত্র অসুস্থ হয়ে পড়ল। বর্ণনাকারী বলেন, তার মৃত্যু হলো। তখন আবূ তালহাহ্ (রাঃ) বাড়ির বাইরে ছিলেন। তাঁর স্ত্রী যখন দেখলেন যে, ছেলেটি মারা গেছে, তখন তিনি কিছু প্রস্তুতি নিলেন এবং ছেলেটিকে ঘরের এক কোণে রেখে দিলেন। আবূ তালহাহ্ (রাঃ) বাড়িতে এসে জিজ্ঞেস করলেন, ছেলের অবস্থা কেমন? স্ত্রী জওয়াব দিলেন, তার আত্মা শান্ত হয়েছে এবং আশা করি সে এখন আরাম পাচ্ছে। আবূ তালহাহ্ (রাঃ) ভাবলেন, তাঁর স্ত্রী সত্য বলেছেন। রাবী বলেন, তিনি রাত যাপন করলেন এবং ভোরে গোসল করলেন। তিনি বাইরে যেতে উদ্যত হলে স্ত্রী তাঁকে জানালেন, ছেলেটি মারা গেছে। অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে (ফজরের) সালাত আদায় করলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তাঁদের রাতের ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেনঃ আশা করা যায়, আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাদের এ রাতে বারকাত দিবেন। সুফইয়ান (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, আমি আবূ তালহাহ্ (রাঃ) দম্পতির নয় জন সন্তান দেখেছি, তাঁরা সবাই কুরআন পাঠ করেছে। (৫৪৭০, মুসলিম ৩৮/৫, হাঃ ২১৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২২৩)
মুহাম্মদ ইবনু কা‘ব (রহ.) বলেন, অস্থিরতা হচ্ছে মন্দ বাক্য উচ্চারণ করা, কুধারণা পোষণ করা। ই‘য়াকূব আলাইহিস্ সালাম বলেছেনঃ ‘‘আমি আমার অসহনীয় বেদনা ও আমার দুঃখ শুধু আল্লাহ্র নিকট নিবেদন করছি।’’ (সূরা ইউসুফ (১২) : ৮৬)
১৩০১. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ তালহাহ্ (রাঃ)-এর এক পুত্র অসুস্থ হয়ে পড়ল। বর্ণনাকারী বলেন, তার মৃত্যু হলো। তখন আবূ তালহাহ্ (রাঃ) বাড়ির বাইরে ছিলেন। তাঁর স্ত্রী যখন দেখলেন যে, ছেলেটি মারা গেছে, তখন তিনি কিছু প্রস্তুতি নিলেন এবং ছেলেটিকে ঘরের এক কোণে রেখে দিলেন। আবূ তালহাহ্ (রাঃ) বাড়িতে এসে জিজ্ঞেস করলেন, ছেলের অবস্থা কেমন? স্ত্রী জওয়াব দিলেন, তার আত্মা শান্ত হয়েছে এবং আশা করি সে এখন আরাম পাচ্ছে। আবূ তালহাহ্ (রাঃ) ভাবলেন, তাঁর স্ত্রী সত্য বলেছেন। রাবী বলেন, তিনি রাত যাপন করলেন এবং ভোরে গোসল করলেন। তিনি বাইরে যেতে উদ্যত হলে স্ত্রী তাঁকে জানালেন, ছেলেটি মারা গেছে। অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে (ফজরের) সালাত আদায় করলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তাঁদের রাতের ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেনঃ আশা করা যায়, আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাদের এ রাতে বারকাত দিবেন। সুফইয়ান (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, আমি আবূ তালহাহ্ (রাঃ) দম্পতির নয় জন সন্তান দেখেছি, তাঁরা সবাই কুরআন পাঠ করেছে। (৫৪৭০, মুসলিম ৩৮/৫, হাঃ ২১৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২২৩)
হাদিস নং: ১৩০২
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة عن ثابت قال سمعت انسا عن النبي صلى الله عليه وسلم قال الصبر عند الصدمة الاولى
وَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ نِعْمَ الْعِدْلاَنِ، وَنِعْمَ الْعِلاَوَةُ (الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ). وَقَوْلُهُ تَعَالَى: (وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلاَةِ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلاَّ عَلَى الْخَاشِعِينَ).
’উমার (রাঃ) বলেন, কতই না উত্তম দুই ঈদ্ল এবং কতই না উত্তম ইলাওয়াহ্ [1] (আল্লাহ্র বাণী)ঃ [যার অর্থ] ’’যারা তাদের উপর যখন কোন বিপদ আপতিত হয় তখন বলেঃ আমরা তো আল্লাহরই জন্য এবং আমরা সবাই অবশ্যই তাঁরই কাছে ফিরে যাব। এরাই তারা যাদের প্রতি রয়েছে তাদের পালনকর্তার তরফ থেকে অশেষ অনুগ্রহ ও করুণা আর এরাই হল হিদায়াতপ্রাপ্ত।’’ (আল-বাক্বারাহ ১৫৬-১৫৭)। আর আল্লাহ্ তা’আলার বাণী : (যার অর্থ) ’’তোমরা সাহায্য প্রার্থনা কর ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে। অবশ্য তা অত্যন্ত কঠিন, তবে সেসব বিনীত লোকদের ব্যতিরেকে।’’ (আল-বাক্বারাহ ৪৫)
১৩০২. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিপদের প্রথম অবস্থায়ই প্রকৃত সবর। (১২৫২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২২৪)
’উমার (রাঃ) বলেন, কতই না উত্তম দুই ঈদ্ল এবং কতই না উত্তম ইলাওয়াহ্ [1] (আল্লাহ্র বাণী)ঃ [যার অর্থ] ’’যারা তাদের উপর যখন কোন বিপদ আপতিত হয় তখন বলেঃ আমরা তো আল্লাহরই জন্য এবং আমরা সবাই অবশ্যই তাঁরই কাছে ফিরে যাব। এরাই তারা যাদের প্রতি রয়েছে তাদের পালনকর্তার তরফ থেকে অশেষ অনুগ্রহ ও করুণা আর এরাই হল হিদায়াতপ্রাপ্ত।’’ (আল-বাক্বারাহ ১৫৬-১৫৭)। আর আল্লাহ্ তা’আলার বাণী : (যার অর্থ) ’’তোমরা সাহায্য প্রার্থনা কর ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে। অবশ্য তা অত্যন্ত কঠিন, তবে সেসব বিনীত লোকদের ব্যতিরেকে।’’ (আল-বাক্বারাহ ৪৫)
১৩০২. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিপদের প্রথম অবস্থায়ই প্রকৃত সবর। (১২৫২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২২৪)
নোট: [1] উটের পিঠের দুই পার্শ্বের বোঝাকে ঈদ্লান বলা হয় এবং তার উপরে মধ্যবর্তী স্থানে যে বোঝা রাখা হয় তাকে ইলাওয়াহ্ বলা হয়।
হাদিস নং: ১৩০৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا الحسن بن عبد العزيز حدثنا يحيى بن حسان حدثنا قريش هو ابن حيان عن ثابت عن انس بن مالك قال دخلنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم على ابي سيف القين وكان ظىرا لا÷براهيم عليه السلام فاخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم ابراهيم فقبله وشمه ثم دخلنا عليه بعد ذلك وابراهيم يجود بنفسه فجعلت عينا رسول الله صلى الله عليه وسلم تذرفان فقال له عبد الرحمن بن عوف وانت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا ابن عوف انها رحمة ثم اتبعها باخرى فقال ان العين تدمع والقلب يحزن ولا نقول الا ما يرضى ربنا وانا بفراقك يا ابراهيم لمحزونون
وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ تَدْمَعُ الْعَيْنُ وَيَحْزَنُ الْقَلْبُ
ইবনু ‘উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, (বিপদে) চোখ অশ্রুসজল হয়, অন্তর হয় ব্যথিত।
১৩০৩. ‘আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে আবূ সায়ফ্ কর্মকারের নিকট গেলাম। তিনি ছিলেন (নবী-তনয়) ইব্রাহীম (রাঃ)-এর দুধ সম্পর্কীয় পিতা। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইব্রাহীম (রাঃ)-কে তুলে নিয়ে চুমু খেলেন এবং নাকে-মুখে লাগালেন। অতঃপর (আরেক বার) আমরা তার (আবূ সায়ফ্-এর) বাড়িতে গেলাম। তখন ইব্রাহীম (রাঃ) মুমূর্ষু অবস্থায়। এতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উভয় চক্ষু হতে অশ্রু ঝরতে লাগল। তখন ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আর আপনিও? (ক্রন্দন করছেন?) তখন তিনি বললেনঃ অশ্রু প্রবাহিত হয় আর হৃদয় হয় ব্যথিত। তবে আমরা মুখে তা-ই বলি যা আমাদের রব পছন্দ করেন।[1] আর হে ইব্রাহীম! তোমার বিচ্ছেদে আমরা অবশ্যই শোকসন্তপ্ত। [2]
رَوَاهُ مُوسَى عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ المُغِيرَةِ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
মূসা (রহ.)....আনাস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীসটি বর্ণনা করেন। (মুসলিম ৪৩/১৫, হাঃ ২৩১৫, আহমাদ ১৩০১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২২৫)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, (বিপদে) চোখ অশ্রুসজল হয়, অন্তর হয় ব্যথিত।
১৩০৩. ‘আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে আবূ সায়ফ্ কর্মকারের নিকট গেলাম। তিনি ছিলেন (নবী-তনয়) ইব্রাহীম (রাঃ)-এর দুধ সম্পর্কীয় পিতা। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইব্রাহীম (রাঃ)-কে তুলে নিয়ে চুমু খেলেন এবং নাকে-মুখে লাগালেন। অতঃপর (আরেক বার) আমরা তার (আবূ সায়ফ্-এর) বাড়িতে গেলাম। তখন ইব্রাহীম (রাঃ) মুমূর্ষু অবস্থায়। এতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উভয় চক্ষু হতে অশ্রু ঝরতে লাগল। তখন ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আর আপনিও? (ক্রন্দন করছেন?) তখন তিনি বললেনঃ অশ্রু প্রবাহিত হয় আর হৃদয় হয় ব্যথিত। তবে আমরা মুখে তা-ই বলি যা আমাদের রব পছন্দ করেন।[1] আর হে ইব্রাহীম! তোমার বিচ্ছেদে আমরা অবশ্যই শোকসন্তপ্ত। [2]
رَوَاهُ مُوسَى عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ المُغِيرَةِ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
মূসা (রহ.)....আনাস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীসটি বর্ণনা করেন। (মুসলিম ৪৩/১৫, হাঃ ২৩১৫, আহমাদ ১৩০১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২২৫)
নোট: [1] হাদীসটি হতে বিপদে অশ্রু ঝড়ানো আর মহান আল্লাহর নাফরমানী প্রকাশক শব্দাবলী বাদ দিয়ে মুখে শোক প্রকাশ করার অনুমতি পাওয়া যায়, পক্ষান্তরে মহান আল্লাহর নাফরমানী হয় কিংবা তাক্বদীরের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশক শব্দাবলী পরিত্যাগ করার তাকীদ দেয়া হয়।
[2] এ ধরনের বাকরীতি বিভিন্ন ভাষায় বিদ্যমান আছে। সুতরাং আরবীতে তো থাকবেই। বিধায় মৃত ব্যক্তিকে সংশোধন করার দলীল হিসাবে নাবী (সাঃ) এর বাণীটি ব্যবহার করার কোনই অবকাশ নেই।
[2] এ ধরনের বাকরীতি বিভিন্ন ভাষায় বিদ্যমান আছে। সুতরাং আরবীতে তো থাকবেই। বিধায় মৃত ব্যক্তিকে সংশোধন করার দলীল হিসাবে নাবী (সাঃ) এর বাণীটি ব্যবহার করার কোনই অবকাশ নেই।
হাদিস নং: ১৩০৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا اصبغ عن ابن وهب قال اخبرني عمرو عن سعيد بن الحارث الانصاري عن عبد الله بن عمر قال اشتكى سعد بن عبادة شكوى له فاتاه النبي صلى الله عليه وسلم يعوده مع عبد الرحمن بن عوف وسعد بن ابي وقاص وعبد الله بن مسعود فلما دخل عليه فوجده في غاشية اهله فقال قد قضى قالوا لا يا رسول الله صلى الله عليه وسلم فبكى النبي صلى الله عليه وسلم فلما راى القوم بكاء النبي بكوا فقال الا تسمعون ان الله لا يعذب بدمع العين ولا بحزن القلب ولكن يعذب بهذا واشار الى لسانه او يرحم وان الميت يعذب ببكاء اهله عليه وكان عمر يضرب فيه بالعصا ويرمي بالحجارة ويحثي بالتراب
১৩০৪. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলে, সা‘দ ইবনু ‘উবাদাহ (রাঃ) রোগাক্রান্ত হলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুর রাহমান ইবনু ‘আওফ‘ সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস এবং ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)-কে সঙ্গে নিয়ে তাঁকে দেখতে আসলেন। তিনি তাঁর ঘরে প্রবেশ করে তাঁকে পরিজনের মাঝে দেখতে পেলেন। জিজ্ঞেস করলেন, তার কি মৃত্যু হয়েছে! তাঁরা বললেন, না। হে আল্লাহর রাসূল! তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেঁদে ফেললেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কান্না দেখে উপস্থিত লোকেরা কাঁদতে লাগলেন। তখন তিনি ইরশাদ করলেনঃ শুনে রাখ! নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ তা‘আলা চোখের পানি ও অন্তরের শোক-ব্যথার কারণে ‘আযাব দিবেন না। তিনি ‘আযাব দিবেন এর কারণে (এ বলে) জিহ্বার দিকে ইঙ্গিত করলেন। অথবা এর কারণেই তিনি রহম করে থাকেন। আর নিশ্চয় মৃত ব্যক্তিকে তার পরিজনের বিলাপের কারণে ‘আযাব দেয়া হয়। ‘উমার (রাঃ) এ (ধরনের কান্নার) কারণে লাঠি দ্বারা আঘাত করতেন, কঙ্কর নিক্ষেপ করতেন বা মুখে মাটি পুরে দিতেন। (মুসলিম ১১/৬, হাঃ ৯২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২২৬)
হাদিস নং: ১৩০৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن عبد الله بن حوشب حدثنا عبد الوهاب حدثنا يحيى بن سعيد قال اخبرتني عمرة قالت سمعت عاىشة تقول لما جاء قتل زيد بن حارثة وجعفر وعبد الله بن رواحة جلس النبي صلى الله عليه وسلم يعرف فيه الحزن وانا اطلع من شق الباب فاتاه رجل فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ان نساء جعفر وذكر بكاءهن فامره بان ينهاهن فذهب الرجل ثم اتى فقال قد نهيتهن وذكر انهن لم يطعنه فامره الثانية ان ينهاهن فذهب ثم اتى فقال والله لقد غلبنني او غلبننا الشك من محمد بن عبد الله بن حوشب فزعمت ان النبي صلى الله عليه وسلم قال فاحث في افواههن التراب فقلت ارغم الله انفك فوالله ما انت بفاعل وما تركت رسول الله صلى الله عليه وسلم من العناء
১৩০৫. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (মুতার যুদ্ধ ক্ষেত্র হতে) যায়দ ইবনু হারিসাহ, জা‘ফর এবং ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ)-এর শাহাদাতের খবর পৌঁছলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে পড়লেন; তাঁর মধ্যে শোকের আলামত প্রকাশ পেল। আমি [‘আয়িশাহ (রাযি.)] দরজার ফাঁক দিয়ে ঝুঁকে তা দেখছিলাম। তখন এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে সম্বোধন করেন, হে আল্লাহর রাসূল! জা‘ফর (রাঃ)-এর (পরিবারের) মহিলাগণ কান্নাকাটি করছে। তিনি তাদের নিষেধ করার জন্য তাকে আদেশ করলেন। সেই ব্যক্তি চলে গেলেন। পরে এসে বললেন, আমি তাদের নিষেধ করেছি। তিনি উল্লেখ করলেন যে, তারা তাকে মানেনি। তিনি তাদের নিষেধ করার জন্য দ্বিতীয়বার তাকে নির্দেশ দিলেন। তিনি চলে গেলেন এবং আবার এসে বললেন, আল্লাহ্র কসম! অবশ্যই তাঁরা আমাকে (বা বলেছেন আমাদেরকে) হার মানিয়েছে। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা হলে তাঁদের মুখে মাটি ছুঁড়ে মারো। [‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেন] আমি বললাম, আল্লাহ্ তোমার নাক ধূলি মিশ্রিত করুন। আল্লাহ্র কসম! তোমাকে যে কাজের নির্দেশ দেয়া হয়েছে তা করতে পারছ না আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বিরক্ত করতেও ছাড়ছ না। (১২৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২২৭)
হাদিস নং: ১৩০৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن عبد الوهاب حدثنا حماد بن زيد حدثنا ايوب عن محمد عن ام عطية قالت اخذ علينا النبي صلى الله عليه وسلم عند البيعة ان لا ننوح فما وفت منا امراة غير خمس نسوة ام سليم وام العلاء وابنة ابي سبرة امراة معاذ وامراتين او ابنة ابي سبرة وامراة معاذ وامراة اخرى
১৩০৬. উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাই‘আত গ্রহণকালে আমাদের কাছ হতে এ অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, আমরা (কোন মৃতের জন্য) বিলাপ করব না। ....আমাদের মধ্য হতে পাঁচজন মহিলা উম্মু সুলাইম, উম্মুল ‘আলা, আবূ সাব্রাহর কন্যা মু‘আযের স্ত্রী, আরো দু’জন মহিলা বা মু‘আযের স্ত্রী ও আরেকজন মহিলা ব্যতীত কোন নারীই সে ওয়াদা রক্ষা করেনি। (৪৮৯২, ৭২১৫, মুসলিম ১১/১০, হাঃ ৯৩৬, আহমাদ ২৭৩৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২২৮)
হাদিস নং: ১৩০৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله حدثنا سفيان حدثنا الزهري عن سالم عن ابيه عن عامر بن ربيعة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال اذا رايتم الجنازة فقوموا حتى تخلفكم قال سفيان قال الزهري اخبرني سالم عن ابيه قال اخبرنا عامر بن ربيعة عن النبي زاد الحميدي حتى تخلفكم او توضع
১৩০৭. ‘আমির ইবনু রাবী‘আহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা জানাযা দেখলে তা তোমাদের পিছনে ফেলে যাওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকবে। হুমাইদী আরও উল্লেখ করেছেন, তা তোমাদের পশ্চাতে ফেলে যাওয়া বা মাটিতে নামিয়ে রাখা পর্যন্ত। (১৩০৮, মুসলিম ১১/২৪, হাঃ ৯৫৮, আহমাদ ১৫৬৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২২৯)
হাদিস নং: ১৩০৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا الليث عن نافع عن ابن عمر عن عامر بن ربيعة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال اذا راى احدكم جنازة فان لم يكن ماشيا معها فليقم حتى يخلفها او تخلفه او توضع من قبل ان تخلفه
১৩০৮. ‘আমির ইবনু রাবী‘আহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের কেউ জানাযা যেতে দেখলে যদি সে তার সহযাত্রী না হয়, তবে ততক্ষণ সে দাঁড়িয়ে থাকবে, যতক্ষণ না সে ব্যক্তি জানাযা পিছনে ফেলে বা জানাযা তাকে পিছনে ফেলে যায় অথবা পিছনে ফেলে যাওয়ার পূর্বে তা (মাটিতে) নামিয়ে রাখা হয়। (১৩০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৩০)
হাদিস নং: ১৩০৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن يونس حدثنا ابن ابي ذىب عن سعيد المقبري عن ابيه قال كنا في جنازة فاخذ ابو هريرة بيد مروان فجلسا قبل ان توضع فجاء ابو سعيد فاخذ بيد مروان فقال قم فوالله لقد علم هذا ان النبي صلى الله عليه وسلم نهانا عن ذلك فقال ابو هريرة صدق
১৩০৯. সা‘ঈদ মাকবুরী (রহ.)-এর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একটি জানাযায় শরীক হলাম। (সেখানে) আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) মারওয়ানের হাত ধরলেন এবং তাঁরা জানাযা নামিয়ে রাখার পূর্বেই বসে পড়লেন। তখন আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) এগিয়ে এসে মারওয়ানের হাত ধরে বললেন, দাঁড়িয়ে পড়ুন! আল্লাহ্র কসম! ইনি [আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)] তো জানেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ কাজ করতে (জানাযা নামিয়ে রাখার পূর্বে বসতে) নিষেধ করেছেন। তখন আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বললেন, তিনি ঠিকই বলেছেন। (১৩১০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৩১)
হাদিস নং: ১৩১০
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسلم يعني ابن ابراهيم حدثنا هشام حدثنا يحيى عن ابي سلمة عن ابي سعيد الخدري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال اذا رايتم الجنازة فقوموا فمن تبعها فلا يقعد حتى توضع
১৩১০. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের কেউ যখন কোন জানাযা যেতে দেখবে, যদি সে তার সহযাত্রী না হয় তাহলে সে ততক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবে, যতক্ষণ না তা চলে যায় অথবা নামিয়ে না রাখা হয়। (১৩০৯, মুসলিম ১১/২৪, হাঃ ৯৫৯, আহমাদ ১১১৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৩২)
হাদিস নং: ১৩১১
সহিহ (Sahih)
حدثنا معاذ بن فضالة حدثنا هشام عن يحيى عن عبيد الله بن مقسم عن جابر بن عبد الله قال مر بنا جنازة فقام لها النبي وقمنا به فقلنا يا رسول الله صلى الله عليه وسلم انها جنازة يهودي قال اذا رايتم الجنازة فقوموا
১৩১১. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের পার্শ্ব দিয়ে একটি জানাযা যাচ্ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখে দাঁড়িয়ে গেলেন। আমরাও দাঁড়িয়ে গেলাম এবং নিবেদন করলাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! এ তো ইয়াহুদীর জানাযা। তিনি বললেনঃ তোমরা যে কোন জানাযা দেখলে দাঁড়িয়ে যাবে। (মুসলিম ১১/২৪, হাঃ ৯৬০, আহমাদ ১৪৪৩৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৩৩)
হাদিস নং: ১৩১২
সহিহ (Sahih)
حدثنا ادم حدثنا شعبة حدثنا عمرو بن مرة قال سمعت عبد الرحمن بن ابي ليلى قال كان سهل بن حنيف وقيس بن سعد قاعدين بالقادسية فمروا عليهما بجنازة فقاما فقيل لهما انها من اهل الارض اي من اهل الذمة فقالا ان النبي صلى الله عليه وسلم مرت به جنازة فقام فقيل له انها جنازة يهودي فقال اليست نفسا
১৩১২. ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ লাইলাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহল ইবনু হুনাইফ ও কায়স ইবনু সা‘দ (রাঃ) কাদিসিয়াতে উপবিষ্ট ছিলেন, তখন লোকেরা তাদের সামনে দিয়ে একটি জানাযা নিয়ে যাচ্ছিল। (তা দেখে) তারা দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন তাদের বলা হল, এটা তো এ দেশীয় জিম্মী ব্যক্তির (অমুসলিমের) জানাযা। তখন তারা বললেন, (একদা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে দিয়ে একটি জানাযা যাচ্ছিল। তখন তিনি দাঁড়িয়ে গেলে তাঁকে বলা হল, এটা তো এক ইয়াহূদীর জানাযা। তিনি এরশাদ করলেনঃ সে কি মানুষ নয়?[1] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৩৪)
নোট: [1] একমাত্র ইসলামই মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। যারা আজ মানব অধিকার প্রতিষ্ঠার ফাঁকা বুলি আওড়াচ্ছে তারা দেখাক এরূপ দু’একটি দৃষ্টান্ত।
হাদিস নং: ১৩১৩
সহিহ (Sahih)
وقال ابو حمزة عن الاعمش عن عمرو عن ابن ابي ليلى قال كنت مع قيس وسهل فقالا كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم وقال زكرياء عن الشعبي عن ابن ابي ليلى كان ابو مسعود وقيس يقومان للجنازة
১৩১৩. ইবনু আবূ লায়লাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাহল এবং কায়স (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম। তখন তাঁরা দু’জন বললেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ছিলাম। যাকারিয়া (রহ.) সূত্রে ইবনু আবূ লায়লাহ (রহ.) হতে বর্ণনা করেন, আবূ মাস‘উদ ও কায়স (রাঃ) জানাযা যেতে দেখলে দাঁড়িয়ে যেতেন। (মুসলিম ১১/২৪, হাঃ ৯৬১, আহমাদ ২৩৯০৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৩৪)
হাদিস নং: ১৩১৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد العزيز بن عبد الله حدثنا الليث عن سعيد المقبري عن ابيه انه سمع ابا سعيد الخدري رضي الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال اذا وضعت الجنازة واحتملها الرجال على اعناقهم فان كانت صالحة قالت قدموني وان كانت غير صالحة قالت يا ويلها اين يذهبون بها يسمع صوتها كل شيء الا الانسان ولو سمعه صعق
১৩১৪. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন জানাযা খাটে রাখা হয় এবং পুরুষরা তা কাঁধে বহন করে নেয়, তখন সে সৎ হলে বলতে থাকে, আমাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাও। আর সৎ না হলে সে বলতে থাকে, হায় আফসোস! তোমরা এটাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ? মানব জাতি ব্যতীত সবাই তার চিৎকার শুনতে পায়। মানুষ তা শুনলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলত। (১৩১৬, ১৩৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৩৫)
হাদিস নং: ১৩১৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله حدثنا سفيان قال حفظناه من الزهري عن سعيد بن المسيب عن ابي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال اسرعوا بالجنازة فان تك صالحة فخير تقدمونها وان يك سوى ذلك فشر تضعونه عن رقابكم
وَقَالَ أَنَسٌ t أَنْتُمْ مُشَيِّعُونَ وَامْشِ بَيْنَ يَدَيْهَا وَخَلْفَهَا وَعَنْ يَمِينِهَا وَعَنْ شِمَالِهَا وَقَالَ غَيْرُهُ قَرِيبًا مِنْهَا
আনাস (রাঃ) বলেন, তোমরা (জানাযাকে) বিদায় দানকারী। অতএব, তোমরা তার সম্মুখে, পশ্চাতে এবং ডানে বামে চলবে। অন্যান্যরা বলেছেন, তার নিকট নিকট (চলবে)।
১৩১৫. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা জানাযা নিয়ে দ্রুতগতিতে চলবে। কেননা, সে যদি পুণ্যবান হয়, তবে এটা উত্তম, যার দিকে তোমরা তাকে এগিয়ে দিচ্ছ আর যদি সে অন্য কিছু হয়, তবে সে একটি আপদ, যাকে তোমরা তোমাদের ঘাড় হতে জলদি নামিয়ে ফেলছ। (মুসলিম ১১/১৬, হাঃ ৯৪৪, আহমাদ ১০৩৩৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৩৬)
আনাস (রাঃ) বলেন, তোমরা (জানাযাকে) বিদায় দানকারী। অতএব, তোমরা তার সম্মুখে, পশ্চাতে এবং ডানে বামে চলবে। অন্যান্যরা বলেছেন, তার নিকট নিকট (চলবে)।
১৩১৫. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা জানাযা নিয়ে দ্রুতগতিতে চলবে। কেননা, সে যদি পুণ্যবান হয়, তবে এটা উত্তম, যার দিকে তোমরা তাকে এগিয়ে দিচ্ছ আর যদি সে অন্য কিছু হয়, তবে সে একটি আপদ, যাকে তোমরা তোমাদের ঘাড় হতে জলদি নামিয়ে ফেলছ। (মুসলিম ১১/১৬, হাঃ ৯৪৪, আহমাদ ১০৩৩৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৩৬)
হাদিস নং: ১৩১৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف حدثنا الليث حدثنا سعيد عن ابيه انه سمع ابا سعيد الخدري قال كان النبي صلى الله عليه وسلم يقول اذا وضعت الجنازة فاحتملها الرجال على اعناقهم فان كانت صالحة قالت قدموني وان كانت غير صالحة قالت لا÷هلها يا ويلها اين يذهبون بها يسمع صوتها كل شيء الا الانسان ولو سمع الانسان لصعق
১৩১৬. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন জানাযা (খাটিয়ায়) রাখা হয় এবং পুরুষ লোকেরা তা তাদের কাঁধে তুলে নেয়, সে পুণ্যবান হলে তখন বলতে থাকে, আমাকে সামনে এগিয়ে দাও। আর পুণ্যবান না হলে সে আপন পরিজনকে বলতে থাকে, হায় আফসোস! এটা নিয়ে তোমরা কোথায় যাচ্ছ? মানুষ জাতি ব্যতীত সবাই তার চিৎকার শুনতে পায়। মানুষ যদি তা শুনতে পেত তবে অবশ্যই অজ্ঞান হয়ে যেত। (১৩১৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৩৭)