হাদিস নং: ১৭১৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن مسلمة حدثنا يزيد بن زريع عن يونس عن زياد بن جبير قال رايت ابن عمراتى على رجل قد اناخ بدنته ينحرها قال ابعثها قياما مقيدة سنة محمد وقال شعبة عن يونس اخبرني زياد
১৭১৩. যিয়াদ ইবনু জুবাইর (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে দেখেছি যে, তিনি আসলেন এমন এক ব্যক্তির নিকট, যে তার নিজের উটটিকে নহর করার জন্য বসিয়ে রেখেছিল। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, সেটি উঠিয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় বেঁধে নাও। (এ) মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নাত। [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন যে,] শু‘বাহ্ (রহ.) ইউনুস সূত্রে যিয়াদ (রহ.) হতে হাদীসটি أَخْبَرَنِي শব্দ দিয়ে বর্ণনা করেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬০২)
হাদিস নং: ১৭১৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا سهل بن بكار حدثنا وهيب عن ايوب عن ابي قلابة عن انس قال صلى النبي صلى الله عليه وسلم الظهر بالمدينة اربعا والعصر بذي الحليفة ركعتين فبات بها فلما اصبح ركب راحلته فجعل يهلل ويسبح فلما علا على البيداء لبى بهما جميعا فلما دخل مكة امرهم ان يحلوا ونحر النبي صلى الله عليه وسلم بيده سبع بدن قياما وضحى بالمدينة كبشين املحين اقرنين
وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ سُنَّةَ مُحَمَّدٍ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (صَوَافَّ) قِيَامًا
ইবনু ‘উমার (রহ.) বলেন, তা-ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নাত। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, (কুরআনের শব্দ) (صَوَافَّ) এর অর্থ দাঁড় করিয়ে (কুরবানী করা)।
১৭১৪. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্তে যোহর চার রাক‘আত এবং যুল হুলাইফাতে ‘আসর দু’রাক‘আত আদায় করলেন এবং এখানেই রাত যাপন করলেন। ভোর হলে তিনি সওয়ারীতে আরোহণ করে তাহ্লীল ও তাসবীহ পাঠ করতে লাগলেন। এরপর বায়দায় যাওয়ার পর তিনি হাজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়ের জন্য তালবিয়া পাঠ করেন এবং মক্কা্য় প্রবেশ করে তিনি সাহাবাদের ইহরাম খুলে ফেলার নির্দেশ দেন। আর (সে হাজ্জে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতটি উট দাঁড় করিয়ে নিজ হাতে কুরবানী করেন আর মদ্বীনাহ্তে হৃষ্টপুষ্ট শিং বিশিষ্ট সুন্দর দু’টি ভেড়া কুরবানী দেন। (১০৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬০৩)
ইবনু ‘উমার (রহ.) বলেন, তা-ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নাত। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, (কুরআনের শব্দ) (صَوَافَّ) এর অর্থ দাঁড় করিয়ে (কুরবানী করা)।
১৭১৪. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্তে যোহর চার রাক‘আত এবং যুল হুলাইফাতে ‘আসর দু’রাক‘আত আদায় করলেন এবং এখানেই রাত যাপন করলেন। ভোর হলে তিনি সওয়ারীতে আরোহণ করে তাহ্লীল ও তাসবীহ পাঠ করতে লাগলেন। এরপর বায়দায় যাওয়ার পর তিনি হাজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়ের জন্য তালবিয়া পাঠ করেন এবং মক্কা্য় প্রবেশ করে তিনি সাহাবাদের ইহরাম খুলে ফেলার নির্দেশ দেন। আর (সে হাজ্জে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতটি উট দাঁড় করিয়ে নিজ হাতে কুরবানী করেন আর মদ্বীনাহ্তে হৃষ্টপুষ্ট শিং বিশিষ্ট সুন্দর দু’টি ভেড়া কুরবানী দেন। (১০৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬০৩)
হাদিস নং: ১৭১৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا اسماعيل عن ايوب عن ابي قلابة عن انس بن مالك قال صلى النبي صلى الله عليه وسلم الظهر بالمدينة اربعا والعصر بذي الحليفة ركعتين وعن ايوب عن رجل عن انس ثم بات حتى اصبح فصلى الصبح ثم ركب راحلته حتى اذا استوت به البيداء اهل بعمرة وحجة
১৭১৫. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্তে যুহর চার রাক‘আত এবং যুল-হুলাইফাতে ‘আসর দু’ রাক‘আত আদায় করেন। আইয়ূব (রহ.) এক ব্যক্তির মাধ্যমে আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, এরপর তিনি সেখানে রাত যাপন করেন। ভোর হলে তিনি ফজরের সালাত আদায় করার পর সওয়ারীতে আরোহণ করেন। সওয়ারী বায়দায় পৌঁছে সোজা হয়ে দাঁড়ালে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়ের জন্য তালবিয়া পাঠ করেন। (১০৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬০৪)
হাদিস নং: ১৭১৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن كثير اخبرنا سفيان قال اخبرني ابن ابي نجيح عن مجاهد عن عبد الرحمن بن ابي ليلى عن علي قال بعثني النبي صلى الله عليه وسلم فقمت على البدن فامرني فقسمت لحومها ثم امرني فقسمت جلالها وجلودها
قال سفيان وحدثني عبد الكريم عن مجاهد عن عبد الرحمن بن ابي ليلى عن علي قال امرني النبي صلى الله عليه وسلم ان اقوم على البدن ولا اعطي عليها شيىا في جزارتها
قال سفيان وحدثني عبد الكريم عن مجاهد عن عبد الرحمن بن ابي ليلى عن علي قال امرني النبي صلى الله عليه وسلم ان اقوم على البدن ولا اعطي عليها شيىا في جزارتها
১৭১৬. ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পাঠালেন, আমি কুরবানীর জানোয়ারের পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম, অতঃপর তিনি আমাকে আদেশ করলেন। আমি ওগুলোর গোশ্ত বণ্টন করে দিলাম। এরপর তিনি আমাকে আদেশ করলেন। আমি এর পিঠের আবরণ এবং চামড়াগুলোও বিতরণ করে দিলাম। (১৭০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬০৫)
১৭১৬ (মীম). ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আদেশ করলেন কুরবানীর জানোয়ারের পাশে দাঁড়াতে এবং এর হতে পারিশ্রমিক হিসেবে কসাইকে কিছু না দিতে। (১৭০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৯৮ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬০৫ শেষাংশ)
১৭১৬ (মীম). ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আদেশ করলেন কুরবানীর জানোয়ারের পাশে দাঁড়াতে এবং এর হতে পারিশ্রমিক হিসেবে কসাইকে কিছু না দিতে। (১৭০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৯৮ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬০৫ শেষাংশ)
হাদিস নং: ১৭১৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا يحيى عن ابن جريج قال اخبرني الحسن بن مسلم وعبد الكريم الجزري ان مجاهدا اخبرهما ان عبد الرحمن بن ابي ليلى اخبره ان عليا اخبره ان النبي صلى الله عليه وسلم امره ان يقوم على بدنه وان يقسم بدنه كلها لحومها وجلودها وجلالها ولا يعطي في جزارتها شيىا
১৭১৭. ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিজের কুরবানীর জানোয়ারের পাশে দাঁড়াতে আর এগুলোর সমুদয় গোশ্ত, চামড়া এবং পিঠের আবরণসমূহ বিতরণ করতে নির্দেশ দেন এবং তা হতে যেন কসাইকে পারিশ্রমিক হিসেবে কিছুই না দেয়া হয়। (১৭০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৯৯. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬০৬)
হাদিস নং: ১৭১৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو نعيم حدثنا سيف بن ابي سليمان قال سمعت مجاهدا يقول حدثني ابن ابي ليلى ان عليا حدثه قال اهدى النبي صلى الله عليه وسلم ماىة بدنة فامرني بلحومها فقسمتها ثم امرني بجلالها فقسمتها ثم بجلودها فقسمتها
১৭১৮. ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর একশ’ উট পাঠান এবং আমাকে মাংস সম্বন্ধে নির্দেশ দিলেন। আমি তা বণ্টন করে দিলাম। এরপর তিনি তার পিঠের আবরণ সম্বন্ধে আমাকে নির্দেশ দিলেন, আমি তা বণ্টন করে দিলাম। অতঃপর তিনি আমাকে চামড়া সম্বন্ধে নির্দেশ দিলেন, আমি তা বণ্টন করে দিলাম। (১৭০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬০০. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬০৭ )
হাদিস নং: ১৭১৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا يحيى عن ابن جريج حدثنا عطاء سمع جابر بن عبد الله يقول كنا لا ناكل من لحوم بدننا فوق ثلاث منى فرخص لنا النبي فقال كلوا وتزودوا فاكلنا وتزودنا قلت لعطاء اقال حتى جىنا المدينة قال لا
25/123. بَاب
২৫/১২৩. অধ্যায় :
(وَإِذْ بَوَّأْنَا لإِبْرَاهِيمَ مَكَانَ الْبَيْتِ أَنْ لاَ تُشْرِكْ بِي شَيْئًا وَطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْقَائِمِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ وَأَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالاً وَعَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللهِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيمَةِ الأَنْعَامِ فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ ثُمَّ لْيَقْضُوا تَفَثَهُمْ وَلْيُوفُوا نُذُورَهُمْ وَلْيَطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ ذَلِكَ وَمَنْ يُعَظِّمْ حُرُمَاتِ اللهِ فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ عِنْدَ رَبِّهِ)
’’যখন আমি ইবরাহীমকে কা’বা গৃহের স্থান নির্ধারণ করে বলেছিলাম যে, আমার সাথে কোন কিছু শারীক করো না এবং আমার গৃহকে পবিত্র রেখ তাওয়াফকারীদের জন্য, সালাতে দন্ডায়মান লোকেদের জন্য, রুকু’কারী ও সিজদাকারীদের জন্য এবং মানুষের মধ্যে হাজ্জের জন্য ঘোষণা করে দাও, তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সব ধরনের দুর্বল উটের পিঠে সাওয়ার হয়ে, তারা আসবে দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে। যাতে তারা উপস্থিত হতে পারে তাদের কল্যাণময় স্থানে এবং তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে পারে নির্দিষ্ট দিনগুলোতে সে সব চতুষ্পদ জন্তু যবহ করার সময় যা তাদেরকে তিনি রিয্ক হিসেবে দান করেছেন। অতঃপর তোমরা তা থেকে খাও এবং বিপন্ন, অভাবগ্রস্তকেও খাওয়াও। তারপর তারা যেন দূর করে ফেলে নিজেদের শরীরের অপরিচ্ছন্নতা এবং নিজেদের মানৎ পূর্ণ করে ও প্রাচীন কা’বাগৃহের তাওয়াফ করে। এটাই বিধান। আর যে কেউ আল্লাহর পবিত্র অনুষ্ঠান সমূহের মর্যাদা রক্ষা করে তার জন্য তা হবে তার রবের কাছে উত্তম। তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে চতুষ্পদ জন্তু। ঐগুলো ছাড়া যা তোমাদেরকে পাঠ করে শুনানো হয়েছে। সুতরাং তোমরা দূরে থাক মূর্তি পূজার অপবিত্রতা হতে এবং দূরে থাক মিথ্যা কথা হতে।’’ (আল-হাজ্জঃ ২৬-৩০)
وَقَالَ عُبَيْدُ اللهِ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ عَنْ ابْنِ عُمَرَ لاَ يُؤْكَلُ مِنْ جَزَاءِ الصَّيْدِ وَالنَّذْرِ وَيُؤْكَلُ مِمَّا سِوَى ذَلِكَ وَقَالَ عَطَاءٌ يَأْكُلُ وَيُطْعِمُ مِنْ الْمُتْعَةِ
’উবায়দুল্লাহ (রহ.) নাফি’ (রহ.) সূত্রে ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। শিকারের ক্ষতিপূরণ স্বরূপ এবং মানতের জন্য যে জানোয়ার যবহ করা হয়, তা খাওয়া যাবে না। এছাড়া অন্যান্য সব কুরবানীর গোশ্ত খাওয়া যাবে। ’আত্বা (রহ.) বলেন, তামাত্তু’র কুরবানীর মাংস খেতে পারবে এবং (অন্যকেও) খাওয়াতে পারবে।
১৭১৯. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আমাদের কুরবানীর গোশ্ত মিনা’র তিন দিনের বেশি খেতাম না। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের অনুমতি দিলেন এবং বললেনঃ খাও এবং সঞ্চয় করে রাখ। তাই আমরা খেলাম এবং সঞ্চয়ও করলাম। রাবী বলেন, আমি ’আত্বা (রহ.)-কে বললাম, জাবির (রাঃ) কি বলেছেন আমরা মদ্বীনায় আসা পর্যন্ত? তিনি বললেন, না। (২৯৮০, ৫৪২৪, ৫৫৬৭, মুসলিম ৩৫/৫, হাঃ ১৯৭২, আহমাদ ১৪৪১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬০১. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬০৮ )
২৫/১২৩. অধ্যায় :
(وَإِذْ بَوَّأْنَا لإِبْرَاهِيمَ مَكَانَ الْبَيْتِ أَنْ لاَ تُشْرِكْ بِي شَيْئًا وَطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْقَائِمِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ وَأَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالاً وَعَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللهِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيمَةِ الأَنْعَامِ فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ ثُمَّ لْيَقْضُوا تَفَثَهُمْ وَلْيُوفُوا نُذُورَهُمْ وَلْيَطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ ذَلِكَ وَمَنْ يُعَظِّمْ حُرُمَاتِ اللهِ فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ عِنْدَ رَبِّهِ)
’’যখন আমি ইবরাহীমকে কা’বা গৃহের স্থান নির্ধারণ করে বলেছিলাম যে, আমার সাথে কোন কিছু শারীক করো না এবং আমার গৃহকে পবিত্র রেখ তাওয়াফকারীদের জন্য, সালাতে দন্ডায়মান লোকেদের জন্য, রুকু’কারী ও সিজদাকারীদের জন্য এবং মানুষের মধ্যে হাজ্জের জন্য ঘোষণা করে দাও, তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সব ধরনের দুর্বল উটের পিঠে সাওয়ার হয়ে, তারা আসবে দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে। যাতে তারা উপস্থিত হতে পারে তাদের কল্যাণময় স্থানে এবং তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে পারে নির্দিষ্ট দিনগুলোতে সে সব চতুষ্পদ জন্তু যবহ করার সময় যা তাদেরকে তিনি রিয্ক হিসেবে দান করেছেন। অতঃপর তোমরা তা থেকে খাও এবং বিপন্ন, অভাবগ্রস্তকেও খাওয়াও। তারপর তারা যেন দূর করে ফেলে নিজেদের শরীরের অপরিচ্ছন্নতা এবং নিজেদের মানৎ পূর্ণ করে ও প্রাচীন কা’বাগৃহের তাওয়াফ করে। এটাই বিধান। আর যে কেউ আল্লাহর পবিত্র অনুষ্ঠান সমূহের মর্যাদা রক্ষা করে তার জন্য তা হবে তার রবের কাছে উত্তম। তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে চতুষ্পদ জন্তু। ঐগুলো ছাড়া যা তোমাদেরকে পাঠ করে শুনানো হয়েছে। সুতরাং তোমরা দূরে থাক মূর্তি পূজার অপবিত্রতা হতে এবং দূরে থাক মিথ্যা কথা হতে।’’ (আল-হাজ্জঃ ২৬-৩০)
وَقَالَ عُبَيْدُ اللهِ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ عَنْ ابْنِ عُمَرَ لاَ يُؤْكَلُ مِنْ جَزَاءِ الصَّيْدِ وَالنَّذْرِ وَيُؤْكَلُ مِمَّا سِوَى ذَلِكَ وَقَالَ عَطَاءٌ يَأْكُلُ وَيُطْعِمُ مِنْ الْمُتْعَةِ
’উবায়দুল্লাহ (রহ.) নাফি’ (রহ.) সূত্রে ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। শিকারের ক্ষতিপূরণ স্বরূপ এবং মানতের জন্য যে জানোয়ার যবহ করা হয়, তা খাওয়া যাবে না। এছাড়া অন্যান্য সব কুরবানীর গোশ্ত খাওয়া যাবে। ’আত্বা (রহ.) বলেন, তামাত্তু’র কুরবানীর মাংস খেতে পারবে এবং (অন্যকেও) খাওয়াতে পারবে।
১৭১৯. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আমাদের কুরবানীর গোশ্ত মিনা’র তিন দিনের বেশি খেতাম না। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের অনুমতি দিলেন এবং বললেনঃ খাও এবং সঞ্চয় করে রাখ। তাই আমরা খেলাম এবং সঞ্চয়ও করলাম। রাবী বলেন, আমি ’আত্বা (রহ.)-কে বললাম, জাবির (রাঃ) কি বলেছেন আমরা মদ্বীনায় আসা পর্যন্ত? তিনি বললেন, না। (২৯৮০, ৫৪২৪, ৫৫৬৭, মুসলিম ৩৫/৫, হাঃ ১৯৭২, আহমাদ ১৪৪১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬০১. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬০৮ )
হাদিস নং: ১৭২০
সহিহ (Sahih)
حدثنا خالد بن مخلد حدثنا سليمان بن بلال قال حدثني يحيى قال حدثتني عمرة قالت سمعت عاىشة تقول خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم لخمس بقين من ذي القعدة ولا نرى الا الحج حتى اذا دنونا من مكة امر رسول الله صلى الله عليه وسلم من لم يكن معه هدي اذا طاف بالبيت ثم يحل قالت عاىشة فدخل علينا يوم النحر بلحم بقر فقلت ما هذا فقيل ذبح النبي عن ازواجه قال يحيى فذكرت هذا الحديث للقاسم فقال اتتك بالحديث على وجهه
১৭২০. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যুল-কা‘দার পাঁচ দিন অবশিষ্ট থাকতে আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম। হাজ্জ ব্যতীত আমরা অন্য কিছু উদ্দেশ্য করিনি, অবশেষে আমরা যখন মক্কার নিকটে পৌঁছলাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করলেনঃ যার সাথে কুরবানীর জানোয়ার নেই সে যেন বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করে হালাল হয়ে যায়। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, এরপর কুরবানীর দিন আমাদের কাছে গরুর মাংস পাঠানো হল। আমি বললাম, এ কী? বলা হল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের তরফ হতে কুরবানী করেছেন। ইয়াহ্ইয়া (রহ.) বলেন, আমি কাসিম (রহ.)-এর নিকট হাদীসটি উল্লেখ করলে তিনি বললেন, ‘আমরাহ্ (রহ.) হাদীসটি ঠিক ভাবেই তোমার নিকট বর্ণনা করেছেন। (২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬০২. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬০৯)
হাদিস নং: ১৭২১
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن عبد الله بن حوشب حدثنا هشيم اخبرنا منصور بن زاذان عن عطاء عن ابن عباس قال سىل النبي صلى الله عليه وسلم عمن حلق قبل ان يذبح ونحوه فقال لا حرج لا حرج
১৭২১. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সে ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল, যে মাথা কামানোর আগে কুরবানী অথবা অনুরূপ কোন কাজ করেছে। তিনি বললেনঃ এতে কোন দোষ নেই, এতে কোন দোষ নেই। (৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬০৩. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬১০ )
হাদিস নং: ১৭২২
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن يونس اخبرنا ابو بكر عن عبد العزيز بن رفيع عن عطاء عن ابن عباس قال رجل للنبي صلى الله عليه وسلم زرت قبل ان ارمي قال لا حرج قال حلقت قبل ان اذبح قال لا حرج قال ذبحت قبل ان ارمي قال لا حرج وقال عبد الرحيم الرازي عن ابن خثيم اخبرني عطاء عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم وقال القاسم بن يحيى حدثني ابن خثيم عن عطاء عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم وقال عفان اراه عن وهيب حدثنا ابن خثيم عن سعيد بن جبير عن ابن عباس عن النبي وقال حماد عن قيس بن سعد وعباد بن منصور عن عطاء عن جابر عن النبي صلى الله عليه وسلم
১৭২২. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বললেন, আমি কঙ্কর মারার আগেই তাওয়াফে যিয়ারা করে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই। সাহাবী পুনরায় বললেন, আমি যবহ করার আগেই মাথা কামিয়ে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই। সাহাবী আবারও বললেন, আমি কঙ্কর মারার আগেই কুরবানী করে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই। ‘আবদুর রহীম ইবনু সুলাইমান রাযী, কাসিম ইবনু ইয়াহইয়া ও ‘আফ্ফান (রহ.)....ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। হাম্মাদ (রহ.)...জাবির (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। (৮৪, মুসলিম ১৫/৫৭, হাঃ ১৩০৭, আহমাদ ২৩৩৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬০৪. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬১১ )
হাদিস নং: ১৭২৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن المثنى حدثنا عبد الاعلى حدثنا خالد عن عكرمة عن ابن عباس قال سىل النبي صلى الله عليه وسلم فقال رميت بعد ما امسيت فقال لا حرج قال حلقت قبل ان انحر قال لا حرج
১৭২৩. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করা হল, সন্ধ্যার পর আমি কঙ্কর মেরেছি। তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই। সে আবার বলল, কুরবানী করার আগেই আমি মাথা কামিয়ে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ এতো কোন দোষ নেই। (৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬০৫. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬১২ )
হাদিস নং: ১৭২৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبدان قال اخبرني ابي عن شعبة عن قيس بن مسلم عن طارق بن شهاب عن ابي موسى قال قدمت على رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو بالبطحاء فقال احججت قلت نعم قال بما اهللت قلت لبيك باهلال كاهلال النبي قال احسنت انطلق فطف بالبيت وبالصفا والمروة ثم اتيت امراة من نساء بني قيس ففلت راسي ثم اهللت بالحج فكنت افتي به الناس حتى خلافة عمر فذكرته له فقال ان ناخذ بكتاب الله فانه يامرنا بالتمام وان ناخذ بسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم فان رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يحل حتى بلغ الهدي محله
১৭২৪. আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বাতহা নামক স্থানে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট গেলাম। তিনি বললেনঃ হাজ্জ সমাধা করেছ? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেনঃ কিসের জন্য ইহরাম বেঁধেছিলে? আমি বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মত ইহরাম বেঁধে আমি তালবিয়া পাঠ করেছি। তিনি বললেনঃ ভালই করেছ। যাও বায়তুল্লাহর তাওয়াফ কর এবং সাফা-মারওয়ার সা‘য়ী কর। এরপর আমি বনূ কায়স গোত্রের এক মহিলার নিকট এলাম। তিনি আমার মাথার উকুন বেছে দিলেন। অতঃপর আমি হাজ্জের ইহরাম বাঁধলাম। (তখন হতে) ‘উমার (রাঃ)-এর খিলাফতকাল পর্যন্ত এ ভাবেই আমি লোকদের (হাজ্জ এবং ‘উমরাহ সম্পর্কে) ফতোয়া দিতাম। অতঃপর তাঁর সঙ্গে আমি এ বিষয়ে আলোচনা করলে তিনি বললেন, আমরা যদি আল্লাহর কিতাবকে অনুসরণ করি তাহলে তা আমাদের পূর্ণ করার নির্দেশ দেয়। আর যদি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নতের অনুসরণ করি তাহলে তো (দেখি যে), আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর জানোয়ার যথাস্থানে পৌঁছার আগে হালাল হননি। (১৫৫৯, মুসলিম ১৫/২২, হাঃ ১২২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬০৬. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬১৩ )
হাদিস নং: ১৭২৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن نافع عن ابن عمر عن حفصة انها قالت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ما شان الناس حلوا بعمرة ولم تحلل انت من عمرتك قال اني لبدت راسي وقلدت هديي فلا احل حتى انحر
১৭২৫. হাফসা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! লোকদের কী হল যে, তারা ‘উমরাহ করে হালাল হয়ে গেল অথচ আপনি ‘উমরাহ হতে হালাল হননি! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তো আমার মাথায় আঠালো বস্তু লাগিয়েছি এবং পশুর গলায় কিলাদা ঝুলিয়েছি। তাই কুরবানী না করে আমি হালাল হতে পারি না। (১৫৬৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬০৭. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬১৪)
হাদিস নং: ১৭২৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان اخبرنا شعيب بن ابي حمزة قال نافع كان ابن عمر يقول حلق رسول الله صلى الله عليه وسلم في حجته
১৭২৬. নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলতেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জের সময় তাঁর মাথা কামিয়েছিলেন। (৪৪১০, ৪৪১১, মুসলিম ১৫/৫৫, হাঃ ১৩০৪, আহমাদ ৫৬১৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬০৮. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬১৫ )
হাদিস নং: ১৭২৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن نافع عن عبد الله بن عمران رسول الله صلى الله عليه وسلم قال اللهم ارحم المحلقين قالوا والمقصرين يا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال اللهم ارحم المحلقين قالوا والمقصرين يا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال والمقصرين وقال الليث حدثني نافع رحم الله المحلقين مرة او مرتين قال وقال عبيد الله حدثني نافع وقال في الرابعة والمقصرين
১৭২৭. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আল্লাহ! মাথা মুন্ডনকারীদের প্রতি রহম করুন। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যারা মাথার চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আল্লাহ! মাথা মুন্ডনকারীদের প্রতি রহম করুন। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। এবার আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। লায়স (রহ.) বলেন, আমাকে নাফি‘ (রহ.) বলেছেন, আল্লাহ মাথা মুন্ডনকারীদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন, এ কথাটি তিনি একবার অথবা দু’বার বলেছেন। রাবী বলেন, ‘উবায়দুল্লাহ (রহ.) নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণনা করেন, চতুর্থবার বলেছেনঃ চুল যারা ছোট করেছে তাদের প্রতিও। (মুসলিম ১৫/৫৫, হাঃ ১৩০২, আহমাদ ৭১৬১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬০৯. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬১৬ )
হাদিস নং: ১৭২৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا عياش بن الوليد حدثنا محمد بن فضيل حدثنا عمارة بن القعقاع عن ابي زرعة عن ابي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اللهم اغفر للمحلقين قالوا وللمقصرين قال اللهم اغفر للمحلقين قالوا وللمقصرين قالها ثلاثا قال وللمقصرين
১৭২৮. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আল্লাহ! মাথা মুন্ডনকারীদের ক্ষমা করুন। সাহাবীগণ বললেন, যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আল্লাহ! মাথা মুন্ডনকারীদেরকে ক্ষমা প্রদর্শন করুন। সাহাবীগণ বললেন, যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথাটি তিনবার বলেন, এরপর বললেনঃ যারা চুল ছোট করেছে তাদের উপরও। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬১০. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬১৭)
হাদিস নং: ১৭২৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد بن اسماء حدثنا جويرية بن اسماء عن نافع ان عبد الله بن عمر قال حلق النبي صلى الله عليه وسلم وطاىفة من اصحابه وقصر بعضهم
১৭২৯. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা কামালেন এবং সাহাবীদের একদলও। আর অন্য একটি দল চুল ছোট করলেন। (১৬৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬১১. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬১৮)
হাদিস নং: ১৭৩০
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو عاصم عن ابن جريج عن الحسن بن مسلم عن طاوس عن ابن عباس عن معاوية قال قصرت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم بمشقص
১৭৩০. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) ও মু‘আবিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একটি কাঁচি দিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চুল ছোট ছোট করে দিয়েছিলাম। (মুসলিম ১৫/৩৩, হাঃ ১২৪৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬১২. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬১৯)
হাদিস নং: ১৭৩১
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن ابي بكر حدثنا فضيل بن سليمان حدثنا موسى بن عقبة اخبرني كريب عن ابن عباس قال لما قدم النبي صلى الله عليه وسلم مكة امر اصحابه ان يطوفوا بالبيت وبالصفا والمروة ثم يحلوا ويحلقوا او يقصروا
১৭৩১. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্য় এসে সাহাবীদের নির্দেশ দিলেন, তারা যেন বাইতুল্লাহ এবং সাফা ও মারওয়ার তাওয়াফ করে। এরপর মাথার চুল মুড়িয়ে বা চুল ছেঁটে হালাল হয়ে যায়। (১৫৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬১৩. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬২০ )
হাদিস নং: ১৭৩২
সহিহ (Sahih)
وقال لنا ابو نعيم حدثنا سفيان عن عبيد الله عن نافع عن ابن عمرانه طاف طوافا واحدا ثم يقيل ثم ياتي منى يعني يوم النحر ورفعه عبد الرزاق اخبرنا عبيد الله
وَقَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ أَخَّرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الزِّيَارَةَ إِلَى اللَّيْلِ.
وَيُذْكَرُ عَنْ أَبِي حَسَّانَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَزُورُ الْبَيْتَ أَيَّامَ مِنًى
আবূ যুবাইর (রহ.) ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) ও ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওয়াফে যিয়ারাহ্ রাত পর্যন্ত বিলম্ব করেছেন। আবূ হাসসান (রহ.) সূত্রে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনার দিনগুলোতে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতেন।
১৭৩২. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি একদা তাওয়াফ করলেন, এরপর কায়লুলা করেন এবং অতঃপর মিনায় আসেন অর্থাৎ কুরবানীর দিন। ‘আবদুর রাযযাক (রহ.) এটি মারফূ‘ হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমার নিকট ‘উবাইদুল্লাহ (রহ.) এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (মুসলিম ১৫/৫৮, হাঃ ১৩০৮, আহমাদ ৪৭৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ ১২৮ কিতাবুল হাজ্জ্ব. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬২০)
وَيُذْكَرُ عَنْ أَبِي حَسَّانَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَزُورُ الْبَيْتَ أَيَّامَ مِنًى
আবূ যুবাইর (রহ.) ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) ও ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওয়াফে যিয়ারাহ্ রাত পর্যন্ত বিলম্ব করেছেন। আবূ হাসসান (রহ.) সূত্রে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনার দিনগুলোতে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতেন।
১৭৩২. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি একদা তাওয়াফ করলেন, এরপর কায়লুলা করেন এবং অতঃপর মিনায় আসেন অর্থাৎ কুরবানীর দিন। ‘আবদুর রাযযাক (রহ.) এটি মারফূ‘ হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমার নিকট ‘উবাইদুল্লাহ (রহ.) এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (মুসলিম ১৫/৫৮, হাঃ ১৩০৮, আহমাদ ৪৭৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ ১২৮ কিতাবুল হাজ্জ্ব. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬২০)