হাদিস নং: ৯৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد العزيز بن عبد الله، قال حدثني سليمان، عن عمرو بن ابي عمرو، عن سعيد بن ابي سعيد المقبري، عن ابي هريرة، انه قال قيل يا رسول الله، من اسعد الناس بشفاعتك يوم القيامة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لقد ظننت يا ابا هريرة ان لا يسالني عن هذا الحديث احد اول منك، لما رايت من حرصك على الحديث، اسعد الناس بشفاعتي يوم القيامة من قال لا اله الا الله، خالصا من قلبه او نفسه ".
৯৯. আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে প্রশ্ন করা হলঃ হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামতের দিন আপনার সুপারিশ লাভের ব্যাপারে কে সবচেয়ে অধিক সৌভাগ্যবান হবে? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবূ হুরাইরা! আমি মনে করেছিলাম, এ বিষয়ে তোমার পূর্বে আমাকে আর কেউ জিজ্ঞেস করবে না। কেননা আমি দেখেছি হাদীসের প্রতি তোমার বিশেষ লোভ রয়েছে। কিয়ামতের দিন আমার শাফা‘আত লাভে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান হবে সেই ব্যক্তি যে একনিষ্ঠচিত্তে لآ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ (আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই) বলে। (৬৫৭০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯)
হাদিস নং: ১০০
সহিহ (Sahih)
اسماعيل بن ابي اويس قال حدثني مالك عن هشام بن عروة عن ابيه عن عبد الله بن عمرو بن العاص قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ان الله لا يقبض العلم انتزاعا ينتزعه من العباد ولكن يقبض العلم بقبض العلماء حتى اذا لم يبق عالما اتخذ الناس رءوسا جهالا فسىلوا فافتوا بغير علم فضلوا واضلوا
قال الفربري حدثنا عباس قال حدثنا قتيبة حدثنا جرير عن هشام نحوه.
قال الفربري حدثنا عباس قال حدثنا قتيبة حدثنا جرير عن هشام نحوه.
وَكَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ إِلَى أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ انْظُرْ مَا كَانَ مِنْ حَدِيثِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَاكْتُبْهُ فَإِنِّي خِفْتُ دُرُوسَ الْعِلْمِ وَذَهَابَ الْعُلَمَاءِ وَلاَ تَقْبَلْ إِلاَّ حَدِيثَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلْتُفْشُوا الْعِلْمَ وَلْتَجْلِسُوا حَتَّى يُعَلَّمَ مَنْ لاَ يَعْلَمُ فَإِنَّ الْعِلْمَ لاَ يَهْلِكُ حَتَّى يَكُونَ سِرًّا
حَدَّثَنَا الْعَلاَءُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِينَارٍ بِذَلِكَ يَعْنِي حَدِيثَ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ إِلَى قَوْلِهِ ذَهَابَ الْعُلَمَاءِ
’উমার ইবনু আবদুল ’আযীয (রহ.) আবূ বকর ইবনু হাযম (রহ.)-এর নিকট এক চিঠিতে লিখেনঃ অনুসন্ধান কর, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যে হাদীস পাও তা লিপিবদ্ধ করে নাও। আমি ধর্মীয় জ্ঞান লোপ পাওয়ার এবং আলিমদের বিদায় নেয়ার ভয় করছি এবং জেনে রাখ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাদীস ব্যতীত অন্য কিছুই গ্রহণ করা হবে না এবং প্রত্যেকের উচিত ধর্মীয় জ্ঞানের প্রচার-প্রসার ঘটানো আর তারা যেন একসাথে বসে (ধর্মীয় জ্ঞানের চর্চা করে), যাতে যে না জানে সে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। কারণ জ্ঞান গোপন না হওয়া পর্যন্ত বিলুপ্ত হবে না।
’আলা’ ইবনু ’আবদুল জাববার (রহ.).... ’আবদুল্লাহ্ ইবনু দ্বীনার (রহ.)-এর সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতে ’উমার ইবনু ’আবদুল-’আযীয এর উপরোক্ত হাদীসে ’বিজ্ঞ ব্যক্তিদের বিদায় নেয়া’ পর্যন্ত বর্ণিত আছে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ পৃঃ ৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০০)
১০০. ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর ইবনুল ’আস (রাযি.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অন্তর থেকে ’’ইল্ম উঠিয়ে নেন না, কিন্তু দ্বীনের আলিমদের উঠিয়ে নেয়ার ভয় করি। যখন কোন আলিম অবশিষ্ট থাকবে না তখন লোকেরা মূর্খদেরকেই নেতা বানিয়ে নিবে। তাদের জিজ্ঞেস করা হলে না জানলেও ফাতাওয়া প্রদান করবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে, এবং অন্যকেও পথভ্রষ্ট করবে।
ফিরাবরী বলেন, ........ জরীর হিশামের নিকট হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (৭৩০৭; মুসলিম ৪৭/৪, হাঃ ২৬৭৩, আহমাদ ৬৫২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০১)
حَدَّثَنَا الْعَلاَءُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِينَارٍ بِذَلِكَ يَعْنِي حَدِيثَ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ إِلَى قَوْلِهِ ذَهَابَ الْعُلَمَاءِ
’উমার ইবনু আবদুল ’আযীয (রহ.) আবূ বকর ইবনু হাযম (রহ.)-এর নিকট এক চিঠিতে লিখেনঃ অনুসন্ধান কর, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যে হাদীস পাও তা লিপিবদ্ধ করে নাও। আমি ধর্মীয় জ্ঞান লোপ পাওয়ার এবং আলিমদের বিদায় নেয়ার ভয় করছি এবং জেনে রাখ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাদীস ব্যতীত অন্য কিছুই গ্রহণ করা হবে না এবং প্রত্যেকের উচিত ধর্মীয় জ্ঞানের প্রচার-প্রসার ঘটানো আর তারা যেন একসাথে বসে (ধর্মীয় জ্ঞানের চর্চা করে), যাতে যে না জানে সে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। কারণ জ্ঞান গোপন না হওয়া পর্যন্ত বিলুপ্ত হবে না।
’আলা’ ইবনু ’আবদুল জাববার (রহ.).... ’আবদুল্লাহ্ ইবনু দ্বীনার (রহ.)-এর সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতে ’উমার ইবনু ’আবদুল-’আযীয এর উপরোক্ত হাদীসে ’বিজ্ঞ ব্যক্তিদের বিদায় নেয়া’ পর্যন্ত বর্ণিত আছে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ পৃঃ ৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০০)
১০০. ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর ইবনুল ’আস (রাযি.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অন্তর থেকে ’’ইল্ম উঠিয়ে নেন না, কিন্তু দ্বীনের আলিমদের উঠিয়ে নেয়ার ভয় করি। যখন কোন আলিম অবশিষ্ট থাকবে না তখন লোকেরা মূর্খদেরকেই নেতা বানিয়ে নিবে। তাদের জিজ্ঞেস করা হলে না জানলেও ফাতাওয়া প্রদান করবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে, এবং অন্যকেও পথভ্রষ্ট করবে।
ফিরাবরী বলেন, ........ জরীর হিশামের নিকট হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (৭৩০৭; মুসলিম ৪৭/৪, হাঃ ২৬৭৩, আহমাদ ৬৫২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০১)
হাদিস নং: ১০১
সহিহ (Sahih)
حدثنا ادم، قال حدثنا شعبة، قال حدثني ابن الاصبهاني، قال سمعت ابا صالح، ذكوان يحدث عن ابي سعيد الخدري،. قالت النساء للنبي صلى الله عليه وسلم غلبنا عليك الرجال، فاجعل لنا يوما من نفسك. فوعدهن يوما لقيهن فيه، فوعظهن وامرهن، فكان فيما قال لهن " ما منكن امراة تقدم ثلاثة من ولدها الا كان لها حجابا من النار ". فقالت امراة واثنين فقال " واثنين ".
১০১. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নারীরা একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলল, পুরুষেরা আপনার নিকট আমাদের চেয়ে প্রাধান্য বিস্তার করে আছে। তাই আপনি নিজে আমাদের জন্য একটি দিন নির্ধারিত করে দিন। তিনি তাদের বিশেষ একটি দিনের অঙ্গীকার করলেন; সে দিন তিনি তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন এবং তাদের নাসীহাত করলেন ও নির্দেশ দিলেন। তিনি তাদের যা যা বলেছিলেন, তার মধ্যে একথাও ছিল যে, তোমাদের মধ্যে যে স্ত্রীলোক তিনটি সন্তান পূর্বেই পাঠাবে, তারা তার জন্য জাহান্নামের প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবে। তখন জনৈক স্ত্রীলোক বলল, আর দু’টি পাঠালে? তিনি বললেনঃ দু’টি পাঠালেও। (১২৪৯,৭৩১০; মুসলিম ৪৫/৪৭, হাঃ ২৬৩৩, আহমাদ ১১২৯৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০২)
হাদিস নং: ১০২
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، قال حدثنا غندر، قال حدثنا شعبة، عن عبد الرحمن بن الاصبهاني، عن ذكوان، عن ابي سعيد الخدري، عن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم بهذا. وعن عبد الرحمن بن الاصبهاني، قال سمعت ابا حازم، عن ابي هريرة، قال " ثلاثة لم يبلغوا الحنث ".
১০২. আবূ সা‘ঈদ (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবদুর রহমান আল-আসবাহানী (রহ.).... আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এমন তিনজন, যারা সাবালকত্বে পৌঁছেনি। (১২৫০ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০০ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৩)
হাদিস নং: ১০৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن ابي مريم، قال اخبرنا نافع بن عمر، قال حدثني ابن ابي مليكة، ان عاىشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم كانت لا تسمع شيىا لا تعرفه الا راجعت فيه حتى تعرفه، وان النبي صلى الله عليه وسلم قال " من حوسب عذب ". قالت عاىشة فقلت او ليس يقول الله تعالى (فسوف يحاسب حسابا يسيرا) قالت فقال " انما ذلك العرض، ولكن من نوقش الحساب يهلك ".
১০৩. ইবনু আবূ মুলাইকাহ (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাযি.) কোন কথা শুনে না বুঝলে বার বার প্রশ্ন করতেন। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘(কিয়ামতের দিন) যার কাছ থেকে হিসেব নেয়া হবে তাকে শাস্তি দেয়া হবে।’’ ‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেনঃ আমি জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ্ তা‘আলা কি ইরশাদ করেননি, فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَسِيرًا তার হিসাব-নিকাশ সহজেই নেয়া হবে)- (সূরাহ্ ইনশিক্বাক ৮৪/৮)। তখন তিনি বললেনঃ তা কেবল হিসেব প্রকাশ করা। কিন্তু যার হিসাব পুঙ্খানুপুঙ্খরুপে নেয়া হবে সে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। (৪৯৩৯, ৬৫৩৬, ৬৫৩৭; মুসলিম ৫১/১৮, হাঃ ২৮৭৬, আহমাদ ২৪২৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৪)
হাদিস নং: ১০৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف، قال حدثني الليث، قال حدثني سعيد، عن ابي شريح، انه قال لعمرو بن سعيد وهو يبعث البعوث الى مكة اىذن لي ايها الامير احدثك قولا قام به النبي صلى الله عليه وسلم الغد من يوم الفتح، سمعته اذناى ووعاه قلبي، وابصرته عيناى، حين تكلم به، حمد الله واثنى عليه ثم قال " ان مكة حرمها الله، ولم يحرمها الناس، فلا يحل لامرى يومن بالله واليوم الاخر ان يسفك بها دما، ولا يعضد بها شجرة، فان احد ترخص لقتال رسول الله صلى الله عليه وسلم فيها فقولوا ان الله قد اذن لرسوله، ولم ياذن لكم. وانما اذن لي فيها ساعة من نهار، ثم عادت حرمتها اليوم كحرمتها بالامس، وليبلغ الشاهد الغاىب ". فقيل لابي شريح ما قال عمرو قال انا اعلم منك يا ابا شريح، لا يعيذ عاصيا، ولا فارا بدم، ولا فارا بخربة.
قَالَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে তা বর্ণনা করেন।
১০৪. আবূ শুরায়হ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, তিনি ’আমর ইবনু সা’ঈদ (মদিনার গভর্নর)-কে বললেন, যখন তিনি মক্কায় সেনাবাহিনী পাঠিয়েছিলেন- ’হে আমাদের নেতা! আমাকে অনুমতি দিলে আপনাকে এমন একটি হাদীস শুনাতে পারি যেটা মক্কা বিজয়ের পরের দিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন। আমার দু’ কান তা শ্রবণ করেছে, আমার হৃদয় তা আয়ত্ত রেখেছে, আর আমার চোখ দু’টো তা দেখেছে। তিনি আল্লাহর হাম্দ ও সানা বর্ণনা করে বললেনঃ মক্কাকে আল্লাহ্ হারাম করেছেন, কোন মানুষ তাকে হারাম করেনি। তাই যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও আখিরাতে বিশ্বাস রাখে তার জন্য সেখানে রক্তপাত করা, সেখানকার গাছ কাটা বৈধ নয়। কেউ যদি আল্লাহর রাসূলের (সেখানকার) লড়াইকে দলীল হিসেবে পেশ করে তবে তোমরা বলে দাও, আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর রাসূলকে এর অনুমতি দিয়েছিলেন; কিন্তু তোমাদেরকে তা দেননি। আমাকেও সে দিনের কিছু সময়ের জন্য অনুমতি দিয়েছিলেন। অতঃপর পূর্বের মতই আজ আবার একে তার নিষিদ্ধ হবার মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। উপস্থিতগণ যেন অনুপস্থিতদের নিকট (এ বাণী) পৌঁছে দেয়।’ অতঃপর আবূ শুরায়হ্ (রাযি.)-কে প্রশ্ন করা হল, ’আপনার এ হাদীস শুনে ’আমর কী বললেন?’ [আবূ শুরায়হ্ (রাযি.) উত্তর দিলেন] তিনি বললেনঃ ’হে আবূ শুরায়হ্! (এ বিষয়ে) আমি তোমার চেয়ে অধিক জানি। মক্কা কোন বিদ্রোহীকে, কোন খুনের পলাতক আসামীকে এবং কোন চোরকে আশ্রয় দেয় না।’ (১৮৩২,৪২৯৫; মুসলিম ১৫/৮২, হাঃ ১৩৫৪, আহমাদ ১৬৩৭৩, ২৭২৩৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৫)
ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে তা বর্ণনা করেন।
১০৪. আবূ শুরায়হ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, তিনি ’আমর ইবনু সা’ঈদ (মদিনার গভর্নর)-কে বললেন, যখন তিনি মক্কায় সেনাবাহিনী পাঠিয়েছিলেন- ’হে আমাদের নেতা! আমাকে অনুমতি দিলে আপনাকে এমন একটি হাদীস শুনাতে পারি যেটা মক্কা বিজয়ের পরের দিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন। আমার দু’ কান তা শ্রবণ করেছে, আমার হৃদয় তা আয়ত্ত রেখেছে, আর আমার চোখ দু’টো তা দেখেছে। তিনি আল্লাহর হাম্দ ও সানা বর্ণনা করে বললেনঃ মক্কাকে আল্লাহ্ হারাম করেছেন, কোন মানুষ তাকে হারাম করেনি। তাই যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও আখিরাতে বিশ্বাস রাখে তার জন্য সেখানে রক্তপাত করা, সেখানকার গাছ কাটা বৈধ নয়। কেউ যদি আল্লাহর রাসূলের (সেখানকার) লড়াইকে দলীল হিসেবে পেশ করে তবে তোমরা বলে দাও, আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর রাসূলকে এর অনুমতি দিয়েছিলেন; কিন্তু তোমাদেরকে তা দেননি। আমাকেও সে দিনের কিছু সময়ের জন্য অনুমতি দিয়েছিলেন। অতঃপর পূর্বের মতই আজ আবার একে তার নিষিদ্ধ হবার মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। উপস্থিতগণ যেন অনুপস্থিতদের নিকট (এ বাণী) পৌঁছে দেয়।’ অতঃপর আবূ শুরায়হ্ (রাযি.)-কে প্রশ্ন করা হল, ’আপনার এ হাদীস শুনে ’আমর কী বললেন?’ [আবূ শুরায়হ্ (রাযি.) উত্তর দিলেন] তিনি বললেনঃ ’হে আবূ শুরায়হ্! (এ বিষয়ে) আমি তোমার চেয়ে অধিক জানি। মক্কা কোন বিদ্রোহীকে, কোন খুনের পলাতক আসামীকে এবং কোন চোরকে আশ্রয় দেয় না।’ (১৮৩২,৪২৯৫; মুসলিম ১৫/৮২, হাঃ ১৩৫৪, আহমাদ ১৬৩৭৩, ২৭২৩৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৫)
হাদিস নং: ১০৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن عبد الوهاب، قال حدثنا حماد، عن ايوب، عن محمد، عن ابن ابي بكرة، عن ابي بكرة، ذكر النبي صلى الله عليه وسلم قال " فان دماءكم واموالكم ـ قال محمد واحسبه قال واعراضكم ـ عليكم حرام كحرمة يومكم هذا في شهركم هذا، الا ليبلغ الشاهد منكم الغاىب ". وكان محمد يقول صدق رسول الله صلى الله عليه وسلم كان ذلك " الا هل بلغت " مرتين.
১০৫. আবূ বকরাহ (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কথা উল্লেখ করে বলেন যে, তিনি বলেছেনঃ তোমাদের জান তোমাদের মাল বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ (রহ.) বলেন, ‘আমার মনে হয়, তিনি বলেছিলেনঃ এবং তোমাদের মান-সম্মান (অন্য মুসলিমের জন্য) এ শহরে এ দিনের মতই মর্যাদা সম্পন্ন। শোন, (আমার এ বাণী যেন) তোমাদের মধ্যে উপস্থিত ব্যক্তি অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেয়। বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ (রহ.) বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য বলেছেন, তা-ই হয়েছে। তারপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ দু’বার করে বললেন, হে লোক সকল! ‘আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?’ (৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৬)
নোট: (৬৭) (আঃপ্রঃ ১০৩, ইফাঃ ১০৬)
হাদিস নং: ১০৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن الجعد، قال اخبرنا شعبة، قال اخبرني منصور، قال سمعت ربعي بن حراش، يقول سمعت عليا، يقول قال النبي صلى الله عليه وسلم " لا تكذبوا على، فانه من كذب على فليلج النار ".
১০৬. ‘আলী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার উপর মিথ্যারোপ করো না। কারণ আমার উপর যে মিথ্যারোপ করবে সে জাহান্নামে যাবে। (মুসলিম মুকাদ্দামা, দ্বিতীয় অধ্যায়, হাঃ ২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৭)
হাদিস নং: ১০৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو الوليد، قال حدثنا شعبة، عن جامع بن شداد، عن عامر بن عبد الله بن الزبير، عن ابيه، قال قلت للزبير اني لا اسمعك تحدث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم كما يحدث فلان وفلان. قال اما اني لم افارقه ولكن سمعته يقول " من كذب على فليتبوا مقعده من النار ".
১০৭. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু’য্-যুবায়র (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আমার পিতা যুবায়রকে বললামঃ আমি তো আপনাকে অমুক অমুকের মত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস বর্ণনা করতে শুনি না। তিনি বললেনঃ ‘জেনে রাখ, আমি তাঁর থেকে দূরে থাকিনি, কিন্তু আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, যে আমার উপর মিথ্যারোপ করবে সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নিবে (এজন্য হাদীস বর্ণনা করি না)।’ (মুসলিম মুকাদ্দামা, দ্বিতীয় অধ্যায়, হাঃ ৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৮)
হাদিস নং: ১০৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو معمر، قال حدثنا عبد الوارث، عن عبد العزيز، قال انس انه ليمنعني ان احدثكم حديثا كثيرا ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " من تعمد على كذبا فليتبوا مقعده من النار ".
১০৮. আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এ কথাটি তোমাদের নিকট বহু হাদীস বর্ণনা করতে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যারোপ করে সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৯)
হাদিস নং: ১০৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا مكي بن ابراهيم، قال حدثنا يزيد بن ابي عبيد، عن سلمة، قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول " من يقل على ما لم اقل فليتبوا مقعده من النار ".
১০৯. সালামাহ ইবনু আক্ওয়া‘ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি আমার উপর এমন কথা আরোপ করে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।’ (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১০)
হাদিস নং: ১১০
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى، قال حدثنا ابو عوانة، عن ابي حصين، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قال " تسموا باسمي ولا تكتنوا بكنيتي، ومن راني في المنام فقد راني، فان الشيطان لا يتمثل في صورتي، ومن كذب على متعمدا فليتبوا مقعده من النار ".
১১০. আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ’আমার নামে তোমরা নাম রেখ; কিন্তু আমার উপনামে (কুনিয়াতে) তোমরা নাম রেখ না। আর যে আমাকে স্বপ্নে দেখে সে ঠিক আমাকেই দেখে। কারণ শয়তান আমার আকৃতির ন্যায় আকৃতি ধারণ করতে পারে না। যে ইচ্ছা করে আমার উপর মিথ্যারোপ করে সে যেন জাহান্নামে তার আসন বানিয়ে নেয়।’ (৩৫৩৯, ৬১৮৮, ৬১৯৭, ৬৯৯৩; মুসলিম মুকাদ্দামা, দ্বিতীয় অধ্যায়, হাঃ ৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১১)
হাদিস নং: ১১১
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن سلام، قال اخبرنا وكيع، عن سفيان، عن مطرف، عن الشعبي، عن ابي جحيفة، قال قلت لعلي هل عندكم كتاب قال لا، الا كتاب الله، او فهم اعطيه رجل مسلم، او ما في هذه الصحيفة. قال قلت فما في هذه الصحيفة قال العقل، وفكاك الاسير، ولا يقتل مسلم بكافر.
১১১. আবূ জুহাইফাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ‘আলী (রাযি.)-কে বললাম, আপনাদের নিকট কি কিছু লিপিবদ্ধ আছে? তিনি বললেনঃ ‘না, শুধুমাত্র আল্লাহর কিতাব রয়েছে, আর একজন মুসলিমকে যে জ্ঞান দান করা হয় সেই বুদ্ধি ও বিবেক। এছাড়া কিছু এ সহীফাতে লিপিবদ্ধ রয়েছে।’ তিনি [আবূ জুহাইফাহ (রাযি.)] বলেন, আমি বললাম, এ সহীফাটিতে কী আছে? তিনি বললেন, ‘ক্ষতিপূরণ ও বন্দী মুক্তির বিধান, আর এ বিধানটিও যে, ‘মুসলিমকে কাফির হত্যার বিনিময়ে হত্যা করা যাবে না।’ (১৮৭০, ৩০৪৭, ৩১৭২, ৩১৭৯, ৬৭৫৫, ৬৯০৩, ৬৯১৫, ৭৩০০ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১২)
হাদিস নং: ১১২
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو نعيم الفضل بن دكين، قال حدثنا شيبان، عن يحيى، عن ابي سلمة، عن ابي هريرة، ان خزاعة، قتلوا رجلا من بني ليث عام فتح مكة بقتيل منهم قتلوه، فاخبر بذلك النبي صلى الله عليه وسلم فركب راحلته، فخطب فقال " ان الله حبس عن مكة القتل ـ او الفيل شك ابو عبد الله ـ وسلط عليهم رسول الله صلى الله عليه وسلم والمومنين، الا وانها لم تحل لاحد قبلي، ولا تحل لاحد بعدي الا وانها حلت لي ساعة من نهار، الا وانها ساعتي هذه حرام، لا يختلى شوكها، ولا يعضد شجرها، ولا تلتقط ساقطتها الا لمنشد، فمن قتل فهو بخير النظرين اما ان يعقل، واما ان يقاد اهل القتيل ". فجاء رجل من اهل اليمن فقال اكتب لي يا رسول الله. فقال " اكتبوا لابي فلان ". فقال رجل من قريش الا الاذخر يا رسول الله، فانا نجعله في بيوتنا وقبورنا. فقال النبي صلى الله عليه وسلم " الا الاذخر، الا الاذخر ". قال ابو عبد الله يقال يقاد بالقاف. فقيل لابي عبد الله اى شىء كتب له قال كتب له هذه الخطبة.
১১২. আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, মক্কা্ বিজয়কালে খুযা’আহ গোত্র লায়স গোত্রের জনৈক ব্যক্তিকে হত্যা করল। এ হত্যা ছিল তাদের এক নিহত ব্যক্তির প্রতিশোধ, যাকে ইতোপূর্বে লায়স গোত্রের লোক হত্যা করেছিল। তারপর এ খবর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট পৌঁছল। তিনি তাঁর উটের উপর আরোহণ করে ভাষণ দিলেন, তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা মক্কা্ হতে ’হত্যা’-কে কিংবা ’হাতী’-কে রোধ করেছেন। (২৪৩৪, ৬৮৮০ দ্রষ্টব্য)
ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’হত্যা’ বলেছেন না ’হাতী’ বলেছেন এ ব্যাপারে বর্ণনাকারী আবূ নু’আয়ম সন্দেহ পোষণ করেন। অন্যরা শুধু ’হাতী’ শব্দ উল্লেখ করেছেন। অবশ্য মক্কাবাসীদের উপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মু’মিনগণকে (যুদ্ধের মাধ্যমে) বিজয়ী করা হয়েছে। জেনে রাখ, আমার পূর্বে কারো জন্য মক্কাকে হালাল করা হয়নি এবং আমার পরেও হালাল হবে না। জেনে রাখ, তাও আমার জন্য দিনের কিছু সময়ের জন্য বৈধ করা হয়েছিল। আরো জেনে রাখ যে, আমার এই কথা বলার মুহূর্তে আবার তা অবৈধ হয়ে গেছে। সেখানকার কোন কাঁটা কিংবা গাছ কাটা যাবে না এবং সেখানে পড়ে থাকা কোন বস্তু কুড়িয়ে নেয়া যাবে না। তবে ঘোষণা দেয়ার জন্য তা নিতে পারবে। আর কেউ নিহত হলে তার আপনজনদের জন্য দু’টি ব্যবস্থার যে কোন একটি গ্রহণের এখতিয়ার আছে। হয় তার ’রক্তপণ নিবে নয় ’কিসাসের ফায়সালা’ গ্রহণ করবে। অতঃপর ইয়ামানবাসী জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! (এ কথাগুলো) আমাকে লিখে দিন। তিনি (সাহাবীদের) বললেনঃ তোমরা অমুকের পিতাকে লিখে দাও। তারপর জনৈক কুরায়শ [’আব্বাস (রাযি.)] বললেন, ’হে আল্লাহর রাসূল! গাছপালা কাটার নিষেধাজ্ঞা হতে ইযখির (এক প্রকার লম্বা ঘাষ) বাদ দিন। কারণ তা আমরা আমাদের গৃহে ও কবরে কাজে লাগাই।’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’ইযখির ব্যতীত, ইযখির ব্যতীত।’ (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৩)
ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’হত্যা’ বলেছেন না ’হাতী’ বলেছেন এ ব্যাপারে বর্ণনাকারী আবূ নু’আয়ম সন্দেহ পোষণ করেন। অন্যরা শুধু ’হাতী’ শব্দ উল্লেখ করেছেন। অবশ্য মক্কাবাসীদের উপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মু’মিনগণকে (যুদ্ধের মাধ্যমে) বিজয়ী করা হয়েছে। জেনে রাখ, আমার পূর্বে কারো জন্য মক্কাকে হালাল করা হয়নি এবং আমার পরেও হালাল হবে না। জেনে রাখ, তাও আমার জন্য দিনের কিছু সময়ের জন্য বৈধ করা হয়েছিল। আরো জেনে রাখ যে, আমার এই কথা বলার মুহূর্তে আবার তা অবৈধ হয়ে গেছে। সেখানকার কোন কাঁটা কিংবা গাছ কাটা যাবে না এবং সেখানে পড়ে থাকা কোন বস্তু কুড়িয়ে নেয়া যাবে না। তবে ঘোষণা দেয়ার জন্য তা নিতে পারবে। আর কেউ নিহত হলে তার আপনজনদের জন্য দু’টি ব্যবস্থার যে কোন একটি গ্রহণের এখতিয়ার আছে। হয় তার ’রক্তপণ নিবে নয় ’কিসাসের ফায়সালা’ গ্রহণ করবে। অতঃপর ইয়ামানবাসী জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! (এ কথাগুলো) আমাকে লিখে দিন। তিনি (সাহাবীদের) বললেনঃ তোমরা অমুকের পিতাকে লিখে দাও। তারপর জনৈক কুরায়শ [’আব্বাস (রাযি.)] বললেন, ’হে আল্লাহর রাসূল! গাছপালা কাটার নিষেধাজ্ঞা হতে ইযখির (এক প্রকার লম্বা ঘাষ) বাদ দিন। কারণ তা আমরা আমাদের গৃহে ও কবরে কাজে লাগাই।’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’ইযখির ব্যতীত, ইযখির ব্যতীত।’ (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৩)
হাদিস নং: ১১৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله، قال حدثنا سفيان، قال حدثنا عمرو، قال اخبرني وهب بن منبه، عن اخيه، قال سمعت ابا هريرة، يقول ما من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم احد اكثر حديثا عنه مني، الا ما كان من عبد الله بن عمرو فانه كان يكتب ولا اكتب. تابعه معمر عن همام عن ابي هريرة.
১১৩. আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহাবীগণের মধ্যে ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর (রাযি.) ব্যতীত আর কারো নিকট আমার চেয়ে অধিক হাদীস নেই। কারণ তিনি লিখতেন, আর আমি লিখতাম না। মা‘মার (রহ.) হাম্মাম (রহ.) সূত্রে আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৪)
হাদিস নং: ১১৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن سليمان، قال حدثني ابن وهب، قال اخبرني يونس، عن ابن شهاب، عن عبيد الله بن عبد الله، عن ابن عباس، قال لما اشتد بالنبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وجعه قال " اىتوني بكتاب اكتب لكم كتابا لا تضلوا بعده ". قال عمر ان النبي صلى الله عليه وسلم غلبه الوجع وعندنا كتاب الله حسبنا فاختلفوا وكثر اللغط. قال " قوموا عني، ولا ينبغي عندي التنازع ". فخرج ابن عباس يقول ان الرزية كل الرزية ما حال بين رسول الله صلى الله عليه وسلم وبين كتابه.
১১৪. ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অসুখ যখন বৃদ্ধি পেল তখন তিনি বললেনঃ ‘আমার নিকট লেখার জিনিস নিয়ে এস, আমি তোমাদের এমন কিছু লিখে দিব যাতে পরে তোমরা আর পথভ্রষ্ট হবে না।’ ‘উমার (রাযি.) বললেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রোগ-যন্ত্রণা প্রবল হয়ে গেছে (এমতাবস্থায় কিছু বলতে বা লিখতে তাঁর কষ্ট হবে)। আর আমাদের নিকট তো আল্লাহর কিতাব আছে, যা আমাদের জন্য যথেষ্ট।’ এতে সাহাবীগণের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দিল এবং শোরগোল বেড়ে গেল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তোমরা আমার কাছ থেকে উঠে যাও। আমার নিকট ঝগড়া-বিবাদ করা অনুচিত।’ এ পর্যন্ত বর্ণনা করে ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) (যেখানে বসে হাদীস বর্ণনা করছিলেন সেখান থেকে) এ কথা বলতে বলতে বেরিয়ে এলেন যে, ‘হায় বিপদ, সাংঘাতিক বিপদ! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর লেখনীর মধ্যে যা বাধ সেধেছে।’ (৩০৫৩, ৩১৬৮, ৪৪৩১, ৪৪৩২, ৫৬৬৯, ৭৩৬৬ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৫)
হাদিস নং: ১১৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا صدقة، اخبرنا ابن عيينة، عن معمر، عن الزهري، عن هند، عن ام سلمة، وعمرو، ويحيى بن سعيد، عن الزهري، عن هند، عن ام سلمة، قالت استيقظ النبي صلى الله عليه وسلم ذات ليلة فقال " سبحان الله ماذا انزل الليلة من الفتن وماذا فتح من الخزاىن ايقظوا صواحبات الحجر، فرب كاسية في الدنيا عارية في الاخرة
১১৫. উম্মু সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিদ্রা হতে জেগে বলেনঃ সুবহানাল্লাহ্! এ রাতে কতই না বিপদাপদ নেমে আসছে এবং কতই না ভান্ডার উন্মুক্ত করা হচ্ছে! অন্য সব ঘরের নারীদেরকেও জানিয়ে দাও, ‘বহু মহিলা যারা দুনিয়ায় পোশাক পরিহিতা, তারা অখিরাতে হবে বিবস্ত্র।’ (১১২৬, ৩৫৯৯, ৫৮৪৪, ৬২১৮, ৭০৬৯ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৬)
হাদিস নং: ১১৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن عفير، قال حدثني الليث، قال حدثني عبد الرحمن بن خالد، عن ابن شهاب، عن سالم، وابي، بكر بن سليمان بن ابي حثمة ان عبد الله بن عمر، قال صلى بنا النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم العشاء في اخر حياته، فلما سلم قام فقال " ارايتكم ليلتكم هذه، فان راس ماىة سنة منها لا يبقى ممن هو على ظهر الارض احد ".
১১৬. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবনের শেষের দিকে আমাদের নিয়ে ‘ইশার সালাত আদায় করলেন। সালাম ফিরানোর পর তিনি দাঁড়িয়ে বললেনঃ তোমরা কি এ রাতের সম্পর্কে জান? বর্তমানে যারা পৃথিবীতে রয়েছে, একশ বছরের মাথায় তাদের কেউ আর অবশিষ্ট থাকবে না। (৫৬৪, ৬০১; মুসলিম ৪৪/৫৩, হাঃ ২৫৩৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৭)
হাদিস নং: ১১৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا ادم، قال حدثنا شعبة، قال حدثنا الحكم، قال سمعت سعيد بن جبير، عن ابن عباس، قال بت في بيت خالتي ميمونة بنت الحارث زوج النبي صلى الله عليه وسلم وكان النبي صلى الله عليه وسلم عندها في ليلتها، فصلى النبي صلى الله عليه وسلم العشاء، ثم جاء الى منزله، فصلى اربع ركعات، ثم نام، ثم قام، ثم قال " نام الغليم ". او كلمة تشبهها، ثم قام فقمت عن يساره، فجعلني عن يمينه، فصلى خمس ركعات ثم صلى ركعتين، ثم نام حتى سمعت غطيطه ـ او خطيطه ـ ثم خرج الى الصلاة.
১১৭. ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার খালা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর স্ত্রী মায়মূনা বিন্ত হারিস (রাযি.)-এর ঘরে এক রাতে ছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে (পালার) রাতে সেখানে ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইশার সালাত আদায় করে তাঁর ঘরে চলে আসলেন এবং চার রাক‘আত সালাত আদায় করে শুয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ পর উঠে বললেনঃ বালকটি কি ঘুমিয়ে পড়েছে? বা এরূপ কোন কথা বললেন। অতঃপর (সালাতে) দাঁড়িয়ে গেলেন, আমিও তাঁর বাঁ দিকে গিয়ে দাঁড়ালাম। তিনি আমাকে তাঁর ডান দিকে সরিয়ে এনে পাঁচ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। পরে আরো দু’ রাক‘আত আদায় করলেন। অতঃপর শুয়ে পড়লেন। এমনকি আমি তাঁর নাক ডাকার আওয়াজ শুনতে পেলাম। অতঃপর উঠে তিনি (ফজরের) সালাতের জন্য বের হলেন। (১৩৮, ১৮৩, ৬৯৭, ৬৯৮, ৬৯৯, ৭২৬, ৮৫৯, ১১৯৮, ৪৫৬৯, ৪৫৭০, ৪৫৭১, ৪৫৭২, ৫৯১৯, ৬২১৫, ৬৩১৬, ৭৪৫২ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৮)
হাদিস নং: ১১৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد العزيز بن عبد الله، قال حدثني مالك، عن ابن شهاب، عن الاعرج، عن ابي هريرة، قال ان الناس يقولون اكثر ابو هريرة، ولولا ايتان في كتاب الله ما حدثت حديثا، ثم يتلو (ان الذين يكتمون ما انزلنا من البينات) الى قوله (الرحيم) ان اخواننا من المهاجرين كان يشغلهم الصفق بالاسواق، وان اخواننا من الانصار كان يشغلهم العمل في اموالهم، وان ابا هريرة كان يلزم رسول الله صلى الله عليه وسلم بشبع بطنه ويحضر ما لا يحضرون، ويحفظ ما لا يحفظون.
১১৮. আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ লোকে বলে, আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) অধিক হাদীস বর্ণনা করে। (জেনে রাখ,) কিতাবে দু’টি আয়াত যদি না থাকত, তবে আমি একটি হাদীসও পেশ করতাম না। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ ‘‘আমি সেসব স্পষ্ট নিদর্শন ও পথ-নির্দেশ অবতীর্ণ করেছি মানুষের জন্য কিতাবে তা বিস্তারিত বর্ণনার পরও যারা তা গোপন রাখে আল্লাহ্ তাদেরকে অভিশাপ দেন এবং অভিশাপকারীগণও তাদেরকে অভিশাপ দেয় কিন্তু যারা তওবা করে এবং আত্মসংশোধন করে এবং প্রকাশ করে দেয় যে, আমি তাদের (ক্ষমার) জন্য ফিরে আসি, আর আমি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’’ (সূরাহ্ আল-বাক্বারাহ ২/১৫৯-১৬০)। (প্রকৃত ঘটনা এই যে,) আমার মুহাজির ভাইয়েরা বাজারে কেনাবেচায় এবং আমার আনসার ভাইয়েরা জমা-জমির কাজে মশগুল থাকত। আর আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) (অভুক্ত থেকে) তুষ্ট থেকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে লেগে থাকত। তাই তারা যখন উপস্থিত থাকত না, তখন সে উপস্থিত থাকত এবং তারা যা আয়ত্ত করত না সে তা আয়ত্ত রাখত। (১১৯, ২০৪৭, ২৩৫০, ৩৬৪৮, ৭৩৫৪ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৯)