হাদিস নং: ২২২৭
সহিহ (Sahih)
حدثني بشر بن مرحوم حدثنا يحيى بن سليم عن اسماعيل بن امية عن سعيد بن ابي سعيد عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال قال الله ثلاثة انا خصمهم يوم القيامة رجل اعطى بي ثم غدر ورجل باع حرا فاكل ثمنه ورجل استاجر اجيرا فاستوفى منه ولم يعط اجره
২২২৭. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা করেছেন যে, কিয়ামতের দিবসে আমি নিজে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাদী হবো। এক ব্যক্তি, যে আমার নামে ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করল। আরেক ব্যক্তি, যে কোন আযাদ মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করল। আর এক ব্যক্তি, যে কোন মজুর নিয়োগ করে তার হতে পুরো কাজ আদায় করে এবং তার পারিশ্রমিক দেয় না। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০৮৬)
হাদিস নং: ২২২৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا سليمان بن حرب حدثنا حماد بن زيد عن ثابت عن انس قال كان في السبي صفية فصارت الى دحية الكلبي ثم صارت الى النبي صلى الله عليه وسلم
৩৪/১০৭. মাদ্বীনা হতে বহিস্কার ও উচ্ছেদকালে নিজ মালিকানাধীন ভূমি বিক্রয় করে দেয়ার জন্য ইয়াহূদীদের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আদেশ প্রদান।
فِيهِ الْمَقْبُرِيُّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ
আল মাকবূরী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে এ সংক্রান্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন।
وَاشْتَرَى ابْنُ عُمَرَ رَاحِلَةً بِأَرْبَعَةِ أَبْعِرَةٍ مَضْمُونَةٍ عَلَيْهِ يُوفِيهَا صَاحِبَهَا بِالرَّبَذَةِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَدْ يَكُونُ الْبَعِيرُ خَيْرًا مِنْ الْبَعِيرَيْنِ وَاشْتَرَى رَافِعُ بْنُ خَدِيجٍ بَعِيرًا بِبَعِيرَيْنِ فَأَعْطَاهُ أَحَدَهُمَا وَقَالَ آتِيكَ بِالآ(রাঃ)خَرِ غَدًا رَهْوًا إِنْ شَاءَ اللهُ وَقَالَ ابْنُ الْمُسَيَّبِ لاَ رِبَا فِي الْحَيَوَانِ الْبَعِيرُ بِالْبَعِيرَيْنِ وَالشَّاةُ بِالشَّاتَيْنِ إِلَى أَجَلٍ وَقَالَ ابْنُ سِيرِينَ لاَ بَأْسَ بَعِيرٌ بِبَعِيرَيْنِ نَسِيئَةً
ইবনু ‘উমার (রাঃ) চারটি উটের বিনিময়ে প্রাপ্য একটি আরোহণযোগ্য উট এই শর্তে ক্রয় করেন যে, মালিক তা ‘রাবাযা’ নামক স্থানে হস্তান্তর করবে। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, অনেক সময় একটি উট দু’টি উট অপেক্ষা উত্তম হয়। রাফি‘ ইবনু খাদীজ (রাঃ) দু’টি উটের বিনিময়ে একটি উট ক্রয় করে দু’টি উটের একটি (তখনই) দিলেন আর বললেন, আর একটি উট ইনশা-আল্লাহ আগামীকাল যথারীতি দিয়ে দিব। ইবনু মুসাইয়্যিব (রহ.) বলেন, জানোয়ারের মধ্যে কোন ‘রিবা’ হয় না। দু’উটের বিনিময়ে এক উট, দু’বকরীর বিনিময়ে এক বকরী বাকীতে বিক্রয় করলে সুদ হয় না। ইবনু সীরীন (রহ.) বলেন, দু’উটের বিনিময়ে এক উট এবং এক দিরহামের বিনিময়ে এক দিরহাম বাকী বিক্রি করাতে কোন দোষ নেই।
২২২৮. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাফিয়্যাহ (রাযি.) বন্দীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তিনি দিহ্য়া কালবী (রাঃ)-এর ভাগে পড়েন, এর পরে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অধীনে এসে যান। (৩৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০৮৭)
فِيهِ الْمَقْبُرِيُّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ
আল মাকবূরী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে এ সংক্রান্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন।
وَاشْتَرَى ابْنُ عُمَرَ رَاحِلَةً بِأَرْبَعَةِ أَبْعِرَةٍ مَضْمُونَةٍ عَلَيْهِ يُوفِيهَا صَاحِبَهَا بِالرَّبَذَةِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَدْ يَكُونُ الْبَعِيرُ خَيْرًا مِنْ الْبَعِيرَيْنِ وَاشْتَرَى رَافِعُ بْنُ خَدِيجٍ بَعِيرًا بِبَعِيرَيْنِ فَأَعْطَاهُ أَحَدَهُمَا وَقَالَ آتِيكَ بِالآ(রাঃ)خَرِ غَدًا رَهْوًا إِنْ شَاءَ اللهُ وَقَالَ ابْنُ الْمُسَيَّبِ لاَ رِبَا فِي الْحَيَوَانِ الْبَعِيرُ بِالْبَعِيرَيْنِ وَالشَّاةُ بِالشَّاتَيْنِ إِلَى أَجَلٍ وَقَالَ ابْنُ سِيرِينَ لاَ بَأْسَ بَعِيرٌ بِبَعِيرَيْنِ نَسِيئَةً
ইবনু ‘উমার (রাঃ) চারটি উটের বিনিময়ে প্রাপ্য একটি আরোহণযোগ্য উট এই শর্তে ক্রয় করেন যে, মালিক তা ‘রাবাযা’ নামক স্থানে হস্তান্তর করবে। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, অনেক সময় একটি উট দু’টি উট অপেক্ষা উত্তম হয়। রাফি‘ ইবনু খাদীজ (রাঃ) দু’টি উটের বিনিময়ে একটি উট ক্রয় করে দু’টি উটের একটি (তখনই) দিলেন আর বললেন, আর একটি উট ইনশা-আল্লাহ আগামীকাল যথারীতি দিয়ে দিব। ইবনু মুসাইয়্যিব (রহ.) বলেন, জানোয়ারের মধ্যে কোন ‘রিবা’ হয় না। দু’উটের বিনিময়ে এক উট, দু’বকরীর বিনিময়ে এক বকরী বাকীতে বিক্রয় করলে সুদ হয় না। ইবনু সীরীন (রহ.) বলেন, দু’উটের বিনিময়ে এক উট এবং এক দিরহামের বিনিময়ে এক দিরহাম বাকী বিক্রি করাতে কোন দোষ নেই।
২২২৮. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাফিয়্যাহ (রাযি.) বন্দীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তিনি দিহ্য়া কালবী (রাঃ)-এর ভাগে পড়েন, এর পরে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অধীনে এসে যান। (৩৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০৮৭)
হাদিস নং: ২২২৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني ابن محيريز ان ابا سعيد الخدري اخبره انه بينما هو جالس عند النبي قال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم انا نصيب سبيا فنحب الاثمان فكيف ترى في العزل فقال اوانكم تفعلون ذلك لا عليكم ان لا تفعلوا ذلكم فانها ليست نسمة كتب الله ان تخرج الا هي خارجة
২২২৯. আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একদা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপবিষ্ট ছিলেন, তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা বন্দী দাসীর সাথে সঙ্গত হই। কিন্তু আমরা তাদের (বিক্রয় করে) মূল্য হাসিল করতে চাই। এমতাবস্থায় আযল- (নিরুদ্ধ সঙ্গম করা) সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তিনি বললেন, আর তোমরা কি এরূপ করে থাক! তোমরা যদি তা (আযল) না কর তাতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। কারণ আল্লাহ তা‘আলা যে সন্তান জন্ম হওয়ার ফায়সালা করে রেখেছেন, তা অবশ্যই জন্ম নিবে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০৮৮)
হাদিস নং: ২২৩০
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن نمير حدثنا وكيع حدثنا اسماعيل عن سلمة بن كهيل عن عطاء عن جابر قال باع النبي صلى الله عليه وسلم المدبر
২২৩০. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুদাববার গোলাম বিক্রি করেছেন। (২১৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০৮৯)
হাদিস নং: ২২৩১
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة حدثنا سفيان عن عمرو سمع جابر بن عبد الله يقول باعه رسول الله صلى الله عليه وسلم
২২৩১. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুদাববার বিক্রি করেছেন। (২১৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০৯০)
হাদিস নং: ২২৩২
সহিহ (Sahih)
حدثني زهير بن حرب حدثنا يعقوب حدثنا ابي عن صالح قال حدث ابن شهاب ان عبيد الله اخبره ان زيد بن خالد وابا هريرة اخبراه انهما سمعا رسول الله صلى الله عليه وسلم يسال عن الامة تزني ولم تحصن قال اجلدوها ثم ان زنت فاجلدوها ثم بيعوها بعد الثالثة او الرابعة
২২৩২-২২৩৩. যায়দ ইবনু খালিদ ও আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অবিবাহিত ব্যভিচারিণী দাসী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তাঁকে বলতে শুনেছেন যে, ব্যভিচারিণীকে বেত্রাঘাত কর। সে আবার ব্যভিচার করলে আবার বেত্রাঘাত কর। এরপর তাকে বিক্রি করে দাও তৃতীয় বা চতুর্থবারের পরে। (২১৫২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০৯১)
হাদিস নং: ২২৩৩
সহিহ (Sahih)
حدثني زهير بن حرب حدثنا يعقوب حدثنا ابي عن صالح قال حدث ابن شهاب ان عبيد الله اخبره ان زيد بن خالد وابا هريرة اخبراه انهما سمعا رسول الله صلى الله عليه وسلم يسال عن الامة تزني ولم تحصن قال اجلدوها ثم ان زنت فاجلدوها ثم بيعوها بعد الثالثة او الرابعة
২২৩২-২২৩৩. যায়দ ইবনু খালিদ ও আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে অবিবাহিত ব্যভিচারিণী দাসী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তাঁকে বলতে শুনেছেন যে, ব্যভিচারিণীকে বেত্রাঘাত কর। সে আবার ব্যভিচার করলে আবার বেত্রাঘাত কর। এরপর তাকে বিক্রি করে দাও তৃতীয় বা চতুর্থবারের পরে। (২১৫২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০৯১)
হাদিস নং: ২২৩৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد العزيز بن عبد الله قال اخبرني الليث عن سعيد عن ابيه عن ابي هريرة قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول اذا زنت امة احدكم فتبين زناها فليجلدها الحد ولا يثرب عليها ثم ان زنت فليجلدها الحد ولا يثرب ثم ان زنت الثالثة فتبين زناها فليبعها ولو بحبل من شعر
২২৩৪. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আমি বলতে শুনেছি, তোমাদের কোন দাসী ব্যভিচার করলে এবং তার ব্যভিচার প্রমাণিত হলে তাকে ‘হদ’ স্বরূপ বেত্রাঘাত করবে এবং তাকে ভৎর্সনা করবে না। এরপর যদি সে আবার ব্যভিচার করে তাকে ‘হদ’ হিসাবে বেত্রাঘাত করবে কিন্তু তাকে ভৎর্সনা করবে না। তারপর সে যদি তৃতীয়বার ব্যভিচার করে এবং তার ব্যভিচার প্রমাণিত হয় তবে তাকে বিক্রি করে দেবে, যদিও তা চুলের রশির (তুচ্ছ মূল্যের) বিনিময়ে হয়। (২১৫২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০৯২)
হাদিস নং: ২২৩৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الغفار بن داود حدثنا يعقوب بن عبد الرحمن عن عمرو بن ابي عمرو عن انس بن مالك قال قدم النبي صلى الله عليه وسلم خيبر فلما فتح الله عليه الحصن ذكر له جمال صفية بنت حيي بن اخطب وقد قتل زوجها وكانت عروسا فاصطفاها رسول الله صلى الله عليه وسلم لنفسه فخرج بها حتى بلغنا سد الروحاء حلت فبنى بها ثم صنع حيسا في نطع صغير ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذن من حولك فكانت تلك وليمة رسول الله على صفية ثم خرجنا الى المدينة قال فرايت رسول الله صلى الله عليه وسلم يحوي لها وراءه بعباءة ثم يجلس عند بعيره فيضع ركبته فتضع صفية رجلها على ركبته حتى تركب
وَلَمْ يَرَ الْحَسَنُ بَأْسًا أَنْ يُقَبِّلَهَا أَوْ يُبَاشِرَهَا وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا وُهِبَتْ الْوَلِيدَةُ الَّتِي تُوطَأُ أَوْ بِيعَتْ أَوْ عَتَقَتْ فَلْيُسْتَبْرَأْ رَحِمُهَا بِحَيْضَةٍ وَلاَ تُسْتَبْرَأُ الْعَذْرَاءُ وَقَالَ عَطَاءٌ لاَ بَأْسَ أَنْ يُصِيبَ مِنْ جَارِيَتِهِ الْحَامِلِ مَا دُونَ الْفَرْجِ وَقَالَ اللهُ تَعَالَى ( إِلاَّ عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ )
হাসান (বাসরী) (রহ.) তাকে চুম্বন করা বা তার সাথে মিলামিশা করায় কোন দোষ মনে করেন না। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, সহবাসকৃত দাসীকে দান বা বিক্রি বা আযাদ করলে এক হায়য পর্যন্ত তার জরায়ু মুক্ত কি-না দেখতে হবে। কুমারীর বেলায় ইসতিবরার প্রয়োজন নেই। আতা (রহ.) বলেন, (অপর কর্তৃক) গর্ভবতী নিজ দাসীকে যৌনাঙ্গ ব্যতীত ভোগ করতে পারবে। আল্লাহ তা‘আলার বাণী :
( إِلاَّ عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ )
‘‘নিজেদের স্ত্রী অথবা অধিকারভুক্ত বাঁদী ব্যতীত, এতে তারা নিন্দনীয় হবে না .......’’। (মু’মিনূনঃ ৬)
২২৩৫. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার গমন করেন। যখন আল্লাহ তা‘আলা তাঁর দুর্গের বিজয় দান করেন, তখন তাঁর সামনে সাফিয়্যাহ (রাযি.) বিনতে হুয়ায়্যি ইবনু আখতাব এর সৌন্দর্যের আলোচনা করা হয়। তাঁর স্বামী নিহত হয় এবং তিনি তখন ছিলেন নব-বিবাহিতা। অবশেষে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে নিজের জন্য গ্রহণ করে নেন। তিনি তাঁকে নিয়ে রওয়ানা হন। যখন আমরা সাদ্দা রাওহা নামক স্থানে উপনীত হলাম, তখন সাফিয়্যাহ (রাযি.) পবিত্র হলেন! তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে মিলিত হন। তারপর চামড়ার ছোট দস্তরখানে হায়েস (খেজুরের ছাতু ও ঘি মিশ্রিত খাদ্য) তৈরী করে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা আশেপাশের লোকদের উপস্থিত হওয়ার জন্য খবর দিয়ে দাও। এই ছিল সাফিয়্যাহ (রাযি.)-এর বিবাহে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ওয়ালিমাহ। এরপর আমরা মদ্বীনার উদ্দেশে রওয়ানা হই। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখতে পেলাম যে, তাঁকে নিজের আবা’ দিয়ে ঘেরাও করে দিচ্ছেন। তারপর তিনি তাঁর উটের পাশে বসে হাঁটু সোজা করে রাখলেন, পরে সাফিয়্যাহ (রাযি.) তাঁর হাঁটুর উপর পা দিয়ে ভর করে আরোহণ করলেন। (৩৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০৯৩)
হাসান (বাসরী) (রহ.) তাকে চুম্বন করা বা তার সাথে মিলামিশা করায় কোন দোষ মনে করেন না। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, সহবাসকৃত দাসীকে দান বা বিক্রি বা আযাদ করলে এক হায়য পর্যন্ত তার জরায়ু মুক্ত কি-না দেখতে হবে। কুমারীর বেলায় ইসতিবরার প্রয়োজন নেই। আতা (রহ.) বলেন, (অপর কর্তৃক) গর্ভবতী নিজ দাসীকে যৌনাঙ্গ ব্যতীত ভোগ করতে পারবে। আল্লাহ তা‘আলার বাণী :
( إِلاَّ عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ )
‘‘নিজেদের স্ত্রী অথবা অধিকারভুক্ত বাঁদী ব্যতীত, এতে তারা নিন্দনীয় হবে না .......’’। (মু’মিনূনঃ ৬)
২২৩৫. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার গমন করেন। যখন আল্লাহ তা‘আলা তাঁর দুর্গের বিজয় দান করেন, তখন তাঁর সামনে সাফিয়্যাহ (রাযি.) বিনতে হুয়ায়্যি ইবনু আখতাব এর সৌন্দর্যের আলোচনা করা হয়। তাঁর স্বামী নিহত হয় এবং তিনি তখন ছিলেন নব-বিবাহিতা। অবশেষে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে নিজের জন্য গ্রহণ করে নেন। তিনি তাঁকে নিয়ে রওয়ানা হন। যখন আমরা সাদ্দা রাওহা নামক স্থানে উপনীত হলাম, তখন সাফিয়্যাহ (রাযি.) পবিত্র হলেন! তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে মিলিত হন। তারপর চামড়ার ছোট দস্তরখানে হায়েস (খেজুরের ছাতু ও ঘি মিশ্রিত খাদ্য) তৈরী করে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা আশেপাশের লোকদের উপস্থিত হওয়ার জন্য খবর দিয়ে দাও। এই ছিল সাফিয়্যাহ (রাযি.)-এর বিবাহে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ওয়ালিমাহ। এরপর আমরা মদ্বীনার উদ্দেশে রওয়ানা হই। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখতে পেলাম যে, তাঁকে নিজের আবা’ দিয়ে ঘেরাও করে দিচ্ছেন। তারপর তিনি তাঁর উটের পাশে বসে হাঁটু সোজা করে রাখলেন, পরে সাফিয়্যাহ (রাযি.) তাঁর হাঁটুর উপর পা দিয়ে ভর করে আরোহণ করলেন। (৩৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০৯৩)
হাদিস নং: ২২৩৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة حدثنا الليث عن يزيد بن ابي حبيب عن عطاء بن ابي رباح عن جابر بن عبد الله انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول عام الفتح وهو بمكة ان الله ورسوله حرم بيع الخمر والميتة والخنزير والاصنام فقيل يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ارايت شحوم الميتة فانها يطلى بها السفن ويدهن بها الجلود ويستصبح بها الناس فقال لا هو حرام ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم عند ذلك قاتل الله اليهود ان الله لما حرم شحومها جملوه ثم باعوه فاكلوا ثمنه قال ابو عاصم حدثنا عبد الحميد حدثنا يزيد كتب الي عطاء سمعت جابرا عن النبي صلى الله عليه وسلم
২২৩৬. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মক্কা বিজয়ের বছর মক্কায় অবস্থানকালে বলতে শুনেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল শরাব, মৃত জন্তু, শূকর ও মূর্তি কেনা-বেচা হারাম করে দিয়েছেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! মৃত জন্তুর চর্বি সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তা দিয়ে তো নৌকায় প্রলেপ দেয়া হয় এবং চামড়া তৈলাক্ত করা হয় আর লোকে তা দ্বারা চেরাগ জ্বালিয়ে থাকে। তিনি বললেন, না, তাও হারাম। তারপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহূদীদের বিনাশ করুন। আল্লাহ যখন তাদের জন্য মৃতের চর্বি হারাম করে দেন, তখন তারা তা গলিয়ে বিক্রি করে মূল্য ভোগ করে। আবূ আসিম (রহ.) ....... আতা (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জাবির (রাঃ)-কে (হাদীসটি) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করতে শুনেছি। (৪২৯৬, ৪৬৩৩, মুসলিম ২২/১৩, হাঃ ১৫৮১, আহমাদ ১৪৪৭৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০৯৪)
হাদিস নং: ২২৩৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن ابن شهاب عن ابي بكر بن عبد الرحمن عن ابي مسعود الانصاري ان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن ثمن الكلب ومهر البغي وحلوان الكاهن
২২৩৭. আবূ মাসঊদ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য, ব্যভিচারের বিনিময় এবং গণকের পারিতোষিক (গ্রহণ করা) হতে নিষেধ করেছেন। (২২৮২, ২৩৪৬, ৫৭৬১, মুসলিম ২২/৯, হাঃ ১৫৬৭, আহমাদ ১৭০৬৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০৯৫)
হাদিস নং: ২২৩৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا حجاج بن منهال حدثنا شعبة قال اخبرني عون بن ابي جحيفة قال رايت ابي اشترى حجاما فامر بمحاجمه فكسرت فسالته عن ذلك قال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن ثمن الدم وثمن الكلب وكسب الامة ولعن الواشمة والمستوشمة واكل الربا وموكله ولعن المصور
২২৩৮. ‘আউন ইবনু আবূ জুহায়ফাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে দেখেছি যে, তিনি একটি শিঙ্গা লাগানেওয়ালা গোলাম কিনলেন। তিনি তার শিঙ্গা লাগানোর যন্ত্র ভেঙ্গে ফেলতে নির্দেশ দিলে তা ভেঙ্গে ফেলা হলে। আমি তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রক্তের মূল্য, কুকুরের মূল্য, দাসীর (ব্যভিচারের মাধ্যমে) উপার্জন করা হতে বারণ করেছেন। আর তিনি শরীরে উল্কি অঙ্কনকারী ও উল্কি গ্রহণকারী, সুদগ্রহীতা ও সুদ দাতার উপর এবং (জীব জানোয়ারের) ছবি অঙ্কনকারীর উপর অভিসম্পাত করেছেন। (২০৮৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০৯৬)