হাদিস নং: ২৩৫
সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني مالك عن ابن شهاب الزهري عن عبيد الله بن عبد الله عن ابن عباس عن ميمونة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم سىل عن فارة سقطت في سمن فقال القوها وما حولها فاطرحوه وكلوا سمنكم.
وَقَالَ الزُّهْرِيُّ لاَ بَأْسَ بِالْمَاءِ مَا لَمْ يُغَيِّرْهُ طَعْمٌ أَوْ رِيحٌ أَوْ لَوْنٌ وَقَالَ حَمَّادٌ لاَ بَأْسَ بِرِيشِ الْمَيْتَةِ وَقَالَ الزُّهْرِيُّ فِي عِظَامِ الْمَوْتَى نَحْوَ الْفِيلِ وَغَيْرِهِ أَدْرَكْتُ نَاسًا مِنْ سَلَفِ الْعُلَمَاءِ يَمْتَشِطُونَ بِهَا وَيَدَّهِنُونَ فِيهَا لاَ يَرَوْنَ بِهِ بَأْسًا وَقَالَ ابْنُ سِيرِينَ وَإِبْرَاهِيمُ وَلاَ بَأْسَ بِتِجَارَةِ الْعَاجِ.
যুহরী (রহ.) বলেনঃ পানিতে অপবিত্রতা পড়লে কান ক্ষতি নেই, যতক্ষণ তার স্বাদ, গন্ধ বা রং বদলে না যায়। হাম্মাদ (রহ.) বলেনঃ মৃত (পাখির) পালক (পানিতে পড়লে) কোন দোষ নেই। যুহরী (রহ.) মৃত জন্তু, যথাঃ হাতী প্রভৃতির হাড় সম্পর্কে বলেনঃ আমি পূর্ববর্তী আলিমদের মধ্যে কিছু আলিমকে পেয়েছি, তাঁরা তা (চিরুণী বানিয়ে) চুল আঁচড়াতেন এবং তার পাত্রে তেল রেখে ব্যবহার করতেন, এতে তাঁরা কোনরূপ দোষ মনে করতেন না। ইবনু সীরীন (রহ.) ও ইবরাহীম (রহ.) বলেনঃ হাতীর দাঁতের ব্যবসায়ে কোন দোষ নেই।
২৩৫. মাইমূনাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে ’ঘি’য়ে পতিত ইঁদুর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেনঃ ’ইঁদুরটি এবং তার আশ পাশ হতে ফেলে দাও এবং তোমাদের অবশিষ্ট ঘি খাও। (২৩৬, ৫৫৩৮, ৫৫৩৯, ৫৫৪০ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৫)
যুহরী (রহ.) বলেনঃ পানিতে অপবিত্রতা পড়লে কান ক্ষতি নেই, যতক্ষণ তার স্বাদ, গন্ধ বা রং বদলে না যায়। হাম্মাদ (রহ.) বলেনঃ মৃত (পাখির) পালক (পানিতে পড়লে) কোন দোষ নেই। যুহরী (রহ.) মৃত জন্তু, যথাঃ হাতী প্রভৃতির হাড় সম্পর্কে বলেনঃ আমি পূর্ববর্তী আলিমদের মধ্যে কিছু আলিমকে পেয়েছি, তাঁরা তা (চিরুণী বানিয়ে) চুল আঁচড়াতেন এবং তার পাত্রে তেল রেখে ব্যবহার করতেন, এতে তাঁরা কোনরূপ দোষ মনে করতেন না। ইবনু সীরীন (রহ.) ও ইবরাহীম (রহ.) বলেনঃ হাতীর দাঁতের ব্যবসায়ে কোন দোষ নেই।
২৩৫. মাইমূনাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে ’ঘি’য়ে পতিত ইঁদুর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেনঃ ’ইঁদুরটি এবং তার আশ পাশ হতে ফেলে দাও এবং তোমাদের অবশিষ্ট ঘি খাও। (২৩৬, ৫৫৩৮, ৫৫৩৯, ৫৫৪০ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৫)
হাদিস নং: ২৩৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله، قال حدثنا معن، قال حدثنا مالك، عن ابن شهاب، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود، عن ابن عباس، عن ميمونة، ان النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم سىل عن فارة سقطت في سمن فقال " خذوها وما حولها فاطرحوه ". قال معن حدثنا مالك ما لا احصيه يقول عن ابن عباس عن ميمونة.
২৩৬. মাইমূনাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে ’ঘি’র মধ্যে ইঁদুর পড়ে যাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেনঃ তা ও তার আশপাশ হতে ফেলে দাও। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩০)
মা’ন (রহ.) বলেন, মালিক (রহ.) আমার নিকট বহুবার এভাবে বর্ণনা করেছেনঃ ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) হতে এবং ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) মাইমূনাহ (রাযি.) হতেও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৬)
মা’ন (রহ.) বলেন, মালিক (রহ.) আমার নিকট বহুবার এভাবে বর্ণনা করেছেনঃ ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) হতে এবং ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) মাইমূনাহ (রাযি.) হতেও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৬)
হাদিস নং: ২৩৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن محمد، قال اخبرنا عبد الله، قال اخبرنا معمر، عن همام بن منبه، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " كل كلم يكلمه المسلم في سبيل الله يكون يوم القيامة كهيىتها اذ طعنت، تفجر دما، اللون لون الدم، والعرف عرف المسك ".
২৩৭. আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাস্তায় মুসলিমদের যে যখম হয়, কিয়ামতের দিন তার প্রতিটি যখম আঘাতকালীন সময়ে যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থাতেই থাকবে। রক্ত ছুটে বের হতে থাকবে। তার রং হবে রক্তের রং কিন্তু গন্ধ হবে মিশকের মত। (২৮০৩, ৫৫৩৩; মুসলিম ৩৩/২৮, হাঃ ১৮৭৬, আহমাদ ৯১৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৭)
হাদিস নং: ২৩৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، قال اخبرنا شعيب، قال اخبرنا ابو الزناد، ان عبد الرحمن بن هرمز الاعرج، حدثه انه، سمع ابا هريرة، انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " نحن الاخرون السابقون "
وباسناده قال لا يبولن احدكم في الماء الداىم الذي لا يجري ثم يغتسل فيه
وباسناده قال لا يبولن احدكم في الماء الداىم الذي لا يجري ثم يغتسل فيه
২৩৮. আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছেন যে, আমরা শেষে আগমনকারী এবং (ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসে) অগ্রবর্তী। (৮৭৬, ৮৯৬, ২৯৫৬, ৩৪৮৬, ৬৬২৪, ৬৮৮৭,৭০৩৬,৭৪৯৫ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৮)
এ সনদেই তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ যেন স্থির- যা প্রবাহিত নয় এমন পানিতে কখনো পেশাব না করে। (সম্ভবত) পরে সে আবার তাতে গোসল করবে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৮ শেষাংশ)
এ সনদেই তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ যেন স্থির- যা প্রবাহিত নয় এমন পানিতে কখনো পেশাব না করে। (সম্ভবত) পরে সে আবার তাতে গোসল করবে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৮ শেষাংশ)
হাদিস নং: ২৩৯
সহিহ (Sahih)
وباسناده قال لا يبولن احدكم في الماء الداىم الذي لا يجري ثم يغتسل فيه.
২৩৯. এ সনদেই তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ যেন স্থির- যা প্রবাহিত নয় এমন পানিতে কখনো পেশাব না করে। (সম্ভবত) পরে সে আবার তাতে গোসল করবে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৮ শেষাংশ)
হাদিস নং: ২৪০
সহিহ (Sahih)
عبدان قال اخبرني ابي عن شعبة عن ابي اسحاق عن عمرو بن ميمون عن عبد الله قال بينا رسول الله صلى الله عليه وسلم ساجد قال ح و حدثني احمد بن عثمان قال حدثنا شريح بن مسلمة قال حدثنا ابراهيم بن يوسف عن ابيه عن ابي اسحاق قال حدثني عمرو بن ميمون ان عبد الله بن مسعود حدثه ان النبي كان يصلي عند البيت وابو جهل واصحاب له جلوس اذ قال بعضهم لبعض ايكم يجيء بسلى جزور بني فلان فيضعه على ظهر محمد اذا سجد فانبعث اشقى القوم فجاء به فنظر حتى سجد النبي وضعه على ظهره بين كتفيه وانا انظر لا اغني شيىا لو كان لي منعة قال فجعلوا يضحكون ويحيل بعضهم على بعض ورسول الله صلى الله عليه وسلم ساجد لا يرفع راسه حتى جاءته فاطمة فطرحت عن ظهره فرفع رسول الله صلى الله عليه وسلم راسه ثم قال اللهم عليك بقريش ثلاث مرات فشق عليهم اذ دعا عليهم قال وكانوا يرون ان الدعوة في ذلك البلد مستجابة ثم سمى اللهم عليك بابي جهل وعليك بعتبة بن ربيعة وشيبة بن ربيعة والوليد بن عتبة وامية بن خلف وعقبة بن ابي معيط وعد السابع فلم يحفظ قال فوالذي نفسي بيده لقد رايت الذين عد رسول الله صلى الله عليه وسلم صرعى في القليب قليب بدر.
وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا رَأَى فِي ثَوْبِهِ دَمًا وَهُوَ يُصَلِّي وَضَعَهُ وَمَضَى فِي صَلاَتِهِ
وَقَالَ ابْنُ الْمُسَيَّبِ وَالشَّعْبِيُّ إِذَا صَلَّى وَفِي ثَوْبِهِ دَمٌ أَوْ جَنَابَةٌ أَوْ لِغَيْرِ الْقِبْلَةِ أَوْ تَيَمَّمَ صَلَّى ثُمَّ أَدْرَكَ الْمَاءَ فِي وَقْتِهِ لاَ يُعِيدُ.
ইবনু ’উমার (রাযি.) সালাত আদায়ের অবস্থায় তাঁর কাপড়ে রক্ত দেখলে (সেভাবেই) তা রেখে দিয়ে সেভাবে সালাত আদায় করে নিতেন।
ইবনুল মুসায়্যাব ও শা’বী (রহ.) বলেন, যখন কেউ সালাত আদায় করে আর তার কাপড়ের রক্ত অথবা জানাবাতের থাকে অথবা সে কিবলাহ ব্যতীত অন্যদিকে মুখ করে অথবা তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করে অতঃপর ওয়াক্তের মধ্যেই যদি পানি পেয়ে যায় তবে (সালাত) দুহরাবে না।
২৪০. ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদারত অবস্থায় ছিলেন। অন্য সূত্রে আহমাদ ইবনু ’উসমান (রহ.).....’আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাযি.) বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা বায়তুল্লাহর পাশে সালাত আদায় করছিলেন এবং সেখানে আবূ জাহাল ও তার সাথীরা বসা ছিল। এমন সময় তাদের একজন অন্যজনকে বলে উঠল ’তোমাদের মধ্যে কে অমুক গোত্রের উটনীর নাড়িভুঁড়ি এনে মুহাম্মাদ যখন সিজদা্ করেন তখন তার পিঠের উপর চাপিয়ে দিতে পারে’? তখন গোত্রের বড় পাষন্ড (’উকবাহ) তাড়াতাড়ি গিয়ে তা নিয়ে এল এবং তাঁর প্রতি লক্ষ্য রাখল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা্য় গেলেন, তখন সে তাঁর পিঠের উপর দুই কাঁধের মাঝখানে তা রেখে দিল। ইবনু মাস’ঊদ (রাযি.) বলেন, আমি (এ দৃশ্য) দেখছিলাম কিন্তু আমার কিছু করার ছিল না। হায়! আমার যদি বাধা দেবার শক্তি থাকত! তিনি বলেন, তারা হাসতে লাগল এবং একে অন্যের উপর লুটোপুটি খেতে লাগল। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সিজদা্য় থাকলেন, মাথা উঠালেন না। অবশেষে ফাতিমাহ (রাযি.) এসে সেটি তাঁর পিঠের উপর হতে ফেলে দিলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা উঠিয়ে বললেনঃ হে আল্লাহ! আপনি কুরায়শকে ধ্বংস করুন। এরূপ তিনবার বললেন। তিনি যখন তাদের বদ দু’আ করেন তখন তা তাদের অন্তরে ভয় জাগিয়ে তুলল। বর্ণনাকারী বলেন, তারা জানত যে, এ শহরে দু’আ কবূল হয়। অতঃপর তিনি নাম ধরে বললেনঃ হে আল্লাহ! আবূ জাহালকে ধ্বংস করুন এবং ’উতবাহ ইবনু রবী’আহ, শায়বাহ ইবনু রবী’আ, ওয়ালীদ ইবনু ’উতবাহ, উমাইয়াহ বিন খালাফ ও ’উকবাহ ইবনু আবী মু’আইতকে ধ্বংস করুন। রাবী বলেন, তিনি সপ্তম ব্যক্তির নামও বলেছিলেন কিন্তু তিনি স্মরণ রাখতে পারেননি। ইবনু মাস’ঊদ (রাযি.) বলেনঃ সেই সত্তার কসম! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের নাম উচ্চারণ করেছিলেন, তাদের আমি বাদারের কূপের মধ্যে নিহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি। (৫২০, ২৯৩৪, ৩১৮৫, ৩৮৫৪, ৩৯৬০; মুসলিম ৩২/৩৯, হাঃ ১৭৯৪, আহমাদ ৩৭২২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৯)
وَقَالَ ابْنُ الْمُسَيَّبِ وَالشَّعْبِيُّ إِذَا صَلَّى وَفِي ثَوْبِهِ دَمٌ أَوْ جَنَابَةٌ أَوْ لِغَيْرِ الْقِبْلَةِ أَوْ تَيَمَّمَ صَلَّى ثُمَّ أَدْرَكَ الْمَاءَ فِي وَقْتِهِ لاَ يُعِيدُ.
ইবনু ’উমার (রাযি.) সালাত আদায়ের অবস্থায় তাঁর কাপড়ে রক্ত দেখলে (সেভাবেই) তা রেখে দিয়ে সেভাবে সালাত আদায় করে নিতেন।
ইবনুল মুসায়্যাব ও শা’বী (রহ.) বলেন, যখন কেউ সালাত আদায় করে আর তার কাপড়ের রক্ত অথবা জানাবাতের থাকে অথবা সে কিবলাহ ব্যতীত অন্যদিকে মুখ করে অথবা তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করে অতঃপর ওয়াক্তের মধ্যেই যদি পানি পেয়ে যায় তবে (সালাত) দুহরাবে না।
২৪০. ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদারত অবস্থায় ছিলেন। অন্য সূত্রে আহমাদ ইবনু ’উসমান (রহ.).....’আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাযি.) বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা বায়তুল্লাহর পাশে সালাত আদায় করছিলেন এবং সেখানে আবূ জাহাল ও তার সাথীরা বসা ছিল। এমন সময় তাদের একজন অন্যজনকে বলে উঠল ’তোমাদের মধ্যে কে অমুক গোত্রের উটনীর নাড়িভুঁড়ি এনে মুহাম্মাদ যখন সিজদা্ করেন তখন তার পিঠের উপর চাপিয়ে দিতে পারে’? তখন গোত্রের বড় পাষন্ড (’উকবাহ) তাড়াতাড়ি গিয়ে তা নিয়ে এল এবং তাঁর প্রতি লক্ষ্য রাখল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা্য় গেলেন, তখন সে তাঁর পিঠের উপর দুই কাঁধের মাঝখানে তা রেখে দিল। ইবনু মাস’ঊদ (রাযি.) বলেন, আমি (এ দৃশ্য) দেখছিলাম কিন্তু আমার কিছু করার ছিল না। হায়! আমার যদি বাধা দেবার শক্তি থাকত! তিনি বলেন, তারা হাসতে লাগল এবং একে অন্যের উপর লুটোপুটি খেতে লাগল। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সিজদা্য় থাকলেন, মাথা উঠালেন না। অবশেষে ফাতিমাহ (রাযি.) এসে সেটি তাঁর পিঠের উপর হতে ফেলে দিলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা উঠিয়ে বললেনঃ হে আল্লাহ! আপনি কুরায়শকে ধ্বংস করুন। এরূপ তিনবার বললেন। তিনি যখন তাদের বদ দু’আ করেন তখন তা তাদের অন্তরে ভয় জাগিয়ে তুলল। বর্ণনাকারী বলেন, তারা জানত যে, এ শহরে দু’আ কবূল হয়। অতঃপর তিনি নাম ধরে বললেনঃ হে আল্লাহ! আবূ জাহালকে ধ্বংস করুন এবং ’উতবাহ ইবনু রবী’আহ, শায়বাহ ইবনু রবী’আ, ওয়ালীদ ইবনু ’উতবাহ, উমাইয়াহ বিন খালাফ ও ’উকবাহ ইবনু আবী মু’আইতকে ধ্বংস করুন। রাবী বলেন, তিনি সপ্তম ব্যক্তির নামও বলেছিলেন কিন্তু তিনি স্মরণ রাখতে পারেননি। ইবনু মাস’ঊদ (রাযি.) বলেনঃ সেই সত্তার কসম! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের নাম উচ্চারণ করেছিলেন, তাদের আমি বাদারের কূপের মধ্যে নিহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি। (৫২০, ২৯৩৪, ৩১৮৫, ৩৮৫৪, ৩৯৬০; মুসলিম ৩২/৩৯, হাঃ ১৭৯৪, আহমাদ ৩৭২২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৯)
হাদিস নং: ২৪১
সহিহ (Sahih)
محمد بن يوسف قال حدثنا سفيان عن حميد عن انس بن مالك قال بزق النبي في ثوبه قال ابو عبد الله طوله ابن ابي مريم قال اخبرنا يحيى بن ايوب حدثني حميد قال سمعت انسا عن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم
قَالَ عُرْوَةُ عَنِ الْمِسْوَرِ وَمَرْوَانَ خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم زَمَنَ حُدَيْبِيَةَ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ وَمَا تَنَخَّمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم نُخَامَةً إِلاَّ وَقَعَتْ فِي كَفِّ رَجُلٍ مِنْهُمْ فَدَلَكَ بِهَا وَجْهَهُ وَجِلْدَهُ.
’উরওয়াহ (রহ.) মিসওয়ার ও মারওয়ান (রহ.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ার সময় বের হলেন। অতঃপর পূর্ণ হাদীস বর্ণনার পর তিনি বলেন, ’আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সেদিন) যখনই কোন শিকনি ঝেড়ে ফেলছিলেন, তখন তা তাদের কারো না কারো হাতে পড়ছিল। তারপর (বরকত স্বরূপ) ঐ ব্যক্তি তা তার মুখমণ্ডল
ও শরীরে মেখে নিচ্ছিল।
২৪১. আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা তাঁর কাপড়ে থুথু ফেললেন। ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন যে, ইবনু আবূ মারইয়াম এ হাদীসটি বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন। (৪০৫, ৪১২, ৪১৩, ৪১৭, ৫৩১, ৫৩২, ৮২২, ১৬১৪ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪০)
’উরওয়াহ (রহ.) মিসওয়ার ও মারওয়ান (রহ.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ার সময় বের হলেন। অতঃপর পূর্ণ হাদীস বর্ণনার পর তিনি বলেন, ’আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সেদিন) যখনই কোন শিকনি ঝেড়ে ফেলছিলেন, তখন তা তাদের কারো না কারো হাতে পড়ছিল। তারপর (বরকত স্বরূপ) ঐ ব্যক্তি তা তার মুখমণ্ডল
ও শরীরে মেখে নিচ্ছিল।
২৪১. আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা তাঁর কাপড়ে থুথু ফেললেন। ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন যে, ইবনু আবূ মারইয়াম এ হাদীসটি বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন। (৪০৫, ৪১২, ৪১৩, ৪১৭, ৫৩১, ৫৩২, ৮২২, ১৬১৪ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪০)
হাদিস নং: ২৪২
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله، قال حدثنا سفيان، قال حدثنا الزهري، عن ابي سلمة، عن عاىشة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " كل شراب اسكر فهو حرام "
وَكَرِهَهُ الْحَسَنُ وَأَبُو الْعَالِيَةِ وَقَالَ عَطَاءٌ التَّيَمُّمُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنَ الْوُضُوءِ بِالنَّبِيذِ وَاللَّبَنِ.
হাসান (রহ.) ও আবুল ’আলিয়াহ (রহ.) একে মাকরূহ বলেছেন। ’আত্বা (রহ.) বলেনঃ নবীয এবং দুধ দিয়ে উযূ করার চেয়ে তায়াম্মুম করাই আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়।
২৪২. ’আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে সকল পানীয় নেশা সৃষ্টি করে, তা হারাম। (৫৫৮৫, ৫৫৮৬ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪১)
হাসান (রহ.) ও আবুল ’আলিয়াহ (রহ.) একে মাকরূহ বলেছেন। ’আত্বা (রহ.) বলেনঃ নবীয এবং দুধ দিয়ে উযূ করার চেয়ে তায়াম্মুম করাই আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়।
২৪২. ’আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে সকল পানীয় নেশা সৃষ্টি করে, তা হারাম। (৫৫৮৫, ৫৫৮৬ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪১)
হাদিস নং: ২৪৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد، قال اخبرنا سفيان بن عيينة، عن ابي حازم، سمع سهل بن سعد الساعدي،، وساله الناس، وما بيني وبينه احد باى شىء دووي جرح النبي صلى الله عليه وسلم فقال ما بقي احد اعلم به مني، كان علي يجيء بترسه فيه ماء، وفاطمة تغسل عن وجهه الدم، فاخذ حصير فاحرق فحشي به جرح
وَقَالَ أَبُو الْعَالِيَةِ امْسَحُوا عَلَى رِجْلِي فَإِنَّهَا مَرِيضَةٌ.
আবুল ’আলিয়াহ (রহ.) বলেনঃ আমার পায়ে ব্যথা, তোমরা আমার পা মালিশ করে দাও।
২৪৩. আবূ হাযিম বলেন যে, যখন আমার এবং সাহল ইবনু সা’দ আস-সা’ঈদী (রাযি.)-র মাঝখানে কেউ ছিল না, তখন লোকে তার নিকট আরয করলঃ (উহুদ যুদ্ধে) কী দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যখমের চিকিৎসা করা হয়েছিল? তখন তিনি বললেনঃ এ ব্যাপারে আমার চেয়ে অধিক জানে এমন কেউ জীবিত নেই। ’আলী (রাযি.) তাঁর ঢালে করে পানি আনছিলেন আর ফাতিমাহ্ (রাযি.) তাঁর মুখমণ্ডল
হতে রক্ত ধুয়ে দিলেন। অবশেষে চাটাই পুড়িয়ে (তার ছাই) তাঁর ক্ষতস্থানে দেয়া হল। (২৯০৩, ২৯১১, ৩০৩৭, ৪০৭৫, ৫২৪৮, ৫৭২২ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪২)
আবুল ’আলিয়াহ (রহ.) বলেনঃ আমার পায়ে ব্যথা, তোমরা আমার পা মালিশ করে দাও।
২৪৩. আবূ হাযিম বলেন যে, যখন আমার এবং সাহল ইবনু সা’দ আস-সা’ঈদী (রাযি.)-র মাঝখানে কেউ ছিল না, তখন লোকে তার নিকট আরয করলঃ (উহুদ যুদ্ধে) কী দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যখমের চিকিৎসা করা হয়েছিল? তখন তিনি বললেনঃ এ ব্যাপারে আমার চেয়ে অধিক জানে এমন কেউ জীবিত নেই। ’আলী (রাযি.) তাঁর ঢালে করে পানি আনছিলেন আর ফাতিমাহ্ (রাযি.) তাঁর মুখমণ্ডল
হতে রক্ত ধুয়ে দিলেন। অবশেষে চাটাই পুড়িয়ে (তার ছাই) তাঁর ক্ষতস্থানে দেয়া হল। (২৯০৩, ২৯১১, ৩০৩৭, ৪০৭৫, ৫২৪৮, ৫৭২২ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪২)
হাদিস নং: ২৪৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو النعمان، قال حدثنا حماد بن زيد، عن غيلان بن جرير، عن ابي بردة، عن ابيه، قال اتيت النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فوجدته يستن بسواك بيده يقول " اع اع "، والسواك في فيه، كانه يتهوع.
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ بِتُّ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَنَّ.
ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট রাত যাপন করেছিলাম। তখন তিনি মিসওয়াক করেন।
২৪৪. আবূ বুরদাহ (রহ.)-র পিতা [আবূ মূসা [রাঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এলাম। তখন তাঁকে দেখলাম তিনি মিসওয়াক করছেন এবং মিসওয়াক মুখে দিয়ে তিনি উ’ উ’ শব্দ করছেন যেন তিনি বমি করছেন। (মুসলিম ২/১৫, হাঃ ২৫৪, আহমাদ ১৯৭৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪৩)
ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট রাত যাপন করেছিলাম। তখন তিনি মিসওয়াক করেন।
২৪৪. আবূ বুরদাহ (রহ.)-র পিতা [আবূ মূসা [রাঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এলাম। তখন তাঁকে দেখলাম তিনি মিসওয়াক করছেন এবং মিসওয়াক মুখে দিয়ে তিনি উ’ উ’ শব্দ করছেন যেন তিনি বমি করছেন। (মুসলিম ২/১৫, হাঃ ২৫৪, আহমাদ ১৯৭৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪৩)
নোট: [১] তাহাজ্জুদের জন্য ঘুম থেকে উঠে ।
হাদিস নং: ২৪৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عثمان، قال حدثنا جرير، عن منصور، عن ابي واىل، عن حذيفة، قال كان النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم اذا قام من الليل يشوص فاه بالسواك.
২৪৫. হুযায়ফাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে (সালাতের জন্য) উঠতেন তখন মিসওয়াক দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতেন। (৮৮৯, ১১৩৬; মুসলিম ২/১৫, হাঃ ২৫৫, আহমাদ ২৩৪৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪৪)
হাদিস নং: ২৪৬
সহিহ (Sahih)
وقال عفان حدثنا صخر بن جويرية، عن نافع، عن ابن عمر، ان النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قال " اراني اتسوك بسواك، فجاءني رجلان احدهما اكبر من الاخر، فناولت السواك الاصغر منهما، فقيل لي كبر. فدفعته الى الاكبر منهما ".
قال ابو عبد الله اختصره نعيم عن ابن المبارك عن اسامة عن نافع عن ابن عمر.
قال ابو عبد الله اختصره نعيم عن ابن المبارك عن اسامة عن نافع عن ابن عمر.
২৪৬. ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি (স্বপ্নে) দেখলাম যে, আমি মিসওয়াক করছি। আমার নিকট দু’ ব্যক্তি এলেন। একজন অপরজন হতে বয়সে বড়। অতঃপর আমি তাদের মধ্যে কনিষ্ঠ ব্যক্তিকে মিসওয়াক দিতে গেলে আমাকে বলা হলো, ‘বড়কে দাও’। তখন আমি তাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে দিলাম। আবূ ‘আবদুল্লাহ বলেন, ‘নু‘আয়ম, ইবনুল মুবারাক সূত্রে ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে হাদীসটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। (মুসলিম ৪২/৪, হাঃ ২২৭১, আহমাদ ৬১০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭২ অনুচ্ছেদ)
হাদিস নং: ২৪৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن مقاتل، قال اخبرنا عبد الله، قال اخبرنا سفيان، عن منصور، عن سعد بن عبيدة، عن البراء بن عازب، قال قال النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم " اذا اتيت مضجعك فتوضا وضوءك للصلاة، ثم اضطجع على شقك الايمن، ثم قل اللهم اسلمت وجهي اليك، وفوضت امري اليك، والجات ظهري اليك، رغبة ورهبة اليك، لا ملجا ولا منجا منك الا اليك، اللهم امنت بكتابك الذي انزلت، وبنبيك الذي ارسلت. فان مت من ليلتك فانت على الفطرة، واجعلهن اخر ما تتكلم به ". قال فرددتها على النبي صلى الله عليه وسلم فلما بلغت " اللهم امنت بكتابك الذي انزلت ". قلت ورسولك. قال " لا، ونبيك الذي ارسلت
২৪৭. বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তুমি বিছানায় যাবে তখন সালাতের উযূর মতো উযূ করে নেবে। তারপর ডান পাশে শুয়ে বলবেঃ
‘‘হে আল্লাহ! আমার জীবন আপনার নিকট সমর্পণ করলাম। আমার সকল কাজ তোমার নিকট অর্পণ করলাম এবং আমি তোমার আশ্রয় গ্রহণ করলাম তোমার প্রতি আগ্রহ ও ভয় নিয়ে। তুমি ব্যতীত প্রকৃত কোন আশ্রয়স্থল ও পরিত্রাণের স্থান নেই। হে আল্লাহ! আমি ঈমান আনলাম তোমার অবতীর্ণ কিতাবের উপর এবং তোমার প্রেরিত নবীর প্রতি।’’
অতঃপর যদি সে রাতেই তোমার মৃত্যু হয় তবে ইসলামের উপর তোমার মৃত্যু হবে। এ কথাগুলো তোমার সর্বশেষ কথায় পরিণত কর। তিনি বলেন, ‘আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এ কথাগুলো পুনরায় শুনালাম। যখন اللَّهُمَّ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ পর্যন্ত পৌঁছে وَرَسُولِكَ বললাম, তখন তিনি বললেনঃ না; বরং وَنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ বল।* (৬৩১১, ৬৩১৩, ৬৩১৫, ৭৪৮৮; মুসলিম ৪৮/১৭, হাঃ ২৭১০, আহমাদ ১৮৫৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪৫)
‘‘হে আল্লাহ! আমার জীবন আপনার নিকট সমর্পণ করলাম। আমার সকল কাজ তোমার নিকট অর্পণ করলাম এবং আমি তোমার আশ্রয় গ্রহণ করলাম তোমার প্রতি আগ্রহ ও ভয় নিয়ে। তুমি ব্যতীত প্রকৃত কোন আশ্রয়স্থল ও পরিত্রাণের স্থান নেই। হে আল্লাহ! আমি ঈমান আনলাম তোমার অবতীর্ণ কিতাবের উপর এবং তোমার প্রেরিত নবীর প্রতি।’’
অতঃপর যদি সে রাতেই তোমার মৃত্যু হয় তবে ইসলামের উপর তোমার মৃত্যু হবে। এ কথাগুলো তোমার সর্বশেষ কথায় পরিণত কর। তিনি বলেন, ‘আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এ কথাগুলো পুনরায় শুনালাম। যখন اللَّهُمَّ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ পর্যন্ত পৌঁছে وَرَسُولِكَ বললাম, তখন তিনি বললেনঃ না; বরং وَنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ বল।* (৬৩১১, ৬৩১৩, ৬৩১৫, ৭৪৮৮; মুসলিম ৪৮/১৭, হাঃ ২৭১০, আহমাদ ১৮৫৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪৫)
নোট: [১] দু'আয় আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বর্ণিত শব্দের পরিবর্তন করা যাবে না। এবং দু'আ নিজ পক্ষ হতে তৈরী করাও যাবে না। কারণ 'আমল কবূলের দু'টি শর্ত রয়েছেঃ
(১) ইখলাস বা নিছক আল্লাহর উদ্দেশে হতে হবে। (২) নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের হুবহু অনুসরণ হতে হবে। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দু'আ যেভাবে শিক্ষা দিয়েছেন ঠিক সেভাবেই দু'আ পড়তে হবে। দু'আর সঙ্গে শব্দ সংযোজন বা বিয়োজন সম্পূর্ণ অবৈধ বা বিদ'আত। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে আমাদের দেশে রেডিও ও টেলিভিশনে ও বেশীরভাগ মসজিদে আযানের দু'আর মধ্যে অতিরিক্ত শব্দ সংযোজন করা হয় যা বিদ'আত। কিংবা দরুদ পাঠের সময় কিছু কিছু অতিরিক্ত বানানো শব্দ দ্বারা দরুদ পাঠ করা হয় এমনকি নতুন নতুন অনেক দরুদ তৈরী করা হয়েছে সবই বিদ'আত যা আল্লাহর রসূল শিক্ষা দেননি। কারণ, এ অতিরিক্ত শব্দগুলো ও বানানো দরুদগুলো সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়।
(১) ইখলাস বা নিছক আল্লাহর উদ্দেশে হতে হবে। (২) নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের হুবহু অনুসরণ হতে হবে। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দু'আ যেভাবে শিক্ষা দিয়েছেন ঠিক সেভাবেই দু'আ পড়তে হবে। দু'আর সঙ্গে শব্দ সংযোজন বা বিয়োজন সম্পূর্ণ অবৈধ বা বিদ'আত। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে আমাদের দেশে রেডিও ও টেলিভিশনে ও বেশীরভাগ মসজিদে আযানের দু'আর মধ্যে অতিরিক্ত শব্দ সংযোজন করা হয় যা বিদ'আত। কিংবা দরুদ পাঠের সময় কিছু কিছু অতিরিক্ত বানানো শব্দ দ্বারা দরুদ পাঠ করা হয় এমনকি নতুন নতুন অনেক দরুদ তৈরী করা হয়েছে সবই বিদ'আত যা আল্লাহর রসূল শিক্ষা দেননি। কারণ, এ অতিরিক্ত শব্দগুলো ও বানানো দরুদগুলো সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়।