হাদিস নং: ২৭৯১
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى حدثنا جرير حدثنا ابو رجاء عن سمرة قال النبي صلى الله عليه وسلم رايت الليلة رجلين اتياني فصعدا بي الشجرة فادخلاني دارا هي احسن وافضل لم ار قط احسن منها قالا اما هذه الدار فدار الشهداء
২৭৯১. সামুরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আমি আজ রাতে (স্বপ্নে) দেখতে পেলাম যে, দু’ব্যক্তি আমার নিকট এল এবং আমাকে নিয়ে একটি গাছে উঠলো। অতঃপর আমাকে এমন উৎকৃষ্ট একটি ঘরে প্রবেশ করিয়ে দিল এর আগে আমি কখনো এর চেয়ে সুন্দর ঘর দেখিনি। সে দু’ব্যক্তি আমাকে বলল, এই ঘরটি হচ্ছে শহীদদের ঘর। (৮৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৯৬)
হাদিস নং: ২৭৯২
সহিহ (Sahih)
حدثنا معلى بن اسد حدثنا وهيب حدثنا حميد عن انس بن مالك عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لغدوة في سبيل الله او روحة خير من الدنيا وما فيها
২৭৯২. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহর রাস্তায় একটি সকাল কিংবা একটি বিকাল অতিবাহিত করা দুনিয়া ও তাতে যা কিছু আছে, তার চেয়ে উত্তম। (২৭৯৬, ৬৫৬৮) (মুসলিম ৩৩/৩০ হাঃ ১৮৮০, আহমাদ ১২৩৫২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৯৭)
হাদিস নং: ২৭৯৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابراهيم بن المنذر حدثنا محمد بن فليح قال حدثني ابي عن هلال بن علي عن عبد الرحمن بن ابي عمرة عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لقاب قوس في الجنة خير مما تطلع عليه الشمس وتغرب وقال لغدوة او روحة في سبيل الله خير مما تطلع عليه الشمس وتغرب
২৭৯৩. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, জান্নাতে ধনুক পরিমাণ স্থান, তা থেকে উত্তম যার উপর সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত হয়। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বলেন, আল্লাহর রাস্তায় একটি সকাল বা একটি বিকাল অতিবাহিত করা তা থেকে উত্তম যেখানে সূর্যের উদয়াস্ত হয়। (৩২৫৩) (মুসলিম ৩৩/৩০ হাঃ ১৮৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৯৮)
হাদিস নং: ২৭৯৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا قبيصة حدثنا سفيان عن ابي حازم عن سهل بن سعد عن النبي صلى الله عليه وسلم قال الروحة والغدوة في سبيل الله افضل من الدنيا وما فيها
২৭৯৪. সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আল্লাহর রাস্তায় একটি সকাল কিংবা একটি বিকাল অতিবাহিত করা দুনিয়া ও তার ভিতরের সকল কিছু থেকে উত্তম। (২৮৯২, ৩২৫০, ৬৪১৫) (মুসলিম ৩৩/৩০ হাঃ ১৮৮১, আহমাদ ১৫৫৬০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৯৯)
হাদিস নং: ২৭৯৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد حدثنا معاوية بن عمرو حدثنا ابو اسحاق عن حميد قال سمعت انس بن مالك عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ما من عبد يموت له عند الله خير يسره ان يرجع الى الدنيا وان له الدنيا وما فيها الا الشهيد لما يرى من فضل الشهادة فانه يسره ان يرجع الى الدنيا فيقتل مرة اخرى
يُحَارُ فِيْهَا الطَّرْفُ شَدِيْدَةُ سَوَادِ الْعَيْنِ شَدِيْدَةُ بَيَاضِ الْعَيْنِ وَزَوَّجْنَاهُمْ بِحُوْرٍ أَنْكَحْنَاهُمْ
তাদের দর্শনে দৃষ্টি সুস্থির থাকে না এবং তাদের চক্ষুর কৃষ্ণাংশ অতীব কৃষ্ণ ও চক্ষুর শুভ্রাংশ অতীব শুভ্র। (এ জন্যই তাদের হুরে’ঈন বলা হয়)। وَزَوَّجْنَاهُمْ بِحُوْرٍ অর্থাৎ أَنْكَحْنَاهُمْ’’জান্নাতীদের আমি হুরে’ঈনের সঙ্গে বিয়ে করিয়ে দিব।’’
২৭৯৫. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহর কোন বান্দা এমতাবস্থায় মারা যায় যে, আল্লাহর কাছে তার সাওয়াব রয়েছে তাকে দুনিয়ার সব কিছু দিলেও দুনিয়ায় ফিরে আসতে আগ্রহী হবে না। একমাত্র শহীদ ব্যতীত। সে শাহাদাতের ফযীলত দেখার কারণে আবার দুনিয়ায় ফিরে এসে আল্লাহর পথে শহীদ হবার প্রতি আগ্রহী হবে। (২৮১৭)
তাদের দর্শনে দৃষ্টি সুস্থির থাকে না এবং তাদের চক্ষুর কৃষ্ণাংশ অতীব কৃষ্ণ ও চক্ষুর শুভ্রাংশ অতীব শুভ্র। (এ জন্যই তাদের হুরে’ঈন বলা হয়)। وَزَوَّجْنَاهُمْ بِحُوْرٍ অর্থাৎ أَنْكَحْنَاهُمْ’’জান্নাতীদের আমি হুরে’ঈনের সঙ্গে বিয়ে করিয়ে দিব।’’
২৭৯৫. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহর কোন বান্দা এমতাবস্থায় মারা যায় যে, আল্লাহর কাছে তার সাওয়াব রয়েছে তাকে দুনিয়ার সব কিছু দিলেও দুনিয়ায় ফিরে আসতে আগ্রহী হবে না। একমাত্র শহীদ ব্যতীত। সে শাহাদাতের ফযীলত দেখার কারণে আবার দুনিয়ায় ফিরে এসে আল্লাহর পথে শহীদ হবার প্রতি আগ্রহী হবে। (২৮১৭)
হাদিস নং: ২৭৯৬
সহিহ (Sahih)
قال وسمعت انس بن مالك عن النبي صلى الله عليه وسلم لروحة في سبيل الله او غدوة خير من الدنيا وما فيها ولقاب قوس احدكم من الجنة او موضع قيد يعني سوطه خير من الدنيا وما فيها ولو ان امراة من اهل الجنة اطلعت الى اهل الارض لاضاءت ما بينهما ولملاته ريحا ولنصيفها على راسها خير من الدنيا وما فيها
২৭৯৬. হুমাইদ (রহ.) বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট হতে এ কথাও বর্ণনা করতে শুনেছি যে, আল্লাহর রাস্তায় একটি সকাল অথবা একটি বিকাল অতিবাহিত করা দুনিয়া ও এর সব কিছু থেকে উত্তম। তোমাদের কারোর ধনুকের কিংবা চাবুক রাখার মত জান্নাতের জায়গাটুকু দুনিয়া ও এর সব কিছু থেকে উত্তম। জান্নাতী কোন মহিলা যদি দুনিয়াবাসীদের প্রতি উঁকি দেয় তাহলে আসমান ও যমীনের মাঝের সব কিছু আলোকিত এবং সুরভিত হয়ে যাবে। আর তার মাথার ওড়না দুনিয়া ও তার সব কিছু চেয়ে উত্তম। (২৭৯২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬০০)
হাদিস নং: ২৭৯৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني سعيد بن المسيب ان ابا هريرة قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول والذي نفسي بيده لولا ان رجالا من المومنين لا تطيب انفسهم ان يتخلفوا عني ولا اجد ما احملهم عليه ما تخلفت عن سرية تغزو في سبيل الله والذي نفسي بيده لوددت اني اقتل في سبيل الله ثم احيا ثم اقتل ثم احيا ثم اقتل ثم احيا ثم اقتل
২৭৯৭. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আমি বলতে শুনেছি যে, সেই সত্তার কসম! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, যদি মুমিনদের এমন একটি দল না থাকত, যারা যুদ্ধ থেকে বিরত থাকতে পছন্দ করে না এবং যাদের সকলকে সওয়ারী দিতে পারব না বলে আশংকা করতাম, তা হলে যারা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করছে, আমি সেই ক্ষুদ্র দলটির সঙ্গী হওয়া থেকে বিরত থাকতাম না। সেই সত্তার কসম! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমি পছন্দ করি আমাকে যেন আল্লাহর রাস্তায় শহীদ করা হয়। আবার জীবিত করা হয়, অতঃপর শহীদ করা হয়। আবার জীবিত করা হয়, পুনরায় শহীদ করা হয়। আবার জীবিত করা হয়, আবার শহীদ করা হয়। (৩৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬০১)
হাদিস নং: ২৭৯৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا يوسف بن يعقوب الصفار حدثنا اسماعيل بن علية عن ايوب عن حميد بن هلال عن انس بن مالك قال خطب النبي صلى الله عليه وسلم فقال اخذ الراية زيد فاصيب ثم اخذها جعفر فاصيب ثم اخذها عبد الله بن رواحة فاصيب ثم اخذها خالد بن الوليد عن غير امرة ففتح له وقال ما يسرنا انهم عندنا
قال ايوب او قال ما يسرهم انهم عندنا وعيناه تذرفان
قال ايوب او قال ما يسرهم انهم عندنا وعيناه تذرفان
২৭৯৮. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (মুতায় সৈন্য প্রেরণের পর) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খুত্বা দিতে গিয়ে বললেন, যায়দ (রাঃ) পতাকা ধারণ করল এবং শহীদ হল, অতঃপর জা‘ফর (রাঃ) পতাকা ধরল সেও শহীদ হল। তারপর ‘আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) পতাকা ধরল এবং সেও শহীদ হল। অতঃপর খালিদ ইবনু ওয়ালিদ (রাঃ) বিনা নির্দেশেই পতাকা ধরল এবং সে বিজয় লাভ করল। তিনি আরো বলেন, তারা আমাদের মাঝে জীবিত থাকুক তা আমাদের নিকট আনন্দদায়ক নয়।
আইয়ুব (রহ.) বলেন, অথবা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তারা আমাদের মাঝে জীবিত থাকুক তা তাদের নিকট মোটেই আনন্দদায়ক নয়, এ সময় আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চোখ থেকে অশ্রু ঝরছিল। (১২৪৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬০২)
আইয়ুব (রহ.) বলেন, অথবা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তারা আমাদের মাঝে জীবিত থাকুক তা তাদের নিকট মোটেই আনন্দদায়ক নয়, এ সময় আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চোখ থেকে অশ্রু ঝরছিল। (১২৪৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬০২)
হাদিস নং: ২৭৯৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف قال حدثني الليث حدثنا يحيى عن محمد بن يحيى بن حبان عن انس بن مالك عن خالته ام حرام بنت ملحان قالت نام النبي صلى الله عليه وسلم يوما قريبا مني ثم استيقظ يتبسم فقلت ما اضحكك قال اناس من امتي عرضوا علي يركبون هذا البحر الاخضر كالملوك على الاسرة قالت فادع الله ان يجعلني منهم فدعا لها ثم نام الثانية ففعل مثلها فقالت مثل قولها فاجابها مثلها فقالت ادع الله ان يجعلني منهم فقال انت من الاولين فخرجت مع زوجها عبادة بن الصامت غازيا اول ما ركب المسلمون البحر مع معاوية فلما انصرفوا من غزوهم قافلين فنزلوا الشام فقربت اليها دابة لتركبها فصرعتها فماتت
وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: (وَمَنْ يَخْرُجْ مِنْ بَيْتِهِ مُهَاجِرًا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ يُدْرِكْهُ الْمَوْتُ فَقَدْ وَقَعَ أَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ) وَقَعَ وَجَبَ.
আল্লাহ্ তাআলার বাণীঃ ’’যে ব্যক্তি নিজ ঘর থেকে বের হবে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হিজরত করার জন্য, তারপর সে মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তার প্রতিদান অবধারিত হয়ে আছে আল্লাহর কাছে।’’ (আন-নিসা ১০০)
২৭৯৯-২৮০০. উম্মু হারাম বিনতু মিলহান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার নিকটবর্তী এক স্থানে শুয়েছিলেন, অতঃপর জেগে উঠে মুচকি হাসতে লাগলেন। আমি বললাম আপনি হাসলেন কেন? তিনি বললেন, আমার উম্মাতের এমন কিছু লোককে আমার সামনে উপস্থিত করা হলো যারা এই নীল সমুদ্রে আরোহণ করছে, যেমন বাদশাহ সিংহাসনে আরোহণ করে। উম্মু হারাম (রাঃ) বললেন, আল্লাহর নিকট দুআ করুন, তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি তার জন্য দুআ করলেন। অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার নিদ্রা গেলেন এবং আগের মতই করলেন। উম্মু হারাম (রাঃ) আগের মতই বললেন এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আগের মতই জবাব দিলেন। উম্মু হারাম (রাঃ) বললেন, আল্লাহর নিকট দুআ করুন তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মু’আবিয়াহ (রাঃ)-এর সঙ্গে মুসলিমরা যখন প্রথম সমুদ্র পথে অভিযানে বের হয়, তখন তিনি তাঁর স্বামী ’উবাদাহ ইবনু সামিতের সঙ্গে যুদ্ধে গিয়েছিলেন। যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে তাদের কাফেলা সিরিয়ায় যাত্রা বিরতি করে। আরোহণের জন্য উম্মু হারামকে একটি সওয়ারী দেয়া হলো, তিনি সওয়ারীর উপর থেকে পড়ে মারা গেলেন। (২৭৮৮, ২৭৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬০৩)
আল্লাহ্ তাআলার বাণীঃ ’’যে ব্যক্তি নিজ ঘর থেকে বের হবে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হিজরত করার জন্য, তারপর সে মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তার প্রতিদান অবধারিত হয়ে আছে আল্লাহর কাছে।’’ (আন-নিসা ১০০)
২৭৯৯-২৮০০. উম্মু হারাম বিনতু মিলহান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার নিকটবর্তী এক স্থানে শুয়েছিলেন, অতঃপর জেগে উঠে মুচকি হাসতে লাগলেন। আমি বললাম আপনি হাসলেন কেন? তিনি বললেন, আমার উম্মাতের এমন কিছু লোককে আমার সামনে উপস্থিত করা হলো যারা এই নীল সমুদ্রে আরোহণ করছে, যেমন বাদশাহ সিংহাসনে আরোহণ করে। উম্মু হারাম (রাঃ) বললেন, আল্লাহর নিকট দুআ করুন, তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি তার জন্য দুআ করলেন। অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার নিদ্রা গেলেন এবং আগের মতই করলেন। উম্মু হারাম (রাঃ) আগের মতই বললেন এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আগের মতই জবাব দিলেন। উম্মু হারাম (রাঃ) বললেন, আল্লাহর নিকট দুআ করুন তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মু’আবিয়াহ (রাঃ)-এর সঙ্গে মুসলিমরা যখন প্রথম সমুদ্র পথে অভিযানে বের হয়, তখন তিনি তাঁর স্বামী ’উবাদাহ ইবনু সামিতের সঙ্গে যুদ্ধে গিয়েছিলেন। যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে তাদের কাফেলা সিরিয়ায় যাত্রা বিরতি করে। আরোহণের জন্য উম্মু হারামকে একটি সওয়ারী দেয়া হলো, তিনি সওয়ারীর উপর থেকে পড়ে মারা গেলেন। (২৭৮৮, ২৭৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬০৩)
হাদিস নং: ২৮০০
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف قال حدثني الليث حدثنا يحيى عن محمد بن يحيى بن حبان عن انس بن مالك عن خالته ام حرام بنت ملحان قالت نام النبي صلى الله عليه وسلم يوما قريبا مني ثم استيقظ يتبسم فقلت ما اضحكك قال اناس من امتي عرضوا علي يركبون هذا البحر الاخضر كالملوك على الاسرة قالت فادع الله ان يجعلني منهم فدعا لها ثم نام الثانية ففعل مثلها فقالت مثل قولها فاجابها مثلها فقالت ادع الله ان يجعلني منهم فقال انت من الاولين فخرجت مع زوجها عبادة بن الصامت غازيا اول ما ركب المسلمون البحر مع معاوية فلما انصرفوا من غزوهم قافلين فنزلوا الشام فقربت اليها دابة لتركبها فصرعتها فماتت
২৭৯৯-২৮০০. উম্মু হারাম বিনতু মিলহান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার নিকটবর্তী এক স্থানে শুয়েছিলেন, অতঃপর জেগে উঠে মুচকি হাসতে লাগলেন। আমি বললাম আপনি হাসলেন কেন? তিনি বললেন, আমার উম্মাতের এমন কিছু লোককে আমার সামনে উপস্থিত করা হলো যারা এই নীল সমুদ্রে আরোহণ করছে, যেমন বাদশাহ সিংহাসনে আরোহণ করে। উম্মু হারাম (রাঃ) বললেন, আল্লাহর নিকট দুআ করুন, তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি তার জন্য দুআ করলেন। অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার নিদ্রা গেলেন এবং আগের মতই করলেন। উম্মু হারাম (রাঃ) আগের মতই বললেন এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আগের মতই জবাব দিলেন। উম্মু হারাম (রাঃ) বললেন, আল্লাহর নিকট দুআ করুন তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মু‘আবিয়াহ (রাঃ)-এর সঙ্গে মুসলিমরা যখন প্রথম সমুদ্র পথে অভিযানে বের হয়, তখন তিনি তাঁর স্বামী ‘উবাদাহ ইবনু সামিতের সঙ্গে যুদ্ধে গিয়েছিলেন। যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে তাদের কাফেলা সিরিয়ায় যাত্রা বিরতি করে। আরোহণের জন্য উম্মু হারামকে একটি সওয়ারী দেয়া হলো, তিনি সওয়ারীর উপর থেকে পড়ে মারা গেলেন। (২৭৮৮, ২৭৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬০৩)
হাদিস নং: ২৮০১
সহিহ (Sahih)
حدثنا حفص بن عمر الحوضي حدثنا همام عن اسحاق عن انس قال بعث النبي صلى الله عليه وسلم اقواما من بني سليم الى بني عامر في سبعين فلما قدموا قال لهم خالي اتقدمكم فان امنوني حتى ابلغهم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم والا كنتم مني قريبا فتقدم فامنوه فبينما يحدثهم عن النبي صلى الله عليه وسلم اذ اومىوا الى رجل منهم فطعنه فانفذه فقال الله اكبر فزت ورب الكعبة ثم مالوا على بقية اصحابه فقتلوهم الا رجلا اعرج صعد الجبل قال همام فاراه اخر معه فاخبر جبريل عليه السلام النبي صلى الله عليه وسلم انهم قد لقوا ربهم فرضي عنهم وارضاهم فكنا نقرا ان بلغوا قومنا ان قد لقينا ربنا فرضي عنا وارضانا ثم نسخ بعد فدعا عليهم اربعين صباحا على رعل وذكوان وبني لحيان وبني عصية الذين عصوا الله ورسوله صلى الله عليه وسلم
২৮০১. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বানূ সুলায়মের সত্তর জন লোকের একটি দলকে কুরআন শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে বানূ ‘আমিরের নিকট পাঠান। দলটি সেখানে পৌঁছলে আমার মামা (হারাম ইবনু মিলহান) তাদেরকে বললেন, আমি সর্বাগ্রে বনূ ‘আমিরের নিকট যাব। যদি তারা আমাকে নিরাপত্তা দেয় আর আমি তাদের নিকট আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী পৌঁছাতে পারি, (তবে তো ভাল) অন্যথায় তোমরা আমার কাছেই থাকবে। অতঃপর তিনি এগিয়ে গেলেন। কাফিররা তাঁকে নিরাপত্তা দিল, কিন্তু তিনি যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী শুনাতে লাগলেন, সেই সময় ‘আমির গোত্রীয়রা এক ব্যক্তিকে ইঙ্গিত করলো। আর সেই ব্যক্তি তার প্রতি তীর মারল এবং তীর শরীর ভেদ করে বের হয়ে গেল। তখন তিনি বললেন আল্লাহু আকবার, কাবার রবের কসম! আমি সফলকাম হয়েছি। অতঃপর কাফিররা তার অন্যান্য সংগীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং সকলকে শহীদ করল, কিন্তু একজন খোঁড়া ব্যক্তি বেঁচে গেলেন, তিনি পাহাড়ে আরোহণ করেছিলেন। হাম্মাম (রহ.) অতিরিক্ত উল্লেখ করেন, আমার মনে হয় তার সঙ্গে অন্য একজন ছিলেন। অতঃপর জিব্রাঈল (আঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে খবর দিলেন যে, প্রেরিত দলটি তাদের রবের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। তিনি (রব) তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাদের সন্তুষ্ট করেছেন। (রাবী বলেন) আমরা এই আয়াতটি পাঠ করতাম, আমাদের কাওমকে জানিয়ে দাও যে, আমরা আমাদের রবের সঙ্গে মিলিত হয়েছি। তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং আমাদেরও সন্তুষ্ট করেছেন। পরে এ আয়াতটি মানসুখ হয়ে যায়। অতঃপর আল্লাহ্ ও রাসূলের প্রতি বিরুদ্ধাচরণ করার কারণে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ক্রমাগত চল্লিশ দিন রি‘ল, যাকওয়ান, বানূ লিহয়ান ও বানূ উসাইয়্যার বিরুদ্ধে দুআ করেন। (১০০১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬০৪)
হাদিস নং: ২৮০২
সহিহ (Sahih)
.حدثنا موسى بن اسماعيل حدثنا ابو عوانة عن الاسود بن قيس عن جندب بن سفيان ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان في بعض المشاهد وقد دميت اصبعه فقال :
هل انت الا اصبع دمـيت وفي سبيل الله ما لقيت
هل انت الا اصبع دمـيت وفي سبيل الله ما لقيت
২৮০২. জুনদুব ইবনু সুফিয়ান (রাঃ) হতে বর্ণিত। কোন এক যুদ্ধে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একটি আঙ্গুল রক্তাক্ত হলে তিনি বলেছিলেনঃ
তুমি একটি আঙ্গুল ছাড়া কিছু নও;
তুমি রক্তাক্ত হয়েছ আল্লাহরই পথে।
(৬১৪৬) (মুসলিম ৩২/৩৯ হাঃ ১৭৯৬, আহমাদ ১৮৮৩০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬০৫)
তুমি একটি আঙ্গুল ছাড়া কিছু নও;
তুমি রক্তাক্ত হয়েছ আল্লাহরই পথে।
(৬১৪৬) (মুসলিম ৩২/৩৯ হাঃ ১৭৯৬, আহমাদ ১৮৮৩০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬০৫)
হাদিস নং: ২৮০৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن ابي الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال والذي نفسي بيده لا يكلم احد في سبيل الله والله اعلم بمن يكلم في سبيله الا جاء يوم القيامة واللون لون الدم والريح ريح المسك
২৮০৩. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, কোন ব্যক্তি আল্লাহর পথে আহত হলে এবং আল্লাহ্ই ভাল জানেন কে তাঁর পথে আহত হবে কিয়ামতের দিন সে তাজা রক্ত বর্ণে রঞ্জিত হয়ে আসবে এবং তা থেকে মিশ্কের সুগন্ধি ছড়াবে। (২৩৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬০৬)
হাদিস নং: ২৮০৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن بكير حدثنا الليث قال حدثني يونس عن ابن شهاب عن عبيد الله بن عبد الله ان عبد الله بن عباس اخبره ان ابا سفيان بن حرب اخبره ان هرقل قال له سالتك كيف كان قتالكم اياه فزعمت ان الحرب سجال ودول فكذلك الرسل تبتلى ثم تكون لهم العاقبة
وَالْحَرْبُ سِجَالٌ
যুদ্ধ হচ্ছে বড় পানি পাত্রের মত।
২৮০৪. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। আবূ সুফ্ইয়ান ইবনু হারব (রাঃ) তাঁকে জানিয়েছেন যে, হিরাকল তাঁকে বলেছিলেন, আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, তাঁর সঙ্গে তোমাদের যুদ্ধের ফলাফল কিরূপ ছিল? তুমি বলেছ যে, যুদ্ধ বড় পানির পাত্র এবং ধন সম্পদের মত। রাসূলগণ এভাবেই পরীক্ষিত হয়ে থাকেন। অতঃপর ভাল পরিণতি তাঁদেরই হয়। (৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬০৭)
যুদ্ধ হচ্ছে বড় পানি পাত্রের মত।
২৮০৪. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। আবূ সুফ্ইয়ান ইবনু হারব (রাঃ) তাঁকে জানিয়েছেন যে, হিরাকল তাঁকে বলেছিলেন, আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, তাঁর সঙ্গে তোমাদের যুদ্ধের ফলাফল কিরূপ ছিল? তুমি বলেছ যে, যুদ্ধ বড় পানির পাত্র এবং ধন সম্পদের মত। রাসূলগণ এভাবেই পরীক্ষিত হয়ে থাকেন। অতঃপর ভাল পরিণতি তাঁদেরই হয়। (৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬০৭)
হাদিস নং: ২৮০৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن سعيد الخزاعي، حدثنا عبد الاعلى، عن حميد، قال سالت انسا. حدثنا عمرو بن زرارة، حدثنا زياد، قال حدثني حميد الطويل، عن انس ـ رضى الله عنه ـ قال غاب عمي انس بن النضر عن قتال بدر فقال يا رسول الله، غبت عن اول قتال قاتلت المشركين، لىن الله اشهدني قتال المشركين ليرين الله ما اصنع، فلما كان يوم احد وانكشف المسلمون قال " اللهم اني اعتذر اليك مما صنع هولاء ـ يعني اصحابه ـ وابرا اليك مما صنع هولاء " ـ يعني المشركين ـ ثم تقدم، فاستقبله سعد بن معاذ، فقال يا سعد بن معاذ، الجنة، ورب النضر اني اجد ريحها من دون احد. قال سعد فما استطعت يا رسول الله ما صنع. قال انس فوجدنا به بضعا وثمانين ضربة بالسيف او طعنة برمح او رمية بسهم، ووجدناه قد قتل وقد مثل به المشركون، فما عرفه احد الا اخته ببنانه. قال انس كنا نرى او نظن ان هذه الاية نزلت فيه وفي اشباهه (من المومنين رجال صدقوا ما عاهدوا الله عليه) الى اخر الاية.
২৮০৫. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার চাচা আনাস ইবনু নাযার (রাঃ) বাদারের যুদ্ধের সময় অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! মুশরিকদের সঙ্গে আপনি প্রথম যে যুদ্ধ করেছেন, আমি সে সময় অনুপস্থিত ছিলাম। আল্লাহ্ যদি আমাকে মুশরিকদের বিরুদ্ধে কোন যুদ্ধে শরীক হবার সুযোগ দেন, তাহলে অবশ্যই আল্লাহ্ দেখতে পাবেন যে, আমি কী করি।’
অতঃপর উহুদের যুদ্ধে মুসলিমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে আনাস ইবনু নাযার (রাঃ) বলেছিলেন, আল্লাহ্! এরা অর্থাৎ তাঁর সাহাবীরা যা করেছেন, তার সম্বন্ধে আপনার নিকট ওযর পেশ করছি এবং এরা অর্থাৎ মুশরিকরা যা করেছে তা থেকে আমি নিজেকে সম্পর্কহীন বলে ঘোষণা করছি। অতঃপর তিনি এগিয়ে গেলেন, এবং সা‘দ ইবনু মু‘আযের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হলো। তিনি বললেন, হে সা‘দ ইবনু মু‘আয, (আমার কাম্য)। নাযারের রবের কসম, উহুদের দিক থেকে আমি জান্নাতের সুগন্ধ পাচ্ছি।
সা‘দ (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি যা করেছেন, আমি তা করতে পারিনি। আনাস (রাঃ) বলেন, আমরা তাকে এমতাবস্থায় পেয়েছি যে, তার দেহে আশিটিরও অধিক তলোয়ার, বর্শা ও তীরের যখম রয়েছে। আমরা তাকে নিহত অবস্থায় পেলাম। মুশরিকরা তার দেহ বিকৃত করে দিয়েছিল। তার বোন ব্যতীত কেউ তাকে চিনতে পারেনি এবং বোন তার আঙ্গুলের ডগা দেখে চিনতে পেরেছিল। আনাস (রাঃ) বলেন, আমাদের ধারণা, কুরআনের এই আয়াতটি তাঁর এবং তাঁর মত মুমিনদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। ‘‘মু’মিনদের মধ্য হতে কিছু সংখ্যক আল্লাহর সঙ্গে তাদের কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে।’’ (আল-আহযাবঃ ২৩) (৪০৪৮, ৪৭৮৩, মুসলিম ৩৩/৪১ হাঃ ১৯০৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৯৬ প্রথমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬০৮ প্রথমাংশ)
অতঃপর উহুদের যুদ্ধে মুসলিমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে আনাস ইবনু নাযার (রাঃ) বলেছিলেন, আল্লাহ্! এরা অর্থাৎ তাঁর সাহাবীরা যা করেছেন, তার সম্বন্ধে আপনার নিকট ওযর পেশ করছি এবং এরা অর্থাৎ মুশরিকরা যা করেছে তা থেকে আমি নিজেকে সম্পর্কহীন বলে ঘোষণা করছি। অতঃপর তিনি এগিয়ে গেলেন, এবং সা‘দ ইবনু মু‘আযের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হলো। তিনি বললেন, হে সা‘দ ইবনু মু‘আয, (আমার কাম্য)। নাযারের রবের কসম, উহুদের দিক থেকে আমি জান্নাতের সুগন্ধ পাচ্ছি।
সা‘দ (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি যা করেছেন, আমি তা করতে পারিনি। আনাস (রাঃ) বলেন, আমরা তাকে এমতাবস্থায় পেয়েছি যে, তার দেহে আশিটিরও অধিক তলোয়ার, বর্শা ও তীরের যখম রয়েছে। আমরা তাকে নিহত অবস্থায় পেলাম। মুশরিকরা তার দেহ বিকৃত করে দিয়েছিল। তার বোন ব্যতীত কেউ তাকে চিনতে পারেনি এবং বোন তার আঙ্গুলের ডগা দেখে চিনতে পেরেছিল। আনাস (রাঃ) বলেন, আমাদের ধারণা, কুরআনের এই আয়াতটি তাঁর এবং তাঁর মত মুমিনদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। ‘‘মু’মিনদের মধ্য হতে কিছু সংখ্যক আল্লাহর সঙ্গে তাদের কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে।’’ (আল-আহযাবঃ ২৩) (৪০৪৮, ৪৭৮৩, মুসলিম ৩৩/৪১ হাঃ ১৯০৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৯৬ প্রথমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬০৮ প্রথমাংশ)
হাদিস নং: ২৮০৬
সহিহ (Sahih)
. وقال ان اخته وهي تسمى الربيع كسرت ثنية امراة فامر رسول الله صلى الله عليه وسلم بالقصاص فقال انس يا رسول الله والذي بعثك بالحق لا تكسر ثنيتها فرضوا بالارش وتركوا القصاص فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان من عباد الله من لو اقسم على الله لابره
২৮০৬. আনাস (রাঃ) আরো বলেন, রুবায়্যি‘ নামক তার এক বোন কোন এক মহিলার সামনের দাঁত ভেঙ্গে দিলে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার কিসাসের নির্দেশ দিলেন, আনাস (রাঃ) বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, তার দাঁত ভাঙ্গা হবে না।’ পরবর্তীতে তার বাদীপক্ষ কিসাসের পরিবর্তে ক্ষতিপূরণ নিতে রাযী হলে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, নিশ্চয় আল্লাহর বান্দাহ্দের মধ্যে এমন ব্যক্তিও আছে যে আল্লাহর নামে শপথ করলে তিনি তার শপথ রক্ষা করেন [সে কারণ তাকে আর সে শপথ (কসম) ভঙ্গ করতে হয় না] (২৭০৩, মুসলিম ২৮/৫ হাঃ ১৯০৩, আহমাদ ১৪০৩০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬০৮)
হাদিস নং: ২৮০৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، حدثني اسماعيل، قال حدثني اخي، عن سليمان، اراه عن محمد بن ابي عتيق، عن ابن شهاب، عن خارجة بن زيد، ان زيد بن ثابت ـ رضى الله عنه ـ قال نسخت الصحف في المصاحف، ففقدت اية من سورة الاحزاب، كنت اسمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرا بها، فلم اجدها الا مع خزيمة بن ثابت الانصاري الذي جعل رسول الله صلى الله عليه وسلم شهادته شهادة رجلين، وهو قوله (من المومنين رجال صدقوا ما عاهدوا الله عليه)
২৮০৭. যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কুরআনের আয়াতসমূহ একত্রিত করে একটি মুসহাফে লিপিবদ্ধ করলাম, তখন সূরা আহযাবের একটি আয়াত আমি পেলাম না যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে পড়তে শুনেছি। একমাত্র খুযাইমাহ বিন সাবিত আনসারী (রাঃ)-এর নিকট পেলাম। যার সাক্ষ্যকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দু’ব্যক্তির সাক্ষ্যের সমান গণ্য করেছিলেন। সে আয়াতটি হলোঃ ‘‘মু’মিনদের মধ্য হতে কিছু সংখ্যক আল্লাহর সঙ্গে তাদের কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে।’’ (আল-আহযাবঃ ২৩)। (৪০৪৯, ৪৬৭৯, ৪৭৮৪, ৪৯৮৬, ৪৯৮৮, ৪৯৮৯, ৭১৯১, ৭৪২৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬০৯)
হাদিস নং: ২৮০৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن عبد الرحيم حدثنا شبابة بن سوار الفزاري حدثنا اسراىيل عن ابي اسحاق قال سمعت البراء يقول اتى النبي صلى الله عليه وسلم رجل مقنع بالحديد فقال يا رسول الله اقاتل او اسلم قال اسلم ثم قاتل فاسلم ثم قاتل فقتل فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم عمل قليلا واجر كثيرا
وَقَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ إِنَّمَا تُقَاتِلُوْنَ بِأَعْمَالِكُمْ وَقَوْلُهُ ( يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لِمَ تَقُوْلُوْنَ مَا لَا تَفْعَلُوْنَ كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللهِ أَنْ تَقُوْلُوْا مَا لَا تَفْعَلُوْنَ إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الَّذِيْنَ يُقٰتِلُوْنَ فِيْ سَبِيْلِهِ صَفًّا كَأَنَّهُمْ بُنْيَانٌ مَّرْصُوْصٌ)
আবুদ দারদা (রাঃ) বলেন, ‘আমল অনুসারে তোমরা জিহাদ করে থাকো। আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা যা কর না, তা তোমরা কেন বল? তোমরা যা করনা তোমাদের তা বলা আল্লাহর নিকট অতিশয় অসন্তোষজনক। যারা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করে সারিবদ্ধভাবে সীসা গলানো সুদৃঢ় প্রাচীরের মত, আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন। (আস্ সফ ২-৩)
২৮০৮. বারা’ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লৌহ বর্মে আবৃত এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি যুদ্ধে শরীক হবো, না ইসলাম গ্রহণ করব?’ তিনি বললেন, ‘ইসলাম গ্রহণ কর, অতঃপর যুদ্ধে যাও।’ অতঃপর সে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে যুদ্ধে গেল এবং শাহাদাত লাভ করল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘সে কম আমল করে অধিক পুরস্কার পেল।’ (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫১০)
আবুদ দারদা (রাঃ) বলেন, ‘আমল অনুসারে তোমরা জিহাদ করে থাকো। আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা যা কর না, তা তোমরা কেন বল? তোমরা যা করনা তোমাদের তা বলা আল্লাহর নিকট অতিশয় অসন্তোষজনক। যারা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করে সারিবদ্ধভাবে সীসা গলানো সুদৃঢ় প্রাচীরের মত, আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন। (আস্ সফ ২-৩)
২৮০৮. বারা’ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লৌহ বর্মে আবৃত এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি যুদ্ধে শরীক হবো, না ইসলাম গ্রহণ করব?’ তিনি বললেন, ‘ইসলাম গ্রহণ কর, অতঃপর যুদ্ধে যাও।’ অতঃপর সে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে যুদ্ধে গেল এবং শাহাদাত লাভ করল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘সে কম আমল করে অধিক পুরস্কার পেল।’ (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫১০)
হাদিস নং: ২৮০৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن عبد الله حدثنا حسين بن محمد ابو احمد حدثنا شيبان عن قتادة حدثنا انس بن مالك ان ام الربيع بنت البراء وهي ام حارثة بن سراقة اتت النبي صلى الله عليه وسلم فقالت يا نبي الله الا تحدثني عن حارثة وكان قتل يوم بدر اصابه سهم غرب فان كان في الجنة صبرت وان كان غير ذلك اجتهدت عليه في البكاء قال يا ام حارثة انها جنان في الجنة وان ابنك اصاب الفردوس الاعلى
২৮০৯. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। উম্মু রুবায়্যি বিনতে বারা, যিনি হারিস ইবনু সুরাকার মা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলেন, ‘হে আল্লাহর নবী! আপনি হারিসাহ (রাঃ) সম্পর্কে আমাকে কিছু বলবেন কি? হারিসা (রাঃ) বাদারের যুদ্ধে অজ্ঞাত তীরের আঘাতে শাহাদাত লাভ করেন। সে যদি জান্নাতবাসী হয়ে থাকে তবে আমি সবর করব, তা না হলে আমি তার জন্য অবিরাম কাঁদতে থাকবো।’ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘হে হারিসার মা! জান্নাতে অসংখ্য বাগান আছে, আর তোমার ছেলে সর্বোচ্চ জান্নাতুল ফেরদাউস পেয়ে গেছে।’ (৩৯৮২, ৬৫৫০, ৬৫৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬১১)
হাদিস নং: ২৮১০
সহিহ (Sahih)
حدثنا سليمان بن حرب حدثنا شعبة عن عمرو عن ابي واىل عن ابي موسى قال جاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال الرجل يقاتل للمغنم والرجل يقاتل للذكر والرجل يقاتل ليرى مكانه فمن في سبيل الله قال من قاتل لتكون كلمة الله هي العليا فهو في سبيل الله
২৮১০. আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, এক ব্যক্তি গনীমতের জন্য, এক ব্যক্তি প্রসিদ্ধ হওয়ার জন্য এবং এক ব্যক্তি বীরত্ব দেখানোর জন্য জিহাদে শরীক হলো। তাদের মধ্যে কে আল্লাহর পথে জিহাদ করল? তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কলিমা বুলন্দ থাকার উদ্দেশে যুদ্ধ করল, সে-ই আল্লাহর পথে জিহাদ করল।’ (১২৩) (মুসলিম ৩৩/৪২ হাঃ ১৯০৪, আহমাদ ১৯৬১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬১২)