অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৫৬/১. জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার
মোট ৩০৯ টি হাদিস
হাদিস নং: ২৮১১ সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق اخبرنا محمد بن المبارك حدثنا يحيى بن حمزة قال حدثني يزيد بن ابي مريم اخبرنا عباية بن رفاعة بن رافع بن خديج قال اخبرني ابو عبس هو عبد الرحمن بن جبر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ما اغبرت قدما عبد في سبيل الله فتمسه النار
مَا كَانَ لِأَهْلِ الْمَدِيْنَةِ وَمَنْ حَوْلَهُمْ مِنَ الْأَعْرَابِ أَنْ يَّتَخَلَّفُوْا عَنْ رَّسُوْلِ اللهِ وَلَا يَرْغَبُوْا بِأَنْفُسِهِمْ عَنْ نَّفْسِهِ ذٰلِكَ (بِأَنَّهُمْ لَا يُصِيْبُهُمْ ظَمَأٌ وَّلَا نَصَبٌ وَّلَا مَخْمَصَةٌ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ وَلَا يَطَأُوْنَ مَوْطِئاً يُّغِيْظُ الْكُفَّارَ وَلَا يَنَالُوْنَ مِنْ عَدُوٍّ نَيْلًا إِلَّا كُتِبَ لَهُمْ بِهِ عَمَلٌ صَالِحٌ إِنَّ اللهَ لا يُضِيْعُ أَجْرَ الْمُحْسِنِيْنَ))

আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ মদিনা্বাসী ও তাদের পার্শ্ববর্তী মরুবাসীদের পক্ষে সমীচীন নয় আল্লাহর রাসূলের সঙ্গ ত্যাগ করে পেছনে থেকে যাওয়া, রাসূলের জীবনের চেয়ে নিজেদের জীবনকে প্রিয় মনে করা। এ কারণে যে, আল্লাহর পথে তাদের যে পিপাসা, ক্লান্তি ও ক্ষুধা ক্লিষ্ট করে এবং তাদের এমন পদক্ষেপ যা কাফিরদের ক্রোধের উদ্রেক করে, আর শত্রু পক্ষ থেকে যা কিছু তারা প্রাপ্ত হয়, তার প্রতিটির বিনিময়ে তাদের জন্য একটি নেক ‘আমল লিখিত হয়। নিশ্চয় আল্লাহ নেককারদের শ্রমফল বিনষ্ট করেন না। (আত্ তওবা ১২০)


২৮১১. ‘আবদুর রাহমান ইবনু জাবর (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘আল্লাহর পথে যে বান্দার দু’পা ধূলায় মলিন হয়, তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে এমন হয় না।’ (৯০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬১৩)

 
হাদিস নং: ২৮১২ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابراهيم بن موسى اخبرنا عبد الوهاب حدثنا خالد عن عكرمة ان ابن عباس قال له ولعلي بن عبد الله اىتيا ابا سعيد فاسمعا من حديثه فاتيناه وهو واخوه في حاىط لهما يسقيانه فلما رانا جاء فاحتبى وجلس فقال كنا ننقل لبن المسجد لبنة لبنة وكان عمار ينقل لبنتين لبنتين فمر به النبي صلى الله عليه وسلم ومسح عن راسه الغبار وقال ويح عمار تقتله الفىة الباغية عمار يدعوهم الى الله ويدعونه الى النار
২৮১২. ‘ইকরিমাহ (রহ.) বর্ণনা করেন যে, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) তাকে ও ‘আলী ইবনু ‘আবদুল্লাহ্কে বলেছিলেন যে, তোমরা আবূ সা‘ঈদ (রাঃ)-এর নিকট যাও এবং তার কিছু বর্ণনা শোন। অতঃপর আমরা তার নিকট গেলাম। সে সময় তিনি ও তার ভাই বাগানে পানি সেচের কাজে ছিলেন। আমাদের দেখে তিনি আসলেন এবং দু’ হাঁটু বুকের সঙ্গে লাগিয়ে বসে বললেন, মসজিদে নববীর জন্য আমরা এক একটি করে ইট বহন করছিলাম। আর ‘আম্মার (রাঃ) দু’ দু’টি করে বহন করছিল। সে সময় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার পাশ দিয়ে গেলেন এবং তার মাথা থেকে ধূলাবালি মুছলেন এবং বললেন, আম্মারের জন্য বড় দুঃখ হয়, বিদ্রোহী দল তাকে হত্যা করবে। সে (‘আম্মার) (রাঃ) তাদেরকে আল্লাহর দিকে ডাকবে এবং তারা আম্মারকে জাহান্নামের দিকে ডাকবে। (৪৪৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬১৪)
হাদিস নং: ২৮১৩ সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن سلام اخبرنا عبدة عن هشام بن عروة عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها ان رسول الله لما رجع يوم الخندق ووضع السلاح واغتسل فاتاه جبريل وقد عصب راسه الغبار فقال وضعت السلاح فوالله ما وضعته فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم فاين قال ها هنا واوما الى بني قريظة قالت فخرج اليهم رسول الله صلى الله عليه وسلم
২৮১৩. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। খন্দকের যুদ্ধ থেকে যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফিরে এসে অস্ত্র রাখলেন এবং গোসল করলেন, তখন জিব্রীল (আঃ) তাঁর নিকট এলেন, আর তাঁর মাথায় পট্টির মত ধুলি জমেছিল। তিনি বললেন, আপনি অস্ত্র রেখে দিয়েছেন অথচ আল্লাহর কসম, আমি এখনো অস্ত্র রাখিনি। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, কোথায় যেতে হবে? তিনি বানূ কুরায়যার প্রতি ইশারা করে বললেন, এদিকে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের দিকে বেরিয়ে পড়লেন। (৪৬৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬১৫)
হাদিস নং: ২৮১৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل بن عبد الله قال حدثني مالك عن اسحاق بن عبد الله بن ابي طلحة عن انس بن مالك قال دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم على الذين قتلوا اصحاب بىر معونة ثلاثين غداة على رعل وذكوان وعصية عصت الله ورسوله قال انس انزل في الذين قتلوا ببىر معونة قران قراناه ثم نسخ بعد بلغوا قومنا ان قد لقينا ربنا فرضي عنا ورضينا عنه
(وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِيْنَ قُتِلُوْا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ أَمْوَاتًام بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُوْنَ فَرِحِيْنَ بِمَا اٰتَاهُمْ اللهُ مِنْ فَضْلِهِ  وَيَسْتَبْشِرُوْنَ بِالَّذِيْنَ لَمْ يَلْحَقُوْا بِهِمْ مِنْ خَلْفِهِمْ أَلَّا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُوْنَ يَسْتَبْشِرُوْنَ بِنِعْمَةٍ مِّنَ اللهِ وَفَضْلٍ وَأَنَّ اللهَ لَا يُضِيْعُ أَجْرَ الْمُؤْمِنِيْنَ)

যারা আল্লাহর পথে নিহত হয় তোমরা কখনও তাদের মৃত ধারণা কর না। বরং তারা তাদের রবের কাছে জীবিত এবং জীবিকাপ্রাপ্ত। তারা পরিতুষ্ট তাতে যা আল্লাহ তাদের দান করেছেন নিজ অনুগ্রহে এবং তারা আনন্দ প্রকাশ করছে তাদের ব্যাপারে যারা এখনও তাদের সাথে মিলিত হয়নি, তাদের পেছনে রয়ে গেছে। কারণ তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না। তারা আনন্দ প্রকাশ করে আল্লাহর তরফ থেকে নিয়ামাত ও অনুগ্রহ লাভের জন্য। আর আল্লাহ তো মু’মিনদের শ্রমফল বিনষ্ট করেন না। (আলে ‘ইমরান ১৬৯-১৭১)


২৮১৪. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যারা বীরে মাউনায় শরীক সাহাবীদেরকে শহীদ করেছিল, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই রি’ল ও যাক্ওয়ানের বিরুদ্ধে ত্রিশ দিন পর্যন্ত ফজরে দু‘আ করেছিলেন এবং উসাইয়্যাহ গোত্রের বিরুদ্ধেও যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করেছিল। আনাস (রাঃ) বলেন, বী’রে মাউনার নিকট শহীদ সাহাবীদের সম্পর্কে কুরআনের আযাত নাযিল হয়েছিল, যা আমরা পাঠ করেছি। পরে তা মানসুখ হয়ে যায়। (আয়াতটি হলো) بَلِّغُوْا قَوْمَنَا أَنْ قَدْ لَقِيْنَا رَبَّنَا فَرَضِيَ عَنَّا وَرَضِيْنَا عَنْهُ ‘‘তোমরা আমাদের কাওমের নিকট এ খবর পৌঁছে দাও যে, আমরা আমাদের রবের সাক্ষাৎ লাভ করেছি। তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং আমরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট।’’ (১০০১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬১৬)
হাদিস নং: ২৮১৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله حدثنا سفيان عن عمرو سمع جابر بن عبد الله رضي الله عنهما يقول اصطبح ناس الخمر يوم احد ثم قتلوا شهداء فقيل لسفيان من اخر ذلك اليوم قال ليس هذا فيه
২৮১৫. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদের যুদ্ধের দিন কিছু সংখ্যক সাহাবী সকাল বেলায় শরাব পান করেন [১], অতঃপর যুদ্ধে তারা শাহাদাত লাভ করেন। সুফ্ইয়ান (রহ.)-কে প্রশ্ন করা হলঃ সেই দিনের শেষ প্রহরে? তিনি বললেন, এ কথাটি তাতে নেই। (৪০৪৪, ৪৬১৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬১৭)
নোট: [১] এটা মদ পান হারাম হবার পূর্বের ঘটনা। সে সময় পর্যন্ত মদ পানের অবৈধতা ঘোষিত হয়নি।
হাদিস নং: ২৮১৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا صدقة بن الفضل قال اخبرنا ابن عيينة قال سمعت محمد بن المنكدر انه سمع جابرا يقول جيء بابي الى النبي صلى الله عليه وسلم وقد مثل به ووضع بين يديه فذهبت اكشف عن وجهه فنهاني قومي فسمع صوت صاىحة فقيل ابنة عمرو او اخت عمرو فقال لم تبكي او لا تبكي ما زالت الملاىكة تظله باجنحتها قلت لصدقة افيه حتى رفع قال ربما قاله
২৮১৬. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদের যুদ্ধ শেষে আমার পিতাকে (তার লাশ) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাটা অবস্থায় আনা হল এবং তাঁর সামনে রাখা হল। আমি তাঁর চেহারা খুলতে চাইলাম আমার গোত্রের লোকেরা আমাকে নিষেধ করল। এমন সময় তিনি কোন বিলাপকারিণীর বিলাপ ধ্বনি শুনতে পেলেন। বলা হলো, সে ‘আমরের কন্যা বা ভগ্নি। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সে কাঁদছে কেন? অথবা বলেছিলেন, সে যেন না কাঁদে। ফেরেশতামন্ডলী তাকে ডানা দ্বারা ছায়াদান করছেন। আমি [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] সাদাকা (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, এও কি বর্ণিত আছে যে, তাকে উঠিয়ে নেয়া পর্যন্ত? তিনি বললেন, (জাবির (রাঃ) কখনো সেটাও বলেছেন। (১২৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬১৮)
হাদিস নং: ২৮১৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة قال سمعت قتادة قال سمعت انس بن مالك عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ما احد يدخل الجنة يحب ان يرجع الى الدنيا وله ما على الارض من شيء الا الشهيد يتمنى ان يرجع الى الدنيا فيقتل عشر مرات لما يرى من الكرامة
২৮১৭. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, জান্নাতে প্রবেশের পর আর কেউ দুনিয়ায় ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা করবে না, যদিও দুনিয়ার সকল জিনিস তাকে দেয়া হয়। একমাত্র শহীদ ব্যতীত; সে দুনিয়ায় ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা করবে যেন দশবার শহীদ হয়। কেননা সে শাহাদাতের মর্যাদা দেখেছে। (২৭৯৫) (মুসলিম ৩৩/২৯ হাঃ ১৮৭৭, আহমাদ ১২২৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬১৯)
হাদিস নং: ২৮১৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد حدثنا معاوية بن عمرو حدثنا ابو اسحاق عن موسى بن عقبة عن سالم ابي النضر مولى عمر بن عبيد الله وكان كاتبه قال كتب اليه عبد الله بن ابي اوفى رضي الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال واعلموا ان الجنة تحت ظلال السيوف. تابعه الاويسي عن ابن ابي الزناد عن موسى بن عقبة
وَقَالَ الْمُغِيْرَةُ بْنُ شُعْبَةَ أَخْبَرَنَا نَبِيُّنَا صلى الله عليه وسلمعَنْ رِسَالَةِ رَبِّنَا مَنْ قُتِلَ مِنَّا صَارَ إِلَى الْجَنَّةِ

وَقَالَ عُمَرُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَلَيْسَ قَتْلَانَا فِي الْجَنَّةِ وَقَتْلَاهُمْ فِي النَّارِ قَالَ بَلَى

মুগীরাহ ইবনু শু’বা (রাঃ) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের জানিয়েছেন, আমাদেও প্রতিপালকের পয়গাম। আমাদের মধ্যে যে শহীদ হলো সে জান্নাতে পৌঁছে গেল।

’উমার (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেন, আমাদের শহীদগণ জান্নাতবাসী আর তাদের নিহতরা কি জাহান্নামবাসী নয়? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, হ্যাঁ।


২৮১৮. ’উমার ইবনু ’উবায়দুল্লাহ্ (রহ.)-এর আযাদকৃত গোলাম ও তার কাতিব সালিম আবূন নাযর (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) তাঁকে লিখেছিলেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তোমরা জেনে রাখ, তরবারির ছায়া-তলেই জান্নাত।

উয়াইসী (রহ.) ইবনু আবূ যিনাদ (রহ.)-এর মাধ্যমে মূসা ইবনু ’উকবাহ (রহ.) থেকে হাদীস বর্ণনার ব্যাপারে মু’আবিয়াহ ইবনু ’আমর (রহ.) আবূ ইসহাক (রহ.)-এর মাধ্যমে মূসা ইবনু ’উকবাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের অনুসরণ করেছেন। (২৮৩৩, ২৯৬৬, ৩০২৪, ৭২৩৭) (মুসলিম ৩২/৬ হাঃ ১৭৪২, আহমাদ ১৯১৩৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬২০)
হাদিস নং: ২৮১৯ সহিহ (Sahih)
وقال الليث حدثني جعفر بن ربيعة عن عبد الرحمن بن هرمز قال سمعت ابا هريرة عن رسول الله قال قال سليمان بن داود عليهما السلام لاطوفن الليلة على ماىة امراة او تسع وتسعين كلهن ياتي بفارس يجاهد في سبيل الله فقال له صاحبه ان شاء الله فلم يقل ان شاء الله فلم يحمل منهن الا امراة واحدة جاءت بشق رجل والذي نفس محمد بيده لو قال ان شاء الله لجاهدوا في سبيل الله فرسانا اجمعون
২৮১৯. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, সুলায়মান ইবনু দাউদ (আঃ) বলেছিলেন, আজ রাতে আমি একশ’ অথবা বলেছেন নিরানব্বই জন স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গত হব। তাদের প্রত্যেকেই একজন বীর মুজাহিদ প্রসব করবে। তার একজন সাথী বললেন, বলুন, ইনশাআল্লাহ্! কিন্তু তিনি ইনশাআল্লাহ্ বলেননি। ফলে একজন স্ত্রী ব্যতীত কেউই গর্ভবতী হলেন না। তিনিও একটি অপূর্ণাঙ্গ সন্তান প্রসব করলেন। সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রাণ, যদি তিনি ইনশাআল্লাহ্ বলতেন, তবে সকলের সন্তান হত এবং তারা সকলেই ঘোড় সওয়ার হয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করত। (৩৪২৪, ৫২৪২, ৬৬৩৯, ৬৭২০, ৭৪৬৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৬৪ পরিচ্ছেদ)
হাদিস নং: ২৮২০ সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن عبد الملك بن واقد حدثنا حماد بن زيد عن ثابت عن انس قال كان النبي صلى الله عليه وسلم احسن الناس واشجع الناس واجود الناس ولقد فزع اهل المدينة فكان النبي صلى الله عليه وسلم سبقهم على فرس وقال وجدناه بحرا
২৮২০. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সর্বাপেক্ষা সুশ্রী, সাহসী ও দানশীল ছিলেন। মদিনা্বাসীগণ একবার ভীত-শংকিত হয়ে পড়ল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘোড়ায় চড়ে সবার আগে এগিয়ে গিয়ে বললেন, আমরা এটিকে সমুদ্রের মত পেয়েছি।
হাদিস নং: ২৮২১ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني عمر بن محمد بن جبير بن مطعم ان محمد بن جبير قال اخبرني جبير بن مطعم انه بينما هو يسير مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ومعه الناس مقفله من حنين فعلقه الناس يسالونه حتى اضطروه الى سمرة فخطفت رداءه فوقف النبي صلى الله عليه وسلم فقال اعطوني رداىي لو كان لي عدد هذه العضاه نعما لقسمته بينكم ثم لا تجدوني بخيلا ولا كذوبا ولا جبانا
২৮২১. জুবাইর ইবনু মুত্‘ইম (রাঃ) হতে বর্ণিত। হুনাইন থেকে ফেরার পথে তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে চলছিলেন। তাঁর সঙ্গে আরো অনেক সাহাবী ছিলেন। এমন সময় কিছু গ্রাম্য ব্যক্তি এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরল এবং তাদের কিছু দেয়ার জন্য পীড়াপীড়ি শুরু করল। এমনকি তারা তাঁকে একটি গাছের নিকট নিয়ে গেল এবং তাঁর চাদর আটকে গেল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখানে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন, আমার চাদরটি ফিরিয়ে দাও। আমার নিকট যদি এই সব কাঁটাদার গাছের পরিমাণ বক্রী থাকত, তাহলে এর সবই তোমাদের ভাগ করে দিতাম। আর তোমরা আমাকে কৃপণ, মিথ্যুক ও কাপুরুষ দেখতে পেতে না। (৩১৪৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬২২)
হাদিস নং: ২৮২২ সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل حدثنا ابو عوانة حدثنا عبد الملك بن عمير سمعت عمرو بن ميمون الاودي قال كان سعد يعلم بنيه هولاء الكلمات كما يعلم المعلم الغلمان الكتابة ويقول ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يتعوذ منهن دبر الصلاة اللهم اني اعوذ بك من الجبن واعوذ بك ان ارد الى ارذل العمر واعوذ بك من فتنة الدنيا واعوذ بك من عذاب القبر فحدثت به مصعبا فصدقه
২৮২২. ‘আমর ইবনু মায়মূন আউদী (রহ.) হতে বর্ণিত। শিক্ষক যেমন ছাত্রদের লেখা শিক্ষা দেন, সা‘দ (রাঃ) তেমনি তাঁর সন্তানদের এ বাক্যগুলো শিক্ষা দিতেন এবং বলতেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাতের পর এগুলো থেকে পানাহ চাইতেন, ‘হে আল্লাহ্! আমি ভীরুতা, অতি বার্ধক্য, দুনিয়ার ফিতনা ও কবরের শাস্তি থেকে আপনার নিকট পানাহ চাই।’ রাবী বলেন, আমি মুস‘আব (রাঃ)-এর নিকট হাদীসটি বর্ণনা করলে তিনি এটির সত্যতা স্বীকার করেন। (৬৩৬৫, ৬৩৭০, ৬৩৭৪, ৬৩৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬২৩)
হাদিস নং: ২৮২৩ সহিহ (Sahih)
حدثنا يقول مسدد حدثنا معتمر قال سمعت ابي قال سمعت انس بن مالك قال كان النبي صلى الله عليه وسلم يقول اللهم اني اعوذ بك من العجز والكسل والجبن والهرم واعوذ بك من فتنة المحيا والممات واعوذ بك من عذاب القبر
২৮২৩. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই দু‘আ করতেন, ‘হে আল্লাহ্! আমি অক্ষমতা, ভীরুতা ও বার্ধক্য থেকে আপনার নিকট পানাহ চাচ্ছি এবং জীবন ও মরণের ফিতনা থেকে এবং কবরের আযাব থেকে আপনার নিকট পানাহ চাচ্ছি।’ (৪৭০৭, ৬৩৬৭, ৬৩৭১) (মুসলিম ৪৮/১৫ হাঃ ২৭০৬, আহমাদ ১২১১৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬২৪)
হাদিস নং: ২৮২৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا حاتم عن محمد بن يوسف عن الساىب بن يزيد قال صحبت طلحة بن عبيد الله وسعدا والمقداد بن الاسود وعبد الرحمن بن عوف فما سمعت احدا منهم يحدث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم الا اني سمعت طلحة يحدث عن يوم احد
قَالَهُ أَبُوْ عُثْمَانَ عَنْ سَعْدٍ

আবূ ‘উসমান (রহ.) তা সা‘দ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন


২৮২৪. সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ত্বলহা ইবনু ‘উবায়দুল্লাহ, সা‘দ, মিকদাদ ইবনু আসওয়াদ এবং ‘আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ)-এর সাহচর্য লাভ করেছি। আমি তাদের কাউকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনিনি। তবে ত্বলহা (রাঃ)-কে উহুদ যুদ্ধের ঘটনাবলী বর্ণনা করতে শুনেছি। (৪০৬২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮২৫)

 
হাদিস নং: ২৮২৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا عمرو بن علي حدثنا يحيى بن سعيد حدثنا سفيان قال حدثني منصور عن مجاهد عن طاوس عن ابن عباس رضي الله عنهما ان النبي صلى الله عليه وسلم قال يوم الفتح لا هجرة بعد الفتح ولكن جهاد ونية واذا استنفرتم فانفروا
وَقَوْلِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ )اِنْفِرُوْا خِفَافًا وَّثِقَالًا وَجَاهِدُوْا بِأَمْوٰلِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ ذٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ لَوْ كَانَ عَرَضًا قَرِيْبًا وَّسَفَرًا قَاصِدًا لَّاَتَّبَعُوْكَ وَلٰكِنْم بَعُدَتُّ عَلَيْهِمْ الشُّقَّةُ وَسَيَحْلِفُوْنَ بِاللهِ( ( التوبة : 41-42) الآيَةَ وَقَوْلِهِ) يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا مَا لَكُمْ إِذَا قِيْلَ لَكُمُ انْفِرُوْا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ اثَّاقَلْتُمْ إِلٰى الْأَرْضِ أَرَضِيْتُمْ بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا مِنَ الْآخِرَةِ (إِلَى قَوْلِهِ )عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ

আল্লাহ্ তাআলার বাণীঃ তোমরা অভিযানে বের হয়ে পড়, স্বল্প সরঞ্জামের সাথে কিংবা প্রচুর সরঞ্জামের সাথে; এবং জিহাদ কর আল্লাহর পথে নিজেদের মাল দিয়ে ও নিজেদের জান দিয়ে। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা জানতে। যদি আশু লাভের সম্ভাবনা থাকত এবং সফরও সহজ হত, তবে তারা অবশ্যই আপনার অনুগামী হত, কিন্তু তাদের কাছে যাত্রাপথ দীর্ঘ মনে হল। আর তারা এখনই আল্লাহর নামে শপথ করে বলবেঃ আমাদের সাধ্য থাকলে নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের সাথে বের হতাম। তারা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস করছে। আল্লাহ জানেন যে, তারা তো মিথ্যাবাদী। (আত তওবা্ ৪১-৪২)

আল্লাহ্ তাআলা আরো বলেনঃ ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের কী হল? যখন তোমাদের আল্লাহর পথে অভিযানে বের হতে বলা হয় তখন তোমরা ভারাক্রান্ত হয়ে মাটিতে ঝুঁকে পড়। তবে কি তোমরা আখিরাতের পরিবর্তে পার্থিব জীবনে তুষ্ট হয়ে গেলে? বস্তুত আখিরাতের তুলনায় পার্থিব জীবনের ভোগের উপকরণ নিতান্ত অকিঞ্চিৎকর।। (আত তওবা্ ৩৮-৩৯)

ويُذْكَرُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ انْفِرُوْا ثُبَاتٍ سَرَايَا مُتَفَرِّقِيْنَ يُقَالُ أَحَدُ الثُّبَاتِ ثُبَةٌ

ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে উল্লেখ রয়েছে, انْفِرُوْا ثُبَاتٍ  অর্থ হলো- বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে বিভক্ত হয়ে তোমরা জিহাদের জন্য বেরিয়ে পড়। الثُّبَاتِ শব্দটির একবচন ثُبَةٌ অর্থ ক্ষুদ্র দল।


২৮২৫. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা বিজয়ের দিন বলেছিলেন, এই বিজয়ের পর আর হিজরতের প্রয়োজন নেই। এখন কেবল জিহাদ ও নিয়্যাত। যখনই তোমাদের বের হবার আহবান জানানো হবে, তখনই তোমরা বেরিয়ে পড়বে। (১৩৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬২৬)
হাদিস নং: ২৮২৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن ابي الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة ان رسول
الله صلى الله عليه وسلم قال يضحك الله الى رجلين يقتل احدهما الاخر يدخلان الجنة يقاتل هذا في سبيل الله فيقتل ثم يتوب الله على القاتل فيستشهد
২৮২৬. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, দু’ব্যক্তিও ক্ষেত্রে আল্লাহ্ হাসেন। যারা একে অপরকে হত্যা করে উভয়েই জান্নাতবাসী হবে। একজন তো এ কারণে জান্নাতবাসী হবে যে, সে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে শহীদ হয়েছে। অতঃপর আল্লাহ্ তা‘আলা হত্যাকারীর তওবা কবুল করেছেন। ফলে সেও আল্লাহর রাস্তায় শহীদ বলে গণ্য হয়েছে। (মুসলিম ৩৩/৩৫ হাঃ ১৮৯০, আহমাদ ৯৯৮৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬২৭)
হাদিস নং: ২৮২৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا الحميدي حدثنا سفيان حدثنا الزهري قال اخبرني عنبسة بن سعيد عن ابي هريرة قال اتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو بخيبر بعد ما افتتحوها فقلت يا رسول الله اسهم لي فقال بعض بني سعيد بن العاص لا تسهم له يا رسول الله فقال ابو هريرة هذا قاتل ابن قوقل فقال ابن سعيد بن العاص واعجبا لوبر تدلى علينا من قدوم ضان ينعى علي قتل رجل مسلم اكرمه الله على يدي ولم يهني على يديه قال فلا ادري اسهم له ام لم يسهم له قال سفيان وحدثنيه السعيدي عن جده عن ابي هريرة قال ابو عبد الله السعيدي هو عمرو بن يحيى بن سعيد بن عمرو بن سعيد بن العاص
২৮২৭. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খায়বার বিজয়ের পর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সেখানে অবস্থানকালেই আমি তাঁর নিকট গিয়ে বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আমাকেও অংশ দিন।’ তখন সা‘ঈদ ইবনু ‘আসের কোন এক পুত্র বলে উঠল, ‘হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! তাকে অংশ দিবেন না।’ আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বললেন, সে তো ইবনু কাউকালের হত্যাকারী। তা শুনে সা‘ঈদ ইবনু ‘আসের পুত্র বললেন, ‘যান’  পাহাড়ের নিম্নদেশ থেকে আমাদের নিকট আগত বিড়াল মাশি জন্তুটি, তার কথায় আশ্চর্যবোধ করছি, সে আমাকে এমন একজন মুসলিমকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করেছে যাকে আল্লাহ্ তা‘আলা আমার হাতে সম্মানিত করেছেন এবং যার দ্বারা আমাকে লাঞ্ছিত করেননি। ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, পরে তাকে অংশ দিয়েছেন কি দেননি, তা আমার জানা নেই। সুফইয়ান (রহ.) বলেন, আমাকে সা‘ঈদী (রহ.) তার দাদার মাধ্যমে আবূ হুরাইরাহ্ (রহ.) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (ইমাম বুখারী) (রহ.) বলেন, সা‘ঈদী হলেন, ‘আমর ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু সা‘ঈদ ইবনু ‘আমর ইবনু সা‘ঈদ ইবনু ‘আস। (৪২৩৭, ৪২৩৮, ৪২৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬২৮)
হাদিস নং: ২৮২৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا ادم حدثنا شعبة حدثنا ثابت البناني قال سمعت انس بن مالكقال كان ابو طلحة لا يصوم على عهد النبي صلى الله عليه وسلم من اجل الغزو فلما قبض النبي لم اره مفطرا الا يوم فطر او اضحى
২৮২৮. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় আবূ ত্বলহা (রাঃ) জিহাদের কারণে সিয়াম পালন করতেন না। কিন্তু আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের পর ‘ঈদুল ফিতর ও ‘ঈদুল আয্হা ব্যতীত তাকে কখনো সিয়াম বাদ দিতে দেখিনি। (আ.প্র. ২৬১৮, ই.ফা. ২৬২৯)
হাদিস নং: ২৮২৯ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن سمي عن ابي صالح عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال الشهداء خمسة المطعون والمبطون والغرق وصاحب الهدم والشهيد في سبيل الله
২৮২৯. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, পাঁচ প্রকার মৃত শহীদঃ মহামারীতে মৃত, পেটের পীড়ায় মৃত, পানিতে ডুবে মৃত, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত এবং যে আল্লাহর পথে শহীদ হলো। (৬৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৩০)
হাদিস নং: ২৮৩০ সহিহ (Sahih)
حدثنا بشر بن محمد اخبرنا عبد الله اخبرنا عاصم عن حفصة بنت سيرين عن انس بن مالك عن النبي صلى الله عليه وسلم قال الطاعون شهادة لكل مسلم
২৮৩০. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, মহামারীতে মৃত্যু হওয়া প্রতিটি মুসলিমের জন্য শাহাদাত। (৫৭৩২) (মুসলিম ৩৩/৫১ হাঃ ১৯১৬, আহমাদ ১২৫২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৩১)
অধ্যায় তালিকা