অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৫৬/১. জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার
মোট ৩০৯ টি হাদিস
হাদিস নং: ২৯১১ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن مسلمة حدثنا عبد العزيز بن ابي حازم عن ابيه عن سهل انه سىل عن جرح النبي صلى الله عليه وسلم يوم احد فقال جرح وجه النبي صلى الله عليه وسلم وكسرت رباعيته وهشمت البيضة على راسه فكانت فاطمة عليها السلام تغسل الدم وعلي يمسك فلما رات ان الدم لا يزيد الا كثرة اخذت حصيرا فاحرقته حتى صار رمادا ثم الزقته فاستمسك الدم
২৯১১. সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তাকে উহুদের দিনে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আঘাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মুখমণ্ডল
আহত হল এবং তাঁর সামনের দু’টি দাঁত ভেঙ্গে গেল, তাঁর মাথার শিরস্ত্রান ভেঙ্গে গেল। ফাতেমাহ (আঃ) রক্ত ধুচ্ছিলেন আর ‘আলী (রাঃ) পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন। তিনি যখন দেখতে পেলেন যে, রক্ত পড়া বাড়ছেই, তখন একটি চাটাই নিয়ে তা পুড়িয়ে ছাই করলেন এবং তা ক্ষতস্থানে লাগিয়ে দিলেন। অতঃপর রক্ত পড়া বন্ধ হল। (২৪৩) (মুসলিম ৩২/৩৭ হাঃ ১৭৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭০৭)
হাদিস নং: ২৯১২ সহিহ (Sahih)
حدثنا عمرو بن عباس حدثنا عبد الرحمن عن سفيان عن ابي اسحاق عن عمرو بن الحارث قال ما ترك النبي صلى الله عليه وسلم الا سلاحه وبغلة بيضاء وارضا جعلها صدقة
২৯১২. ‘আমর ইবনু হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছুই রেখে যাননি, কেবল তাঁর অস্ত্র, একটি সাদা খচ্চর ও এক টুকরো জমি, যা সাদাকা করে গিয়েছিলেন। (২৭৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭০৮)
হাদিস নং: ২৯১৩ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري حدثنا سنان بن ابي سنان وابو سلمة ان جابرا اخبره ح و حدثنا موسى بن اسماعيل حدثنا ابراهيم بن سعد اخبرنا ابن شهاب عن سنان بن ابي سنان الدولي ان جابر بن عبد الله رضي الله عنهما اخبره انه غزا مع النبي صلى الله عليه وسلم فادركتهم القاىلة في واد كثير العضاه فتفرق الناس في العضاه يستظلون بالشجر فنزل النبي صلى الله عليه وسلم تحت شجرة فعلق بها سيفه ثم نام فاستيقظ وعنده رجل وهو لا يشعر به فقال النبي صلى الله عليه وسلم ان هذا اخترط سيفي فقال من يمنعك قلت الله فشام السيف فها هو ذا جالس ثم لم يعاقبه
২৯১৩. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে একটি যুদ্ধে শরীক হয়েছিলেন। তাদের দুপুরের বিশ্রামের সময় হল এমন একটি উপত্যকায় যাতে কাঁটাদার প্রচুর বৃক্ষ ছিল। লোকেরা কাঁটাদার বৃক্ষরাজির ছায়ায় বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে পড়ল। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)একটি বৃক্ষের নীচে অবতরণ করেন এবং একটি বৃক্ষে তাঁর তরবারি ঝুলিয়ে সেখানে ঘুমিয়ে পড়েন। তিনি জেগে উঠলেন এবং হঠাৎ তাঁর পার্শ্বে দেখতে পেলেন যে, জনৈক ব্যক্তি, অথচ তিনি তার ব্যাপারে টের পাননি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এই ব্যক্তিটি হঠাৎ আমার তরবারীটি উঁচিয়ে বলল, কে তোমাকে আমার হাত থেকে রক্ষা করবে? আমি বললাম, আল্লাহ্! তখন সে ব্যক্তি তলোয়ারটি খাপে রেখে দিল। আর এই সে ব্যক্তি, এখনো বসা, কিন্তু তিনি তার প্রতিশোধ নেননি। (২৯১০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭০৯)
হাদিস নং: ২৯১৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن ابي النضر مولى عمر بن عبيد الله عن نافع مولى ابي قتادة الانصاري عن ابي قتادة انه كان مع رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى اذا كان ببعض طريق مكة تخلف مع اصحاب له محرمين وهو غير محرم فراى حمارا وحشيا فاستوى على فرسه فسال اصحابه ان يناولوه سوطه فابوا فسالهم رمحه فابوا فاخذه ثم شد على الحمار فقتله فاكل منه بعض اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وابى بعض فلما ادركوا رسول الله صلى الله عليه وسلم سالوه عن ذلك قال انما هي طعمة اطعمكموها الله وعن زيد بن اسلم عن عطاء بن يسار عن ابي قتادة في الحمار الوحشي مثل حديث ابي النضر قال هل معكم من لحمه شيء
وَيُذْكَرُ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم جُعِلَ رِزْقِيْ تَحْتَ ظِلِّ رُمْحِيْ وَجُعِلَ الذِّلَّةُ وَالصَّغَارُ عَلَى مَنْ خَالَفَ أَمْرِي

ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে উল্লেখ রয়েছে যে, তীরের ছায়ার নীচে আমার রিয্ক রাখা হয়েছে। যে ব্যক্তি আমার নির্দেশের বিরোধিতা করে, তার জন্য অপমান ও লাঞ্ছনা নির্ধারিত আছে।


২৯১৪. আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একবার তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলেন। মক্কার পথে কোন এক স্থানে পৌঁছার পর আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) কয়েকজন সঙ্গীসহ তাঁর পেছনে রয়ে গেলেন। সঙ্গীরা ছিলেন ইহরাম অবস্থায় আর তিনি ছিলেন ইহরাম বিহীন। এ সময় তিনি একটি বুনো গাধা দেখতে পান এবং তাঁর ঘোড়ার পিঠে আরোহণ করেন। তিনি তাঁর সঙ্গীদের তাঁর চাবুকটি উঠিয়ে দিতে বলেন; কিন্তু তারা তা দিতে অস্বীকার করলেন। আবার তিনি তাঁর বর্শাটি উঠিয়ে দিতে বলেন। তারা তাও দিতে অস্বীকার করলেন। তখন তিনি নিজেই তা উঠিয়ে নিলেন। অতঃপর গাধাটির উপর আক্রমণ চালালেন এবং তাকে হত্যা করলেন। সাথীরা কেউ কেউ এর গোশ্ত খেলেন এবং কেউ কেউ তা খেতে অস্বীকার করলেন। অতঃপর তারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট গিয়ে এ সম্পর্কে তাঁর নিকট জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, এটি একটি আহারের বস্তু, যা আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাদের আহারের জন্য দিয়েছেন। যায়িদ ইবনু আসলাম (রহ.) আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) থেকে আবূ নাযর (রাঃ)-এর মতই বুনো গাধা সম্পর্কে হাদীস বর্ণনা করেছেন। এতে আছে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের সঙ্গে তার কিছু গোশ্ত আছে কি? (১৮২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭১০)

 
হাদিস নং: ২৯১৫ সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن المثنى حدثنا عبد الوهاب حدثنا خالد عن عكرمة عن ابن عباس رضي الله عنهما قال قال النبي صلى الله عليه وسلم وهو في قبة اللهم اني انشدك عهدك ووعدك اللهم ان شىت لم تعبد بعد اليوم فاخذ ابو بكر بيده فقال حسبك يا رسول الله فقد الححت على ربك وهو في الدرع فخرج وهو يقول سيهزم الجمع ويولون الدبر بل الساعة موعدهم والساعة ادهى وامر (النساء : 95) وقال وهيب حدثنا خالد يوم بدر
وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَمَّا خَالِدٌ فَقَدْ احْتَبَسَ أَدْرَاعَهُ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, খালিদ (ইবনু ওয়ালিদ) তো তাঁর বর্মগুলো আল্লাহর পথে ওয়াকফ করে দিয়েছে।


২৯১৫. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাদারের দিন একটি গুম্বজওয়ালা তাঁবুতে অবস্থান কালে দু‘আ করছিলেন, হে আল্লাহ্! আমি আপনার প্রতিজ্ঞা ও ওয়াদার দোহাই দিয়ে বলছি, আপনি যদি চান, তাহলে আজকের পরে আর আপনার ইবাদাত করা হবে না।’ এ সময় আবূ বকর (রাঃ) তাঁর হাত ধরে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যথেষ্ট হয়েছে। আপনি বার বার নত হয়ে আপনার প্রতিপালকের কাছে দু‘আ করেছেন।’ সে সময় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বর্ম আচ্ছাদিত ছিলেন। অতঃপর তিনি এই আয়াত পাঠ করতে করতে বেরিয়ে এলেনঃ শীঘ্রই দুশমনরা পরাস্ত হবে এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে তদুপরি কিয়ামত শাস্তির নির্ধারিত কাল এবং কিয়ামত হবে অধিক কঠিন ও অধিক তিক্ত। (সূরা আল-ক্বামার ৪৫, ৪৬) ওহাইব (রহ.) বলেন, খালিদ (রহ.) বলেছেন, ‘বাদারের দিন’। (৩৯৫৩, ৪৮৭৫, ৪৮৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭১১)

 
হাদিস নং: ২৯১৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن كثير اخبرنا سفيان عن الاعمش عن ابراهيم عن الاسود عن عاىشة رضي الله عنها قالت توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم ودرعه مرهونة عند يهودي بثلاثين صاعا من شعير وقال يعلى حدثنا الاعمش درع من حديد وقال معلى حدثنا عبد الواحد حدثنا الاعمش وقال رهنه درعا من حديد
২৯১৬. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মৃত্যুর সময় তাঁর বর্মটি ত্রিশ সা’ যব-এর বিনিময়ে এক ইয়াহূদীর নিকট বন্ধক ছিল।

মুআল্লাহ ‘আবদুল ওয়াহিদ (রহ.) সূত্রে আ‘মাশ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর লোহার বর্ম বন্ধক রেখেছিলেন। আর ইয়ালা (রহ.) আ‘মাশ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, বর্মটি ছিল লোহার। (২০৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭১২)
হাদিস নং: ২৯১৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل حدثنا وهيب حدثنا ابن طاوس عن ابيه عن ابي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال مثل البخيل والمتصدق مثل رجلين عليهما جبتان من حديد قد اضطرت ايديهما الى تراقيهما فكلما هم المتصدق بصدقته اتسعت عليه حتى تعفي اثره وكلما هم البخيل بالصدقة انقبضت كل حلقة الى صاحبتها وتقلصت عليه وانضمت يداه الى تراقيه فسمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول فيجتهد ان يوسعها فلا تتسع
২৯১৭. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কৃপণ ও দানশীল ব্যক্তির উদাহরণ এমন দু’ ব্যক্তির মত, যারা লৌহ বর্মে আচ্ছাদিত। বর্ম দু’টি এত আঁটসাঁট যে, তাদের উভয়ের হাত কব্জায় আবদ্ধ রয়েছে। দানশীল ব্যক্তি যখন দান করতে ইচ্ছা করে, তখন বর্মটি তার দেহের উপর প্রসারিত হয়, এমনকি তা তার পায়ের চিহ্ন মুছে ফেলে। আর কৃপণ ব্যক্তি যখন দান করতে ইচ্ছা করে তখন বর্মের কড়াগুলো পরস্পর গলে গিয়ে তার শরীরকে আঁকড়ে ধরে এবং তার উভয় হস্ত কন্ঠের সঙ্গে লেগে যায়। অতঃপর আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, সে হাত দু’টিকে প্রসারিত করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করে; কিন্তু প্রসারিত করতে পারে না। (১৪৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭১৩)
হাদিস নং: ২৯১৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل حدثنا عبد الواحد حدثنا الاعمش عن ابي الضحى مسلم هو ابن صبيح عن مسروق قال حدثني المغيرة بن شعبة قال انطلق رسول الله صلى الله عليه وسلم لحاجته ثم اقبل فلقيته بماء فتوضا وعليه جبة شامية فمضمض واستنشق وغسل وجهه فذهب يخرج يديه من كميه فكانا ضيقين فاخرجهما من تحت فغسلهما ومسح براسه وعلى خفيه
২৯১৮. মুগীরাহ ইবনু শু‘বা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা হাজত পূরণের জন্য গেলেন। সেখান থেকে ফিরে এলে আমি তাঁর নিকট পানি নিয়ে গেলাম। তিনি তা দিয়ে উযু করেন। তাঁর পরিধানে ছিল সিরীয় জোববা। তিনি কুলি করেন, নাকে পানি দেন ও মুখমণ্ডল
ধৌত করেন। অতঃপর তিনি জামার আস্তিন গুটিয়ে দু’টি হাত বের করতে চাইলেন। কিন্তু আস্তিন দু’টি ছিল খুবই আঁটসাঁট। তাই তিনি ভেতরের দিক থেকে হাত বের করে উভয় হাত ধুলেন এবং মাথা মসেহ করলেন এবং উভয় মোজার উপর মাস্হ করলেন। (১৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭১৪)
হাদিস নং: ২৯১৯ সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن المقدام حدثنا خالد بن الحارث حدثنا سعيد عن قتادة ان انسا حدثهم ان النبي صلى الله عليه وسلم رخص لعبد الرحمن بن عوف والزبير في قميص من حرير من حكة كانت بهما
২৯১৯. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ) ও যুবায়র (রাঃ)-কে তাদের শরীরে চুলকানি থাকায় রেশমী জামা পরিধান করতে অনুমতি দিয়েছিলেন। (২৯২০, ২৯২১, ২৯২২, ৫৮৩৯) (মুসলিম ৩৭/৩ হাঃ ২০৭৬, আহমাদ ১২৮৬৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭১৫)
হাদিস নং: ২৯২০ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو الوليد حدثنا همام عن قتادة عن انس ح حدثنا محمد بن سنان حدثنا همام عن قتادة عن انس ان عبد الرحمن بن عوف والزبير شكوا الى النبي صلى الله عليه وسلم يعني القمل فارخص لهما في الحرير فرايته عليهما في غزاة
২৯২০. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ‘আবদুর রহমান ও যুবায়র (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উকুনের অভিযোগ করলে তিনি তাদেরকে রেশমী পোষাক পরার অনুমতি দেন। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি যুদ্ধে তাদের দেহে তা দেখেছি। (২৯১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭১৬)
হাদিস নং: ২৯২১ সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا يحيى عن شعبة اخبرني قتادة ان انسا حدثهم قال رخص النبي صلى الله عليه وسلم لعبد الرحمن بن عوف والزبير بن العوام في حرير
২৯২১. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুর রাহমান ইবনু আওফ ও যুবায়র ইবনুল আওয়ামকে রেশমী পোষাক পরার অনুমতি দেন। (২৯১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭১৭)
হাদিস নং: ২৯২২ সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة سمعت قتادة عن انس رخص او رخص لهما لحكة بهما
২৯২২. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, শরীরে চুলকানী থাকার কারণে তাদের দু’জনকে (আবদুর রাহমান ও যুবায়রকে) রেশমী পোষাক পরার অনুমতি দিয়েছিলেন বা দেয়া হয়েছিল। (২৯১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭১৮)
হাদিস নং: ২৯২৩ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد العزيز بن عبد الله قال حدثني ابراهيم بن سعد عن ابن شهاب عن جعفر بن عمرو بن امية الضمري عن ابيه قال رايت النبي صلى الله عليه وسلم ياكل من كتف يحتز منها ثم دعي الى الصلاة فصلى ولم يتوضا حدثنا ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري وزاد فالقى السكين
২৯২৩. ‘আমর ইবনু উমায়্যাহ যামরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (বকরির) হাত থেকে কেটে কেটে খেতে দেখেছি। অতঃপর তাঁকে সালাতের জন্য ডাকা হলে তিনি সালাত আদায় করলেন; কিন্তু তিনি উযু করলেন না। আবুল ইয়ামান (রহ.) শুয়াইব সূত্রে যুহরী (রহ.) থেকে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছুরি রেখে দিলেন। (২০৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭১৯)
হাদিস নং: ২৯২৪ সহিহ (Sahih)
حدثني اسحاق بن يزيد الدمشقي حدثنا يحيى بن حمزة قال حدثني ثور بن يزيد عن خالد بن معدان ان عمير بن الاسود العنسي حدثه انه اتى عبادة بن الصامت وهو نازل في ساحة حمص وهو في بناء له ومعه ام حرام قال عمير فحدثتنا ام حرام انها سمعت النبي يقول اول جيش من امتي يغزون البحر قد اوجبوا قالت ام حرام قلت يا رسول الله انا فيهم قال انت فيهم ثم قال النبي صلى الله عليه وسلم اول جيش من امتي يغزون مدينة قيصر مغفور لهم فقلت انا فيهم يا رسول الله قال لا
২৯২৪. ‘উমাইর ইবনু আসওয়াদ আনসী হতে বর্ণিত যে, তিনি ‘উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ)-এর নিকট আসলেন। তখন ‘উবাদাহ (রাঃ) হিম্স উপকূলে তাঁর একটি ঘরে অবস্থান করছিলেন এবং তার সঙ্গে ছিলেন উম্মু হারাম। ‘উমাইর (রহ.) বলেন, উম্মু হারাম (রাঃ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেন, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, আমার উম্মাতের মধ্যে প্রথম যে দলটি নৌ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করবে তারা যেন জান্নাত অবধারিত করে ফেলল। উম্মু হারাম (রাঃ) বলেন, আমি কি তাদের মধ্যে হবো? তিনি বললেন, তুমি তাদের মধ্যে হবে। উম্মু হারাম (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার উম্মাতের প্রথম যে দলটি কায়সার-এর রাজধানী আক্রমণ করবে, তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত। অতঃপর আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি কি তাদের মধ্যে হবো?’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘না।’ (২৭৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭২০)
হাদিস নং: ২৯২৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق بن محمد الفروي حدثنا مالك عن نافع عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال تقاتلون اليهود حتى يختبي احدهم وراء الحجر فيقول يا عبد الله هذا يهودي وراىي فاقتله
২৯২৫. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা ইয়াহূদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। এমনকি তাদের কেউ যদি পাথরের আড়ালে লুকিয়ে থাকে তাহলে পাথরও বলবে, ‘হে আল্লাহর বান্দা, আমার পেছনে ইয়াহূদী আছে, তাকে হত্যা কর।’ (৩৫৯৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭২১)
হাদিস নং: ২৯২৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق بن ابراهيم اخبرنا جرير عن عمارة بن القعقاع عن ابي زرعة عن ابي هريرة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا تقوم الساعة حتى تقاتلوا اليهود حتى يقول الحجر وراءه اليهودي يا مسلم هذا يهودي وراىي فاقتله
২৯২৬. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত না তোমরা ইয়াহূদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। এমনকি কোন ইয়াহূদী পাথরের আড়ালে লুকিয়ে থাকলে, পাথর বলবে, ‘হে মুসলিম, আমার পেছনে ইয়াহূদী আছে, তাকে হত্যা কর।’ (মুসলিম ৫২/১৮ হাঃ ২৯২২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭২২)
হাদিস নং: ২৯২৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو النعمان حدثنا جرير بن حازم قال سمعت الحسن يقول حدثنا عمرو بن تغلب قال قال النبي صلى الله عليه وسلم ان من اشراط الساعة ان تقاتلوا قوما ينتعلون نعال الشعر وان من اشراط الساعة ان تقاتلوا قوما عراض الوجوه كان وجوههم المجان المطرقة
২৯২৭. ‘আমর ইবনু তাগলিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের আলামতসমূহের একটি এই যে, তোমরা এমন এক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যারা পশমের জুতা পরিধান করবে। কিয়ামতের আর একটি আলামত এই যে, তোমরা এমন এক জাতির বিপক্ষে যুদ্ধ করবে, যাদের মুখমণ্ডল
হবে চওড়া, তাদের মুখমণ্ডল
যেন পিটানো চামড়ার ঢাল। (৩৫৯২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭২৩)
হাদিস নং: ২৯২৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن محمد حدثنا يعقوب حدثنا ابي عن صالح عن الاعرج قال قال ابو هريرة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تقوم الساعة حتى تقاتلوا الترك صغار الاعين حمر الوجوه ذلف الانوف كان وجوههم المجان المطرقة ولا تقوم الساعة حتى تقاتلوا قوما نعالهم الشعر
২৯২৮. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ততদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতদিন তোমরা এমন তুর্ক জাতির বিপক্ষে যুদ্ধ না করবে, যাদের চোখ ছোট, চেহারা লাল, নাক চ্যাপ্টা এবং মুখমণ্ডল
পেটানো চামড়ার ঢালের মত। আর ততদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতদিন না তোমরা এমন এক জাতির বিপক্ষে যুদ্ধ করবে, যাদের জুতা হবে পশমের। (২৯২৯, ৩৫৮৭, ৩৫৯০, ৩৫৯১) (মুসলিম ৫২/১৮ হাঃ ২৯১২, আহমাদ ৭২৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭২৪)
হাদিস নং: ২৯২৯ সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله حدثنا سفيان قال الزهري عن سعيد بن المسيب عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لا تقوم الساعة حتى تقاتلوا قوما نعالهم الشعر ولا تقوم الساعة حتى تقاتلوا قوما كان وجوههم المجان المطرقة قال سفيان وزاد فيه ابو الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة رواية صغار الاعين ذلف الانوف كان وجوههم المجان المطرقة
২৯২৯. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তোমরা এমন জাতির বিপক্ষে যুদ্ধ করবে যাদের জুতা হবে পশমের। আর কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তোমরা এমন জাতির বিপক্ষে যুদ্ধ করবে, যাদের মুখমণ্ডল
হবে পিটানো চামড়ার ঢালের মত। সুফ্ইয়ান (রহ.) বলেন, আ‘রাজ সূত্রে আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে আবূযযিনাদ এই রেওয়ায়তে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন; তাদের চোখ হবে ছোট, নাক হবে চ্যাপ্টা, তাদের চেহারা যেন পিটানো চামড়ার ঢাল। (২৯২৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭২৫)
হাদিস নং: ২৯৩০ সহিহ (Sahih)
حدثنا عمرو بن خالد الحراني حدثنا زهير حدثنا ابو اسحاق قال سمعت البراء وساله رجل اكنتم فررتم يا ابا عمارة يوم حنين قال لا والله ما ولى رسول الله صلى الله عليه وسلم ولكنه خرج شبان اصحابه واخفاوهم حسرا ليس بسلاح فاتوا قوما رماة جمع هوازن وبني نصر ما يكاد يسقط لهم سهم فرشقوهم رشقا ما يكادون يخطىون فاقبلوا هنالك الى النبي صلى الله عليه وسلم وهو على بغلته البيضاء وابن عمه ابو سفيان بن الحارث بن عبد المطلب يقود به فنزل واستنصر ثم قال :
انا الـنـبـي لا كـذب * انا ابن عـبـد المطـلـب
ثم صف اصحابه
২৯৩০. বারা’ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাকে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আবূ উমারা! হুনায়নের দিন আপনারা কি পলায়ন করেছিলেন? তিনি বললেন, না, আল্লাহর কসম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পলায়ন করেননি। বরং তাঁর কিছু সংখ্যক নওজোয়ান সাহাবী হাতিয়ার ছাড়াই অগ্রসর হয়ে গিয়েছিলেন। তারা বানূ হাওয়াযিন ও বানূ নাসর গোত্রের সুদক্ষ তীরন্দাজদের সম্মুখীন হন। তাদের কোন তীরই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি। তারা এদের প্রতি এমনভাবে তীর বর্ষণ করল যে, তাদের কোন তীরই ব্যর্থ হয়নি। সেখান থেকে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে উপস্থিত হলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাঁর সাদা খচ্চরটির পিঠে ছিলেন এবং তাঁর চাচাতো ভাই আবূ সুফ্ইয়ান ইবনু হারিস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব তাঁর লাগাম ধরে ছিলেন। তখন তিনি নামেন এবং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেন। অতঃপর তিনি বলেন, আমি নবী, এ কথা মিথ্যা নয়। আমি ‘আবদুল মুত্তালিবের পুত্র। অতঃপর তিনি সাহাবীদের সারিবদ্ধ করেন। (২৮৬৪) (মুসলিম ৩২/২৮ হাঃ ১৭৭৬, আহমাদ ১৮৪৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭২৬)
অধ্যায় তালিকা