হাদিস নং: ২৮৯১
সহিহ (Sahih)
حدثني اسحاق بن نصر حدثنا عبد الرزاق عن معمر عن همام عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال كل سلامى عليه صدقة كل يوم يعين الرجل في دابته يحامله عليها او يرفع عليها متاعه صدقة والكلمة الطيبة وكل خطوة يمشيها الى الصلاة صدقة ودل الطريق صدقة
২৮৯১. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘শরীরের প্রতিটি জোড়ার উপর প্রতিদিন একটি করে সাদাকা রয়েছে। কোন ব্যক্তিকে তার সাওয়ারীতে উঠার ক্ষেত্রে সাহায্য করা, অথবা তার মাল-সরঞ্জাম তুলে দেয়া সাদাকা। উত্তম কথা বলা ও সালাতের উদ্দেশ্যে গমনের প্রতিটি পদক্ষেপ সাদাকা এবং রাস্তা বাতলিয়ে দেয়া সাদাকা।’ (২৭০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৮৯)
হাদিস নং: ২৮৯২
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن منير سمع ابا النضر حدثنا عبد الرحمن بن عبد الله بن دينار عن ابي حازم عن سهل بن سعد الساعدي ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال رباط يوم في سبيل الله خير من الدنيا وما عليها وموضع سوط احدكم من الجنة خير من الدنيا وما عليها والروحة يروحها العبد في سبيل الله او الغدوة خير من الدنيا وما عليها
وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى )يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اصْبِرُوْا وَصَابِرًا وَّرَابِطُوْا وَاتَّقُوا اللهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ)
মহান আল্লাহর বাণীঃ হে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা ধৈর্যধারণ কর এবং ধৈর্যধারণে প্রতিযোগিতা কর আর সদা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাক। আর আল্লাহকে ভয় কর, তবেই তোমরা সফলকাম হবে। (আলে ইমরান ২০০)
২৮৯২. সাহল ইবনু সা‘দ সায়ি‘দী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘আল্লাহর পথে একদিন সীমান্ত প্রহরা দেয়া দুনিয়া ও এর উপর যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম। জান্নাতে তোমাদের কারো চাবুক পরিমান জায়গা দুনিয়া এবং ভূপৃষ্ঠের সমস্ত কিছুর চেয়ে উত্তম। আল্লাহর পথে বান্দার একটি সকাল বা বিকাল ব্যয় করা দুনিয়া এবং ভূপৃষ্ঠের সব কিছুর চেয়ে উত্তম।’ (২৭৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৯০)
মহান আল্লাহর বাণীঃ হে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা ধৈর্যধারণ কর এবং ধৈর্যধারণে প্রতিযোগিতা কর আর সদা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাক। আর আল্লাহকে ভয় কর, তবেই তোমরা সফলকাম হবে। (আলে ইমরান ২০০)
২৮৯২. সাহল ইবনু সা‘দ সায়ি‘দী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘আল্লাহর পথে একদিন সীমান্ত প্রহরা দেয়া দুনিয়া ও এর উপর যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম। জান্নাতে তোমাদের কারো চাবুক পরিমান জায়গা দুনিয়া এবং ভূপৃষ্ঠের সমস্ত কিছুর চেয়ে উত্তম। আল্লাহর পথে বান্দার একটি সকাল বা বিকাল ব্যয় করা দুনিয়া এবং ভূপৃষ্ঠের সব কিছুর চেয়ে উত্তম।’ (২৭৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৯০)
হাদিস নং: ২৮৯৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة حدثنا يعقوب عن عمرو عن انس بن مالك ان النبي صلى الله عليه وسلم قال لابي طلحة التمس غلاما من غلمانكم يخدمني حتى اخرج الى خيبر فخرج بي ابو طلحة مردفي وانا غلام راهقت الحلم فكنت اخدم رسول الله اذا نزل فكنت اسمعه كثيرا يقول اللهم اني اعوذ بك من الهم والحزن والعجز والكسل والبخل والجبن وضلع الدين وغلبة الرجال ثم قدمنا خيبر فلما فتح الله عليه الحصن ذكر له جمال صفية بنت حيي بن اخطب وقد قتل زوجها وكانت عروسا فاصطفاها رسول الله صلى الله عليه وسلم لنفسه فخرج بها حتى بلغنا سد الصهباء حلت فبنى بها ثم صنع حيسا في نطع صغير ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذن من حولك فكانت تلك وليمة رسول الله صلى الله عليه وسلم على صفية ثم خرجنا الى المدينة قال فرايت رسول الله يحوي لها وراءه بعباءة ثم يجلس عند بعيره فيضع ركبته فتضع صفية رجلها على ركبته حتى تركب فسرنا حتى اذا اشرفنا على المدينة نظر الى احد فقال هذا جبل يحبنا ونحبه ثم نظر الى المدينة فقال اللهم اني احرم ما بين لابتيها بمثل ما حرم ابراهيم مكة اللهم بارك لهم في مدهم وصاعهم
২৮৯৩. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবূ ত্বলহাকে বলেন, তোমাদের ছেলেদের মধ্য থেকে একটি ছেলে খুঁজে আন, যে আমার খেদমত করতে পারে। এমনকি তাকে আমি খায়বারেও নিয়ে যেতে পারি। অতঃপর আবূ ত্বলহা (রাঃ) আমাকে তার সাওয়ারীর পেছনে বসিয়ে নিয়ে চললেন। আমি তখন প্রায় সাবালক। আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর খেদমত করতে লাগলাম। তিনি যখন অবতরণ করতেন, তখন প্রায়ই তাকে এই দু‘আ পড়তে শুনতামঃ ‘হে আল্লাহ! আমি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানী থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণভার ও লোকজনের প্রাধান্য থেকে আপনার নিকট পানাহ চাচ্ছি।’ পরে আমরা খায়বারে গিয়ে হাজির হলাম। অতঃপর যখন আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে দুর্গের উপর বিজয়ী করলেন, তখন তাঁর নিকট সাফিয়্যা বিনতু হুয়াই ইবনু আখতাবের সৌন্দর্যের কথা উল্লেখ করা হলো, তিনি ছিলেন সদ্য বিবাহিতা; তাঁর স্বামীকে হত্যা করা হয়েছিল এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে নিজের জন্য মনোনীত করলেন। অতঃপর তাঁকে নিয়ে রওয়ানা দিলেন। আমরা যখন সাদ্দুস্ সাহ্বা নামক স্থানে পৌঁছলাম তখন সফিয়্যাহ (রাঃ) হায়েয থেকে পবিত্র হন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখানে তাঁর সঙ্গে বাসর যাপন করেন। অতঃপর তিনি চামড়ার ছোট দস্তরখানে ‘হায়সা’ প্রস্তুত করে আমাকে আশেপাশের লোকজনকে ডাকার নির্দেশ দিলেন। এই ছিল আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে সাফিয়্যার বিয়ের ওয়ালিমা। অতঃপর আমরা মদিনার দিকে রওয়ানা দিলাম। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি দেখতে পেলাম যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পেছনে চাদর দিয়ে সফিয়্যাহ্কে পর্দা করছেন। উঠানামার প্রয়োজন হলে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উটের কাছে হাঁটু বাড়িয়ে বসতেন, আর সাফিয়্যা (রাঃ) তাঁর উপর পা রেখে উটে আরোহণ করতেন। এভাবে আমরা মদিনার নিকটবর্তী হলাম। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উহুদের দিকে তাকিয়ে বললেন, এটি এমন এক পর্বত যা আমাদের ভালবাসে এবং আমরাও তাকে ভালবাসি। অতঃপর মদিনার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘ হে আল্লাহ, এই কঙ্করময় দু’টি ময়দানের মধ্যবর্তী স্থানকে আমি ‘হারাম’ বলে ঘোষণা করছি, যেমন ইব্রাহীম (আঃ) মক্কাকে ‘হারাম’ ঘোষণা করেছিলেন। হে আল্লাহ্! আপনি তাদের মুদ এবং সা‘তে বরকত দান করুন।’ (৩৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৯১)
হাদিস নং: ২৮৯৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو النعمان حدثنا حماد بن زيد عن يحيى عن محمد بن يحيى بن حبان عن انس بن مالك قال حدثتني ام حرام ان النبي صلى الله عليه وسلم قال يوما في بيتها فاستيقظ وهو يضحك قالت يا رسول الله ما يضحكك قال عجبت من قوم من امتي يركبون البحر كالملوك على الاسرة فقلت يا رسول الله ادع الله ان يجعلني منهم فقال انت منهم ثم نام فاستيقظ وهو يضحك فقال مثل ذلك مرتين او ثلاثا قلت يا رسول الله ادع الله ان يجعلني منهم فيقول انت من الاولين فتزوج بها عبادة بن الصامت فخرج بها الى الغزو فلما رجعت قربت دابة لتركبها فوقعت فاندقت عنقها
২৮৯৪-২৮৯৫. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু হারাম (রাঃ) আমাকে বলেছেন, একদা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে তিনি হাসতে হাসতে জেগে উঠেন। উম্মু হারাম (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিসে আপনাকে হাসাচ্ছে? তিনি বললেন, আমি আমার উম্মাতের একদলের ব্যাপারে বিস্মিত হয়েছি, তারা সিংহাসনে উপবিষ্ট রাজা-বাদশাহদের মত সমুদ্র সফর করবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আল্লাহর নিকট দু‘আ করুন, তিনি যেন আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি তাদের মধ্যে থাকবে। অতঃপর তিনি আবার ঘুমালেন এবং হাসতে হাসতে জেগে উঠেন। আর তিনি দু’বার অথবা তিনবার অনুরূপ বললেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আল্লাহর নিকট দু’আ করুন যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি তাদের অগ্রগামীদের মধ্যে রয়েছ। পরে ‘উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ) তাঁকে বিয়ে করেন এবং তাঁকে নিয়ে জিহাদে বের হন। তাকে তাঁর আরোহণের জন্য একটি সাওয়ারীর জানোয়ারের নিকটবর্তী করা হল। কিন্তু তিনি তা থেকে পড়ে যান এবং তাঁর ঘাড় ভেঙ্গে যায়। (২৭৮৮, ২৭৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৯২)
হাদিস নং: ২৮৯৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو النعمان، حدثنا حماد بن زيد، عن يحيى، عن محمد بن يحيى بن حبان، عن انس بن مالك ـ رضى الله عنه ـ قال حدثتني ام حرام، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال يوما في بيتها، فاستيقظ وهو يضحك، قالت يا رسول الله، ما يضحكك قال " عجبت من قوم من امتي يركبون البحر، كالملوك على الاسرة ". فقلت يا رسول الله، ادع الله ان يجعلني منهم. فقال " انت معهم ". ثم نام، فاستيقظ وهو يضحك فقال مثل ذلك مرتين او ثلاثا. قلت يا رسول الله، ادع الله ان يجعلني منهم. فيقول " انت من الاولين " فتزوج بها عبادة بن الصامت، فخرج بها الى الغزو، فلما رجعت قربت دابة لتركبها، فوقعت فاندقت عنقها.
২৮৯৪-২৮৯৫. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু হারাম (রাঃ) আমাকে বলেছেন, একদা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে তিনি হাসতে হাসতে জেগে উঠেন। উম্মু হারাম (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিসে আপনাকে হাসাচ্ছে? তিনি বললেন, আমি আমার উম্মাতের একদলের ব্যাপারে বিস্মিত হয়েছি, তারা সিংহাসনে উপবিষ্ট রাজা-বাদশাহদের মত সমুদ্র সফর করবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আল্লাহর নিকট দু‘আ করুন, তিনি যেন আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি তাদের মধ্যে থাকবে। অতঃপর তিনি আবার ঘুমালেন এবং হাসতে হাসতে জেগে উঠেন। আর তিনি দু’বার অথবা তিনবার অনুরূপ বললেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আল্লাহর নিকট দু’আ করুন যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি তাদের অগ্রগামীদের মধ্যে রয়েছ। পরে ‘উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ) তাঁকে বিয়ে করেন এবং তাঁকে নিয়ে জিহাদে বের হন। তাকে তাঁর আরোহণের জন্য একটি সাওয়ারীর জানোয়ারের নিকটবর্তী করা হল। কিন্তু তিনি তা থেকে পড়ে যান এবং তাঁর ঘাড় ভেঙ্গে যায়। (২৭৮৮, ২৭৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৯২)
হাদিস নং: ২৮৯৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا سليمان بن حرب حدثنا محمد بن طلحة عن طلحة عن مصعب بن سعد قال راى سعد ان له فضلا على من دونه فقال النبي صلى الله عليه وسلم هل تنصرون وترزقون الا بضعفاىكم
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَخْبَرَنِيْ أَبُوْ سُفْيَانَ قَالَ لِيْ قَيْصَرُ سَأَلْتُكَ أَشْرَافُ النَّاسِ اتَّبَعُوْهُ أَمْ ضُعَفَاؤُهُمْ فَزَعَمْتَ ضُعَفَاءَهُمْ وَهُمْ أَتْبَاعُ الرُّسُلِ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রোম সম্রাট কায়সার আমাকে বললেন, আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করছিলাম তাঁর অনুসরণ করছে প্রভাবশালী ব্যক্তি, না তাদের মধ্যে দুর্বলরা? তুমি বলছ যে, তাদের মধ্যকার দুর্বলরা-এরাই রাসূলদের অনুসারী হয়।
২৮৯৬. মুস‘আব ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন সা‘দ (রাঃ)-এর ধারণা ছিল অন্যদের চেয়ে তাঁর মর্যাদা অধিক। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘তোমরা দুর্বলদের (দু‘আয়) ওয়াসীলায়ই সাহায্য প্রাপ্ত ও রিয্ক প্রাপ্ত হচ্ছ।’ (৩৫৯৪, ৩৬৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৯৩)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রোম সম্রাট কায়সার আমাকে বললেন, আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করছিলাম তাঁর অনুসরণ করছে প্রভাবশালী ব্যক্তি, না তাদের মধ্যে দুর্বলরা? তুমি বলছ যে, তাদের মধ্যকার দুর্বলরা-এরাই রাসূলদের অনুসারী হয়।
২৮৯৬. মুস‘আব ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন সা‘দ (রাঃ)-এর ধারণা ছিল অন্যদের চেয়ে তাঁর মর্যাদা অধিক। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘তোমরা দুর্বলদের (দু‘আয়) ওয়াসীলায়ই সাহায্য প্রাপ্ত ও রিয্ক প্রাপ্ত হচ্ছ।’ (৩৫৯৪, ৩৬৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৯৩)
হাদিস নং: ২৮৯৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد حدثنا سفيان عن عمرو سمع جابرا عن ابي سعيد الخدريعن النبي صلى الله عليه وسلم قال ياتي زمان يغزو فىام من الناس فيقال فيكم من صحب النبي صلى الله عليه وسلم فيقال نعم فيفتح عليه ثم ياتي زمان فيقال فيكم من صحب اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم فيقال نعم فيفتح ثم ياتي زمان فيقال فيكم من صحب صاحب اصحاب النبي فيقال نعم فيفتح
২৮৯৭. আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘এমন এক সময় আসবে যখন একদল লোক আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমাদের সঙ্গে কি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের কেউ আছেন? বলা হবে, হ্যাঁ। অতঃপর (তাঁর বরকতে) বিজয় দান করা হবে। অতঃপর এমন এক সময় আসবে, যখন জিজ্ঞেস করা হবে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের সহচরদের মধ্যে কেউ কি তোমাদের মধ্যে আছেন? বলা হবে, হ্যাঁ, অতঃপর তাদের বিজয় দান করা হবে। অতঃপর এক যুগ এমন আসবে যে, জিজ্ঞেস করা হবে, তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছেন, যিনি নবী(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের সহচরদের সাহচর্য লাভ করেছে, (তাবি-তাবিঈন)? বলা হবে, হ্যাঁ। তখন তাদেরও বিজয় দান করা হবে।’ (৩৫৯৪, ৩৬৪৯) (মুসলিম ৪৪/৫২ হাঃ ২৫৩২, আহমাদ ১১০৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৯৪)
হাদিস নং: ২৮৯৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة حدثنا يعقوب بن عبد الرحمن عن ابي حازم عن سهل بن سعد الساعدي ان رسول الله صلى الله عليه وسلم التقى هو والمشركون فاقتتلوا فلما مال رسول الله صلى الله عليه وسلم الى عسكره ومال الاخرون الى عسكرهم وفي اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم رجل لا يدع لهم شاذة ولا فاذة الا اتبعها يضربها بسيفه فقال ما اجزا منا اليوم احد كما اجزا فلان فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اما انه من اهل النار فقال رجل من القوم انا صاحبه قال فخرج معه كلما وقف وقف معه واذا اسرع اسرع معه قال فجرح الرجل جرحا شديدا فاستعجل الموت فوضع نصل سيفه بالارض وذبابه بين ثدييه ثم تحامل على سيفه فقتل نفسه فخرج الرجل الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال اشهد انك رسول الله قال وما ذاك قال الرجل الذي ذكرت انفا انه من اهل النار فاعظم الناس ذلك فقلت انا لكم به فخرجت في طلبه ثم جرح جرحا شديدا فاستعجل الموت فوضع نصل سيفه في الارض وذبابه بين ثدييه ثم تحامل عليه فقتل نفسه فقال رسول الله عند ذلك ان الرجل ليعمل عمل اهل الجنة فيما يبدو للناس وهو من اهل النار وان الرجل ليعمل عمل اهل النار فيما يبدو للناس وهو من اهل الجنة
قَالَ أَبُوْ هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم اللهُ أَعْلَمُ بِمَنْ يُجَاهِدُ فِيْ سَبِيْلِهِ وَاللهُ أَعْلَمُ بِمَنْ يُكْلَمُ فِيْ سَبِيْلِهِ
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহর পথে কে জিহাদ করছে, তা তিনিই ভাল জানেন এবং কে তাঁর পথে আহত হয়েছে আল্লাহ্ই অধিক অবগত আছেন।
২৮৯৮. সাহল ইবনু সা‘দ সা‘ঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একবার আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও মুশ্রিকদের মধ্যে মুকাবিলা হয় এবং উভয়পক্ষ ভীষণ যুদ্ধ লিপ্ত হয়। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজ সৈন্যদলের নিকট ফিরে এলেন, মুশ্রিকরাও নিজ সৈন্যদলে ফিরে গেল। সেই যুদ্ধে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গীদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি ছিল, যে কোন মুশরিককে একাকী দেখলেই তার পশ্চাতে ছুটত এবং তাকে তলোয়ার দিয়ে আক্রমণ করত। বর্ণনাকারী (সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) বলেন, আজ আমাদের কেউ অমুকের মত যুদ্ধ করতে পারেনি। তা শুনে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সে তো জাহান্নামের অধিবাসী হবে। একজন সাহাবী বলে উঠলেন, আমি তার সঙ্গী হব। অতঃপর তিনি তার সঙ্গে বেরিয়ে পড়লেন, সে দাঁড়ালে তিনিও দাঁড়াতেন এবং সে শীঘ্র চললে তিনিও দ্রুত চলতেন। তিনি বললেন, এক সময় সে মারাত্মকভাবে আহত হলো এবং সে দ্রুত মৃত্যু কামনা করতে লাগল। এক সময় তলোয়ারের বাঁট মাটিতে রাখল এবং এর তীক্ষ্ণ দিক বুকে চেপে ধরে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করল। অনুসরণকারী ব্যক্তিটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলেন এবং বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহর রাসূল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, কী ব্যাপার? তিনি বললেন, যে ব্যক্তিটি সম্পর্কে আপনি কিছুক্ষণ আগেই বলেছিলেন যে, সে জাহান্নামী হবে, তা শুনে সাহাবীগণ বিষয়টিকে অস্বাভাবিক মনে করলেন। আমি তাদের বললাম যে, আমি ব্যক্তিটির সম্পর্কে খবর তোমাদের জানাব। অতঃপর আমি তার পিছু পিছু বের হলাম। এক সময় লোকটি মারাত্মকভাবে আহত হয় এবং সে শীঘ্র মৃত্যু কামনা করতে থাকে। অতঃপর তার তলোয়ারের বাট মাটিতে রেখে এর তীক্ষ্ণধার বুকে চেপে ধরল এবং তার উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন বললেন, ‘মানুষের বাহ্যিক বিচারে অনেক সময় কোন ব্যক্তি জান্নাতবাসীর মত ‘আমল করতে থাকে, আসলে সে জাহান্নামী হয় এবং তেমনি মানুষের বাহ্যিক বিচারে কোন ব্যক্তি জাহান্নামীর মত ‘আমল করলেও প্রকৃতপক্ষে সে জান্নাতী হয়।’ (৪২০৩, ৪২০৭, ৬৪৯৩, ৬৬০৭) (মুসলিম ১/৪৭ হাঃ ১১২, আহমাদ ২২৮৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৯৫)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহর পথে কে জিহাদ করছে, তা তিনিই ভাল জানেন এবং কে তাঁর পথে আহত হয়েছে আল্লাহ্ই অধিক অবগত আছেন।
২৮৯৮. সাহল ইবনু সা‘দ সা‘ঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একবার আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও মুশ্রিকদের মধ্যে মুকাবিলা হয় এবং উভয়পক্ষ ভীষণ যুদ্ধ লিপ্ত হয়। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজ সৈন্যদলের নিকট ফিরে এলেন, মুশ্রিকরাও নিজ সৈন্যদলে ফিরে গেল। সেই যুদ্ধে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গীদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি ছিল, যে কোন মুশরিককে একাকী দেখলেই তার পশ্চাতে ছুটত এবং তাকে তলোয়ার দিয়ে আক্রমণ করত। বর্ণনাকারী (সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) বলেন, আজ আমাদের কেউ অমুকের মত যুদ্ধ করতে পারেনি। তা শুনে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সে তো জাহান্নামের অধিবাসী হবে। একজন সাহাবী বলে উঠলেন, আমি তার সঙ্গী হব। অতঃপর তিনি তার সঙ্গে বেরিয়ে পড়লেন, সে দাঁড়ালে তিনিও দাঁড়াতেন এবং সে শীঘ্র চললে তিনিও দ্রুত চলতেন। তিনি বললেন, এক সময় সে মারাত্মকভাবে আহত হলো এবং সে দ্রুত মৃত্যু কামনা করতে লাগল। এক সময় তলোয়ারের বাঁট মাটিতে রাখল এবং এর তীক্ষ্ণ দিক বুকে চেপে ধরে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করল। অনুসরণকারী ব্যক্তিটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলেন এবং বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহর রাসূল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, কী ব্যাপার? তিনি বললেন, যে ব্যক্তিটি সম্পর্কে আপনি কিছুক্ষণ আগেই বলেছিলেন যে, সে জাহান্নামী হবে, তা শুনে সাহাবীগণ বিষয়টিকে অস্বাভাবিক মনে করলেন। আমি তাদের বললাম যে, আমি ব্যক্তিটির সম্পর্কে খবর তোমাদের জানাব। অতঃপর আমি তার পিছু পিছু বের হলাম। এক সময় লোকটি মারাত্মকভাবে আহত হয় এবং সে শীঘ্র মৃত্যু কামনা করতে থাকে। অতঃপর তার তলোয়ারের বাট মাটিতে রেখে এর তীক্ষ্ণধার বুকে চেপে ধরল এবং তার উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন বললেন, ‘মানুষের বাহ্যিক বিচারে অনেক সময় কোন ব্যক্তি জান্নাতবাসীর মত ‘আমল করতে থাকে, আসলে সে জাহান্নামী হয় এবং তেমনি মানুষের বাহ্যিক বিচারে কোন ব্যক্তি জাহান্নামীর মত ‘আমল করলেও প্রকৃতপক্ষে সে জান্নাতী হয়।’ (৪২০৩, ৪২০৭, ৬৪৯৩, ৬৬০৭) (মুসলিম ১/৪৭ হাঃ ১১২, আহমাদ ২২৮৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৯৫)
হাদিস নং: ২৮৯৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن مسلمة حدثنا حاتم بن اسماعيل عن يزيد بن ابي عبيد قال سمعت سلمة بن الاكوع قال مر النبي صلى الله عليه وسلم على نفر من اسلم ينتضلون فقال النبي صلى الله عليه وسلم ارموا بني اسماعيل فان اباكم كان راميا ارموا وانا مع بني فلان قال فامسك احد الفريقين بايديهم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما لكم لا ترمون قالوا كيف نرمي وانت معهم قال النبي صلى الله عليه وسلم ارموا فانا معكم كلكم
وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى )وَأَعِدُّوْا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِّنْ قُوَّةٍ وَّمِنْ رِّبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُوْنَ بِهِ عَدُوَّ اللهِ وَعَدُوَّكُمْ(
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘তোমরা প্রস্তুত রাখবে তাদের সাথে যুদ্ধের জন্য যা কিছু তোমাদের মধ্যে আছে অস্ত্রাদি ও অশ্ববাহিনী থেকে, এসব দিয়ে তোমরা ভীত-সন্ত্রস্ত করবে আল্লাহর শত্রুকে এবং তোমাদের শত্রুকে।’’ (আনফাল ৬০)
২৮৯৯. সালামাহ ইবনু আকওয়া‘ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসলাম গোত্রের একদল লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা তীরন্দাজি চর্চা করছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে বানূ ইসমাঈল! তোমরা তীর নিক্ষেপ করতে থাক। কেননা তোমাদের পূর্বপুরুষ দক্ষ তীরন্দাজ ছিলেন এবং আমি অমুক গোত্রের সঙ্গে আছি। রাবী বলেন, এ কথা শুনে দু’দলের এক দল তীর নিক্ষেপ বন্ধ করে দিল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমাদের কী হলো যে, তোমরা তীর নিক্ষেপ করছ না? তারা জবাব দিল, আমরা কিভাবে তীর নিক্ষেপ করতে পারি, অথচ আপনি তাদের সঙ্গে আছেন? নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমরা তীর নিক্ষেপ করতে থাক, আমি তোমাদের সকলের সঙ্গে আছি। (৩৩৭৩, ৩৫০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৯৬)
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘তোমরা প্রস্তুত রাখবে তাদের সাথে যুদ্ধের জন্য যা কিছু তোমাদের মধ্যে আছে অস্ত্রাদি ও অশ্ববাহিনী থেকে, এসব দিয়ে তোমরা ভীত-সন্ত্রস্ত করবে আল্লাহর শত্রুকে এবং তোমাদের শত্রুকে।’’ (আনফাল ৬০)
২৮৯৯. সালামাহ ইবনু আকওয়া‘ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসলাম গোত্রের একদল লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা তীরন্দাজি চর্চা করছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে বানূ ইসমাঈল! তোমরা তীর নিক্ষেপ করতে থাক। কেননা তোমাদের পূর্বপুরুষ দক্ষ তীরন্দাজ ছিলেন এবং আমি অমুক গোত্রের সঙ্গে আছি। রাবী বলেন, এ কথা শুনে দু’দলের এক দল তীর নিক্ষেপ বন্ধ করে দিল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমাদের কী হলো যে, তোমরা তীর নিক্ষেপ করছ না? তারা জবাব দিল, আমরা কিভাবে তীর নিক্ষেপ করতে পারি, অথচ আপনি তাদের সঙ্গে আছেন? নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমরা তীর নিক্ষেপ করতে থাক, আমি তোমাদের সকলের সঙ্গে আছি। (৩৩৭৩, ৩৫০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৯৬)
হাদিস নং: ২৯০০
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو نعيم حدثنا عبد الرحمن بن الغسيل عن حمزة بن ابي اسيد عن ابيه قال قال النبي صلى الله عليه وسلم يوم بدر حين صففنا لقريش وصفوا لنا اذا اكثبوكم فعليكم بالنبل
২৯০০. আবূ উসাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাদারের দিন বলেছেন, আমরা যখন কুরাইশদের বিপক্ষে সারিবদ্ধ হয়েছিলাম এবং কুরাইশরা আমাদের বিপক্ষে সারিবদ্ধ হয়েছিল, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের বললেন, যখন তারা তোমাদের নিকটবর্তী হবে, তখন তোমরা তীর চালনা করবে। আবূ আব্দুল্লাহ (রহ.) বলেন, أَكْثَبُوكُمْ এর অর্থ যখন অধিক সংখ্যক সমবেত হয়। (৩৯৮৪, ৩৯৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৯৭)
হাদিস নং: ২৯০১
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابراهيم بن موسى اخبرنا هشام عن معمر عن الزهري عن ابن المسيب عن ابي هريرة قال بينا الحبشة يلعبون عند النبي صلى الله عليه وسلم بحرابهم دخل عمر فاهوى الى الحصى فحصبهم بها فقال دعهم يا عمر وزاد علي حدثنا عبد الرزاق اخبرنا معمر في المسجد
২৯০১. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার একদল হাব্শী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট বর্শা নিয়ে খেলা করছিলেন। এমন সময় ‘উমার (রাঃ) সেখানে এলেন এবং হাতে কাঁকর তুলে নিয়ে তাদের দিকে নিক্ষেপ করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে ‘উমার! তাদের করতে দাও। আলী......মা‘মার (রহ.) সূত্রে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন, (এ ঘটনা) মসজিদে ঘটেছিল। (মুসলিম ৮/৪ হাঃ ৮৯৩, আহমাদ ৮০৮৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৯৮)
হাদিস নং: ২৯০২
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن محمد اخبرنا عبد الله اخبرنا الاوزاعي عن اسحاق بن عبد الله بن ابي طلحة عن انس بن مالك قال كان ابو طلحة يتترس مع النبي صلى الله عليه وسلم بترس واحد وكان ابو طلحة حسن الرمي فكان اذا رمى تشرف النبي صلى الله عليه وسلم فينظر الى موضع نبله
২৯০২. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ তাল্হা (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে একই ঢাল ব্যবহার করেছেন। আর আবূ ত্বলহা (রাঃ) ছিলেন একজন ভাল তীরন্দাজ। তিনি যখন তীর ছুঁড়তেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাথা উঁচু করে তীর যে স্থানে পড়ত তা নযর রাখতেন। (২৮৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৯৯)
হাদিস নং: ২৯০৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن عفير حدثنا يعقوب بن عبد الرحمن عن ابي حازم عن سهل قال لما كسرت بيضة النبي صلى الله عليه وسلم على راسه وادمي وجهه وكسرت رباعيته وكان علي يختلف بالماء في المجن وكانت فاطمة تغسله فلما رات الدم يزيد على الماء كثرة عمدت الى حصير فاحرقتها والصقتها على جرحه فرقا الدم
২৯০৩. সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যুদ্ধের ময়দানে যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাথার শিরস্ত্রাণ ভেঙ্গে গেল ও তাঁর মুখমণ্ডল
রক্তে ভিজে গেল এবং তাঁর সামনের দাঁত ভেঙ্গে গেল, তখন ‘আলী (রাঃ) ঢালে ভরে ভরে পানি আনতেন এবং ফাতিমাহ (রাঃ) ক্ষতস্থান ধুয়ে দিচ্ছিলেন। যখন ফাতিমাহ (রাঃ) দেখলেন যে, পানির চেয়ে রক্ত পড়া আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন একখানা চাটাই নিয়ে তা পোড়ালেন এবং তার ছাই ক্ষতস্থানে লাগিয়ে দিলেন, তাতে রক্ত বন্ধ হয়ে গেল। (২৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭০০)
রক্তে ভিজে গেল এবং তাঁর সামনের দাঁত ভেঙ্গে গেল, তখন ‘আলী (রাঃ) ঢালে ভরে ভরে পানি আনতেন এবং ফাতিমাহ (রাঃ) ক্ষতস্থান ধুয়ে দিচ্ছিলেন। যখন ফাতিমাহ (রাঃ) দেখলেন যে, পানির চেয়ে রক্ত পড়া আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন একখানা চাটাই নিয়ে তা পোড়ালেন এবং তার ছাই ক্ষতস্থানে লাগিয়ে দিলেন, তাতে রক্ত বন্ধ হয়ে গেল। (২৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭০০)
হাদিস নং: ২৯০৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله حدثنا سفيان عن عمرو عن الزهري عن مالك بن اوس بن الحدثان عن عمر قال كانت اموال بني النضير مما افاء الله على رسوله مما لم يوجف المسلمون عليه بخيل ولا ركاب فكانت لرسول الله صلى الله عليه وسلم خاصة وكان ينفق على اهله نفقة سنته ثم يجعل ما بقي في السلاح والكراع عدة في سبيل الله
২৯০৪. ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনূ নযীরের সম্পদ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ‘ফায়’ হিসেবে দান করেছিলেন। এতে মুসলিমগণ অশ্ব বা সাওয়ারী চালনা করেনি। এ কারণে তা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য নির্দিষ্ট ছিল। এ সম্পদ থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পরিবারকে এক বছরের খরচ দিয়ে দিতেন এবং বাকী আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের প্রস্তুতির জন্য হাতিয়ার ও ঘোড়া ইত্যাদিতে ব্যয় করতেন। (৩০৯৪, ৪০৩৩, ৪৮৮৫, ৫৩৫৭, ৫৩৫৮, ৬৭২৮, ৭৩০৫) (মুসলিম ৩২/১৫ হাঃ ১৭৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭০১)
হাদিস নং: ২৯০৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا يحيى عن سفيان قال حدثني سعد بن ابراهيم عن عبد الله بن شداد عن علي ح حدثنا قبيصة حدثنا سفيان عن سعد بن ابراهيم قال حدثني عبد الله بن شداد قال سمعت عليا يقول ما رايت النبي صلى الله عليه وسلم يفدي رجلا بعد سعد سمعته يقول ارم فداك ابي وامي
২৯০৫. ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সা‘দ (রাঃ) ব্যতীত আর কারো জন্যও তাঁর পিতা-মাতাকে উৎসর্গ করার কথা বলতে দেখিনি। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, ‘তুমি তীর নিক্ষেপ কর, তোমার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গ (ফিদা) হোক।’ (৪০৫৮, ৪০৫৯, ৬১৮৪) (মুসলিম ৪৪/৫ হাঃ ২৪১১, আহমাদ ১১৪৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭০২)
হাদিস নং: ২৯০৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل قال حدثني ابن وهب قال عمرو حدثني ابو الاسود عن عروة عن عاىشة رضي الله عنها قالت دخل علي رسول الله صلى الله عليه وسلم وعندي جاريتان تغنيان بغناء بعاث فاضطجع على الفراش وحول وجهه فدخل ابو بكر فانتهرني وقال مزمارة الشيطان عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فاقبل عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال دعهما فلما غفل غمزتهما فخرجتا
২৯০৬. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার নিকট আসলেন। সে সময় দু’টি বালিকা বু‘আস যুদ্ধের গৌরবগাঁথা গাচ্ছিল। তিনি এসেই বিছানায় গা এলিয়ে দিলেন এবং তাঁর মুখ ফিরিয়ে রাখলেন। এমন সময় আবূ বকর (রাঃ) এলেন এবং আমাকে ধমক দিলেন এবং বললেন, আল্লাহর রাসূলের নিকট শয়তানের বাজনা? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর দিকে ফিরে বললেন, ওদের ছেড়ে দাও। অতঃপর যখন তিনি অন্য দিকে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন আমি বালিকা দু’টিকে খোঁচা দিলাম। আর তারা বেরিয়ে গেল। (৯৪৯) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭০৩ প্রথমাংশ)
হাদিস নং: ২৯০৭
সহিহ (Sahih)
قالت وكان يوم عيد يلعب السودان بالدرق والحراب فاما سالت رسول الله صلى الله عليه وسلم واما قال تشتهين تنظرين فقالت نعم فاقامني وراءه خدي على خده ويقول دونكم بني ارفدة حتى اذا مللت قال حسبك قلت نعم قال فاذهبي قال ابو عبد الله قال احمد عن ابن وهب فلما غفل
২৯০৭. ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, ঈদের দিনে হাবশী লোকেরা ঢাল ও বর্শা নিয়ে খেলা করত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছিলাম কিংবা তিনিই আমাকে বলেছিলেন, তুমি কি দেখতে চাও? আমি বললাম, হ্যাঁ। অতঃপর তিনি আমাকে তাঁর পেছনে দাঁড় করালেন। আমার গাল তাঁর গালের উপর ছিল। তিনি বলছিলেন, হে বানূ আরফিদা, চালিয়ে যাও। যখন আমি ক্লান্ত হয়ে পড়লাম, তিনি আমাকে বললেন, যথেষ্ট হয়েছে? বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে যাও। আহমদ (রহ.) ইবনু ওয়াহব (রহ.) সূত্রে বলেন, তিনি যখন অন্য মনস্ক হলেন। (৪৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭০৩ শেষাংশ)
হাদিস নং: ২৯০৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا سليمان بن حرب حدثنا حماد بن زيد عن ثابت عن انس قال كان النبي صلى الله عليه وسلم احسن الناس واشجع الناس ولقد فزع اهل المدينة ليلة فخرجوا نحو الصوت فاستقبلهم النبي صلى الله عليه وسلم وقد استبرا الخبر وهو على فرس لابي طلحة عري وفي عنقه السيف وهو يقول لم تراعوا لم تراعوا ثم قال وجدناه بحرا او قال انه لبحر
২৯০৮. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সকল লোকের চেয়ে সুশ্রী ও সাহসী ছিলেন। এক রাতে মদিনার লোকেরা ভীত হয়ে শব্দের দিকে বের হলো। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের সামনে এলেন এমন অবস্থায় যে, তিনি শব্দের কারণ অন্বেষণ করে ফেলেছেন। তিনি আবূ ত্বলহার জিনবিহীন ঘোড়ার পিঠে সাওয়ার ছিলেন এবং তাঁর কাঁধে তরবারি ছিল। তিনি বলছিলেন, তোমরা ভীত হয়ো না। অতঃপর তিনি বললেন, আমি ঘোড়াটিকে সমুদ্রের মত গতিশীল পেয়েছি, অথবা তিনি বললেন, এটি সমুদ্র। (২৬২৭) (মুসলিম ৪৩/১১ হাঃ ২৩০৭, আহমাদ ১২৭৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭০৪)
হাদিস নং: ২৯০৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن محمد اخبرنا عبد الله اخبرنا الاوزاعي قال سمعت سليمان بن حبيب قال سمعت ابا امامة يقول لقد فتح الفتوح قوم ما كانت حلية سيوفهم الذهب ولا الفضة انما كانت حليتهم العلابي والانك والحديد
২৯০৯. আবূ উমামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এই সব বিজয় এমন সব লোকদের দ্বারা অর্জিত হয়েছিল, যাদের তলোয়ার স্বর্ণ বা রৌপ্য খচিত ছিল না, বরং তাদের তলোয়ার ছিল উটের গর্দানের চামড়া এবং লৌহ কারুকার্য খচিত। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭০৫)
হাদিস নং: ২৯১০
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال حدثني سنان بن ابي سنان الدولي وابو سلمة بن عبد الرحمن ان جابر بن عبد الله رضي الله عنهما اخبر انه غزا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل نجد فلما قفل رسول الله صلى الله عليه وسلم قفل معه فادركتهم القاىلة في واد كثير العضاه فنزل رسول الله صلى الله عليه وسلم وتفرق الناس يستظلون بالشجر فنزل رسول الله صلى الله عليه وسلم تحت سمرة وعلق بها سيفه ونمنا نومة فاذا رسول الله صلى الله عليه وسلم يدعونا واذا عنده اعرابي فقال ان هذا اخترط علي سيفي وانا ناىم فاستيقظت وهو في يده صلتا فقال من يمنعك مني فقلت الله ثلاثا ولم يعاقبه وجلس
২৯১০. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে নাজদের দিকে কোন এক যুদ্ধে বের হয়েছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফিরে আসলে তিনিও তাঁর সঙ্গে ফিরে আসলেন। তারা যখন কণ্টকময় বৃক্ষরাজীতে আবৃত এক উপত্যকায় উপস্থিত হলেন তখন তাঁদের দিবা বিশ্রামের সময় এলো। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখানে অবতরণ করেন। লোকেরা ছায়ার আশ্রয়ে বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি বাবলা গাছের নীচে অবতরণ করলেন এবং তাতে তাঁর তরবারী ঝুলিয়ে রাখলেন। অতঃপর আমরা সকলেই ঘুমিয়ে পড়লাম। হঠাৎ এক সময় আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের ডাকতে লাগলেন। দেখলাম তাঁর পার্শ্বে একজন গ্রাম্য আরব। তিনি বললেন, আমার নিদ্রাবস্থায় এই ব্যক্তি আমারই তরবারী আমারই উপর বের করে ধরেছে। জেগে উঠে দেখতে পেলাম যে, তার হাতে খোলা তরবারী। সে বলল, আমার থেকে তোমাকে কে রক্ষা করবে, আমি বললাম, আল্লাহ! আল্লাহ! তিনবার। তারপরও তিনি কোন প্রতিশোধ নেননি, অথচ সে সেখানে বসে আছে। (২৯১৩, ৪১৩৪, ৪১৩৫, ৪১৩৬, ৪১৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭০৬)