হাদিস নং: ৩০৪২
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبيد الله عن اسراىيل عن ابي اسحاق قال سال رجل البراء فقال يا ابا عمارة اوليتم يوم حنين قال البراء وانا اسمع اما رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يول يومىذ كان ابو سفيان بن الحارث اخذا بعنان بغلته فلما غشيه المشركون نزل فجعل يقول :
انـا النـبـي لا كـذب انـا ابن عـبـد المطـلـب
قال فما رىي من الناس يومىذ اشد منه
انـا النـبـي لا كـذب انـا ابن عـبـد المطـلـب
قال فما رىي من الناس يومىذ اشد منه
وَقَالَ سَلَمَةُ خُذْهَا وَأَنَا ابْنُ الأَكْوَعِ
আর সালামাহ বলেছেন, এটাও লও; আমি আকওয়া’র পুত্র।
৩০৪২. আবূ ইসহাক (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বারাআ ইবনু ’আযিব (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করল এবং বলল, হে আবূ উমারাহ! আপনারা কি হুনাইনের যুদ্ধে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছিলেন? বারাআ (রাঃ) বললেন, [আবূ ইসহাক (রহ.) বলেন], আর আমি তা শুনছিলাম, সেদিন তো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালিয়ে যাননি। আবূ সুফ্ইয়ান ইবনু হারিস (রাঃ) তাঁর খচ্চরের লাগাম ধরেছিলেন। যখন মুশরিকগণ তাঁকে ঘিরে ফেলল, তখন তিনি অবতরণ করলেন এবং বলতে লাগলেন,
আমি আল্লাহর নবী, এটা মিথ্যা নয়। আমি আবদুল মুত্তালিবের সন্তান।
তিনি (বারা) (রাঃ) বলেন, সেদিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপেক্ষা দৃঢ়চেতা আর কাউকে দেখা যায়নি। (২৮৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮২৫)
আর সালামাহ বলেছেন, এটাও লও; আমি আকওয়া’র পুত্র।
৩০৪২. আবূ ইসহাক (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বারাআ ইবনু ’আযিব (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করল এবং বলল, হে আবূ উমারাহ! আপনারা কি হুনাইনের যুদ্ধে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছিলেন? বারাআ (রাঃ) বললেন, [আবূ ইসহাক (রহ.) বলেন], আর আমি তা শুনছিলাম, সেদিন তো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালিয়ে যাননি। আবূ সুফ্ইয়ান ইবনু হারিস (রাঃ) তাঁর খচ্চরের লাগাম ধরেছিলেন। যখন মুশরিকগণ তাঁকে ঘিরে ফেলল, তখন তিনি অবতরণ করলেন এবং বলতে লাগলেন,
আমি আল্লাহর নবী, এটা মিথ্যা নয়। আমি আবদুল মুত্তালিবের সন্তান।
তিনি (বারা) (রাঃ) বলেন, সেদিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপেক্ষা দৃঢ়চেতা আর কাউকে দেখা যায়নি। (২৮৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮২৫)
হাদিস নং: ৩০৪৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا سليمان بن حرب حدثنا شعبة عن سعد بن ابراهيم عن ابي امامة هو ابن سهل بن حنيف عن ابي سعيد الخدري قال لما نزلت بنو قريظة على حكم سعد هو ابن معاذ بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان قريبا منه فجاء على حمار فلما دنا قال رسول الله صلى الله عليه وسلم قوموا الى سيدكم فجاء فجلس الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال له ان هولاء نزلوا على حكمك قال فاني احكم ان تقتل المقاتلة وان تسبى الذرية قال لقد حكمت فيهم بحكم الملك
৩০৪৩. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন বনী কুরায়যার ইয়াহূদীরা সা‘দ ইবনু মা‘আয (রাঃ)-এর ফায়সালা মুতাবিক দূর্গ থেকে বেরিয়ে আসে, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ডেকে পাঠান। আর তিনি তখন ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলেন। তখন সা‘দ (রাঃ) একটি গাধার পিঠে আরোহণ করে আসলেন। যখন তিনি কাছে আসলেন, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা ‘তোমাদের নেতার দিকে দন্ডায়মান হও।’ তিনি এসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসলেন। তখন তাঁকে বললেন, ‘এগিয়ে যাও এরা তোমার ফায়সালায় রাজী হয়েছে। সা‘দ (রাঃ) বলেন, ‘আমি এই রায় ঘোষণা করছি যে, তাদের মধ্য হতে যারা যুদ্ধ করতে পারে তাদেরকে হত্যা করা হবে এবং নারী ও শিশুদের বন্দী করা হবে।’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তুমি তাদের সম্পর্কে আল্লাহ্ তা‘আলার ফয়সালার মত ফয়সালাই করেছ।’ (৩৮০৪, ৪১২১, ৬২৬২) (মুসলিম ৩২/২২ হাঃ ১৭৬৮, আহমাদ ১১১৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮২৬)
হাদিস নং: ৩০৪৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل قال حدثني مالك عن ابن شهاب عن انس بن مالك ان رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل عام الفتح وعلى راسه المغفر فلما نزعه جاء رجل فقال ان ابن خطل متعلق باستار الكعبة فقال اقتلوه
৩০৪৪. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। মক্কা জয়ের বছর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথায় শিরস্ত্রাণ পরা অবস্থায় প্রবেশ করেন। যখন তিনি তা খুলে ফেললেন, এক ব্যক্তি এসে বললো, ইবনু খাতাল্ কা‘বার পর্দা ধরে আছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তাকে কতল কর।’ (১৮৪৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮২৭)
হাদিস নং: ৩০৪৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني عمرو بن ابي سفيان بن اسيد بن جارية الثقفي وهو حليف لبني زهرة وكان من اصحاب ابي هريرة ان ابا هريرة قال بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم عشرة رهط سرية عينا وامر عليهم عاصم بن ثابت الانصاري جد عاصم بن عمر بن الخطاب فانطلقوا حتى اذا كانوا بالهداة وهو بين عسفان ومكة ذكروا لحي من هذيل يقال لهم بنو لحيان فنفروا لهم قريبا من ماىتي رجل كلهم رام فاقتصوا اثارهم حتى وجدوا ماكلهم تمرا تزودوه من المدينة فقالوا هذا تمر يثرب فاقتصوا اثارهم فلما راهم عاصم واصحابه لجىوا الى فدفد واحاط بهم القوم فقالوا لهم انزلوا واعطونا بايديكم ولكم العهد والميثاق ولا نقتل منكم احدا قال عاصم بن ثابت امير السرية اما انا فوالله لا انزل اليوم في ذمة كافر اللهم اخبر عنا نبيك فرموهم بالنبل فقتلوا عاصما في سبعة فنزل اليهم ثلاثة رهط بالعهد والميثاق منهم خبيب الانصاري وابن دثنة ورجل اخر فلما استمكنوا منهم اطلقوا اوتار قسيهم فاوثقوهم فقال الرجل الثالث هذا اول الغدر والله لا اصحبكم ان لي في هولاء لاسوة يريد القتلى فجرروه وعالجوه على ان يصحبهم فابى فقتلوه فانطلقوا بخبيب وابن دثنة حتى باعوهما بمكة بعد وقعة بدر فابتاع خبيبا بنو الحارث بن عامر بن نوفل بن عبد مناف وكان خبيب هو قتل الحارث بن عامر يوم بدر فلبث خبيب عندهم اسيرا فاخبرني عبيد الله بن عياض ان بنت الحارث اخبرته انهم حين اجتمعوا استعار منها موسى يستحد بها فاعارته فاخذ ابنا لي وانا غافلة حين اتاه قالت فوجدته مجلسه على فخذه والموسى بيده ففزعت فزعة عرفها خبيب في وجهي فقال تخشين ان اقتله ما كنت لافعل ذلك والله ما رايت اسيرا قط خيرا من خبيب والله لقد وجدته يوما ياكل من قطف عنب في يده وانه لموثق في الحديد وما بمكة من ثمر وكانت تقول انه لرزق
من الله رزقه خبيبا فلما خرجوا من الحرم ليقتلوه في الحل قال لهم خبيب ذروني اركع ركعتين فتركوه فركع ركعتين ثم قال لولا ان تظنوا ان ما بي جزع لطولتها اللهم احصهم عددا
ولست ابالي حين اقتل مسلمـا على اي شق كان لله مصرعي
وذلك في ذات الاله وان يشـا يبارك على اوصال شلو ممزع
فقتله ابن الحارث فكان خبيب هو سن الركعتين لكل امرى مسلم قتل صبرا فاستجاب الله لعاصم بن ثابت يوم اصيب فاخبر النبي صلى الله عليه وسلم اصحابه خبرهم وما اصيبوا وبعث ناس من كفار قريش الى عاصم حين حدثوا انه قتل ليوتوا بشيء منه يعرف وكان قد قتل رجلا من عظماىهم يوم بدر فبعث على عاصم مثل الظلة من الدبر فحمته من رسولهم فلم يقدروا على ان يقطع من لحمه شيىا
من الله رزقه خبيبا فلما خرجوا من الحرم ليقتلوه في الحل قال لهم خبيب ذروني اركع ركعتين فتركوه فركع ركعتين ثم قال لولا ان تظنوا ان ما بي جزع لطولتها اللهم احصهم عددا
ولست ابالي حين اقتل مسلمـا على اي شق كان لله مصرعي
وذلك في ذات الاله وان يشـا يبارك على اوصال شلو ممزع
فقتله ابن الحارث فكان خبيب هو سن الركعتين لكل امرى مسلم قتل صبرا فاستجاب الله لعاصم بن ثابت يوم اصيب فاخبر النبي صلى الله عليه وسلم اصحابه خبرهم وما اصيبوا وبعث ناس من كفار قريش الى عاصم حين حدثوا انه قتل ليوتوا بشيء منه يعرف وكان قد قتل رجلا من عظماىهم يوم بدر فبعث على عاصم مثل الظلة من الدبر فحمته من رسولهم فلم يقدروا على ان يقطع من لحمه شيىا
৩০৪৫. ’আমর ইবনু আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশ ব্যক্তিকে গোয়েন্দা হিসেবে সংবাদ সংগ্রহের জন্য পাঠালেন এবং আসিম ইবনু সাবিত আনসারীকে তাঁদের দলপতি নিয়োগ করেন। যিনি আসিম ইবনু ’উমার ইবনু খাত্তাবের নানা ছিলেন। তাঁরা রওনা করলেন, যখন তাঁরা উসফান ও মক্কার মাঝে হাদআত নামক স্থানে পৌঁছেন, তখন হুযায়েল গোত্রের একটি প্রশাখা যাদেরকে লেহইয়ান বলা হয় তাদের নিকট তাঁদের ব্যাপারে আলোচনা করা হয়। তারা প্রায় দু’শত তীরন্দাজকে তাঁদের পিছু ধাওয়ার জন্য পাঠান। এরা তাঁদের চিহ্ন দেখে চলতে থাকে। সাহাবীগণ মদিনা্ হতে সঙ্গে নিয়ে আসা খেজুর যেখানে বসে খেয়েছিলেন, অবশেষে এরা সে স্থানের সন্ধান পেয়ে গেল, তখন এরা বলল, ইয়াসরিবের খেজুর। অতঃপর এরা তাঁদের পদচিহ্ন দেখে চলতে লাগল। যখন আসিম ও তাঁর সাথীগণ এদের দেখলেন, তখন তাঁরা একটি উঁচু স্থানে আশ্রয় গ্রহণ করলেন। আর কাফিররা তাঁদের ঘিরে ফেলল এবং তাঁদেরকে বলতে লাগল, তোমরা অবতরণ কর ও স্বেচ্ছায় বন্দীত্ব বরণ কর। আমরা তোমাদের অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, তোমাদের মধ্য হতে কাউকে আমরা হত্যা করব না। তখন গোয়েন্দা দলের নেতা আসিম ইবনু সাবিত (রাঃ) বললেন, ’আল্লাহর কসম! আমি তো আজ কাফিরদের নিরাপত্তায় অবতরণ করবো না। হে আল্লাহ! আমাদের পক্ষ থেকে আপনার নবীকে সংবাদ পৌঁছিয়ে দিন।’ অবশেষে কাফিররা তীর নিক্ষেপ করতে শুরু করল। আর তারা আসিম (রাঃ) সহ সাত জনকে শহীদ করলো। অতঃপর অবশিষ্ট তিনজন খুবাইব আনসারী, যায়দ ইবনু দাসিনা (রাঃ) ও অপর একজন তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের উপর নির্ভর করে তাদের নিকট অবতরণ করলেন। যখন কাফিররা তাদেরকে আয়ত্বে নিয়ে নিল, তখন তারা তাদের ধনুকের রশি খুলে ফেলে তাঁদের বেঁধে ফেললো। তখন তৃতীয় জন বলে উঠলেন, ’গোড়াতেই বিশ্বাসঘাতকতা! আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের সঙ্গে যাবো না, যাঁরা শহীদ হয়েছেন আমি তাঁদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করব।’ কাফিররা তাঁকে শহীদ করে ফেলে এবং তারা খুবাইব ও ইবনু দাসিনাকে নিয়ে চলে যায়। অবশেষে তাঁদের উভয়কে মক্কায় বিক্রয় করে ফেলে। এটা বাদার যুদ্ধের পরের কথা। তখন খুবাইবকে হারিস ইবনু ’আমিরের পুত্রগণ ক্রয় করে নেয়। আর বাদার যুদ্ধের দিন খুবাইব (রাঃ) হারিস ইবনু ’আমিরকে হত্যা করেছিলেন। খুবাইব (রাঃ) কিছু দিন তাদের নিকট বন্দী থাকেন।
ইবনু শিহাব (রহ.) বলেন, আমাকে ’উবায়দুল্লাহ ইবনু আয়ায্ অবহিত করেছেন, তাঁকে হারিসের কন্যা জানিয়েছে যে, যখন হারিসের পুত্রগণ খুবাইব (রাঃ)-কে শহীদ করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিল, তখন তিনি তার কাছ থেকে ক্ষৌর কাজ সম্পন্ন করার উদ্দেশে একটা ক্ষুর ধার চাইলেন। তখন হারিসের কন্যা তাকে একখানা ক্ষুর ধার দিল। সে সময় ঘটনাক্রমে আমার এক ছেলে আমার অজ্ঞাতে খুবাইবের নিকট চলে যায় এবং আমি দেখলাম যে, আমার ছেলে খুবাইবের উরুর উপর বসে রয়েছে এবং খুবাইবের হাতে রয়েছে ক্ষুর। আমি খুব ভয় পেয়ে গেলাম। খুবাইব আমার চেহারা দেখে বুঝতে পারলেন যে, আমি ভয় পাচ্ছি। তখন তিনি বললেন, তুমি কি এ ভয় করো যে, আমি এ শিশুটিকে হত্যা করে ফেলব? কখনো আমি তা করব না। আল্লাহর কসম! আমি খুবাইবের মত উত্তম বন্দী কখনো দেখিনি। আল্লাহর শপথ! আমি একদা দেখলাম, তিনি লোহার শিকলে আবদ্ধ অবস্থায় ছড়া হতে আঙ্গুর খাচ্ছেন, যা তাঁর হাতেই ছিল। অথচ এ সময় মক্কা্য় কোন ফলই পাওয়া যাচ্ছিল না। হারিসের কন্যা বলতো, এ তো ছিল আল্লাহ তা’আলার পক্ষ হতে প্রদত্ত জীবিকা, যা তিনি খুবাইবকে দান করেছেন। অতঃপর তারা খুবাইবকে শহীদ করার উদ্দেশে হারাম এর নিকট হতে হিল্লের দিকে নিয়ে বের হয়ে পড়ল, তখন খুবাইব (রাঃ) তাদের বললেন, আমাকে দু’রাক’আত সালাত আদায় করতে দাও। তারা তাঁকে সে অনুমতি দিল। তিনি দু’রাকআত সালাত আদায় করে নিলেন। অতঃপর তিনি বললেন, ’তোমরা যদি ধারণা না করতে যে, আমি মৃত্যুর ভয়ে ভীত হয়ে পড়েছি তবে আমি সালাতকে দীর্ঘ করতাম। হে আল্লাহ! তাদেরকে এক এক করে ধ্বংস করুন।’ (অতঃপর তিনি এ কবিতা দু’টি আবৃত্তি করলেন)
’’যখন আমি মুসলিম হিসেবে শহীদ হচ্ছি তখন আমি কোন রূপ ভয় করি না।
আল্লাহর উদ্দেশ্যে আমাকে যেখানেই মাটিতে লুটিয়ে ফেলা হোক না কেন।
আমার এ মৃত্যু আল্লাহ তা’আলার জন্যই হচ্ছে। তিনি যদি ইচ্ছা করেন,
তবে আমার দেহের প্রতিটি খন্ডিত জোড়াসমূহে বরকত সৃষ্টি করে দিবেন।’’
অবশেষে হারিসের পুত্র তাঁকে শহীদ করে ফেলে। বস্তুত যে মুসলিম ব্যক্তিকে বন্দী অবস্থায় শহীদ করা হয় তার জন্য দু’রাক’আত সালাত আদায়ের এ রীতি খুবাইব (রাঃ)-ই প্রবর্তন করে গেছেন। যে দিন আসিম (রাঃ) শাহাদত বরণ করেছিলেন, সেদিন আল্লাহ তা’আলা তাঁর দু’আ কবুল করেছিলেন। সেদিনই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে তাঁদের সংবাদ ও তাঁদের উপর যা’ যা’ আপতিত হয়েছিল সবই অবহিত করেছিলেন। আর যখন কুরাইশ কাফিরদেরকে এ সংবাদ পৌঁছানো হয় যে, আসিম (রাঃ)-কে শহীদ করা হয়েছে তখন তারা তাঁর কাছে এক লোককে পাঠায়, যাতে সে ব্যক্তি তাঁর লাশ হতে কিছু অংশ কেটে নিয়ে আসে, যেন তারা তা দেখে চিনতে পারে। কারণ, বাদার যুদ্ধের দিন আসিম (রাঃ) কুরাইশদের এক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলেন। আসিমের লাশের (রক্ষার জন্য) মৌমাছির ঝাঁক প্রেরিত হল যারা তাঁর দেহ আবৃত করে রেখে তাদের ষড়যন্ত্র হতে হিফাযত করল। ফলে তারা তাঁর শরীর হতে এক খন্ড গোশ্তও কেটে নিতে পারেনি। (৩৯৮৯, ৪০৮৬, ৭৪০২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮২৮)
ইবনু শিহাব (রহ.) বলেন, আমাকে ’উবায়দুল্লাহ ইবনু আয়ায্ অবহিত করেছেন, তাঁকে হারিসের কন্যা জানিয়েছে যে, যখন হারিসের পুত্রগণ খুবাইব (রাঃ)-কে শহীদ করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিল, তখন তিনি তার কাছ থেকে ক্ষৌর কাজ সম্পন্ন করার উদ্দেশে একটা ক্ষুর ধার চাইলেন। তখন হারিসের কন্যা তাকে একখানা ক্ষুর ধার দিল। সে সময় ঘটনাক্রমে আমার এক ছেলে আমার অজ্ঞাতে খুবাইবের নিকট চলে যায় এবং আমি দেখলাম যে, আমার ছেলে খুবাইবের উরুর উপর বসে রয়েছে এবং খুবাইবের হাতে রয়েছে ক্ষুর। আমি খুব ভয় পেয়ে গেলাম। খুবাইব আমার চেহারা দেখে বুঝতে পারলেন যে, আমি ভয় পাচ্ছি। তখন তিনি বললেন, তুমি কি এ ভয় করো যে, আমি এ শিশুটিকে হত্যা করে ফেলব? কখনো আমি তা করব না। আল্লাহর কসম! আমি খুবাইবের মত উত্তম বন্দী কখনো দেখিনি। আল্লাহর শপথ! আমি একদা দেখলাম, তিনি লোহার শিকলে আবদ্ধ অবস্থায় ছড়া হতে আঙ্গুর খাচ্ছেন, যা তাঁর হাতেই ছিল। অথচ এ সময় মক্কা্য় কোন ফলই পাওয়া যাচ্ছিল না। হারিসের কন্যা বলতো, এ তো ছিল আল্লাহ তা’আলার পক্ষ হতে প্রদত্ত জীবিকা, যা তিনি খুবাইবকে দান করেছেন। অতঃপর তারা খুবাইবকে শহীদ করার উদ্দেশে হারাম এর নিকট হতে হিল্লের দিকে নিয়ে বের হয়ে পড়ল, তখন খুবাইব (রাঃ) তাদের বললেন, আমাকে দু’রাক’আত সালাত আদায় করতে দাও। তারা তাঁকে সে অনুমতি দিল। তিনি দু’রাকআত সালাত আদায় করে নিলেন। অতঃপর তিনি বললেন, ’তোমরা যদি ধারণা না করতে যে, আমি মৃত্যুর ভয়ে ভীত হয়ে পড়েছি তবে আমি সালাতকে দীর্ঘ করতাম। হে আল্লাহ! তাদেরকে এক এক করে ধ্বংস করুন।’ (অতঃপর তিনি এ কবিতা দু’টি আবৃত্তি করলেন)
’’যখন আমি মুসলিম হিসেবে শহীদ হচ্ছি তখন আমি কোন রূপ ভয় করি না।
আল্লাহর উদ্দেশ্যে আমাকে যেখানেই মাটিতে লুটিয়ে ফেলা হোক না কেন।
আমার এ মৃত্যু আল্লাহ তা’আলার জন্যই হচ্ছে। তিনি যদি ইচ্ছা করেন,
তবে আমার দেহের প্রতিটি খন্ডিত জোড়াসমূহে বরকত সৃষ্টি করে দিবেন।’’
অবশেষে হারিসের পুত্র তাঁকে শহীদ করে ফেলে। বস্তুত যে মুসলিম ব্যক্তিকে বন্দী অবস্থায় শহীদ করা হয় তার জন্য দু’রাক’আত সালাত আদায়ের এ রীতি খুবাইব (রাঃ)-ই প্রবর্তন করে গেছেন। যে দিন আসিম (রাঃ) শাহাদত বরণ করেছিলেন, সেদিন আল্লাহ তা’আলা তাঁর দু’আ কবুল করেছিলেন। সেদিনই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে তাঁদের সংবাদ ও তাঁদের উপর যা’ যা’ আপতিত হয়েছিল সবই অবহিত করেছিলেন। আর যখন কুরাইশ কাফিরদেরকে এ সংবাদ পৌঁছানো হয় যে, আসিম (রাঃ)-কে শহীদ করা হয়েছে তখন তারা তাঁর কাছে এক লোককে পাঠায়, যাতে সে ব্যক্তি তাঁর লাশ হতে কিছু অংশ কেটে নিয়ে আসে, যেন তারা তা দেখে চিনতে পারে। কারণ, বাদার যুদ্ধের দিন আসিম (রাঃ) কুরাইশদের এক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলেন। আসিমের লাশের (রক্ষার জন্য) মৌমাছির ঝাঁক প্রেরিত হল যারা তাঁর দেহ আবৃত করে রেখে তাদের ষড়যন্ত্র হতে হিফাযত করল। ফলে তারা তাঁর শরীর হতে এক খন্ড গোশ্তও কেটে নিতে পারেনি। (৩৯৮৯, ৪০৮৬, ৭৪০২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮২৮)
হাদিস নং: ৩০৪৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا جرير عن منصور عن ابي واىل عن ابي موسى قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فكوا العاني يعني الاسير واطعموا الجاىع وعودوا المريض
فِيْهِ عَنْ أَبِيْ مُوسَى عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
এ বিষয়ে আবূ মূসা (রাঃ) কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকট হতে হাদীস বর্ণিত রয়েছে।
৩০৪৬. আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা বন্দী আযাদ কর, ক্ষুধার্তকে আহার্য দাও এবং রুগীর সেবা-শুশ্রূষা কর। (৫১৭৪, ৫৩৭৩, ৫৬৭৯, ৬১৬৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮২৯)
এ বিষয়ে আবূ মূসা (রাঃ) কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকট হতে হাদীস বর্ণিত রয়েছে।
৩০৪৬. আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা বন্দী আযাদ কর, ক্ষুধার্তকে আহার্য দাও এবং রুগীর সেবা-শুশ্রূষা কর। (৫১৭৪, ৫৩৭৩, ৫৬৭৯, ৬১৬৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮২৯)
হাদিস নং: ৩০৪৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن يونس حدثنا زهير حدثنا مطرف ان عامرا حدثهم عن ابي جحيفة قال قلت لعلي هل عندكم شيء من الوحي الا ما في كتاب الله قال لا والذي فلق الحبة وبرا النسمة ما اعلمه الا فهما يعطيه الله رجلا في القران وما في هذه الصحيفة قلت وما في الصحيفة قال العقل وفكاك الاسير وان لا يقتل مسلم بكافر
৩০৪৭. আবূ জুহাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আলী (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর কুরআনে যা কিছু আছে তা ব্যতীত আপনাদের নিকট ওয়াহীর কোন কিছু আছে কি? তিনি বললেন, না, সে আল্লাহ তা‘আলার কসম! যিনি শস্যদানাকে বিদীর্ণ করেন এবং প্রাণী সৃষ্টি করেন। আল্লাহ্ কুরআন সম্পর্কে মানুষকে যে জ্ঞান দান করেছেন এবং সহীফার মধ্যে যা রয়েছে, এ ছাড়া আমি আর কিছু জানি না। আমি বললাম, এ সহীফাটিতে কী আছে? তিনি বললেন, ‘দীয়াতের বিধান, বন্দী আযাদ করা এবং কোন মুসলিমকে যেন কোন কাফিরের পরিবর্তে হত্যা করা না হয়।’ (১১১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৩০)
হাদিস নং: ৩০৪৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل بن ابي اويس حدثنا اسماعيل بن ابراهيم بن عقبة عن موسى بن عقبة عن ابن شهاب قال حدثني انس بن مالك ان رجالا من الانصار استاذنوا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا يا رسول الله اىذن فلنترك لابن اختنا عباس فداءه فقال لا تدعون منها درهما
৩০৪৮. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। আনসারগণের কয়েকজন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অনুমতি চেয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি আমাদের অনুমতি দান করেন, তবে আমরা আমাদের ভাগ্নে ‘আব্বাসের মুক্তিপণ ছেড়ে দিতে পারি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না, একটি দিরহামও ছাড় দিবে না। (২৫৩৭) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৩১ প্রথমাংশ)
হাদিস নং: ৩০৪৯
সহিহ (Sahih)
وقال ابراهيم بن طهمان عن عبد العزيز بن صهيب عن انس قال اتي النبي صلى الله عليه وسلم بمال من البحرين فجاءه العباس فقال يا رسول الله اعطني فاني فاديت نفسي وفاديت عقيلا فقال خذ فاعطاه في ثوبه
৩০৪৯. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বাহরাইন হতে ধন-সম্পদ আনা হয়। তখন তাঁর নিকট ‘আব্বাস (রাঃ) এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে কিছু দিন। আমি আমার নিজের মুক্তিপণ আদায় করেছি এবং আকীলেরও মুক্তিপণ আদায় করেছি। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিন এবং তাঁর কাপড়ে দিয়ে দিলেন। (৪২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৩১ শেষাংশ)
হাদিস নং: ৩০৫০
সহিহ (Sahih)
حدثني محمود حدثنا عبد الرزاق اخبرنا معمر عن الزهري عن محمد بن جبير عن ابيه وكان جاء في اسارى بدر قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقرا في المغرب بالطور
৩০৫০. জুবাইর (ইবনু মুতয়িম) (রাঃ) হতে বর্ণিত। আর তিনি বাদার যুদ্ধে বন্দীদের মুক্ত করার জন্য এসেছিলেন। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মাগরিবের সালাতে সূরায়ে তূর পড়তে শুনেছি। (৭৬৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৩২)
হাদিস নং: ৩০৫১
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو نعيم حدثنا ابو العميس عن اياس بن سلمة بن الاكوع عن ابيه قال اتى النبي صلى الله عليه وسلم عين من المشركين وهو في سفر فجلس عند اصحابه يتحدث ثم انفتل فقال النبي اطلبوه واقتلوه فقتله
فنفله سلبه
فنفله سلبه
৩০৫১. সালামাহ ইবনু আক্ওয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন এক সফরে মুশরিকদের জনৈক গুপ্তচর তাঁর নিকট এল এবং তাঁর সাহাবীগণের সঙ্গে বসে কথাবার্তা বলতে লাগল ও কিছুক্ষণ পরে চলে গেল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তাকে খুঁজে আন এবং হত্যা কর।’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মালপত্র হত্যাকারীকে প্রদান করলেন। (মুসলিম ৩২/১৩ হাঃ ১৭৫৩, আহমাদ ১৬৫২৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৩৩)
হাদিস নং: ৩০৫২
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل حدثنا ابو عوانة عن حصين عن عمرو بن ميمون عن عمر قال واوصيه بذمة الله وذمة رسوله صلى الله عليه وسلم ان يوفى لهم بعهدهم وان يقاتل من وراىهم ولا يكلفوا الا طاقتهم
৩০৫২. ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এ অসীয়ত করেছি যে, ‘আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ হতে কাফিরদের সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার যেন যথাযথভাবে পূরণ করা হয়, তাদের নিরাপত্তার প্রয়োজনে যুদ্ধ করা হয়, তাদের সামর্থ্যের বাইরে তাদের উপর যেন জিযিয়া ধার্য করা না হয়।’ (১৩৯২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৩৪)
হাদিস নং: ৩০৫৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا قبيصة حدثنا ابن عيينة عن سليمان الاحول عن سعيد بن جبير عن ابن عباس رضي الله عنهما انه قال يوم الخميس وما يوم الخميس ثم بكى حتى خضب دمعه الحصباء فقال اشتد برسول الله صلى الله عليه وسلم وجعه يوم الخميس فقال اىتوني بكتاب اكتب لكم كتابا لن تضلوا بعده ابدا فتنازعوا ولا ينبغي عند نبي تنازع فقالوا هجر رسول الله صلى الله عليه وسلم قال دعوني فالذي انا فيه خير مما تدعوني اليه واوصى عند موته بثلاث اخرجوا المشركين من جزيرة العرب واجيزوا الوفد بنحو ما كنت اجيزهم ونسيت الثالثة وقال يعقوب بن محمد سالت المغيرة بن عبد الرحمن عن جزيرة العرب فقال مكة والمدينة واليمامة واليمن وقال يعقوب والعرج اول تهامة
56/175. بَابُ جَوَائِزِ الْوَفْدِ
৫৬/১৭৫. অধ্যায় : প্রতিনিধি দলকে উপঢৌকন দেয়া।
৩০৫৩. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বললেন, বৃহস্পতিবার! হায় বৃহস্পতিবার! অতঃপর তিনি কাঁদতে শুরু করলেন, এমনকি তাঁর অশ্রুতে কঙ্করগুলো সিক্ত হয়ে গেল। আর তিনি বলতে লাগলেন, ’বৃহস্পতিবারে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রোগ যাতনা বেড়ে যায়। তখন তিনি বললেন, তোমরা আমার জন্য লিখার কোন জিনিস নিয়ে এসো, আমি তোমাদের জন্য কিছু লিখিয়ে দিব। যাতে অতঃপর তোমরা কখনও পথভ্রষ্ট না হও। এতে সাহাবীগণ পরস্পরে মতভেদ করেন। অথচ নবীর সম্মুখে মতভেদ সমীচীন নয়। তাদের কেউ কেউ বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়া ত্যাগ করছেন?’ তিনি বললেন, ’আচ্ছা, আমাকে আমার অবস্থায় থাকতে দাও। তোমরা আমাকে যে অবস্থার দিকে আহবান করছো তার চেয়ে আমি যে অবস্থায় আছি তা উত্তম।’ অবশেষে তিনি ইন্তিকালের সময় তিনটি বিষয়ে ওসীয়ত করেন। (১) মুশরিকদেরকে আরব উপদ্বীপ হতে বিতাড়িত কর, (২) প্রতিনিধি দলকে আমি যেরূপ উপঢৌকন দিয়েছি তোমরাও তেমন দিও (রাবী বলেন) তৃতীয় ওসীয়তটি আমি ভুলে গিয়েছি। আবূ আব্দুল্লাহ (রহ.) বলেন, ইবনু মুহাম্মদ (রহ.) ও ইয়া’কূব (রহ.) বলেন, আমি মুগীরাহ ইবনু ’আবদুর রহমানকে জাযীরাতুল আরব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি বললেন, তাহলো মক্কা, মদিনা্, ইয়ামামা ও ইয়ামান। ইয়াকূব (রহ.) বলেন, ’তিহামাহ্ আরম্ভ হল ’আরজ থেকে।’ (১১৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৩৫)
৫৬/১৭৫. অধ্যায় : প্রতিনিধি দলকে উপঢৌকন দেয়া।
৩০৫৩. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বললেন, বৃহস্পতিবার! হায় বৃহস্পতিবার! অতঃপর তিনি কাঁদতে শুরু করলেন, এমনকি তাঁর অশ্রুতে কঙ্করগুলো সিক্ত হয়ে গেল। আর তিনি বলতে লাগলেন, ’বৃহস্পতিবারে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রোগ যাতনা বেড়ে যায়। তখন তিনি বললেন, তোমরা আমার জন্য লিখার কোন জিনিস নিয়ে এসো, আমি তোমাদের জন্য কিছু লিখিয়ে দিব। যাতে অতঃপর তোমরা কখনও পথভ্রষ্ট না হও। এতে সাহাবীগণ পরস্পরে মতভেদ করেন। অথচ নবীর সম্মুখে মতভেদ সমীচীন নয়। তাদের কেউ কেউ বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়া ত্যাগ করছেন?’ তিনি বললেন, ’আচ্ছা, আমাকে আমার অবস্থায় থাকতে দাও। তোমরা আমাকে যে অবস্থার দিকে আহবান করছো তার চেয়ে আমি যে অবস্থায় আছি তা উত্তম।’ অবশেষে তিনি ইন্তিকালের সময় তিনটি বিষয়ে ওসীয়ত করেন। (১) মুশরিকদেরকে আরব উপদ্বীপ হতে বিতাড়িত কর, (২) প্রতিনিধি দলকে আমি যেরূপ উপঢৌকন দিয়েছি তোমরাও তেমন দিও (রাবী বলেন) তৃতীয় ওসীয়তটি আমি ভুলে গিয়েছি। আবূ আব্দুল্লাহ (রহ.) বলেন, ইবনু মুহাম্মদ (রহ.) ও ইয়া’কূব (রহ.) বলেন, আমি মুগীরাহ ইবনু ’আবদুর রহমানকে জাযীরাতুল আরব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি বললেন, তাহলো মক্কা, মদিনা্, ইয়ামামা ও ইয়ামান। ইয়াকূব (রহ.) বলেন, ’তিহামাহ্ আরম্ভ হল ’আরজ থেকে।’ (১১৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৩৫)
হাদিস নং: ৩০৫৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب عن سالم بن عبد الله ان ابن عمر رضي الله عنهما قال وجد عمر حلة استبرق تباع في السوق فاتى بها رسول الله فقال يا رسول الله ابتع هذه الحلة فتجمل بها للعيد وللوفود فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم انما هذه لباس من لا خلاق له او انما يلبس هذه من لا خلاق له فلبث ما شاء الله ثم ارسل اليه النبي صلى الله عليه وسلم بجبة ديباج فاقبل بها عمر حتى اتى بها رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله قلت انما هذه لباس من لا خلاق له او انما يلبس هذه من لا خلاق له ثم ارسلت الي بهذه فقال تبيعها او تصيب بها بعض حاجتك
৩০৫৪. (আবদুল্লাহ) ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) এক জোড়া রেশমী কাপড় বাজারে বিক্রি হতে দেখতে পেলেন। তিনি তা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ রেশমী কাপড় জোড়া আপনি ক্রয় করুন এবং ‘ঈদ ও প্রতিনিধিদল আগমন উপলক্ষে এর দ্বারা আপনি সুসজ্জিত হবেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘এ পোশাক তো তার (আখিরাতে) যার কোন অংশ নেই। অথবা (বলেন) এরূপ পোশাক সে-ই পরিধান করে (আখিরাতে) যার কোন অংশ নেই।’ এ অবস্থায় ‘উমার (রাঃ) কিছুদিন অবস্থান করেন, যে পরিমাণ সময় আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছে ছিল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি রেশমী জুববা ‘উমার (রাঃ)-এর নিকট পাঠিয়ে দেন। তিনি তা নিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি বলেছিলেন যে, এ তো তারই লেবাস (আখিরাতে) যার কোন অংশ নেই, কিংবা (রাবীর সন্দেহ) এ পোশাক তো সে-ই পরিধান করে, যার (আখিরাতে) কোন অংশ নেই। এরপরও আপনি তা আমার জন্য পাঠালেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তা বিক্রয় করে ফেলবে অথবা (রাবীর সন্দেহ) বলেছেন, তুমি তা তোমার কোন কাজে লাগাবে। (৮৮৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৩৬)
হাদিস নং: ৩০৫৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد حدثنا هشام اخبرنا معمر عن الزهري اخبرني سالم بن عبد الله عن ابن عمر رضي الله عنهما انه اخبره ان عمر انطلق في رهط من اصحاب النبي مع النبي صلى الله عليه وسلم قبل ابن صياد حتى وجدوه يلعب مع الغلمان عند اطم بني مغالة وقد قارب يومىذ ابن صياد يحتلم فلم يشعر بشيء حتى ضرب النبي صلى الله عليه وسلم ظهره بيده ثم قال النبي صلى الله عليه وسلم اتشهد اني رسول الله فنظر اليه ابن صياد فقال اشهد انك رسول الاميين فقال ابن صياد للنبي صلى الله عليه وسلم اتشهد اني رسول الله قال له النبي صلى الله عليه وسلم امنت بالله ورسله قال النبي صلى الله عليه وسلم ماذا ترى قال ابن صياد ياتيني صادق وكاذب قال النبي صلى الله عليه وسلم خلط عليك الامر قال النبي صلى الله عليه وسلم اني قد خبات لك خبيىا قال ابن صياد هو الدخ قال النبي صلى الله عليه وسلم اخسا فلن تعدو قدرك قال عمر يا رسول الله اىذن لي فيه اضرب عنقه قال النبي صلى الله عليه وسلم ان يكنه فلن تسلط عليه وان لم يكنه فلا خير لك في قتله
৩০৫৫. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) কয়েকজন সাহাবীসহ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ইবনু সাইয়াদের নিকট যান। তাঁরা তাকে বানী মাগালার টিলার উপর ছেলে-পেলেদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে দেখতে পান। আর এ সময় ইবনু সাইয়াদ বালিগ হবার নিকটবর্তী হয়েছিল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (আগমন) সে কিছু টের না পেতেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পিঠে হাত দিয়ে মৃদু আঘাত করলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর প্রেরিত রাসূল? তখন ইবনু সাইয়াদ তাঁর প্রতি তাকিয়ে বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি উম্মী লোকদের রাসূল। ইবনু সাইয়াদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলল, আপনি কি এ সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, আমি আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর সকল রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কী দেখ? ইবনু সাইয়াদ বলল, আমার নিকট সত্য খবর ও মিথ্যা খবর সবই আসে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আসল অবস্থা তোমার কাছে সত্য মিথ্যা মিশিয়ে আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বললেন, আচ্ছা, আমি আমার অন্তরে তোমার জন্য কিছু কথা গোপন রেখেছি। ইবনু সাইয়াদ বলল, তা’ হচ্ছে ধোঁয়া। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আরে থাম, তুমি তোমার সীমার বাইরে যেতে পার না। ‘উমার (রাঃ) বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে হুকুম দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি সে প্রকৃত দাজ্জাল হয়, তবে তুমি তাকে কাবু করতে পারবে না, যদি সে দাজ্জাল না হয়, তবে তাকে হত্যা করে তোমার কোন লাভ নেই। (১৩৫৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৩৭ প্রথমাংশ)
হাদিস নং: ৩০৫৬
সহিহ (Sahih)
قال ابن عمر انطلق النبي صلى الله عليه وسلم وابي بن كعب ياتيان النخل الذي فيه ابن صياد حتى اذا دخل النخل طفق النبي صلى الله عليه وسلم يتقي بجذوع النخل وهو يختل ابن صياد ان يسمع من ابن صياد شيىا قبل ان يراه وابن صياد مضطجع على فراشه في قطيفة له فيها رمزة فرات ام ابن صياد النبي صلى الله عليه وسلم وهو يتقي بجذوع النخل فقالت لابن صياد اي صاف وهو اسمه فثار ابن صياد فقال النبي صلى الله عليه وسلم لو تركته بين
৩০৫৬. ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল ও ‘উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) উভয়ে সে খেজুর বৃক্ষের নিকট গমন করেন, যেখানে ইবনু সাইয়াদ অবস্থান করছিল। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে পৌঁছলেন, তখন তিনি খেজুর ডালের আড়ালে চলতে লাগলেন। তাঁর ইচ্ছা ছিল যে, ইবনু সাইয়াদের অজান্তে তিনি তার কিছু কথা শুনে নিবেন। ইবনু সাইয়াদ নিজ বিছানা পেতে চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়েছিল এবং কী কী যেন গুনগুন করছিল। তার মা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখে ফেলেছিল যে, তিনি খেজুর বৃক্ষ শাখার আড়ালে আসছেন। তখন সে ইবনু সাইয়াদকে বলে উঠল, হে সাফ! আর এ ছিল তার নাম। সে তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়াল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নারীটি যদি তাকে নিজ অবস্থায় ছেড়ে দিত, তবে তার ব্যাপারটা প্রকাশ পেয়ে যেত। (১৩৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮২৭ মধ্যমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৩৭ মধ্যমাংশ)
হাদিস নং: ৩০৫৭
সহিহ (Sahih)
وقال سالم قال ابن عمر ثم قام النبي صلى الله عليه وسلم في الناس فاثنى على الله بما هو اهله ثم ذكر الدجال فقال اني انذركموه وما من نبي الا قد انذره قومه لقد انذره نوح قومه ولكن ساقول لكم فيه قولا لم يقله نبي لقومه تعلمون انه اعور وان الله ليس باعور
৩০৫৭. সালিম (রহ.) বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, অতঃপর নবী লোকদের মাঝে দাঁড়ালেন। প্রথমে তিনি আল্লাহ তা‘আলার যথাযথ প্রশংসা করলেন। অতঃপর দাজ্জাল সম্পর্কে উল্লেখ করলেন। আর বললেন, আমি তোমাদের দাজ্জাল হতে সতর্ক করে দিচ্ছি। প্রত্যেক নবীই তাঁর সম্প্রদায়কে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। নূহ (আঃ) তাঁর সম্প্রদায়কে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। কিন্তু আমি তোমাদেরকে তার সম্পর্কে এমন একটি কথা জানিয়ে দিব, যা কোন নবী তাঁর সম্প্রদায়কে জানাননি। তোমরা জেনে রেখ যে, সে হবে এক চক্ষু বিশিষ্ট আর অবশ্যই আল্লাহ এক চক্ষু বিশিষ্ট নন। (৩৩৩৭, ৩৪৩৯, ৪৪০২, ৬১৭৫, ৭১২৩, ৭১২৭, ৭৪০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮২৭ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৩৭ শেষাংশ)
হাদিস নং: ৩০৫৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمود اخبرنا عبد الرزاق اخبرنا معمر عن الزهري عن علي بن حسين عن عمرو بن عثمان بن عفان عن اسامة بن زيد قال قلت يا رسول الله اين تنزل غدا في حجته قال وهل ترك لنا عقيل منزلا ثم قال نحن نازلون غدا بخيف بني كنانة المحصب حيث قاسمت قريش على الكفر وذلك ان بني كنانة حالفت قريشا على بني هاشم ان لا يبايعوهم ولا يوووهم قال الزهري والخيف الوادي
56/179. بَابُ قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لِلْيَهُوْدِ أَسْلِمُوْا تَسْلَمُوْا
৫৬/১৭৯ অধ্যায় : ইয়াহূদীদের উদ্দেশ্যে রসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীঃ ’’ইসলাম গ্রহণ কর, নিরাপত্তা লাভ কর’’।
قَالَهُ الْمَقْبُرِيُّ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ
এ বাণী মাকবুরী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।
৩০৫৮. উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বিদায় হাজ্জে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আগামীকাল আপনি মক্কায় পৌঁছে কোথায় অবতরণ করবেন? তিনি বললেন, আকীল কি আমাদের জন্য কোন ঘর বাড়ি অবশিষ্ট রেখেছে? অতঃপর বললেন, আমরা আগামীকাল খায়ফে বানূ কানানার মুহাস্সাব নামক স্থানে অবতরণ করব। যেখানে কুরায়েশ লোকেরা কুফরীর উপর শপথ করেছিল। আর তা হচ্ছে এই যে, বানূ কানানা ও কুরায়শগণ একত্রে এ শপথ করেছিল যে, তারা বানূ হাশেমের সঙ্গে কেনা-বেচা করবে না এবং তাদের নিজ বাড়িতে আশ্রয়ও দিবে না। যুহরী (রহ.) বলেন, খায়ফ হচ্ছে একটি উপত্যকা। (১৫৮৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৩৮)
৫৬/১৭৯ অধ্যায় : ইয়াহূদীদের উদ্দেশ্যে রসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীঃ ’’ইসলাম গ্রহণ কর, নিরাপত্তা লাভ কর’’।
قَالَهُ الْمَقْبُرِيُّ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ
এ বাণী মাকবুরী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।
৩০৫৮. উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বিদায় হাজ্জে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আগামীকাল আপনি মক্কায় পৌঁছে কোথায় অবতরণ করবেন? তিনি বললেন, আকীল কি আমাদের জন্য কোন ঘর বাড়ি অবশিষ্ট রেখেছে? অতঃপর বললেন, আমরা আগামীকাল খায়ফে বানূ কানানার মুহাস্সাব নামক স্থানে অবতরণ করব। যেখানে কুরায়েশ লোকেরা কুফরীর উপর শপথ করেছিল। আর তা হচ্ছে এই যে, বানূ কানানা ও কুরায়শগণ একত্রে এ শপথ করেছিল যে, তারা বানূ হাশেমের সঙ্গে কেনা-বেচা করবে না এবং তাদের নিজ বাড়িতে আশ্রয়ও দিবে না। যুহরী (রহ.) বলেন, খায়ফ হচ্ছে একটি উপত্যকা। (১৫৮৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৩৮)
হাদিস নং: ৩০৫৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل قال حدثني مالك عن زيد بن اسلم عن ابيه ان عمر بن الخطاب استعمل مولى له يدعى هنيا على الحمى فقال يا هني اضمم جناحك عن المسلمين واتق دعوة المظلوم فان دعوة المظلوم مستجابة وادخل رب الصريمة ورب الغنيمة واياي ونعم ابن عوف ونعم ابن عفان فانهما ان تهلك ماشيتهما يرجعا الى نخل وزرع وان رب الصريمة ورب الغنيمة ان تهلك ماشيتهما ياتني ببنيه فيقول يا امير المومنين افتاركهم انا لا ابا لك فالماء والكلا ايسر علي من الذهب والورق وايم الله انهم ليرون اني قد ظلمتهم انها لبلادهم فقاتلوا عليها في الجاهلية واسلموا عليها في الاسلام والذي نفسي بيده لولا المال الذي احمل عليه في سبيل الله ما حميت عليهم من بلادهم شبرا
৩০৫৯. যায়দ ইবনু আসলাম কর্তৃক তাঁর পিতা হতে বর্ণিত। ‘উমার (রাঃ) হুনাইয়াহ নামক তাঁর এক আযাদকৃত গোলামকে সরকারী চারণভূমির তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত করেন। আর তাকে আদেশ করেন, হে হুনাইয়াহ! মুসলিমদের সঙ্গে অত্যন্ত বিনয়ী থাকবে, মজলুমের বদ দু‘আ হতে বেঁচে থাকবে। কারণ, মজলুমের দু‘আ কবূল হয়। আর অল্প সংখ্যক উট ও অল্প সংখ্যক বকরীর মালিককে এতে প্রবেশ করতে দিবে। আর ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আউফ ও ‘উসমান ইবনু ‘আফফান (রাঃ)-এর পশুর ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। কেননা যদি তাঁদের পশুগুলো ধ্বংস হয়ে যায়, তবে তাঁরা তাঁদের কৃষি ক্ষেত ও খেজুর বাগানের প্রতি মনোযোগ দিবেন। কিন্তু অল্প সংখ্যক উট-বকরীর মালিকদের পশু ধ্বংস হয়ে গেলে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে আমার নিকট উপস্থিত হবে। আর বলবে, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনার পিতা ধ্বংস হোক! তখন আমি কি তাদের বঞ্চিত করতে পারব? সুতরাং পানি ও ঘাস দেয়া আমার পক্ষে সহজ, স্বর্ণ-রৌপ্য দেয়ার চাইতে। আল্লাহর শপথ! এ সব লোকেরা মনে করবে, আমি তাদের প্রতি জুলুম করেছি। এটা তাদেরই শহর, জাহিলী যুগে তারা এতে যুদ্ধ করেছে, ইসলামের যুগে তারা এতেই ইসলাম গ্রহণ করেছে। সে মহান আল্লাহর শপথ! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, যে সব ঘোড়ার উপর আমি যোদ্ধাগণকে আল্লাহর রাস্তায় আরোহণ করিয়ে থাকি যদি সেগুলো না হতো তবে আমি তাদের দেশের এক বিঘত পরিমাণ জমিও সংরক্ষণ করতাম না। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৩৯)
হাদিস নং: ৩০৬০
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن يوسف حدثنا سفيان عن الاعمش عن ابي واىل عن حذيفة قال قال النبي صلى الله عليه وسلم اكتبوا لي من تلفظ بالاسلام من الناس فكتبنا له الفا وخمس ماىة رجل فقلنا نخاف ونحن الف وخمس ماىة فلقد رايتنا ابتلينا حتى ان الرجل ليصلي وحده وهو خاىف
حدثنا عبدان عن ابي حمزة عن الاعمش فوجدناهم خمس ماىة قال ابو معاوية ما بين ست ماىة الى سبع ماىة
حدثنا عبدان عن ابي حمزة عن الاعمش فوجدناهم خمس ماىة قال ابو معاوية ما بين ست ماىة الى سبع ماىة
৩০৬০. হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষের মধ্যে যারা ইসলামের কালিমাহ উচ্চারণ করেছে, তাদের নাম লিখে আমাকে দাও। হুযাইফাহ (রাঃ) বলেন, তখন আমরা এক হাজার পাঁচশ’ লোকের নাম লিখে তাঁর নিকট পেশ করি।১ তখন আমরা বলতে লাগলাম, আমরা এক হাজার পাঁচশত লোক, এক্ষণে আমাদের ভয় কিসের? (রাবী) হুযাইফাহ (রাঃ) বলেন, পরবর্তীকালে আমরা দেখেছি যে, আমরা এমনভাবে ফিতনায় পড়েছি যাতে লোকেরা ভীত-শংকিত অবস্থায় একা একা সালাত আদায় করছে। (মুসলিম ১/৬৭ হাঃ ১৪৯, আহমাদ ২৩৩১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৪০)
আ‘মাশ (রহ.) হতে এ রিওয়ায়াত বর্ণনা করেছেন, তাতে উল্লেখ হয়েছে, আমরা তাদের পাঁচশ’ পেয়েছি। আবূ মু‘আবিয়াহর বর্ণনায় উল্লেখিত হয়েছে, ছয়শ’ হতে সাতশ’ এর মাঝামাঝি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৪১)
আ‘মাশ (রহ.) হতে এ রিওয়ায়াত বর্ণনা করেছেন, তাতে উল্লেখ হয়েছে, আমরা তাদের পাঁচশ’ পেয়েছি। আবূ মু‘আবিয়াহর বর্ণনায় উল্লেখিত হয়েছে, ছয়শ’ হতে সাতশ’ এর মাঝামাঝি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৪১)
হাদিস নং: ৩০৬১
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو نعيم حدثنا سفيان عن ابن جريج عن عمرو بن دينار عن ابي معبد عن ابن عباس رضي الله عنهما قال جاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله اني كتبت في غزوة كذا وكذا وامراتي حاجة قال ارجع فحج مع امراتك
৩০৬১. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক অমুক যুদ্ধে আমার নাম লেখা হয়েছে আর আমার স্ত্রী হাজ্জ আদায়ের সংকল্প নিয়েছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘ফিরে যাও এবং তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হাজ্জ কর।’ (১৮৬২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৪২)