হাদিস নং: ৩৮০৯
সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن بشار حدثنا غندر قال سمعت شعبة سمعت قتادة عن انس بن مالك قال النبي صلى الله عليه وسلم لابي ان الله امرني ان اقرا عليك لم يكن الذين كفروا من اهل الكتاب قال وسماني قال نعم فبكى
৩৮০৯. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)-কে বললেন, আল্লাহ ‘‘সূরা لَمْ يَكُنِ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ তোমাকে পড়ে শুনানোর জন্য আমাকে আদেশ করেছেন। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন আল্লাহ কি আমার নাম করেছেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হাঁ। তখন তিনি কেঁদে ফেললেন। (৪৯৫৯, ৪৯৬০, ৪৯৬১, মুসলিম ৬/৩৯, হাঃ নং ৭৯৯, আহমাদ ২১১৯৪ (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৩৪)
হাদিস নং: ৩৮১০
সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن بشار حدثنا يحيى حدثنا شعبة عن قتادة عن انس جمع القران على عهد النبي صلى الله عليه وسلم اربعة كلهم من الانصار ابي ومعاذ بن جبل وابو زيد وزيد بن ثابت قلت لانس من ابو زيد قال احد عمومتي
৩৮১০. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে (সর্বপ্রথম) যে চার ব্যক্তি সম্পূর্ণ কুরআন হিফয করেছিলেন, তাঁরা সকলেই ছিলেন আনসারী। (তাঁরা হলেন) উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) আবূ যায়দ (রাঃ) ও যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)। কাতাদাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আবূ যায়দ কে? তিনি বললেন, তিনি আমার চাচাদের একজন। (৩৯৯৬, ৫০০৩, ৫০০৪, মুসলিম ৪৪/২৩, হাঃ নং ২৪৬৫, আহমাদ ১৩৯৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৩৫)
হাদিস নং: ৩৮১১
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو معمر حدثنا عبد الوارث حدثنا عبد العزيز عن انس قال لما كان يوم احد انهزم الناس عن النبي صلى الله عليه وسلم وابو طلحة بين يدي النبي صلى الله عليه وسلم مجوب به عليه بحجفة له وكان ابو طلحة رجلا راميا شديد القد يكسر يومىذ قوسين او ثلاثا وكان الرجل يمر معه الجعبة من النبل فيقول انشرها لابي طلحة فاشرف النبي صلى الله عليه وسلم ينظر الى القوم فيقول ابو طلحة يا نبي الله بابي انت وامي لا تشرف يصيبك سهم من سهام القوم نحري دون نحرك ولقد رايت عاىشة بنت ابي بكر وام سليم وانهما لمشمرتان ارى خدم سوقهما تنقزان القرب على متونهما تفرغانه في افواه القوم ثم ترجعان فتملانها ثم تجيىان فتفرغانه في افواه القوم ولقد وقع السيف من يدي ابي طلحة اما مرتين واما ثلاثا
৩৮১১. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ওহুদ যুদ্ধের এক সময়ে সাহাবাগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আলাদা হয়ে পড়েছিলেন। তখন আবূ ত্বলহা (রাঃ) ঢাল হাতে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে প্রাচীরের মত দৃঢ় হয়ে দাঁড়ালেন। আবূ ত্বলহা (রাঃ) সুদক্ষ তীরন্দাজ ছিলেন। এক নাগাড়ে তীর ছুঁড়তে থাকায় তাঁর হাতে ঐদিন দু’ বা তিনটি ধনুক ভেঙ্গে যায়। ঐ সময় তীর ভর্তি তীরাধার নিয়ে যে কেউ তাঁর নিকট দিয়ে যেতো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকেই বলতেন, তোমরা তীরগুলি আবূ ত্বলহার জন্য রেখে দাও। এক সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা উঁচু করে শত্রুদের অবস্থা দেখতে চাইলে আবূ ত্বলহা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর নবী! আমার মাতা পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক, আপনি মাথা উঁচু করবেন না। হয়ত শত্রুদের নিক্ষিপ্ত তীর এসে আপনার গায়ে লাগতে পারে। আমার বক্ষ আপনাকে রক্ষার জন্য ঢাল স্বরূপ। আনাস (রাঃ) বলেন, ঐদিন আমি আবূ বকর (রাঃ)-এর কন্যা ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে এবং (আমার মাতা) উম্মে সুলায়মকে দেখতে পেলাম যে, তাঁরা পরনের কাপড় এতটুকু পরিমাণ উঠিয়েছেন যে, তাঁদের পায়ের খাঁড়ু আমি দেখতে পাচ্ছিলাম। তাঁরা পানির মশক ভরে নিজেদের পিঠে বহন করে এনে আহতদের মুখে পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন। পুনরায় ফিরে গিয়ে পানি ভরে নিয়ে আহতদেরকে পান করাচ্ছিলেন। ঐ সময় আবূ ত্বলহা (রাঃ)-এর হাত হতে (তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে) তাঁর তরবারিটি দু’বার অথবা তিনবার পড়ে গিয়েছিল। (২৮৮০, মুসলিম ৩২/৪৭, হাঃ নং ১৮১১)(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৩৬)
হাদিস নং: ৩৮১২
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف قال سمعت مالكا يحدث عن ابي النضر مولى عمر بن عبيد الله عن عامر بن سعد بن ابي وقاص عن ابيه قال ما سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول لاحد يمشي على الارض انه من اهل الجنة الا لعبد الله بن سلام قال وفيه نزلت هذه الاية وشهد شاهد من بني اسراىيل على مثله الاية قال لا ادري قال مالك الاية او في الحديث
৩৮১২. সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) ছাড়া যমীনে বিচরণশীল কারো ব্যাপারে এ কথাটি বলতে শুনিনি যে, ‘নিশ্চয়ই তিনি জান্নাতবাসী’। সা‘দ (রাঃ) বলেন, তাঁরই ব্যাপারে সূরাহ আহকাফের এ আয়াত নাযিল হয়েছেঃ ‘‘এ ব্যাপারে বনী ইসরাঈলের মধ্য থেকেও একজন সাক্ষ্য দান করেছে। (উক্ত হাদীসের শুরুতে উল্লেখিত সানাদে ইমাম বুখারীর উস্তাজ) ‘আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ (সন্দেহ পোষণ করে) বলেন যে, বর্ণনাকারী মালিক উল্লেখিত আয়াতটি নিজের তরফ হতে এখানে বৃদ্ধি করে বলেছেন নাকি এ হাদীসের সানাদের সাথেই সম্পৃক্ত তা জানি না। (মুসলিম ৪৪/৩৩, হাঃ নং ২৪৮৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৩৭)
হাদিস নং: ৩৮১৩
সহিহ (Sahih)
حدثني عبد الله بن محمد حدثنا ازهر السمان عن ابن عون عن محمد عن قيس بن عباد قال كنت جالسا في مسجد المدينة فدخل رجل على وجهه اثر الخشوع فقالوا هذا رجل من اهل الجنة فصلى ركعتين تجوز فيهما ثم خرج وتبعته فقلت انك حين دخلت المسجد قالوا هذا رجل من اهل الجنة قال والله ما ينبغي لاحد ان يقول ما لا يعلم وساحدثك لم ذاك رايت رويا على عهد النبي صلى الله عليه وسلم فقصصتها عليه ورايت كاني في روضة ذكر من سعتها وخضرتها وسطها عمود من حديد اسفله في الارض واعلاه في السماء في اعلاه عروة فقيل لي ارق قلت لا استطيع فاتاني منصف فرفع ثيابي من خلفي فرقيت حتى كنت في اعلاها فاخذت بالعروة فقيل له استمسك فاستيقظت وانها لفي يدي فقصصتها على النبي صلى الله عليه وسلم قال تلك الروضة الاسلام وذلك العمود عمود الاسلام وتلك العروة عروة الوثقى فانت على الاسلام حتى تموت وذاك الرجل عبد الله بن سلام و قال لي خليفة حدثنا معاذ حدثنا ابن عون عن محمد حدثنا قيس بن عباد عن ابن سلام قال وصيف مكان منصف
৩৮১৩. কায়স ইবনু ‘উবাদ (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মদিনার মসজিদে উপবিষ্ট ছিলাম। তখন এমন এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করলেন যার চেহারায় বিনয় ও নম্রতার ছাপ ছিল। লোকজন বলতে লাগলেন, এই ব্যক্তি জান্নাতীগণের একজন। তিনি হালকাভাবে দু’রাকআত সালাত আদায় করে মাসজিদ হতে বেরিয়ে এলেন। আমি তাঁকে অনুসরণ করলাম এবং তাঁকে বললাম, আপনি যখন মসজিদে প্রবেশ করছিলেন তখন লোকজন বলাবলি করছিল যে, ইনি জান্নাতবাসীগণের একজন। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম কারো জন্য এমন কথা বলা উচিত নয়, যা সে জানে না। আমি তোমাকে আসল কথা বলছি কেন তা বলা হয়। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় একটি স্বপ্ন দেখে তাঁর নিকট বর্ণনা করলাম। আমি দেখলাম যে, আমি যেন একটি বাগানে অবস্থান করছি; বাগানটি বেশ প্রশস্ত, সবুজ। বাগানের মধ্যে একটি লোহার স্তম্ভ যার নিম্নভাগ মাটিতে এবং উপরিভাগ আকাশ স্পর্শ করেছে; স্তম্ভের উপরে একটি শক্ত কড়া সংযুক্ত রয়েছে। আমাকে বলা হল, উপরে উঠ। আমি বললাম, এটাতো আমার সামর্থ্যের বাইরে। তখন একজন খাদিম এসে পিছন দিক হতে আমার কাপড় সহ চেপে ধরে আমাকে উঠতে সাহায্য করলেন। আমি উঠতে লাগলাম এবং উপরে গিয়ে আংটাটি ধরলাম। তখন আমাকে বলা হল, শক্তভাবে আংটাটি ধর। তারপর কড়াটি আমার হাতের মুঠায় ধরা অবস্থায় আমি জেগে গেলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট স্বপ্নটি বললে, তিনি বললেন, এ বাগান হল ইসলাম, আর স্তম্ভটি হল ইসলামের খুঁটিসমূহ কড়াটি হল ‘‘উরুয়াতুল উস্কা’’ (শক্ত ও অটুট কড়া) এবং তুুমি আজীবন ইসলামের উপর কায়েম থাকবে। (রাবী বলেন) এই ব্যক্তি হলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ)। খালীফাহ (রহ.) مِنْصَفٌ এর স্থলে وَصِيْفٌ বলেছেন। (৭০১০, ৭০১৪, মুসলিম ৪৪/৩৩, হাঃ নং ২৪৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৩৮)
হাদিস নং: ৩৮১৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا سليمان بن حرب حدثنا شعبة عن سعيد بن ابي بردة عن ابيه اتيت المدينة فلقيت عبد الله بن سلام فقال الا تجيء فاطعمك سويقا وتمرا وتدخل في بيت ثم قال انك بارض الربا بها فاش اذا كان لك على رجل حق فاهدى اليك حمل تبن او حمل شعير او حمل قت فلا تاخذه فانه ربا ولم يذكر النضر وابو داود ووهب عن شعبة البيت
৩৮১৪. আবূ বুরদাহ (রহ.) বলেন, আমি মদিনা্য় গেলাম; আবদুল্লাহ ইবনু সালামের সাথে আমার দেখা হল। তিনি আমাকে বললেন, তুমি আমাদের এখানে আসবে না? তোমাকে আমি খেজুর ও ছাতু খেতে দেব এবং একটি ঘরে থাকতে দেব। অতঃপর তিনি বললেন, তুমি এমন স্থানে (ইরাকে) বসবাস কর, যেখানে সুদের কারবার খুব ব্যাপক। যখন কোন মানুষের নিকট তোমার কোন প্রাপ্য থাকে আর সেই মানুষটি যদি তোমাকে কিছু ঘাস, খড় অথবা খড়ের ন্যায় সামান্য কিছুও হাদীয়া পেশ করে তার কাছ থেকে তা গ্রহণ করো না, যেহেতু তা সুদের অন্তর্ভুক্ত। নায্র (রাঃ), আবূ দাউদ (রহ.) ও ওয়াহাব (রহ.) শু‘বাহ্ (রহ.) হতে الْبَيْتَ শব্দটি বর্ণনা করেননি। (৭৩৪২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৩৯)
হাদিস নং: ৩৮১৫
সহিহ (Sahih)
حدثني محمد اخبرنا عبدة عن هشام بن عروة عن ابيه قال سمعت عبد الله بن جعفر قال سمعت عليا يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ح حدثني صدقة اخبرنا عبدة عن هشام عن ابيه قال سمعت عبد الله بن جعفر عن علي بن ابي طالب عن النبي صلى الله عليه وسلم قال خير نساىها مريم وخير نساىها خديجة
৩৮১৫. ‘‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মারিয়াম (আঃ) ছিলেন (পূর্বের) নারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতমা নারী। আর খাদীজাহ (রাঃ) (এ উম্মাতের) নারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠা। (৩৪৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪০)
হাদিস নং: ৩৮১৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن عفير حدثنا الليث قال كتب الي هشام عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها قالت ما غرت على امراة للنبي صلى الله عليه وسلم ما غرت على خديجة هلكت قبل ان يتزوجني لما كنت اسمعه يذكرها وامره الله ان يبشرها ببيت من قصب وان كان ليذبح الشاة فيهدي في خلاىلها منها ما يسعهن
৩৮১৬. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন স্ত্রীর প্রতি এতটুকু ঈর্ষা করিনি যতটুকু খাদীজাহ (রাঃ)-এর প্রতি করেছি। কেননা, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর কথা বারবার আলোচনা করতে শুনেছি, অথচ আমাকে বিবাহ করার আগেই তিনি ইন্তিকাল করেছিলেন। খাদীজাহ (রাঃ)-কে জান্নাতে মণি-মুক্তা খচিত একটি প্রাসাদের খোশ খবর দেয়ার জন্য আল্লাহ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আদেশ করেন। কোন দিন বকরী যবহ হলে খাদীজাহ (রাঃ)-এর বান্ধবীদের নিকট তাদের প্রত্যেকের দরকার মত গোশ্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপঢৌকন হিসেবে পাঠিয়ে দিতেন। (৩৮১৭, ৩৮১৮, ৫২২৯, ৬০০৪, ৭৪৮৪, মুসলিম ৪৪/১২, হাঃ নং ২৪৩৫, আহমাদ ২৫৭১৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪১)
হাদিস নং: ৩৮১৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا حميد بن عبد الرحمن عن هشام بن عروة عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها قالت ما غرت على امراة ما غرت على خديجة من كثرة ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم اياها قالت وتزوجني بعدها بثلاث سنين وامره ربه عز وجل او جبريل عليه السلام ان يبشرها ببيت في الجنة من قصب
৩৮১৭. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্য কোন স্ত্রীর ব্যাপারে এত ঈর্ষা পোষণ করিনি, যতটুকু খাদীজাহ (রাঃ)-এর প্রতি করেছি। যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর আলোচনা বেশি করতেন। তিনি (আরো) বলেন, খাদীজাহ (রাঃ)-এর (ইন্তিকালের) তিন বছর পর তিনি আমাকে বিবাহ করেন। আল্লাহ নিজে অথবা জিব্রাঈল (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আদেশ করলেন যে, খাদীজাহ (রাঃ)-কে জান্নাতে মণিমুক্তা খচিত একটি ভবনের খোশ খবর দিন। (৩৮১৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪২)
হাদিস নং: ৩৮১৮
সহিহ (Sahih)
حدثني عمر بن محمد بن حسن حدثنا ابي حدثنا حفص عن هشام عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها قالت ما غرت على احد من نساء النبي صلى الله عليه وسلم ما غرت على خديجة وما رايتها ولكن كان النبي صلى الله عليه وسلم يكثر ذكرها وربما ذبح الشاة ثم يقطعها اعضاء ثم يبعثها في صداىق خديجة فربما قلت له كانه لم يكن في الدنيا امراة الا خديجة فيقول انها كانت وكانت وكان لي منها ولد
৩৮১৮. ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্য কোন স্ত্রীর প্রতি এতটুকু ঈর্ষা করিনি যতটুকু খাদীজাহ (রাঃ)-এর প্রতি করেছি। অথচ আমি তাঁকে দেখিনি। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথা বেশি সময় আলোচনা করতেন। কোন কোন সময় বকরী যবহ করে গোশ্তের পরিমাণ বিবেচনায় হাড়-গোশ্তকে ছোট ছোট টুকরা করে হলেও খাদীজাহ (রাঃ)-এর বান্ধবীদের ঘরে পৌঁছে দিতেন। আমি কোন সময় ঈর্ষা ভরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতাম, মনে হয়, খাদীজাহ (রাঃ) ছাড়া দুনিয়াতে যেন আর কোন নারী নাই। উত্তরে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, হাঁ। তিনি এমন ছিলেন, এমন ছিলেন, তাঁর গর্ভে আমার সন্তানাদি জন্মেছিল। (৩৮১৬, মুসলিম ৪৪/১২, হাঃ নং ২৪৩৩) ) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৩)
হাদিস নং: ৩৮১৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا يحيى عن اسماعيل قال قلت لعبد الله بن ابي اوفى رضي الله عنهما بشر النبي صلى الله عليه وسلم خديجة قال نعم ببيت من قصب لا صخب فيه ولا نصب
৩৮১৯. ইসমাঈল (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আউফা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদীজাহ (রাঃ)-কে জান্নাতের খোশ খবর দিয়েছিলেন কি? তিনি বললেন, হাঁ। এমন একটি ভবনের খোশ খবর দিয়েছিলেন, যে ভবনটি তৈরি করা হয়েছে এমন মোতি দ্বারা যার ভিতরদেশ ফাঁকা। আর সেখানে থাকবে না শোরগোল, কোন প্রকার ক্লেশ ও দুঃখ। (১৭৯২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৪)
হাদিস নং: ৩৮২০
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا محمد بن فضيل عن عمارة عن ابي زرعة عن ابي هريرة قال اتى جبريل النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله هذه خديجة قد اتت معها اناء فيه ادام او طعام او شراب فاذا هي اتتك فاقرا عليها السلام من ربها ومني وبشرها ببيت في الجنة من قصب لا صخب فيه ولا نصب
وقال اسماعيل بن خليل اخبرنا علي بن مسهر عن هشام عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها قالت استاذنت هالة بنت خويلد اخت خديجة على رسول الله صلى الله عليه وسلم فعرف استىذان خديجة فارتاع لذلك فقال اللهم هالة قالت فغرت فقلت ما تذكر من عجوز من عجاىز قريش حمراء الشدقين هلكت في الدهر قد ابدلك الله خيرا منها
وقال اسماعيل بن خليل اخبرنا علي بن مسهر عن هشام عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها قالت استاذنت هالة بنت خويلد اخت خديجة على رسول الله صلى الله عليه وسلم فعرف استىذان خديجة فارتاع لذلك فقال اللهم هالة قالت فغرت فقلت ما تذكر من عجوز من عجاىز قريش حمراء الشدقين هلكت في الدهر قد ابدلك الله خيرا منها
৩৮২০. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, জিব্রাঈল (আঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! ঐ যে খাদীজাহ (রাঃ) একটি পাত্র হাতে নিয়ে আসছেন। ঐ পাত্রে তরকারী, অথবা খাদ্যদ্রব্য অথবা পানীয় ছিল। যখন তিনি পৌঁছে যাবেন তখন তাঁকে তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ হতে এবং আমার পক্ষ থেকেও সালাম জানাবেন আর তাঁকে জান্নাতের এমন একটি ভবনের খোশ খবর দিবেন যার অভ্যন্তর ভাগ ফাঁকা-মোতি দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। সেখানে থাকবে না কোন প্রকার শোরগোল; কোন প্রকার দুঃখ-ক্লেশ। (৭৪৯৭, মুসলিম ৪৪/১২, হাঃ নং ২৪৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৫ প্রথমাংশ)
হাদিস নং: ৩৮২১
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا محمد بن فضيل عن عمارة عن ابي زرعة عن ابي هريرة قال اتى جبريل النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله هذه خديجة قد اتت معها اناء فيه ادام او طعام او شراب فاذا هي اتتك فاقرا عليها السلام من ربها ومني وبشرها ببيت في الجنة من قصب لا صخب فيه ولا نصب وقال اسماعيل بن خليل اخبرنا علي بن مسهر عن هشام عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها قالت استاذنت هالة بنت خويلد اخت خديجة على رسول الله صلى الله عليه وسلم فعرف استىذان خديجة فارتاع لذلك فقال اللهم هالة قالت فغرت فقلت ما تذكر من عجوز من عجاىز قريش حمراء الشدقين هلكت في الدهر قد ابدلك الله خيرا منها
৩৮২১. ‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খাদীজাহর বোন হালা বিনতে খুয়াইলিদ (একদিন) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য অনুমতি চাইলেন। (দু’বোনের গলার স্বর ও অনুমতি চাওয়ার ভঙ্গি একই রকম ছিল বলে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদীজাহর অনুমতি চাওয়ার কথা মনে করে হতচকিত হয়ে পড়েন। তারপর (প্রকৃতিস্থ হয়ে) তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! এতো দেখছি হালা! ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেনঃ এতে আমার ভারী ঈর্ষা হলো। আমি বললাম, কুরাইশদের বুড়ীদের মধ্য থেকে এমন এক বুড়ীর কথা আপনি আলোচনা করেন যার দাঁতের মাড়ির লাল বর্ণটাই শুধু বাকি রয়ে গিয়েছিল, যে শেষ হয়ে গেছে কত কাল আগে। তার পরিবর্তে আল্লাহ তো আপনাকে তার চাইতেও উত্তম স্ত্রী দান করেছেন।* (মুসলিম ৪৪/১২, হাঃ নং ২৪৩৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ নাই)
৬৩/২১. بَابُ ذِكْرُ جَرِيْرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْبَجَلِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ
৬৩/২১. بَابُ ذِكْرُ جَرِيْرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْبَجَلِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ
নোট: * ‘আয়িশা (রাঃ) - এর এ কথার জবাবে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কী বলেছেন তার উল্লেখ বুখারীতে নেই। তবে হাদীস সংকলন আহমাদ ও তাবারানী এ প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, ‘আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ এতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্রুদ্ধ হন। অবশেষে আমি বললামঃ যিনি আপনাকে সত্যের বাহকরূপে পাঠিয়েছেন তাঁর কসম, ভবিষ্যতে আমি তাঁর (খাদীজাহ্র) সম্পর্কে উত্তম মন্তব্য ছাড়া অন্য কোনরূপ মন্তব্য করবো না।
হাদিস নং: ৩৮২২
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق الواسطي حدثنا خالد عن بيان عن قيس قال سمعته يقول قال جرير بن عبد الله ما حجبني رسول الله صلى الله عليه وسلم منذ اسلمت ولا راني الا ضحك
৩৮২২. জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইসলাম গ্রহণ করার পর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর গৃহে প্রবেশ করতে কোনদিন আমাকে বাধা প্রদান করেননি এবং যখনই আমাকে দেখেছেন, মুচকি হাসি দিয়েছেন। (৩০৩৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪০ প্রথমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৬ প্রথমাংশ)
হাদিস নং: ৩৮২৩
সহিহ (Sahih)
وعن قيس عن جرير بن عبد الله قال كان في الجاهلية بيت يقال له ذو الخلصة وكان يقال له الكعبة اليمانية او الكعبة الشامية فقال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم هل انت مريحي من ذي الخلصة قال فنفرت اليه في خمسين وماىة فارس من احمس قال فكسرنا وقتلنا من وجدنا عنده فاتيناه فاخبرناه فدعا لنا ولاحمس
৩৮২৩. জারীর (রাঃ) আরো বলেন, জাহিলী যুগে যুল-খালাসা নামে একটি ঘর ছিল। যাকে কা‘বায়ে ইয়ামানী ও কা‘বায়ে শামী বলা হত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তুমি কি যুল-খালাসার ব্যাপারে আমাকে শান্তি দিতে পার? জারীর (রাঃ) বলেন, আমি আহমাস গোত্রের একশ পঞ্চাশ জন ঘোড়-সওয়ার সৈন্য নিয়ে যাত্রা করলাম এবং (প্রতীমা ঘরটি) বিধ্বস্ত করে দিলাম। সেখানে যাদেরকে পেলাম হত্যা করলাম। এসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খবর জানালাম। তিনি আমাদের জন্য এবং আহমাস গোত্রের জন্য দু‘আ করলেন। (৩০২০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪০ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৬ শেষাংশ)
হাদিস নং: ৩৮২৪
সহিহ (Sahih)
حدثني اسماعيل بن خليل اخبرنا سلمة بن رجاء عن هشام بن عروة عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها قالت لما كان يوم احد هزم المشركون هزيمة بينة فصاح ابليس اي عباد الله اخراكم فرجعت اولاهم على اخراهم فاجتلدت اخراهم فنظر حذيفة فاذا هو بابيه فنادى اي عباد الله ابي ابي فقالت فوالله ما احتجزوا حتى قتلوه فقال حذيفة غفر الله لكم قال ابي فوالله ما زالت في حذيفة منها بقية خير حتى لقي الله عز وجل
৩৮২৪. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ওহুদ যুদ্ধে মুশরিকগণ যখন শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়ে পড়লো, তখন ইব্লীস চীৎকার করে (মুসলিমগণকে) বলল, হে আল্লাহর বান্দাগণ! পিছনের দিকে লক্ষ্য কর। তখন অগ্রগামী দল পিছন দিকে ফিরে (শত্রুদল মনে করে) নিজদলের উপর আক্রমণ করে বসল এবং একে অন্যকে হত্যা করতে লাগল। এমন সময় হুযাইফাহ (রাঃ) পিছনের দলে তাঁর পিতাকে দেখতে পেয়ে চীৎকার করে বলতে লাগলেন, হে আল্লাহর বান্দাগণ! এই যে আমার পিতা, এই যে আমার পিতা। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ, কিন্তু তারা কেউই বিরত হয়নি। অবশেষে তাঁকে হত্যা করে ফেলল। হুযাইফাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিন। (অধস্তন রাবী হিশাম বলেন,) আমার পিতা উরওয়াহ (রহ.) বলেন, আল্লাহর কসম, এ কথার কারণে হুযাইফাহ (রাঃ)-এর মধ্যে তাঁর জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত কল্যাণের চিহ্ন বিদ্যমান ছিল। (৩২৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৭)
হাদিস নং: ৩৮২৫
সহিহ (Sahih)
وقال عبدان اخبرنا عبد الله اخبرنا يونس عن الزهري حدثني عروة ان عاىشة رضي الله عنها قالت جاءت هند بنت عتبة قالت يا رسول الله ما كان على ظهر الارض من اهل خباء احب الي ان يذلوا من اهل خباىك ثم ما اصبح اليوم على ظهر الارض اهل خباء احب الي ان يعزوا من اهل خباىك قالت وايضا والذي نفسي بيده قالت يا رسول الله ان ابا سفيان رجل مسيك فهل علي حرج ان اطعم من الذي له عيالنا قال لا اراه الا بالمعروف
৩৮২৫. ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, উতবাহর মেয়ে হিন্দ (রাঃ) এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এক সময় আমার মনের অবস্থা পৃথিবীর বুকে কোন পরিবারের লাঞ্ছিত হতে দেখা আমার নিকট আপনার পরিবারের অপমানিত দেখার চেয়ে অধিক কাঙ্ক্ষিত ছিল না। কিন্তু এখন আমার অবস্থা এমন হয়েছে যে দুনিয়ার বুকে কোন পরিবারের সম্মানিত হতে দেখা আমার নিকট আপনার পরিবারের সম্মানিত দেখার চেয়ে বেশি প্রিয় নয়। তিনি বললেন, সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ। তারপর সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ সুফইয়ান (রাঃ) একজন কৃপণ ব্যক্তি। যদি তার মাল আমি ছেলে-মেয়েদের জন্য ব্যয় করি তবে তাতে কি আমার কিছু হবে? তিনি বললেন, না, যদি যথাযথ ব্যয় করা হয়। (২২১১, মুসলিম ৩০/৪, হাঃ নং ১৭১৪, আহমাদ ২৪১৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১৩৩ পরিচ্ছেদ)
হাদিস নং: ৩৮২৬
সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن ابي بكر حدثنا فضيل بن سليمان حدثنا موسى بن عقبة حدثنا سالم بن عبد الله عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما ان النبي صلى الله عليه وسلم لقي زيد بن عمرو بن نفيل باسفل بلدح قبل ان ينزل على النبي صلى الله عليه وسلم الوحي فقدمت الى النبي صلى الله عليه وسلم سفرة فابى ان ياكل منها ثم قال زيد اني لست اكل مما تذبحون على انصابكم ولا اكل الا ما ذكر اسم الله عليه وان زيد بن عمرو كان يعيب على قريش ذباىحهم ويقول الشاة خلقها الله وانزل لها من السماء الماء وانبت لها من الارض ثم تذبحونها على غير اسم الله انكارا لذلك واعظاما له
৩৮২৬. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ওয়াহী নাযিল হওয়ার পূর্বে একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার নিম্ন অঞ্চলের বালদাহ নামক জায়গায় যায়দ ইবনু ‘আমর ইবনু নুফায়লের সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে খাদ্য পূর্ণ একটি ‘খানচা’ পেশ করা হল। তিনি তা হতে কিছু খেতে অস্বীকার করলেন। এরপর যায়দ (রাঃ) বললেন, আমিও ঐ সব জন্তুর গোশ্ত খাই না যা তোমরা তোমাদের দেব-দেবীর নামে যবাহ কর। আল্লাহর নামে যবহকৃত ছাড়া অন্যের নামে যবহ করা জন্তুর গোশ্ত আমি কিছুতেই খাই না। যায়দ ইবনু ‘আমর কুরাইশের যবহকৃত জন্তু সম্পর্কে তাদের উপর দোষারোপ করতেন এবং বলতেন; বকরীকে সৃষ্টি করলেন আল্লাহ্, তাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আকাশ হতে বারি বর্ষণ করলেন। ভূমি হতে উৎপন্ন করলেন তৃণ-লতা অথচ তোমরা আল্লাহ্ তা‘আলার সমূহদান অস্বীকার করে প্রতিমার প্রতি সম্মান করে আল্লাহর নাম ছাড়া অন্যের নামে যবহ করছ। (৫৪৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪৩ প্রথমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৮ প্রথমাংশ)
হাদিস নং: ৩৮২৭
সহিহ (Sahih)
قال موسى حدثني سالم بن عبد الله ولا اعلمه الا تحدث به عن ابن عمر ان زيد بن عمرو بن نفيل خرج الى الشام يسال عن الدين ويتبعه فلقي عالما من اليهود فساله عن دينهم فقال اني لعلي ان ادين دينكم فاخبرني فقال لا تكون على ديننا حتى تاخذ بنصيبك من غضب الله قال زيد ما افر الا من غضب الله ولا احمل من غضب الله شيىا ابدا وانى استطيعه فهل تدلني على غيره قال ما اعلمه الا ان يكون حنيفا قال زيد وما الحنيف قال دين ابراهيم لم يكن يهوديا ولا نصرانيا ولا يعبد الا الله فخرج زيد فلقي عالما من النصارى فذكر مثله فقال لن تكون على ديننا حتى تاخذ بنصيبك من لعنة الله قال ما افر الا من لعنة الله ولا احمل من لعنة الله ولا من غضبه شيىا ابدا وانى استطيع فهل تدلني على غيره قال ما اعلمه الا ان يكون حنيفا قال وما الحنيف قال دين ابراهيم لم يكن يهوديا ولا نصرانيا ولا يعبد الا الله فلما راى زيد قولهم في ابراهيم عليه السلام خرج فلما برز رفع يديه فقال اللهم اني اشهد اني على دين ابراهيم وقال الليث كتب الي هشام عن ابيه عن اسماء بنت ابي بكر رضي الله عنهما قالت رايت زيد بن عمرو بن نفيل قاىما مسندا ظهره الى الكعبة يقول يا معاشر قريش والله ما منكم على دين ابراهيم غيري وكان يحيي الموءودة يقول للرجل اذا اراد ان يقتل ابنته لا تقتلها انا اكفيكها مىونتها فياخذها فاذا ترعرعت قال لابيها ان شىت دفعتها اليك وان شىت كفيتك مىونتها
৩৮২৭-৩৮২৮. মূসা (সনদসহ) বলেন, সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। মূসা (রহ.) বলেন, আমার জানা মতে তিনি ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে এ ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন যে, যায়দ ইবনু ‘আমর সঠিক তাওহীদের উপর প্রতিষ্ঠিত দ্বীনের খোঁজে সিরিয়ায় যান। সে সময় একজন ইয়াহূদী আলেমের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হল। তিনি তার নিকট তাদের দ্বীন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন এবং বললেন, হয়ত আমি তোমাদের দ্বীনের অনুসারী হব, আমাকে সে সম্পর্কে জানাও। তিনি বললেন, তুমি আমাদের দ্বীন গ্রহণ করবে না। গ্রহণ করলে যতখানি গ্রহণ করবে সে পরিমাণ আল্লাহর গযব তোমার উপর পতিত হবে। যায়দ বললেন, আমি তো আল্লাহর গযব হতে পালিয়ে আসছি। আমি যথাসাধ্য আল্লাহর সামান্য পরিমাণ গযবও বহন করব না। আর আমার কি তা বহনের শক্তি-সামর্থ্য আছে? তুমি কি আমাকে এছাড়া অন্য কোন পথের দিশা দিতে পার? সে বলল, আমি তা জানি না, তবে তুমি দ্বীনে হানীফ কবুল করে নাও। যায়দ জিজ্ঞেস করলেন (দ্বীনে) হানীফ কী? সে বলল, তা হল ইব্রাহীম (আঃ)-এর দ্বীন। তিনি ইয়াহূদীও ছিলেন না, নাসারাও ছিলেন না। তিনি আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করতেন না। তখন যায়দ বের হলেন এবং তাঁর সাথে একজন খ্রিস্টান আলিমের সাক্ষাৎ হল। ইয়াহূদী ‘আলিমের নিকট ইতিপূর্বে তিনি যা যা বলেছিলেন তার কাছেও তা বললেন। তিনি বললেন, তুমি আমাদের দ্বীন গ্রহণ করবে না। গ্রহণ করলে যত পরিমাণ গ্রহণ করবে তত পরিমাণ আল্লাহর লা‘নত তোমার উপর পতিত হবে। যায়দ বললেন, আমি তো আল্লাহর লা‘নত হতে পালিয়ে আসছি। আর আমি যথাসাধ্য সামান্য আল্লাহর লা‘নতও বহন করব না। আমি কি তা বহনের শক্তি রাখি? তুমি কি আমাকে এছাড়া অন্য কোন পথের দিশা দেবে? সে বলল, আমি অন্য কিছু জানি না। শুধু এতটুকু বলতে পারি যে, তুমি দ্বীনে হানীফ গ্রহণ কর। তিনি বললেন, হানীফ কী? উত্তরে তিনি বললেন, তা হল ইব্রাহীম (আঃ)-এর দ্বীন, তিনি ইয়াহূদীও ছিলেন না এবং খ্রিস্টানও ছিলেন না এবং আল্লাহ্ ছাড়া আর কারো ইবাদত করতেন না। যায়দ যখন ইব্রাহীম (আঃ) সম্পর্কে তাদের মন্তব্য জানতে পারলেন, তখন তিনি বেরিয়ে পড়ে দু’হাত তুলে বললেন, হে আল্লাহ্! আমি তোমাকে সাক্ষী রেখে বলছি আমি দ্বীনে ইব্রাহীম (আঃ)-এর উপর আছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪৩ মধ্যমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৮ মধ্যমাংশ)
লায়স (রহ.) বলেন হিশাম তাঁর পিতা সূত্রে তিনি আসমা বিন্ত আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণনা করতে গিয়ে আমার কাছে লিখছেন যে, তিনি (আসমা) বলেন, আমি দেখলাম যায়দ ইবনু ‘আমর ইবনু নুফায়ল কা’বা শরীফের দেয়ালে পিঠ লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এবং বলছেন, হে কুরাইশ গোত্র, আল্লাহর কসম, আমি ব্যতীত তোমাদের কেউ-ই দ্বীনে ইব্রাহীমের উপর নেই। আর তিনি যেসব কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়ার জন্য নেয়া হত তাদেরকে তিনি বাঁচাবার ব্যবস্থা করতেন। যখন কোন লোক তার কন্যা সন্তানকে হত্যা করার জন্য ইচ্ছা করত, তখন তিনি এসে বলতেন, হত্যা করো না, আমি তার জীবিকার ব্যয়ভার গ্রহণ করবো। এ বলে তিনি শিশুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসতেন। শিশুটি বড় হলে তার পিতাকে বলতেন, তুমি যদি তোমার কন্যাকে নিয়ে যেতে চাও, তাহলে আমি দিয়ে দেব। আর তুমি যদি নিতে না চাও, তবে আমিই এর সকল ব্যয় ভার বহন করে যাব। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৮ শেষাংশ)
লায়স (রহ.) বলেন হিশাম তাঁর পিতা সূত্রে তিনি আসমা বিন্ত আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণনা করতে গিয়ে আমার কাছে লিখছেন যে, তিনি (আসমা) বলেন, আমি দেখলাম যায়দ ইবনু ‘আমর ইবনু নুফায়ল কা’বা শরীফের দেয়ালে পিঠ লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এবং বলছেন, হে কুরাইশ গোত্র, আল্লাহর কসম, আমি ব্যতীত তোমাদের কেউ-ই দ্বীনে ইব্রাহীমের উপর নেই। আর তিনি যেসব কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়ার জন্য নেয়া হত তাদেরকে তিনি বাঁচাবার ব্যবস্থা করতেন। যখন কোন লোক তার কন্যা সন্তানকে হত্যা করার জন্য ইচ্ছা করত, তখন তিনি এসে বলতেন, হত্যা করো না, আমি তার জীবিকার ব্যয়ভার গ্রহণ করবো। এ বলে তিনি শিশুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসতেন। শিশুটি বড় হলে তার পিতাকে বলতেন, তুমি যদি তোমার কন্যাকে নিয়ে যেতে চাও, তাহলে আমি দিয়ে দেব। আর তুমি যদি নিতে না চাও, তবে আমিই এর সকল ব্যয় ভার বহন করে যাব। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৮ শেষাংশ)
হাদিস নং: ৩৮২৮
সহিহ (Sahih)
قال موسى حدثني سالم بن عبد الله ولا اعلمه الا تحدث به عن ابن عمر ان زيد بن عمرو بن نفيل خرج الى الشام يسال عن الدين ويتبعه فلقي عالما من اليهود فساله عن دينهم فقال اني لعلي ان ادين دينكم فاخبرني فقال لا تكون على ديننا حتى تاخذ بنصيبك من غضب الله قال زيد ما افر الا من غضب الله ولا احمل من غضب الله شيىا ابدا وانى استطيعه فهل تدلني على غيره قال ما اعلمه الا ان يكون حنيفا قال زيد وما الحنيف قال دين ابراهيم لم يكن يهوديا ولا نصرانيا ولا يعبد الا الله فخرج زيد فلقي عالما من النصارى فذكر مثله فقال لن تكون على ديننا حتى تاخذ بنصيبك من لعنة الله قال ما افر الا من لعنة الله ولا احمل من لعنة الله ولا من غضبه شيىا ابدا وانى استطيع فهل تدلني على غيره قال ما اعلمه الا ان يكون حنيفا قال وما الحنيف قال دين ابراهيم لم يكن يهوديا ولا نصرانيا ولا يعبد الا الله فلما راى زيد قولهم في ابراهيم عليه السلام خرج فلما برز رفع يديه فقال اللهم اني اشهد اني على دين ابراهيم وقال الليث كتب الي هشام عن ابيه عن اسماء بنت ابي بكر رضي الله عنهما قالت رايت زيد بن عمرو بن نفيل قاىما مسندا ظهره الى الكعبة يقول يا معاشر قريش والله ما منكم على دين ابراهيم غيري وكان يحيي الموءودة يقول للرجل اذا اراد ان يقتل ابنته لا تقتلها انا اكفيكها مىونتها فياخذها فاذا ترعرعت قال لابيها ان شىت دفعتها اليك وان شىت كفيتك مىونتها
৩৮২৭-৩৮২৮. মূসা (সনদসহ) বলেন, সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। মূসা (রহ.) বলেন, আমার জানা মতে তিনি ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে এ ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন যে, যায়দ ইবনু ‘আমর সঠিক তাওহীদের উপর প্রতিষ্ঠিত দ্বীনের খোঁজে সিরিয়ায় যান। সে সময় একজন ইয়াহূদী আলেমের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হল। তিনি তার নিকট তাদের দ্বীন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন এবং বললেন, হয়ত আমি তোমাদের দ্বীনের অনুসারী হব, আমাকে সে সম্পর্কে জানাও। তিনি বললেন, তুমি আমাদের দ্বীন গ্রহণ করবে না। গ্রহণ করলে যতখানি গ্রহণ করবে সে পরিমাণ আল্লাহর গযব তোমার উপর পতিত হবে। যায়দ বললেন, আমি তো আল্লাহর গযব হতে পালিয়ে আসছি। আমি যথাসাধ্য আল্লাহর সামান্য পরিমাণ গযবও বহন করব না। আর আমার কি তা বহনের শক্তি-সামর্থ্য আছে? তুমি কি আমাকে এছাড়া অন্য কোন পথের দিশা দিতে পার? সে বলল, আমি তা জানি না, তবে তুমি দ্বীনে হানীফ কবুল করে নাও। যায়দ জিজ্ঞেস করলেন (দ্বীনে) হানীফ কী? সে বলল, তা হল ইব্রাহীম (আঃ)-এর দ্বীন। তিনি ইয়াহূদীও ছিলেন না, নাসারাও ছিলেন না। তিনি আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করতেন না। তখন যায়দ বের হলেন এবং তাঁর সাথে একজন খ্রিস্টান আলিমের সাক্ষাৎ হল। ইয়াহূদী ‘আলিমের নিকট ইতিপূর্বে তিনি যা যা বলেছিলেন তার কাছেও তা বললেন। তিনি বললেন, তুমি আমাদের দ্বীন গ্রহণ করবে না। গ্রহণ করলে যত পরিমাণ গ্রহণ করবে তত পরিমাণ আল্লাহর লা‘নত তোমার উপর পতিত হবে। যায়দ বললেন, আমি তো আল্লাহর লা‘নত হতে পালিয়ে আসছি। আর আমি যথাসাধ্য সামান্য আল্লাহর লা‘নতও বহন করব না। আমি কি তা বহনের শক্তি রাখি? তুমি কি আমাকে এছাড়া অন্য কোন পথের দিশা দেবে? সে বলল, আমি অন্য কিছু জানি না। শুধু এতটুকু বলতে পারি যে, তুমি দ্বীনে হানীফ গ্রহণ কর। তিনি বললেন, হানীফ কী? উত্তরে তিনি বললেন, তা হল ইব্রাহীম (আঃ)-এর দ্বীন, তিনি ইয়াহূদীও ছিলেন না এবং খ্রিস্টানও ছিলেন না এবং আল্লাহ্ ছাড়া আর কারো ইবাদত করতেন না। যায়দ যখন ইব্রাহীম (আঃ) সম্পর্কে তাদের মন্তব্য জানতে পারলেন, তখন তিনি বেরিয়ে পড়ে দু’হাত তুলে বললেন, হে আল্লাহ্! আমি তোমাকে সাক্ষী রেখে বলছি আমি দ্বীনে ইব্রাহীম (আঃ)-এর উপর আছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪৩ মধ্যমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৮ মধ্যমাংশ)
লায়স (রহ.) বলেন হিশাম তাঁর পিতা সূত্রে তিনি আসমা বিন্ত আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণনা করতে গিয়ে আমার কাছে লিখছেন যে, তিনি (আসমা) বলেন, আমি দেখলাম যায়দ ইবনু ‘আমর ইবনু নুফায়ল কা’বা শরীফের দেয়ালে পিঠ লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এবং বলছেন, হে কুরাইশ গোত্র, আল্লাহর কসম, আমি ব্যতীত তোমাদের কেউ-ই দ্বীনে ইব্রাহীমের উপর নেই। আর তিনি যেসব কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়ার জন্য নেয়া হত তাদেরকে তিনি বাঁচাবার ব্যবস্থা করতেন। যখন কোন লোক তার কন্যা সন্তানকে হত্যা করার জন্য ইচ্ছা করত, তখন তিনি এসে বলতেন, হত্যা করো না, আমি তার জীবিকার ব্যয়ভার গ্রহণ করবো। এ বলে তিনি শিশুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসতেন। শিশুটি বড় হলে তার পিতাকে বলতেন, তুমি যদি তোমার কন্যাকে নিয়ে যেতে চাও, তাহলে আমি দিয়ে দেব। আর তুমি যদি নিতে না চাও, তবে আমিই এর সকল ব্যয় ভার বহন করে যাব। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৮ শেষাংশ)
লায়স (রহ.) বলেন হিশাম তাঁর পিতা সূত্রে তিনি আসমা বিন্ত আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণনা করতে গিয়ে আমার কাছে লিখছেন যে, তিনি (আসমা) বলেন, আমি দেখলাম যায়দ ইবনু ‘আমর ইবনু নুফায়ল কা’বা শরীফের দেয়ালে পিঠ লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এবং বলছেন, হে কুরাইশ গোত্র, আল্লাহর কসম, আমি ব্যতীত তোমাদের কেউ-ই দ্বীনে ইব্রাহীমের উপর নেই। আর তিনি যেসব কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়ার জন্য নেয়া হত তাদেরকে তিনি বাঁচাবার ব্যবস্থা করতেন। যখন কোন লোক তার কন্যা সন্তানকে হত্যা করার জন্য ইচ্ছা করত, তখন তিনি এসে বলতেন, হত্যা করো না, আমি তার জীবিকার ব্যয়ভার গ্রহণ করবো। এ বলে তিনি শিশুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসতেন। শিশুটি বড় হলে তার পিতাকে বলতেন, তুমি যদি তোমার কন্যাকে নিয়ে যেতে চাও, তাহলে আমি দিয়ে দেব। আর তুমি যদি নিতে না চাও, তবে আমিই এর সকল ব্যয় ভার বহন করে যাব। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৮ শেষাংশ)