অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৬৪/১. ‘উশায়রাহ বা ‘উসাইরাহর যুদ্ধ।
মোট ৫২৫ টি হাদিস
হাদিস নং: ৪৪৩৪ সহিহ (Sahih)
يسرة بن صفوان بن جميل اللخمي حدثنا ابراهيم بن سعد عن ابيه عن عروة عن عاىشة رضي الله عنها قالت دعا النبي صلى الله عليه وسلم فاطمة عليها السلام في شكواه الذي قبض فيه فسارها بشيء فبكت ثم دعاها فسارها بشيء فضحكت فسالنا عن ذلك فقالت سارني النبي صلى الله عليه وسلم انه يقبض في وجعه الذي توفي فيه فبكيت ثم سارني فاخبرني اني اول اهله يتبعه فضحكت.
৪৪৩৩-৪৪৩৪. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু-রোগকালে ফাতিমাহ (রাঃ)-কে ডেকে আনলেন এবং চুপে চুপে কিছু বললেন, তখন ফাতেমাহ (রাঃ) কেঁদে ফেললেন; এরপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় তাঁকে ডেকে চুপে চুপে কিছু বললেন, তখন হাসলেন। আমরা এ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বলেছিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে রোগে আক্রান্ত আছেন এ রোগেই তাঁর ইন্তিকাল হবে এ কথাই তিনি গোপনে আমাকে বলেছেন। তখন আমি কাঁদলাম। আবার তিনি আমাকে চুপে চুপে বললেন, তাঁর পরিজনের মধ্যে সর্বপ্রথম আমিই তাঁর সঙ্গে মিলিত হব, তখন আমি হাসলাম। [৩৬২৩, ৩৬২৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৮৭)
হাদিস নং: ৪৪৩৫ সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة عن سعد عن عروة عن عاىشة قالت كنت اسمع انه لا يموت نبي حتى يخير بين الدنيا والاخرة فسمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول في مرضه الذي مات فيه واخذته بحة يقول (مع الذين انعم الله عليهم) الاية فظننت انه خير.
৪৪৩৫. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এ কথা শুনেছিলাম যে, কোন নবী মারা যান না যতক্ষণ না তাঁকে বলা হয় দুনিয়া বা আখিরাতের একটি বেছে নিতে। যে রোগে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন সে রোগে আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যন্ত্রণায় কাতর অবস্থায় বলতে শুনেছি, তাঁদের সঙ্গে যাঁদের প্রতি আল্লাহ তা‘আলা নি‘য়ামাত প্রদান করেছেন- [তাঁরা হলেন- নবী (আঃ)-গণ, সিদ্দীকগণ এবং শাহীদগণ] (সূরাহ আন-নিসা ৪/৬৯)। তখন আমি ধারণা করলাম যে, তাঁকেও একটি বেছে নিতে বলা হয়েছে। [৪৪৩৬, ৪৪৩৭, ৪৪৬৩, ৪৫৮৬, ৬৩৪৮, ৬৫০৯; মুসলিম ৪৪/১৩, হাঃ ২৪৪৪, আহমাদ ২৬৪৭৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৮৮)
হাদিস নং: ৪৪৩৬ সহিহ (Sahih)
مسلم حدثنا شعبة عن سعد عن عروة عن عاىشة قالت لما مرض النبي صلى الله عليه وسلم المرض الذي مات فيه جعل يقول في الرفيق الاعلى
৪৪৩৬. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু-রোগে আক্রান্ত হন, তখন তিনি বলছিলেন, فِي الرَّفِيْقِ الْأَعْلَى অর্থাৎ উচ্চে সমাসীন বন্ধুর সঙ্গে (মিলিত হতে চাই)। [৪৪৩৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৮৯)
হাদিস নং: ৪৪৩৭ সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني عروة بن الزبير ان عاىشة قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو صحيح يقول انه لم يقبض نبي قط حتى يرى مقعده من الجنة ثم يحيا او يخير فلما اشتكى وحضره القبض وراسه على فخذ عاىشة غشي عليه فلما افاق شخص بصره نحو سقف البيت ثم قال اللهم في الرفيق الاعلى فقلت اذا لا يجاورنا فعرفت انه حديثه الذي كان يحدثنا وهو صحيح.
৪৪৩৭. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্থাবস্থায় বলতেন, জান্নাতে তাঁর স্থান দেখানো ব্যতীত কোন নবী (আঃ)-এর প্রাণ কখনো কবজ করা হয়নি। তারপর তাঁকে জীবন বা মৃত্যু একটি গ্রহণ করতে বলা হয়। এরপর যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং তাঁর মাথা ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর উরুতে রাখাবস্থায় তাঁর জান কবজের সময় উপস্থিত হল তখন তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে গেলেন। এরপর যখন তিনি সংজ্ঞা ফিরে পেলেন তখন তিনি ঘরের ছাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, হে আল্লাহ! উচ্চে সমাসীন বন্ধুর সঙ্গে (মিলিত হতে চাই)। অনন্তর আমি বললাম, তিনি আর আমাদের মাঝে থাকতে চাচ্ছেন না। এরপর আমি উপলব্ধি করলাম যে, এটা হচ্ছে ঐ কথা যা তিনি আমাদের কাছে সুস্থাবস্থায় বর্ণনা করতেন। [৪৪৩৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৯০)
হাদিস নং: ৪৪৩৮ সহিহ (Sahih)
محمد حدثنا عفان عن صخر بن جويرية عن عبد الرحمن بن القاسم عن ابيه عن عاىشة دخل عبد الرحمن بن ابي بكر على النبي صلى الله عليه وسلم وانا مسندته الى صدري ومع عبد الرحمن سواك رطب يستن به فابده رسول الله صلى الله عليه وسلم بصره فاخذت السواك فقصمته ونفضته وطيبته ثم دفعته الى النبي صلى الله عليه وسلم فاستن به فما رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم استن استنانا قط احسن منه فما عدا ان فرغ رسول الله صلى الله عليه وسلم رفع يده او اصبعه ثم قال في الرفيق الاعلى ثلاثا ثم قضى وكانت تقول مات بين حاقنتي وذاقنتي.
৪৪৩৮. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলেন। তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমার বুকে হেলান দেয়া অবস্থায় রেখেছিলাম এবং ‘আবদুর রহমানের হাতে তাজা মিসওয়াকের ডাল ছিল যা দিয়ে সে দাঁত পরিষ্কার করছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করলেন। আমি মিসওয়াকটি নিলাম এবং তা চিবিয়ে নরম করলাম। তারপর তা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দিলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দিয়ে দাঁত মর্দন করলেন। আমি তাঁকে এর পূর্বে এত সুন্দরভাবে মিসওয়াক করতে আর কখনও দেখিনি। এ থেকে অবসর হয়েই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উভয় হাত অথবা আঙ্গুল উপরে উঠিয়ে তিনবার বললেন, উচ্চে সমাসীন বন্ধুর সঙ্গে (মিলিত হতে চাই) তারপর তিনি ইন্তিকাল করলেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলতেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বুক ও থুতনির মাঝে ইন্তিকাল করেন। [৮৯০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৯১)
হাদিস নং: ৪৪৩৯ সহিহ (Sahih)
حبان اخبرنا عبد الله اخبرنا يونس عن ابن شهاب قال اخبرني عروة ان عاىشة رضي الله عنها اخبرته ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان اذا اشتكى نفث على نفسه بالمعوذات ومسح عنه بيده فلما اشتكى وجعه الذي توفي فيه طفقت انفث على نفسه بالمعوذات التي كان ينفث وامسح بيد النبي صلى الله عليه وسلم عنه.
৪৪৩৯. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হয়ে পড়তেন তখন তিনি আশ্রয় প্রার্থনার দুই সূরাহ (ফালাক ও নাস) পাঠ করে নিজ দেহে ফুঁক দিতেন এবং স্বীয় হাত দ্বারা শরীর মাসাহ করতেন। এরপর যখন মৃত্যু-রোগে আক্রান্ত হলেন, তখন আমি আশ্রয় প্রার্থনার সূরাহ দু’টি দিয়ে তাঁর শরীরে ফুঁ দিতাম, যা দিয়ে তিনি ফুঁ দিতেন। আর আমি তাঁর হাত দ্বারা তাঁর শরীর মাসাহ করিয়ে দিতাম। [৫০১৬, ৫৭৩৫, ৫৭৫১; মুসলিম ৩৯/২, হাঃ ২১৯২, আহমাদ ২৬২৪৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৯২)
হাদিস নং: ৪৪৪০ সহিহ (Sahih)
معلى بن اسد حدثنا عبد العزيز بن مختار حدثنا هشام بن عروة عن عباد بن عبد الله بن الزبير ان عاىشة اخبرته انها سمعت النبي صلى الله عليه وسلم واصغت اليه قبل ان يموت وهو مسند الي ظهره يقول اللهم اغفر لي وارحمني والحقني بالرفيق.
৪৪৪০. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের পূর্বে যখন তাঁর পিঠ আমার উপর হেলান দেয়া অবস্থায় ছিল, তখন আমি কান ঝুঁকিয়ে দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, হে আল্লাহ! আমাকে  ক্ষমা করুন, আমার উপর রহম করুন এবং মহান বন্ধুর সঙ্গে আমাকে মিলিত করুন। [৫৬৭৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৯৩)
হাদিস নং: ৪৪৪১ সহিহ (Sahih)
الصلت بن محمد حدثنا ابو عوانة عن هلال الوزان عن عروة بن الزبير عن عاىشة رضي الله عنها قالت قال النبي صلى الله عليه وسلم في مرضه الذي لم يقم منه لعن الله اليهود اتخذوا قبور انبياىهم مساجد قالت عاىشة لولا ذلك لابرز قبره خشي ان يتخذ مسجدا.
৪৪৪১. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সেই রোগাবস্থায় যাত্থেকে তিনি আর সেরে উঠেননি- বলেন, ইয়াহূদীদের প্রতি আল্লাহ লা’নত করেছেন। তারা তাদের নবীদের (নবীদের) কবরগুলোকে সিজদার জায়গা করে নিয়েছে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) মন্তব্য করেন, তা না হলে তবে তাঁর কবরকেও সিজদার জায়গা বানানোর আশঙ্কা ছিল। [৪৩৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৯৪)
হাদিস নং: ৪৪৪২ সহিহ (Sahih)
سعيد بن عفير قال حدثني الليث قال حدثني عقيل عن ابن شهاب قال اخبرني عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود ان عاىشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت لما ثقل رسول الله صلى الله عليه وسلم واشتد به وجعه استاذن ازواجه ان يمرض في بيتي فاذن له فخرج وهو بين الرجلين تخط رجلاه في الارض بين عباس بن عبد المطلب وبين رجل اخر قال عبيد الله فاخبرت عبد الله بالذي قالت عاىشة فقال لي عبد الله بن عباس هل تدري من الرجل الاخر الذي لم تسم عاىشة قال قلت لا قال ابن عباس هو علي بن ابي طالب وكانت عاىشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم تحدث ان رسول الله صلى الله عليه وسلم لما دخل بيتي واشتد به وجعه قال هريقوا علي من سبع قرب لم تحلل اوكيتهن لعلي اعهد الى الناس فاجلسناه في مخضب لحفصة زوج النبي صلى الله عليه وسلم ثم طفقنا نصب عليه من تلك القرب حتى طفق يشير الينا بيده ان قد فعلتن قالت ثم خرج الى الناس فصلى بهم وخطبهم.
৪৪৪২. নবী সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রোগ প্রবল হল ও ব্যথা বেড়ে গেল, তখন তিনি আমার ঘরে সেবা-শুশ্রূষা পাওয়ার ব্যাপারে তাঁর স্ত্রীগণের নিকট অনুমতি চাইলেন। তাঁরা অনুমতি দিলেন। তারপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর থেকে বের হয়ে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) ও অপর একজন সাহাবীর মাঝে যমীনের উপর পা হিঁচড়ে চলতে লাগলেন। ‘উবাইদুল্লাহ (রহ.) বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে ‘আয়িশাহ কথিত ব্যক্তি সম্পর্কে জানালাম, তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) আমাকে বললেন, তুমি কি সেই অন্য ব্যক্তিকে জান যার নাম ‘আয়িশাহ (রাঃ) উল্লেখ করেননি? আমি বললাম, না। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, তিনি হলেন ‘আলী (রাঃ)। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ) বর্ণনা করতেন যে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর ব্যথা বেড়ে গেল, তখন তিনি বললেন, তোমরা এমন সাত মশক যার মুখ এখনও খোলা হয়নি, তা থেকে আমার শরীরে পানি ঢেলে দাও। যেন আমি (সুস্থ হয়ে) লোকদের নাসীহাত দিতে পারি। এরপর আমরা তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী হাফসাহ (রাঃ)-এর একটি বড় গামলায় বসালাম। তারপর আমরা উক্ত মশক হতে তাঁর উপর ততক্ষণ পর্যন্ত পানি ঢালতে লাগলাম যতক্ষণ না তিনি তাঁর হাত দ্বারা আমাদের ইশারা করে জানালেন যে, তোমরা তোমাদের কাজ পুরা করেছ। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তারপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের কাছে গিয়ে তাদের সঙ্গে জামা‘আতে সালাত আদায় করলেন এবং তাদের উদ্দেশে খুতবা দিলেন। [১৯৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৯৫)
হাদিস নং: ৪৪৪৩ সহিহ (Sahih)
و اخبرني عبيد الله بن عبد الله بن عتبة ان عاىشة وعبد الله بن عباس رضي الله عنهم قالا لما نزل برسول الله صلى الله عليه وسلم طفق يطرح خميصة له على وجهه فاذا اغتم كشفها عن وجهه وهو كذلك يقول لعنة الله على اليهود والنصارى اتخذوا قبور انبياىهم مساجد يحذر ما صنعوا.
৪৪৪৩-৪৪৪৪. ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উতবাহ (রহ.) আমাকে জানালেন যে, ‘আয়িশাহ ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) উভয়ে বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোগ-যাতনায় অস্থির হতেন তখন তিনি তাঁর কালো চাদর দিয়ে নিজ মুখমণ্ডল
ঢেকে রাখতেন। আবার যখন জ্বরের উষ্ণতা কমত তখন মুখমণ্ডল
থেকে চাদর সরিয়ে ফেলতেন। রাবী বলেন, এরূপ অবস্থায়ও তিনি বলতেন, ইয়াহূদী ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহর লা‘নত, তারা তাদের নবীদের (নবীদের) কবরকে মাসজিদ বানিয়ে নিয়েছে। তাদের কৃতকর্ম থেকে সতর্ক করা হয়েছে। [৪৩৫, ৪৩৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৯৫)
হাদিস নং: ৪৪৪৪ সহিহ (Sahih)
و اخبرني عبيد الله بن عبد الله بن عتبة ان عاىشة وعبد الله بن عباس رضي الله عنهم قالا لما نزل برسول الله صلى الله عليه وسلم طفق يطرح خميصة له على وجهه فاذا اغتم كشفها عن وجهه وهو كذلك يقول لعنة الله على اليهود والنصارى اتخذوا قبور انبياىهم مساجد يحذر ما صنعوا.
৪৪৪৩-৪৪৪৪. ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উতবাহ (রহ.) আমাকে জানালেন যে, ‘আয়িশাহ ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) উভয়ে বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোগ-যাতনায় অস্থির হতেন তখন তিনি তাঁর কালো চাদর দিয়ে নিজ মুখমণ্ডল
ঢেকে রাখতেন। আবার যখন জ্বরের উষ্ণতা কমত তখন মুখমণ্ডল
থেকে চাদর সরিয়ে ফেলতেন। রাবী বলেন, এরূপ অবস্থায়ও তিনি বলতেন, ইয়াহূদী ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহর লা‘নত, তারা তাদের নবীদের (নবীদের) কবরকে মাসজিদ বানিয়ে নিয়েছে। তাদের কৃতকর্ম থেকে সতর্ক করা হয়েছে। [৪৩৫, ৪৩৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৯৫)
হাদিস নং: ৪৪৪৫ সহিহ (Sahih)
اخبرني عبيد الله ان عاىشة قالت لقد راجعت رسول الله صلى الله عليه وسلم في ذلك وما حملني على كثرة مراجعته الا انه لم يقع في قلبي ان يحب الناس بعده رجلا قام مقامه ابدا ولا كنت ارى انه لن يقوم احد مقامه الا تشاءم الناس به فاردت ان يعدل ذلك رسول الله عن ابي بكر رواه ابن عمر وابو موسى وابن عباس رضي الله عنهم عن النبي صلى الله عليه وسلم .
৪৪৪৫. ‘উবাইদুল্লাহ (রহ.) বলেন যে, ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি আবূ বকর (রাঃ)-এর ইমামতের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বারবার আপত্তি করেছি। আর আমার তাঁর কাছে বারবার আপত্তি করার কারণ ছিল এই, আমার অন্তরে এ কথা আসেনি যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে তাঁর স্থলে কেউ দাঁড়ালে লোকেরা তাকে পছন্দ করবে। বরং আমি মনে করতাম যে, কেউ তাঁর স্থলে দাঁড়ালে লোকেরা তাঁর প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করবে, তাই আমি ইচ্ছা করলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দায়িত্ব আবূ বকর (রাঃ)-এর পরিবর্তে অন্য কাউকে প্রদান করুন। আবূ ‘আবদুল্লাহ বুখারী (রহ.) বলেন, এ হাদীস ইবনু ‘উমার, আবূ মূসা ও ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। [১৯৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৯৫)
হাদিস নং: ৪৪৪৬ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف حدثنا الليث قال حدثني ابن الهاد عن عبد الرحمن بن القاسم عن ابيه عن عاىشة قالت مات النبي صلى الله عليه وسلم وانه لبين حاقنتي وذاقنتي فلا اكره شدة الموت لاحد ابدا بعد النبي صلى الله عليه وسلم
৪৪৪৬. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করার সময় আমার বুক ও থুতনির মাঝে ছিলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (মৃত্যু-যন্ত্রণার) পর আমি আর কারো জন্য মৃত্যু-যন্ত্রণাকে খারাপ মনে করি না। [৮৯০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৯৬)
হাদিস নং: ৪৪৪৭ সহিহ (Sahih)
اسحاق اخبرنا بشر بن شعيب بن ابي حمزة قال حدثني ابي عن الزهري قال اخبرني عبد الله بن كعب بن مالك الانصاري وكان كعب بن مالك احد الثلاثة الذين تيب عليهم ان عبد الله بن عباس اخبره ان علي بن ابي طالب رضي الله عنه خرج من عند رسول الله في وجعه الذي توفي فيه فقال الناس يا ابا حسن كيف اصبح رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال اصبح بحمد الله بارىا فاخذ بيده عباس بن عبد المطلب فقال له انت والله بعد ثلاث عبد العصا واني والله لارى رسول الله صلى الله عليه وسلم سوف يتوفى من وجعه هذا اني لاعرف وجوه بني عبد المطلب عند الموت اذهب بنا الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فلنساله فيمن هذا الامر ان كان فينا علمنا ذلك وان كان في غيرنا علمناه فاوصى بنا فقال علي انا والله لىن سالناها رسول الله صلى الله عليه وسلم فمنعناها لا يعطيناها الناس بعده واني والله لا اسالها رسول الله صلى الله عليه وسلم
৪৪৪৭. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ হতে বের হয়ে আসেন যখন তিনি মৃত্যুরোগে আক্রান্ত ছিলেন। তখন সাহাবীগণ তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আবুল হাসান! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজ কেমন আছেন? তিনি বললেন, আল্-হাম্দুলিল্লাহ, তিনি কিছুটা সুস্থ।  তখন ‘আব্বাস  ইবনু ‘আবদুল  মুত্তালিব (রাঃ) তাঁর  হাত  ধরে তাঁকে বললেন, আল্লাহর কসম! তুমি তিন দিন পরে হবে লাঠির দাস।[1] আল্লাহর শপথ! আমি মনে করি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই রোগে অচিরেই ইনতিকাল করবেন। কারণ, আমি আবদুল মুত্তালিবের বংশের অনেকের মৃত্যুকালীন অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছি। চল যাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করি যে, তিনি (নেতৃত্বের) দায়িত্ব কার উপর ন্যস্ত করে যাচ্ছেন। যদি আমাদের মধ্যে থাকে তো তা আমরা জানব। আর যদি আমাদের ব্যতীত অন্যদের উপর ন্যস্ত করে যান, তাহলে তাও আমরা জানতে পারব এবং তিনি অসীয়াত করে যাবেন। তখন ‘আলী (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! যদি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমরা জিজ্ঞেস করি আর তিনি আমাদের নিষেধ করে দেন, তবে তারপরে লোকেরা আর আমাদের তা প্রদান করবে না। আল্লাহর কসম! আমি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করব না। [৬২৬৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৯৭)
নোট: [1] অর্থাৎ তুমি অন্যের (আল্লাহর) অধীনস্থ হবে। অর্থাৎ তিনি তিনদিন পর মৃত্যুবরণ করলে তার কোন কর্তৃত্ব চলবে না বরং তারই উপর কর্তৃত্ব করা হবে। এ উদ্দেশ্যেই উপরোক্ত কথাটি বলা হয়েছে। ইবনু হাজার আসকালানী তার ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করেন যে, এই উক্তি থেকে ‘আববাস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) এর তীক্ষ্ণ বিচক্ষণতার পরিচয় পাওয়া যায়।
হাদিস নং: ৪৪৪৮ সহিহ (Sahih)
سعيد بن عفير قال حدثني الليث قال حدثني عقيل عن ابن شهاب قال حدثني انس بن مالك رضي الله عنه ان المسلمين بينا هم في صلاة الفجر من يوم الاثنين وابو بكر يصلي لهم لم يفجاهم الا رسول الله صلى الله عليه وسلم قد كشف ستر حجرة عاىشة فنظر اليهم وهم في صفوف الصلاة ثم تبسم يضحك فنكص ابو بكر على عقبيه ليصل الصف وظن ان رسول الله صلى الله عليه وسلم يريد ان يخرج الى الصلاة فقال انس وهم المسلمون ان يفتتنوا في صلاتهم فرحا برسول الله صلى الله عليه وسلم فاشار اليهم بيده رسول الله صلى الله عليه وسلم ان اتموا صلاتكم ثم دخل الحجرة وارخى الستر.
৪৪৪৮. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। সোমবারে সাহাবীগণ ফজরের সালাতে ছিলেন। আর আবূ বকর (রাঃ) তাদের সালাতের ইমামত করছিলেন। হঠাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর হুজরার পর্দা উঠিয়ে তাদের দিকে দেখলেন। সাহাবীগণ কাতারবন্দী অবস্থায় সালাতে ছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসি দিলেন। আবূ বকর (রাঃ) মুক্তাদীর সারিতে পিছিয়ে আসতে মনস্থ করলেন। তিনি ধারণা করেছিলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে সালাত আদায়ের জন্য বের হওয়ার ইচ্ছা করছেন। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (আগমনের) আনন্দে সাহাবীগণের সালাত ভঙ্গের উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতের ইশারায় তাদের সালাত পূর্ণ করতে বললেন। তারপর তিনি হুজরায় প্রবেশ করলেন ও পর্দা টেনে দিলেন। [৬৮০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৯৮)
হাদিস নং: ৪৪৪৯ সহিহ (Sahih)
محمد بن عبيد حدثنا عيسى بن يونس عن عمر بن سعيد قال اخبرني ابن ابي مليكة ان ابا عمرو ذكوان مولى عاىشة اخبره ان عاىشة كانت تقول ان من نعم الله علي ان رسول الله صلى الله عليه وسلم توفي في بيتي وفي يومي وبين سحري ونحري وان الله جمع بين ريقي وريقه عند موته دخل علي عبد الرحمن وبيده السواك وانا مسندة رسول الله صلى الله عليه وسلم فرايته ينظر اليه وعرفت انه يحب السواك فقلت اخذه لك فاشار براسه ان نعم فتناولته فاشتد عليه وقلت الينه لك فاشار براسه ان نعم فلينته فامره وبين يديه ركوة او علبة يشك عمر فيها ماء فجعل يدخل يديه في الماء فيمسح بهما وجهه يقول لا اله الا الله ان للموت سكرات ثم نصب يده فجعل يقول في الرفيق الاعلى حتى قبض ومالت يده
৪৪৪৯. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি প্রায়ই বলতেন, আমার প্রতি আল্লাহর এটা নি‘য়ামাত যে, আমার ঘরে, আমার পালার দিনে এবং আমার গন্ড ও সিনার মাঝে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকাল হয় এবং আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ইন্তিকালের সময় আমার থুথু তাঁর থুথুর সঙ্গে মিশ্রিত করে দেন। এ সময় ‘আবদুর রহমান [1] (রাঃ) আমার নিকট প্রবেশ করে এবং তার হাতে মিসওয়াক ছিল। আর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (আমার বুকে) হেলান অবস্থায় রেখেছিলাম। আমি লক্ষ্য করলাম যে, তিনি ‘আবদুর রহমানের দিকে তাকাচ্ছেন। আমি বুঝলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিসওয়াক চাচ্ছেন। আমি তখন জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি আপনার জন্য মিসওয়াক নিব? তিনি মাথা নাড়িয়ে জানালেন যে, হ্যাঁ। তখন আমি মিসওয়াকটি নিলাম। কিন্তু মিসওয়াক ছিল তার জন্য শক্ত, তাই আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি এটি আপনার জন্য নরম করে দিব? তখন তিনি মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বললেন। তখন আমি তা চিবিয়ে নরম করে দিলাম। এরপর তিনি ভালভাবে মিসওয়াক করলেন। তাঁর সম্মুখে পাত্র অথবা পেয়ালা ছিল (রাবী ‘উমারের সন্দেহ) তাতে পানি ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় হস্তদ্বয় পানির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে তার দ্বারা তাঁর চেহারা মুছতে লাগলেন। তিনি বলছিলেন ........ -আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই, সত্যিই মৃত্যু-যন্ত্রণা কঠিন। তারপর দু’ হাত উপরের দিকে উঠিয়ে বলছিলেন, আমি উচ্চে সমাসীন। বন্ধুর সঙ্গে (মিলিত হতে চাই)। এ অবস্থায় তাঁর ইন্তিকাল হল আর হাত শিথিল হয়ে গেল। [৮৯০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৯৯)
নোট: [1] ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর ভাই।
হাদিস নং: ৪৪৫০ সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني سليمان بن بلال حدثنا هشام بن عروة اخبرني ابي عن عاىشة رضي الله عنها ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يسال في مرضه الذي مات فيه يقول اين انا غدا اين انا غدا يريد يوم عاىشة فاذن له ازواجه يكون حيث شاء فكان في بيت عاىشة حتى مات عندها قالت عاىشة فمات في اليوم الذي كان يدور علي فيه في بيتي فقبضه الله وان راسه لبين نحري وسحري وخالط ريقه ريقي ثم قالت دخل عبد الرحمن بن ابي بكر ومعه سواك يستن به فنظر اليه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت له اعطني هذا السواك يا عبد الرحمن فاعطانيه فقضمته ثم مضغته فاعطيته رسول الله فاستن به وهو مستند الى صدري.
৪৪৫০. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। মৃত্যু রোগকালীন অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করতেন, আমি আগামীকাল কার ঘরে থাকব। আগামীকাল কার ঘরে? এর দ্বারা তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর ঘরের পালার ইচ্ছা পোষণ করতেন। সহধর্মিণীগণ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যার ঘরে ইচ্ছা অবস্থান করার অনুমতি দিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর ঘরে ছিলেন। এমনকি তাঁর ঘরেই তিনি ইন্তিকাল করেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য নির্ধারিত পালার দিন আমার ঘরে ইন্তিকাল করেন এবং আল্লাহ তাঁর রূহ কবজ করেন এ অবস্থায় যে, তাঁর মাথা আমার গন্ড ও সীনার মধ্যে ছিল এবং আমার থুথু (তাঁর থুথুর সঙ্গে) মিশ্রিত হয়ে যায়। তারপর তিনি বলেন, ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ) তাঁর ঘরে প্রবেশ করল আর তার হাতে একটি মিসওয়াক ছিল যা দিয়ে সে তার দাঁত মাজছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকালেন। আমি তখন তাকে বললাম, হে ‘আবদুর রহমান! এই মিসওয়াকটি আমাকে দাও; তখন সে আমাকে তা দিয়ে দিল। আমি সেটি চিবিয়ে নরম করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দিলাম। তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করলেন, তিনি তখন আমার বুকে হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন। [৮৯০; মুসলিম ৪৪/১৩, হাঃ ২৪৪৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১০০)
হাদিস নং: ৪৪৫১ সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب حدثنا حماد بن زيد عن ايوب عن ابن ابي مليكة عن عاىشة رضي الله عنها قالت توفي النبي صلى الله عليه وسلم في بيتي وفي يومي وبين سحري ونحري وكانت احدانا تعوذه بدعاء اذا مرض فذهبت اعوذه فرفع راسه الى السماء وقال في الرفيق الاعلى في الرفيق الاعلى ومر عبد الرحمن بن ابي بكر وفي يده جريدة رطبة فنظر اليه النبي صلى الله عليه وسلم فظننت ان له بها حاجة فاخذتها فمضغت راسها ونفضتها فدفعتها اليه فاستن بها كاحسن ما كان مستنا ثم ناولنيها فسقطت يده او سقطت من يده فجمع الله بين ريقي وريقه في اخر يوم من الدنيا واول يوم من الاخرة.
৪৪৫১. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে আমার পালার দিনে এবং আমার গন্ড ও সীনার মধ্যস্থলে থাকা অবস্থায় ইন্তিকাল করেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হলে আমাদের মধ্যকার কেউ দু‘আ পড়ে তাঁকে ঝাড়ফুঁক করতেন। আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঝাড়ফুঁক করার জন্য তাঁর কাছে গেলাম। তখন তিনি তাঁর মাথা আকাশের দিকে উঠিয়ে বললেন, উচ্চে সমাসীন বন্ধুর সঙ্গে (মিলিত হতে চাই), উচ্চে সমাসীন মহান বন্ধুর সঙ্গে (মিলিত হতে চাই)। এ সময় আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ) আগমন করলেন। তাঁর হাতে মিসওয়াকের একটি তাজা ডাল ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সেদিকে তাকালেন। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, তাঁর [নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর মিসওয়াকের প্রয়োজন। তখন আমি সেটি নিয়ে চিবালাম, ঝেড়ে মুছে পরিষ্কার করলাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তা দিলাম। তখন তিনি এর দ্বারা এত সুন্দরভাবে দাঁত পরিষ্কার করলেন যে, এর আগে কখনও এরূপ করেননি। তারপর তা আমাকে দিলেন। এরপর তাঁর হাত ঢলে পড়ল অথবা রাবী বলেন, তাঁর হাত থেকে ঢলে পড়ল। আল্লাহ তা‘আলা আমার থুথুকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর থুথুর সঙ্গে মিলিয়ে দিলেন। তার এ দুনিয়ার শেষ দিনে এবং আখিরাতের প্রথম দিনে। [৮৯০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১০১)
হাদিস নং: ৪৪৫২ সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب قال اخبرني ابو سلمة ان عاىشة اخبرته ان ابا بكر رضي الله عنه اقبل على فرس من مسكنه بالسنح حتى نزل فدخل المسجد فلم يكلم الناس حتى دخل على عاىشة فتيمم رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو مغشى بثوب حبرة فكشف عن وجهه ثم اكب عليه فقبله وبكى ثم قال بابي انت وامي والله لا يجمع الله عليك موتتين اما الموتة التي كتبت عليك فقد متها.
৪৪৫২-৪৪৫৩. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ) ঘোড়ার উপর সওয়ার হয়ে তার সুনহের বাড়ি থেকে আগমন করেন। ঘোড়া থেকে অবতরণ করে তিনি মসজিদে নাববীতে প্রবেশ করেন কিন্তু কারো সঙ্গে কোন কথা না বলে ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে উপস্থিত হন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামানী চাদর দ্বারা আবৃত ছিলেন। তখন তিনি চেহারা হতে কাপড় হটিয়ে তাঁর উপর ঝুঁকে পড়লেন এবং তাঁকে চুমু দিলেন ও কেঁদে ফেললেন। তারপর বললেন, আমার মাতাপিতা আপনার প্রতি কুরবান হোক! আল্লাহর কসম! আল্লাহ তো আপনাকে দু’বার মৃত্যু দিবেন না, যে মৃত্যু ছিল আপনার জন্য নির্ধারিত সে মৃত্যু আপনি গ্রহণ করে নিলেন। [১২৪১, ১২৪২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১০২)
হাদিস নং: ৪৪৫৩ সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب قال اخبرني ابو سلمة ان عاىشة اخبرته ان ابا بكر رضي الله عنه اقبل على فرس من مسكنه بالسنح حتى نزل فدخل المسجد فلم يكلم الناس حتى دخل على عاىشة فتيمم رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو مغشى بثوب حبرة فكشف عن وجهه ثم اكب عليه فقبله وبكى ثم قال بابي انت وامي والله لا يجمع الله عليك موتتين اما الموتة التي كتبت عليك فقد متها.
৪৪৫২-৪৪৫৩. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ) ঘোড়ার উপর সওয়ার হয়ে তার সুনহের বাড়ি থেকে আগমন করেন। ঘোড়া থেকে অবতরণ করে তিনি মসজিদে নাববীতে প্রবেশ করেন কিন্তু কারো সঙ্গে কোন কথা না বলে ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে উপস্থিত হন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামানী চাদর দ্বারা আবৃত ছিলেন। তখন তিনি চেহারা হতে কাপড় হটিয়ে তাঁর উপর ঝুঁকে পড়লেন এবং তাঁকে চুমু দিলেন ও কেঁদে ফেললেন। তারপর বললেন, আমার মাতাপিতা আপনার প্রতি কুরবান হোক! আল্লাহর কসম! আল্লাহ তো আপনাকে দু’বার মৃত্যু দিবেন না, যে মৃত্যু ছিল আপনার জন্য নির্ধারিত সে মৃত্যু আপনি গ্রহণ করে নিলেন। [১২৪১, ১২৪২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১০২)
অধ্যায় তালিকা