অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৬৪/১. ‘উশায়রাহ বা ‘উসাইরাহর যুদ্ধ।
মোট ৫২৫ টি হাদিস
হাদিস নং: ৪২৩৪ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا معاوية بن عمرو حدثنا ابو اسحاق عن مالك بن انس قال حدثني ثور قال حدثني سالم مولى ابن مطيع انه سمع ابا هريرة رضي الله عنه يقول افتتحنا خيبر ولم نغنم ذهبا ولا فضة انما غنمنا البقر والابل والمتاع والحواىط ثم انصرفنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم الى وادي القرى ومعه عبد له يقال له مدعم اهداه له احد بني الضباب فبينما هو يحط رحل رسول الله صلى الله عليه وسلم اذ جاءه سهم عاىر حتى اصاب ذلك العبد فقال الناس هنيىا له الشهادة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم بل والذي نفسي بيده ان الشملة التي اصابها يوم خيبر من المغانم لم تصبها المقاسم لتشتعل عليه نارا فجاء رجل حين سمع ذلك من النبي صلى الله عليه وسلم بشراك او بشراكين فقال هذا شيء كنت اصبته فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم شراك او شراكان من نار.
৪২৩৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাইবার যুদ্ধে আমরা জয়ী হয়েছি কিন্তু গানীমাত হিসেবে আমরা সোনা, রুপা কিছুই পাইনি। আমরা গানীমাত হিসেবে পেয়েছিলাম গরু, উট, বিভিন্ন দ্রব্য-সামগ্রী এবং ফলের বাগান। (যুদ্ধ শেষে) আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ওয়াদিউল কুরা পর্যন্ত ফিরে এলাম। তাঁর [নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম] সঙ্গে ছিল মিদআম নামে তাঁর একটি গোলাম। বানী যিবাব (রাঃ)-এর এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এটি হাদিয়া দিয়েছিল। এক সময়ে সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাওদা নামানোর কাজে ব্যস্ত ছিল ঠিক সেই মুহূর্তে অজ্ঞাত একটি তীর ছুটে এসে তার গায়ে পড়ল। তাতে গোলামটি মারা গেল। তখন লোকেরা বলতে লাগল, কী আনন্দদায়ক তার এ শাহাদাত! তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আচ্ছা? সেই মহান সত্তার কসম! তাঁর হাতে আমার প্রাণ, বণ্টনের আগে খাইবারের গানীমাত থেকে যে চাদরখানা তুলে নিয়েছিল সেটি আগুন হয়ে অবশ্যই তাকে দগ্ধ করবে। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ কথা শুনে আরেক লোক একটি অথবা দু’টি জুতার ফিতা নিয়ে এসে বলল, এ জিনিসটি আমি বণ্টনের আগেই নিয়েছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ একটি অথবা দু’টি ফিতাও হয়ে যেত আগুনের (ফিতা)।[1] [৬৭০৭; মুসলিম ১/৪৯, হাঃ ১১৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯১২)
নোট: [1] গানীমাতের মাল সব একত্র করা হবে এবং সেখান থেকে বণ্টন করা হবে। বণ্টিত ব্যতীত গানীমাতের কোন মাল হস্তগত করা বা চুরি করা মারাত্মক রকমের খিয়ানাত। কুরআন মাজীদের সূরা আলু ‘ইমরানের ১৬১ আয়াতে এ ব্যাপারে হুশিয়ারী উচ্চারণ করে যা বলা হয়েছে অত্র হাদীসটি তারই ব্যাখ্যা স্বরূপ।
হাদিস নং: ৪২৩৫ সহিহ (Sahih)
سعيد بن ابي مريم اخبرنا محمد بن جعفر قال اخبرني زيد عن ابيه انه سمع عمر بن الخطاب رضي الله عنه يقول اما والذي نفسي بيده لولا ان اترك اخر الناس ببانا ليس لهم شيء ما فتحت علي قرية الا قسمتها كما قسم النبي صلى الله عليه وسلم خيبر ولكني اتركها خزانة لهم يقتسمونها.
৪২৩৫. ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মনে রেখ! সেই সত্তার কসম! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, যদি পরবর্তী বংশধরদের নিঃস্ব ও রিক্ত-হস্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকত তা হলে আমি আমার সকল বিজিত এলাকা ঐভাবে বণ্টন করে দিতাম যেভাবে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবার বণ্টন করে দিয়েছিলেন। কিন্তু আমি তা তাদের জন্য গচ্ছিত রেখে যাচ্ছি যেন পরবর্তী বংশধরগণ তা নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নিতে পারে। [২৩৩৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯১৩)
হাদিস নং: ৪২৩৬ সহিহ (Sahih)
محمد بن المثنى حدثنا ابن مهدي عن مالك بن انس عن زيد بن اسلم عن ابيه عن عمر رضي الله عنه قال لولا اخر المسلمين ما فتحت عليهم قرية الا قسمتها كما قسم النبي صلى الله عليه وسلم خيبر.
৪২৩৬. ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, পরবর্তী মুসলিমদের উপর আমার আশঙ্কা না থাকলে আমি তাদের (মুজাহিদগণের) বিজিত এলাকাগুলো তাঁদের মধ্যে সেভাবে বণ্টন করে দিতাম যেভাবে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবার বণ্টন করে দিয়েছিলেন। [২৩৩৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯১৪)
হাদিস নং: ৪২৩৭ সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا سفيان قال سمعت الزهري وساله اسماعيل بن امية قال اخبرني عنبسة بن سعيد ان ابا هريرة رضي الله عنه اتى النبي صلى الله عليه وسلم فساله قال له بعض بني سعيد بن العاص لا تعطه فقال ابو هريرة هذا قاتل ابن قوقل فقال وا عجباه لوبر تدلى من قدوم الضان
৪২৩৭. আমবাসা ইবনু সা‘ঈদ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে (খাইবার যুদ্ধের গানীমাতের) অংশ চাইলেন। তখন বনূ সা‘ঈদ ইবনু আস গোত্রের জনৈক ব্যক্তি বলে উঠল, না, তাকে (অংশ) দিবেন না। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বললেন, এ লোক তো ইবনু কাওকালের হত্যাকারী। কথাটি শুনে সে ব্যক্তি বলল, পাহাড়ের চূড়া থেকে লাফিয়ে পড়া (উড়ে এসে জুড়ে বসা) বুনো বিড়ালের কথায় আশ্চর্যবোধ করছি। [২৮২৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯১৫ প্রথমাংশ)
হাদিস নং: ৪২৩৮ সহিহ (Sahih)
ويذكر عن الزبيدي عن الزهري قال اخبرني عنبسة بن سعيد انه سمع ابا هريرة يخبر سعيد بن العاص قال بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم ابان على سرية من المدينة قبل نجد قال ابو هريرة فقدم ابان واصحابه على النبي صلى الله عليه وسلم بخيبر بعد ما افتتحها وان حزم خيلهم لليف قال ابو هريرة قلت يا رسول الله لا تقسم لهم قال ابان وانت بهذا يا وبر تحدر من راس ضان فقال النبي صلى الله عليه وسلم يا ابان اجلس فلم يقسم لهم. قال ابو عبد الله الضال : السدر.
৪২৩৮. যুবাইদী-যুহরী-‘আমবাসাহ ইবনু সা‘ঈদ (রহ.)-আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি সা‘ঈদ ইবনু আস (রাঃ)-কে সংবাদ দিচ্ছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবান [ইবনু সা‘ঈদ (রাঃ)]-এর নেতৃত্বে একটি সৈন্যদল মদিনা থেকে নাজদের দিকে পাঠিয়েছিলেন। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবার বিজয়ের পর সেখানে অবস্থানকালে আবান (রাঃ) ও তাঁর সঙ্গীগণ সেখানে এসে তাঁর [নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর] সঙ্গে মিলিত হলেন। তাদের ঘোড়াগুলোর লাগাম ছিল খেজুরের ছালের তৈরি। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেনঃ আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তাদেরকে কোন অংশ দিবেন না। তখন আবান (রাঃ) বললেন, পাহাড়ের চূড়া থেকে লাফিয়ে পড়া বুনো বিড়াল, তোমাকেই দেয়া হবে না। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবান! বস। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে (আবান ও তার সঙ্গীদেরকে) অংশ দিলেন না। [২৮২৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯১৫)
হাদিস নং: ৪২৩৯ সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا عمرو بن يحيى بن سعيد قال اخبرني جدي ان ابان بن سعيد اقبل الى النبي صلى الله عليه وسلم فسلم عليه فقال ابو هريرة يا رسول الله هذا قاتل ابن قوقل وقال ابان لابي هريرة واعجبا لك وبر تدادا من قدوم ضان ينعى علي امرا اكرمه الله بيدي ومنعه ان يهينني بيده.
৪২৩৯. ‘আমর ইবনু ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা‘ঈদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার দাদা [সা‘ঈদ ইবনু আমর ইবনু সা‘ঈদ ইবনুল আস (রাঃ)] আমাকে জানিয়েছেন যে, আবান ইবনু সা‘ঈদ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সালাম দিলেন। তখন আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ তো ইবনু কাওকাল (রাঃ)-এর হত্যাকারী! তখন আবান (রাঃ) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-কে বললেন, দান পর্বতের চূড়া থেকে হঠাৎ নেমে আসা বুনো বিড়ালের কথায় আশ্চর্য হচ্ছি! সে এমন এক লোকের ব্যাপারে আমাকে দোষারোপ করছে যাকে আল্লাহ আমার হাত দিয়ে সম্মানিত করেছেন (শাহাদাত দান করেছেন)। আর তাঁর হাত দিয়ে লাঞ্ছিত হওয়া থেকে আমাকে রক্ষা করেছেন।[1] [২৮২৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯১৬)
নোট: [1] কারণ উহূদের যুদ্ধের সময় তিনি কাফির হয়ে মারা গেলে চিরকাল তাকে জাহান্নামে লাঞ্ছিত হয়ে থাকতে হত।
হাদিস নং: ৪২৪০ সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب عن عروة عن عاىشة ان فاطمة عليها السلام بنت النبي صلى الله عليه وسلم ارسلت الى ابي بكر تساله ميراثها من رسول الله صلى الله عليه وسلم مما افاء الله عليه بالمدينة وفدك وما بقي من خمس خيبر فقال ابو بكر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا نورث ما تركنا صدقة انما ياكل ال محمد في هذا المال واني والله لا اغير شيىا من صدقة رسول الله صلى الله عليه وسلم عن حالها التي كان عليها في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم ولاعملن فيها بما عمل به رسول الله صلى الله عليه وسلم فابى ابو بكر ان يدفع الى فاطمة منها شيىا فوجدت فاطمة على ابي بكر في ذلك فهجرته فلم تكلمه حتى توفيت وعاشت بعد النبي صلى الله عليه وسلم ستة اشهر فلما توفيت دفنها زوجها علي ليلا ولم يوذن بها ابا بكر وصلى عليها وكان لعلي من الناس وجه حياة فاطمة فلما توفيت استنكر علي وجوه الناس فالتمس مصالحة ابي بكر ومبايعته ولم يكن يبايع تلك الاشهر فارسل الى ابي بكر ان اىتنا ولا ياتنا احد معك كراهية لمحضر عمر فقال عمر لا والله لا تدخل عليهم وحدك فقال ابو بكر وما عسيتهم ان يفعلوا بي والله لاتينهم فدخل عليهم ابو بكر فتشهد علي فقال انا قد عرفنا فضلك وما اعطاك الله ولم ننفس عليك خيرا ساقه الله اليك ولكنك استبددت علينا بالامر وكنا نرى لقرابتنا من رسول الله صلى الله عليه وسلم نصيبا حتى فاضت عينا ابي بكر فلما تكلم ابو بكر قال والذي نفسي بيده لقرابة رسول الله صلى الله عليه وسلم احب الي ان اصل من قرابتي واما الذي شجر بيني وبينكم من هذه الاموال فلم ال فيها عن الخير ولم اترك امرا رايت رسول الله يصنعه فيها الا صنعته فقال علي لابي بكر موعدك العشية للبيعة فلما صلى ابو بكر الظهر رقي على المنبر فتشهد وذكر شان علي وتخلفه عن البيعة وعذره بالذي اعتذر اليه ثم استغفر وتشهد علي فعظم حق ابي بكر وحدث انه لم يحمله على الذي صنع نفاسة على ابي بكر ولا انكارا للذي فضله الله به ولكنا نرى لنا في هذا الامر نصيبا فاستبد علينا فوجدنا في انفسنا فسر بذلك المسلمون وقالوا اصبت وكان المسلمون الى علي قريبا حين راجع الامر المعروف.
৪২৪০-৪২৪১. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতেমাহ (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ)-এর নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিত্যক্ত সম্পত্তি মদিনা্ ও ফাদাক-এ অবস্থিত ফাই (বিনা যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ) এবং খাইবারের খুমুসের (পঞ্চমাংশ) অবশিষ্ট থেকে মিরাসী স্বত্ব চেয়ে পাঠালেন। তখন আবূ বকর (রাঃ) উত্তরে বললেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গেছেন, আমাদের (নবীদের) কোন ওয়ারিশ হয় না, আমরা যা ছেড়ে যাব তা সাদাকা হিসেবে গণ্য হবে। অবশ্য মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধরগণ এ সম্পত্তি থেকে ভরণ-পোষণ চালাতে পারবেন। আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাদাকা তাঁর জীবদ্দশায় যে অবস্থায় ছিল আমি সে অবস্থা থেকে এতটুকুও পরিবর্তন করব না। এ ব্যাপারে তিনি যেভাবে ব্যবহার করে গেছেন আমিও ঠিক সেভাবেই ব্যবহার করব। এ কথা বলে আবূ বকর (রাঃ) ফাতেমাহ (রাঃ)-কে এ সম্পদ থেকে কিছু দিতে অস্বীকার করলেন। এতে ফাতিমাহ (রাঃ) (মানবোচিত কারণে) আবূ বকর (রাঃ)-এর উপর নাখোশ হলেন এবং তাঁর থেকে সম্পর্কহীন থাকলেন। তাঁর মৃত্যু অবধি তিনি আবূ বকর (রাঃ)-এর সঙ্গে কথা বলেননি। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর তিনি ছয় মাস জীবিত ছিলেন। তিনি ইন্তিকাল করলে তাঁর স্বামী ‘আলী (রাঃ) রাতের বেলা তাঁকে দাফন করেন। আবূ বকর (রাঃ)-কেও এ খবর দিলেন না এবং তিনি তার জানাযার সালাত আদায় করে নেন।[1] ফাতেমাহ (রাঃ)-এর জীবিত অবস্থায় লোকজনের মনে ‘আলী (রাঃ)-এর মর্যাদা ছিল। ফাতিমাহ (রাঃ) ইন্তিকাল করলে ‘আলী (রাঃ) লোকজনের চেহারায় অসন্তুষ্টির চিহ্ন দেখতে পেলেন। তাই তিনি আবূ বকর (রাঃ)-এর সঙ্গে সমঝোতা ও তাঁর কাছে বাইআতের ইচ্ছা করলেন। এ ছয় মাসে তাঁর পক্ষে বাই‘আত গ্রহণের সুযোগ হয়নি। তাই তিনি আবূ বকর (রাঃ)-এর কাছে লোক পাঠিয়ে জানালেন যে, আপনি আমার কাছে আসুন। (এটা জানতে পেরে) ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আপনি একা একা তাঁর কাছে যাবেন না। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, তাঁরা আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করবে বলে তোমরা আশঙ্কা করছ? আল্লাহর কসম! আমি তাঁদের কাছে যাব। তারপর আবূ বকর (রাঃ) তাঁদের কাছে গেলেন। ‘আলী (রাঃ) তাশাহ্হুদ পাঠ করে বললেন, আমরা আপনার মর্যাদা এবং আল্লাহ আপনাকে যা কিছু দান করেছেন সে সম্পর্কে ওয়াকেবহাল। আর যে কল্যাণ (অর্থাৎ খিলাফাত) আল্লাহ আপনাকে দান করেছেন সে ব্যাপারেও আমরা আপনার উপর হিংসা পোষণ করি না। তবে খিলাফাতের ব্যাপারে আপনি আমাদের উপর নিজস্ব মতামতের প্রাধান্য দিচ্ছেন অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটাত্মীয় হিসেবে খিলাফাতের কাজে আমাদেরও কিছু পরামর্শ দেয়ার অধিকার আছে। এ কথায় আবূ বকর (রাঃ)-এর চোখ থেকে অশ্রু উপচে পড়ল। এরপর তিনি যখন আলোচনা আরম্ভ করলেন তখন বললেন, সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমার কাছে আমার নিকটাত্মীয় চেয়েও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আত্মীয়বর্গ অধিক প্রিয়। আর এ সম্পদগুলোতে আমার এবং আপনাদের মধ্যে যে মতবিরোধ হয়েছে সে ব্যাপারেও আমি কল্যাণকর পথ অনুসরণে পিছপা হইনি। বরং এ ক্ষেত্রেও আমি কোন কাজ পরিত্যাগ করিনি যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে করতে দেখেছি। তারপর ‘আলী (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ)-কে বললেনঃ যুহরের পর আপনার হাতে বাই‘আত গ্রহণের ওয়াদা রইল। যুহরের সালাত আদায়ের পর আবূ বকর (রাঃ) মিম্বারে বসে তাশাহ্হুদ পাঠ করলেন, তারপর ‘আলী (রাঃ)-এর বর্তমান অবস্থা এবং বাই‘আত গ্রহণে তার দেরি করার কারণ ও তাঁর পেশকৃত আপত্তিগুলো তিনি বর্ণনা করলেন। এরপর ‘আলী (রাঃ) দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তাশাহ্হুদ পাঠ করলেন এবং আবূ বকর (রাঃ)-এর মর্যাদার কথা উল্লেখ করে বললেন, তিনি যা কিছু করেছেন তা আবূ বকর (রাঃ)-এর প্রতি হিংসা কিংবা আল্লাহ প্রদত্ত তাঁর মর্যাদাকে অস্বীকার করার জন্য করেননি। (তিনি বলেন) তবে আমরা ভেবেছিলাম যে, এ ব্যাপারে আমাদেরও পরামর্শ দেয়ার অধিকার থাকবে। অথচ তিনি [আবূ বকর (রাঃ)] আমাদের পরামর্শ ত্যাগ করে স্বাধীন মতের উপর রয়ে গেছেন। তাই আমরা মানসিক কষ্ট পেয়েছিলাম। মুসলিমগণ আনন্দিত হয়ে বললেন, আপনি ঠিকই করেছেন। এরপর ‘আলী (রাঃ) আমর বিল মা‘রূফ-এর পানে ফিরে আসার কারণে মুসলিমগণ আবার তাঁর নিকটবর্তী হতে শুরু করলেন। [৩০৯২, ৩০৯৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯১৭)
নোট: [1] ফাতিমাহ (রাঃ) মৃত্যুর পূর্বে ওয়াসিয়াত করেন যে, তার মৃত্যু হলে যেন অনতিবিলম্বে দাফন করা হয়। লোকজন ডাকাডাকি করলে তাতে পর্দার ব্যাঘাত ঘটবে, সেজন্য ‘আলী (রাঃ) রাতের ভিতরেই সব কাজ সমাধা করেছেন।
হাদিস নং: ৪২৪১ সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب عن عروة عن عاىشة ان فاطمة عليها السلام بنت النبي صلى الله عليه وسلم ارسلت الى ابي بكر تساله ميراثها من رسول الله صلى الله عليه وسلم مما افاء الله عليه بالمدينة وفدك وما بقي من خمس خيبر فقال ابو بكر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا نورث ما تركنا صدقة انما ياكل ال محمد في هذا المال واني والله لا اغير شيىا من صدقة رسول الله صلى الله عليه وسلم عن حالها التي كان عليها في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم ولاعملن فيها بما عمل به رسول الله صلى الله عليه وسلم فابى ابو بكر ان يدفع الى فاطمة منها شيىا فوجدت فاطمة على ابي بكر في ذلك فهجرته فلم تكلمه حتى توفيت وعاشت بعد النبي صلى الله عليه وسلم ستة اشهر فلما توفيت دفنها زوجها علي ليلا ولم يوذن بها ابا بكر وصلى عليها وكان لعلي من الناس وجه حياة فاطمة فلما توفيت استنكر علي وجوه الناس فالتمس مصالحة ابي بكر ومبايعته ولم يكن يبايع تلك الاشهر فارسل الى ابي بكر ان اىتنا ولا ياتنا احد معك كراهية لمحضر عمر فقال عمر لا والله لا تدخل عليهم وحدك فقال ابو بكر وما عسيتهم ان يفعلوا بي والله لاتينهم فدخل عليهم ابو بكر فتشهد علي فقال انا قد عرفنا فضلك وما اعطاك الله ولم ننفس عليك خيرا ساقه الله اليك ولكنك استبددت علينا بالامر وكنا نرى لقرابتنا من رسول الله صلى الله عليه وسلم نصيبا حتى فاضت عينا ابي بكر فلما تكلم ابو بكر قال والذي نفسي بيده لقرابة رسول الله صلى الله عليه وسلم احب الي ان اصل من قرابتي واما الذي شجر بيني وبينكم من هذه الاموال فلم ال فيها عن الخير ولم اترك امرا رايت رسول الله يصنعه فيها الا صنعته فقال علي لابي بكر موعدك العشية للبيعة فلما صلى ابو بكر الظهر رقي على المنبر فتشهد وذكر شان علي وتخلفه عن البيعة وعذره بالذي اعتذر اليه ثم استغفر وتشهد علي فعظم حق ابي بكر وحدث انه لم يحمله على الذي صنع نفاسة على ابي بكر ولا انكارا للذي فضله الله به ولكنا نرى لنا في هذا الامر نصيبا فاستبد علينا فوجدنا في انفسنا فسر بذلك المسلمون وقالوا اصبت وكان المسلمون الى علي قريبا حين راجع الامر المعروف.
৪২৪০-৪২৪১. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতেমাহ (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ)-এর নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিত্যক্ত সম্পত্তি মদিনা্ ও ফাদাক-এ অবস্থিত ফাই (বিনা যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ) এবং খাইবারের খুমুসের (পঞ্চমাংশ) অবশিষ্ট থেকে মিরাসী স্বত্ব চেয়ে পাঠালেন। তখন আবূ বকর (রাঃ) উত্তরে বললেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গেছেন, আমাদের (নবীদের) কোন ওয়ারিশ হয় না, আমরা যা ছেড়ে যাব তা সাদাকা হিসেবে গণ্য হবে। অবশ্য মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধরগণ এ সম্পত্তি থেকে ভরণ-পোষণ চালাতে পারবেন। আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাদাকা তাঁর জীবদ্দশায় যে অবস্থায় ছিল আমি সে অবস্থা থেকে এতটুকুও পরিবর্তন করব না। এ ব্যাপারে তিনি যেভাবে ব্যবহার করে গেছেন আমিও ঠিক সেভাবেই ব্যবহার করব। এ কথা বলে আবূ বকর (রাঃ) ফাতেমাহ (রাঃ)-কে এ সম্পদ থেকে কিছু দিতে অস্বীকার করলেন। এতে ফাতিমাহ (রাঃ) (মানবোচিত কারণে) আবূ বকর (রাঃ)-এর উপর নাখোশ হলেন এবং তাঁর থেকে সম্পর্কহীন থাকলেন। তাঁর মৃত্যু অবধি তিনি আবূ বকর (রাঃ)-এর সঙ্গে কথা বলেননি। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর তিনি ছয় মাস জীবিত ছিলেন। তিনি ইন্তিকাল করলে তাঁর স্বামী ‘আলী (রাঃ) রাতের বেলা তাঁকে দাফন করেন। আবূ বকর (রাঃ)-কেও এ খবর দিলেন না এবং তিনি তার জানাযার সালাত আদায় করে নেন।[1] ফাতেমাহ (রাঃ)-এর জীবিত অবস্থায় লোকজনের মনে ‘আলী (রাঃ)-এর মর্যাদা ছিল। ফাতিমাহ (রাঃ) ইন্তিকাল করলে ‘আলী (রাঃ) লোকজনের চেহারায় অসন্তুষ্টির চিহ্ন দেখতে পেলেন। তাই তিনি আবূ বকর (রাঃ)-এর সঙ্গে সমঝোতা ও তাঁর কাছে বাইআতের ইচ্ছা করলেন। এ ছয় মাসে তাঁর পক্ষে বাই‘আত গ্রহণের সুযোগ হয়নি। তাই তিনি আবূ বকর (রাঃ)-এর কাছে লোক পাঠিয়ে জানালেন যে, আপনি আমার কাছে আসুন। (এটা জানতে পেরে) ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আপনি একা একা তাঁর কাছে যাবেন না। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, তাঁরা আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করবে বলে তোমরা আশঙ্কা করছ? আল্লাহর কসম! আমি তাঁদের কাছে যাব। তারপর আবূ বকর (রাঃ) তাঁদের কাছে গেলেন। ‘আলী (রাঃ) তাশাহ্হুদ পাঠ করে বললেন, আমরা আপনার মর্যাদা এবং আল্লাহ আপনাকে যা কিছু দান করেছেন সে সম্পর্কে ওয়াকেবহাল। আর যে কল্যাণ (অর্থাৎ খিলাফাত) আল্লাহ আপনাকে দান করেছেন সে ব্যাপারেও আমরা আপনার উপর হিংসা পোষণ করি না। তবে খিলাফাতের ব্যাপারে আপনি আমাদের উপর নিজস্ব মতামতের প্রাধান্য দিচ্ছেন অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটাত্মীয় হিসেবে খিলাফাতের কাজে আমাদেরও কিছু পরামর্শ দেয়ার অধিকার আছে। এ কথায় আবূ বকর (রাঃ)-এর চোখ থেকে অশ্রু উপচে পড়ল। এরপর তিনি যখন আলোচনা আরম্ভ করলেন তখন বললেন, সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমার কাছে আমার নিকটাত্মীয় চেয়েও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আত্মীয়বর্গ অধিক প্রিয়। আর এ সম্পদগুলোতে আমার এবং আপনাদের মধ্যে যে মতবিরোধ হয়েছে সে ব্যাপারেও আমি কল্যাণকর পথ অনুসরণে পিছপা হইনি। বরং এ ক্ষেত্রেও আমি কোন কাজ পরিত্যাগ করিনি যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে করতে দেখেছি। তারপর ‘আলী (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ)-কে বললেনঃ যুহরের পর আপনার হাতে বাই‘আত গ্রহণের ওয়াদা রইল। যুহরের সালাত আদায়ের পর আবূ বকর (রাঃ) মিম্বারে বসে তাশাহ্হুদ পাঠ করলেন, তারপর ‘আলী (রাঃ)-এর বর্তমান অবস্থা এবং বাই‘আত গ্রহণে তার দেরি করার কারণ ও তাঁর পেশকৃত আপত্তিগুলো তিনি বর্ণনা করলেন। এরপর ‘আলী (রাঃ) দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তাশাহ্হুদ পাঠ করলেন এবং আবূ বকর (রাঃ)-এর মর্যাদার কথা উল্লেখ করে বললেন, তিনি যা কিছু করেছেন তা আবূ বকর (রাঃ)-এর প্রতি হিংসা কিংবা আল্লাহ প্রদত্ত তাঁর মর্যাদাকে অস্বীকার করার জন্য করেননি। (তিনি বলেন) তবে আমরা ভেবেছিলাম যে, এ ব্যাপারে আমাদেরও পরামর্শ দেয়ার অধিকার থাকবে। অথচ তিনি [আবূ বকর (রাঃ)] আমাদের পরামর্শ ত্যাগ করে স্বাধীন মতের উপর রয়ে গেছেন। তাই আমরা মানসিক কষ্ট পেয়েছিলাম। মুসলিমগণ আনন্দিত হয়ে বললেন, আপনি ঠিকই করেছেন। এরপর ‘আলী (রাঃ) আমর বিল মা‘রূফ-এর পানে ফিরে আসার কারণে মুসলিমগণ আবার তাঁর নিকটবর্তী হতে শুরু করলেন। [৩০৯২, ৩০৯৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯১৭)
নোট: [1] ফাতিমাহ (রাঃ) মৃত্যুর পূর্বে ওয়াসিয়াত করেন যে, তার মৃত্যু হলে যেন অনতিবিলম্বে দাফন করা হয়। লোকজন ডাকাডাকি করলে তাতে পর্দার ব্যাঘাত ঘটবে, সেজন্য ‘আলী (রাঃ) রাতের ভিতরেই সব কাজ সমাধা করেছেন।
হাদিস নং: ৪২৪২ সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا حرمي حدثنا شعبة قال اخبرني عمارة عن عكرمة عن عاىشة رضي الله عنها قالت لما فتحت خيبر قلنا الان نشبع من التمر.
৪২৪২. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাইবার বিজয়ের পর আমরা বলাবলি করলাম, এখন আমরা পরিতৃপ্তির সঙ্গে খেজুর খেতে পারব। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯১৮)
হাদিস নং: ৪২৪৩ সহিহ (Sahih)
الحسن حدثنا قرة بن حبيب حدثنا عبد الرحمن بن عبد الله بن دينار عن ابيه عن ابن عمر رضي الله عنهما قال ما شبعنا حتى فتحنا خيبر.
৪২৪৩. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাইবার বিজয় করার পূর্ব পর্যন্ত আমরা তৃপ্ত হয়ে খেতে পাইনি। [1] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯১৯)
নোট: [1] খায়বার বিজয়ের পূর্ব পর্যন্ত নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ পরিবারকে নিয়ে অত্যন্ত দুঃখ কষ্ট সহ্য করেছেন। এমনকি পেট পুরে খাবার মত খেজুরও তাদের ভাগ্যে জোটেনি। ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য সাহাবীগণও অনুরূপ কষ্ট সহ্য করেছিলেন।
হাদিস নং: ৪২৪৪ সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني مالك عن عبد المجيد بن سهيل عن سعيد بن المسيب عن ابي سعيد الخدري وابي هريرة رضي الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم استعمل رجلا على خيبر فجاءه بتمر جنيب فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اكل تمر خيبر هكذا فقال لا والله يا رسول الله انا لناخذ الصاع من هذا بالصاعين بالثلاثة فقال لا تفعل بع الجمع بالدراهم ثم ابتع بالدراهم جنيبا
৪২৪৪-৪২৪৫. আবূ সা‘ঈদ খুদরী ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবারের অধিবাসীদের জন্য এক ব্যক্তিকে প্রশাসক নিয়োগ করলেন। এক সময়ে তিনি উন্নত জাতের কিছু খেজুর নিয়ে আসলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, খাইবারের সব খেজুরই কি এ রকম? প্রশাসক জবাব দিলেন, জ্বী না, আল্লাহর শপথ, হে আল্লাহর রাসূল! তবে আমরা এ রকম খেজুরের এক সা’ সাধারণ খেজুরের দু’ সা’র বদলে কিংবা এ রকম খেজুরের দু’ সা’ সাধারণ খেজুরের তিন সা’র বদলে গ্রহণ করে থাকি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এমন করো না। দিরহামের বদলে সব খেজুর বিক্রি করে দিবে। তারপর দিরহাম দিয়ে উত্তম খেজুর কিনে নিবে।[1] [২২০১, ২২০২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২০ প্রথমাংশ)
নোট: [1] খেজুরের বিনিময়ে খেজুর বেচাকেনা সম পরিমাণে না হলে সুদে পরিণত হয়ে যাবে। যে কোন শস্যের ক্ষেত্রে একই বিধান। তবে অর্থের মাধ্যমে কেনাবেচা করলে হারামে জড়িয়ে পড়ার আশংকা থাকে না।
হাদিস নং: ৪২৪৫ সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني مالك عن عبد المجيد بن سهيل عن سعيد بن المسيب عن ابي سعيد الخدري وابي هريرة رضي الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم استعمل رجلا على خيبر فجاءه بتمر جنيب فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اكل تمر خيبر هكذا فقال لا والله يا رسول الله انا لناخذ الصاع من هذا بالصاعين بالثلاثة فقال لا تفعل بع الجمع بالدراهم ثم ابتع بالدراهم جنيبا
৪২৪৪-৪২৪৫. আবূ সা‘ঈদ খুদরী ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবারের অধিবাসীদের জন্য এক ব্যক্তিকে প্রশাসক নিয়োগ করলেন। এক সময়ে তিনি উন্নত জাতের কিছু খেজুর নিয়ে আসলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, খাইবারের সব খেজুরই কি এ রকম? প্রশাসক জবাব দিলেন, জ্বী না, আল্লাহর শপথ, হে আল্লাহর রাসূল! তবে আমরা এ রকম খেজুরের এক সা’ সাধারণ খেজুরের দু’ সা’র বদলে কিংবা এ রকম খেজুরের দু’ সা’ সাধারণ খেজুরের তিন সা’র বদলে গ্রহণ করে থাকি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এমন করো না। দিরহামের বদলে সব খেজুর বিক্রি করে দিবে। তারপর দিরহাম দিয়ে উত্তম খেজুর কিনে নিবে।[1] [২২০১, ২২০২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২০ প্রথমাংশ)
নোট: [1] খেজুরের বিনিময়ে খেজুর বেচাকেনা সম পরিমাণে না হলে সুদে পরিণত হয়ে যাবে। যে কোন শস্যের ক্ষেত্রে একই বিধান। তবে অর্থের মাধ্যমে কেনাবেচা করলে হারামে জড়িয়ে পড়ার আশংকা থাকে না।
হাদিস নং: ৪২৪৬ সহিহ (Sahih)
وقال عبد العزيز بن محمد عن عبد المجيد عن سعيد ان ابا سعيد وابا هريرة حدثاه ان النبي صلى الله عليه وسلم بعث اخا بني عدي من الانصار الى خيبر فامره عليها
وعن عبد المجيد عن ابي صالح السمان عن ابي هريرة وابي سعيد مثله.
৪২৪৬-৪২৪৭. সা‘ঈদ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আবূ সা‘ঈদ ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) তাঁকে বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের বানী আদী গোত্রের এক ব্যক্তিকে খাইবার পাঠিছিলেন এবং তাঁকে সেখানকার অধিবাসীদের প্রশাসক নিযুক্ত করেছিলেন। অন্য সনদে আবদুল মাজীদ-আবূ সালিহ সাম্মান (রহ.)-আবূ হুরাইরাহ ও আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। [২২০১, ২২০২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২০)
হাদিস নং: ৪২৪৭ সহিহ (Sahih)
وقال عبد العزيز بن محمد عن عبد المجيد عن سعيد ان ابا سعيد وابا هريرة حدثاه ان النبي صلى الله عليه وسلم بعث اخا بني عدي من الانصار الى خيبر فامره عليها
وعن عبد المجيد عن ابي صالح السمان عن ابي هريرة وابي سعيد مثله.
৪২৪৬-৪২৪৭. সা‘ঈদ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আবূ সা‘ঈদ ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) তাঁকে বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের বানী আদী গোত্রের এক ব্যক্তিকে খাইবার পাঠিছিলেন এবং তাঁকে সেখানকার অধিবাসীদের প্রশাসক নিযুক্ত করেছিলেন। অন্য সনদে আবদুল মাজীদ-আবূ সালিহ সাম্মান (রহ.)-আবূ হুরাইরাহ ও আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। [২২০১, ২২০২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২০)
হাদিস নং: ৪২৪৮ সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا جويرية عن نافع عن عبد الله رضي الله عنه قال اعطى النبي صلى الله عليه وسلم خيبر اليهود ان يعملوها ويزرعوها ولهم شطر ما يخرج منها
৪২৪৮. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবারের ভূমি সেখানকার ইয়াহূদীদেরকে এ চুক্তিতে প্রদান করেছিলেন যে, তারা চাষাবাদ করবে আর উৎপন্ন ফসলের অর্ধেক লাভ করবে।[1] [২২৮৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২১)
নোট: [1] জিহাদে পরাজিত শত্রুর সমস্ত সম্পদই গানীমাত নয়। শুধুমাত্র যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাপ্ত সম্পদই গানীমাত। আর ভূসম্পত্তি ও ঘর-বাড়ী ‘ফাই’ এর অন্তর্ভুক্ত।
হাদিস নং: ৪২৪৯ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف حدثنا الليث حدثني سعيد عن ابي هريرة رضي الله عنه قال لما فتحت خيبر اهديت لرسول الله صلى الله عليه وسلم شاة فيها سم.
رَوَاهُ عُرْوَةُ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

‘উরওয়াহ (রাঃ) ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।


৪২৪৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, যখন খাইবার বিজিত হলো তখন (ইয়াহূদীদের পক্ষ থেকে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একটি বাকরী হাদিয়া দেয়া হয়। যাতে বিষ মেশানো ছিল।[1] [৩১৬৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২২)

 
নোট: [1] সেই বিষপ্রয়োগকৃত গোশত খেয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন ক্ষতি না হলেও সাহাবী বারা ইবনু মা‘রূর বিষক্রিয়ায় ইনতেকাল করেন।
হাদিস নং: ৪২৫০ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى بن سعيد حدثنا سفيان بن سعيد حدثنا عبد الله بن دينار عن ابن عمر رضي الله عنهما قال امر رسول الله صلى الله عليه وسلم اسامة على قوم فطعنوا في امارته فقال ان تطعنوا في امارته فقد طعنتم في امارة ابيه من قبله وايم الله لقد كان خليقا للامارة وان كان من احب الناس الي وان هذا لمن احب الناس الي بعده.
৪২৫০. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসামাহ (ইবনু যায়দ) (রাঃ)-কে একটি বাহিনীর অধিনায়ক নিযুক্ত করেছিলেন। লোকজন তাঁর অধিনায়ক নিযুক্তির সমালোচনা করলে তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, আজ তোমরা তার অধিনায়ক নিযুক্তির সমালোচনা করছ, এর পূর্বেও তোমরা তার পিতার অধিনায়ক নিযুক্তিতে সমালোচনা করেছিলে। আল্লাহর কসম! সে (উসামার পিতা) ছিল অধিনায়ক হওয়ার জন্য যথোপযুক্ত এবং আমার সবচেয়ে প্রিয়পাত্র। তার মৃত্যুর পর এ হচ্ছে আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয়পাত্র। [৩৭৩০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২৩)
হাদিস নং: ৪২৫১ সহিহ (Sahih)
عبيد الله بن موسى عن اسراىيل عن ابي اسحاق عن البراء رضي الله عنه قال لما اعتمر النبي صلى الله عليه وسلم في ذي القعدة فابى اهل مكة ان يدعوه يدخل مكة حتى قاضاهم على ان يقيم بها ثلاثة ايام فلما كتبوا الكتاب كتبوا هذا ما قاضى عليه محمد رسول الله قالوا لا نقر لك بهذا لو نعلم انك رسول الله ما منعناك شيىا ولكن انت محمد بن عبد الله فقال انا رسول الله وانا محمد بن عبد الله ثم قال لعلي بن ابي طالب رضي الله عنه امح رسول الله قال علي لا والله لا امحوك ابدا فاخذ رسول الله الكتاب وليس يحسن يكتب فكتب هذا ما قاضى عليه محمد بن عبد الله لا يدخل مكة السلاح الا السيف في القراب وان لا يخرج من اهلها باحد ان اراد ان يتبعه وان لا يمنع من اصحابه احدا ان اراد ان يقيم بها فلما دخلها ومضى الاجل اتوا عليا فقالوا قل لصاحبك اخرج عنا فقد مضى الاجل فخرج النبي صلى الله عليه وسلم فتبعته ابنة حمزة تنادي يا عم يا عم فتناولها علي فاخذ بيدها وقال لفاطمة عليها السلام دونك ابنة عمك حملتها فاختصم فيها علي وزيد وجعفر قال علي انا اخذتها وهي بنت عمي وقال جعفر ابنة عمي وخالتها تحتي وقال زيد ابنة اخي فقضى بها النبي صلى الله عليه وسلم لخالتها وقال الخالة بمنزلة الام وقال لعلي انت مني وانا منك وقال لجعفر اشبهت خلقي وخلقي وقال لزيد انت اخونا ومولانا وقال علي الا تتزوج بنت حمزة قال انها ابنة اخي من الرضاعة.
ذَكَرَهُ أَنَسٌ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

আনাস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তা বর্ণনা করেছেন।

৪২৫১. বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলকা’দা মাসে ’উমরাহ্ আদায়ের উদ্দেশে রওয়ানা করেন। মক্কা্বাসীরা তাঁকে মক্কা্য় প্রবেশের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানাল। অবশেষে তাদের সঙ্গে চুক্তি হল যে, (আগামী বছর ’উমরাহ্ পালন হেতু) তিনি তিনদিন মক্কা্য় অবস্থান করবেন। মুসলিমগণ সন্ধিপত্র লেখার সময় এভাবে লিখেছিলেন, আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ আমাদের সঙ্গে এ চুক্তি সম্পাদন করেছেন। ফলে তারা (মক্কার কুরাইশরা) বলল, আমরা তো এ কথা স্বীকার করিনি। যদি আমরা আপনাকে আল্লাহর রাসূল বলেই জানতাম তা হলে মক্কা প্রবেশে মোটেই বাধা দিতাম না। বরং আপনি তো মুহাম্মাদ ইবনু ’আবদুল্লাহ। তখন তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল এবং মুহাম্মাদ ইবনু ’আবদুল্লাহ। তারপর তিনি ’আলী (রাঃ)-কে বললেন, রাসূলুল্লাহ শব্দটি মুছে ফেল। ’আলী (রাঃ) উত্তর করলেন, আল্লাহর কসম! আমি কখনো এ কথা মুছতে পারব না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন চুক্তিপত্রটি হাতে নিলেন। তিনি লিখতে জানতেন না, তবুও তিনি লিখে দিলেন[1] যে, মুহাম্মাদ ইবনু ’আবদুল্লাহ এ চুক্তিপত্র সম্পাদন করলেন যে, তিনি কোষবদ্ধ তরবারি ব্যতীত অন্য কোন অস্ত্র নিয়ে মক্কা্য় প্রবেশ করবেন না। মক্কা্বাসীদের কেউ তাঁর সঙ্গে যেতে চাইলেও তিনি তাকে বের করে নিয়ে যাবেন না। তাঁর সাথীদের কেউ মক্কা্য় থেকে যেতে চাইলে তিনি তাকে বাধা দিবেন না। (পরবর্তী বছর) যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্য় প্রবেশ করলেন এবং নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হল তখন মুশরিকরা ’আলীর কাছে এসে বলল, আপনার সাথী [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-কে বলুন যে, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেছে। তাই তিনি যেন আমাদের নিকট থেকে চলে যান। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে মতে বেরিয়ে আসলেন। এ সময়ে হামযাহ (রাঃ)-এর কন্যা চাচা চাচা বলে ডাকতে ডাকতে তাঁর পেছনে ছুটল। ’আলী (রাঃ) তার হাত ধরে তুলে নিয়ে ফাতেমাহ (রাঃ)-কে দিয়ে বললেন, তোমার চাচার কন্যাকে নাও। ফাতেমাহ (রাঃ) বাচ্চাটিকে উঠিয়ে নিলেন। (মদিনা্য় পৌঁছলে) বাচ্চাটি নিয়ে ’আলী, যায়দ (ইবনু হারিসাহ) ও জা’ফার [ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)]-এর মধ্যে ঝগড়া বেধে গেল। ’আলী (রাঃ) বললেন, আমি তাকে তুলে নিয়েছি আর সে আমার চাচার মেয়ে! জা’ফর বললেন, সে আমার চাচার মেয়ে আর তার খালা হল আমার স্ত্রী। যায়দ [ইবনু হারিসা (রাঃ)] বললেন, সে আমার ভাইয়ের মেয়ে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেয়েটিকে তার খালার জন্য ফায়সালা দিয়ে বললেন খালা তো মায়ের মর্যাদার। এরপর তিনি ’আলীকে বললেন, তুমি আমার এবং আমি তোমার। জা’ফর (রাঃ)-কে বললেন, তুমি আকৃতি-প্রকৃতিতে আমার মতো। আর যায়িদ (রাঃ)-কে বললেন, তুমি আমাদের ভাই ও আযাদকৃত গোলাম। ’আলী (রাঃ) [নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে] বললেন, আপনি হামযাহ’র মেয়েটিকে বিয়ে করছেন না কেন? তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, সে আমার দুধ ভাই-এর মেয়ে। [১৭৮১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২৪)
নোট: [1] হুদাইবিয়ার সন্ধিপত্রে যখন লেখা হলো ‘‘আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং কুরায়শদের মধ্যে এই সন্ধি’’ তক্ষনি তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সম্পন্ন সুহায়ল বলে উঠলোঃ থামো, থামো, মুহাম্মাদ যে আল্লাহর রসূল, এ কথা যদি আমরা মেনেই নিবো তাহলে আর যুদ্ধ বিগ্রহ কিসের জন্য। ও কথা লিখতে পারবে না। ‘আল্লাহর রসূল মুহাম্মাদ’ কথাটি কেটে দিয়ে শুধু লিখোঃ ‘‘আবদুল্লাহ্র পুত্র মুহাম্মাদ’’ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন হেসে বললেন, ‘‘বেশ তাই হবে। আমি যে আবদুল্লাহর পুত্র এ কথাও তো মিথ্যা নয়। আলী (রাঃ) ‘রসূলুল্লাহ’ শব্দটি কাটতে অস্বীকার করলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই তা মিটিয়ে দিলেন।

এই সুহায়লই যিনি এই পবিত্র নামের সাথে ‘রসূলুল্লাহ’ লিখার বিরোধিতা করেছিলেন, কয়েক বছর পরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুসলিম হয়ে যান। নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইনতিকালের পর মক্কাহ মু‘আযযামাহ্য় তিনি ইসলামের সত্যতার উপর এমন এক হৃদয়গ্রাহী ভাষণ প্রদান করেন যা হাজার হাজার মুসলিমের জন্য ঈমানের দৃঢ়তা ও নবায়নের কারণ হয়েছিল।

[2] রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও হামযাহ (রাঃ) একই সাথে এক মহিলার দুধ পান করেছিলেন। সেই বিচারে তারা পরস্পরে দুধ-ভাই। ইসলামে যাদের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া হারাম তার মধ্যে শর্ত সাপেক্ষে বুকের দুধ পানের কারণও অন্তর্ভুক্ত।
হাদিস নং: ৪২৫২ সহিহ (Sahih)
محمد بن هوا رافع حدثنا سريج حدثنا فليح ح و حدثني محمد بن الحسين بن ابراهيم قال حدثني ابي حدثنا فليح بن سليمان عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج معتمرا فحال كفار قريش بينه وبين البيت فنحر هديه وحلق راسه بالحديبية وقاضاهم على ان يعتمر العام المقبل ولا يحمل سلاحا عليهم الا سيوفا ولا يقيم بها الا ما احبوا فاعتمر من العام المقبل فدخلها كما كان صالحهم فلما ان اقام بها ثلاثا امروه ان يخرج فخرج.
৪২৫২. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। ‘উমরাহ্ পালনের উদ্দেশে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম রওয়ানা করলে কুরাইশী কাফিররা তাঁর এবং বাইতুল্লাহর মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ালো। কাজেই তিনি হুদাইবিয়াহ নামক স্থানেই কুরবানীর জন্তু যবহ করলেন এবং মাথা মুন্ডন করলেন আর তিনি তাদের সঙ্গে এই মর্মে চুক্তি সম্পাদন করলেন যে, আগামী বছর তিনি ‘উমরাহ্ পালনের জন্য আসবেন কিন্তু তরবারি ব্যতীত অন্য কোন অস্ত্র সঙ্গে আনবেন না এবং মক্কা্বাসীরা যে ক’দিন ইচ্ছা করবে তার অধিক তিনি সেখানে অবস্থান করবেন না। সে মতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরবর্তী বছর ‘উমরাহ্ পালন করলেন এবং সম্পাদিত চুক্তিনামা অনুসারে মক্কা্য় প্রবেশ করলেন। তারপর তিনদিন অবস্থান করলে মক্কা্বাসীরা তাঁকে চলে যেতে বলল। তাই তিনি চলে গেলেন। [২৭০১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২৫)
হাদিস নং: ৪২৫৩ সহিহ (Sahih)
عثمان بن ابي شيبة حدثنا جرير عن منصور عن مجاهد قال دخلت انا وعروة بن الزبير المسجد فاذا عبد الله بن عمر رضي الله عنهما جالس الى حجرة عاىشة ثم قال كم اعتمر النبي صلى الله عليه وسلم قال اربعا احداهن في رجب.
৪২৫৩. মুজাহিদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং ‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) মসজিদে নাববীতে প্রবেশ করেই দেখলাম ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর হুজরার পাশেই বসে আছেন। ‘উরওয়াহ (রাঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক’টি ‘উমরাহ্ আদায় করেছিলেন? উত্তরে তিনি বললেন, চারটি। এ সময় আমরা (ঘরের ভিতরে) ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর মিসওয়াক করার আওয়াজ শুনতে পেলাম। [১৭৭৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২৬)
অধ্যায় তালিকা