অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৬৪/১. ‘উশায়রাহ বা ‘উসাইরাহর যুদ্ধ।
মোট ৫২৫ টি হাদিস
হাদিস নং: ৪৪৪৯ সহিহ (Sahih)
محمد بن عبيد حدثنا عيسى بن يونس عن عمر بن سعيد قال اخبرني ابن ابي مليكة ان ابا عمرو ذكوان مولى عاىشة اخبره ان عاىشة كانت تقول ان من نعم الله علي ان رسول الله صلى الله عليه وسلم توفي في بيتي وفي يومي وبين سحري ونحري وان الله جمع بين ريقي وريقه عند موته دخل علي عبد الرحمن وبيده السواك وانا مسندة رسول الله صلى الله عليه وسلم فرايته ينظر اليه وعرفت انه يحب السواك فقلت اخذه لك فاشار براسه ان نعم فتناولته فاشتد عليه وقلت الينه لك فاشار براسه ان نعم فلينته فامره وبين يديه ركوة او علبة يشك عمر فيها ماء فجعل يدخل يديه في الماء فيمسح بهما وجهه يقول لا اله الا الله ان للموت سكرات ثم نصب يده فجعل يقول في الرفيق الاعلى حتى قبض ومالت يده
৪৪৪৯. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি প্রায়ই বলতেন, আমার প্রতি আল্লাহর এটা নি‘য়ামাত যে, আমার ঘরে, আমার পালার দিনে এবং আমার গন্ড ও সিনার মাঝে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকাল হয় এবং আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ইন্তিকালের সময় আমার থুথু তাঁর থুথুর সঙ্গে মিশ্রিত করে দেন। এ সময় ‘আবদুর রহমান [1] (রাঃ) আমার নিকট প্রবেশ করে এবং তার হাতে মিসওয়াক ছিল। আর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (আমার বুকে) হেলান অবস্থায় রেখেছিলাম। আমি লক্ষ্য করলাম যে, তিনি ‘আবদুর রহমানের দিকে তাকাচ্ছেন। আমি বুঝলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিসওয়াক চাচ্ছেন। আমি তখন জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি আপনার জন্য মিসওয়াক নিব? তিনি মাথা নাড়িয়ে জানালেন যে, হ্যাঁ। তখন আমি মিসওয়াকটি নিলাম। কিন্তু মিসওয়াক ছিল তার জন্য শক্ত, তাই আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি এটি আপনার জন্য নরম করে দিব? তখন তিনি মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বললেন। তখন আমি তা চিবিয়ে নরম করে দিলাম। এরপর তিনি ভালভাবে মিসওয়াক করলেন। তাঁর সম্মুখে পাত্র অথবা পেয়ালা ছিল (রাবী ‘উমারের সন্দেহ) তাতে পানি ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় হস্তদ্বয় পানির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে তার দ্বারা তাঁর চেহারা মুছতে লাগলেন। তিনি বলছিলেন ........ -আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই, সত্যিই মৃত্যু-যন্ত্রণা কঠিন। তারপর দু’ হাত উপরের দিকে উঠিয়ে বলছিলেন, আমি উচ্চে সমাসীন। বন্ধুর সঙ্গে (মিলিত হতে চাই)। এ অবস্থায় তাঁর ইন্তিকাল হল আর হাত শিথিল হয়ে গেল। [৮৯০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৯৯)
নোট: [1] ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর ভাই।
হাদিস নং: ৪৪৫০ সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني سليمان بن بلال حدثنا هشام بن عروة اخبرني ابي عن عاىشة رضي الله عنها ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يسال في مرضه الذي مات فيه يقول اين انا غدا اين انا غدا يريد يوم عاىشة فاذن له ازواجه يكون حيث شاء فكان في بيت عاىشة حتى مات عندها قالت عاىشة فمات في اليوم الذي كان يدور علي فيه في بيتي فقبضه الله وان راسه لبين نحري وسحري وخالط ريقه ريقي ثم قالت دخل عبد الرحمن بن ابي بكر ومعه سواك يستن به فنظر اليه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت له اعطني هذا السواك يا عبد الرحمن فاعطانيه فقضمته ثم مضغته فاعطيته رسول الله فاستن به وهو مستند الى صدري.
৪৪৫০. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। মৃত্যু রোগকালীন অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করতেন, আমি আগামীকাল কার ঘরে থাকব। আগামীকাল কার ঘরে? এর দ্বারা তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর ঘরের পালার ইচ্ছা পোষণ করতেন। সহধর্মিণীগণ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যার ঘরে ইচ্ছা অবস্থান করার অনুমতি দিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর ঘরে ছিলেন। এমনকি তাঁর ঘরেই তিনি ইন্তিকাল করেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য নির্ধারিত পালার দিন আমার ঘরে ইন্তিকাল করেন এবং আল্লাহ তাঁর রূহ কবজ করেন এ অবস্থায় যে, তাঁর মাথা আমার গন্ড ও সীনার মধ্যে ছিল এবং আমার থুথু (তাঁর থুথুর সঙ্গে) মিশ্রিত হয়ে যায়। তারপর তিনি বলেন, ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ) তাঁর ঘরে প্রবেশ করল আর তার হাতে একটি মিসওয়াক ছিল যা দিয়ে সে তার দাঁত মাজছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকালেন। আমি তখন তাকে বললাম, হে ‘আবদুর রহমান! এই মিসওয়াকটি আমাকে দাও; তখন সে আমাকে তা দিয়ে দিল। আমি সেটি চিবিয়ে নরম করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দিলাম। তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করলেন, তিনি তখন আমার বুকে হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন। [৮৯০; মুসলিম ৪৪/১৩, হাঃ ২৪৪৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১০০)
হাদিস নং: ৪৪৫১ সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب حدثنا حماد بن زيد عن ايوب عن ابن ابي مليكة عن عاىشة رضي الله عنها قالت توفي النبي صلى الله عليه وسلم في بيتي وفي يومي وبين سحري ونحري وكانت احدانا تعوذه بدعاء اذا مرض فذهبت اعوذه فرفع راسه الى السماء وقال في الرفيق الاعلى في الرفيق الاعلى ومر عبد الرحمن بن ابي بكر وفي يده جريدة رطبة فنظر اليه النبي صلى الله عليه وسلم فظننت ان له بها حاجة فاخذتها فمضغت راسها ونفضتها فدفعتها اليه فاستن بها كاحسن ما كان مستنا ثم ناولنيها فسقطت يده او سقطت من يده فجمع الله بين ريقي وريقه في اخر يوم من الدنيا واول يوم من الاخرة.
৪৪৫১. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে আমার পালার দিনে এবং আমার গন্ড ও সীনার মধ্যস্থলে থাকা অবস্থায় ইন্তিকাল করেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হলে আমাদের মধ্যকার কেউ দু‘আ পড়ে তাঁকে ঝাড়ফুঁক করতেন। আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঝাড়ফুঁক করার জন্য তাঁর কাছে গেলাম। তখন তিনি তাঁর মাথা আকাশের দিকে উঠিয়ে বললেন, উচ্চে সমাসীন বন্ধুর সঙ্গে (মিলিত হতে চাই), উচ্চে সমাসীন মহান বন্ধুর সঙ্গে (মিলিত হতে চাই)। এ সময় আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ) আগমন করলেন। তাঁর হাতে মিসওয়াকের একটি তাজা ডাল ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সেদিকে তাকালেন। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, তাঁর [নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর মিসওয়াকের প্রয়োজন। তখন আমি সেটি নিয়ে চিবালাম, ঝেড়ে মুছে পরিষ্কার করলাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তা দিলাম। তখন তিনি এর দ্বারা এত সুন্দরভাবে দাঁত পরিষ্কার করলেন যে, এর আগে কখনও এরূপ করেননি। তারপর তা আমাকে দিলেন। এরপর তাঁর হাত ঢলে পড়ল অথবা রাবী বলেন, তাঁর হাত থেকে ঢলে পড়ল। আল্লাহ তা‘আলা আমার থুথুকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর থুথুর সঙ্গে মিলিয়ে দিলেন। তার এ দুনিয়ার শেষ দিনে এবং আখিরাতের প্রথম দিনে। [৮৯০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১০১)
হাদিস নং: ৪৪৫২ সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب قال اخبرني ابو سلمة ان عاىشة اخبرته ان ابا بكر رضي الله عنه اقبل على فرس من مسكنه بالسنح حتى نزل فدخل المسجد فلم يكلم الناس حتى دخل على عاىشة فتيمم رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو مغشى بثوب حبرة فكشف عن وجهه ثم اكب عليه فقبله وبكى ثم قال بابي انت وامي والله لا يجمع الله عليك موتتين اما الموتة التي كتبت عليك فقد متها.
৪৪৫২-৪৪৫৩. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ) ঘোড়ার উপর সওয়ার হয়ে তার সুনহের বাড়ি থেকে আগমন করেন। ঘোড়া থেকে অবতরণ করে তিনি মসজিদে নাববীতে প্রবেশ করেন কিন্তু কারো সঙ্গে কোন কথা না বলে ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে উপস্থিত হন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামানী চাদর দ্বারা আবৃত ছিলেন। তখন তিনি চেহারা হতে কাপড় হটিয়ে তাঁর উপর ঝুঁকে পড়লেন এবং তাঁকে চুমু দিলেন ও কেঁদে ফেললেন। তারপর বললেন, আমার মাতাপিতা আপনার প্রতি কুরবান হোক! আল্লাহর কসম! আল্লাহ তো আপনাকে দু’বার মৃত্যু দিবেন না, যে মৃত্যু ছিল আপনার জন্য নির্ধারিত সে মৃত্যু আপনি গ্রহণ করে নিলেন। [১২৪১, ১২৪২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১০২)
হাদিস নং: ৪৪৫৩ সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب قال اخبرني ابو سلمة ان عاىشة اخبرته ان ابا بكر رضي الله عنه اقبل على فرس من مسكنه بالسنح حتى نزل فدخل المسجد فلم يكلم الناس حتى دخل على عاىشة فتيمم رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو مغشى بثوب حبرة فكشف عن وجهه ثم اكب عليه فقبله وبكى ثم قال بابي انت وامي والله لا يجمع الله عليك موتتين اما الموتة التي كتبت عليك فقد متها.
৪৪৫২-৪৪৫৩. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ) ঘোড়ার উপর সওয়ার হয়ে তার সুনহের বাড়ি থেকে আগমন করেন। ঘোড়া থেকে অবতরণ করে তিনি মসজিদে নাববীতে প্রবেশ করেন কিন্তু কারো সঙ্গে কোন কথা না বলে ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে উপস্থিত হন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামানী চাদর দ্বারা আবৃত ছিলেন। তখন তিনি চেহারা হতে কাপড় হটিয়ে তাঁর উপর ঝুঁকে পড়লেন এবং তাঁকে চুমু দিলেন ও কেঁদে ফেললেন। তারপর বললেন, আমার মাতাপিতা আপনার প্রতি কুরবান হোক! আল্লাহর কসম! আল্লাহ তো আপনাকে দু’বার মৃত্যু দিবেন না, যে মৃত্যু ছিল আপনার জন্য নির্ধারিত সে মৃত্যু আপনি গ্রহণ করে নিলেন। [১২৪১, ১২৪২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১০২)
হাদিস নং: ৪৪৫৪ সহিহ (Sahih)
قال الزهري وحدثني ابو سلمة عن عبد الله بن عباس ان ابا بكر خرج وعمر بن الخطاب يكلم الناس فقال اجلس يا عمر فابى عمر ان يجلس فاقبل الناس اليه وتركوا عمر فقال ابو بكر اما بعد فمن كان منكم يعبد محمدا صلى الله عليه وسلم فان محمدا قد مات ومن كان منكم يعبد الله فان الله حي لا يموت قال الله وما محمد الا رسول قد خلت من قبله الرسل الى قوله الشاكرين وقال والله لكان الناس لم يعلموا ان الله انزل هذه الاية حتى تلاها ابو بكر فتلقاها منه الناس كلهم فما اسمع بشرا من الناس الا يتلوها فاخبرني سعيد بن المسيب ان عمر قال والله ما هو الا ان سمعت ابا بكر تلاها فعقرت حتى ما تقلني رجلاي وحتى اهويت الى الارض حين سمعته تلاها علمت ان النبي صلى الله عليه وسلم قد مات.
৪৪৫৪. ইমাম যুহরী (রহ.) বলেন, আমাকে আবূ সালামাহ (রহ.) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, আবূ বকর (রাঃ) বের হয়ে আসেন তখন ‘উমার (রাঃ) লোকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। আবূ বকর (রাঃ) তাঁকে বললেন, হে ‘উমার (রাঃ) বসে পড়। ‘উমার (রাঃ) বসতে অস্বীকার করলেন। তখন সাহাবীগণ ‘উমার (রাঃ)-কে ছেড়ে আবূ বকর (রাঃ)-এর দিকে গেলেন। তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেন- ‘‘অতঃপর আপনাদের মধ্যে যারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইবাদাত করতেন, তিনি তো ইন্তিকাল করেছেন। আর যারা আপনাদের মধ্যে আল্লাহর ‘ইবাদাত করতেন (জেনে রাখুন) আল্লাহর চিরঞ্জীব, কখনো মরবেন না। আল্লাহ বলেন, ......... -মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন রাসূল মাত্র, তাঁর পূর্বে বহু রাসূল গত হয়েছেন। ..... কৃতজ্ঞদের পুরস্কৃত করবেন- (সূরাহ আলে ‘ইমরান ৩/১৪৪)।

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! আবূ বকর (রাঃ)-এর পাঠ করার পূর্বে লোকেরা যেন জানত না যে, আল্লাহ তা‘আলা এরূপ আয়াত অবতীর্ণ করেছেন। এরপর সমস্ত সাহাবী তাঁর থেকে উক্ত আয়াত শিখে নিলেন। তখন সবাইকে উক্ত আয়াত তিলাওয়াত করতে শুনলাম। আমাকে সা‘ঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহ.) জানিয়েছেন, ‘উমার (রাঃ) বলেছেন, আল্লাহর কসম! আমি যখন আবূ বকর (রাঃ)-কে উক্ত আয়াত তিলাওয়াত করতে শুনলাম, তখন ভীত হয়ে পড়লাম এবং আমার পা দু’টি যেন আমার ভার নিত পারছিল না, এমনকি আমি মাটিতে পড়ে গেলাম যখন শুনতে পেলাম যে, তিনি তিলাওয়াত করছেন যে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেছেন। [১২৪২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১০২)
হাদিস নং: ৪৪৫৫ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن ابي شيبة حدثنا يحيى بن سعيد عن سفيان عن موسى بن ابي عاىشة عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة عن عاىشة وابن عباس ان ابا بكر رضي الله عنه قبل النبي صلى الله عليه وسلم بعد موته.
৪৪৫৫-৪৪৫৬-৪৪৫৭. ‘আয়িশাহ ও ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। আবূ বকর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের পর তাঁকে চুমু দেন। [১২৪১, ১২৪২, ৫৭০৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১০৩)
হাদিস নং: ৪৪৫৬ সহিহ (Sahih)
حدثني عبد الله بن ابي شيبة، حدثنا يحيى بن سعيد، عن سفيان، عن موسى بن ابي عاىشة، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة، عن عاىشة، وابن، عباس ان ابا بكر ـ رضى الله عنه ـ قبل النبي صلى الله عليه وسلم بعد موته‏.‏
৪৪৫৫-৪৪৫৬-৪৪৫৭. ‘আয়িশাহ ও ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। আবূ বকর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের পর তাঁকে চুমু দেন। [১২৪১, ১২৪২, ৫৭০৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১০৩)
হাদিস নং: ৪৪৫৭ সহিহ (Sahih)
حدثني عبد الله بن ابي شيبة حدثنا يحيى بن سعيد عن سفيان عن موسى بن ابي عاىشة عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة عن عاىشة وابن عباس ان ابا بكر رضي الله عنه قبل النبي صلى الله عليه وسلم بعد موته.
৪৪৫৫-৪৪৫৬-৪৪৫৭. ‘আয়িশাহ ও ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। আবূ বকর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের পর তাঁকে চুমু দেন। [১২৪১, ১২৪২, ৫৭০৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১০৩)
হাদিস নং: ৪৪৫৮ সহিহ (Sahih)
علي حدثنا يحيى وزاد قالت عاىشة لددناه في مرضه فجعل يشير الينا ان لا تلدوني فقلنا كراهية المريض للدواء فلما افاق قال الم انهكم ان تلدوني قلنا كراهية المريض للدواء فقال لا يبقى احد في البيت الا لد وانا انظر الا العباس فانه لم يشهدكم رواه ابن ابي الزناد عن هشام عن ابيه عن عاىشة عن النبي صلى الله عليه وسلم .
৪৪৫৮. ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রোগাক্রান্ত অবস্থায় তাঁর মুখে ঔষধ ঢেলে দিলাম। তিনি ইশারায় আমাদেরকে তাঁর মুখে ঔষধ ঢালতে নিষেধ করলেন। আমরা বললাম, এটা ঔষধের প্রতি রোগীদের স্বাভাবিক বিরক্তিবোধ। যখন তিনি সুস্থবোধ করলেন তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদের ওষুধ সেবন করাতে নিষেধ করিনি? আমরা বললাম, আমরা মনে করেছিলাম এটা ঔষধের প্রতি রোগীর সাধারণ বিরক্তিভাব। তখন তিনি বললেন, ‘আব্বাস ব্যতীত বাড়ির প্রত্যেকের মুখে ঔষধ ঢাল তা আমি দেখি।[1] কেননা সে তোমাদের মাঝে উপস্থিত নেই। এ হাদীস ইবনু আবূ যিনাদ ....... ‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। [৫৭১২, ৬৮৮৬, ৬৮৯৭; মুসলিম ৩৯/২৭, হাঃ ২২১৩, আহমাদ ২৪৩১৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১০৪)
নোট: [1] প্রথমতঃ এখানে অতি সামান্য ব্যাপারেও কিয়াসের বৈধতা প্রমাণিত হয়। দ্বিতীয়তঃ নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুস্থ ও অসুস্থ সর্বাবস্থাতেই তার নির্দেশ পালনের অপরিহার্যতা সমভাবে প্রযোজ্য।
হাদিস নং: ৪৪৫৯ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد اخبرنا ازهر اخبرنا ابن عون عن ابراهيم عن الاسود قال ذكر عند عاىشة ان النبي صلى الله عليه وسلم اوصى الى علي فقالت من قاله لقد رايت النبي صلى الله عليه وسلم واني لمسندته الى صدري فدعا بالطست فانخنث فمات فما شعرت فكيف اوصى الى علي.
৪৪৫৯. আসওয়াদ (ইবনু ইয়াযীদ) (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে উল্লেখ করা হল যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী (রাঃ)-কে ওসীয়াত করে গেছেন। তখন তিনি বললেন, এ কথা কে বলেছে? আমার বুকের সঙ্গে হেলান দেয়া অবস্থায় আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি। তিনি একটি চিলিমচি চাইলেন, তাতে থুথু ফেললেন এবং ইন্তিকাল করলেন। অতএব আমার বোধগম্য নয় তিনি কীভাবে ‘আলী (রাঃ)-কে ওসীয়াত করলেন। [২৭৪১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১০৫)
হাদিস নং: ৪৪৬০ সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا مالك بن مغول عن طلحة قال سالت عبد الله بن ابي اوفى رضي الله عنهما اوصى النبي صلى الله عليه وسلم فقال لا فقلت كيف كتب على الناس الوصية او امروا بها قال اوصى بكتاب الله.
৪৪৬০. ত্বলহা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি ওসীয়াত করে গেছেন? তিনি বললেন, না। তখন আমি বললাম, তাহলে কেমন করে মানুষের জন্য ওসীয়াত লিপিবদ্ধ করা হল অথবা কীভাবে এর নির্দেশ দেয়া হল? তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন সম্পর্কে ওসীয়াত করে গেছেন। [২৭৪০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১০৬)
হাদিস নং: ৪৪৬১ সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا ابو الاحوص عن ابي اسحاق عن عمرو بن الحارث قال ما ترك رسول الله صلى الله عليه وسلم دينارا ولا درهما ولا عبدا ولا امة الا بغلته البيضاء التي كان يركبها وسلاحه وارضا جعلها لابن السبيل صدقة
৪৪৬১. ‘আমর ইবনু হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন দ্বীনার, দিরহাম, গোলাম ও বাঁদি রেখে যাননি। কেবলমাত্র একটি সাদা খচ্চর যার উপর তিনি আরোহণ করতেন এবং তাঁর যুদ্ধাস্ত্র আর একখন্ড যমীন যা মুসাফিরদের জন্য ওয়াক্ফ করে গেছেন। [২৭৩৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১০৭)
হাদিস নং: ৪৪৬২ সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب حدثنا حماد عن ثابت عن انس قال لما ثقل النبي صلى الله عليه وسلم جعل يتغشاه فقالت فاطمة عليها السلام وا كرب اباه فقال لها ليس على ابيك كرب بعد اليوم فلما مات قالت يا ابتاه اجاب ربا دعاه يا ابتاه من جنة الفردوس ماواه يا ابتاه الى جبريل ننعاه فلما دفن قالت فاطمة عليها السلام يا انس اطابت انفسكم ان تحثوا على رسول الله صلى الله عليه وسلم التراب.
৪৪৬২. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রোগ প্রকটরূপ ধারণ করে তখন তিনি বেঁহুশ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় ফাতেমাহ (রাঃ) বললেন, উহ্! আমার পিতার উপর কত কষ্ট! তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, আজকের পরে তোমার পিতার উপর আর কোন কষ্ট নেই। যখন তিনি ইন্তিকাল করলেন তখন ফাতেমাহ (রাঃ) বললেন, হায়! আমার পিতা! রবের ডাকে সাড়া দিয়েছেন। হায় আমার পিতা! জান্নাতুল ফিরদাউসে তাঁর বাসস্থান। হায় পিতা! জিবরীল (আঃ)-কে তাঁর ইনতিকালের খবর শুনাই। যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সমাহিত করা হল, তখন ফাতিমাহ (রাঃ) বললেন, হে আনাস! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মাটি চাপা দিয়ে আসা তোমরা কীভাবে বরদাশত করলে! (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১০৮)
হাদিস নং: ৪৪৬৩ সহিহ (Sahih)
بشر بن محمد حدثنا عبد الله قال يونس قال الزهري اخبرني سعيد بن المسيب في رجال من اهل العلم ان عاىشة قالت كان النبي صلى الله عليه وسلم يقول وهو صحيح انه لم يقبض نبي حتى يرى مقعده من الجنة ثم يخير فلما نزل به وراسه على فخذي غشي عليه ثم افاق فاشخص بصره الى سقف البيت ثم قال اللهم الرفيق الاعلى فقلت اذا لا يختارنا وعرفت انه الحديث الذي كان يحدثنا وهو صحيح قالت فكانت اخر كلمة تكلم بها اللهم الرفيق الاعلى.
৪৪৬৩. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্থ থাকাকালীন বলতেন, কোন নবীর ওফাত হয়নি যতক্ষণ না তাকে জান্নাতে তাঁর ঠিকানা দেখানো হয়। তারপর তাঁকে দুনিয়া বা আখিরাত একটি বেছে নিতে বলা হয়। যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রোগ বৃদ্ধি পেল তখন তাঁর মাথা আমার উরুর উপর ছিল এ সময় তিনি মূর্ছা যান। তারপর তাঁর হুশ ফিরে এলে, ছাদের দিকে তিনি দৃষ্টি তোলেন। তারপর বলেন, হে আল্লাহ! আমাকে উচ্চে সমাসীন বন্ধুর (সঙ্গে মিলিত করুন)। তখন আমি বললাম, তিনি আর আমাদের মাঝে থাকতে চাচ্ছেন না। আমি বুঝতে পারলাম যে, এটা হল ঐ কথা যা তিনি সুস্থাবস্থায় আমাদের কাছে বর্ণনা করতেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শেষ কথা যা তিনি বলেছিলেন তা হল ........ -হে আল্লাহ! উচ্চে সমাসীন বন্ধুর (সঙ্গে মিলিত করুন)। [৪৪৩৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১০৯)
হাদিস নং: ৪৪৬৪ সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا شيبان عن يحيى عن ابي سلمة عن عاىشة وابن عباس رضي الله عنهم ان النبي صلى الله عليه وسلم لبث بمكة عشر سنين ينزل عليه القران وبالمدينة عشرا
৪৪৬৪-৪৪৬৫. ‘আয়িশাহ ও ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নুযুলে কুরআনের দশ বছর[1] মক্কা্য় কাটান আর মদিনা্তেও দশ বছর কাটান। [৩৮৫১, ৪৯৭৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১১০)
নোট: [1] বলা হয়েছে নুবুওয়াতের পর হতে মক্কাহ্য় নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১৩ বছর অবস্থান করলেও যে তিন বছর ওয়াহী অবতরণ বন্ধ থাকে সে তিন বছরকে নুযূলে কুরআনের বছর হিসেবে ধরা হয়নি। তাই দশ বছর বলা হয়েছে। (ফতহুল বারী)
হাদিস নং: ৪৪৬৫ সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا شيبان عن يحيى عن ابي سلمة عن عاىشة وابن عباس رضي الله عنهم ان النبي صلى الله عليه وسلم لبث بمكة عشر سنين ينزل عليه القران وبالمدينة عشرا
৪৪৬৪-৪৪৬৫. ‘আয়িশাহ ও ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নুযুলে কুরআনের দশ বছর[1] মক্কা্য় কাটান আর মদিনা্তেও দশ বছর কাটান। [৩৮৫১, ৪৯৭৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১১০)
নোট: [1] বলা হয়েছে নুবুওয়াতের পর হতে মক্কাহ্য় নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১৩ বছর অবস্থান করলেও যে তিন বছর ওয়াহী অবতরণ বন্ধ থাকে সে তিন বছরকে নুযূলে কুরআনের বছর হিসেবে ধরা হয়নি। তাই দশ বছর বলা হয়েছে। (ফতহুল বারী)
হাদিস নং: ৪৪৬৬ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب عن عروة بن الزبير عن عاىشة رضي الله عنها ان رسول الله صلى الله عليه وسلم توفي وهو ابن ثلاث وستين قال ابن شهاب واخبرني سعيد بن المسيب مثله
৪৪৬৬. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। ওফাতকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বয়স ছিল তেষট্টি বছর। ইবনু শিহাব যুহরী (রহ.) বলেন, আমাকে সা‘ঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব এ রকমই জানিয়েছেন। [৩৫৩৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১১১)
হাদিস নং: ৪৪৬৭ সহিহ (Sahih)
قبيصة حدثنا سفيان عن الاعمش عن ابراهيم عن الاسود عن عاىشة رضي الله عنها قالت توفي النبي صلى الله عليه وسلم ودرعه مرهونة عند يهودي بثلاثين.
৪৪৬৭. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন এমন অবস্থায় যে, তাঁর বর্ম ত্রিশ সা‘ যবের বিনিময়ে ইয়াহূদীর কাছে বন্ধক রাখা ছিল। [২০৬৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১১২)
হাদিস নং: ৪৪৬৮ সহিহ (Sahih)
ابو عاصم الضحاك بن مخلد عن الفضيل بن سليمان حدثنا موسى بن عقبة عن سالم عن ابيه استعمل النبي صلى الله عليه وسلم اسامة فقالوا فيه فقال النبي صلى الله عليه وسلم قد بلغني انكم قلتم في اسامة وانه احب الناس الي
৪৪৬৮. ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ)-কে (একটি অভিযানে ‘আমীর) নিযুক্ত করেন। [1] এটা নিয়ে সাহাবীগণ বলাবলি করেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি খবর পেয়েছি, তোমরা উসামাহর আমীর নিযুক্তি নিয়ে বলাবলি করছ, অথচ সে হচ্ছে আমার নিকট সবার চেয়ে প্রিয়। [৩৭৩০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১১৩)
নোট: [1] রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পালক পুত্র যায়দ-এর পুত্র উসামাহকে তিনি সিরিয়ার দিকে এক জিহাদে আমীর নিযুক্ত করেন। যে সেনাদলে আবূ বাক্র ও ‘উমার (রাঃ)-এর মত বড় বড় উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন সাহাবীও ছিলেন।
অধ্যায় তালিকা