অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৭৮/১. মহান আল্লাহর বাণীঃ পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করার জন্য আমি মানুষের প্রতি ফরমান জারি করেছি। সূরাহ আনকাবূত ২৯/৮)
মোট ২৫৭ টি হাদিস
হাদিস নং: ৬১৪৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن بشار، حدثنا ابن مهدي، حدثنا سفيان، عن عبد الملك، حدثنا ابو سلمة، عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ـ قال النبي صلى الله عليه وسلم " اصدق كلمة قالها الشاعر كلمة لبيد الا كل شىء ما خلا الله باطل ". وكاد امية بن ابي الصلت ان يسلم.
৬১৪৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কবিরা যে সব কথা বলেছেন, তার মধ্যে কবি লবীদের কথাটাই সর্বাধিক সত্য। (তিনি বলেছেনঃ)
শোন! আল্লাহ ছাড়া সব কিছুই বাতিল।
তিনি আরও বলেছেন, কবি উমাইয়াহ ইবনু সালত ইসলাম গ্রহণের নিকটবর্তী হয়েছিল। [৩৮৪১; মুসলিম পর্ব ৪১/হাঃ ২২৫৬, আহমাদ ১০০৮০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬০৩)
শোন! আল্লাহ ছাড়া সব কিছুই বাতিল।
তিনি আরও বলেছেন, কবি উমাইয়াহ ইবনু সালত ইসলাম গ্রহণের নিকটবর্তী হয়েছিল। [৩৮৪১; মুসলিম পর্ব ৪১/হাঃ ২২৫৬, আহমাদ ১০০৮০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬০৩)
হাদিস নং: ৬১৪৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا حاتم بن اسماعيل، عن يزيد بن ابي عبيد، عن سلمة بن الاكوع، قال خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم الى خيبر فسرنا ليلا، فقال رجل من القوم لعامر بن الاكوع الا تسمعنا من هنيهاتك، قال وكان عامر رجلا شاعرا، فنزل يحدو بالقوم يقول اللهم لولا انت ما اهتدينا ولا تصدقنا ولا صلينا فاغفر فداء لك ما اقتفينا وثبت الاقدام ان لاقينا والقين سكينة علينا انا اذا صيح بنا اتينا وبالصياح عولوا علينا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من هذا الساىق ". قالوا عامر بن الاكوع. فقال " يرحمه الله ". فقال رجل من القوم وجبت يا نبي الله، لو امتعتنا به. قال فاتينا خيبر فحاصرناهم حتى اصابتنا مخمصة شديدة، ثم ان الله فتحها عليهم، فلما امسى الناس اليوم الذي فتحت عليهم اوقدوا نيرانا كثيرة. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما هذه النيران، على اى شىء توقدون ". قالوا على لحم. قال " على اى لحم ". قالوا على لحم حمر انسية. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اهرقوها واكسروها ". فقال رجل يا رسول الله او نهريقها ونغسلها قال " او ذاك ". فلما تصاف القوم كان سيف عامر فيه قصر، فتناول به يهوديا ليضربه، ويرجع ذباب سيفه فاصاب ركبة عامر فمات منه، فلما قفلوا قال سلمة راني رسول الله صلى الله عليه وسلم شاحبا. فقال لي " ما لك ". فقلت فدى لك ابي وامي زعموا ان عامرا حبط عمله. قال " من قاله ". قلت قاله فلان وفلان وفلان واسيد بن الحضير الانصاري. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " كذب من قاله، ان له لاجرين ـ وجمع بين اصبعيه ـ انه لجاهد مجاهد، قل عربي نشا بها مثله ".
৬১৪৮. সালামাহ ইবনু আকওয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে খাইবার অভিযানে গেলাম। আমরা রাতে চলছিলাম। দলের মধ্যে থেকে একজন ’আমির ইবনু আক্ওয়া (রাঃ) বললেন যে, আপনি কি আপনার কবিতাগুলো থেকে কিছু পড়ে আমাদের শুনাবেন না? ’আমির ছিলেন একজন কবি। কাজেই তিনি দলের লোকদের হুদী গেয়ে শুনাতে লাগলেনঃ
’’হে আল্লাহ! তুমি না হলে, আমরা হিদায়াত পেতাম না।
আমরা সাদাকা দিতাম না, সালাত আদায় করতাম না।
আমাদের পূর্ববর্তী গুনাহ ক্ষমা করুন; যা আমরা আপনার জন্য উৎসর্গিত করেছি।
যদি আমরা শত্রুর মুখোমুখী হই, তখন আমাদের পদদ্বয় সুদৃঢ় রাখুন।
আমাদের উপর শান্তি বর্ষণ করুন,
শত্রুর ডাকের সময় আমরা যেন বীরের মত ধাবিত হই।
যখন তারা হৈ-হুল্লোড় করে, আমাদের উপর আক্রমণ চালায়।’’
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ এ উট চালক লোকটি কে? লোকেরা বললেনঃ তিনি ’আমির ইবনু আক্ওয়া। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তার উপর রহম করুন। দলের একজন বললেনঃ হে আল্লাহর নবী! তার জন্য তো শাহাদাত নির্দিষ্ট হয়ে গেল। হায়! যদি আমাদের এ সুযোগ দান করতেন। তারপর আমরা খাইবারে পৌঁছে শত্রুদের অবরোধ করে ফেললাম। এ সময় আমরা ভীষণ ক্ষুধার্ত হয়ে পড়লাম। অবশেষে আল্লাহ (খাইবারে যুদ্ধে) তাদের উপর আমাদের বিজয় দান করলেন। তারপর যেদিন খাইবার জয় হলো, সেদিন লোকেরা অনেক আগুন জ্বালাল।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা এত সব আগুন কেন জ্বালাচ্ছ? লোকেরা বললোঃ মাংস রান্নার জন্য। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ কিসের মাংস? তারা বললঃ গৃহপালিত গাধার মাংস। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এসব মাংস ফেলে দাও এবং হাঁড়িগুলো ভেঙ্গে দাও। এক ব্যক্তি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! বরং মাংসগুলো ফেলে আমরা হাঁড়িগুলো ধুয়ে নেই? তিনি বললেনঃ আচ্ছা তাই কর।
রাবী বলেনঃ যখন লোকেরা যুদ্ধে সারিবদ্ধ হল। ’আমির (রাঃ) এর তলোয়ার খানা ছোট ছিল। তিনি এক ইয়াহূদীকে মারার উদ্দেশে এটি দিয়ে তার উপর আক্রমণ করলেন। কিন্তু তার তলোয়ারের ধারাল অংশ ’আমির-এরই হাঁটুতে এসে আঘাত করল। এতে তিনি মারা গেলেন। তারপর ফিরার সময় সবাই ফিরলেন। সালামাহ (রাঃ) বলেনঃ আমার চেহারার রং বদল হওয়া দেখে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার কী হয়েছে?
আমি বললামঃ আমার বাপ-মা আপনার প্রতি কুরবান হোক! লোকেরা বলছে যে, ’আমিরের ’আমল সব বরবাদ হয়ে গেছে। তিনি বললেনঃ এ কথাটা কে বলেছে? আমি বললামঃ অমুক, অমুক, অমুক এবং উসায়দ ইবনু হুযাইর আনসারী। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যারা এ কথা বলেছে, তারা মিথ্যা বলেছে। তিনি বললেনঃ তাঁর জন্য আছে দু’টি পুরস্কার, সে জাহিদ এবং মুজাহিদ। আরবে তাঁর মত লোক অল্পই হবে। [৬৪৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬০৪)
’’হে আল্লাহ! তুমি না হলে, আমরা হিদায়াত পেতাম না।
আমরা সাদাকা দিতাম না, সালাত আদায় করতাম না।
আমাদের পূর্ববর্তী গুনাহ ক্ষমা করুন; যা আমরা আপনার জন্য উৎসর্গিত করেছি।
যদি আমরা শত্রুর মুখোমুখী হই, তখন আমাদের পদদ্বয় সুদৃঢ় রাখুন।
আমাদের উপর শান্তি বর্ষণ করুন,
শত্রুর ডাকের সময় আমরা যেন বীরের মত ধাবিত হই।
যখন তারা হৈ-হুল্লোড় করে, আমাদের উপর আক্রমণ চালায়।’’
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ এ উট চালক লোকটি কে? লোকেরা বললেনঃ তিনি ’আমির ইবনু আক্ওয়া। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তার উপর রহম করুন। দলের একজন বললেনঃ হে আল্লাহর নবী! তার জন্য তো শাহাদাত নির্দিষ্ট হয়ে গেল। হায়! যদি আমাদের এ সুযোগ দান করতেন। তারপর আমরা খাইবারে পৌঁছে শত্রুদের অবরোধ করে ফেললাম। এ সময় আমরা ভীষণ ক্ষুধার্ত হয়ে পড়লাম। অবশেষে আল্লাহ (খাইবারে যুদ্ধে) তাদের উপর আমাদের বিজয় দান করলেন। তারপর যেদিন খাইবার জয় হলো, সেদিন লোকেরা অনেক আগুন জ্বালাল।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা এত সব আগুন কেন জ্বালাচ্ছ? লোকেরা বললোঃ মাংস রান্নার জন্য। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ কিসের মাংস? তারা বললঃ গৃহপালিত গাধার মাংস। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এসব মাংস ফেলে দাও এবং হাঁড়িগুলো ভেঙ্গে দাও। এক ব্যক্তি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! বরং মাংসগুলো ফেলে আমরা হাঁড়িগুলো ধুয়ে নেই? তিনি বললেনঃ আচ্ছা তাই কর।
রাবী বলেনঃ যখন লোকেরা যুদ্ধে সারিবদ্ধ হল। ’আমির (রাঃ) এর তলোয়ার খানা ছোট ছিল। তিনি এক ইয়াহূদীকে মারার উদ্দেশে এটি দিয়ে তার উপর আক্রমণ করলেন। কিন্তু তার তলোয়ারের ধারাল অংশ ’আমির-এরই হাঁটুতে এসে আঘাত করল। এতে তিনি মারা গেলেন। তারপর ফিরার সময় সবাই ফিরলেন। সালামাহ (রাঃ) বলেনঃ আমার চেহারার রং বদল হওয়া দেখে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার কী হয়েছে?
আমি বললামঃ আমার বাপ-মা আপনার প্রতি কুরবান হোক! লোকেরা বলছে যে, ’আমিরের ’আমল সব বরবাদ হয়ে গেছে। তিনি বললেনঃ এ কথাটা কে বলেছে? আমি বললামঃ অমুক, অমুক, অমুক এবং উসায়দ ইবনু হুযাইর আনসারী। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যারা এ কথা বলেছে, তারা মিথ্যা বলেছে। তিনি বললেনঃ তাঁর জন্য আছে দু’টি পুরস্কার, সে জাহিদ এবং মুজাহিদ। আরবে তাঁর মত লোক অল্পই হবে। [৬৪৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬০৪)
হাদিস নং: ৬১৪৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد، حدثنا اسماعيل، حدثنا ايوب، عن ابي قلابة، عن انس بن مالك ـ رضى الله عنه ـ قال اتى النبي صلى الله عليه وسلم على بعض نساىه ومعهن ام سليم فقال " ويحك يا انجشة، رويدك سوقا بالقوارير ". قال ابو قلابة فتكلم النبي صلى الله عليه وسلم بكلمة، لو تكلم بعضكم لعبتموها عليه قوله " سوقك بالقوارير ".
৬১৪৯. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কতক স্ত্রীর নিকট আসলেন। তখন তাঁদের সঙ্গে উম্মু সুলায়মও ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সর্বনাশ, হে আনজাশাহ! তুমি (উট) ধীরে চালাও। কেননা, তুমি কাঁচপাত্র (মহিলা) নিয়ে চলেছ। রাবী আবূ কিলাবা বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’সাওকাকা বিল কাওয়ারীর’ বাক্য দ্বারা এমন বিষয়ের প্রতি ইশারা করলেন, যা অন্য কেউ বললে, তোমরা তাকে ঠাট্টা করতে। [৬১৬১, ৬২০২, ৬২০৯, ৬২১০, ৬২১১; মুসলিম ৪৩/১৭, হাঃ ২৩২৩, আহমাদ ১২৯৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬০৫)
হাদিস নং: ৬১৫০
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد، حدثنا اسماعيل، حدثنا ايوب، عن ابي قلابة، عن انس بن مالك ـ رضى الله عنه ـ قال اتى النبي صلى الله عليه وسلم على بعض نساىه ومعهن ام سليم فقال " ويحك يا انجشة، رويدك سوقا بالقوارير ". قال ابو قلابة فتكلم النبي صلى الله عليه وسلم بكلمة، لو تكلم بعضكم لعبتموها عليه قوله " سوقك بالقوارير ".
৬১৫০. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার হাস্সান ইবনু সাবিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট মুশরিকদের নিন্দা করার অনুমতি চাইলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা হলে এ নিন্দা থেকে আমার বংশের মর্যাদা কীভাবে রক্ষা পাবে? তখন হাস্সান বললেনঃ আমি তাদের থেকে আপনাকে এমনভাবে বের করে নেব, যেভাবে মাখানো আটা থেকে চুল বের করা হয়।
রাবী ’উরওয়াহ বর্ণনা করেন, একদিন আমি ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে হাস্সান-কে গালি দিতে লাগলাম, তখন তিনি বললেনঃ তুমি তাঁকে গালি দিওনা। কারণ, তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পক্ষ হতে মুশরিকদের প্রতিরোধ করতেন। [৩৫৩১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬০৬)
রাবী ’উরওয়াহ বর্ণনা করেন, একদিন আমি ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে হাস্সান-কে গালি দিতে লাগলাম, তখন তিনি বললেনঃ তুমি তাঁকে গালি দিওনা। কারণ, তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পক্ষ হতে মুশরিকদের প্রতিরোধ করতেন। [৩৫৩১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬০৬)
হাদিস নং: ৬১৫১
সহিহ (Sahih)
حدثنا اصبغ، قال اخبرني عبد الله بن وهب، قال اخبرني يونس، عن ابن شهاب، ان الهيثم بن ابي سنان، اخبره انه، سمع ابا هريرة، في قصصه يذكر النبي صلى الله عليه وسلم يقول " ان اخا لكم لا يقول الرفث ". يعني بذاك ابن رواحة قال فينا رسول الله يتلو كتابه اذا انشق معروف من الفجر ساطع ارانا الهدى بعد العمى فقلوبنا به موقنات ان ما قال واقع يبيت يجافي جنبه عن فراشه اذا استثقلت بالكافرين المضاجع تابعه عقيل عن الزهري. وقال الزبيدي عن الزهري عن سعيد والاعرج عن ابي هريرة.
৬১৫১. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) তাঁর বর্ণনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা উল্লেখ করে বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের ভাই অর্থাৎ কবি ইবনু রাওয়াহা অশ্লীল কথা বলেননি। তিনি বলতেনঃ
আমাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রয়েছেন, তিনি কুরআন তিলাওয়াত করেন;
যখন সকালের মন মাতানো আলো ফুটে উঠে।
আমরা পথহারা হবার পর তিনি আমাদের সুপথ দেখিয়েছেন।
আর আমরা অন্তরের সাথে একীন করলাম যে, তিনি যা বলেছেন, তা ঘটবেই।
তিনি নিজ পৃষ্ঠদেশ বিছানা থেকে আলাদা রেখেই রাত্রি অতিবাহিত করেন।
যখন কাফিরদের আনন্দের শয্যা তাদের পক্ষে খুব কষ্টকর হয়। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬০৭)
আমাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রয়েছেন, তিনি কুরআন তিলাওয়াত করেন;
যখন সকালের মন মাতানো আলো ফুটে উঠে।
আমরা পথহারা হবার পর তিনি আমাদের সুপথ দেখিয়েছেন।
আর আমরা অন্তরের সাথে একীন করলাম যে, তিনি যা বলেছেন, তা ঘটবেই।
তিনি নিজ পৃষ্ঠদেশ বিছানা থেকে আলাদা রেখেই রাত্রি অতিবাহিত করেন।
যখন কাফিরদের আনন্দের শয্যা তাদের পক্ষে খুব কষ্টকর হয়। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬০৭)
হাদিস নং: ৬১৫২
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري،. وحدثنا اسماعيل، قال حدثني اخي، عن سليمان، عن محمد بن ابي عتيق، عن ابن شهاب، عن ابي سلمة بن عبد الرحمن بن عوف، انه سمع حسان بن ثابت الانصاري، يستشهد ابا هريرة فيقول يا ابا هريرة نشدتك بالله هل سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول" يا حسان اجب عن رسول الله، اللهم ايده بروح القدس ". قال ابو هريرة نعم.
৬১৫২. হাস্সান ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আবূ হুরাইরাহ! আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি। আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছেন যে, ওহে হাস্সান! তুমি আল্লাহর রাসূলের পক্ষ থেকে প্রত্যুত্তর দাও। হে আল্লাহ! তুমি জিব্রীল (আ.)-এর দ্বারা তাকে সাহায্য কর। আবূ হুরাইরাহ বললেনঃ হাঁ। [৩৫৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬০৮)
হাদিস নং: ৬১৫৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا سليمان بن حرب، حدثنا شعبة، عن عدي بن ثابت، عن البراء ـ رضى الله عنه ـ ان النبي صلى الله عليه وسلم قال لحسان " اهجهم ـ او قال هاجهم ـ وجبريل معك ".
৬১৫৩. বারাআ’ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসসান (রাঃ)-কে বললেনঃ তুমি কাফিরদের নিন্দা করো। জিবরীল (আ.) এ কাজে তোমাকে সাহায্য করবেন। [৩২১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬০৯)
হাদিস নং: ৬১৫৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبيد الله بن موسى، اخبرنا حنظلة، عن سالم، عن ابن عمر ـ رضى الله عنهما ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " لان يمتلى جوف احدكم قيحا خير له من ان يمتلى شعرا ".
৬১৫৪. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো পেট কবিতা দিয়ে ভরার চেয়ে পুঁজে ভরা অনেক ভাল। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬১০)
হাদিস নং: ৬১৫৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عمر بن حفص، حدثنا ابي، حدثنا الاعمش، قال سمعت ابا صالح، عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ـ قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لان يمتلى جوف رجل قيحا يريه خير من ان يمتلى شعرا ".
৬১৫৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির পেট কবিতা দিয়ে ভরার চেয়ে এমন পুঁজে ভরা উত্তম, যা তোমাদের পেটকে ধ্বংস করে ফেলে। [মুসলিম পর্ব ৪১/হাঃ ২২৫৭, আহমাদ ১০২০১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬১১)
হাদিস নং: ৬১৫৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن بكير، حدثنا الليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، عن عروة، عن عاىشة، قالت ان افلح اخا ابي القعيس استاذن على بعد ما نزل الحجاب فقلت والله لا اذن له حتى استاذن رسول الله صلى الله عليه وسلم فان اخا ابي القعيس ليس هو ارضعني، ولكن ارضعتني امراة ابي القعيس. فدخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت يا رسول الله ان الرجل ليس هو ارضعني، ولكن ارضعتني امراته. قال " اىذني له، فانه عمك، تربت يمينك ". قال عروة فبذلك كانت عاىشة تقول حرموا من الرضاعة ما يحرم من النسب.
৬১৫৬. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, পর্দার হুকুম অবতীর্ণ হবার পর আবূ কু’আইসের ভাই আফলাহ আমার ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। আমি বললামঃ আল্লাহর কসম! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুমতি না নিয়ে তাকে অনুমতি দেব না। কারণ আবূ কু’আইসের স্ত্রী আমাকে দুগ্ধ পান করিয়েছেন। ইতোমধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে প্রবেশ করলেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! এ লোক আমাকে দুধ পান করাননি। বরং তাঁর স্ত্রী আমাকে দুধ পান করিয়েছেন। তিনি বললেনঃ অনুমতি দাও। কারণ এ লোকটি তোমার (দুধ) চাচা। তোমার ডান হস্ত ধূলি ধূসরিত হোক। রাবী ’উরওয়াহ বলেন, এ কারণেই ’আয়িশাহ (রাঃ) বলতেন যে, বংশগত সম্পর্কে যারা হারাম হয়, দুধ পান সম্পর্কেও তোমরা তাদের হারাম গণ্য করবে। [২৬৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬১২)
হাদিস নং: ৬১৫৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا ادم، حدثنا شعبة، حدثنا الحكم، عن ابراهيم، عن الاسود، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ قالت اراد النبي صلى الله عليه وسلم ان ينفر فراى صفية على باب خباىها كىيبة حزينة لانها حاضت فقال " عقرى حلقى ـ لغة قريش ـ انك لحابستنا " ثم قال " اكنت افضت يوم النحر ". يعني الطواف قالت نعم. قال " فانفري اذا ".
৬১৫৭. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হাজ্জ সমাপন শেষে) ফিরে আসার ইচ্ছে পোষণ করলেন। তখন ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার কারণে তাঁর দরজার সামনে সাফিয়্যাহ চিন্তিত ও বিষণ্ণ মুখে দাঁড়িয়ে আছেন দেখতে পেলেন। তখন তিনি কুরাইশদের বাগধারায় বললেনঃ ’আকরা হালকা’। তুমি তো দেখছি, আমাদের আটকে দিবে। এরপর জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি কুরবানীর দিনে ফরজ তাওয়াফ করেছিলে? তিনি বললেনঃ হাঁ। তখন তিনি বললেনঃ তাহলে এখন রওনা দাও। [২৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬১৩)
হাদিস নং: ৬১৫৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن مسلمة، عن مالك، عن ابي النضر، مولى عمر بن عبيد الله ان ابا مرة، مولى ام هانى بنت ابي طالب اخبره انه، سمع ام هانى بنت ابي طالب، تقول ذهبت الى رسول الله صلى الله عليه وسلم عام الفتح فوجدته يغتسل، وفاطمة ابنته تستره، فسلمت عليه، فقال " من هذه ". فقلت انا ام هانى بنت ابي طالب. فقال " مرحبا بام هانى ". فلما فرغ من غسله قام فصلى ثماني ركعات، ملتحفا في ثوب واحد، فلما انصرف قلت يا رسول الله زعم ابن امي انه قاتل رجلا قد اجرته فلان بن هبيرة. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " قد اجرنا من اجرت يا ام هانى ". قالت ام هانى وذاك ضحى.
৬১৫৮. উম্মু হানী বিন্ত আবূ তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের বছর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গিয়ে তাঁকে গোসলরত অবস্থায় পেলাম। তখন তাঁর কন্যা ফাতিমাহ তাঁকে পর্দা দিয়ে আড়াল করছিলেন। আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ এ কে? আমি বললামঃ আমি আবূ তালিবের কন্যা উম্মু হানী। তিনি বললেনঃ উম্মু হানীর জন্য মারহাবা। তারপর তিনি যখন গোসল শেষ করলেন। তখন তিনি দাঁড়ালেন এবং এক কাপড় গায়ে জড়িয়ে আট রাক’আত সালাত আদায় করলেন। তিনি সালাত শেষ করলে আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি হুবাইরার ছেলে অমুককে নিরাপত্তা দান করেছিলাম কিন্তু আমার ভাই বলছে, সে তাকে হত্যা করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে উম্মু হানী! তুমি যাকে নিরাপত্তা দিয়েছ, আমিও তাকে নিরাপত্তা দিলাম। উম্মু হানী বলেনঃ এই সময়টি ছিল চাশতের সময়। [২৮০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬১৪)
হাদিস নং: ৬১৫৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا همام، عن قتادة، عن انس ـ رضى الله عنه ان النبي صلى الله عليه وسلم راى رجلا يسوق بدنة فقال " اركبها ". قال انها بدنة. قال " اركبها ". قال انها بدنة. قال " اركبها ويلك ".
৬১৫৯. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে একটা কুরবানীর উট হাঁকিয়ে নিতে দেখে, তাকে বললেনঃ এতে সাওয়ার হও। সে বললঃ এটি তো কুরবানীর উট। তিনি পুনরায় বললেনঃ এতে সাওয়ার হও। সে বললঃ এটি তো কুরবানীর উট। তিনি বললেনঃ এতে সওয়ার হও। সে বলল, এটি তো কুরবানীর উট। তিনি বললেনঃ ওয়াইলাকা (তোমার অকল্যাণ হোক) তুমি এটির উপর সওয়ার হয়ে যাও। [১৬৯০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬১৫)
হাদিস নং: ৬১৬০
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد، عن مالك، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ـ ان رسول الله صلى الله عليه وسلم راى رجلا يسوق بدنة فقال له " اركبها ". قال يا رسول الله انها بدنة. قال " اركبها ويلك ". في الثانية او في الثالثة.
৬১৬০. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে একটা কুরবানীর উট হাঁকিয়ে নিয়ে যেতে দেখে বললেনঃ তুমি এর উপর সওয়ার হও। সে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! এটি তো কুরবানীর উট। তখন তিনি দ্বিতীয় বা কিংবা তৃতীয়বার বললেনঃ ওয়াইলাকা (তোমার অনিষ্ট হোক) তুমি এতে সওয়ার হও। [১৬৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬১৬)
হাদিস নং: ৬১৬১
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد، حدثنا حماد، عن ثابت البناني، عن انس بن مالك،. وايوب عن ابي قلابة، عن انس بن مالك، قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفر، وكان معه غلام له اسود، يقال له انجشة، يحدو، فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم " ويحك يا انجشة رويدك بالقوارير ".
৬১৬১. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক সফরে ছিলাম। তাঁর সঙ্গে তখন আনজাশাহ নামের এক কালো গোলাম ছিল। সে পুঁথি গাইছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ ওহে আনজাশাহ! তোমার সর্বনাশ। তুমি উটটিকে কাঁচপাত্র সদৃশ সওয়ারীদের নিয়ে ধীরে চালাও। [১৬৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬১৭)
হাদিস নং: ৬১৬২
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا وهيب، عن خالد، عن عبد الرحمن بن ابي بكرة، عن ابيه، قال اثنى رجل على رجل عند النبي صلى الله عليه وسلم فقال " ويلك قطعت عنق اخيك ـ ثلاثا ـ من كان منكم مادحا لا محالة فليقل احسب فلانا ـ والله حسيبه ـ ولا ازكي على الله احدا. ان كان يعلم ".
৬১৬২. আবূ বকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে অন্য জনের প্রশংসা করলো। তিনি বললেনঃ ’ওয়াইলাকা’ (তোমার অমঙ্গল হোক) তুমি তো তোমার ভাই এর গর্দান কেটে দিয়েছ। তিনি এ কথাটি তিনবার বললেন। তিনি আরও বললেনঃ যদি তোমাদের কাউকে কারো প্রশংসা করতেই হয়, আর সে তার ব্যাপারে অবগত থাকে, তবে শুধু এতটুকু বলবে যে, আমি এ ব্যক্তি সম্পর্কে এ রকম ধারণা পোষণ করি। প্রকৃত হিসাব নিকাশের মালিক একমাত্র আল্লাহ। আর আমি নিশ্চিতভাবে আল্লাহর সামনে কারো পবিত্রতা বর্ণনা করছি না। [২৬৬২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬১৮)
হাদিস নং: ৬১৬৩
সহিহ (Sahih)
حدثني عبد الرحمن بن ابراهيم، حدثنا الوليد، عن الاوزاعي، عن الزهري، عن ابي سلمة، والضحاك، عن ابي سعيد الخدري، قال بينا النبي صلى الله عليه وسلم يقسم ذات يوم قسما فقال ذو الخويصرة ـ رجل من بني تميم ـ يا رسول الله اعدل. قال " ويلك من يعدل اذا لم اعدل ". فقال عمر اىذن لي فلاضرب عنقه. قال " لا، ان له اصحابا يحقر احدكم صلاته مع صلاتهم، وصيامه مع صيامهم، يمرقون من الدين كمروق السهم من الرمية، ينظر الى نصله فلا يوجد فيه شىء، ثم ينظر الى رصافه فلا يوجد فيه شىء، ثم ينظر الى نضيه فلا يوجد فيه شىء، ثم ينظر الى قذذه فلا يوجد فيه شىء، سبق الفرث والدم، يخرجون على حين فرقة من الناس، ايتهم رجل احدى يديه مثل ثدى المراة، او مثل البضعة تدردر ". قال ابو سعيد اشهد لسمعته من النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم واشهد اني كنت مع علي حين قاتلهم، فالتمس في القتلى، فاتي به على النعت الذي نعت النبي صلى الله عليه وسلم.
৬১৬৩. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার নিজ অধিকারভুক্ত কিছু মাল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বণ্টন করে দিচ্ছিলেন। এমন সময় তামীম গোত্রের যুল খুয়াইসিরা নামক এক ব্যক্তি বলে উঠলঃ হে আল্লাহর রাসূল! ইনসাফ করুন। তখন তিনি বললেনঃ ওয়াইলাকা (তোমার অমঙ্গল হোক) আমি ইনসাফ না করলে আর কে ইনসাফ করবে? তখন ’উমার (রাঃ) বললেনঃ আপনি আমাকে অনুমতি দিন, আমি এর গর্দান উড়িয়ে দেই। তিনি বললেনঃ না। কারণ, তার এমন কতকগুলো সঙ্গী আছে; যাদের সালাতের সামনে নিজেদের সালাতকে তুচ্ছ মনে করবে এবং তাদের সিয়ামের সামনে তোমাদের নিজেদের সিয়ামকে তুচ্ছ মনে করবে। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে, যেমন তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায় ...... গোবর ও রক্তকে এমনভাবে অতিক্রম করে যায় যে তীরের অগ্রভাগ দেখলে তাতে কোন চিহ্ন পাওয়া যায় না, তার উপরিভাগে দেখলেও কোন চিহ্ন পাওয়া যায় না। তার কাঠামোতেও কোন চিহ্ন নেই। তার পাতির মধ্যেও কোন চিহ্ন নেই।
এমন সময় তাদের আবির্ভাব হবে, যখন মুসলিমদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিবে। তাদের পরিচয় হলো, তাদের নেতা এমন এক ব্যক্তি হবে, যার একহাত স্ত্রীলোকের স্তনের মত অথবা পিত্তের মত কাঁপতে থাকবে। রাবী আবূ সা’ঈদ (রাঃ) বলেন, আমি সাক্ষ্য দিয়ে বলছি যে, আমি নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ কথা শুনেছি এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি নিজে ’আলী (রাঃ)-এর সাথে ছিলাম যখন তিনি এ দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিলেন। তখন সে লোকটিকে যুদ্ধে নিহত লোকদের মধ্য থেকে তালাশ করে আনার পর তাকে ঠিক সেই হালাতেই পাওয়া গেল, যে হালাতের বর্ণনা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছিলেন। [৩৩৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬১৯)
এমন সময় তাদের আবির্ভাব হবে, যখন মুসলিমদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিবে। তাদের পরিচয় হলো, তাদের নেতা এমন এক ব্যক্তি হবে, যার একহাত স্ত্রীলোকের স্তনের মত অথবা পিত্তের মত কাঁপতে থাকবে। রাবী আবূ সা’ঈদ (রাঃ) বলেন, আমি সাক্ষ্য দিয়ে বলছি যে, আমি নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ কথা শুনেছি এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি নিজে ’আলী (রাঃ)-এর সাথে ছিলাম যখন তিনি এ দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিলেন। তখন সে লোকটিকে যুদ্ধে নিহত লোকদের মধ্য থেকে তালাশ করে আনার পর তাকে ঠিক সেই হালাতেই পাওয়া গেল, যে হালাতের বর্ণনা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছিলেন। [৩৩৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬১৯)
হাদিস নং: ৬১৬৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن مقاتل ابو الحسن، اخبرنا عبد الله، اخبرنا الاوزاعي، قال حدثني ابن شهاب، عن حميد بن عبد الرحمن، عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ان رجلا، اتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله هلكت. قال " ويحك ". قال وقعت على اهلي في رمضان. قال " اعتق رقبة ". قال ما اجدها. قال " فصم شهرين متتابعين ". قال لا استطيع. قال " فاطعم ستين مسكينا ". قال ما اجد. فاتي بعرق فقال " خذه فتصدق به ". فقال يا رسول الله اعلى غير اهلي فوالذي نفسي بيده ما بين طنبى المدينة احوج مني. فضحك النبي صلى الله عليه وسلم حتى بدت انيابه قال " خذه ". تابعه يونس عن الزهري. وقال عبد الرحمن بن خالد عن الزهري ويلك.
৬১৬৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একবার এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমাতে এসে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি বললেনঃ ’ওয়াইহাকা’ (আফসোস তোমার জন্য) এরপর সে বললঃ আমি রমাযানের মধ্যেই দিনের বেলায় আমার স্ত্রীর সাথে যৌন সঙ্গম করে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ একটা গোলাম আযাদ করে দাও। সে বললঃ আমার কাছে তা নেই। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি এক নাগাড়ে দু’ মাস সওম পালন কর। সে বললঃ আমি এতেও অপারগ। তিনি বললেনঃ তবে তুমি ষাটজন মিসকীনকে খাওয়াও। লোকটি বললঃ আমি এটাও পারি না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক ঝুড়ি খেজুর এলো। তখন তিনি বললেনঃ এটা নিয়ে যাও এবং সাদাকা করে দাও। সে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! তা কি আমার পরিবার ছাড়া অন্যকে দেব? সেই সত্তার কসম! যাঁর হাতে আমার প্রাণ। মদিনার উভয় প্রান্তের মধ্যস্থলে আমার চেয়ে অভাবী আর কেউ নেই। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে হাসলেন, তাঁর পার্শ্বের ছেদন দন্ত পর্যন্ত প্রকাশ পেল। তিনি বললেনঃ তবে তুমিই নিয়ে যাও। [১৯৩৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬২০)
যুহরি হতে ইউনুস এরকমই বর্ণনা করেছেন। যুহরি হতে ’আবদুর রহমান বিন খালিদ ’ওয়াইলাকা’ বলেছেন।
যুহরি হতে ইউনুস এরকমই বর্ণনা করেছেন। যুহরি হতে ’আবদুর রহমান বিন খালিদ ’ওয়াইলাকা’ বলেছেন।
হাদিস নং: ৬১৬৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا سليمان بن عبد الرحمن، حدثنا الوليد، حدثنا ابو عمرو الاوزاعي، قال حدثني ابن شهاب الزهري، عن عطاء بن يزيد الليثي، عن ابي سعيد الخدري ـ رضى الله عنه ان اعرابيا قال يا رسول الله اخبرني عن الهجرة. فقال " ويحك ان شان الهجرة شديد، فهل لك من ابل ". قال نعم. قال " فهل تودي صدقتها ". قال نعم. قال " فاعمل من وراء البحار، فان الله لن يترك من عملك شيىا ".
৬১৬৫. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। একজন গ্রাম্য লোক এসে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে হিজরতের বিষয়ে কিছু বলুন। তিনি বললেনঃ আফসোস তোমার প্রতি, হিজরত তো খুব কঠিন কাজ। তোমার কি উট আছে? সে বললঃ হাঁ। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি এর যাকাত দিয়ে থাক? লোকটি বললঃ হাঁ। তিনি বললেনঃ তবে তুমি সমুদ্রের ঐ পাশ থেকেই ’আমল করে যাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমার ’আমল এতটুকু কমিয়ে দিবেন না। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭২৫ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬২১)
হাদিস নং: ৬১৬৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن عبد الوهاب، حدثنا خالد بن الحارث، حدثنا شعبة، عن واقد بن محمد بن زيد، سمعت ابي، عن ابن عمر ـ رضى الله عنهما ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قال " ويلكم ـ او ويحكم قال شعبة شك هو ـ لا ترجعوا بعدي كفارا، يضرب بعضكم رقاب بعض ". وقال النضر عن شعبة ويحكم. وقال عمر بن محمد عن ابيه ويلكم او ويحكم.
৬১৬৬. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ’ওয়াইলাকুম’ অথবা ’ওয়াইহাকুম’ (তোমাদের জন্য আফসোস) আমার পরে তোমরা আবার কাফির অবস্থায় ফিরে যেয়ো না। যাতে তোমরা একে অন্যের গর্দান উড়িয়ে দেবে। [১৭৪২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬২২)