অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৭৮/১. মহান আল্লাহর বাণীঃ পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করার জন্য আমি মানুষের প্রতি ফরমান জারি করেছি। সূরাহ আনকাবূত ২৯/৮)
মোট ২৫৭ টি হাদিস
হাদিস নং: ৬১২৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو النعمان، حدثنا حماد بن زيد، عن الازرق بن قيس، قال كنا على شاطى نهر بالاهواز قد نضب عنه الماء، فجاء ابو برزة الاسلمي على فرس، فصلى وخلى فرسه، فانطلقت الفرس، فترك صلاته وتبعها حتى ادركها، فاخذها ثم جاء فقضى صلاته، وفينا رجل له راى، فاقبل يقول انظروا الى هذا الشيخ ترك صلاته من اجل فرس. فاقبل فقال ما عنفني احد منذ فارقت رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال ان منزلي متراخ فلو صليت وتركت لم ات اهلي الى الليل. وذكر انه صحب النبي صلى الله عليه وسلم فراى من تيسيره.
৬১২৭. আযরাক ইবনু ক্বায়স (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা ’আহ্ওয়ায’ নামক স্থানে একটা খালের ধারে অবস্থান করছিলাম। খালটির পানি শুকিয়ে গিয়েছিল। এমন সময় আবূ বারযা আসলামী (রাঃ) একটি ঘোড়ায় সাওয়ার হয়ে সেখানে এলেন। তিনি ঘোড়াটিকে ছেড়ে দিয়ে সালাতে দাঁড়ালেন। তখন ঘোড়াটা (দূরে) চলে গেল দেখে তিনি সালাত ছেড়ে দিয়ে ঘোড়ার পিছু নিলেন এবং ঘোড়াটি পেয়ে ধরে আনলেন। তারপর সালাত পূর্ণ করলেন। এ সময় আমাদের মধ্যে একজন বিরূপ সমালোচক ছিলেন। তিনি তা দেখে বললেনঃ এই বৃদ্ধের প্রতি লক্ষ্য কর, সে ঘোড়ার কারণে সালাত ছেড়ে দিল। তখন আবূ বারযাহ (রাঃ) এগিয়ে এসে বললেনঃ যখন থেকে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হারিয়েছি, তখন থেকে আজ পর্যন্ত কেউ আমাকে এভাবে ভৎর্সনা করেননি। তিনি আরও বললেনঃ আমার বাড়ী অনেক দূরে। সুতরাং যদি আমি সালাত আদায় করতাম এবং ঘোড়াটিকে এভাবেই ছেড়ে দিতাম, তাহলে আমি রাতে নিজ পরিবারের কাছে পৌঁছতে পারতাম না। তিনি আরও উল্লেখ করলেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গ লাভ করেছেন এবং তাঁর নম্র ব্যবহার দেখেছেন। [১২১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৮৪)
হাদিস নং: ৬১২৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، ح وقال الليث حدثني يونس، عن ابن شهاب، اخبرني عبيد الله بن عبد الله بن عتبة، ان ابا هريرة، اخبره ان اعرابيا بال في المسجد، فثار اليه الناس ليقعوا به فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم " دعوه، واهريقوا على بوله ذنوبا من ماء ـ او سجلا من ماء ـ فانما بعثتم ميسرين، ولم تبعثوا معسرين ".
৬১২৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার এক বেদুঈন মসজিদে প্রস্রাব করে দিলো। তখন লোকজন তাকে শাসন করার জন্য উত্তেজিত হয়ে পড়ল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ তোমরা তাকে ছেড়ে দাও এবং তার প্রস্রাবের উপর এক বালতি পানি অথবা একমাত্র পানি ঢেলে দাও। কারণ, তোমাদেরকে নম্র ব্যবহারকারী বানিয়ে পাঠানো হয়েছে, কঠোর ব্যবহারকারী হিসেবে পাঠানো হয়নি। [২২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৮৫)
হাদিস নং: ৬১২৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا ادم، حدثنا شعبة، حدثنا ابو التياح، قال سمعت انس بن مالك ـ رضى الله عنه ـ يقول ان كان النبي صلى الله عليه وسلم ليخالطنا حتى يقول لاخ لي صغير " يا ابا عمير ما فعل النغير ".
وَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ خَالِطِ النَّاسَ وَدِينَكَ لاَ تَكْلِمَنَّهُ. وَالدُّعَابَةِ مَعَ الأَهْلِ
ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) বলেন, মানুষের সাথে এমনভাবে মেলামেশা করবে, যেন তাতে তোমার দ্বীনে আঘাত না লাগে। আর পরিবারের সঙ্গে হাসি তামাশা করা।
৬১২৯. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে মেলামেশা করতেন, এমনকি তিনি আমার এক ছোট ভাইকে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আবূ ’উমায়র! কেমন আছে তোমার নুগায়র? [৬২০৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৮৬)
ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) বলেন, মানুষের সাথে এমনভাবে মেলামেশা করবে, যেন তাতে তোমার দ্বীনে আঘাত না লাগে। আর পরিবারের সঙ্গে হাসি তামাশা করা।
৬১২৯. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে মেলামেশা করতেন, এমনকি তিনি আমার এক ছোট ভাইকে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আবূ ’উমায়র! কেমন আছে তোমার নুগায়র? [৬২০৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৮৬)
হাদিস নং: ৬১৩০
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد، اخبرنا ابو معاوية، حدثنا هشام، عن ابيه، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ قالت كنت العب بالبنات عند النبي صلى الله عليه وسلم وكان لي صواحب يلعبن معي، فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا دخل يتقمعن منه، فيسربهن الى فيلعبن معي.
৬১৩০. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনেই আমি পুতুল বানিয়ে খেলতাম। আমার বান্ধবীরাও আমার সাথে খেলা করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করলে তারা দৌড়ে পালাত। তখন তিনি তাদের ডেকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তারা আমার সঙ্গে খেলত। [মুসলিম৪৪/১৩, হাঃ ২৪৪০, আহমাদ ২৬০২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৮৭)
হাদিস নং: ৬১৩১
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا سفيان، عن ابن المنكدر، حدثه عروة بن الزبير، ان عاىشة، اخبرته. انه، استاذن على النبي صلى الله عليه وسلم رجل فقال " اىذنوا له فبىس ابن العشيرة ". او " بىس اخو العشيرة ". فلما دخل الان له الكلام. فقلت له يا رسول الله قلت ما قلت، ثم النت له في القول. فقال " اى عاىشة، ان شر الناس منزلة عند الله من تركه ـ او ودعه ـ الناس اتقاء فحشه ".
وَيُذْكَرُ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ إِنَّا لَنَكْشِرُ فِي وُجُوهِ أَقْوَامٍ وَإِنَّ قُلُوبَنَا لَتَلْعَنُهُمْ
আবূ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, আমরা কোন কোন কাওমের সঙ্গে বাহ্যত হাসি-খুশি মেলামেশা করি। কিন্তু আমাদের অন্তরগুলো তাদের উপর লা’নাত বর্ষণ করে।
৬১৩১. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইল। তিনি বললেনঃ তাকে অনুমতি দাও। সে তার বংশের নিকৃষ্ট সন্তান। অথবা বললেনঃ সে তার গোত্রের ঘৃণ্যতম ভাই। যখন সে প্রবেশ করল, তখন তিনি তার সাথে নম্রভাবে কথাবার্তা বললেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এর ব্যাপারে যা বলার তা বলেছেন। এখন আপনি তার সাথে নম্রভাবে কথা বললেন। তিনি বললেনঃ হে ’আয়িশাহ! আল্লাহর কাছে মর্যাদায় নিকৃষ্ট সে ব্যক্তি, যার অশালীন ব্যবহার থেকে বেঁচে থাকার জন্য মানুষ তার সংসর্গ বর্জন করে চলে। [৬০৩২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৮৮)
আবূ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, আমরা কোন কোন কাওমের সঙ্গে বাহ্যত হাসি-খুশি মেলামেশা করি। কিন্তু আমাদের অন্তরগুলো তাদের উপর লা’নাত বর্ষণ করে।
৬১৩১. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইল। তিনি বললেনঃ তাকে অনুমতি দাও। সে তার বংশের নিকৃষ্ট সন্তান। অথবা বললেনঃ সে তার গোত্রের ঘৃণ্যতম ভাই। যখন সে প্রবেশ করল, তখন তিনি তার সাথে নম্রভাবে কথাবার্তা বললেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এর ব্যাপারে যা বলার তা বলেছেন। এখন আপনি তার সাথে নম্রভাবে কথা বললেন। তিনি বললেনঃ হে ’আয়িশাহ! আল্লাহর কাছে মর্যাদায় নিকৃষ্ট সে ব্যক্তি, যার অশালীন ব্যবহার থেকে বেঁচে থাকার জন্য মানুষ তার সংসর্গ বর্জন করে চলে। [৬০৩২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৮৮)
হাদিস নং: ৬১৩২
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن عبد الوهاب، اخبرنا ابن علية، اخبرنا ايوب، عن عبد الله بن ابي مليكة، ان النبي صلى الله عليه وسلم اهديت له اقبية من ديباج مزررة بالذهب، فقسمها في ناس من اصحابه وعزل منها واحدا لمخرمة، فلما جاء قال " خبات هذا لك ". قال ايوب بثوبه انه يريه اياه، وكان في خلقه شىء. رواه حماد بن زيد عن ايوب وقال حاتم بن وردان حدثنا ايوب، عن ابن ابي مليكة، عن المسور، قدمت على النبي صلى الله عليه وسلم اقبية.
৬১৩২. ’আবদুল্লাহ ইবনু আবূ মুলাইকাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কয়েকটি রেশমের তৈরী (সোনার বোতাম লাগান) ’কাবা’ হাদিয়া দেয়া হলো। তিনি এগুলো সাহাবীদের মধ্যে বেঁটে দিলেন এবং তা থেকে একটি মাখরামাহ (রাঃ)-এর জন্য আলাদা করে রাখলেন। পরে যখন তিনি এলেন, তখন তিনি বললেনঃ আমি এটি তোমার জন্য লুকিয়ে রেখেছিলাম। আইয়ূব নিজের কাপড়ের দিকে ইশারা করলেন, তিনি যেন তাঁর কাপড় মাখ্রামাহ্কে দেখাচ্ছিলেন। মাখরামাহ (রাঃ)-এর মেজাজের মধ্যে কিছু (অসন্তুষ্টির ভাব) ছিল। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৮৯)
হাদিস নং: ৬১৩৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن عقيل، عن الزهري، عن ابن المسيب، عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال " لا يلدغ المومن من جحر واحد مرتين ".
وَقَالَ مُعَاوِيَةُ لاَ حَكِيمَ إِلاَّ ذُو تَجْرِبَةٍ
মু’আবিয়া (রাঃ) বলেছেনঃ অভিজ্ঞতা ব্যতীত সহনশীলতা সম্ভব নয়।
৬১৩৩. আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রকৃত মু’মিন একই গর্ত থেকে দু’বার দংশিত হয় না। [মুসলিম৫৩/১২, হাঃ ২৯৯৮, আহমাদ ৮৯৩৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৯০)
মু’আবিয়া (রাঃ) বলেছেনঃ অভিজ্ঞতা ব্যতীত সহনশীলতা সম্ভব নয়।
৬১৩৩. আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রকৃত মু’মিন একই গর্ত থেকে দু’বার দংশিত হয় না। [মুসলিম৫৩/১২, হাঃ ২৯৯৮, আহমাদ ৮৯৩৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৯০)
হাদিস নং: ৬১৩৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق بن منصور، حدثنا روح بن عبادة، حدثنا حسين، عن يحيى بن ابي كثير، عن ابي سلمة بن عبد الرحمن، عن عبد الله بن عمرو، قال دخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " الم اخبر انك تقوم الليل وتصوم النهار ". قلت بلى. قال " فلا تفعل، قم ونم، وصم وافطر، فان لجسدك عليك حقا، وان لعينك عليك حقا، وان لزورك عليك حقا، وان لزوجك عليك حقا، وانك عسى ان يطول بك عمر، وان من حسبك ان تصوم من كل شهر ثلاثة ايام، فان بكل حسنة عشر امثالها فذلك الدهر كله ". قال فشددت فشدد على فقلت فاني اطيق غير ذلك. قال " فصم من كل جمعة ثلاثة ايام ". قال فشددت فشدد على قلت اطيق غير ذلك. قال " فصم صوم نبي الله داود ". قلت وما صوم نبي الله داود قال " نصف الدهر ".
৬১৩৪. ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এসে বললেনঃ আমাকে কি এ খবর জানানো হয়নি যে, তুমি সারা রাত সালাতে অতিবাহিত কর। আর সারা দিন সিয়াম পালন কর। তিনি বললেনঃ তুমি (এ রকম) করো না। রাতের কিয়দংশ সালাত আদায় কর, আর ঘুমাও। কয়েকদিন সওম পালন কর, আর কয়েকদিন ইফতার কর (সওম ভঙ্গ কর)। তোমার উপর তোমার শরীরের হক আছে। তোমার উপর তোমার চোখের হক আছে, তোমার উপর তোমার মেহ্মানের হক আছে, আর তোমার উপর তোমার স্ত্রীরও হক আছে। নিশ্চয়ই তুমি তোমার আয়ু দীর্ঘ হবার আশা কর। কাজেই প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম পালনই তোমার পক্ষে যথেষ্ট। কেননা, নিশ্চয়ই প্রতিটি নেক কাজের পরিবর্তে তার দশগুণ সাওয়াব দেয়া হয়।
সুতরাং এভাবে সারা বছরেই সিয়ামের সওয়াব পাওয়া যায়। তখন আমি কঠোর ব্যবস্থা চাইলে, আমাকে কঠোর ব্যবস্থা দেয়া হলো। আমি বললামঃ এর চেয়েও অধিক পালনের সামর্থ্য আমার আছে। তিনি বললেনঃ তা হলে তুমি প্রতি সপ্তাহে তিন দিন সিয়াম পালন কর। তখন আমি আরও কঠোর ব্যবস্থা চাইলে, আমাকে কঠোর দেয়া হলো। আমি বললামঃ আমি এর চেয়ে অধিক সিয়ামের সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেনঃ তবে তুমি আল্লাহর নবী দাঊদ (আ.)-এর সিয়াম পালন কর। আমি বললামঃ হে আল্লাহর নবী! দাঊদ (আ.)-এর সিয়াম কী রকম? তিনি বললেন, আধা বছর সিয়াম পালন। [১১৩১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৯১)
সুতরাং এভাবে সারা বছরেই সিয়ামের সওয়াব পাওয়া যায়। তখন আমি কঠোর ব্যবস্থা চাইলে, আমাকে কঠোর ব্যবস্থা দেয়া হলো। আমি বললামঃ এর চেয়েও অধিক পালনের সামর্থ্য আমার আছে। তিনি বললেনঃ তা হলে তুমি প্রতি সপ্তাহে তিন দিন সিয়াম পালন কর। তখন আমি আরও কঠোর ব্যবস্থা চাইলে, আমাকে কঠোর দেয়া হলো। আমি বললামঃ আমি এর চেয়ে অধিক সিয়ামের সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেনঃ তবে তুমি আল্লাহর নবী দাঊদ (আ.)-এর সিয়াম পালন কর। আমি বললামঃ হে আল্লাহর নবী! দাঊদ (আ.)-এর সিয়াম কী রকম? তিনি বললেন, আধা বছর সিয়াম পালন। [১১৩১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৯১)
হাদিস নং: ৬১৩৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف، اخبرنا مالك، عن سعيد بن ابي سعيد المقبري، عن ابي شريح الكعبي، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " من كان يومن بالله واليوم الاخر فليكرم ضيفه، جاىزته يوم وليلة، والضيافة ثلاثة ايام، فما بعد ذلك فهو صدقة، ولا يحل له ان يثوي عنده حتى يحرجه ". حدثنا اسماعيل، قال حدثني مالك، مثله وزاد " من كان يومن بالله واليوم الاخر فليقل خيرا او ليصمت ".
قَالَ أَبُو عَبْد اللَّهِ يُقَالُ هُوَ زَوْرٌ وَهَؤُلَاءِ زَوْرٌ وَضَيْفٌ وَمَعْنَاهُ أَضْيَافُهُ وَزُوَّارُهُ لِأَنَّهَا مَصْدَرٌ مِثْلُ قَوْمٍ رِضًا وَعَدْلٍ يُقَالُ مَاءٌ غَوْرٌ وَبِئْرٌ غَوْرٌ وَمَاءَانِ غَوْرٌ وَمِيَاهٌ غَوْرٌ وَيُقَالُ الْغَوْرُ الْغَائِرُ لَا تَنَالُهُ الدِّلَاءُ كُلَّ شَيْءٍ غُرْتَ فِيهِ فَهُوَ مَغَارَةٌ تَزَّاوَرُ تَمِيلُ مِنْ الزَّوَرِ وَالْأَزْوَرُ الْأَمْيَلُ
আবূ আবদুল্লাহ ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, বলা হয়ে থাকে। هُوَ زَوْرٌ وَهَؤُلاَءِ زَوْرٌ وَضَيْفٌ যার অর্থ দাঁড়ায় তার মেহমান ও দর্শনার্থী, কেননা, মাসদার বা ক্রিয়ামূল। قَوْمٍ رِضًا وَعَدْلٍ শব্দগুলোর মত। বলা হয়েছে, ভূগর্ভস্থ পানি বা ভূগর্ভস্থ কূপ। দু’টি ভূগর্ভস্থ পানির উৎস) এবং ভূগর্ভস্থ পানি। যেরূপ বলা হয়ে থাকে। الْغَوْرُ শব্দটির অর্থ اسم فاعل এর অর্থে অর্থাৎ الغائر এর অর্থ হয়ে থাকে। যেখানে কোন বালতি পৌঁছতে পারবে না। যে বস্তুর মধ্যে বালতি নামাবে সে স্থানকে مغارة অর্থাৎ নামানোর স্থান বলা হয়। تَزَّاوَرُ অর্থ দর্শনার্থী থেকে সরে যাওয়া। وَالأَزْوَرُ অর্থ الأَمْيَلُ অর্থাৎ সরে যাওয়া।
৬১৩৫. আবূ শুরায়হ্ কা’বী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনে বিশ্বাস রাখে, সে যেন মেহমানের সম্মান করে। মেহমানের সম্মান একদিন ও একরাত। আর সাধারণ মেহমানদারী তিনদিন ও তিনরাত। এরপরে (তা হবে) ’সাদাকা’। মেযবানকে কষ্ট দিয়ে, তার কাছে মেহমানের অবস্থান করা বৈধ নয়। (অন্যসূত্রে) মালিক (রহ.) এ রকম বর্ণনা করার পর আরো অধিক বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে, অথবা সে যেন চুপ থাকে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৯৫,৫৬৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৯২)
আবূ আবদুল্লাহ ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, বলা হয়ে থাকে। هُوَ زَوْرٌ وَهَؤُلاَءِ زَوْرٌ وَضَيْفٌ যার অর্থ দাঁড়ায় তার মেহমান ও দর্শনার্থী, কেননা, মাসদার বা ক্রিয়ামূল। قَوْمٍ رِضًا وَعَدْلٍ শব্দগুলোর মত। বলা হয়েছে, ভূগর্ভস্থ পানি বা ভূগর্ভস্থ কূপ। দু’টি ভূগর্ভস্থ পানির উৎস) এবং ভূগর্ভস্থ পানি। যেরূপ বলা হয়ে থাকে। الْغَوْرُ শব্দটির অর্থ اسم فاعل এর অর্থে অর্থাৎ الغائر এর অর্থ হয়ে থাকে। যেখানে কোন বালতি পৌঁছতে পারবে না। যে বস্তুর মধ্যে বালতি নামাবে সে স্থানকে مغارة অর্থাৎ নামানোর স্থান বলা হয়। تَزَّاوَرُ অর্থ দর্শনার্থী থেকে সরে যাওয়া। وَالأَزْوَرُ অর্থ الأَمْيَلُ অর্থাৎ সরে যাওয়া।
৬১৩৫. আবূ শুরায়হ্ কা’বী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনে বিশ্বাস রাখে, সে যেন মেহমানের সম্মান করে। মেহমানের সম্মান একদিন ও একরাত। আর সাধারণ মেহমানদারী তিনদিন ও তিনরাত। এরপরে (তা হবে) ’সাদাকা’। মেযবানকে কষ্ট দিয়ে, তার কাছে মেহমানের অবস্থান করা বৈধ নয়। (অন্যসূত্রে) মালিক (রহ.) এ রকম বর্ণনা করার পর আরো অধিক বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে, অথবা সে যেন চুপ থাকে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৯৫,৫৬৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৯২)
হাদিস নং: ৬১৩৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا ابن مهدي، حدثنا سفيان، عن ابي حصين، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من كان يومن بالله واليوم الاخر فلا يوذ جاره، ومن كان يومن بالله واليوم الاخر فليكرم ضيفه، ومن كان يومن بالله واليوم الاخر فليقل خيرا او ليصمت ".
৬১৩৬. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক আল্লাহ্ ও শেষ দিনে ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। আর যে লোক আল্লাহ ও শেষ দিনে ঈমান রাখে সে যেন মেহমানের সম্মান করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহতে ও শেষ দিনে ঈমান রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে, নতুবা চুপ থাকে। [৫১৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৯৩)
হাদিস নং: ৬১৩৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن يزيد بن ابي حبيب، عن ابي الخير، عن عقبة بن عامر ـ رضى الله عنه ـ انه قال قلنا يا رسول الله انك تبعثنا فننزل بقوم فلا يقروننا فما ترى، فقال لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان نزلتم بقوم فامروا لكم بما ينبغي للضيف فاقبلوا، فان لم يفعلوا فخذوا منهم حق الضيف الذي ينبغي لهم ".
৬১৩৭. ’উকবাহ ইবনু ’আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদের কোন জায়গায় পাঠালে আমরা এমন কাওমের কাছে হাজির হই, যারা আমাদের মেহমানদারী করে না। এ ব্যাপারে আপনার হুকুম কী? তখন তিনি আমাদের বললেনঃ যদি তোমরা কোন কাওমের নিকট হাজির হও, আর তারা তোমাদের মেহমানদারীর জন্য উপযুক্ত যত্ন নেয়, তবে তোমরা তা গ্রহণ করবে। আর যদি তারা না করে, তা হলে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের থেকে মেহমানের হক আদায় করে নেবে। [২৪৬১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৯৪)
হাদিস নং: ৬১৩৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا هشام، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن ابي سلمة، عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من كان يومن بالله واليوم الاخر فليكرم ضيفه، ومن كان يومن بالله واليوم الاخر فليصل رحمه، ومن كان يومن بالله واليوم الاخر فليقل خيرا او ليصمت ".
৬১৩৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও শেষ দিনে বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও শেষ দিনে বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার রক্তের সম্পর্ক বজায় রাখে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও শেষ দিনে বিশ্বাস রাখে, সে যেন কল্যাণকর কথা বলে, অথবা চুপ থাকে। [৫১৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৯৫)
হাদিস নং: ৬১৩৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا جعفر بن عون، حدثنا ابو العميس، عن عون بن ابي جحيفة، عن ابيه، قال اخى النبي صلى الله عليه وسلم بين سلمان وابي الدرداء. فزار سلمان ابا الدرداء فراى ام الدرداء متبذلة فقال لها ما شانك قالت اخوك ابو الدرداء ليس له حاجة في الدنيا. فجاء ابو الدرداء فصنع له طعاما فقال كل فاني صاىم. قال ما انا باكل حتى تاكل. فاكل، فلما كان الليل ذهب ابو الدرداء يقوم فقال نم. فنام، ثم ذهب يقوم فقال نم. فلما كان اخر الليل قال سلمان قم الان. قال فصليا فقال له سلمان ان لربك عليك حقا، ولنفسك عليك حقا، ولاهلك عليك حقا، فاعط كل ذي حق حقه. فاتى النبي صلى الله عليه وسلم فذكر ذلك له. فقال النبي صلى الله عليه وسلم" صدق سلمان ". ابو جحيفة وهب السواىي، يقال وهب الخير.
৬১৩৯. আবূ জুহাইফাহ (রাঃ)-এর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালমান ও আবূ দারদা (রাঃ)-এর মধ্যে ভ্রাতৃ বন্ধন স্থাপন করেন। এরপর একদিন সালমান আবূ দারদা-এর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন। তখন তিনি উম্মু দারদা (রাঃ)-কে নিম্নমানের পোশাকে দেখতে পেলেন। তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার কী হয়েছে? তিনি বললেনঃ তোমার ভাই আবূ দারদার দুনিয়াতে কিছুর দরকার নেই। ইতোমধ্যে আবূ দারদা এলেন। অতঃপর তার জন্য খাবার তৈরি করে তাঁকে বললেন, আপনি খেয়ে নিন, আমি তো সিয়াম পালন করছি।’ তিনি বললেনঃ আপনি যতক্ষণ না খাবেন ততক্ষণ আমিও খাব না। তখন তিনিও খেলেন।
তারপর যখন রাত হলো, তখন আবূ দারদা সালাতে দাঁড়ালেন। তখন সালমান তাঁকে বললেনঃ আপনি ঘুমিয়ে পড়ুন। তিনি শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পরে আবার উঠে দাঁড়ালে, তিনি বললেনঃ (আরও) ঘুমান। অবশেষে যখন রাত শেষ হয়ে এল, তখন সালমান বললেনঃ এখন উঠুন এবং তারা উভয়েই সালাত আদায় করলেন। তারপর সালমান বললেনঃ তোমার উপর তোমার রবের হক আছে, (তেমনি) তোমার উপর তোমার হক আছে এবং তোমার স্ত্রীরও তোমার উপর হক আছে। সুতরাং তুমি প্রত্যেক হকদারের দাবী আদায় করবে। তারপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে, তাঁর কাছে তার কথা উল্লেখ করলেনঃ তিনি বললেন, সালমান ঠিকই বলেছে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৯৬)
তারপর যখন রাত হলো, তখন আবূ দারদা সালাতে দাঁড়ালেন। তখন সালমান তাঁকে বললেনঃ আপনি ঘুমিয়ে পড়ুন। তিনি শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পরে আবার উঠে দাঁড়ালে, তিনি বললেনঃ (আরও) ঘুমান। অবশেষে যখন রাত শেষ হয়ে এল, তখন সালমান বললেনঃ এখন উঠুন এবং তারা উভয়েই সালাত আদায় করলেন। তারপর সালমান বললেনঃ তোমার উপর তোমার রবের হক আছে, (তেমনি) তোমার উপর তোমার হক আছে এবং তোমার স্ত্রীরও তোমার উপর হক আছে। সুতরাং তুমি প্রত্যেক হকদারের দাবী আদায় করবে। তারপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে, তাঁর কাছে তার কথা উল্লেখ করলেনঃ তিনি বললেন, সালমান ঠিকই বলেছে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৯৬)
হাদিস নং: ৬১৪০
সহিহ (Sahih)
حدثنا عياش بن الوليد، حدثنا عبد الاعلى، حدثنا سعيد الجريري، عن ابي عثمان، عن عبد الرحمن بن ابي بكر ـ رضى الله عنهما ان ابا بكر، تضيف رهطا فقال لعبد الرحمن دونك اضيافك فاني منطلق الى النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فافرغ من قراهم قبل ان اجيء. فانطلق عبد الرحمن فاتاهم بما عنده فقال اطعموا. فقالوا اين رب منزلنا قال اطعموا. قالوا ما نحن باكلين حتى يجيء رب منزلنا. قال اقبلوا عنا قراكم، فانه ان جاء ولم تطعموا لنلقين منه. فابوا فعرفت انه يجد على، فلما جاء تنحيت عنه فقال ما صنعتم فاخبروه فقال يا عبد الرحمن. فسكت ثم قال يا عبد الرحمن. فسكت فقال يا غنثر اقسمت عليك ان كنت تسمع صوتي لما جىت. فخرجت فقلت سل اضيافك. فقالوا صدق اتانا به. قال فانما انتظرتموني، والله لا اطعمه الليلة. فقال الاخرون والله لا نطعمه حتى تطعمه. قال لم ار في الشر كالليلة، ويلكم ما انتم لم لا تقبلون عنا قراكم هات طعامك. فجاءه فوضع يده فقال باسم الله، الاولى للشيطان. فاكل واكلوا.
৬১৪০. ’আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একবার আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) কিছু লোককে মেহমান হিসাবে গ্রহণ করলেন। তিনি (তাঁর পুত্র) ’আবদুর রহমান-কে নির্দেশ দিলেন, তোমার এ মেহমানদের নিয়ে যাও। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যাচ্ছি। আমি ফিরে আসার পূর্বেই তুমি তাঁদের খাওয়ানো সেরে নিও। ’আবদুর রহমান তাদের নিয়ে চলে গেলেন এবং তাঁর ঘরে যা ছিল তা সামনে পেশ করে দিয়ে তাদের বললেন আপনারা খেয়ে নিন। তাঁরা বললেনঃ আমাদের এ বাড়ীর মালিক কোথায়? তিনি বললেনঃ আপনারা খেয়ে নিন। তাঁরা বললেনঃ বাড়ীর মালিক না আসা পর্যন্ত আমরা খাবো না। তিনি বললেনঃ আমাদের তরফ থেকে আপনারা আপনাদের খাবার খেয়ে নিন। কারণ, আপনারা না খেলে তিনি এলে আমার উপর রাগান্বিত হবেন। কিন্তু তাঁরা অস্বীকার করলেন। আমি ভাবলাম যে, তিনি অবশ্যই আমার উপর রাগান্বিত হবেন।
তারপর তিনি ফিরে আসলে আমি তাঁর থেকে এক পাশে সরে পড়লাম। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা কী করেছেন। তখন তারা তাঁকে সব বর্ণনা করলেন। তখন তিনি বললেনঃ হে ’আবদুর রহমান! তখন আমি চুপ থাকলাম। তিনি আবার ডাকলেন, হে ’আবদুর রহমান! এবারেও আমি চুপ থাকলাম। তিনি আবার ডেকে বললেনঃ ওরে মূর্খ! আমি তোকে কসম দিচ্ছি। যদি আমার কথা শুনে থাকিস, তবে কেন আসছিস না? তখন আমি বেরিয়ে এসে বললাম, আপনি আপনার মেহমানদের জিজ্ঞেস করুন।
তখন তারা বললেন, সে ঠিকই আমাদের খাবার এনে দিয়েছিল। তিনি বললেন, তবুও কি আপনারা আমার অপেক্ষা করছেন? আল্লাহর কসম! আমি আজ রাতে তো খাবো না। মেহমানরাও বললেনঃ আল্লাহর কসম! আপনি যে পর্যন্ত না খাবেন ততক্ষণ আমরাও খাবো না। তখন তিনি বললেন, আমি আজ রাতের মত মন্দ রাত আর দেখিনি। আমাদের প্রতি আক্ষেপ। আপনারা কি আমাদের খাবার কবূল করলেন না? তখন তিনি ’আবদুর রহমানকে (ডেকে) বললেনঃ তোমার খাবার নিয়ে এসো। তিনি তা নিয়ে আসলে তিনিই খাবারের উপর নিজ হাত রেখে বললেন, বিসমিল্লাহ; এ প্রথম ঘটনাটা শয়তানের কারণেই ঘটেছে। তারপর তিনি খেলেন এবং তারাও খেলেন। [৬০২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৯৭)
তারপর তিনি ফিরে আসলে আমি তাঁর থেকে এক পাশে সরে পড়লাম। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা কী করেছেন। তখন তারা তাঁকে সব বর্ণনা করলেন। তখন তিনি বললেনঃ হে ’আবদুর রহমান! তখন আমি চুপ থাকলাম। তিনি আবার ডাকলেন, হে ’আবদুর রহমান! এবারেও আমি চুপ থাকলাম। তিনি আবার ডেকে বললেনঃ ওরে মূর্খ! আমি তোকে কসম দিচ্ছি। যদি আমার কথা শুনে থাকিস, তবে কেন আসছিস না? তখন আমি বেরিয়ে এসে বললাম, আপনি আপনার মেহমানদের জিজ্ঞেস করুন।
তখন তারা বললেন, সে ঠিকই আমাদের খাবার এনে দিয়েছিল। তিনি বললেন, তবুও কি আপনারা আমার অপেক্ষা করছেন? আল্লাহর কসম! আমি আজ রাতে তো খাবো না। মেহমানরাও বললেনঃ আল্লাহর কসম! আপনি যে পর্যন্ত না খাবেন ততক্ষণ আমরাও খাবো না। তখন তিনি বললেন, আমি আজ রাতের মত মন্দ রাত আর দেখিনি। আমাদের প্রতি আক্ষেপ। আপনারা কি আমাদের খাবার কবূল করলেন না? তখন তিনি ’আবদুর রহমানকে (ডেকে) বললেনঃ তোমার খাবার নিয়ে এসো। তিনি তা নিয়ে আসলে তিনিই খাবারের উপর নিজ হাত রেখে বললেন, বিসমিল্লাহ; এ প্রথম ঘটনাটা শয়তানের কারণেই ঘটেছে। তারপর তিনি খেলেন এবং তারাও খেলেন। [৬০২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৯৭)
হাদিস নং: ৬১৪১
সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن المثنى، حدثنا ابن ابي عدي، عن سليمان، عن ابي عثمان، قال عبد الرحمن بن ابي بكر ـ رضى الله عنهما جاء ابو بكر بضيف له او باضياف له، فامسى عند النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فلما جاء قالت امي احتبست عن ضيفك ـ او اضيافك ـ الليلة. قال ما عشيتهم فقالت عرضنا عليه ـ او عليهم فابوا او ـ فابى، فغضب ابو بكر فسب وجدع وحلف لا يطعمه، فاختبات انا فقال يا غنثر. فحلفت المراة لا تطعمه حتى يطعمه، فحلف الضيف ـ او الاضياف ـ ان لا يطعمه او يطعموه حتى يطعمه، فقال ابو بكر كان هذه من الشيطان فدعا بالطعام فاكل واكلوا فجعلوا لا يرفعون لقمة الا ربا من اسفلها اكثر منها، فقال يا اخت بني فراس ما هذا فقالت وقرة عيني انها الان لاكثر قبل ان ناكل فاكلوا وبعث بها الى النبي صلى الله عليه وسلم فذكر انه اكل منها.
فِيهِ حَدِيثُ أَبِي جُحَيْفَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আবূ জুহাইফার হাদীস রয়েছে।
৬১৪১. ’আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার আবূ বকর (রাঃ) তাঁর একজন কিংবা কয়েকজন মেহমান নিয়ে এলেন এবং সন্ধ্যার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কছে গেলেন। তিনি ফিরে আসলে আমার মা তাঁকে বললেনঃ আপনি মেহমানকে, কিংবা বললেন, মেহমানদের (ঘরে) রেখে (এতো) রাত কোথায় আটকা পড়েছিলেন? তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি তাদের খাবার দাওনি? তিনি বললেনঃ আমি তাদের সামনে খাবার দিয়েছিলাম কিন্তু তারা, বা সে তা খেতে অস্বীকার করলেন। তখন আবূ বকর (রাঃ) রেগে গাল মন্দ করলেন ও বদ্ দু’আ করলেন। আর শপথ করলেন যে, তিনি খাবার খাবেন না। আমি লুকিয়ে ছিলাম। তিনি আমাকে ডেকে বললেনঃ ওরে মূর্খ! তখন মহিলা (আমার মাও) কসম করলেন যে, যে পর্যন্ত তিনি না খাবেন ততক্ষণ মাও খাবেন না।
এদিকে মেহমানটি বা মেহমানরাও কসম খেয়ে বসলেন যে, যে পর্যন্ত তিনি না খান, সে পর্যন্ত তারাও খাবেন না। তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে শয়তান থেকে। তারপর তিনি খাবার আনতে বললেন। আর তিনি খেলেন এবং মেহমানরাও খেলেন। কিন্তু তারা খাওয়া আরম্ভ করে যতবারই ’লুকমা’ উঠাতে লাগলেন, তার নীচে থেকে তার চেয়েও অধিক খাবার বাড়তে লাগলো। তখন তিনি তাঁর স্ত্রীকে ডেকে বললেনঃ হে বানী ফেরাসের বোন এ কী? তিনি বললেনঃ আমার চোখের প্রশান্তির কসম! এতো আমাদের পূর্বের খাবার থেকে এখন অনেক অধিক দেখছি। তখন সবাই খেলেন এবং তা থেকে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কিছু পাঠিয়ে দিলেন। তারপর তিনি বর্ণনা করেন যে, তা থেকে তিনিও খেয়েছিলেন। [৬০২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৯৮)
এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আবূ জুহাইফার হাদীস রয়েছে।
৬১৪১. ’আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার আবূ বকর (রাঃ) তাঁর একজন কিংবা কয়েকজন মেহমান নিয়ে এলেন এবং সন্ধ্যার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কছে গেলেন। তিনি ফিরে আসলে আমার মা তাঁকে বললেনঃ আপনি মেহমানকে, কিংবা বললেন, মেহমানদের (ঘরে) রেখে (এতো) রাত কোথায় আটকা পড়েছিলেন? তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি তাদের খাবার দাওনি? তিনি বললেনঃ আমি তাদের সামনে খাবার দিয়েছিলাম কিন্তু তারা, বা সে তা খেতে অস্বীকার করলেন। তখন আবূ বকর (রাঃ) রেগে গাল মন্দ করলেন ও বদ্ দু’আ করলেন। আর শপথ করলেন যে, তিনি খাবার খাবেন না। আমি লুকিয়ে ছিলাম। তিনি আমাকে ডেকে বললেনঃ ওরে মূর্খ! তখন মহিলা (আমার মাও) কসম করলেন যে, যে পর্যন্ত তিনি না খাবেন ততক্ষণ মাও খাবেন না।
এদিকে মেহমানটি বা মেহমানরাও কসম খেয়ে বসলেন যে, যে পর্যন্ত তিনি না খান, সে পর্যন্ত তারাও খাবেন না। তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে শয়তান থেকে। তারপর তিনি খাবার আনতে বললেন। আর তিনি খেলেন এবং মেহমানরাও খেলেন। কিন্তু তারা খাওয়া আরম্ভ করে যতবারই ’লুকমা’ উঠাতে লাগলেন, তার নীচে থেকে তার চেয়েও অধিক খাবার বাড়তে লাগলো। তখন তিনি তাঁর স্ত্রীকে ডেকে বললেনঃ হে বানী ফেরাসের বোন এ কী? তিনি বললেনঃ আমার চোখের প্রশান্তির কসম! এতো আমাদের পূর্বের খাবার থেকে এখন অনেক অধিক দেখছি। তখন সবাই খেলেন এবং তা থেকে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কিছু পাঠিয়ে দিলেন। তারপর তিনি বর্ণনা করেন যে, তা থেকে তিনিও খেয়েছিলেন। [৬০২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৯৮)
হাদিস নং: ৬১৪২
সহিহ (Sahih)
حدثنا سليمان بن حرب، حدثنا حماد، هو ابن زيد ـ عن يحيى بن سعيد، عن بشير بن يسار، مولى الانصار عن رافع بن خديج، وسهل بن ابي حثمة، انهما حدثاه ان عبد الله بن سهل ومحيصة بن مسعود اتيا خيبر فتفرقا في النخل، فقتل عبد الله بن سهل، فجاء عبد الرحمن بن سهل وحويصة ومحيصة ابنا مسعود الى النبي صلى الله عليه وسلم فتكلموا في امر صاحبهم فبدا عبد الرحمن، وكان اصغر القوم فقال النبي صلى الله عليه وسلم " كبر الكبر ". ـ قال يحيى ليلي الكلام الاكبر ـ فتكلموا في امر صاحبهم فقال النبي صلى الله عليه وسلم " اتستحقون قتيلكم ـ او قال صاحبكم ـ بايمان خمسين منكم ". قالوا يا رسول الله امر لم نره. قال " فتبرىكم يهود في ايمان خمسين منهم ". قالوا يا رسول الله قوم كفار. فوداهم رسول الله صلى الله عليه وسلم من قبله. قال سهل فادركت ناقة من تلك الابل، فدخلت مربدا لهم فركضتني برجلها.
قال الليث حدثني يحيى، عن بشير، عن سهل، قال يحيى حسبت انه قال مع رافع بن خديج، وقال ابن عيينة حدثنا يحيى عن بشير عن سهل وحده.
قال الليث حدثني يحيى، عن بشير، عن سهل، قال يحيى حسبت انه قال مع رافع بن خديج، وقال ابن عيينة حدثنا يحيى عن بشير عن سهل وحده.
৬১৪২-৬১৪৩. রাফি’ ইবনু খাদীজ ও সাহল ইবনু আবূ হাসমাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একবার ’আবদুল্লাহ ইবনু সাহল ও মুহাইসাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) খাইবারে পৌঁছে উভয়েই খেজুরের বাগানের ভিন্ন ভিন্ন পথে চলে গেলেন। সেখানে ’আবদুল্লাহ ইবনু সাহল (রাঃ)-কে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর ’আবদুর রহমান ইবনু সাহল ও ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ)-এর দুই ছেলে হুওয়াইসাহ ও মুহাইসাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন এবং তাঁর কাছে নিহত ব্যক্তির কথা বলতে লাগলেন। ’আবদুর রহমান কথা শুরু করলেন। তিনি ছোট ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ তুমি বড়দের ইজ্জত করবে।
বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়া বলেনঃ কথা বলার দায়িত্ব যেন বড়রা পালন করে। তখন তারা তাদের লোক সম্পর্কে কথা বললেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ তোমাদের পঞ্চাশ জন লোক কসম করে তোমাদের নিহত ভাইয়ের হত্যার হক প্রমাণ কর। তাঁরা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! ঘটনা তো আমরা দেখিনি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা হলে ইয়াহূদীরা তাদের থেকে পঞ্চাশ জন কসম করে তোমাদের কসম থেকে মুক্তি দিবে। তখন তারা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! ওরা তো কাফির সম্প্রদায়। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের তরফ থেকে তাদের নিহত ব্যক্তির ফিদ্ইয়া দিয়ে দিলেন।
সাহল (রাঃ) বললেনঃ আমি সেই উটগুলো থেকে একটি উট পেলাম। সেটি নিয়ে আমি যখন আস্তাবলে গেলাম তখন উটনীটি তার পা দিয়ে আমাকে লাথি মারলো। [১৭০২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৯৯)
বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়া বলেনঃ কথা বলার দায়িত্ব যেন বড়রা পালন করে। তখন তারা তাদের লোক সম্পর্কে কথা বললেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ তোমাদের পঞ্চাশ জন লোক কসম করে তোমাদের নিহত ভাইয়ের হত্যার হক প্রমাণ কর। তাঁরা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! ঘটনা তো আমরা দেখিনি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা হলে ইয়াহূদীরা তাদের থেকে পঞ্চাশ জন কসম করে তোমাদের কসম থেকে মুক্তি দিবে। তখন তারা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! ওরা তো কাফির সম্প্রদায়। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের তরফ থেকে তাদের নিহত ব্যক্তির ফিদ্ইয়া দিয়ে দিলেন।
সাহল (রাঃ) বললেনঃ আমি সেই উটগুলো থেকে একটি উট পেলাম। সেটি নিয়ে আমি যখন আস্তাবলে গেলাম তখন উটনীটি তার পা দিয়ে আমাকে লাথি মারলো। [১৭০২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৯৯)
হাদিস নং: ৬১৪৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا سليمان بن حرب، حدثنا حماد، هو ابن زيد ـ عن يحيى بن سعيد، عن بشير بن يسار، مولى الانصار عن رافع بن خديج، وسهل بن ابي حثمة، انهما حدثاه ان عبد الله بن سهل ومحيصة بن مسعود اتيا خيبر فتفرقا في النخل، فقتل عبد الله بن سهل، فجاء عبد الرحمن بن سهل وحويصة ومحيصة ابنا مسعود الى النبي صلى الله عليه وسلم فتكلموا في امر صاحبهم فبدا عبد الرحمن، وكان اصغر القوم فقال النبي صلى الله عليه وسلم " كبر الكبر ". ـ قال يحيى ليلي الكلام الاكبر ـ فتكلموا في امر صاحبهم فقال النبي صلى الله عليه وسلم " اتستحقون قتيلكم ـ او قال صاحبكم ـ بايمان خمسين منكم ". قالوا يا رسول الله امر لم نره. قال " فتبرىكم يهود في ايمان خمسين منهم ". قالوا يا رسول الله قوم كفار. فوداهم رسول الله صلى الله عليه وسلم من قبله. قال سهل فادركت ناقة من تلك الابل، فدخلت مربدا لهم فركضتني برجلها.
قال الليث حدثني يحيى، عن بشير، عن سهل، قال يحيى حسبت انه قال مع رافع بن خديج، وقال ابن عيينة حدثنا يحيى عن بشير عن سهل وحده.
قال الليث حدثني يحيى، عن بشير، عن سهل، قال يحيى حسبت انه قال مع رافع بن خديج، وقال ابن عيينة حدثنا يحيى عن بشير عن سهل وحده.
৬১৪২-৬১৪৩. রাফি’ ইবনু খাদীজ ও সাহল ইবনু আবূ হাসমাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একবার ’আবদুল্লাহ ইবনু সাহল ও মুহাইসাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) খাইবারে পৌঁছে উভয়েই খেজুরের বাগানের ভিন্ন ভিন্ন পথে চলে গেলেন। সেখানে ’আবদুল্লাহ ইবনু সাহল (রাঃ)-কে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর ’আবদুর রহমান ইবনু সাহল ও ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ)-এর দুই ছেলে হুওয়াইসাহ ও মুহাইসাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন এবং তাঁর কাছে নিহত ব্যক্তির কথা বলতে লাগলেন। ’আবদুর রহমান কথা শুরু করলেন। তিনি ছোট ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ তুমি বড়দের ইজ্জত করবে।
বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়া বলেনঃ কথা বলার দায়িত্ব যেন বড়রা পালন করে। তখন তারা তাদের লোক সম্পর্কে কথা বললেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ তোমাদের পঞ্চাশ জন লোক কসম করে তোমাদের নিহত ভাইয়ের হত্যার হক প্রমাণ কর। তাঁরা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! ঘটনা তো আমরা দেখিনি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা হলে ইয়াহূদীরা তাদের থেকে পঞ্চাশ জন কসম করে তোমাদের কসম থেকে মুক্তি দিবে। তখন তারা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! ওরা তো কাফির সম্প্রদায়। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের তরফ থেকে তাদের নিহত ব্যক্তির ফিদ্ইয়া দিয়ে দিলেন।
সাহল (রাঃ) বললেনঃ আমি সেই উটগুলো থেকে একটি উট পেলাম। সেটি নিয়ে আমি যখন আস্তাবলে গেলাম তখন উটনীটি তার পা দিয়ে আমাকে লাথি মারলো। [১৭০২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৯৯)
বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়া বলেনঃ কথা বলার দায়িত্ব যেন বড়রা পালন করে। তখন তারা তাদের লোক সম্পর্কে কথা বললেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ তোমাদের পঞ্চাশ জন লোক কসম করে তোমাদের নিহত ভাইয়ের হত্যার হক প্রমাণ কর। তাঁরা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! ঘটনা তো আমরা দেখিনি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা হলে ইয়াহূদীরা তাদের থেকে পঞ্চাশ জন কসম করে তোমাদের কসম থেকে মুক্তি দিবে। তখন তারা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! ওরা তো কাফির সম্প্রদায়। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের তরফ থেকে তাদের নিহত ব্যক্তির ফিদ্ইয়া দিয়ে দিলেন।
সাহল (রাঃ) বললেনঃ আমি সেই উটগুলো থেকে একটি উট পেলাম। সেটি নিয়ে আমি যখন আস্তাবলে গেলাম তখন উটনীটি তার পা দিয়ে আমাকে লাথি মারলো। [১৭০২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৯৯)
হাদিস নং: ৬১৪৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد، حدثنا يحيى، عن عبيد الله، حدثني نافع، عن ابن عمر ـ رضى الله عنهما ـ قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اخبروني بشجرة مثلها مثل المسلم، توتي اكلها كل حين باذن ربها، ولا تحت ورقها ". فوقع في نفسي انها النخلة، فكرهت ان اتكلم وثم ابو بكر وعمر، فلما لم يتكلما قال النبي صلى الله عليه وسلم " هي النخلة ". فلما خرجت مع ابي قلت يا ابتاه وقع في نفسي انها النخلة. قال ما منعك ان تقولها لو كنت قلتها كان احب الى من كذا وكذا. قال ما منعني الا اني لم ارك ولا ابا بكر تكلمتما، فكرهت.
৬১৪৪. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা আমাকে এমন একটা বৃক্ষের খবর দাও, যার দৃষ্টান্ত মুসলিমের মত। তা সর্বদা তার প্রতিপালকের নির্দেশে খাদ্য দান করে, আর এর পাতাও ঝরে না। তখন আমার মনে হল যে, এটি খেজুর গাছ। কিন্তু যেহেতু সে স্থানে আবূ বকর ও ’উমার (রাঃ) উপস্থিত থেকেও কথা বলছিলেন না, তাই আমিও কথা বলা পছন্দ করিনি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই বললেন, সেটি হলো খেজুর গাছ।
তারপর যখন আমি আমার আব্বার সঙ্গে বেরিয়ে এলাম, তখন আমি বললাম আববা! আমার মনেও খেয়াল এসেছিল যে, এটা নিশ্চয়ই খেজুর গাছ। তিনি বললেনঃ তোমাকে তা বলতে কিসে বাধা দিয়েছিল? যদি তুমি তা বলতে, তাহলে এ কথা আমার কাছে এত এত ধন-সম্পদ পাওয়ার চেয়েও অধিক প্রিয় হতো। তিনি বললেনঃ আমাকে শুধু এ কথাই বাধা দিয়েছিল যে, আমি দেখলাম, আপনি ও আবূ বকর (রাঃ) কেউই কথা বলছেন না। তাই আমিও কথা বলা পছন্দ করলাম না। [৬১; মুসলিম ৫০/১৫, হাঃ ২৮১১, আহমাদ ৬৪৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬০০)
তারপর যখন আমি আমার আব্বার সঙ্গে বেরিয়ে এলাম, তখন আমি বললাম আববা! আমার মনেও খেয়াল এসেছিল যে, এটা নিশ্চয়ই খেজুর গাছ। তিনি বললেনঃ তোমাকে তা বলতে কিসে বাধা দিয়েছিল? যদি তুমি তা বলতে, তাহলে এ কথা আমার কাছে এত এত ধন-সম্পদ পাওয়ার চেয়েও অধিক প্রিয় হতো। তিনি বললেনঃ আমাকে শুধু এ কথাই বাধা দিয়েছিল যে, আমি দেখলাম, আপনি ও আবূ বকর (রাঃ) কেউই কথা বলছেন না। তাই আমিও কথা বলা পছন্দ করলাম না। [৬১; মুসলিম ৫০/১৫, হাঃ ২৮১১, আহমাদ ৬৪৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬০০)
হাদিস নং: ৬১৪৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال اخبرني ابو بكر بن عبد الرحمن، ان مروان بن الحكم، اخبره ان عبد الرحمن بن الاسود بن عبد يغوث اخبره ان ابى بن كعب اخبره ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال" ان من الشعر حكمة ".
وَقَوْلِهِ: (وَالشُّعَرَاءُ يَتَّبِعُهُمُ الْغَاوُونَ أَلَمْ تَرَ أَنَّهُمْ فِي كُلِّ وَادٍ يَهِيمُونَ وَأَنَّهُمْ يَقُولُونَ مَا لاَ يَفْعَلُونَ إِلاَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَذَكَرُوا اللَّهَ كَثِيرًا وَانْتَصَرُوا مِنْ بَعْدِ مَا ظُلِمُوا وَسَيَعْلَمُ الَّذِينَ ظَلَمُوا أَيَّ مُنْقَلَبٍ يَنْقَلِبُونَ). قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فِي كُلِّ لَغْوٍ يَخُوضُونَ.
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ বিভ্রান্তরাই কবিদের অনুসরণ করে,তুমি কি দেখ না যে, তারা প্রতি ময়দানেই উদ্ভ্রান্ত হয়ে ফিরে?আর তারা যা বলে তা তারা নিজেরা করে না। কিন্তু ওরা ব্যতীত যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে আর আল্লাহকে খুব বেশি স্মরণ করে আর নির্যাতিত হওয়ার পর নিজেদের প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করে। যালিমরা শীঘ্রই জানতে পারবে কোন্ মহা সংকটময়) জায়গায় তারা ফিরে যচ্ছে। সূরাহ শু’আরা (২৬/২২৪-২৭)
ইবনু ’আব্বাস বলেন, (তারা প্রত্যেক ময়দানে উদভ্রান্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়ায়?) এর অর্থ হল তারা প্রত্যেক নিরর্থক কথায় ডুবে থাকে।
৬১৪৫. ’উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই কোন কোন কবিতার মধ্যে জ্ঞানের কথাও আছে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬০১)
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ বিভ্রান্তরাই কবিদের অনুসরণ করে,তুমি কি দেখ না যে, তারা প্রতি ময়দানেই উদ্ভ্রান্ত হয়ে ফিরে?আর তারা যা বলে তা তারা নিজেরা করে না। কিন্তু ওরা ব্যতীত যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে আর আল্লাহকে খুব বেশি স্মরণ করে আর নির্যাতিত হওয়ার পর নিজেদের প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করে। যালিমরা শীঘ্রই জানতে পারবে কোন্ মহা সংকটময়) জায়গায় তারা ফিরে যচ্ছে। সূরাহ শু’আরা (২৬/২২৪-২৭)
ইবনু ’আব্বাস বলেন, (তারা প্রত্যেক ময়দানে উদভ্রান্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়ায়?) এর অর্থ হল তারা প্রত্যেক নিরর্থক কথায় ডুবে থাকে।
৬১৪৫. ’উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই কোন কোন কবিতার মধ্যে জ্ঞানের কথাও আছে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬০১)
হাদিস নং: ৬১৪৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو نعيم، حدثنا سفيان، عن الاسود بن قيس، سمعت جندبا، يقول بينما النبي صلى الله عليه وسلم يمشي اذ اصابه حجر فعثر فدميت اصبعه فقال " هل انت الا اصبع دميت وفي سبيل الله ما لقيت ".
৬১৪৬. জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বললেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক জিহাদে হেঁটে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি একটা পাথরে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলেন এবং তাঁর একটা আঙ্গুল রক্তে ভিজে গেল। তখন তিনি কবিতার ছন্দে বললেনঃ
তুমি একটা রক্তে ভেজা আঙ্গুল ছাড়া কিছুই নও, আর যে কষ্ট ভোগ করছ তা তো কেবল আল্লাহর রাস্তাতেই। [২৮০২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬০২)
তুমি একটা রক্তে ভেজা আঙ্গুল ছাড়া কিছুই নও, আর যে কষ্ট ভোগ করছ তা তো কেবল আল্লাহর রাস্তাতেই। [২৮০২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬০২)