অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৮৩/১. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের অর্থহীন শপথের জন্য আল্লাহ তোমাদেরকে পাকড়াও করবেন না...
মোট ৮৭ টি হাদিস
হাদিস নং: ৬৭০১
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى عن حميد حدثني ثابت عن انس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ان الله لغني عن تعذيب هذا نفسه وراه يمشي بين ابنيه وقال الفزاري عن حميد حدثني ثابت عن انس
৬৭০১. আনাস (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ এ লোক যে নিজের জানকে কষ্টের মধ্যে নিক্ষেপ করেছে এতে আল্লাহর আদৌ প্রয়োজন নেই। আর তিনি লোকটিকে দেখলেন যে, সে তার দু’ ছেলের উপর ভর করে হাঁটছে। ফাযারীও অত্র হাদীসটি...আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। [১৮৬৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৪৪)
হাদিস নং: ৬৭০২
সহিহ (Sahih)
ابو عاصم عن ابن جريج عن سليمان الاحول عن طاوس عن ابن عباس ان النبي صلى الله عليه وسلم راى رجلا يطوف بالكعبة بزمام او غيره فقطعه
৬৭০২. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক লোককে দেখতে পেলেন। লোকটি একটি দড়ি অথবা অন্য কিছুর সাহায্যে কা’বা তাওয়াফ করছে। তিনি দড়িটি কেটে দিলেন। [১৬২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৪৫)
হাদিস নং: ৬৭০৩
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن موسى اخبرنا هشام ان ابن جريج اخبرهم قال اخبرني سليمان الاحول ان طاوسا اخبره عن ابن عباس ان النبي صلى الله عليه وسلم مر وهو يطوف بالكعبة بانسان يقود انسانا بخزامة في انفه فقطعها النبي صلى الله عليه وسلم بيده ثم امره ان يقوده بيده
৬৭০৩. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা’বাহর তাওয়াফ কালে এক লোকের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। লোকটি অন্য আরেক লোককে নাকে দড়ি লাগিয়ে টানছিল (আর সে তাওয়াফ করছিল)। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হতে তার দড়িটি কেটে ফেললেন এবং তাকে হাত দ্বারা টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। [১৬২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৪৬)
হাদিস নং: ৬৭০৪
সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا وهيب حدثنا ايوب عن عكرمة عن ابن عباس قال بينا النبي صلى الله عليه وسلم يخطب اذا هو برجل قاىم فسال عنه فقالوا ابو اسراىيل نذر ان يقوم ولا يقعد ولا يستظل ولا يتكلم ويصوم فقال النبي صلى الله عليه وسلم مره فليتكلم وليستظل وليقعد وليتم صومه قال عبد الوهاب حدثنا ايوب عن عكرمة عن النبي صلى الله عليه وسلم
৬৭০৪. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুত্বা দিচ্ছিলেন। এক লোককে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখে তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। লোকেরা বলল আবূ ইসরাঈল। সে মানত করেছে যে, সে দাঁড়িয়ে থাকবে, বসবে না, ছায়া গ্রহণ করবে না, কারো সাথে কথা বলবে না এবং সওম পালন করবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ লোকটিকে বল- সে যেন কথা বলে, ছায়ায় যায়, বসে এবং তার সওম পূর্ণ করে। [1] আবদুল ওয়াহ্হাব, আইউব ও ইকরামার সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৪৭)
নোট: [1] নিজেকে অহেতুক কষ্টে নিক্ষিপ্ত করা ইসলামে নিষিদ্ধ।
হাদিস নং: ৬৭০৫
সহিহ (Sahih)
محمد بن ابي بكر المقدمي حدثنا فضيل بن سليمان حدثنا موسى بن عقبة حدثنا حكيم بن ابي حرة الاسلمي انه سمع عبد الله بن عمر سىل عن رجل نذر ان لا ياتي عليه يوم الا صام فوافق يوم اضحى او فطر فقال (لقد كان لكم في رسول الله اسوة حسنة) لم يكن يصوم يوم الاضحى والفطر ولا يرى صيامهما
৬৭০৫. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। ’আবদুল্লাহ্ ইবনু উমরকে এক লোক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল যে লোক মানত করেছিল যে, সে সওম পালন থেকে কোন দিনই বিরত থাকবে না। আর তার ভিতর কুরবানী বা ঈদুল ফিত্রের দিন এসে গেল। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাঝে তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ রয়েছে। তিনি ঈদুল ফিত্রের এবং কুরবানীর দিন সওম পালন করতেন না। আর তিনি ঐ দিনগুলোতে সওম পালন করা জায়েযও মনে করতেন না।[1] [১৯৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৪৮)
নোট: [1] রসূল (সাঃ) কর্তৃক নির্দেশিত পথেই যাবতীয় ইবাদাত বন্দেগী করতে হবে।
হাদিস নং: ৬৭০৬
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن مسلمة حدثنا يزيد بن زريع عن يونس عن زياد بن جبير قال كنت مع ابن عمر فساله رجل فقال نذرت ان اصوم كل يوم ثلاثاء او اربعاء ما عشت فوافقت هذا اليوم يوم النحر فقال امر الله بوفاء النذر ونهينا ان نصوم يوم النحر فاعاد عليه فقال مثله لا يزيد عليه
৬৭০৬. যিয়াদ ইবনু যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক সময় ইবনু ’উমার (রাঃ)-এর সাথে ছিলাম। এক লোক তাঁকে জিজ্ঞেস করল, আমি মানত করেছিলাম যে, যতদিন বাঁচব প্রতি মঙ্গলবার এবং বুধবার সওম পালন করব। কিন্তু এর ভিতর কুরবানীর দিন পড়ে গেল। তিনি বললেন, আল্লাহ্ মানত পুরা করার হুকুম করেছেন; আর কুরবানীর দিন সওম পালন করতে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে। লোকটি আবার সেই প্রশ্ন করল। তিনি এরকমই উত্তর দিলেন, অধিক কিছু বললেন না। [১৯৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৪৯)
হাদিস নং: ৬৭০৭
সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني مالك عن ثور بن زيد الديلي عن ابي الغيث مولى ابن مطيع عن ابي هريرة قال خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم خيبر فلم نغنم ذهبا ولا فضة الا الاموال والثياب والمتاع فاهدى رجل من بني الضبيب يقال له رفاعة بن زيد لرسول الله صلى الله عليه وسلم غلاما يقال له مدعم فوجه رسول الله صلى الله عليه وسلم الى وادي القرى حتى اذا كان بوادي القرى بينما مدعم يحط رحلا لرسول الله صلى الله عليه وسلم اذا سهم عاىر فقتله فقال الناس هنيىا له الجنة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم كلا والذي نفسي بيده ان الشملة التي اخذها يوم خيبر من المغانم لم تصبها المقاسم لتشتعل عليه نارا فلما سمع ذلك الناس جاء رجل بشراك او شراكين الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال شراك من نار او شراكان من نار
وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ قَالَ عُمَرُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَصَبْتُ أَرْضًا لَمْ أُصِبْ مَالاً قَطُّ أَنْفَسَ مِنْهُ قَالَ إِنْ شِئْتَ حَبَّسْتَ أَصْلَهَا وَتَصَدَّقْتَ بِهَا وَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحَبُّ أَمْوَالِي إِلَيَّ بَيْرُحَاءَ لِحَائِطٍ لَهُ مُسْتَقْبِلَةِ الْمَسْجِدِ
এবং ইবনু ’উমার (রাঃ)-এর হাদীস। তিনি বলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে একবার উমর (রাঃ) আরয করলেন যে, আমি এমন এক টুকরো জমি পেয়েছি যার চেয়ে উৎকৃষ্ট কোন মাল কক্ষনো পাইনি। তিনি বললেনঃ তুমি যদি চাও তবে তার মূল স্বত্ব রেখে তার (উৎপাদন) দান করে দিতে পার। আবু ত্বলহা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আরয করেছিলেন, আমার কাছে বায়রুহা নামক আমার বাগানটি সর্বাধিক প্রিয়, যার দেয়ালটি মসজিদে নববীর সম্মুখে অবস্থিত।
৬৭০৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে খায়বারের যুদ্ধের দিন বের হলাম। আমরা মাল, আসবাবপত্র ও কাপড়-চোপড় ছাড়া সোনা বা রুপা গণীমত হিসাবে পাইনি। যুবায়র গোত্রের রিফাআ ইবনু যায়দ নামক এক লোক রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটি গোলাম হাদিয়া দিলেন, যার নাম ছিল মিদ’আম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াদি উল কুরার দিকে রওয়ানা হলেন। তিনি যখন ওয়াদিউল কুরায় পৌঁছলেন, তখন মিদ’আম রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সওয়ারীর হাওদা থেকে মালপত্র নামাচ্ছিলেন। তখন হঠাৎ একটি তীর এসে তার গায়ে বিঁধল এবং তাতে সে মারা গেল।
লোকেরা বলল, সে জান্নাত লাভ করুক। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন কক্ষনো না, কসম ঐ সত্তার, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! খায়বারের যুদ্ধের দিন গনীমতের মাল থেকে বণ্টনের পূর্বে যে চাদরটি সে নিয়ে গিয়েছিল তার গায়ে তা আগুনের শিখা হয়ে জ্বলবে। যখন লোকেরা এটা শুনল, তখন এক লোক একটি বা দু’টি ফিতা নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে হাযির হল। তখন তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে জাহান্নামের একটি ফিতা বা জাহান্নামের দু’টি ফিতা।[1] [৪২৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৫০)
এবং ইবনু ’উমার (রাঃ)-এর হাদীস। তিনি বলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে একবার উমর (রাঃ) আরয করলেন যে, আমি এমন এক টুকরো জমি পেয়েছি যার চেয়ে উৎকৃষ্ট কোন মাল কক্ষনো পাইনি। তিনি বললেনঃ তুমি যদি চাও তবে তার মূল স্বত্ব রেখে তার (উৎপাদন) দান করে দিতে পার। আবু ত্বলহা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আরয করেছিলেন, আমার কাছে বায়রুহা নামক আমার বাগানটি সর্বাধিক প্রিয়, যার দেয়ালটি মসজিদে নববীর সম্মুখে অবস্থিত।
৬৭০৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে খায়বারের যুদ্ধের দিন বের হলাম। আমরা মাল, আসবাবপত্র ও কাপড়-চোপড় ছাড়া সোনা বা রুপা গণীমত হিসাবে পাইনি। যুবায়র গোত্রের রিফাআ ইবনু যায়দ নামক এক লোক রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটি গোলাম হাদিয়া দিলেন, যার নাম ছিল মিদ’আম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াদি উল কুরার দিকে রওয়ানা হলেন। তিনি যখন ওয়াদিউল কুরায় পৌঁছলেন, তখন মিদ’আম রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সওয়ারীর হাওদা থেকে মালপত্র নামাচ্ছিলেন। তখন হঠাৎ একটি তীর এসে তার গায়ে বিঁধল এবং তাতে সে মারা গেল।
লোকেরা বলল, সে জান্নাত লাভ করুক। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন কক্ষনো না, কসম ঐ সত্তার, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! খায়বারের যুদ্ধের দিন গনীমতের মাল থেকে বণ্টনের পূর্বে যে চাদরটি সে নিয়ে গিয়েছিল তার গায়ে তা আগুনের শিখা হয়ে জ্বলবে। যখন লোকেরা এটা শুনল, তখন এক লোক একটি বা দু’টি ফিতা নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে হাযির হল। তখন তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে জাহান্নামের একটি ফিতা বা জাহান্নামের দু’টি ফিতা।[1] [৪২৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৫০)
নোট: [1] সম্পদ আত্মসাৎকারীর ভাগ্যে আছে জাহান্নামের আগুন।