অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৮৭/১. আল্লাহর বাণীঃ কেউ ইচ্ছাপূর্বক কোন মু’মিন ব্যক্তিকে হত্যা করলে...
মোট ৫৭ টি হাদিস
হাদিস নং: ৬৮৭৮
সহিহ (Sahih)
عمر بن حفص حدثنا ابي حدثنا الاعمش عن عبد الله بن مرة عن مسروق عن عبد الله قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يحل دم امرى مسلم يشهد ان لا اله الا الله واني رسول الله صلى الله عليه وسلم الا باحدى ثلاث النفس بالنفس والثيب الزاني والمارق من الدين التارك للجماعة.
৬৮৭৮. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিম ব্যক্তি যদি সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্ ব্যতীত আর কোন ইলাহ্ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল, তিন-তিনটি কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করা বৈধ নয়। (যথা) জানের বদলে জান, বিবাহিত ব্যভিচারী, আর নিজের দ্বীন ত্যাগকারী মুসলিম জামাআত থেকে পৃথক হয়ে যাওয়া ব্যক্তি।[1] [মুসলিম ৬/২৮, হাঃ ১৬৭৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪১২)
নোট: [1] হাদীসে উল্লেখিত ‘‘জামা’আত’’ দ্বারা উদ্দেশ্য جماعة المسلمين তথা মুসলিমদের জামা’আত। অর্থাৎ মুরদাত হওয়ার মাধ্যমে মুসলিমদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয় অথবা মুরতাদ (স্বধর্মত্যাগী) হওয়ার মাধ্যমে মুসলিমদের ছেড়ে দেয়। সুতরাং جماعة শব্দটি تارك ও المفارق শব্দদ্বয়ের বিশেষণ। যা স্বতন্ত্র বিশেষণ নয়। কারণ স্বতন্ত্র বিশেষণ ধরা হলে হাদীসে উল্লেখিত তিনটি বৈশিষ্ট্যের স্থলে চারটি বৈশিষ্ট্য হয়ে যাবে। উল্লেখ্য যে, হাদীসে উল্লেখিত ‘‘জামা’আত’’ দ্বারা ‘‘মুসলিমদের মাঝে গড়ে ওঠা ছোট, বড় আঞ্চলিক বা জাতীয় ভিত্তিক কোন সংগঠন’’ উদ্দেশ্য নেয়া মোটেও ঠিক নয়। বরং তা সহীহ আকীদার পরিপন্থী।
হাদিস নং: ৬৮৭৯
সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا محمد بن جعفر حدثنا شعبة عن هشام بن زيد عن انس ان يهوديا قتل جارية على اوضاح لها فقتلها بحجر فجيء بها الى النبي صلى الله عليه وسلم وبها رمق فقال اقتلك فلان فاشارت براسها ان لا ثم قال الثانية فاشارت براسها ان لا ثم سالها الثالثة فاشارت براسها ان نعم فقتله النبي صلى الله عليه وسلم بحجرين.
৬৮৭৯. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক ইয়াহূদী একটি বালিকাকে তার রুপার অলঙ্কারের লোভে হত্যা করল। সে তাকে পাথর দিয়ে হত্যা করল। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আনা হল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, অমুক কি তোমাকে হত্যা করেছে? সে তার মাথা দিয়ে ইঙ্গিত করল যে, না। এরপর দ্বিতীয়বার তিনি জিজ্ঞেস করলেন। সে তার মাথা দিয়ে ইশারা করল যে, না। অতঃপর তৃতীয়বার তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন। সে তার মাথা দিয়ে ইঙ্গিত করল যে, হ্যাঁ। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (হত্যাকারীকে) দু’টি পাথর দিয়ে হত্যা করলেন। [২৪১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪১৩)
হাদিস নং: ৬৮৮০
সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا شيبان عن يحيى عن ابي سلمة عن ابي هريرة ان خزاعة قتلوا رجلا وقال عبد الله بن رجاء حدثنا حرب عن يحيى حدثنا ابو سلمة حدثنا ابو هريرة انه عام فتح مكة قتلت خزاعة رجلا من بني ليث بقتيل لهم في الجاهلية فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ان الله حبس عن مكة الفيل وسلط عليهم رسوله والمومنين الا وانها لم تحل لاحد قبلي ولا تحل لاحد بعدي الا وانما احلت لي ساعة من نهار الا وانها ساعتي هذه حرام لا يختلى شوكها ولا يعضد شجرها ولا يلتقط ساقطتها الا منشد ومن قتل له قتيل فهو بخير النظرين اما يودى واما يقاد فقام رجل من اهل اليمن يقال له ابو شاه فقال اكتب لي يا رسول الله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اكتبوا لابي شاه ثم قام رجل من قريش فقال يا رسول الله الا الاذخر فانما نجعله في بيوتنا وقبورنا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم الا الاذخر وتابعه عبيد الله عن شيبان في الفيل قال بعضهم عن ابي نعيم القتل وقال عبيد الله اما ان يقاد اهل القتيل.
৬৮৮০. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। খুযা’আ গোত্রের লোকেরা এক ব্যক্তিকে হত্যা করল। ’আবদুল্লাহ্ ইবনু রাজা (রহ.) .... আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের বছর খুযা’আ গোত্রের লোকেরা জাহিলী যুগের স্বগোত্রীয় নিহত ব্যক্তির প্রতিশোধ হিসেবে বানী লায়স গোত্রের এক ব্যক্তিকে হত্যা করল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং বললেনঃ আল্লাহ্ মক্কা থেকে হস্তীদলকে প্রতিহত করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আপন রাসূল ও মু’মিনদেরকে কর্তৃত্ব দান করেছেন। জেনে রেখো! মক্কা আমার পূর্বে কারো জন্য হালাল হয়নি, আর আমার পরও কারো জন্য হালাল হবে না। জেনে রেখো! আমার বেলায় তা দিনের কিছু সময়ের জন্য হালাল করা হয়েছিল। সাবধান! তা আমার এ সময়ে এমন সম্মানিত, তার কাঁটা উপড়ানো যাবে না, তার গাছ কাটা যাবে না,তাতে পড়ে থাকা বস্তু মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া তুলে নেয়া যাবে না।
আর যার কাউকে হত্যা করা হয় সে দু’প্রকার দন্ডের যে কোন একটি দেয়ার অধিকার লাভ করবে। হয়ত রক্তপণ নেয়া হবে, নতুবা কিসাস নেয়া হবে। এ সময় ইয়ামনবাসী এক লোক দাঁড়াল, যাকে আবূ শাহ্ বলা হয়। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে লিখে দিন। তখন রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তোমরা আবূ শাহ্কে লিখে দাও। তখন কুরাইশ গোত্রের এক লোক দাঁড়াল। আর বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ইয্খির ব্যতীত। কেননা, আমরা সেটা আমাদের ঘরে, আমাদের কবরে কাজে লাগাই। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইয্খির ছাড়া।
’উবাইদুল্লাহ্ (রহ.) শায়বান (রহ.) থেকে الْفِيلِ (হস্তী)-এর ব্যাপারে হারব ইবনু শাদ্দাদ (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। কেউ কেউ আবূ নু’আয়ম (রহ.) থেকে المقتل শব্দ উদ্ধৃত করেছেন। ’উবাইদুল্লাহ্ (রহ.) إِمَّا أَنْ يُقَادَ -এর পরে أَهْلُ الْقَتِيلِ শব্দও বর্ণনা করেছেন। [১১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪১৪)
আর যার কাউকে হত্যা করা হয় সে দু’প্রকার দন্ডের যে কোন একটি দেয়ার অধিকার লাভ করবে। হয়ত রক্তপণ নেয়া হবে, নতুবা কিসাস নেয়া হবে। এ সময় ইয়ামনবাসী এক লোক দাঁড়াল, যাকে আবূ শাহ্ বলা হয়। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে লিখে দিন। তখন রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তোমরা আবূ শাহ্কে লিখে দাও। তখন কুরাইশ গোত্রের এক লোক দাঁড়াল। আর বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ইয্খির ব্যতীত। কেননা, আমরা সেটা আমাদের ঘরে, আমাদের কবরে কাজে লাগাই। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইয্খির ছাড়া।
’উবাইদুল্লাহ্ (রহ.) শায়বান (রহ.) থেকে الْفِيلِ (হস্তী)-এর ব্যাপারে হারব ইবনু শাদ্দাদ (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। কেউ কেউ আবূ নু’আয়ম (রহ.) থেকে المقتل শব্দ উদ্ধৃত করেছেন। ’উবাইদুল্লাহ্ (রহ.) إِمَّا أَنْ يُقَادَ -এর পরে أَهْلُ الْقَتِيلِ শব্দও বর্ণনা করেছেন। [১১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪১৪)
হাদিস নং: ৬৮৮১
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا سفيان عن عمرو عن مجاهد عن ابن عباس قال كانت في بني اسراىيل قصاص ولم تكن فيهم الدية فقال الله لهذه الامة (كتب عليكم القصاص في القتلى) الى هذه الاية (فمن عفي له من اخيه شيء)
قال ابن عباس فالعفو ان يقبل الدية في العمد قال (فاتباع بالمعروف) ان يطلب بمعروف ويودي باحسان.
قال ابن عباس فالعفو ان يقبل الدية في العمد قال (فاتباع بالمعروف) ان يطلب بمعروف ويودي باحسان.
৬৮৮১. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনী ইসরাঈলদের মাঝে কিসাসের বিধান কার্যকর ছিল। তাদের মাঝে রক্তপণের বিধান ছিল না। তবে আল্লাহ্ এ উম্মাতকে বললেনঃ নরহত্যার ক্ষেত্রে তোমাদের জন্য কিসাসের বিধান দেয়া হয়েছে .... কিন্তু তার ভাইয়ের পক্ষ হতে কিছুটা ক্ষমা করা হলে পর্যন্ত- (সূরাহ আল-বাক্বারাহ ২/১৭৮)।
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, ক্ষমা করার অর্থ হলো ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যার ক্ষেত্রে রক্তপণ গ্রহণ করা। তিনি বলেন, আর প্রচলিত প্রথার অনুসরণ করার অর্থ হচ্ছে, ন্যায়সঙ্গত দাবি ও দয়ার সঙ্গে দায়িত্ব আদায় করা। [৪৪৯৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪১৫)
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, ক্ষমা করার অর্থ হলো ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যার ক্ষেত্রে রক্তপণ গ্রহণ করা। তিনি বলেন, আর প্রচলিত প্রথার অনুসরণ করার অর্থ হচ্ছে, ন্যায়সঙ্গত দাবি ও দয়ার সঙ্গে দায়িত্ব আদায় করা। [৪৪৯৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪১৫)
হাদিস নং: ৬৮৮২
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن عبد الله بن ابي حسين حدثنا نافع بن جبير عن ابن عباس ان النبي صلى الله عليه وسلم قال ابغض الناس الى الله ثلاثة ملحد في الحرم ومبتغ في الاسلام سنة الجاهلية ومطلب دم امرى بغير حق ليهريق دمه.
৬৮৮২. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত লোক হচ্ছে তিনজন। যে লোক হারাম শরীফে অন্যায় ও অপকর্মে লিপ্ত হয়। যে লোক ইসলামী যুগে জাহিলী যুগের রেওয়াজ অন্বেষণ করে। যে লোক ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া কারো রক্তপাত দাবি করে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪১৬)
হাদিস নং: ৬৮৮৩
সহিহ (Sahih)
فروة بن ابي المغراء حدثنا علي بن مسهر عن هشام عن ابيه عن عاىشة هزم المشركون يوم احد ح و حدثني محمد بن حرب حدثنا ابو مروان يحيى بن ابي زكرياء يعني الواسطي عن هشام عن عروة عن عاىشة قالت صرخ ابليس يوم احد في الناس يا عباد الله اخراكم فرجعت اولاهم على اخراهم حتى قتلوا اليمان فقال حذيفة ابي ابي فقتلوه فقال حذيفة غفر الله لكم قال وقد كان انهزم منهم قوم حتى لحقوا بالطاىف.
৬৮৮৩. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদের দিন ইবলীস লোকদের মধ্যে চিৎকার দিয়ে বলল, হে আল্লাহর বান্দারা! পিছনের দলের ওপর আক্রমণ চালাও। ফলে তাদের সামনের লোকেরা পেছনের লোকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। এমন কি তারা ইয়ামানকে হত্যা করে ফেলল। তখন হুযাইফাহ (রাঃ) বললেন, আমার পিতা! আমার পিতা! কিন্তু তারা তাকে হত্যা করে ফেলল। তখন হুযাইফাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ তোমাদের মাফ করুন। রাবী বলেন, মুশরিকদের একটি দল পরাজিত হয়ে তায়েফ চলে গিয়েছিল। [৩২৯০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪১৭)
হাদিস নং: ৬৮৮৪
সহিহ (Sahih)
اسحاق اخبرنا حبان حدثنا همام حدثنا قتادة حدثنا انس بن مالك ان يهوديا رض راس جارية بين حجرين فقيل لها من فعل بك هذا افلان افلان حتى سمي اليهودي فاومات براسها فجيء باليهودي فاعترف فامر به النبي صلى الله عليه وسلم فرض راسه بالحجارة وقد قال همام بحجرين.
87/11. بَاب قَوْلِ اللهِ تَعَالَى
(وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ أَنْ يَقْتُلَ مُؤْمِنًا إِلاَّ خَطَأً وَمَنْ قَتَلَ مُؤْمِنًا خَطَأً فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ وَدِيَةٌ مُسَلَّمَةٌ إِلَى أَهْلِهِ إِلاَّ أَنْ يَصَّدَّقُوا فَإِنْ كَانَ مِنْ قَوْمٍ عَدُوٍّ لَكُمْ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ وَإِنْ كَانَ مِنْ قَوْمٍ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ مِيثَاقٌ فَدِيَةٌ مُسَلَّمَةٌ إِلَى أَهْلِهِ وَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ تَوْبَةً مِنْ اللهِ وَكَانَ اللهُ عَلِيمًا حَكِيمًا)
৮৭/১১. অধ্যায়: আল্লাহর বাণীঃ কোন মু’মিন ব্যক্তির জন্য অন্য মু’মিন ব্যক্তিকে হত্যা করা বৈধ নয়। তবে ভুলবশত করলে সেটা আলাদা.....। (সূরা আন্-নিসা ৪/৯২)
৬৮৮৪. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত, এক ইয়াহূদী একটি বালিকার মাথা দু’টি পাথরের মাঝে রেখে চূর্ণ করে দিল। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হল, কে তোমার সাথে এমন ব্যবহার করেছে? অমুক? না অমুক? শেষে ইয়াহূদী লোকটির নাম উল্লেখ করা হল। তখন সে তার মাথা দিয়ে (হ্যাঁ-সূচক) ইশারা করল। তখন ইয়াহূদী লোকটিকে আনা হল এবং সে স্বীকার করল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাপারে আদেশ করলেন, তাই তার মাথা একটি পাথর দিয়ে চূর্ণ করা হল, এবং হাম্মা (রহ.) বলেন, দু’টো পাথর দিয়ে। [২৪১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪১৮)
(وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ أَنْ يَقْتُلَ مُؤْمِنًا إِلاَّ خَطَأً وَمَنْ قَتَلَ مُؤْمِنًا خَطَأً فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ وَدِيَةٌ مُسَلَّمَةٌ إِلَى أَهْلِهِ إِلاَّ أَنْ يَصَّدَّقُوا فَإِنْ كَانَ مِنْ قَوْمٍ عَدُوٍّ لَكُمْ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ وَإِنْ كَانَ مِنْ قَوْمٍ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ مِيثَاقٌ فَدِيَةٌ مُسَلَّمَةٌ إِلَى أَهْلِهِ وَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ تَوْبَةً مِنْ اللهِ وَكَانَ اللهُ عَلِيمًا حَكِيمًا)
৮৭/১১. অধ্যায়: আল্লাহর বাণীঃ কোন মু’মিন ব্যক্তির জন্য অন্য মু’মিন ব্যক্তিকে হত্যা করা বৈধ নয়। তবে ভুলবশত করলে সেটা আলাদা.....। (সূরা আন্-নিসা ৪/৯২)
৬৮৮৪. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত, এক ইয়াহূদী একটি বালিকার মাথা দু’টি পাথরের মাঝে রেখে চূর্ণ করে দিল। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হল, কে তোমার সাথে এমন ব্যবহার করেছে? অমুক? না অমুক? শেষে ইয়াহূদী লোকটির নাম উল্লেখ করা হল। তখন সে তার মাথা দিয়ে (হ্যাঁ-সূচক) ইশারা করল। তখন ইয়াহূদী লোকটিকে আনা হল এবং সে স্বীকার করল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাপারে আদেশ করলেন, তাই তার মাথা একটি পাথর দিয়ে চূর্ণ করা হল, এবং হাম্মা (রহ.) বলেন, দু’টো পাথর দিয়ে। [২৪১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪১৮)
হাদিস নং: ৬৮৮৫
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يزيد بن زريع حدثنا سعيد عن قتادة عن انس بن مالك ان النبي صلى الله عليه وسلم قتل يهوديا بجارية قتلها على اوضاح لها.
৬৮৮৫. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন ইয়াহূদীকে একজন বালিকার বদলে হত্যা করেছেন। সে রূপার গহনার লোভে মেয়েটিকে হত্যা করেছিল।[1] [২৪১৩; মুসলিম ২৮/৩, হাঃ ১৬৭২, আহমাদ ১৩৮৪১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪১৯)
নোট: [1] হাদীসটি হতে জানা যায় : যদি কোন পুরুষ কোন মহিলাকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে তবে ঐ মহিলার হত্যাকারীকে কিসাস স্বরূপ হত্যা করতে হবে। অনুরূপ যদি কোন মহিলা কোন পুরুষকে হত্যা করে তবে ঐ পুরুষের হত্যাকারীকে কিসাস স্বরূপ হত্যা করতে হবে। জামহুর ওলামার এটাই মত এবং এটিই সঠিক। আর ইমাম বুখারী জামহুর উলামার মতের স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করার উদ্দেশ্যেই অধ্যায়ের নামকরণ করেছেন قَتْلِ الرَّجُلِ بِالْمَرْأَةِ ।
হাদিস নং: ৬৮৮৬
সহিহ (Sahih)
عمرو بن علي بن بحر حدثنا يحيى حدثنا سفيان حدثنا موسى بن ابي عاىشة عن عبيد الله بن عبد الله عن عاىشة قالت لددنا النبي صلى الله عليه وسلم في مرضه فقال لا تلدوني فقلنا كراهية المريض للدواء فلما افاق قال لا يبقى احد منكم الا لد غير العباس فانه لم يشهدكم.
وَقَالَ أَهْلُ الْعِلْمِ يُقْتَلُ الرَّجُلُ بِالْمَرْأَةِ وَيُذْكَرُ عَنْ عُمَرَ تُقَادُ الْمَرْأَةُ مِنْ الرَّجُلِ فِي كُلِّ عَمْدٍ يَبْلُغُ نَفْسَهُ فَمَا دُونَهَا مِنْ الْجِرَاحِ وَبِهِ قَالَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ وَإِبْرَاهِيمُ وَأَبُو الزِّنَادِ عَنْ أَصْحَابِهِ وَجَرَحَتْ أُخْتُ الرُّبَيِّعِ إِنْسَانًا فَقَالَ النَّبِيُّصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْقِصَاصُ.
’আলিমগণ বলেন, নারীর বদলে পুরুষকে হত্যা করা হবে। আর ’উমার (রাঃ) থেকে বর্ণনা করা হয় যে, ইচ্ছাকৃতভাবে প্রত্যেক হত্যা বা আহত করার ক্ষেত্রে নারীর বদলে পুরুষকে কিসাসের বিধান মতে শাস্তি দেয়া হবে। এটাই ’উমার ইবনু আবদুল ’আযীয (রহ.), ইবরাহীম (রহ.) এবং আবূয যিনাদ (রহ.)-এর অভিমত তাদের আসহাব থেকে। রুবায়-এর বোন কোন এক লোককে আহত করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান হল ’কিসাস’।
৬৮৮৬. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসুখের সময় তাঁর মুখের এক কিনারায় ঔষধ ঢেলে দিলাম। তিনি বললেন, তোমরা আমার মুখের কিনারায় ঔষধ দিও না। আমরা মনে করলাম, রোগী ঔষধ সেবন অপছন্দ করেই থাকে। যখন তাঁর হুশ ফিরে এলো, তখন তিনি বললেনঃ তোমাদের মধ্যে যেন এমন কেউ থাকে না, যার মুখের কিনারায় জোরপূর্বক ঔষধ ঢেলে দেয়া না হয় শুধুমাত্র ’আব্বাস ব্যতীত। কেননা, সে তোমাদের কাছে হাযির ছিল না। [৪৪৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪২০)
’আলিমগণ বলেন, নারীর বদলে পুরুষকে হত্যা করা হবে। আর ’উমার (রাঃ) থেকে বর্ণনা করা হয় যে, ইচ্ছাকৃতভাবে প্রত্যেক হত্যা বা আহত করার ক্ষেত্রে নারীর বদলে পুরুষকে কিসাসের বিধান মতে শাস্তি দেয়া হবে। এটাই ’উমার ইবনু আবদুল ’আযীয (রহ.), ইবরাহীম (রহ.) এবং আবূয যিনাদ (রহ.)-এর অভিমত তাদের আসহাব থেকে। রুবায়-এর বোন কোন এক লোককে আহত করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান হল ’কিসাস’।
৬৮৮৬. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসুখের সময় তাঁর মুখের এক কিনারায় ঔষধ ঢেলে দিলাম। তিনি বললেন, তোমরা আমার মুখের কিনারায় ঔষধ দিও না। আমরা মনে করলাম, রোগী ঔষধ সেবন অপছন্দ করেই থাকে। যখন তাঁর হুশ ফিরে এলো, তখন তিনি বললেনঃ তোমাদের মধ্যে যেন এমন কেউ থাকে না, যার মুখের কিনারায় জোরপূর্বক ঔষধ ঢেলে দেয়া না হয় শুধুমাত্র ’আব্বাস ব্যতীত। কেননা, সে তোমাদের কাছে হাযির ছিল না। [৪৪৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪২০)
হাদিস নং: ৬৮৮৭
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب حدثنا ابو الزناد ان الاعرج حدثه انه سمع ابا هريرة يقول انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول نحن الاخرون السابقون يوم القيامة.
৬৮৮৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, আমরা (দুনিয়াতে) সর্বশেষ ও (আখিরাতে) সর্বপ্রথম। [২৩৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪২১)
হাদিস নং: ৬৮৮৮
সহিহ (Sahih)
وباسناده لو اطلع في بيتك احد ولم تاذن له خذفته بحصاة ففقات عينه ما كان عليك من جناح.
৬৮৮৮. উক্ত হাদীসের সূত্রে এও বর্ণিত, তিনি বলেছেনঃ যদি কেউ তোমার ঘরে তোমার অনুমতি ব্যতীত উঁকি মারে আর তুমি পাথর মেরে তার চক্ষু ফুটা করে দাও, তাতে তোমার কোন গুনাহ্ হবে না। [৬৭০২; মুসলিম ৩৮/৯, হাঃ ২১৫৮, আহমাদ ১৯৫৩০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪২২)
হাদিস নং: ৬৮৮৯
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى عن حميد ان رجلا اطلع في بيت النبي صلى الله عليه وسلم فسدد اليه مشقصا فقلت من حدثك قال انس بن مالك.
৬৮৮৯. হুমায়দ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, এক লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে উঁকি মারল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে চাকু নিক্ষেপ করতে উদ্যত হলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, (এ হাদীস) আপনাকে কে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)। [৬২৪২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪২২)
হাদিস নং: ৬৮৯০
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن منصور اخبرنا ابو اسامة قال هشام اخبرنا عن ابيه عن عاىشة قالت لما كان يوم احد هزم المشركون فصاح ابليس اي عباد الله اخراكم فرجعت اولاهم فاجتلدت هي واخراهم فنظر حذيفة فاذا هو بابيه اليمان فقال اي عباد الله ابي ابي قالت فوالله ما احتجزوا حتى قتلوه قال حذيفة غفر الله لكم قال عروة فما زالت في حذيفة منه بقية خير حتى لحق بالله.
৬৮৯০. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদের দিন যখন মুশরিকরা পরাজিত হয়ে গেল তখন ইব্লীস চিৎকার দিয়ে বলল, হে আল্লাহর বান্দাগণ! পিছনের দলের উপর আক্রমণ কর। তখন সামনের লোকেরা পেছনের লোকেদের উপর আক্রমণ করল ও পরস্পরে লড়াইয়ে লিপ্ত হল। তখন হুযাইফাহ (রাঃ) তাকিয়ে দেখতে পেলেন যে তাঁর বাবা ইয়ামান আক্রান্ত হয়েছেন। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহর বান্দাগণ! (এতো) আমার পিতা! আমার পিতা! তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! তারা তাকে হত্যা না করে থামল না। হুযাইফাহ (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্ তোমাদেরকে ক্ষমা করুন। ’উরওয়াহ (রহ.) বলেন, এ কারণে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ না হওয়া পর্যন্ত হুযাইফাহ (রাঃ)-এর অন্তরে এই স্মৃতি জাগরুক ছিল। [৩২৯০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪২৩)
হাদিস নং: ৬৮৯১
সহিহ (Sahih)
المكي بن ابراهيم حدثنا يزيد بن ابي عبيد عن سلمة قال خرجنا مع النبي صلى الله عليه وسلم الى خيبر فقال رجل منهم اسمعنا يا عامر من هنيهاتك فحدا بهم فقال النبي صلى الله عليه وسلم من الساىق قالوا عامر فقال رحمه الله فقالوا يا رسول الله هلا امتعتنا به فاصيب صبيحة ليلته فقال القوم حبط عمله قتل نفسه فلما رجعت وهم يتحدثون ان عامرا حبط عمله فجىت الى النبي صلى الله عليه وسلم فقلت يا نبي الله فداك ابي وامي زعموا ان عامرا حبط عمله فقال كذب من قالها ان له لاجرين اثنين انه لجاهد مجاهد واي قتل يزيده عليه.
৬৮৯১. সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে খায়বারের পথে রওয়ানা হলাম। তখন তাদের এক ব্যক্তি বলল, হে আমির! তোমরা আমাদেরকে উট চালনার কিছু গান শোনাও। সে তাদেরকে তা গেয়ে শোনাল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ চালকটি কে? তারা বলল, আমির। তিনি বললেন আল্লাহ্ তাকে রহম করুন। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদেরকে তার থেকে দীর্ঘকাল উপকার লাভের সুযোগ করে দিন। পরদিন সকালে আমির নিহত হল। তখন লোকেরা বলতে লাগল তার ’আমল বিনষ্ট হয়ে গেছে, সে নিজেকে হত্যা করেছে। যখন আমি ফিরলাম, আর লোকেরা বলাবলি করছিল যে, আমিরের ’আমল বিনষ্ট হয়ে গেছে, তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলাম এবং বললাম, হে আল্লাহর নবী! আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি কুরবান। তাদের ধারণা, আমিরের ’আমল নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বললেনঃ যে এ কথা বলেছে মিথ্যা বলেছে। কারণ, আমিরের জন্য দ্বিগুণ পুরস্কার। কারণ সে আল্লাহর পথে সাধ্যমত চেষ্টা করেছে, অন্য কোন্ প্রকারের হত্যা তাকে এর চেয়ে অধিক পুরস্কারের অধিকারী করত? [২৪৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪২৪)
হাদিস নং: ৬৮৯২
সহিহ (Sahih)
ادم حدثنا شعبة حدثنا قتادة قال سمعت زرارة بن اوفى عن عمران بن حصين ان رجلا عض يد رجل فنزع يده من فمه فوقعت ثنيتاه فاختصموا الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يعض احدكم اخاه كما يعض الفحل لا دية لك.
৬৮৯২. ’ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক লোক অন্য এক লোকের হাত দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরল। সে তার হাত ঐ লোকের মুখ থেকে টেনে বের করল। ফলে তার দু’টো দাঁত উপড়ে গেল। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তাদের মুকাদ্দমা হাজির করল। তখন তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ তার ভাইকে কি কামড়াবে উট যেমন কামড়ায়? তোমার জন্য কোন রক্তপণ নেই।[1] [মুসলিম ১৭/৪, হাঃ ১৬৭৩, আহমাদ ১৯৮৫০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪২৫)
নোট: [1] ইসলাম যে একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা হাদীসটি তার জ্বলন্ত বাস্তব প্রমাণ। কত সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম বিষয়ের কী চমৎকার সমাধান, যা অন্য কোন ধর্মে বিরল। হাদীসটি হতে প্রমাণ পাওয়া যায় :
(১) রাগ বা ক্রোধ থেকে সতর্কতা।
(২) বিচারের রায় পাওয়ার জন্য বিচারকের নিকট কারো অপরাদের বিবরণ তুলে ধরা।
(৩) চতুষ্পদ প্রাণীর কর্মের সাথে মানুষের কোন কর্মের উপমা দেয়ার বৈধতা। যদি ঐ কর্মের মত অপছন্দনীয় স্থানে পতিত হয়।
(১) রাগ বা ক্রোধ থেকে সতর্কতা।
(২) বিচারের রায় পাওয়ার জন্য বিচারকের নিকট কারো অপরাদের বিবরণ তুলে ধরা।
(৩) চতুষ্পদ প্রাণীর কর্মের সাথে মানুষের কোন কর্মের উপমা দেয়ার বৈধতা। যদি ঐ কর্মের মত অপছন্দনীয় স্থানে পতিত হয়।
হাদিস নং: ৬৮৯৩
সহিহ (Sahih)
ابو عاصم عن ابن جريج عن عطاء عن صفوان بن يعلى عن ابيه قال خرجت في غزوة فعض رجل فانتزع ثنيته فابطلها النبي صلى الله عليه وسلم.
৬৮৯৩. ইয়া’লা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কোন একটি যুদ্ধে বেরিয়েছিলাম। তখন এক লোক দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে, যার ফলে তার দাঁত উপড়ে যায়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার (দাঁতের) রক্তপণকে বাতিল করে দেন। [১৮৪৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪২৬)
হাদিস নং: ৬৮৯৪
সহিহ (Sahih)
الانصاري حدثنا حميد عن انس ان ابنة النضر لطمت جارية فكسرت ثنيتها فاتوا النبي صلى الله عليه وسلم فامر بالقصاص.
৬৮৯৪. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নাযরের কন্যা একটি বালিকাকে চড় দিয়ে তার দাঁত ভেঙ্গে ফেলল। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এল। তখন তিনি কিসাসের হুকুম দিলেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪২৭)
হাদিস নং: ৬৮৯৫
সহিহ (Sahih)
ادم حدثنا شعبة عن قتادة عن عكرمة عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال هذه وهذه سواء يعني الخنصر والابهام حدثنا محمد بن بشار حدثنا ابن ابي عدي عن شعبة عن قتادة عن عكرمة عن ابن عباس قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم نحوه.
৬৮৯৫. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ রক্তপণের ব্যাপারে) এটি এবং ওটি সমান। অর্থাৎ কনিষ্ঠাঙ্গুলি ও বৃদ্ধাঙ্গুলি। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪০১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪২৮)
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহ.) ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঐরূপই বলতে শুনেছি। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪২৯)
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহ.) ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঐরূপই বলতে শুনেছি। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪২৯)
হাদিস নং: ৬৮৯৬
সহিহ (Sahih)
وقال لي ابن بشار حدثنا يحيى عن عبيد الله عن نافع عن ابن عمر ان غلاما قتل غيلة فقال عمر لو اشترك فيها اهل صنعاء لقتلتهم وقال مغيرة بن حكيم عن ابيه ان اربعة قتلوا صبيا فقال عمر مثله واقاد ابو بكر وابن الزبير وعلي وسويد بن مقرن من لطمة واقاد عمر من ضربة بالدرة واقاد علي من ثلاثة اسواط واقتص شريح من سوط وخموش
وَقَالَ مُطَرِّفٌ عَنْ الشَّعْبِيِّ فِي رَجُلَيْنِ شَهِدَا عَلَى رَجُلٍ أَنَّهُ سَرَقَ فَقَطَعَهُ عَلِيٌّ ثُمَّ جَاءَا بِآخَرَ وَقَالاَ أَخْطَأْنَا فَأَبْطَلَ شَهَادَتَهُمَا وَأُخِذَا بِدِيَةِ الأَوَّلِ وَقَالَ لَوْ عَلِمْتُ أَنَّكُمَا تَعَمَّدْتُمَا لَقَطَعْتُكُمَا
মুতাররিফ (রহ.) শাবী (রহ.) থেকে এমন দু’লোকের ব্যাপারে বর্ণনা করেন যারা এক লোকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিল যে, সে চুরি করেছে। তখন ’আলী (রাঃ) তার হাত কেটে দিলেন। তারপর তারা অপর একজনকে নিয়ে এসে বলল, আমরা ভুল করে ফেলেছি। তখন তিনি তাদের সাক্ষ্য বাতিল করে দিলেন এবং প্রথম ব্যক্তির রক্তপণ গ্রহণ করলেন। আর বললেন, যদি আমি জানতাম যে, তোমরা ইচ্ছাকৃতভাবে কাজটি করেছ, তাহলে তোমাদের দু’জনের হাত কেটে ফেলতাম।
৬৮৯৬. আবূ ’আবদুল্লাহ্ (ইমাম বুখারী) (রহ.) বলেন, আমাকে ইবনু বাশশার (রহ.) ইবনু ’উমার (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একটি বালককে গোপনে হত্যা করা হয়। তখন ’উমার (রাঃ) বললেন, যদি গোটা সান্’আবাসী এতে অংশ নিত তাহলে আমি তাদেরকে হত্যা করতাম।
মুগীরাহ ইবনু হাকীম (রহ.) আপন পিতা হাকীম থেকে বর্ণনা করেন যে, চারজন লোক একটি বালককে হত্যা করেছিল। তখন ’উমার (রাঃ) ঐরকম কথা বলেছিলেন। আবূ বকর ও ইবনু যুবায়র, ’আলী ও সুওয়ায়দ ইবনু মুকাররিন (রাঃ) চড়ের বিষয়ে কিসাসের নির্দেশ দেন। ’উমার (রাঃ) ছড়ি দিয়ে মারার ব্যাপারে কিসাসের নির্দেশ দেন। আর ’আলী (রাঃ) তিনটি বেত্রাঘাতের জন্য কিসাসের নির্দেশ দেন এবং শুরায়হ্ (রহ.) একটি বেত্রাঘাত ও নখের আঁচড়ের জন্য কিসাস বলবৎ করেন। (আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, অনুচ্ছেদ)
মুতাররিফ (রহ.) শাবী (রহ.) থেকে এমন দু’লোকের ব্যাপারে বর্ণনা করেন যারা এক লোকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিল যে, সে চুরি করেছে। তখন ’আলী (রাঃ) তার হাত কেটে দিলেন। তারপর তারা অপর একজনকে নিয়ে এসে বলল, আমরা ভুল করে ফেলেছি। তখন তিনি তাদের সাক্ষ্য বাতিল করে দিলেন এবং প্রথম ব্যক্তির রক্তপণ গ্রহণ করলেন। আর বললেন, যদি আমি জানতাম যে, তোমরা ইচ্ছাকৃতভাবে কাজটি করেছ, তাহলে তোমাদের দু’জনের হাত কেটে ফেলতাম।
৬৮৯৬. আবূ ’আবদুল্লাহ্ (ইমাম বুখারী) (রহ.) বলেন, আমাকে ইবনু বাশশার (রহ.) ইবনু ’উমার (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একটি বালককে গোপনে হত্যা করা হয়। তখন ’উমার (রাঃ) বললেন, যদি গোটা সান্’আবাসী এতে অংশ নিত তাহলে আমি তাদেরকে হত্যা করতাম।
মুগীরাহ ইবনু হাকীম (রহ.) আপন পিতা হাকীম থেকে বর্ণনা করেন যে, চারজন লোক একটি বালককে হত্যা করেছিল। তখন ’উমার (রাঃ) ঐরকম কথা বলেছিলেন। আবূ বকর ও ইবনু যুবায়র, ’আলী ও সুওয়ায়দ ইবনু মুকাররিন (রাঃ) চড়ের বিষয়ে কিসাসের নির্দেশ দেন। ’উমার (রাঃ) ছড়ি দিয়ে মারার ব্যাপারে কিসাসের নির্দেশ দেন। আর ’আলী (রাঃ) তিনটি বেত্রাঘাতের জন্য কিসাসের নির্দেশ দেন এবং শুরায়হ্ (রহ.) একটি বেত্রাঘাত ও নখের আঁচড়ের জন্য কিসাস বলবৎ করেন। (আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, অনুচ্ছেদ)
হাদিস নং: ৬৮৯৭
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى عن سفيان حدثنا موسى بن ابي عاىشة عن عبيد الله بن عبد الله قال قالت عاىشة لددنا رسول الله صلى الله عليه وسلم في مرضه وجعل يشير الينا لا تلدوني قال فقلنا كراهية المريض بالدواء فلما افاق قال الم انهكم ان تلدوني قال قلنا كراهية للدواء فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يبقى منكم احد الا لد وانا انظر الا العباس فانه لم يشهدكم
৬৮৯৭. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসুস্থতার সময় তাঁর মুখের এক পাশে ঔষধ ঢেলে দিলাম। আর তিনি আমাদের দিকে ইঙ্গিত করতে থাকলেন যে, তোমরা আমার মুখের এক পাশে ঔষধ ঢেলে দিও না। আমরা মনে করলাম যে, রোগীর ঔষধের প্রতি অনাসক্তিই এর কারণ। যখন তিনি জ্ঞান ফিরে পেলেন, তখন বললেনঃ আমাকে (জোর পূর্বক) ঔষধ সেবন করাতে কি তোমাদেরকে নিষেধ করিনি? আমরা বললাম, রোগীর ঔষধের প্রতি অনাসক্তিই এর কারণ বলে আমরা মনে করেছি। তিনি বললেনঃ তোমাদের মধ্যে এমন কেউ যেন না থাকে যার মুখে জোরপূর্বক ঔষধ ঢালা না হবে আর আমি দেখব শুধু ’আব্বাস ছাড়া। কারণ, সে তোমাদের সাথে উপস্থিত ছিল না। [৪৪৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৩০)