অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৮৭/১. আল্লাহর বাণীঃ কেউ ইচ্ছাপূর্বক কোন মু’মিন ব্যক্তিকে হত্যা করলে...
মোট ৫৭ টি হাদিস
হাদিস নং: ৬৮৯৮
সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا سعيد بن عبيد عن بشير بن يسار زعم ان رجلا من الانصار يقال له سهل بن ابي حثمة اخبره ان نفرا من قومه انطلقوا الى خيبر فتفرقوا فيها ووجدوا احدهم قتيلا وقالوا للذي وجد فيهم قد قتلتم صاحبنا قالوا ما قتلنا ولا علمنا قاتلا فانطلقوا الى النبي صلى الله عليه وسلم فقالوا يا رسول الله انطلقنا الى خيبر فوجدنا احدنا قتيلا فقال الكبر الكبر فقال لهم تاتون بالبينة على من قتله قالوا ما لنا بينة قال فيحلفون قالوا لا نرضى بايمان اليهود فكره رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يبطل دمه فوداه ماىة من ابل الصدقة
وَقَالَ الأَشْعَثُ بْنُ قَيْسٍ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَاهِدَاكَ أَوْ يَمِينُهُ وَقَالَ ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ لَمْ يُقِدْ بِهَا مُعَاوِيَةُ وَكَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ إِلَى عَدِيِّ بْنِ أَرْطَاةَ وَكَانَ أَمَّرَهُ عَلَى الْبَصْرَةِ فِي قَتِيلٍ وُجِدَ عِنْدَ بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِ السَّمَّانِينَ إِنْ وَجَدَ أَصْحَابُهُ بَيِّنَةً وَإِلاَّ فَلاَ تَظْلِمْ النَّاسَ فَإِنَّ هَذَا لاَ يُقْضَى فِيهِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
আশ্আস ইবনু কায়স (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, তুমি দু’জন সাক্ষী হাজির করবে, নতুবা তার কসম! ইবনু আবূ মুলায়কা (রহ.) বলেন, মু’আবিয়াহ (রাঃ) কাসামা অনুযায়ী কিসাস গ্রহণ করতেন না। ’উমার ইবনু আবদুল ’আযীয (রহ.) তাঁর পক্ষ থেকে নিযুক্ত বসরার গভর্নর আদী ইবনু আরতাত (রহ.)-এর নিকট একজন নিহত লোকের ব্যাপারে পত্র লিখেন, যাকে তেল ব্যবসায়ীদের বাড়ির নিকট পাওয়া গিয়েছিল। তিনি লিখেছিলেন, যদি তার আত্মীয়-স্বজনরা প্রমাণ হাজির করতে পারে তবে দন্ড প্রদান করবে নতুবা লোকদের ওপর যুলম করবে না। কেননা, তা এমন ব্যাপার, যা ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত ফায়সালা করা যায় না।
৬৮৯৮. আবূ নু’আয়ম (রহ.) সাহল ইবনু আবূ হাস্মা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে,তার গোত্রের একদল লোক খায়বার গেল ও সেখানে তারা বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে পড়ল। তারা তাদের একজনকে নিহত অবস্থায় পেল। এবং যাদের কাছে তাকে নিহত অবস্থায় পাওয়া গেল তাদেরকে তারা বলল, তোমরা আমাদের সাথীকে হত্যা করেছ। তারা বলল, আমরা তাকে হত্যা করিনি, আর হত্যাকারীকে জানিও না। এরপর তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেল এবং বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা খায়বার গিয়েছিলাম। আর আমাদের একজনকে সেখানে নিহত অবস্থায় পেলাম। তখন তিনি বললেন বড়দেরকে বলতে দাও, বড়দেরকে বলতে দাও। তারপর তিনি তাদেরকে বললেনঃ তোমাদেরকে তার হত্যাকারীর বিরুদ্ধে প্রমাণ পেশ করতে হবে। তারা বলল, আমাদের কাছে কোন প্রমাণ নেই। তিনি বললেনঃ তাহলে ওরা কসম করবে। তারা বলল, ইয়াহূদীদের কসমে আমাদের বিশ্বাস নেই। এ নিহতের রক্ত বৃথা হয়ে যাক তা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পছন্দ করলেন না। তাই সাদাকার একশ উট দিয়ে তার রক্তপণ আদায় করলেন। [২৭০২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৩১)
আশ্আস ইবনু কায়স (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, তুমি দু’জন সাক্ষী হাজির করবে, নতুবা তার কসম! ইবনু আবূ মুলায়কা (রহ.) বলেন, মু’আবিয়াহ (রাঃ) কাসামা অনুযায়ী কিসাস গ্রহণ করতেন না। ’উমার ইবনু আবদুল ’আযীয (রহ.) তাঁর পক্ষ থেকে নিযুক্ত বসরার গভর্নর আদী ইবনু আরতাত (রহ.)-এর নিকট একজন নিহত লোকের ব্যাপারে পত্র লিখেন, যাকে তেল ব্যবসায়ীদের বাড়ির নিকট পাওয়া গিয়েছিল। তিনি লিখেছিলেন, যদি তার আত্মীয়-স্বজনরা প্রমাণ হাজির করতে পারে তবে দন্ড প্রদান করবে নতুবা লোকদের ওপর যুলম করবে না। কেননা, তা এমন ব্যাপার, যা ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত ফায়সালা করা যায় না।
৬৮৯৮. আবূ নু’আয়ম (রহ.) সাহল ইবনু আবূ হাস্মা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে,তার গোত্রের একদল লোক খায়বার গেল ও সেখানে তারা বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে পড়ল। তারা তাদের একজনকে নিহত অবস্থায় পেল। এবং যাদের কাছে তাকে নিহত অবস্থায় পাওয়া গেল তাদেরকে তারা বলল, তোমরা আমাদের সাথীকে হত্যা করেছ। তারা বলল, আমরা তাকে হত্যা করিনি, আর হত্যাকারীকে জানিও না। এরপর তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেল এবং বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা খায়বার গিয়েছিলাম। আর আমাদের একজনকে সেখানে নিহত অবস্থায় পেলাম। তখন তিনি বললেন বড়দেরকে বলতে দাও, বড়দেরকে বলতে দাও। তারপর তিনি তাদেরকে বললেনঃ তোমাদেরকে তার হত্যাকারীর বিরুদ্ধে প্রমাণ পেশ করতে হবে। তারা বলল, আমাদের কাছে কোন প্রমাণ নেই। তিনি বললেনঃ তাহলে ওরা কসম করবে। তারা বলল, ইয়াহূদীদের কসমে আমাদের বিশ্বাস নেই। এ নিহতের রক্ত বৃথা হয়ে যাক তা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পছন্দ করলেন না। তাই সাদাকার একশ উট দিয়ে তার রক্তপণ আদায় করলেন। [২৭০২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৩১)
হাদিস নং: ৬৮৯৯
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا ابو بشر اسماعيل بن ابراهيم الاسدي حدثنا الحجاج بن ابي عثمان حدثني ابو رجاء من ال ابي قلابة حدثني ابو قلابة ان عمر بن عبد العزيز ابرز سريره يوما للناس ثم اذن لهم فدخلوا فقال ما تقولون في القسامة قال نقول القسامة القود بها حق وقد اقادت بها الخلفاء قال لي ما تقول يا ابا قلابة ونصبني للناس فقلت يا امير المومنين عندك رءوس الاجناد واشراف العرب ارايت لو ان خمسين منهم شهدوا على رجل محصن بدمشق انه قد زنى لم يروه اكنت ترجمه قال لا قلت ارايت لو ان خمسين منهم شهدوا على رجل بحمص انه سرق اكنت تقطعه ولم يروه قال لا قلت فوالله ما قتل رسول الله صلى الله عليه وسلم احدا قط الا في احدى ثلاث خصال رجل قتل بجريرة نفسه فقتل او رجل زنى بعد احصان او رجل حارب الله ورسوله وارتد عن الاسلام فقال القوم اوليس قد حدث انس بن مالك ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قطع في السرق وسمر الاعين ثم نبذهم في الشمس فقلت انا احدثكم حديث انس حدثني انس ان نفرا من عكل ثمانية قدموا على رسول الله صلى الله عليه وسلم فبايعوه على الاسلام فاستوخموا الارض فسقمت اجسامهم فشكوا ذلك الى رسول الله صلى الله عليه وسلم قال افلا تخرجون مع راعينا في ابله فتصيبون من البانها وابوالها قالوا بلى فخرجوا فشربوا من البانها وابوالها فصحوا فقتلوا راعي رسول الله صلى الله عليه وسلم واطردوا النعم فبلغ ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فارسل في اثارهم فادركوا فجيء بهم فامر بهم فقطعت ايديهم وارجلهم وسمر اعينهم ثم نبذهم في الشمس حتى ماتوا قلت واي شيء اشد مما صنع هولاء ارتدوا عن الاسلام وقتلوا وسرقوا فقال عنبسة بن سعيد والله ان سمعت كاليوم قط فقلت اترد علي حديثي يا عنبسة قال لا ولكن جىت بالحديث على وجهه والله لا يزال هذا الجند بخير ما عاش هذا الشيخ بين اظهرهم قلت وقد كان في هذا سنة من رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل عليه نفر من الانصار فتحدثوا عنده فخرج رجل منهم بين ايديهم فقتل فخرجوا بعده فاذا هم بصاحبهم يتشحط في الدم فرجعوا الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا يا رسول الله صلى الله عليه وسلم صاحبنا كان تحدث معنا فخرج بين ايدينا فاذا نحن به يتشحط في الدم فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال بمن تظنون او من ترون قتله قالوا نرى ان اليهود قتلته فارسل الى اليهود فدعاهم فقال انتم قتلتم هذا قالوا لا قال اترضون نفل خمسين من اليهود ما قتلوه فقالوا ما يبالون ان يقتلونا اجمعين ثم ينتفلون قال افتستحقون الدية بايمان خمسين منكم قالوا ما كنا لنحلف فوداه من عنده قلت وقد كانت هذيل خلعوا خليعا لهم في الجاهلية فطرق اهل بيت من اليمن بالبطحاء فانتبه له رجل منهم فحذفه بالسيف فقتله فجاءت هذيل فاخذوا اليماني فرفعوه الى عمر بالموسم وقالوا قتل صاحبنا فقال انهم قد خلعوه فقال يقسم خمسون من هذيل ما خلعوه قال فاقسم منهم تسعة واربعون رجلا وقدم رجل منهم من الشام فسالوه ان يقسم فافتدى يمينه منهم بالف درهم فادخلوا مكانه رجلا اخر فدفعه الى اخي المقتول فقرنت يده بيده قالوا فانطلقا والخمسون الذين اقسموا حتى اذا كانوا بنخلة اخذتهم السماء فدخلوا في غار في الجبل فانهجم الغار على الخمسين الذين اقسموا فماتوا جميعا وافلت القرينان واتبعهما حجر فكسر رجل اخي المقتول فعاش حولا ثم مات قلت وقد كان عبد الملك بن مروان اقاد رجلا بالقسامة ثم ندم بعد ما صنع فامر بالخمسين الذين اقسموا فمحوا من الديوان وسيرهم الى الشام
৬৮৯৯. কুতাইবাহ ইবনু সা’ঈদ (রহ.) ... আবূ কিলাবাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, একবার ’উমার ইবনু আবদুল ’আযীয (রহ.) তাঁর সিংহাসন মানুষদেরকে দেখানোর জন্য বের করলেন। তারপর লোকদেরকে তাঁর নিকট আসার অনুমতি প্রদান করলেন। তারা প্রবেশ করল। তারপর বললেন, তোমরা কাসামার ব্যাপারে কী মত পোষণ কর? তারা বলল, আমাদের মতে কাসামার ভিত্তিতে কিসাস গ্রহণ করা বৈধ। খলীফাগণ এর ভিত্তিতে কিসাস কার্যকর করেছেন। তিনি আমাকে বললেন, হে আবূ কিলাবা! তুমি কী বল? তিনি আমাকে লোকদের সামনে দাঁড় করালেন। আমি বললাম, হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনার কাছে সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থগণ ও আরব নেতাগণ আছেন, বলুন তো! যদি তাদের থেকে পঞ্চাশ ব্যক্তি দামেশকের একজন বিবাহিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয় যে সে যিনা করেছে, অথচ তারা তাকে দেখেনি, তাহলে আপনি তাকে রজম করবেন কি? তিনি বললেন, না।
আমি বললাম, বলুন তো! যদি তাদের মধ্য থেকে পঞ্চাশ জন হিম্স নিবাসী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয় যে, সে চুরি করেছে অথচ তারা তাকে দেখেনি, তাহলে কি আপনি তার হাত কাটবেন? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন কারণের কোন একটি ছাড়া কাউকে হত্যা করেননি। (যথা) : (অন্যায়ভাবে) কাউকে হত্যা করলে তাকে হত্যা করা হবে। অথবা যে ব্যক্তি বিয়ের পর যিনা করে, অথবা যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ও ইসলাম থেকে ফিরে মুরতাদ হয়ে যায়। তখন লোকেরা বলল, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) কি বর্ণনা করেননি যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুরির ব্যাপারে হাত কেটেছেন, লৌহশলাকা দ্বারা চক্ষু ফুঁড়ে দিয়েছেন, তারপর তাদেরকে উত্তপ্ত রৌদ্রে ফেলে রেখেছেন।
তখন আমি বললাম, আমি তোমাদেরকে আনাস (রাঃ)-এর হাদীস বর্ণনা করছি। আমাকে আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, উক্ল গোত্রের আটজন লোক রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এল। তারা তাঁর হাতে ইসলামের বায়’আত গ্রহণ করল। কিন্তু সে এলাকার আবহাওয়া তাদের অনুকূলে হল না এবং তারা অসুস্থ হয়ে পড়ল। তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এর অভিযোগ করল। তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা কি আমার রাখালের সঙ্গে তার উটপালের কাছে গিয়ে সেগুলোর দুধ ও পেশাব পান করবে না? তারা বলল, হ্যাঁ। তারপর তারা সেখানে গিয়ে সেগুলোর দুধ ও পেশাব পান করল। ফলে তারা সুস্থ হয়ে গেল। এরপর তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাখালকে হত্যা করে উটগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে চলল। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছলে তিনি তাদের পেছনে ধাওয়া করার জন্য লোক পাঠালেন। তারা ধরা পড়ল এবং তাদেরকে নিয়ে আসা হল। তাদের ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হল। তাদের হাত-পা কাটা হল, লৌহশলাকা দিয়ে তাদের চোখ ফুঁড়ে দেয়া হল। এরপর তপ্ত রোদে তাদেরকে ফেলে রাখা হল। অবশেষে তারা মারা গেল।
আমি বললাম, তারা যা করেছে এর চেয়ে জঘন্য আর কী হতে পারে? তারা ইসলাম থেকে মুরতাদ্ হল, হত্যা করল, চুরি করল। তখন আম্বাসা ইবনু সা’ঈদ বললেন, আল্লাহর শপথ! আজকের মত আমি আর কখনো শুনিনি। আমি বললাম, হে আম্বাসা! তাহলে তুমি আমার বর্ণিত হাদীসটি প্রত্যাখ্যান করছ কি? তিনি বললেন, না, তুমি হাদীসটি সঠিকভাবে বর্ণনা করেছ। আল্লাহর কসম! এ লোকগুলো কল্যাণের উপর থাকবে যতদিন এ শায়খ (বুযর্গ) তাদের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন। আমি বললাম, এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটা নিয়ম আছে। আনসারদের একটি দল তাঁর কাছে আসল। তারা তাঁর কাছে আলোচনা করছিল। ইতোমধ্যে তাদের সামনে তাদের এক লোক বেরিয়ে গেল এবং নিহত হল। তারপর তারা বের হল। তারা তাদের সাথীকে দেখতে পেল যে, রক্তের মাঝে নড়াচড়া করছে। তারা রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে এল এবং বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের সাথী যে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করছিল এবং সে আমাদের সামনেই বের হয়ে গিয়েছিল, আমরা এখন তাকে রক্তের মাঝে নড়াচড়া করতে দেখতে পাচ্ছি।
এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে গেলেন এবং বললেনঃ তাকে হত্যা করার ব্যাপারে কাদের সম্বন্ধে তোমাদের ধারণা? তারা বলল, আমরা মনে করি, ইয়াহূদীরা তাকে হত্যা করেছে। তিনি ইয়াহূদীদেরকে ডেকে পাঠালেন। এরপর তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা ওকে হত্যা করেছ? তারা বলল, না। তিনি আনসারদের বললেন, তোমরা কি এতে রাযী আছ যে, ইয়াহূদীদের পঞ্চাশ জন লোক শপথ করে বলবে যে, তারা তাকে হত্যা করেনি। আনসাররা বলল, তারা এতে কোন পরওয়া করবে না, তারা আমাদের সকলকে হত্যা করার পরও শপথ করে নিতে পারবে। তিনি বললেনঃ তাহলে তোমরা কি এজন্য প্রস্তুত আছ যে, তোমাদের থেকে পঞ্চাশজনের শপথের মাধ্যমে তোমরা দীয়াতের অধিকারী হবে? তারা বলল, আমরা শপথ করব না। তখন তিনি নিজের পক্ষ থেকে দীয়াত প্রদান করে দেন। (রাবী আবূ কালাবা বলেন) আমি বললাম, হুযায়ল গোত্র জাহিলী যুগে তাদের গোত্রের লোকেরা এক ব্যক্তিকে সকল প্রকার দায়-দায়িত্ব গ্রহণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল। এক রাতে সে লোক বাহ্হা নামক স্থানে ইয়ামনের এক পরিবারের উপর হঠাৎ হামলা চালায়। কিন্তু সে পরিবারের এক লোক তা টের পেয়ে যায় এবং তার প্রতি তরবারী নিক্ষেপ করে তাকে হত্যা করে ফেলে।
অতঃপর হুযায়ল গোত্রের লোকেরা এসে ইয়ামনী ব্যক্তিটিকে ধরে ফেলে এবং (হাজ্জের) মৌসুমে ’উমার (রাঃ)-এর কাছে তাকে নিয়ে পেশ করে। আর বলে সে আমাদের এক সঙ্গীকে হত্যা করেছে। ইয়ামনী লোকটি বলল, তারা কিন্তু ওকে সকল প্রকার দায়-দায়িত্ব গ্রহণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। তখন তিনি বললেন, হুযায়ল গোত্রের পঞ্চাশ জন লোক এ মর্মে শপথ করবে যে তারা ওকে সকল দায়-দায়িত্ব গ্রহণ থেকে বিচ্ছিন্ন করেনি। বর্ণনাকারী বলেন, তাদের মধ্য থেকে ঊনপঞ্চাশ জন লোক শপথ করে নিল, অতঃপর তাদের একজন সিরিয়া থেকে এলো, তারা তাকে শপথ করতে বলল। কিন্তু সে এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে শপথ থেকে তাদের সঙ্গে আপোস করে নিল। তখন তারা তার স্থলে অপর একজনকে যোগ করে নিল। তারা তাকে নিহত ব্যক্তির ভাইয়ের কাছে পেশ করল। তারা উভয়েই করমর্দন করল।
বর্ণনাকারী বলেন, আমরা এবং ঐ পঞ্চাশ জন লোক, যারা শপথ করেছে, চললাম। যখন তারা নাখ্লা নামক স্থানে পৌঁছল, তাদের উপর বৃষ্টি নেমে এল। তখন তারা পর্বতের এক গুহায় প্রবেশ করল। কিন্তু গুহা এ পঞ্চাশজন শপথকারীর উপর ভেঙ্গে পড়ল? এতে তারা সকলেই মারা গেল। তবে করমর্দনকারী দু’জন বেঁচে গেল। কিন্তু একটি পাথর তাদের উভয়ের প্রতি নিক্ষিপ্ত হল এবং নিহত লোকের ভাইয়ের পা ভেঙ্গে ফেলল। আর সে এক বছর জীবিত থাকার পর মারা গেল। (রাবী বলেন) আমি বললাম, আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ান (এক সময়) কাসামার ভিত্তিতে এক ব্যক্তির কিসাস গ্রহণ করেন। এরপর আপন কৃতকর্মের উপর তিনি লজ্জিত হন এবং ঐ পঞ্চাশ জন লোক সম্পর্কে নির্দেশ দিলেন যারা শপথ করেছিল, তাদেরকে রেজিস্ট্রার থেকে খারিজ করে দিয়ে সিরিয়ায় নির্বাসন দিলেন। [২৩৩; মুসলিম ২৮/২, হাঃ ১৬৭১, আহমাদ ১২৯৩৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৩২)
আমি বললাম, বলুন তো! যদি তাদের মধ্য থেকে পঞ্চাশ জন হিম্স নিবাসী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয় যে, সে চুরি করেছে অথচ তারা তাকে দেখেনি, তাহলে কি আপনি তার হাত কাটবেন? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন কারণের কোন একটি ছাড়া কাউকে হত্যা করেননি। (যথা) : (অন্যায়ভাবে) কাউকে হত্যা করলে তাকে হত্যা করা হবে। অথবা যে ব্যক্তি বিয়ের পর যিনা করে, অথবা যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ও ইসলাম থেকে ফিরে মুরতাদ হয়ে যায়। তখন লোকেরা বলল, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) কি বর্ণনা করেননি যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুরির ব্যাপারে হাত কেটেছেন, লৌহশলাকা দ্বারা চক্ষু ফুঁড়ে দিয়েছেন, তারপর তাদেরকে উত্তপ্ত রৌদ্রে ফেলে রেখেছেন।
তখন আমি বললাম, আমি তোমাদেরকে আনাস (রাঃ)-এর হাদীস বর্ণনা করছি। আমাকে আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, উক্ল গোত্রের আটজন লোক রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এল। তারা তাঁর হাতে ইসলামের বায়’আত গ্রহণ করল। কিন্তু সে এলাকার আবহাওয়া তাদের অনুকূলে হল না এবং তারা অসুস্থ হয়ে পড়ল। তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এর অভিযোগ করল। তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা কি আমার রাখালের সঙ্গে তার উটপালের কাছে গিয়ে সেগুলোর দুধ ও পেশাব পান করবে না? তারা বলল, হ্যাঁ। তারপর তারা সেখানে গিয়ে সেগুলোর দুধ ও পেশাব পান করল। ফলে তারা সুস্থ হয়ে গেল। এরপর তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাখালকে হত্যা করে উটগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে চলল। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছলে তিনি তাদের পেছনে ধাওয়া করার জন্য লোক পাঠালেন। তারা ধরা পড়ল এবং তাদেরকে নিয়ে আসা হল। তাদের ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হল। তাদের হাত-পা কাটা হল, লৌহশলাকা দিয়ে তাদের চোখ ফুঁড়ে দেয়া হল। এরপর তপ্ত রোদে তাদেরকে ফেলে রাখা হল। অবশেষে তারা মারা গেল।
আমি বললাম, তারা যা করেছে এর চেয়ে জঘন্য আর কী হতে পারে? তারা ইসলাম থেকে মুরতাদ্ হল, হত্যা করল, চুরি করল। তখন আম্বাসা ইবনু সা’ঈদ বললেন, আল্লাহর শপথ! আজকের মত আমি আর কখনো শুনিনি। আমি বললাম, হে আম্বাসা! তাহলে তুমি আমার বর্ণিত হাদীসটি প্রত্যাখ্যান করছ কি? তিনি বললেন, না, তুমি হাদীসটি সঠিকভাবে বর্ণনা করেছ। আল্লাহর কসম! এ লোকগুলো কল্যাণের উপর থাকবে যতদিন এ শায়খ (বুযর্গ) তাদের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন। আমি বললাম, এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটা নিয়ম আছে। আনসারদের একটি দল তাঁর কাছে আসল। তারা তাঁর কাছে আলোচনা করছিল। ইতোমধ্যে তাদের সামনে তাদের এক লোক বেরিয়ে গেল এবং নিহত হল। তারপর তারা বের হল। তারা তাদের সাথীকে দেখতে পেল যে, রক্তের মাঝে নড়াচড়া করছে। তারা রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে এল এবং বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের সাথী যে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করছিল এবং সে আমাদের সামনেই বের হয়ে গিয়েছিল, আমরা এখন তাকে রক্তের মাঝে নড়াচড়া করতে দেখতে পাচ্ছি।
এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে গেলেন এবং বললেনঃ তাকে হত্যা করার ব্যাপারে কাদের সম্বন্ধে তোমাদের ধারণা? তারা বলল, আমরা মনে করি, ইয়াহূদীরা তাকে হত্যা করেছে। তিনি ইয়াহূদীদেরকে ডেকে পাঠালেন। এরপর তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা ওকে হত্যা করেছ? তারা বলল, না। তিনি আনসারদের বললেন, তোমরা কি এতে রাযী আছ যে, ইয়াহূদীদের পঞ্চাশ জন লোক শপথ করে বলবে যে, তারা তাকে হত্যা করেনি। আনসাররা বলল, তারা এতে কোন পরওয়া করবে না, তারা আমাদের সকলকে হত্যা করার পরও শপথ করে নিতে পারবে। তিনি বললেনঃ তাহলে তোমরা কি এজন্য প্রস্তুত আছ যে, তোমাদের থেকে পঞ্চাশজনের শপথের মাধ্যমে তোমরা দীয়াতের অধিকারী হবে? তারা বলল, আমরা শপথ করব না। তখন তিনি নিজের পক্ষ থেকে দীয়াত প্রদান করে দেন। (রাবী আবূ কালাবা বলেন) আমি বললাম, হুযায়ল গোত্র জাহিলী যুগে তাদের গোত্রের লোকেরা এক ব্যক্তিকে সকল প্রকার দায়-দায়িত্ব গ্রহণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল। এক রাতে সে লোক বাহ্হা নামক স্থানে ইয়ামনের এক পরিবারের উপর হঠাৎ হামলা চালায়। কিন্তু সে পরিবারের এক লোক তা টের পেয়ে যায় এবং তার প্রতি তরবারী নিক্ষেপ করে তাকে হত্যা করে ফেলে।
অতঃপর হুযায়ল গোত্রের লোকেরা এসে ইয়ামনী ব্যক্তিটিকে ধরে ফেলে এবং (হাজ্জের) মৌসুমে ’উমার (রাঃ)-এর কাছে তাকে নিয়ে পেশ করে। আর বলে সে আমাদের এক সঙ্গীকে হত্যা করেছে। ইয়ামনী লোকটি বলল, তারা কিন্তু ওকে সকল প্রকার দায়-দায়িত্ব গ্রহণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। তখন তিনি বললেন, হুযায়ল গোত্রের পঞ্চাশ জন লোক এ মর্মে শপথ করবে যে তারা ওকে সকল দায়-দায়িত্ব গ্রহণ থেকে বিচ্ছিন্ন করেনি। বর্ণনাকারী বলেন, তাদের মধ্য থেকে ঊনপঞ্চাশ জন লোক শপথ করে নিল, অতঃপর তাদের একজন সিরিয়া থেকে এলো, তারা তাকে শপথ করতে বলল। কিন্তু সে এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে শপথ থেকে তাদের সঙ্গে আপোস করে নিল। তখন তারা তার স্থলে অপর একজনকে যোগ করে নিল। তারা তাকে নিহত ব্যক্তির ভাইয়ের কাছে পেশ করল। তারা উভয়েই করমর্দন করল।
বর্ণনাকারী বলেন, আমরা এবং ঐ পঞ্চাশ জন লোক, যারা শপথ করেছে, চললাম। যখন তারা নাখ্লা নামক স্থানে পৌঁছল, তাদের উপর বৃষ্টি নেমে এল। তখন তারা পর্বতের এক গুহায় প্রবেশ করল। কিন্তু গুহা এ পঞ্চাশজন শপথকারীর উপর ভেঙ্গে পড়ল? এতে তারা সকলেই মারা গেল। তবে করমর্দনকারী দু’জন বেঁচে গেল। কিন্তু একটি পাথর তাদের উভয়ের প্রতি নিক্ষিপ্ত হল এবং নিহত লোকের ভাইয়ের পা ভেঙ্গে ফেলল। আর সে এক বছর জীবিত থাকার পর মারা গেল। (রাবী বলেন) আমি বললাম, আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ান (এক সময়) কাসামার ভিত্তিতে এক ব্যক্তির কিসাস গ্রহণ করেন। এরপর আপন কৃতকর্মের উপর তিনি লজ্জিত হন এবং ঐ পঞ্চাশ জন লোক সম্পর্কে নির্দেশ দিলেন যারা শপথ করেছিল, তাদেরকে রেজিস্ট্রার থেকে খারিজ করে দিয়ে সিরিয়ায় নির্বাসন দিলেন। [২৩৩; মুসলিম ২৮/২, হাঃ ১৬৭১, আহমাদ ১২৯৩৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৩২)
হাদিস নং: ৬৯০০
সহিহ (Sahih)
ابو النعمان حدثنا حماد بن زيد عن عبيد الله بن ابي بكر بن انس عن انس ان رجلا اطلع من حجر في بعض حجر النبي صلى الله عليه وسلم فقام اليه بمشقص او بمشاقص وجعل يختله ليطعنه
৬৯০০. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন একটি হুজরার ছিদ্র দিয়ে উঁকি মারল। তখন তিনি তার প্রতি লক্ষ্য করে একটি তীক্ষ্ণ প্রশস্ত ছুরি নিয়ে দাঁড়ালেন এবং তার অজান্তে তাকে খোঁচা দেয়ার সুযোগ খুঁজতে লাগলেন। [৬২৪২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৩৩)
হাদিস নং: ৬৯০১
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا ليث عن ابن شهاب ان سهل بن سعد الساعدي اخبره ان رجلا اطلع في جحر في باب رسول الله صلى الله عليه وسلم ومع رسول الله صلى الله عليه وسلم مدرى يحك به راسه فلما راه رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لو اعلم انك تنتظرني لطعنت به في عينيك قال رسول الله صلى الله عليه وسلم انما جعل الاذن من قبل البصر
৬৯০১. সাহল ইবনু সা’দ সা’ঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন হুজরার দরজার এক ছিদ্র দিয়ে উঁকি মারল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট চিরুনির মত একখন্ড লোহা ছিল। এ দিয়ে তিনি নিজ মাথা চুল্কাচ্ছিলেন। যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখলেন তখন বললেনঃ যদি আমি নিশ্চিত হতাম যে, তুমি আমার দিকে তাকাচ্ছ তাহলে এটা দিয়ে আমি তোমার চোখে আঘাত করতাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ চোখের কারণেই অনুমতির বিধান রাখা হয়েছে।[1] [৫৯২৪; মুসলিম ৩৮/৯, হাঃ ২১৫৬, আহমাদ ২২৮৬৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৩৪)
নোট: [1] উঁকি মেরে বাড়ীর ভিতর তাকানো নিষিদ্ধ- বাড়ী অপরের হোক বা নিজেরই হোক। ইসলাম যে তার অনুসারীদেরকে কত মহান চরিত্রের উপর প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, এ হাদীস তার এক উজ্জ্বল প্রমাণ।
হাদিস নং: ৬৯০২
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا سفيان حدثنا ابو الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة قال قال ابو القاسم صلى الله عليه وسلم لو ان امرا اطلع عليك بغير اذن فخذفته بعصاة ففقات عينه لم يكن عليك جناح
৬৯০২. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূল কাসিম (রাঃ) বলেছেনঃ যদি কোন লোক অনুমতি ছাড়া তোমার দিকে উঁকি মারে আর তখন তুমি তার প্রতি কংকর ছুঁড়ে তার চক্ষু উপড়ে ফেল, এতে তোমার কোন অপরাধ হবে না।[1] [৬৮৮৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৩৫)
নোট: [1] ৬৯০০-৬৯০২ নং হাদীসগুলো থেকে যে শিক্ষণীয় বিষয় জানা যায় তা নিম্নরূপ :
(১) মাথায় চুল রাখা ও তার পরিচর্যা করা।
(২) এমন হাতিয়ার রাখা যা দ্বারা বিষাক্ত ও হিংস্র প্রাণীকে তাড়ানো যায় এবং যা ব্যবহারে ময়লা ও উকুন বিতাড়ন করা যায়।
(৩) দরজা বন্ধ করে যে ব্যক্তি বাড়ীতে অবস্থান করছে তার বিনা অনুমতিতে বাড়ীতে প্রবেশ না করা, এমন কি দরজার ছিদ্র দিয়ে উঁকি দেয়ার নিষেধাজ্ঞা।
(৪) চুল আঁচড়ানোর বৈধতা।
(৫) অনুমতি নেয়ার বিষয়টি শুধুমাত্র যাদের সাথে বিবাহ হারাম নয় তাদের সাথে নির্দিষ্ট নয়। বরং তা মুহরিমদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যেমন মা, বোন ইত্যাদি। (ফাতহুল বারী)
(১) মাথায় চুল রাখা ও তার পরিচর্যা করা।
(২) এমন হাতিয়ার রাখা যা দ্বারা বিষাক্ত ও হিংস্র প্রাণীকে তাড়ানো যায় এবং যা ব্যবহারে ময়লা ও উকুন বিতাড়ন করা যায়।
(৩) দরজা বন্ধ করে যে ব্যক্তি বাড়ীতে অবস্থান করছে তার বিনা অনুমতিতে বাড়ীতে প্রবেশ না করা, এমন কি দরজার ছিদ্র দিয়ে উঁকি দেয়ার নিষেধাজ্ঞা।
(৪) চুল আঁচড়ানোর বৈধতা।
(৫) অনুমতি নেয়ার বিষয়টি শুধুমাত্র যাদের সাথে বিবাহ হারাম নয় তাদের সাথে নির্দিষ্ট নয়। বরং তা মুহরিমদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যেমন মা, বোন ইত্যাদি। (ফাতহুল বারী)
হাদিস নং: ৬৯০৩
সহিহ (Sahih)
صدقة بن الفضل اخبرنا ابن عيينة حدثنا مطرف قال سمعت الشعبي قال سمعت ابا جحيفة قال سالت عليا هل عندكم شيء مما ليس في القران وقال مرة ما ليس عند الناس فقال والذي فلق الحبة وبرا النسمة ما عندنا الا ما في القران الا فهما يعطى رجل في كتابه وما في الصحيفة قلت وما في الصحيفة قال العقل وفكاك الاسير وان لا يقتل مسلم بكافر
৬৯০৩. আবূ জুহায়ফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’আলী (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, যা কুরআনে নেই এমন কিছু আপনাদের নিকট আছে কি? একবার তিনি বলেছেন, যা মানুষের নিকট নেই.....তখন তিনি বললেন, ঐ সত্তার কসম! যিনি খাদ্যশস্য অঙ্কুরিত করেন এবং প্রাণ সৃষ্টি করেন! কুরআনে যা কিছু আছে তা ছাড়া আমাদের নিকট অন্য কিছু নেই। তবে এমন জ্ঞান যা আল্লাহর কিতাব বুঝবার জন্য কোন ব্যক্তিকে দেয়া হয় এবং এ কাগজের টুকরায় যা রয়েছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কাগজের টুকরায় কী রয়েছে? তিনি বললেন, রক্তপণ ও মুক্তিপণের বিধান। আর (এ নীতি) কোন কাফেরের বদলে কোন মুসলিমকে হত্যা করা হবে না।[1] [১১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৩৬)
নোট: [1] ‘আলী (রাঃ) হয়ত রক্তপণ ও মুক্তিপণ সম্পর্কিত বিধানাবলী রসূলুল্লাহ (সাঃ) হতে জানার পর কাগজের টুকরায় লিখে রেখেছিলেন।
হাদিস নং: ৬৯০৪
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك وحدثنا اسماعيل حدثنا مالك عن ابن شهاب عن ابي سلمة بن عبد الرحمن عن ابي هريرة ان امراتين من هذيل رمت احداهما الاخرى فطرحت جنينها فقضى رسول الله صلى الله عليه وسلم فيها بغرة عبد او امة
৬৯০৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, হুযায়ল গোত্রের দু’জন মহিলার একজন আরেক জনকে পাথর ছুঁড়ে গর্ভপাত ঘটিয়ে দিল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মহিলার ব্যাপারে একটি গোলাম অথবা বাঁদী প্রদানের ফায়সালা দিলেন। [৫৭৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৩৭)
হাদিস নং: ৬৯০৫
সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا وهيب حدثنا هشام عن ابيه عن المغيرة بن شعبة عن عمر انه استشارهم في املاص المراة فقال المغيرة قضى النبي صلى الله عليه وسلم بالغرة عبد او امة
৬৯০৫. উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি মহিলাদের গর্ভপাত সম্বন্ধে সাহাবাদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। তখন মুগীরাহ (রাঃ) বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত লোকটিকে একটি গোলাম অথবা বাঁদী প্রদানের ফায়সালা করেছেন। [৬৯০৭, ৬৮০৮মিম, ৭৩১৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৩৮)
হাদিস নং: ৬৯০৬
সহিহ (Sahih)
فشهد محمد بن مسلمة انه شهد النبي صلى الله عليه وسلم قضى به
৬৯০৬. মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) সাক্ষ্য দিলেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ ফায়সালা করতে দেখেছেন। [৬৯০৮, ৭৩১৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৩৮)
হাদিস নং: ৬৯০৭
সহিহ (Sahih)
عبيد الله بن موسى عن هشام عن ابيه ان عمر نشد الناس من سمع النبي صلى الله عليه وسلم قضى في السقط فقال المغيرة انا سمعته قضى فيه بغرة عبد او امة
৬৯০৭. হিশামের পিতা ’উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ’উমার (রাঃ) লোকদেরকে কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভ্রূণ হত্যার ব্যাপারে ফায়সালা দিতে কে শুনেছে? তখন মুগীরাহ (রাঃ) বললেন, আমি তাঁকে এরূপ ক্ষেত্রে একটি গোলাম অথবা বাঁদী প্রদানের ফায়সালা প্রদান করতে শুনেছি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তোমার সাক্ষী নিয়ে এসো। [৬৯০৫] (আধুনিক প্রকাশনী- , ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৩৯)
হাদিস নং: ৬৯০৮
সহিহ (Sahih)
قال اىت من يشهد معك على هذا فقال محمد بن مسلمة انا اشهد على النبي صلى الله عليه وسلم بمثل هذا
م حدثني محمد بن عبد الله حدثنا محمد بن سابق حدثنا زاىدة حدثنا هشام بن عروة عن ابيه انه سمع المغيرة بن شعبة يحدث عن عمر انه استشارهم في املاص المراة مثله
م حدثني محمد بن عبد الله حدثنا محمد بن سابق حدثنا زاىدة حدثنا هشام بن عروة عن ابيه انه سمع المغيرة بن شعبة يحدث عن عمر انه استشارهم في املاص المراة مثله
৬৯০৮. মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ ফায়সালা প্রদান করেছেন। [৬৯০৬] (আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৩৯)
৬৯০৮ মিম. মুহাম্মাদ ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রহ.) ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি সাহাবীগণের সঙ্গে গর্ভপাত ঘটানোর বিষয়ে এরূপ পরামর্শ করেছেন। [৬৯০৫; মুসলিম ২৮/১১, হাঃ ১৬৮২, আহমাদ ১৮১৬১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৪০)
৬৯০৮ মিম. মুহাম্মাদ ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রহ.) ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি সাহাবীগণের সঙ্গে গর্ভপাত ঘটানোর বিষয়ে এরূপ পরামর্শ করেছেন। [৬৯০৫; মুসলিম ২৮/১১, হাঃ ১৬৮২, আহমাদ ১৮১৬১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৪০)
হাদিস নং: ৬৯০৯
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف حدثنا الليث عن ابن شهاب عن سعيد بن المسيب عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قضى في جنين امراة من بني لحيان بغرة عبد او امة ثم ان المراة التي قضى عليها بالغرة توفيت فقضى رسول الله صلى الله عليه وسلم ان ميراثها لبنيها وزوجها وان العقل على عصبتها
৬৯০৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানী লিহয়ানের এক মহিলার ভ্রুণ হত্যার ব্যাপারে একটি গোলাম অথবা বাঁদী প্রদানের ফায়সালা করেন। তারপর দন্ডপ্রাপ্ত মহিলার মৃত্যু হল, যার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ফায়সালা করেছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় ফায়সালা প্রদান করলেন যে, তার ত্যাজ্য সম্পত্তি তার ছেলে সন্তান ও স্বামী পাবে। আর দিয়াত আদায় করবে তার আসাবা। [৫৭৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৪১)
হাদিস নং: ৬৯১০
সহিহ (Sahih)
احمد بن صالح حدثنا ابن وهب حدثنا يونس عن ابن شهاب عن ابن المسيب وابي سلمة بن عبد الرحمن ان ابا هريرة قال اقتتلت امراتان من هذيل فرمت احداهما الاخرى بحجر فقتلتها وما في بطنها فاختصموا الى النبي صلى الله عليه وسلم فقضى ان دية جنينها غرة عبد او وليدة وقضى ان دية المراة على عاقلتها
৬৯১০. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযায়ল গোত্রের দু’জন মহিলা ঝগড়াকালে একে অন্যের প্রতি পাথর ছুঁড়ে মারে এবং একজন অন্য জনের গর্ভস্থিত সন্তানকে হত্যা করে ফেলল। তারপর তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বিচার নিয়ে এল। তিনি ফায়সালা দিলেন যে, ভ্রূণের দিয়াত হলো একটি গোলাম অথবা বাঁদী আর এ ফায়সালাও দিলেন যে, নিহত মহিলার দিয়াত হত্যাকারিণীর আসাবার উপর আসবে। [৫৭৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৪২)
হাদিস নং: ৬৯১১
সহিহ (Sahih)
عمرو بن زرارة اخبرنا اسماعيل بن ابراهيم عن عبد العزيز عن انس قال لما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة اخذ ابو طلحة بيدي فانطلق بي الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله ان انسا غلام كيس فليخدمك قال فخدمته في الحضر والسفر فوالله ما قال لي لشيء صنعته لم صنعت هذا هكذا ولا لشيء لم اصنعه لم لم تصنع هذا هكذا
وَيُذْكَرُ أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ بَعَثَتْ إِلَى مُعَلِّمِ الْكُتَّابِ ابْعَثْ إِلَيَّ غِلْمَانًا يَنْفُشُونَ صُوفًا وَلاَ تَبْعَثْ إِلَيَّ حُرًّا
বর্ণিত আছে যে, উম্মু সালামাহ (রাঃ) একটি পাঠশালার শিক্ষকের কাছে খবর পাঠালেন যে, আমার কাছে কতিপয় বালক পাঠিয়ে দিন, যারা পশমের জট ছাড়াবে। তবে কোন আযাদ (বালক) পাঠাবেন না।
৬৯১১. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্য় আসলেন, তখন আবূ ত্বল্হা (রাঃ) আমার হাত ধরে আমাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আনাস একজন হুঁশিয়ার ছেলে। সে যেন আপনার খেদমত করে। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি মুকীম এবং সফরকালে তাঁর খেদমত করেছি। আল্লাহর কসম! যে কাজ আমি করেছি এর জন্য তিনি আমাকে কোন দিন এ কথা বলেননি, এটা এমন কেন করেছ? আর যে কাজ আমি করিনি এ জন্য এ কথা বলেননি, এটা এরকম কেন করনি? [২৭৬৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৪৩)
বর্ণিত আছে যে, উম্মু সালামাহ (রাঃ) একটি পাঠশালার শিক্ষকের কাছে খবর পাঠালেন যে, আমার কাছে কতিপয় বালক পাঠিয়ে দিন, যারা পশমের জট ছাড়াবে। তবে কোন আযাদ (বালক) পাঠাবেন না।
৬৯১১. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্য় আসলেন, তখন আবূ ত্বল্হা (রাঃ) আমার হাত ধরে আমাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আনাস একজন হুঁশিয়ার ছেলে। সে যেন আপনার খেদমত করে। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি মুকীম এবং সফরকালে তাঁর খেদমত করেছি। আল্লাহর কসম! যে কাজ আমি করেছি এর জন্য তিনি আমাকে কোন দিন এ কথা বলেননি, এটা এমন কেন করেছ? আর যে কাজ আমি করিনি এ জন্য এ কথা বলেননি, এটা এরকম কেন করনি? [২৭৬৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৪৩)
হাদিস নং: ৬৯১২
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف حدثنا الليث حدثنا ابن شهاب عن سعيد بن المسيب وابي سلمة بن عبد الرحمن عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال العجماء جرحها جبار والبىر جبار والمعدن جبار وفي الركاز الخمس
৬৯১২. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন পশু কাউকে আহত করলে, কূপে বা খণিতে পড়ে কেউ নিহত বা আহত হলে তাতে কোন দন্ড বা রক্তপণ নেই। আর কেউ গুপ্তধন পেলে তার প্রতি এক-পঞ্চমাংশ দেয়া ওয়াজিব। [১৪৯৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৪৪)
হাদিস নং: ৬৯১৩
সহিহ (Sahih)
مسلم حدثنا شعبة عن محمد بن زياد عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال العجماء عقلها جبار والبىر جبار والمعدن جبار وفي الركاز الخمس
وَقَالَ ابْنُ سِيرِينَ كَانُوا لاَ يُضَمِّنُونَ مِنْ النَّفْحَةِ وَيُضَمِّنُونَ مِنْ رَدِّ الْعِنَانِ وَقَالَ حَمَّادٌ لاَ تُضْمَنُ النَّفْحَةُ إِلاَّ أَنْ يَنْخُسَ إِنْسَانٌ الدَّابَّةَ وَقَالَ شُرَيْحٌ لاَ تُضْمَنُ مَا عَاقَبَتْ أَنْ يَضْرِبَهَا فَتَضْرِبَ بِرِجْلِهَا وَقَالَ الْحَكَمُ وَحَمَّادٌ إِذَا سَاقَ الْمُكَارِي حِمَارًا عَلَيْهِ امْرَأَةٌ فَتَخِرُّ لاَ شَيْءَ عَلَيْهِ وَقَالَ الشَّعْبِيُّ إِذَا سَاقَ دَابَّةً فَأَتْعَبَهَا فَهُوَ ضَامِنٌ لِمَا أَصَابَتْ وَإِنْ كَانَ خَلْفَهَا مُتَرَسِّلاً لَمْ يَضْمَنْ
ইবনে সীরীন (রহ.) বলেন, তাদের সময়ে পশুর লাথির আঘাতের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ প্রদানের ফায়সালা দিতেন না। এবং লাগাম টানার দরুন কোন ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণের ফায়সালা দিতেন। হাম্মাদ (রহ.) বলেন, লাথির আঘাতের কারণে দায়ী করা যাবে না। তবে যদি কেউ পশুটিকে খোঁচা মারে। শুরায়হ্ (রহ.) বলেন, প্রতিশোধমূলক আঘাতের কারণে পশুকে দায়ী করা যাবে না। যেমন কেউ কোন পশুকে আঘাত করল, তখন পশুটিও তাকে পা দিয়ে আঘাত করল। হাকাম (রহ.) ও হাম্মাদ (রহ.) বলেন, যদি ভাড়া-করা ব্যক্তি গাধাকে হাঁকিয়ে নেয়, যে গাধার উপর কোন মহিলা উপবিষ্ট থাকে আর মহিলাটি গাধা থেকে পড়ে যায়, তাহলে তার উপর কিছু বর্তিবে না। শা’বী (রহ.) বলেন, যদি কেউ কোন পশু চালায় এবং তাকে ক্লান্ত করে ফেলে, তাহলে তার উপর ক্ষতিপূরণ বর্তিবে। আর যদি ধীরে চালায় তাহলে বর্তিবে না।
৬৯১৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, পশু আহত করলে, খণি বা কূপে পড়ে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাতে কোন ক্ষতিপূরণ নেই। গুপ্তধনের এক-পঞ্চমাংশ দেয়া ওয়াজিব। [১৪৯৯; মুসলিম ২৯/১১, হাঃ ১৭১০, আহমাদ ৭২৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৪৫)
ইবনে সীরীন (রহ.) বলেন, তাদের সময়ে পশুর লাথির আঘাতের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ প্রদানের ফায়সালা দিতেন না। এবং লাগাম টানার দরুন কোন ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণের ফায়সালা দিতেন। হাম্মাদ (রহ.) বলেন, লাথির আঘাতের কারণে দায়ী করা যাবে না। তবে যদি কেউ পশুটিকে খোঁচা মারে। শুরায়হ্ (রহ.) বলেন, প্রতিশোধমূলক আঘাতের কারণে পশুকে দায়ী করা যাবে না। যেমন কেউ কোন পশুকে আঘাত করল, তখন পশুটিও তাকে পা দিয়ে আঘাত করল। হাকাম (রহ.) ও হাম্মাদ (রহ.) বলেন, যদি ভাড়া-করা ব্যক্তি গাধাকে হাঁকিয়ে নেয়, যে গাধার উপর কোন মহিলা উপবিষ্ট থাকে আর মহিলাটি গাধা থেকে পড়ে যায়, তাহলে তার উপর কিছু বর্তিবে না। শা’বী (রহ.) বলেন, যদি কেউ কোন পশু চালায় এবং তাকে ক্লান্ত করে ফেলে, তাহলে তার উপর ক্ষতিপূরণ বর্তিবে। আর যদি ধীরে চালায় তাহলে বর্তিবে না।
৬৯১৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, পশু আহত করলে, খণি বা কূপে পড়ে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাতে কোন ক্ষতিপূরণ নেই। গুপ্তধনের এক-পঞ্চমাংশ দেয়া ওয়াজিব। [১৪৯৯; মুসলিম ২৯/১১, হাঃ ১৭১০, আহমাদ ৭২৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৪৫)
হাদিস নং: ৬৯১৪
সহিহ (Sahih)
قيس بن حفص حدثنا عبد الواحد حدثنا الحسن حدثنا مجاهد عن عبد الله بن عمرو عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من قتل نفسا معاهدا لم يرح راىحة الجنة وان ريحها ليوجد من مسيرة اربعين عاما
৬৯১৪. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আমর (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি প্রদত্ত কোন লোককে হত্যা করে, সে ব্যক্তি জান্নাতের সুগন্ধির ঘ্রাণ নিতে পারবে না। অথচ তার সুগন্ধ চল্লিশ বছরের দূরত্ব থেকে পাওয়া যায়।[1] [৩১৬৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৪৬)
নোট: [1] হাদীসটিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কাফিরকে হত্যার ভয়াবহতা বর্ণনা করা হয়েছে। প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কাফিরকে হত্যা করার পরিণাম যদি এমন হয় তাহলে একজন মুসলিমকে হত্যা করার পরিণাম কী হতে পারে পারে জ্ঞানী লোকদের একটু ভাবা উচিত।
উল্লেখ্য কাফেরকে হত্যার দায়ে কোন মুসলিমকে হত্যা করা যাবে না। তবে এর অর্থ এরূপ নয় যে, মুসলিম ব্যক্তি অপরাধী নয়, বরং সে তার এ কর্মের দ্বারা বড় গুনাহে জড়িত হয়েছে। হত্যাকারী এ মুসলিম ব্যক্তিকে যে, হত্যা করা যাবে না তা পরের হাদীসের সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য কাফেরকে হত্যার দায়ে কোন মুসলিমকে হত্যা করা যাবে না। তবে এর অর্থ এরূপ নয় যে, মুসলিম ব্যক্তি অপরাধী নয়, বরং সে তার এ কর্মের দ্বারা বড় গুনাহে জড়িত হয়েছে। হত্যাকারী এ মুসলিম ব্যক্তিকে যে, হত্যা করা যাবে না তা পরের হাদীসের সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাদিস নং: ৬৯১৫
সহিহ (Sahih)
احمد بن يونس حدثنا زهير حدثنا مطرف ان عامرا حدثهم عن ابي جحيفة قال قلت لعلي ح حدثنا صدقة بن الفضل اخبرنا ابن عيينة حدثنا مطرف سمعت الشعبي يحدث قال سمعت ابا جحيفة قال سالت عليا هل عندكم شيء مما ليس في القران وقال ابن عيينة مرة ما ليس عند الناس فقال والذي فلق الحبة وبرا النسمة ما عندنا الا ما في القران الا فهما يعطى رجل في كتابه وما في الصحيفة قلت وما في الصحيفة قال العقل وفكاك الاسير وان لا يقتل مسلم بكافر
৬৯১৫. আবূ জুহাইফাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’আলী (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনাদের কাছে এমন কিছু আছে কি যা কুরআনে নেই? তিনি বললেন, দিয়াতের বিধান, বন্দী-মুক্তির বিধান এবং (এ বিধান যে) কাফেরের বদলে কোন মুসলিমকে হত্যা করা যাবে না। [১১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৪৭)
হাদিস নং: ৬৯১৬
সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا سفيان عن عمرو بن يحيى عن ابيه عن ابي سعيد عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لا تخيروا بين الانبياء
رَوَاهُ أَبُو هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
এ সম্পর্কে আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
৬৯১৬. আবূ সা’ঈদ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ তোমরা নবীদের একজনকে অন্য জনের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিও না। [২৪১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৪৮)
এ সম্পর্কে আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
৬৯১৬. আবূ সা’ঈদ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ তোমরা নবীদের একজনকে অন্য জনের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিও না। [২৪১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৪৮)
হাদিস নং: ৬৯১৭
সহিহ (Sahih)
محمد بن يوسف حدثنا سفيان عن عمرو بن يحيى المازني عن ابيه عن ابي سعيد الخدري قال جاء رجل من اليهود الى النبي صلى الله عليه وسلم قد لطم وجهه فقال يا محمد ان رجلا من اصحابك من الانصار قد لطم في وجهي قال ادعوه فدعوه قال لم لطمت وجهه قال يا رسول الله اني مررت باليهود فسمعته يقول والذي اصطفى موسى على البشر قال قلت وعلى محمد صلى الله عليه وسلم قال فاخذتني غضبة فلطمته قال لا تخيروني من بين الانبياء فان الناس يصعقون يوم القيامة فاكون اول من يفيق فاذا انا بموسى اخذ بقاىمة من قواىم العرش فلا ادري افاق قبلي ام جوزي بصعقة الطور
৬৯১৭. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ইয়াহূদী, যার মুখে চপেটাঘাত করা হয়েছিল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! আপনার জনৈক আন্সারী সাহাবী আমার মুখে চপেটাঘাত করেছে। তিনি বললেন, তোমরা তাকে ডেকে আন। তারা তাকে ডেকে আনল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি তাকে কেন চড় মারলে? সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এক ইয়াহূদীর কাছ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন আমি তাকে বলতে শুনলাম যে, ঐ সত্তার কসম! যিনি মূসাকে মানবকুলের উপরে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। তখন আমি বললাম, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপরেও কি? অতঃপর আমার ভীষণ রাগ এসে গেল। ফলে আমি তাকে চড় মেরে দেই।
তিনি বলেনঃ তোমরা আমাকে নবীদের মাঝে কারোউপর শ্রেষ্ঠত্ব দিও না। কেননা সকল মানুষই কিয়ামতের দিন বেহুঁশ হয়ে পড়বে। তখন আমিই হব প্রথম ব্যক্তি যে হুঁশ ফিরে পাবে। কিন্তু আমি তখন মূসা (আঃ)-কে এমন অবস্থায় পাব যে, তিনি আরশের খুঁটিগুলো থেকে একটি খুঁটি ধরে আছেন। আমি বুঝতে পারব না যে, তিনি আমার আগে হুঁশ ফিরে পেলেন, না তূর পর্বতে বেহুঁশ হবার প্রতিদান দেয়া হয়েছে (যে জন্য তিনি পুনরায় বেহুঁশই হননি)? [২৪১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৪৯)