অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৯৩/১. আল্লাহর বাণীঃ হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর অনুগত হও...
মোট ৮৯ টি হাদিস
হাদিস নং: ৭২০৬
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن مسلمة حدثنا حاتم عن يزيد بن ابي عبيد قال قلت لسلمة على اي شيء بايعتم النبي صلى الله عليه وسلم يوم الحديبية قال على الموت.
৭২০৬. ইয়াযীদ ইবনু আবূ ’উবায়দ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সালামাকে জিজ্ঞেস করলাম, হুদাইবিয়াহর দিন আপনারা কোন্ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বায়’আত করেছিলেন? তিনি বললেন, মৃত্যুর উপর। [২৯৬০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭১৩)
হাদিস নং: ৭২০৭
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد بن اسماء حدثنا جويرية عن مالك عن الزهري ان حميد بن عبد الرحمن اخبره ان المسور بن مخرمة اخبره ان الرهط الذين ولاهم عمر اجتمعوا فتشاوروا فقال لهم عبد الرحمن لست بالذي انافسكم على هذا الامر ولكنكم ان شىتم اخترت لكم منكم فجعلوا ذلك الى عبد الرحمن فلما ولوا عبد الرحمن امرهم فمال الناس على عبد الرحمن حتى ما ارى احدا من الناس يتبع اولىك الرهط ولا يطا عقبه ومال الناس على عبد الرحمن يشاورونه تلك الليالي حتى اذا كانت الليلة التي اصبحنا منها فبايعنا عثمان قال المسور طرقني عبد الرحمن بعد هجع من الليل فضرب الباب حتى استيقظت فقال اراك ناىما فوالله ما اكتحلت هذه الليلة بكبير نوم انطلق فادع الزبير وسعدا فدعوتهما له فشاورهما ثم دعاني فقال ادع لي عليا فدعوته فناجاه حتى ابهار الليل ثم قام علي من عنده وهو على طمع وقد كان عبد الرحمن يخشى من علي شيىا ثم قال ادع لي عثمان فدعوته فناجاه حتى فرق بينهما الموذن بالصبح فلما صلى للناس الصبح واجتمع اولىك الرهط عند المنبر فارسل الى من كان حاضرا من المهاجرين والانصار وارسل الى امراء الاجناد وكانوا وافوا تلك الحجة مع عمر فلما اجتمعوا تشهد عبد الرحمن ثم قال اما بعد يا علي اني قد نظرت في امر الناس فلم ارهم يعدلون بعثمان فلا تجعلن على نفسك سبيلا فقال ابايعك على سنة الله ورسوله والخليفتين من بعده فبايعه عبد الرحمن وبايعه الناس المهاجرون والانصار وامراء الاجناد والمسلمون.
৭২০৭. মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’উমার (রাঃ) যে দলটিকে খলীফা নির্বাচনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন, তাঁরা সমবেত হয়ে নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করলেন। ’আবদুর রহমান (রাঃ) তাঁদেরকে বললেন, আমি তো এমন লোক নই যে এ ব্যাপারে (নির্বাচিত হওয়ার) আশা করব। কিন্তু আপনারা যদি ইচ্ছে করেন তবে আপনাদের থেকে একজনকে আমি নির্বাচিত করে দিতে পারি। তাঁরা একমত হয়ে ’আবদুর রহমানের উপর দায়িত্ব দিলেন। যখন তাঁরা ’আবদুর রহমানের উপর দায়িত্ব দিলেন, তখন সকল লোক ’আবদুর রহমানের প্রতি ঝুঁকে পড়ল। এমনকি আমি একজনকেও সেই দলের অনুসরণ করতে কিংবা তাঁদের পিছনে যেতে দেখলাম না। লোকেরা ’আবদুর রহমানের প্রতিই ঝুঁকে পড়ল এবং কয়েক রাত তাঁর সঙ্গে পরামর্শ করতে থাকল। শেষে সেই রাত এল, যে রাতের শেষে আমরা ’উসমান (রাঃ)-এর হাতে বায়’আত করলাম।
মিসওয়ার (রাঃ) বলেন, রাতের একাংশ অতিবাহিত হবার পর ’আবদুর রহমান (রাঃ) আমার কাছে আসলেন এবং দরজায় খটখট করলেন। ফলে আমি জেগে গেলাম। তিনি বললেন, তোমাকে ঘুমন্ত দেখছি। আল্লাহর কসম! আমি এ তিন রাতের মাঝে বেশি ঘুমাতে পারিনি। যাও, যুবায়র ও সাদকে ডেকে আন। আমি তাঁদেরকে তার কাছে ডেকে আনলাম। তিনি তাঁদের দু’জনের সঙ্গে পরামর্শ করলেন। তারপর আমাকে আবার ডেকে বললেন, ’আলীকে আমার কাছে ডেকে আন। আমি তাঁকে ডেকে আনলাম। তিনি তাঁর সঙ্গে অর্ধ রাত্রি পর্যন্ত গোপন পরামর্শ করলেন। তারপর ’আলী (রাঃ) তাঁর নিকট হতে উঠে গেলেন। তবে তিনি আশায় ছিলেন। আর ’আবদুর রহমান (রাঃ) ’আলী (রাঃ) থেকে কিছু (বিরোধিতার) আশঙ্কা করছিলেন। তারপর তিনি বললেন, ’উসমানকে আমার কাছে ডেকে আন। তিনি তাঁর সঙ্গে গোপনে পরামর্শ করলেন।
ফজরের সময় মুআযযিন (এর আযান) তাদের দু’জনকে পৃথক করল। লোকেরা যখন ফজরের সালাত পড়ল এবং সেই দলটি মিম্বরের নিকট জমায়েত হলো তখন তিনি মুহাজির ও আনসারদের যারা হাজির ছিলেন তাঁদেরকে ডেকে আনতে পাঠালেন এবং সেনা প্রধানদেরকেও ডেকে আনতে পাঠালেন এবং এরা সবাই উমরের সঙ্গে গত হাজ্জে অংশগ্রহণ করেছিলেন। যখন সকলে এসে জমায়েত হন, তখন ’আবদুর রহমান (রাঃ) ভাষণ আরম্ভ করলেন। তারপর বললেন, হে ’আলী! আমি জনমত যাচাই করেছি, তারা ’উসমানের সমকক্ষ কাউকে মনে করে না। কাজেই তুমি অবশ্যই অন্য পথ ধরো না। তখন তিনি [’উসমান (রাঃ)-কে সম্বোধন করে] বললেন, আমি আল্লাহর, তাঁর রাসূলের ও তাঁর পরবর্তী উভয় খালীফার আদেশ অনুযায়ী আপনার নিকট বায়’আত করছি। অতঃপর ’আবদুর রহমান (রাঃ) তাঁর কাছে বায়’আত করলেন। অতঃপর মুহাজির, আনসার, সেনাপ্রধান এবং সাধারণ মুসলিম তাঁর কাছে বায়’আত করলেন।[1] [১৩৯২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭১৪)
মিসওয়ার (রাঃ) বলেন, রাতের একাংশ অতিবাহিত হবার পর ’আবদুর রহমান (রাঃ) আমার কাছে আসলেন এবং দরজায় খটখট করলেন। ফলে আমি জেগে গেলাম। তিনি বললেন, তোমাকে ঘুমন্ত দেখছি। আল্লাহর কসম! আমি এ তিন রাতের মাঝে বেশি ঘুমাতে পারিনি। যাও, যুবায়র ও সাদকে ডেকে আন। আমি তাঁদেরকে তার কাছে ডেকে আনলাম। তিনি তাঁদের দু’জনের সঙ্গে পরামর্শ করলেন। তারপর আমাকে আবার ডেকে বললেন, ’আলীকে আমার কাছে ডেকে আন। আমি তাঁকে ডেকে আনলাম। তিনি তাঁর সঙ্গে অর্ধ রাত্রি পর্যন্ত গোপন পরামর্শ করলেন। তারপর ’আলী (রাঃ) তাঁর নিকট হতে উঠে গেলেন। তবে তিনি আশায় ছিলেন। আর ’আবদুর রহমান (রাঃ) ’আলী (রাঃ) থেকে কিছু (বিরোধিতার) আশঙ্কা করছিলেন। তারপর তিনি বললেন, ’উসমানকে আমার কাছে ডেকে আন। তিনি তাঁর সঙ্গে গোপনে পরামর্শ করলেন।
ফজরের সময় মুআযযিন (এর আযান) তাদের দু’জনকে পৃথক করল। লোকেরা যখন ফজরের সালাত পড়ল এবং সেই দলটি মিম্বরের নিকট জমায়েত হলো তখন তিনি মুহাজির ও আনসারদের যারা হাজির ছিলেন তাঁদেরকে ডেকে আনতে পাঠালেন এবং সেনা প্রধানদেরকেও ডেকে আনতে পাঠালেন এবং এরা সবাই উমরের সঙ্গে গত হাজ্জে অংশগ্রহণ করেছিলেন। যখন সকলে এসে জমায়েত হন, তখন ’আবদুর রহমান (রাঃ) ভাষণ আরম্ভ করলেন। তারপর বললেন, হে ’আলী! আমি জনমত যাচাই করেছি, তারা ’উসমানের সমকক্ষ কাউকে মনে করে না। কাজেই তুমি অবশ্যই অন্য পথ ধরো না। তখন তিনি [’উসমান (রাঃ)-কে সম্বোধন করে] বললেন, আমি আল্লাহর, তাঁর রাসূলের ও তাঁর পরবর্তী উভয় খালীফার আদেশ অনুযায়ী আপনার নিকট বায়’আত করছি। অতঃপর ’আবদুর রহমান (রাঃ) তাঁর কাছে বায়’আত করলেন। অতঃপর মুহাজির, আনসার, সেনাপ্রধান এবং সাধারণ মুসলিম তাঁর কাছে বায়’আত করলেন।[1] [১৩৯২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭১৪)
নোট: [1] প্রচলিত গণতন্ত্র অনুযায়ী সবচেয়ে মূর্খ ব্যক্তির আর সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তির ভোটের অর্থাৎ মতামতের মূল্য সমান। আর সকল সমাজেই জ্ঞানী ব্যক্তির সংখ্যা কম। তাই এই গণতন্ত্রে সৎ ও জ্ঞানী ব্যক্তির নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। অন্য দিকে ইসলাম শুরাতন্ত্রে বিশ্বাসী যেখানে সমাজের নেতৃস্থানীয় জ্ঞানী ব্যক্তিদের পরামর্শের ভিত্তিতে নেতা নির্বাচিত হবেন।
হাদিস নং: ৭২০৮
সহিহ (Sahih)
ابو عاصم عن يزيد بن ابي عبيد عن سلمة قال بايعنا النبي صلى الله عليه وسلم تحت الشجرة فقال لي يا سلمة الا تبايع قلت يا رسول الله قد بايعت في الاول قال وفي الثاني.
৭২০৮. সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গাছের তলে বায়’আত (বায়’আতে রিদওয়ান) করেছিলাম। পরে তিনি আমাকে বললেনঃ হে সালামাহ! তুমি কি বায়’আত করবে না? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমিতো প্রথম দফা বায়’আত করেছি। তিনি বললেনঃ দ্বিতীয়বারও কর। [২৯৬০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭১৫)
হাদিস নং: ৭২০৯
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن مسلمة عن مالك عن محمد بن المنكدر عن جابر بن عبد الله ان اعرابيا بايع رسول الله صلى الله عليه وسلم على الاسلام فاصابه وعك فقال اقلني بيعتي فابى ثم جاءه فقال اقلني بيعتي فابى فخرج فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة كالكير تنفي خبثها وينصع طيبها.
৭২০৯. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ইসলামের বায়’আত করল। তারপর সে জ্বরে আক্রান্ত হল। তখন সে বলল, আমার বায়’আত ফিরিয়ে দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা অস্বীকৃতি জানালেন। সে আবার তাঁর কাছে আসল। তিনি আবার অস্বীকৃতি জানালেন। সে আবার তাঁর কাছে এসে বলল, আমার বায়’আত ফিরিয়ে দিন। তিনি আবারও অস্বীকার করলেন। তখন সে বেরিয়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মাদ্বীনাহ হাপরের মত, সে তার আবর্জনাকে দূর করে দেয় এবং ভালটাকে ধরে রাখে। [১৮৮৩; মুসলিম ১৫/৮৮, হাঃ ১৩৮৩, আহমাদ ১৫১৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭১৬)
হাদিস নং: ৭২১০
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا عبد الله بن يزيد، حدثنا سعيد ـ هو ابن ابي ايوب ـ قال حدثني ابو عقيل، زهرة بن معبد عن جده عبد الله بن هشام، وكان، قد ادرك النبي صلى الله عليه وسلم وذهبت به امه زينب ابنة حميد الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله بايعه. فقال النبي صلى الله عليه وسلم " هو صغير " فمسح راسه ودعا له، وكان يضحي بالشاة الواحدة عن جميع اهله.
৭২১০. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু হিশাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাক্ষাৎ পেয়েছেন। তার মা যাইনাব বিনত হুমায়দ (রাঃ) তাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে গিয়ে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এর বায়’আত নিন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে তো ছোট। অতঃপর তিনি তার মাথায় হাত বুলালেন এবং তার জন্য দু’আ করলেন। তিনি [’আবদুল্লাহ্ ইবনু হিশাম (রাঃ)] তার পরিবারের সবার পক্ষ হতে একটি বক্রী কুরবানী করতেন। [২৫০১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭১৭)
হাদিস নং: ৭২১১
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن محمد بن المنكدر عن جابر بن عبد الله ان اعرابيا بايع رسول الله صلى الله عليه وسلم على الاسلام فاصاب الاعرابي وعك بالمدينة فاتى الاعرابي الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله اقلني بيعتي فابى رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم جاءه فقال اقلني بيعتي فابى ثم جاءه فقال اقلني بيعتي فابى فخرج الاعرابي فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم انما المدينة كالكير تنفي خبثها وينصع طيبها.
৭২১১. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক বেদুঈন এসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে ইসলামের বায়’আত নিল। মাদ্বীনাহ্য় সে জ্বরে আক্রান্ত হল। তখন সেই বেদুঈন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার বায়’আত ফিরিয়ে দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা অস্বীকার করলেন। সে পুনরায় এসে বলল, আমার বায়’আত ফিরিয়ে দিন। তিনি এবারও অস্বীকার করলেন। সে আবার এসে বলল, আমার বায়’আত ফিরিয়ে দিন। তিনি আবারও অস্বীকার করলেন। তখন বেদুঈন বেরিয়ে গেল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : মাদ্বীনাহ হল হাপরের মত, যে তার আবর্জনাকে দূর করে দেয় এবং ভালটাকে ধরে রাখে।[1] [১৮৮৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭১৮)
নোট: [1] হাপর যেমন আবর্জনা দূর করে, মদীনাও তেমনি (ঐ বেদুইনের মত সকল) বেঈমানকে দূর করে দেয়।
হাদিস নং: ৭২১২
সহিহ (Sahih)
عبدان عن ابي حمزة عن الاعمش عن ابي صالح عن ابي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاثة لا يكلمهم الله يوم القيامة ولا يزكيهم ولهم عذاب اليم رجل على فضل ماء بالطريق يمنع منه ابن السبيل ورجل بايع اماما لا يبايعه الا لدنياه ان اعطاه ما يريد وفى له والا لم يف له ورجل يبايع رجلا بسلعة بعد العصر فحلف بالله لقد اعطي بها كذا وكذا فصدقه فاخذها ولم يعط بها.
৭২১২. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন রকম লোকের সঙ্গে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা’আলা কথা বলবেন না এবং তাদেরকে পবিত্রও করবেন না, আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (এক) ঐ ব্যক্তি, যে পথের পাশে অতিরিক্ত পানির মালিক কিন্তু মুসাফিরকে তাত্থেকে পান করতে দেয় না। (দুই) ঐ ব্যক্তি যে একমাত্র দুনিয়ার স্বার্থে ইমামের বায়’আত গ্রহণ করে। (বাদশাহ্) ঐ লোকের মনের বাসনা পূর্ণ করলে সে তার বায়’আত পূর্ণ করে। আর যদি তা না হয়, তাহলে বায়’আত ভঙ্গ করে। (তিন) সে ব্যক্তি যে ’আসরের পর অন্য লোকের নিকট দ্রব্য সামগ্রী বিক্রয় করতে গিয়ে এমন কসম খায় যে, আল্লাহর শপথ! এটার এত দাম হয়েছে। ক্রেতা সেটাকে সত্য বলে বিশ্বাস করে সে জিনিস কিনে নেয়। অথচ সে জিনিসের এত দাম হয়নি। [২৩৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭১৯)
হাদিস নং: ৭২১৩
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري ح وقال الليث حدثني يونس عن ابن شهاب اخبرني ابو ادريس الخولاني انه سمع عبادة بن الصامت يقول قال لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن في مجلس تبايعوني على ان لا تشركوا بالله شيىا ولا تسرقوا ولا تزنوا ولا تقتلوا اولادكم ولا تاتوا ببهتان تفترونه بين ايديكم وارجلكم ولا تعصوا في معروف فمن وفى منكم فاجره على الله ومن اصاب من ذلك شيىا فعوقب في الدنيا فهو كفارة له ومن اصاب من ذلك شيىا فستره الله فامره الى الله ان شاء عاقبه وان شاء عفا عنه فبايعناه على ذلك.
৭২১৩. ’উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক মজলিসে ছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বললেনঃ তোমরা আমার নিকট বায়’আত কর যে, আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শারীক করবে না, চুরি করবে না, যিনা করবে না; তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না এবং কোন ব্যক্তিকে এমন মিথ্যা অপবাদ দেবে না যা তোমাদেরই গড়া আর ন্যায় সঙ্গত কাজে নাফরমানী করবে না। তোমাদের যারা এ অঙ্গীকার পূর্ণ করবে, তার প্রতিদান আল্লাহর কাছে। আর যে এর কোন একটি করবে দুনিয়ায় এ কারণে তাকে শাস্তি দেয়া হবে, তাহলে এটা তার কাফ্ফারা (পাপ মোচন) হয়ে যাবে। আর যদি কেউ এর কোন একটি অপরাধ করে ফেলে আর আল্লাহ্ তা গোপন রাখেন, তাহলে তার বিষয়টি আল্লাহর উপর ন্যস্ত। তিনি ইচ্ছে করলে তাকে শাস্তি দিবেন আর ইচ্ছে করলে তাকে ক্ষমা করে দিবেন। অতঃপর আমরা এর উপর বায়’আত করলাম। [১৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭২০)
হাদিস নং: ৭২১৪
সহিহ (Sahih)
محمود حدثنا عبد الرزاق اخبرنا معمر عن الزهري عن عروة عن عاىشة قالت كان النبي صلى الله عليه وسلم يبايع النساء بالكلام بهذه الاية (لا يشركن بالله شيىا) قالت وما مست يد رسول الله صلى الله عليه وسلم يد امراة الا امراة يملكها.
৭২১৪. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ’তারা আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছুকে শারীক করবে না’- এ আয়াত পাঠ করে স্ত্রীলোকদের নিকট হতে বায়’আত নিতেন। তিনি আরও বলেন, যাদের হাতে হাত দেয়া বৈধ এমন মহিলা ব্যতীত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত অন্য কোন মহিলার হাত স্পর্শ করেনি। [২৭১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭২১)
হাদিস নং: ৭২১৫
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا عبد الوارث عن ايوب عن حفصة عن ام عطية قالت بايعنا النبي صلى الله عليه وسلم فقرا علينا (ان لا يشركن بالله شيىا) ونهانا عن النياحة فقبضت امراة منا يدها فقالت فلانة اسعدتني وانا اريد ان اجزيها فلم يقل شيىا فذهبت ثم رجعت فما وفت امراة الا ام سليم وام العلاء وابنة ابي سبرة امراة معاذ او ابنة ابي سبرة وامراة معاذ.
৭২১৫. উম্মু আতীয়্যাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বায়’আত নিলাম। তিনি আমার সামনে পাঠ করলেনঃ মহিলারা যেন আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শারীক না করে এবং তিনি আমাদেরকে বিলাপ করতে নিষেধ করলেন। এ অবস্থায় আমাদের মধ্য থেকে একজন স্ত্রীলোক তার হাত গুটিয়ে নিল এবং বলল, অমুক স্ত্রীলোক একবার আমার সঙ্গে বিলাপে সহযোগিতা করেছে। কাজেই আমি তার প্রতিদান দিতে চাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু বললেন না। স্ত্রীলোকটি চলে গেল এবং পরে এসে বায়’আত গ্রহণ করল। তবে তাদের মধ্যে উম্মু সুলায়ম, উম্মুল আলা, আর মুআয (রাঃ)-এর স্ত্রী আবূ সাবরা-এর মেয়ে, কিংবা বলেছিলেন, আবূ সাবরা-এর মেয়ে ও মু’আয-এর স্ত্রী ছাড়া অন্য কোন মহিলা এ অঙ্গীকার পূর্ণ করেনি। [১৩০৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭২২)
হাদিস নং: ৭২১৬
সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا سفيان عن محمد بن المنكدر سمعت جابرا قال جاء اعرابي الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال بايعني على الاسلام فبايعه على الاسلام ثم جاء الغد محموما فقال اقلني فابى فلما ولى قال المدينة كالكير تنفي خبثها وينصع طيبها.
وَقَوْلِهِ تَعَال:َ (إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللهَ يَدُ اللهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ فَمَنْ نَكَثَ فَإِنَّمَا يَنْكُثُ عَلٰى نَفْسِهٖ وَمَنْ أَوْفَى بِمَا عَاهَدَ عَلَيْهِ اللهَ فَسَيُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا)
আল্লাহর বাণীঃ যারা তোমার কাছে বাই’আত (অর্থাৎ আনুগত্য করার শপথ) করে আসলে তারা আল্লাহর কাছে বাই’আত করে। তাদের হাতের উপর আছে আল্লাহর হাত। এক্ষণে যে এ ও’য়াদা ভঙ্গ করে, এ ও’য়াদা ভঙ্গের কুফল তার নিজেরই উপর পড়বে। আর যে ও’য়াদা পূর্ণ করবে- যা সে আল্লাহর সঙ্গে করেছে- তিনি অচিরেই তাকে মহা পুরস্কার দান করবেন। (সূরাহ আল-ফাত্হ ৪৮/১০)
৭২১৬. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, ইসলামের উপর আমার বায়’আত নিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের উপর তার বায়’আত নিলেন। পর দিবস সে জ্বরে আক্রান্ত অবস্থায় এসে বলল, আমার বায়’আত ফিরিয়ে দিন। তিনি অস্বীকার করলেন। যখন সে চলে গেল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মাদ্বীনাহ হাপরের মত, সে তার আবর্জনাকে দূর করে দেয় এবং ভালটুকু ধরে রাখে। [১৮৮৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭২৩)
আল্লাহর বাণীঃ যারা তোমার কাছে বাই’আত (অর্থাৎ আনুগত্য করার শপথ) করে আসলে তারা আল্লাহর কাছে বাই’আত করে। তাদের হাতের উপর আছে আল্লাহর হাত। এক্ষণে যে এ ও’য়াদা ভঙ্গ করে, এ ও’য়াদা ভঙ্গের কুফল তার নিজেরই উপর পড়বে। আর যে ও’য়াদা পূর্ণ করবে- যা সে আল্লাহর সঙ্গে করেছে- তিনি অচিরেই তাকে মহা পুরস্কার দান করবেন। (সূরাহ আল-ফাত্হ ৪৮/১০)
৭২১৬. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, ইসলামের উপর আমার বায়’আত নিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের উপর তার বায়’আত নিলেন। পর দিবস সে জ্বরে আক্রান্ত অবস্থায় এসে বলল, আমার বায়’আত ফিরিয়ে দিন। তিনি অস্বীকার করলেন। যখন সে চলে গেল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মাদ্বীনাহ হাপরের মত, সে তার আবর্জনাকে দূর করে দেয় এবং ভালটুকু ধরে রাখে। [১৮৮৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭২৩)
হাদিস নং: ৭২১৭
সহিহ (Sahih)
يحيى بن يحيى اخبرنا سليمان بن بلال عن يحيى بن سعيد سمعت القاسم بن محمد قال قالت عاىشة واراساه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ذاك لو كان وانا حي فاستغفر لك وادعو لك فقالت عاىشة وا ثكلياه والله اني لاظنك تحب موتي ولو كان ذاك لظللت اخر يومك معرسا ببعض ازواجك فقال النبي صلى الله عليه وسلم بل انا واراساه لقد هممت او اردت ان ارسل الى ابي بكر وابنه فاعهد ان يقول القاىلون او يتمنى المتمنون ثم قلت يابى الله ويدفع المومنون او يدفع الله ويابى المومنون.
৭২১৭. কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আয়িশাহ (রাঃ) একদিন বললেন, হায়! আমার মাথা। (তা শুনে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি জীবিত থাকতে যদি তা ঘটে, তাহলে আমি তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব এবং তোমার জন্য দু’আ করব। ’আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, হায় সর্বনাশ! আল্লাহর শপথ! আমার মনে হয় আপনি আমার মৃত্যু পছন্দ করছেন। হ্যাঁ, যদি এমনটি হয়, তাহলে আপনি সেদিনের শেষে অন্য কোন স্ত্রীর সঙ্গে বাসর করবেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি বলছি আক্ষেপ আমার মাথা ব্যথা। অথচ আমি সংকল্প করেছি কিংবা রাবী বলেছেন, ইচ্ছা করেছি যে, আবূ বকর ও তাঁর পুত্রের নিকট লোক পাঠাব এবং (তাঁর খিলাফাতের) অসীয়্যাত করে যাব, যাতে এ ব্যাপারে কেউ কিছু বলতে না পারে। অথবা কোন আশা পোষণকারী এ ব্যাপারে কোনরূপ আশা করতে না পারে। পরে বললাম (আবূ বকরের বদলে অন্য কারো খালীফা হবার ব্যাপারটি) আল্লাহ্ অস্বীকার করবেন এবং মু’মিনরাও তা প্রত্যাখ্যান করবে। কিংবা বলেছিলেন, আল্লাহ্ প্রত্যাখ্যান করবেন এবং মু’মিনরা তা অস্বীকার করবে। [৫৬৬৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭২৪)
হাদিস নং: ৭২১৮
সহিহ (Sahih)
محمد بن يوسف اخبرنا سفيان عن هشام بن عروة عن ابيه عن عبد الله بن عمر قال قيل لعمر الا تستخلف قال ان استخلف فقد استخلف من هو خير مني ابو بكر وان اترك فقد ترك من هو خير مني رسول الله صلى الله عليه وسلم فاثنوا عليه فقال راغب راهب وددت اني نجوت منها كفافا لا لي ولا علي لا اتحملها حيا ولا ميتا.
৭২১৮. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’উমার (রাঃ)-কে বলা হল, আপনি কি (আপনার পরবর্তী) খলীফা মনোনীত করে যাবেন না? তিনি বললেনঃ যদি আমি খালীফা মনোনীত করি, তাহলে আমার চেয়ে যিনি শ্রেষ্ঠ ছিলেন তিনি খালীফা মনোনীত করে গিয়েছিলেন, অর্থাৎ আবূ বকর। আর যদি মনোনীত না করি, তাহলে আমার চেয়ে যিনি শ্রেষ্ঠ ছিলেন তিনি খালীফা মনোনীত করে যাননি অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এতে লোকেরা তাঁর প্রশংসা করল। তারপর তিনি বললেন, কেউ (এর) ব্যাপারে আকাঙক্ষী আর কেউ ভীত। আর আমি পছন্দ করি আমি যেন এটা থেকে মুক্তি পাই সমানে সমান, আমার জন্য পুরস্কারও নাই, শাস্তিও নাই। আমি বেঁচে থাকতে কিংবা মৃত্যুর পরে এর (শাস্তির) বোঝা বহন করতে পারব না। [মুসলিম ৩৩/২, হাঃ ১৮২৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭২৫)
হাদিস নং: ৭২১৯
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن موسى اخبرنا هشام عن معمر عن الزهري اخبرني انس بن مالك انه سمع خطبة عمر الاخرة حين جلس على المنبر وذلك الغد من يوم توفي النبي صلى الله عليه وسلم فتشهد وابو بكر صامت لا يتكلم قال كنت ارجو ان يعيش رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى يدبرنا يريد بذلك ان يكون اخرهم فان يك محمد صلى الله عليه وسلم قد مات فان الله تعالى قد جعل بين اظهركم نورا تهتدون به هدى الله محمدا صلى الله عليه وسلم وان ابا بكر صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم ثاني اثنين فانه اولى المسلمين باموركم فقوموا فبايعوه وكانت طاىفة منهم قد بايعوه قبل ذلك في سقيفة بني ساعدة وكانت بيعة العامة على المنبر قال الزهري عن انس بن مالك سمعت عمر يقول لابي بكر يومىذ اصعد المنبر فلم يزل به حتى صعد المنبر فبايعه الناس عامة.
৭২১৯. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ’উমার (রাঃ)-এর দ্বিতীয় ভাষণটি শুনেছেন- যা তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের পরদিন মিম্বারে বসে দিয়েছিলেন। তিনি ভাষণ দিলেন, আর আবূ বকর (রাঃ) চুপ থাকলেন, কোন কথা বললেন না। তিনি বললেন, আমি আশা করছিলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যে বেঁচে থাকবেন এবং আমাদের পিছনে যাবেন। এ থেকে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল যে, তিনি সবার শেষে ইন্তিকাল করবেন। তবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদিও ইন্তিকাল করেছেন, তবে আল্লাহ্ তোমাদের মাঝে এমন এক নূর রেখেছেন, যদদ্বারা তোমরা হিদায়াত পাবে। আল্লাহ্ তা’আলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (এ নূর দিয়ে) হিদায়াত করেছিলেন।
আর আবূ বকর (রাঃ) ছিলেন তাঁর সঙ্গী এবং দু’জনের দ্বিতীয় জন। তোমাদের এ দায়িত্ব বহন করার জন্য মুসলিমদের মধ্যে তিনিই সর্বোত্তম। সুতরাং তোমরা উঠ এবং তাঁর হাতে বায়’আত গ্রহণ কর। অবশ্য এক জামা’আত ইতোপূর্বে বানী সা’ঈদা গোত্রের ছত্রছায়ায় তাঁর হাতে বায়’আত গ্রহণ করেছিল। আর সাধারণ বায়’আত হয়েছিল মিম্বারের উপর। যুহরী (রহ.) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আমি সেদিন ’উমার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি আবূ বকর (রাঃ)-কে বলছেন, মিম্বরে উঠুন। তিনি বারবার একথা বলতে থাকলে অবশেষে আবূ বকর (রাঃ) মিম্বরে উঠলেন। অতঃপর তাঁর কাছে লোকেরা সাধারণ বায়’আত নিল। [৭২৬৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭২৬)
আর আবূ বকর (রাঃ) ছিলেন তাঁর সঙ্গী এবং দু’জনের দ্বিতীয় জন। তোমাদের এ দায়িত্ব বহন করার জন্য মুসলিমদের মধ্যে তিনিই সর্বোত্তম। সুতরাং তোমরা উঠ এবং তাঁর হাতে বায়’আত গ্রহণ কর। অবশ্য এক জামা’আত ইতোপূর্বে বানী সা’ঈদা গোত্রের ছত্রছায়ায় তাঁর হাতে বায়’আত গ্রহণ করেছিল। আর সাধারণ বায়’আত হয়েছিল মিম্বারের উপর। যুহরী (রহ.) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আমি সেদিন ’উমার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি আবূ বকর (রাঃ)-কে বলছেন, মিম্বরে উঠুন। তিনি বারবার একথা বলতে থাকলে অবশেষে আবূ বকর (রাঃ) মিম্বরে উঠলেন। অতঃপর তাঁর কাছে লোকেরা সাধারণ বায়’আত নিল। [৭২৬৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭২৬)
হাদিস নং: ৭২২০
সহিহ (Sahih)
عبد العزيز بن عبد الله حدثنا ابراهيم بن سعد عن ابيه عن محمد بن جبير بن مطعم عن ابيه قال اتت النبي صلى الله عليه وسلم امراة فكلمته في شيء فامرها ان ترجع اليه قالت يا رسول الله ارايت ان جىت ولم اجدك كانها تريد الموت قال ان لم تجديني فاتي ابا بكر.
৭২২০. যুবায়র ইবনু মুত’ঈম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক স্ত্রীলোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এল এবং কোন ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে কথা বলল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আবার আসার আদেশ দিলেন। স্ত্রীলোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আবার এসে যদি আপনাকে না পাই? স্ত্রীলোকটি এ কথা বলে (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) মৃত্যুর কথা বোঝাতে চাচ্ছিল। তিনি বললেনঃ যদি আমাকে না পাও, তাহলে আবূ বকরের কাছে আসবে। [৩৬৫৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭২৭)
হাদিস নং: ৭২২১
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى عن سفيان حدثني قيس بن مسلم عن طارق بن شهاب عن ابي بكر قال لوفد بزاخة تتبعون اذناب الابل حتى يري الله خليفة نبيه صلى الله عليه وسلم والمهاجرين امرا يعذرونكم به.
৭২২১. আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বুযাখা প্রতিনিধিদলকে বলেছিলেন, যদ্দিন না আল্লাহ্ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খলীফা ও মুহাজিরীনদের এমন একটা পথ দেখিয়ে দেন যাতে তারা তোমাদের ওযর গ্রহণ করেন, তদ্দিন পর্যন্ত তোমরা উটের লেজের পেছনেই লেগে থাকবে (অর্থাৎ যাযাবর জীবন যাপন করবে)। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭২৮)
হাদিস নং: ৭২২২
সহিহ (Sahih)
محمد بن المثنى حدثنا غندر حدثنا شعبة عن عبد الملك سمعت جابر بن سمرة قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول يكون اثنا عشر اميرا فقال كلمة لم اسمعها فقال ابي انه قال كلهم من قريش.
৭২২২-৭২২৩. জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, বারোজন ’আমীর হবে। এরপর তিনি একটি কথা বললেন যা আমি শুনতে পাইনি। তবে আমার পিতা বলেছেন যে, তিনি বলেছিলেন সকলেই কুরাইশ গোত্র থেকে হবে। [মুসলিম ৩৩/১, হাঃ ১৮২১, আহমাদ ২০৮৮২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭২৯)
হাদিস নং: ৭২২৩
সহিহ (Sahih)
محمد بن المثنى حدثنا غندر حدثنا شعبة عن عبد الملك سمعت جابر بن سمرة قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول يكون اثنا عشر اميرا فقال كلمة لم اسمعها فقال ابي انه قال كلهم من قريش.
৭২২২-৭২২৩. জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, বারোজন ’আমীর হবে। এরপর তিনি একটি কথা বললেন যা আমি শুনতে পাই নি। তবে আমার পিতা বলেছেন যে, তিনি বলেছিলেন সকলেই কুরাইশ গোত্র থেকে হবে। [মুসলিম ৩৩/১, হাঃ ১৮২১, আহমাদ ২০৮৮২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭২৯)
হাদিস নং: ৭২২৪
সহিহ (Sahih)
اسماعيل حدثني مالك عن ابي الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قال والذي نفسي بيده لقد هممت ان امر بحطب يحتطب ثم امر بالصلاة فيوذن لها ثم امر رجلا فيوم الناس ثم اخالف الى رجال فاحرق عليهم بيوتهم والذي نفسي بيده لو يعلم احدكم انه يجد عرقا سمينا او مرماتين حسنتين لشهد العشاء.
وَقَدْ أَخْرَجَ عُمَرُ أُخْتَ أَبِي بَكْرٍ حِينَ نَاحَتْ.
মৃত ব্যক্তির উপর বিলাপ করার কারণে ’উমার (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ)-এর বোনকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছিলেন।
৭২২৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে সত্তার হাতে আমার জান তাঁর শপথ করে বলছি! আমার ইচ্ছে হয় যে, আমি জ্বালানি কাঠ জোগাড়ের আদেশ দেই। তারপর সালাতের আযান দেয়ার জন্য হুকুম করি এবং একজনকে লোকদের ইমামত করতে বলি। অতঃপর আমি জামা’আতে আসেনি এমন লোকেদের কাছে যাই আর তাদেরসহ তাদের ঘরবাড়ী জ্বালিয়ে দেই। আমার প্রাণ যে সত্তার হাতে তাঁর শপথ করে বলছি, যদি তারা জানত যে, একটি মাংসওয়ালা হাড় কিংবা দু’টি বক্রীর ক্ষুরের মাংস পাবে তাহলে তারা এশার জামাআতে অবশ্যই হাযির হত। মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ (রহ.) .... আবূ ’আবদুল্লাহ্ (বুখারী) (রহ.) বলেন مرماة অর্থ বকরীর ক্ষুরের মাঝের মাংস। ছন্দের দিক দিয়ে منساة ميضاة এর মত। مرماة এর মীম বর্ণটি যেরযুক্ত। [৬৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৩০)
মৃত ব্যক্তির উপর বিলাপ করার কারণে ’উমার (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ)-এর বোনকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছিলেন।
৭২২৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে সত্তার হাতে আমার জান তাঁর শপথ করে বলছি! আমার ইচ্ছে হয় যে, আমি জ্বালানি কাঠ জোগাড়ের আদেশ দেই। তারপর সালাতের আযান দেয়ার জন্য হুকুম করি এবং একজনকে লোকদের ইমামত করতে বলি। অতঃপর আমি জামা’আতে আসেনি এমন লোকেদের কাছে যাই আর তাদেরসহ তাদের ঘরবাড়ী জ্বালিয়ে দেই। আমার প্রাণ যে সত্তার হাতে তাঁর শপথ করে বলছি, যদি তারা জানত যে, একটি মাংসওয়ালা হাড় কিংবা দু’টি বক্রীর ক্ষুরের মাংস পাবে তাহলে তারা এশার জামাআতে অবশ্যই হাযির হত। মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ (রহ.) .... আবূ ’আবদুল্লাহ্ (বুখারী) (রহ.) বলেন مرماة অর্থ বকরীর ক্ষুরের মাঝের মাংস। ছন্দের দিক দিয়ে منساة ميضاة এর মত। مرماة এর মীম বর্ণটি যেরযুক্ত। [৬৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৩০)
হাদিস নং: ৭২২৫
সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب عن عبد الرحمن بن عبد الله بن كعب بن مالك ان عبد الله بن كعب بن مالك وكان قاىد كعب من بنيه حين عمي قال سمعت كعب بن مالك قال لما تخلف عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في غزوة تبوك فذكر حديثه ونهى رسول الله صلى الله عليه وسلم المسلمين عن كلامنا فلبثنا على ذلك خمسين ليلة واذن رسول الله صلى الله عليه وسلم بتوبة الله علينا.
৭২২৫. কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। ’আবদুল্লাহ্ ইবনু কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ), কা’ব (রাঃ) অন্ধ হয়ে যাবার পর তাঁর ছেলেদের মধ্য হতে তিনি তাঁকে (কা’ব) পথ দেখাতেন। তিনি বলেন, আমি কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন যে, যখন তিনি তাবূকের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে গমন করা থেকে পেছনে রয়ে গেলেন। তারপর তিনি পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করে বললেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদেরকে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করে দিলেন। ফলে পঞ্চাশ রাত আমরা এভাবে থাকলাম। এরপর আল্লাহ্ কর্তৃক আমাদের তওবা কবূলের কথা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়ে দিলেন। [২৭৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৩১)