অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৯৩/১. আল্লাহর বাণীঃ হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর অনুগত হও...
মোট ৮৯ টি হাদিস
হাদিস নং: ৭১৫৭
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن الصباح حدثنا محبوب بن الحسن حدثنا خالد عن حميد بن هلال عن ابي بردة عن ابي موسى ان رجلا اسلم ثم تهود فاتى معاذ بن جبل وهو عند ابي موسى فقال ما لهذا قال اسلم ثم تهود قال لا اجلس حتى اقتله قضاء الله ورسوله صلى الله عليه وسلم.
৭১৫৭. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু সাব্বাহ্ (রহ.) ... আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক লোক ইসলাম গ্রহণ করার পর আবার ইয়াহূদী হয়ে যায়। তার কাছে মু’আয ইবনু যাবাল (রাঃ) এলেন। তখন সে লোকটি আবূ মূসা (রাঃ)-এর কাছে ছিল। তিনি [মু’আয (রহ.)] জিজ্ঞেস করলেন, এর কী হয়েছে? তিনি বললেন, ইসলাম গ্রহণ করেছিল। আবার ইয়াহূদী হয়ে গেছে। মু’আয (রাঃ) বললেন, একে হত্যা না করে আমি বসব না। আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের (এটাই) বিধান। [২২৬১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭১)
হাদিস নং: ৭১৫৮
সহিহ (Sahih)
ادم حدثنا شعبة حدثنا عبد الملك بن عمير سمعت عبد الرحمن بن ابي بكرة قال كتب ابو بكرة الى ابنه وكان بسجستان بان لا تقضي بين اثنين وانت غضبان فاني سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول لا يقضين حكم بين اثنين وهو غضبان.
৭১৫৮. ’আবদুর রাহমান ইবনু আবূ বকরাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আবূ বকরাহ (রাঃ) তাঁর ছেলেকে লিখে পাঠালেন- সে সময় তিনি সিজিস্তানে অবস্থান করছিলেন- যে তুমি রাগের হালতে বিবদমান দু’ লোকের মাঝে ফায়সালা করো না। কেননা, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, কোন বিচারক রাগের হালতে দু’জনের মধ্যে বিচার করবে না। [মুসলিম ৩০/৭, হাঃ ১৭১৭, আহমাদ ২০৪০১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭২)
হাদিস নং: ৭১৫৯
সহিহ (Sahih)
محمد بن مقاتل اخبرنا عبد الله اخبرنا اسماعيل بن ابي خالد عن قيس بن ابي حازم عن ابي مسعود الانصاري قال جاء رجل الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله اني والله لا×تاخر عن صلاة الغداة من اجل فلان مما يطيل بنا فيها قال فما رايت النبي صلى الله عليه وسلم قط اشد غضبا في موعظة منه يومىذ ثم قال يا ايها الناس ان منكم منفرين فايكم ما صلى بالناس فليوجز فان فيهم الكبير والضعيف وذا الحاجة.
৭১৫৯. আবূ মাস’ঊদ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ! আমি অমুক ব্যক্তির কারণে ফজরের জামা’আতে হাজির হই না। কেননা, তিনি আমাদেরকে নিয়ে দীর্ঘ সালাত আদায় করেন। আবূ মাস’ঊদ (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কোন ওয়াযে সে দিনের মত বেশি রাগান্বিত হতে আর দেখিনি। এরপর তিনি বললেনঃ হে লোক সকল! তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ বিতৃষ্ণার সৃষ্টিকারী রয়েছে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে কেউ লোকদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করবে, সে যেন সংক্ষিপ্ত করে। কারণ, তাদের মাঝে আছে বয়স্ক, দুর্বল ও কর্মব্যস্ত মানুষ। [৯০; মুসলিম ৪/৩৭, হাঃ ৪৬৬, আহমাদ ২২৪০৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭৩)
হাদিস নং: ৭১৬০
সহিহ (Sahih)
محمد بن ابي يعقوب الكرماني حدثنا حسان بن ابراهيم حدثنا يونس قال حدثنا محمد هو الزهري اخبرني سالم ان عبد الله بن عمر اخبره انه طلق امراته وهي حاىض فذكر عمر للنبي صلى الله عليه وسلم فتغيظ عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم قال ليراجعها ثم ليمسكها حتى تطهر ثم تحيض فتطهر فان بدا له ان يطلقها فليطلقها.
৭১৬০. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি স্বীয় স্ত্রীকে ঋতুমতী অবস্থায় ত্বলাক (তালাক) দিয়েছিলেন। ’উমার (রাঃ) এ ঘটনা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বর্ণনা করেন। এতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হন। এরপর তিনি বলেনঃ সে যেন তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনে এবং তাকে ধরে রাখে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে পবিত্র হয়ে আবার ঋতুমতী না হয় এবং পুনরায় পবিত্র না হয়। এরপরও যদি সে তালাক দিতে চায়, তাহলে যেন তখন (পবিত্রাবস্থায়) ত্বলাক (তালাক) দেয়। আবূ ’আবদুল্লাহ্ (বুখারী) (রহ.) বলেন, যুহরী-ই মুহাম্মাদ। [৪৯০৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭৪)
হাদিস নং: ৭১৬১
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري حدثني عروة ان عاىشة قالت جاءت هند بنت عتبة بن ربيعة فقالت يا رسول الله والله ما كان على ظهر الارض اهل خباء احب الي ان يذلوا من اهل خباىك وما اصبح اليوم على ظهر الارض اهل خباء احب الي ان يعزوا من اهل خباىك ثم قالت ان ابا سفيان رجل مسيك فهل علي من حرج ان اطعم من الذي له عيالنا قال لها لا حرج عليك ان تطعميهم من معروف.
كَمَا قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِهِنْدٍ خُذِي مَا يَكْفِيكِ وَوَلَدَكِ بِالْمَعْرُوفِ وَذَلِكَ إِذَا كَانَ أَمْرًا مَشْهُورًا.
যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিন্দা বিনত্ উত্বাকে বলেছিলেন, তুমি তোমার (স্বামী আবূ সুফ্ইয়ানের সম্পদ থেকে) এতটুকু পরিমাণ গ্রহণ কর, যতটুকু তোমার ও তোমার সন্তানের জন্য যথেষ্ট হবে ন্যায়নিষ্ঠা ভাবে। আর এটা হবে তখন, যখন বিষয়টি খুবই প্রসিদ্ধ।
৭১৬১. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা হিন্দা বিনত উতবা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম! যমীনের বুকে এমন কোন পরিবার ছিল না, আপনার পরিবারের চেয়ে যার লাঞ্ছনা ও অবমাননা আমার নিকট অধিক প্রিয় ও পছন্দনীয় ছিল। কিন্তু আজ আমার কাছে এমন হয়েছে যে, এমন কোন পরিবার যমীনের বুকে নেই, যে পরিবার আপনার পরিবারের চেয়ে অধিক উত্তম ও সম্মানিত। তারপর হিন্দা (রাঃ) বলল, আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ) একজন অত্যন্ত কৃপণ লোক। কাজেই আমি আমাদের সন্তানদেরকে তার ধনমাল থেকে খাওয়াই, আমার জন্য এটা দোষের হবে কি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেনঃ না, তোমার জন্য তাদেরকে খাওয়ানো কোন দোষের হবে না, যদি তা ন্যায়সঙ্গত হয়। [২২১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭৫)
যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিন্দা বিনত্ উত্বাকে বলেছিলেন, তুমি তোমার (স্বামী আবূ সুফ্ইয়ানের সম্পদ থেকে) এতটুকু পরিমাণ গ্রহণ কর, যতটুকু তোমার ও তোমার সন্তানের জন্য যথেষ্ট হবে ন্যায়নিষ্ঠা ভাবে। আর এটা হবে তখন, যখন বিষয়টি খুবই প্রসিদ্ধ।
৭১৬১. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা হিন্দা বিনত উতবা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম! যমীনের বুকে এমন কোন পরিবার ছিল না, আপনার পরিবারের চেয়ে যার লাঞ্ছনা ও অবমাননা আমার নিকট অধিক প্রিয় ও পছন্দনীয় ছিল। কিন্তু আজ আমার কাছে এমন হয়েছে যে, এমন কোন পরিবার যমীনের বুকে নেই, যে পরিবার আপনার পরিবারের চেয়ে অধিক উত্তম ও সম্মানিত। তারপর হিন্দা (রাঃ) বলল, আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ) একজন অত্যন্ত কৃপণ লোক। কাজেই আমি আমাদের সন্তানদেরকে তার ধনমাল থেকে খাওয়াই, আমার জন্য এটা দোষের হবে কি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেনঃ না, তোমার জন্য তাদেরকে খাওয়ানো কোন দোষের হবে না, যদি তা ন্যায়সঙ্গত হয়। [২২১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭৫)
হাদিস নং: ৭১৬২
সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة قال سمعت قتادة عن انس بن مالك قال لما اراد النبي صلى الله عليه وسلم ان يكتب الى الروم قالوا انهم لا يقرءون كتابا الا مختوما فاتخذ النبي صلى الله عليه وسلم خاتما من فضة كاني انظر الى وبيصه ونقشه محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم.
وَقَالَ بَعْضُ النَّاسِ كِتَابُ الْحَاكِمِ جَائِزٌ إِلاَّ فِي الْحُدُودِ ثُمَّ قَالَ إِنْ كَانَ الْقَتْلُ خَطَأً فَهُوَ جَائِزٌ لِأَنَّ هَذَا مَالٌ بِزَعْمِهِ وَإِنَّمَا صَارَ مَالاً بَعْدَ أَنْ ثَبَتَ الْقَتْلُ فَالْخَطَأُ وَالْعَمْدُ وَاحِدٌ وَقَدْ كَتَبَ عُمَرُ إِلَى عَامِلِهِ فِي الْجَارُودِ وَكَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ فِي سِنٍّ كُسِرَتْ.
وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ كِتَابُ الْقَاضِي إِلَى الْقَاضِي جَائِزٌ إِذَا عَرَفَ الْكِتَابَ وَالْخَاتَمَ وَكَانَ الشَّعْبِيُّ يُجِيزُ الْكِتَابَ الْمَخْتُومَ بِمَا فِيهِ مِنْ الْقَاضِي وَيُرْوَى عَنْ ابْنِ عُمَرَ نَحْوُهُ.
وَقَالَ مُعَاوِيَةُ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ الثَّقَفِيُّ شَهِدْتُ عَبْدَ الْمَلِكِ بْنَ يَعْلَى قَاضِيَ الْبَصْرَةِ وَإِيَاسَ بْنَ مُعَاوِيَةَ وَالْحَسَنَ وَثُمَامَةَ بْنَ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَنَسٍ وَبِلاَلَ بْنَ أَبِي بُرْدَةَ وَعَبْدَ اللهِ بْنَ بُرَيْدَةَ الأَسْلَمِيَّ وَعَامِرَ بْنَ عَبِيدَةَ وَعَبَّادَ بْنَ مَنْصُورٍ يُجِيزُونَ كُتُبَ الْقُضَاةِ بِغَيْرِ مَحْضَرٍ مِنْ الشُّهُودِ فَإِنْ قَالَ الَّذِي جِيءَ عَلَيْهِ بِالْكِتَابِ إِنَّهُ زُورٌ قِيلَ لَهُ اذْهَبْ فَالْتَمِسْ الْمَخْرَجَ مِنْ ذَلِكَ وَأَوَّلُ مَنْ سَأَلَ عَلَى كِتَابِ الْقَاضِي الْبَيِّنَةَ ابْنُ أَبِي لَيْلَى وَسَوَّارُ بْنُ عَبْدِ اللهِ.
وَقَالَ لَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُحْرِزٍ جِئْتُ بِكِتَابٍ مِنْ مُوسَى بْنِ أَنَسٍ قَاضِي الْبَصْرَةِ وَأَقَمْتُ عِنْدَهُ الْبَيِّنَةَ أَنَّ لِي عِنْدَ فُلاَنٍ كَذَا وَكَذَا وَهُوَ بِالْكُوفَةِ وَجِئْتُ بِهِ الْقَاسِمَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَأَجَازَهُ وَكَرِهَ الْحَسَنُ وَأَبُو قِلاَبَةَ أَنْ يَشْهَدَ عَلَى وَصِيَّةٍ حَتَّى يَعْلَمَ مَا فِيهَا لِأَنَّهُ لاَ يَدْرِي لَعَلَّ فِيهَا جَوْرًا وَقَدْ كَتَبَ النَّبِيُّصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى أَهْلِ خَيْبَرَ إِمَّا أَنْ تَدُوا صَاحِبَكُمْ وَإِمَّا أَنْ تُؤْذِنُوا بِحَرْبٍ وَقَالَ الزُّهْرِيُّ فِي الشَّهَادَةِ عَلَى الْمَرْأَةِ مِنْ وَرَاءِ السِّتْرِ إِنْ عَرَفْتَهَا فَاشْهَدْ وَإِلاَّ فَلاَ تَشْهَدْ.
কোন কোন লোক বলেছেন, ’হদ’ (শারী’আতের নির্ধারিত শাস্তি) ব্যতীত অন্যান্য ব্যাপারে রাষ্ট্র পরিচালককে চিঠি দেয়া বৈধ। এরপর তিনি বলেছেন, হত্যা যদি ভুলবশত হয় তাহলে রাষ্ট্র পরিচালকের চিঠি বৈধ। কেননা, তাঁর মতে এটি মাল সংক্রান্ত বিষয়। অথচ এটি মাল সংক্রান্ত বিষয় বলে ঐ সময় প্রতীয়মান হবে, যখন হত্যা প্রমাণিত হবে। ভুলবশত হত্যা ও ইচ্ছাকৃত হত্যা একই। ’উমার (রাঃ) তাঁর কর্মকর্তার নিকট জারুদের উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে চিঠি লিখেছিলেন। ’উমার উবনু আবুদল আযীয (রহ.) ভেঙ্গে যাওয়া দাঁতের ব্যাপারে চিঠি লিখেছিলেন।
ইব্রাহীম (রহ.) বলেন, লেখা ও মোহর যদি চিনতে পারেন, তাহলে বিচারপতির কাছে অন্য বিচারপতির চিঠি লেখা বৈধ। শাবী বিচারপতির পক্ষ থেকে মোহরকৃত চিঠি বৈধ মনে করতেন। ইবনু ’উমার (রাঃ) থেকেও তদ্রূপ বর্ণিত। মু’আবিয়াহ ইবনু ’আবদুল কারীম সাকাফী বলেন, আমি বসরার বিচারপতি ’আবদুল মালিক ইবনু ইয়া’লা, ইয়াস ইবনু মু’আবিয়াহ, হাসান, সুমায়াহ্ ইবনু ’আবদুল্লাহ্ ইবনু আনাস, বিলাল ইবনু আবূ বুরদা, ’আবদুল্লাহ্ ইবনু বুরায়দা আসলামী, আমের ইবনু আবীদা ও ’আব্বাস ইবনু মানসূরকে দেখেছি, তাঁরা সকলেই সাক্ষীদের অনুপস্থিতিতে বিচারপতিদের চিঠি বৈধ মনে করতেন। চিঠিতে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হত সে যদি একে মিথ্যা বা জাল বলে দাবি করত, তাহলে তাকে বলা হত যাও, এ অভিযোগ থেকে মুক্তির পথ খোঁজ কর। সর্বপ্রথম যারা বিচারপতির চিঠির ব্যাপারে প্রমাণ দাবি করেছেন তারা হলেন, ইবনু আবূ লায়লা এবং সাওয়ার ইবনু ’আবদুল্লাহ্।
আবূ নু’আয়ম (রহ.) আমাদের বলেছেন, ’উবাইদুল্লাহ্ ইবনু মুহরেয আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, ’’আমি বস্রার বিচারপতি মূসা ইবনু আনাসের নিকট হতে চিঠি নিয়ে আসলাম। সেখানে আমি তাঁর নিকট এ ব্যাপারে প্রমাণ পেশ করলাম যে, অমুকের নিকট আমার এত এত পাওনা আছে, আর সে কূফায় অবস্থান করেছে। এ চিঠি নিয়ে আমি কাসেম ইবনু ’আবদুর রহমানের কাছে আসলাম, তিনি তা কার্যকর করলেন। হাসান ও আবূ কেলাবা অসিয়্যতনামায় কী লেখা আছে তা না জেনে তার সাক্ষী হওয়াকে মাক্রূহ মনে করতেন। কেননা, সে জানে না, হয়তো এতে কারো প্রতি অবিচার করা হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারবাসীদের প্রতি চিঠি লিখেছিলেন যে, হয়তো তোমরা তোমাদের সাথীর ’দিয়ত’ (রক্তপণ) আদায় কর, না হয় যুদ্ধের ঘোষণা গ্রহণ কর। পর্দার অন্তরাল থেকে মহিলাদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয়া সম্পর্কে ইমাম যুহরী বলেন, যদি তুমি তাকে চিনতে পার তাহলে তার ব্যাপারে সাক্ষ্য দেবে, তা না হলে সাক্ষ্য দেবে না।
৭১৬২. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রোমের সম্রাটের নিকট চিঠি লিখতে চাইলেন, তখন লোকেরা বলল, মোহরকৃত চিঠি না হলে তারা তা পড়ে না। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি রৌপ্যের আংটি তৈরি করলেন। [আনাস (রহ.) বলেন] আমি এখনও যেন এর উজ্জ্বলতা লক্ষ্য করছি। তাতে مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللهِ ’’মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’’ অংকিত ছিল। [৬৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭৬)
وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ كِتَابُ الْقَاضِي إِلَى الْقَاضِي جَائِزٌ إِذَا عَرَفَ الْكِتَابَ وَالْخَاتَمَ وَكَانَ الشَّعْبِيُّ يُجِيزُ الْكِتَابَ الْمَخْتُومَ بِمَا فِيهِ مِنْ الْقَاضِي وَيُرْوَى عَنْ ابْنِ عُمَرَ نَحْوُهُ.
وَقَالَ مُعَاوِيَةُ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ الثَّقَفِيُّ شَهِدْتُ عَبْدَ الْمَلِكِ بْنَ يَعْلَى قَاضِيَ الْبَصْرَةِ وَإِيَاسَ بْنَ مُعَاوِيَةَ وَالْحَسَنَ وَثُمَامَةَ بْنَ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَنَسٍ وَبِلاَلَ بْنَ أَبِي بُرْدَةَ وَعَبْدَ اللهِ بْنَ بُرَيْدَةَ الأَسْلَمِيَّ وَعَامِرَ بْنَ عَبِيدَةَ وَعَبَّادَ بْنَ مَنْصُورٍ يُجِيزُونَ كُتُبَ الْقُضَاةِ بِغَيْرِ مَحْضَرٍ مِنْ الشُّهُودِ فَإِنْ قَالَ الَّذِي جِيءَ عَلَيْهِ بِالْكِتَابِ إِنَّهُ زُورٌ قِيلَ لَهُ اذْهَبْ فَالْتَمِسْ الْمَخْرَجَ مِنْ ذَلِكَ وَأَوَّلُ مَنْ سَأَلَ عَلَى كِتَابِ الْقَاضِي الْبَيِّنَةَ ابْنُ أَبِي لَيْلَى وَسَوَّارُ بْنُ عَبْدِ اللهِ.
وَقَالَ لَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُحْرِزٍ جِئْتُ بِكِتَابٍ مِنْ مُوسَى بْنِ أَنَسٍ قَاضِي الْبَصْرَةِ وَأَقَمْتُ عِنْدَهُ الْبَيِّنَةَ أَنَّ لِي عِنْدَ فُلاَنٍ كَذَا وَكَذَا وَهُوَ بِالْكُوفَةِ وَجِئْتُ بِهِ الْقَاسِمَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَأَجَازَهُ وَكَرِهَ الْحَسَنُ وَأَبُو قِلاَبَةَ أَنْ يَشْهَدَ عَلَى وَصِيَّةٍ حَتَّى يَعْلَمَ مَا فِيهَا لِأَنَّهُ لاَ يَدْرِي لَعَلَّ فِيهَا جَوْرًا وَقَدْ كَتَبَ النَّبِيُّصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى أَهْلِ خَيْبَرَ إِمَّا أَنْ تَدُوا صَاحِبَكُمْ وَإِمَّا أَنْ تُؤْذِنُوا بِحَرْبٍ وَقَالَ الزُّهْرِيُّ فِي الشَّهَادَةِ عَلَى الْمَرْأَةِ مِنْ وَرَاءِ السِّتْرِ إِنْ عَرَفْتَهَا فَاشْهَدْ وَإِلاَّ فَلاَ تَشْهَدْ.
কোন কোন লোক বলেছেন, ’হদ’ (শারী’আতের নির্ধারিত শাস্তি) ব্যতীত অন্যান্য ব্যাপারে রাষ্ট্র পরিচালককে চিঠি দেয়া বৈধ। এরপর তিনি বলেছেন, হত্যা যদি ভুলবশত হয় তাহলে রাষ্ট্র পরিচালকের চিঠি বৈধ। কেননা, তাঁর মতে এটি মাল সংক্রান্ত বিষয়। অথচ এটি মাল সংক্রান্ত বিষয় বলে ঐ সময় প্রতীয়মান হবে, যখন হত্যা প্রমাণিত হবে। ভুলবশত হত্যা ও ইচ্ছাকৃত হত্যা একই। ’উমার (রাঃ) তাঁর কর্মকর্তার নিকট জারুদের উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে চিঠি লিখেছিলেন। ’উমার উবনু আবুদল আযীয (রহ.) ভেঙ্গে যাওয়া দাঁতের ব্যাপারে চিঠি লিখেছিলেন।
ইব্রাহীম (রহ.) বলেন, লেখা ও মোহর যদি চিনতে পারেন, তাহলে বিচারপতির কাছে অন্য বিচারপতির চিঠি লেখা বৈধ। শাবী বিচারপতির পক্ষ থেকে মোহরকৃত চিঠি বৈধ মনে করতেন। ইবনু ’উমার (রাঃ) থেকেও তদ্রূপ বর্ণিত। মু’আবিয়াহ ইবনু ’আবদুল কারীম সাকাফী বলেন, আমি বসরার বিচারপতি ’আবদুল মালিক ইবনু ইয়া’লা, ইয়াস ইবনু মু’আবিয়াহ, হাসান, সুমায়াহ্ ইবনু ’আবদুল্লাহ্ ইবনু আনাস, বিলাল ইবনু আবূ বুরদা, ’আবদুল্লাহ্ ইবনু বুরায়দা আসলামী, আমের ইবনু আবীদা ও ’আব্বাস ইবনু মানসূরকে দেখেছি, তাঁরা সকলেই সাক্ষীদের অনুপস্থিতিতে বিচারপতিদের চিঠি বৈধ মনে করতেন। চিঠিতে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হত সে যদি একে মিথ্যা বা জাল বলে দাবি করত, তাহলে তাকে বলা হত যাও, এ অভিযোগ থেকে মুক্তির পথ খোঁজ কর। সর্বপ্রথম যারা বিচারপতির চিঠির ব্যাপারে প্রমাণ দাবি করেছেন তারা হলেন, ইবনু আবূ লায়লা এবং সাওয়ার ইবনু ’আবদুল্লাহ্।
আবূ নু’আয়ম (রহ.) আমাদের বলেছেন, ’উবাইদুল্লাহ্ ইবনু মুহরেয আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, ’’আমি বস্রার বিচারপতি মূসা ইবনু আনাসের নিকট হতে চিঠি নিয়ে আসলাম। সেখানে আমি তাঁর নিকট এ ব্যাপারে প্রমাণ পেশ করলাম যে, অমুকের নিকট আমার এত এত পাওনা আছে, আর সে কূফায় অবস্থান করেছে। এ চিঠি নিয়ে আমি কাসেম ইবনু ’আবদুর রহমানের কাছে আসলাম, তিনি তা কার্যকর করলেন। হাসান ও আবূ কেলাবা অসিয়্যতনামায় কী লেখা আছে তা না জেনে তার সাক্ষী হওয়াকে মাক্রূহ মনে করতেন। কেননা, সে জানে না, হয়তো এতে কারো প্রতি অবিচার করা হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারবাসীদের প্রতি চিঠি লিখেছিলেন যে, হয়তো তোমরা তোমাদের সাথীর ’দিয়ত’ (রক্তপণ) আদায় কর, না হয় যুদ্ধের ঘোষণা গ্রহণ কর। পর্দার অন্তরাল থেকে মহিলাদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয়া সম্পর্কে ইমাম যুহরী বলেন, যদি তুমি তাকে চিনতে পার তাহলে তার ব্যাপারে সাক্ষ্য দেবে, তা না হলে সাক্ষ্য দেবে না।
৭১৬২. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রোমের সম্রাটের নিকট চিঠি লিখতে চাইলেন, তখন লোকেরা বলল, মোহরকৃত চিঠি না হলে তারা তা পড়ে না। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি রৌপ্যের আংটি তৈরি করলেন। [আনাস (রহ.) বলেন] আমি এখনও যেন এর উজ্জ্বলতা লক্ষ্য করছি। তাতে مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللهِ ’’মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’’ অংকিত ছিল। [৬৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭৬)
হাদিস নং: ৭১৬৩
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري اخبرني الساىب بن يزيد ابن اخت نمر ان حويطب بن عبد العزى اخبره ان عبد الله بن السعدي اخبره انه قدم على عمر في خلافته فقال له عمر الم احدث انك تلي من اعمال الناس اعمالا فاذا اعطيت العمالة كرهتها فقلت بلى فقال عمر فما تريد الى ذلك قلت ان لي افراسا واعبدا وانا بخير واريد ان تكون عمالتي صدقة على المسلمين قال عمر لا تفعل فاني كنت اردت الذي اردت فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعطيني العطاء فاقول اعطه افقر اليه مني حتى اعطاني مرة مالا فقلت اعطه افقر اليه مني فقال النبي صلى الله عليه وسلم خذه فتموله وتصدق به فما جاءك من هذا المال وانت غير مشرف ولا ساىل فخذه والا فلا تتبعه نفسك.
93/16. بَاب مَتَى يَسْتَوْجِبُ الرَّجُلُ الْقَضَاءَ
৯৩/১৬. অধ্যায়: লোক কখন বিচারক হবার যোগ্য হয়।
وَقَالَ الْحَسَنُ: أَخَذَ اللهُ عَلَى الْحُكَّامِ أَنْ لاَ يَتَّبِعُوا الْهَوَى وَلاَ يَخْشَوْا النَّاسَ وَلاَ يَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلاً ثُمَّ قَرَأَ (يَا دَاوُدُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الأَرْضِ فَاحْكُمْ بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلاَ تَتَّبِعْ الْهَوَى فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيلِ اللهِ إِنَّ الَّذِينَ يَضِلُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ بِمَا نَسُوا يَوْمَ الْحِسَابِ) وَقَرَأَ (إِنَّا أَنْزَلْنَا التَّوْرَاةَ فِيهَا هُدًى وَنُورٌ يَحْكُمُ بِهَا النَّبِيُّونَ الَّذِينَ أَسْلَمُوا لِلَّذِينَ هَادُوا وَالرَّبَّانِيُّونَ وَالأَحْبَارُ بِمَا اسْتُحْفِظُوا اسْتُوْدِعُوا مِنْ كِتَابِ اللهِ اسْتُحْفِظُوا مِنْ كِتَابِ اللهِ وَكَانُوا عَلَيْهِ شُهَدَآءَ فَلاَ تَخْشَوْا النَّاسَ وَاخْشَوْنِ وَلاَ تَشْتَرُوا بِاٰيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلاً وَمَنْ لَمْ حْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَأُولَئِكَ هُمْ الْكَافِرُونَ).
وَقَرَأَ (وَدَاوُدَ وَسُلَيْمَانَ إِذْ يَحْكُمَانِ فِي الْحَرْثِ إِذْ نَفَشَتْ فِيهِ غَنَمُ الْقَوْمِ وَكُنَّا لِحُكْمِهِمْ شَاهِدِينَ فَفَهَّمْنَاهَا سُلَيْمَانَ وَكُلاًّ اٰتَيْنَا حُكْمًا وَعِلْمًا) فَحَمِدَ سُلَيْمَانَ وَلَمْ يَلُمْ دَاوُدَ وَلَوْلاَ مَا ذَكَرَ اللهُ مِنْ أَمْرِ هَذَيْنِ لَرَأَيْتُ أَنَّ الْقُضَاةَ هَلَكُوا فَإِنَّهُ أَثْنَى عَلَى هَذَا بِعِلْمِهِ وَعَذَرَ هَذَا بِاجْتِهَادِهِ وَقَالَ مُزَاحِمُ بْنُ زُفَرَ قَالَ لَنَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ خَمْسٌ إِذَا أَخْطَأَ الْقَاضِي مِنْهُنَّ خَصْلَةً كَانَتْ فِيهِ وَصْمَةٌ أَنْ يَكُونَ فَهِمًا حَلِيمًا عَفِيفًا صَلِيبًا عَالِمًا سَئُولاً عَنْ الْعِلْمِ.
হাসান (রহ.) বলেন, আল্লাহ্ তা’আলা বিচারকদের থেকে ওয়াদা নিয়েছেন যে, তারা যেন কখনও খেয়াল খুশির অনুসরণ না করেন, মানুষকে ভয় না করেন এবং অল্প মূল্যের বদলে আল্লাহর আয়াতকে বিক্রয় না করেন। এরপর তিনি পড়লেন- ইরশাদ হলোঃ হে দাঊদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে (আমার) প্রতিনিধি বানালাম, কাজেই তুমি মানুষের মধ্যে ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে শাসন-বিচার পরিচালনা কর, এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। কেননা, তা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করে ফেলবে। যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্য আছে কঠিন ’আযাব, কারণ তারা হিসাব-নিকাশের দিনকে ভুলে গেছে- (সূরাহ সোয়াদ ৩৮/২৬)।
তিনি আরো পাঠ করলেন, (আল্লাহর বাণী) : আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছিলাম, তাতে ছিল সঠিক পথের দিশা ও আলো। নবীগণ যারা ছিল মুসলিম এগুলো দ্বারা ইয়াহূদীদেরকে ফায়সালা দিত। দরবেশ ও আলিমরাও (তাই করত) কারণ তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের রক্ষক করা হয়েছিল আর তারা ছিল এর সাক্ষী। কাজেই মানুষকে ভয় করো না, আমাকেই ভয় কর, আর আমার আয়াতকে নগণ্য মূল্যে বিক্রয় করো না। আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, সে অনুযায়ী যারা বিচার ফায়সালা করে না তারাই কাফির- (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৪৪)। এবং আরো পাঠ করলেন (আল্লাহ্ তা’আলার বাণী) : স্মরণ কর দাঊদ ও সুলায়মানের কথা যখন তারা কৃষিক্ষেত সম্পর্কে বিচার করছিল যখন তাতে রাতের বেলা কোন ব্যক্তির মেষ ঢুকে পড়েছিল, আর আমি তাদের বিচারকার্য প্রত্যক্ষ করছিলাম। আমি সুলায়মানকে এ বিষয়ের (সঠিক) বুঝ দিয়েছিলাম আর (তাদের) প্রত্যেককে আমি দিয়েছিলাম বিচারশক্তি ও জ্ঞান। আমি পর্বত ও পাখীদেরকে দাঊদের অধীন ক’রে দিয়েছিলাম, তারা দাঊদের সাথে আমার মাহাত্ম্য ও পবিত্রতা ঘোষণা করত। (এসব) আমিই করতাম। (সূরাহ আম্বিয়া ২১/৭৮-৭৯)
(আল্লাহ্) সুলায়মান (আঃ)-এর প্রশংসা করেছেন, তবে দাঊদ (আঃ)-এর প্রতি তিরস্কার করেননি। যদি আল্লাহ্ তা’আলা দু’জনের অবস্থাকেই উল্লেখ না করতেন, তাহলে মনে করা হত যে, বিচার করা ধ্বংস হয়ে গেছেন। তিনি তাঁর (সুলায়মানের) ইল্মের প্রশংসা করেছেন এবং (দাঊদকে) তাঁর (ভুল) ইজ্তিহাদের জন্য মাফ করে দিয়েছেন।
মুযাহিম ইবনু যুফা (রহ.) বলেন ’উমার ইবনু ’আবদুল ’আযীয (রহ.) আমাদের বলেছেন যে, পাঁচটি গুণ এমন যে, বিচারকের মধ্যে যদি এগুলোর একটিরও অভাব থাকে তাহলে তা তার জন্য দোষ বলে গণ্য হবে। তাকে হতে হবে বুদ্ধিমান, ধৈর্যশীল, পূত-পবিত্র চরিত্রের অধিকারী, দৃঢ়প্রত্যয়ী ও জ্ঞানী, জ্ঞানের অনুসন্ধানকারী।
وَكَانَ شُرَيْحٌ الْقَاضِي يَأْخُذُ عَلَى الْقَضَاءِ أَجْرًا وَقَالَتْ عَائِشَةُ يَأْكُلُ الْوَصِيُّ بِقَدْرِ عُمَالَتِهِ وَأَكَلَ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ
বিচারপতি শুরায়হ্ (রহ.) বিচার কাজের জন্য পারিশ্রমিক নিতেন। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, (ইয়াতীমের) দেখাশুনাকারী সম্পদ থেকে তার পারিশ্রমিকের সমান খেতে পারবেন। আবূ বকর (রাঃ) ও ’উমার (রাঃ) (সরকারী ভাতা) ভোগ করেছেন।
৭১৬৩. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু সা’দী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, ’উমার (রাঃ)-এর খিলাফাত সময়ে তিনি একবার তাঁর কাছে আসলেন। তখন ’উমার (রাঃ) তাঁকে বললেন- আমাকে কি এ সর্ম্পকে জানানো হয়নি যে তুমি জনগণের অনেক দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়ে থাক। কিন্তু যখন তোমাকে এর পারিশ্রমিক দেয়া হয়, তখন তুমি সেটা নেয়াকে অপছন্দ কর? আমি বললাম, হ্যাঁ। ’উমার (রাঃ) বললেন, কী কারণে তুমি এরূপ কর। আমি বললাম, আমার অনেক ঘোড়া ও গোলাম আছে এবং আমি ভাল অবস্থায় আছি। কাজেই আমি চাই যে, আমার পারিশ্রমিক সাধারণ মুসলিমদের জন্য সাদাকা হিসাবে গণ্য হোক। ’উমার (রাঃ) বললেন, এরকম করো না। কেননা, আমিও তোমার মত এরকম ইচ্ছে পোষণ করতাম।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমাকে কিছু দিতেন, তখন আমি বলতাম, আমার চেয়ে যার প্রয়োজন বেশি তাকে দিন। এতে একবার তিনি আমাকে কিছু মাল দিলেন। আমি বললাম, আমা হতে এ মালের প্রয়োজন যার অধিক তাকে দিন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটা নিয়ে মালদার হও এবং বৃদ্ধি করে তাত্থেকে সাদাকা কর। আর এ মাল ধনের যা কিছু তোমার নিকট এভাবে আসে, তুমি যার অধিকারী নও বা প্রার্থী নও তা গ্রহণ করো। তা না হলে তার পিছনে নিজেকে নিয়োজিত করো না।[1] [১৪৭৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬৪ প্রথমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭৭)
৯৩/১৬. অধ্যায়: লোক কখন বিচারক হবার যোগ্য হয়।
وَقَالَ الْحَسَنُ: أَخَذَ اللهُ عَلَى الْحُكَّامِ أَنْ لاَ يَتَّبِعُوا الْهَوَى وَلاَ يَخْشَوْا النَّاسَ وَلاَ يَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلاً ثُمَّ قَرَأَ (يَا دَاوُدُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الأَرْضِ فَاحْكُمْ بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلاَ تَتَّبِعْ الْهَوَى فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيلِ اللهِ إِنَّ الَّذِينَ يَضِلُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ بِمَا نَسُوا يَوْمَ الْحِسَابِ) وَقَرَأَ (إِنَّا أَنْزَلْنَا التَّوْرَاةَ فِيهَا هُدًى وَنُورٌ يَحْكُمُ بِهَا النَّبِيُّونَ الَّذِينَ أَسْلَمُوا لِلَّذِينَ هَادُوا وَالرَّبَّانِيُّونَ وَالأَحْبَارُ بِمَا اسْتُحْفِظُوا اسْتُوْدِعُوا مِنْ كِتَابِ اللهِ اسْتُحْفِظُوا مِنْ كِتَابِ اللهِ وَكَانُوا عَلَيْهِ شُهَدَآءَ فَلاَ تَخْشَوْا النَّاسَ وَاخْشَوْنِ وَلاَ تَشْتَرُوا بِاٰيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلاً وَمَنْ لَمْ حْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَأُولَئِكَ هُمْ الْكَافِرُونَ).
وَقَرَأَ (وَدَاوُدَ وَسُلَيْمَانَ إِذْ يَحْكُمَانِ فِي الْحَرْثِ إِذْ نَفَشَتْ فِيهِ غَنَمُ الْقَوْمِ وَكُنَّا لِحُكْمِهِمْ شَاهِدِينَ فَفَهَّمْنَاهَا سُلَيْمَانَ وَكُلاًّ اٰتَيْنَا حُكْمًا وَعِلْمًا) فَحَمِدَ سُلَيْمَانَ وَلَمْ يَلُمْ دَاوُدَ وَلَوْلاَ مَا ذَكَرَ اللهُ مِنْ أَمْرِ هَذَيْنِ لَرَأَيْتُ أَنَّ الْقُضَاةَ هَلَكُوا فَإِنَّهُ أَثْنَى عَلَى هَذَا بِعِلْمِهِ وَعَذَرَ هَذَا بِاجْتِهَادِهِ وَقَالَ مُزَاحِمُ بْنُ زُفَرَ قَالَ لَنَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ خَمْسٌ إِذَا أَخْطَأَ الْقَاضِي مِنْهُنَّ خَصْلَةً كَانَتْ فِيهِ وَصْمَةٌ أَنْ يَكُونَ فَهِمًا حَلِيمًا عَفِيفًا صَلِيبًا عَالِمًا سَئُولاً عَنْ الْعِلْمِ.
হাসান (রহ.) বলেন, আল্লাহ্ তা’আলা বিচারকদের থেকে ওয়াদা নিয়েছেন যে, তারা যেন কখনও খেয়াল খুশির অনুসরণ না করেন, মানুষকে ভয় না করেন এবং অল্প মূল্যের বদলে আল্লাহর আয়াতকে বিক্রয় না করেন। এরপর তিনি পড়লেন- ইরশাদ হলোঃ হে দাঊদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে (আমার) প্রতিনিধি বানালাম, কাজেই তুমি মানুষের মধ্যে ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে শাসন-বিচার পরিচালনা কর, এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। কেননা, তা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করে ফেলবে। যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্য আছে কঠিন ’আযাব, কারণ তারা হিসাব-নিকাশের দিনকে ভুলে গেছে- (সূরাহ সোয়াদ ৩৮/২৬)।
তিনি আরো পাঠ করলেন, (আল্লাহর বাণী) : আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছিলাম, তাতে ছিল সঠিক পথের দিশা ও আলো। নবীগণ যারা ছিল মুসলিম এগুলো দ্বারা ইয়াহূদীদেরকে ফায়সালা দিত। দরবেশ ও আলিমরাও (তাই করত) কারণ তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের রক্ষক করা হয়েছিল আর তারা ছিল এর সাক্ষী। কাজেই মানুষকে ভয় করো না, আমাকেই ভয় কর, আর আমার আয়াতকে নগণ্য মূল্যে বিক্রয় করো না। আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, সে অনুযায়ী যারা বিচার ফায়সালা করে না তারাই কাফির- (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৪৪)। এবং আরো পাঠ করলেন (আল্লাহ্ তা’আলার বাণী) : স্মরণ কর দাঊদ ও সুলায়মানের কথা যখন তারা কৃষিক্ষেত সম্পর্কে বিচার করছিল যখন তাতে রাতের বেলা কোন ব্যক্তির মেষ ঢুকে পড়েছিল, আর আমি তাদের বিচারকার্য প্রত্যক্ষ করছিলাম। আমি সুলায়মানকে এ বিষয়ের (সঠিক) বুঝ দিয়েছিলাম আর (তাদের) প্রত্যেককে আমি দিয়েছিলাম বিচারশক্তি ও জ্ঞান। আমি পর্বত ও পাখীদেরকে দাঊদের অধীন ক’রে দিয়েছিলাম, তারা দাঊদের সাথে আমার মাহাত্ম্য ও পবিত্রতা ঘোষণা করত। (এসব) আমিই করতাম। (সূরাহ আম্বিয়া ২১/৭৮-৭৯)
(আল্লাহ্) সুলায়মান (আঃ)-এর প্রশংসা করেছেন, তবে দাঊদ (আঃ)-এর প্রতি তিরস্কার করেননি। যদি আল্লাহ্ তা’আলা দু’জনের অবস্থাকেই উল্লেখ না করতেন, তাহলে মনে করা হত যে, বিচার করা ধ্বংস হয়ে গেছেন। তিনি তাঁর (সুলায়মানের) ইল্মের প্রশংসা করেছেন এবং (দাঊদকে) তাঁর (ভুল) ইজ্তিহাদের জন্য মাফ করে দিয়েছেন।
মুযাহিম ইবনু যুফা (রহ.) বলেন ’উমার ইবনু ’আবদুল ’আযীয (রহ.) আমাদের বলেছেন যে, পাঁচটি গুণ এমন যে, বিচারকের মধ্যে যদি এগুলোর একটিরও অভাব থাকে তাহলে তা তার জন্য দোষ বলে গণ্য হবে। তাকে হতে হবে বুদ্ধিমান, ধৈর্যশীল, পূত-পবিত্র চরিত্রের অধিকারী, দৃঢ়প্রত্যয়ী ও জ্ঞানী, জ্ঞানের অনুসন্ধানকারী।
وَكَانَ شُرَيْحٌ الْقَاضِي يَأْخُذُ عَلَى الْقَضَاءِ أَجْرًا وَقَالَتْ عَائِشَةُ يَأْكُلُ الْوَصِيُّ بِقَدْرِ عُمَالَتِهِ وَأَكَلَ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ
বিচারপতি শুরায়হ্ (রহ.) বিচার কাজের জন্য পারিশ্রমিক নিতেন। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, (ইয়াতীমের) দেখাশুনাকারী সম্পদ থেকে তার পারিশ্রমিকের সমান খেতে পারবেন। আবূ বকর (রাঃ) ও ’উমার (রাঃ) (সরকারী ভাতা) ভোগ করেছেন।
৭১৬৩. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু সা’দী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, ’উমার (রাঃ)-এর খিলাফাত সময়ে তিনি একবার তাঁর কাছে আসলেন। তখন ’উমার (রাঃ) তাঁকে বললেন- আমাকে কি এ সর্ম্পকে জানানো হয়নি যে তুমি জনগণের অনেক দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়ে থাক। কিন্তু যখন তোমাকে এর পারিশ্রমিক দেয়া হয়, তখন তুমি সেটা নেয়াকে অপছন্দ কর? আমি বললাম, হ্যাঁ। ’উমার (রাঃ) বললেন, কী কারণে তুমি এরূপ কর। আমি বললাম, আমার অনেক ঘোড়া ও গোলাম আছে এবং আমি ভাল অবস্থায় আছি। কাজেই আমি চাই যে, আমার পারিশ্রমিক সাধারণ মুসলিমদের জন্য সাদাকা হিসাবে গণ্য হোক। ’উমার (রাঃ) বললেন, এরকম করো না। কেননা, আমিও তোমার মত এরকম ইচ্ছে পোষণ করতাম।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমাকে কিছু দিতেন, তখন আমি বলতাম, আমার চেয়ে যার প্রয়োজন বেশি তাকে দিন। এতে একবার তিনি আমাকে কিছু মাল দিলেন। আমি বললাম, আমা হতে এ মালের প্রয়োজন যার অধিক তাকে দিন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটা নিয়ে মালদার হও এবং বৃদ্ধি করে তাত্থেকে সাদাকা কর। আর এ মাল ধনের যা কিছু তোমার নিকট এভাবে আসে, তুমি যার অধিকারী নও বা প্রার্থী নও তা গ্রহণ করো। তা না হলে তার পিছনে নিজেকে নিয়োজিত করো না।[1] [১৪৭৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬৪ প্রথমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭৭)
নোট: [1] জামহুর ওলামার নিকট বিচারকের বিচারকার্য পরিচালনার পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়েয। যদিও কেউ কেউ মাকরূহ বলেন। যেমন বিশিষ্ট তাবেয়ী মাসরুক। কিন্তু কেউ হারাম বলেননি। ইমাম ত্ববারী (রহ.) বলেন : উমার (রাঃ)’র হাদীসের মধ্যে মুসলিমদের যে কোন কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তি তার ঐ কর্মের পরিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারবে তার স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। যেমন শাসক, বিচারক, কর বা ট্যাক্স আদায়কারী, যাকাত আদায়কারী ইত্যাদি। কারণ রসূল (সাঃ) উমারকে (রাঃ) তার কর্মের মজুরী প্রদান করেছিলেন। (ফাতহুল বারী)
ধনসম্পদের পিছনে না ছুটেও কেউ যদি সম্পদশালী হয় তবে তার প্রতি অনীহা প্রকাশ করা উচিত নয়। কারণ তার থেকে যাকাত লাভ করে বহু গরীব উপকৃত হতে পারে।
ধনসম্পদের পিছনে না ছুটেও কেউ যদি সম্পদশালী হয় তবে তার প্রতি অনীহা প্রকাশ করা উচিত নয়। কারণ তার থেকে যাকাত লাভ করে বহু গরীব উপকৃত হতে পারে।
হাদিস নং: ৭১৬৪
সহিহ (Sahih)
وعن الزهري قال حدثني سالم بن عبد الله ان عبد الله بن عمر قال سمعت عمر بن الخطاب يقول كان النبي صلى الله عليه وسلم يعطيني العطاء فاقول اعطه افقر اليه مني حتى اعطاني مرة مالا فقلت اعطه من هو افقر اليه مني فقال النبي صلى الله عليه وسلم خذه فتموله وتصدق به فما جاءك من هذا المال وانت غير مشرف ولا ساىل فخذه ومالا فلا تتبعه نفسك.
৭১৬৪. যুহরী (রহঃ) ... ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) সূত্রে বলেন, তিনি ’উমার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে যখন কিছু দান করতেন, তখন আমি বলতাম, আমার চেয়ে যার অধিক প্রয়োজন তাকে দিন। এভাবে একবার তিনি আমাকে কিছু মাল দিলেন। আমি বললাম, আমার চেয়ে যার অধিক প্রয়োজন তাকে দিন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটা লও এবং বাড়িয়ে তাত্থেকে সাদাকা কর। আর এ রকম মালের যা কিছু তোমার কাছে এমন অবস্থায় আসে যে তুমি তার আশা কর না এবং প্রার্থীও নও তাহলে তা গ্রহণ কর। তবে যা এভাবে আসবে না নিজেকে তার অনুসারী বানাবে না। [১৪৭৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬৪ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭৭)
হাদিস নং: ৭১৬৫
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا سفيان قال الزهري عن سهل بن سعد قال شهدت المتلاعنين وانا ابن خمس عشرة سنة وفرق بينهما.
وَلاَعَنَ عُمَرُ عِنْدَ مِنْبَرِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَضَى شُرَيْحٌ وَالشَّعْبِيُّ وَيَحْيَى بْنُ يَعْمَرَ فِي الْمَسْجِدِ وَقَضَى مَرْوَانُ عَلَى زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ بِالْيَمِينِ عِنْدَ الْمِنْبَرِ وَكَانَ الْحَسَنُ وَزُرَارَةُ بْنُ أَوْفَى يَقْضِيَانِ فِي الرَّحَبَةِ خَارِجًا مِنْ الْمَسْجِدِ.
’উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মিম্বারের নিকটে লি’আন করিয়েছেন। মারওয়ান যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)-এর উপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মিম্বারের কাছে শপথ করার রায় দিয়েছিলেন। শুরায়হ্, শাবী, ইয়াহইয়া ইবনু ইয়ামামার মসজিদে বিচারকার্য পরিচালনা করেছেন। হাসান ও যুরারাহ্ ইবনু আওফা (রহ.) মসজিদের বাহিরের চত্বরে বিচার করতেন।
৭১৬৫. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। (তিনি বলেন) আমি দু’জন (স্বামী-স্ত্রী) লি’আনকারীকে স্বচক্ষে দেখেছি, তাদের বিবাহের বন্ধন ছিন্ন করে দেয়া হয়েছিল। তখন আমি ছিলাম পনের বছর বয়সের। [৪২৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭৮)
’উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মিম্বারের নিকটে লি’আন করিয়েছেন। মারওয়ান যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)-এর উপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মিম্বারের কাছে শপথ করার রায় দিয়েছিলেন। শুরায়হ্, শাবী, ইয়াহইয়া ইবনু ইয়ামামার মসজিদে বিচারকার্য পরিচালনা করেছেন। হাসান ও যুরারাহ্ ইবনু আওফা (রহ.) মসজিদের বাহিরের চত্বরে বিচার করতেন।
৭১৬৫. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। (তিনি বলেন) আমি দু’জন (স্বামী-স্ত্রী) লি’আনকারীকে স্বচক্ষে দেখেছি, তাদের বিবাহের বন্ধন ছিন্ন করে দেয়া হয়েছিল। তখন আমি ছিলাম পনের বছর বয়সের। [৪২৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭৮)
নোট: লি‘আন[1]
[1] স্বামী বা স্ত্রীর একে অপরের প্রতি যিনার অভিযোগ উত্থাপন করলে শরীয়তসম্মত বিধান মুতাবিক উভয়কে যে কসম করানো হয় তাকে ‘লি’আন’ বলে।
[1] স্বামী বা স্ত্রীর একে অপরের প্রতি যিনার অভিযোগ উত্থাপন করলে শরীয়তসম্মত বিধান মুতাবিক উভয়কে যে কসম করানো হয় তাকে ‘লি’আন’ বলে।
হাদিস নং: ৭১৬৬
সহিহ (Sahih)
يحيى حدثنا عبد الرزاق اخبرنا ابن جريج اخبرني ابن شهاب عن سهل اخي بني ساعدة ان رجلا من الانصار جاء الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال ارايت رجلا وجد مع امراته رجلا ايقتله فتلاعنا في المسجد وانا شاهد.
৭১৬৬. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) বনূ সা’ঈদার ভ্রাতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, এক আনসারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, আপনার কী রায়? যদি কোন লোক তার স্ত্রীর সঙ্গে অন্য কোন পরুষকে দেখতে পায় তাহলে সে কি তাকে হত্যা করবে? পরে সে লোক ও তার স্ত্রীকে মসজিদে লি’আন করানো হয়েছিল, তখন আমি সেখানে হাজির ছিলাম। [৪২৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭৯)
হাদিস নং: ৭১৬৭
সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثني الليث عن عقيل عن ابن شهاب عن ابي سلمة وسعيد بن المسيب عن ابي هريرة قال اتى رجل رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في المسجد فناداه فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم اني زنيت فاعرض عنه فلما شهد على نفسه اربعا قال ابك جنون قال لا قال اذهبوا به فارجموه.
وَقَالَ عُمَرُ أَخْرِجَاهُ مِنْ الْمَسْجِدِ وَيُذْكَرُ عَنْ عَلِيٍّ نَحْوُهُ.
’উমার (রাঃ) বলেন, তোমরা দু’জন একে মাসজিদ হতে বাইরে নিয়ে যাও। ’আলী (রাঃ) থেকেও এরকমই বর্ণিত হয়েছে।
৭১৬৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক লোক রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এল। তখন তিনি ছিলেন মসজিদে। লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ডেকে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যিনা করে ফেলেছি। তিনি তাঁর থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। এভাবে সে যখন নিজের সম্পর্কে চারবার সাক্ষ্য দিল, তখন তিনি বললেনঃ তুমি কি পাগল? লোকটি বলল, না। তখন তিনি বললেনঃ একে নিয়ে যাও এবং রজম কর। [৫২৭১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮০)
’উমার (রাঃ) বলেন, তোমরা দু’জন একে মাসজিদ হতে বাইরে নিয়ে যাও। ’আলী (রাঃ) থেকেও এরকমই বর্ণিত হয়েছে।
৭১৬৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক লোক রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এল। তখন তিনি ছিলেন মসজিদে। লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ডেকে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যিনা করে ফেলেছি। তিনি তাঁর থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। এভাবে সে যখন নিজের সম্পর্কে চারবার সাক্ষ্য দিল, তখন তিনি বললেনঃ তুমি কি পাগল? লোকটি বলল, না। তখন তিনি বললেনঃ একে নিয়ে যাও এবং রজম কর। [৫২৭১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮০)
হাদিস নং: ৭১৬৮
সহিহ (Sahih)
قال ابن شهاب فاخبرني من سمع جابر بن عبد الله قال كنت فيمن رجمه بالمصلى رواه يونس ومعمر وابن جريج عن الزهري عن ابي سلمة عن جابر عن النبي صلى الله عليه وسلم في الرجم.
৭১৬৮. ইবনু শিহাব বলেন, জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে যিনি শুনেছেন, তিনি আমাকে বলেছেন যে, যারা তাকে জানাযা পড়ার জায়গায় নিয়ে রজম করেছিলেন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম। ইউনুস, মা’মার ও ইবনু জুরায়জ (রহ.) জাবির (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজমের ব্যাপারে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। [৫২৭০] (আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮০)
হাদিস নং: ৭১৬৯
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن مسلمة عن مالك عن هشام عن ابيه عن زينب بنت ابي سلمة عن ام سلمة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال انما انا بشر وانكم تختصمون الي ولعل بعضكم ان يكون الحن بحجته من بعض فاقضي على نحو ما اسمع فمن قضيت له من حق اخيه شيىا فلا ياخذه فانما اقطع له قطعة من النار.
৭১৬৯. উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি মানুষ ছাড়া অন্য কিছু নই। তোমরা আমার কাছে ঝগড়া বিবাদ নিয়ে আসো। হয়ত তোমাদের কেউ অন্যজনের অপেক্ষা প্রমাণ পেশের ব্যাপারে অধিক বাকপটু। আর আমি তো যেমন শুনি তার ভিত্তিতেই বিচার করে থাকি। কাজেই আমি যদি কারো জন্য তার অন্য ভাইয়ের হক সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্ত দেই, তাহলে সে যেন তা গ্রহণ না করে। কেননা, আমি তার জন্য যে অংশ নির্ধারণ করলাম তা তো কেবল এক টুকরা আগুন। [২৪৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮১)
হাদিস নং: ৭১৭০
সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا الليث بن سعد عن يحيى عن عمر بن كثير عن ابي محمد مولى ابي قتادة ان ابا قتادة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم حنين من له بينة على قتيل قتله فله سلبه فقمت لالتمس بينة على قتيلي فلم ار احدا يشهد لي فجلست ثم بدا لي فذكرت امره الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رجل من جلساىه سلاح هذا القتيل الذي يذكر عندي قال فارضه منه فقال ابو بكر كلا لا يعطه اصيبغ من قريش ويدع اسدا من اسد الله يقاتل عن الله ورسوله قال فامر رسول الله صلى الله عليه وسلم فاداه الي فاشتريت منه خرافا فكان اول مال تاثلته قال لي عبد الله عن الليث فقام النبي صلى الله عليه وسلم فاداه الي وقال اهل الحجاز الحاكم لا يقضي بعلمه شهد بذلك في ولايته او قبلها ولو اقر خصم عنده لاخر بحق في مجلس القضاء فانه لا يقضي عليه في قول بعضهم حتى يدعو بشاهدين فيحضرهما اقراره وقال بعض اهل العراق ما سمع او راه في مجلس القضاء قضى به وما كان في غيره لم يقض الا بشاهدين وقال اخرون منهم بل يقضي به لانه موتمن وانما يراد من الشهادة معرفة الحق فعلمه اكثر من الشهادة وقال بعضهم يقضي بعلمه في الاموال ولا يقضي في غيرها وقال القاسم لا ينبغي للحاكم ان يمضي قضاء بعلمه دون علم غيره مع ان علمه اكثر من شهادة غيره ولكن فيه تعرضا لتهمة نفسه عند المسلمين وايقاعا لهم في الظنون وقد كره النبي صلى الله عليه وسلم الظن فقال انما هذه صفية
وَقَالَ شُرَيْحٌ الْقَاضِي وَسَأَلَهُ إِنْسَانٌ الشَّهَادَةَ فَقَالَ ائْتِ الأَمِيرَ حَتَّى أَشْهَدَ لَكَ وَقَالَ عِكْرِمَةُ قَالَ عُمَرُ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ لَوْ رَأَيْتَ رَجُلاً عَلَى حَدٍّ زِنًا أَوْ سَرِقَةٍ وَأَنْتَ أَمِيرٌ فَقَالَ شَهَادَتُكَ شَهَادَةُ رَجُلٍ مِنْ الْمُسْلِمِينَ قَالَ صَدَقْتَ قَالَ عُمَرُ لَوْلاَ أَنْ يَقُولَ النَّاسُ زَادَ عُمَرُ فِي كِتَابِ اللهِ لَكَتَبْتُ آيَةَ الرَّجْمِ بِيَدِي وَأَقَرَّ مَاعِزٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالزِّنَا أَرْبَعًا فَأَمَرَ بِرَجْمِهِ وَلَمْ يُذْكَرْ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَشْهَدَ مَنْ حَضَرَهُ وَقَالَ حَمَّادٌ إِذَا أَقَرَّ مَرَّةً عِنْدَ الْحَاكِمِ رُجِمَ وَقَالَ الْحَكَمُ أَرْبَعًا.
বিচারক শুরায়হকে এক লোক তার পক্ষে সাক্ষ্য দেয়ার আবেদন করলে তিনি তাকে বললেন, তুমি শাসকের কাছে যাও, সেখানে আমি তোমার পক্ষে সাক্ষ্য দিব। ইক্রামাহ (রহ.) বলেন, ’উমার (রাঃ) ’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ (রাঃ)-কে বললেন, যদি তুমি শাসক হও, আর তুমি নিজে কোন লোককে হদের কাজ যিনা বা চুরিতে লিপ্ত দেখ (সে অবস্থায় তুমি কী করবে?) জওয়াবে তিনি বললেন (আপনি শাসক হলেও) আপনার সাক্ষ্য সাধারণ একজন মুসলিমের সাক্ষ্যের মতই। তিনি [’উমার (রাঃ)] বললেন, তুমি ঠিকই বলেছ। ’উমার (রাঃ) বলেন, যদি মানুষ এ কথা বলবে বলে আশংকা না হত যে, ’উমার আল্লাহর কিতাবে নিজের পক্ষ থেকে বাড়িয়ে দিয়েছে, তাহলে আমি নিজ হাতে রজমের আয়াত লিখে দিতাম। মায়েয নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট চারবার যিনার কথা স্বীকার করেছিলেন; তখন তাকে রজম করার আদেশ দেন। আর এমন বর্ণনা পাওয়া যায় না যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত লোকেদের নিকট থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। হাম্মাদ (রহ.) বলেন, বিচারকের কাছে কেউ একবার স্বীকার করলে তাকে রজম করা হবে। আর হাকাম (রহ.) বলেন, চারবার স্বীকার করতে হবে।
৭১৭০. আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়নের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শত্রুপক্ষের কোন নিহত লোককে হত্যা করা সম্পর্কে যার সাক্ষী আছে, সেই তার ছেড়ে যাওয়া সম্পদ পাবে। (রাবী বলেন) আমি আমার দ্বারা নিহত ব্যক্তির সাক্ষী খুঁজতে দাঁড়ালাম। কিন্তু আমার সম্পর্কে সাক্ষ্য দিবে এমন কেউ দেখতে পেলাম না, কাজেই আমি বসে গেলাম। তারপর আমার খেয়াল হল। আমি তাই হত্যার ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জানালাম। তখন তাঁর নিকট বসা লোকদের মধ্যে একজন বলল, যে নিহত লোকটির আলোচনা চলছে তার হাতিয়ার আমার কাছে আছে। অতএব আপনি তাকে আমার পক্ষ হয়ে খুশি করে দিন। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, কক্ষনো না। আপনি এই পাংশুবর্ণ কুরাইশকে কক্ষনো দিবেন না। আল্লাহ্ ও রাসূলের হয়ে যে আল্লাহর সিংহ যুদ্ধ করছে, তাকে আপনি বঞ্চিত করবেন। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষয়টি বুঝতে পারলেন এবং তা আমাকে দিলেন। আমি তা দিয়ে একটি বাগান কিনলাম। এটাই ছিল আমার প্রথম সম্পদ, যা আমি মূলধন হিসাবে সংরক্ষণ করেছিলাম।
’আবদুল্লাহ্ (রহ.) লায়সের সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করতে فَعلم رسول الله এর স্থলে فَقَامَ النَّبِيُّ (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে গেলেন) বর্ণনা করেছেন। হিজাযের আলিমরা বলেন, শাসক তার জ্ঞান অনুসারে বিচার করবে না, তা পদে আসীনকালে দেখে থাকুক, কিংবা তার আগে। তাদের কারো কারো মতে যদি বাদী বিবাদীর কোন এক পক্ষ অপর পক্ষের হকের ব্যাপারে বিচার চলাকালে তার সামনে স্বীকার করে তা হলেও তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেয়া যাবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত দু’জন সাক্ষী ডেকে সে ব্যক্তির স্বীকারোক্তির সময় তাদের হাজির না রাখবেন। কোন কোন ইরাকী আলিম বলেন, বিচার চলার সময় যা কিছু শুনবে বা দেখবে তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিবে। তবে অন্য জায়গায় যা কিছু শুনবে বা দেখবে দু’জন সাক্ষী ব্যতীত ফায়সালা দিতে পারবে না। তাদের অন্যরা বলেন বরং তার ভিত্তিতে ফায়সালা দিতে পারবে।
কেননা সে তো বিশ্বস্ত। আর সাক্ষ্য গ্রহণের উদ্দেশ্য হল প্রকৃত সত্যকে জানা। সুতরাং তার জানা (সাক্ষীর) সাক্ষ্যের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য। তাদের অন্য কেউ বলেন যে, মাল সংক্রান্ত বিষয়ে বিচারক তার নিজের জানার ভিত্তিতে ফায়সালা দিবে। তবে অন্য ব্যাপারে নয়। কাসেম (রহ.) বলেন যে, অপরের সাক্ষ্য গ্রহণ ব্যতীত শাসকের নিজের জ্ঞান মুতাবেক ফায়সালা দেয়া উচিত নয়, যদিও তার জানা অন্যের সাক্ষ্যের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য তবুও। এতে মুসলিম জনসাধারণের কাছে নিজেকে অপবাদের মুখে পড়তে হয় এবং তাদেরকে সন্দেহে ফেলা হয়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্দেহ করাকে পছন্দ করতেন না। এজন্যেই তিনি পথচারীকে ডেকে বলে দিয়েছেনঃ এ হচ্ছে সফীয়্যাহ (আমার স্ত্রী)। [২১০০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮২)
বিচারক শুরায়হকে এক লোক তার পক্ষে সাক্ষ্য দেয়ার আবেদন করলে তিনি তাকে বললেন, তুমি শাসকের কাছে যাও, সেখানে আমি তোমার পক্ষে সাক্ষ্য দিব। ইক্রামাহ (রহ.) বলেন, ’উমার (রাঃ) ’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ (রাঃ)-কে বললেন, যদি তুমি শাসক হও, আর তুমি নিজে কোন লোককে হদের কাজ যিনা বা চুরিতে লিপ্ত দেখ (সে অবস্থায় তুমি কী করবে?) জওয়াবে তিনি বললেন (আপনি শাসক হলেও) আপনার সাক্ষ্য সাধারণ একজন মুসলিমের সাক্ষ্যের মতই। তিনি [’উমার (রাঃ)] বললেন, তুমি ঠিকই বলেছ। ’উমার (রাঃ) বলেন, যদি মানুষ এ কথা বলবে বলে আশংকা না হত যে, ’উমার আল্লাহর কিতাবে নিজের পক্ষ থেকে বাড়িয়ে দিয়েছে, তাহলে আমি নিজ হাতে রজমের আয়াত লিখে দিতাম। মায়েয নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট চারবার যিনার কথা স্বীকার করেছিলেন; তখন তাকে রজম করার আদেশ দেন। আর এমন বর্ণনা পাওয়া যায় না যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত লোকেদের নিকট থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। হাম্মাদ (রহ.) বলেন, বিচারকের কাছে কেউ একবার স্বীকার করলে তাকে রজম করা হবে। আর হাকাম (রহ.) বলেন, চারবার স্বীকার করতে হবে।
৭১৭০. আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়নের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শত্রুপক্ষের কোন নিহত লোককে হত্যা করা সম্পর্কে যার সাক্ষী আছে, সেই তার ছেড়ে যাওয়া সম্পদ পাবে। (রাবী বলেন) আমি আমার দ্বারা নিহত ব্যক্তির সাক্ষী খুঁজতে দাঁড়ালাম। কিন্তু আমার সম্পর্কে সাক্ষ্য দিবে এমন কেউ দেখতে পেলাম না, কাজেই আমি বসে গেলাম। তারপর আমার খেয়াল হল। আমি তাই হত্যার ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জানালাম। তখন তাঁর নিকট বসা লোকদের মধ্যে একজন বলল, যে নিহত লোকটির আলোচনা চলছে তার হাতিয়ার আমার কাছে আছে। অতএব আপনি তাকে আমার পক্ষ হয়ে খুশি করে দিন। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, কক্ষনো না। আপনি এই পাংশুবর্ণ কুরাইশকে কক্ষনো দিবেন না। আল্লাহ্ ও রাসূলের হয়ে যে আল্লাহর সিংহ যুদ্ধ করছে, তাকে আপনি বঞ্চিত করবেন। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষয়টি বুঝতে পারলেন এবং তা আমাকে দিলেন। আমি তা দিয়ে একটি বাগান কিনলাম। এটাই ছিল আমার প্রথম সম্পদ, যা আমি মূলধন হিসাবে সংরক্ষণ করেছিলাম।
’আবদুল্লাহ্ (রহ.) লায়সের সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করতে فَعلم رسول الله এর স্থলে فَقَامَ النَّبِيُّ (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে গেলেন) বর্ণনা করেছেন। হিজাযের আলিমরা বলেন, শাসক তার জ্ঞান অনুসারে বিচার করবে না, তা পদে আসীনকালে দেখে থাকুক, কিংবা তার আগে। তাদের কারো কারো মতে যদি বাদী বিবাদীর কোন এক পক্ষ অপর পক্ষের হকের ব্যাপারে বিচার চলাকালে তার সামনে স্বীকার করে তা হলেও তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেয়া যাবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত দু’জন সাক্ষী ডেকে সে ব্যক্তির স্বীকারোক্তির সময় তাদের হাজির না রাখবেন। কোন কোন ইরাকী আলিম বলেন, বিচার চলার সময় যা কিছু শুনবে বা দেখবে তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিবে। তবে অন্য জায়গায় যা কিছু শুনবে বা দেখবে দু’জন সাক্ষী ব্যতীত ফায়সালা দিতে পারবে না। তাদের অন্যরা বলেন বরং তার ভিত্তিতে ফায়সালা দিতে পারবে।
কেননা সে তো বিশ্বস্ত। আর সাক্ষ্য গ্রহণের উদ্দেশ্য হল প্রকৃত সত্যকে জানা। সুতরাং তার জানা (সাক্ষীর) সাক্ষ্যের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য। তাদের অন্য কেউ বলেন যে, মাল সংক্রান্ত বিষয়ে বিচারক তার নিজের জানার ভিত্তিতে ফায়সালা দিবে। তবে অন্য ব্যাপারে নয়। কাসেম (রহ.) বলেন যে, অপরের সাক্ষ্য গ্রহণ ব্যতীত শাসকের নিজের জ্ঞান মুতাবেক ফায়সালা দেয়া উচিত নয়, যদিও তার জানা অন্যের সাক্ষ্যের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য তবুও। এতে মুসলিম জনসাধারণের কাছে নিজেকে অপবাদের মুখে পড়তে হয় এবং তাদেরকে সন্দেহে ফেলা হয়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্দেহ করাকে পছন্দ করতেন না। এজন্যেই তিনি পথচারীকে ডেকে বলে দিয়েছেনঃ এ হচ্ছে সফীয়্যাহ (আমার স্ত্রী)। [২১০০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮২)
হাদিস নং: ৭১৭১
সহিহ (Sahih)
عبد العزيز بن عبد الله الاويسي حدثنا ابراهيم بن سعد عن ابن شهاب عن علي بن حسين ان النبي صلى الله عليه وسلم اتته صفية بنت حيي فلما رجعت انطلق معها فمر به رجلان من الانصار فدعاهما فقال انما هي صفية قالا سبحان الله قال ان الشيطان يجري من ابن ادم مجرى الدم رواه شعيب وابن مسافر وابن ابي عتيق واسحاق بن يحيى عن الزهري عن علي يعني ابن حسين عن صفية عن النبي صلى الله عليه وسلم.
৭১৭১. ’আলী ইবনু হুসাইন (রহ.) হতে বর্ণিত। উম্মুল মু’মিনীন সফীয়্যাহ বিনত হুয়াই (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসেছিলেন। যখন তিনি ফিরে যাচ্ছিলেন তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে সাথে হাঁটছিলেন। এমন সময় দু’জন আনসারী তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রম করল। তিনি তাঁদেরকে ডাকলেন এবং বললেনঃ এ হচ্ছে সফীয়্যাহ। তাঁরা বলল, সুবহানাল্লাহ্ (আমরা আপনার ব্যাপারে সন্দেহ করব নাকি?) তিনি বললেনঃ শয়তান বানী আদমের শিরায় শিরায় বিচরণ করে। শু’আয়ব ..... সফীয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।[1] [৭১৭১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮৩)
নোট: [1] মুমিনদের উচিত শয়তানকে কোন প্রকার সুযোগ না দেওয়া যাতে সে মুমিনের চরিত্র সম্পর্কে কোন প্রকার অপবাদ ছড়াতে না পারে।
হাদিস নং: ৭১৭২
সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا العقدي حدثنا شعبة عن سعيد بن ابي بردة قال سمعت ابي قال بعث النبي صلى الله عليه وسلم ابي ومعاذ بن جبل الى اليمن فقال يسرا ولا تعسرا وبشرا ولا تنفرا وتطاوعا فقال له ابو موسى انه يصنع بارضنا البتع فقال كل مسكر حرام وقال النضر وابو داود ويزيد بن هارون ووكيع عن شعبة عن سعيد بن ابي بردة عن ابيه عن جده عن النبي صلى الله عليه وسلم
৭১৭২. আবূ বুরদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পিতা ও মু’আয ইবনু জাবালকে ইয়ামানে প্রেরণ করলেন। তখন তিনি বললেন, তোমরা সহজ করো, কঠোর করো না [1], তাদের সুসংবাদ দাও, ভয় দেখায়ও না এবং পরস্পর পরস্পরকে মেনে চলো। তখন আবূ মূসা (রাঃ) তাঁকে বললেন, আমাদের দেশে ’বিত্’ নামীয় এক ধরণের পানীয় প্রস্তুত করা হয়। জওয়াবে তিনি বললেনঃ প্রত্যেক নেশা সৃষ্টিকারী বস্তুই হারাম।
নাযর, আবূ দাঊদ, ইয়াযিদ ইবনু হারুন, ওকী (রহ.) ..... সা’ঈদ-এর দাদা আবূ মূসা (রাঃ) সূত্রে হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। [২২৬১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮৪)
নাযর, আবূ দাঊদ, ইয়াযিদ ইবনু হারুন, ওকী (রহ.) ..... সা’ঈদ-এর দাদা আবূ মূসা (রাঃ) সূত্রে হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। [২২৬১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮৪)
নোট: [1] যেমন কাউকে কোন বড় গুনাহে লিপ্ত দেখে বলা হল ‘‘আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না, সে জাহান্নামী হয়ে গেছে।’’ এরকম বলা ঠিক নয়। বরং আশার বাণী শোনাতে হবে, তাওবা করে কেউ সৎ পথে ফিরলে আল্লাহ পূর্বের তামাম গোনাহ মাফ করে দিবেন- এমন কথা জানিয়ে দিতে হবে।
হাদিস নং: ৭১৭৩
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى بن سعيد عن سفيان حدثني منصور عن ابي واىل عن ابي موسى عن النبي صلى الله عليه وسلم قال فكوا العاني واجيبوا الداعي.
وَقَدْ أَجَابَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ عَبْدًا لِلْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ
’উসমান (রাঃ) মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাঃ)-এর ক্রীতদাসের দাওয়াত গ্রহণ করেছিলেন।
৭১৭৩. আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বন্দীদেরকে মুক্ত কর, আর দাওয়াতদাতার দাওয়াত গ্রহণ কর। [৩০৪৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮৫)
’উসমান (রাঃ) মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাঃ)-এর ক্রীতদাসের দাওয়াত গ্রহণ করেছিলেন।
৭১৭৩. আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বন্দীদেরকে মুক্ত কর, আর দাওয়াতদাতার দাওয়াত গ্রহণ কর। [৩০৪৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮৫)
হাদিস নং: ৭১৭৪
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا سفيان عن الزهري انه سمع عروة اخبرنا ابو حميد الساعدي قال استعمل النبي صلى الله عليه وسلم رجلا من بني اسد يقال له ابن الاتبية على صدقة فلما قدم قال هذا لكم وهذا اهدي لي فقام النبي صلى الله عليه وسلم على المنبر قال سفيان ايضا فصعد المنبر فحمد الله واثنى عليه ثم قال ما بال العامل نبعثه فياتي يقول هذا لك وهذا لي فهلا جلس في بيت ابيه وامه فينظر ايهدى له ام لا والذي نفسي بيده لا ياتي بشيء الا جاء به يوم القيامة يحمله على رقبته ان كان بعيرا له رغاء او بقرة لها خوار او شاة تيعر ثم رفع يديه حتى راينا عفرتي ابطيه الا هل بلغت ثلاثا قال سفيان قصه علينا الزهري وزاد هشام عن ابيه عن ابي حميد قال سمع اذناي وابصرته عيني وسلوا زيد بن ثابت فانه سمعه معي ولم يقل الزهري سمع اذني خوار صوت والجوار من تجارون كصوت البقرة.
৭১৭৪. আবূ হুমায়দ আস্-সা’ঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানী আসাদ গোত্রের ইবনু লুতাবিয়্যা নামের এক লোককে যাকাত আদায়ের জন্য কর্মচারী বানালেন। সে যখন ফিরে এল, তখন বলল, এগুলো আপনাদের আর এগুলো আমাকে হাদিয়া দেয়া হয়েছে। এ কথা শোনার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরের উপর দাঁড়ালেন। সুফ্ইয়ান কখনো বলেন, তিনি মিম্বরের উপর উঠলেন এবং আল্লাহর হামদ ও সানা করলেন। এরপর বললেনঃ কর্মকর্তার কী হল! আমি তাকে পাঠাই, তারপর সে ফিরে এসে বলল, এগুলো আপনার আর এগুলো আমার। সে তার বাপের বাড়ি কিংবা মায়ের বাড়িতে বসে থেকে দেখত যে, তাকে হাদিয়া দেয়া হয় কিনা? যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম! যা কিছুই সে গ্রহণ করবে, কিয়ামতের দিন তা কাঁধে বয়ে নিয়ে হাজির হবে। যদি উট হয়, তাহলে তা চিৎকার করবে, যদি গাভী হয় তবে তা হাম্বা হাম্বা করবে, অথবা যদি বক্রী হয় তাহলে তা ভ্যাঁ ভ্যাঁ করবে। তারপর তিনি উভয় হাত উঠালেন। এমনকি আমরা তাঁর দু’ বগলের শুভ্র ঔজ্জ্বল্য দেখতে পেলাম। তারপর বললেন, শোন! আমি কি আল্লাহর হুকুম পৌঁছে দিয়েছি? এ কথাটি তিনি তিনবার বললেন।
সুফ্ইয়ান বলেন, আমাদের কাছে যুহরী এ রেওয়ায়াত বর্ণনা করেছেন। তবে হিশাম তার পিতার সূত্রে আবূ হুমায়দ থেকে বর্ণনা করতে আর একটু বৃদ্ধি করে বলেছেন যে, তিনি (আবূ হুমায়দ) বলেছেন, আমার দু’ কান তা শুনেছে এবং দু’চোখ তা দেখেছে। যায়দ ইবনু সাবিতকে জিজ্ঞেস কর, সেও আমার সঙ্গে শুনেছিল। আমি বলল ’’দু’ কান শুনেছে এবং দু’চোখ তাকে দেখেছে’’ যুহরী এ কথা বলেননি। [বুখারী (রহ.) বলেন] خُوَارٌ বলা হয় শব্দকে। আর خُؤََارٌ থেকে يحرءون গরুর শব্দের মত চেঁচানো।[1] [৯২৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮৬)
সুফ্ইয়ান বলেন, আমাদের কাছে যুহরী এ রেওয়ায়াত বর্ণনা করেছেন। তবে হিশাম তার পিতার সূত্রে আবূ হুমায়দ থেকে বর্ণনা করতে আর একটু বৃদ্ধি করে বলেছেন যে, তিনি (আবূ হুমায়দ) বলেছেন, আমার দু’ কান তা শুনেছে এবং দু’চোখ তা দেখেছে। যায়দ ইবনু সাবিতকে জিজ্ঞেস কর, সেও আমার সঙ্গে শুনেছিল। আমি বলল ’’দু’ কান শুনেছে এবং দু’চোখ তাকে দেখেছে’’ যুহরী এ কথা বলেননি। [বুখারী (রহ.) বলেন] خُوَارٌ বলা হয় শব্দকে। আর خُؤََارٌ থেকে يحرءون গরুর শব্দের মত চেঁচানো।[1] [৯২৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮৬)
নোট: [1] হাদীসটি হতে জানা যায় :
১. গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইমামের বক্তব্য প্রদান।
২. জুমু‘আর খুৎবার ন্যায় বক্তব্যে أما بعد শব্দ ব্যবহার করা।
৩. আমানত গ্রহীতার হিসাব রক্ষণের বৈধতা।
৪. যে কর্মচারী যে কাজের জন্য নিয়োজিত সেই কাজের বিনিময়ে উপঢৌকন গ্রহণের নিষিদ্ধতা। হ্যাঁ, তবে যদি কর্তৃপক্ষের অনুমতি থাকে তাহলে দোষণীয় নয়।
৫. কৃর্তপক্ষের বিনা অনুমতিতে গ্রহণকৃত উপঢৌকন সরকারী কোষাগারে জমা করতে হবে। কোন কর্মচারীর জন্য নির্দিষ্ট হবে না।
৬. ইবনুল মুনীর বলেন : هَلاَّ جَلَسَ فِي بَيْتِ أَبِيهِ وَأُمِّهِ বাক্য থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, যাদের সাথে ইতঃপূর্বে উপঢৌকন বিনিময় হয়েছে তাদের কাছ থেকে উপঢৌকন গ্রহণ জায়েয।
৭. ভুলকারীকে তিরস্কার করার বৈধতা।
৮. শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি উপস্থিত থাকা অবস্থায় তার চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের ব্যক্তিকে আমীর পদে, ইমামতিতে ও আমানতের কাজে কর্মচারী নিয়োগ দানের বৈধতা। (ফাতহুল বারী)
১. গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইমামের বক্তব্য প্রদান।
২. জুমু‘আর খুৎবার ন্যায় বক্তব্যে أما بعد শব্দ ব্যবহার করা।
৩. আমানত গ্রহীতার হিসাব রক্ষণের বৈধতা।
৪. যে কর্মচারী যে কাজের জন্য নিয়োজিত সেই কাজের বিনিময়ে উপঢৌকন গ্রহণের নিষিদ্ধতা। হ্যাঁ, তবে যদি কর্তৃপক্ষের অনুমতি থাকে তাহলে দোষণীয় নয়।
৫. কৃর্তপক্ষের বিনা অনুমতিতে গ্রহণকৃত উপঢৌকন সরকারী কোষাগারে জমা করতে হবে। কোন কর্মচারীর জন্য নির্দিষ্ট হবে না।
৬. ইবনুল মুনীর বলেন : هَلاَّ جَلَسَ فِي بَيْتِ أَبِيهِ وَأُمِّهِ বাক্য থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, যাদের সাথে ইতঃপূর্বে উপঢৌকন বিনিময় হয়েছে তাদের কাছ থেকে উপঢৌকন গ্রহণ জায়েয।
৭. ভুলকারীকে তিরস্কার করার বৈধতা।
৮. শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি উপস্থিত থাকা অবস্থায় তার চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের ব্যক্তিকে আমীর পদে, ইমামতিতে ও আমানতের কাজে কর্মচারী নিয়োগ দানের বৈধতা। (ফাতহুল বারী)
হাদিস নং: ৭১৭৫
সহিহ (Sahih)
عثمان بن صالح حدثنا عبد الله بن وهب اخبرني ابن جريج ان نافعا اخبره ان ابن عمر اخبره قال كان سالم مولى ابي حذيفة يوم المهاجرين الاولين واصحاب النبي صلى الله عليه وسلم في مسجد قباء فيهم ابو بكر وعمر وابو سلمة وزيد وعامر بن ربيعة.
৭১৭৫. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুযাইফাহর আযাদকৃত দাস সালিম (রাঃ) মসজিদে কুবাতে প্রথম পর্যায়ের মুহাজিরীন ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের ইমামত করতেন। যাদের মাঝে ছিলেন আবূ বকর, ’উমার, আবূ সালামাহ, যায়দ ও ’আমির ইবনু রাবীআ (রাঃ)। [৬৯২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮৭)
হাদিস নং: ৭১৭৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل بن ابي اويس حدثني اسماعيل بن ابراهيم عن عمه موسى بن عقبة قال ابن شهاب حدثني عروة بن الزبير ان مروان بن الحكم والمسور بن مخرمة اخبراه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال حين اذن لهم المسلمون في عتق سبي هوازن اني لا ادري من اذن منكم ممن لم ياذن فارجعوا حتى يرفع الينا عرفاوكم امركم فرجع الناس فكلمهم عرفاوهم فرجعوا الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخبروه ان الناس قد طيبوا واذنوا.
৭১৭৬-৭১৭৭. ’উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, মারওয়ান ইবনু হাকাম ও মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, হাওয়াযেনের বন্দীদেরকে মুক্ত করার ব্যাপারে মুসলিমরা যখন এসে সর্বসম্মতভাবে অনুমতি দিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কে অনুমতি দিয়েছ, আর কে দাওনি, তা আমি বুঝতে পারিনি। কাজেই তোমরা ফিরে যাও, তোমাদের প্রতিনিধিরা তোমাদের মতামত জেনে আমার নিকট আসবে। লোকেরা ফিরে গেল এবং তাদের প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে এ সম্পর্কে আলোচনা করল। পরে তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফিরে এসে তাঁকে সংবাদ দিল যে, লোকেরা সন্তোষ সহকারে অনুমতি দিয়েছে।[1] [২৩০৭, ২৩০৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮৮)
নোট: [1] প্রত্যেক মুসলিমকে স্বীয় মতামত ব্যক্ত করার সুযোগ দিতে হবে। মতভেদ, দলাদলি ও বিবাদ এড়ানোর এটা একটা বড় পন্থা।