হাদিস নং: ৭৩৪৮
সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا الليث عن سعيد عن ابيه عن ابي هريرة قال بينا نحن في المسجد خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فقال انطلقوا الى يهود فخرجنا معه حتى جىنا بيت المدراس فقام النبي صلى الله عليه وسلم فناداهم فقال يا معشر يهود اسلموا تسلموا فقالوا قد بلغت يا ابا القاسم قال فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم ذلك اريد اسلموا تسلموا فقالوا قد بلغت يا ابا القاسم فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم ذلك اريد ثم قالها الثالثة فقال اعلموا انما الارض لله ورسوله واني اريد ان اجليكم من هذه الارض فمن وجد منكم بماله شيىا فليبعه والا فاعلموا انما الارض لله ورسوله
৭৩৪৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা মসজিদে নাবাবীতে ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাসজিদ থেকে বের হয়ে আমাদেরকে বললেনঃ তোমরা চলো ইয়াহূদীদের সেখানে যাই। আমরা তাঁর সঙ্গে বেরোলাম। শেষে আমরা বায়তুল মিদরাসে (তাদের শিক্ষালয়ে) পৌঁছলাম। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে দাঁড়িয়ে তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ হে ইয়াহূদী সম্প্রদায়! তোমরা ইসলাম কবূল কর, এতে তোমরা নিরাপত্তা লাভ করবে। ইয়াহূদীরা বলল, হে আবূল কাসিম! আপনার পৌঁছানোর দায়িত্ব আপনি পালন করেছেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ আমার ইচ্ছা তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর এবং শান্তিতে থাক।
তারাও আবার বলল, হে আবুল কাসিম! আপনার পৌঁছানোর দায়িত্ব আপনি পালন করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি এরকমই ইচ্ছে পোষণ করি। তৃতীয়বারেও তিনি তাই বললেন। অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জেনে রেখো, যমীন একমাত্র আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের। আমি তোমাদেরকে এই এলাকা থেকে নির্বাসিত করতে চাই। কাজেই তোমাদের যাদের মালপত্র আছে, তা যেন সে বিক্রি করে দেয়। তা নাহলে জেনে রেখো যমীন আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের।[1] [৩১৬৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪৭)
তারাও আবার বলল, হে আবুল কাসিম! আপনার পৌঁছানোর দায়িত্ব আপনি পালন করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি এরকমই ইচ্ছে পোষণ করি। তৃতীয়বারেও তিনি তাই বললেন। অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জেনে রেখো, যমীন একমাত্র আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের। আমি তোমাদেরকে এই এলাকা থেকে নির্বাসিত করতে চাই। কাজেই তোমাদের যাদের মালপত্র আছে, তা যেন সে বিক্রি করে দেয়। তা নাহলে জেনে রেখো যমীন আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের।[1] [৩১৬৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪৭)
নোট: [1] ইহুদীদের সঙ্গে নাবী (সাঃ) এর শান্তি চুক্তি থাকলেও তারা চুক্তি লংঘন করে মুসলিমদের বিরোধিতায় লিপ্ত হয়ে পড়েছিল। ইহুদীদের কায়নুকা বাজারে পর্দানশীন এক আরব মহিলা দুধ বিক্রি করতে আসলে ইহুদীরা তাকে চরমভাবে অপমানিত করে। ইহুদীদের নানামুখী ষড়যন্ত্র ও নির্লজ্জ শত্রুতার প্রেক্ষাপটে নাবী (সাঃ) তাদেরকে বললেন- হে ইয়াহুদ সমাজ! তোমরা আনুগত্য স্বীকার কর, না হলে কুরাইশদের মত তোমাদেরকেও বিপন্ন হতে হবে। তারা তা না করায় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাদের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রস্ত্ততি নেন। তারা দূর্গে আশ্রয় নেয়। পনের দিন অবরুদ্ধ থাকার পর তারা আত্মা সমর্পণে বাধ্য হয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাদের নির্বাসিত করেন।
হাদিস নং: ৭৩৪৯
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن منصور حدثنا ابو اسامة حدثنا الاعمش حدثنا ابو صالح عن ابي سعيد الخدري قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يجاء بنوح يوم القيامة فيقال له هل بلغت فيقول نعم يا رب فتسال امته هل بلغكم فيقولون ما جاءنا من نذير فيقول من شهودك فيقول محمد وامته فيجاء بكم فتشهدون ثم قرا رسول الله صلى الله عليه وسلم (وكذلك جعلناكم امة وسطا) قال عدلا (لتكونوا شهداء على الناس ويكون الرسول عليكم شهيدا) وعن جعفر بن عون حدثنا الاعمش عن ابي صالح عن ابي سعيد الخدري عن النبي صلى الله عليه وسلم بهذا
وَمَا أَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِلُزُومِ الْجَمَاعَةِ وَهُمْ أَهْلُ الْعِلْمِ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামা’আতকে আঁকড়ে ধরে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আর জামা’আত আলিমগণকেই বলা হয়েছে।
৭৩৪৯. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন নূহ্ (আঃ)-কে হাযির করে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি কি (দ্বীনের দা’ওয়াত) পৌঁছে দিয়েছ? তখন তিনি বলবেন, হ্যাঁ। হে আমার রব। এরপর তাঁর উম্মাতকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমাদের কাছে নূহ্ (দা’ওয়াত) পৌঁছিয়েছে কি? তারা সকলে বলে উঠবে, আমাদের কাছে কোন ভয় প্রদর্শনকারী আসেনি। তখন নূহ্ (আঃ)-কে বলা হবে, তোমার কোন সাক্ষী আছে কি? তিনি বলবেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর উম্মাতরাই (আমার সাক্ষী)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদেরকে তখন নিয়ে আসা হবে এবং তোমরা (তাঁর পক্ষে) সাক্ষ্য দেবে। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বাণী পাঠ করলেনঃ এভাবে আল্লাহ্ তোমাদেরকে মধ্যমপন্থী উম্মাত বানিয়েছেন। (وسط অর্থ ভারসাম্যপূর্ণ) তাহলে তোমরা মানব জাতির জন্য সাক্ষী হতে পারবে আর রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী হবেন- (সূরাহ আল-বাক্বারাহ ২/১৪৩)। জা’ফর ইবনু ’আওন (রহ.)....আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে এরকমই বর্ণনা করেছেন। [৩৩৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪৮)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামা’আতকে আঁকড়ে ধরে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আর জামা’আত আলিমগণকেই বলা হয়েছে।
৭৩৪৯. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন নূহ্ (আঃ)-কে হাযির করে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি কি (দ্বীনের দা’ওয়াত) পৌঁছে দিয়েছ? তখন তিনি বলবেন, হ্যাঁ। হে আমার রব। এরপর তাঁর উম্মাতকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমাদের কাছে নূহ্ (দা’ওয়াত) পৌঁছিয়েছে কি? তারা সকলে বলে উঠবে, আমাদের কাছে কোন ভয় প্রদর্শনকারী আসেনি। তখন নূহ্ (আঃ)-কে বলা হবে, তোমার কোন সাক্ষী আছে কি? তিনি বলবেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর উম্মাতরাই (আমার সাক্ষী)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদেরকে তখন নিয়ে আসা হবে এবং তোমরা (তাঁর পক্ষে) সাক্ষ্য দেবে। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বাণী পাঠ করলেনঃ এভাবে আল্লাহ্ তোমাদেরকে মধ্যমপন্থী উম্মাত বানিয়েছেন। (وسط অর্থ ভারসাম্যপূর্ণ) তাহলে তোমরা মানব জাতির জন্য সাক্ষী হতে পারবে আর রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী হবেন- (সূরাহ আল-বাক্বারাহ ২/১৪৩)। জা’ফর ইবনু ’আওন (রহ.)....আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে এরকমই বর্ণনা করেছেন। [৩৩৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪৮)
হাদিস নং: ৭৩৫০
সহিহ (Sahih)
اسماعيل عن اخيه عن سليمان بن بلال عن عبد المجيد بن سهيل بن عبد الرحمن بن عوف انه سمع سعيد بن المسيب يحدث ان ابا سعيد الخدري وابا هريرة حدثاه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث اخا بني عدي الانصاري واستعمله على خيبر فقدم بتمر جنيب فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم اكل تمر خيبر هكذا قال لا والله يا رسول الله انا لنشتري الصاع بالصاعين من الجمع فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تفعلوا ولكن مثلا بمثل او بيعوا هذا واشتروا بثمنه من هذا وكذلك الميزان
৭৩৫০-৭৩৫১. আবূ সা’ঈদ খুদরী ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানী আদী আনসারী গোত্রের এক লোককে খায়বারের শাসনকর্তা নিযুক্ত করে পাঠালেন। এরপর সে ফিরে আসল উন্নতমানের খেজুর নিয়ে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, খায়বারের সব খেজুরই কি এ রকম? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম! সব খেজুরই এমন নয়। আমরা দু’ সা’ মন্দ খেজুরের বিনিময়ে এরূপ এক সা’ ভাল খেজুর খরিদ করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এমন করো না। বরং সমানে সমানে কেনা বেচা করো। কিংবা এগুলো বিক্রি করে এর মূল্য দিয়ে সেগুলো খরিদ করো। ওজনের সব জিনিসের হুকুম এটাই। [২২০১, ২২০২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪৯)
হাদিস নং: ৭৩৫১
সহিহ (Sahih)
اسماعيل عن اخيه عن سليمان بن بلال عن عبد المجيد بن سهيل بن عبد الرحمن بن عوف انه سمع سعيد بن المسيب يحدث ان ابا سعيد الخدري وابا هريرة حدثاه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث اخا بني عدي الانصاري واستعمله على خيبر فقدم بتمر جنيب فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم اكل تمر خيبر هكذا قال لا والله يا رسول الله انا لنشتري الصاع بالصاعين من الجمع فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تفعلوا ولكن مثلا بمثل او بيعوا هذا واشتروا بثمنه من هذا وكذلك الميزان
৭৩৫০-৭৩৫১. আবূ সা’ঈদ খুদরী ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানী আদী আনসারী গোত্রের এক লোককে খায়বারের শাসনকর্তা নিযুক্ত করে পাঠালেন। এরপর সে ফিরে আসল উন্নতমানের খেজুর নিয়ে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, খায়বারের সব খেজুরই কি এ রকম? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম! সব খেজুরই এমন নয়। আমরা দু’ সা’ মন্দ খেজুরের বিনিময়ে এরূপ এক সা’ ভাল খেজুর খরিদ করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এমন করো না। বরং সমানে সমানে কেনা বেচা করো। কিংবা এগুলো বিক্রি করে এর মূল্য দিয়ে সেগুলো খরিদ করো। ওজনের সব জিনিসের হুকুম এটাই। [২২০১, ২২০২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪৯)
হাদিস নং: ৭৩৫২
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يزيد المقرى المكي حدثنا حيوة بن شريح حدثني يزيد بن عبد الله بن الهاد عن محمد بن ابراهيم بن الحارث عن بسر بن سعيد عن ابي قيس مولى عمرو بن العاص عن عمرو بن العاص انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول اذا حكم الحاكم فاجتهد ثم اصاب فله اجران واذا حكم فاجتهد ثم اخطا فله اجر قال فحدثت بهذا الحديث ابا بكر بن عمرو بن حزم فقال هكذا حدثني ابو سلمة بن عبد الرحمن عن ابي هريرة وقال عبد العزيز بن المطلب عن عبد الله بن ابي بكر عن ابي سلمة عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله
৭৩৫২. ’আমর ইবনু ’আস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছেন, কোন বিচারক ইজ্তিহাদে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছলে তার জন্য আছে দু’টি পুরস্কার। আর বিচারক ইজ্তিহাদে ভুল করলে তার জন্যও রয়েছে একটি পুরস্কার।[1]
রাবী বলেন, আমি হাদীসটি আবূ বকর ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ’আমর ইবনু হাযিম (রহ.)-এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি বললেন, আবূ সালামাহ ইবনু ’আবদুর রহমান আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে এরকম বর্ণনা করেছেন।
এবং ’আবদুল ’আযীয ইবনু ’আবদুল মুত্তালিব.....আবূ সালামাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরকমই বর্ণনা করেছেন। [মুসলিম ৩০/৬, হাঃ ১৭১৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৫০)
রাবী বলেন, আমি হাদীসটি আবূ বকর ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ’আমর ইবনু হাযিম (রহ.)-এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি বললেন, আবূ সালামাহ ইবনু ’আবদুর রহমান আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে এরকম বর্ণনা করেছেন।
এবং ’আবদুল ’আযীয ইবনু ’আবদুল মুত্তালিব.....আবূ সালামাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরকমই বর্ণনা করেছেন। [মুসলিম ৩০/৬, হাঃ ১৭১৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৫০)
নোট: [1] ইমাম ইবনুল মুনযির বলেন : বিচারক যদি ইজতেহাদ করায় পন্ডিত হয়ে থাকেন, এমতাবস্থায় ইজতেহাদ করতে গিয়ে কোন ভুল করে বসেন তবুও তাকে নেকী দেয়া হবে। পক্ষান্তরে যদি তিনি পন্ডিত না হোন, এমতাবস্থায় ইজতেহাদ করতে গিয়ে কোন ভুল করে বসেন তবে এক্ষেত্রে তাকে নেকী দেয়া হবে না। এ ব্যাপারে প্রমাণ হল সুনানে বর্ণিত বুরাইদা (রাঃ)’র হাদীস যা বিভিন্ন শব্দে বর্ণিত হয়েছে। যথা : القضاة ثلاثة
তার মধ্যে রয়েছে : وقاض قضى بغير حق فهو في النار وقاض قضى وهو لا يعلم فهو في النار
এখানে (الامر) নির্দেশ বা হুকুম দ্বারা উদ্দেশ্য إفعل সিগা (শব্দরূপ) এবং (النهي) নিষেধ দ্বারা উদ্দেশ্য لا تفعل সিগা (শব্দরূপ)।
আর সাহাবীর কথা যেমন : أمرنا رسول الله بكذا অর্থাৎ ‘‘রসূলসাঃ আমদেরকে এমন করতে নির্দেশ দেন অথবা ওটা হতে নিষেধ করেছেন’’ এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।
কিন্তু অধিকাংশ সালাফদের নিকট راجح বা অগ্রাধিকারযোগ্য মত হচ্ছে যে, কোন পার্থক্য নেই (অর্থাৎ রসূলের কথা افعل এবং সাহাবীর কথা امرنا رسول الله بكذا এতদুভয়ের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। অনুরূপভাবে রসূলের কথা لا تفعل এবং সাহাবীর কথা نهانا عنه এবং মাঝে কোনই পার্থক্য নেই)। আবার কিছু কিছু উসূলবাদী আমরের সিগার (নির্দেশ সূচক শব্দরূপের) ১৭টি অর্থ এবং নাহীর সিগার (নিষেধ সূচক শব্দরূপের) ৮টি অর্থ উল্লেখ করেন। আর কাজী আবূ বকর ত্বায়্যিব ইমাম মালেক ও ইমাম শাফে’য়ী থেকে বর্ণনা করেন যে, তাদের উভয়ের নিকটই আমরের সীগা ওয়াজিবের জন্য এবং নাহীর সীগা হারামের জন্য প্রয়োগ হবে যতক্ষণ পর্যন্ত এর বিপরীত কোন প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত না হবে।
ইমাম ইবনু বাত্তাল বলেন : জামহুরের মত এটাই।
তার মধ্যে রয়েছে : وقاض قضى بغير حق فهو في النار وقاض قضى وهو لا يعلم فهو في النار
এখানে (الامر) নির্দেশ বা হুকুম দ্বারা উদ্দেশ্য إفعل সিগা (শব্দরূপ) এবং (النهي) নিষেধ দ্বারা উদ্দেশ্য لا تفعل সিগা (শব্দরূপ)।
আর সাহাবীর কথা যেমন : أمرنا رسول الله بكذا অর্থাৎ ‘‘রসূলসাঃ আমদেরকে এমন করতে নির্দেশ দেন অথবা ওটা হতে নিষেধ করেছেন’’ এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।
কিন্তু অধিকাংশ সালাফদের নিকট راجح বা অগ্রাধিকারযোগ্য মত হচ্ছে যে, কোন পার্থক্য নেই (অর্থাৎ রসূলের কথা افعل এবং সাহাবীর কথা امرنا رسول الله بكذا এতদুভয়ের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। অনুরূপভাবে রসূলের কথা لا تفعل এবং সাহাবীর কথা نهانا عنه এবং মাঝে কোনই পার্থক্য নেই)। আবার কিছু কিছু উসূলবাদী আমরের সিগার (নির্দেশ সূচক শব্দরূপের) ১৭টি অর্থ এবং নাহীর সিগার (নিষেধ সূচক শব্দরূপের) ৮টি অর্থ উল্লেখ করেন। আর কাজী আবূ বকর ত্বায়্যিব ইমাম মালেক ও ইমাম শাফে’য়ী থেকে বর্ণনা করেন যে, তাদের উভয়ের নিকটই আমরের সীগা ওয়াজিবের জন্য এবং নাহীর সীগা হারামের জন্য প্রয়োগ হবে যতক্ষণ পর্যন্ত এর বিপরীত কোন প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত না হবে।
ইমাম ইবনু বাত্তাল বলেন : জামহুরের মত এটাই।
হাদিস নং: ৭৩৫৩
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى عن ابن جريج حدثني عطاء عن عبيد بن عمير قال استاذن ابو موسى على عمر فكانه وجده مشغولا فرجع فقال عمر الم اسمع صوت عبد الله بن قيس اىذنوا له فدعي له فقال ما حملك على ما صنعت فقال انا كنا نومر بهذا قال فاتني على هذا ببينة او لا×فعلن بك فانطلق الى مجلس من الانصار فقالوا لا يشهد الا اصاغرنا فقام ابو سعيد الخدري فقال قد كنا نومر بهذا فقال عمر خفي علي هذا من امر النبي صلى الله عليه وسلم الهاني الصفق بالاسواق
৭৩৫৩. ’উবায়দ ইবনু ’উমায়র (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ মূসা (রাঃ) ’উমার (রাঃ)-এর কাছে আসার অনুমতি চাইলেন। আবূ মূসা (রাঃ) তাঁকে যেন কোন কাজে ব্যস্ত মনে করে ফিরে যাচ্ছিলেন। ’উমার (রাঃ) বললেন, আমি কি ’আবদুল্লাহ্ ইবনু কায়স-এর শব্দ শুনিনি? তাকে এখানে আসার অনুমতি দাও। এরপর তাঁকে ডেকে আনা হলে ’উমার (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, কী জিনিস আপনাকে ফিরে বাধ্য করল? আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, আমাদেরকে এরকমই করার আদেশ দেয়া হত। ’উমার (রাঃ) বললেন, আপনার কথার পক্ষে প্রমাণ পেশ দিন, অন্যথায় আপনার সঙ্গে মোকাবেলা করব। এরপর তিনি আনসারদের এক মজলিসে চলে গেলেন। তারা বলল, আমাদের বালকরাই এর পক্ষে সাক্ষ্য দেবে। এরপর আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হ্যাঁ, আমাদেরকে এরকম করারই নির্দেশ দেয়া হত। এরপর ’উমার (রাঃ) বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ আদেশটি আমার অজানা থেকে গেল। বাজারের ব্যস্ততাই আমাকে জানা থেকে বিরত রেখেছে। [২০৬২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৫১)
হাদিস নং: ৭৩৫৪
সহিহ (Sahih)
علي حدثنا سفيان حدثني الزهري انه سمعه من الاعرج يقول اخبرني ابو هريرة قال انكم تزعمون ان ابا هريرة يكثر الحديث على رسول الله صلى الله عليه وسلم والله الموعد اني كنت امرا مسكينا الزم رسول الله صلى الله عليه وسلم على ملء بطني وكان المهاجرون يشغلهم الصفق بالاسواق وكانت الانصار يشغلهم القيام على اموالهم فشهدت من رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم وقال من يبسط رداءه حتى اقضي مقالتي ثم يقبضه فلن ينسى شيىا سمعه مني فبسطت بردة كانت علي فوالذي بعثه بالحق ما نسيت شيىا سمعته منه
৭৩৫৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের ধারণা আবূ হুরাইরাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অতিরিক্ত হাদীস বর্ণনা করছে। আল্লাহর কাছে একদিন আমাদেরকে হাযির হতে হবে। আমি ছিলাম একজন মিসকীন। খেয়ে না খেয়েই আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পড়ে থাকতাম। বাজারের বেচাকেনা মুহাজিরদেরকে ব্যস্ত রাখত। আর আনসারগণকে ব্যস্ত রাখত তাঁদের ধন-মালের প্রতিষ্ঠা। একদিন আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার কথা শেষ হওয়া পর্যন্ত যে ব্যক্তি তার চাদর প্রসারিত করে তারপর তা গুটিয়ে নেবে, সে আমার নিকট হতে শোনা কিছুই কোন দিন ভুলবে না। তখন আমি আমার গায়ের চাদরখানা প্রসারিত করলাম। সে সত্তার শপথ, যিনি তাঁকে হক্কের সঙ্গে পাঠিয়েছেন! অতঃপর তাঁর কাছ থেকে শোনা কোন কিছুই আমি ভুলি নি।। [১১৮; মুসলিম ৪৪/৮৫, হাঃ ২৪৯২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৫২)
হাদিস নং: ৭৩৫৫
সহিহ (Sahih)
حماد بن حميد حدثنا عبيد الله بن معاذ حدثنا ابي حدثنا شعبة عن سعد بن ابراهيم عن محمد بن المنكدر قال رايت جابر بن عبد الله يحلف بالله ان ابن الصاىد الدجال قلت تحلف بالله قال اني سمعت عمر يحلف على ذلك عند النبي صلى الله عليه وسلم فلم ينكره النبي صلى الله عليه وسلم
৭৩৫৫. মুহাম্মাদ ইবনু মুনকাদির (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-কে আল্লাহর কসম খেয়ে বলতে শুনেছি যে, ইবনু সাইয়্যাদ একটা দাজ্জাল। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলামঃ আল্লাহর শপথ করে বলছেন? তিনি উত্তরে বললেন, আমি ’উমার (রাঃ)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট শপথ করে এ কথা বলতে শুনেছি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা অস্বীকার করেননি। [মুসলিম ৫২/১৯, হাঃ ২৯৬৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৫৩)
হাদিস নং: ৭৩৫৬
সহিহ (Sahih)
اسماعيل حدثني مالك عن زيد بن اسلم عن ابي صالح السمان عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال الخيل لثلاثة لرجل اجر ولرجل ستر وعلى رجل وزر فاما الذي له اجر فرجل ربطها في سبيل الله فاطال لها في مرج او روضة فما اصابت في طيلها ذلك من المرج او الروضة كان له حسنات ولو انها قطعت طيلها فاستنت شرفا او شرفين كانت اثارها وارواثها حسنات له ولو انها مرت بنهر فشربت منه ولم يرد ان يسقي به كان ذلك حسنات له وهي لذلك الرجل اجر ورجل ربطها تغنيا وتعففا ولم ينس حق الله في رقابها ولا ظهورها فهي له ستر ورجل ربطها فخرا ورياء فهي على ذلك وزر وسىل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الحمر قال ما انزل الله علي فيها الا هذه الاية الفاذة الجامعة (فمن يعمل مثقال ذرة خيرا يره ومن يعمل مثقال ذرة شرا يره)
وَقَدْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمْرَ الْخَيْلِ وَغَيْرِهَا ثُمَّ سُئِلَ عَنْ الْحُمُرِ فَدَلَّهُمْ عَلَى قَوْلِهِ تَعَالَى: (فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ أَخْبَرَ النَّبِيُّصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ) وَسُئِلَ النَّبِيُّ عَنْ الضَّبِّ فَقَالَ لاَ آكُلُهُ وَلاَ أُحَرِّمُهُ وَأُكِلَ عَلَى مَائِدَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الضَّبُّ فَاسْتَدَلَّ ابْنُ عَبَّاسٍ بِأَنَّهُ لَيْسَ بِحَرَامٍ
নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়া ইত্যাদির হুকুম বলে দিয়েছেন। এরপর তাঁকে গাধার হুকুম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি আল্লাহর বাণীর দিকে ইঙ্গিত করেনঃ ’’কেউ অণু পরিমাণ সৎ কাজ করলেও তা দেখতে পাবে’’- (সূরাহ যিলযাল ৯৯/৭)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ’দবব’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ আমি এটি খাই না, তবে হারামও বলি না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দস্তরখানে ’দবব’ খাওয়া হয়েছে। এর দ্বারা ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) প্রমাণ করেছেন যে, ’দবব’ হারাম নয়।
৭৩৫৬. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঘোড়া ব্যবহারের দিক দিয়ে মানুষ তিন রকমের। এক রকম লোকের জন্য ঘোড়া সাওয়ারের মাধ্যম, আর এক রকম লোকের জন্য তা পাপ থেকে বাঁচার অবলম্বন এবং আর এক রকম লোকের জন্য তা শাস্তির কারণ। তার জন্য ঘোড়া সাওয়ারের মাধ্যম, যে ঘোড়াকে আল্লাহর রাস্তায় ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখে এবং চারণভূমি বা বাগানে প্রশস্ত রশিতে বেঁধে বিচরণ করতে দেয়। এই রশি যত লম্বা এবং যত দূরত্বে ঘোড়া চরতে পারে, সে তত বেশি সওয়াব পায়। যদি ঘোড়া এ দড়ি ছিঁড়ে এক চক্কর বা দু’ চক্কর লাগায় তবে ঐ ঘোড়ার প্রতিটি পদক্ষেপ এবং মালের বিনিময়ে তাকে সওয়াব দেয়া হয়। ঘোড়া যদি কোন নদী বা নালায় গিয়ে পানি খেয়ে ফেলে অথচ মালিক পানি খাওয়ানোর নিয়ত করেনি, এগুলো খুবই নেক কাজ।
এর জন্য এ লোকের সওয়াব আছে। আর যে লোক ঘোড়া পালন করে একমাত্র অমুখাপেক্ষিতা এবং স্বনির্ভরতা বজায় রাখার জন্য; এর সঙ্গে সঙ্গে ঘোড়ার ঘাড়ে ও পিঠে যে আল্লাহর হক আছে তা আদায় করতেও সে ভুলে যায় না। এ ঘোড়া তার জন্য শাস্তি থেকে পর্দা হবে। আর যে ব্যক্তি অহংকার ও বশ্যতঃ ও লোক দেখানোর জন্য ঘোড়া পোষে, তার জন্য এই ঘোড়া (পাপের) বোঝা হবে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গাধা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তখন তিনি বললেনঃ এ সম্পর্কে আমার উপর ব্যাপক অর্থবোধক একটি আয়াত ব্যতীত আল্লাহ্ অন্য কিছু অবতীর্ণ করেননিঃ ’’অতএব কেউ অণু পরিমাণও সৎ কাজ করলে সে তা দেখবে, আর কেউ অণু পরিমাণও অসৎ কাজ করলে সে তা দেখবে।’’- (সূরাহ যিলযালা ৯৯/৭-৮)। [২৩৭১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৫৪)
নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়া ইত্যাদির হুকুম বলে দিয়েছেন। এরপর তাঁকে গাধার হুকুম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি আল্লাহর বাণীর দিকে ইঙ্গিত করেনঃ ’’কেউ অণু পরিমাণ সৎ কাজ করলেও তা দেখতে পাবে’’- (সূরাহ যিলযাল ৯৯/৭)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ’দবব’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ আমি এটি খাই না, তবে হারামও বলি না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দস্তরখানে ’দবব’ খাওয়া হয়েছে। এর দ্বারা ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) প্রমাণ করেছেন যে, ’দবব’ হারাম নয়।
৭৩৫৬. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঘোড়া ব্যবহারের দিক দিয়ে মানুষ তিন রকমের। এক রকম লোকের জন্য ঘোড়া সাওয়ারের মাধ্যম, আর এক রকম লোকের জন্য তা পাপ থেকে বাঁচার অবলম্বন এবং আর এক রকম লোকের জন্য তা শাস্তির কারণ। তার জন্য ঘোড়া সাওয়ারের মাধ্যম, যে ঘোড়াকে আল্লাহর রাস্তায় ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখে এবং চারণভূমি বা বাগানে প্রশস্ত রশিতে বেঁধে বিচরণ করতে দেয়। এই রশি যত লম্বা এবং যত দূরত্বে ঘোড়া চরতে পারে, সে তত বেশি সওয়াব পায়। যদি ঘোড়া এ দড়ি ছিঁড়ে এক চক্কর বা দু’ চক্কর লাগায় তবে ঐ ঘোড়ার প্রতিটি পদক্ষেপ এবং মালের বিনিময়ে তাকে সওয়াব দেয়া হয়। ঘোড়া যদি কোন নদী বা নালায় গিয়ে পানি খেয়ে ফেলে অথচ মালিক পানি খাওয়ানোর নিয়ত করেনি, এগুলো খুবই নেক কাজ।
এর জন্য এ লোকের সওয়াব আছে। আর যে লোক ঘোড়া পালন করে একমাত্র অমুখাপেক্ষিতা এবং স্বনির্ভরতা বজায় রাখার জন্য; এর সঙ্গে সঙ্গে ঘোড়ার ঘাড়ে ও পিঠে যে আল্লাহর হক আছে তা আদায় করতেও সে ভুলে যায় না। এ ঘোড়া তার জন্য শাস্তি থেকে পর্দা হবে। আর যে ব্যক্তি অহংকার ও বশ্যতঃ ও লোক দেখানোর জন্য ঘোড়া পোষে, তার জন্য এই ঘোড়া (পাপের) বোঝা হবে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গাধা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তখন তিনি বললেনঃ এ সম্পর্কে আমার উপর ব্যাপক অর্থবোধক একটি আয়াত ব্যতীত আল্লাহ্ অন্য কিছু অবতীর্ণ করেননিঃ ’’অতএব কেউ অণু পরিমাণও সৎ কাজ করলে সে তা দেখবে, আর কেউ অণু পরিমাণও অসৎ কাজ করলে সে তা দেখবে।’’- (সূরাহ যিলযালা ৯৯/৭-৮)। [২৩৭১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৫৪)
হাদিস নং: ৭৩৫৭
সহিহ (Sahih)
يحيى حدثنا ابن عيينة عن منصور بن صفية عن امه عن عاىشة ان امراة سالت النبي صلى الله عليه وسلم ح و حدثنا محمد هو ابن عقبة حدثنا الفضيل بن سليمان النميري البصري حدثنا منصور بن عبد الرحمن ابن شيبة حدثتني امي عن عاىشة ان امراة سالت النبي صلى الله عليه وسلم عن الحيض كيف تغتسل منه قال تاخذين فرصة ممسكة فتوضىين بها قالت كيف اتوضا بها يا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال النبي صلى الله عليه وسلم توضىي قالت كيف اتوضا بها يا رسول الله قال النبي صلى الله عليه وسلم توضىين بها قالت عاىشة فعرفت الذي يريد رسول الله صلى الله عليه وسلم فجذبتها الي فعلمتها
৭৩৫৭. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক স্ত্রীলোক রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করল, হায়েয থেকে গোসল কিভাবে করতে হয়? তিনি বললেনঃ তুমি সুগন্ধিযুক্ত এক টুকরা কাপড় নেবে। এবং এর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে। স্ত্রীলোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এর দ্বারা কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করব? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম : তুমি এর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে। মহিলা আবার বলল, এর দ্বারা কিভাবে পবিত্রতা লাভ করবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি এর দ্বারা পবিত্রতা লাভ করবে। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি বুঝতে পারলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দ্বারা কী বোঝাতে চাচ্ছেন? অতঃপর আমি স্ত্রীলোকটিকে আমার দিকে টেনে নিলাম এবং বিষয়টি তাকে জানিয়ে দিলাম। [৩১৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৫৫)
হাদিস নং: ৭৩৫৮
সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا ابو عوانة عن ابي بشر عن سعيد بن جبير عن ابن عباس ان ام حفيد بنت الحارث بن حزن اهدت الى النبي صلى الله عليه وسلم سمنا واقطا واضبا فدعا بهن النبي صلى الله عليه وسلم فاكلن على ماىدته فتركهن النبي صلى الله عليه وسلم كالمتقذر لهن ولو كن حراما ما اكلن على ماىدته ولا امر باكلهن
৭৩৫৮. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হারিস ইবনু হাযনের মেয়ে উম্মু হুফায়দ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য ঘি, পনির এবং কতগুলো দবব হাদিয়া পাঠালেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওগুলো চেয়ে নিলেন এবং এগুলো তাঁর দস্তরখানে খাওয়া হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘৃণার কারণে খেতে অপছন্দ করলেন। ওগুলো হারাম হলে, তাঁর দস্তরখানে তা খাওয়া হত না এবং তিনিও এগুলো খেতে অনুমতি দিতেন না। [২৫৭৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৫৬)
হাদিস নং: ৭৩৫৯
সহিহ (Sahih)
جابر بن عبد الله قال قال النبي صلى الله عليه وسلم من اكل ثوما او بصلا فليعتزلنا او ليعتزل مسجدنا وليقعد في بيته وانه اتي ببدر قال ابن وهب يعني طبقا فيه خضرات من بقول فوجد لها ريحا فسال عنها فاخبر بما فيها من البقول فقال قربوها فقربوها الى بعض اصحابه كان معه فلما راه كره اكلها قال كل فاني اناجي من لا تناجي وقال ابن عفير عن ابن وهب بقدر فيه خضرات ولم يذكر الليث وابو صفوان عن يونس قصة القدر فلا ادري هو من قول الزهري او في الحديث
৭৩৫৯. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি কাঁচা রসুন কিংবা পেঁয়াজ খায়, সে যেন আমাদের থেকে কিংবা আমাদের মাসজিদ থেকে আলাদা থাকে। আর সে যেন তার ঘরে বসে থাকে। এরপর তাঁর কাছে একটি পাত্র আনা হল। বর্ণনাকারী ইবনু ওয়াহ্ব (রাঃ) বলেন, অর্থাৎ শাক-সবজির একটি বড় পাত্র। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই পাত্রে এক প্রকার গন্ধ পাওয়ায় সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তাঁকে পাত্রের মধ্যকার শাক-সবজি সম্পর্কে জানানো হল। তিনি তা এক সাহাবীকে খেতে দিতে বললেন যিনি তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। এরপর তিনি যখন দেখলেন, সে তা খেতে অপছন্দ করছে তখন তিনি বললেনঃ খাও, কারণ আমি যাঁর সঙ্গে গোপনে কথোপকথন করি, তুমি তাঁর সঙ্গে তা কর না।
ইবনু ’উফায়র (রহ.).....ইবনু ওয়াহ্ব (রহ.) থেকে طَبَقًا فِيْهِ خَضِرَاتٌ -এর জায়গায় بِقِدْرٍ فِيْهِ خَضِرَاتٌ (শাক-সবজির একটি হাঁড়ি) বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে লায়স ও আবূ সাফওয়ান (রহ.) ইউনুস (রহ.) থেকে হাঁড়ির ঘটনা উল্লেখ করেননি। এটি কি হাদীসে বর্ণিত না যুহরী (রাঃ)-এর উক্তি তা আমার জানা নেই। [৮৫৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৫৭)
ইবনু ’উফায়র (রহ.).....ইবনু ওয়াহ্ব (রহ.) থেকে طَبَقًا فِيْهِ خَضِرَاتٌ -এর জায়গায় بِقِدْرٍ فِيْهِ خَضِرَاتٌ (শাক-সবজির একটি হাঁড়ি) বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে লায়স ও আবূ সাফওয়ান (রহ.) ইউনুস (রহ.) থেকে হাঁড়ির ঘটনা উল্লেখ করেননি। এটি কি হাদীসে বর্ণিত না যুহরী (রাঃ)-এর উক্তি তা আমার জানা নেই। [৮৫৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৫৭)
হাদিস নং: ৭৩৬০
সহিহ (Sahih)
عبيد الله بن سعد بن ابراهيم حدثنا ابي وعمي قالا حدثنا ابي عن ابيه اخبرني محمد بن جبير ان اباه جبير بن مطعم اخبره ان امراة اتت رسول الله صلى الله عليه وسلم فكلمته في شيء فامرها بامر فقالت ارايت يا رسول الله ان لم اجدك قال ان لم تجديني فاتي ابا بكر زاد لنا الحميدي عن ابراهيم بن سعد كانها تعني الموت
৭৩৬০. জুবায়র ইবনু মুত্ঈম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক স্ত্রীলোক রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হল এবং তাঁর সঙ্গে কোন ব্যাপারে কথাবার্তা বলল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে কোন বিষয়ে নির্দেশ দিলেন। এরপর স্ত্রীলোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল। আপনাকে যদি না পাই? তিনি বললেনঃ যখন আমাকে পাবে না, তখন আসবে আবূ বকর (রাঃ)-এর কাছে। আবূ ’আবদুল্লাহ্ [(ইমাম বুখারী (রহ.)] বলেন, বর্ণনাকারী হুমায়দী (রহ.) ইবরাহীম ইবনু সা’দ (রহ.) থেকে আরো অতিরিক্ত বলেছেন, স্ত্রীলোকটি সম্ভবত তার কথা দ্বারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। [৩৬৫৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৫৮)
হাদিস নং: ৭৩৬১
সহিহ (Sahih)
وقال ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري اخبرني حميد بن عبد الرحمن سمع معاوية يحدث رهطا من قريش بالمدينة وذكر كعب الاحبار فقال ان كان من اصدق هولاء المحدثين الذين يحدثون عن اهل الكتاب وان كنا مع ذلك لنبلو عليه الكذب
৭৩৬১. আবুল ইয়ামান (রহ.) বলেন, শু’আয়ব (রহ.), ইমাম যুহরী (রহ.) হুমায়দ ইবনু ’আবদুর রহমান (রহ.) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মু’আবীয়াহ (রাঃ)-কে মাদ্বীনাহ্য় কুরায়শ বংশের কতকগুলো লোকের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করতে শুনেছেন। তখন কা’ব আহবারের কথা আলোচনা হয়। মু’আবীয়াহ (রাঃ) বললেন, যারা আগেকার কিতাব সম্পর্কে আলোচনা করেন, তাদের মধ্যে তিনি অধিক সত্যবাদী, যদিও বর্ণিত বিষয়গুলোর ভিত্তি মিথ্যের উপর রচিত। (আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- অনুচ্ছেদ)
হাদিস নং: ৭৩৬২
সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا عثمان بن عمر اخبرنا علي بن المبارك عن يحيى بن ابي كثير عن ابي سلمة عن ابي هريرة قال كان اهل الكتاب يقرءون التوراة بالعبرانية ويفسرونها بالعربية لاهل الاسلام فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تصدقوا اهل الكتاب ولا تكذبوهم و(قولوا منا بالله وما انزل الينا وما انزل اليكم) الاية
৭৩৬২. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহলে কিতাব হিব্রু ভাষায় তাওরাত পড়ে মুসলিমদের কাছে তা আরবী ভাষায় ব্যাখ্যা করত। (এ সম্পর্কে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আহলে কিতাবকে তোমরা সত্যবাদী ভেবো না এবং তাদেরকে মিথ্যাবাদীও ভেবো না। তোমরা বলে দাও, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং আমাদের উপর যা নাযিল হয়েছে তার প্রতি......। [৪৪৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৫৯)
হাদিস নং: ৭৩৬৩
সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا ابراهيم اخبرنا ابن شهاب عن عبيد الله بن عبد الله ان ابن عباس قال كيف تسالون اهل الكتاب عن شيء وكتابكم الذي انزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم احدث تقرءونه محضا لم يشب وقد حدثكم ان اهل الكتاب بدلوا كتاب الله وغيروه وكتبوا بايديهم الكتاب وقالوا هو من عند الله ليشتروا به ثمنا قليلا الا ينهاكم ما جاءكم من العلم عن مسالتهم لا والله ما راينا منهم رجلا يسالكم عن الذي انزل عليكم
৭৩৬৩. ’উবাইদুল্লাহ্ ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, তোমরা কিভাবে আহলে কিতাবদেরকে কোন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর? অথচ তোমাদের কিতাব (আল-কুরআন) তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর এখন অবতীর্ণ হয়েছে, তা তোমরা পড়ছ যা পূত-পবিত্র ও নির্ভেজাল। এ কিতাব তোমাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছে, আহলে কিতাবরা আল্লাহর কিতাবকে পরিবর্তিত ও বিকৃত করে দিয়েছে। তারা নিজ হাতে কিতাব লিখে তা আল্লাহর কিতাব বলে ঘোষণা দিয়েছে, যাতে এর দ্বারা সামান্য সুবিধা লাভ করতে পারে। তোমাদের কাছে যে ইল্ম আছে তা কি তোমাদেরকে তাদের কাছে কোন মাসআলা জিজ্ঞেস করতে নিষেধ করছে না? আল্লাহর কসম! আমরা তো তাদের কাউকে দেখিনি কখনো তোমাদের উপর নাযিল করা কিতাব সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করতে। [২৬৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৬০)
হাদিস নং: ৭৩৬৪
সহিহ (Sahih)
اسحاق اخبرنا عبد الرحمن بن مهدي عن سلام بن ابي مطيع عن ابي عمران الجوني عن جندب بن عبد الله البجلي قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اقرءوا القران ما اىتلفت قلوبكم فاذا اختلفتم فقوموا عنه قال ابو عبد الله سمع عبد الرحمن سلاما
৭৩৬৪. জুনদাব ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কুরআন তিলাওয়াত করতে থাক, যতক্ষণ এর প্রতি তোমাদের হৃদয়ের আকর্ষণ অব্যাহত থাকে। আর যখন তোমাদের মনে বিকর্ষণ দেখা দেয় তখন তাত্থেকে উঠে যাও।
আবূ আব্দুল্লাহ্ (বুখারী) (রহ.) বলেন, ’আবদুর রহমান (রহ.) সাল্লাম থেকে (হাদীসটি) শুনেছেন (সূত্রে) বর্ণিত হয়েছে। [৫০৬০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৬৩)
আবূ আব্দুল্লাহ্ (বুখারী) (রহ.) বলেন, ’আবদুর রহমান (রহ.) সাল্লাম থেকে (হাদীসটি) শুনেছেন (সূত্রে) বর্ণিত হয়েছে। [৫০৬০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৬৩)
হাদিস নং: ৭৩৬৫
সহিহ (Sahih)
اسحاق اخبرنا عبد الصمد حدثنا همام حدثنا ابو عمران الجوني عن جندب بن عبد الله ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال اقرءوا القران ما اىتلفت عليه قلوبكم فاذا اختلفتم فقوموا عنه قال ابو عبد الله وقال يزيد بن هارون عن هارون الاعور حدثنا ابو عمران عن جندب عن النبي صلى الله عليه وسلم
৭৩৬৫. জুনদাব (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ততক্ষণ কুরআন তিলাওয়াত করতে থাক, যে পর্যন্ত এর প্রতি তোমাদের অন্তরের আকর্ষণ থাকে। আর যখন মনে বিকর্ষণ অনুভব কর, তখন তা থেকে উঠে যাও।
ইয়াযীদ ইবনু হারুন (রহ.) জুনদাব (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরকমই বর্ণিত হয়েছে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৬৪)
ইয়াযীদ ইবনু হারুন (রহ.) জুনদাব (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরকমই বর্ণিত হয়েছে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৬৪)
হাদিস নং: ৭৩৬৬
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن موسى اخبرنا هشام عن معمر عن الزهري عن عبيد الله بن عبد الله عن ابن عباس قال لما حضر النبي صلى الله عليه وسلم قال وفي البيت رجال فيهم عمر بن الخطاب قال هلم اكتب لكم كتابا لن تضلوا بعده قال عمر ان النبي صلى الله عليه وسلم غلبه الوجع وعندكم القران فحسبنا كتاب الله واختلف اهل البيت واختصموا فمنهم من يقول قربوا يكتب لكم رسول الله صلى الله عليه وسلم كتابا لن تضلوا بعده ومنهم من يقول ما قال عمر فلما اكثروا اللغط والاختلاف عند النبي صلى الله عليه وسلم قال قوموا عني قال عبيد الله فكان ابن عباس يقول ان الرزية كل الرزية ما حال بين رسول الله صلى الله عليه وسلم وبين ان يكتب لهم ذلك الكتاب من اختلافهم ولغطهم
৭৩৬৬. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর সময় নিকটবর্তী হল। রাবী বলেন, ঘরের মধ্যে অনেক লোক ছিল। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ’উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা এসো, আমি তোমাদের জন্য লিখে যাব যাতে তার পরে তোমরা কক্ষনো পথভ্রষ্ট হবে না। ’উমার (রাঃ) মন্তব্য করলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুবই কষ্টে নিপতিত। তোমাদের কাছে কুরআন আছে, আল্লাহর এই কিতাবই আমাদের জন্য যথেষ্ট। এ সময় গৃহে অবস্থানকারীদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হল এবং তারা বিতর্কে লিপ্ত হল। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলল, তাঁর কাছে যাও, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের জন্য লিখে দেবেন যাতে তাঁর পরে তোমরা কক্ষনো পথহারা হবে না। আবার কেউ কেউ তাই বললেন যা ’উমার (রাঃ) বলেছিলেন। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে তাদের কথা কাটাকাটি এবং মতপার্থক্য বেড়ে গেল,তখন তিনি বললেনঃ তোমরা আমার নিকট হতে উঠে যাও। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৬৫)
বর্ণনাকারী ’উবাইদুল্লাহ্ বলেন, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলতেন, সমস্ত জটিলতার মূল ছিল তা-ই, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর লেখার মাঝখানে বাধা সৃষ্টি করেছিল। সেটা ছিল তাদের মতবিরোধ ও কথা কাটাকাটি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৬৫)
বর্ণনাকারী ’উবাইদুল্লাহ্ বলেন, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলতেন, সমস্ত জটিলতার মূল ছিল তা-ই, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর লেখার মাঝখানে বাধা সৃষ্টি করেছিল। সেটা ছিল তাদের মতবিরোধ ও কথা কাটাকাটি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৬৫)
হাদিস নং: ৭৩৬৭
সহিহ (Sahih)
المكي بن ابراهيم عن ابن جريج قال عطاء قال جابر قال ابو عبد الله وقال محمد بن بكر البرساني حدثنا ابن جريج قال اخبرني عطاء سمعت جابر بن عبد الله في اناس معه قال اهللنا اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم في الحج خالصا ليس معه عمرة قال عطاء قال جابر فقدم النبي صلى الله عليه وسلم صبح رابعة مضت من ذي الحجة فلما قدمنا امرنا النبي صلى الله عليه وسلم ان نحل وقال احلوا واصيبوا من النساء قال عطاء قال جابر ولم يعزم عليهم ولكن احلهن لهم فبلغه انا نقول لما لم يكن بيننا وبين عرفة الا خمس امرنا ان نحل الى نساىنا فناتي عرفة تقطر مذاكيرنا المذي قال ويقول جابر بيده هكذا وحركها فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال قد علمتم اني اتقاكم لله واصدقكم وابركم ولولا هديي لحللت كما تحلون فحلوا فلو استقبلت من امري ما استدبرت ما اهديت فحللنا وسمعنا واطعنا
وَقَالَ جَابِرٌ وَلَمْ يَعْزِمْ عَلَيْهِمْ وَلَكِنْ أَحَلَّهُنَّ لَهُمْ وَقَالَتْ أُمُّ عَطِيَّةَ نُهِينَا عَنْ اتِّبَاعِ الْجَنَازَةِ وَلَمْ يُعْزَمْ عَلَيْنَا
জাবির (রাঃ) বলেন, এ কাজ তাদের জন্য ওয়াজিব করা হয়নি। বরং তাদের জন্য (স্ত্রী ব্যবহার) হালাল করা হয়েছে। উম্মু আতীয়্যা (রাঃ) বলেছেন, আমাদেরকে (অর্থাৎ মহিলাদেরকে) জানাযার সাথে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা আমাদের উপর বাধ্যতামূলক নয়।
৭৩৬৭. আতা (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহকে এ কথা বলতে শুনেছি যে, তাঁর সাথে আরো কিছু লোক ছিল। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ কেবল হজ্জের নিয়তে ইহরাম বেঁধেছিলাম। এর সাথে উমরার নিয়ত ছিল না। বর্ণনাকারী আতা (রহ.) বলেন, জাবির (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলহজ্জ মাসের চার তারিখ সকাল বেলায় (মক্কায়) আসলেন। এরপর আমরাও যখন আসলাম, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ইহরাম খুলে ফেলার হুকুম করলেন। তিনি বললেনঃ তোমরা ইহরাম খুলে ফেল এবং স্ত্রীদের সাথে মিলিত হও। (রাবী) আতা (রহ.) বর্ণনা করেন, জাবির (রাঃ) বলেছেন, (স্ত্রী সহবাস) তিনি তাদের উপর বাধ্যতামূলক করেননি বরং বৈধ করেছেন। এরপর তিনি জানতে পারেন যে, আমরা বলাবলি করছি আমাদের ও আরাফার দিনের মাঝে কেবল পাঁচদিন বাকি।
তিনি আমাদেরকে আদেশ করেছেন যে, আমরা ইহরাম খুলে স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হই। তখন আমরা আরাফায় পৌঁছব আর আমাদের পুরুষাঙ্গ থেকে মযী বের হতে থাকবে। আতা বলেন, জাবির (রাঃ) এ কথা বোঝানোর জন্য হাত দ্বারা ইশারা করেছিলেন কিংবা হাত নেড়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং বললেনঃ তোমরা জান, আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহকে বেশি ভয় করি, তোমাদের চেয়ে আমি বেশি সত্যবাদী ও নিষ্ঠাবান। আমার সাথে যদি কুরবানী পশু না থাকত, আমিও তোমাদের মত ইহরাম খুলে ফেলতাম। সুতরাং তোমরা ইহরাম খুলে ফেল। আমি যদি আমার কাজের পরিণাম আগে জানতাম যা পরে জেনেছি তবে আমি কুরবানীর পশু সঙ্গে আনতাম না। কাজেই আমরা ইহরাম খুলে ফেললাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশ শোনলাম এবং তাঁর আনুগত্য করলাম। [মুসলিম ১৫/১৭, হাঃ ১২১৬, আহমাদ ১৪২৪২] (ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৬১)
জাবির (রাঃ) বলেন, এ কাজ তাদের জন্য ওয়াজিব করা হয়নি। বরং তাদের জন্য (স্ত্রী ব্যবহার) হালাল করা হয়েছে। উম্মু আতীয়্যা (রাঃ) বলেছেন, আমাদেরকে (অর্থাৎ মহিলাদেরকে) জানাযার সাথে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা আমাদের উপর বাধ্যতামূলক নয়।
৭৩৬৭. আতা (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহকে এ কথা বলতে শুনেছি যে, তাঁর সাথে আরো কিছু লোক ছিল। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ কেবল হজ্জের নিয়তে ইহরাম বেঁধেছিলাম। এর সাথে উমরার নিয়ত ছিল না। বর্ণনাকারী আতা (রহ.) বলেন, জাবির (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলহজ্জ মাসের চার তারিখ সকাল বেলায় (মক্কায়) আসলেন। এরপর আমরাও যখন আসলাম, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ইহরাম খুলে ফেলার হুকুম করলেন। তিনি বললেনঃ তোমরা ইহরাম খুলে ফেল এবং স্ত্রীদের সাথে মিলিত হও। (রাবী) আতা (রহ.) বর্ণনা করেন, জাবির (রাঃ) বলেছেন, (স্ত্রী সহবাস) তিনি তাদের উপর বাধ্যতামূলক করেননি বরং বৈধ করেছেন। এরপর তিনি জানতে পারেন যে, আমরা বলাবলি করছি আমাদের ও আরাফার দিনের মাঝে কেবল পাঁচদিন বাকি।
তিনি আমাদেরকে আদেশ করেছেন যে, আমরা ইহরাম খুলে স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হই। তখন আমরা আরাফায় পৌঁছব আর আমাদের পুরুষাঙ্গ থেকে মযী বের হতে থাকবে। আতা বলেন, জাবির (রাঃ) এ কথা বোঝানোর জন্য হাত দ্বারা ইশারা করেছিলেন কিংবা হাত নেড়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং বললেনঃ তোমরা জান, আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহকে বেশি ভয় করি, তোমাদের চেয়ে আমি বেশি সত্যবাদী ও নিষ্ঠাবান। আমার সাথে যদি কুরবানী পশু না থাকত, আমিও তোমাদের মত ইহরাম খুলে ফেলতাম। সুতরাং তোমরা ইহরাম খুলে ফেল। আমি যদি আমার কাজের পরিণাম আগে জানতাম যা পরে জেনেছি তবে আমি কুরবানীর পশু সঙ্গে আনতাম না। কাজেই আমরা ইহরাম খুলে ফেললাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশ শোনলাম এবং তাঁর আনুগত্য করলাম। [মুসলিম ১৫/১৭, হাঃ ১২১৬, আহমাদ ১৪২৪২] (ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৬১)