অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

১০/১. আযান
মোট ২৭৩ টি হাদিস
হাদিস নং: ৬৬৩ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد العزيز بن عبد الله، قال حدثنا ابراهيم بن سعد، عن ابيه، عن حفص بن عاصم، عن عبد الله بن مالك ابن بحينة، قال مر النبي صلى الله عليه وسلم برجل‏.‏ قال وحدثني عبد الرحمن، قال حدثنا بهز بن اسد، قال حدثنا شعبة، قال اخبرني سعد بن ابراهيم، قال سمعت حفص بن عاصم، قال سمعت رجلا، من الازد يقال له مالك ابن بحينة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم راى رجلا وقد اقيمت الصلاة يصلي ركعتين، فلما انصرف رسول الله صلى الله عليه وسلم لاث به الناس، وقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ الصبح اربعا، الصبح اربعا ‏"‏‏.‏ تابعه غندر ومعاذ عن شعبة في مالك‏.‏ وقال ابن اسحاق عن سعد عن حفص عن عبد الله ابن بحينة‏.‏ وقال حماد اخبرنا سعد عن حفص عن مالك‏.‏
৬৬৩. ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু মালিক ইব্‌নু বুহাইনাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলেন। অন্য সূত্রে ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, ‘আবদুর রহমান (রহ.)....হাফ্‌স ইব্‌নু আসিম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মালিক ইব্‌নু বুহাইনাহ নামক আয্‌দ গোত্রীয় এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতে দেখলেন। তখন ইক্বামাত(ইকামত/একামত) হয়ে গেছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শেষ করলেন, লোকেরা সে লোকটিকে ঘিরে ফেলল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন ঃ ফজর কি চার রাক‘আত? ফাজ্‌র কি চার রাক‘আত?* (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২৩)

গুনদার ও মু‘আয (রহ.) শু‘বা (রহ.) সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ইবনু ইসহাক (রহ.) সাদ (রহ.)-এর মাধ্যমে সে হাফ্স (রহ.) হতে হাদীসটি বর্ণনা করতে গিয়ে ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু বুহাইনাহ (রহ.) হতে বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন। (এ বর্ণনাটিই সঠিক) তবে হাম্মাদ (রহ.) সাদ (রহ.)-এর মাধ্যমে তিনি হাফ্স (রহ.) হতে হাদীসটি বর্ণনা করতে গিয়ে মালিক ইবনু বুহাইনাহ (রহ.) হতে বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন। (মুসলিম ৬/৯, হাঃ ৭১১, আহমাদ ২১৩০) ( ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩০)
নোট: * ইক্বামাত হয়ে গেলে কোন নফল সালাত আদায় করা যাবে না। এ সংক্রান্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় অনেকে ইক্বামাত হয়ে যাবার পরও নফল সালাত আদায় করতে থাকেন। বিশেষ করে ফজরের সালাত চলাকালীন সময়ে অনেককেই দেখা যায় সুন্নাত দু’ রাকা‘আত সালাত আদায় করতে। ফজরের জামা‘আত চলতে থাকলে ঐ জামা‘আতে শামিল না হয়ে তাড়াহুড়ো করে সুন্নাত পড়ে জামা‘আতে শামিল হওয়া হাদীসের বিরোধিতা করার শামিল । প্রমাণ নিম্নের হাদীসগুলোঃ ‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু সারজাস বলেন, এক ব্যক্তি এল। তখন (রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফজরের সালাতে ছিলেন। ফলে লোকটি দু’ রাক‘আত আদায় করে জামা‘আতে প্রবেশ করল। (রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত শেষ করে তাকে বললেন, ওহো অমুক! সালাত কোনটি! যেটি আমাদের সঙ্গে আদায় করলে সেটি না যেটি তুমি একা আদায় করলে? (নাসায়ী, মাবসূত ১ম খণ্ড ১০১ পৃষ্ঠা লাহোরী ছাপা) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন ফারয সালাতের তাকবীর দেয়া হয়ে যায় তখন ফারয সালাত ব্যতীত অন্য কোন (নফল বা সুন্নাত) সালাত হবে না। (মুসলিম, মিশকাত ৯৬ পৃষ্ঠা)

হানাফী ইমাম মুহাম্মাদ বলেন, সুন্নাত না আদায় করে জামা‘আতেই ঢুকতে হবে। (মাবসূত ১ম খণ্ড ১৬৭ পৃষ্ঠা) ফজরের সুন্নাত সালাত ছুটে গেলে ফারয সালাত আদায়ের পর পরই পড়ে নিবে অথবা কোন জরুরী প্রয়োজন থাকলে এ দু’ রাক‘আত সালাত সূর্যোদয়ের পরেও পড়তে পারবেন। (তিরমিযী ১ম খণ্ড)
হাদিস নং: ৬৬৪ সহিহ (Sahih)
عمر بن حفص بن غياث قال حدثني ابي قال حدثنا الاعمش عن ابراهيم عن الاسود قال كنا عند عاىشة رضي الله عنها فذكرنا المواظبة على الصلاة والتعظيم لها قالت لما مرض رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مرضه الذي مات فيه فحضرت الصلاة فاذن فقال مروا ابا بكر فليصل بالناس فقيل له ان ابا بكر رجل اسيف اذا قام في مقامك لم يستطع ان يصلي بالناس واعاد فاعادوا له فاعاد الثالثة فقال انكن صواحب يوسف مروا ابا بكر فليصل بالناس فخرج ابو بكر فصلى فوجد النبي من نفسه خفة فخرج يهادى بين رجلين كاني انظر رجليه تخطان من الوجع فاراد ابو بكر ان يتاخر فاوما اليه النبي ان مكانك ثم اتي به حتى جلس الى جنبه
قيل للاعمش وكان النبي يصلي وابو بكر يصلي بصلاته والناس يصلون بصلاة ابي بكر فقال براسه نعم رواه ابو داود عن شعبة عن الاعمش بعضه وزاد ابو معاوية جلس عن يسار ابي بكر فكان ابو بكر يصلي قاىما.
৬৬৪. আসওয়াদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর নিকট বসে নিয়মিত সালাত আদায় ও তার মর্যাদা সম্বন্ধে আলোচনা করছিলাম। ‘আয়িশাহ (রাযি.) বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অন্তিম রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়লেন, তখন সালাতের সময় হলে আযান দেয়া হলো। তখন তিনি বললেন, আবূ বকরকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বল। তাঁকে বলা হলো যে, আবু বাকর (রাযি.) অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের লোক, তিনি যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন তখন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হবে না। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার সে কথা বললেন এবং তারাও আবার তা-ই বললেন। তৃতীয়বারও তিনি সে কথা ব’লে বললেন, তোমরা ইউসুফের সাথীদের মত। আবূ বকরকে নির্দেশ দাও যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে নেয়। আবূ বকর (রাযি.) এগিয়ে গিয়ে সালাত শুরু করলেন। এদিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেকে একটু হাল্কাবোধ করলেন। দু’জন লোকের কাঁধে ভর দিয়ে বেরিয়ে এলেন। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন,) আমার চোখে এখনও স্পষ্ট ভাসছে। অসুস্থতার কারণে তাঁর দু’পা মাটির উপর দিয়ে হেঁচড়ে যাচ্ছিল। তখন আবূ বকর (রাযি.) পিছনে সরে আসতে চাইলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে স্বস্থানে থাকার জন্য ইঙ্গিত করলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আনা হলো, তিনি আবূ বকর (রাযি.)-এর পাশে বসলেন।

আ‘মাশকে জিজ্ঞেস করা হলোঃ তাহলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইমামাত করছিলেন। আর আবূ বকর (রাযি.) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অনুসরণে সালাত আদায় করছিলেন এবং লোকেরা আবু বাকর (রাযি.)-এর সালাতের অনুসরণ করছিল। আ‘মাশ (রাযি.) মাথার ইঙ্গিতে বললেন, হ্যাঁ। আবূ দাঊদ (রহ.) শু‘বা (রহ.) সূত্রে আ‘মাশ (রাযি.) হতে হাদীসের কিয়দংশ উল্লেখ করেছেন। আবূ মু‘আবিয়াহ (রহ.) অতিরিক্ত বলেছেন, তিনি আবূ বকর (রাযি.)-এর বাঁ দিকে বসেছিলেন এবং আবূ বকর (রাযি.) দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। (১৯৮; মুসলিম ৪/২১, হাঃ ৪১৮, ২৬১৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩১)
হাদিস নং: ৬৬৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابراهيم بن موسى، قال اخبرنا هشام بن يوسف، عن معمر، عن الزهري، قال اخبرني عبيد الله بن عبد الله، قال قالت عاىشة لما ثقل النبي صلى الله عليه وسلم واشتد وجعه استاذن ازواجه ان يمرض في بيتي فاذن له، فخرج بين رجلين تخط رجلاه الارض، وكان بين العباس ورجل اخر‏.‏ قال عبيد الله فذكرت ذلك لابن عباس ما قالت عاىشة فقال لي وهل تدري من الرجل الذي لم تسم عاىشة قلت لا‏.‏ قال هو علي بن ابي طالب‏.‏
৬৬৫. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন একেবারে কাতর হয়ে গেলেন এবং তাঁর রোগের তীব্রতা বেড়ে গেলো, তখন তিনি আমার ঘরে সেবা-শুশ্রূষার জন্য তাঁর অন্যান্য স্ত্রীগণের নিকট সম্মতি চাইলেন। তাঁরা সম্মতি দিলেন। সে সময় দু’ জন লোকের কাঁধে ভর করে (সালাতের জন্য) তিনি বের হলেন, তাঁর দু’ পা মাটিতে হেঁচড়িয়ে যাচ্ছিল। তিনি ছিলেন ‘আব্বাস (রাযি.) ও অপর এক সাহাবীর মাঝখানে। (বর্ণনাকারী) উবাইদুল্লাহ্ (রহ.) বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর বর্ণিত এ ঘটনা ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-এর নিকট ব্যক্ত করি। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জানো, তিনি কে ছিলেন, যার নাম ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেননি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তিনি ছিলেন ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযি.)। (১৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩২)
হাদিস নং: ৬৬৬ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف قال اخبرنا مالك عن نافع ان ابن عمر اذن بالصلاة في ليلة ذات برد وريح ثم قال الا صلوا في الرحال ثم قال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يامر الموذن اذا كانت ليلة ذات برد ومطر يقول الا صلوا في الرحال.
৬৬৬. নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাযি.) একদা তীব্র শীত ও বাতাসের রাতে সালাতের আযান দিলেন। অতঃপর ঘোষণা করলেন, প্রত্যেকেই নিজ নিজ আবাসস্থলে সালাত আদায় করে নাও, অতঃপর তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রচন্ড শীত ও বৃষ্টির রাত হলে মুআয্যিনকে এ কথা বলার নির্দেশ দিতেন- ‘‘প্রত্যেকে নিজ নিজ আবাসস্থলে সালাত আদায় করে নাও।’’ (৬৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩৩)
হাদিস নং: ৬৬৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل، قال حدثني مالك، عن ابن شهاب، عن محمود بن الربيع الانصاري، ان عتبان بن مالك، كان يوم قومه وهو اعمى، وانه قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم يا رسول الله، انها تكون الظلمة والسيل وانا رجل ضرير البصر، فصل يا رسول الله في بيتي مكانا اتخذه مصلى، فجاءه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ‏ "‏ اين تحب ان اصلي ‏"‏‏.‏ فاشار الى مكان من البيت، فصلى فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم‏.‏
৬৬৭. মাহমূদ ইবনু রাবী ‘আল-আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘ইত্বান ইবনু মালিক (রাযি.) তাঁর নিজ গোত্রের ইমামাত করতেন। তিনি ছিলেন অন্ধ। একদা তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কখনো কখনো ঘোর অন্ধকার ও বর্ষণ প্রবাহিত হয়ে পড়ে। অথচ আমি একজন অন্ধ ব্যক্তি। হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার ঘরে কোন এক স্থানে সালাত আদায় করুন যে স্থানটিকে আমার সালাতের স্থান হিসেবে নির্ধারিত করবো। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে এলেন এবং বললেনঃ আমার সালাত আদায়ের জন্য কোন্ জায়গাটি তুমি ভাল মনে কর? তিনি ইঙ্গিত করে ঘরের জায়গা দেখিয়ে দিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে স্থানে সালাত আদায় করলেন। (৪২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩৪)
হাদিস নং: ৬৬৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن عبد الوهاب، قال حدثنا حماد بن زيد، قال حدثنا عبد الحميد، صاحب الزيادي قال سمعت عبد الله بن الحارث، قال خطبنا ابن عباس في يوم ذي ردغ، فامر الموذن لما بلغ حى على الصلاة‏.‏ قال قل الصلاة في الرحال، فنظر بعضهم الى بعض، فكانهم انكروا فقال كانكم انكرتم هذا ان هذا فعله من هو خير مني ـ يعني النبي صلى الله عليه وسلم ـ انها عزمة، واني كرهت ان احرجكم‏.‏ وعن حماد عن عاصم عن عبد الله بن الحارث عن ابن عباس نحوه، غير انه قال كرهت ان اوثمكم، فتجيىون تدوسون الطين الى ركبكم‏.‏
৬৬৮. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু হারিস (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ঝড়-বৃষ্টির দিনে ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) আমাদের উদ্দেশে খুৎবা দিচ্ছিলেন। মুয়াযযিন যখন حَيَّ عَلَى الصَّلاَةِপর্যন্ত পৌঁছল, তখন তিনি তাকে বললেন, ঘোষণা করে দাও যে, ‘‘সালাত যার যার আবাসস্থলে।’’ এ শুনে লোকেরা একে অন্যের দিকে তাকাতে লাগলো- যেন তারা বিষয়টাকে অপছন্দ করলো। তিনি তাদের লক্ষ্য করে বললেন, মনে হয় তোমরা বিষয়টি অপছন্দ করছ। তবে, আমার চেয়ে যিনি উত্তম ছিলেন অর্থাৎ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনিই এরূপ করেছেন। একথা সত্য যে, জুমু‘আর সালাত ওয়াজিব। তবে তোমাদের অসুবিধায় ফেলা আমি পছন্দ করি না। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে এ সূত্রে এমন উল্লেখ আছে, আমি তোমাদের গুনাহর অভিযোগে ফেলতে পছন্দ করি না যে, তোমরা হাঁটু পর্যন্ত কাদা মাড়িয়ে আসবে। (৬১৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩৫)
হাদিস নং: ৬৬৯ সহিহ (Sahih)
مسلم بن ابراهيم قال حدثنا هشام عن يحيى عن ابي سلمة قال سالت ابا سعيد الخدري فقال جاءت سحابة فمطرت حتى سال السقف وكان من جريد النخل فاقيمت الصلاة فرايت رسول الله صلى الله عليه وسلم يسجد في الماء والطين حتى رايت اثر الطين في جبهته.
৬৬৯. আবূ সালামাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.)-কে (লাইলাতুল কাদর সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, এক খন্ড মেঘ এসে এমনভাবে বর্ষণ শুরু করল যে, যার ফলে (মসজিদে নাববীর) ছাদ দিয়ে পানি পড়া শুরু হল। কেননা, (তখন মসজিদের) ছাদ ছিল খেজুরের ডালের তৈরি। এমন সময় সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হলো, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে পানি ও কাদার উপর সিজদা্ করতে দেখলাম, এমন কি আমি তাঁর কপালেও কাদামাটির চিহ্ন দেখলাম। (৮১৩, ৮৩৬, ২০১৬, ২০১৮, ২০২৭, ২০৩৬, ২০৪০; মুসলিম ১৩/৪০ হাঃ ১১৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩৬)
হাদিস নং: ৬৭০ সহিহ (Sahih)
حدثنا ادم، قال حدثنا شعبة، قال حدثنا انس بن سيرين، قال سمعت انسا، يقول قال رجل من الانصار اني لا استطيع الصلاة معك‏.‏ وكان رجلا ضخما، فصنع للنبي صلى الله عليه وسلم طعاما فدعاه الى منزله، فبسط له حصيرا ونضح طرف الحصير، صلى عليه ركعتين‏.‏ فقال رجل من ال الجارود لانس اكان النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يصلي الضحى قال ما رايته صلاها الا يومىذ‏.‏
৬৭০. আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাযি.)-কে বলতে শুনেছি যে, এক আনসারী (সাহাবী) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বললেন, আমি আপনার সাথে মসজিদে এসে সালাত আদায় করতে অপারগ। তিনি ছিলেন মোটা। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্য কিছু খাবার তৈরি করলেন এবং তাঁকে বাড়িতে দাওয়াত করে নিয়ে গেলেন। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এর জন্য একটি চাটাই পেতে দিলেন এবং চাটাইয়ের এক প্রান্তে কিছু পানি ছিটিয়ে দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে চাটাইয়ের উপর দু’ রাকআত সালাত আদায় করলেন। জারূদ গোত্রের এক ব্যক্তি আনাস (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলো, নবী কি চাশ্তের সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, ঐ দিন ছাড়া আর কোন দিন তাঁকে এ সালাত আদায় করতে দেখিনি। (১১৭৯,২০৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩৭)
হাদিস নং: ৬৭১ সহিহ (Sahih)
مسدد قال حدثنا يحيى عن هشام قال حدثني ابي قال سمعت عاىشة عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال اذا وضع العشاء واقيمت الصلاة فابدءوا بالعشاء.
وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَبْدَأُ بِالْعَشَاءِ وَقَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ مِنْ فِقْهِ الْمَرْءِ إِقْبَالُهُ عَلَى حَاجَتِهِ حَتَّى يُقْبِلَ عَلَى صَلاَتِهِ وَقَلْبُهُ فَارِغٌ

ইব্‌নু ’উমার (রাযি.) (সালাতের) পূর্বে রাতের খাবার খেয়ে নিতেন। আবূ দারদা (রাযি.) বলেছেন, জ্ঞানীর পরিচয় হল, প্রথমে নিজের প্রয়োজন মেটানো, যাতে নিশ্চিতভাবে সালাতে মনোনিবেশ করতে পারে।


৬৭১. ’আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন রাতের খাবার উপস্থিত করা হয়, আর সে সময় সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) হয়ে যায়, তখন প্রথমে খাবার খেয়ে নাও। (৫৪৬৫; মুসলিম ৫/১৬, হাঃ ৫৬০, আহমাদ ২৪২২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩৮)


হাদিস নং: ৬৭২ সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير قال حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب عن انس بن مالك ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال اذا قدم العشاء فابدءوا به قبل ان تصلوا صلاة المغرب ولا تعجلوا عن عشاىكم.
৬৭২. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিকেলের খাবার পরিবেশন করা হলে মাগরিবের সালাতের পূর্বে তা খেয়ে নিবে খাওয়া রেখে সালাতে তাড়াহুড়া করবে না। (৫৪৬৩; মুসলিম ৫/১৬, হাঃ ৫৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩৯)
হাদিস নং: ৬৭৩ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبيد بن اسماعيل، عن ابي اسامة، عن عبيد الله، عن نافع، عن ابن عمر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ اذا وضع عشاء احدكم واقيمت الصلاة فابدءوا بالعشاء، ولا يعجل حتى يفرغ منه ‏"‏‏.‏ وكان ابن عمر يوضع له الطعام وتقام الصلاة فلا ياتيها حتى يفرغ، وانه ليسمع قراءة الامام‏.‏
৬৭৩. ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কারো সামনে রাতের খাবার এসে পড়ে, অপরদিকে সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) হয়ে যায়। তখন পূর্বে খাবার খেয়ে নিবে। খাওয়া রেখে সালাতে তাড়াহুড়া করবে না। [নাফি‘ (রহ.) বলেন] ইবনু ‘উমার (রাযি.)-এর জন্য খাবার পরিবেশন করা হত, সে সময় সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হত, তিনি খাবার শেষ না করে সালাতে আসতেন না। অথচ তিনি ইমামের কিরাআত শুনতে পেতেন। (৬৭৪, ৫৪৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৬৩৩ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪০)
হাদিস নং: ৬৭৪ সহিহ (Sahih)
وقال زهير ووهب بن عثمان عن موسى بن عقبة، عن نافع، عن ابن عمر، قال قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ اذا كان احدكم على الطعام فلا يعجل حتى يقضي حاجته منه، وان اقيمت الصلاة ‏"‏‏.‏ رواه ابراهيم بن المنذر عن وهب بن عثمان، ووهب مديني‏.‏
৬৭৪. ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন খাবার খেতে থাক, তখন সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) হয়ে গেলেও খাওয়া শেষ না করে তাড়াহুড়া করবে না। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, আমাকে ইব্রাহীম ইবনু মুনযির (রহ.) এ হাদীসটি ওয়াহ্ব ইবনু উসমান (রহ.) হতে বর্ণনা করেছেন এবং ওয়াহ্ব হলেন মদিনা্বাসী। (মুসলিম ৫/১৬,হাঃ ৫৫৯ আহমাদ ৪৭০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৩৩ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪০ শেষাংশ)
হাদিস নং: ৬৭৫ সহিহ (Sahih)
عبد العزيز بن عبد الله قال حدثنا ابراهيم عن صالح عن ابن شهاب قال اخبرني جعفر بن عمرو بن امية ان اباه قال رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم ياكل ذراعا يحتز منها فدعي الى الصلاة فقام فطرح السكين فصلى ولم يتوضا.
৬৭৫. ‘আমর ইবনু উমাইয়াহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে (বকরীর) সামনের রানের গোশ্ত কেটে খেতে দেখতে পেলাম, এমন সময় তাঁকে সালাতের জন্য ডাকা হলে তিনি ছুরি রেখে দিয়ে উঠে গেলেন ও নতুন উযূ না করেই সালাত আদায় করলেন। (২০৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪১)
হাদিস নং: ৬৭৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا ادم، قال حدثنا شعبة، قال حدثنا الحكم، عن ابراهيم، عن الاسود، قال سالت عاىشة ما كان النبي صلى الله عليه وسلم يصنع في بيته قالت كان يكون في مهنة اهله ـ تعني خدمة اهله ـ فاذا حضرت الصلاة خرج الى الصلاة‏.‏
৬৭৬. আসওয়াদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে থাকা অবস্থায় কী করতেন? তিনি বললেন, ঘরের কাজ-কর্মে ব্যস্ত থাকতেন। অর্থাৎ পরিবারবর্গের সহায়তা করতেন। আর সালাতের সময় হলে সালাতের জন্য চলে যেতেন। (৫৩৬৩, ৬০৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪২)
হাদিস নং: ৬৭৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل، قال حدثنا وهيب، قال حدثنا ايوب، عن ابي قلابة، قال جاءنا مالك بن الحويرث في مسجدنا هذا فقال اني لاصلي بكم، وما اريد الصلاة، اصلي كيف رايت النبي صلى الله عليه وسلم يصلي‏.‏ فقلت لابي قلابة كيف كان يصلي قال مثل شيخنا هذا‏.‏ قال وكان شيخا يجلس اذا رفع راسه من السجود قبل ان ينهض في الركعة الاولى‏.‏
৬৭৭. আবূ কিলাবাহ্ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার মালিক ইবনু হুওয়াইরিস (রাযি.) আমাদের এ মসজিদে এলেন।   তিনি বললেন, আমি অবশ্যই তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করবো, বস্তুত আমার উদ্দেশ্য সালাত আদায় করা নয় বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আমি যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছি, তা তোমাদের দেখানোই আমার উদ্দেশ্য। [আইয়ূব (রহ.) বলেন] আমি আবূ কিলাবা (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কিরূপে সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, আমাদের এই শাইখের মত আর শাইখ প্রথম রাক‘আতের সিজদা্ শেষ করে যখন মাথা উত্তোলন করতেন, তখন দাঁড়ানোর আগে একটু বসতেন। (৮০২, ৮১৮, ৮২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪৩)
হাদিস নং: ৬৭৮ সহিহ (Sahih)
اسحاق بن نصر قال حدثنا حسين عن زاىدة عن عبد الملك بن عمير قال حدثني ابو بردة عن ابي موسى قال مرض النبي صلى الله عليه وسلم فاشتد مرضه فقال مروا ابا بكر فليصل بالناس قالت عاىشة انه رجل رقيق اذا قام مقامك لم يستطع ان يصلي بالناس قال مروا ابا بكر فليصل بالناس فعادت فقال مري ابا بكر فليصل بالناس فانكن صواحب يوسف فاتاه الرسول فصلى بالناس في حياة النبي صلى الله عليه وسلم .
৬৭৮. আবূ মূসা (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হয়ে পড়লেন, ক্রমে তাঁর অসুস্থতা তীব্রতর হলে তিনি বললেন, আবূ বকরকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বল। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বললেন, তিনি তো কোমল হৃদয়ের লোক, যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন তিনি লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে পারবেন না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার বললেন, আবূ বকরকে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) আবার সে কথা বললেন। তখন তিনি আবার বললেন, আবূ বকর (রাযি.)-কে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। তোমরা ইউসুফের (‘আ.) সাথী মহিলাদেরই মতোই। অতঃপর একজন সংবাদদাতা আবূ বকর (রাযি.)-এর নিকট সংবাদ নিয়ে আসলেন এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জীবদ্দশাতেই লোকদেরকে সঙ্গে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। (৩৩৮৫; মুসলিম ৪/২১, হাঃ ৪২০, আহমাদ ১৯৭২০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪৪)
হাদিস নং: ৬৭৯ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف قال اخبرنا مالك عن هشام بن عروة عن ابيه عن عاىشة ام المومنين رضي الله عنها انها قالت ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال في مرضه مروا ابا بكر يصلي بالناس قالت عاىشة قلت ان ابا بكر اذا قام في مقامك لم يسمع الناس من البكاء فمر عمر فليصل للناس فقالت عاىشة فقلت لحفصة قولي له ان ابا بكر اذا قام في مقامك لم يسمع الناس من البكاء فمر عمر فليصل للناس ففعلت حفصة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم مه انكن لانتن صواحب يوسف مروا ابا بكر فليصل للناس فقالت حفصة لعاىشة ما كنت لاصيب منك خيرا.
৬৭৯. উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তিম রোগে আক্রান্ত অবস্থায় বললেন, আবূ বকর (রাযি.)-কে বল সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমি বললাম, আবূ বকর (রাযি.) যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন তাঁর কান্নার দরুন লোকেরা তাঁর কিছুই শুনতে পাবে না। কাজেই ‘উমার (রাযি.)-কে লোকদের নিয়ে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিন। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমি হাফ্সাহ (রাযি.)-কে বললাম, তুমিও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বল যে, আবূ বকর (রাযি.) আপনার স্থানে দাঁড়ালে কান্নার জন্য লোকেরা কিছুই শুনতে পাবে না। তাই ‘উমার (রাযি.)-কে লোকদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করার নির্দেশ দিন। হাফ্সাহ (রাযি.) তাই করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, থাম, তোমরা ইউসুফ (‘আ.)-এর সঙ্গী মহিলাদের মত। আবূ বকর (রাযি.)-কে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বল। তখন হাফ্সাহ (রাযি.) ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে বললেন, আমি তোমার কাছ থেকে কখনও ভাল কিছু পেলাম না। (১৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪৫)
হাদিস নং: ৬৮০ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، قال اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال اخبرني انس بن مالك الانصاري ـ وكان تبع النبي صلى الله عليه وسلم وخدمه وصحبه ان ابا بكر كان يصلي لهم في وجع النبي صلى الله عليه وسلم الذي توفي فيه، حتى اذا كان يوم الاثنين وهم صفوف في الصلاة، فكشف النبي صلى الله عليه وسلم ستر الحجرة ينظر الينا، وهو قاىم كان وجهه ورقة مصحف، ثم تبسم يضحك، فهممنا ان نفتتن من الفرح بروية النبي صلى الله عليه وسلم، فنكص ابو بكر على عقبيه ليصل الصف، وظن ان النبي صلى الله عليه وسلم خارج الى الصلاة، فاشار الينا النبي صلى الله عليه وسلم ان اتموا صلاتكم، وارخى الستر، فتوفي من يومه‏.‏
৬৮০. আনাস ইবনু মালিক আনসারী (রাযি.) যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অনুসারী, খাদিম এবং সাহাবী ছিলেন। তিনি বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তিম রোগে পীড়িত অবস্থায় আবূ বকর (রাযি.) সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করতেন। অবশেষে যখন সোমবার এল এবং লোকেরা সালাতের জন্য কাতারে দাঁড়াল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুজরার পর্দা উঠিয়ে আমাদের দিকে তাকালেন। তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন,তাঁর চেহারা যেন কুরআনে করীমের পৃষ্ঠা (এর ন্যায় ঝলমল করছিল)। তিনি মুচকি হাসলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখতে পেয়ে আমরা খুশীতে প্রায় আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলাম এবং আবূ বকর (রাযি.) কাতারে দাঁড়ানোর জন্য পিছন দিকে সরে আসছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হয়তো সালাতে বেরিয়ে আসবেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ইশারায় জানালেন যে, তোমরা তোমাদের সালাত পূর্ণ করে নাও। অতঃপর তিনি পর্দা ছেড়ে দিলেন। সে দিনই তাঁর ওফাত হয়। (৬৮১,৭৫৪,১২০৫,৪৪৪৮,মুসলিম ৪/২১ হাঃ ৪১৯, আহমাদ ১৩০২৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪৬)
হাদিস নং: ৬৮১ সহিহ (Sahih)
ابو معمر قال حدثنا عبد الوارث قال حدثنا عبد العزيز عن انس بن مالك قال لم يخرج النبي ثلاثا فاقيمت الصلاة فذهب ابو بكر يتقدم فقال نبي الله بالحجاب فرفعه فلما وضح وجه النبي صلى الله عليه وسلم ما نظرنا منظرا كان اعجب الينا من وجه النبي صلى الله عليه وسلم حين وضح لنا فاوما النبي بيده الى ابي بكر ان يتقدم وارخى النبي الحجاب فلم يقدر عليه حتى مات.
৬৮১. আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (রোগাক্রান্ত থাকায়) তিনদিন পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইরে আসেননি। এমতাবস্থায় একসময় সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হল। আবূ বকর (রাযি.) ইমামাত করার জন্য অগ্রসর হচ্ছিলেন। এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরের পর্দা ধরে উঠালেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চেহারা যখন আমাদের সম্মুখে প্রকাশ পেল, তাঁর চেহারার চেয়ে সুন্দর দৃশ্য আমরা আর কখনো দেখিনি। যখন তাঁর চেহারা আমাদের সম্মুখে প্রকাশ পেল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতের ইঙ্গিতে আবূ বকর (রাযি.)-কে (ইমামাতের জন্য) এগিয়ে যেতে বললেন এবং পর্দা ফেলে দিলেন। তারপর মৃত্যুর আগে তাঁকে আর দেখতে পাইনি। (৬৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪৭)
হাদিস নং: ৬৮২ সহিহ (Sahih)
يحيى بن سليمان قال حدثنا ابن وهب قال حدثني يونس عن ابن شهاب عن حمزة بن عبد الله انه اخبره عن ابيه قال لما اشتد برسول الله صلى الله عليه وسلم وجعه قيل له في الصلاة فقال مروا ابا بكر فليصل بالناس قالت عاىشة ان ابا بكر رجل رقيق اذا قرا غلبه البكاء قال مروه فيصلي فعاودته قال مروه فيصلي انكن صواحب يوسف
تابعه الزبيدي وابن اخي الزهري واسحاق بن يحيى الكلبي عن الزهري وقال عقيل ومعمر عن الزهري عن حمزة عن النبي صلى الله عليه وسلم .
৬৮২. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রোগ যখন খুব বেড়ে গেল, তখন তাঁকে সালাতের জামা‘আত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেন, আবূ বকরকে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে নেয়। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমি বললাম, আবূ বকর (রাযি.) অত্যন্ত কোমল মনের লোক। কিরাআতের সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়বেন। তিনি বললেন, তাঁকেই সালাত আদায় করতে বল। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) সে কথার পুনরাবৃত্তি করলেন। তিনি আবার বললেন, তাঁকেই সালাত আদায় করতে বল। তোমরা ইউসুফ (‘আ.)-এর সাথী মহিলাদের মত।

এ হাদীসটি যুহরী (রহ.) হতে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে যুবাইদী, যুহরীর ভাতিজা ও ইসহাক ইবনু ইয়াহ্ইয়া কালবী (রহ.) ইউনুস (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। এবং মা‘মার ও উকাইল (রহ.) যুহরী (রহ.)-এর মাধ্যমে হামযাহ (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীসটি (মুরসাল হিসেবে) বর্ণনা করেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪৮)
অধ্যায় তালিকা