অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৬৭/১. বিয়ে করার অনুপ্রেরণা দান। শ্রবণ করিনি এ ব্যাপারে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেনঃ ‘তোমরা নারীদের মধ্য হতে নিজেদের পছন্দ মত বিয়ে কর।’ (আন-নিসা ৪:৩)
মোট ১৮৮ টি হাদিস
হাদিস নং: ৫১৬৩
সহিহ (Sahih)
وقال ابراهيم عن ابي عثمان ـ واسمه الجعد ـ عن انس بن مالك، قال مر بنا في مسجد بني رفاعة فسمعته يقول كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا مر بجنبات ام سليم دخل عليها فسلم عليها، ثم قال كان النبي صلى الله عليه وسلم عروسا بزينب فقالت لي ام سليم لو اهدينا لرسول الله صلى الله عليه وسلم هدية فقلت لها افعلي. فعمدت الى تمر وسمن واقط، فاتخذت حيسة في برمة، فارسلت بها معي اليه، فانطلقت بها اليه فقال لي " ضعها ". ثم امرني فقال " ادع لي رجالا ـ سماهم ـ وادع لي من لقيت ". قال ففعلت الذي امرني فرجعت فاذا البيت غاص باهله، فرايت النبي صلى الله عليه وسلم وضع يديه على تلك الحيسة، وتكلم بها ما شاء الله، ثم جعل يدعو عشرة عشرة، ياكلون منه، ويقول لهم " اذكروا اسم الله، ولياكل كل رجل مما يليه ". قال حتى تصدعوا كلهم عنها، فخرج منهم من خرج، وبقي نفر يتحدثون قال وجعلت اغتم، ثم خرج النبي صلى الله عليه وسلم نحو الحجرات، وخرجت في اثره فقلت انهم قد ذهبوا. فرجع فدخل البيت، وارخى الستر، واني لفي الحجرة، وهو يقول (يا ايها الذين امنوا لا تدخلوا بيوت النبي صلى الله عليه وسلم الا ان يوذن لكم الى طعام غير ناظرين اناه ولكن اذا دعيتم فادخلوا فاذا طعمتم فانتشروا ولا مستانسين لحديث ان ذلكم كان يوذي النبي فيستحيي منكم والله لا يستحيي من الحق). قال ابو عثمان قال انس انه خدم رسول الله صلى الله عليه وسلم عشر سنين.
৫১৬৩. আবূ ’উসমান বলেন, একদিন আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) আমাদের বানী রিফা’আর মসজিদের নিকট গমনকালে তাকে এ কথা বলতে শুনেছি যে, যখনই উম্মু সুলায়মের নিকট দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেতেন, তাঁকে সালাম দিতেন। আনাস (রাঃ) আরো বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যখন যাইনাব (রাঃ)-এর সঙ্গে বিয়ে হয়, তখন উম্মু সুলায়ম আমাকে বললেন, চল আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্যে কিছু হাদীয়া পাঠাই। আমি তাকে বললাম, হ্যাঁ, এ ব্যবস্থা করুন। তখন তিনি খেজুর, মাখন ও পনির এক সঙ্গে মিশিয়ে হালুয়া বানিয়ে একটি ডেকচিতে করে আমাকে দিয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পাঠালেন। আমি সেসব নিয়ে তাঁর কাছে উপস্থিত হলে তিনি এগুলো রেখে দিতে বলেন এবং আমাকে কয়েকজন লোকের নাম উল্লেখ করে ডেকে আনার আদেশ করেন। আরো বলেন, যার সঙ্গে দেখা হয় তাকেও দাওয়াত দিবে। তিনি যেভাবে আমাকে হুকুম করলেন, আমি সেভাবে কাজ করলাম।
যখন আমি ফিরে এলাম, তখন ঘরে অনেক লোক দেখতে পেলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন হালুয়া (হাইশ) পাত্রের মধ্যে হাত রাখা অবস্থায় ছিলেন এবং আল্লাহ্ তা’আলার মর্জি মোতাবেক কিছু কথা বললেন। তারপর তিনি দশ দশ জন করে লোক খাওয়ার জন্য ডাকলেন এবং বললেন, তোমরা ’বিসমিল্লাহ’ বলে খাওয়া শুরু কর এবং প্রত্যেকে পাত্রের নিজ নিজ দিক হতে খাও। যখন তাদের খাওয়া-দাওয়া শেষ হল তাদের মধ্য থেকে অনেকেই চলে গেল এবং কিছু সংখ্যক লোক কথাবার্তা বলতে থাকল। যা দেখে আমি বিরক্তি বোধ করলাম। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান থেকে বের হয়ে অন্য ঘরে গেলেন। আমিও সেখান থেকে বেরিয়ে এলাম। যখন আমি বললাম, তারাও চলে গেছে তখন তিনি নিজের কক্ষে ফিরে এলেন এবং পর্দা ফেলে দিলেন।
তিনি তাঁর কক্ষে থাকলেন এবং এই আয়াত পাঠ করলেনঃ ’’তোমরা যারা ঈমান এনেছ শোন! নবীগৃহে প্রবেশ কর না যতক্ষণ না তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া হয় খাদ্য গ্রহণের জন্য, (আগেভাগেই এসে পড় না) খাদ্য প্রস্তুতির জন্য অপেক্ষা করে যেন বসে থাকতে না হয়। তবে তোমাদেরকে ডাকা হলে তোমরা প্রবেশ কর। অতঃপর তোমাদের খাওয়া হলে তোমরা চলে যাও। কথাবার্তায় মশগুল হয়ে যেয়ো না। তোমাদের এ কাজ নবীকে কষ্ট দেয়। সে তোমাদেরকে (উঠে যাওয়ার জন্য বলতে) লজ্জাবোধ করে, আল্লাহ সত্য কথা বলতে লজ্জাবোধ করেন না।’’(সূরাহ আল-আহযাব ৩৩ঃ ৫৩) আবূ ’উসমান (রাঃ) বলেন, আনাস(রাঃ) বলেছেন যে, তিনি দশ বছর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাত করেছেন। [৪৭৯১; মুসলিম ১৬/১৩, হাঃ ১৪২৮]
যখন আমি ফিরে এলাম, তখন ঘরে অনেক লোক দেখতে পেলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন হালুয়া (হাইশ) পাত্রের মধ্যে হাত রাখা অবস্থায় ছিলেন এবং আল্লাহ্ তা’আলার মর্জি মোতাবেক কিছু কথা বললেন। তারপর তিনি দশ দশ জন করে লোক খাওয়ার জন্য ডাকলেন এবং বললেন, তোমরা ’বিসমিল্লাহ’ বলে খাওয়া শুরু কর এবং প্রত্যেকে পাত্রের নিজ নিজ দিক হতে খাও। যখন তাদের খাওয়া-দাওয়া শেষ হল তাদের মধ্য থেকে অনেকেই চলে গেল এবং কিছু সংখ্যক লোক কথাবার্তা বলতে থাকল। যা দেখে আমি বিরক্তি বোধ করলাম। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান থেকে বের হয়ে অন্য ঘরে গেলেন। আমিও সেখান থেকে বেরিয়ে এলাম। যখন আমি বললাম, তারাও চলে গেছে তখন তিনি নিজের কক্ষে ফিরে এলেন এবং পর্দা ফেলে দিলেন।
তিনি তাঁর কক্ষে থাকলেন এবং এই আয়াত পাঠ করলেনঃ ’’তোমরা যারা ঈমান এনেছ শোন! নবীগৃহে প্রবেশ কর না যতক্ষণ না তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া হয় খাদ্য গ্রহণের জন্য, (আগেভাগেই এসে পড় না) খাদ্য প্রস্তুতির জন্য অপেক্ষা করে যেন বসে থাকতে না হয়। তবে তোমাদেরকে ডাকা হলে তোমরা প্রবেশ কর। অতঃপর তোমাদের খাওয়া হলে তোমরা চলে যাও। কথাবার্তায় মশগুল হয়ে যেয়ো না। তোমাদের এ কাজ নবীকে কষ্ট দেয়। সে তোমাদেরকে (উঠে যাওয়ার জন্য বলতে) লজ্জাবোধ করে, আল্লাহ সত্য কথা বলতে লজ্জাবোধ করেন না।’’(সূরাহ আল-আহযাব ৩৩ঃ ৫৩) আবূ ’উসমান (রাঃ) বলেন, আনাস(রাঃ) বলেছেন যে, তিনি দশ বছর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাত করেছেন। [৪৭৯১; মুসলিম ১৬/১৩, হাঃ ১৪২৮]
হাদিস নং: ৫১৬৪
সহিহ (Sahih)
حدثني عبيد بن اسماعيل، حدثنا ابو اسامة، عن هشام، عن ابيه، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ انها استعارت من اسماء قلادة، فهلكت، فارسل رسول الله صلى الله عليه وسلم ناسا من اصحابه في طلبها، فادركتهم الصلاة فصلوا بغير وضوء، فلما اتوا النبي صلى الله عليه وسلم شكوا ذلك اليه، فنزلت اية التيمم. فقال اسيد بن حضير جزاك الله خيرا، فوالله ما نزل بك امر قط، الا جعل لك منه مخرجا، وجعل للمسلمين فيه بركة.
৫১৬৪. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, তিনি আসমা (রাঃ) থেকে গলার একছড়া হার ধার হিসাবে এনেছিলেন। এরপর তা হারিয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কয়েকজন সাহাবীকে তা খোঁজ করে বের করার জন্য পাঠালেন। এমন সময় সালাতের ওয়াক্ত হয়ে গেলে তারা বিনা ওযূতে সালাত আদায় করলেন। এরপর যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে হাযির হয়ে অভিযোগ করলেন, তখন তায়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ হল। উসায়দ ইবনু হুযায়র (রাঃ) বললেন, [হে ’আয়িশাহ (রাঃ)!] আল্লাহ্ আপনাকে উত্তম পুরস্কার দান করুন! কারণ যখনই আপনার ওপর কোন অসুবিধা আসে, তখনই আল্লাহ্ তা’আলার তরফ থেকে তা আপনার জন্য বিপদমুক্তির ও উম্মাতের জন্য বারাকাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। [৩৩৪](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৮৬)
হাদিস নং: ৫১৬৫
সহিহ (Sahih)
سعد بن حفص حدثنا شيبان عن منصور عن سالم بن ابي الجعد عن كريب عن ابن عباس قال قال النبي صلى الله عليه وسلم اما لو ان احدهم يقول حين ياتي اهله“ بسم الله اللهم جنبني الشيطان وجنب الشيطان ما رزقتنا ثم قدر بينهما في ذ‘لك او قضي ولد لم يضره“ شيطان ابدا.
৫১৬৫. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যখন যৌন সঙ্গম করে, তখন যেন সে বলে, ’’বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনিশ শায়তানা ওয়া জান্নিবিশ শায়তানা মা রাযাকতানা’’-আল্লাহর নামে শুরু করছি, হে আল্লাহ্! আমাকে তুমি শয়তান থেকে দূরে রাখ এবং আমাকে তুমি যা দান করবে তা থেকে শয়তানকে দূরে রাখ। এরপরে যদি তাদের দু’জনের মাঝে কিছু ফল দেয়া হয় অথবা বাচ্চা পয়দা হয়, তাকে শয়তান কখনো ক্ষতি করতে পারবে না। [১৪১](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৮৭)
হাদিস নং: ৫১৬৬
সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير قال حدثني الليث عن عقيل عن ابن شهاب قال اخبرني انس بن مالك انه“ كان ابن عشر سنين مقدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة فكان امهاتي يواظبنني على خدمة النبي صلى الله عليه وسلم فخدمته“ عشر سنين وتوفي النبي صلى الله عليه وسلم وانا ابن عشرين سنة فكنت اعلم الناس بشان الحجاب حين انزل وكان اول ما انزل في مبتنى رسول الله صلى الله عليه وسلم بزينب بنت جحش اصبح النبي صلى الله عليه وسلم بها عروسا فدعا القوم فاصابوا من الطعام ثم خرجوا وبقي رهط منهم عند النبي صلى الله عليه وسلم فاطالوا المكث فقام النبي صلى الله عليه وسلم فخرج وخرجت معه“ لكي يخرجوا فمشى النبي صلى الله عليه وسلم ومشيت حتى جاء عتبة حجرة عاىشة ثم ظن انهم خرجوا فرجع ورجعت معه“ حتى اذا دخل على زينب فاذا هم جلوس لم يقوموا فرجع النبي صلى الله عليه وسلم ورجعت معه“ حتى اذا بلغ عتبة حجرة عاىشة وظن انهم خرجوا فرجع ورجعت معه“ فاذا هم قد خرجوا فضرب النبي صلى الله عليه وسلم بيني وبينه“ بالستر وانزل الحجاب.
وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمٰنِ بْنُ عَوْفٍ قَالَ لِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَوْلِمْ وَلَوْ بِشَاةٍ.
’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ওয়ালীমার ব্যবস্থা কর, একটি বকরী দিয়ে হলেও।
৫১৬৬. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আসেন তখন আমার বয়স দশ বছর ছিল। আমার মা, চাচী ও ফুফুরা আমাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদিম হবার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। এরপর আমি দশ বছরকাল তাঁর খেদমত করি। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকাল হয় তখন আমার বয়স ছিল বিশ বছর। আমি পর্দা সম্পর্কে অন্যদের চেয়ে অধিক জানি। পর্দা সম্পর্কীয় প্রাথমিক আয়াতসমূহ যয়নাব বিনতে জাহাশ (রাঃ)-এর সঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাসর রাত যাপনের সময় অবতীর্ণ হয়েছিল। সেদিন সকাল বেলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুলহা ছিলেন এবং লোকদেরকে ওয়ালীমার দাওয়াত করলেন। সুতরাং তাঁরা এসে খানা খেলেন। কিছু লোক ব্যতীত সবাই চলে গেলেন। তাঁরা দীর্ঘ সময় অবস্থান করলেন।
তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে বাইরে গেলেন। আমিও তাঁর পিছু পিছু চলে এলাম, যাতে করে অন্যেরাও বের হয়ে আসে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনের দিকে এগিয়ে গেলেন, এমন কি তিনি ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর কক্ষের নিকট পর্যন্ত গেলেন, এরপরে বাকি লোকগুলো হয়ত চলে গেছে এ কথা ভেবে তিনি ফিরে এলেন, আমিও তাঁর সঙ্গে ফিরে এলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাইনাব (রাঃ)-এর কক্ষে প্রবেশ করে দেখতে পেলেন যে, লোকগুলো বসে রয়েছে- চলে যায়নি। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় বাইরে বেরুলেন এবং আমি তাঁর সঙ্গে এলাম। যখন আমরা ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর কক্ষের নিকট পর্যন্ত পৌঁছলাম, তিনি ভাবলেন যে, এতক্ষণে হয়ত লোকগুলো চলে গেছে। তিনি ফিরে এলেন। আমিও তাঁর সঙ্গে ফিরে এসে দেখলাম যে, লোকগুলো চলে গেছে। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ও তাঁর মাঝখানে একটি পর্দা টেনে দিলেন। এ সময় পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হল। [৪৭৯১](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৮৮)
’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ওয়ালীমার ব্যবস্থা কর, একটি বকরী দিয়ে হলেও।
৫১৬৬. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আসেন তখন আমার বয়স দশ বছর ছিল। আমার মা, চাচী ও ফুফুরা আমাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদিম হবার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। এরপর আমি দশ বছরকাল তাঁর খেদমত করি। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকাল হয় তখন আমার বয়স ছিল বিশ বছর। আমি পর্দা সম্পর্কে অন্যদের চেয়ে অধিক জানি। পর্দা সম্পর্কীয় প্রাথমিক আয়াতসমূহ যয়নাব বিনতে জাহাশ (রাঃ)-এর সঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাসর রাত যাপনের সময় অবতীর্ণ হয়েছিল। সেদিন সকাল বেলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুলহা ছিলেন এবং লোকদেরকে ওয়ালীমার দাওয়াত করলেন। সুতরাং তাঁরা এসে খানা খেলেন। কিছু লোক ব্যতীত সবাই চলে গেলেন। তাঁরা দীর্ঘ সময় অবস্থান করলেন।
তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে বাইরে গেলেন। আমিও তাঁর পিছু পিছু চলে এলাম, যাতে করে অন্যেরাও বের হয়ে আসে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনের দিকে এগিয়ে গেলেন, এমন কি তিনি ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর কক্ষের নিকট পর্যন্ত গেলেন, এরপরে বাকি লোকগুলো হয়ত চলে গেছে এ কথা ভেবে তিনি ফিরে এলেন, আমিও তাঁর সঙ্গে ফিরে এলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাইনাব (রাঃ)-এর কক্ষে প্রবেশ করে দেখতে পেলেন যে, লোকগুলো বসে রয়েছে- চলে যায়নি। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় বাইরে বেরুলেন এবং আমি তাঁর সঙ্গে এলাম। যখন আমরা ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর কক্ষের নিকট পর্যন্ত পৌঁছলাম, তিনি ভাবলেন যে, এতক্ষণে হয়ত লোকগুলো চলে গেছে। তিনি ফিরে এলেন। আমিও তাঁর সঙ্গে ফিরে এসে দেখলাম যে, লোকগুলো চলে গেছে। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ও তাঁর মাঝখানে একটি পর্দা টেনে দিলেন। এ সময় পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হল। [৪৭৯১](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৮৮)
হাদিস নং: ৫১৬৭
সহিহ (Sahih)
علي حدثنا سفيان قال حدثني حميد انه“ سمع انسا قال سال النبي صلى الله عليه وسلم عبد الرحمن بن عوف وتزوج امراة من الانصار كم اصدقتها قال وزن نواة من ذهب وعن حميد سمعت انسا قال لما قدموا المدينة نزل المهاجرون على الانصار فنزل عبد الرحمن بن عوف على سعد بن الربيع فقال اقاسمك مالي وانزل لك عن احدى امراتي قال بارك الله لك في اهلك ومالك فخرج الى السوق فباع واشتر‘ى فاصاب شيىا من اقط وسمن فتزوج فقال النبي صلى الله عليه وسلم اولم ولو بشاة.
৫১৬৭. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ (রাঃ) একজন আনসারী মহিলাকে বিয়ে করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, কী পরিমাণ মাহর দিয়েছ? তিনি উত্তর করলেন, খেজুরের আঁটির পরিমাণ স্বর্ণ দিয়েছি। আনাস (রাঃ) আরও বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ মদিনায় আসলেন, তখন মুহাজিরগণ আনসারদের গৃহে অবস্থান করতেন। আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ (রাঃ) সা’দ ইবনু রাবী (রাঃ)-এর গৃহে অবস্থান করতেন। সা’দ (রাঃ) ’আবদুর রহমান (রাঃ)-কে বললেন, আমি আমার বিষয়-সম্পত্তি দু’ভাগ করে আমরা উভয়ে সমান ভাগে ভাগ করে নেব এবং আমি আমার দু’ স্ত্রীর মধ্যে একজন তোমাকে দেব। ’আবদুর রহমান (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ তোমার সম্পত্তি ও স্ত্রীতে বারকাত দান করুন। তারপর ’আবদুর রহমান (রাঃ) বাজারে গেলেন এবং ব্যবসা করতে লাগলেন এবং লাভ হিসেবে কিছু পনির ও ঘি পেলেন এবং বিয়ে করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, একটি ছাগল দিয়ে হলেও ওয়ালীমাহ কর। [২০৪৯](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৮৯)
হাদিস নং: ৫১৬৮
সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب حدثنا حماد عن ثابت عن انس قال ما اولم النبي صلى الله عليه وسلم على شيء من نساىه„ ما اولم على زينب اولم بشاة.
৫১৬৮. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন বিয়ে করেন, তখন ওয়ালীমা করেন, কিন্তু যাইনাব (রাঃ)-এর বিয়ের সময় যে পরিমাণ ওয়ালীমার ব্যবস্থা করেছিলেন, তা অন্য কারো বেলায় করেননি। সেই ওয়ালীমা ছিল একটি ছাগল দিয়ে। [৪৭৯১](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৯০)
হাদিস নং: ৫১৬৯
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا عبد الوارث عن شعيب عن انس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اعتق صفية وتزوجها وجعل عتقها صداقها واولم عليها بحيس.
৫১৬৯. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফিয়্যাহ (রাঃ)-কে আযাদ করে বিয়ে করেন এবং এই আযাদ করাকেই তাঁর মাহর নির্দিষ্ট করেন এবং তার ’হায়স’(এক প্রকার সুস্বাদু হালুয়া) দ্বারা ওয়ালীমাহ’র ব্যবস্থা করেন। [৩৭১](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৯১)
হাদিস নং: ৫১৭০
সহিহ (Sahih)
مالك بن اسماعيل حدثنا زهير عن بيان قال سمعت انسا يقول بنى النبي صلى الله عليه وسلم بامراة فارسلني فدعوت رجالا الى الطعام.
৫১৭০. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এক সহধর্মিণীর সঙ্গে বাসর ঘরের ব্যবস্থা করলেন এবং ওয়ালীমার দাওয়াত দেয়ার জন্য আমাকে পাঠালেন। [৪৭৯১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৯২)
হাদিস নং: ৫১৭১
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا حماد بن زيد عن ثابت قال ذكر تزويج زينب بنت جحش عند انس فقال ما رايت النبي صلى الله عليه وسلم اولم على احد من نساىه„ ما اولم عليها اولم بشاة.
৫১৭১. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, যায়নাবের বিয়ের আলোচনায় আনাস (রাঃ) উপস্থিত হয়ে তিনি বললেন, যায়নাব বিনতে জাহাশের সঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিয়ের সময় যে ওয়ালীমার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তার চেয়ে বড় ওয়ালীমার ব্যবস্থা তাঁর অন্য কোন স্ত্রীর বিয়েতে আমি দেখিনি। এতে তিনি একটি ছাগল দ্বারা ওয়ালীমা করেন। [৪৭৯১](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৯৩)
হাদিস নং: ৫১৭২
সহিহ (Sahih)
محمد بن يوسف حدثنا سفيان عن منصور بن صفية عن امه„ صفية بنت شيبة قالت اولم النبي صلى الله عليه وسلم على بعض نساىه„ بمدين من شعير.
৫১৭২. সফীয়্যাহ বিনতে শাইবাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামতাঁর কোন এক স্ত্রীর বিয়েতে দুই মুদ (চার সের) যব দ্বারা ওয়ালীমার ব্যবস্থা করেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৯৪)
হাদিস নং: ৫১৭৩
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن نافع عن عبد الله بن عمر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال اذا دعي احدكم الى الوليمة فلياتها.
وَلَمْ يُوَقَّتِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا وَلاَ يَوْمَيْنِ.
কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়ালীমার সময় এক বা দু’ দিন ধার্য করেননি
৫১৭৩. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কাউকে ওয়ালীমার দাওয়াত করা হলে তা অবশ্যই গ্রহণ করবে। [৫১৭৯; মুসলিম ১৬/১৫, হাঃ ১৪২৯, আহমাদ ৪৯৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৯৫)
কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়ালীমার সময় এক বা দু’ দিন ধার্য করেননি
৫১৭৩. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কাউকে ওয়ালীমার দাওয়াত করা হলে তা অবশ্যই গ্রহণ করবে। [৫১৭৯; মুসলিম ১৬/১৫, হাঃ ১৪২৯, আহমাদ ৪৯৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৯৫)
হাদিস নং: ৫১৭৪
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى عن سفيان قال حدثني منصور عن ابي واىل عن ابي موسى عن النبي صلى الله عليه وسلم قال فكوا العاني واجيبوا الداعي وعودوا المريض.
৫১৭৪. আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বন্দীদেরকে মুক্তি দাও, দাওয়াত কবূল কর এবং রোগীদের সেবা কর। [৩০৪৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৯৬)
হাদিস নং: ৫১৭৫
সহিহ (Sahih)
الحسن بن الربيع حدثنا ابو الاحوص عن الاشعث عن معاوية بن سويد قال البراء بن عازب امرنا النبي صلى الله عليه وسلم بسبع ونهانا عن سبع امرنا بعيادة المريض واتباع الجنازة وتشميت العاطس وابرار القسم ونصر المظلوم وافشاء السلام واجابة الداعي ونهانا عن خواتيم الذهب وعن انية الفضة وعن المياثر والقسية والاستبرق والديباج تابعه“ ابو عوانة والشيباني عن اشعث في افشاء السلام.
৫১৭৫. বারাআ ইবনু ’আযিব (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সাতটি কাজ করতে বলেছেন এবং সাতটি কাজ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদেরকে রোগীর সেবা করার, জানাযায় অংশগ্রহণ করার, হাঁচি দিলে তার জবাব দেয়ার, কসম পুরা করায় সহযোগিতা করার, মযলুমকে সাহায্য করার, সালামের বিস্তার করার এবং কেউ দাওয়াত দিলে তা কবূল করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি আমাদের নিষেধ করেছেন স্বর্ণের আংটি পরতে, রুপার পাত্র ব্যবহার করতে, ঘোড়ার পিঠের ওপরে রেশমী গদি ব্যবহার করতে এবং ’কাসসিয়া’ বা পাতলা রেশমী কাপড় এবং দ্বীবাজ ব্যবহার করতে। আবূ ’আওয়ানাহ এবং শায়বানী আশ্আস সূত্রে সালামের বিস্তারের কথা সমর্থন করে বর্ণনা করেন। [১২৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৯৭)
হাদিস নং: ৫১৭৬
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا عبد العزيز بن ابي حازم عن ابي حازم عن سهل بن سعد قال دعا ابو اسيد الساعدي رسول الله صلى الله عليه وسلم في عرسه„ وكانت امراته“ يومىذ خادمهم وهي العروس قال سهل تدرون ما سقت رسول الله صلى الله عليه وسلم انقعت له“ تمرات من الليل فلما اكل سقته“ اياه.
৫১৭৬. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ উসায়দ আস্ সা’ঈদী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার বিয়ে উপলক্ষে ওয়ালীমায় দাওয়াত করলেন। তাঁর নববধু সেদিন খাদ্য পরিবেশন করছিলেন। সাহল বলেন, তোমরা কি জান, সে দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কী পানীয় দেয়া হয়েছিল? সারারাত ধরে কিছু খেজুর পানির মধ্যে ভিজিয়ে রেখে তা থেকে তৈরি পানীয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খাওয়া শেষ করলেন, তখন তাঁকে ঐ পানীয়ই পান করতে দেয়া হল। [৫১৮২, ৫১৮৩, ৫৫৯১, ৫৫৯৭, ৬৬৮৫; মুসলিম ৩৬/৯, হাঃ ২০০৬, আহমাদ ৭২৮৩](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৯৮)
হাদিস নং: ৫১৭৭
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن ابن شهاب عنالاعرج عن ابي هريرة انه“ كان يقول شر الطعام طعام الوليمة يدعى لها الاغنياء ويترك الفقراء ومن ترك الدعوة فقد عصى الله ورسوله“ صلى الله عليه وسلم.
৫১৭৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ওয়ালীমায় কেবল ধনীদেরকে দাওয়াত করা হয় এবং গরীবদেরকে দাওয়াত করা হয় না সেই ওয়ালীমা সবচেয়ে নিকৃষ্ট। যে ব্যক্তি দাওয়াত কবুল করে না, সে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে অবাধ্যতা করে। [মুসলিম ১৬/১৪, হাঃ ১৪৩২, আহমাদ ৭২৮৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৯৯)
হাদিস নং: ৫১৭৮
সহিহ (Sahih)
عبدان عن ابي حمزة عنالاعمش عن ابي حازم عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لو دعيت الى كراع لاجبت ولو اهدي الي كراع لقبلت.
৫১৭৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমাকে পায়া খেতে দাওয়াত দেয়া হলে আমি তা কবুল করব এবং আমাকে যদি কেউ পায়া হাদীয়া দেয়, তবে আমি তা অবশ্যই গ্রহণ করব। [২৫৬৮](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮০০)
হাদিস নং: ৫১৭৯
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله بن ابراهيم حدثنا الحجاج بن محمد قال قال ابن جريج اخبرني موسى بن عقبة عن نافع قال سمعت عبد الله بن عمر يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اجيبوا هذه„ الدعوة اذا دعيتم لها قال وكان عبد الله ياتي الدعوة في العرس وغير العرس وهو صاىم.
৫১৭৯. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যদি তোমাদেরকে বিয়ে অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেয়া হয়, তবে তা রক্ষা কর। নাফি’ বলেন, ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ)-এর নিয়ম ছিল, তিনি সওমরত অবস্থাতেও বিয়ের বা অন্য কোন দাওয়াত রক্ষা করতেন। [৫১৭৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮০১)
হাদিস নং: ৫১৮০
সহিহ (Sahih)
عبد الرحمن بن المبارك حدثنا عبد الوارث حدثنا عبد العزيز بن صهيب عن انس بن مالك قال ابصر النبي صلى الله عليه وسلم نساء وصبيانا مقبلين من عرس فقام ممتنا فقال اللهم انتم من احب الناس الي.
৫১৮০. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু সংখ্যক মহিলা এবং শিশুকে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফিরতে দেখলেন। তিনি আনন্দে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন, আমি আল্লাহর নামে বলছি, তোমরা সকল মানুষের চেয়ে আমার কাছে প্রিয়। [৩৭৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮০২)
হাদিস নং: ৫১৮১
সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني مالك عن نافع عن القاسم بن محمد عن عاىشة زوج النبيصلى الله عليه وسلم انها اخبرته“ انها اشترت نمرقة فيها تصاوير فلما راها رسول الله صلى الله عليه وسلم قام على الباب فلم يدخل فعرفت في وجهه الكراهية فقلت يا رسول الله اتوب الى الله والى رسوله„ ماذا اذنبت فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما بال هذه النمرقة قالت فقلت اشتريتها لك لتقعد عليها وتوسدها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان اصحاب هذه„ الصور يعذبون يوم القيامة ويقال لهم احيوا ما خلقتم وقال ان البيت الذي فيه الصور لا تدخله الملاىكة.
وَرَأٰى أَبُو مَسْعُودٍ صُورَةً فِي الْبَيْتِ فَرَجَعَ.
وَدَعَا ابْنُ عُمَرَ أَبَا أَيُّوبَ فَرَأٰى فِي الْبَيْتِ سِتْرًا عَلَى الْجِدَارِ فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ غَلَبَنَا عَلَيْهِ النِّسَاءُ فَقَالَ مَنْ كُنْتُ أَخْشٰى عَلَيْهِ فَلَمْ أَكُنْ أَخْشٰى عَلَيْكَ وَاللهِ لاَ أَطْعَمُ لَكُمْ طَعَامًا فَرَجَع.َ
ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) কোন এক বাড়িতে (প্রাণীর) ছবি দেখে ফিরে এলেন।
ইবনু ’উমার (রাঃ) আবূ আইয়ুব (রাঃ)-কে দাওয়াত করে বাড়িতে আনলেন। তিনি এসে ঘরের দেয়ালের পর্দায় ছবি দেখতে পেলেন। এরপর ইবনু ’উমার (রাঃ) এ ব্যাপারে বললেন, মহিলাদের সঙ্গে পেরে উঠিনি। আবূ আইয়ুব (রাঃ) বললেন, আমি যাদের সম্পর্কে আশংকা করেছিলাম, তাতে আপনার ব্যাপারে আশঙ্কা করিনি। আল্লাহর কসম, আমি আপনার ঘরে কোন খাদ্য খাব না। এরপর তিনি চলে গেলেন।
৫১৮১. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একটি বালিশ বা গদি কিনে এনেছিলাম, যার মধ্যে ছবি ছিল। যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ছবিটি দেখলেন, তিনি দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে গেলেন; ভিতরে প্রবেশ করলেন না। আমি বুঝতে পারলাম যে, তাঁর চোখে এটা অত্যন্ত অপছন্দনীয় ব্যাপার। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আল্লাহর কাছে তওবা করছি এবং তাঁর রাসূলের কাছে ফিরে আসছি। আমি কী অন্যায় করেছি? তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ বালিশ কিসের জন্য? আমি বললাম, এটা আপনার জন্য খরিদ করে এনেছি, যাতে আপনি বসতে পারেন এবং হেলান দিতে পারেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই ছবি নির্মাতাকে কিয়ামতের দিন শাস্তি প্রদান করা হবে এবং বলা হবে, যা তুমি সৃষ্টি করেছ তার প্রাণ দাও এবং তিনি আরও বলেন, যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকে, সে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না। [২১০৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮০৩)
وَدَعَا ابْنُ عُمَرَ أَبَا أَيُّوبَ فَرَأٰى فِي الْبَيْتِ سِتْرًا عَلَى الْجِدَارِ فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ غَلَبَنَا عَلَيْهِ النِّسَاءُ فَقَالَ مَنْ كُنْتُ أَخْشٰى عَلَيْهِ فَلَمْ أَكُنْ أَخْشٰى عَلَيْكَ وَاللهِ لاَ أَطْعَمُ لَكُمْ طَعَامًا فَرَجَع.َ
ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) কোন এক বাড়িতে (প্রাণীর) ছবি দেখে ফিরে এলেন।
ইবনু ’উমার (রাঃ) আবূ আইয়ুব (রাঃ)-কে দাওয়াত করে বাড়িতে আনলেন। তিনি এসে ঘরের দেয়ালের পর্দায় ছবি দেখতে পেলেন। এরপর ইবনু ’উমার (রাঃ) এ ব্যাপারে বললেন, মহিলাদের সঙ্গে পেরে উঠিনি। আবূ আইয়ুব (রাঃ) বললেন, আমি যাদের সম্পর্কে আশংকা করেছিলাম, তাতে আপনার ব্যাপারে আশঙ্কা করিনি। আল্লাহর কসম, আমি আপনার ঘরে কোন খাদ্য খাব না। এরপর তিনি চলে গেলেন।
৫১৮১. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একটি বালিশ বা গদি কিনে এনেছিলাম, যার মধ্যে ছবি ছিল। যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ছবিটি দেখলেন, তিনি দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে গেলেন; ভিতরে প্রবেশ করলেন না। আমি বুঝতে পারলাম যে, তাঁর চোখে এটা অত্যন্ত অপছন্দনীয় ব্যাপার। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আল্লাহর কাছে তওবা করছি এবং তাঁর রাসূলের কাছে ফিরে আসছি। আমি কী অন্যায় করেছি? তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ বালিশ কিসের জন্য? আমি বললাম, এটা আপনার জন্য খরিদ করে এনেছি, যাতে আপনি বসতে পারেন এবং হেলান দিতে পারেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই ছবি নির্মাতাকে কিয়ামতের দিন শাস্তি প্রদান করা হবে এবং বলা হবে, যা তুমি সৃষ্টি করেছ তার প্রাণ দাও এবং তিনি আরও বলেন, যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকে, সে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না। [২১০৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮০৩)
হাদিস নং: ৫১৮২
সহিহ (Sahih)
سعيد بن ابي مريم حدثنا ابو غسان قال حدثني ابو حازم عن سهل قال لما عرس ابو اسيد الساعدي دعا النبي صلى الله عليه وسلم واصحابه“ فما صنع لهم طعاما ولا قربه“ اليهم الا امراته“ ام اسيد بلت تمرات في تور من حجارة من الليل فلما فرغ النبي صلى الله عليه وسلممن الطعام اماثته“ له“ فسقته“ تتحفه“ بذلك.
৫১৮২. সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আবূ উসায়দ আস্ সা’ঈদী (রাঃ) তাঁর ওয়ালীমায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণকে দাওয়াত দিলেন, তখন তাঁর নববধূ উম্মু উসায়দ ব্যতীত আর কেউ সে খাদ্য প্রস্তুত এবং পরিবেশন করেননি। তিনি একটি পাথরের পাত্রে সারা রাত পানির মধ্যে খেজুর ভিজিয়ে রাখেন। যখন খাওয়া-দাওয়া শেষ করেন, তখন সেই তোহফা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পান করান। [৫১৭৬](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮০৪)