অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৬৭/১. বিয়ে করার অনুপ্রেরণা দান। শ্রবণ করিনি এ ব্যাপারে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেনঃ ‘তোমরা নারীদের মধ্য হতে নিজেদের পছন্দ মত বিয়ে কর।’ (আন-নিসা ৪:৩)
মোট ১৮৮ টি হাদিস
হাদিস নং: ৫১২৩ সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا الليث عن يزيد بن ابي حبيب عن عراك بن مالك ان زينب بنت ابي سلمة اخبرته“ ان ام حبيبة قالت لرسول الله صلى الله عليه وسلم انا قد تحدثنا انك ناكح درة بنت ابي سلمة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اعلى ام سلمة لو لم انكح ام سلمة ما حلت لي ان اباها اخي من الرضاعة.
৫১২৩. ইরাক ইবনু মালিক (রহ.) হতে বর্ণিত যে, যাইনাব বিন্তে আবূ সালামাহ (রাঃ) তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন যে, উম্মু হাবীবাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বলেছেন, আপনি দুররাহ্ বিন্তে আবূ সালামাহ্কে বিয়ে করতে যাচ্ছেন। এ কথা আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, উম্মু সালামাহ থাকতে আমি তাকে বিয়ে করব? যদি আমি উম্মু সালামাহকে বিয়ে না-ও করতাম, তবুও সে আমার জন্য হালাল হত না। কেননা তার পিতা আমার দুধভাই। [৫১০১](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৪৮)
হাদিস নং: ৫১২৪ সহিহ (Sahih)
وقال لي طلق حدثنا زاىدة، عن منصور، عن مجاهد، عن ابن عباس، ‏(‏فيما عرضتم‏)‏ يقول اني اريد التزويج، ولوددت انه تيسر لي امراة صالحة‏.‏ وقال القاسم يقول انك على كريمة، واني فيك لراغب، وان الله لساىق اليك خيرا‏.‏ او نحو هذا‏.‏ وقال عطاء يعرض ولا يبوح يقول ان لي حاجة وابشري، وانت بحمد الله نافقة‏.‏ وتقول هي قد اسمع ما تقول‏.‏ ولا تعد شيىا ولا يواعد وليها بغير علمها، وان واعدت رجلا في عدتها ثم نكحها بعد لم يفرق بينهما‏.‏ وقال الحسن ‏(‏لا تواعدوهن سرا‏)‏ الزنا‏.‏ ويذكر عن ابن عباس ‏(‏الكتاب اجله‏)‏ تنقضي العدة‏.‏
أَكْنَنْتُمْ أَضْمَرْتُمْ وَكُلُّ شَيْءٍ صُنْتَه“ وَأَضْمَرْتَه“ فَهُوَ مَكْنُونٌ. أَكْنَنْتُمْ

আরবী অর্থ- তোমরা গোপনে মনে পোষণ কর, প্রত্যেক বস্তু যা তুমি গোপনে রাখ তা হলো ’মাকনূন’।


৫১২৪. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ ’’যদি কোন ব্যক্তি ইদ্দাত পালনকারী কোন মহিলাকে বলে যে, আমার বিয়ে করার ইচ্ছে আছে। আমি কোন নেককার মহিলাকে পেতে ইচ্ছে পোষণ করি।’’ কাসিম (রহ.) বলেন, এ আয়াতের ব্যাখ্যা হচ্ছে, যেন কোন ব্যক্তি বলল, তুমি আমার কাছে খুবই সম্মানিতা এবং আমি তোমাকে পছন্দ করি। আল্লাহ্ তোমার জন্য কল্যাণ বর্ষণ করুন। অথবা এ ধরনের উক্তি। ’আত্বা (রহ.) বলেন, বিয়ের ইচ্ছে ইশারায় ব্যক্ত করা উচিত, খোলাখুলি এ ধরনের কোন কথা বলা ঠিক নয়। কেউ এ ধরনের বলতে পারে, আমার এ সকল গুণের প্রয়োজন আছে। আর তোমার জন্য সুখবর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য আপনি পুনঃ বিয়ের উপযুক্ত। সে মহিলাও বলতে পারে- আপনি যা বলেছেন, তা আমি শুনেছি কিন্তু এর অধিক ওয়াদা করা ঠিক নয়। তার অভিভাবকদেরও তার অজ্ঞাতে কোন প্রকার ওয়াদা দেয়া ঠিক নয়। কিন্তু যদি কেউ ইদ্দাতের মাঝে কাউকে বিয়ের কোন প্রকার ওয়াদা করে এবং ইদ্দাত শেষে সে ব্যক্তি যদি তাকে বিয়ে করে তবে সেই বিয়ে বিচ্ছেদ করতে হবে না। হাসান (রহ.) বলেছে‏ন لاَ تُوَاعِدُوهُنَّ سِرًّا এর অর্থ হলঃ ব্যভিচার।

ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে এ কথা বলা হয় যে, ‏الْكِتَابُ أَجَلَهُ‏‏ অর্থ হল- ’ইদ্দাত পূর্ণ হওয়া। (আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- অনুচ্ছেদ)
হাদিস নং: ৫১২৫ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا حماد بن زيد عن هشام عن ابيه عن عاىشة قالت قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم رايتك في المنام يجيء بك الملك في سرقة من حرير فقال ليهذه„ امراتك فكشفت عن وجهك الثوب فاذا انت هي فقلت ان يك هذا من عند الله يمضه„.
৫১২৫. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, আমি তোমাকে স্বপ্নের মধ্যে দেখেছি, একজন ফেরেশতা তোমাকে রেশমী চাদরে জড়িয়ে আমার কাছে নিয়ে এসে বলল, এ হচ্ছে আপনার স্ত্রী। এরপর আমি তোমার মুখমণ্ডল
থেকে চাদর খুলে ফেলে তোমাকে দেখতে পেলাম। তখন আমি বললাম, যদি স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই তা বাস্তবায়িত হবে।[1][৩৮৯৫](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৪৯)
নোট: [1] দাম্পত্য জীবনকে সুখময় ও স্থায়ী করার মানসে ও সুখ সমৃদ্ধির জন্য বিয়ের পূর্বে কনেকে দেখে নেয়া উচিত বলে ইসলামে স্পষ্ট ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এ পর্যায়ে সর্বপ্রথম দলীল হচ্ছে কুরআন মাজীদের নিম্নোক্ত বাণী-

‘তোমরা বিয়ে কর সেই স্ত্রীলোক যাকে তোমাদের ভাল লাগে।’ (সূরা আন-নিসা : ৩)

ইমাম সুয়ূতী এ আয়াতের ভিত্তিতে দাবী করে বলেছেন- এ আয়াতে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে যে বিয়ের পূর্বে কনেকে দেখে নেয়া সম্পূর্ণ হালাল। কেননা কোন্ মেয়ে পছন্দ কিংবা কোন্ মেয়ে ভাল হবে তা নিজের চোখে দেখেই আন্দাজ করা যেতে পারে। (রুহুল মা‘আনী ১৯৬ পৃঃ)

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেনঃ নাবী ﷺ বলেছেন-

إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمْ الْمَرْأَةَ فَإِنْ اسْتَطَاعَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى مَا يَدْعُوهُ إِلَى نِكَاحِهَا فَلْيَفْعَلْ)) قَالَ فَخَطَبْتُ جَارِيَةً فَكُنْتُ أَتَخَبَّأُ لَهَا حَتَّى رَأَيْتُ مِنْهَا مَا دَعَانِي إِلَى نِكَاحِهَا وَتَزَوُّجِهَا فَتَزَوَّجْتُهَا.

‘‘তোমাদের কেউ যখন কোন মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেবে তখন নিজ চোখে তা দেখে নেয়ার অবশ্যই চেষ্টা করবে যা তাকে বিয়ে করতে আকর্ষিত করে। জাবির ইবনে ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন- [রসূলের উক্ত কথা শুনে] আমি একটি মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিলাম। তারপর তাকে গোপনে দেখে নেয়ার জন্য আমি চেষ্টা চালাতে শুরু করি। শেষ পর্যন্ত আমি তার মধ্যে এমন কিছু দেখতে পাই যা আমাকে আকৃষ্ট ও উদ্বুদ্ধ করে তাকে বিয়ে করে স্ত্রী হিসেবে বরণ করে নিতে। অতঃপর আমি তাকে বিয়ে করি। [আবূ দাঊদ (২০৮২) (হাদীসটিকে শাইখ আলবানী হাসান আখ্যা দিয়েছেন। নাবী -এর বাণী পর্যন্ত হাদীসটি ইমাম আহমাদও (১৪১৭৬, ১৪৪৫৫) বর্ণনা করেছেন]।

ইমাম আহমাদের বর্ণিত হাদীস থেকে জানা যায় যে, জাবির (রাঃ) একটি গাছেরডালে গোপনে বসে থেকে প্রস্তাবিত কনেকে দেখে নিয়েছিলেন। (মুসনাদে আহমাদ)

মুহাম্মাদ বিন মাসলামা (রাঃ)হতে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেনঃ

خَطَبْتُ امْرَأَةً فَجَعَلْتُ أَتَخَبَّأُ لَهَا حَتَّى نَظَرْتُ إِلَيْهَا فِي نَخْلٍ لَهَا فَقِيلَ لَهُ أَتَفْعَلُ هٰذَا وَأَنْتَ صَاحِبُ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ إِذَا أَلْقَى اللهُ فِي قَلْبِ امْرِئٍ خِطْبَةَ امْرَأَةٍ فَلَا بَأْسَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَيْهَا.

আমি এক মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলাম, অতঃপর আমি তাকে গোপনে দেখার চেষ্টা শুরু করলাম। আমি তার (মেয়ের) একটি গাছের মধ্য থেকে তাকে দেখলাম। তাকে [মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাকে -কে] বলা হলঃ আপনি এরূপ কর্ম করছেন অথচ আপনি রসূল -এর একজন সাহাবী! তখন তিনি বললেনঃ আমি রসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি- যখন আল্লাহ তা‘আলা কোন পুরুষের মনে কোন বিশেষ মেয়েকে বিয়ে করার বাসনা জাগাবেন, তখন তাকে নিজ চোখে দেখে নেয়ায় কোনই দোষ নেই। [হাদীসটি ইবনু মাজাহ্ বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি সহীহ্, দেখুন ‘‘সিলসিলাহ্ সহীহাহ্’’ (৯৮, ১ম খন্ড) ও ‘‘সহীহ্ ইবনু মাজাহ্’’ (১৮৬৪)]।

হাদীসের মধ্যে রসূল আরো বলেছেনঃ

(إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمْ امْرَأَةً فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَن يَّنْظُرَ إِلَيْهَا إِذَا كَانَ إِنَّمَا يَنْظُرُ إِلَيْهَا لِخِطْبَتِهِ وَإِنْ كاَنَتْ لاَ تَعْلَمُ) .

‘‘যখন তোমাদের কেউ কোন মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিবে তখন তাকে দেখতে কোন সমস্যা নেই, যদি তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার উদ্দেশ্যে দেখে, যদিও তা সে মেয়ে না জানে।’’ [হাদীসটি ইমাম ত্বহাবী, আহমাদ ও ত্ববারানী বর্ণনা করেছেন। হাদীসটিকে শাইখ আলবানী সহীহ্ আখ্যা দিয়েছেন, দেখুন ‘‘সিলসিলাহ্ সহীহাহ্’’ (৯৭)]।

এ হাদীসগুলোর কারণে বিয়ের পূর্বেই কনে দেখে নেয়া বাঞ্ছনীয়। তাতে করে তার ভাবী স্ত্রী সম্পর্কে মনে খুঁৎখুঁতে ভাব ও সন্দেহ দূর হয়ে যাবে। থাকবে না কোন দ্বিধা দ্বন্দ্বের অবকাশ। শুধু তাই-ই নয়, এর ফলে ভাবী বধূর প্রতি আকর্ষণ জাগবে এবং সেই স্ত্রীকে পেয়ে সে সুখী হতে পারবে।

এ হাদীসগুলোর দিকে গভীরভাবে দৃষ্টি দিলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয় যে, শুধুমাত্র চেহারা ও হাত দেখাকে বুঝানো হয়নি, বরং মেয়ের আরো কিছু অঙ্গ যেমন হাঁটুর নিম্নের পায়ের নলার গোস্তের অংশ, কাঁধ, চুল, বা অনুরূপ কিছু অংশও দেখা যাবে এরূপ ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এ মতটিই সঠিক। এ সম্পর্কে সুবিখ্যাত মুহাদ্দিস শাইখ আলবানী তার প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘‘সিলসিলাহ্ সহীহাহ্’’ এর প্রথম খন্ডের (৯৯) নম্বর হাদীসের ব্যাখ্যার মধ্যে একটি চমৎকার পর্যালোচনা সহকারে ফাকীহ্গণের মতামতগুলো তুলে ধরে উক্ত সিদ্ধান্তকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে একটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে দেখাটা যেন একমাত্র বিয়ের উদ্দেশ্যে হয়। অন্যকোন কুরুচিপূর্ণ মানসিকতা নিয়ে যেন না হয়।
হাদিস নং: ৫১২৬ সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا يعقوب عن ابي حازم عن سهل بن سعد ان امراة جاءت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله جىت لاهب لك نفسي فنظر اليها رسول الله صلى الله عليه وسلم فصعد النظر اليها وصوبه“ ثم طاطا راسه“ فلما رات المراة انه“ لم يقض فيها شيىا جلست فقام رجل من اصحابه„ فقال اي رسول الله ان لم تكن لك بها حاجة فزوجنيها فقال هل عندك من شيء قال لا والله يا رسول الله قال اذهب الى اهلك فانظر هل تجد شيىا فذهب ثم رجع فقال لا والله يا رسول الله ما وجدت شيىا قال انظر ولو خاتما من حديد فذهب ثم رجع فقال لا والله يا رسول الله ولا خاتما من حديد ولكن هذا ازاري قال سهل ما له“ رداء فلها نصفه“ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما تصنع بازارك ان لبسته“ لم يكن عليها منه“ شيء وان لبسته“ لم يكن عليك منه“ شيء فجلس الرجل حتى طال مجلسه“ ثم قام فراه“ رسول الله صلى الله عليه وسلم موليا فامر به„ فدعي فلما جاء قال ماذا معك من القران قال معي سورة كذا وسورة كذا وسورة كذا عددها قال اتقروهن عن ظهر قلبك قال نعم قال اذهب فقد ملكتكها بما معك من القران.
৫১২৬. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি নিজেকে আপনার কাছে সমর্পণ করতে এসেছি। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে দেখলেন এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দৃষ্টি দিলেন। আপাদমস্তক দেখা শেষ করে তিনি মাথা নিচু করলেন। যখন মহিলা দেখতে পেল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে কোন ফয়সালা দিচ্ছেন না, তখন সে বসে পড়ল। তারপর একজন সাহাবী দাঁড়িয়ে অনুরোধ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আপনার এ মহিলার কোন প্রয়োজন না থাকে, তাহলে আমার সঙ্গে তাকে বিয়ে দিয়ে দিন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কাছে কোন সম্পদ আছে কি? সে বলল- না, আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে কোন সম্পদ নেই। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তোমার পরিবারের কাছে গিয়ে দেখ, কোন কিছু পাও কিনা?

তারপর সে চলে গেল, ফিরে এসে বলল, না, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কিছুই পেলাম না। তখন তিনি বললেন, দেখ, একটি লোহার আংটি পাও কিনা! এরপর সে চলে গেল। ফিরে এসে বলল, না, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম, একটি লোহার আংটিও পেলাম না; কিন্তু এই আমার তহবন্দ আছে। [বর্ণনাকারী সাহল (রাঃ) বলেন, তার কোন চাদর ছিল না] এর অর্ধেক তাকে দিয়ে দেব। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমার এ তহবন্দ দ্বারা কী হবে? যদি তুমি পর তবে তার জন্য কিছুই থাকবে না, আর যদি সে পরে তাহলে তোমার জন্য কিছুই থাকবে না। এরপর লোকটি বসে পড়ল। দীর্ঘক্ষণ পরে সে চলে যাবার জন্য উদ্যত হলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখলেন এবং ডেকে এনে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কুরআন কতটুকু জানা আছে? সে বলল, হ্যাঁ, আমার অমুক, অমুক, অমুক সূরা জানা আছে। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি এগুলো মুখস্থ পড়তে পার? সে বলল, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, যাও, যে পরিমাণ কুরআন মাজীদ মুখস্থ জান, এর বিনিময়ে এই মহিলাকে তোমার সঙ্গে বিয়ে করিয়ে দিলাম। [২৩১০](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৫০)
হাদিস নং: ৫১২৭ সহিহ (Sahih)
قال يحيى بن سليمان حدثنا ابن وهب عن يونس ح و حدثنا احمد بن صالح حدثنا عنبسة حدثنا يونس عن ابن شهاب قال اخبرني عروة بن الزبير ان عاىشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم اخبرته“ ان النكاح في الجاهلية كان على اربعة انحاء فنكاح منها نكاح الناس اليوم يخطب الرجل الى الرجل وليته“ او ابنته“ فيصدقها ثم ينكحها ونكاح اخر كان الرجل يقول لامراته„ اذا طهرت من طمثها ارسلي الى فلان فاستبضعي منه“ ويعتزلها زوجها ولا يمسها ابدا حتى يتبين حملها من ذ‘لك الرجل الذي تستبضع منه“ فاذا تبين حملها اصابها زوجها اذا احب وانما يفعل ذ‘لك رغبة في نجابة الولد فكان هذا النكاح نكاح الاستبضاع ونكاح اخر يجتمع الرهط ما دون العشرة فيدخلون على المراة كلهم يصيبها فاذا حملت ووضعت ومر عليها ليال بعد ان تضع حملها ارسلت اليهم فلم يستطع رجل منهم ان يمتنع حتى يجتمعوا عندها تقول لهم قد عرفتم الذي كان من امركم وقد ولدت فهو ابنك يا فلان تسمي من احبت باسمه„ فيلحق به„ ولدها لا يستطيع ان يمتنع به„ الرجل ونكاح الرابع يجتمع الناس الكثير فيدخلون على المراة لا تمتنع ممن جاءها وهن البغايا كن ينصبن على ابوابهن رايات تكون علما فمن ارادهن دخل عليهن فاذا حملت احداهن ووضعت حملها جمعوا لها ودعوا لهم القافة ثم الحقوا ولدها بالذي يرون فالتاط به„ ودعي ابنه“ لا يمتنع من ذ‘لك فلما بعث محمد صلى الله عليه وسلم بالحق هدم نكاح الجاهلية كله“ الا نكاح الناس اليوم.
(فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ) فَدَخَلَ فِيهِ الثَّيِّبُ وَكَذَلِكَ الْبِكْرُ.
وَقَالَ: (وَلاَ تُنْكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُوا) وَقَالَ: (وَأَنْكِحُوا الأَيَامَى مِنْكُمْ)

’’যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দাও, তারপর তাদের ইদ্দৎ পূর্ণ হয়ে যায়, সে অবস্থায় তারা স্বামীদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাইলে তাদেরকে বাধা দিও না’’- সূরাহ আল-বাক্বারাহ ২/২৩২)-এনির্দেশের আওতায় বয়স্কা বিবাহিতা মহিলারা যেমন, তেমনি কুমারী মেয়েরাও এসে গেছে। মহান আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, ’’তোমরা মুশরিক মহিলাদেরকে কখনও বিয়ে করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা ঈমান না আনবে’’- সূরাহ আল-বাক্বারাহ ২/২২১)।আল্লাহ্ তা’আলা আরও বলেন, ’’তোমাদের ভিতরে যারা অবিবাহিতা আছে তাদের বিয়ে দিয়ে দাও’’- সূরাহ আন-নূর ২৪/৩২)।


৫১২৭. ’উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন, জাহিলী যুগে চার প্রকারের বিয়ে প্রচলিত ছিল। এক প্রকার হচ্ছে, বর্তমান যে ব্যবস্থা চলছে অর্থাৎ কোন ব্যক্তি কোন মহিলার অভিভাবকের নিকট তার অধীনস্থ মহিলা অথবা তার কন্যার জন্য বিবাহের প্রস্তাব দিবে এবং তার মাহর নির্ধারণের পর বিবাহ করবে। দ্বিতীয় হচ্ছে, কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে মাসিকঋতু থেকে মুক্ত হবার পর এ কথা বলত যে, তুমি অমুক ব্যক্তির কাছে যাও এবং তার সঙ্গে যৌন মিলন কর। এরপর স্ত্রী তার স্বামীর থেকে পৃথক থাকত এবং কখনও এক বিছানায় ঘুমাত না, যতক্ষণ না সে অন্য ব্যক্তির দ্বারা গর্ভবতী হত, যার সঙ্গে স্ত্রীর যৌন মিলন হত।

যখন তার গর্ভ সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ হত তখন ইচ্ছে করলে স্বামী তার স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সঙ্গম করত। এটা ছিল তার স্বামীর অভ্যাস। এতে উদ্দেশ্য ছিল যাতে করে সে একটি উন্নত জাতের সন্তান লাভ করতে পারে। এ ধরনের বিয়েকে ’নিকাহুল ইস্তিবদা’ বলা হত। তৃতীয় প্রথা ছিল যে, দশ জনের কম কয়েক ব্যক্তি একত্রিত হয়ে পালাক্রমে একই মহিলার সঙ্গে যৌনমিলনে লিপ্ত হত। যদি মহিলা এর ফলে গর্ভবতী হত এবং কোন সন্তান ভূমিষ্ট হবার পর কিছুদিন অতিবাহিত হত, সেই মহিলা এ সকল ব্যক্তিকে ডেকে পাঠাত এবং কেউই আসতে অস্বীকৃতি জানাতে পারত না।

যখন সকলেই সেই মহিলার সামনে একত্রিত হত, তখন সে তাদেরকে বলত, তোমরা সকলেই জান- তোমরা কী করেছ! এখন আমি সন্তান প্রসব করেছি, সুতরাং হে অমুক! এটা তোমারই সন্তান। ঐ মহিলা যাকে খুশি তার নাম ধরে ডাকত, তখন এ ব্যক্তি উক্ত শিশুটিকে গ্রহণ করতে বাধ্য থাকত এবং ঐ মহিলা তার স্ত্রীরূপে গণ্য হত। চতুর্থ প্রকারের বিবাহ হচ্ছে, বহু পুরুষ একই মহিলার সঙ্গে যৌন মিলনে লিপ্ত হত এবং ঐ মহিলা তার কাছে যত পুরুষ আসত, কাউকে শয্যা-সঙ্গী করতে অস্বীকার করত না। এরা ছিল পতিতা, যার চিহ্ন হিসেবে নিজ ঘরের সামনে পতাকা উড়িয়ে রাখত। যে কেউ ইচ্ছে করলে অবাধে এদের সঙ্গে যৌন মিলনে লিপ্ত হতে পারত।

যদি এ সকল মহিলাদের মধ্য থেকে কেউ গর্ভবতী হত এবং কোন সন্তান প্রসব করত তাহলে যৌন মিলনে লিপ্ত হওয়া সকল কাফাহ্ পুরুষ এবং একজন ’কাফাহ্’ (এমন একজন বিশেষজ্ঞ, যারা সন্তানের মুখ অথবা শরীরের কোন অঙ্গ দেখে বলতে পারত- অমুকের ঔরসজাত সন্তান)-কে ডেকে আনা হত। সে সন্তানটির যে লোকটির সঙ্গে সাদৃশ্য দেখতে পেত তাকে বলত, এটি তোমার সন্তান। তখন ঐ লোকটি ঐ সন্তানকে নিজের হিসেবে গ্রহণ করতে বাধ্য হত এবং লোকে ঐ সন্তানকে তার সন্তান হিসাবে আখ্যা দিত এবং সে এই সন্তানকে অস্বীকার করতে পারত না। যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সত্য দ্বীনসহ পাঠানো হল তখন তিনি বর্তমানে প্রচলিত ব্যবস্থা ছাড়া জাহিলী যুগের সমস্ত বিবাহের রীতি বাতিল করে দিলেন। (আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ ৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৫১)
হাদিস নং: ৫১২৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى، حدثنا وكيع، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عاىشة، ‏(‏وما يتلى عليكم في الكتاب في يتامى النساء اللاتي لا توتونهن ما كتب لهن وترغبون ان تنكحوهن‏)‏‏.‏ قالت هذا في اليتيمة التي تكون عند الرجل، لعلها ان تكون شريكته في ماله، وهو اولى بها، فيرغب ان ينكحها، فيعضلها لمالها، ولا ينكحها غيره، كراهية ان يشركه احد في مالها‏.‏
৫১২৮. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। এ আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ’’আল্লাহ তাদের সম্বন্ধে তোমাদেরকে বিধান জানিয়ে দিচ্ছেন সেসব নারী সম্পর্কে যাদের প্রাপ্য তোমরা প্রদান কর না অথচ তাদেরকে বিয়ে করতে চাও’’ (সূরাহ আন-নিসাঃ ১২৭) তিনি বলেন, এ আয়াত হচ্ছে ঐ ইয়াতীম নারীদের সম্পর্কে, যারা কোন অভিভাবকের আওতাধীন রয়েছে এবং তার ধন-সম্পদে সে মালিকানা রাখে কিন্তু তাকে বিয়ে করা পছন্দ করে না এবং তার সম্পদের জন্য অন্যের কাছে বিয়ে দিতে আগ্রহীও নয়, যাতে করে অন্য লোক এ সম্পত্তিতে তাদের সঙ্গে অংশীদার হয়ে না বসে (উক্ত আয়াতে অভিভাবকদেরকে এরূপ অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। [২৪৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৫২)
হাদিস নং: ৫১২৯ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا هشام اخبرنا معمر حدثنا الزهري قال اخبرني سالم ان ابن عمر اخبره“ ان عمر حين تايمت حفصة بنت عمر من ابن حذافة السهمي وكان من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم من اهل بدر توفي بالمدينة فقال عمر لقيت عثمان بن عفان فعرضت عليه فقلت ان شىت انكحتك حفصة فقال سانظر في امري فلبثت ليالي ثم لقيني فقال بدا لي ان لا اتزوج يومي هذا قال عمر فلقيت ابا بكر فقلت ان شىت انكحتك حفصة.
৫১২৯. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’উমার (রাঃ)-এর কন্যা হাফসাহ (রাঃ) যখন তার স্বামী খুনায়স ইবনু হুযাফাহ আস সাহমীর মৃত্যুর ফলে বিধবা হল, ইনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী ছিলেন এবং বদরের যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন এবং মদিনায় ইন্তিকাল করেন। ’উমার (রাঃ) বলেন, আমি ’উসমান ইবনু ’আফফান (রাঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁর কাছে হাফসাহর বিয়ের প্রস্তাব করলাম এই বলে যে, যদি আপনি ইচ্ছা করেন, তবে হাফসাকে আপনার সঙ্গে বিয়ে দিব। তিনি বললেন, আমি এ ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করে দেখি। আমি কয়েকদিন অপেক্ষা করলাম। তারপর তিনি আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললেন, আমি বর্তমানে বিয়ে না করার জন্য মনস্থির করেছি। ’উমার (রাঃ) আরো বলেন, আমি আবূ বকর (রাঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললাম, আপনি যদি চান, তাহলে হাফসাকে আপনার সঙ্গে বিয়ে দেব। [৪০০৫](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৫৩)
হাদিস নং: ৫১৩০ সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن ابي عمرو، قال حدثني ابي قال، حدثني ابراهيم، عن يونس، عن الحسن، ‏(‏فلا تعضلوهن‏)‏ قال حدثني معقل بن يسار، انها نزلت فيه قال زوجت اختا لي من رجل فطلقها، حتى اذا انقضت عدتها جاء يخطبها، فقلت له زوجتك وفرشتك واكرمتك، فطلقتها، ثم جىت تخطبها، لا والله لا تعود اليك ابدا، وكان رجلا لا باس به وكانت المراة تريد ان ترجع اليه فانزل الله هذه الاية ‏(‏فلا تعضلوهن‏)‏ فقلت الان افعل يا رسول الله‏.‏ قال فزوجها اياه‏.‏
৫১৩০. আল হাসান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ’’তোমরা তাদেরকে আটকে রেখো না’’-এ আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে বলেন, মা’কিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) বলেছেন যে, উক্ত আয়াত তার সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বলেন, আমি আমার বোনকে এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেই, সে তাকে তালাক দিয়ে দেয়। যখন তার ইদ্দাতকাল অতিক্রান্ত হয় তখন সেই ব্যক্তি আমার কাছে আসে এবং তাকে পুনরায় বিয়ের পয়গাম দেয়। কিন্তু আমি তাকে বলে দিই, আমি তাকে তোমার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলাম এবং তোমরা মেলামেশা করেছ এবং আমি তোমাকে মর্যাদা দিয়েছি। তারপরেও তুমি তাকে তালাক দিলে? পুনরায় তুমি তাকে চাওয়ার জন্য এসেছ? আল্লাহর কসম, সে আবারও কখনও তোমার কাছে ফিরে যাবে না। মা’কিল বলেন, সে লোকটি অবশ্য খারাপ ছিল না এবং তার স্ত্রীও তার কাছে ফিরে যেতে আগ্রহী ছিল। এমতাবস্থায় আল্লাহ্ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ ’’তাদেরকে বাধা দিও না,’’ এরপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার বোনকে তার কাছে বিয়ে দেব। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তাকে তার সঙ্গে পুনরায় বিয়ে দিলেন। [৪৫২৯](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৫৪)
হাদিস নং: ৫১৩১ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن سلام، اخبرنا ابو معاوية، حدثنا هشام، عن ابيه، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ في قوله ‏(‏ويستفتونك في النساء قل الله يفتيكم فيهن‏)‏ الى اخر الاية، قالت هي اليتيمة تكون في حجر الرجل، قد شركته في ماله، فيرغب عنها ان يتزوجها، ويكره ان يزوجها غيره، فيدخل عليه في ماله، فيحبسها، فنهاهم الله عن ذلك‏.‏
وَخَطَبَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ امْرَأَةً هُوَ أَوْلَى النَّاسِ بِهَا فَأَمَرَ رَجُلاً فَزَوَّجَهُ.

وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمٰنِ بْنُ عَوْفٍ لِأُمِّ حَكِيمٍ بِنْتِ قَارِظٍ أَتَجْعَلِينَ أَمْرَكِ إِلَيَّ قَالَتْ نَعَمْ فَقَالَ قَدْ زَوَّجْتُكِ. وَقَالَ عَطَاءٌ لِيُشْهِدْ أَنِّي قَدْ نَكَحْتُكِ أَوْ لِيَأْمُرْ رَجُلاً مِنْ عَشِيرَتِهَا.

وَقَالَ سَهْلٌ قَالَتْ امْرَأَةٌ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلمأَهَبُ لَكَ نَفْسِي فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنْ لَمْ تَكُنْ لَكَ بِهَا حَاجَةٌ فَزَوِّجْنِيهَا.

মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাঃ) এমন এক মহিলার সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব দেন, যার নিকটতম অভিভাবক তিনিই ছিলেন। সুতরাং তিনি অন্য একজনকে তার সঙ্গে বিয়ে বন্ধনের আদেশ দিলে সে ব্যক্তি তার সঙ্গে বিয়ে করিয়ে দিলেন।

’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ (রাঃ) উম্মু হাকীম বিনতে কারিয (রাঃ)-কে বললেন, তুমি কি তোমার বিয়ের ব্যাপারে আমাকে দায়িত্ব দেবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। ’আবদুর রহমান (রাঃ) বললেন, আমি তোমাকে বিয়ে করলাম। ’আত্বা বলেন, অভিভাবক লোকদেরকে সাক্ষী রেখে বলবে, আমি তোমাকে বিয়ে করলাম, অথবা ঐ মহিলার নিকটতম আত্মীয়দের কাউকে তার কাছে তাকে বিয়ে দেয়ার জন্য বলবে।

সাহল (রাঃ) বলেন, একজন মহিলা এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বলল, আমি নিজেকে আপনার কাছে সমর্পণ করলাম। এরপর একজন লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এই মহিলাকে যদি আপনার প্রয়োজন না থাকে, তাহলে আমার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিন।


৫১৩১. ’আয়িশাহ (রাঃ) আয়াতের ব্যাখ্যা সম্পর্কে বলেন, এ আয়াত হচ্ছে ’’লোকেরা তোমার কাছে নারীদের সম্বন্ধে বিধান জানতে চাচ্ছে। বলে দাও, ’আল্লাহ তাদের সম্বন্ধে তোমাদেরকে বিধান জানিয়ে দিচ্ছেন.....’’- (সূরাহ আন্-নিসা ৪/১২৭)। এ আয়াত হচ্ছে ইয়াতীম বালিকাদের সম্পর্কে, যারা কোন অভিভাবকের অধীনে আছে এবং তারা ঐ অভিভাবকের ধন-সম্পদেও অংশীদার; অথচ সে নিজে ওকে বিয়ে করতে ইচ্ছুক নয় এবং অন্য কেউ তাদেরকে বিয়ে করুক এবং ধন-সম্পদে ভাগ বসাক তাও সে পছন্দ করে না। তাই সে তার বিয়েতে বাধার সৃষ্টি করে। সুতরাং আল্লাহ্ তা’আলা এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৫৫)
হাদিস নং: ৫১৩২ সহিহ (Sahih)
احمد بن المقدام حدثنا فضيل بن سليمان حدثنا ابو حازم حدثنا سهل بن سعد كنا عند النبي صلى الله عليه وسلم جلوسا فجاءته“ امراة تعرض نفسها عليه فخفض فيها النظر ورفعه“ فلم يردها فقال رجل من اصحابه„ زوجنيها يا رسول الله قال اعندك من شيء قال ما عندي من شيء قال ولا خاتم من حديد قال ولا خاتم من حديد ولكن اشق بردتي هذه„ فاعطيها النصف واخذ النصف قال لا هل معك من القران شيء قال نعم قال اذهب فقد زوجتكها بما معك من القران.
৫১৩২. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) বর্ণনা করেন, একদা আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে বসা ছিলাম। এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একজন মহিলা এসে নিজেকে পেশ করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার আপাদমস্তক ভাল করে দেখলেন; কিন্তু তার কথার কোন উত্তর দিলেন না। একজন সাহাবী আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাকে আমার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কাছে কিছু আছে কি? লোকটি উত্তর করল, না, আমার কাছে কিছু নেই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, একটি লোহার আংটিও নেই? লোকটি উত্তর করল, না, একটি লোহার আংটিও নেই। কিন্তু আমি আমার পরিধানের তহবন্দের অর্ধেক তাকে দেব আর অর্ধেক নিজে পরব। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না। তোমার কুরআন মাজীদের কিছু জানা আছে? সে বলল, হ্যাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যে পরিমাণ কুরআন জান, তার পরিবর্তে তাকে তোমার সঙ্গে বিয়ে দিলাম। [২৩১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৫৬)
হাদিস নং: ৫১৩৩ সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن يوسف، حدثنا سفيان، عن هشام، عن ابيه، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ ان النبي صلى الله عليه وسلم تزوجها وهى بنت ست سنين، وادخلت عليه وهى بنت تسع، ومكثت عنده تسعا‏.‏
لِقَوْلِهِ تَعَالَى: وَاللاَّئِي لَمْ يَحِضْنَ) فَجَعَلَ عِدَّتَهَا ثَلاَثَةَ أَشْهُرٍ قَبْلَ الْبُلُوغِ

আল্লাহ্ তা’আলার কালাম ’’এবং যারা ঋতুমতী হয়নি’’-(সূরাহ আত-ত্বলাক (তালাক)ঃ ৪) এই আয়াতকে দলীল হিসাবে ধরে নাবালেগার ইদ্দাত তিন মাস নির্ধারণ করা হয়েছে।


৫১৩৩. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁকে বিয়ে করেন তখন তাঁর বয়স ছিল ৬ বছর এবং নয় বছর বয়সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে বাসর ঘর করেন এবং তিনি তাঁর সান্নিধ্যে নয় বছরকাল ছিলেন। [৩৮৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৫৭)
হাদিস নং: ৫১৩৪ সহিহ (Sahih)
معلى بن اسد حدثنا وهيب عن هشام بن عروة عن ابيه عن عاىشة ان النبي صلى الله عليه وسلم تزوجها وهي بنت ست سنين وبنى بها وهي بنت تسع سنين قال هشام وانبىت انها كانت عنده“ تسع سنين
وَقَالَ عُمَرُ خَطَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَيَّ حَفْصَةَ فَأَنْكَحْتُهُ.

’উমার (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কন্যা-হাফসাহর সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব দিলে আমি তাকে তাঁর সঙ্গে বিয়ে দেই।


৫১৩৪. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, যখন তাঁর ছয় বছর বয়স তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিয়ে করেন। তিনি তাঁর সঙ্গে বাসর করেন নয় বছর বয়সে। হিশাম (রহ.) বলেন, আমি জেনেছি যে, ’আয়িশাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নয় বছর ছিলেন। [৩৮৯৪](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৫৮)
হাদিস নং: ৫১৩৫ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن ابي حازم عن سهل بن سعد قال جاءت امراة الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت اني وهبت من نفسي فقامت طويلا فقال رجل زوجنيها ان لم تكن لك بها حاجة قال هل عندك من شيء تصدقها قال ما عندي الا ازاري فقال ان اعطيتها اياه“ جلست لا ازار لك فالتمس شيىا فقال ما اجد شيىا فقال التمس ولو خاتما من حديد فلم يجد فقال امعك من القران شيء قال نعم سورة كذا وسورة كذا لسور سماها فقال قد زوجناكها بما معك من القران.
৫১৩৫. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, কোন এক মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, আমি আমার নিজেকে আপনার কাছে দান করলাম। এরপর সে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকল। তখন একজন লোক বলল, আপনার দরকার না থাকলে, আমার সঙ্গে এর বিয়ে দিয়ে দিন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কাছে মাহর দেয়ার মতো কি কিছু আছে? লোকটি বলল, আমার এ তহবন্দ ছাড়া আর কিছুই নেই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি তুমি তহবন্দখানা তাকে দিয়ে দাও, তাহলে তোমার কিছু থাকবে না। কাজেই তুমি অন্য কিছু খুঁজে আন। লোকটি বলল, আমি কোন কিছুই পেলাম না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, খুঁজে দেখ, যদি একটি লোহার আংটিও পাও। সে কিছুই পেল না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, কুরআনের কিছু অংশ তোমার জানা আছে কি? লোকটি বলল, হ্যাঁ! অমুক অমুক সূরা আমার জানা আছে এবং সে সূরাগুলোর নাম বলল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কুরআনের যা তোমার জানা আছে, তার বিনিময়ে আমি তাকে তোমার নিকট বিয়ে দিলাম। [২৩১০; মুসলিম ১৬/১২, হাঃ ১৪২৫, আহমাদ ২২৯১৩](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৫৯)
হাদিস নং: ৫১৩৬ সহিহ (Sahih)
معاذ بن فضالة حدثنا هشام عن يحيى عن ابي سلمة ان ابا هريرة حدثهم ان النبي صلى الله عليه وسلم قال لا تنكح الايم حتى تستامر ولا تنكح البكر حتى تستاذن قالوا يا رسول الله وكيف اذنها قال ان تسكت.
৫১৩৬. আবূ সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) তাদের কাছে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন বিধবা নারীকে তার সম্মতি ব্যতীত বিয়ে দেয়া যাবে না এবং কুমারী মহিলাকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দিতে পারবে না। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! কেমন করে তার অনুমতি নেয়া হবে। তিনি বললেন, তার চুপ থাকাটাই হচ্ছে তার অনুমতি। [1] [৬৯৭০; মুসলিম ১৬/৮, হাঃ ১৪১৯, আহমাদ ৯৬১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬০)
নোট: [1] এ হাদীসের উপর ভিত্তি করে ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) বলেছেন- অলী বিবাহিত ও অবিবাহিত মেয়েকে কোন নির্দিষ্ট ছেলেকে বিয়ে করতে বাধ্য করতে পারে না। অতএব পূর্বে বিবাহিত মেয়েদের কাছ থেকে বিয়ের জন্য রীতিমত আদেশ পেতে হবে এবং অবিবাহিত বালেগ মেয়ের কাছ থেকে যথারীতি অনুমতি নিতে হবে। এ সম্পর্কে ইমাম মুসলিম হাদীস বর্ণনা করেছেন- পূর্বে বিবাহিত মেয়েরা তাদের নিজেদের বিয়েতে মত জানানোর ব্যাপারে তাদের অলী অপেক্ষাও বেশি অধিকার রাখে। আর পূর্বে অবিবাহিত মেয়েদের নিকট তাদের পিতা বিয়ের মত জানতে চাইলে তাদের চুপ থাকাই তাদের অনুমতিজ্ঞাপক।

কিন্তু বড়ই দুর্ভাগ্যের ব্যাপার বর্তমান অধঃপতিত মুসলিম সমাজে মেয়েদের এ অধিকার বাস্তব ক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে না। এর অপর একটি দিক বর্তমানে খুবই প্রাবল্য লাভ করেছে। আধুনিক ছেলেমেয়েরা তাদের বিয়ের ব্যাপারে তাদের বাপ-মা- গার্জিয়ানদের কোন তোয়াক্কাই রাখে না। তাদের কোন পরোয়াই করা হয় না। ‘বিয়ে নিজের পছন্দেই ঠিক’ এ কথার সত্যতা অস্বীকার করা হচ্ছে না, তেমনি এ কথাও অস্বীকার করার উপায় নেই, আধুনিক যুবক যুবতীরা যৌবনের উদ্দামতায় অবাধ মেলামেশার গড্ডালিকা প্রবাহে পড়ে দিশেহারা হয়ে যেতে পারে এবং ভাল-মন্দ, শোভন অশোভন বিচারশূন্য হয়ে যেখানে সেখানে আত্মদান করে বসতে পারে। তাই উদ্যম-উৎসাহের সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ বিচার বিবেচনারও বিশেষ প্রয়োজন। কেননা বিয়ে কেবলমাত্র যৌন পরিতৃপ্তির মাধ্যম নয়; ঘর, পরিবার, সন্তান, সমাজ, জাতি ও দেশ সর্বোপরি নৈতিকতার প্রশ্নও তার সাথে গভীরভাবে জড়িত। তাই বিয়ের ব্যাপারে ছেলেমেয়ের পিতা বা অলীর মতামতের গুরুত্ব আছে। কেননা সাধারণতঃ অলী-পিতা-মাতা নিজেদের ছেলেমেয়ের কখনো অকল্যাণকামী হতে পারে না। তাই বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পিতামাতার মতের গুরুত্ব কিছুতেই অস্বীকার করা চলে না।

ছেলের বিয়েতে অলী তথা অভিভাবকের বাধ্য বাধকতা নেই কিন্তু মেয়ের জন্য বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মেয়ের বৈধ অলী থাকাবস্থায় তাকে না জানিয়ে নকল অলী বানিয়ে কোর্ট ম্যরেজের মাধ্যমে যত বিবাহ হয়ে থাকে তা সবই বাতিল। তাদের দাম্পত্য জীবন হবে ব্যভিচারী জীবনের মত। তাদের অর্জিত সন্তান সন্ততি জারজ হিসেবে পরিগণিত হবে। এ অভিশপ্ত জীবন থেকে পরিত্রাণের জন্য তাদেরকে বৈধ অলীর মাধ্যমে পুনর্বিবাহ পড়াতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় অলী বর্তমান থাকা সত্ত্বেও তাকে গুরুত্ব না দিয়ে এবং তার নির্দেশ ও সম্মতি ব্যতিরেকে অন্য কোন লোককে অলী হিসেবে দাঁড় করিয়ে বিবাহ কার্য সম্পন্ন করা হয়, এটা না-জায়িয। বরং মূল অলী নিজেই অথবা তার অবর্তমানে যাকে দায়িত্ব দিবে সে অলী হিসেবে বিবাহ কার্য সম্পাদন করবে।

উল্লেখ্য অলী কর্তৃক মেয়ের পক্ষ থেকে পূর্ব অনুমতি বা সমর্থন নিতে হবে ঠিক আছে। কিন্তু বৈধ অলীর [অভিভাবকের] সমর্থন ও অনুমতি ব্যতীত কোন মেয়ের বিয়েই বৈধ হবে না। কারণ আয়েশা হতে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেনঃ রসূল বলেছেনঃ

(أَيُّمَا امْرَأَةٍ لَمْ يُنْكِحْهَا الْوَلِيُّ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ...).

‘‘যে মেয়েকে তার অভিভাবক বিয়ে না দিবে [সে নিজে বিয়ে করলে] তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল...।’’ [হাদীসটি ইবনু মাজাহ্ বর্ণনা করেছেন, হাদীসটি সহীহ্, দেখুন ‘‘সহীহ্ ইবনু মাজাহ্’’ (১৮৭৯)।

অন্য বর্ণনায় আয়েশা হতে বর্ণিত হয়েছে রসূল বলেছেনঃ

(أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ...).

‘‘যে মেয়েই তার অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত বিয়ে করবে তার বিয়ে বাতিল। এ কথাটি তিনবার উল্লেখ করেন।’’ [এ ভাষায় হাদীসটি ইমাম আবূ দাঊদ (২০৮৩), তিরমিযী (১১০২) বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি সহীহ্, দেখুন ‘‘সহীহ্ আবী দাঊদ’’, ‘‘সহীহ্ তিরমিযী’’, ‘‘সহীহ্ জামে‘ইস সাগীর’’ (২৭০৯) ও ‘‘মিশকাত’’ (৩১৩১)]।
হাদিস নং: ৫১৩৭ সহিহ (Sahih)
عمرو بن الربيع بن طارق قال اخبرنا الليث عن ابن ابي مليكة عن ابي عمرو مولى. عاىشة عن عاىشة انها قالت يا رسول الله ان البكر تستحي قال رضاها صمتها
৫১৩৭. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই কুমারী মেয়েরা লজ্জা করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তার চুপ থাকাটাই হচ্ছে তার সম্মতি। [৬৯৪৬, ৬৯৭১](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬১)
হাদিস নং: ৫১৩৮ সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني مالك عن عبد الرحمن بن القاسم عن ابيه عن عبد الرحمن ومجمع ابني يزيد بن جارية عن خنساء بنت خذام الانصارية ان اباها زوجها وهي ثيب فكرهت ذ‘لك فاتت رسول الله صلى الله عليه وسلم فرد نكاحه.
৫১৩৮. খানসা বিনতে খিযাম আল আনসারিয়্যাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, যখন তিনি অকুমারী ছিলেন তখন তার পিতা তাকে বিয়ে দেন। এ বিয়ে তিনি অপছন্দ করলেন। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিয়ে বাতিল করে দিলেন। [৫১৩৯, ৬৯৪৫, ৬৯৬৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬২)
হাদিস নং: ৫১৩৯ সহিহ (Sahih)
اسحاق اخبرنا يزيد اخبرنا يحيى ان القاسم بن محمد حدثه“ ان عبد الرحمن بن يزيد ومجمع بن يزيد حدثاه“ ان رجلا يدعى خذاما انكح ابنة له“ نحوه.
৫১৩৯. ’আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ এবং মুজাম্মি’ ইবনু ইয়াযীদ উভয়েই বর্ণনা করেন যে, ’খিযামা’ নামীয় এক লোক তার মেয়েকে তার অনুমতি ব্যতীত বিয়ে দেন। পরবর্তী অংশ পূর্বোক্ত হাদীসের ন্যায়। [৫১৩৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬৩)
হাদিস নং: ৫১৪০ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري،‏.‏ وقال الليث حدثني عقيل، عن ابن شهاب، اخبرني عروة بن الزبير، انه سال عاىشة ـ رضى الله عنها ـ قال لها يا امتاه ‏(‏وان خفتم ان لا تقسطوا في اليتامى‏)‏ الى ‏(‏ما ملكت ايمانكم‏)‏ قالت عاىشة يا ابن اختي هذه اليتيمة تكون في حجر وليها، فيرغب في جمالها ومالها، ويريد ان ينتقص من صداقها، فنهوا عن نكاحهن‏.‏ الا ان يقسطوا لهن في اكمال الصداق وامروا بنكاح من سواهن من النساء، قالت عاىشة استفتى الناس رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد ذلك فانزل الله ‏(‏ويستفتونك في النساء‏)‏ الى ‏(‏وترغبون‏)‏ فانزل الله عز وجل لهم في هذه الاية ان اليتيمة اذا كانت ذات مال وجمال، رغبوا في نكاحها ونسبها والصداق، واذا كانت مرغوبا عنها في قلة المال والجمال، تركوها واخذوا غيرها من النساء ـ قالت ـ فكما يتركونها حين يرغبون عنها، فليس لهم ان ينكحوها اذا رغبوا فيها، الا ان يقسطوا لها ويعطوها حقها الاوفى من الصداق‏.‏
لِقَوْلِهِ: (وَإِنْ خِفْتُمْ أَنْ لاَ تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانْكِحُوا)، إِذَا قَالَ لِلْوَلِيِّ زَوِّجْنِي فُلاَنَةَ. فَمَكِثَ سَاعَةً أَوْ قَالَ مَا مَعَكَ فَقَالَ مَعِي كَذَا وَكَذَا. أَوْ لَبِثَا ثُمَّ قَالَ زَوَّجْتُكَهَا. فَهْوَ جَائِزٌ. فِيهِ سَهْلٌ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.

আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ ’’যদি তোমরাভয় কর যে ইয়াতীম বালিকাদের প্রতি পূর্ণ ইনসাফ করতে পারবে না, তাহলে তোমরা পছন্দ মতো অন্য কাউকে বিয়ে কর’’- (সূরাহ আন্-নিসা ৪/৩)। কেউ কোন অভিভাবককে যদি বলে, অমুক মহিলাকে আমার সঙ্গে বিয়ে দিন এবং সে যদি চুপ থাকে অথবা তাকে বলে তোমার কাছে কী আছে? সে উত্তরে বলে, আমার কাছে এই এই আছে অথবা নীরব থাকে। এরপর অভিভাবক বলেন, আমি তাকে তোমার কাছে বিয়ে দিলাম, তাহলে তা বৈধ। এ ব্যাপারে সাহল (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।


৫১৪০. ’উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন, হে খালা! ’’যদি তোমরা ভয় কর যে, ইয়াতীম বালিকাদের প্রতি ন্যায় বিচার করতে পারবে না তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যার মালিক.....।’’ (সূরাহ আন-নিসাঃ ৪/৩) এ আয়াত কোন্ প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে? ’আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, হে আমার ভাগ্নে! এ আয়াত ঐ ইয়াতীম বালিকাদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা তার অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং সেই অভিভাবক তার রূপ ও সম্পদে আকৃষ্ট হয়ে তাকে বিয়ে করতে চায়; কিন্তু তার মাহর কম দিতে চায়। এ আয়াতের মাধ্যমে উক্ত বালিকাদের বিয়ে করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তাদের ব্যতীত অন্য নারীদের বিয়ে করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অবশ্য যদি সে এদের পূর্ণ মাহর আদায় করে দেয় তবে সে বিয়ে করতে পারবে।

’আয়িশাহ (রাঃ) আরো বলেন, পরবর্তী সময় লোকেরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জিজ্ঞেস করলে আল্লাহ্ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ ’’তারা তোমার কাছে মহিলাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে.....এবং তোমরা যাদের বিয়ে করতে চাও’’ (সূরাহ আন-নিসাঃ ৪/১২৭) আল্লাহ্ তা’আলা এদের জন্য এ আয়াত অবতীর্ণ করেন; যদি কোন ইয়াতীম বালিকার সৌন্দর্য এবং সম্পদ থাকে, তাহলে এরা তাদেরকে বিয়ে করতে চায় এবং এদের স্বীয় আভিজাত্যের ব্যাপারেও এ ইচ্ছে পোষণ করে এবং মাহর কম দিতে চায়। কিন্তু সে যদি তাদের পছন্দমতো পাত্রী না হয়, তার সম্পদ ও রূপ কম হবার কারণে এদেরকে ত্যাগ করে অন্য মেয়ে বিয়ে করে। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, যেমনিভাবে এদের প্রতি অনীহার সময় এদের পরিত্যাগ করতে চায় তেমনি যে সময় আকর্ষণ থাকবে, সে সময়েও যেন তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করে পূর্ণ মাহর আদায় করে। [২৪৯৪](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬৪)
হাদিস নং: ৫১৪১ সহিহ (Sahih)
ابو النعمان حدثنا حماد بن زيد عن ابي حازم عن سهل بن سعد ان امراة اتت النبي صلى الله عليه وسلم فعرضت عليه نفسها فقال ما لي اليوم في النساء من حاجة فقال رجل يا رسول الله زوجنيها قال ما عندك قال ما عندي شيء قال اعطها ولو خاتما من حديد قال ما عندي شيء قال فما عندك من القران قال كذا وكذا قال فقد ملكتكها بما معك من القران.
৫১৪১. সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলো এবং বিয়ের জন্য নিজেকে তাঁর কাছে পেশ করল। তিনি বললেন, এখন আমার কোন মহিলার প্রয়োজন নেই। এরপর উপস্থিত একজন লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! তাকে আমার সঙ্গে বিয়ে দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কী আছে? লোকটি বলল, আমার কিছু নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে একটি লোহার আংটি হলেও দাও। লোকটি বলল, আমার কাছে কিছুই নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কাছে কী পরিমাণ কুরআন আছে? লোকটি বলল, এই এই পরিমাণ। নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কুরআনের যা জান, তার বিনিময়ে এই মহিলাকে তোমার মালিকানায় দিয়ে দিলাম। [২৩১০](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬৫)
হাদিস নং: ৫১৪২ সহিহ (Sahih)
مكي بن ابراهيم حدثنا ابن جريج قال سمعت نافعا يحدث ان ابن عمر كان يقول نهى النبي صلى الله عليه وسلم ان يبيع بعضكم على بيع بعض ولا يخطب الرجل على خطبة اخيه حتى يترك الخاطب قبله“ او ياذن له الخاطب
৫১৪২. ইব্নু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএক ভাই দরদাম করলে অন্যকে তার দরদাম করতে নিষেধ করেছেন এবং এক মুসলিম ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তাবের ওপরে অন্য ভাইকে প্রস্তাব দিতে নিষেধ করেছেন, যতক্ষণ না প্রথম প্রস্তাবকারী তার প্রস্তাব উঠিয়ে নেবে বা তাকে অনুমতি দেবে। [২১৩৯](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬৬)
অধ্যায় তালিকা