অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৬৭/১. বিয়ে করার অনুপ্রেরণা দান। শ্রবণ করিনি এ ব্যাপারে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেনঃ ‘তোমরা নারীদের মধ্য হতে নিজেদের পছন্দ মত বিয়ে কর।’ (আন-নিসা ৪:৩)
মোট ১৮৮ টি হাদিস
হাদিস নং: ৫০৮৩ সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا عبد الواحد حدثنا صالح بن صالح الهمداني حدثنا الشعبي قال حدثني ابو بردة عن ابيه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ايما رجل كانت عنده“ وليدة فعلمها فاحسن تعليمها وادبها فاحسن تاديبها ثم اعتقها وتزوجها فله“ اجران وايما رجل من اهل الكتاب امن بنبيه„ وامن بي فله“ اجران وايما مملوك اد‘ى حق مواليه وحق ربه„ فله“ اجران قال الشعبي خذها بغير شيء قد كان الرجل يرحل فيما دونها الى المدينة وقال ابو بكر عن ابي حصين عن ابي بردة عن ابيه عن النبي صلى الله عليه وسلم اعتقها ثم اصدقها.
৫০৮৩. আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে আপন ক্রীতদাসীকে শিক্ষা দেয় এবং উত্তম শিক্ষা দান করে এবং শিষ্টাচার শিক্ষা দেয় এবং উত্তমভাবে শিষ্টাচার শিক্ষা দেয় এরপর তাকে মুক্ত করে বিয়ে করে তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব। [1] ঐ আহলে কিতাব, যে তার নবীর ওপর ঈমান আনে এবং আমার ওপরে ঈমান এনেছে, তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব রয়েছে। আর ঐ গোলাম, যে তার প্রভুর হক আদায় করে এবং আল্লাহরও হাক্ব আদায় করে তার জন্যে দ্বিগুণ সাওয়াব।

হাদীসটি বর্ণনা করার সময় এর অন্যতম বর্ণনাকারী ইমাম শা’বী (রহ.) (স্বীয় ছাত্র সালিহ বিন সালিহ হামদানীর লক্ষ্য করে) বলেন, হাদীসটি গ্রহণ কর বিনা পরিশ্রমে অথচ এমন এক সময় ছিল যখন এর চেয়ে ছোট হাদীস সংগ্রহ করার জন্যে কোন লোক মদিনা পর্যন্ত সফর করতো। .... অন্য বর্ণনায় আছে, ’’মুক্ত করে মাহর নির্ধারণ করে বিয়ে করে’’। [৯৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭১২)
নোট: [1] ইসলামের আবির্ভাবকালে দেশে দেশে দাস প্রথা চালু ছিল। কিন্তু মানুষের সাম্য ও স্বাধীনতার প্রবক্তা মহান ধর্ম ইসলাম দাসপ্রথাকে মোটেই সমর্থন করেনি। বরং এ প্রথা উচ্ছেদের জন্য ইসলাম এমন সব ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে যাতে দাসদাসীরা মানসিক, নৈতিক, সামাজিক ও আর্থিকভাবে প্রকৃতই সাম্য ও স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পারে। বিশ্বনাবী বলেছেন- তোমাদের দাসরা তোমাদের ভাই, কাজেই তোমাদের মধ্যে যার অধীনে তার কোন ভাই থাকবে সে যেন তার জন্য সেরূপ খাওয়া পরার ব্যবস্থা করে যেরূপ সে নিজের জন্য করবে। যে কাজ করার মত শক্তি তার নেই সে কাজ করার হুকুম যেন তাকে না দেয়। আর যদি এমন কাজের হুকুম দিতেই হয় তাহলে সে নিজে যেন তার সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে। নাবী ﷺ বলেছেন- তোমাদের কেউ যেন এরূপ না বলে যে, এ আমার দাস ও এ আমার দাসী। তার পরিবর্তে বলতে হবে, এ আমার সেবক, এ আমার সেবিকা। জাহিলী যুগে দাসীদেরকে অবৈধ পন্থায় অর্থ উপার্জনের কাজে নিয়োগ করা হত, ইসলাম এই অবৈধ ও অনৈতিক কাজে দাসীদেরকে নিয়োগ করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করল। ইসলামের আবির্ভাবের পর দাসদাসীরা আর বাজারের পণ্য সামগ্রী হয়ে রইল না, তারা স্বাধীন মানুষের মর্যাদা ও অধিকার লাভের সৌভাগ্য অর্জন করল। এ পর্যায়ে ইসলাম এতদূর পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে যে, কোন দাসের চেহারার উপর চড় মারাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু ইসলাম এতটুকু করেই ক্ষান্ত হয়নি। তাই দাসদাসীদেরকে পুরোপুরি স্বাধীন করে দেয়ার উদ্দেশে দু’টি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রথমটি হল সরাসরি মুক্তিদান আর দ্বিতীয়টি হল মুক্তির লিখিত চুক্তি (বা মুকাতাবাত)। নাবী ﷺ নিজে তাঁর দাসদের মুক্ত করে দেন এবং সাহাবীবৃন্দও নিজ নিজ দাসদেরকে আযাদ করে দেন। নাবী ﷺ শিখিয়েছেন- কতক গোনাহর কাফফারা হচ্ছে গোলামদেরকে আযাদ করে দেয়া। ফলে অনেক গোলাম আযাদী লাভ করে ধন্য হয়। আল্লাহ তা‘আলা দাসদাসীদের মুক্তির জন্য বায়তুল মালে একটি অংশ নির্দিষ্ট করে দিলেন- (সূরা আত- তাওবাহ ৯ঃ ৬০)। বিশ্বনাবী ﷺ দাসদাসীদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার জন্য স্বীয় মুক্ত দাস যায়দ ﷺ-এর সঙ্গে মহা সম্ভ্রান্ত কোরেশ কুল নন্দিনী যায়নাব বিনতে জাহাশ (রাঃ)-এর বিয়ে দিয়েছিলেন। যায়দ ও তৎপুত্র উসামা (রাযি.)-কে নেতৃস্থানীয় সাহাবীদের উপর যুদ্ধাভিযানের সিপাহসালার নিযুক্ত করেছিলেন। আলোচ্য হাদীসটিতে একই উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে দাসীদেরকে শিক্ষা ও শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়ে বিয়ে করার জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব দানের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যেই তাদের আযাদী দাসীকে বিয়ের মাহর হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর পাক কালামে আদম সন্তানের [স্বাধীন নারী-পুরুষ আর দাস দাসীদের] মাঝে বেশী সম্মানের অধিকারী কে তার মাপকাঠি হিসেবে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেনঃ {إن أكرمكم عند الله أتقاكم} ‘‘তোমাদের মধ্যে যে বেশী পরহেযগার আল্লাহর নিকট সেই বেশী সম্মানিত।’’ (সূরা হুজরাত ৪৯ঃ ১৩)। আল্লাহ্ তা‘আলা যে তাকওয়া ব্যতীত কাউকে কারো উপর মর্যাদা প্রদান করেননি এ আয়াতটি তারই প্রমাণ বহন করছে। বরং সকল মানুষ সমান, পার্থক্য ঘটবে শুধুমাত্র তাক্বওয়া দ্বারা।

উল্লেখ্য দাস প্রথা ইসলামে রহিত হয়ে যায়নি। কেননা, মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধে বন্দী নারী-পুরুষ দাস দাসীরূপে ব্যবহার হতে পারে। এবং এদের মধ্যে যারা ঈমান আনবে কেবল তাদেরকেই ইসলাম স্বাধীন করার প্রতি উৎসাহিত করেছে। পক্ষান্তরে যারা ঈমান আনবে না বেদীন অবস্থায় থাকবে, তাদেরকে মুক্ত না করে দাস দাসীরূপেই ব্যবহৃত হবে। এটিই তাদের উপযু্ক্ত প্রাপ্য।
হাদিস নং: ৫০৮৪ সহিহ (Sahih)
سعيد بن تليد قال اخبرني ابن وهب قال اخبرني جرير بن حازم عن ايوب عن محمد عن ابي هريرة قال قال النبي صلى الله عليه وسلم حدثنا سليمان عن حماد بن زيد عن ايوب عن محمد عن ابي هريرة قال قال النبي صلى الله عليه وسلم لم يكذب ابراهيم الا ثلاث كذبات بينما ابراهيم مر بجبار ومعه“ سارة فذكر الحديث فاعطاها هاجر قالت كف الله يد الكافر واخدمني اجر قال ابو هريرة فتلك امكم يا بني ماء السماء.
৫০৮৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইব্রাহীম (আঃ) তিনবার ব্যতীত কোন মিথ্যা কথা বলেননি। অত্যাচারী বাদশাহর দেশে তাকে যেতে হয়েছিল এবং তারসঙ্গে ’সারা’ (রাঃ) ছিলেন। এরপর রাবী পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন। (সেই বাদশাহ) হাজেরাকে তাঁর সেবার জন্য তাঁকে দান করেন। তিনি ফিরে এসে বললেন, আল্লাহ্ কাফির থেকে আমাকে নিরাপত্তা দান করেছেন এবং আমার খিদমাতের জন্য আজারা (হাজেরা)-কে দিয়েছেন। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, ’’হে আকাশের পানির সন্তানগণ (কুরাইশ)! এ আজারাই তোমাদের মা।’’ [২২১৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭১৩)
হাদিস নং: ৫০৮৫ সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا اسماعيل بن جعفر عن حميد عن انس قال اقام النبي صلى الله عليه وسلم بين خيبر والمدينة ثلاثا يبنى عليه بصفية بنت حيي فدعوت المسلمين الى وليمته„ فما كان فيها من خبز ولا لحم امر بالانطاع فالقى فيها من التمر والاقط والسمن فكانت وليمته“ فقال المسلمون احد‘ى امهات المومنين او مما ملكت يمينه“ فقالوا ان حجبها فهي من امهات المومنين وان لم يحجبها فهي مما ملكت يمينه“ فلما ارتحل وطى لها خلفه“ ومد الحجاب بينها وبين الناس.
৫০৮৫. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার এবং মদিনা্র মাঝে তিন দিন অবস্থান করলেন এবং হুয়ায়্যার কন্যা সাফীয়ার সঙ্গে রাতে বাসর যাপনের ব্যবস্থা করলেন। আমি মুসলিমদেরকে তাঁর ওয়ালীমার দাওয়াত দিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামদস্তরখানা বিছানোর নির্দেশ দিলেন এবং সেখানে মাংস ও রুটি ছিল না। খেজুর, পনির, মাখন ও ঘি রাখা হল। এটাই ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওয়ালীমা। উপস্থিত মুসলিমরা পরস্পর বলাবলি করতে লাগল- তিনি (সফীয়্যাহ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণীদের মধ্যে গণ্য হবেন, ক্রীতদাসীদের মধ্যে গণ্য হবেন। তাঁরা বলাবলি করলেন যে, যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফীয়ার জন্য পর্দার ব্যবস্থা করেন, তাহলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী হিসাবে গণ্য করা হবে। আর যদি পর্দা না করা হয়, তাহলে তাঁকে ক্রীতদাসী হিসেবে মনে করা হবে। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান থেকে অন্যত্র যাবার ব্যবস্থা করলেন, তখন সাফীয়ার জন্য উটের পিছনে জায়গা করলেন এবং তাঁর ও লোকদের মাঝে পর্দার ব্যবস্থা করলেন। [1][৩৭১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭১৪)
নোট: [1] জিন্ন-ইনসানের মহান নেতার ওয়ালীমাহ এর বিবরণে যা পাওয়া গেল তাত্থেকে মুসলিম জাতি শিক্ষা গ্রহণ করে নিজেদের বিলাসিতা, অপচয় এবং অহংকার-প্রতিযোগিতা বন্ধ করবেন কি?
হাদিস নং: ৫০৮৬ সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا حماد عن ثابت وشعيب بن الحبحاب عن انس بن مالك ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اعتق صفية وجعل عتقها صداقها.
৫০৮৬. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফীয়াকে আযাদ করলেন এবং এই আযাদীকে তার বিয়ের মাহর ধার্য করলেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭১৫)
হাদিস নং: ৫০৮৭ সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا عبد العزيز بن ابي حازم عن ابيه عن سهل بن سعد الساعدي قال جاءت امراة الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله جىت اهب لك نفسي قال فنظر اليها رسول الله صلى الله عليه وسلمفصعد النظر فيها وصوبه“ ثم طاطا رسول الله صلى الله عليه وسلم راسه“ فلما رات المراة انه“ لم يقض فيها شيىا جلست فقام رجل من اصحابه„ فقال يا رسول الله ان لم يكن لك بها حاجة فزوجنيها فقال وهل عندك من شيء قال لا والله يا رسول الله فقال اذهب الى اهلك فانظر هل تجد شيىا فذهب ثم رجع فقال لا والله ما وجدت شيىا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم انظر ولو خاتما من حديد فذهب ثم رجع فقال لا والله يا رسول الله ولا خاتما من حديد ولكن هذا ازاري قال سهل ما له“ رداء فلها نصفه“ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما تصنع بازارك ان لبسته“ لم يكن عليها منه“ شيء وان لبسته“ لم يكن عليك منه“ شيء فجلس الرجل حتى اذا طال مجلسه“ قام فراه“ رسول الله صلى الله عليه وسلم موليا فامر به„ فدعي فلما جاء قال ماذا معك من القران قال معي سورة كذا وسورة كذا عددها فقال تقروهن عن ظهر قلبك قال نعم قال اذهب فقد ملكتكها بما معك من القران.
৫০৮৭. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার জীবনকে আপনার হাতে সমর্পণ করতে এসেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকালেন এবং সতর্ক দৃষ্টিতে তার আপাদমস্তক লক্ষ্য করলেন। তারপর তিনি মাথা নিচু করলেন। যখন মহিলাটি দেখল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে কোন ফয়সালা দিচ্ছেন না, তখন সে বসে পড়ল। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের মধ্যে একজন দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আপনার বিয়ের প্রয়োজন না থাকে, তবে আমার সঙ্গে এর বিয়ে দিয়ে দিন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কাছে কিছু আছে কি? সে উত্তর করলো- না, আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে কিছুই নেই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তোমার পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে গিয়ে দেখ, কিছু পাও কিনা। এরপর লোকটি চলে গেল। ফিরে এসে বলল, আল্লাহর কসম! আমি কিছুই পাইনি। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবার দেখ, লোহার একটি আংটিও যদি পাও।

তারপর লোকটি আবার ফিরে গেল। এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! তাও পেলাম না, কিন্তু এই আমার লুঙ্গি (শুধু এটাই আছে)। (রাবী) সাহল (রাঃ) বলেন, তার কাছে কোন চাদর ছিল না। লোকটি এর অর্ধেক তাকে দিতে চাইল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে তোমার লুঙ্গি দিয়ে কী করবে? তুমি যদি পরিধান কর, তাহলে তার কোন কাজে আসবে না, আর সে যদি পরিধান করে, তবে তোমার কোন কাজে আসবে না। তারপর বেশ কিছুক্ষণ লোকটি নীরবে বসে থাকল। তারপর উঠে দাঁড়াল।

সে যেতে উদ্যত হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে আনলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কী পরিমাণ কুরআন মাজীদ মুখস্থ আছে? সে বলল, আমার অমুক অমুক সূরা মুখস্থ আছে এবং সে গণনা করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, এগুলো কি তোমার মুখস্থ আছে। সে বলল, হাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে পরিমাণ কুরআন তোমার মুখস্থ আছে তার বিনিময়ে তোমার কাছে এ মহিলাটিকে তোমার অধীনস্থ করে (বিয়ে) দিলাম।[1][২৩১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭১৬)
নোট: [1] ইসলাম সকল স্ত্রী-পুরুষকেই বিধি সঙ্গত নিয়মে বিয়ে করার জন্য উৎসাহ দিয়েছে। আর যৌন উত্তেজনা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠলে তখন বিয়ে করা ফরযের পর্যায়ে পৌঁছে যায় বলে ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু অনেক সময় যুবক-যুবতীরা কেবলমাত্র অর্থাভাব বা দরিদ্রতার কারণে বিয়ে করতে প্রস্ত্তত হয় না। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এ মনোভাব মোটেই সমর্থনযোগ্য নয়। কারণ মানুষের রুজি রোজগার কোন স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় ব্যাপার নয়। আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা করেছেন-

{إِنْيَكُونُوافُقَرَاءَيُغْنِهِمُاللهُمِنْفَضْلِه„وَاللهُوَاسِعٌعَلِيمٌ} (النور: منالآية32)

‘‘যদি তারা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে তাদের ধনী করে দেবেন। বস্ত্ততঃ আল্লাহ প্রশস্ততাসম্পন্ন সর্বজ্ঞ’’- (সূরা আন্-নূর ২৪ঃ ৩২)। অর্থাৎ আল্লাহ বললেন- বিয়ে করলেই মানুষ আর্থিক দায়িত্বভারে পর্যুদস্ত হবে- এমন কোন কথা নেই, বরং উল্টোটারই সম্ভাবনা বেশি। আর তা হচ্ছে অধিক সন্তান হলে অনেক সময় আল্লাহ তা‘আলা তার ধনমাল বাড়িয়ে দেন। আবূ বাকর (রাযি.) বলেছেন- তোমরা বিয়ের ব্যাপারে আল্লাহর আদেশ পালনে তাঁর আনুগত্য করো। তাহলে ধন-সম্পত্তি দানের যে ওয়া‘দা তিনি করেছেন তা তোমাদের জন্য পূরণ করবেন- (ইবনে কাসীর)। আলোচ্য হাদীসের ঘটনার উল্লেখ করে ইবনে কাসীর লিখেছেন- আল্লাহ তা‘আলার অপরিসীম দয়া-অনুগ্রহ সর্বজনবিদিত। তিনি তাঁকে (আনাস বিন মালিককে) এত পরিমাণ রিয্ক্ব দান করলেন যে, তা স্বামী-স্ত্রী উভয়ের জন্য যথেষ্ট হয়ে গেল।

অতএব কোন মুসলিম যুবকেরই আর্থিক অসচ্ছলতার দরুণ অবিবাহিত কুমার জীবন যাপনে প্রস্তত হওয়া উচিত নয়। বরং আল্লাহর রিয্ক্বদাতা হওয়া- আল্লাহর অফুরন্ত দয়া ও দানের উপর অবিচল বিশ্বাস থাকা উচিত। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন-

{وَمَامِنْدَابَّةٍفِيالأرْضِإِلاَّعَلَىاللهِرِزْقُهَا} (هود: منالآية6)

‘‘যমীনের উপর বিচরণশীল সব প্রাণীরই রিয্ক্বের ভার একান্তভাবে আল্লাহর উপর’’ (সূরা হূদ ১১ঃ ৬)।

{وَيَرْزُقْهُمِنْحَيْثُلايَحْتَسِبُوَمَنْيَتَوَكَّلْعَلَىاللهِفَهُوَحَسْبُهُ} (الطلاق: 3)

‘‘আল্লাহ তাকে রিয্ক্ব দান করবেন এমন সব উপায়ে যা সে ধারণা পর্যন্ত করতে পারেনি। আর বস্ত্ততই যে লোক আল্লাহর উপর ভরসা করে কাজ করবে, সে লোকের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট হবেন’’ (সূরা আত্-তালাক ৬৫ঃ ৩)

{وَإِنْخِفْتُمْعَيْلَةًفَسَوْفَيُغْنِيكُمُاللهُمِنْفَضْلِهৃإِنْشَاূءَإِنَّاللهَعَلِيمٌحَكِيمٌ} (التوبة

‘‘তোমরা যদি দারিদ্রের ভয় কর তাহলে জেনে রেখো, আল্লাহ অবশ্যই তাঁর অনুগ্রহে তোমাদের ধনী করে দেবেন। নিশ্চয় আল্লাহ বড়ই জ্ঞানী ও সুবিবেচক।’’ (সূরা আত্-তাওবাহ ৯ঃ ২৮)

বস্ত্তত কোন গরীব লোক যদি বিয়ে করে, তবে কামাই রোজগারে তার বিপুল উৎসাহ ও উদ্যম সৃষ্টি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। আর এ ব্যাপারে তার স্ত্রী তার উপর বোঝা না হয়ে বরং দরদী সাহায্যকারিণী হয়। আর সন্তান হলে অর্থোপার্জনের কাজে সাহায্যকারী হতে পারে। অনেক সময় স্ত্রীর ধনী নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে যথেষ্ট আর্থিক সাহায্য লাভও হতে পারে। সদিচ্ছার উপর ফলাফল নির্ভর করে। আল্লাহ তা‘আলার কথার প্রতি যার বিশ্বাস ও আস্থার অভাব থাকে সে ছাড়া অপর কেউ দুর্ভোগে পড়তে পারে না। দৃঢ় বিশ্বাসই তাকে সফলতার পথে আল্লাহর সাহায্য লাভের উপযুক্ত করে দেবে।
হাদিস নং: ৫০৮৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال اخبرني عروة بن الزبير، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ ان ابا حذيفة بن عتبة بن ربيعة بن عبد شمس،، وكان، ممن شهد بدرا مع النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم تبنى سالما، وانكحه بنت اخيه هند بنت الوليد بن عتبة بن ربيعة وهو مولى لامراة من الانصار، كما تبنى النبي صلى الله عليه وسلم زيدا، وكان من تبنى رجلا في الجاهلية دعاه الناس اليه وورث من ميراثه حتى انزل الله ‏(‏ادعوهم لاباىهم‏)‏ الى قوله ‏(‏ومواليكم‏)‏ فردوا الى اباىهم، فمن لم يعلم له اب كان مولى واخا في الدين، فجاءت سهلة بنت سهيل بن عمرو القرشي ثم العامري ـ وهى امراة ابي حذيفة ـ النبي صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله انا كنا نرى سالما ولدا وقد انزل الله فيه ما قد علمت فذكر الحديث‏.‏
৫০৮৮. ’আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুযাইফাহ (রাঃ) ইবনু উতবাহ ইবনু রাবিয়া ইবনু আবদে শাম্স, যিনি বদরের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, তিনি সালিমকে পালক পুত্র হিসাবে গ্রহণ করেন এবং তার সঙ্গে তিনি তাঁর ভাতিজী ওয়ালীদ ইব্নু উত্বাহ ইব্নু রাবিয়ার কন্যা হিন্দাকে বিয়ে দেন। সে ছিল এক আনসারী মহিলার আযাদকৃত দাস যেমন যায়দকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালক-পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। জাহিলী যুগের রীতি ছিল যে, কেউ যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে পালক-পুত্র হিসেবে গ্রহণ করত, তবে লোকেরা তাকে ঐ ব্যক্তির পুত্র হিসেবে ডাকত এবং মুত্যুর পর ঐ ব্যক্তির উত্তরাধিকারী হত।

যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহ্ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ অর্থাৎ, ’’তাদেরকে (পালক পুত্রদেরকে) তাদের জন্মদাতা পিতার নামে ডাক.....তারা তোমাদের মুক্ত করা গোলাম।’’ (সূরা আহযাবঃ ৫) এরপর থেকে তাদেরকে পিতার নামেই শুধু ডাকা হত। যদি তাদের পিতা সম্পর্কে জানা না যেত, তাহলে তাকে মাওলা বা দ্বীনী ভাই হিসেবে ডাকা হত। তারপর [আবূ হুযাইফাহ ইবনু ’উতবাহ (রাঃ)-এর স্ত্রী] সাহলাবিনতে সুহায়ল ইবনু ’আমর আল কুরাইশী আল আমিরী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সালিমকে আমাদের পুত্র হিসেবে মনে করতাম; অথচ এখন আল্লাহ্ যা অবতীর্ণ করেছেন তা তো আপনিই ভাল জানেন। এরপর তিনি পুরো হাদীস বর্ণনা করলেন। [৪০০০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭১৭)
হাদিস নং: ৫০৮৯ সহিহ (Sahih)
عبيد بن اسماعيل حدثنا ابو اسامة عن هشام عن ابيه عن عاىشة قالت دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم على ضباعة بنت الزبير فقال لها لعلك اردت الحج قالت والله لا اجدني الا وجعة فقال لها حجي واشترطي وقولي اللهم محلي حيث حبستني وكانت تحت المقداد بن الاسود.
৫০৮৯. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবা’আ বিনতে যুবায়র-এর নিকট গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন তোমার হাজ্জে যাবার ইচ্ছে আছে কি? সে উত্তর দিল, আল্লাহর কসম! আমি খুবই অসুস্থবোধ করছি (তবে হাজ্জে যাবার ইচ্ছে আছে)। তার উত্তরে বললেন, তুমি হাজ্জের নিয়্যতে বেরিয়ে যাও এবং আল্লাহর কাছে এই শর্তারোপ করে বল, হে আল্লাহ্! যেখানেই আমি বাধাগ্রস্ত হব, সেখানেই আমি আমার ইহরাম শেষ করে হালাল হয়ে যাব। সে ছিল মিকদাদ ইবনু আসওয়াদের সহধর্মিণী। [মুসলিম ১৫/১৫, হাঃ ১২০৭, আহমাদ ২৫৩৬৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭১৮)
হাদিস নং: ৫০৯০ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى عن عبيد الله قال حدثني سعيد بن ابي سعيد عن ابيه عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال تنكح المراة لاربع لمالها ولحسبها وجمالها ولدينها فاظفر بذات الدين تربت يداك
৫০৯০. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে মেয়েদেরকে বিয়ে করা হয়ঃ তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য ও তার দ্বীনদারী। সুতরাং তুমি দ্বীনদারীকেই প্রাধান্য দেবে নতুবা তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। [1] [মুসলিম ১৭/১৫, হাঃ ১৪৬৬, আহমাদ ৯৫২৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭১৯)
নোট: [1] যে সব কারণে একজন পুরুষ বিশেষ একটি মেয়েকে স্ত্রীরূপে বরণ করার জন্য উৎসাহিত ও আগ্রহান্বিত হতে পারে তা হচ্ছে চারটি। (১) সৌন্দর্য (২) সম্পদ (৩) বংশ (৪) দীনদারী। এ গুণ চতুষ্টয়ের মধ্যে সর্বশেষে উল্লেখ করা হয়েছে দীনদারী ও আদর্শবাদিতার গুণ। আর এ গুণটিই ইসলামের দৃষ্টিতে সর্বাগ্রগণ্য ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আলোচ্য নির্দেশের সার কথা হল- দীনদারীর গুণসম্পন্না কনে পাওয়া গেলে তাকেই যেন স্ত্রীরূপে বরণ করা হয়, তাকে বাদ দিয়ে অপর কোন গুণসম্পন্না মহিলাকে বিয়ে করতে আগ্রহী হওয়া উচিত নয়- (সুবুলুস সালাম)। চারটি গুণের মধ্যে দ্বীনদার হওয়ার গুণটি কেবল যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ তা-ই নয়, এ গুণ যার নেই তার মধ্যে অন্যান্য গুণ যতই থাক না কেন, ইসলামের দৃষ্টিতে সে অগ্রাধিকার যোগ্য কনে নয়। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস অনুযায়ী তো দ্বীনদারীর গুণ বঞ্চিতা নারী বিয়ে করাই উচিত নয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দিয়েছেন- তোমরা স্ত্রীদের কেবল তাদের রূপ-সৌন্দর্য দেখেই বিয়ে করো না- কেননা এরূপ সৌন্দর্যই অনেক সময় তাদের ধ্বংসের কারণ হতে পারে। তাদের ধন-মালের লোভে পড়েও বিয়ে করবে না, কেননা এ ধনমাল তাদের বিদ্রোহী ও অনমনীয় বানাতে পারে। বরং তাদের দ্বীনদারীর গুণ দেখেই তবে বিয়ে করবে। বস্ত্তত একজন দীনদার কৃষ্ণাঙ্গ দাসীও কিন্তু অনেক ভাল- (ইবনে মাজাহ, বাযযার, বাইহাকী)। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল- বিয়ের জন্য কোন্ ধরনের মেয়ে উত্তম? জবাবে তিনি বলেছিলেন- যে স্ত্রীকে দেখলে সে তার স্বামীকে আনন্দ দেয়, তাকে যে কাজের আদেশ করা হয় তা সে যথাযথ পালন করে এবং তার নিজের স্বামীর ধন মালের ব্যাপারে স্বামীর পছন্দের বিপরীত কোন কাজই করে না- (মুসনাদে আহমাদ)। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন- দুনিয়ার সব জিনিসই ভোগ সামগ্রী আর সবচেয়ে উত্তম সামগ্রী হচ্ছে নেক চরিত্রের স্ত্রী- (মুসনাদে আহমাদ)।

উপরে উদ্ধৃত হাদীসগুলো থেকে সে কথাটি স্পষ্ট হয়ে উঠছে তা এই যে, ইসলামের দৃষ্টিতে তাকওয়া, পরহেযগারী, দীনদারী ও উন্নত চরিত্রই হচ্ছে জীবন সঙ্গিনী পছন্দ করার ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
হাদিস নং: ৫০৯১ সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن حمزة حدثنا ابن ابي حازم عن ابيه عن سهل قال مر رجل على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ما تقولون في هذا قالوا حري ان خطب ان ينكح وان شفع ان يشفع وان قال ان يستمع قال ثم سكت فمر رجل من فقراء المسلمين فقال ما تقولون في هذا قالوا حري ان خطب ان لا ينكح وان شفع ان لا يشفع وان قال ان لا يستمع فقال رسول الله صلى الله عليه وسلمهذا خير من ملء الارض مثل هذا.
৫০৯১. সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিল। তখন তিনি (সাহাবীবর্গকে) বললেন, তোমাদের এর সম্পর্কে কী ধারণা? তারা উত্তর দিলেন, ’’যদি কোথাও কোন মহিলার প্রতি এ লোকটি বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তার সঙ্গে বিয়ে দেয়া যায়। যদি সে সুপারিশ করে, তাহলে সুপারিশ গ্রহণ করা হয়, যদি কথা বলে, তবে তা শোনা হয়। রাবী বলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ করে থাকলেন।

এরপর সেখান দিয়ে একজন গরীব মুসলিম অতিক্রম করতেই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমাদের কী ধারণা? তারা জবাব দিলেন, যদি এ ব্যক্তি কোথাও বিয়ের প্রস্তাব করে, তার সাথে বিয়ে দেয়া হয় না। যদি কারও জন্য সুপারিশ করে, তবে তা গ্রহণ করা হয় না। যদি কোন কথা বলে, তবে তা শোনা হয় না। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দুনিয়া ভর্তি ঐ ধনীদের চেয়ে এ দরিদ্র লোকটি উত্তম। [৬৪৪৭](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭২০)
হাদিস নং: ৫০৯২ সহিহ (Sahih)
حدثني يحيى بن بكير، حدثنا الليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، قال اخبرني عروة، انه سال عاىشة ـ رضى الله عنها ـ ‏(‏وان خفتم ان لا تقسطوا في اليتامى‏)‏ قالت يا ابن اختي هذه اليتيمة تكون في حجر وليها فيرغب في جمالها ومالها، ويريد ان ينتقص صداقها، فنهوا عن نكاحهن الا ان يقسطوا في اكمال الصداق، وامروا بنكاح من سواهن، قالت واستفتى الناس رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد ذلك، فانزل الله ‏(‏ويستفتونك في النساء‏)‏ الى ‏(‏وترغبون ان تنكحوهن‏)‏ فانزل الله لهم ان اليتيمة اذا كانت ذات جمال ومال رغبوا في نكاحها ونسبها في اكمال الصداق، واذا كانت مرغوبة عنها في قلة المال والجمال تركوها واخذوا غيرها من النساء، قالت فكما يتركونها حين يرغبون عنها فليس لهم ان ينكحوها اذا رغبوا فيها الا ان يقسطوا لها ويعطوها حقها الاوفى في الصداق‏.‏
৫০৯২. ইবনু শিহাব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে ’উরওয়াহ (রহ.) বলেছেন যে, তিনি ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে ’’যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, ইয়াতীমদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না’’ (সূরা আন-নিসাঃ ৩) এ আয়াতের মর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, হে ভাগ্নে! এ আয়াত ঐসব ইয়াতীম বালিকাদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা কোন অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে আছে। আর অভিভাবক তার ধন-সম্পদ ও সৌন্দর্যের প্রতি আসক্ত; কিন্তু বিয়ের পর মাহর দিতে অনিচ্ছুক। এ রকম অভিভাবককে ঐ ইয়াতীম বালিকাদের বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ করতে নিষেধ করা হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা ইনসাফের সঙ্গে পূর্ণ মাহর তাদেরকে দিয়ে দেয় এবং এদেরকে ছাড়া অন্যদের বিয়ে করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, পরবর্তীকালে লোকেরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে আল্লাহ্ তা’আলা এই আয়াত অবতীর্ণ করেন ’’আর লোকে তোমার নিকট নারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা জানতে চায়, বল, আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের সম্বন্ধে ব্যবস্থা জানাচ্ছেন এবং ইয়াতীম নারী সম্পর্কে যাদের তোমরা (মাহর) প্রদানকর না, অথচ তোমরা তাদেরকে বিয়ে করতে চাও এবং অসহায় শিশুদের সম্বন্ধে ও ইয়াতীমদের প্রতি তোমাদের ন্যায় বিচার সম্পর্কে যা কিতাবে তোমাদেরকে শোনানো হয়, তাও পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন। সেই হুকুমগুলো যা এ ইয়াতীম মেয়েদের সম্পর্কে যাদের হক তোমরা সঠিক মত আদায় কর না। যাদেরকে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ করার কোন আগ্রহ তোমাদের নেই।’’ (সূরা আন-নিসা ১২৭)

ইয়াতীম বালিকারা যখন সুন্দরী এবং ধনবতী হয়, তখন অভিভাবকগণ তার বংশমর্যাদা রক্ষা এবং বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করতঃ তারা এদের পূর্ণ মাহর আদায় না করা পর্যন্ত বিয়ে করতে পারে না। আর তারা যদি এদের ধন-সম্পদ এবং সৌন্দর্যের অভাবের কারণে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হতে আগ্রহী না হত, তাহলে তারা এদের ব্যতীত অন্য মহিলাদের বিয়ে করত। সুতরাং যখন তারা এদের মধ্যে স্বার্থ পেতো না তখন তাদের বাদ দিত। এ কারণে তাদেরকে স্বার্থের বেলায় পূর্ণ মাহর আদায় করা ব্যতীত বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়। [২৪৯৪](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭২১)
হাদিস নং: ৫০৯৩ সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل، قال حدثني مالك، عن ابن شهاب، عن حمزة، وسالم، ابنى عبد الله بن عمر عن عبد الله بن عمر ـ رضى الله عنهما ـ ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ الشوم في المراة والدار والفرس ‏"‏‏.‏
৫০৯৩. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্ত্রী, বাড়িঘর এবং ঘোড়ায় অশুভ আছে। [২০৯৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭২২)
হাদিস নং: ৫০৯৪ সহিহ (Sahih)
محمد بن منهال حدثنا يزيد بن زريع حدثنا عمر بن محمد العسقلاني عن ابيه عن ابن عمر قال ذكروا الشوم عند النبي صلى الله عليه وسلم فقال النبي صلى الله عليه وسلم ان كان الشوم في شيء ففي الدار والمراة والفرس.
৫০৯৪. ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট লোকেরা অশুভ সম্পর্কে আলোচনা করলে তিনি বলেন, কোন কিছুর মধ্যে যদি অশুভ থাকে, তা হলোঃ বাড়ি-ঘর, স্ত্রীলোক এবং ঘোড়া। [২০৯৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭২৩)
হাদিস নং: ৫০৯৫ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن ابي حازم عن سهل بن سعد ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان كان في شيء ففي الفرس والمراة والمسكن.
৫০৯৫. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি কোন কিছুর মধ্যে অশুভ থাকে, তা হচ্ছে, ঘোড়া, স্ত্রীলোক এবং বাসগৃহ। [২৮৫৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭২৪)
হাদিস নং: ৫০৯৬ সহিহ (Sahih)
. ادم حدثنا شعبة عن سليمان التيمي قال سمعت ابا عثمان النهدي عن اسامة بن زيد عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ما تركت بعدي فتنة اضر على الرجال من النساء.
৫০৯৬. উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পুরুষের জন্য স্ত্রীজাতি অপেক্ষা অধিক ক্ষতিকর কোন ফিতনা আমি রেখে গেলাম না। [মুসলিম ২৬/হাঃ ২৭৪০, আহমাদ ২১৮০৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭২৫)
হাদিস নং: ৫০৯৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف، اخبرنا مالك، عن ربيعة بن ابي عبد الرحمن، عن القاسم بن محمد، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ قالت كان في بريرة ثلاث سنن عتقت فخيرت، وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ الولاء لمن اعتق ‏"‏‏.‏ ودخل رسول الله صلى الله عليه وسلم وبرمة على النار، فقرب اليه خبز وادم من ادم البيت فقال ‏"‏ لم ار البرمة ‏"‏‏.‏ فقيل لحم تصدق على بريرة، وانت لا تاكل الصدقة قال ‏"‏ هو عليها صدقة، ولنا هدية ‏"‏‏.‏
৫০৯৭. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’বারীরা’ থেকে তিনটি বিষয় জানা গেছে যে, যখন তাকে মুক্ত করা হয় তখন তাকে দু’টির একটি বেছে নেয়ার অধিকার (Option) দেয়া হয় (সে ক্রীতদাস স্বামীর সঙ্গে থাকবে কি থাকবেনা? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ক্রীতদাসের ওয়ালার[1] অধিকার মুক্তকারীর। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করে চুলার ওপরে ডেকচি দেখতে পেলেন। কিন্তু তাকে রুটি এবং বাড়ির তরকারী থেকে তরকারী দেয়া হল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, চুলার ওপরের ডেকচির তরকারী দেখতে পাচ্ছি না যে? উত্তর দেয়া হল, ডেকচিতে বারীরার জন্য দেয়া সাদাকার গোশ্ত রয়েছে। আর আপনি তো সাদাকার গোশ্ত খান না। তখন তিনি বললেন, এটা তার জন্য সাদাকা আর আমাদের জন্য হাদিয়া। [৪৫৬; মুসলিম ২০/২, হাঃ ১৫০৪, আহমাদ ২৫৫০৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭২৬)
নোট: [1] মুক্ত দাস-দাসীর ব্যাপারে যে অধিকার জন্মে তাকে ‘ওয়ালা’ বলা হয়।
হাদিস নং: ৫০৯৮ সহিহ (Sahih)
محمد اخبرنا عبدة عن هشام عن ابيه عن عاىشة وان خفتم الا تقسطوا في اليتامى قالت اليتيمة تكون عند الرجل وهو وليها فيتزوجها على مالها ويسيء صحبتها ولا يعدل في مالها فليتزوج ما طاب له“ من النساء سواها مثنى وثلاث ورباع.
لِقَوْلِهِ تَعَالَى: (مَثْنَى وَثُلاَثَ وَرُبَاعَ).
وَقَالَ عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ عَلَيْهِمَا السَّلاَمُ يَعْنِي مَثْنَى أَوْ ثُلاَثَ أَوْ رُبَاعَ. وَقَوْلُهُ جَلَّ ذِكْرُهُ: (أُولِي أَجْنِحَةٍ مَثْنَى وَثُلاَثَ وَرُبَاعَ) يَعْنِي مَثْنَى أَوْ ثُلاَثَ أَوْ رُبَاعَ.

আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ ’’তোমরা বিয়ে কর দু’জন, তিনজন অথবা চারজন।’’ (সূরাহ আন্-নিসা ৪/২)

’আলী ইবনু হুসায়ন (রহ.) বলেনঃ এর অর্থ হচ্ছে দু’জন অথবা তিনজন অথবা চারজন। আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, ’’(ফেরেশতাদের) দু’ অথবা তিন অথবা চারখানা পাখা আছে’’- (সূরাহ ফাতির ৩৫/১)- এর অর্থ দু’ দু’খানা, তিন তিনখানা এবং চার চারখানা।


৫০৯৮. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। ’যদি তোমরা ভয় কর ইয়াতীমদের মধ্যে পূর্ণ ইনসাফ কায়িম করতে পারবে না’- (সূরাহ আন্-নিসা ৪/৩)- এ আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ আয়াত ঐ সমস্ত ইয়াতীম বালিকাদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যাদের অভিভাবক তাদের সম্পদের লোভে বিয়ে করে। কিন্তু তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে এবং তাদের সম্পত্তিকে ইনসাফের সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ করে না। তার জন্য সঠিক পন্থা এই যে, ঐ বালিকাদের ছাড়া মহিলাদের মধ্য থেকে তার ইচ্ছে অনুযায়ী দু’জন অথবা তিনজন অথবা চারজনকে বিয়ে করতে পারবে। [২৪৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭২৭)
হাদিস নং: ৫০৯৯ সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني مالك عن عبد الله بن ابي بكر عن عمرة بنت عبد الرحمن ان عاىشة زوج النبيصلى الله عليه وسلم اخبرتها ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان عندها وانها سمعت صوت رجل يستاذن في بيت حفصة قالت فقلت يا رسول الله هذا رجل يستاذن في بيتك فقال النبي صلى الله عليه وسلم اراه“ فلانا لعم حفصة من الرضاعة قالت عاىشة لو كان فلان حيا لعمها من الرضاعة دخل علي فقال نعم الرضاعة تحرم ما تحرم الولادة.
وَيَحْرُمُ مِنَ الرَّضَاعَةِ مَا يَحْرُمُ مِنَ النَّسَبِ.

রক্তের সম্পর্কের কারণে যাদের সঙ্গে বিয়ে হারাম, দুধের সম্পর্কের কারণেও তাদের সঙ্গে বিয়ে হারাম।


৫০৯৯. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে ছিলেন। এমন সময় শুনলেন এক ব্যক্তি হাফসাহ (রাঃ)-এর ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! লোকটি আপনার ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাচ্ছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বলেন, আমি জানি, সে ব্যক্তি হাফসার দুধের সম্পর্কে চাচা। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, যদি অমুক ব্যক্তি বেঁচে থাকত সে দুধ সম্পর্কে আমার চাচা হত (তাহলে কি আমি তার সঙ্গে দেখা করতে পারতাম)? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হাঁ, রক্ত সম্পর্কের কারণে যাদের সঙ্গে বিয়ে নিষিদ্ধ, দুধ সম্পর্কের কারণেও তাদের সঙ্গে বিয়ে নিষিদ্ধ। [২৬৪৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭২৮)
হাদিস নং: ৫১০০ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى عن شعبة عن قتادة عن جابر بن زيد عن ابن عباس قال قيل للنبي صلى الله عليه وسلم الا تتزوج ابنة حمزة قال انها ابنة اخي من الرضاعة وقال بشر بن عمر حدثنا شعبة سمعت قتادة سمعت جابر بن زيد مثله.
৫১০০. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলল, আপনি কেন হামযাহ (রাঃ)-এর মেয়েকে বিয়ে করছেন না? তিনি বললেন, সে আমার দুধ সম্পর্কের ভাইয়ের মেয়ে। বিশর ..... জাবির বিন যায়দ থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। [২৬৪৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭২৯)
হাদিস নং: ৫১০১ সহিহ (Sahih)
الحكم بن نافع اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني عروة بن الزبير ان زينب بنت ابي سلمة اخبرته“ ان ام حبيبة بنت ابي سفيان اخبرتها انها قالت يا رسول الله انكح اختي بنت ابي سفيان فقال اوتحبين ذلك فقلت نعم لست لك بمخلية واحب من شاركني في خير اختي فقال النبي صلى الله عليه وسلم ان ذلك لا يحل لي قلت فانا نحدث انك تريد ان تنكح بنت ابي سلمة قال بنت ام سلمة قلت نعم فقال لو انها لم تكن ربيبتي في حجري ما حلت لي انها لابنة اخي من الرضاعة ارضعتني وابا سلمة ثويبة فلا تعرضن علي بناتكن ولا اخواتكن قال عروة وثويبة مولاة لابي لهب كان ابو لهب اعتقها فارضعت النبي صلى الله عليه وسلم فلما مات ابو لهب اريه“ بعض اهله„ بشر حيبة قال له“ ماذا لقيت قال ابو لهب لم الق بعدكم غير اني سقيت في هذه„ بعتاقتي ثويبة
৫১০১. উম্মু হাবীবাহ বিনতে আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার বোন আবূ সুফিয়ানের কন্যাকে বিয়ে করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি এটা পছন্দ কর? তিনি উত্তর করলেন, হাঁ। এখন তো আমি আপনার একক স্ত্রী নই এবং আমি চাই যে, আমার বোনও আমার সঙ্গে উত্তম কাজে অংশীদার হোক। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, এটা আমার জন্য হালাল নয়। আমি বললাম, আমরা শুনতে পেলাম, আপনি নাকি আবূ সালামাহ’র মেয়েকে বিয়ে করতে চান। তিনি বললেন, তুমি বলতে চাচ্ছ যে, আমি উম্মু সালামাহর মেয়েকে বিয়ে করতে চাই। আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, যদি সে আমার প্রতিপালিতা কন্যা না হত, তাহলেও তাকে বিয়ে করা হালাল হত না, কেননা, সে দুধ সম্পর্কের দিক দিয়ে আমার ভাতিজী। কেননা, আমাকে এবং আবূ সালামাহকে সুওয়াইবা দুধ পান করিয়েছে। সুতরাং, তোমরা তোমাদের কন্যা ও বোনদেরকে বিয়ের জন্য পেশ করো না।
’উরওয়াহ (রাঃ) বর্ণনা করেন, সুওয়াইবা ছিল আবূ লাহাবের দাসী এবং সে তাকে আযাদ করে দিয়েছিল। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দুধ পান করায়। আবূ লাহাব যখন মারা গেল, তার একজন আত্মীয় তাকে স্বপ্নে দেখল যে, সে ভীষণ কষ্টের মধ্যে নিপতিত আছে। তাকে জিজ্ঞেস করল, তোমার সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা হয়েছে। আবূ লাহাব বলল, যখন থেকে তোমাদের হতে দূরে আছি, তখন থেকেই ভীষণ কষ্টে আছি। কিন্তু সুওয়াইবাকে আযাদ করার কারণে কিছু পানি পান করতে পারছি। [৫১০৬, ৫১০৭, ৫১২৩, ৫৩৭২; মুসলিম ১৭/৪, হাঃ ১৪৪৯, আহমাদ ২৭৪৮২](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৩০)
হাদিস নং: ৫১০২ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو الوليد، حدثنا شعبة، عن الاشعث، عن ابيه، عن مسروق، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ ان النبي صلى الله عليه وسلم دخل عليها وعندها رجل، فكانه تغير وجهه، كانه كره ذلك فقالت انه اخي‏.‏ فقال ‏ "‏ انظرن ما اخوانكن، فانما الرضاعة من المجاعة ‏"‏‏.‏
لِقَوْلِهِ تَعَالَى: (حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ)

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা’আলা বলেন,’’যে ব্যক্তি দুধপান কাল পূর্ণ করাতে ইচ্ছুক তার জন্য মায়েরা নিজেদের সন্তানদেরকে পূর্ণ দু’ বৎসরকাল স্তন্য দান করবে।’’-(সূরাহ আল-বাক্বারাহ ২/২৩৩)

وَمَا يُحَرِّمُ مِنْ قَلِيلِ الرَّضَاعِ وَكَثِيرِهِ

কম-অধিক যে পরিমাণ দুধ পান করলে বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম হয়।


৫১০২. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে এলেন। সে সময় এক লোক তার কাছে বসা ছিল। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারায় ক্রোধের ভাব প্রকাশ পেল, যেন তিনি এ ব্যাপারে অসন্তুষ্ট হয়েছেন। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এ আমার ভাই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যাচাই করে দেখ, তোমাদের ভাই কারা? কেননা দুধের সম্পর্ক কেবল তখনই কার্যকরী হবে যখন দুধই হল শিশুর প্রধান খাদ্য।[1][২৬৪৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৩১)
নোট: [1] সন্তানের দু’বছর বয়সের মধ্যে যদি দুধপান ক’রে থাকে, তবে দুধের সম্পর্ক হবে, নইলে হবে না।
অধ্যায় তালিকা