অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৬৭/১. বিয়ে করার অনুপ্রেরণা দান। শ্রবণ করিনি এ ব্যাপারে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেনঃ ‘তোমরা নারীদের মধ্য হতে নিজেদের পছন্দ মত বিয়ে কর।’ (আন-নিসা ৪:৩)
মোট ১৮৮ টি হাদিস
হাদিস নং: ৫১৪৩ সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا الليث عن جعفر بن ربيعة عن الاعرج قال قال ابو هريرة ياثر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال اياكم والظن فان الظن اكذب الحديث ولا تجسسوا ولا تحسسوا ولا تباغضوا وكونوا عباد الله اخوانا
৫১৪৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তোমরা কারো প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করো না। কেননা, খারাপ ধারণা সবচেয়ে বড় মিথ্যা। একে অপরের দোষ-ত্রুটি খুঁজিও না, একে অন্যের ব্যাপারে মন্দ কথায় কান দিও না এবং একে অপরের প্রতি শত্রুতা পোষণ করো না; বরং ভাই ভাই হয়ে যাও। [৬০৬৪, ৬০৬৬, ৬৭২৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬৭)
হাদিস নং: ৫১৪৪ সহিহ (Sahih)
ولا يخطب الرجل على خطبة اخيه حتى ينكح او يترك
৫১৪৪. এক ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব করো না; যতক্ষণ না সে তাকে বিয়ে করে অথবা বাদ দেয়। [২১৪০](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬৭)
হাদিস নং: ৫১৪৫ সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني سالم بن عبد الله انه“ سمع عبد الله بن عمر يحدث ان عمر بن الخطاب حين تايمت حفصة قال عمر لقيت ابا بكر فقلت ان شىت انكحتك حفصة بنت عمر فلبثت ليالي ثم خطبها رسول الله صلى الله عليه وسلم فلقيني ابو بكر فقال انه“ لم يمنعني ان ارجع اليك فيما عرضت الا اني قد علمت ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد ذكرها فلم اكن لافشي سر رسول الله صلى الله عليه وسلم ولو تركها لقبلتها تابعه“ يونس وموسى بن عقبة وابن ابي عتيق عن الزهري.
৫১৪৫. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, ’উমার (রাঃ) বলেন, হাফসাহ (রাঃ) বিধবা হলে আমি আবূ বকর (রাঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে বললাম, আপনি যদি চান তবে হাফসাহ বিন্ত ’উমারকে আপনার কাছে বিয়ে দিতে পারি। আমি কয়েকদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিয়ের জন্য পয়গাম পাঠালেন। পরে আবূ বকর (রাঃ) আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললেন, আপনার প্রস্তাবের উত্তর দিতে কোন কিছুই আমাকে বাধা দেয়নি এ ছাড়া যে, আমি জেনেছিলাম রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং আমি কখনও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপন তথ্য প্রকাশ করতে পারি না। তিনি যদি তাকে বাদ দিতেন, তাহলে আমি তাকে গ্রহণ করতাম। ইউনুস, মূসা ইব্নু ’উকবাহ এবং ইবনু আতীক যুহরীর সূত্রে উক্ত হাদীসের সমর্থন করেছেন। [৪০০৫](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬৮)
হাদিস নং: ৫১৪৬ সহিহ (Sahih)
قبيصة حدثنا سفيان عن زيد بن اسلم قال سمعت ابن عمر يقول جاء رجلان من المشرق فخطبا فقال النبي صلى الله عليه وسلم ان من البيان لسحرا.
৫১৪৬. ইব্নু ’উমার (রাঃ) বর্ণনা করেন, পূর্বাঞ্চল থেকে দু’ব্যক্তি এসে বক্তৃতা দিল। তখন নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোন কোন বক্তৃতায় যাদু আছে। [৫৭৬৭](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬৯)
হাদিস নং: ৫১৪৭ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا بشر بن المفضل حدثنا خالد بن ذكوان قال قالت الربيع بنت معوذ بن عفراء جاء النبي صلى الله عليه وسلم فدخل حين بني علي فجلس على فراشي كمجلسك مني فجعلت جويريات لنا يضربن بالدف ويندبن من قتل من اباىي يوم بدر اذ قالت احداهن وفينا نبي يعلم ما في غد فقال دعي هذه„ وقولي بالذي كنت تقولين.
৫১৪৭. রুবাই বিনত মুআব্বিয ইবনু আফরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বাসর রাতের পরের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন এবং আমার বিছানার ওপর বসলেন, যেমন বর্তমানে তুমি আমার কাছে বসে আছ। সে সময় আমাদের ছোট মেয়েরা দফ বাজাচ্ছিল এবং বদরের যুদ্ধে শাহাদাত প্রাপ্ত আমার বাপ-চাচাদের শোকগাঁথা গাচ্ছিল।[1] তাদের একজন বলে বসল, আমাদের মধ্যে এক নবী আছেন, যিনি আগামী দিনের কথা জানেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ কথা বাদ দাও, আগে যা বলছিলে, তাই বল। [৪০০১](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৭০)
নোট: [1] কোন নারী-পুরুষ ব্যভিচার করলে, অবৈধ মেলামেশায় লিপ্ত হলে তারা তা করে অতি গোপনে কেউ যেন জানতে না পারে। কিন্তু বিয়ের ব্যাপারটি হল এর বিপরীত। এখানে দু’টি নর-নারীর মধ্যে যে বৈধ মিলন ঘটতে যাচ্ছে তা আশেপাশের লোকজনকে জানিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সবাই জানবে ওমুক ছেলের সঙ্গে ওমুক মেয়ের বিয়ে হচ্ছে। দফ বা একমুখী ঢোল বাজানো যেমন আওয়াজ করে ঘোষণা দেয়ার মাধ্যম, তদুপরি বিয়ের উৎসবে আনন্দের উৎস বটে। দফ বাজিয়ে ছোট ছোট বালকরা এমন গান গাইবে যা যৌনাচার বা অশ্লীলতার দিকে মানুষকে উত্তেজিত করে না। ইসলামের প্রতি প্রেরণাদায়ক এবং যুদ্ধাভিযানের বীরত্বব্যঞ্জক গৌরব গাঁথা ও গান দফ বাজিয়ে পরিবেশন করা বিয়ের মজলিসের একটি পছন্দনীয় কাজ। এতে একাধারে সকলে বিয়ের কথা জানতে পারবে, ইসলামী জীবন বিধানে উদ্বুদ্ধ হবে এবং বড় বাদ্যযন্ত্রের ভয়াবহ আওয়াজ থেকেও রক্ষা পাবে।

উল্লেখ্য হাদীসের মধ্যে রসূল নির্দেশ প্রদান করেছেনঃ (أَعْلِنُوا النِّكَاحَ) ‘‘তোমার বিয়ের বিষয়টি প্রচার কর।’’ হাদীসটিকে শাইখ আলবানী ‘‘সহীহ্ জামে‘ইস সাগীর’’ গ্রন্থে (১০৭২) হাসান আখ্যা দিয়েছেন]। বিয়ে উপলক্ষে দফ বাজানো জায়েয মর্মে সহীহ্ হাদীস বর্ণিত হয়েছে, দেখুন ‘‘মিশকাত’’ তাহকীক আলবানী (৩১৪০)। তবে বিয়ের আক্দ মসজিদে হতে হবে এ মর্মে বর্ণিত হাদীসটি দুর্বল, দেখুন ‘‘য‘ঈফ জামে‘ইস সাগীর’’ (৯৬৬, ৯৬৭), ‘‘য‘ঈফ তিরমিযী’’ (১০৮৯) ও ‘‘ইরওয়াউল গালীল’’ (১৯৯৩)।

ওয়ালীমার যিয়াফাতঃ বিয়ে অনুষ্ঠান প্রচারের দ্বিতীয় উপায় হচ্ছে ওয়ালীমার যিয়াফাত করা। ওয়ালিমাহ করার নির্দেশ ও নিয়ম স্বামীর জন্য। বিবাহোত্তর এটি করতে হয়। কিন্তু আমাদের সমাজে মেয়ে পক্ষকে খাবার দাবারের জন্য বিরাট অংকের টাকা খরচ করানোর নিয়ম নীতির প্রচলন রয়েছে যা সুন্নাতী বিবাহের পরিপন্থী। তবে মেয়ে পক্ষ যদি স্বেচ্ছায় ওয়ালিমার ব্যবস্থা করে তবে তা জায়িয।

নিজেদের ছেলে বা মেয়ের বিয়েতে আত্মীয় স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীদের একত্রিত করা একান্তই বাঞ্ছনীয়। ইমাম তাবারানী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে রসূলﷺ এর নিম্নোক্ত ঘোষণা বর্ণনা করেছেন- ওয়ালীমা করা হচ্ছে একটি অধিকার, একান্তই কর্তব্য। ইসলামের স্থায়ী নীতি। অতএব যাকে এ যিয়াফাতে শরীক হওয়ার জন্য দাওয়াত দেয়া হবে, সে যদি তাতে উপস্থিত না হয়, তাহলে সে নাফারমানি করল। রসূল ﷺ আব্দুর রহমান বিন আওফকে (রাঃ) ওয়ালীমা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিজে যয়নব বিনতে জাহাস ও সাফিয়া (রাযি.)কে বিয়ে করে ওয়ালীমার ব্যবস্থা করেছেন। আলী (রাযি.) যখন ফাতিমা (রাযি.) এর সাথে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তখন নাবী ﷺ বলেছিলেন- এ বিয়েতে ওয়ালীমা অবশ্যই করতে হবে- মুসনাদে আহমাদ। ওয়ালীমার যিয়াফাত করা স্বামীর সামর্থ্য অনুযায়ী হওয়া উচিত এবং তা করা উচিত বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রচারের জন্য। রসূল ﷺ বলেছেন- সেই ওয়ালীমার খানা হচ্ছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট যেখানে কেবল ধনী লোকদেরই দাওয়াত দেয়া হবে আর গরীব লোকদের বাদ দেয়া হবে- বুখারী, মুসলিম। বিয়ের উৎসবাদিতে স্ত্রীলোক ও শিশুদের উপস্থিত হওয়া বা করা খুবই ভাল ও পছন্দনীয়। নাবী ﷺ যয়নাব (রাযি.) এর সাথে মিলন রাত যাপনের পর সকালের দিকে লোকেদের দাওয়াত দিয়েছিলেন।

তবে বর্তমান যুগে বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোতে যে বেপর্দা আর বেহায়াপনা লক্ষ্য করা যায় তাতে যদি মেয়েদের ওয়ালীমা খাওয়ার স্থান পৃথক করে মহিলা পরিবেশক দ্বারা খানা পরিবেশনের ব্যবস্থা করা না হয় তাহলে এরূপ বিয়েতে পর্দা করা ফরয এরূপ কোন মুসলিম মেয়ে বা মহিলার উপস্থিত হওয়া উচিত হবে না। এছাড়া বিয়ের অনুষ্ঠানে অনৈসলামিক কোন কিছু করা হলে সে বিয়ের দাওয়াত কোন মুসলিম নর ও নারীর গ্রহণ করাই জায়েয নয়। সামাজিকতার দোহাই দিয়ে বর্তমানে বহু কিছু করা হচ্ছে। অথচ ইসলামী বিধান ও নীতি মেনে চলাই হচ্ছে মুসলিম সমাজের অপরিহার্য কর্তব্য।
হাদিস নং: ৫১৪৮ সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب حدثنا شعبة عن عبد العزيز بن صهيب عن انس ان عبد الرحمن بن عوف تزوج امراة على وزن نواة فراى النبي صلى الله عليه وسلم بشاشة العرس فساله“ فقال اني تزوجت امراة على وزن نواة
وعن قتادة عن انس ان عبد الرحمن بن عوف تزوج امراة على وزن نواة من ذهب.
وَكَثْرَةِ الْمَهْرِ، وَأَدْنَى مَا يَجُوزُ مِنَ الصَّدَاقِ، وَقَوْلِهِ تَعَالَى: (وَآتَيْتُمْ إِحْدَاهُنَّ قِنْطَارًا فَلاَ تَأْخُذُوا مِنْهُ شَيْئًا) وَقَوْلِهِ جَلَّ ذِكْرُهُ: (أَوْ تَفْرِضُوا لَهُنَّ) وَقَالَ سَهْلٌ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَلَوْ خَاتَمًا مِنْ حَدِيدٍ

আর অধিক মাহর এবং সর্বনিম্ন মাহর কত এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, ’’এবং তোমরা যদি তাদের একজনকে অগাধ অর্থও দিয়ে থাক, তবুও তা থেকে কিছুই গ্রহণ করো না।’’(সূরাহ আন্-নিসা ৪/২০) এবং আল্লাহ্ তা’আলা আরো বলেন, ’’অথবা তোমরা তাদের মাহরের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দাও।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহঃ ২/২৩৬)

وَقَالَ سَهْلٌ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَلَوْ خَاتَمًا مِنْ حَدِيدٍ

সাহল (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বললেন, যদি একটি লোহার আংটিও হয়, তবে মাহর হিসাবে যোগাড় করে দাও।


৫১৪৮. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ (রাঃ) কোন এক মহিলাকে বিয়ে করলেন এবং তাকে মাহর হিসাবে খেজুর দানার পরিমাণ স্বর্ণ দিলেন। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মুখে বিয়ের খুশির ছাপ দেখলেন তখন তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন; তখন সে বললঃ আমি এক নারীকে খেজুর আঁটি পরিমাণ স্বর্ণ দিয়ে বিয়ে করেছি। [২০৪৯]

ক্বাতাদাহ আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, ’আবদুর রহমান বিন ’আওফ (রাঃ) খেজুরের দানা পরিমাণ স্বর্ণ মাহর হিসাবে দিয়ে কোন মহিলাকে বিয়ে করেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৭১)
হাদিস নং: ৫১৪৯ সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا سفيان سمعت ابا حازم يقول سمعت سهل بن سعد الساعدي يقول اني لفي القوم عند رسول الله صلى الله عليه وسلم اذ قامت امراة فقالت يا رسول الله انها قد وهبت نفسها لك فر فيها رايك فلم يجبها شيىا ثم قامت فقالت يا رسول الله انها قد وهبت نفسها لك فر فيها رايك فلم يجبها شيىا ثم قامت الثالثة فقالت انها قد وهبت نفسها لك فر فيها رايك فقام رجل فقال يا رسول الله انكحنيها قال هل عندك من شيء قال لا قال اذهب فاطلب ولو خاتما من حديد فذهب فطلب ثم جاء فقال ما وجدت شيىا ولا خاتما من حديد فقال هل معك من القران شيء قال معي سورة كذا وسورة كذا قال اذهب فقد انكحتكها بما معك من القران.
৫১৪৯. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমি অন্যান্য লোকের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বসা ছিলাম। এমন সময় একজন মহিলা দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি নিজেকে আপনার কাছে পেশ করছি, এখন আপনার মতামত দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন উত্তর দিলেন না। এরপর মহিলাটি পুনরায় দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার জীবনকে আপনার কাছে পেশ করছি। আপনার মতামত দিন। তিনি কোন প্রতি উত্তর করলেন না। তারপর তৃতীয় বারে দাঁড়িয়ে বলল, আমি আমার জীবন আপনার কাছে সোপর্দ করছি। আপনার মতামত দিন। এরপর একজন লোক দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, এ মহিলাকে আমার সঙ্গে বিয়ে দিন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কাছে কিছু আছে কি? লোকটি বলল, না। তিনি বললেন, যাও খুঁজে দেখ, একটি লোহার আংটি হলেও নিয়ে এসো। লোকটি চলে গেল এবং খুঁজে দেখল। এরপর এসে বলল, আমি কিছুই পেলাম না; এমনকি একটি লোহার আংটিও না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কি কিছু কুরআন জানা আছে? সে বলল, অমুক অমুক সূরা আমার মুখস্থ আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার যে পরিমাণ কুরআন মুখস্থ আছে, তার বিনিময়ে এ মহিলাকে তোমার সঙ্গে বিয়ে দিলাম। [২৩১০](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৭২)
হাদিস নং: ৫১৫০ সহিহ (Sahih)
يحيى حدثنا وكيع عن سفيان عن ابي حازم عن سهل بن سعد ان النبي صلى الله عليه وسلم قال لرجل تزوج ولو بخاتم من حديد.
৫১৫০. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বললেন, তুমি বিয়ে কর একটি লোহার আংটির বিনিময়ে হলেও। [২৩১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৭৩)
হাদিস নং: ৫১৫১ সহিহ (Sahih)
ابو الوليد هشام بن عبد الملك حدثنا ليث عن يزيد بن ابي حبيب عن ابي الخير عن عقبة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال احق ما اوفيتم من الشروط ان توفوا به„ ما استحللتم به الفروج.
وَقَالَ عُمَرُ مَقَاطِعُ الْحُقُوقِ عِنْدَ الشُّرُوطِ وَقَالَ الْمِسْوَرُ بْنُ مَخْرَمَةَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ صِهْرًا لَه“ فَأَثْنٰى عَلَيْهِ فِي مُصَاهَرَتِه„ فَأَحْسَنَ قَالَ حَدَّثَنِي فَصَدَقَنِي وَوَعَدَنِي فَوَفٰى لِي.

’উমার (রাঃ) বলেছেন, কোন চুক্তির শর্ত নির্ধারণ করলেই অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। মিস্ওয়ার (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এক জামাতার প্রশংসা করে বলেছেন যে, যখন সে আমার সঙ্গে কথা বলেছে, সত্য বলেছে। যখন সে ওয়াদা করেছে, তখন ওয়াদা রক্ষা করেছে।


৫১৫১. ’উকবাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সকল শর্তের চেয়ে বিয়ের শর্ত পালন করা তোমাদের অধিক কর্তব্য এজন্য যে, এর মাধ্যমেই তোমাদেরকে স্ত্রী অঙ্গ ভোগ করার অধিকার দেয়া হয়েছে। [২৭২১](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৭৪)
হাদিস নং: ৫১৫২ সহিহ (Sahih)
عبيد الله بن موسى عن زكرياء هو ابن ابي زاىدة عن سعد بن ابراهيم عن ابي سلمة عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لا يحل لامراة تسال طلاق اختها لتستفرغ صحفتها فانما لها ما قدر لها.
وَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ لاَ تَشْتَرِطِ الْمَرْأَةُ طَلاَقَ أُخْتِهَا.

ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) বলেন, একজন নারীর জন্য এরূপ শর্তারোপ করা বৈধ নয় যে, সে তার (মুসলিম) বোনকে (অর্থাৎ আগের স্ত্রীকে) তালাক দেয়ার কথা বলবে।


৫১৫২. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিয়ের সময় কোন নারীর জন্য এরূপ শর্তারোপ করা বৈধ নয় যে, তার বোনের (আগের স্ত্রীর) ত্বালাক্ব দাবি করবে, যাতে সে তার পাত্র পূর্ণ করে নিতে পারে (একচেটিয়া অধিকার ভোগ করতে পারে) কেননা, তার ভাগ্যে যা নির্দিষ্ট আছে তাই সে পাবে। [২১৪০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৭৫)
হাদিস নং: ৫১৫৩ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن حميد الطويل عن انس بن مالك ان عبد الرحمن بن عوف جاء الى رسول الله صلى الله عليه وسلم وبه„ اثر صفرة فساله“ رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخبره“ انه“ تزوج امراة منا لانصار قال كم سقت اليها قال زنة نواة من ذهب قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اولم ولو بشاة.
رَوَاه“ عَبْدُ الرَّحْمٰنِ بْنُ عَوْفٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.

’আবদুর রহমান ইব্নু ’আওফ (রাঃ) নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামথেকে বর্ণনা করেছেন।


৫১৫৩. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে এমন অবস্থায় এলেন যে, তার সুফরার (হলুদ রং) চিহ্ন ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে চিহ্ন সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। ’আবদুর রাহমান ইবনু ’আওফ (রাঃ) তার উত্তরে বললেন, তিনি এক আনসারী নারীকে বিয়ে করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তুমি তাকে কী পরিমাণ মাহর দিয়েছ? তিনি বললেন, আমি তাকে খেজুরের আঁটি পরিমাণ স্বর্ণ দিয়েছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওয়ালীমার ব্যবস্থা কর একটি বকরী দিয়ে হলেও। [২০৪৯; মুসলিম ১৬/১২, হাঃ ১৪২৭, আহমাদ ১৩৩৬৯](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৭৬)
হাদিস নং: ৫১৫৪ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى عن حميد عن انس قال اولم النبي صلى الله عليه وسلم بزينب فاوسع المسلمين خيرا فخرج كما يصنع اذا تزوج فاتى حجر امهات المومنين يدعو ويدعون له“ ثم انصرف فراى رجلين فرجع لا ادري اخبرته“ او اخبر بخروجهما.
৫১৫৪. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যয়নাব (রাঃ)-এর বিয়েতে ওয়ালীমার ব্যবস্থা করেন এবং মুসলিমদের জন্য উত্তম খাদ্যের ব্যবস্থা করেন। তারপর তাঁর বিয়ের সময়ের নিয়ম মত তিনি বাইরে আসেন এবং উম্মুল মু’মিনীনদের গৃহে প্রবেশ করে তাদের জন্য দোয়া করেন এবং তাঁরাও তাঁর জন্য দোয়া করেন। এরপরে ফিরে এসে তিনি দেখলেন, দু’জন লোক বসে আছে। এরপর তিনি ফিরে গেলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে নেই আমি তাঁকে ঐ লোক দু’টি চলে যাবার সংবাদ দিয়েছিলাম, না অন্য মাধ্যমে তিনি খবর পেয়েছিলেন। [৪৭৯১](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৭৭)
হাদিস নং: ৫১৫৫ সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب حدثنا حماد هو ابن زيد عن ثابت عن انس ان النبي صلى الله عليه وسلم راى على عبد الرحمن بن عوف اثر صفرة قال ما هذا قال اني تزوجت امراة على وزن نواة من ذهب قال بارك الله لك اولم ولو بشاة.
৫১৫৫. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ (রাঃ)-এর দেহে সুফরার (হলুদ রং) চিহ্ন দেখতে পেয়ে বললেন, এ কী? ’আবদুর রহমান (রাঃ) বললেন, আমি এক মহিলাকে একটি খেজুরের আঁটি পরিমাণ স্বর্ণের বিনিময়ে বিয়ে করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ্ তা’আলা তোমার এ বিয়েতে বারাকাত দান করুন। তুমি একটি ছাগলের দ্বারা হলেও ওয়ালীমার ব্যবস্থা কর। [২০৪৯](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৭৮)
হাদিস নং: ৫১৫৬ সহিহ (Sahih)
فروة بن ابي المغراء حدثنا علي بن مسهر عن هشام عن ابيه عن عاىشة تزوجني النبي صلى الله عليه وسلم فاتتني امي فادخلتني الدار فاذا نسوة منالانصار في البيت فقلن على الخير والبركة وعلى خير طاىر.
৫১৫৬. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিয়ে করেন তখন আমার মা আমার কাছে এলেন এবং আমাকে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করালেন, আমি সেখানে কয়েকজন আনসারী মহিলাকে দেখলাম। তারা কল্যাণ, বারাকাত ও সৌভাগ্য কামনা করে দু’আ করছিলেন। [৩৮৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৭৯)
হাদিস নং: ৫১৫৭ সহিহ (Sahih)
محمد بن العلاء حدثنا عبد الله بن المبارك عن معمر عن همام عن ابي هريرة عن النبيصلى الله عليه وسلم قال غزا نبي من الانبياء فقال لقومه„ لا يتبعني رجل ملك بضع امراة وهو يريد ان يبني بها ولم يبن بها.
৫১৫৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নবীগণের মধ্য থেকে কোন একজন নবী জিহাদের জন্য বের হলেন এবং নিজ লোকদেরকে বললেন, ঐ ব্যক্তি যেন আমার সঙ্গে জিহাদে না যায়, যে বিয়ে করেছে এবং স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হতে চায় অথচ এখনও মিলন হয়নি। [৩১২৪](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৮০)
হাদিস নং: ৫১৫৮ সহিহ (Sahih)
قبيصة بن عقبة حدثنا سفيان عن هشام بن عروة عن عروة تزوج النبي صلى الله عليه وسلم عاىشة وهي بنت ست سنين وبنى بها وهي بنت تسع ومكثت عنده“ تسعا.
৫১৫৮. ’উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে বিয়ে করেন তখন তাঁর বয়স ছিল ছয় বছর এবং যখন বাসর করেন তখন তাঁর বয়স ছিল নয় বছর এবং নয় বছর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে জীবন কাটান। [৩৮৯৪](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৮১)
হাদিস নং: ৫১৫৯ সহিহ (Sahih)
محمد بن سلام اخبرنا اسماعيل بن جعفر عن حميد عن انس قال اقام النبي صلى الله عليه وسلم بين خيبر والمدينة ثلاثا يبنى عليه بصفية بنت حيي فدعوت المسلمين الى وليمته„ فما كان فيها من خبز ولا لحم امر بالانطاع فالقي فيها من التمر والاقط والسمن فكانت وليمته“ فقال المسلمون احد‘ى امهات المومنين او مما ملكت يمينه“ فقالوا ان حجبها فهي من امهات المومنين وان لم يحجبها فهي مما ملكت يمينه“ فلما ارتحل وطى لها خلفه“ ومد الحجاب بينها وبين الناس.
৫১৫৯. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনদিন মদিনা এবং খায়বরের মধ্যবর্তী কোন স্থানে অবস্থান করেন। সেখানে তিনি সফিয়্যাহ বিনতে হুইয়াই (রাঃ)-এর সঙ্গে মিলিত হন। এরপর আমি মুসলিমদেরকে ওয়ালীমার জন্য দাওয়াত করি, তাতে রুটি ও মাংস ছিল না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চামড়ার দস্তরখান বিছাবার জন্য আদেশ করলেন এবং তাতে খেজুর, পনির এবং মাখন রাখা হল। এটাই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওয়ালীমা। মুসলিমেরা একে অপরকে বলতে লাগল, সফীয়্যাহ কি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী হিসাবে গণ্য হবেন, না ক্রীতদাসী হিসাবে। সকলে বলল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তাকে পর্দার ভিতরে রাখেন তাহলে তিনি উম্মাহাতুল মু’মিনীনদের মধ্যে গণ্য হবেন। আর যদি পর্দায় না রাখেন, তাহলে ক্রীতদাসী হিসাবে গণ্য হবে। এরপর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রওয়ানা হলেন, তাকে উটের পিঠে তাঁর পেছনে বসালেন এবং তার জন্য লোকদের থেকে পর্দার ব্যবস্থা করলেন। [৩৭১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৮২)
হাদিস নং: ৫১৬০ সহিহ (Sahih)
حدثني فروة بن ابي المغراء، حدثنا علي بن مسهر، عن هشام، عن ابيه، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ قالت تزوجني النبي صلى الله عليه وسلم فاتتني امي فادخلتني الدار، فلم يرعني الا رسول الله صلى الله عليه وسلم ضحى‏.‏
৫১৬০. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামযখন আমাকে বিয়ে করার পর আমার আম্মা আমার কাছে এলেন এবং আমাকে নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে নিয়ে গেলেন। দুপুর বেলা আমার কাছে তাঁর আগমন ব্যতীত আর কিছুই আমাকে বিস্মিত করেনি। [৩৮৯৪](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৮৩)
হাদিস নং: ৫১৬১ সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا سفيان حدثنا محمد بن المنكدر عن جابر بن عبد الله قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم هل اتخذتم انماطا قلت يا رسول الله وانى لنا انماط قال انها ستكون.
৫১৬১. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কি বিছানার চাদর ব্যবহার করেছ? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! বিছানার চাদর কোথায় পাব? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, খুব শীঘ্রই এগুলো পেয়ে যাবে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৮৪)
হাদিস নং: ৫১৬২ সহিহ (Sahih)
الفضل بن يعقوب حدثنا محمد بن سابق حدثنا اسراىيل عن هشام بن عروة عن ابيه عن عاىشة انها زفت امراة الى رجل من الانصار فقال نبي الله صلى الله عليه وسلم يا عاىشة ما كان معكم لهو فان الانصار يعجبهم اللهو.
৫১৬২. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, কোন এক আনসারীর জন্য এক মহিলাকে বিয়ের কনে হিসাবে সাজালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে ’আয়িশাহ! এতে আনন্দ ফূর্তির ব্যবস্থা করনি? আনসারগণ এ সব আনন্দ-ফূর্তি পছন্দ করে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৮৫)
অধ্যায় তালিকা