অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৮৩/১. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের অর্থহীন শপথের জন্য আল্লাহ তোমাদেরকে পাকড়াও করবেন না...
মোট ৮৭ টি হাদিস
হাদিস নং: ৬৬৮৮ সহিহ (Sahih)
قتيبة عن مالك عن اسحاق بن عبد الله بن ابي طلحة انه سمع انس بن مالك قال قال ابو طلحة لام سليم لقد سمعت صوت رسول الله صلى الله عليه وسلم ضعيفا اعرف فيه الجوع فهل عندك من شيء فقالت نعم فاخرجت اقراصا من شعير ثم اخذت خمارا لها فلفت الخبز ببعضه ثم ارسلتني الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فذهبت فوجدت رسول الله صلى الله عليه وسلم في المسجد ومعه الناس فقمت عليهم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ارسلك ابو طلحة فقلت نعم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لمن معه قوموا فانطلقوا وانطلقت بين ايديهم حتى جىت ابا طلحة فاخبرته فقال ابو طلحة يا ام سليم قد جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم والناس وليس عندنا من الطعام ما نطعمهم فقالت الله ورسوله اعلم فانطلق ابو طلحة حتى لقي رسول الله صلى الله عليه وسلم فاقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم وابو طلحة حتى دخلا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم هلمي يا ام سليم ما عندك فاتت بذلك الخبز قال فامر رسول الله صلى الله عليه وسلم بذلك الخبز ففت وعصرت ام سليم عكة لها فادمته ثم قال فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم ما شاء الله ان يقول ثم قال اىذن لعشرة فاذن لهم فاكلوا حتى شبعوا ثم خرجوا ثم قال اىذن لعشرة فاذن لهم فاكلوا حتى شبعوا ثم خرجوا ثم قال اىذن لعشرة فاكل القوم كلهم وشبعوا والقوم سبعون او ثمانون رجلا
৬৬৮৮. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আবূ ত্বলহা (রাঃ) উম্মু সুলায়ম (রাঃ)-কে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুর্বল আওয়াজ শুনতে পেলাম, যার ফলে আমি বুঝলাম তিনি ক্ষুধার্ত। তোমার কাছে কি কিছু আছে? উম্মু সুলায়ম (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি কয়েকটি যবের রুটি বের করলেন। এরপর তাঁর ওড়নাটি নিলেন এবং এর একাংশে রুটিগুলি পেঁচিয়ে নিলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, এরপর তিনি আমাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পাঠিয়ে দিলেন। আমি গিয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মসজিদে পেলাম। এবং কতকগুলো লোক তাঁর সঙ্গে ছিল। আমি তাঁদের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাকে কি আবূ ত্বলহা পাঠিয়েছে? আমি বললাম, জি হ্যাঁ।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গীদেরকে বললেন, উঠ, (আবূ ত্বলহার কাছে যাও)। তখন তাঁরা আবূ ত্বলহার নিকট গেলেন। আমি তাদের আগে আগে যেতে লাগলাম। শেষে আবূ ত্বলহার কাছে এসে উপস্থিত হলাম এবং তাকে এ ব্যাপারে জানালাম। তখন আবূ ত্বলহা (রাঃ) বলল, হে উম্মু সুলায়ম! রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো আমাদের কাছে এসেছেন কিন্তু আমাদের কাছে তো এমন কোন খাবার নেই যা তাদের খেতে দিতে পারি। উম্মু সুলায়ম (রাঃ) বলল, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশী জানেন। আবূ ত্বলহা (রাঃ) বেরিয়ে এলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ ত্বলহা (রাঃ) উভয়েই সামনাসামনি হলেন এবং দু’জনেই একসঙ্গে ঘরে প্রবেশ করলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে উম্মু সুলায়ম! তোমার কাছে যা আছে তাই নিয়ে এসো। তখন উম্মু সুলায়ম (রাঃ) ঐ রুটিগুলি তাঁর সামনে পেশ করলেন।

রাবী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ রুটিগুলি ছিঁড়ার জন্য নির্দেশ করলেন। তখন রুটিগুলো টুকরা টুকরা করা হল। উম্মু সুলায়ম (রাঃ) তার ঘি-এর পাত্র থেকে ঘি বের করলেন এবং তাতে মেশালেন। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপর আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী পাঠ করলেন এবং বললেন: দশজন লোককে অনুমতি দাও। তিনি তাদেরকে অনুমতি দিলেন। তখন তারা সবাই আহার করলেন, এমন কি সবাই তৃপ্ত হয়ে সেখান থেকে বের হলেন। এরপর তিনি আবার বললেনঃ (আরও) দশজনকে অনুমতি দাও। তখন তাদেরকে অনুমতি দেয়া হলো। এভাবে তারা সবাই আহার করলেন, এমনকি সবাই তৃপ্ত হয়ে সেখান থেকে বের হলেন। এরপর আবারো তিনি বললেন: আরো দশজনকে আসতে দাও। দলের লোকসংখ্যা ছিল সত্তর বা আশি জন।[1] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৩১)
নোট: [1] নাবীগণ তাঁদের নবুওতের প্রমাণ স্বরূপ আল্লাহর নিকট হতে মু’জিযা লাভ করে থাকেন- যা নাবী ছাড়া অন্য মানুষের জন্য লাভ করা অসম্ভব।
হাদিস নং: ৬৬৮৯ সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا عبد الوهاب قال سمعت يحيى بن سعيد يقول اخبرني محمد بن ابراهيم انه سمع علقمة بن وقاص الليثي يقول سمعت عمر بن الخطاب يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول انما الاعمال بالنية وانما لا÷مرى ما نوى فمن كانت هجرته الى الله ورسوله فهجرته الى الله ورسوله ومن كانت هجرته الى دنيا يصيبها او امراة يتزوجها فهجرته الى ما هاجر اليه
৬৬৮৯. ’উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, নিশ্চয়ই প্রতিটি আমলের গ্রহণযোগ্যতা তার নিয়্যাতের উপর নির্ভরশীল। কোন ব্যক্তি তা-ই লাভ করবে যা সে নিয়্যাত করে থাকে। যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টির জন্য হিজরত করবে তার হিজরত আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টির জন্যই হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া লাভের জন্য হবে অথবা কোন নারীকে বিয়ে করার জন্য হবে তার হিজরত সে উদ্দেশেই হবে যে জন্য সে হিজরত করেছে।[1] [১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৩২)
নোট: [1] যে আমল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে করা হয় না, আল্লাহ তা গ্রহণ করেন না।
হাদিস নং: ৬৬৯০ সহিহ (Sahih)
احمد بن صالح حدثنا ابن وهب اخبرني يونس عن ابن شهاب اخبرني عبد الرحمن بن عبد الله بن كعب بن مالك عن عبد الله بن كعب وكان قاىد كعب من بنيه حين عمي قال سمعت كعب بن مالك في حديثه (وعلى الثلاثة الذين خلفوا) فقال في اخر حديثه ان من توبتي اني انخلع من مالي صدقة الى الله ورسوله فقال النبي صلى الله عليه وسلم امسك عليك بعض مالك فهو خير لك
৬৬৯০. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু কা’ব ইবনু মালিক (রহঃ) হতে বর্ণিত। কা’ব (রাঃ) যখন অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন, তখন তাঁর এক পুত্র তাঁকে ধরে নিয়ে চলতেন। ’আবদুর রাহমান বলেন, আমি (আল্লাহর বাণী) : ’যে তিনজন তাবূকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত হয়েছে’ সংক্রান্ত ঘটনা বর্ণনা করতে কা’ব ইবনু মালিককে শুনেছি। তিনি তাঁর বর্ণনার শেষভাগে বলেন, আমার তওবা এটাই যে আমার সমস্ত মাল আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের কাছে দান করে দিয়ে আমি মুক্ত হব। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মালের কিছুটা তোমার নিজের জন্য রাখ, এটাই তোমার জন্য কল্যাণকর।[1] [২৭৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৩৩)
নোট: [1] সব কিছু দান করে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ। আল্লাহ বলেন- তোমার হাতকে তোমার গলার সাথে বেঁধে দিওনা, আর তা একেবারে প্রসারিত করে দিও না, তা করলে তুমি তিরস্কৃত ও নিঃস্ব হয়ে বসে পড়বে-(বানী ইসরাঈল ২৯)।
হাদিস নং: ৬৬৯১ সহিহ (Sahih)
الحسن بن محمد حدثنا الحجاج عن ابن جريج قال زعم عطاء انه سمع عبيد بن عمير يقول سمعت عاىشة تزعم ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يمكث عند زينب بنت جحش ويشرب عندها عسلا فتواصيت انا وحفصة ان ايتنا دخل عليها النبي صلى الله عليه وسلم فلتقل اني اجد منك ريح مغافير اكلت مغافير فدخل على احداهما فقالت ذلك له فقال لا بل شربت عسلا عند زينب بنت جحش ولن اعود له فنزلت (يا ايها النبي لم تحرم ما احل الله لك) (ان تتوبا الى الله) لعاىشة وحفصة (واذ اسر النبي الى بعض ازواجه حديثا) لقوله بل شربت عسلا و قال لي ابراهيم بن موسى عن هشام ولن اعود له وقد حلفت فلا تخبري بذلك احدا
وَقَوْلُهُ تَعَالَى:(يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللهُ لَكَ تَبْتَغِي مَرْضَاةَ أَزْوَاجِكَ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَحِيْمٌ قَدْ فَرَضَ اللهُ لَكُمْ تَحِلَّةَ أَيْمَانِكُمْ) وَقَوْلُهُ (لاَ تُحَرِّمُوْا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللهُ لَكُمْ)

এবং আল্লাহর বাণীঃ হে নবী! আল্লাহ যা তোমার জন্য হালাল করেছেন তা তুমি কেন হারাম করছ? (এর দ্বারা) তুমি তোমার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি পেতে চাও, (আল্লাহ তোমার এ ত্রুটি ক্ষমা করে দিলেন কেননা) আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, বড়ই দয়াল। আল্লাহ তোমাদের জন্য নিজেদের কসমের বাধ্যবাধকতা থেকে নিস্কৃতি পাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন, আল্লাহ তোমাদের মালিক-মনিব-রক্ষক, আর তিনি সর্বজ্ঞাতা, মহা প্রজ্ঞার অধিকারী- (সূরাহ আত্ তাহরীম ৬৬/১-২)। এবং আল্লাহর বাণীঃ পবিত্র বস্তুরাজি যা আল্লাহ তোমাদের জন্য হালাল করে দিয়েছেন সেগুলোকে হারাম করে নিও না- (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৮৭)।


৬৬৯১. ’আয়িশাহ সিদ্দীকা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সময় যাইনাব বিন্‌ত জাহাশ (রাঃ)-এর কাছে অবস্থান করছিলেন এবং তাঁর কাছে মধু পান করেছিলেন। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি এবং হাফসাহ (রাঃ) পরস্পরে পরামর্শ করলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দু’জনের মধ্যে যার কাছেই আগে আসবেন আমরা তাঁকে বলব, আপনার মুখ থেকে মাগাফীরের গন্ধ পাচ্ছি। আপনি কি মাগাফীর খেয়েছেন? এরপর তিনি কোন একজনের ঘরে প্রবেশ করলেন। তখন তিনি তাঁকে ঐ কথাটা বললেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন, না, আমি তো যাইনাব বিন্ত জাহাশের কাছে মধু পান করেছি। এরপরে আর কক্ষনো এটা করব না।

তখনই এ আয়াত অবতীর্ণ হলঃ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللهُ لَكَ إِنْ تَتُوبَا إِلَى اللهِ ’’তোমরা উভয়ে যদি আল্লাহর কাছে তওবা কর’’ এখানে সম্বোধন ’আয়িশাহ ও হাফসাহ (রাঃ)-এর প্রতি। আর وَإِذْ أَسَرَّ النَّبِيُّ নবী যখন তাঁর কোন স্ত্রীর কাছে কথাকে গোপন করেন- এ আয়াতটি রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা بَلْ شَرِبْتُ عَسَلاً বরং আমি মধু পান করেছি-এর সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। ইব্রাহীম ইবনু মূসা (রহ.) হিশাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি কসম করেছি কাজটি আমি আর কক্ষনো করব না।’’ তুমি এ বিষয়টি কারো কাছে প্রকাশ করো না।[1] [৪৯১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৩৪)
নোট: [*] باب إذا حرم طعاما ‘‘যদি কেউ কোন খাবার বা পানীয়কে নিজের উপর হারাম করে নেয় তবে তা হারাম হিসাবে গণ্য হবে না। কিন্তু যদি শপথ করে হারাম করে নেয় তবুও হারাম গণ্য হবে না। তবে শপথ ভঙ্গের কারণে তার উপর শপথের কাফ্ফারা অপরিহার্য হবে। (ফাতহুল বারী)

[1] আল্লাহ যা হালাল করেছেন, কাউকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে সে জিনিসকে হারাম করা যাবে না। আর আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ এ ক্ষমতাও রাখে না।
হাদিস নং: ৬৬৯২ সহিহ (Sahih)
يحيى بن صالح حدثنا فليح بن سليمان حدثنا سعيد بن الحارث انه سمع ابن عمر يقول اولم ينهوا عن النذر ان النبي صلى الله عليه وسلم قال ان النذر لا يقدم شيىا ولا يوخر وانما يستخرج بالنذر من البخيل
৬৬৯২. সা’ঈদ ইবনু হারিস (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ইবনু ’উমার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, তোমাদেরকে কি মানত করতে নিষেধ করা হয়নি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো বলেছেনঃ মানত কোন কিছুকে বিন্দুমাত্র এগিয়ে নিতেও পারে না এবং পিছাতেও পারে না। মানতের মাধ্যমে কৃপণের নিকট হতে (কিছু ধন মাল) বের করে নেয়া হয়। [৬৬০৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৩৫)
হাদিস নং: ৬৬৯৩ সহিহ (Sahih)
خلاد بن يحيى حدثنا سفيان عن منصور اخبرنا عبد الله بن مرة عن عبد الله بن عمر نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن النذر وقال انه لا يرد شيىا ولكنه يستخرج به من البخيلخلاد بن يحيى حدثنا سفيان عن منصور اخبرنا عبد الله بن مرة عن عبد الله بن عمر نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن النذر وقال انه لا يرد شيىا ولكنه يستخرج به من البخيل
৬৬৯৩ ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানত করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেনঃ তা কিছুই রদ করতে পারে না, কিন্তু কৃপণ থেকে (কিছু মালধন) বের করা হয়।[1] [৬৬০৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৩৬)
নোট: [1] ৬৬৯২, ৬৬৯৩ নং হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী বোঝা যায়, নযর- তাক্বদীরের কোন পরিবর্তন করতে পারে না। এর মাধ্যমে কোন উপকারও লাভ করা যায় না। আল্লাহ তা‘আলার বাণী : {يُوفُونَ بِالنَّذْرِ وَيَخَافُونَ يَوْمًا كَانَ شَرُّهُ مُسْتَطِيرًا} سورة الإنسان (৭)‘‘আয়াতটিতে একান্ত যদি কেউ কোন আল্লাহর আনুগত্যের কাজে নযর করে তবে সে যেন তার নযরের হিফাযত করে এবং তা পূরণ করে-এই উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু যদি কোন হারাম কাজের নযর করা হয় তবে তা বাতিল বলে গণ্য হবে। ফলে তা পূরণ করতে হবে না। (ফাতহুল বারী)
হাদিস নং: ৬৬৯৪ সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب حدثنا ابو الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة قال قال النبي صلى الله عليه وسلم لا ياتي ابن ادم النذر بشيء لم يكن قدر له ولكن يلقيه النذر الى القدر قد قدر له فيستخرج الله به من البخيل فيوتي عليه ما لم يكن يوتي عليه من قبل
৬৬৯৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানত আদম সন্তানকে এমন কিছু এনে দিতে পারে না, যা আমি (আল্লাহ) তার তাক্দীরে নির্দিষ্ট করিনি। বরং মানতটি তাক্দীরের মাঝেই ঢেলে দেয়া হয় যা তার জন্য বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ্ কৃপণের নিকট হতে (সম্পদ) বের করে নিয়ে আসেন। অতঃপর তাকে এমন কিছু দেন যা তাকে পূর্বে দেয়া হয়নি। [৬৬০৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০২২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৩৭)
হাদিস নং: ৬৬৯৫ সহিহ (Sahih)
مسدد عن يحيى بن سعيد عن شعبة قال حدثني ابو جمرة حدثنا زهدم بن مضرب قال سمعت عمران بن حصين يحدث عن النبي صلى الله عليه وسلم قال خيركم قرني ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم قال عمران لا ادري ذكر ثنتين او ثلاثا بعد قرنه ثم يجيء قوم ينذرون ولا يفون ويخونون ولا يوتمنون ويشهدون ولا يستشهدون ويظهر فيهم السمن
৬৬৯৫. ’ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে আমার যুগ সর্বোত্তম, এরপর তাদের পরবর্তী যুগ অতঃপর তাদের পরবর্তী যুগ। ’ইমরান (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর যুগ বলার পর দু’বার বলেছেন না কি তিনবার তা আমার জানা নেই। এরপর এমন লোকেরা আসবে যারা মানত করবে কিন্তু তা পূরা করবে না। তারা খিয়ানাত করবে, আমানতদার হবে না। তারা সাক্ষ্য দেবে অথচ তাদের সাক্ষ্য চাওয়া হবে না। আর তাদের মাঝে আরাম বিলাসিতা প্রকাশ পাবে। [২৬৫১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৩৮)
হাদিস নং: ৬৬৯৬ সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا مالك عن طلحة بن عبد الملك عن القاسم عن عاىشة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من نذر ان يطيع الله فليطعه ومن نذر ان يعصيه فلا يعصه
(وَمَآ أَنْفَقْتُمْ مِنْ نَفَقَةٍ أَوْ نَذَرْتُمْ مِنْ نَذْرٍ فَإِنَّ اللهَ يَعْلَمُهُ وَمَا لِلظَّالِـمِيْنَ مِنْ أَنْصَار)

(আল্লাহর বাণী) তোমরা যে ব্যয়ই কর কিংবা যে কোন মানৎ কর, আল্লাহ নিশ্চয়ই তা জানেন কিন্তু যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই। (সূরাহ আল-বাক্বারাহ ২/২৭০)


৬৬৯৬. ’আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এরূপ মানত করে যে, সে আল্লাহর আনুগত্য করবে, সে যেন তাঁর আনুগত্য করে। আর যে মানত করে, সে আল্লাহর নাফরমানী করবে, সে যেন তাঁর নাফরমানী না করে। [৬৭০০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৩৯)
হাদিস নং: ৬৬৯৭ সহিহ (Sahih)
محمد بن مقاتل ابو الحسن اخبرنا عبد الله اخبرنا عبيد الله بن عمر عن نافع عن ابن عمر ان عمر قال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم اني نذرت في الجاهلية ان اعتكف ليلة في المسجد الحرام قال اوف بنذرك
৬৬৯৭. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ’উমার (রাঃ) একবার বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি জাহেলিয়্যাতের যুগে মানত করেছিলাম যে, মসজিদে হারামে এক রাত ইতি’কাফ করব। তিনি বললেনঃ তুমি তোমার মানত পূর্ণ কর। [২০৩২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৪০)
হাদিস নং: ৬৬৯৮ সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني عبيد الله بن عبد الله بن عتبة ان عبد الله بن عباس اخبره ان سعد بن عبادة الانصاري استفتى النبي صلى الله عليه وسلم في نذر كان على امه فتوفيت قبل ان تقضيه فافتاه ان يقضيه عنها فكانت سنة بعد
وَأَمَرَ ابْنُ عُمَرَ امْرَأَةً جَعَلَتْ أُمُّهَا عَلَى نَفْسِهَا صَلاَةً بِقُبَاءٍ فَقَالَ صَلِّي عَنْهَا وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ نَحْوَهُ

ইবনু ’উমার (রাঃ) এক মহিলাকে আদেশ করেছিলেন যার মা কুবার মসজিদে সালাত আদায় করবে বলে মানত করেছিল। তিনি তাকে বলেছিলেন, তার পক্ষ থেকে সালাত আদায় করতে। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-ও এরকম বর্ণনা করেছেন।


৬৬৯৮. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। ’উবাইদুল্লাহ্ ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-কে ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) জানিয়েছেন যে, সা’দ ইবনু ’উবাদাহ আনসারী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জানতে চেয়েছিলেন তাঁর মায়ের কোন এক মানতের ব্যাপারে, যা আদায় করার আগেই তিনি ইনতিকাল করেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তার মায়ের পক্ষ থেকে মানত পূর্ণ করার আদেশ দিলেন। পরবর্তীতে এটাই সুন্নাত হয়ে গেল। [২৭৬১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৪১)
হাদিস নং: ৬৬৯৯ সহিহ (Sahih)
ادم حدثنا شعبة عن ابي بشر قال سمعت سعيد بن جبير عن ابن عباس قال اتى رجل النبي صلى الله عليه وسلم فقال له ان اختي قد نذرت ان تحج وانها ماتت فقال النبي صلى الله عليه وسلم لو كان عليها دين اكنت قاضيه قال نعم قال فاقض الله فهو احق بالقضاء
৬৬৯৯. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এক লোক এসে বলল যে, আমার বোন হাজ্জের মানত করেছিল। কিন্তু সে মারা গেছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাঁর ওপর কোন ঋণ থাকলে তবে কি তুমি তা আদায় করতে না? লোকটি বলল, হাঁ। তিনি বললেনঃ কাজেই আল্লাহর হককে আদায় করে দাও। কেননা, আল্লাহর হক আদায় করা আরো বড় কর্তব্য। [১৮৫২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৪২)
হাদিস নং: ৬৭০০ সহিহ (Sahih)
ابو عاصم عن مالك عن طلحة بن عبد الملك عن القاسم عن عاىشة قالت قال النبي صلى الله عليه وسلم من نذر ان يطيع الله فليطعه ومن نذر ان يعصيه فلا يعصه
৬৭০০. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক আল্লাহর আনুগত্য করার মানত করে সে যেন তাঁর আনুগত্য করে। আর যে লোক আল্লাহর অবাধ্যতা করার মানত করে সে যেন তাঁর অবাধ্যতা না করে। [৬৬৯৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৪৩)
হাদিস নং: ৬৭০১ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى عن حميد حدثني ثابت عن انس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ان الله لغني عن تعذيب هذا نفسه وراه يمشي بين ابنيه وقال الفزاري عن حميد حدثني ثابت عن انس
৬৭০১. আনাস (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ এ লোক যে নিজের জানকে কষ্টের মধ্যে নিক্ষেপ করেছে এতে আল্লাহর আদৌ প্রয়োজন নেই। আর তিনি লোকটিকে দেখলেন যে, সে তার দু’ ছেলের উপর ভর করে হাঁটছে। ফাযারীও অত্র হাদীসটি...আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। [১৮৬৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৪৪)
হাদিস নং: ৬৭০২ সহিহ (Sahih)
ابو عاصم عن ابن جريج عن سليمان الاحول عن طاوس عن ابن عباس ان النبي صلى الله عليه وسلم راى رجلا يطوف بالكعبة بزمام او غيره فقطعه
৬৭০২. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক লোককে দেখতে পেলেন। লোকটি একটি দড়ি অথবা অন্য কিছুর সাহায্যে কা’বা তাওয়াফ করছে। তিনি দড়িটি কেটে দিলেন। [১৬২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৪৫)
হাদিস নং: ৬৭০৩ সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن موسى اخبرنا هشام ان ابن جريج اخبرهم قال اخبرني سليمان الاحول ان طاوسا اخبره عن ابن عباس ان النبي صلى الله عليه وسلم مر وهو يطوف بالكعبة بانسان يقود انسانا بخزامة في انفه فقطعها النبي صلى الله عليه وسلم بيده ثم امره ان يقوده بيده
৬৭০৩. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা’বাহর তাওয়াফ কালে এক লোকের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। লোকটি অন্য আরেক লোককে নাকে দড়ি লাগিয়ে টানছিল (আর সে তাওয়াফ করছিল)। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হতে তার দড়িটি কেটে ফেললেন এবং তাকে হাত দ্বারা টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। [১৬২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৪৬)
হাদিস নং: ৬৭০৪ সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا وهيب حدثنا ايوب عن عكرمة عن ابن عباس قال بينا النبي صلى الله عليه وسلم يخطب اذا هو برجل قاىم فسال عنه فقالوا ابو اسراىيل نذر ان يقوم ولا يقعد ولا يستظل ولا يتكلم ويصوم فقال النبي صلى الله عليه وسلم مره فليتكلم وليستظل وليقعد وليتم صومه قال عبد الوهاب حدثنا ايوب عن عكرمة عن النبي صلى الله عليه وسلم
৬৭০৪. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুত্বা দিচ্ছিলেন। এক লোককে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখে তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। লোকেরা বলল আবূ ইসরাঈল। সে মানত করেছে যে, সে দাঁড়িয়ে থাকবে, বসবে না, ছায়া গ্রহণ করবে না, কারো সাথে কথা বলবে না এবং সওম পালন করবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ লোকটিকে বল- সে যেন কথা বলে, ছায়ায় যায়, বসে এবং তার সওম পূর্ণ করে। [1] আবদুল ওয়াহ্হাব, আইউব ও ইকরামার সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৪৭)
নোট: [1] নিজেকে অহেতুক কষ্টে নিক্ষিপ্ত করা ইসলামে নিষিদ্ধ।
হাদিস নং: ৬৭০৫ সহিহ (Sahih)
محمد بن ابي بكر المقدمي حدثنا فضيل بن سليمان حدثنا موسى بن عقبة حدثنا حكيم بن ابي حرة الاسلمي انه سمع عبد الله بن عمر سىل عن رجل نذر ان لا ياتي عليه يوم الا صام فوافق يوم اضحى او فطر فقال (لقد كان لكم في رسول الله اسوة حسنة) لم يكن يصوم يوم الاضحى والفطر ولا يرى صيامهما
৬৭০৫. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। ’আবদুল্লাহ্ ইবনু উমরকে এক লোক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল যে লোক মানত করেছিল যে, সে সওম পালন থেকে কোন দিনই বিরত থাকবে না। আর তার ভিতর কুরবানী বা ঈদুল ফিত্রের দিন এসে গেল। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাঝে তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ রয়েছে। তিনি ঈদুল ফিত্রের এবং কুরবানীর দিন সওম পালন করতেন না। আর তিনি ঐ দিনগুলোতে সওম পালন করা জায়েযও মনে করতেন না।[1] [১৯৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৪৮)
নোট: [1] রসূল (সাঃ) কর্তৃক নির্দেশিত পথেই যাবতীয় ইবাদাত বন্দেগী করতে হবে।
হাদিস নং: ৬৭০৬ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن مسلمة حدثنا يزيد بن زريع عن يونس عن زياد بن جبير قال كنت مع ابن عمر فساله رجل فقال نذرت ان اصوم كل يوم ثلاثاء او اربعاء ما عشت فوافقت هذا اليوم يوم النحر فقال امر الله بوفاء النذر ونهينا ان نصوم يوم النحر فاعاد عليه فقال مثله لا يزيد عليه
৬৭০৬. যিয়াদ ইবনু যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক সময় ইবনু ’উমার (রাঃ)-এর সাথে ছিলাম। এক লোক তাঁকে জিজ্ঞেস করল, আমি মানত করেছিলাম যে, যতদিন বাঁচব প্রতি মঙ্গলবার এবং বুধবার সওম পালন করব। কিন্তু এর ভিতর কুরবানীর দিন পড়ে গেল। তিনি বললেন, আল্লাহ্ মানত পুরা করার হুকুম করেছেন; আর কুরবানীর দিন সওম পালন করতে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে। লোকটি আবার সেই প্রশ্ন করল। তিনি এরকমই উত্তর দিলেন, অধিক কিছু বললেন না। [১৯৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৪৯)
হাদিস নং: ৬৭০৭ সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني مالك عن ثور بن زيد الديلي عن ابي الغيث مولى ابن مطيع عن ابي هريرة قال خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم خيبر فلم نغنم ذهبا ولا فضة الا الاموال والثياب والمتاع فاهدى رجل من بني الضبيب يقال له رفاعة بن زيد لرسول الله صلى الله عليه وسلم غلاما يقال له مدعم فوجه رسول الله صلى الله عليه وسلم الى وادي القرى حتى اذا كان بوادي القرى بينما مدعم يحط رحلا لرسول الله صلى الله عليه وسلم اذا سهم عاىر فقتله فقال الناس هنيىا له الجنة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم كلا والذي نفسي بيده ان الشملة التي اخذها يوم خيبر من المغانم لم تصبها المقاسم لتشتعل عليه نارا فلما سمع ذلك الناس جاء رجل بشراك او شراكين الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال شراك من نار او شراكان من نار
وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ قَالَ عُمَرُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَصَبْتُ أَرْضًا لَمْ أُصِبْ مَالاً قَطُّ أَنْفَسَ مِنْهُ قَالَ إِنْ شِئْتَ حَبَّسْتَ أَصْلَهَا وَتَصَدَّقْتَ بِهَا وَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحَبُّ أَمْوَالِي إِلَيَّ بَيْرُحَاءَ لِحَائِطٍ لَهُ مُسْتَقْبِلَةِ الْمَسْجِدِ

এবং ইবনু ’উমার (রাঃ)-এর হাদীস। তিনি বলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে একবার উমর (রাঃ) আরয করলেন যে, আমি এমন এক টুকরো জমি পেয়েছি যার চেয়ে উৎকৃষ্ট কোন মাল কক্ষনো পাইনি। তিনি বললেনঃ তুমি যদি চাও তবে তার মূল স্বত্ব রেখে তার (উৎপাদন) দান করে দিতে পার। আবু ত্বলহা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আরয করেছিলেন, আমার কাছে বায়রুহা নামক আমার বাগানটি সর্বাধিক প্রিয়, যার দেয়ালটি মসজিদে নববীর সম্মুখে অবস্থিত।


৬৭০৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে খায়বারের যুদ্ধের দিন বের হলাম। আমরা মাল, আসবাবপত্র ও কাপড়-চোপড় ছাড়া সোনা বা রুপা গণীমত হিসাবে পাইনি। যুবায়র গোত্রের রিফাআ ইবনু যায়দ নামক এক লোক রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটি গোলাম হাদিয়া দিলেন, যার নাম ছিল মিদ’আম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াদি উল কুরার দিকে রওয়ানা হলেন। তিনি যখন ওয়াদিউল কুরায় পৌঁছলেন, তখন মিদ’আম রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সওয়ারীর হাওদা থেকে মালপত্র নামাচ্ছিলেন। তখন হঠাৎ একটি তীর এসে তার গায়ে বিঁধল এবং তাতে সে মারা গেল।

লোকেরা বলল, সে জান্নাত লাভ করুক। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন কক্ষনো না, কসম ঐ সত্তার, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! খায়বারের যুদ্ধের দিন গনীমতের মাল থেকে বণ্টনের পূর্বে যে চাদরটি সে নিয়ে গিয়েছিল তার গায়ে তা আগুনের শিখা হয়ে জ্বলবে। যখন লোকেরা এটা শুনল, তখন এক লোক একটি বা দু’টি ফিতা নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে হাযির হল। তখন তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে জাহান্নামের একটি ফিতা বা জাহান্নামের দু’টি ফিতা।[1] [৪২৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৫০)
নোট: [1] সম্পদ আত্মসাৎকারীর ভাগ্যে আছে জাহান্নামের আগুন।
অধ্যায় তালিকা