অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৮৩/১. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের অর্থহীন শপথের জন্য আল্লাহ তোমাদেরকে পাকড়াও করবেন না...
মোট ৮৭ টি হাদিস
হাদিস নং: ৬৬৪১
সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا الليث عن يونس عن ابن شهاب حدثني عروة بن الزبير ان عاىشة قالت ان هند بنت عتبة بن ربيعة قالت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ما كان مما على ظهر الارض اهل اخباء او خباء احب الي ان يذلوا من اهل اخباىك او خباىك شك يحيى ثم ما اصبح اليوم اهل اخباء او خباء احب الي من ان يعزوا من اهل اخباىك او خباىك قال رسول الله صلى الله عليه وسلم وايضا والذي نفس محمد بيده قالت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ان ابا سفيان رجل مسيك فهل علي حرج ان اطعم من الذي له قال لا الا بالمعروف
৬৬৪১. ’আয়িশাহ সিদ্দীকা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হিন্দা বিন্ত ’উত্বাহ ইব্ন রাবীআ’ বলল, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! এমন এক সময় ছিল যখন ভূ-পৃষ্ঠে যারা তাঁবুতে বাস করছে তাদের মাঝে আপনার অনুসারী যারা তারা অপমানিত হোক এটা আমি খুবই পছন্দ করতাম। (এখানে বর্ণনার মাঝে তিনি أَخْبَاءٍ বলেছেন, না خِبَاءٍ বলেছেন এ সম্পর্কে রাবী ইয়াহ্ইয়ার সন্দেহ রয়েছে।) কিন্তু আজ আমার কাছে এর চেয়ে বেশি প্রিয় কিছুই নেই যে, তাঁবুতে বাসকারীদের মাঝে আপনার অনুসারীরা সম্মানিত হোক। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যাঁর হাতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রাণ কসম ঐ সত্তার! এ সম্মান আরও বাড়ুক। হিন্দা বললো, আবূ সুফ্ইয়ান একজন কৃপণ লোক। তার মাল থেকে তার পরিবারবর্গকে) কিছু খাওয়ালে এতে কি আমার কোন দোষ হবে? তিনি বললেনঃ না। তবে তা (ন্যায়সঙ্গতভাবে হতে হবে। [২২১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ,৬১৭৮ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৮৬)
হাদিস নং: ৬৬৪২
সহিহ (Sahih)
احمد بن عثمان حدثنا شريح بن مسلمة حدثنا ابراهيم عن ابيه عن ابي اسحاق سمعت عمرو بن ميمون قال حدثني عبد الله بن مسعود قال بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم مضيف ظهره الى قبة من ادم يمان اذ قال لاصحابه اترضون ان تكونوا ربع اهل الجنة قالوا بلى قال افلم ترضوا ان تكونوا ثلث اهل الجنة قالوا بلى قال فوالذي نفس محمد بيده اني لا×رجو ان تكونوا نصف اهل الجنة
৬৬৪২ ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সময় ইয়ামানী চামড়ার কোন এক তাঁবুতে তাঁর পিঠ হেলান দিয়েছিলেন। তখন তিনি তাঁর সাহাবীদের প্রতি লক্ষ্য করে বললেনঃ তোমরা জান্নাতীদের এক-চতুর্থাংশ হবে, এতে কি তোমরা সন্তুষ্ট আছ? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তোমরা জান্নাতীদের এক-তৃতীয়াংশ হবে, এতে কি তোমরা সন্তুষ্ট নও! তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ যাঁর হাতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রাণ শপথ ঐ সত্তার! নিশ্চয়ই আমি কামনা করি তোমরা জান্নাতীদের অর্ধেক হবে। [৬৫২৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৮৭)
হাদিস নং: ৬৬৪৩
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن مسلمة عن مالك عن عبد الرحمن بن عبد الله بن عبد الرحمن عن ابيه عن ابي سعيد ان رجلا سمع رجلا يقرا (قل هو الله احد) يرددها فلما اصبح جاء الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكر ذلك له وكان الرجل يتقالها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم والذي نفسي بيده انها لتعدل ثلث القران
৬৬৪৩. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তিকে (قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ) বারংবার পাঠ করতে শুনলেন। সকাল হলে তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হলেন এবং ব্যাপারটি তাঁর কাছে উল্লেখ করলেন। আর ঐ ব্যক্তি যেন উক্ত সূরার পাঠকে কম গুরুত্ব দিচ্ছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ কসম ঐ সত্তার! নিশ্চয়ই এ সূরা কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।[1] [৫০১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৮৮)
নোট: [1] কুরআনের মৌলিক আলোচ্য বিষয় হল তিনটি (১) তাওহীদ (২) রিসালাত ও (৩) আখিরাত। মৌলিক এ তিনটি বিষয়ের প্রথমটি তথা তাওহীদ সূরা ইখলাসে অতি স্পষ্টভাবে বিশ্লেষিত হয়েছে। এ সূরায় বলা হয়েছে সেই আল্লাহ এক ও একক, তিনি কারো বা কোন কিছুর মুখাপেক্ষীহীন, তিনি কাউকে জন্ম দেন নি, কেউ তাঁকে জন্ম দেয়নি আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নয়। তাওহীদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় তুলে ধরার কারণে সূরাটি আল কুরআনের এক তৃতীয়াংশের মর্যাদা লাভ করেছে।
হাদিস নং: ৬৬৪৪
সহিহ (Sahih)
اسحاق اخبرنا حبان حدثنا همام حدثنا قتادة حدثنا انس بن مالك انه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول اتموا الركوع والسجود فوالذي نفسي بيده اني لا×راكم من بعد ظهري اذا ما ركعتم واذا ما سجدتم
৬৬৪৪. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছেন যে, তোমরা রুকু’ ও সিজদা পূর্ণভাবে কর।[1] যাঁর হাতে আমার প্রাণ ঐ সত্তার কসম!। তোমরা যখন রুকূ এবং সিজদা কর তখন আমি তোমাদেরকে আমার পিছন থেকে অবশ্যই দেখতে পাই। [৪১৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৮৯)
নোট: [1] রুকু‘ সিজদা পূর্ণভাবে না করলে তা সালাত হিসেবে গণ্য হবে না।
হাদিস নং: ৬৬৪৫
সহিহ (Sahih)
اسحاق حدثنا وهب بن جرير اخبرنا شعبة عن هشام بن زيد عن انس بن مالك ان امراة من الانصار اتت النبي صلى الله عليه وسلم معها اولاد لها فقال النبي صلى الله عليه وسلم والذي نفسي بيده انكم لا×حب الناس الي قالها ثلاث مرار
৬৬৪৫. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আনসার গোত্রের এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হল; সঙ্গে ছিল তার সন্তান-সন্ততি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যাঁর হাতে আমার প্রাণ ঐ সত্তার কসম! মানুষের মধ্যে তোমরা আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয়। কথাটি তিনি তিনবার বললেন। [৩৭৮৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯০)
হাদিস নং: ৬৬৪৬
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن مسلمة عن مالك عن نافع عن عبد الله بن عمر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم ادرك عمر بن الخطاب وهو يسير في ركب يحلف بابيه فقال الا ان الله ينهاكم ان تحلفوا باباىكم من كان حالفا فليحلف بالله او ليصمت
৬৬৪৬. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-কে বাহনে চলা অবস্থায় পেলেন যখন তিনি তাঁর পিতার নামে কসম করছিলেন। তিনি বললেনঃ সাবধান! আল্লাহ্ তোমাদেরকে তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। কেউ কসম করতে চাইলে সে যেন আল্লাহর নামে কসম করে, নইলে যেন চুপ থাকে।[1] [২৬৭৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯১)
নোট: [1] হাদীসটি পিতা-মাতার নামে শপথ করা নিষিদ্ধ’র প্রমাণ বহন করে। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূল (সাঃ) কে বলতে শুনেছি, তিনি এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে শপথ করল সে কুফুরী করল অথবা শিরক করল। (ফাতহুল বারী)
হাদিস নং: ৬৬৪৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن عفير، حدثنا ابن وهب، عن يونس، عن ابن شهاب، قال قال سالم قال ابن عمر سمعت عمر، يقول قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان الله ينهاكم ان تحلفوا باباىكم ". قال عمر فوالله ما حلفت بها منذ سمعت النبي صلى الله عليه وسلم ذاكرا ولا اثرا. قال مجاهد (او اثرة من علم) ياثر علما. تابعه عقيل والزبيدي واسحاق الكلبي عن الزهري. وقال ابن عيينة ومعمر عن الزهري عن سالم عن ابن عمر سمع النبي صلى الله عليه وسلم عمر.
৬৬৪৭. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’উমার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। ’উমার (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! যখন থেকে আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছি, তখন থেকে আমি তাদের নামে কসম করিনি মনে থাকা অবস্থাতেও না, অন্যের কথা উদ্ধৃত করেও না।
মুজাহিদ (রহ.) বলেছেন, (أَوْ أَثَارَةٍ مِنْ عِلْمٍ) দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে অবগত বিষয় উদ্ধৃত করা।
অনুরূপ ’উকায়ল, ’যুবায়দী ও ইসহাক কালবী (রহ.) যুহরী (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন।
ইবনু ’উয়াইনাহ্, ইবনু ’উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’উমার (রাঃ)-কে বলেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯২)
মুজাহিদ (রহ.) বলেছেন, (أَوْ أَثَارَةٍ مِنْ عِلْمٍ) দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে অবগত বিষয় উদ্ধৃত করা।
অনুরূপ ’উকায়ল, ’যুবায়দী ও ইসহাক কালবী (রহ.) যুহরী (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন।
ইবনু ’উয়াইনাহ্, ইবনু ’উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’উমার (রাঃ)-কে বলেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯২)
হাদিস নং: ৬৬৪৮
সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا عبد العزيز بن مسلم حدثنا عبد الله بن دينار قال سمعت عبد الله بن عمر يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تحلفوا باباىكم
৬৬৪৮. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের বাপ-দাদাদের নামে শপথ করো না। [২৬৭৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯৩)
হাদিস নং: ৬৬৪৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد الوهاب، عن ايوب، عن ابي قلابة، والقاسم التميمي، عن زهدم، قال كان بين هذا الحى من جرم وبين الاشعريين ود واخاء، فكنا عند ابي موسى الاشعري، فقرب اليه طعام فيه لحم دجاج وعنده رجل من بني تيم الله احمر كانه من الموالي، فدعاه الى الطعام فقال اني رايته ياكل شيىا فقذرته، فحلفت ان لا اكله. فقال قم فلاحدثنك عن ذاك، اني اتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم في نفر من الاشعريين نستحمله فقال " والله لا احملكم، وما عندي ما احملكم ". فاتي رسول الله صلى الله عليه وسلم بنهب ابل فسال عنا. فقال " اين النفر الاشعريون ". فامر لنا بخمس ذود غر الذرى، فلما انطلقنا قلنا ما صنعنا حلف رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يحملنا وما عنده ما يحملنا ثم حملنا، تغفلنا رسول الله صلى الله عليه وسلم يمينه، والله لا نفلح ابدا، فرجعنا اليه فقلنا له انا اتيناك لتحملنا فحلفت ان لا تحملنا، وما عندك ما تحملنا. فقال " اني لست انا حملتكم، ولكن الله حملكم، والله لا احلف على يمين فارى غيرها خيرا منها، الا اتيت الذي هو خير وتحللتها ".
৬৬৪৯. যাহদাম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের গোত্র জারাম এবং আশ’আরী গোত্রের মাঝে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ব ছিল। আমরা (একবার) আবূ মূসা আশ’আরীর সাথে ছিলাম। তাঁর কাছে খাবার উপস্থিত করা হল, যাতে ছিল মুরগীর মাংস। তাইমিল্লাহ্ গোত্রের এক লাল রঙের ব্যক্তি তাঁর কাছে ছিল। সে দেখতে গোলামদের মত। তিনি তাকে খাবার খেতে ডাকলেন। তখন সে লোকটি বলল, আমি মুরগীকে এমন জিনিস খেতে দেখেছি যার জন্য আমি তাকে ঘৃণা করি। তাই আমি কসম করেছি যে, মুরগী খাব না। তিনি বললেন, ওঠ, আমি এ সম্পর্কে অবশ্যই তোমাকে একখানা হাদীস বলব। একবার আমি কতক আশ’আরীর সাথে বাহন সংগ্রহের জন্য রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলাম। তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি তোমাদেরকে বাহন দিতে পারব না। তোমাদের বাহন দেয়ার জন্য কিছুই আমার কাছে নেই।
এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গনীমতের কিছু উট এল। তিনি আমাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন এবং বললেনঃ আশ’আরী দলটি কোথায়? এরপর আমাদের জন্য পাঁচটি উত্তম সুন্দর উট দেয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। আমরা যখন চলে গেলাম, তখন চিন্তা করলাম আমরা এ কী করলাম? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো শপথ করেছিলেন আমাদেরকে বাহন দেবেন না। আর তাঁর কাছে কোন বাহন তো ছিলও না। কিন্তু এরপর তিনি তো আমাদেরকে আরোহণের বাহন দিলেন। আমরা রাসূলুল্লাহকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- তার কসমের ব্যাপারে অন্যমনস্ক রেখেছিলাম।
আল্লাহর কসম! এ বাহন আমাদের কোন উপকারে আসবে না। কাজেই আমরা তাঁর কাছে ফিরে গেলাম এবং তাঁকে বললাম যে, আমাদেরকে আপনি আরোহণ করাবেন এ উদ্দেশে আমরা তো আপনার কাছে এসেছিলাম। আপনি কসম করেছিলেন যে, আপনি আমাদেরকে কোন বাহন দিবেন না। আর আপনার কাছে এমন কোন কিছু ছিলও না, যাতে আমাদেরকে আরোহণ করাতে পারেন। তখন তিনি বলেছিলেনঃ আমি তোমাদেরকে আরোহণ করাইনি বরং আল্লাহ্ আরোহণ করিয়েছেন। আল্লাহর শপথ! আমি যখন শপথ করি আর তার অন্যটির মাঝে যদি অধিক কল্যাণ দেখতে পাই, তা হলে যা কল্যাণকর তাই বাস্তবায়িত করি এবং আমি শপথ ভঙ্গ করি। [৩১৩৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯৪)
এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গনীমতের কিছু উট এল। তিনি আমাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন এবং বললেনঃ আশ’আরী দলটি কোথায়? এরপর আমাদের জন্য পাঁচটি উত্তম সুন্দর উট দেয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। আমরা যখন চলে গেলাম, তখন চিন্তা করলাম আমরা এ কী করলাম? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো শপথ করেছিলেন আমাদেরকে বাহন দেবেন না। আর তাঁর কাছে কোন বাহন তো ছিলও না। কিন্তু এরপর তিনি তো আমাদেরকে আরোহণের বাহন দিলেন। আমরা রাসূলুল্লাহকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- তার কসমের ব্যাপারে অন্যমনস্ক রেখেছিলাম।
আল্লাহর কসম! এ বাহন আমাদের কোন উপকারে আসবে না। কাজেই আমরা তাঁর কাছে ফিরে গেলাম এবং তাঁকে বললাম যে, আমাদেরকে আপনি আরোহণ করাবেন এ উদ্দেশে আমরা তো আপনার কাছে এসেছিলাম। আপনি কসম করেছিলেন যে, আপনি আমাদেরকে কোন বাহন দিবেন না। আর আপনার কাছে এমন কোন কিছু ছিলও না, যাতে আমাদেরকে আরোহণ করাতে পারেন। তখন তিনি বলেছিলেনঃ আমি তোমাদেরকে আরোহণ করাইনি বরং আল্লাহ্ আরোহণ করিয়েছেন। আল্লাহর শপথ! আমি যখন শপথ করি আর তার অন্যটির মাঝে যদি অধিক কল্যাণ দেখতে পাই, তা হলে যা কল্যাণকর তাই বাস্তবায়িত করি এবং আমি শপথ ভঙ্গ করি। [৩১৩৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯৪)
হাদিস নং: ৬৬৫০
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا هشام بن يوسف اخبرنا معمر عن الزهري عن حميد بن عبد الرحمن عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من حلف فقال في حلفه باللات والعزى فليقل لا اله الا الله ومن قال لصاحبه تعال اقامرك فليتصدق
৬৬৫০. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি শপথ করে এবং বলে, ’লাত ও উয্যার শপথ’, তখন সে যেন لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ বলে আর যে ব্যক্তি তার সঙ্গীকে বলে ’এসো জুয়া খেলি’ তাহলে সে যেন সাদাকা দেয়।[1] [৪৮৬০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯৫)
নোট: [1] লাত ও উযযার নামে (শুধুমাত্র) শপথ করার পাপ لا إله إلا الله বলার দ্বারা মুছে যায় আর জুয়া খেলার জন্য (জড়িত না হয়ে শুধুমাত্র) আহবানের পাপ সাদাকা করার দ্বারা মুছে যায়।
হাদিস নং: ৬৬৫১
সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا الليث عن نافع عن ابن عمر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اصطنع خاتما من ذهب وكان يلبسه فيجعل فصه في باطن كفه فصنع الناس خواتيم ثم انه جلس على المنبر فنزعه فقال اني كنت البس هذا الخاتم واجعل فصه من داخل فرمى به ثم قال والله لا البسه ابدا فنبذ الناس خواتيمهم
৬৬৫১. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি স্বর্ণের আংটি তৈরি করালেন এবং তিনি সেটা ব্যবহার করতেন। ব্যবহারকালে তাঁর পাথরটি হাতের ভিতরের দিকে রাখতেন। তখন লোকেরাও এরূপ করল। এরপর তিনি মিম্বরের উপর বসে তা খুলে ফেললেন এবং বললেনঃ আমি এ আংটি পরেছিলাম এবং তার পাথর হাতের ভিতরের দিকে রেখেছিলাম। অতঃপর তিনি তা ছুঁড়ে ফেলে দিলেন। আর বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি এ আংটি আর কোনদিন ব্যবহার করব না! তখন লোকেরাও তাদের নিজেদের আংটিগুলো খুলে ফেলল। [৫৮৬৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯৬)
হাদিস নং: ৬৬৫২
সহিহ (Sahih)
معلى بن اسد حدثنا وهيب عن ايوب عن ابي قلابة عن ثابت بن الضحاك قال قال النبي صلى الله عليه وسلم من حلف بغير ملة الاسلام فهو كما قال قال ومن قتل نفسه بشيء عذب به في نار جهنم ولعن المومن كقتله ومن رمى مومنا بكفر فهو كقتله
وَقَالَ النَّبِيُّصلى الله عليه وسلم مَنْ حَلَفَ بِاللاَّتِ وَالْعُزَّى فَلْيَقُلْ وَلَمْ يَنْسُبْهُ إِلَى الْكُفْرِ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যদি লাত ও উযযার কসম করে তবে সে যেন لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ বলে কিন্তু তিনি এমন ব্যক্তিকে কাফের বলেননি।
৬৬৫২. সাবিত ইবনু যহ্হাক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্মের কসম করলে সেটা ঐ রকমই হবে, যেমন সে বলল। তিনি (আরও বলেছেন) কেউ কোন জিনিসের দ্বারা আত্মহত্যা করলে, জাহান্নামের আগুনে তাকে ঐ জিনিস দিয়েই শাস্তি দেয়া হবে। কোন মু’মিনকে লা’নত করা তাকে হত্যা করা তুল্য। আর কোন মু’মিনকে কুফরীর অপবাদ দেয়াও তাকে হত্যা করার তুল্য। [১৩৬৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯৭)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যদি লাত ও উযযার কসম করে তবে সে যেন لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ বলে কিন্তু তিনি এমন ব্যক্তিকে কাফের বলেননি।
৬৬৫২. সাবিত ইবনু যহ্হাক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্মের কসম করলে সেটা ঐ রকমই হবে, যেমন সে বলল। তিনি (আরও বলেছেন) কেউ কোন জিনিসের দ্বারা আত্মহত্যা করলে, জাহান্নামের আগুনে তাকে ঐ জিনিস দিয়েই শাস্তি দেয়া হবে। কোন মু’মিনকে লা’নত করা তাকে হত্যা করা তুল্য। আর কোন মু’মিনকে কুফরীর অপবাদ দেয়াও তাকে হত্যা করার তুল্য। [১৩৬৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯৭)
হাদিস নং: ৬৬৫৩
সহিহ (Sahih)
وقال عمرو بن عاصم حدثنا همام حدثنا اسحاق بن عبد الله بن ابي طلحة حدثنا عبد الرحمن بن ابي عمرة ان ابا هريرة حدثه انه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول ان ثلاثة في بني اسراىيل اراد الله ان يبتليهم فبعث ملكا فاتى الابرص فقال تقطعت بي الحبال فلا بلاغ لي الا بالله ثم بك فذكر الحديث
৬৬৫৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, বনী ইসরাঈল গোত্রের তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ্ পরীক্ষা করতে চাইলেন। অতঃপর একজন ফেরেশ্তা পাঠালেন। ফেরেশ্তা কুষ্ঠরোগীর কাছে এল। সে বলল, আমার সমস্ত উপায়-উপকরণ ছিন্ন হয়ে গেছে। কাজেই আমার জন্য আল্লাহ্ ব্যতীত, অতঃপর তুমি ব্যতীত কোন উপায় নেই। এরপর পুরো হাদীস বর্ণনা করলেন। [৩৪৬৪] (আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯৮)
হাদিস নং: ৬৬৫৪
সহিহ (Sahih)
قبيصة حدثنا سفيان عن اشعث عن معاوية بن سويد بن مقرن عن البراء عن النبي صلى الله عليه وسلم ح و حدثني محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة عن اشعث عن معاوية بن سويد بن مقرن عن البراء قال امرنا النبي صلى الله عليه وسلم بابرار المقسم
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ أَبُو بَكْرٍ فَوَاللهِ يَا رَسُولَ اللهِ لَتُحَدِّثَنِّي بِالَّذِي أَخْطَأْتُ فِي الرُّؤْيَا قَالَ لاَ تُقْسِمْ
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, আবূ বকর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ! আমি স্বপ্নের ব্যাখা করতে যে ভুল করেছি তা আপনি অবশ্যই আমাকে বলে দিন। তিনি বললেনঃ তুমি শপথ করো না।
৬৬৫৪. বারাআ ইবনু ’আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে কসম পূর্ণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। [১৩৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯৯)
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, আবূ বকর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ! আমি স্বপ্নের ব্যাখা করতে যে ভুল করেছি তা আপনি অবশ্যই আমাকে বলে দিন। তিনি বললেনঃ তুমি শপথ করো না।
৬৬৫৪. বারাআ ইবনু ’আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে কসম পূর্ণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। [১৩৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯৯)
হাদিস নং: ৬৬৫৫
সহিহ (Sahih)
حفص بن عمر حدثنا شعبة اخبرنا عاصم الاحول سمعت ابا عثمان يحدث عن اسامة ان بنتا لرسول الله صلى الله عليه وسلم ارسلت اليه ومع رسول الله صلى الله عليه وسلم اسامة بن زيد وسعد وابي ان ابني قد احتضر فاشهدنا فارسل يقرا السلام ويقول ان لله ما اخذ وما اعطى وكل شيء عنده مسمى فلتصبر وتحتسب فارسلت اليه تقسم عليه فقام وقمنا معه فلما قعد رفع اليه فاقعده في حجره ونفس الصبي جىث ففاضت عينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال سعد ما هذا يا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال هذه رحمة يضعها الله في قلوب من يشاء من عباده وانما يرحم الله من عباده الرحماء
৬৬৫৫. উসামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার উসামাহ ইবনু যায়দ, সা’দ ও ’উবাই (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলেন। এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক কন্যা তাঁর কাছে খবর পাঠালেন যে, আমার পুত্র মুমূর্ষু অবস্থায় আছে। কাজেই তিনি যেন আমাদের নিকট আসেন। তিনি সালামের সঙ্গে এ কথা বলে পাঠালেন যে, আল্লাহ্ যা দান করেন আর যা নিয়ে নেন সব কিছুই আল্লাহর জন্য। আর সব কিছুই আল্লাহর নিকট নির্ধারিত আছে। অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং সাওয়াবের আশা কর। এরপর তাঁর কন্যা কসম দিয়ে আবার খবর পাঠালেন। এতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাওয়ার জন্য দাঁড়ালেন। আমরাও তাঁর সঙ্গে দাঁড়ালাম।
(সেখানে গিয়ে) তিনি যখন বসলেন, শিশুটিকে তাঁর সামনে আনা হল। তিনি তাকে নিজের কোলে নিয়ে বসালেন, আর শিশুটির শ্বাস নিঃশেষ হয়ে আসছিল। এতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু’চোখ অশ্রু প্রবাহিত করল। তখন সা’দ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ কী ব্যাপার? তিনি বললেনঃ এ হল রহমত, যা আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের যাকে ইচ্ছা তার মনের ভিতরে দিয়ে থাকেন। আর আল্লাহ্ কেবলমাত্র তাঁর দয়ালু বান্দাদের ওপরই দয়া করে থাকেন।[1] [১২৮৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০০)
(সেখানে গিয়ে) তিনি যখন বসলেন, শিশুটিকে তাঁর সামনে আনা হল। তিনি তাকে নিজের কোলে নিয়ে বসালেন, আর শিশুটির শ্বাস নিঃশেষ হয়ে আসছিল। এতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু’চোখ অশ্রু প্রবাহিত করল। তখন সা’দ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ কী ব্যাপার? তিনি বললেনঃ এ হল রহমত, যা আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের যাকে ইচ্ছা তার মনের ভিতরে দিয়ে থাকেন। আর আল্লাহ্ কেবলমাত্র তাঁর দয়ালু বান্দাদের ওপরই দয়া করে থাকেন।[1] [১২৮৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০০)
নোট: [1] কারো মৃত্যুতে চোখ দিয়ে পানি বের হলে তা নিষিদ্ধ নয়, বরং রাহমাত। নিষিদ্ধ হল চেঁচিয়ে কান্নাকাটি করা, বিলাপ করা, গালে বুকে হাত দিয়ে আঘাত করা, জামা কাপড় ছেঁড়া ইত্যাদি।
হাদিস নং: ৬৬৫৬
সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني مالك عن ابن شهاب عن ابن المسيب عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا يموت لاحد من المسلمين ثلاثة من الولد تمسه النار الا تحلة القسم
৬৬৫৬. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মুসলিমের তিনটি সন্তান মারা গেছে (সে যদি ধৈর্য ধরে) তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। তবে কসম পূর্ণ করার জন্য (তাকে পুলসিরাতের উপর দিয়ে নেয়া হবে)। [১২৫১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০১)
হাদিস নং: ৬৬৫৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن المثنى، حدثني غندر، حدثنا شعبة، عن معبد بن خالد، سمعت حارثة بن وهب، قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول " الا ادلكم على اهل الجنة، كل ضعيف متضعف، لو اقسم على الله لابره، واهل النار كل جواظ عتل مستكبر ".
৬৬৫৭. হারিসাহ ইবনু ওয়াহ্ব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতী লোকদের সম্পর্কে জানাব না? তারা হবে (দুনিয়াতে) দুর্বল, মাযলুম। তারা যদি আল্লাহর ওপর কসম করে, তবে আল্লাহ্ তা পূর্ণ করে দেন। আর জাহান্নামের অধিবাসী হবে অবাধ্য, ঝগড়াটে ও অহংকারীরা। [৪৯১৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০২)
হাদিস নং: ৬৬৫৮
সহিহ (Sahih)
سعد بن حفص حدثنا شيبان عن منصور عن ابراهيم عن عبيدة عن عبد الله قال سىل النبي صلى الله عليه وسلم اي الناس خير قال قرني ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم ثم يجيء قوم تسبق شهادة احدهم يمينه ويمينه شهادته قال ابراهيم وكان اصحابنا ينهونا ونحن غلمان ان نحلف بالشهادة والعهد
৬৬৫৮. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একবার জিজ্ঞেস করা হল, কোন্ মানুষ সর্বোত্তম? তিনি বললেনঃ আমার সময়ের মানুষ। এরপর তাদের পরবর্তী লোকেরা, এরপর তাদের পরবর্তী লোকেরা। এরপরে এমন লোক আসবে যে তাদের সাক্ষ্য কসমের উপর অগ্রগামী হবে, আর কসম সাক্ষ্যের উপর অগ্রগামী হবে। রাবী ইবরাহীম বলেন যে, আমরা যখন বালক ছিলাম তখন আমাদের সঙ্গীরা সাক্ষ্য এবং অঙ্গীকারের সঙ্গে কসম করতে নিষেধ করতেন। [২৬৫২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০৩)
হাদিস নং: ৬৬৫৯
সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا ابن ابي عدي عن شعبة عن سليمان ومنصور عن ابي واىل عن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من حلف على يمين كاذبة يقتطع بها مال رجل مسلم او قال اخيه لقي الله وهو عليه غضبان فانزل الله تصديقه (ان الذين يشترون بعهد الله)
৬৬৫৯. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসউদ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ কোন মুসলিমের মাল আত্মসাৎ করার জন্য অথবা বলেছেনঃ তার ভাইয়ের মাল আত্মসাৎ করার জন্য যে ব্যক্তি মিথ্যা কসম করবে, আল্লাহর সাথে তার সাক্ষাৎ ঘটবে এমন অবস্থায় যে আল্লাহ্ তার উপর রাগান্বিত থাকবেন। এ কথারই সত্যতায় আল্লাহ্ তা’আলা-অবতীর্ণ করেনঃ নিশ্চয় যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, এরা আখিরাতের নি’মাতের কোন অংশই পাবে না।
হাদিস নং: ৬৬৬০
সহিহ (Sahih)
قال سليمان في حديثه فمر الاشعث بن قيس فقال ما يحدثكم عبد الله قالوا له فقال الاشعث نزلت في وفي صاحب لي في بىر كانت بيننا
৬৬৬০. রাবী সুলায়মান তাঁর বর্ণিত হাদীসে বলেন, আশ’আস ইবনু কায়স্ (রাঃ) যখন পার্শ্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন জিজ্ঞেস করেন, ’আবদুল্লাহ্ তোমাদের কাছে কী বর্ণনা করেছেন? জবাবে লোকেরা তাঁকে কিছু বলল। তখন আশ’আস (রাঃ) বললেন, এ আয়াত আমার আর আমার এক সাথী সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। আমাদের দু’ জনের মাঝে একটি কূপ নিয়ে বিবাদ ছিল। [২৩৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০৪)