অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৮৩/১. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের অর্থহীন শপথের জন্য আল্লাহ তোমাদেরকে পাকড়াও করবেন না...
মোট ৮৭ টি হাদিস
হাদিস নং: ৬৬২১
সহিহ (Sahih)
محمد بن مقاتل ابو الحسن اخبرنا عبد الله اخبرنا هشام بن عروة عن ابيه عن عاىشة ان ابا بكر لم يكن يحنث في يمين قط حتى انزل الله كفارة اليمين وقال لا احلف على يمين فرايت غيرها خيرا منها الا اتيت الذي هو خير وكفرت عن يميني
৬৬২১. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আবূ বকর (রাঃ) কক্ষনো শপথ ভঙ্গ করেননি, যতক্ষণ না আল্লাহ্ কসমের কাফ্ফারা সংবলিত আয়াত অবতীর্ণ করেন। তিনি বলতেন, আমি কসম করি। অতঃপর যদি এর চেয়ে উত্তমটি দেখতে পাই তবে উত্তমটিই করি এবং আমার শপথ ভাঙ্গার জন্য কাফ্ফারা দেই।[1] [৪৬১৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৬৮)
নোট: [1] কোন বিষয়ে শপথ করার পর যদি দেখা যায় যে, শপথ পূর্ণ করার চেয়ে শপথ ভঙ্গ করার মধ্যেই অধিক কল্যাণ নিহিত আছে, তবে শপথ ভেঙ্গে দিতে হবে এবং শপথ ভঙ্গ করার কাফ্ফারা আদায় করতে হবে।
হাদিস নং: ৬৬২২
সহিহ (Sahih)
ابو النعمان محمد بن الفضل حدثنا جرير بن حازم حدثنا الحسن حدثنا عبد الرحمن بن سمرة قال قال النبي صلى الله عليه وسلم يا عبد الرحمن بن سمرة لا تسال الامارة فانك ان اوتيتها عن مسالة وكلت اليها وان اوتيتها من غير مسالة اعنت عليها واذا حلفت على يمين فرايت غيرها خيرا منها فكفر عن يمينك وات الذي هو خير
৬৬২২. ’আবদুর রহমান ইবনু সামুরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ’আবদুর রহমান ইবনু সামুরাহ! তুমি নেতৃত্ব চেয়ো না। কারণ, চাওয়ার পর যদি নেতৃত্ব পাও তবে এর দিকে তোমাকে সোপর্দ করে দেয়া হবে। আর যদি না চেয়ে তা পাও তবে তোমাকে এ বিষয়ে সাহায্য করা হবে। কোন কিছুর ব্যাপারে যদি শপথ কর আর তা ছাড়া অন্য কিছুর ভিতর কল্যাণ দেখতে পাও, তবে নিজ শপথের কাফ্ফারা আদায় করে তাত্থেকে উত্তমটি গ্রহণ কর। [৬৭২২, ৭১৪৬, ৭১৪৭; মুসলিম ২৭/৩, হাঃ ১৬৫২, আহমাদ ২০৬৪২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৬৯)
হাদিস নং: ৬৬২৩
সহিহ (Sahih)
ابو النعمان حدثنا حماد بن زيد عن غيلان بن جرير عن ابي بردة عن ابيه قال اتيت النبي صلى الله عليه وسلم في رهط من الاشعريين استحمله فقال والله لا احملكم وما عندي ما احملكم عليه قال ثم لبثنا ما شاء الله ان نلبث ثم اتي بثلاث ذود غر الذرى فحملنا عليها فلما انطلقنا قلنا او قال بعضنا والله لا يبارك لنا اتينا النبي صلى الله عليه وسلم نستحمله فحلف ان لا يحملنا ثم حملنا فارجعوا بنا الى النبي صلى الله عليه وسلم فنذكره فاتيناه فقال ما انا حملتكم بل الله حملكم واني والله ان شاء الله لا احلف على يمين فارى غيرها خيرا منها الا كفرت عن يميني واتيت الذي هو خير او اتيت الذي هو خير وكفرت عن يميني
৬৬২৩. আবূ বুরদাহ (রাঃ)-এর পিতা আবূ মূসা আশ’আরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার আশ’আরী গোত্রের একদল লোকের সঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে তাঁর কাছে বাহন চাইলাম। তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদেরকে বাহন দিতে পারব না। আর আমার কাছে কিছু নেই যার উপর আরোহণ করা যায়। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আল্লাহ্ যতক্ষণ চাইলেন, ততক্ষণ আমরা সেখানে থাকলাম। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অতি সুন্দর তিনটি উষ্ট্রী আনা হল। তিনি সেগুলোর উপর আমাদেরকে আরোহণ করালেন। এরপর আমরা যখন চলতে লাগলাম তখন বললাম অথবা আমাদের মাঝে কেউ বলল, আল্লাহর কসম! আল্লাহ্ আমাদেরকে বরকত দিবেন না।
কারণ, আমরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বাহন চাইলে তিনি আমাদেরকে বাহন দিবেন না বলে কসম করলেন, অতঃপর আমাদেরকে আরোহণ করালেন। চল আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যাই এবং তাঁকে ব্যাপারটি স্মরণ করিয়ে দেই। এরপর আমরা তাঁর কাছে এলাম। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে আরোহণ করাইনি বরং আল্লাহ্ আরোহণ করিয়েছেন। আল্লাহর কসম! আমি যখন আল্লাহর ইচ্ছায় কোন শপথ করি আর সেটি বাদে অন্যটির মাঝে কল্যাণ দেখি তখন শপথের জন্য কাফ্ফারা আদায় করে দেই। আর যেটা কল্যাণকর সেটাই করে নেই এবং স্বীয় শপথের কাফ্ফারা আদায় করি। [৩১৩৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৭০)
কারণ, আমরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বাহন চাইলে তিনি আমাদেরকে বাহন দিবেন না বলে কসম করলেন, অতঃপর আমাদেরকে আরোহণ করালেন। চল আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যাই এবং তাঁকে ব্যাপারটি স্মরণ করিয়ে দেই। এরপর আমরা তাঁর কাছে এলাম। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে আরোহণ করাইনি বরং আল্লাহ্ আরোহণ করিয়েছেন। আল্লাহর কসম! আমি যখন আল্লাহর ইচ্ছায় কোন শপথ করি আর সেটি বাদে অন্যটির মাঝে কল্যাণ দেখি তখন শপথের জন্য কাফ্ফারা আদায় করে দেই। আর যেটা কল্যাণকর সেটাই করে নেই এবং স্বীয় শপথের কাফ্ফারা আদায় করি। [৩১৩৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৭০)
হাদিস নং: ৬৬২৪
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن ابراهيم اخبرنا عبد الرزاق اخبرنا معمر عن همام بن منبه قال هذا ما حدثنا به ابو هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال نحن الاخرون السابقون يوم القيامة
৬৬২৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা (দুনিয়ায়) সবশেষে আগমনকারী আর কিয়ামতের দিন হব অগ্রগামী। [২৩৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৭১)
হাদিস নং: ৬৬২৫
সহিহ (Sahih)
وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم والله لان يلج احدكم بيمينه في اهله اثم له عند الله من ان يعطي كفارته التي افترض الله عليه
৬৬২৫. এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহর কসম! তোমাদের মাঝে কেউ আপন পরিজন সম্পর্কে শপথ করে এবং সে এর কাফ্ফারা আদায় করার পরিবর্তে- যা আল্লাহ ফরয করেছেন- শপথে অনড় থাকে, তাহলে সে আল্লাহর নিকট গুনাহগার হবে। [৬৬২৬; মুসলিম ২৭/৬, হাঃ ১৬৫৫, আহমাদ ৮২১৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- র৭১)
হাদিস নং: ৬৬২৬
সহিহ (Sahih)
اسحاق يعني ابن ابراهيم حدثنا يحيى بن صالح حدثنا معاوية عن يحيى عن عكرمة عن ابي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من استلج في اهله بيمين فهو اعظم اثما ليبر يعني الكفارة
৬৬২৬. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আপন পরিবারের ব্যাপারে কসম করে এর উপর অটল থাকে সে মস্ত বড় পাপী, তার কাফ্ফারা তাকে গুনাহ থেকে মুক্ত করবে না। [৬৬২৫; মুসলিম ২৭/৬, হাঃ ১৬৫৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৭২)
হাদিস নং: ৬৬২৭
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد عن اسماعيل بن جعفر عن عبد الله بن دينار عن ابن عمر قال بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم بعثا وامر عليهم اسامة بن زيد فطعن بعض الناس في امرته فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ان كنتم تطعنون في امرته فقد كنتم تطعنون في امرة ابيه من قبل وايم الله ان كان لخليقا للامارة وان كان لمن احب الناس الي وان هذا لمن احب الناس الي بعده
৬৬২৭. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার একটি বাহিনী পাঠালেন যার আমীর নিযুক্ত করলেন উসামাহ ইবনু যায়দকে। কতক লোক তাঁর নেতৃত্ব সম্পর্কে সমালোচনা করল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে বললেনঃ তোমরা তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা কর, তবে ইতোপূর্বে তাঁর পিতার নেতৃত্ব সম্পর্কেও তোমরা সমালোচনা করেছিলে। আল্লাহর কসম! সে অবশ্যই নেতৃত্বের যোগ্য ছিল। আর মানুষের মাঝে সে আমার সর্বাপেক্ষা প্রিয় ছিল। তারপরে অবশ্যই এ উসামাহ সকল মানুষ অপেক্ষা আমার কাছে প্রিয়। [৩৭৩০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৭৩)
হাদিস নং: ৬৬২৮
সহিহ (Sahih)
وقال سعد قال النبي صلى الله عليه وسلم والذي نفسي بيده وقال ابو قتادة قال ابو بكر عند النبي صلى الله عليه وسلم لاها الله اذا يقال والله وبالله وتالله
وَقَالَ سَعْدٌ قَالَ النَّبِيُّصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ وَقَالَ أَبُو قَتَادَةَ قَالَ أَبُو بَكْرٍ عِنْدَ النَّبِيِّصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لاَهَا اللهِ إِذًا يُقَالُ وَاللهِ وَبِاللهِ وَتَاللهِ
সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ’কসম ঐ সত্ত্বার, যাঁর হাতে আমার প্রাণ’! আবূ ক্বাতাদাহ বলেন, আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট لاَهَا اللهِ বলেছেন; যেখানে وَاللهِ بِاللهِ বা تَاللهِ শব্দ দ্বারা কসম করা যায়।
৬৬২৮. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কসম ছিল وَمُقَلِّبِ الْقُلُوبِ বাক্য দ্বারা। অর্থাৎ অন্তরের পরিবর্তনকারীর কসম। [৬৬১৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৭৪)
সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ’কসম ঐ সত্ত্বার, যাঁর হাতে আমার প্রাণ’! আবূ ক্বাতাদাহ বলেন, আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট لاَهَا اللهِ বলেছেন; যেখানে وَاللهِ بِاللهِ বা تَاللهِ শব্দ দ্বারা কসম করা যায়।
৬৬২৮. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কসম ছিল وَمُقَلِّبِ الْقُلُوبِ বাক্য দ্বারা। অর্থাৎ অন্তরের পরিবর্তনকারীর কসম। [৬৬১৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৭৪)
হাদিস নং: ৬৬২৯
সহিহ (Sahih)
موسى حدثنا ابو عوانة عن عبد الملك عن جابر بن سمرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال اذا هلك قيصر فلا قيصر بعده واذا هلك كسرى فلا كسرى بعده والذي نفسي بيده لتنفقن كنوزهما في سبيل الله
৬৬২৯. জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কায়সারের ধবংসের পরে আর কোন কায়সার আসবে না। কিসরার ধ্বংসের পর আর এরপর আর কোন কিসরা হবে না। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম! অবশ্যই তাদের দু’জনের ধন সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় তোমরা খরচ করবে। [৩১২১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৭৫)
হাদিস নং: ৬৬৩০
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري اخبرني سعيد بن المسيب ان ابا هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا هلك كسرى فلا كسرى بعده واذا هلك قيصر فلا قيصر بعده والذي نفس محمد بيده لتنفقن كنوزهما في سبيل الله
৬৬৩০. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিসরা যখন ধ্বংস হবে অতঃপর আর কোন কিসরা হবে না। আর কায়সার যখন ধ্বংস হবে তখন আর কোন কায়সার হবে না। যাঁর হাতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রাণ সেই সত্তার শপথ! এ দু’ এর ধন-সম্পদ অবশ্যই তোমরা আল্লাহর পথে খরচ করবে। [৩০২৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৭৬)
হাদিস নং: ৬৬৩১
সহিহ (Sahih)
محمد اخبرنا عبدة عن هشام بن عروة عن ابيه عن عاىشة عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال يا امة محمد والله لو تعلمون ما اعلم لبكيتم كثيرا ولضحكتم قليلا
৬৬৩১. ’আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ হে উম্মাতে মুহাম্মাদী আল্লাহর শপথ! আমি যা জানি যদি তা তোমরা জানতে তবে অবশ্যই তোমরা হাসতে কম আর কাঁদতে বেশি।[1] [১০৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৭৭)
নোট: [1] কবরের আযাব, হাশরের ময়দানের ভয়াবহতা, পুলসিরাতের দৃশ্য, পাপ-পুণ্য ওজন করার দৃশ্য, জাহান্নামের কঠিন কঠিন আযাবের দৃশ্য আল্লাহর রাসূল (সাঃ)-কে দেখানো হয়েছে, তিনি তা স্পষ্ট দেখেছেন। মানুষ এগুলো বিশ্বাস করেছে, কিন্তু চোখে দেখেনি। দেখলে তারা হাসত কম, কাঁদত বেশি।
হাদিস নং: ৬৬৩২
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن سليمان، قال حدثني ابن وهب، قال اخبرني حيوة، قال حدثني ابو عقيل، زهرة بن معبد انه سمع جده عبد الله بن هشام، قال كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم وهو اخذ بيد عمر بن الخطاب فقال له عمر يا رسول الله لانت احب الى من كل شىء الا من نفسي. فقال النبي صلى الله عليه وسلم " لا والذي نفسي بيده حتى اكون احب اليك من نفسك ". فقال له عمر فانه الان والله لانت احب الى من نفسي. فقال النبي صلى الله عليه وسلم " الان يا عمر ".
৬৬৩২. ’আবদুল্লাহ ইবনু হিশাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি তখন ’উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-এর হাত ধরেছিলেন। ’উমার (রাঃ) তাঁকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার জান ছাড়া আপনি আমার কাছে সব কিছু চেয়ে অধিক প্রিয়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, যাঁর হাতে আমার প্রাণ ঐ সত্তার কসম! তোমার কাছে আমি যেন তোমার প্রাণের চেয়েও প্রিয় হই। তখন ’উমার (রাঃ) তাঁকে বললেন, আল্লাহর কসম! এখন আপনি আমার কাছে আমার প্রাণের চেয়েও বেশি প্রিয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে উমর! এখন (তুমি সত্যিকার ঈমানদার হলে)।[1] [৩৬৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৭৮)
নোট: [1] রাসূল (সাঃ) বলেছেন- তোমাদের কেউ তার নিজের জীবন, সন্তান, পিতামাতা ও সকল মানুষের চেয়ে আমাকে অধিক না ভালবাসা পর্যন্ত মু‘মিন হতে পারবে না- হাদীস। (দ্রষ্টব্য সূরা আহযাব আয়াত নং-৬)
হাদিস নং: ৬৬৩৩
সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني مالك عن ابن شهاب عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود عن ابي هريرة وزيد بن خالد انهما اخبراه ان رجلين اختصما الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال احدهما اقض بيننا بكتاب الله وقال الاخر وهو افقههما اجل يا رسول الله فاقض بيننا بكتاب الله واذن لي ان اتكلم قال تكلم قال ان ابني كان عسيفا على هذا قال مالك والعسيف الاجير زنى بامراته فاخبروني ان على ابني الرجم فافتديت منه بماىة شاة وجارية لي ثم اني سالت اهل العلم فاخبروني ان ما على ابني جلد ماىة وتغريب عام وانما الرجم على امراته فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اما والذي نفسي بيده لاقضين بينكما بكتاب الله اما غنمك وجاريتك فرد عليك وجلد ابنه ماىة وغربه عاما وامر انيس الاسلمي ان ياتي امراة الاخر فان اعترفت رجمها فاعترفت فرجمها
৬৬৩৩-৬৬৩৪. আবূ হুরাইরাহ ও যায়দ ইবনু খালিদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা বলেছেন, একবার দু’ লোক ঝগড়া করতে করতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলো। তাদের একজন বলল, আল্লাহর কিতাব মুতাবিক আমাদের মাঝে ফায়সালা করে দিন। দু’জনের মধ্যে (বেশি) বুদ্ধিমান অন্য লোকটি বলল, হ্যাঁ। হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব মুতাবিক ফয়সালা করে দিন। আর আমাকে কিছু বলার অনুমতি দিন। তিনি বললেনঃ বল। লোকটি বলল, আমার পুত্র ও লোকটির কাছে চাকর হিসাবে ছিল। (মালিক বলেন, الْعَسِيفُ শব্দের অর্থ চাকর) আমার পুত্র এর স্ত্রীর সঙ্গে যেনা করেছে। লোকেরা বলেছে যে, আমার পুত্রের (শাস্তি) রজম হবে। তাই আমি একশ’ বক্রী ও একটি বাঁদী নিয়ে তার ফিদইয়া দিয়েছি।
এরপর আমি আলিমদের নিকট এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছি। তাঁরা আমাকে জানালেন যে, আমার পুত্রের একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন হবে। আর রজম হবে এর স্ত্রীর। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কসম ঐ সত্তার, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি তোমাদের উভয়ের মধ্যে অবশ্যই আল্লাহর কিতাব মুতাবিক ফয়সালা করে দেব। তোমার বক্রী ও বাঁদী তোমাকেই ফিরিয়ে দেয়া হবে। তিনি তাঁর পুত্রকে একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য নির্বাসিত করলেন। আর উনায়ক আসলামীকে আদেশ দেয়া হল অন্য লোকটির স্ত্রীর কাছে যাওয়ার জন্য। সে যদি (ব্যভিচার) স্বীকার করে তবে তাকে রজম করতে। সে তা স্বীকার করল, সুতরাং তাকে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা হল। [২৩১৪, ২৩১৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৭৯)
এরপর আমি আলিমদের নিকট এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছি। তাঁরা আমাকে জানালেন যে, আমার পুত্রের একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন হবে। আর রজম হবে এর স্ত্রীর। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কসম ঐ সত্তার, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি তোমাদের উভয়ের মধ্যে অবশ্যই আল্লাহর কিতাব মুতাবিক ফয়সালা করে দেব। তোমার বক্রী ও বাঁদী তোমাকেই ফিরিয়ে দেয়া হবে। তিনি তাঁর পুত্রকে একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য নির্বাসিত করলেন। আর উনায়ক আসলামীকে আদেশ দেয়া হল অন্য লোকটির স্ত্রীর কাছে যাওয়ার জন্য। সে যদি (ব্যভিচার) স্বীকার করে তবে তাকে রজম করতে। সে তা স্বীকার করল, সুতরাং তাকে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা হল। [২৩১৪, ২৩১৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৭৯)
হাদিস নং: ৬৬৩৪
সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني مالك عن ابن شهاب عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود عن ابي هريرة وزيد بن خالد انهما اخبراه ان رجلين اختصما الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال احدهما اقض بيننا بكتاب الله وقال الاخر وهو افقههما اجل يا رسول الله فاقض بيننا بكتاب الله واذن لي ان اتكلم قال تكلم قال ان ابني كان عسيفا على هذا قال مالك والعسيف الاجير زنى بامراته فاخبروني ان على ابني الرجم فافتديت منه بماىة شاة وجارية لي ثم اني سالت اهل العلم فاخبروني ان ما على ابني جلد ماىة وتغريب عام وانما الرجم على امراته فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اما والذي نفسي بيده لاقضين بينكما بكتاب الله اما غنمك وجاريتك فرد عليك وجلد ابنه ماىة وغربه عاما وامر انيس الاسلمي ان ياتي امراة الاخر فان اعترفت رجمها فاعترفت فرجمها
৬৬৩৩-৬৬৩৪. আবূ হুরাইরাহ ও যায়দ ইবনু খালিদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা বলেছেন, একবার দু’ লোক ঝগড়া করতে করতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলো। তাদের একজন বলল, আল্লাহর কিতাব মুতাবিক আমাদের মাঝে ফায়সালা করে দিন। দু’জনের মধ্যে (বেশি) বুদ্ধিমান অন্য লোকটি বলল, হ্যাঁ। হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব মুতাবিক ফয়সালা করে দিন। আর আমাকে কিছু বলার অনুমতি দিন। তিনি বললেনঃ বল। লোকটি বলল, আমার পুত্র ও লোকটির কাছে চাকর হিসাবে ছিল। (মালিক বলেন, الْعَسِيفُ শব্দের অর্থ চাকর) আমার পুত্র এর স্ত্রীর সঙ্গে যেনা করেছে। লোকেরা বলেছে যে, আমার পুত্রের (শাস্তি) রজম হবে। তাই আমি একশ’ বক্রী ও একটি বাঁদী নিয়ে তার ফিদইয়া দিয়েছি।
এরপর আমি আলিমদের নিকট এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছি। তাঁরা আমাকে জানালেন যে, আমার পুত্রের একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন হবে। আর রজম হবে এর স্ত্রীর। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কসম ঐ সত্তার, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি তোমাদের উভয়ের মধ্যে অবশ্যই আল্লাহর কিতাব মুতাবিক ফয়সালা করে দেব। তোমার বক্রী ও বাঁদী তোমাকেই ফিরিয়ে দেয়া হবে। তিনি তাঁর পুত্রকে একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য নির্বাসিত করলেন। আর উনায়ক আসলামীকে আদেশ দেয়া হল অন্য লোকটির স্ত্রীর কাছে যাওয়ার জন্য। সে যদি (ব্যভিচার) স্বীকার করে তবে তাকে রজম করতে। সে তা স্বীকার করল, সুতরাং তাকে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা হল। [২৩১৪, ২৩১৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৭৯)
এরপর আমি আলিমদের নিকট এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছি। তাঁরা আমাকে জানালেন যে, আমার পুত্রের একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন হবে। আর রজম হবে এর স্ত্রীর। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কসম ঐ সত্তার, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি তোমাদের উভয়ের মধ্যে অবশ্যই আল্লাহর কিতাব মুতাবিক ফয়সালা করে দেব। তোমার বক্রী ও বাঁদী তোমাকেই ফিরিয়ে দেয়া হবে। তিনি তাঁর পুত্রকে একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য নির্বাসিত করলেন। আর উনায়ক আসলামীকে আদেশ দেয়া হল অন্য লোকটির স্ত্রীর কাছে যাওয়ার জন্য। সে যদি (ব্যভিচার) স্বীকার করে তবে তাকে রজম করতে। সে তা স্বীকার করল, সুতরাং তাকে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা হল। [২৩১৪, ২৩১৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৭৯)
হাদিস নং: ৬৬৩৫
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا وهب حدثنا شعبة عن محمد بن ابي يعقوب عن عبد الرحمن بن ابي بكرة عن ابيه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ارايتم ان كان اسلم وغفار ومزينة وجهينة خيرا من تميم وعامر بن صعصعة وغطفان واسد خابوا وخسروا قالوا نعم فقال والذي نفسي بيده انهم خير منهم
৬৬৩৫. আবূ বকরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আসলাম, গিফার, মুযায়না এবং জুহাইনাহ বংশ তামীম, আমির ইবনু সাসা’আ, গাতফান ও আসাদ বংশ থেকে উত্তম তোমরা কি এরূপ ধারণা কর? তারা তো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাহাবাগণ বললেন, হাঁ। তখন তিনি বললেনঃ কসম ঐ সত্তার যাঁর হাতে আমার প্রাণ! নিশ্চয়ই তারা এদের (শেষোক্ত গোত্রগুলোর) চেয়ে উত্তম! [৩৫১৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৮০)
হাদিস নং: ৬৬৩৬
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني عروة عن ابي حميد الساعدي انه اخبره ان رسول الله صلى الله عليه وسلم استعمل عاملا فجاءه العامل حين فرغ من عمله فقال يا رسول الله هذا لكم وهذا اهدي لي فقال له افلا قعدت في بيت ابيك وامك فنظرت ايهدى لك ام لا ثم قام رسول الله صلى الله عليه وسلم عشية بعد الصلاة فتشهد واثنى على الله بما هو اهله ثم قال اما بعد فما بال العامل نستعمله فياتينا فيقول هذا من عملكم وهذا اهدي لي افلا قعد في بيت ابيه وامه فنظر هل يهدى له ام لا فوالذي نفس محمد بيده لا يغل احدكم منها شيىا الا جاء به يوم القيامة يحمله على عنقه ان كان بعيرا جاء به له رغاء وان كانت بقرة جاء بها لها خوار وان كانت شاة جاء بها تيعر فقد بلغت فقال ابو حميد ثم رفع رسول الله صلى الله عليه وسلم يده حتى انا لننظر الى عفرة ابطيه قال ابو حميد وقد سمع ذلك معي زيد بن ثابت من النبي صلى الله عليه وسلم فسلوه
৬৬৩৬. আবূ হুমায়দ সা’ঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে রাজস্ব আদায়কারী নিযুক্ত করলেন। সে কাজ শেষ করে তাঁর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এটা আপনার জন্য আর এ জিনিসটি আমাকে হাদিয়া দেয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি তোমার বাপ-মার ঘরে বসে থাকলে না কেন? তা হলে দেখতে তোমার জন্য হাদিয়া পাঠানো হয় কি না? এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার ওয়াক্তের সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং তাশাহ্হুদ পাঠ করলেন ও আল্লাহর যথোপযুক্ত প্রশংসা করলেন। এরপর বললেনঃ রাজস্ব আদায়কারীর অবস্থা কী হল? আমি তাকে নিযুক্ত করে পাঠালাম আর সে আমাদের কাছে এসে বলছে, এটা সরকারী রাজস্ব আর এ জিনিস আমাকে হাদিয়া দেয়া হয়েছে। সে তার বাপ-মার ঘরে বসেই থাকল না কেন? তাহলে দেখত তার জন্য হাদিয়া দেয়া হয় কি না?
ঐ সত্তার কসম! যাঁর হাতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রাণ, তোমাদের মাঝে কেউ কোন বস্তুতে খিয়ানত করলে, কিয়ামতের দিন সে ঐ বস্তুটিকে তার কাঁধে বহন করা অবস্থায় আসবে। সে বস্তুটি যদি উট হয় তা হলে উট আওয়াজ করতে থাকবে। যদি গরু হয় তবে হাম্বা হাম্বা করতে থাকবে। আর যদি বক্রী হয় তবে ভ্যা ভ্যা করতে থাকবে। আমি (বাণী) পৌঁছিয়ে দিলাম। রাবী আবূ হুমায়দ বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হস্ত মুবারক এতটুকু উঠালেন যে, আমরা তাঁর দু’বগলের শুভ্রতা দেখতে গেলাম। আবূ হুমায়দ বলেন, এ কথাগুলো যায়দ ইবনু সাবিতও আমার সঙ্গে শুনেছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে। কাজেই তোমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পার। [৯২৫; মুসলিম ৩৩/৭, হাঃ ১৮৩২, আহমাদ ২৩৬৫৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৮১)
ঐ সত্তার কসম! যাঁর হাতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রাণ, তোমাদের মাঝে কেউ কোন বস্তুতে খিয়ানত করলে, কিয়ামতের দিন সে ঐ বস্তুটিকে তার কাঁধে বহন করা অবস্থায় আসবে। সে বস্তুটি যদি উট হয় তা হলে উট আওয়াজ করতে থাকবে। যদি গরু হয় তবে হাম্বা হাম্বা করতে থাকবে। আর যদি বক্রী হয় তবে ভ্যা ভ্যা করতে থাকবে। আমি (বাণী) পৌঁছিয়ে দিলাম। রাবী আবূ হুমায়দ বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হস্ত মুবারক এতটুকু উঠালেন যে, আমরা তাঁর দু’বগলের শুভ্রতা দেখতে গেলাম। আবূ হুমায়দ বলেন, এ কথাগুলো যায়দ ইবনু সাবিতও আমার সঙ্গে শুনেছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে। কাজেই তোমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পার। [৯২৫; মুসলিম ৩৩/৭, হাঃ ১৮৩২, আহমাদ ২৩৬৫৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৮১)
হাদিস নং: ৬৬৩৭
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن موسى اخبرنا هشام هو ابن يوسف عن معمر عن همام عن ابي هريرة قال قال ابو القاسم صلى الله عليه وسلم والذي نفس محمد بيده لو تعلمون ما اعلم لبكيتم كثيرا ولضحكتم قليلا
৬৬৩৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাঁর হাতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রাণ ঐ সত্তার কসম! আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে, তাহলে তোমরা অবশ্যই কাঁদতে বেশি আর হাসতে কম। [৬৪৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৮২)
হাদিস নং: ৬৬৩৮
সহিহ (Sahih)
عمر بن حفص حدثنا ابي حدثنا الاعمش عن المعرور عن ابي ذر قال انتهيت اليه وهو في ظل الكعبة يقول هم الاخسرون ورب الكعبة هم الاخسرون ورب الكعبة قلت ما شاني ايرى في شيء ما شاني فجلست اليه وهو يقول فما استطعت ان اسكت وتغشاني ما شاء الله فقلت من هم بابي انت وامي يا رسول الله قال الاكثرون اموالا الا من قال هكذا وهكذا وهكذا
৬৬৩৮. আবূ যর গিফারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলাম। তখন তিনি কা’বা ঘরের ছায়ায় বসে বলেছিলেনঃ কা’বা ঘরের রবের কসম! তারা ক্ষতিগ্রস্ত। কা’বা ঘরের রবের কসম! তারা ক্ষতিগ্রস্ত। আমি বললাম, আমার অবস্থা কী? আমার মাঝে কি কিছু (ত্রুটি) দেখা গেছে? তিনি বলছিলেন, এমন অবস্থায় আমি তাঁর কাছে বসে পড়লাম। আমি আর চুপ করে থাকতে পারলাম না। আমি চিন্তায় আচ্ছন্ন রইলাম যতক্ষণের জন্য আল্লাহ্ চাইলেন। এরপর আমি আরয করলাম, আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান! তারা কারা হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তিনি বললেনঃ অধিক সম্পদের অধিকারী। তবে তারা নয় যারা এভাবে এভাবে এভাবে (সাদকা করে)।[1] [১৪৬০; মুসলিম ১২/৮, হাঃ ৯৯০, আহমাদ ২১৪০৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৮৩)
নোট: [1] সম্পদশালীরা যদি সম্পদ অর্জন করে যাকাত আদায় ও দান খয়রাত না করে তবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অনুরূপভাবে হারাম পন্থায় সম্পদ অর্জনকারীও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর তাদের যারা যথাযথ যাকাত আদায় করবে, দান খয়রাত করবে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
হাদিস নং: ৬৬৩৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، حدثنا ابو الزناد، عن عبد الرحمن الاعرج، عن ابي هريرة، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم" قال سليمان لاطوفن الليلة على تسعين امراة، كلهن تاتي بفارس يجاهد في سبيل الله. فقال له صاحبه ان شاء الله. فلم يقل ان شاء الله. فطاف عليهن جميعا، فلم تحمل منهن الا امراة واحدة، جاءت بشق رجل، وايم الذي نفس محمد بيده لو قال ان شاء الله. لجاهدوا في سبيل الله فرسانا اجمعون ".
৬৬৩৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একবার সুলায়মান (আঃ) বললেনঃ আমি আজ রাতে নব্বইজন স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হব, যারা প্রত্যেকেই একটি করে অশ্বারোহী জন্ম দেবে যারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করবে। তাঁর সঙ্গী বলল, ইন্শা আল্লাহ্ (বলুন)। তিনি ইনশা আল্লাহ্ বললেন না। অতঃপর তিনি সকল স্ত্রীর সঙ্গেই মিলিত হলেন। কিন্তু একজন স্ত্রী ছাড়া কেউ গর্ভবতী হলেন না, আর সেও এক অপূর্ণাঙ্গ সন্তান প্রসব করল। যাঁর হাতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রাণ, ঐ সত্তার কসম! তিনি যদি ইনশা আল্লাহ্ বলতেন, তাহলে সকলেই অশ্বারোহী হয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করত।[1] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৮৪)
নোট: [1] আল্লাহর ইচ্ছে ও হুকুম ছাড়া বান্দার কোন কাজ ফলদায়ক হবে না।
হাদিস নং: ৬৬৪০
সহিহ (Sahih)
محمد حدثنا ابو الاحوص عن ابي اسحاق عن البراء بن عازب قال اهدي الى النبي صلى الله عليه وسلم سرقة من حرير فجعل الناس يتداولونها بينهم ويعجبون من حسنها ولينها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اتعجبون منها قالوا نعم يا رسول الله قال والذي نفسي بيده لمناديل سعد في الجنة خير منها لم يقل شعبة واسراىيل عن ابي اسحاق والذي نفسي بيده
৬৬৪০. বারাআ ইবনু ’আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য একবার রেশমের এক টুকরা কাপড় হাদিয়া পাঠানো হল। লোকেরা তার সৌন্দর্য ও মসৃণতা দেখে অবাক হয়ে একে একে হাতে নিয়ে দেখছিল। এরপর রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি এটা দেখে অবাক হচ্ছ? তাঁরা উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ যাঁর মুঠোয় আমার প্রাণ ঐ সত্তার কসম!। নিশ্চয়ই জান্নাতে সা’দের রুমাল এর চেয়েও উত্তম হবে।[1] আবূ ’আবদুল্লাহ্ (বুখারী রহ.) বলেন, তবে শু’বাহ এবং ইসরাঈল আবূ ইসহাক থেকে যে বর্ণনা করেছেন তাতে وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ কথাটি বলেননি। [৩২৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৮৫)
নোট: [1] জান্নাতের একটি রুমাল হবে দুনিয়ার সমস্ত সম্পদের চেয়েও বেশি মূল্যবান।