হাদিস নং: ১৫৩৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابراهيم بن المنذر حدثنا انس بن عياض عن عبيد الله عن نافع عن عبد الله بن عمر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يخرج من طريق الشجرة ويدخل من طريق المعرس وان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان اذا خرج الى مكة يصلي في مسجد الشجرة واذا رجع صلى بذي الحليفة ببطن الوادي وبات حتى يصبح
১৫৩৩. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হাজ্জের সফরে) শাজারা নামক পথ দিয়ে গমন করতেন এবং মু‘আররাস নামক পথ দিয়ে (মদিনা্য়) প্রবেশ করতেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার দিকে সফর করতেন, মাসজিদুশ-শাজারায় সালাত আদায় করতেন ও ফিরার পথে যুল-হুলাইফাহ’র বাত্নুল-ওয়াদীতে সালাত আদায় করতেন এবং সেখানে সকাল পর্যন্ত রাত যাপন করতেন। (৪৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৩৯)
হাদিস নং: ১৫৩৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا الحميدي حدثنا الوليد وبشر بن بكر التنيسي قالا حدثنا الاوزاعي قال حدثني يحيى قال حدثني عكرمة انه سمع ابن عباس يقول انه سمع عمر يقول سمعت النبي صلى الله عليه وسلم بوادي العقيق يقول اتاني الليلة ات من ربي فقال صل في هذا الوادي المبارك وقل عمرة في حجة
১৫৩৪. ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আকীক উপত্যকায় অবস্থানকালে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ আজ রাতে আমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে একজন আগন্তুক আমার নিকট এসে বললেন, আপনি এই বরকতময় উপত্যকায় সালাত আদায় করুন এবং বলুন, (আমার এ ইহরাম) হাজ্জের সাথে ‘উমরাহ’রও। (২৩৩৭, ৭৩৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৪০)
হাদিস নং: ১৫৩৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن ابي بكر حدثنا فضيل بن سليمان حدثنا موسى بن عقبة قال حدثني سالم بن عبد الله عن ابيه عن النبي صلى الله عليه وسلم انه رىي وهو في معرس بذي الحليفة ببطن الوادي قيل له انك ببطحاء مباركة وقد اناخ بنا سالم يتوخى بالمناخ الذي كان عبد الله ينيخ يتحرى معرس رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو اسفل من المسجد الذي ببطن الوادي بينهم وبين الطريق وسط من ذلك
১৫৩৫. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত যে, যুল-হুলাইফা (‘আকীক) উপত্যকায় রাত যাপনকালে তাঁকে স্বপ্নযোগে বলা হয়, আপনি বরকতময় উপত্যকায় অবস্থান করছেন। [রাবী মূসা ইবনু ‘উকবা (রহ.) বলেন] সালিম (রহ.) আমাদেরকে সাথে নিয়ে উট বসিয়ে ঐ উট বসাবার স্থানটির খোঁজ করেন, যেখানে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) উট বসিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রাত যাপনের স্থানটি খোঁজ করতেন। সে স্থানটি উপত্যকায় মসজিদের নীচু জায়গায় অবতরণকারীদের ও রাস্তার একেবারে মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। (১৭৮৯, ১৮৪৭, ৪৩২৯, ৪৯৮৫, মুসলিম ১৫/৭৭, হাঃ ১৩৪৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৪১)
হাদিস নং: ১৫৩৬
সহিহ (Sahih)
قال ابو عاصم اخبرنا ابن جريج اخبرني عطاء ان صفوان بن يعلى اخبره ان يعلى قال لعمر ارني النبي صلى الله عليه وسلم حين يوحى اليه قال فبينما النبي بالجعرانة ومعه نفر من اصحابه جاءه رجل فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم كيف ترى في رجل احرم بعمرة وهو متضمخ بطيب فسكت النبي ساعة فجاءه الوحي فاشار عمر الى يعلى فجاء يعلى وعلى رسول الله ثوب قد اظل به فادخل راسه فاذا رسول الله صلى الله عليه وسلم محمر الوجه وهو يغط ثم سري عنه فقال اين الذي سال عن العمرة فاتي برجل فقال اغسل الطيب الذي بك ثلاث مرات وانزع عنك الجبة واصنع في عمرتك كما تصنع في حجتك قلت لعطاء اراد الانقاء حين امره ان يغسل ثلاث مرات قال نعم
১৫৩৬. সাফ্ওয়ান ইবনু ই‘য়ালা (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ই‘য়ালা (রাঃ) ‘উমার (রাঃ)-কে বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর ওয়াহী অবতরণ মুহূর্তটি আমাকে দেখাবেন। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘জি’রানা’ নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন, তাঁর সঙ্গে কিছু সংখ্যক সাহাবী ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কোন ব্যক্তি সুগন্ধিযুক্ত পোশাক পরে ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধলে তার সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ নীরব রইলেন। এরপর তাঁর নিকট ওহী আসল। ‘উমার (রাঃ) ই‘য়ালা (রাঃ)-কে ইঙ্গিত করায় তিনি সেখানে উপস্থিত হলেন। তখন একখন্ড কাপড় দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’র উপর ছায়া করা হয়েছিল, ই‘য়ালা (রাঃ) মাথা প্রবেশ করিয়ে দেখতে পেলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মুখমণ্ডল
লাল বর্ণ, তিনি সজোরে শ্বাস গ্রহণ করছেন। এরপর সে অবস্থা দূর হলো। তিনি বললেনঃ ‘উমরাহ সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়? প্রশ্নকারীকে উপস্থিত করা হলে তিনি বললেনঃ তোমার শরীরের সুগন্ধি তিনবার ধুয়ে ফেল ও জুববাটি খুলে ফেল এবং হাজ্জে যা করে থাক ‘উমরাহতেও তাই কর। (রাবী ইবনু জুরাইজ বলেন) আমি ‘আত্বা (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনবার ধোয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি কি উত্তমরূপে পরিষ্কার করা বুঝিয়েছেন? তিনি বললেন, হাঁ, তাই। (১৭৮৯, ১৮৪৭, ৪৩২৯, ৪৯৮৫, মুসলিম ১৫/১, হাঃ ১১৮০, আহমাদ ১৭৯৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৪২)
লাল বর্ণ, তিনি সজোরে শ্বাস গ্রহণ করছেন। এরপর সে অবস্থা দূর হলো। তিনি বললেনঃ ‘উমরাহ সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়? প্রশ্নকারীকে উপস্থিত করা হলে তিনি বললেনঃ তোমার শরীরের সুগন্ধি তিনবার ধুয়ে ফেল ও জুববাটি খুলে ফেল এবং হাজ্জে যা করে থাক ‘উমরাহতেও তাই কর। (রাবী ইবনু জুরাইজ বলেন) আমি ‘আত্বা (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনবার ধোয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি কি উত্তমরূপে পরিষ্কার করা বুঝিয়েছেন? তিনি বললেন, হাঁ, তাই। (১৭৮৯, ১৮৪৭, ৪৩২৯, ৪৯৮৫, মুসলিম ১৫/১, হাঃ ১১৮০, আহমাদ ১৭৯৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৪২)
হাদিস নং: ১৫৩৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن يوسف حدثنا سفيان عن منصور عن سعيد بن جبير قال كان ابن عمر يدهن بالزيت فذكرته لابراهيم قال ما تصنع بقوله
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَشَمُّ الْمُحْرِمُ الرَّيْحَانَ وَيَنْظُرُ فِي الْمِرْآةِ وَيَتَدَاوَى بِمَا يَأْكُلُ الزَّيْتِ وَالسَّمْنِ وَقَالَ عَطَاءٌ يَتَخَتَّمُ وَيَلْبَسُ الْهِمْيَانَ وَطَافَ ابْنُ عُمَرَ وَهُوَ مُحْرِمٌ وَقَدْ حَزَمَ عَلَى بَطْنِهِ بِثَوْبٍ وَلَمْ تَرَ عَائِشَةُ بِالتُّبَّانِ بَأْسًا لِلَّذِينَ يَرْحَلُونَ هَوْدَجَهَا
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, মুহরিম ব্যক্তি ফুলের ঘ্রাণ নিতে পারবে। আয়নায় চেহারা দেখতে পারবে এবং তৈল ও ঘি জাতীয় খাদ্যদ্রব্য দিয়ে চিকিৎসা করতে পারবে। ‘আত্বা (রহ.) বলেন, আংটি পরতে পারবে, (কোমরে) থলে বাঁধতে পারবে। ইবনু ‘উমার (রাঃ) ইহরাম বাঁধা অবস্থায় পেটের উপর কাপড় কষে তাওয়াফ করেছেন। জাঙ্গিয়া পরার ব্যাপারে ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর আপত্তি ছিল না। এ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে যারা তার উটের পিঠে হাওদা বাঁধতো (কারণ সে সময় লজ্জাস্থান প্রদর্শিত হওয়ার আশঙ্কা থাকত)।
১৫৩৭. সা‘ঈদ ইবনু জুবাইর (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) (ইহরাম বাঁধা অবস্থায়) যায়তুন তেল ব্যবহার করতেন। (রাবী মানসুর বলেন) এ বিষয় আমি ইব্রাহীম (রহ.)-এর নিকট পেশ করলে তিনি বললেন, তাঁর কথায় তোমার কী দরকার। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৪৩)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, মুহরিম ব্যক্তি ফুলের ঘ্রাণ নিতে পারবে। আয়নায় চেহারা দেখতে পারবে এবং তৈল ও ঘি জাতীয় খাদ্যদ্রব্য দিয়ে চিকিৎসা করতে পারবে। ‘আত্বা (রহ.) বলেন, আংটি পরতে পারবে, (কোমরে) থলে বাঁধতে পারবে। ইবনু ‘উমার (রাঃ) ইহরাম বাঁধা অবস্থায় পেটের উপর কাপড় কষে তাওয়াফ করেছেন। জাঙ্গিয়া পরার ব্যাপারে ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর আপত্তি ছিল না। এ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে যারা তার উটের পিঠে হাওদা বাঁধতো (কারণ সে সময় লজ্জাস্থান প্রদর্শিত হওয়ার আশঙ্কা থাকত)।
১৫৩৭. সা‘ঈদ ইবনু জুবাইর (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) (ইহরাম বাঁধা অবস্থায়) যায়তুন তেল ব্যবহার করতেন। (রাবী মানসুর বলেন) এ বিষয় আমি ইব্রাহীম (রহ.)-এর নিকট পেশ করলে তিনি বললেন, তাঁর কথায় তোমার কী দরকার। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৪৩)
হাদিস নং: ১৫৩৮
সহিহ (Sahih)
حدثني الاسود عن عاىشة قالت كاني انظر الى وبيص الطيب في مفارق رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو محرم
১৫৩৮. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, ইহরাম বাঁধা অবস্থায় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সিঁথিতে যে সুগন্ধি তেল চকচক করছিল তা যেন আজও আমি দেখতে পাচ্ছি। (২৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৩৭ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৪৩ শেষাংশ)
হাদিস নং: ১৫৩৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن عبد الرحمن بن القاسم عن ابيه عن عاىشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت كنت اطيب رسول الله صلى الله عليه وسلم لاحرامه حين يحرم ولحله قبل ان يطوف بالبيت
১৫৩৯. নবী সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইহরাম বাঁধার সময় [1] আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর গায়ে সুগন্ধি মেখে দিতাম এবং বায়তুল্লাহ তাওয়াফের পূর্বে ইহরাম খুলে ফেলার সময়ও। (১৭৪৫, ৫৯২২, ৫৯২৮, ৫৯৩০, মুসলিম ১/৪, হাঃ ১৩, আহমাদ ) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৪৪)
নোট: [1] ইহরামের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণকালে গোসল করা, সুগন্ধি মাখার নিয়মগুলি পালন করতে হবে। ইহরামের কাপড় পরিধানের পর সুগন্ধি মাখা চলবে না। ইহরামের নিয়ত করার পূর্বে মাখা সুগন্ধি মুহরিমের চেহারায় দৃশ্যমান হতে পারে বা তা থেকে সুগন্ধ আসতে পারে। ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়ার পর সুগন্ধি ব্যবহার করা চলবে।
হাদিস নং: ১৫৪০
সহিহ (Sahih)
حدثنا اصبغ اخبرنا ابن وهب عن يونس عن ابن شهاب عن سالم عن ابيه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يهل ملبدا
১৫৪০. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে চুলে আঠালো বস্তু লাগিয়ে ইহরাম বেঁধে তালবিয়া পাঠ করতে শুনেছি। (১৫৪৯, ৫৯১৪, ৫৯১৫, মুসলিম ১৫/৩, হাঃ ১১৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৪৫)
হাদিস নং: ১৫৪১
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله حدثنا سفيان حدثن موسى بن عقبة سمعت سالم بن عبد الله قال سمعت ابن عمر ح و حدثنا عبد الله بن مسلمة عن مالك عن موسى بن عقبة عن سالم بن عبد الله انه سمع اباه يقول ما اهل رسول الله صلى الله عليه وسلم الا من عند المسجد يعني مسجد ذي الحليفة
১৫৪১. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-হুলাইফার মসজিদের নিকট হতে ইহরাম বেঁধেছেন। (মুসলিম ১৫/৪, হাঃ ১১৮৬ ) (আধুনিক প্রকাশনীঃ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৪৬)
হাদিস নং: ১৫৪২
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن نافع عن عبد الله بن عمر ان رجلا قال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ما يلبس المحرم من الثياب قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يلبس القمص ولا العماىم ولا السراويلات ولا البرانس ولا الخفاف الا احد لا يجد نعلين فليلبس خفين وليقطعهما اسفل من الكعبين ولا تلبسوا من الثياب شيىا مسه الزعفران او ورس
১৫৪২. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! মুহরিম ব্যক্তি কী প্রকারের কাপড় পরবে? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে জামা, পাগড়ী, পায়জামা, টুপি ও মোজা পরিধান করবে না। তবে কারো জুতা না থাকলে সে টাখ্নুর নিচ পর্যন্ত মোজা কেটে (জুতার ন্যায়) পরবে। [1] তোমরা জা‘ফরান বা ওয়ারস্ (এক প্রকার খুশবু) রঞ্জিত কোন কাপড় পরবে না। [আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, মুহরিম ব্যক্তি মাথা ধুতে পারবে। চুল আঁচড়াবে না, শরীর চুলকাবে না। মাথা ও শরীর হতে উকুন যমীনে ফেলে দিবে।] (১৩৪, মুসলিম ১৫/১, হাঃ ১১৭৭, আহমাদ ৪৮৩৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৪৭)
নোট: [1] জুতা না পেলে মোজাকে টাখনুর নীচ থেকে কেটে তা পরার বিধানটি রহিত হয়ে গেছে। নাবী (সাঃ) মোজা কাটার কথা পূর্বে বলেছিলেন এবং এটা তিনি বলেছিলেন মদীনাহ্য় থাকাকালীন। পক্ষান্তরে ইবনু ‘আববাস কর্তৃক বর্ণিত হাদীস যাতে তিনি জুতা না থাকাবস্থায় সাধারণভাবে কাটার শর্ত না করেই মোজা পরার নির্দেশ দিয়েছেন। উক্ত হাদীসটি হাজ্জের মাঠে তথা আরাফার মাঠে নাবী (সাঃ) বলেছিলেন।
হাদিস নং: ১৫৪৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد حدثنا وهب بن جرير حدثنا ابي عن يونس الايلي عن الزهري عن عبيد الله بن عبد الله عن ابن عباس ان اسامة كان ردف النبي صلى الله عليه وسلم من عرفة الى المزدلفة ثم اردف الفضل من المزدلفة الى منى قال فكلاهما قال لم يزل النبي صلى الله عليه وسلم يلبي حتى رمى جمرة العقبة
১৫৪৩. ১৫৪৪. ‘ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ‘আরাফাহ হতে মুয্দালিফা পর্যন্ত একই বাহনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ) উপবিষ্ট ছিলেন। এরপর মুযদালিফা হতে মিনা পর্যন্ত ফযল [ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)]-কে তাঁর পিছনে আরোহণ করান। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, তাঁরা উভয়ই বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরা আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করছিলেন। (১৬৮৫, ১৬৮৫, ১৬৮৭, মুসলিম ১৫/৪৫, হাঃ ১২৮১, আহমাদ ১৮৩১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৪৮)
হাদিস নং: ১৫৪৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد حدثنا وهب بن جرير حدثنا ابي عن يونس الايلي عن الزهري عن عبيد الله بن عبد الله عن ابن عباس ان اسامة كان ردف النبي صلى الله عليه وسلم من عرفة الى المزدلفة ثم اردف الفضل من المزدلفة الى منى قال فكلاهما قال لم يزل النبي صلى الله عليه وسلم يلبي حتى رمى جمرة العقبة
১৫৪৩.১৫৪৪. ‘ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ‘আরাফাহ হতে মুয্দালিফা পর্যন্ত একই বাহনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ) উপবিষ্ট ছিলেন। এরপর মুযদালিফা হতে মিনা পর্যন্ত ফযল [ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)]-কে তাঁর পিছনে আরোহণ করান। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, তাঁরা উভয়ই বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরা আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করছিলেন। (১৬৮৫, ১৬৮৫, ১৬৮৭, মুসলিম ১৫/৪৫, হাঃ ১২৮১, আহমাদ ১৮৩১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৪৮)
হাদিস নং: ১৫৪৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن ابي بكر المقدمي حدثنا فضيل بن سليمان قال حدثني موسى بن عقبة قال اخبرني كريب عن عبد الله بن عباس قال انطلق النبي صلى الله عليه وسلم من المدينة بعد ما ترجل وادهن ولبس ازاره ورداءه هو واصحابه فلم ينه عن شيء من الاردية والازر تلبس الا المزعفرة التي تردع على الجلد فاصبح بذي الحليفة ركب راحلته حتى استوى على البيداء اهل هو واصحابه وقلد بدنته وذلك لخمس بقين من ذي القعدة فقدم مكة لاربع ليال خلون من ذي الحجة فطاف بالبيت وسعى بين الصفا والمروة ولم يحل من اجل بدنه لانه قلدها ثم نزل باعلى مكة عند الحجون وهو مهل بالحج ولم يقرب الكعبة بعد طوافه بها حتى رجع من عرفة وامر اصحابه ان يطوفوا بالبيت وبين الصفا والمروة ثم يقصروا من رءوسهم ثم يحلوا وذلك لمن لم يكن معه بدنة قلدها ومن كانت معه امراته فهي له حلال والطيب والثياب
وَلَبِسَتْ عَائِشَةُ الثِّيَابَ الْمُعَصْفَرَةَ وَهِيَ مُحْرِمَةٌ وَقَالَتْ لاَ تَلَثَّمْ وَلاَ تَتَبَرْقَعْ وَلاَ تَلْبَسْ ثَوْبًا بِوَرْسٍ وَلاَ زَعْفَرَانٍ وَقَالَ جَابِرٌ لاَ أَرَى الْمُعَصْفَرَ طِيبًا وَلَمْ تَرَ عَائِشَةُ بَأْسًا بِالْحُلِيِّ وَالثَّوْبِ الأَسْوَدِ وَالْمُوَرَّدِ وَالْخُفِّ لِلْمَرْأَةِ وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ لاَ بَأْسَ أَنْ يُبْدِلَ ثِيَابَهُ
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) ইহরাম অবস্থায় কুসুমীর রঙ্গে রঞ্জিত কাপড় পরেন এবং তিনি বলেন, নারীগণ ঠোঁট মুখমণ্ডল
আবৃত করবে না। ওয়ারস্ ও জাফরান রঙে রঞ্জিত কাপড়ও পরবে না। জাবির (রাঃ) বলেন, আমি উসফুরী (কুসুমী) রঙকে সুগন্ধি মনে করি না। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) (ইহরাম অবস্থায়) নারীদের জন্য অলঙ্কার পরা এবং কালো ও গোলাপী রং-এর কাপড় ও মোজা পরা দূষণীয় মনে করেননি। ইবরাহীম (নাখ্‘য়ী) (রহ.) বলেন, (ইহরাম অবস্থায়) পরনের কাপড় পরিবর্তন করায় কোন দোষ নেই। [1]
১৫৪৫. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ চুল আঁচড়িয়ে, তেল মেখে, লুঙ্গি ও চাদর পরে (হাজ্জের উদ্দেশে) মাদ্বীনা হতে রওয়ানা হন। তিনি কোন প্রকার চাদর বা লুঙ্গি পরতে নিষেধ করেননি, তবে শরীরের চামড়া রঞ্জিত হয়ে যেতে পারে এরূপ জাফরানী রঙের কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন। যুল-হুলাইফা হতে সওয়ারীতে আরোহণ করে বায়দা নামক স্থানে পৌঁছে তিনি ও তাঁর সাহাবীগণ তালবিয়া পাঠ করেন এবং কুরবানীর উটের গলায় মালা ঝুলিয়ে দেন, তখন যুলকা‘দা মাসের পাঁচদিন অবশিষ্ট ছিল। যিলহাজ্জ মাসের চতুর্থ দিনে মক্কায় উপনীত হয়ে সর্বপ্রথম কা’বাঘরের তাওয়াফ করে সাফা ও মারওয়ার মাঝে সা‘য়ী করেন। তাঁর কুরবানীর উটের গলায় মালা পরিয়েছেন বলে তিনি ইহরাম খুলেননি। অতঃপর মক্কার উঁচু ভূমিতে হাজূন নামক স্থানের নিকটে অবস্থান করেন, তখন তিনি হাজ্জের ইহরামের অবস্থায় ছিলেন। (প্রথমবার) তাওয়াফ করার পর ‘আরাফাহ হতে ফিরে আসার পূর্বে আর কা‘বার নিকটবর্তী হননি। অবশ্য তিনি সাহাবাগণকে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা মারওয়ার সা‘য়ী সম্পাদন করে মাথার চুল ছেঁটে হালাল হতে নির্দেশ দেন। কেননা যাদের সাথে কুরবানীর জানোয়ার নেই, এ বিধানটি কেবল তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর যার সাথে তার স্ত্রী রয়েছে তার জন্য স্ত্রী-সহবাস, সুগন্ধি ব্যবহার ও যে কোন ধরনের কাপড় পরা জায়িয। (১৬২৫, ১৭৩১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৪৯)
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) ইহরাম অবস্থায় কুসুমীর রঙ্গে রঞ্জিত কাপড় পরেন এবং তিনি বলেন, নারীগণ ঠোঁট মুখমণ্ডল
আবৃত করবে না। ওয়ারস্ ও জাফরান রঙে রঞ্জিত কাপড়ও পরবে না। জাবির (রাঃ) বলেন, আমি উসফুরী (কুসুমী) রঙকে সুগন্ধি মনে করি না। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) (ইহরাম অবস্থায়) নারীদের জন্য অলঙ্কার পরা এবং কালো ও গোলাপী রং-এর কাপড় ও মোজা পরা দূষণীয় মনে করেননি। ইবরাহীম (নাখ্‘য়ী) (রহ.) বলেন, (ইহরাম অবস্থায়) পরনের কাপড় পরিবর্তন করায় কোন দোষ নেই। [1]
১৫৪৫. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ চুল আঁচড়িয়ে, তেল মেখে, লুঙ্গি ও চাদর পরে (হাজ্জের উদ্দেশে) মাদ্বীনা হতে রওয়ানা হন। তিনি কোন প্রকার চাদর বা লুঙ্গি পরতে নিষেধ করেননি, তবে শরীরের চামড়া রঞ্জিত হয়ে যেতে পারে এরূপ জাফরানী রঙের কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন। যুল-হুলাইফা হতে সওয়ারীতে আরোহণ করে বায়দা নামক স্থানে পৌঁছে তিনি ও তাঁর সাহাবীগণ তালবিয়া পাঠ করেন এবং কুরবানীর উটের গলায় মালা ঝুলিয়ে দেন, তখন যুলকা‘দা মাসের পাঁচদিন অবশিষ্ট ছিল। যিলহাজ্জ মাসের চতুর্থ দিনে মক্কায় উপনীত হয়ে সর্বপ্রথম কা’বাঘরের তাওয়াফ করে সাফা ও মারওয়ার মাঝে সা‘য়ী করেন। তাঁর কুরবানীর উটের গলায় মালা পরিয়েছেন বলে তিনি ইহরাম খুলেননি। অতঃপর মক্কার উঁচু ভূমিতে হাজূন নামক স্থানের নিকটে অবস্থান করেন, তখন তিনি হাজ্জের ইহরামের অবস্থায় ছিলেন। (প্রথমবার) তাওয়াফ করার পর ‘আরাফাহ হতে ফিরে আসার পূর্বে আর কা‘বার নিকটবর্তী হননি। অবশ্য তিনি সাহাবাগণকে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা মারওয়ার সা‘য়ী সম্পাদন করে মাথার চুল ছেঁটে হালাল হতে নির্দেশ দেন। কেননা যাদের সাথে কুরবানীর জানোয়ার নেই, এ বিধানটি কেবল তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর যার সাথে তার স্ত্রী রয়েছে তার জন্য স্ত্রী-সহবাস, সুগন্ধি ব্যবহার ও যে কোন ধরনের কাপড় পরা জায়িয। (১৬২৫, ১৭৩১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৪৯)
নোট: [1] ইহরাম অবস্থায় যা নিষিদ্ধ :
১। স্ত্রী সম্ভোগ করা, নির্লজ্জ কথাবার্তা বলা, যৌন আকর্ষণে স্পর্শ করা বা শরীরের সঙ্গে শরীর লাগানো।
২। চুল কাটা, নখ কাটা, সুগন্ধি ব্যবহার করা।
৩। পুরুষের জন্য সেলাই করে প্রস্তুত পোশাক পরা।
৪। মহিলাদের জন্য সেলাইকৃত বোরকা বা মুখাবরণ, মুখাচ্ছাদন ও হাত মোজা পরা।
৫। জাফরান ও কুসুম রঞ্জিত কাপড় পরিধান করা।
৬। বেহায়াপনা, শরীয়তবিরোধী কথা ও কাজ এবং বিবাদ-বিসংবাদমূলক কথা বলা।
৭। পুরুষের মাথা ও মুখ ঢাকা।
৮। স্থলচর জন্তু শিকার করা, শিকার তাড়ানো, শিকারে সাহায্য করা বা শিকারের প্রতি ইঙ্গিত করা।
৯। বিবাহ করা বা করানো বা বিবাহের পয়গাম পাঠানো।
ইহরামের অবস্থায় যা বৈধঃ
১। পুরুষ লুঙ্গি না পেলে পায়জামা পরতে পারবে।
২। জুতা না পেলে চামড়ার মোজা পরতে পারবে গিটের নিম্নাংশ পর্যন্ত কেটে দিয়ে।
৩। লুঙ্গিতে গিরা দিয়ে বাঁধা কিংবা সূতা, ফিতা বা রশি জাতীয় কিছু দিয়ে বাঁধা।
৪। গোসল করা, মাথা ধোয়া, প্রয়োজন বোধে মাথা চুলকানো।
৫। প্রয়োজনে মহিলাদের মুখমণ্ডল
ের উপর ওড়না লটকানো ও হস্তদ্বয় বস্ত্র বা অন্য কিছু দিয়ে ঢাকা।
৬। ময়লা বা ঘর্মে সিক্ত কাপড় ধৌত করা বা বদলানো।
৭। শরীয়ত এবং সত্যের প্রতিষ্ঠায় কথা কাটাকাটি ও তর্কযুদ্ধ করা।
(হজ্জ, উমরাহ ও যিয়ারতঃ শায়খ আঃ আযীয বিন বায)
১। স্ত্রী সম্ভোগ করা, নির্লজ্জ কথাবার্তা বলা, যৌন আকর্ষণে স্পর্শ করা বা শরীরের সঙ্গে শরীর লাগানো।
২। চুল কাটা, নখ কাটা, সুগন্ধি ব্যবহার করা।
৩। পুরুষের জন্য সেলাই করে প্রস্তুত পোশাক পরা।
৪। মহিলাদের জন্য সেলাইকৃত বোরকা বা মুখাবরণ, মুখাচ্ছাদন ও হাত মোজা পরা।
৫। জাফরান ও কুসুম রঞ্জিত কাপড় পরিধান করা।
৬। বেহায়াপনা, শরীয়তবিরোধী কথা ও কাজ এবং বিবাদ-বিসংবাদমূলক কথা বলা।
৭। পুরুষের মাথা ও মুখ ঢাকা।
৮। স্থলচর জন্তু শিকার করা, শিকার তাড়ানো, শিকারে সাহায্য করা বা শিকারের প্রতি ইঙ্গিত করা।
৯। বিবাহ করা বা করানো বা বিবাহের পয়গাম পাঠানো।
ইহরামের অবস্থায় যা বৈধঃ
১। পুরুষ লুঙ্গি না পেলে পায়জামা পরতে পারবে।
২। জুতা না পেলে চামড়ার মোজা পরতে পারবে গিটের নিম্নাংশ পর্যন্ত কেটে দিয়ে।
৩। লুঙ্গিতে গিরা দিয়ে বাঁধা কিংবা সূতা, ফিতা বা রশি জাতীয় কিছু দিয়ে বাঁধা।
৪। গোসল করা, মাথা ধোয়া, প্রয়োজন বোধে মাথা চুলকানো।
৫। প্রয়োজনে মহিলাদের মুখমণ্ডল
ের উপর ওড়না লটকানো ও হস্তদ্বয় বস্ত্র বা অন্য কিছু দিয়ে ঢাকা।
৬। ময়লা বা ঘর্মে সিক্ত কাপড় ধৌত করা বা বদলানো।
৭। শরীয়ত এবং সত্যের প্রতিষ্ঠায় কথা কাটাকাটি ও তর্কযুদ্ধ করা।
(হজ্জ, উমরাহ ও যিয়ারতঃ শায়খ আঃ আযীয বিন বায)
হাদিস নং: ১৫৪৬
সহিহ (Sahih)
حدثني عبد الله بن محمد حدثنا هشام بن يوسف اخبرنا ابن جريج حدثنا محمد بن المنكدر عن انس بن مالك قال صلى النبي صلى الله عليه وسلم بالمدينة اربعا وبذي الحليفة ركعتين ثم بات حتى اصبح بذي الحليفة فلما ركب راحلته واستوت به اهل
قَالَهُ ابْنُ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ
ইবনু ‘উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ বিষয় বর্ণনা করেছেন।
১৫৪৬. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদ্বীনায় চার রাক‘আত ও যুল-হুলাইফায় পৌঁছে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেন। অতঃপর ভোর পর্যন্ত সেখানে রাত যাপন করেন। এরপর যখন তিনি সওয়ারীতে আরোহণ করেন এবং তা তাঁকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায় তখন তিনি তালবিয়া পাঠ করেন। (১০৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৫০)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ বিষয় বর্ণনা করেছেন।
১৫৪৬. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদ্বীনায় চার রাক‘আত ও যুল-হুলাইফায় পৌঁছে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেন। অতঃপর ভোর পর্যন্ত সেখানে রাত যাপন করেন। এরপর যখন তিনি সওয়ারীতে আরোহণ করেন এবং তা তাঁকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায় তখন তিনি তালবিয়া পাঠ করেন। (১০৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৫০)
হাদিস নং: ১৫৪৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة حدثنا عبد الوهاب حدثنا ايوب عن ابي قلابة عن انس بن مالك ان النبي صلى الله عليه وسلم صلى الظهر بالمدينة اربعا وصلى العصر بذي الحليفة ركعتين قال واحسبه بات بها حتى اصبح
১৫৪৭. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদ্বীনায় যোহরের সালাত চার রাক‘আত আদায় করেন এবং যুল-হুলাইফায় পৌঁছে আসরের সালাত দু’ রাক‘আত আদায় করেন। রাবী বলেন, আমার ধারণা যে, তিনি ভোর পর্যন্ত সেখানে রাত যাপন করেন। (১০৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৫১)
হাদিস নং: ১৫৪৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا سليمان بن حرب حدثنا حماد بن زيد عن ايوب عن ابي قلابة عن انس قال صلى النبي صلى الله عليه وسلم بالمدينة الظهر اربعا والعصر بذي الحليفة ركعتين وسمعتهم يصرخون بهما جميعا
১৫৪৮. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত মাদ্বীনায় চার রাক‘আত আদায় করলেন এবং ‘আসরের সালাত যুল-হুলাইফায় দু’ রাক‘আত আদায় করেন। আমি শুনতে পেলাম তাঁরা সকলে উচ্চস্বরে হাজ্জ ও ‘উমরাহ’র তালবিয়া পাঠ করছেন। [1] (১৫৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৫২)
নোট: [1] ইহরাম ব্যতীত অন্য কোন ইবাদাতে মৌখিক নিয়তে শব্দ উচ্চারণ করা শরীয়তে বৈধ নয়। কেননা কেবল ইহরামের সময়ই নাবী (সাঃ) থেকে ওভাবে মুখে নিয়ত উচ্চারণ করার কথা বর্ণিত আছে। অবশ্য তা প্রচলিত নাওয়াইতু আন........ বলে গদ বাধা নিয়মে নয়।
হাদিস নং: ১৫৪৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن نافع عن عبد الله بن عمر ان تلبية رسول الله صلى الله عليه وسلم لبيك اللهم لبيك لبيك لا شريك لك لبيك ان الحمد والنعمة لك والملك لا شريك لك
১৫৪৯. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর তালবিয়া নিম্নরূপঃ (অর্থ) আমি হাযির হে আল্লাহ, আমি হাযির, আমি হাযির; আপনার কোন অংশীদার নেই, আমি হাযির। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও সকল নি‘আমত আপনার এবং কর্তৃত্ব আপনারই, আপনার কোন অংশীদার নেই। (১৫৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৫৩)
হাদিস নং: ১৫৫০
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن يوسف حدثنا سفيان عن الاعمش عن عمارة عن ابي عطية عن عاىشة قالت اني لاعلم كيف كان النبي صلى الله عليه وسلم يلبي لبيك اللهم لبيك لبيك لا شريك لك لبيك ان الحمد والنعمة لك تابعه ابو معاوية عن الاعمش وقال شعبة اخبرنا سليمان سمعت خيثمة عن ابي عطية سمعت عاىشة
১৫৫০. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে তালবিয়া পাঠ করতেন তা আমি ভালরূপে অবগত (তাঁর তালবিয়া ছিল) আমি হাযির হে আল্লাহ! আমি হাযির, আমি হাযির, আপনার কোন অংশীদার নেই, আমি হাযির, সকল প্রশংসা ও সকল নিয়ামত আপনারই। আবূ মু‘আবিয়া (রহ.) ‘আমাশ (রহ.) হতে হাদীস বর্ণনায় সফিয়া (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। আবূ ‘আতিয়্যাহ (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে শুনেছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৫৪)
হাদিস নং: ১৫৫১
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل حدثنا وهيب حدثنا ايوب عن ابي قلابة عن انس قال صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن معه بالمدينة الظهر اربعا والعصر بذي الحليفة ركعتين ثم بات بها حتى اصبح ثم ركب حتى استوت به على البيداء حمد الله وسبح وكبر ثم اهل بحج وعمرة واهل الناس بهما فلما قدمنا امر الناس فحلوا حتى كان يوم التروية اهلوا بالحج قال ونحر النبي بدنات بيده قياما وذبح رسول الله صلى الله عليه وسلم بالمدينة كبشين املحين قال ابو عبد الله قال بعضهم هذا عن ايوب عن رجل عن انس
১৫৫১. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে মাদ্বীনায় যুহরের সালাত আদায় করেন চার রাক‘আত এবং যুল-হুলাইফায় (পৌঁছে) ‘আসরের সালাত আদায় করেন দু’ রাক‘আত। এরপর সেখানেই ভোর পর্যন্ত রাত কাটালেন। সকালে সওয়ারীতে আরোহণ করে বায়দা নামক স্থানে উপনীত হলেন। তখন তিনি আল্লাহ্র হামদ, তাসবীহ ও তাকবীর পাঠ করছিলেন। এরপর তিনি হাজ্জ ও ‘উমরাহ’র তালবিয়া পাঠ করলেন। সাহাবীগণ উভয়ের তালবিয়া পাঠ করলেন। যখন আমরা (মক্কার উপকন্ঠে) পৌঁছলাম তখন তিনি সাহাবীগণকে (‘উমরা শেষ করে) হালাল হওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং তাঁরা হালাল হয়ে গেলেন। অবশেষে যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখে তাঁরা হাজ্জের ইহরাম বাঁধলেন। রাবী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে কিছু সংখ্যক উট দাঁড়ানো অবস্থায় নহর (যবেহ) করলেন। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্য় সাদা কাল মিশ্রিত রঙ-এর দু’টি মেষ যবেহ করেছিলেন।
আবূ ‘আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) (রহ.) বলেন, কোন কোন রাবী হাদীসটি আইয়ূব (রহ.) সূত্রে জনৈক রাবীর মাধ্যমে আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন। (১০৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৫৫)
আবূ ‘আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) (রহ.) বলেন, কোন কোন রাবী হাদীসটি আইয়ূব (রহ.) সূত্রে জনৈক রাবীর মাধ্যমে আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন। (১০৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৫৫)
হাদিস নং: ১৫৫২
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو عاصم اخبرنا ابن جريج قال اخبرني صالح بن كيسان عن نافع عن ابن عمر قال اهل النبي صلى الله عليه وسلم حين استوت به راحلته قاىمة
১৫৫২. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে নিয়ে তাঁর সওয়ারী সোজা দাঁড়িয়ে গেলে তিনি তালবিয়া পাঠ করেন। (১৬৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৫৬)