হাদিস নং: ১৫৫৩
সহিহ (Sahih)
وقال ابو معمر حدثنا عبد الوارث حدثنا ايوب عن نافع قال كان ابن عمر اذا صلى بالغداة بذي الحليفة امر براحلته فرحلت ثم ركب فاذا استوت به استقبل القبلة قاىما ثم يلبي حتى يبلغ الحرم ثم يمسك حتى اذا جاء ذا طوى بات به حتى يصبح فاذا صلى الغداة اغتسل وزعم ان رسول الله صلى الله عليه وسلم فعل ذلك تابعه اسماعيل عن ايوب في الغسل
১৫৫৩. নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) যুল-হুলাইফায় ফজরের সালাত শেষ করে সওয়ারী প্রস্তুত করার নির্দেশ দিতেন, প্রস্তুত হলে আরোহণ করতেন। সওয়ারী তাঁকে নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলে তিনি সোজা কিবলামুখী হয়ে হারাম শরীফের সীমারেখায় পৌঁছা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করতে থাকতেন। এরপর বিরতি দিয়ে যূ-তুওয়া নামক স্থানে পৌঁছে ভোর পর্যন্ত রাত যাপন করতেন এবং অতঃপর ফজরের সালাত আদায় করে গোসল করতেন এবং বলতেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপই করে ছিলেন। ইসমা‘ঈল (রহ.) গোসল সম্পর্কিত বর্ণনায় আইয়ূব (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (১৫৫৪, ১৫৭৩, ১৫৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃকিতাবুল হাজ্জ অনুচ্ছেদ ২৯ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ পরিচ্ছেদ ৯৮৯)
হাদিস নং: ১৫৫৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا سليمان بن داود ابو الربيع حدثنا فليح عن نافع قال كان ابن عمر اذا اراد الخروج الى مكة ادهن بدهن ليس له راىحة طيبة ثم ياتي مسجد ذي الحليفة فيصلي ثم يركب واذا استوت به راحلته قاىمة احرم ثم قال هكذا رايت النبي صلى الله عليه وسلم يفعل
১৫৫৪. নাফি‘ (রহ.) বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) মক্কা গমনের ইচ্ছা করলে দেহে সুগন্ধিবিহীন তেল লাগাতেন। অতঃপর যুল-হুলাইফা’র মসজিদে পৌঁছে সালাত আদায় করে সওয়ারীতে আরোহণ করতেন। তাঁকে নিয়ে সওয়ারী সোজা দাঁড়িয়ে গেলে তিনি ইহরাম বাঁধতেন। এরপর তিনি [ইবনু ‘উমার (রা)] বলতেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এরূপ করতে দেখেছি। (১৫৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৫৭)
হাদিস নং: ১৫৫৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن المثنى قال حدثني ابن ابي عدي عن ابن عون عن مجاهد قال كنا عند ابن عباس فذكروا الدجال انه قال مكتوب بين عينيه كافر فقال ابن عباس لم اسمعه ولكنه قال اما موسى كاني انظر اليه اذ انحدر في الوادي يلبي
১৫৫৫. মুজাহিদ (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকটে ছিলাম, লোকেরা দাজ্জালের আলোচনা করে বলল যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তাঁর দু’ চোখের মাঝে (কপালে) কা-ফি-র লেখা থাকবে। রাবী বলেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে কিছু শুনিনি। অবশ্য তিনি বলেছেনঃ আমি যেন দেখছি মূসা (‘আ.) নীচু ভূমিতে অবতরণকালে তালবিয়া পাঠ করছিলেন। (৩৩৫৫, ৫৯১৩, মুসলিম ১/৭৩, হাঃ ১৬৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ১৪৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৫৮)
হাদিস নং: ১৫৫৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن مسلمة حدثنا مالك عن ابن شهاب عن عروة بن الزبير عن عاىشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت خرجنا مع النبي في حجة الوداع فاهللنا بعمرة ثم قال النبي من كان معه هدي فليهل بالحج مع العمرة ثم لا يحل حتى يحل منهما جميعا فقدمت مكة وانا حاىض ولم اطف بالبيت ولا بين الصفا والمروة فشكوت ذلك الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال انقضي راسك وامتشطي واهلي بالحج ودعي العمرة ففعلت فلما قضينا الحج ارسلني النبي صلى الله عليه وسلم مع عبد الرحمن بن ابي بكر الى التنعيم فاعتمرت فقال هذه مكان عمرتك قالت فطاف الذين كانوا اهلوا بالعمرة بالبيت وبين الصفا والمروة ثم حلوا ثم طافوا طوافا اخر بعد ان رجعوا من منى واما الذين جمعوا الحج والعمرة فانما طافوا طوافا واحدا
أَهَلَّ অর্থ تَكَلَّمَ بِهِ কথা বলা اسْتَهْلَلْنَا ও أَهْلَلْنَا الْهِلاَلَকথা বলা প্রকাশ পাওয়ার অর্থে ব্যবহৃত এবং اسْتَهَلَّ الْمَطَرُ অর্থ মেঘ হতে বৃষ্টি হওয়া(وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللهِ بِهِ) ‘‘যে পশু যহে করার সময় আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নাম উচ্চারণ করা হয়।’’ (আল-মায়িদাহঃ ৩) এ অর্থ اسْتِهْلاَلِ الصَّبِيِّ (সদ্যজাত শিশুর আওয়াজ) অর্থ হতে গৃহীত।
১৫৫৬. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বিদায় হাজ্জের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে বের হয়ে ‘উমরাহ’র নিয়্যাতে ইহরাম বাঁধি। নবী বললেনঃ যার সঙ্গে কুরবানীর পশু আছে সে যেন ‘উমরাহ’র সাথে হাজ্জের ইহরামও বেঁধে নেয়। অতঃপর সে ‘উমরাহ ও হাজ্জ উভয়টি সম্পন্ন না করা পর্যন্ত হালাল হতে পারবে না। [‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেন] এরপর আমি মক্কা্য় ঋতুমতী অবস্থায় পৌঁছলাম। কাজেই বায়তুল্লাহ তাওয়াফ ও সাফা মারওয়ার সা‘য়ী কোনটিই আদায় করতে সমর্থ হলাম না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আমার অসুবিধার কথা জানালে তিনি বললেনঃ মাথার চুল খুলে নাও এবং তা আঁচড়িয়ে নাও এবং হাজ্জের ইহরাম বহাল রাখ এবং ‘উমরাহ ছেড়ে দাও। আমি তাই করলাম, হাজ্জ সম্পন্ন করার পর আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ)-এর সঙ্গে তান‘ঈম-এ প্রেরণ করেন। [1] সেখান হতে আমি ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এ তোমার (ছেড়ে দেয়া) ‘উমরাহ’র স্থলবর্তী। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, যাঁরা ‘উমরাহ’র ইহরাম বেঁধেছিলেন, তাঁরা বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সা‘য়ী সমাপ্ত করে হালাল হয়ে যান এবং মিনা হতে ফিরে আসার পর দ্বিতীয়বার তাওয়াফ করেন আর যাঁরা হাজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়ের ইহরাম বেঁধেছিলেন তাঁরা একটি মাত্র তাওয়াফ করেন। (২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৫৯)
১৫৫৬. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বিদায় হাজ্জের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে বের হয়ে ‘উমরাহ’র নিয়্যাতে ইহরাম বাঁধি। নবী বললেনঃ যার সঙ্গে কুরবানীর পশু আছে সে যেন ‘উমরাহ’র সাথে হাজ্জের ইহরামও বেঁধে নেয়। অতঃপর সে ‘উমরাহ ও হাজ্জ উভয়টি সম্পন্ন না করা পর্যন্ত হালাল হতে পারবে না। [‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেন] এরপর আমি মক্কা্য় ঋতুমতী অবস্থায় পৌঁছলাম। কাজেই বায়তুল্লাহ তাওয়াফ ও সাফা মারওয়ার সা‘য়ী কোনটিই আদায় করতে সমর্থ হলাম না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আমার অসুবিধার কথা জানালে তিনি বললেনঃ মাথার চুল খুলে নাও এবং তা আঁচড়িয়ে নাও এবং হাজ্জের ইহরাম বহাল রাখ এবং ‘উমরাহ ছেড়ে দাও। আমি তাই করলাম, হাজ্জ সম্পন্ন করার পর আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ)-এর সঙ্গে তান‘ঈম-এ প্রেরণ করেন। [1] সেখান হতে আমি ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এ তোমার (ছেড়ে দেয়া) ‘উমরাহ’র স্থলবর্তী। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, যাঁরা ‘উমরাহ’র ইহরাম বেঁধেছিলেন, তাঁরা বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সা‘য়ী সমাপ্ত করে হালাল হয়ে যান এবং মিনা হতে ফিরে আসার পর দ্বিতীয়বার তাওয়াফ করেন আর যাঁরা হাজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়ের ইহরাম বেঁধেছিলেন তাঁরা একটি মাত্র তাওয়াফ করেন। (২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৫৯)
নোট: [1] আয়িশাহ (রাযি.) ‘উমরার জন্য ইহরাম বাঁধার পর ঋতুমতী হয়ে পড়লে রসূলুল্লাহ (সাঃ) তাকে গোসল করার নির্দেশ দেন এবং ‘উমরার ইহরাম ছেড়ে দিয়ে হাজ্জের ইহরাম বাঁধার আদেশ দেন। ফলে হাজ্জের পর পাক-সাফ অবস্থায় তিনি নাবী (সাঃ)-এর নিকট ঋতুর কারণে বাতিল হয়ে যাওয়া উমরার পরিবর্তে নতুনভাবে ‘উমরাহ করার অনুমতি প্রার্থনা করেন। ফলে নাবী (সাঃ) তাঁকে সেই অনুমতি প্রদান করেন। ‘‘হারাম’’ সীমায় থাকা অবস্থায় যে ব্যক্তি ‘উমরার ইরাদা করবে তাকে হারামের সীমার বাইরে গিয়ে ‘উমরার ইহরাম বাঁধতে হবে। এজন্য আয়িশাহ (রাযি.)-কে তানঈমে পাঠানো হয়েছিল। যা হারামের সীমানার বাইরে অবস্থিত।
হাদিস নং: ১৫৫৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا المكي بن ابراهيم عن ابن جريج قال عطاء قال جابر رضي الله عنه امر النبي صلى الله عليه وسلم عليا ان يقيم على احرامه وذكر قول سراقة وزاد محمد بن بكر عن ابن جريج قال له النبي صلى الله عليه وسلم بما اهللت يا علي قال بما اهل به النبي صلى الله عليه وسلم قال فاهد وامكث حراما كما انت
قَالَهُ ابْنُ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
ইবনু ‘উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ সম্পর্কিত হাদীস বর্ণনা করেছেন।
১৫৫৭. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী (রাঃ)-কে ইহরাম বহাল রাখার আদেশ দিলেন, এরপর জাবির (রাঃ) সুরাকাহ (রাঃ)-এর উক্তি বর্ণনা করেন। মুহাম্মাদ ইবনু বকর (রহ.) ইবনু জুরাইজ (রহ.) হতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী (রাঃ)-কে বললেনঃ হে ‘আলী! তুমি কোন্ প্রকার ইহরাম বেঁধেছ? ‘আলী (রাঃ) বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ইহরামের অনুরূপ। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে কুরবানীর পশু প্রেরণ কর এবং ইহরাম অবস্থায় যেভাবে আছ সেভাবেই থাক। (১৫৬৮, ১৫৭০, ১৬৫১, ১৭৮৫, ২৫০৬, ৪৩৫২, ৭২৩০, ৭৩৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৬০)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ সম্পর্কিত হাদীস বর্ণনা করেছেন।
১৫৫৭. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী (রাঃ)-কে ইহরাম বহাল রাখার আদেশ দিলেন, এরপর জাবির (রাঃ) সুরাকাহ (রাঃ)-এর উক্তি বর্ণনা করেন। মুহাম্মাদ ইবনু বকর (রহ.) ইবনু জুরাইজ (রহ.) হতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী (রাঃ)-কে বললেনঃ হে ‘আলী! তুমি কোন্ প্রকার ইহরাম বেঁধেছ? ‘আলী (রাঃ) বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ইহরামের অনুরূপ। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে কুরবানীর পশু প্রেরণ কর এবং ইহরাম অবস্থায় যেভাবে আছ সেভাবেই থাক। (১৫৬৮, ১৫৭০, ১৬৫১, ১৭৮৫, ২৫০৬, ৪৩৫২, ৭২৩০, ৭৩৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৬০)
হাদিস নং: ১৫৫৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا الحسن بن علي الخلال الهذلي حدثنا عبد الصمد حدثنا سليم بن حيان قال سمعت مروان الاصفر عن انس بن مالك قال قدم علي على النبي صلى الله عليه وسلم من اليمن فقال بما اهللت قال بما اهل به النبي صلى الله عليه وسلم فقال لولا ان معي الهدي لاحللت
১৫৫৮. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আলী (রাঃ) ইয়ামান হতে এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তুমি কী প্রকার ইহরাম বেঁধেছ? ‘আলী (রাঃ) বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অনুরূপ। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার সঙ্গে কুরবানীর পশু না থাকলে আমি হালাল হয়ে যেতাম। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৬১)
হাদিস নং: ১৫৫৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن يوسف حدثنا سفيان عن قيس بن مسلم عن طارق بن شهاب عن ابي موسى قال بعثني النبي صلى الله عليه وسلم الى قوم باليمن فجىت وهو بالبطحاء فقال بما اهللت قلت اهللت كاهلال النبي قال هل معك من هدي قلت لا فامرني فطفت بالبيت وبالصفا والمروة ثم امرني فاحللت فاتيت امراة من قومي فمشطتني او غسلت راسي فقدم عمر فقال ان ناخذ بكتاب الله فانه يامرنا بالتمام قال الله (واتموا الحج والعمرة لله) وان ناخذ بسنة النبي صلى الله عليه وسلم فانه لم يحل حتى نحر الهدي
১৫৫৯. আবূ মূসা (আশ‘আরী) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ইয়ামানে আমার গোত্রের নিকট পাঠিয়েছিলেন; তিনি (হাজ্জ-এর সফরে) বাত্হা নামক স্থানে অবস্থানকালে আমি (ফিরে এসে) তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি আমাকে বললেনঃ তুমি কোন্ প্রকার ইহরাম বেঁধেছ? আমি বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ইহরামের অনুরূপ আমি ইহরাম বেঁধেছি। তিনি বললেনঃ তোমার সঙ্গে কুরবানীর পশু আছে কি? আমি বললাম, নেই। তিনি আমাকে বায়তুল্লাহ-এর তাওয়াফ করতে আদেশ করলেন। আমি বায়তুল্লাহ-এর তাওয়াফ এবং সাফা ও মারওয়ার সা‘য়ী করলাম। পরে তিনি আদেশ করলে আমি হালাল হয়ে গেলাম। অতঃপর আমি আমার গোত্রীয় এক মহিলার নিকট আসলাম। সে আমার মাথা আঁচড়িয়ে দিল অথবা বলেছেন, আমার মাথা ধুয়ে দিল। এরপর ‘উমার (রাঃ) তাঁর খিফাফতকালে এক উপলক্ষে আসলেন। (আমরা তাঁকে বিষয়টি জানালে) তিনি বললেনঃ কুরআনের নির্দেশ পালন কর। কুরআন তো আমাদেরকে হাজ্জ ও ‘উমরাহ পৃথক পৃথকভাবে যথাসময়ে পূর্ণরূপে আদায় করার নির্দেশ দান করে। আল্লাহ বলেনঃ ‘‘তোমরা হাজ্জ ও ‘উমরাহ আল্লাহ’র উদ্দেশে পূর্ণ কর’’- (আল-বাকারাঃ ১৯৬)। আর যদি আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নাতকে অনুসরণ করি, তিনি তো কুরবানীর পশু যবেহ করার আগে হালাল হননি। (১৫৬৫, ১৭২৪, ১৭৯৫, ৪৩৪৬, ৪৩৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৬২)
হাদিস নং: ১৫৬০
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار قال حدثني ابو بكر الحنفي حدثنا افلح بن حميد سمعت القاسم بن محمد عن عاىشة قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في اشهر الحج وليالي الحج وحرم الحج فنزلنا بسرف قالت فخرج الى اصحابه فقال من لم يكن منكم معه هدي فاحب ان يجعلها عمرة فليفعل ومن كان معه الهدي فلا قالت فالاخذ بها والتارك لها من اصحابه قالت فاما رسول الله صلى الله عليه وسلم ورجال من اصحابه فكانوا اهل قوة وكان معهم الهدي فلم يقدروا على العمرة قالت فدخل علي رسول الله صلى الله عليه وسلم وانا ابكي فقال ما يبكيك يا هنتاه قلت سمعت قولك لاصحابك فمنعت العمرة قال وما شانك قلت لا اصلي قال فلا يضيرك انما انت امراة من بنات ادم كتب الله عليك ما كتب عليهن فكوني في حجتك فعسى الله ان يرزقكيها قالت فخرجنا في حجته حتى قدمنا منى فطهرت ثم خرجت من منى فافضت بالبيت قالت ثم خرجت معه في النفر الاخر حتى نزل المحصب ونزلنا معه فدعا عبد الرحمن بن ابي بكر فقال اخرج باختك من الحرم فلتهل بعمرة ثم افرغا ثم اىتيا ها هنا فاني انظركما حتى تاتياني قالت فخرجنا حتى اذا فرغت وفرغت من الطواف ثم جىته بسحر فقال هل فرغتم فقلت نعم فاذن بالرحيل في اصحابه فارتحل الناس فمر متوجها الى المدينة ضير من ضار يضير ضيرا ويقال ضار يضور ضورا وضر يضر ضرا
وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ أَشْهُرُ الْحَجِّ شَوَّالٌ وَذُو الْقَعْدَةِ وَعَشْرٌ مِنْ ذِي الْحَجَّةِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ مِنْ السُّنَّةِ أَنْ لاَ يُحْرِمَ بِالْحَجِّ إِلاَّ فِي أَشْهُرِ الْحَجِّ وَكَرِهَ عُثْمَانُ أَنْ يُحْرِمَ مِنْ خُرَاسَانَ أَوْ كَرْمَانَ
এবং তাঁর বাণীঃ ‘‘নতুন চাঁদ সম্পর্কে লোকেরা আপনাকে প্রশ্ন করে, বলুন, তা মানুষ এবং হাজ্জের জন্য সময় নির্দেশক’’- (আল-বাকারাঃ ১৮৯)।
ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, হাজ্জ-এর মাসগুলো হলঃ শাওয়াল, যিলক্বাদ এবং যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ সুন্নাত হল, হাজ্জের মাসগুলোতেই যেন হাজ্জের ইহরাম বাঁধা হয়। কিরমান ও খুরাসান হতে ইহরাম বেঁধে বের হওয়া ‘উসমান (রাঃ) অপছন্দ করেন।
১৫৬০. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাজ্জ-এর মাসে, হাজ্জ-এর দিনগুলোতে, হাজ্জ-এর মৌসুমে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে (হাজ্জে) বের হয়ে সারিফ নামক স্থানে আমরা অবতরণ করলাম।‘ আয়িশাহ (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণের নিকট বেরিয়ে ঘোষণা করলেনঃ যার সাথে কুরবানীর পশু নেই এবং যে এ ইহরাম ‘উমরাহ’র ইহরামে পরিণত করতে আগ্রহী, সে তা করতে পারবে। আর যার সাথে কুরবানীর পশু আছে সে তা পারবে না। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, কয়েকজন সাহাবী ‘উমরাহ করলেন, আর কয়েকজন তা করলেন না। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর কয়েকজন সাহাবী (দীর্ঘ ইহরাম রাখতে) সক্ষম ছিলেন এবং তাঁদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল। তাই তাঁরা (শুধু) ‘উমরাহ করতে (ও পরে হালাল হয়ে যেতে) সক্ষম হলেন না। তিনি আরো বলেন, আমি কাঁদছিলাম, এমন সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট উপস্থিত হয়ে বললেনঃ ওহে কাঁদছ কেন? আমি বললাম, আপনি সাহাবাদের যা বলেছেন, আমি তা শুনেছি, কিন্তু আমার পক্ষে ‘উমরাহ করা সম্ভব নয়। তিনি বললেনঃ তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম, আমি সালাত আদায় করতে পারছি না (আমি ঋতুমতী)। তিনি বললেনঃ এতে তোমার কোন ক্ষতি নেই, তুমি আদম-সন্তানের এক মহিলা। সকল নারীর জন্য আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন, তোমার জন্যেও তাই নির্ধারণ করেছেন। কাজেই তুমি হাজ্জ-এর ইহরাম অবস্থায় থাক। আল্লাহ তোমাকে ‘উমরাহ করার সুযোগও দিতে পারেন। তিনি বলেন, আমরা হাজ্জ-এর জন্য বের হয়ে মিনায় পৌঁছলাম। সে সময় আমি পবিত্র হলাম। পরে মিনা হতে ফিরে (বাইতুল্লাহ পৌঁছে) তাওয়াফে যিয়ারা আদায় করি। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে সর্বশেষ দলে বের হলাম। তিনি মুহাস্সাব নামক স্থানে অবতরণ করেন, আমি তাঁর সাথে অবতরণ করলাম। এখানে এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুর রাহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ)-কে ডেকে বললেনঃ তোমার বোন (‘আয়িশা)-কে নিয়ে হারাম সীমারেখা হতে বেরিয়ে যাও। সেখান হতে সে উমরার ইহরাম বেঁধে মক্কা হতে ‘উমরাহ সমাধা করলে তাকে নিয়ে এখানে ফিরে আসবে। আমি তোমাদের আগমণ পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকব। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমরা বের হয়ে গেলাম এবং আমি ও আমার ভাই তাওয়াফ সমাধা করে ফিরে এসে প্রভাত হওয়ার আগেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট পৌঁছে গেলাম। তিনি বললেনঃ কাজ সমাধা করেছ কি? আমি বললাম জী-হাঁ। তখন তিনি রওয়ানা হওয়ার ঘোষণা দিলেন। সকলেই মদিনার দিকে রওয়ানা করলেন।
ضَيْرِ শব্দটি ضَارَ-يَضِيرُ-ضَيْرًا (ক্ষতিকর) শব্দ হতে উদগত। এমনই ভাবে ضَارَ يَضُورُ ضَوْرًا,ضَرَّ يَضُرُّ-ضَرًّا- সমার্থবোধক। (২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৬৩)
এবং তাঁর বাণীঃ ‘‘নতুন চাঁদ সম্পর্কে লোকেরা আপনাকে প্রশ্ন করে, বলুন, তা মানুষ এবং হাজ্জের জন্য সময় নির্দেশক’’- (আল-বাকারাঃ ১৮৯)।
ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, হাজ্জ-এর মাসগুলো হলঃ শাওয়াল, যিলক্বাদ এবং যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ সুন্নাত হল, হাজ্জের মাসগুলোতেই যেন হাজ্জের ইহরাম বাঁধা হয়। কিরমান ও খুরাসান হতে ইহরাম বেঁধে বের হওয়া ‘উসমান (রাঃ) অপছন্দ করেন।
১৫৬০. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাজ্জ-এর মাসে, হাজ্জ-এর দিনগুলোতে, হাজ্জ-এর মৌসুমে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে (হাজ্জে) বের হয়ে সারিফ নামক স্থানে আমরা অবতরণ করলাম।‘ আয়িশাহ (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণের নিকট বেরিয়ে ঘোষণা করলেনঃ যার সাথে কুরবানীর পশু নেই এবং যে এ ইহরাম ‘উমরাহ’র ইহরামে পরিণত করতে আগ্রহী, সে তা করতে পারবে। আর যার সাথে কুরবানীর পশু আছে সে তা পারবে না। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, কয়েকজন সাহাবী ‘উমরাহ করলেন, আর কয়েকজন তা করলেন না। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর কয়েকজন সাহাবী (দীর্ঘ ইহরাম রাখতে) সক্ষম ছিলেন এবং তাঁদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল। তাই তাঁরা (শুধু) ‘উমরাহ করতে (ও পরে হালাল হয়ে যেতে) সক্ষম হলেন না। তিনি আরো বলেন, আমি কাঁদছিলাম, এমন সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট উপস্থিত হয়ে বললেনঃ ওহে কাঁদছ কেন? আমি বললাম, আপনি সাহাবাদের যা বলেছেন, আমি তা শুনেছি, কিন্তু আমার পক্ষে ‘উমরাহ করা সম্ভব নয়। তিনি বললেনঃ তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম, আমি সালাত আদায় করতে পারছি না (আমি ঋতুমতী)। তিনি বললেনঃ এতে তোমার কোন ক্ষতি নেই, তুমি আদম-সন্তানের এক মহিলা। সকল নারীর জন্য আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন, তোমার জন্যেও তাই নির্ধারণ করেছেন। কাজেই তুমি হাজ্জ-এর ইহরাম অবস্থায় থাক। আল্লাহ তোমাকে ‘উমরাহ করার সুযোগও দিতে পারেন। তিনি বলেন, আমরা হাজ্জ-এর জন্য বের হয়ে মিনায় পৌঁছলাম। সে সময় আমি পবিত্র হলাম। পরে মিনা হতে ফিরে (বাইতুল্লাহ পৌঁছে) তাওয়াফে যিয়ারা আদায় করি। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে সর্বশেষ দলে বের হলাম। তিনি মুহাস্সাব নামক স্থানে অবতরণ করেন, আমি তাঁর সাথে অবতরণ করলাম। এখানে এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুর রাহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ)-কে ডেকে বললেনঃ তোমার বোন (‘আয়িশা)-কে নিয়ে হারাম সীমারেখা হতে বেরিয়ে যাও। সেখান হতে সে উমরার ইহরাম বেঁধে মক্কা হতে ‘উমরাহ সমাধা করলে তাকে নিয়ে এখানে ফিরে আসবে। আমি তোমাদের আগমণ পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকব। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমরা বের হয়ে গেলাম এবং আমি ও আমার ভাই তাওয়াফ সমাধা করে ফিরে এসে প্রভাত হওয়ার আগেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট পৌঁছে গেলাম। তিনি বললেনঃ কাজ সমাধা করেছ কি? আমি বললাম জী-হাঁ। তখন তিনি রওয়ানা হওয়ার ঘোষণা দিলেন। সকলেই মদিনার দিকে রওয়ানা করলেন।
ضَيْرِ শব্দটি ضَارَ-يَضِيرُ-ضَيْرًا (ক্ষতিকর) শব্দ হতে উদগত। এমনই ভাবে ضَارَ يَضُورُ ضَوْرًا,ضَرَّ يَضُرُّ-ضَرًّا- সমার্থবোধক। (২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৬৩)
হাদিস নং: ১৫৬১
সহিহ (Sahih)
حدثنا عثمان حدثنا جرير عن منصور عن ابراهيم عن الاسود عن عاىشة خرجنا مع النبي ولا نرى الا انه الحج فلما قدمنا تطوفنا بالبيت فامر النبي صلى الله عليه وسلم من لم يكن ساق الهدي ان يحل فحل من لم يكن ساق الهدي ونساوه لم يسقن فاحللن قالت عاىشة فحضت فلم اطف بالبيت فلما كانت ليلة الحصبة قالت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم يرجع الناس بعمرة وحجة وارجع انا بحجة قال وما طفت ليالي قدمنا مكة قلت لا قال فاذهبي مع اخيك الى التنعيم فاهلي بعمرة ثم موعدك كذا وكذا قالت صفية ما اراني الا حابستهم قال عقرى حلقى او ما طفت يوم النحر قالت قلت بلى قال لا باس انفري قالت عاىشة فلقيني النبي صلى الله عليه وسلم وهو مصعد من مكة وانا منهبطة عليها او انا مصعدة وهو منهبط منها
১৫৬১. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে বের হলাম এবং একে হাজ্জের সফর বলেই আমরা জানতাম। আমরা যখন (মক্কা্য়) পৌঁছে বাইতুল্লাহ-এর তাওয়াফ করলাম তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলেনঃ যারা কুরবানীর পশু সঙ্গে নিয়ে আসেনি তারা যেন ইহরাম ছেড়ে দেয়। তাই যিনি কুরবানীর পশু সঙ্গে আনেননি তিনি ইহরাম ছেড়ে দেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণীগণ তাঁরা ইহরাম ছেড়ে দিলেন। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমি ঋতুমতী হয়েছিলাম বিধায় বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে পারিনি। (ফিরতি পথে) মুহাসসাব নামক স্থানে রাত যাপনকালে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সকলেই ‘উমরাহ ও হাজ্জ উভয়টি সমাধা করে ফিরছে আর আমি কেবল হাজ্জ করে ফিরছি। তিনি বললেনঃ আমরা মক্কা পৌঁছলে তুমি কি সে দিনগুলোতে তওয়াফ করনি? আমি বললাম, জী-না। তিনি বললেন, তোমার ভাই-এর সাথে তান্‘ঈম চলে যাও, সেখান হতে ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধবে। অতঃপর অমুক স্থানে তোমার সাথে সাক্ষাৎ ঘটবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কী বললে! তুমি কি কুরবানীর দিনগুলোতে তাওয়াফ করনি! আমি বললাম, হাঁ করেছি। তিনি বললেনঃ তবে কোন অসুবিধা নেই, তুমি চল। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে এমতাবস্থায় আমার সাক্ষাৎ হলো যখন তিনি মক্কা ছেড়ে উপরের দিকে উঠছিলেন, আর আমি মক্কার দিকে অবতরণ করছি। অথবা ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমি উঠছি ও তিনি অবতরণ করছেন। (২৯৪, মুসলিম ১৫/১৭, হাঃ ১২১১, আহমাদ ২৬২২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৬৪)
হাদিস নং: ১৫৬২
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن ابي الاسود محمد بن عبد الرحمن بن نوفل عن عروة بن الزبير عن عاىشة انها قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم عام حجة الوداع فمنا من اهل بعمرة ومنا من اهل بحجة وعمرة ومنا من اهل بالحج واهل رسول الله صلى الله عليه وسلم بالحج فاما من اهل بالحج او جمع الحج والعمرة لم يحلوا حتى كان يوم النحر
১৫৬২. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাজ্জ্বাতুল বিদার বছর আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে বের হই। আমাদের মধ্যে কেউ কেবল ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধলেন, আর কেউ হাজ্জ ও ‘উমষ্মাহ! উভয়টির ইহরাম বাঁধলেন। আর কেউ শুধু হাজ্জ-এর ইহরাম বাঁধলেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধলেন। যারা কেবল হাজ্জ বা এক সঙ্গে হাজ্জ ও ‘উমরাহ’র ইহরাম বেঁধেছিলেন তাদের একজনও কুরবানী দিনের পূর্বে ইহরাম খোলেননি। (২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৬৫)
হাদিস নং: ১৫৬৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة عن الحكم عن علي بن حسين عن مروان بن الحكم قال شهدت عثمان وعليا وعثمان ينهى عن المتعة وان يجمع بينهما فلما راى علي اهل بهما لبيك بعمرة وحجة قال ما كنت لادع سنة النبي صلى الله عليه وسلم لقول احد
১৫৬৩. মারওয়ান ইবনু হাকাম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উসমান ও ‘আলী (রাঃ)-কে (উসফান নামক স্থানে) দেখেছি, ‘উসমান (রাঃ) তামাত্তু‘, হাজ্জ ও ‘উমরাহ একত্রে আদায় করতে নিষেধ করতেন। ‘আলী (রাঃ) এ অবস্থা দেখে হাজ্জ ও ‘উমরাহ’র ইহরাম একত্রে বেঁধে তালবিয়া পাঠ করেন- لَبَّيْكَ بِعُمْرَةٍ وَحَجَّةٍ (হে আল্লাহ! আমি ‘উমরাহ ও হাজ্জ-এর ইহরাম বেঁধে হাযির হলাম) এবং বললেন, কারো কথায় আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নাত বর্জন করতে পারব না। (১৫৬৯, মুসলিম ১৫/২৩, হাঃ ১২২৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৬৬)
হাদিস নং: ১৫৬৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل حدثنا وهيب حدثنا ابن طاوس عن ابيه عن ابن عباس قال كانوا يرون ان العمرة في اشهر الحج من افجر الفجور في الارض ويجعلون المحرم صفرا ويقولون اذا برا الدبر وعفا الاثر وانسلخ صفر حلت العمرة لمن اعتمر قدم النبي صلى الله عليه وسلم واصحابه صبيحة رابعة مهلين بالحج فامرهم ان يجعلوها عمرة فتعاظم ذلك عندهم فقالوا يا رسول الله صلى الله عليه وسلم اي الحل قال حل كله
১৫৬৪. ‘ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা হাজ্জ-এর মাসগুলোতে ‘উমরাহ করাকে দুনিয়ার সবচেয়ে ঘৃণ্য পাপের কাজ বলে মনে করত। তারা মুহাররম মাসের স্থলে সফর মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ মনে করত। তারা বলত, উটের পিঠের যখম ভাল হলে, রাস্তার মুসাফিরের পদচিহ্ন মুছে গেলে এবং সফর মাস অতিক্রান্ত হলে ‘উমরাহ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি ‘উমরাহ করতে পারবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ হাজ্জ-এর ইহরাম বেঁধে (যিলহাজ্জ মাসের) চার তারিখ সকালে (মক্কা্য়) উপনীত হন। তখন তিনি তাঁদের এ ইহরামকে ‘উমরাহ’র ইহরামে পরিণত করার নির্দেশ দেন। সকলের কাছেই এ নির্দেশটি গুরুতর বলে মনে হলো (‘উমরাহ শেষ করে) তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য কী কী জিনিস হালাল? তিনি বললেনঃ সবকিছু হালাল (ইহরামের পূর্বে যা হালাল ছিল তার সব কিছু এখন হালাল)। (১০৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৬৭)
হাদিস নং: ১৫৬৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن المثنى حدثنا غندر حدثنا شعبة عن قيس بن مسلم عن طارق بن شهاب عن ابي موسى قال قدمت على النبي صلى الله عليه وسلم فامره بالحل
১৫৬৫. আবু মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি আমাকে (ইহরাম ভঙ্গ করে) হালাল হয়ে যাওয়ার আদেশ দিলেন। (১৫৫৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৬৮)
হাদিস নং: ১৫৬৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل قال حدثني مالك ح و حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن نافع عن ابن عمر عن حفصة زوج النبي صلى الله عليه وسلم انها قالت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ما شان الناس حلوا بعمرة ولم تحلل انت من عمرتك قال اني لبدت راسي وقلدت هديي فلا احل حتى انحر
১৫৬৬. নবী সহধর্মিণী হাফসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! লোকদের কী হল, তারা ‘উমরাহ শেষ করে হালাল হয়ে গেল, অথচ আপনি ‘উমরাহ হতে হালাল হচ্ছেন না? তিনি বললেনঃ আমি মাথায় আঠালো বস্তু লাগিয়েছি এবং কুরবানীর জানোয়ারের গলায় মালা ঝুলিয়েছি। কাজেই কুরবানী করার পূর্বে হালাল হতে পারি না। (১৬৯৭, ১৭২৫, ৪৩৯৭, ৫৯১৬, মুসলিম ১৫/২৫, হাঃ ১২২৯, আহমাদ ২৬৪৮৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৬৯)
হাদিস নং: ১৫৬৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا ادم حدثنا شعبة اخبرنا ابو جمرة نصر بن عمران الضبعي قال تمتعت فنهاني ناس فسالت ابن عباس فامرني فرايت في المنام كان رجلا يقول لي حج مبرور وعمرة متقبلة فاخبرت ابن عباس فقال سنة النبي صلى الله عليه وسلم فقال لي اقم عندي فاجعل لك سهما من مالي قال شعبة فقلت لم فقال للرويا التي رايت
১৫৬৭. আবূ জামরাহ নাসর ইবনু ‘ইমরান যুবা‘য়ী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তামাত্তু‘ হাজ্জ করতে ইচ্ছা করলে কিছু লোক আমাকে নিষেধ করল। আমি তখন ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞেস করলে তিনি তা করতে আমাকে নির্দেশ দেন। এরপর আমি স্বপ্নে দেখলাম, যেন এক ব্যক্তি আমাকে বলছে, উত্তম হাজ্জ ও মাকবূল ‘উমরাহ। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট স্বপ্নটি বললাম। তিনি বললেন, তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নাত। এরপর আমাকে বললেন, তুমি আমার কাছে থাক, তোমাকে আমার মালের কিছু অংশ দিব। রাবী শু‘বাহ্ (রহ.) বলেন, আমি (আবূ জামরাকে) বললাম, তা কেন? তিনি বললেন, আমি যে স্বপ্ন দেখেছি সে জন্য। (১৬৮৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৭০)
হাদিস নং: ১৫৬৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو نعيم حدثنا ابو شهاب قال قدمت متمتعا مكة بعمرة فدخلنا قبل التروية بثلاثة ايام فقال لي اناس من اهل مكة تصير الان حجتك مكية فدخلت على عطاء استفتيه فقال حدثني جابر بن عبد الله انه حج مع النبي صلى الله عليه وسلم يوم ساق البدن معه وقد اهلوا بالحج مفردا فقال لهم احلوا من احرامكم بطواف البيت وبين الصفا والمروة وقصروا ثم اقيموا حلالا حتى اذا كان يوم التروية فاهلوا بالحج واجعلوا التي قدمتم بها متعة فقالوا كيف نجعلها متعة وقد سمينا الحج فقال افعلوا ما امرتكم فلولا اني سقت الهدي لفعلت مثل الذي امرتكم ولكن لا يحل مني حرام حتى يبلغ الهدي محله ففعلوا قال ابو عبد الله ابو شهاب ليس له مسند الا هذا
১৫৬৮. আবূ শিহাব (রহ.) হতে বর্ণনা করে বলেন, আমি ‘উমরাহ’র ইহরাম বেঁধে হাজ্জে তামাত্তু‘র নিয়্যতে তারবিয়্যাহ দিবস (আট তারিখ)-এর তিন দিন পূর্বে মক্কা্য় প্রবেশ করলাম, মক্কা্বাসী কিছু লোক আমাকে বললেন, এখন তোমার হাজ্জের কাজ মক্কা্ হতে শুরু হবে। আমি বিষয়টি জানার জন্য ‘আত্বা (রহ.)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি বললেন, জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) আমাকে বলেছেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর উট সঙ্গে নিয়ে হাজ্জে আসেন তখন তিনি তাঁর সঙ্গে ছিলেন। সাহাবীগণ ইফরাদ হাজ্জ-এর নিয়্যাতে শুধু হাজ্জের ইহরাম বাঁধেন। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কা্য় পৌঁছে) তাদেরকে বললেনঃ বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সা‘ঈ সমাধা করে তোমরা ইহরাম ভঙ্গ করে হালাল হয়ে যাও এবং চুল ছোট কর। এরপর হালাল অবস্থায় থাক। যখন যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখ হবে তখন তোমরা হাজ্জ-এর ইহরাম বেঁধে নিবে, আর যে ইহরাম বেঁধে এসেছ তা তামাত্তু‘ হাজ্জের ‘উমরাহ বানিয়ে নিবে। সাহাবীগণ বললেন, এ ইহরামকে আমরা কিরূপে ‘উমরাহ’র ইহরাম বানাব? আমরা হাজ্জ-এর নাম নিয়ে ইহরাম বেঁধেছি। তখন তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে যা আদেশ করছি তাই কর। কুরবানীর পশু সঙ্গে নিয়ে না আসলে তোমাদেরকে যা করতে বলছি, আমিও সেরূপ করতাম। কিন্তু কুরবানী করার পূর্বে (ইহরামের কারণে) নিষিদ্ধ কাজ (আমার জন্য) হালাল নয়। সাহাবীগণ সেরূপ পশু যবহ করলেন। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (ইমাম বুখারী) (রহ.) বলেন, আবূ শিহাব (রহ.) হতে মারফূ‘ বর্ণনা মাত্র এই একটিই পাওয়া যায়। (১৫৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৭১)
হাদিস নং: ১৫৬৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا حجاج بن محمد الاعور عن شعبة عن عمرو بن مرة عن سعيد بن المسيب قال اختلف علي وعثمان وهما بعسفان في المتعة فقال علي ما تريد الا ان تنهى عن امر فعله النبي صلى الله عليه وسلم فلما راى ذلك علي اهل بهما جميعا
১৫৬৯. সা‘ঈদ ইবনু মুসায়্যাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উসমান নামক স্থানে অবস্থানকালে ‘আলী ও ‘উস্মান (রাঃ)-এর মধ্যে হাজ্জে তামাত্তু‘ করা সম্পর্কে পরস্পরে দ্বিমত সৃষ্টি হয়। ‘আলী (রাঃ) ‘উসমান (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কাজ করেছেন, আপনি কি তা হতে বারণ করতে চান? ‘উসমান (রাঃ) বললেন, আমাকে আমার অবস্থায় থাকতে দিন। ‘আলী (রাঃ) এ অবস্থা দেখে হাজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়ের ইহরাম বাঁধেন। (১৫৬৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৭২)
হাদিস নং: ১৫৭০
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا حماد بن زيد عن ايوب قال سمعت مجاهدا يقول حدثنا جابر بن عبد الله قال قدمنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن نقول لبيك اللهم لبيك بالحج فامرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فجعلناها عمرة
১৫৭০. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে আমরা হাজ্জের তালবিয়া পাঠ করতে করতে (মক্কা্য়) উপনীত হলাম। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিলেন, আমরা হাজ্জকে ‘উমরাহ’তে পরিণত করলাম। (১৫৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৭৩)
হাদিস নং: ১৫৭১
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل حدثنا همام عن قتادة قال حدثني مطرف عن عمران قال تمتعنا على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فنزل القران قال رجل برايه ما شاء
১৫৭১. ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে হাজ্জে তামাত্তু‘ করেছি, কুরআনেও তার বিধান নাযিল হয়েছে অথচ এক ব্যক্তি তার ইচ্ছামত অভিমত ব্যক্ত করেছেন। (৪৫১৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৭৪)
হাদিস নং: ১৫৭২
সহিহ (Sahih)
وقال ابو كامل فضيل بن حسين البصري حدثنا ابو معشر البراء حدثنا عثمان بن غياث عن عكرمة عن ابن عباس انه سىل عن متعة الحج فقال اهل المهاجرون والانصار وازواج النبي صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع واهللنا فلما قدمنا مكة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اجعلوا اهلالكم بالحج عمرة الا من قلد الهدي فطفنا بالبيت وبالصفا والمروة واتينا النساء ولبسنا الثياب وقال من قلد الهدي فانه لا يحل له (حتى يبلغ الهدي محله) ثم امرنا عشية التروية ان نهل بالحج فاذا فرغنا من المناسك جىنا فطفنا بالبيت وبالصفا والمروة فقد تم حجنا وعلينا الهدي كما قال الله تعالى (فما استيسر من الهدي فمن لم يجد فصيام ثلاثة ايام في الحج وسبعة اذا رجعتم) الى امصاركم الشاة تجزي فجمعوا نسكين في عام بين الحج والعمرة فان الله تعالى انزله في كتابه وسنه نبيه واباحه للناس غير اهل مكة قال الله (ذلك لمن لم يكن اهله حاضري المسجد الحرام) واشهر الحج التي ذكر الله تعالى في كتابه شوال وذو القعدة وذو الحجة فمن تمتع في هذه الاشهر فعليه دم او صوم والرفث الجماع والفسوق المعاصي والجدال المراء
১৫৭২. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, হাজ্জে তামাত্তু‘ সম্পর্কে তাঁর নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বললেন, বিদায় হাজ্জের বছর আনসার ও মুহাজির সাহাবীগণ, নবী-সহধর্মিণীগণ ইহরাম বাঁধলেন, আর আমরাও ইহরাম বাঁধলাম। আমরা মক্কা্য় পৌঁছলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা হাজ্জ-এর ইহরামকে ‘উমরায় পরিণত কর। তবে যারা কুরবানীর পশুর গলায় মালা ঝুলিয়েছে, তাদের কথা ব্যতিক্রম (তারা ইহরাম ভঙ্গ করতে পারবে না)। আমরা বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা মারওয়ার সা‘য়ী করলাম। এরপর স্ত্রী-সহবাস করলাম এবং কাপড়-চোপড় পরিধান করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে ব্যক্তি কুরবানীর জন্য উপস্থিত করার উদ্দেশে পশুর গলায় মালা ঝুলিয়েছে, পশু কুরবানীর স্থানে না পৌঁছা পর্যন্ত সে হালাল হতে পারে না। এরপর যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখ বিকালে আমাদেরকে হাজ্জ-এর ইহরাম বাঁধার নির্দেশ দেন। যখন আমরা হাজ্জ-এর সকল কার্য শেষ করে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়া সা‘য়ী করে অবসর হলাম, তখন আমাদের হাজ্জ পূর্ণ হল এবং আমাদের উপর কুরবানী করা ওয়াজিব হলো। যেমন মহান আল্লাহ ইরশাদ করেনঃ ‘‘যার পক্ষে সম্ভব সে একটি কুরবানী করবে, আর যার পক্ষে সম্ভব নয় সে হাজ্জ চলাকালে তিনটি সওম পালন করবে এবং ফিরে এসে সাত দিন সওম পালন করবে অর্থাৎ নিজ দেশে ফিরে’’- (আল-বাকারাঃ ১৯৬)। একটি বকরীই দম হিসেবে কুরবানীর জন্য যথেষ্ট। একই বছরে সাহাবীগণ হাজ্জ ও ‘উমরাহ একসাথে আদায় করলেন। আল্লাহ তাঁর কুরআনে এ বিধান নাযিল করেছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ তরীকা জারী করেছেন আর মক্কা্বাসী ব্যতীত অন্যদের জন্য তা বৈধ করেছেন। আল্লাহ ইরশাদ করেনঃ ‘‘(হাজ্জে তামাত্তু‘) তাদের জন্য, যাদের পরিবার-পরিজন মসজিদে হারামের (হারামের সীমার) মধ্যে বাস করে না’’- (আল-বাকারাঃ ১৯৬)। আল্লাহ তাঁর কুরআনে হাজ্জের যে মাসগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন তা হলো ঃ শাওয়াল, যিলক্বাদ ও যিলহাজ্জ। যারা এ মাসগুলোতে তামাত্তু‘ হাজ্জ করবে তাদের অবশ্য দম দিতে হবে অথবা সওম পালন করতে হবে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ ৩৭ এর শেষাংশ)
الرَّفَثُ অর্থ স্ত্রী সহবাস, الْفُسُوقُ অর্থ গুনাহ, الْجِدَالُ অর্থ বিবাদ। (আধুনিক প্রকাশনীঃ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ পরিচ্ছেদ ৯৯৭)
الرَّفَثُ অর্থ স্ত্রী সহবাস, الْفُسُوقُ অর্থ গুনাহ, الْجِدَالُ অর্থ বিবাদ। (আধুনিক প্রকাশনীঃ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ পরিচ্ছেদ ৯৯৭)