অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৬৫/১/১. সূরাতুল ফাতিহা (ফাতিহাতুল কিতাব) প্রসঙ্গে।
মোট ৫০৪ টি হাদিস
হাদিস নং: ৪৭৭৪ সহিহ (Sahih)
محمد بن كثير حدثنا سفيان حدثنا منصور والاعمش عن ابي الضحى عن مسروق قال بينما رجل يحدث في كندة فقال يجيء دخان يوم القيامة فياخذ باسماع المنافقين وابصارهم و ياخذ المومن كهيىة الزكام ففزعنا فاتيت ابن مسعود وكان متكىا فغضب فجلس فقال من علم فليقل ومن لم يعلم فليقل الله اعلم فان من العلم ان يقول لما لا يعلم لا اعلم فان الله قال لنبيه صلى الله عليه وسلم قل مآ اسالكم عليه من اجر ومآ انا من المتكلفين) وان قريشا ابطىوا عن الاسلام فدعا عليهم النبي صلى الله عليه وسلم فقال اللهم اعني عليهم بسبع كسبع يوسف فاخذتهم سنة حتى هلكوا فيها واكلوا الميتة والعظام ويرى الرجل ما بين السماء والارض كهيىة الدخان فجاءه ابو سفيان فقال يا محمد جىت تامرنا بصلة الرحم وان قومك قد هلكوا فادع الله فقرا (فارتقب يوم تاتي السمآء بدخان مبين) الى قوله (عاىدون) افيكشف عنهم عذاب الاخرة اذا جاء ثم عادوا الى كفرهم فذلك قوله تعالى (يوم نبطش البطشة الكبرى) يوم بدر و (لزاما) يوم بدر (الم غلبت الروم) الى (سيغلبون) والروم قد مضى.
(29) سُوْرَةُ الْعَنْكَبُوْتِ

সূরাহ (২৯) : আনকাবূত

قَالَ مُجَاهِدٌ (وَكَانُوْا مُسْتَبْصِرِيْنَ) ضَلَلَةً وَقَالَ غَيْرُهُ (الْحَيَوَانُ) وَالْحَيُّ وَاحِدٌ (فَلَيَعْلَمَنَّاللهُ) عَلِمَ اللهُ ذَلِكَ إِنَّمَا هِيَ بِمَنْزِلَةِ فَلِيَمِيْزَ اللهُ كَقَوْلِهِ (لِيَمِيْزَ اللهُ الْخَبِيْثَ مِنَ الطَّيِّبِ أَثْقَالًا مَّعَ أَثْقَالِهِمْ) أَوْزَارًا مَعَ أَوْزَارِهِمْ.

মুজাহিদ বলেছেন, وَكَانُوْا مُسْتَبْصِرِيْنَ অর্থাৎ পথহারা। অন্যরা বলেছেন, الْحَيَوَانُ এবং الْحَيُّ শব্দ দু’টি একই।فَلَيَعْلَمَنَّ اللهُ আল্লাহ্ আগে থেকেই তা জানতেন। এখানে ব্যবহৃত হয়েছে فَلِيَمِيْزَاللهُ (যেন আল্লাহ্ তা’আলা চিহ্নিত করেন)-এর অর্থে। যেমন, আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃلِيَمِيْزَ اللهُ الْخَبِيْثَ مِنَالطَّيِّبِ أَثْقَالًا مَّعَ أَثْقَالِهِمْ (যেন আল্লাহ্ তা’আলা খবীছকে ভাল থেকে পৃথক করেন) অর্থাৎ তাদের অপরাধের সঙ্গে।

(30) سُوْرَةُ الرُّوْمِ

সূরাহ (৩০) : রূম (আলিফ-লাম-মীম গুলিবাতির)

(فَلَا يَرْبُو) مَنْ أَعْطَى عَطِيَّةً يَبْتَغِيْ أَفْضَلَ، فَلَا أَجْرَ لَهُ فِيْهَا قَالَ مُجَاهِدٌ (يُحْبَرُوْنَ) يُنَعَّمُوْنَ (يَمْهَدُوْنَ) يُسَوُّوْنَ الْمَضَاجِعَ (الْوَدْقُ) الْمَطَرُ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (هَلْ لَّكُمْ مِمَّا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ)فِي الآلِهَةِ وَفِيْهِ (تَخَافُوْنَهُمْ) أَنْ يَرِثُوْكُمْ كَمَا يَرِثُ بَعْضُكُمْ بَعْضًا (يَصَّدَّعُوْنَ) يَتَفَرَّقُوْنَ فَاصْدَعْ وَقَالَ غَيْرُهُ (ضُعْفٌ) وَضَعْفٌ لُغَتَانِ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (السُّوأَى) الإِسَاءَةُ جَزَاءُ الْمُسِيئِيْنَ.

فَلَا يَرْبُوْ অর্থাৎ যে এ আশায় দান করে যে, এর চেয়ে উত্তম বিনিময় পাবে, এতে কোন সওয়াব নেই। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, يُحْبَرُوْنَ তারা নিয়ামত প্রাপ্ত হবে। يَمْهَدُوْنَ তাদের আরাম আয়েশের জায়গা প্রস্তুত করবে। الْوَدْقُ বৃষ্টি। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, هَلْ لَّكُمْ مِمَّا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ এ আয়াত ইলাহ সম্পর্কে। تَخَافُوْنَهُمْ তোমরা কি পছন্দ কর যে, তোমাদের দাস-দাসী তোমাদের অংশীদার হোক, যেমন তোমরা পরস্পরের উত্তরাধিকার হও। يَصَّدَّعُوْنَ পৃথক পৃথক হয়ে যাবে। فَاصْدَعْস্পষ্ট বর্ণনা কর। ইবনু ’আব্বাস ব্যতীত অন্যে বলেন, ضُعْفٌ এবং ضَعْفٌ উভয়ের অর্থ একই। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, السُّوأَى অপরাধীকে যথাযোগ্য শাস্তি দেয়া।


৪৭৭৪. মাসরূক (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি কিন্দাবাসীদের সামনে বলছিল, কিয়ামতের দিন ধোঁয়া আসবে এবং মুনাফিকদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে দেবে। আর মু’মিনের কাছে মনে হবে সর্দি লেগে থাকা অবস্থার ন্যায়। এ কথা শুনে আমরা ভীত হয়ে গেলাম। এরপর আমি ইবনু মাস’উদ (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। তখন তিনি তাকিয়ায় হেলান দিয়ে বসেছিলেন। এ সব কথা শুনে তিনি রাগান্বিত হয়ে উঠে বসলেন এবং বললেন, যার জানা আছে সেও যেন তা বলে, আর যে না জানে সে যেন বলে, আল্লাহ্ তা’আলাই ভাল জানেন। জ্ঞানের মধ্যে এটাও একটা জ্ঞান যে, যার যে বিষয় জানা নেই সে বলবে ’’আমি এ বিষয়ে জানি না।’’ আল্লাহ্ তা’আলা নবীকে বলেছেন, হে নবী! আপনি বলুন, ’’আমি আল্লাহর দ্বীনের দিকে ডাকার জন্য তোমাদের নিকট কোন পারিশ্রমিক চাই না এবং যারা মিথ্যা দাবী করে আমি তাদের মধ্যে নই।

কুরায়শগণ ইসলাম গ্রহণে দেরী করতে লাগল, সুতরাং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য এই বলে বদদু’আ করলেন। ’’হে আল্লাহ্! আপনি তাদের উপর ইউসুফ (আঃ)-এর মত সাত বছর (দুর্ভিক্ষ) দিয়ে আমাকে সাহায্য করুন।’’ তারপর তারা এমন ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে পতিত হলো যে, তারা তাতে ধ্বংস হয়ে গেল এবং মরা জন্তু ও তার হাড় খেতে বাধ্য হলো। তারা (দুর্ভিক্ষের কারণে) আকাশও পৃথিবীর মধ্যস্থলে ধোঁয়ার মত দেখতে পেল। তারপর আবূ সুফ্ইয়ান তাঁর কাছে এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! তুমি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার আদেশ দিচ্ছ, অথচ তোমার গোত্রের লোকেরা এখন ধ্বংস হয়ে গেল। সুতরাং আমাদের (এ দুর্ভিক্ষ থেকে) বাঁচার জন্য দু’আ কর।

তখন তিনি এ আয়াত পাঠ করলেন فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَآءُ بِدُخَانٍ مُّبِيْنٍ إِلَى قَوْلِهِعَآئِدُوْنَ ’’অতএব, তুমি অপেক্ষা কর সেদিনের, যেদিন স্পষ্ট ধূম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ..... তোমরা তো তোমাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে।’’ অবশেষে দুর্ভিক্ষের অবসান ঘটল কিন্তু তারা কুফরীর দিকে ফিরে গেল। তখন আল্লাহ্ তা’আলা এদের ব্যাপারেই অবতীর্ণ করলেন, যেদিন আমি তোমাদের শক্তভাবে পাকড়াও করব। الْبَطْشَةَ এবং لِزَامًا দ্বারা বদরের যুদ্ধ বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ আলিফ, লাম, মীম। রোমানরা পরাজিত হয়েছে। ..... এবং পরাজয়ের পর শীঘ্রই বিজয়ী হবে। রোমানদের ঘটনা অতিক্রান্ত হয়েছে। [১০০৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪১২)
হাদিস নং: ৪৭৭৫ সহিহ (Sahih)
عبدان اخبرنا عبد الله اخبرنا يونس عن الزهري قال اخبرني ابو سلمة بن عبد الرحمن ان ابا هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما من مولود الا يولد على الفطرة فابواه يهودانه او ينصرانه او يمجسانه كما تنتج البهيمة بهيمة جمعاء هل تحسون فيها من جدعاء ثم يقول (فطرة الله التي فطر الناس عليها لا تبديل لخلق الله ذلك الدين القيم).
(لَا تَبْدِيْلَ لِخَلْقِ اللهِ) لِدِيْنِ اللهِ (خُلُقُ الْأَوَّلِيْنَ) دِيْنُ الْأَوَّلِيْنَ وَالْفِطْرَةُ الإِسْلَامُ.

আল্লাহর সৃষ্টির কোনই পরিবর্তন নেই। (সূরাহ রূম ৩০/৩০)

خَلْقِ اللهِ (আল্লাহর সৃষ্টি) এর অর্থ-আল্লাহর দ্বীন। যেমন خُلُقُ الْأَوَّلِيْنَ অর্থাৎ دِيْنُ الْأَوَّلِيْنَ পূর্ববর্তীদের দ্বীন। فِطْرَةُ ইসলাম।


৪৭৭৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সকল মানব শিশুরই ফিতরাত (ইসলাম)-এর ওপর জন্ম হয়। তারপর তার পিতা ও মাতা তাকে ইয়াহূদী, নাসারা অথবা অগ্নি উপাসক করে ফেলে। যেমন জানোয়ার পূর্ণ বাচ্চার জন্ম দেয়। তোমরা কি তার মধ্যে কোন ত্রুটি পাও? পরে তিনি এ আয়াত পাঠ করলেন। (আল্লাহর প্রকৃতির অনুসরণ কর) যে প্রকৃতি মুতাবিক তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টিতে কোন পরিবর্তন নেই। এ-ই সরল দ্বীন। [১৩৫৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪১৩)
হাদিস নং: ৪৭৭৬ সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا جرير عن الاعمش عن ابراهيم عن علقمة عن عبد الله رضي الله عنه قال لما نزلت هذه الاية (الذين امنوا ولم يلبسوآ ايمانهم بظلم) شق ذلك على اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم وقالوا اينا لم يلبس ايمانه بظلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم انه ليس بذاك الا تسمع الى قول لقمان لابنه (ان الشرك لظلم عظيم).
৪৭৭৬. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হল (আল্লাহর বাণী) : যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি। এটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের উপর খুবই কঠিন মনে হল। তখন তাঁরা বললেন, আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে, তারা তাদের ঈমানকে জুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ আয়াত দ্বারা এ অর্থ বুঝানো হয়নি। তোমরা কি লুকমানের কথা শুননি যা তিনি তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন? إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيْمٌ নিশ্চয় শির্ক হচ্ছে বড় জুলুম। [৩২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪১৪)
হাদিস নং: ৪৭৭৭ সহিহ (Sahih)
اسحاق عن جرير عن ابي حيان عن ابي زرعة عن ابي هريرة رضي الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يوما بارزا للناس اذ اتاه رجل يمشي فقال يا رسول الله ما الايمان قال الايمان ان تومن بالله وملاىكته وكتبه ورسله ولقاىه وتومن بالبعث الاخر قال يا رسول الله ما الاسلام قال الاسلام ان تعبد الله ولا تشرك به شيىا وتقيم الصلاة وتوتي الزكاة المفروضة وتصوم رمضان قال يا رسول الله ما الاحسان قال الاحسان ان تعبدi الله كانك تراه فان لم تكن تراه فانه يراك قال يا رسول الله متى الساعة قال ما المسىول عنها باعلم من الساىل ولكن ساحدثك عن اشراطها اذا ولدت المراة ربتها فذاك من اشراطها واذا كان الحفاة العراة رءوس الناس فذاك من اشراطها في خمس لا يعلمهن الا الله (ان الله عنده” علم الساعة وينزل الغيث ويعلم ما في الارحام) ثم انصرف الرجل فقال ردوا علي فاخذوا ليردوا فلم يروا شيىا فقال هذا جبريل جاء ليعلم الناس دينهم.
৪৭৭৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একদিন রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলেন। এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল, ঈমান কী? তিনি বললেন, ’’আল্লাহ্তে ঈমান আনবে এবং তাঁর মালায়িকাহ, তাঁর নবী-রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনবে এবং আল্লাহর দর্শন ও পুনরুত্থানের ওপর ঈমান আনবে।’’ লোকটি জিজ্ঞেস করল, ইসলাম কী? তিনি বললেন, ইসলাম (হল) আল্লাহর ’ইবাদাত করবে ও তাঁর সঙ্গে অন্য কাউকে শরীক করবে না এবং সালাত কায়িম করবে, ফারয্ যাকাত দিবে ও রমাযানের সিয়াম পালন করবে। লোকটি জিজ্ঞেস করল, ইহ্সান কী? তিনি বললেন, ইহ্সান হচ্ছে আল্লাহর ’ইবাদাত এমন নিষ্ঠার সঙ্গে করবে, যেন তুমি তাঁকে দেখছ। আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে (জানবে) আল্লাহ্ তোমাকে দেখছেন। লোকটি আরও জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! কখন ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) ঘটবে?

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ ব্যাপারে প্রশ্নকারীর চেয়ে যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে, সে অধিক জানে না। তবে আমি তোমার কাছে এর কতগুলো নিদর্শন বলছি। তা হল, যখন দাসী তার মনিবকে জন্ম দিবে, এটা তার একটি নিদর্শন। আর যখন দেখবে, নগ্নপদ ও নগ্নদেহ বিশিষ্ট লোকেরা মানুষের নেতা হবে, এও তার একটি নিদর্শন। এটি ঐ পাঁচটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানেন নাঃ (১) ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সম্পর্কিত জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকটই রয়েছে। (২) তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন, (৩) তিনিই জানেন, মাতৃগর্ভে কী আছে। এরপরে সে লোকটি চলে গেল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাঁকে আমার নিকট ফিরিয়ে আন। সাহাবীগণ তাঁকে ফিরিয়ে আনতে গেলেন, কিন্তু কিছুই দেখতে পেলেন না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তিনি হলেন জিব্রীল, লোকেদেরকে শিক্ষা দেয়ার জন্য এসেছিলেন। [৫০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪১৫)র
হাদিস নং: ৪৭৭৮ সহিহ (Sahih)
يحيى بن سليمان قال حدثني ابن وهب قال حدثني عمر بن محمد بن زيد بن عبد الله بن عمر ان اباه حدثه ان عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال قال النبي صلى الله عليه وسلم مفاتيح الغيب خمس ثم قرا (ان الله عنده” علم الساعة).
৪৭৭৮. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, গায়বের [1] চাবি পাঁচটি। এরপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেনঃ ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সম্পর্কিত জ্ঞান কেবল আল্লাহ্ তা’আলারই আছে। [১০৩৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪১৬)
নোট: [1] অদৃশ্যঃ দৃষ্টির আড়ালের বিষয়সমূহ যেমন, আল্লাহ্, মালায়িকা, আখিরাত, জান্নাত, জাহান্নাম ইত্যাদি।
হাদিস নং: ৪৭৭৯ সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا سفيان عن ابي الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال قال الله تبارك وتعالى اعددت لعبادي الصالحين ما لا عين رات ولا اذن سمعت ولا خطر على قلب بشر قال ابو هريرة اقرءوا ان شىتم (فلا تعلم نفس مآ اخفي لهم من قرة اعين)
و حدثنا علي قال حدثنا سفيان حدثنا ابو الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة قال قال الله مثله قيل لسفيان رواية قال فاي شيء؟ قال ابو معاوية عن الاعمش عن ابي صالح قرا ابو هريرة قرات
(32) سُوْرَةُ السَّجْدَةِ

সূরাহ (৩২) : আস্-সিজদা

وَقَالَ مُجَاهِدٌ (مَهِيْنٍ) ضَعِيْفٍ نُطْفَةُ الرَّجُلِ (ضَلَلْنَا) هَلَكْنَا وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (الْجُرُزُ) الَّتِيْ لَا تُمْطَرُ إِلَّا مَطَرًا لَا يُغْنِيْ عَنْهَا شَيْئًا (نَهْدِ) يُبَيِّنْ.

মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مَهِيْنٍ দুর্বল অর্থাৎ পুরুষের বীর্য। ضَلَلْنَا আমরা ধ্বংস হয়েছি। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, الْجُرُزُ ঐ মাটি যেখানে এত অল্প বৃষ্টি হয়, যাতে তা কোন উপকারে আসে না। نَهْدِ তাকে সঠিক পথ বলে দিয়েছি।


৪৭৭৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন সব বস্তু বানিয়ে রেখেছি, যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শোনেনি এবং কোন অন্তঃকরণ চিন্তা করেনি। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেছেন, তোমরা চাইলে এ আয়াত তিলাওয়াত করঃ ’’কেউ জানে না তাদের জন্য চোখ জুড়ানো কোন্ বিষয় লুকিয়ে রাখা হয়েছে’’- (আস্-সিজদা ৩২/১৭)।(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪১৫)

সুফ্ইয়ান (রহ.).....আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, পরের অংশ আগের হাদীসের মত। আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ)-এর কাছে জিজ্ঞেস করা হল, আপনি কি এ হাদীস রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, তা ছাড়া আর কী?

আবূ মু’আবীয়াহ (রহ.).....আবূ সালিহ্ (রহ.) হতে বর্ণিত। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)قُرَاتِ ’’আলিফ’’ এবং লম্বা ’তা’ সহ) পড়েছিলেন। [৩২৪৪] (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪১৭)
হাদিস নং: ৪৭৮০ সহিহ (Sahih)
اسحاق بن نصر حدثنا ابو اسامة عن الاعمش حدثنا ابو صالح عن ابي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم يقول الله تعالى اعددت لعبادي الصالحين ما لا عين رات ولا اذن سمعت ولا خطر على قلب بشر ذخرا بله ما اطلعتم عليه ثم قرا (فلا تعلم نفس مآ اخفي لهم من قرة اعينجزآءمبما كانوا يعملون).قال ابو معاوية عن الاعمش عن ابي صالح قرا ابو هريرة قرات اعين
৪৭৮০. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন সব বস্তুরাজি তৈরি করে রেখেছি, যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শোনেনি এবং কোন ব্যক্তির মন কল্পনা করেনি। এসব ছাড়া যা কিছুই তোমরা দেখছ, তার কোন মূল্যই নেই। তারপর এ আয়াত পাঠ করলেন, কেউ জানে না তাদের জন্য নয়ন তৃপ্তিকর কী লুক্কায়িত রাখা হয়েছে, তাদের কৃতকর্মের পারিতোষিক হিসেবে। আবূ মুয়াবিয়াহ আ’মাশ হতে তিনি আবূ সালিহ হতে বর্ণনা করেন, আবূ হুরাইরাহ قُرَّةِ أَعْيُنٍএর স্থলে قُرَّاتِ أَعْيُنٍ পড়তেন।[৩২৪৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪১৮)
হাদিস নং: ৪৭৮১ সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن المنذر حدثنا محمد بن فليح حدثنا ابي عن هلال بن علي عن عبد الرحمن بن ابي عمرة عن ابي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ما من مومن الا وانا اولى الناس به في الدنيا والاخرة اقرءوا ان شىتم (النبي اولى بالمومنين من انفسهم) فايما مومن ترك مالا فليرثه عصبته من كانوا فان ترك دينا او ضياعا فلياتني فانا مولاه.
(33) سُوْرَةُ الْأَحْزَابِ

সূরাহ (৩৩) : আহযাব

وَقَالَ مُجَاهِدٌ (صَيَاصِيْهِمْ) قُصُوْرِهِمْ.

মুজাহিদ (রহ.) বলেন, صَيَاصِيْهِمْ তাদের মহল।


৪৭৮১. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুনিয়া ও আখিরাতে সকল মানুষের চেয়ে মু’মিনের জন্য আমিই ঘনিষ্ঠতম। তোমরা ইচ্ছা করলে এ আয়াত পাঠ করতে পার- ’’নবী মু’মিনদের নিকট তাদের নিজেদের চেয়ে অধিক ঘনিষ্ঠ।’’ সুতরাং কোন মু’মিন কোন ধন-সম্পদ রেখে গেলে তার নিকটআত্মীয় সে যে-ই হোক, তার উত্তরাধিকারী হবে, আর যদি ঋণ অথবা অসহায় সন্তানাদি রেখে যায় সে যেন আমার কাছে আসে, আমি তার অভিভাবক। [২২৯৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪১৯)
হাদিস নং: ৪৭৮২ সহিহ (Sahih)
معلى بن اسد حدثنا عبد العزيز بن المختار حدثنا موسى بن عقبة قال حدثني سالم عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما ان زيد بن حارثة مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم ما كنا ندعوه الا زيد بن محمد حتى نزل القران (ادعوهم لاباىهم هو اقسط عند الله).
৪৭৮২. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আযাদকৃত গোলাম যায়দ ইবনু হারিসাহ্কে আমরা ’’যায়দ ইবনু মুহাম্মদ-ই’’ ডাকতাম, যে পর্যন্ত না এ আয়াত নাযিল হয়। তোমরা তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাক, আল্লাহর দৃষ্টিতে এটিই অধিক ন্যায়সঙ্গত। [মুসলিম ৪৪/১০, হাঃ ২৪২৫, আহমাদ ৫৪৮০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪২০)
হাদিস নং: ৪৭৮৩ সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا محمد بن عبد الله الانصاري قال حدثني ابي عن ثمامة عن انس بن مالك رضي الله عنه قال نرى هذه الاية نزلت في انس بن النضر (من المومنين رجال صدقوا ما عاهدوا الله عليه).
(نَحْبَه”) عَهْدَهُ (أَقْطَارِهَا) جَوَانِبُهَا الْفِتْنَةَ لآَتَوْهَا لَأَعْطَوْهَا.

نَحْبَه তার অঙ্গীকার। أَقْطَارِهَا তার পার্শ্বসমূহ। الْفِتْنَةَ لَاٰتَوْهَا তারা তা গ্রহণ করত।


৪৭৮৩. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মনে করি, এ আয়াত আনাস ইবনু নায্র সম্পর্কে নাযিল হয়েছেঃ ’’মু’মিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সঙ্গে তাদের কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছে।’’ [২৮০৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪২১)
হাদিস নং: ৪৭৮৪ সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني خارجة بن زيد بن ثابت ان زيد بن ثابت قال لما نسخنا الصحف في المصاحف فقدت اية من سورة الاحزاب كنت كثيرا اسمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقروها لم اجدها مع احد الا مع خزيمة الانصاري الذي جعل رسول الله صلى الله عليه وسلم شهادته شهادة رجلين (من المومنين رجال صدقوا ما عاهدوا الله عليه).
৪৭৮৪. যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন সহীফা থেকে কুরআন লিপিবদ্ধ করছিলাম তখন সূরা আহযাবের একটি আয়াত পেলাম না, যা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিলাওয়াত করতে শুনেছি। শেষে সেটি খুযায়মা আনসারী ছাড়া অন্য কারও কাছে পেলাম না; যার সাক্ষ্য রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’জন পুরুষ সাক্ষীর সমান গণ্য করেছেন। (আয়াতটি হল ৩৩ঃ২৩) مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ رِجَالٌ صَدَقُوْا مَا عَاهَدُوا اللهَ عَلَيْهِ [২৮০৭](আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪২২)
হাদিস নং: ৪৭৮৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال اخبرني ابو سلمة بن عبد الرحمن، ان عاىشة، رضى الله عنها زوج النبي صلى الله عليه وسلم اخبرته ان رسول الله صلى الله عليه وسلم جاءها حين امر الله ان يخير ازواجه، فبدا بي رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ‏"‏ اني ذاكر لك امرا فلا عليك ان تستعجلي حتى تستامري ابويك ‏"‏، وقد علم ان ابوى لم يكونا يامراني بفراقه، قالت ثم قال ‏"‏ ان الله قال ‏{‏يا ايها النبي قل لازواجك‏}‏ ‏"‏‏.‏ الى تمام الايتين فقلت له ففي اى هذا استامر ابوى فاني اريد الله ورسوله والدار الاخرة‏.‏
(يٰٓأَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِّأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيٰوةَ الدُّنْيَا وَزِيْنَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ وَأُسَرِّحْكُنَّ سَرَاحًا جَمِيْلًا)

’’হে নবী! আপনার পত্নীগণকে বলুন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার বিলাসিতা কামনা কর, তবে এসো, আমি তোমাদের ভোগের ব্যবস্থা করে দেই এবং উত্তম পন্থায় তোমাদেরকে বিদায় দেই।’’ (সূরাহ আহযাব ৩৩/২৮)

وَقَالَ مَعْمَرٌ (التَّبَرُّجُ) أَنْ تُخْرِجَ مَحَاسِنَهَا (سُنَّةَاللهِ) اسْتَنَّهَا جَعَلَهَا.

التَّبَرُّجُ আপন সৌন্দর্য প্রকাশ করা। سُنَّةَ اللهِ যে নীতি আল্লাহ্ নির্ধারণ করেছেন।

৪৭৮৫. নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে এলেন, যখন আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর সহধর্মিণীগণকে দু’টি পন্থার মধ্যে একটি পন্থা বেছে নেয়ার নির্দেশ দিলেন,[1]তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম আমা হতে শুরু করলেন এবং বললেন, আমি তোমার কাছে একটি কথা উল্লেখ করছি। তাড়াহুড়ো না করে তোমার পিতা-মাতার সঙ্গে পরামর্শ করে উত্তর দেবে। তিনি এ কথা ভালভাবেই জানতেন যে, আমার আববা-আম্মা তাঁর থেকে আমাকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরামর্শ কখনও দিবেন না। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তিনি [রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, আল্লাহ্ বলছেন, ’’হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের বলুন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার ভূষণ কামনা কর.....। তখন আমি তাঁকে বললাম, এ ব্যাপারে আমার আববা-আম্মা থেকে পরামর্শ নেবার কী আছে? আমি তো আল্লাহ্ তাঁর রাসূল এবং আখিরাতের জীবনই কামনা করি। [৪৭৮৬; মুসলিম ১৮/৪, হাঃ ১৪৭৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪২৩)
নোট: [1] খায়বারের যুদ্ধের পর রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণ তাদের ভরণ-পোষণে অর্থ বৃদ্ধির অনুরোধ জানান। এ বিষয়ের প্রতি এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
হাদিস নং: ৪৭৮৬ সহিহ (Sahih)
وقال الليث حدثني يونس عن ابن شهاب قال اخبرني ابو سلمة بن عبد الرحمن ان عاىشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت لما امر رسول الله صلى الله عليه وسلم بتخيير ازواجه بدا بي فقال اني ذاكر لك امرا فلا عليك ان لا تعجلي حتى تستامري ابويك قالت وقد علم ان ابوي لم يكونا يامراني بفراقه قالت ثم قال ان الله جل ثناوه قال (وان كنتن تردن الله ورسوله” والدار الاخرة فان الله اعد للمحسنت منكن اجرا عظيما) قالت فقلت ففي اي هذا استامر ابوي فاني اريد الله ورسوله والدار الاخرة قالت ثم فعل ازواج النبي صلى الله عليه وسلم مثل ما فعلت تابعه موسى بن اعين عن معمر عن الزهري قال اخبرني ابو سلمة وقال عبد الرزاق وابو سفيان المعمري عن معمر عن الزهري عن عروة عن عاىشة
(وَإِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ اللهَ وَرَسُوْلَه” وَالدَّارَ الْاٰخِرَةَ فَإِنَّ اللهَ أَعَدَّ لِلْمُحْسِنٰتِ مِنْكُنَّ أَجْرًا عَظِيْمًا)

পক্ষান্তরে যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রসূল ও পরকাল কামনা কর, তবে তোমাদের সৎকর্মপরায়ণদের জন্য আল্লাহ মহা পুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন। (সূরাহ আহযাব ৩৩/২৯)

وَقَالَ قَتَادَةُ (وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلٰى فِيْ بُيُوْتِكُنَّ مِنْ اٰيٰتِ اللهِ وَالْحِكْمَةِ) الْقُرْآنِ وَالْحِكْمَةُ السُّنَّةُ.

ক্বাতাদাহ (রাঃ) বলেন, وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلٰى فِيْ بُيُوْتِكُنَّ مِنْاٰيٰتِ اللهِ وَالْحِكْمَةِ এর মধ্যে اٰيٰتِ দ্বারা কুরআন, সুন্নাত এবং হিকমত বোঝানো হয়েছে।


৪৭৮৬. লায়স (রহ.).....নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর সহধর্মিণীদের ব্যাপারে দু’টি পন্থার একটি পন্থা বেছে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হল, তখন তিনি প্রথমে আমাকে বললেন, তোমাকে একটি বিষয় সম্পর্কে বলব। তাড়াহুড়ো না করে তুমি তোমার আব্বা ও আম্মার সঙ্গে পরামর্শ করে নিবে। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তিনি অবশ্যই জানতেন, আমার আব্বা-আম্মা তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা বলবেন না। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এরপর তিনি বললেন, আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেনঃ وَإِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ اللهَ وَرَسُوْلَه” وَالدَّارَ الْاٰخِرَةَ فَإِنَّ اللهَ أَعَدَّ لِلْمُحْسِنٰتِ مِنْكُنَّ أَجْرًا عَظِيْمًا ’’হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে বলুন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার ভূষণ কামনা কর.....মহা প্রতিদান পর্যন্ত। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এ ব্যাপারে আমার আব্বা-আম্মার সঙ্গে পরামর্শের কী আছে? আমি তো আল্লাহ্, তাঁর রাসূল এবং আখিরাতের জীবন কামনা করি। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যান্য সহধর্মিণী আমার মতই জবাব দিলেন। [৪৭৮৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ অনুচ্ছেদ)
হাদিস নং: ৪৭৮৭ সহিহ (Sahih)
محمد بن عبد الرحيم حدثنا معلى بن منصور عن حماد بن زيد حدثنا ثابت عن انس بن مالك رضي الله عنه ان هذه الاية (وتخفي في نفسك ما الله مبديه) نزلت في شان زينب بنت جحش وزيد بن حارثة.
(وَتُخْفِيْ فِيْ نَفْسِكَ مَا اللهُ مُبْدِيْهِ وَتَخْشَى النَّاسَ وَاللهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَاهُ)

আপনি আপনার অন্তরে এমন বিষয় গোপন করছিলেন, যা আল্লাহ তা’আলা প্রকাশ করে দিবেন। আর আপনি লোক নিন্দার ভয় করছিলেন, অথচ আল্লাহকেই ভয় করা আপনার পক্ষে অধিকতর উচিত ছিল.....। (সূরাহ আহযাব ৩৩/৩৭)


৪৭৮৭. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ আয়াতটি, ’’(তুমি তোমার অন্তরে যা গোপন করছ, আল্লাহ্ তা প্রকাশ করে দিচ্ছেন।)’’ যায়নাব বিনতে জাহ্শ এবং যায়দ ইবনু হারিসাহ্ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। [৭৪২০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪২৪)
হাদিস নং: ৪৭৮৮ সহিহ (Sahih)
زكرياء بن يحيى حدثنا ابو اسامة قال هشام حدثنا عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها قالت كنت اغار على اللاتي وهبن انفسهن لرسول الله صلى الله عليه وسلم واقول اتهب المراة نفسها فلما انزل الله (تعالى ترجى من تشاء منهن وتووي اليك من تشاء ومن ابتغيت ممن عزلت فلا جناح عليك) قلت ما ارى ربك الا يسارع في هواك.
(تُرْجِئُ مَنْ تَشَآءُ مِنْهُنَّ وَتُؤْوِيْٓإِلَيْكَ مَنْ تَشَاءُ وَمَنْ ابْتَغَيْتَ مِمَّنْ عَزَلْتَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكَ)

আপনি আপনার পত্নীদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দূরে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা কাছে রাখতে পারেন; আর আপনি যাকে দূরে রেখেছেন, তাকে পুনরায় চাইলে তাতে আপনার কোন গুনাহ নেই।(সূরা আহযাব ৩৩/৫১)

قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (تُرْجِئُ) تُؤَخِّرُ أَرْجِئْهُ أَخِّرْهُ.

ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, تُرْجِئُ দূরে রাখতে পার। أَرْجِئْهُ তাকে দূরে সরিয়ে দাও, অবকাশ দাও।


৪৭৮৮. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যেসব মহিলা নিজেকে রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে হেবাস্বরূপ ন্যস্ত করে দেন, তাদের আমি ঘৃণা করতাম। আমি (মনে মনে) বলতাম, মহিলারা কি নিজেকে ন্যস্ত করতে পারে? এরপর যখন আল্লাহ্ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ ’’আপনি তাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা আপনার নিকট হতে দূরে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা আপনার নিকট স্থান দিতে পারেন। আর আপনি যাকে দূরে রেখেছেন, তাকে কামনা করলে আপনার কোন অপরাধ নেই।’’
তখন আমি বললাম, আমি দেখছি যে, আপনি যা ইচ্ছা করেন আপনার রব, তা-ই শীঘ্র পূর্ণ করে দেন। [৫১১৩; মুসলিম ১৭/১৪, হাঃ ১৪৬৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪২৫)
হাদিস নং: ৪৭৮৯ সহিহ (Sahih)
حبان بن موسى اخبرنا عبد الله اخبرنا عاصم الاحول عن معاذة عن عاىشة رضي الله عنها ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يستاذن في يوم المراة منا بعد ان انزلت هذه الاية (ترجى من تشآء منهن وتوويٓ اليك من تشآء ومن ابتغيت ممن عزلت فلا جناح عليك) فقلت لها ما كنت تقولين قالت كنت اقول له ان كان ذاك الي فاني لا اريد يا رسول الله ان اوثر عليك احدا تابعه عباد بن عباد سمع عاصما.
৪৭৮৯. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীদের সঙ্গে অবস্থানের পালার ব্যাপারে আমাদের থেকে অনুমতি চাইতেন এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পরও, আপনি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা আপনার নিকট হতে দূরে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা আপনার নিকট স্থান দিতে পারেন এবং আপনি যাকে দূরে রেখেছেন তাকে কামনা করলে আপনার কোন অপরাধ নেই। এ আয়াতটি নাযিল হওয়ার পর মু’আয বলেন, আমি ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি এর উত্তরে কী বলতেন? তিনি বললেন, আমি তাঁকে বলতাম, এ বিষয়ের অধিকার যদি আমার থেকে থাকে তাহলে হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার ব্যাপারে অন্য কাউকে অগ্রাধিকার দিতে চাই না। ’আববাদ বিন আববাদ ’আসেম থেকে এরূপ শুনেছেন। [মুসলিম ১৮/৪, হাঃ ১৪৭৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪২৬)
হাদিস নং: ৪৭৯০ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى عن حميد عن انس قال قال عمر رضي الله عنه قلت يا رسول الله يدخل عليك البر والفاجر فلو امرت امهات المومنين بالحجاب فانزل الله اية الحجاب.
(لَا تَدْخُلُوْا بُيُوْتَ النَّبِيِّ إِلَّآ أَنْ يُّؤْذَنَ لَكُمْ إِلٰى طَعَامٍ غَيْرَ نٰظِرِيْنَ إِنٰهُ وَلٰكِنْ إِذَا دُعِيْتُمْ فَادْخُلُوْا فَإِذَا طَعِمْتُمْ فَانْتَشِرُوْا وَلَا مُسْتَأْنِسِيْنَ لِحَدِيْثٍ ط إِنَّ ذٰلِكُمْ كَانَ يُؤْذِي النَّبِيَّ فَيَسْتَحْيٰمِنْكُمْ ز وَاللهُ لَا يَسْتَحْيٰمِنَ الْحَقِّ ط وَإِذَا سَأَلْتُمُوْهُنَّ مَتَاعًا فَسْئَلُوْهُنَّ مِنْ وَّرَآءِ حِجَابٍ ط ذٰلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوْبِكُمْ وَقُلُوْبِهِنَّ ط وَمَا كَانَ لَكُمْ أَنْ تُؤْذُوْا رَسُوْلَ اللهِ وَلَآ أَنْ تَنْكِحُوْآ أَزْوَاجَه” مِنْمبَعْدِهٰٓأَبَدًا ط إِنَّ ذٰلِكُمْ كَانَ عِنْدَ اللهِ عَظِيْمًا - إِنْ تُبْدُوْا شَيْئًا أَوْ تُخْفُوْهُ فَإِنَّ اللهَ كَانَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيْمًا)

হে মু’মিনগণ! তোমরা খাওয়ার জন্য খাবার প্রস্তুতির অপেক্ষা না করে নবীর ঘরে তোমাদেরকে অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত প্রবেশ করবে না; তবে তোমাদেরকে ডাকা হলে তোমরা প্রবেশ করবে এবং খাওয়া শেষ হলে নিজেরাই চলে যাবে, কথাবার্তায় মাশগুল হয়ে পড়বে না। তোমাদের এ আচরণ অবশ্যই নবীকে পীড়া দেয়। তিনি তোমাদেরকে উঠিয়ে দিতে সংকোচ বোধ করেন। কিন্তু আল্লাহ সত্য বলতে সংকোচবোধ করেন না। তোমরা যখন তাঁর পত্নীদের নিকট হতে কোন কিছু চাইবে, তখন পর্দার অন্তরাল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্র উপায়। আল্লাহর রসূলকে কষ্ট দেয়া এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পত্নীদেরকে বিবাহ করা তোমাদের কারও পক্ষে কখনও বৈধ নয়। এটা আল্লাহর কাছে সাংঘাতিক অপরাধ। (সূরাহ আহযাব ৩৩/৫৩)

يُقَالُ (إِنَاهُ) إِدْرَاكُهُ أَنَى يَأْنِيْ أَنَاةً فَهُوَ آنٍ (لَعَلَّ السَّاعَةَ تَكُوْنُ قَرِيْبًا) إِذَا وَصَفْتَ صِفَةَ الْمُؤَنَّثِ قُلْتَ قَرِيْبَةً وَإِذَا جَعَلْتَهُ ظَرْفًا وَبَدَلًا وَلَمْ تُرِدْ الصِّفَةَ نَزَعْتَ الْهَاءَ مِنَ الْمُؤَنَّثِ وَكَذَلِكَ لَفْظُهَا فِي الْوَاحِدِ وَالِاثْنَيْنِ وَالْجَمِيْعِ لِلذَّكَرِ وَالْأُنْثَى.

বলা হয় إِنَاهُ খাদ্য পরিপাক হওয়া। এটা أَنَى يَأْنِيْ أَنَاةً থেকে গঠিত।لَعَلَّ السَّاعَةَ تَكُوْنُ قَرِيْبًا সম্ভবত ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) অতি নিকটবর্তী। যদি তুমি স্ত্রী লিঙ্গ হিসেবে ব্যবহার কর, তবেقَرِيْبَةً বলবে। আর যদি الصِّفَةَ না ধর ظَرْفًا বাبَدَلًا হিসেবে ব্যবহার কর তবে ’তা’ নিয়ে যুক্ত করবে না। তেমনি এ শব্দটি একবচন, দ্বি-বচন, বহুবচন এবং নারী-পুরুষ সকল ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়।


৪৭৯০. ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, আপনার কাছে ভাল ও মন্দ লোক আসে। আপনি যদি উম্মাহাতুল মু’মিনীদের ব্যাপারে পর্দার নির্দেশ দিতেন। তারপর আল্লাহ্ তা’আলা পর্দার আয়াত অবতীর্ণ করলেন। [৪০২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪২৭)
হাদিস নং: ৪৭৯১ সহিহ (Sahih)
محمد بن عبد الله الرقاشي حدثنا معتمر بن سليمان قال سمعت ابي يقول حدثنا ابو مجلز عن انس بن مالك رضي الله عنه قال لما تزوج رسول الله صلى الله عليه وسلم زينب بنت جحش دعا القوم فطعموا ثم جلسوا يتحدثون واذا هو كانه يتهيا للقيام فلم يقوموا فلما راى ذلك قام فلما قام قام من قام وقعد ثلاثة نفر فجاء النبي صلى الله عليه وسلم ليدخل فاذا القوم جلوس ثم انهم قاموا فانطلقت فجىت فاخبرت النبي صلى الله عليه وسلم انهم قد انطلقوا فجاء حتى دخل فذهبت ادخل فالقى الحجاب بيني وبينه فانزل الله (يٓايها الذين امنوا لا تدخلوا بيوت النبي)الاية
৪৭৯১. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যয়নাব বিন্ত জাহশ্কে যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিয়ে করেন, তখন তিনি লোকদের দাওয়াত করলেন। লোকেরা আহারের পর বসে কথাবার্তা বলতে লাগল। তিনি উঠে যেতে চাচ্ছিলেন, কিন্তু লোকেরা উঠছিল না। এ অবস্থা দেখে তিনি উঠে দাঁড়ালেন। তিনি উঠে যাওয়ার পর যারা উঠবার তারা উঠল। কিন্তু তিন ব্যক্তি বসেই থাকল। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশের জন্য ফিরে এসে দেখেন, তারা তখনও বসে রয়েছে। অতঃপর তারাও উঠে গেল। আমি গিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাদের চলে যাওয়ার সংবাদ দিলাম। তারপর তিনি এসে প্রবেশ করলেন। এরপরও আমি প্রবেশ করতে চাইলে তিনি আমার ও তার মাঝে পর্দা ঝুলিয়ে দিলেন। তখন আল্লাহ্ তা’আলা অবতীর্ণ করেনঃ يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَدْخُلُوْا بُيُوْتَ النَّبِيِّ ’’হে মু’মিনগণ! তোমরা নবীর গৃহে প্রবেশ করো না.....শেষ পর্যন্ত। [৪৭৯২, ৪৭৯৩, ৪৭৯৪, ৫১৫৪, ৫১৬৩, ৫১৬৬, ৫১৬৮, ৫১৭০, ৫১৭১, ৫৪৬৬, ৬২৩৮, ৬২৩৯, ৬২৭১, ৭৪২১; মুসলিম ১৬/১৪, হাঃ ১৪২৮, আহমাদ ১৩৪৭৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪২৮)
হাদিস নং: ৪৭৯২ সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب حدثنا حماد بن زيد عن ايوب عن ابي قلابة قال انس بن مالك انا اعلم الناس بهذه الاية اية الحجاب لما اهديت زينب بنت جحش رضي الله عنها الى رسول الله صلى الله عليه وسلم كانت معه في البيت صنع طعاما ودعا القوم فقعدوا يتحدثون فجعل النبي صلى الله عليه وسلم يخرج ثم يرجع وهم قعود يتحدثون فانزل الله تعالىيٓايها الذين امنوا لا تدخلوا بيوت النبي الا ان يوذن لكم الى طعام غير نظرين انه) الى قوله (من ورآء حجاب) فضرب الحجاب وقام القوم.
৪৭৯২. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি পর্দার আয়াত সম্বন্ধে লোকদের চেয়ে অধিক জানি। যখন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যাইনাবকে বাসর যাপনের জন্য পাঠানো হয় এবং তিনি তাঁর ঘরে তাঁর সঙ্গে অবস্থান করেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাবার তৈরি করে লোকদের দাওয়াত করলেন। তারা (খাওযার পর) বসে কথাবার্তা বলতে লাগল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইরে গিয়ে আবার ঘরে ফিরে এলেন, তখনও তারা বসে কথাবার্তা বলছিল। তখন আল্লাহ্ তা’আলা অবতীর্ণ করেন, ’’হে মু’মিনগণ! তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা আহার্য প্রস্তুতির জন্য অপেক্ষা না করে আহারের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম গৃহে প্রবেশ করবে না।’’.....পর্দার আড়াল থেকে’ পর্যন্ত। এরপর পর্দার বিধান কার্যকর হল এবং লোকেরা নিস্ক্রান্ত হল। [৪৭৯১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪২৯)
হাদিস নং: ৪৭৯৩ সহিহ (Sahih)
ابو معمر حدثنا عبد الوارث حدثنا عبد العزيز بن صهيب عن انس رضي الله عنه قال بني على النبي صلى الله عليه وسلم بزينب بنت جحش بخبز ولحم فارسلت على الطعام داعيا فيجيء قوم فياكلون ويخرجون ثم يجيء قوم فياكلون ويخرجون فدعوت حتى ما اجد احدا ادعو فقلت يا نبي الله ما اجد احدا ادعوه قال ارفعوا طعامكم وبقي ثلاثة رهط يتحدثون في البيت فخرج النبي صلى الله عليه وسلم فانطلق الى حجرة عاىشة فقال السلام عليكم اهل البيت ورحمة الله فقالت وعليك السلام ورحمة الله كيف وجدت اهلك بارك الله لك فتقرى حجر نساىه كلهن يقول لهن كما يقول لعاىشة ويقلن له كما قالت عاىشة ثم رجع النبي صلى الله عليه وسلم فاذا ثلاثة من رهط في البيت يتحدثون وكان النبي صلى الله عليه وسلم شديد الحياء فخرج منطلقا نحو حجرة عاىشة فما ادري اخبرته او اخبر ان القوم خرجوا فرجع حتى اذا وضع رجله في اسكفة الباب داخلة واخرى خارجة ارخى الستر بيني وبينه وانزلت اية الحجاب.
৪৭৯৩. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। যায়নাব বিনতে জাহ্শের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাসর যাপন উপলক্ষে কিছু মাংস ও রুটির ব্যবস্থা করা হল। তারপর খানা খাওয়ানোর জন্য আমাকে লোকদের ডেকে আনতে পাঠালেন। একদল লোক এসে খেয়ে চলে গেল। তারপর আর একদল এসে খেয়ে চলে গেল। এরপর আবার আমি ডাকতে গেলাম, কিন্তু কাউকে আর ডেকে পেলাম না। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আর কাউকে ডেকে পাচ্ছি না। তিনি বললেন, খানা উঠিয়ে নাও। তখন তিন ব্যক্তি ঘরে রয়ে গেল, তারা কথাবার্তা বলছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর ঘরের দিকে গেলেন এবং বললেন, আস্সালামু ’আলায়কুম ইয়া আহলাল বায়ত ওয়া রহমাতুল্লাহ্! ’আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, ওয়া আলায়কাস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ্। আল্লাহ্ আপনাকে বারাকাত দিন, আপনার স্ত্রীকে কেমন পেলেন? এভাবে তিনি পর্যায়ক্রমে সব স্ত্রীর ঘরে গেলেন এবং ’আয়িশাহ্কে যেমন বলেছিলেন তাদেরও তেমনি বললেন। আর তাঁরা তাঁকে সে জবাবই দিয়েছিলেন, যেমন ’আয়িশাহ (রাঃ) দিয়েছিলেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে এসে সে তিন ব্যক্তিকেই ঘরে কথাবার্তা বলতে দেখতে পেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব লাজুক ছিলেন। (লজ্জা পেয়ে) আবার ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর ঘরের দিকে গেলেন। তখন, আমি স্মরণ করতে পারছি না, অন্য কেউ না আমি তাঁকে লোকদের বের হয়ে যাওয়ার খবর দিলাম। তিনি ফিরে এসে দরজার চৌকাঠের ভিতরে এক পা ও বাইরে এক পা রেখে আমার ও তাঁর মধ্যে পর্দা ঝুলিয়ে দিলেন এবং আল্লাহ্ তা’আলা পর্দার আয়াত অবতীর্ণ করলেন। [৪৭৯১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৩০)
অধ্যায় তালিকা