অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৬৫/১/১. সূরাতুল ফাতিহা (ফাতিহাতুল কিতাব) প্রসঙ্গে।
মোট ৫০৪ টি হাদিস
হাদিস নং: ৪৭৯৪ সহিহ (Sahih)
اسحاق بن منصور اخبرنا عبد الله بن بكر السهمي حدثنا حميد عن انس رضي الله عنه قال اولم رسول الله صلى الله عليه وسلم حين بنى بزينب بنت جحش فاشبع الناس خبزا ولحما ثم خرج الى حجر امهات المومنين كما كان يصنع صبيحة بناىه فيسلم عليهن ويسلمن عليه ويدعو لهن ويدعون له فلما رجع الى بيته راى رجلين جرى بهما الحديث فلما راهما رجع عن بيته فلما راى الرجلان نبي الله صلى الله عليه وسلم رجع عن بيته وثبا مسرعين فما ادري انا اخبرته بخروجهما ام اخبر فرجع حتى دخل البيت وارخى الستر بيني وبينه وانزلت اية الحجاب وقال ابن ابي مريم اخبرنا يحيى حدثني حميد سمع انسا عن النبي صلى الله عليه وسلم
৪৭৯৪. আনাস্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, যয়নাব বিন্ত জাহ্শের সঙ্গে বাসর উৎযাপনের সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়ালীমা করলেন। লোকদের তিনি গোশ্ত-রুটি তৃপ্তি সহকারে খাওয়ালেন। তারপর তিনি উম্মুল মু’মিনীনদের কক্ষে যাওয়ার জন্য বের হলেন। যেমন বাসর রাত্রির ভোরে তার অভ্যাস ছিল যে, তিনি তাঁদের সালাম দিতেন ও তাঁদের জন্য দু’আ করতেন এবং তাঁরাও তাঁকে সালাম করতেন, তাঁর জন্য দু’আ করতেন। তারপর ঘরে ফিরে এসে দু’ব্যক্তিকে কথাবার্তায় রত দেখতে পেলেন। তাদের দেখে তিনি ঘর থেকে ফিরে চলে গেলেন। সে দু’জন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঘর থেকে ফিরে যেতে দেখে জলদি বের হয়ে গেল। এরপরে, আমার মনে নেই যে আমি তাঁকে তাদের বের হয়ে যাওয়ার খবর দিলাম, না অন্য কেউ দিল। তখন তিনি ফিরে এসে ঘরে প্রবেশ করলেন এবং আমার ও তাঁর মধ্যে পর্দা লটকিয়ে দিলেন এবং পর্দার আয়াত নাযিল হল। [৪৭৯১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৩১)
হাদিস নং: ৪৭৯৫ সহিহ (Sahih)
زكرياء بن يحيى حدثنا ابو اسامة عن هشام عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها قالت خرجت سودة بعدما ضرب الحجاب لحاجتها وكانت امراة جسيمة لا تخفى على من يعرفها فراها عمر بن الخطاب فقال يا سودة اما والله ما تخفين علينا فانظري كيف تخرجين قالت فانكفات راجعة ورسول الله صلى الله عليه وسلم في بيتي وانه ليتعشى وفي يده عرق فدخلت فقالت يا رسول الله اني خرجت لبعض حاجتي فقال لي عمر كذا وكذا قالت فاوحى الله اليه ثم رفع عنه وان العرق في يده ما وضعه فقال انه قد اذن لكن ان تخرجن لحاجتكن.
৪৭৯৫. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, পর্দার বিধান নাযিল হওয়ার পর সাওদাহ প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে গেলেন। সাওদাহ এমন স্থূল শরীরের অধিকারিণী ছিলেন যে, পরিচিত লোকদের থেকে তিনি নিজেকে গোপন রাখতে পারতেন না। ’উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) তাঁকে দেখে বললেন, হে সাওদাহ! জেনে রাখ, আল্লাহর কসম! আমাদের নযর থেকে গোপন থাকতে পারবে না। এখন দেখ তো, কীভাবে বাইরে যাবে? ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, সাওদাহ (রাঃ) ফিরে আসলেন। আর এ সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে রাতের খানা খাচ্ছিলেন। তাঁর হাতে ছিল টুকরা হাড়। সাওদাহ (রাঃ) ঘরে প্রবেশ করে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে গিয়েছিলাম। তখন ’উমার (রাঃ) আমাকে এমন এমন কথা বলেছে। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এ সময় আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর নিকট ওয়াহী অবতীর্ণ করেন। ওয়াহী অবতীর্ণ হওয়া শেষ হল, হাড় টুকরা তখনও তাঁর হাতেই ছিল, তিনি তা রেখে দেননি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অবশ্য দরকার হলে তোমাদেরকে বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। [১৪৬; মুসলিম ৩৯/৭, হাঃ ২১৭০, আহমাদ ২৪৩৪৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৩২)
হাদিস নং: ৪৭৯৬ সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري حدثني عروة بن الزبير ان عاىشة رضي الله عنها قالت استاذن علي افلح اخو ابي القعيس بعدما انزل الحجاب فقلت لا اذن له حتى استاذن فيه النبي صلى الله عليه وسلم فان اخاه ابا القعيس ليس هو ارضعني ولكن ارضعتني امراة ابي القعيس فدخل علي النبي صلى الله عليه وسلم فقلت له يا رسول الله ان افلح اخا ابي القعيس استاذن فابيت ان اذن له حتى استاذنك فقال النبي صلى الله عليه وسلم وما منعك ان تاذني عمك قلت يا رسول الله ان الرجل ليس هو ارضعني ولكن ارضعتني امراة ابي القعيس فقال اىذني له فانه عمك تربت يمينك قال عروة فلذلك كانت عاىشة تقول حرموا من الرضاعة ما تحرمون من النسب.
(إِنْ تُبْدُوْا شَيْئًا أَوْ تُخْفُوْهُ فَإِنَّ اللهَ كَانَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيْمًا (54) لَا جُنَاحَ عَلَيْهِنَّ فِيْٓاٰبَآئِهِنَّ وَلَآ أَبْنَآئِهِنَّ وَلَآ إِخْوَانِهِنَّ وَلَآ أَبْنَآءِ إِخْوَانِهِنَّ وَلَآ أَبْنَآءِ أَخَوَاتِهِنَّ وَلَا نِسَآئِهِنَّ وَلَا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ ج وَاتَّقِيْنَ اللهَ ط إِنَّ اللهَ كَانَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيْدًا).

যদি তোমরা কোন বিষয় প্রকাশ কর কিংবা তা গোপন রাখ, তবে তো আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে সবিশেষ অবগত আছেন। নবী-পত্নীদের জন্য কোন গুনাহ নেই তাদের নিজ নিজ পিতা, পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগিনীপুত্র, স্বধর্মাবলম্বিনী নারী এবং স্বীয় অধিকারভুক্ত দাসদাসীদের সামনে পর্দা পালন না করায়। হে নবী-পত্নীগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয় প্রত্যক্ষ করেন।


৪৭৯৬. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর, আবুল কু’আয়স এর ভাই-আফলাহ আমার কাছে প্রবেশ করার অনুমতি চায়। আমি বললাম, এ ব্যাপারে যতক্ষণ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমতি না দিবেন, ততক্ষণ আমি অনুমতি দিতে পারি না। কেননা তার ভাই আবূ কু’আয়স নিজে আমাকে দুধ পান করাননি। কিন্তু আবুল কু’আয়সের স্ত্রী আমাকে দুধ পান করিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন। আমি তাঁকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আবুল কু’আয়সের ভাই-আফরাহ্ আমার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চাইছিল। আমি এ বলে অস্বীকার করেছি যে, যতক্ষণ আপনি এ ব্যাপারে অনুমতি না দিবেন, ততক্ষণ আমি অনুমতি দিব না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার চাচাকে (দেখা করার) অনুমতি দিতে কিসে বাধা দিয়েছে? আমি বললাম, সে ব্যক্তি তো আমাকে দুধ পান করাননি; কিন্তু আবুল কু’আয়াসের স্ত্রী আমাকে দুধ পান করিয়েছে। এরপর তিনি [রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, তোমার হাত ধুলায় ধূসরিত হোক, তাকে অনুমতি দাও, কেননা, সে তোমার চাচা। ’উরওয়াহ বলেন, এ কারণে ’আয়িশাহ (রাঃ) বলতেন বংশ সম্বন্ধের কারণে যাকে তোমরা হারাম জান, দুগ্ধ-পানের কারণেও তাকে হারাম জানবে। [২৬৪৪; মুসলিম ১৭/২, হাঃ ১৪৪৫, আহমাদ ২৪১০৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৩৩)
হাদিস নং: ৪৭৯৭ সহিহ (Sahih)
سعيد بن يحيى بن سعيد حدثنا ابي حدثنا مسعر عن الحكم عن ابن ابي ليلى عن كعب بن عجرة رضي الله عنه قيل يا رسول الله اما السلام عليك فقد عرفناه فكيف الصلاة عليك قال قولوا اللهم صل على محمد وعلى ال محمد كما صليت على ال ابراهيم انك حميد مجيد اللهم بارك على محمد وعلى ال محمد كما باركت على ال ابراهيم انك حميد مجيد.
(إِنَّ اللهَ وَمَلٰٓئِكَتَه” يُصَلُّوْنَ عَلَى النَّبِيِّ ط يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا صَلُّوْا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوْا تَسْلِيْمًا)

নিশ্চয় আল্লাহ এবং তাঁর মালাইকা নবীর জন্য রহমত প্রার্থনা করে। হে মু’মিনগণ! তোমরাও নবীর জন্য রহমত প্রার্থনা কর এবং তার প্রতি প্রচুর পরিমাণে সালাম পাঠাতে থাক। (সূরাহ আহযাব ৩৩/৫৬)

قَالَ أَبُو الْعَالِيَةِ صَلَاةُ اللهِ ثَنَاؤُهُ عَلَيْهِ عِنْدَ الْمَلَائِكَةِ وَصَلَاةُ الْمَلَائِكَةِ الدُّعَاءُ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (يُصَلُّوْنَ) يُبَرِّكُوْنَ (لَنُغْرِيَنَّكَ) لَنُسَلِّطَنَّكَ.

আবুল ’আলীয়া (রহ.) বলেন, আল্লাহর সালাতের অর্থ মালায়িকার সম্মুখে নবীর প্রতি আল্লাহর প্রশংসা। মালাইকা সালাতের অর্থ- দু’আ। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, يُصَلُّوْنَ -এর অর্থ-বারকাতের দু’আ করছেন। لَنُغْرِيَنَّكَ আমি তোমাকে বিজয়ী করব।


৪৭৯৭. কা’ব ইবনু উজরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। বলা হল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উপর সালাম (সম্পর্কে) আমরা অবগত হয়েছি; কিন্তু সালাত কীভাবে? তিনি বললেন, তোমরা বলবে, ’’হে আল্লাহ্! তুমি মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারবর্গের উপর রহমত নাযিল কর, যেমনিভাবে ইব্রাহীম-এর পরিবারবর্গের উপর তুমি রহমত নাযিল করেছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত, মর্যাদাবান। হে আল্লাহ্! তুমি মুহাম্মদ-এর উপর এবং মুহাম্মাদ-এর পরিবারবর্গের প্রতি বারাকাত নাযিল কর। যেমনিভাবে তুমি বারাকাত নাযিল করেছ ইব্রাহীমের পরিবারবর্গের প্রতি। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত, মর্যাদাবান। [৩৩৭০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৩৪)
হাদিস নং: ৪৭৯৮ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف حدثنا الليث قال حدثني ابن الهاد عن عبد الله بن خباب عن ابي سعيد الخدري قال قلنا يا رسول الله هذا التسليم فكيف نصلي عليك قال قولوا اللهم صل على محمد عبدك ورسولك كما صليت على ال ابراهيم وبارك على محمد وعلى ال محمد كما باركت على ابراهيم قال ابو صالح عن الليث على محمد وعلى ال محمد كما باركت على ال ابراهيم حدثنا ابراهيم بن حمزة حدثنا ابن ابي حازم والدراوردي عن يزيد وقال كما صليت على ابراهيم وبارك على محمد وال محمد كما باركت على ابراهيم وال ابراهيم
৪৭৯৮. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বললাম, এ তো হল সালাম পাঠ; কিন্তু কেমন করে আমরা আপনার প্রতি দরূদ পড়ব? তিনি বললেন, তোমরা বলবে, ’’হে আল্লাহ্! আপনার বান্দা ও আপনার রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি রহমত নাযিল করুন, যেভাবে রহমত নাযিল করেছেন ইব্রাহীমের পরিবারবর্গের প্রতি এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি ও মুহাম্মাদের পরিবারবর্গের প্রতি বারকাত নাযিল করুন, যেভাবে বারকাত অবতীর্ণ করেছেন ইব্রাহীম (আঃ)-এর প্রতি। তবে বর্ণনাকারী আবূ সালিহ লায়স থেকে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ও তার পরিবারবর্গের প্রতি বারাকাত নাযিল করুন যেমন আপনি বারকাত নাযিল করেছেন ইব্রাহীমের পরিবারবর্গের প্রতি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৩৫)

ইয়াযীদ হতে বর্ণিত। তিনি (এমনিভাবে) বলেন, যেমনভাবে ইব্রাহীম (আঃ)-এর উপর রহমত অবতীর্ণ করেছেন। আর বারাকাত অবতীর্ণ করুন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি এবং মুহাম্মাদের পরিবারবর্গের প্রতি, যেভাবে বারাকাত নাযিল করেছেন ইব্রাহীম (আঃ)-এর প্রতি এবং ইব্রাহীমের পরিবারের প্রতি। [৬৩৫৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৩৪)
হাদিস নং: ৪৭৯৯ সহিহ (Sahih)
اسحاق بن ابراهيم اخبرنا روح بن عبادة حدثنا عوف عن الحسن ومحمد وخلاس عن ابي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان موسى كان رجلا حييا وذلك قوله تعالى (يٓايها الذين امنوا لا تكونوا كالذين اذوا موسى) فبراه الله مما قالوا (وكان عند الله وجيها).
৪৭৯৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মূসা (আঃ) ছিলেন খুব লজ্জাশীল। আর এ প্রেক্ষিতে আল্লাহর এ বাণী, হে মু’মিনগণ! তোমরা তাদের মত হয়ো না, যারা মূসা (আঃ)-কে কষ্ট দিয়েছে। তারপর আল্লাহ্ তা’আলা তাঁকে ওদের অভিযোগ থেকে পবিত্র করেছেন। আর তিনি ছিলেন আল্লাহর কাছে অতি সম্মানিত। [২৭৮[ (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৩৬)
হাদিস নং: ৪৮০০ সহিহ (Sahih)
الحميدي حدثنا سفيان حدثنا عمرو قال سمعت عكرمة يقول سمعت ابا هريرة يقول ان نبي الله صلى الله عليه وسلم قال اذا قضى الله الامر في السماء ضربت الملاىكة باجنحتها خضعانا لقوله كانه سلسلة على صفوان (اذا فزع عن قلوبهم قالوا ماذا قال ربكم) قالوا للذي قال الحق وهو العلي الكبير فيسمعها مسترق السمع ومسترق السمع هكذا بعضه فوق بعض ووصف سفيان بكفه فحرفها وبدد بين اصابعه فيسمع الكلمة فيلقيها الى من تحته ثم يلقيها الاخر الى من تحته حتى يلقيها على لسان الساحر او الكاهن فربما ادرك الشهاب قبل ان يلقيها وربما القاها قبل ان يدركه فيكذب معها ماىة كذبة فيقال اليس قد قال لنا يوم كذا وكذا كذا وكذا فيصدق بتلك الكلمة التي سمع من السماء.
(34) سُوْرَةُ سَبَإٍ

সূরাহ (৩৪) : সাবা

يُقَالُ (مُعَاجِزِيْنَ) مُسَابِقِيْنَ (بِمُعْجِزِيْنَ) بِفَائِتِيْنَ (مُعَاجِزِيْنَ) مُغَالِبِيْنَ (سَبَقُوْا) فَاتُوْا (لَايُعْجِزُوْنَ) لَا يَفُوْتُوْنَ (يَسْبِقُوْنَا) يُعْجِزُوْنَا وَقَوْلُهُ (بِمُعْجِزِيْنَ) بِفَائِتِيْنَ وَمَعْنَى (مُعَاجِزِيْنَ) مُغَالِبِيْنَ يُرِيْدُ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا أَنْ يُظْهِرَ عَجْزَ صَاحِبِهِ (مِعْشَارٌ) عُشْرٌ يُقَالُ (الْأُكُلُ) الثَّمَرُ (بَاعِدْ) وَبَعِّدْ وَاحِدٌ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (لَايَعْزُبُ)لَا يَغِيْبُ سَيْلَ (الْعَرِمِ) السُّدُّ مَاءٌ أَحْمَرُ أَرْسَلَهُ اللهُ فِي السُّدِّ فَشَقَّهُ وَهَدَمَهُ وَحَفَرَ الْوَادِيَ فَارْتَفَعَتَا عَنِ الْجَنْبَيْنِ وَغَابَ عَنْهُمَا الْمَاءُ فَيَبِسَتَا وَلَمْ يَكُنْ الْمَاءُ الْأَحْمَرُ مِنْ السُّدِّ وَلَكِنْ كَانَ عَذَابًا أَرْسَلَهُ اللهُ عَلَيْهِمْ مِنْ حَيْثُ شَاءَ

وَقَالَ عَمْرُوْ بْنُ شُرَحْبِيْلَ الْعَرِمُ الْمُسَنَّاةُ بِلَحْنِ أَهْلِ الْيَمَنِ وَقَالَ غَيْرُهُ الْعَرِمُ الْوَادِيْ (السَّابِغَاتُ) الدُّرُوْعُ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (يُجَازَى) يُعَاقَبُ (أَعِظُكُمْ بِوَاحِدَةٍ) بِطَاعَةِ اللهِ (مَثْنٰى وَفُرَادٰى) وَاحِدٌ وَاثْنَيْنِ (التَّنَاوُشُ) الرَّدُّ مِنَ الْآخِرَةِ إِلَى الدُّنْيَا (وَبَيْنَ مَا يَشْتَهُوْنَ) مِنْ مَالٍ أَوْ وَلَدٍ أَوْ زَهْرَةٍ (بِأَشْيَاعِهِمْ) بِأَمْثَالِهِمْ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ كَالْجَوَابِ (كَالْجَوْبَةِ) مِنَ الْأَرْضِ (الْخَمْطُ) الْأَرَاكُ (وَالأَثَلُ) الطَّرْفَاءُ (الْعَرِمُ) الشَّدِيْدُ.

مُعَاجِزِيْنَ প্রতিযোগিতাকারী بِمُعْجِزِيْنَ ব্যর্থকারী। مُعَاجِزِيْنَ বিজয়ী হওয়ার প্রয়াসী। سَبَقُوْا ছুটে গিয়েছে, পরিত্রাণ পেয়েছে। لَايُعْجِزُوْنَ তারা ছুটে যেতে পারবে না, ছাড়া পাবে না। يَسْبِقُوْنَا আমাদের অক্ষম করবে। بِمُعْجِزِيْنَ ব্যর্থকারী। مُعَاجِزِيْنَ পরস্পর বিজয়ী হওয়ার প্রত্যাশী। প্রত্যেকেই তার প্রতিপক্ষের অক্ষমতা প্রকাশ করতে চায়। مِعْشَارٌ এক-দশমাংশ। الْأُكُلُ ফল, بَاعِدْ - بَعِّدْ একই অর্থ, দূরত্ব করে দাও। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, لَايَعْزُبُ অদৃশ্য হয় না। الْعَرِمِ বাঁধ, আল্লাহ্ তা’আলা সে বাঁধের মধ্য দিয়ে লাল পানি প্রবাহিত করে তা ফাটিয়ে ধ্বংস করে দেন এবং একটি উপত্যকা খুদে ফেলেন। ফলে তার দু’পার্শ্ব উঁচু হয়ে তা থেকে পানি সরে পড়ে এবং উভয় পার্শ্ব শুকিয়ে যায়। এ লাল পানি বাঁধ থেকে আসেনি, বরং তা ছিল তাদের প্রতি আল্লাহর প্রেরিত আযাব, যা তিনি যেখান থেকে ইচ্ছে পাঠিয়েছিলেন।

’আমর ইবনু শুরাহ্বীল (রহ.) বলেন, الْعَرِمُ ইয়ামানবাসীদের ভাষায় কুঁজের মত উঁচু। অন্য হতে বর্ণিত। الْعَرِمُউপত্যকা, السَّابِغَاتُ বর্মসমূহ। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, يُجَازَى শাস্তি দেয়া হবে। أَعِظُكُمْ بِوَاحِدَةٍআল্লাহর আনুগত্য। مَثْنَىوَفُرَادَى একা একা এবং দু’ দু’জন। التَّنَاوُشُ পরজগত থেকে দুনিয়ার দিকে ফিরে আসা। وَبَيْنَ مَا يَشْتَهُوْنَ অর্থাৎ সম্পদ, সন্ততি বা জাঁক-জমক। بِأَشْيَاعِهِمْ তাদের মত। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, كَالْجَوْبَةِ যমীনে হাউজ সদৃশ। الْخَمْطُ বিস্বাদ বৃক্ষ। الْأَثَلُ ঝাউ গাছ। الْعَرِمُ কঠিন।


৪৮০০. ’ইকরিমাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা যখন আকাশে কোন ফায়সালা করেন তখন মালায়িকাহ আল্লাহর নির্দেশের প্রতি অতি নম্রভাবে তাদের ডানা ঝাড়তে থাকে; যেন মসৃণ পাথরের উপর শিকলের আওয়াজ। যখন তাদের মনের ভয়-ভীতি দূর হয় তারা (একে অপরকে) জিজ্ঞেস করে, তোমাদের প্রতিপালক কী বলেছেন? তারা বলেন, তিনি যা বলেছেন, সত্যই বলেছেন। তিনি মহান উচ্চ। যে সময়ে লুকোচুরিকারী (শায়ত্বন) তা শোনে, আর লুকোচুরিকারী এরূপ একের ওপর এক। সুফ্ইয়ান তাঁর হাত উপরে উঠিয়ে আঙ্গুলগুলো ফাঁক করে দেখান।

তারপর শায়ত্বন কথাগুলো শুনে নেয় এবং প্রথমজন তার নিচের জনকে এবং সে তার নিচের জনকে জানিয়ে দেয়। এমনিভাবে এ খবর দুনিয়ার জাদুকর ও জ্যোতিষের কাছে পৌঁছে দেয়। কোন কোন সময় কথা পৌঁছানোর আগে তার উপর অগ্নিশিখা নিক্ষিপ্ত হয় আবার অগ্নিশিখা নিক্ষিপ্ত হওয়ার আগে সে কথা পৌঁছিয়ে দেয় এবং এর সাথে শত মিথ্যা মিশিয়ে বলে। এরপর লোকেরা বলাবলি করে সে কি অমুক দিন অমুক অমুক কথা আমাদের বলেনি? এবং সেই কথা যা আসমান থেকে শুনে এসেছে তার জন্য সব কথা সত্য বলে মনে করে। [৪৭০১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৩৭)
হাদিস নং: ৪৮০১ সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا محمد بن خازم حدثنا الاعمش عن عمرو بن مرة عن سعيد بن جبير عن ابن عباس رضي الله عنهما قال صعد النبي صلى الله عليه وسلم الصفا ذات يوم فقال يا صباحاه فاجتمعت اليه قريش قالوا ما لك قال ارايتم لو اخبرتكم ان العدو يصبحكم او يمسيكم اما كنتم تصدقوني قالوا بلى قال فاني (نذير لكم بين يدي عذاب شديد) فقال ابو لهب تبا لك الهذا جمعتنا فانزل الله (تبت يدآ ابي لهب).
৪৮০১. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সাফা পাহাড়ে আরোহণ করে ’ইয়া সাবাহাহ’ বলে সবাইকে ডাক দিলেন। কুরাইশগণ তাঁর কাছে জমায়েত হয়ে বলল, তোমার ব্যাপার কী? তিনি বললেন, তোমরা বল তো, আমি যদি তোমাদের বলি যে, শত্রুবাহিনী সকাল বা সন্ধ্যায় তোমাদের উপর আক্রমণ করতে প্রস্তুত, তবে কি তোমরা আমার এ কথা বিশ্বাস করবে? তারা বলল, নিশ্চয়ই। তিনি বললেন, আমি তোমাদের জন্য এক আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে ভয় প্রদর্শন করছি। এ কথা শুনে আবূ লাহাব বলল, তোমার ধ্বংস হোক। এই জন্যই কি আমাদেরকে জমায়েত করেছিলে? তখন আল্লাহ্ নাযিল করেনঃ تَبَّتْ يَدَآ أَبِيْ لَهَبٍ ’’আবূ লাহাবের হাত দু’টো ধ্বংস হোক।’’ [১৩৯৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৩৮)
হাদিস নং: ৪৮০২ সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا الاعمش عن ابراهيم التيمي عن ابيه عن ابي ذر رضي الله عنه قال كنت مع النبي صلى الله عليه وسلم في المسجد عند غروب الشمس فقال يا ابا ذر اتدري اين تغرب الشمس قلت الله ورسوله اعلم قال فانها تذهب حتى تسجد تحت العرش فذلك قوله تعالى(والشمس تجري لمستقر لها ذلك تقدير العزيز العليم).
(35) سُوْرَةُ الْمَلَائِكَةِ (الفاطر)

সূরাহ (৩৫) : মালায়িকাহ (ফাতির)

قَالَ مُجَاهِدٌ (الْقِطْمِيْرُ) لِفَافَةُ النَّوَاةِ (مُثْقَلَةٌ) مُثَقَّلَةٌ وَقَالَ غَيْرُهُ (الْحَرُوْرُ) بِالنَّهَارِ مَعَ الشَّمْسِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ الْحَرُوْرُ بِاللَّيْلِ وَالسَّمُوْمُ بِالنَّهَارِ (وَغَرَابِيْبُ أَشَدُّ) سَوَادٍ الْغِرْبِيْبُ الشَّدِيْدُ السَّوَادِ.

মুজাহিদ (রহ.) বলেন, الْقِطْمِيْرُ অর্থ-খেজুরের আঁটির পর্দা। مُثْقَلَةٌ ভারাক্রান্ত ব্যক্তি। অন্যরা বলেছেন, (আল-হারূর- অর্থ-দিবাভাগে সূর্যের উত্তাপ। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, রাতের উত্তাপকে الْحَرُوْرُ এবং দিনের উত্তাপকে السَّمُوْمُ বলা হয়। وَغَرَابِيْبُ أَشَدُّ অধিক কালো।

(36) سُوْرَةُ يس

সূরাহ (৩৬) : ইয়াসীন

وَقَالَ مُجَاهِدٌ (فَعَزَّزْنَا) شَدَّدْنَا (يَا حَسْرَةً عَلَى الْعِبَادِ) كَانَ حَسْرَةً عَلَيْهِمْ اسْتِهْزَاؤُهُمْ بِالرُّسُلِ (أَنْتُدْرِكَالْقَمَرَ) لَا يَسْتُرُ ضَوْءُ أَحَدِهِمَا ضَوْءَ الآخَرِ وَلَا يَنْبَغِيْ لَهُمَا ذَلِكَ (سَابِقُ النَّهَارِ) يَتَطَالَبَانِ حَثِيْثَيْنِ (نَسْلَخُ) نُخْرِجُ أَحَدَهُمَا مِنَ الْآخَرِ وَيَجْرِيْ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا (مِنْ مِثْلِهِ) مِنَ الْأَنْعَامِ (فَكِهُوْنَ) مُعْجَبُوْنَ (جُنْدٌ مُحْضَرُوْنَ) عِنْدَ الْحِسَابِ وَيُذْكَرُ عَنْ عِكْرِمَةَ الْمَشْحُوْنِ الْمُوْقَرُ

وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (طَائِرُكُمْ) مَصَائِبُكُمْ (يَنْسِلُوْنَ) يَخْرُجُوْنَ (مَرْقَدِنَا) مَخْرَجِنَا (أَحْصَيْنَاهُ) حَفِظْنَاهُ (مَكَانَتُهُمْ) وَمَكَانُهُمْ وَاحِدٌ.

মুজাহিদ (রহ.) বলেন, فَعَزَّزْنَا আমি অধিক শক্তি দিলাম। يَا حَسْرَةً عَلَى الْعِبَادِ দুনিয়াতে রাসূলদের সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করার ফলে আখিরাতে তাদের অবস্থা দুঃখময় হবে। أَنْ تُدْرِكَ الْقَمَرَ একটির আলো অন্যটির আলোর উপর কোন প্রভাব ফেলতে পারে না এবং চন্দ্র ও সূর্যের জন্য তা সম্ভব নয়। سَابِقُ النَّهَارِ রাত্র এবং দিন উভয়ই একে অপরের পেছনে অবিরাম গতিতে চলছে। نَسْلَخُ (রাত-দিন) উভয়ের মধ্যে একটিকে আমি অপরটি থেকে সরিয়ে দিই এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে সাঁতার কাটে। مِنْ مِثْلِهِ অনুরূপ চতুষ্পদ জন্তু। فَكِهُوْنَ আনন্দিত। جُنْدٌ مُحْضَرُوْنَ হিসাবের সময় তাদের উপস্থিত করা হবে তাদের বাহিনীরূপে। ইকরামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, الْمَشْحُوْنِ বোঝাইকৃত।

ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, طَائِرُكُمْ তোমাদের বিপদাপদ। يَنْسِلُوْنَ তারা বেরিয়ে আসবে। مَرْقَدِنَا আমাদের বের হবার স্থান। أَحْصَيْنَاهُ হিফাযাত করেছি আমি প্রতিটি বস্তুকে। مَكَانَتُهُمْ এবং مَكَانُهُمْএকই ; তাদের স্থানে।


৪৮০২. আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় আমি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মসজিদে ছিলাম। তিনি বললেন, হে আবূ যার! তুমি কি জানো সূর্য কোথায় ডুবে? আমি বললাম, আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল সবচেয়ে ভাল জানেন। তিনি বললেন, সূর্য চলে, অবশেষে আরশের নিচে গিয়ে সিজদা করে। নিম্নবর্ণিত وَالشَّمْسُ تَجْرِيْ لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَا ذٰلِكَ تَقْدِيْرُ الْعَزِيْزِ الْعَلِيْمِ  এ আয়াতের কথাই বর্ণনা করা হয়েছে, অর্থাৎ সূর্য ভ্রমণ করে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের পানে, এ হল পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ। [৩১৯৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৩৯)
হাদিস নং: ৪৮০৩ সহিহ (Sahih)
الحميدي حدثنا وكيع حدثنا الاعمش عن ابراهيم التيمي عن ابيه عن ابي ذر قال سالت النبي صلى الله عليه وسلم عن قوله تعالى (والشمس تجري لمستقر لها) قال مستقرها تحت العرش.
৪৮০৩. আবূ যার গিফারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আল্লাহর বাণীঃ وَالشَّمْسُ تَجْرِيْ لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَا সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেছেন, সূর্যের গন্তব্যস্থল আরশের নিচে। [৩১৯৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৪০)
হাদিস নং: ৪৮০৪ সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا جرير عن الاعمش عن ابي واىل عن عبد الله رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما ينبغي لاحد ان يكون خيرا من يونس بن متى
(37) سُوْرَةُ الصَّافَّاتِ

সূরাহ (৩৭) : ওয়াস্‌সাফফাত

وَقَالَ مُجَاهِدٌ (وَيَقْذِفُوْنَ بِالْغَيْبِ مِنْ مَّكَانٍمبَعِيْدٍ) مِنْ كُلِّ (مَكَانٍ وَّيُقْذَفُوْنَ مِنْ كُلِّ جَانِبٍ) يُرْمَوْنَ (وَاصِبٌ) دَائِمٌ (لَازِبٌ) لَازِمٌ (تَأْتُوْنَنَا عَنِ الْيَمِيْنِ) يَعْنِي الْحَقَّ الْكُفَّارُ تَقُوْلُهُ لِلشَّيْطَانِ (غَوْلٌ) وَجَعُ بَطْنٍ (يُنْزَفُوْنَ) لَا تَذْهَبُ عُقُوْلُهُمْ (قَرِيْنٌ) شَيْطَانٌ (يُهْرَعُوْنَ) كَهَيْئَةِ الْهَرْوَلَةِ (يَزِفُّوْنَ) النَّسَلَانُ فِي الْمَشْيِ (وَبَيْنَ الْجِنَّةِ نَسَبًا) قَالَ كُفَّارُ قُرَيْشٍ الْمَلَائِكَةُ بَنَاتُ اللهِ وَأُمَّهَاتُهُمْ بَنَاتُ سَرَوَاتِ الْجِنِّ وَقَالَ اللهُ تَعَالَى (وَلَقَدْ عَلِمَتِ الْجِنَّةُ إِنَّهُمْ لَمُحْضَرُوْنَ) سَتُحْضَرُ لِلْحِسَابِ

وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (لَنَحْنُ الصَّافُّوْنَ) الْمَلَائِكَةُ(صِرَاطِ الْجَحِيْمِ) سَوَاءِ الْجَحِيْمِ وَوَسَطِ الْجَحِيْمِ (لَشَوْبًا) يُخْلَطُ طَعَامُهُمْ وَيُسَاطُ بِالْحَمِيْمِ (مَدْحُوْرًا) مَطْرُوْدًا (بَيْضٌ مَّكْنُوْنٌ) اللُّؤْلُؤُ الْمَكْنُوْنُ (وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِي الْآخِرِيْنَ) يُذْكَرُ بِخَيْرٍ وَيُقَالُ (يَسْتَسْخِرُوْنَ) يَسْخَرُوْنَ(بَعْلًا) رَبًّا.

মুজাহিদ (রহ.) বলেছেন, আল্লাহর বাণীঃ مِنْ مَكَانٍ بَعِيْدٍ মানে সকল স্থান থেকে। يُقْذَفُوْنَ নিক্ষিপ্ত হবে তাদের প্রতি। وَاصِبٌঅবিরাম বা অব্যাহত। لَازِبٌআঠালো। تَأْتُوْنَنَا عَنِ الْيَمِيْنِ তোমরা তো হাক, কল্যাণ এবং সুখ-শান্তির বাণী নিয়ে আমাদের কাছে আসতে, এ কথাগুলো কাফিররা শায়ত্বনকে বলবে। غَوْلٌ পেটের ব্যথা। يُنْزَفُوْنَ তাদের বুদ্ধি নষ্ট হবে না। قَرِيْنٌ শায়ত্বন। يُهْرَعُوْنَ দ্রুত পদক্ষেপে চলা। يَزِفُّوْنَ দ্রুতগতিতে পথ চলা। بَيْنَ الْجِنَّةِ نَسَبًا কুরাইশ কাফেররা বলত, মালাক আল্লাহর কন্যা এবং তাদের মা জিন নেতাদের কন্যারা। আল্লাহ্ বলেন, وَلَقَدْ عَلِمَتِ الْجِنَّةُ إِنَّهُمْ لَمُحْضَرُوْنَ জিনেরা জানে, তাদেরও উপস্থিত করা হবে- তাদের হাজির করা হবে শাস্তির জন্য।

ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, لَنَحْنُ الصَّافُّوْنَ ’আমরা তো সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান’ দ্বারা মালাইকা বোঝানো হয়েছে। صِرَاطِ الْجَحِيْمِ জাহান্নামের পথে বা জাহান্নামের মধ্যে। لَشَوْبًا তাদের খাদ্য ফুটন্ত পানি মিশ্রিত। مَدْحُوْرًا বিতাড়িত। بَيْضٌ مَكْنُوْنٌ সুরক্ষিত মুক্তা। وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِي الاٰخِرِيْنَ তাদেরকে সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা হবে। يَسْتَسْخِرُوْنَ তারা উপহাস করত। بَعْلًا দেবমূর্তি।


৪৮০৪. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (ইউনুস) ইবনু মাত্তার চেয়ে উত্তম বলে মনে করা কারো জন্য শোভনীয় নয়। [৩৪১২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৪১)
হাদিস নং: ৪৮০৫ সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن المنذر حدثنا محمد بن فليح قال حدثني ابي عن هلال بن علي من بني عامر بن لوي عن عطاء بن يسار عن ابي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من قال انا خير من يونس بن متى فقد كذب.
৪৮০৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে বলল, আমি ইউনুস ইবনু মাত্তার চেয়ে উত্তম, সে মিথ্যা বলল। [৩৪১৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৪২)
হাদিস নং: ৪৮০৬ সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة عن العوام قال سالت مجاهدا عن السجدة في ص قال سىل ابن عباس فقال (اولىك الذين هدى الله فبهداهم اقتده) وكان ابن عباس يسجد فيها
৪৮০৬. ’আও্ওয়াম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুজাহিদকে সূরাহ সাদ-এর সাজদা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, (এ বিষয়ে) ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি পাঠ করলেন, أُولٓٓئِكَ الَّذِيْنَ هَدَى اللهُ فَبِهُدَاهُمْ اقْتَدِهْ ’তাদেরকেই আল্লাহ্ সৎপথে পরিচালিত করেছেন, সুতরাং তাঁদের পথের অনুসরণ কর। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) এতে সিজদা্ করতেন।’’ [৩৪২১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৪৩)
হাদিস নং: ৪৮০৭ সহিহ (Sahih)
محمد بن عبد الله حدثنا محمد بن عبيد الطنافسي عن العوام قال سالت مجاهدا عن سجدة في ص فقال سالت ابن عباس من اين سجدت فقال او ما تقرا (ومن ذريته داو”د وسليمان اولٓىك الذين هدى الله فبهداهم اقتده) فكان داود ممن امر نبيكم صلى الله عليه وسلم ان يقتدي به فسجدها داود عليه السلام فسجدها رسول الله صلى الله عليه وسلم
(عجاب) عجيب (القط)الصحيفة هو ها هنا صحيفة الحساب وقال مجاهد (في عزة) معازين (الملةالاخرة) ملة قريش الاختلاق : الكذب (الاسباب) طرق السماء في ابوابها قوله (جندماهنالكمهزوم) يعني قريشا (اولٓ ىك الاحزاب) القرون الماضية (فواق) رجوع (قطنا)عذابنا (اتخذناهم سخريا) احطنا بهم (اتراب) امثال وقال ابن عباس الايد القوة في العبادة (الابصار) البصر في امر الله (حب الخير عن ذكر ربي) من ذكر (طفق مسحا) يمسح اعراف الخيل وعراقيبها (الاصفاد) الوثاق.
৪৮০৭. ’আও্ওয়াম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুজাহিদকে সূরাহ সাদ-এর সাজদা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমি ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, (এ সূরায়) সাজদা কোত্থেকে? তিনি বললেন, তুমি কি কুরআনের এ আয়াত পড়নি। وَمِنْ ذُرِّيَّتِهٰدَاوচدَ وَسُلَيْمَانَ أُولٓٓئِكَ الَّذِيْنَ هَدَى اللهُ فَبِهُدَاهُمْ اقْتَدِهْ ’’আর তার বংশধর দাউদ ও সুলায়মান- তাদেরই আল্লাহ্ সৎপথে পরিচালিত করেছেন, সুতরাং তাঁদের পথের অনুসরণ কর। দাঊদ তাঁদের একজন, তোমাদের নবীকে যাদের অনুসরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাই নবী এ সূরায় সাজ্দাহ করেছেন।

عُجَابٌ অত্যাশ্চর্য। الْقِطُّ লিপি। এখানে صَحِيْفَةُ দ্বারা নেক লিপি বোঝানো হয়েছে। মুজাহিদ বলেছেন, فِيْعِزَّةٍ ঔদ্ধত্য। الْمِلَّةِالْآخِرَةِ কুরাইশদের ধর্ম। الاخْتِلَاقُ মিথ্যা। الْأَسْبَابُ আকাশের পথসমূহ جُنْدٌ مَّا هُنَالِكَ مَهْزُوْمٌ এ বাহিনীও সে ক্ষেত্রে অবশ্যই পরাজিত হবে অর্থাৎ কুরাইশ সম্প্রদায়। أُولٓٓئِكَ الْأَحْزَابُ অতীতকাল। فَوَاقٍ প্রত্যাবর্তন। قِطَّنَا আমাদের শাস্তি। اتَّخَذْنَاهُمْ سُخْرِيًّا আমি তাদের বেষ্টন করে রেখেছি। أَتْرَابٌ সমবয়স্কা। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, ’ইবাদাতে শক্তিশালী ব্যক্তি। الْأَبْصَارُআল্লাহর কাছে সূক্ষ্মদর্শী ব্যক্তি। حُبَّ الْخَيْرِ عَنْ ذِكْرِ رَبِّيْআল্লাহর স্মরণ থেকে। طَفِقَ مَسْحًا তিনি ঘোড়াগুলোর পা ও গলায় হাত বুলাতে লাগলেন। الْأَصْفَادِ শৃংখল (বাঁধন)। [৩৪২১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৪৪)
হাদিস নং: ৪৮০৮ সহিহ (Sahih)
اسحاق بن ابراهيم حدثنا روح ومحمد بن جعفر عن شعبة عن محمد بن زياد عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ان عفريتا من الجن تفلت علي البارحة او كلمة نحوها ليقطع علي الصلاة فامكنني الله منه واردت ان اربطه الى سارية من سواري المسجد حتى تصبحوا وتنظروا اليه كلكم فذكرت قول اخي سليمان (رب هب لي ملكا لا ينبغي لاحد منمبعدي) قال روح فرده خاسىا.
৪৮০৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, গতরাতে অবাধ্য জিনের একটি দৈত্য আমার কাছে এসেছিল অথবা এ ধরনের কিছু কথা তিনি বললেন, আমার সালাত নষ্ট করার উদ্দেশে। তখন আল্লাহ্ আমাকে তার উপর আধিপত্য দিলেন। আমি ইচ্ছা করলাম, মসজিদের খুঁটিগুলোর একটির সঙ্গে ওকে বেঁধে রাখতে, যাতে ভোরে তোমরা সকলে ওটা দেখতে পাও। তখন আমার ভাই সুলায়মান (আঃ)-এর দু’আ স্মরণ হল, رَبِّ هَبْ لِيْ مُلْكًا لَا يَنْبَغِيْ لِأَحَدٍ مِّنْمبَعْدِيْ ’’হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দান কর এমন এক রাজ্য যার অধিকারী আমি ব্যতীত আর কেউ না হয়।’’ রাবী রাওহ্ বলেন, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অপমান করে তাড়িয়ে দেন। [৪৬১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৪৫)
হাদিস নং: ৪৮০৯ সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا جرير عن الاعمش عن ابي الضحى عن مسروق قال دخلنا على عبد الله بن مسعود قال يا ايها الناس من علم شيىا فليقل به ومن لم يعلم فليقل الله اعلم فان من العلم ان يقول لما لا يعلم الله اعلم قال الله عز وجل لنبيه (قل مآ اسالكم عليه من اجر ومآ انا من المتكلفين) وساحدثكم عن الدخان ان رسول الله صلى الله عليه وسلم دعا قريشا الى الاسلام فابطىوا عليه فقال اللهم اعني عليهم بسبع كسبع يوسف فاخذتهم سنة فحصت كل شيء حتى اكلوا الميتة والجلود حتى جعل الرجل يرى بينه وبين السماء دخانا من الجوع قال الله عز وجل (فارتقب يوم تاتي السماء بدخان مبين لا - يغشى الناس ط هذا عذاب اليم (11)) قال فدعوا (ربنا اكشف عنا العذاب انا مومنون - انى لهم الذكرى وقد جاءهم رسول مبين لا - ثم تولوا عنه وقالوا معلم مجنون ﻣ- انا كاشفوا العذاب قليلا انكم عاىدون ﻣ) افيكشف العذاب يوم القيامة قال فكشف ثم عادوا في كفرهم فاخذهم الله يوم بدر قال الله تعالى (يوم نبطش البطشة الكبرى ج انا منتقمون).
৪৮০৯. মাসরূক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসঊদ (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। তিনি বললেন, হে লোকসকল! যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে অবগত সে তা বর্ণনা করবে। আর যে না জানে, তার বলা উচিত, আল্লাহ্ই ভাল জানেন। কেননা অজানা বিষয় সম্বন্ধে আল্লাহ্ই ভাল জানেন, এ কথা বলাও জ্ঞানের নিদর্শন। আল্লাহ্ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলেছেন, ’বল, এর (কুরআন বা তাওহীদ প্রচারের) জন্য আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না এবং আমি বানোয়াটকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই।’’ (কুরআনে উল্লেখিত) ধূম্র সম্পর্কে শীঘ্র আমি তোমাদের বলব। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশদেরকে ইসলামের প্রতি দাওয়াত দিলে তারা (সাড়া দিতে) বিলম্ব করল। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ্! ইউসুফ (আঃ)-এর জীনবকালের দুর্ভিক্ষের সাত বছরের মত দুর্ভিক্ষ দ্বারা তুমি আমাকে তাদের বিরুদ্ধে সাহায্য কর। এরপর দুর্ভিক্ষ তাদেরকে ঘিরে ফেলল। শেষ হয়ে গেল সমস্ত কিছু। অবশেষে তারা মৃত জন্তু ও চামড়া খেতে লাগল। তখন তাদের কেউ আকাশের দিকে তাকালে ক্ষুধার জ্বালায় চোখে আকাশ ও তার মধ্যে ধূম্র দেখত।

আল্লাহ্ বললেন, ’’অতএব তুমি সেদিনের অপেক্ষা কর, যেদিন ধূম্র হবে আকাশে, এবং তা ঘিরে ফেলবে সকল মানুষ। এ তো মর্মন্তুদ শাস্তি।’’ রাবী বলেন, তারপর তারা দু’আ করল, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এ আযাব থেকে নাজাত দাও, আমরা ঈমান আনব। তারা কীভাবে নাসীহাত মানবে? তাদের কাছে তো এসেছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাদাতা এক রাসূল। তারপর তারা মুখ ঘুরিয়ে নিল তাঁর থেকে এবং বলল, সে তো শিখানো কথা বলে, সে তো এক উন্মাদ। আমি তোমাদের শাস্তি কিছুকালের জন্য রহিত করছি। তোমরা তো অবশ্য তোমাদের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। (ইবনু মাসউদ বলেন), কিয়ামতের দিনও কি তাদের থেকে ’আযাব রহিত করা হবে? তিনি (ইবনু মাসউদ) বলেন, ’আযাব সরানো হলে তারা পুনরায় কুফরীর দিকে ফিরে গেল। তারপর আল্লাহ্ তা’আলা বদর যুদ্ধের দিন তাদের পাকড়াও করলেন। আল্লাহ্ বলেন, যেদিন আমি তোমাদের কঠিনভাবে ধরব, সেদিন আমি তোমাদের শাস্তি দেবই। [১০০৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৪৬)
হাদিস নং: ৪৮১০ সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن موسى اخبرنا هشام بن يوسف ان ابن جريج اخبرهم قال يعلى ان سعيد بن جبير اخبره عن ابن عباس رضي الله عنهما ان ناسا من اهل الشرك كانوا قد قتلوا واكثروا وزنوا واكثروا فاتوا محمدا صلى الله عليه وسلم فقالوا ان الذي تقول وتدعو اليه لحسن لو تخبرنا ان لما عملنا كفارة (والذين لا يدعون مع الله الها اخر ولا يقتلون النفس التي حرم الله الا بالحق ولا يزنون) ونزلت (قل يعبادي الذين اسرفوا علٓى انفسهم لا تقنطوا من رحمة الله ط ان الله يغفر الذنوب جميعا ط انه” هو الغفور الرحيم).
(39) سُوْرَةُ الزُّمَرِ

সূরাহ (৩৯) : যুমার

وَقَالَ مُجَاهِدٌ (أَفَمَنْ يَتَّقِيْ بِوَجْهِهٰ) يُجَرُّ عَلَى وَجْهِهِ فِي النَّارِ وَهُوَ قَوْلُهُ تَعَالَى (أَفَمَنْ يُّلْقٰى فِي النَّارِ خَيْرٌ أَمْ مَّنْ يَّأْتِيْ اٰمِنًا يَّوْمَ الْقِيَامَةِ غَيْرَ ذِيْ عِوَجٍ) لَبْسٍ وَرَجُلًا سَلَمًا لِرَجُلٍ مَثَلٌ لِآلِهَتِهِمْ الْبَاطِلِ وَالإِلَهِ الْحَقِّ(وَيُخَوِّفُوْنَكَ بِالَّذِيْنَ مِنْ دُوْنِهٰ) بِالأَوْثَانِ (خَوَّلْنَا) أَعْطَيْنَا (وَالَّذِيْ جَآءَ بِالصِّدْقِ) الْقُرْآنُ (وَصَدَّقَ بِهٰ)الْمُؤْمِنُ يَجِيْءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَقُوْلُ هَذَا الَّذِيْ أَعْطَيْتَنِيْ عَمِلْتُ بِمَا فِيْهِ وَقَالَ غَيْرُهُ (مُتَشَاكِسُوْنَ) الرَّجُلُ الشَّكِسُ الْعَسِرُ لَا يَرْضَى بِالْإِنْصَافِ (وَرَجُلًا سِلْمًا) وَيُقَالُ سَالِمًا صَالِحًا (اشْمَأَزَّتْ) نَفَرَتْ (بِمَفَازَتِهِمْ) مِنَ الْفَوْزِ (حَآفِّيْنَ) أَطَافُوْا بِهِ مُطِيْفِيْنَ (بِحِفَافَيْهِ)بِجَوَانِبِهِ (مُتَشَابِهًا) لَيْسَ مِنَ الْاشْتِبَاهِ وَلَكِنْ يُشْبِهُ بَعْضُهُ بَعْضًا فِي التَّصْدِيْقِ.

মুজাহিদ (রহ.) বলেছেন, أَفَمَنْ يَتَّقِيْ بِوَجْهِهٰ অধোমুখী করে তাদেরকে জাহান্নামের দিকে হেঁচড়িয়ে নেয়া হবে। এ আয়াতটি নিম্নোক্ত আয়াতের মতই, أَفَمَنْ يُّلْقٰى فِي النَّارِ خَيْرٌ أَمْ مَّنْ يَّأْتِيْاٰمِنًا يَّوْمَ الْقِيَامَةِ غَيْرَ ذِيْ عِوَجٍ ’’যে ব্যক্তি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে সে শ্রেষ্ঠ, না যে কিয়ামতের দিন নিরাপদে থাকবে সে?’’ ذِيْعِوَجٍ সন্দেহপূর্ণ। وَرَجُلًا سَلَمًا لِرَجُلٍ মুশরিকদের বাতিল মাবূদ এবং হক মাবূদের উদাহরণ দেয়া হয়েছে। وَيُخَوِّفُوْنَكَ بِالَّذِيْنَ مِنْ دُوْنِهٰতারা তোমাকে আল্লাহর পরিবর্তে অপরের ভয় দেখায়। এখানে دُوْنِهٰমানে প্রতিমা। خَوَّلْنَا আমি দিলাম। وَالَّذِيْ جَآءَ بِالصِّدْقِ এর الصِّدْقِ মানে কুরআন। وَصَدَّقَ بِهِ মু’মিনগণ কিয়ামতের দিন বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! এই সে কুরআন যা আপনি আমাকে দিয়েছেন এবং আমি তার বিধানসমূহের ওপর ’আমল করেছি। مُتَشَاكِسُوْنَ ঐ উদ্ধত পশু প্রকৃতির ব্যক্তি, যে ইনসাফে সন্তুষ্ট নয়। وَرَجُلًا سِلْمًا যোগ্য বা নেককার ; যেমন বলা হয় سَالِمًاصَالِحًا। اشْمَأَزَّتْ পলায়ন করে। بِمَفَازَتِهِمْ নির্গত হয়েছে الْفَوْزِ হতে যার অর্থ; সাফল্যসহ। بِحِفَافَيْهِ তারা ঘুরবে; তাওয়াফ করবে। حَافِّيْنَ চতুষ্পার্শ্বে। مُتَشَابِهًا শব্দটি الاشْتِبَاهِ মাসদার হতে নির্গত নয় : কুরআন সত্যায়নের ব্যাপারে পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ।

(قُلْ يٰعِبَادِيَ الَّذِيْنَ أَسْرَفُوْا عَلٰٓى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوْا مِنْ رَّحْمَةِ اللهِ ط إِنَّ اللهَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ جَمِيْعًا ط إِنَّه” هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ).

হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের উপর যুল্ম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমা করবেন সকল গুনাহ। বস্তুতঃ তিনি পরম ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু।

(সূর আয্-যুমার ৩৯/৫৩)


৪৮১০. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুশরিকদের কিছু লোক বহু হত্যা করে এবং বেশি বেশি ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। তারপর তারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এল এবং বলল, আপনি যা বলেন এবং আপনি যেদিকে আহবান করেন, তা অতি উত্তম। আমাদের যদি অবগত করতেন, আমরা যা করেছি, তার কাফ্ফারা কী? এর প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয় ’এবং যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোন ইলাহ্কে ডাকে না, আল্লাহ্ যাকে হত্যা করা নিষেধ করেছেন, তাকে না-হক হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। আরো অবতীর্ণ হলঃ ’’হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অন্যায় করে ফেলেছ, আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না।’’ [মুসলিম ১/৫৪, হাঃ ১২২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৪৭)
হাদিস নং: ৪৮১১ সহিহ (Sahih)
ادم حدثنا شيبان عن منصور عن ابراهيم عن عبيدة عن عبد الله رضي الله عنه قال جاء حبر من الاحبار الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا محمد انا نجد ان الله يجعل السموات على اصبع والارضين على اصبع والشجر على اصبع والماء والثرى على اصبع وساىر الخلاىق على اصبع فيقول انا الملك فضحك النبي صلى الله عليه وسلم حتى بدت نواجذه تصديقا لقول الحبر ثم قرا رسول الله صلى الله عليه وسلم (وما قدروا الله حق قدره).
৪৮১১. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াহূদী আলিমদের থেকে এক আলিম রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! আমরা (তাওরাতে দেখতে) পাই যে, আল্লাহ্ তা’আলা আকাশসমূহকে এক আঙ্গুলের উপর স্থাপন করবেন, যমীনকে এক আঙ্গুলের উপর, বৃক্ষসমূহকে এক আঙ্গুলের উপর, পানি ও কাঁদামাটি এক আঙ্গুলের উপর এবং অন্যান্য সৃষ্টি জগত এক আঙ্গুলের উপর স্থাপন করবেন। তারপর বলবেন, আমিই বাদশাহ। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা সমর্থনে হেসে ফেললেন; এমনকি তাঁর সামনের দাঁত প্রকাশ হয়ে পড়ে। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন, তারা আল্লাহকে যথোচিত মর্যাদা দান করে না।[1]

[৭৪১৪, ৭৪১৫, ৭৪৫১, ৭৫১৩; মুসলিম ৫০/হাঃ ২৭৮৬, আহমাদ ৪৩৬৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৪৮)
নোট: [1] আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের আক্বীদাহ হলো, আল্লাহর সিফাতকে তাঁর কোন মাখ্লুকের সাথে সাদৃশ্য না করে তাঁর উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। অতএব আল্লাহ তা‘আলাকে নিরাকার বলা বা বিশ্বাস করা ঠিক নয়। যেমন উক্ত হাদীসে আল্লাহর আঙ্গুলের কথা এসেছে এবং পরের অধ্যায়ের আয়াতে তাঁর ডান হাত ও মুঠের কথাও বলা হয়েছে। সর্বপরি আল্লাহ নিরাকার কথাটি কুরআন ও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। বরং হিন্দু সংস্কৃতি থেকে আমদানীকৃত বটে। যারা আল্লাহকে নিরাকার বলেন, তারা কুরআন ও হাদীসে অনেক প্রমাণের দাবী করলেও তা কখনই পেশ করেন না।

যেহেতু বিষয়টি আকীদাহর সাথে সম্পৃক্ত সেহেতু এ বিষয়টি আরো পরিষ্কার করার জন্য কিছু দলীল উপস্থাপন করা হলোঃ

কুরআন মাজীদের বিভিন্ন আয়াত ও হাদীসে আল্লাহ তা‘আলার চেহারা, হাত, পা, চক্ষু, যাত বা সত্ত্বা, সূরাত বা আকারের কথা উল্লেখ হয়েছে যার অর্থ স্পষ্ট। এর মাধ্যমে আল্লাহর নির্দিষ্ট আকার-আকৃতি আছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। কারণ যিনি নিরাকার তার এ সব কিছু থাকার কথা নয়। তবে হ্যাঁ, আকার আকৃতি কেমন তা তিনি ছাড়া কেউ জানেন না। মু’মিনগণ কিয়ামতের দিন তাঁকে দেখতে পাবে। জান্নাতের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ নি‘মাত হবে আল্লাহর দীদার। আর দীদারযোগ্য কোন কিছু নিরাকার হতে পারে না। তেমনি ভাবে নিরাকার কখনও দীদারযোগ্য হতে পারে না। আর এমন নয় যে, তিনি এখন নিরাকার তবে কিয়ামতের দিন অবয়ব বিশিষ্ট হয়ে যাবেন। কারণ আল্লাহকে পরিবর্তনশীল মনে করাটাও আকীদাহ বিরোধী। সুতরাং আল্লাহকে নিরাকার বলা শুধু ভ্রান্তই নয় বরং বোকামী ও অজ্ঞতাও বটে। এ ভ্রান্ত ধারণা সালাফদের যুগে ছিলনা। এটা ভারতবর্ষের অধিকাংশ মুসলিমদের আকীদাহ যা হিন্দু ধর্ম থেকে আমদানীকৃত। শিখরাও এ ধারণা পোষণ করে থাকে।

কুরআন মাজীদের যে সকল আয়াতে আল্লাহর অবয়বের প্রমাণ পাওয়া যায় তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেঃ

সূরা স-দের ৭৫ নং আয়াতে আল্লাহর দু’হাতের কথা বলা হয়েছে। সূরা আল-মায়িদাহ ৬৪ নং আয়াতেও হাতের কথা বলা হয়েছে। সূরা আর-রহমান এর ২৭ নং আয়াত, বাকারাহ ১১৫, ২৭২, সূরা রূম এর ৩৮ নং আয়াত, সূরা দাহর ৯ আয়াত ও সূরা লাইল ২০ নং আয়াতে আল্লাহর চেহারার প্রমাণ পাওয়া যায়। সূরা ক্বলম এর ৪২ নং আয়াতে আল্লাহর পায়ের গোছার প্রমাণ পাওয়া যায়। সূরা যুমার এর ৬৭ নং আয়াতে আল্লাহর মুষ্ঠির প্রমাণ পাওয়া যায়। মুসনাদ আহমাদ এর বরাতে মিশকাতের হাদীসে আল্লাহর হাতের তালুর প্রমাণ পাওয়া যায়।

যদি আল্লাহ নিরাকার হতেন তাহলে সূরা আ‘রাফের ১৪৩ নং আয়াতে বর্ণিত তূর পাহাড়ে মূসা (আঃ) আল্লাহকে দেখতে চাইতেন না। জবাবে আল্লাহ তা‘আলা বললেন لن تراني অর্থাৎ তুমি আমাকে দেখতে পাবে না। এখানে তিনি বলেননি যে, তুমি আমাকে কখনই দেখতে পাবে না। বরং বললেন, যদি পাহাড় স্থির থাকতে পারে তাহলে তুমি আমাকে দেখতে পাবে।

এমনি ভাবে সূরা আশ-শূরার ৫১ নং আয়াতে বর্ণিত, আল্লাহ যদি নিরাকারই হবেন তাহলে পর্দার আড়ালের কথাই বা কেন বলবেন। এরকম আরো অসংখ্য প্রমাণ থাকার পরেও যারা আল্লাহ তা‘আলাকে নিরাকার সাব্যস্ত করার চেষ্টা করবেন নিঃসন্দেহে তারা উক্ত আয়াতকে অস্বীকারকারীদের দলভুক্ত হবেন।

হাফিয ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) আল্লাহর হাত ও চেহারার বিষয়ে নিরাকার ও নির্গুণবাদীদের বিভিন্ন গৌণ ও রূপক অর্থের প্রতিবাদে যথাক্রমে ২০টি ও ২৬টি যুক্তি পেশ করেছেন।
হাদিস নং: ৪৮১২ সহিহ (Sahih)
سعيد بن عفير قال حدثني الليث قال حدثني عبد الرحمن بن خالد بن مسافر عن ابن شهاب عن ابي سلمة ان ابا هريرة قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول يقبض الله الارض ويطوي السموات بيمينه ثم يقول انا الملك اين ملوك الارض.
(وَالْأَرْضُ جَمِيْعًا قَبْضَتُه يَوْمَ الْقِيٰمَةِ وَالسَّمٰوٰتُ مَطْوِيّٰتٌمبِيَمِيْنِهٰط سُبْحٰنَه وَتَعَالٰى عَمَّا يُشْرِكُوْنَ).

কিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোতে এবং গোটা আসমান থাকবে গুটানো অবস্থায় তাঁর ডান হাতে। তিনি পবিত্র-মহান, আর তারা যা শারীক করে তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে। (সূরাহ যুমার ৩৯/৬৭)


৪৮১২. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা’আলা যমীনকে নিজ মুষ্ঠিতে নিবেন এবং আকাশমন্ডলীকে ভাঁজ করে তাঁর ডান হাতে নিবেন, তারপর বলবেন, আমিই মালিক, দুনিয়ার বাদশারা কোথায়? [৬৫১৯, ৭৩৮২, ৭৪১৩; মুসলিম ৫০/হাঃ ২৭৮৭, আহমাদ ৮৮৭২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৪৯)
হাদিস নং: ৪৮১৩ সহিহ (Sahih)
الحسن حدثنا اسماعيل بن خليل اخبرنا عبد الرحيم عن زكرياء بن ابي زاىدة عن عامر عن ابي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال اني اول من يرفع راسه بعد النفخة الاخرة فاذا انا بموسى متعلق بالعرش فلا ادري اكذلك كان ام بعد النفخة.
ونفخ فِي الصُّوْرِ فَصَعِقَ مَنْ فِي السَّمٰوٰتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَنْ شَآءَ اللهُ ط ثُمَّ نُفِخَ فِيْهِ أُخْرٰى فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَّنْظُرُوْنَ

আর শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে তখন আল্লাহ যাদের ইচ্ছা করবেন তাদের বাদে আসমান ও যমীনে যারা আছে তারা সবাই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়বে। অতঃপর শিঙ্গায় আবার ফুঁ দেয়া হবে, তখন হঠাৎ তারা সবাই উঠে দাঁড়াবে এবং তাকাতে থাকবে। (সূরাহ আয্-যুমার ৩৯/৬৮)


৪৮১৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শেষবার শিঙ্গায় ফুঁক দেয়ার পর যে সবার আগে মাথা উঠাবে, সে আমি। তখন আমি মূসা (আঃ)-কে দেখব আরশের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায়। আমি জানি না, তিনি আগে থেকেই এভাবে ছিলেন, না শিঙ্গায় ফুঁক দেয়ার পর। [২৪১১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৫০)
অধ্যায় তালিকা