অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৭৮/১. মহান আল্লাহর বাণীঃ পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করার জন্য আমি মানুষের প্রতি ফরমান জারি করেছি। সূরাহ আনকাবূত ২৯/৮)
মোট ২৫৭ টি হাদিস
হাদিস নং: ৬০৫০ সহিহ (Sahih)
حدثنا عمر بن حفص، حدثنا ابي، حدثنا الاعمش، عن المعرور، عن ابي ذر، قال رايت عليه بردا وعلى غلامه بردا فقلت لو اخذت هذا فلبسته كانت حلة، واعطيته ثوبا اخر‏.‏ فقال كان بيني وبين رجل كلام، وكانت امه اعجمية، فنلت منها فذكرني الى النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فقال لي ‏"‏ اساببت فلانا ‏"‏‏.‏ قلت نعم‏.‏ قال ‏"‏ افنلت من امه ‏"‏‏.‏ قلت نعم‏.‏ قال ‏"‏ انك امرو فيك جاهلية ‏"‏‏.‏ قلت على حين ساعتي هذه من كبر السن قال ‏"‏ نعم، هم اخوانكم، جعلهم الله تحت ايديكم، فمن جعل الله اخاه تحت يده فليطعمه مما ياكل، وليلبسه مما يلبس، ولا يكلفه من العمل ما يغلبه، فان كلفه ما يغلبه فليعنه عليه ‏"‏‏.‏
৬০৫০. আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তাঁর উপর একখানা চাদর ও তাঁর গোলামের গায়ে একখানা চাদর দেখে বললাম, যদি আপনি ঐ চাদরটি নিতেন ও পরতেন, তাহলে আপনার এক জোড়া হয়ে যেত আর গোলামকে অন্য কাপড় দিয়ে দিতেন। তখন আবূ যার বললেনঃ একদিন আমার ও আরেক লোকের মধ্যে কথাবার্তা চলছিল। তার মা ছিল জনৈকা অনারব মহিলা। আমি তার মা তুলে গালি দিলাম। তখন লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট তা বলল। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি অমুককে গালি দিয়েছ? আমি বললামঃ হাঁ। তিনি বললেনঃ তুমি কি তার মা তুলে গালি দিয়েছ? আমি বললামঃ হাঁ। তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই তুমি তো এমন লোক যার মধ্যে জাহিলী যুগের স্বভাব আছে। আমি বললামঃ এখনো? এ বৃদ্ধ বয়সেও? তিনি বললেনঃ হাঁ! তারা তো তোমাদেরই ভাই। আল্লাহ তা’আলা ওদের তোমাদের অধীন করেছেন। সুতরাং আল্লাহ তা’আলা যার ভাইকে তার অধীন করে দেন, সে নিজে যা খায়, তাকেও যেন তা খাওয়ায়। সে নিজে যা পরে, তাকেও যেন তা পরায়। আর তার উপর যেন এমন কোন কাজ না চাপায়, যা তার শক্তির বাইরে। আর যদি তার উপর এমন কঠিন ভার দিতেই হয়, তাহলে সে নিজেও যেন তাকে সাহায্য করে। [৩০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫১১)
হাদিস নং: ৬০৫১ সহিহ (Sahih)
حدثنا حفص بن عمر، حدثنا يزيد بن ابراهيم، حدثنا محمد، عن ابي هريرة، صلى بنا النبي صلى الله عليه وسلم الظهر ركعتين، ثم سلم، ثم قام الى خشبة في مقدم المسجد، ووضع يده عليها، وفي القوم يومىذ ابو بكر وعمر، فهابا ان يكلماه، وخرج سرعان الناس فقالوا قصرت الصلاة‏.‏ وفي القوم رجل كان النبي صلى الله عليه وسلم يدعوه ذا اليدين فقال يا نبي الله انسيت ام قصرت‏.‏ فقال ‏"‏ لم انس ولم تقصر ‏"‏‏.‏ قالوا بل نسيت يا رسول الله‏.‏ قال ‏"‏ صدق ذو اليدين ‏"‏‏.‏ فقام فصلى ركعتين ثم سلم، ثم كبر، فسجد مثل سجوده او اطول، ثم رفع راسه وكبر، ثم وضع مثل سجوده او اطول، ثم رفع راسه وكبر‏.‏
وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلممَا يَقُوْلُ ذُو الْيَدَيْنِ وَمَا لاَ يُرَادُ بِه شَيْنُ الرَّجُلِ

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে ’যুল্ ইয়াদাইন’ (লম্বা হাত বিশিষ্ট) বলেছেন। তবে কারো বদনাম কিংবা অবমাননা করার নিয়্যাতে (জায়িয) নয়।


৬০৫১. আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে যুহরের সালাত দু’রাক’আত আদায় করে সালাম ফিরালেন। তারপর সিজদার জায়গার সম্মুখে রাখা একটা কাঠের দিকে এগিয়ে গিয়ে তার উপর তাঁর এক হাত রাখলেন। সেদিন লোকেদের মাঝে আবূ বকর, ’উমার-ও হাযির ছিলেন। তাঁরা তাঁর সঙ্গে কথা বলতে ভয় পেলেন। কিন্তু জলদি করে (কিছু) লোক বেরিয়ে গিয়ে বলতে লাগলঃ সালাত খাটো করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন ছিল, যাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’যুল্ ইয়াদাইন’ লম্বা হাত বিশিষ্ট) বলে ডাকতেন, সে বললঃ হে আল্লাহর নবী! আপনি কি ভুল করেছেন, না সালাত কম করা হয়েছে? তিনি বললেনঃ আমি ভুলেও যাইনি এবং (সালাত) কমও করা হয়নি। তারা বললেনঃ বরং আপনিই ভুলে গেছেন, হে আল্লাহর রাসূল! তখন তিনি বললেনঃ ’যুল্ ইয়াদাইন’ ঠিকই বলেছে। তারপর তিনি উঠে দাঁড়িয়ে দু’রাক’আত সালাত আদায় করলেন ও সালাম ফিরালেন। এরপর ’তাকবীর’ বলে আগের সিজদার মত অথবা তাত্থেকে লম্বা সিজদা করলেন। তারপর আবার মাথা তুললেন এবং তাকবীর বললেন এবং আগের সিজদার মত অথবা তাত্থেকে লম্বা সিজদা্ করলেন। এরপর মাথা উঠালেন এবং তাকবীর বললেন। [৪৮২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫১২)
হাদিস নং: ৬০৫২ সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى، حدثنا وكيع، عن الاعمش، قال سمعت مجاهدا، يحدث عن طاوس، عن ابن عباس ـ رضى الله عنهما ـ قال مر رسول الله صلى الله عليه وسلم على قبرين فقال ‏"‏ انهما ليعذبان، وما يعذبان في كبير، اما هذا فكان لا يستتر من بوله، واما هذا فكان يمشي بالنميمة ‏"‏‏.‏ ثم دعا بعسيب رطب، فشقه باثنين، فغرس على هذا واحدا وعلى هذا واحدا ثم قال ‏"‏ لعله يخفف عنهما، ما لم ييبسا ‏"‏‏.‏
وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: (وَلاَ يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَحِيمٌ)

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর বাণীঃ হে মু’মিনগণ! তোমরা অধিকাংশ অনুমান হতে বিরত থাক। কতক অনুমান পাপের অন্তর্ভুক্ত। তোমরা অন্যের দোষ খোঁজাখুঁজি করো না, একে অন্যের অনুপস্থিতিতে দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের মাংস খেতে পছন্দ করবে? তোমরা তো সেটাকে ঘৃণাই করে থাক। আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহ খুব বেশি তওবা ক্ববূলকারী, অতি দয়ালু...... পর্যন্ত।’’ সূরা আল-হুজুরাত ৪৯:১২)


৬০৫২. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’টি কবরের পার্শ্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই এ দু’জন কবরবাসীকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। তবে বড় কোন গুনাহের কারণে কবরে তাদের আযাব দেয়া হচ্ছে না। এই কবরবাসী প্রস্রাব করার সময় সতর্ক থাকত না। আর ঐ কবরবাসী গীবত ক’রে বেড়াত। এরপর তিনি খেজুরের একটি কাঁচা ডাল আনিয়ে সেটি দু’টুকরো করে এক টুকরো এক কবরের উপর এবং এক টুকরো অন্য কবরের উপর গেড়ে দিলেন। তারপর বললেনঃ এ ডালের টুকরো দু’টি শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলা অবশ্যই তাদের শাস্তি কমিয়ে দিবেন। [২১৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫১৩)
হাদিস নং: ৬০৫৩ সহিহ (Sahih)
حدثنا قبيصة، حدثنا سفيان، عن ابي الزناد، عن ابي سلمة، عن ابي اسيد الساعدي، قال قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ خير دور الانصار بنو النجار ‏"‏‏.‏
৬০৫৩. আবূ উসাইদ সা’ঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আনসারদের গৃহগুলোর মধ্যে নাজ্জার গোত্রের গৃহগুলোই উৎকৃষ্ট। [৩৭৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫১৪)
হাদিস নং: ৬০৫৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا صدقة بن الفضل، اخبرنا ابن عيينة، سمعت ابن المنكدر، سمع عروة بن الزبير، ان عاىشة ـ رضى الله عنها ـ اخبرته قالت، استاذن رجل على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ‏"‏ اىذنوا له بىس، اخو العشيرة او ابن العشيرة ‏"‏‏.‏ فلما دخل الان له الكلام قلت يا رسول الله قلت الذي قلت، ثم النت له الكلام قال ‏"‏ اى عاىشة، ان شر الناس من تركه الناس ـ او ودعه الناس ـ اتقاء فحشه ‏"‏‏.‏
৬০৫৪. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একবার এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসার অনুমতি চাইলে তিনি বললেনঃ তাকে অনুমতি দাও। সে বংশের নিকৃষ্ট ভাই অথবা বললেনঃ সে গোত্রের নিকৃষ্ট সন্তান। লোকটি ভিতরে এলে তিনি তার সাথে নম্রতার সঙ্গে কথাবার্তা বললেন। তখন আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এ লোকের ব্যাপারে যা বলার তা বলেছেন। পরে আপনি আবার তার সাথে নম্রতার সাথে কথাবার্তা বললেন। তখন তিনি বললেনঃ হে ’আয়িশাহ্! নিশ্চয়ই সবচেয়ে খারাপ লোক সে-ই যার অশালীনতা থেকে বাঁচার জন্য মানুষ তার সংসর্গ পরিত্যাগ করে। [৬০৩২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫১৫)
হাদিস নং: ৬০৫৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن سلام، اخبرنا عبيدة بن حميد ابو عبد الرحمن، عن منصور، عن مجاهد، عن ابن عباس، قال خرج النبي صلى الله عليه وسلم من بعض حيطان المدينة، فسمع صوت انسانين يعذبان في قبورهما فقال ‏"‏ يعذبان، وما يعذبان في كبيرة، وانه لكبير، كان احدهما لا يستتر من البول، وكان الاخر يمشي بالنميمة ‏"‏‏.‏ ثم دعا بجريدة فكسرها بكسرتين او ثنتين، فجعل كسرة في قبر هذا، وكسرة في قبر هذا، فقال ‏"‏ لعله يخفف عنهما ما لم ييبسا ‏"‏‏.‏
৬০৫৫. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনার কোন বাগানের বাইরে গেলেন। তখন তিনি এমন দু’জন লোকের শব্দ শুনলেন, যাদের কবরে আযাব দেয়া হচ্ছিল। তিনি বললেনঃ তাদের দু’জনকে আযাব দেয়া হচ্ছে। তবে বড় গুনাহের কারণে শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। আর তা হলো কবীরা গুনাহ। এদের একজন প্রস্রাবের সময় সতর্ক থাকত না। আর অন্য ব্যক্তি চোগলখোলী করে বেড়াতো। তারপর তিনি একটা কাঁচা ডাল আনিয়ে তা ভেঙ্গে দু’ টুকরো করে, এক কবরে এক টুকরো আর অন্য কবরে এক টুকরো গেড়ে দিলেন এবং বললেনঃ দু’টি যতক্ষণ পর্যন্ত না শুকাবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের আযাব হালকা করে দেয়া হবে। [৬০২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫১৬)
হাদিস নং: ৬০৫৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو نعيم، حدثنا سفيان، عن منصور، عن ابراهيم، عن همام، قال كنا مع حذيفة فقيل له ان رجلا يرفع الحديث الى عثمان‏.‏ فقال حذيفة سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول ‏ "‏ لا يدخل الجنة قتات ‏"‏‏.‏
وَقَوْلِهِ: (هَمَّازٍ مَشَّاءٍ بِنَمِيمٍ)، (وَيْلٌ لِكُلِّ هُمَزَةٍ لُمَزَةٍ). يَهْمِزُ وَيَلْمِزُ يَعِيبُ

আল্লাহর বাণীঃ ’’যে বেশি বেশি কসম খায় আর যে বার বার মিথ্যা কসম খাওয়ার কারণে মানুষের কাছে) লাঞ্ছিত- যে পশ্চাতে নিন্দা করে একের কথা অপরের কাছে লাগিয়ে ফিরে।’’ সূরাহ আল-কলাম ৬৮ : ১০-১১) ’’দুর্ভোগ এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে (সামনাসামনি) মানুষের নিন্দা করে আর (অসাক্ষাতে) দুর্নাম করে।’’ (সূরাহ আল-হুমাযাহ ১০৪ঃ ১)


৬০৫৬. হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বললেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, চোগলখোর কক্ষনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না। [মুসলিম১/৪৫, হাঃ ১০৫, আহমাদ ২৩৩০৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫১৭)
হাদিস নং: ৬০৫৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن يونس، حدثنا ابن ابي ذىب، عن المقبري، عن ابيه، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ من لم يدع قول الزور والعمل به والجهل فليس لله حاجة ان يدع طعامه وشرابه ‏"‏‏.‏ قال احمد افهمني رجل اسناده‏.‏
৬০৫৭. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক মিথ্যা কথা এবং সে অনুসারে কাজ করা আর মূর্খতা পরিহার করলো না, আল্লাহর নিকট তার পানাহার বর্জনের কোন প্রয়োজন নেই। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫১৮)

আহমাদ (রহঃ) বলেছেন, এক ব্যক্তি আমাকে এর সূত্র জ্ঞাত করেছেন।
হাদিস নং: ৬০৫৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا عمر بن حفص، حدثنا ابي، حدثنا الاعمش، حدثنا ابو صالح، عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ـ قال قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ تجد من شر الناس يوم القيامة عند الله ذا الوجهين، الذي ياتي هولاء بوجه وهولاء بوجه ‏"‏‏.‏
৬০৫৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন তুমি আল্লাহর কাছে ঐ লোককে সব থেকে খারাপ পাবে, যে দু’মুখো। সে এদের সম্মুখে এক রূপ নিয়ে আসতো, আর ওদের সম্মুখে অন্য রূপে আসত। [৩৪৯৪; মুসলিম ৪৪/৪৮, হাঃ ২৫২৬, আহমাদ ১০৭৯৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫১৯)
হাদিস নং: ৬০৫৯ সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن يوسف، اخبرنا سفيان، عن الاعمش، عن ابي واىل، عن ابن مسعود ـ رضى الله عنه ـ قال قسم رسول الله صلى الله عليه وسلم قسمة، فقال رجل من الانصار والله ما اراد محمد بهذا وجه الله‏.‏ فاتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخبرته، فتمعر وجهه وقال ‏ "‏ رحم الله موسى، لقد اوذي باكثر من هذا فصبر ‏"‏‏.‏
৬০৫৯. ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (গনীমত) ভাগ করলেন। তখন আনসারদের মধ্য থেকে এক (মুনাফিক) লোক বললঃ আল্লাহর কসম! এ কাজে মুহাম্মাদ আল্লাহর সন্তুষ্টি চাননি। তখন আমি এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা জানালাম। এতে তাঁর চেহারার রং পাল্টে গেল। তিনি বললেনঃ আল্লাহ মূসা (আ.)-এর উপর দয়া করুন। তাঁকে এর থেকেও অনেক অধিক কষ্ট দেয়া হয়েছে; তবুও তিনি ধৈর্য অবলম্বন করেছেন। [৩১৫০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫২০)
হাদিস নং: ৬০৬০ সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن صباح، حدثنا اسماعيل بن زكرياء، حدثنا بريد بن عبد الله بن ابي بردة، عن ابي بردة، عن ابي موسى، قال سمع النبي صلى الله عليه وسلم رجلا يثني على رجل ويطريه في المدحة فقال ‏ "‏ اهلكتم ـ او قطعتم ـ ظهر الرجل ‏"‏‏.‏
৬০৬০. আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক লোককে অন্য লোকের প্রশংসা করতে শুনলেন এবং সে প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করল। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা তো লোকটিকে মেরে ফেললে, কিংবা বললেনঃ লোকটির মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিলে। [২৬৬৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫২১)
হাদিস নং: ৬০৬১ সহিহ (Sahih)
حدثنا ادم، حدثنا شعبة، عن خالد، عن عبد الرحمن بن ابي بكرة، عن ابيه، ان رجلا، ذكر عند النبي صلى الله عليه وسلم فاثنى عليه رجل خيرا، فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ويحك قطعت عنق صاحبك ـ يقوله مرارا ـ ان كان احدكم مادحا لا محالة فليقل احسب كذا وكذا‏.‏ ان كان يرى انه كذلك، وحسيبه الله، ولا يزكي على الله احدا ‏"‏‏.‏ قال وهيب عن خالد ‏"‏ ويلك ‏"‏‏.‏
৬০৬১. আবূ বকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মুখে এক ব্যক্তির আলোচনা হল। তখন এক লোক তার খুব প্রশংসা করলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আফসোস তোমার জন্য! তুমি তো তোমার সঙ্গীর গলা কেটে ফেললে। এ কথাটি তিনি কয়েকবার বললেন। (তারপর তিনি বললেন) যদি কারো প্রশংসা করতেই হয়, তবে সে যেন বলে, আমি তার ব্যাপারে এমন, এমন ধারণা পোষণ করি, যদি তার এরূপ হবার কথা মনে করা হয়। তার প্রকৃত হিসাব গ্রহণকারীতো হলেন আল্লাহ, আর আল্লাহর তুলনায় কেউ কারো পবিত্রতা বর্ণনা করবে না। [২৬৬২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫২২)

খালিদ (রহঃ) সূত্রে ওহাইব বলেছেন وَيْلَكَ - ওয়াইলাকা
হাদিস নং: ৬০৬২ সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا سفيان، حدثنا موسى بن عقبة، عن سالم، عن ابيه، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم حين ذكر في الازار ما ذكر، قال ابو بكر يا رسول الله ان ازاري يسقط من احد شقيه‏.‏ قال ‏ "‏ انك لست منهم ‏"‏‏.‏
وَقَالَ سَعْدٌ مَا سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لأَحَدٍ يَمْشِي عَلَى الأَرْضِ إِنَّهُ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، إِلاَّ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلاَمٍ

সা’দ (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে যমীনের উপর বিচরণকারী কোন লোকের ব্যাপারে এ কথা বলতে শুনিনি যে, সে জান্নাতী এক ’আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) ছাড়া।


৬০৬২. ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইযার সম্পর্কে কঠিন ’আযাবের কথা উল্লেখ করলেন। তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার লুঙ্গিও একদিক দিয়ে ঝুলে পড়ে। তিনি বললেন, তুমি তাদের মধ্যে শামিল নও। [৩৬৬৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫২৩)
হাদিস নং: ৬০৬৩ সহিহ (Sahih)
حدثنا الحميدي، حدثنا سفيان، حدثنا هشام بن عروة، عن ابيه، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ قالت مكث النبي صلى الله عليه وسلم كذا وكذا يخيل اليه انه ياتي اهله ولا ياتي، قالت عاىشة فقال لي ذات يوم ‏"‏ يا عاىشة ان الله افتاني في امر استفتيته فيه، اتاني رجلان، فجلس احدهما عند رجلى والاخر عند راسي، فقال الذي عند رجلى للذي عند راسي ما بال الرجل قال مطبوب‏.‏ يعني مسحورا‏.‏ قال ومن طبه قال لبيد بن اعصم‏.‏ قال وفيم قال في جف طلعة ذكر في مشط ومشاقة، تحت رعوفة في بىر ذروان ‏"‏‏.‏ فجاء النبي صلى الله عليه وسلم فقال ‏"‏ هذه البىر التي اريتها كان رءوس نخلها رءوس الشياطين، وكان ماءها نقاعة الحناء ‏"‏‏.‏ فامر به النبي صلى الله عليه وسلم فاخرج‏.‏ قالت عاىشة فقلت يا رسول الله فهلا ـ تعني ـ تنشرت فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ اما الله فقد شفاني، واما انا فاكره ان اثير على الناس شرا ‏"‏‏.‏ قالت ولبيد بن اعصم رجل من بني زريق حليف ليهود‏.‏
৬০৬৩. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত এত দিন এমন অবস্থায় অতিবাহিত করছিলেন যে, তাঁর খেয়াল হতো যেন তিনি তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হয়েছেন, অথচ তিনি মিলিত হননি। ’আয়িশাহ বলেন, অতঃপর তিনি আমাকে বললেনঃ হে ’আয়িশাহ! আমি যে ব্যাপারে জানতে চেয়েছিলাম, সে বিষয়ে আল্লাহ আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন। (আমি স্বপ্নে দেখলাম) আমার কাছে দু’জন লোক আসল। একজন বসলো আমার পায়ের কাছে এবং আরেকজন মাথার কাছে। পায়ের কাছে বসা ব্যক্তি মাথার কাছে বসা ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলঃ এ ব্যক্তির অবস্থা কী? সে বললঃ তাঁকে যাদু করা হয়েছে। সে আবার জিজ্ঞেস করলঃ তাঁকে কে যাদু করেছে? সে বললঃ লাবীদ্ ইবনু আ’সাম। সে আবার জিজ্ঞেস করলঃ কিসের মধ্যে? সে বলল, নর খেজুর গাছের খোসার ভিতরে তাঁর চিরুনীর এক টুকরা ও আঁচড়ানো চুল ঢুকিয়ে দিয়ে ’যারওয়ান’ কূপের মধ্যে একটা পাথরের নীচে রেখেছে।

এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সেখানে) গিয়ে দেখে বললেনঃ এ সেই কূপ যা আমাকে স্বপ্নে দেখানো হয়েছে। সেখানের খেজুর গাছের মাথাগুলো যেন শয়তানের মাথা এবং সে কূপের পানি যেন মেহদী ভেজা পানি। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হুকুমে তা কূপ থেকে বের করা হলো। ’আয়িশাহ বলেন, তখন আমি বললাম। হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কেন অর্থাৎ এটি প্রকাশ করলেন না? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তো আমাকে আরোগ্য করে দিয়েছেন, আর আমি মানুষের নিকট কারো দুষ্কর্ম ছড়িয়ে দেয়া পছন্দ করি না। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেনঃ লাবীদ্ ইবনু আ’সাম ছিল ইয়াহূদীদের মিত্র বনূ যুরায়কের এক ব্যক্তি। [৩১৭৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫২৪)
হাদিস নং: ৬০৬৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا بشر بن محمد، اخبرنا عبد الله، اخبرنا معمر، عن همام بن منبه، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ اياكم والظن، فان الظن اكذب الحديث، ولا تحسسوا، ولا تجسسوا، ولا تحاسدوا، ولا تدابروا، ولا تباغضوا، وكونوا عباد الله اخوانا ‏"‏‏.‏
৬০৬৪. আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ধারণা করা থেকে বিরত থাকো। ধারণা বড় মিথ্যা ব্যাপার। তোমরা দোষ তালাশ করো না, গোয়েন্দাগিরি করো না, পরস্পর হিংসা পোষণ করো না, একে অন্যের প্রতি বিদ্বেষভাব পোষণ করো না এবং পরস্পর বিরোধে লিপ্ত হয়ো না; বরং তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা ভাই ভাই হয়ে যাও। [৫১৪৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫২৫)
হাদিস নং: ৬০৬৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال حدثني انس بن مالك ـ رضى الله عنه ـ ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ لا تباغضوا، ولا تحاسدوا، ولا تدابروا، وكونوا عباد الله اخوانا، ولا يحل لمسلم ان يهجر اخاه فوق ثلاثة ايام ‏"‏‏.‏
৬০৬৫. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা পরস্পর বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব পোষণ করো না, পরস্পর হিংসা করো না, একে অন্যের বিরুদ্ধাচরণ করো না। তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা ভাই ভাই হয়ে যাও। কোন মুসলিমের জন্য তিন দিনের অধিক তার ভাইকে ত্যাগ করে থাকা বৈধ নয়। [৬০৭৬; মুসলিম ৪৫/৭, হাঃ ২৫৫৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫২৬)
হাদিস নং: ৬০৬৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف، اخبرنا مالك، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ـ ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ اياكم والظن، فان الظن اكذب الحديث، ولا تحسسوا، ولا تجسسوا، ولا تناجشوا، ولا تحاسدوا، ولا تباغضوا، ولا تدابروا، وكونوا عباد الله اخوانا ‏"‏‏.‏
৬০৬৬. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা অনুমান থেকে বেঁচে চলো। কারণ অনুমান বড় মিথ্যা ব্যাপার। আর কারো দোষ খুঁজে বেড়িও না, গোয়েন্দাগিরি করো না, পরস্পরকে ধোঁকা দিও না, আর পরস্পরকে হিংসা করো না, একে অন্যের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব পোষণ করো না এবং পরস্পরের বিরুদ্ধাচরণ করো না। বরং সবাই আল্লাহর বান্দা ভাই ভাই হয়ে যাও। [৫১৪৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫২৭)
হাদিস নং: ৬০৬৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن عفير، حدثنا الليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، عن عروة، عن عاىشة، قالت قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ ما اظن فلانا وفلانا يعرفان من ديننا شيىا ‏"‏‏.‏ قال الليث كانا رجلين من المنافقين‏.‏
৬০৬৭. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অমুক অমুক ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে কিছু জানে বলে আমি ধারণা করি না। রাবী লায়স বর্ণনা করেন যে, লোক দু’টি মুনাফিক ছিল। [৬০৬৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫২৮)
হাদিস নং: ৬০৬৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن بكير، حدثنا الليث، بهذا وقالت دخل على النبي صلى الله عليه وسلم يوما وقال"‏ يا عاىشة ما اظن فلانا وفلانا يعرفان ديننا الذي نحن عليه ‏"‏‏.‏
৬০৬৮. ইয়াহ্ইয়া ইবনু বুকায়র (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লায়স আমাদের কাছে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেন। (এতে রয়েছে) ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এসে বললেনঃ হে ’আয়িশাহ! অমুক অমুক লোক আমাদের দ্বীন, যার উপর আমরা রয়েছি, সে সম্পর্কে কিছু জানে বলে আমি ধারণা করি না। [৬০৬৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫২৯)
হাদিস নং: ৬০৬৯ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد العزيز بن عبد الله، حدثنا ابراهيم بن سعد، عن ابن اخي ابن شهاب، عن ابن شهاب، عن سالم بن عبد الله، قال سمعت ابا هريرة، يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ‏ "‏ كل امتي معافى الا المجاهرين، وان من المجانة ان يعمل الرجل بالليل عملا، ثم يصبح وقد ستره الله، فيقول يا فلان عملت البارحة كذا وكذا، وقد بات يستره ربه ويصبح يكشف ستر الله عنه ‏"‏‏.‏
৬০৬৯. আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, আমার সকল উম্মাতকে মাফ করা হবে, তবে প্রকাশকারী ব্যতীত। আর নিশ্চয় এ বড়ই অন্যায় যে, কোন লোক রাতের বেলা অপরাধ করল যা আল্লাহ গোপন রাখলেন। কিন্তু সে সকাল হলে বলে বেড়াতে লাগল, হে অমুক! আমি আজ রাতে এই এই কাজ করেছি। অথচ সে এমন অবস্থায় রাত কাটাল যে, আল্লাহ তার কর্ম লুকিয়ে রেখেছিলেন, আর সে ভোরে উঠে তার উপর আল্লাহর দেয়া আবরণ খুলে ফেলল। [মুসলিম ৫৩/৮, হাঃ ২৯৯০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৩০)
অধ্যায় তালিকা