অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৭৮/১. মহান আল্লাহর বাণীঃ পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করার জন্য আমি মানুষের প্রতি ফরমান জারি করেছি। সূরাহ আনকাবূত ২৯/৮)
মোট ২৫৭ টি হাদিস
হাদিস নং: ৬০৭০
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد، حدثنا ابو عوانة، عن قتادة، عن صفوان بن محرز، ان رجلا، سال ابن عمر كيف سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول في النجوى قال " يدنو احدكم من ربه حتى يضع كنفه عليه فيقول عملت كذا وكذا. فيقول نعم. ويقول عملت كذا وكذا. فيقول نعم. فيقرره ثم يقول اني سترت عليك في الدنيا، فانا اغفرها لك اليوم ".
৬০৭০. সফ্ওয়ান ইবনু মুহরিয (রহ.) হতে বর্ণিত যে, এক লোক ইবনু ’উমার (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলঃ আপনি ’নাজওয়া’ (কিয়ামতের দিন আল্লাহ ও তাঁর মু’মিন বান্দার মধ্যে গোপন আলোচনা)। ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কী বলতে শুনেছেন? বললেন, তিনি বলেছেনঃ তোমাদের এক ব্যক্তি তার প্রতিপালকের এত কাছাকাছি হবে যে, তিনি তার উপর তাঁর নিজস্ব আবরণ টেনে দিয়ে দু’বার জিজ্ঞেস করবেনঃ তুমি এই এই কাজ করেছিলে? সে বলবেঃ হাঁ। আবার তিনি জিজ্ঞেস করবেনঃ তুমি এই এই কাজ করেছিলে? সে বলবেঃ হাঁ। এভাবে তিনি তার স্বীকারোক্তি গ্রহণ করবেন। এরপর বলবেনঃ আমি দুনিয়াতে তোমার এগুলো লুকিয়ে রেখেছিলাম। আজ আমি তোমার এসব গুনাহ ক্ষমা করে দিলাম। [২৪৪১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৩১)
হাদিস নং: ৬০৭১
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن كثير، اخبرنا سفيان، حدثنا معبد بن خالد القيسي، عن حارثة بن وهب الخزاعي، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " الا اخبركم باهل الجنة، كل ضعيف متضاعف، لو اقسم على الله لابره، الا اخبركم باهل النار كل عتل جواظ مستكبر ".
وَقَالَ مُجَاهِدٌ: (ثَانِيَ عِطْفِهِ) مُسْتَكْبِرٌ فِي نَفْسِهِ، عِطْفُهُ رَقَبَتُهُ
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, (আল্লাহর বাণী) عِطْفُه” অর্থাৎ তার ঘাড় (ثَانِيَ عِطْفِهِ) অর্থাৎ নিজে নিজে মনে অহংকার পোষণকারী। (সূরাহ আল-হাজ্জঃ ৯)
৬০৭১. হারিসাহ্ ইবনু ওহাব খুযায়ী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি কি তোমাদের জান্নাতীদের সম্পর্কে জ্ঞাত করবো না? (তারা হলেন) ঐ সকল লোক যারা অসহায় এবং যাদের তুচ্ছ মনে করা হয়। তারা যদি আল্লাহর নামে শপথ করে, তাহলে তা তিনি নিশ্চয়ই পুরা করে দেন। আমি কি তোমাদের জাহান্নামীদের সম্পর্কে জ্ঞাত করবো না? তারা হলোঃ কর্কশ স্বভাব, শক্ত হৃদয় ও অহংকারী। [৪৯১৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৩২)
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, (আল্লাহর বাণী) عِطْفُه” অর্থাৎ তার ঘাড় (ثَانِيَ عِطْفِهِ) অর্থাৎ নিজে নিজে মনে অহংকার পোষণকারী। (সূরাহ আল-হাজ্জঃ ৯)
৬০৭১. হারিসাহ্ ইবনু ওহাব খুযায়ী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি কি তোমাদের জান্নাতীদের সম্পর্কে জ্ঞাত করবো না? (তারা হলেন) ঐ সকল লোক যারা অসহায় এবং যাদের তুচ্ছ মনে করা হয়। তারা যদি আল্লাহর নামে শপথ করে, তাহলে তা তিনি নিশ্চয়ই পুরা করে দেন। আমি কি তোমাদের জাহান্নামীদের সম্পর্কে জ্ঞাত করবো না? তারা হলোঃ কর্কশ স্বভাব, শক্ত হৃদয় ও অহংকারী। [৪৯১৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৩২)
হাদিস নং: ৬০৭২
সহিহ (Sahih)
وقال محمد بن عيسى حدثنا هشيم، اخبرنا حميد الطويل، حدثنا انس بن مالك، قال كانت الامة من اماء اهل المدينة لتاخذ بيد رسول الله صلى الله عليه وسلم فتنطلق به حيث شاءت.
৬০৭২. মুহাম্মাদ ইবনু ’ঈসা (রহ.) সূত্রে আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদিনাবাসীদের কোন এক দাসীও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাত ধরে যেখানে চাইত নিয়ে যেত। আর তিনিও তার সাথে চলে যেতেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৩২)
হাদিস নং: ৬০৭৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال حدثني عوف بن مالك بن الطفيل ـ هو ابن الحارث وهو ابن اخي عاىشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم لامها ـ ان عاىشة حدثت ان عبد الله بن الزبير قال في بيع او عطاء اعطته عاىشة والله لتنتهين عاىشة، او لاحجرن عليها. فقالت اهو قال هذا قالوا نعم. قالت هو لله على نذر، ان لا اكلم ابن الزبير ابدا. فاستشفع ابن الزبير اليها، حين طالت الهجرة فقالت لا والله لا اشفع فيه ابدا، ولا اتحنث الى نذري. فلما طال ذلك على ابن الزبير كلم المسور بن مخرمة وعبد الرحمن بن الاسود بن عبد يغوث، وهما من بني زهرة، وقال لهما انشدكما بالله لما ادخلتماني على عاىشة، فانها لا يحل لها ان تنذر قطيعتي. فاقبل به المسور وعبد الرحمن مشتملين بارديتهما حتى استاذنا على عاىشة فقالا السلام عليك ورحمة الله وبركاته، اندخل قالت عاىشة ادخلوا. قالوا كلنا قالت نعم ادخلوا كلكم. ولا تعلم ان معهما ابن الزبير، فلما دخلوا دخل ابن الزبير الحجاب، فاعتنق عاىشة وطفق يناشدها ويبكي، وطفق المسور وعبد الرحمن يناشدانها الا ما كلمته وقبلت منه، ويقولان ان النبي صلى الله عليه وسلم نهى عما قد علمت من الهجرة، فانه لا يحل لمسلم ان يهجر اخاه فوق ثلاث ليال. فلما اكثروا على عاىشة من التذكرة والتحريج طفقت تذكرهما نذرها وتبكي وتقول اني نذرت، والنذر شديد. فلم يزالا بها حتى كلمت ابن الزبير، واعتقت في نذرها ذلك اربعين رقبة. وكانت تذكر نذرها بعد ذلك فتبكي، حتى تبل دموعها خمارها.
وَقَوْلِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم لاَ يَحِلُّ لِرَجُلٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاه فَوْقَ ثَلاَثِ
এবং এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণীঃ কোন লোকের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিনদিনের বেশি কথাবার্তা বর্জন করা জায়িয নয়।
৬০৭৩-৬০৭৪-৬০৭৫. ’আওফ ইবনু মালিক ইবনু তুফায়ল ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর বৈপিত্রেয় ভ্রাতুষ্পুত্র হতে বর্ণিত। ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে জানানো হলো যে, তাঁর কোন বিক্রীর কিংবা দান করা সম্পর্কে ’আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র(রাঃ) বলেছেনঃ আল্লাহর কসম! ’আয়িশাহ অবশ্যই বিরত থাকবেন, নতুবা আমি নিশ্চয়ই তার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করবো। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ সত্যিই কি তিনি এ কথা বলেছেন? তারা বললেনঃ হাঁ। তখন ’আয়িশাহ(রাঃ) বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি আমার উপর মানৎ করে নিলাম যে, আমি ইবনু যুবায়রের সাথে আর কখনও কথা বলবো না। যখন এ বর্জনকাল লম্বা হলো, তখন ইবনু যুবায়র ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট সুপারিশ পাঠালেন। তখন তিনি বললেনঃ না, আল্লাহর কসম! এ ব্যাপারে আমি কখনো কোন সুপারিশ গ্রহণ করব না। আর আমার মানৎও ভাঙ্গব না।
এভাবে যখন বিষয়টি ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর জন্য দীর্ঘ হতে লাগলো, তখন তিনি যহুরা গোত্রের দু’ব্যক্তি মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ ও ’আবদুর রহমান ইবনু আসওয়াদ ইবনু আবদ ইয়াগুসের সাথে আলোচনা করলেন। তিনি তাদের দু’জনকে বললেনঃ আমি তোমাদের আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি যে, তোমরা দু’জন আমাকে ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে নিয়ে যাও। কারণ আমার সাথে তাঁর বিচ্ছিন্ন থাকার মানৎ জায়িয নয়। তখন মিসওয়ার ও ’আবদুর রহমান উভয়ে চাদর দিয়ে ইবনু যুবায়রকে ঢেকে নিয়ে এলেন এবং উভয়ে ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে অনুমতি চেয়ে বললেনঃ আসসালামু আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু’ আমরা কি ভেতরে আসতে পারি? ’আয়িশাহ (রাঃ) বললেনঃ আপনারা ভেতরে আসুন। তাঁরা বললেনঃ আমরা সবাই? তিনি বললেনঃ হাঁ, তোমরা সবাই প্রবেশ কর।
তিনি জানতেন না যে, এদের সঙ্গে ইবনু যুবায়র রয়েছেন। তাই যখন তাঁরা ভেতরে প্রবেশ করলেন, তখন ইবনু যুবায়র পর্দার ভেতর ঢুকে গেলেন এবং ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে জড়িয়ে ধরে, তাঁকে আল্লাহর কসম দিতে লাগলেন এবং কাঁদতে শুরু করলেন। তখন মিসওয়ার ও ’আবদুর রহমান (রাঃ)-ও তাঁকে আল্লাহর কসম দিতে শুরু করলেন। তখন ’আয়িশাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর সঙ্গে কথা বললেন এবং তার ওযর গ্রহণ করলেন। আর তাঁরা বলতে লাগলেনঃ আপনি তো নিশ্চয়ই জানেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্ক বর্জন করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেনঃ কোন মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন রাখা অবৈধ।
যখন তাঁরা ’আয়িশাহ -কে অধিক বুঝাতে ও চাপ দিতে লাগলেন, তখন তিনিও তাদের বুঝাতে ও কাঁদতে লাগলেন এবং বললেনঃ আমি ’মানৎ’ করে ফেলেছি। আর মানৎ তো কঠিন ব্যাপার। কিন্তু তাঁরা বারবার চাপ দিতেই থাকলেন, অবশেষে তিনি ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর সাথে কথা বললেন এবং তার নযরের জন্য (কাফফারা হিসেবে) চল্লিশ জন গোলাম মুক্ত করে দিলেন। এর পরে, যখনই তিনি তাঁর মানতের কথা মনে করতেন তখন তিনি এত অধিক কাঁদতেন যে, তাঁর চোখের পানিতে তাঁর ওড়না ভিজে যেত। [৩৫০৩] (আধুনিক প্রকাশনী-৫৬৩৭ , ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৩৩)
এবং এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণীঃ কোন লোকের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিনদিনের বেশি কথাবার্তা বর্জন করা জায়িয নয়।
৬০৭৩-৬০৭৪-৬০৭৫. ’আওফ ইবনু মালিক ইবনু তুফায়ল ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর বৈপিত্রেয় ভ্রাতুষ্পুত্র হতে বর্ণিত। ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে জানানো হলো যে, তাঁর কোন বিক্রীর কিংবা দান করা সম্পর্কে ’আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র(রাঃ) বলেছেনঃ আল্লাহর কসম! ’আয়িশাহ অবশ্যই বিরত থাকবেন, নতুবা আমি নিশ্চয়ই তার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করবো। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ সত্যিই কি তিনি এ কথা বলেছেন? তারা বললেনঃ হাঁ। তখন ’আয়িশাহ(রাঃ) বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি আমার উপর মানৎ করে নিলাম যে, আমি ইবনু যুবায়রের সাথে আর কখনও কথা বলবো না। যখন এ বর্জনকাল লম্বা হলো, তখন ইবনু যুবায়র ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট সুপারিশ পাঠালেন। তখন তিনি বললেনঃ না, আল্লাহর কসম! এ ব্যাপারে আমি কখনো কোন সুপারিশ গ্রহণ করব না। আর আমার মানৎও ভাঙ্গব না।
এভাবে যখন বিষয়টি ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর জন্য দীর্ঘ হতে লাগলো, তখন তিনি যহুরা গোত্রের দু’ব্যক্তি মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ ও ’আবদুর রহমান ইবনু আসওয়াদ ইবনু আবদ ইয়াগুসের সাথে আলোচনা করলেন। তিনি তাদের দু’জনকে বললেনঃ আমি তোমাদের আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি যে, তোমরা দু’জন আমাকে ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে নিয়ে যাও। কারণ আমার সাথে তাঁর বিচ্ছিন্ন থাকার মানৎ জায়িয নয়। তখন মিসওয়ার ও ’আবদুর রহমান উভয়ে চাদর দিয়ে ইবনু যুবায়রকে ঢেকে নিয়ে এলেন এবং উভয়ে ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে অনুমতি চেয়ে বললেনঃ আসসালামু আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু’ আমরা কি ভেতরে আসতে পারি? ’আয়িশাহ (রাঃ) বললেনঃ আপনারা ভেতরে আসুন। তাঁরা বললেনঃ আমরা সবাই? তিনি বললেনঃ হাঁ, তোমরা সবাই প্রবেশ কর।
তিনি জানতেন না যে, এদের সঙ্গে ইবনু যুবায়র রয়েছেন। তাই যখন তাঁরা ভেতরে প্রবেশ করলেন, তখন ইবনু যুবায়র পর্দার ভেতর ঢুকে গেলেন এবং ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে জড়িয়ে ধরে, তাঁকে আল্লাহর কসম দিতে লাগলেন এবং কাঁদতে শুরু করলেন। তখন মিসওয়ার ও ’আবদুর রহমান (রাঃ)-ও তাঁকে আল্লাহর কসম দিতে শুরু করলেন। তখন ’আয়িশাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর সঙ্গে কথা বললেন এবং তার ওযর গ্রহণ করলেন। আর তাঁরা বলতে লাগলেনঃ আপনি তো নিশ্চয়ই জানেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্ক বর্জন করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেনঃ কোন মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন রাখা অবৈধ।
যখন তাঁরা ’আয়িশাহ -কে অধিক বুঝাতে ও চাপ দিতে লাগলেন, তখন তিনিও তাদের বুঝাতে ও কাঁদতে লাগলেন এবং বললেনঃ আমি ’মানৎ’ করে ফেলেছি। আর মানৎ তো কঠিন ব্যাপার। কিন্তু তাঁরা বারবার চাপ দিতেই থাকলেন, অবশেষে তিনি ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর সাথে কথা বললেন এবং তার নযরের জন্য (কাফফারা হিসেবে) চল্লিশ জন গোলাম মুক্ত করে দিলেন। এর পরে, যখনই তিনি তাঁর মানতের কথা মনে করতেন তখন তিনি এত অধিক কাঁদতেন যে, তাঁর চোখের পানিতে তাঁর ওড়না ভিজে যেত। [৩৫০৩] (আধুনিক প্রকাশনী-৫৬৩৭ , ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৩৩)
হাদিস নং: ৬০৭৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال حدثني عوف بن مالك بن الطفيل ـ هو ابن الحارث وهو ابن اخي عاىشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم لامها ـ ان عاىشة حدثت ان عبد الله بن الزبير قال في بيع او عطاء اعطته عاىشة والله لتنتهين عاىشة، او لاحجرن عليها. فقالت اهو قال هذا قالوا نعم. قالت هو لله على نذر، ان لا اكلم ابن الزبير ابدا. فاستشفع ابن الزبير اليها، حين طالت الهجرة فقالت لا والله لا اشفع فيه ابدا، ولا اتحنث الى نذري. فلما طال ذلك على ابن الزبير كلم المسور بن مخرمة وعبد الرحمن بن الاسود بن عبد يغوث، وهما من بني زهرة، وقال لهما انشدكما بالله لما ادخلتماني على عاىشة، فانها لا يحل لها ان تنذر قطيعتي. فاقبل به المسور وعبد الرحمن مشتملين بارديتهما حتى استاذنا على عاىشة فقالا السلام عليك ورحمة الله وبركاته، اندخل قالت عاىشة ادخلوا. قالوا كلنا قالت نعم ادخلوا كلكم. ولا تعلم ان معهما ابن الزبير، فلما دخلوا دخل ابن الزبير الحجاب، فاعتنق عاىشة وطفق يناشدها ويبكي، وطفق المسور وعبد الرحمن يناشدانها الا ما كلمته وقبلت منه، ويقولان ان النبي صلى الله عليه وسلم نهى عما قد علمت من الهجرة، فانه لا يحل لمسلم ان يهجر اخاه فوق ثلاث ليال. فلما اكثروا على عاىشة من التذكرة والتحريج طفقت تذكرهما نذرها وتبكي وتقول اني نذرت، والنذر شديد. فلم يزالا بها حتى كلمت ابن الزبير، واعتقت في نذرها ذلك اربعين رقبة. وكانت تذكر نذرها بعد ذلك فتبكي، حتى تبل دموعها خمارها.
৬০৭৩-৬০৭৪-৬০৭৫. ’আওফ ইবনু মালিক ইবনু তুফায়ল ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর বৈপিত্রেয় ভ্রাতুষ্পুত্র হতে বর্ণিত। ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে জানানো হলো যে, তাঁর কোন বিক্রীর কিংবা দান করা সম্পর্কে ’আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র(রাঃ) বলেছেনঃ আল্লাহর কসম! ’আয়িশাহ অবশ্যই বিরত থাকবেন, নতুবা আমি নিশ্চয়ই তার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করবো। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ সত্যিই কি তিনি এ কথা বলেছেন? তারা বললেনঃ হাঁ। তখন ’আয়িশাহ(রাঃ) বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি আমার উপর মানৎ করে নিলাম যে, আমি ইবনু যুবায়রের সাথে আর কখনও কথা বলবো না। যখন এ বর্জনকাল লম্বা হলো, তখন ইবনু যুবায়র ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট সুপারিশ পাঠালেন। তখন তিনি বললেনঃ না, আল্লাহর কসম! এ ব্যাপারে আমি কখনো কোন সুপারিশ গ্রহণ করব না। আর আমার মানৎও ভাঙ্গব না।
এভাবে যখন বিষয়টি ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর জন্য দীর্ঘ হতে লাগলো, তখন তিনি যহুরা গোত্রের দু’ব্যক্তি মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ ও ’আবদুর রহমান ইবনু আসওয়াদ ইবনু আবদ ইয়াগুসের সাথে আলোচনা করলেন। তিনি তাদের দু’জনকে বললেনঃ আমি তোমাদের আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি যে, তোমরা দু’জন আমাকে ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে নিয়ে যাও। কারণ আমার সাথে তাঁর বিচ্ছিন্ন থাকার মানৎ জায়িয নয়। তখন মিসওয়ার ও ’আবদুর রহমান উভয়ে চাদর দিয়ে ইবনু যুবায়রকে ঢেকে নিয়ে এলেন এবং উভয়ে ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে অনুমতি চেয়ে বললেনঃ আসসালামু আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু’ আমরা কি ভেতরে আসতে পারি? ’আয়িশাহ (রাঃ) বললেনঃ আপনারা ভেতরে আসুন। তাঁরা বললেনঃ আমরা সবাই? তিনি বললেনঃ হাঁ, তোমরা সবাই প্রবেশ কর।
তিনি জানতেন না যে, এদের সঙ্গে ইবনু যুবায়র রয়েছেন। তাই যখন তাঁরা ভেতরে প্রবেশ করলেন, তখন ইবনু যুবায়র পর্দার ভেতর ঢুকে গেলেন এবং ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে জড়িয়ে ধরে, তাঁকে আল্লাহর কসম দিতে লাগলেন এবং কাঁদতে শুরু করলেন। তখন মিসওয়ার ও ’আবদুর রহমান (রাঃ)-ও তাঁকে আল্লাহর কসম দিতে শুরু করলেন। তখন ’আয়িশাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর সঙ্গে কথা বললেন এবং তার ওযর গ্রহণ করলেন। আর তাঁরা বলতে লাগলেনঃ আপনি তো নিশ্চয়ই জানেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্ক বর্জন করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেনঃ কোন মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন রাখা অবৈধ।
যখন তাঁরা ’আয়িশাহ -কে অধিক বুঝাতে ও চাপ দিতে লাগলেন, তখন তিনিও তাদের বুঝাতে ও কাঁদতে লাগলেন এবং বললেনঃ আমি ’মানৎ’ করে ফেলেছি। আর মানৎ তো কঠিন ব্যাপার। কিন্তু তাঁরা বারবার চাপ দিতেই থাকলেন, অবশেষে তিনি ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর সাথে কথা বললেন এবং তার নযরের জন্য (কাফফারা হিসেবে) চল্লিশ জন গোলাম মুক্ত করে দিলেন। এর পরে, যখনই তিনি তাঁর মানতের কথা মনে করতেন তখন তিনি এত অধিক কাঁদতেন যে, তাঁর চোখের পানিতে তাঁর ওড়না ভিজে যেত। [৩৫০৩] (আধুনিক প্রকাশনী-৫৬৩৭ , ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৩৩)
এভাবে যখন বিষয়টি ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর জন্য দীর্ঘ হতে লাগলো, তখন তিনি যহুরা গোত্রের দু’ব্যক্তি মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ ও ’আবদুর রহমান ইবনু আসওয়াদ ইবনু আবদ ইয়াগুসের সাথে আলোচনা করলেন। তিনি তাদের দু’জনকে বললেনঃ আমি তোমাদের আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি যে, তোমরা দু’জন আমাকে ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে নিয়ে যাও। কারণ আমার সাথে তাঁর বিচ্ছিন্ন থাকার মানৎ জায়িয নয়। তখন মিসওয়ার ও ’আবদুর রহমান উভয়ে চাদর দিয়ে ইবনু যুবায়রকে ঢেকে নিয়ে এলেন এবং উভয়ে ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে অনুমতি চেয়ে বললেনঃ আসসালামু আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু’ আমরা কি ভেতরে আসতে পারি? ’আয়িশাহ (রাঃ) বললেনঃ আপনারা ভেতরে আসুন। তাঁরা বললেনঃ আমরা সবাই? তিনি বললেনঃ হাঁ, তোমরা সবাই প্রবেশ কর।
তিনি জানতেন না যে, এদের সঙ্গে ইবনু যুবায়র রয়েছেন। তাই যখন তাঁরা ভেতরে প্রবেশ করলেন, তখন ইবনু যুবায়র পর্দার ভেতর ঢুকে গেলেন এবং ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে জড়িয়ে ধরে, তাঁকে আল্লাহর কসম দিতে লাগলেন এবং কাঁদতে শুরু করলেন। তখন মিসওয়ার ও ’আবদুর রহমান (রাঃ)-ও তাঁকে আল্লাহর কসম দিতে শুরু করলেন। তখন ’আয়িশাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর সঙ্গে কথা বললেন এবং তার ওযর গ্রহণ করলেন। আর তাঁরা বলতে লাগলেনঃ আপনি তো নিশ্চয়ই জানেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্ক বর্জন করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেনঃ কোন মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন রাখা অবৈধ।
যখন তাঁরা ’আয়িশাহ -কে অধিক বুঝাতে ও চাপ দিতে লাগলেন, তখন তিনিও তাদের বুঝাতে ও কাঁদতে লাগলেন এবং বললেনঃ আমি ’মানৎ’ করে ফেলেছি। আর মানৎ তো কঠিন ব্যাপার। কিন্তু তাঁরা বারবার চাপ দিতেই থাকলেন, অবশেষে তিনি ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর সাথে কথা বললেন এবং তার নযরের জন্য (কাফফারা হিসেবে) চল্লিশ জন গোলাম মুক্ত করে দিলেন। এর পরে, যখনই তিনি তাঁর মানতের কথা মনে করতেন তখন তিনি এত অধিক কাঁদতেন যে, তাঁর চোখের পানিতে তাঁর ওড়না ভিজে যেত। [৩৫০৩] (আধুনিক প্রকাশনী-৫৬৩৭ , ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৩৩)
হাদিস নং: ৬০৭৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال حدثني عوف بن مالك بن الطفيل ـ هو ابن الحارث وهو ابن اخي عاىشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم لامها ـ ان عاىشة حدثت ان عبد الله بن الزبير قال في بيع او عطاء اعطته عاىشة والله لتنتهين عاىشة، او لاحجرن عليها. فقالت اهو قال هذا قالوا نعم. قالت هو لله على نذر، ان لا اكلم ابن الزبير ابدا. فاستشفع ابن الزبير اليها، حين طالت الهجرة فقالت لا والله لا اشفع فيه ابدا، ولا اتحنث الى نذري. فلما طال ذلك على ابن الزبير كلم المسور بن مخرمة وعبد الرحمن بن الاسود بن عبد يغوث، وهما من بني زهرة، وقال لهما انشدكما بالله لما ادخلتماني على عاىشة، فانها لا يحل لها ان تنذر قطيعتي. فاقبل به المسور وعبد الرحمن مشتملين بارديتهما حتى استاذنا على عاىشة فقالا السلام عليك ورحمة الله وبركاته، اندخل قالت عاىشة ادخلوا. قالوا كلنا قالت نعم ادخلوا كلكم. ولا تعلم ان معهما ابن الزبير، فلما دخلوا دخل ابن الزبير الحجاب، فاعتنق عاىشة وطفق يناشدها ويبكي، وطفق المسور وعبد الرحمن يناشدانها الا ما كلمته وقبلت منه، ويقولان ان النبي صلى الله عليه وسلم نهى عما قد علمت من الهجرة، فانه لا يحل لمسلم ان يهجر اخاه فوق ثلاث ليال. فلما اكثروا على عاىشة من التذكرة والتحريج طفقت تذكرهما نذرها وتبكي وتقول اني نذرت، والنذر شديد. فلم يزالا بها حتى كلمت ابن الزبير، واعتقت في نذرها ذلك اربعين رقبة. وكانت تذكر نذرها بعد ذلك فتبكي، حتى تبل دموعها خمارها.
৬০৭৩-৬০৭৪-৬০৭৫. ’আওফ ইবনু মালিক ইবনু তুফায়ল ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর বৈপিত্রেয় ভ্রাতুষ্পুত্র হতে বর্ণিত। ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে জানানো হলো যে, তাঁর কোন বিক্রীর কিংবা দান করা সম্পর্কে ’আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র(রাঃ) বলেছেনঃ আল্লাহর কসম! ’আয়িশাহ অবশ্যই বিরত থাকবেন, নতুবা আমি নিশ্চয়ই তার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করবো। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ সত্যিই কি তিনি এ কথা বলেছেন? তারা বললেনঃ হাঁ। তখন ’আয়িশাহ(রাঃ) বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি আমার উপর মানৎ করে নিলাম যে, আমি ইবনু যুবায়রের সাথে আর কখনও কথা বলবো না। যখন এ বর্জনকাল লম্বা হলো, তখন ইবনু যুবায়র ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট সুপারিশ পাঠালেন। তখন তিনি বললেনঃ না, আল্লাহর কসম! এ ব্যাপারে আমি কখনো কোন সুপারিশ গ্রহণ করব না। আর আমার মানৎও ভাঙ্গব না।
এভাবে যখন বিষয়টি ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর জন্য দীর্ঘ হতে লাগলো, তখন তিনি যহুরা গোত্রের দু’ব্যক্তি মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ ও ’আবদুর রহমান ইবনু আসওয়াদ ইবনু আবদ ইয়াগুসের সাথে আলোচনা করলেন। তিনি তাদের দু’জনকে বললেনঃ আমি তোমাদের আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি যে, তোমরা দু’জন আমাকে ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে নিয়ে যাও। কারণ আমার সাথে তাঁর বিচ্ছিন্ন থাকার মানৎ জায়িয নয়। তখন মিসওয়ার ও ’আবদুর রহমান উভয়ে চাদর দিয়ে ইবনু যুবায়রকে ঢেকে নিয়ে এলেন এবং উভয়ে ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে অনুমতি চেয়ে বললেনঃ আসসালামু আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু’ আমরা কি ভেতরে আসতে পারি? ’আয়িশাহ (রাঃ) বললেনঃ আপনারা ভেতরে আসুন। তাঁরা বললেনঃ আমরা সবাই? তিনি বললেনঃ হাঁ, তোমরা সবাই প্রবেশ কর।
তিনি জানতেন না যে, এদের সঙ্গে ইবনু যুবায়র রয়েছেন। তাই যখন তাঁরা ভেতরে প্রবেশ করলেন, তখন ইবনু যুবায়র পর্দার ভেতর ঢুকে গেলেন এবং ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে জড়িয়ে ধরে, তাঁকে আল্লাহর কসম দিতে লাগলেন এবং কাঁদতে শুরু করলেন। তখন মিসওয়ার ও ’আবদুর রহমান (রাঃ)-ও তাঁকে আল্লাহর কসম দিতে শুরু করলেন। তখন ’আয়িশাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর সঙ্গে কথা বললেন এবং তার ওযর গ্রহণ করলেন। আর তাঁরা বলতে লাগলেনঃ আপনি তো নিশ্চয়ই জানেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্ক বর্জন করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেনঃ কোন মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন রাখা অবৈধ।
যখন তাঁরা ’আয়িশাহ -কে অধিক বুঝাতে ও চাপ দিতে লাগলেন, তখন তিনিও তাদের বুঝাতে ও কাঁদতে লাগলেন এবং বললেনঃ আমি ’মানৎ’ করে ফেলেছি। আর মানৎ তো কঠিন ব্যাপার। কিন্তু তাঁরা বারবার চাপ দিতেই থাকলেন, অবশেষে তিনি ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর সাথে কথা বললেন এবং তার নযরের জন্য (কাফফারা হিসেবে) চল্লিশ জন গোলাম মুক্ত করে দিলেন। এর পরে, যখনই তিনি তাঁর মানতের কথা মনে করতেন তখন তিনি এত অধিক কাঁদতেন যে, তাঁর চোখের পানিতে তাঁর ওড়না ভিজে যেত। [৩৫০৩] (আধুনিক প্রকাশনী-৫৬৩৭ , ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৩৩)
এভাবে যখন বিষয়টি ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর জন্য দীর্ঘ হতে লাগলো, তখন তিনি যহুরা গোত্রের দু’ব্যক্তি মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ ও ’আবদুর রহমান ইবনু আসওয়াদ ইবনু আবদ ইয়াগুসের সাথে আলোচনা করলেন। তিনি তাদের দু’জনকে বললেনঃ আমি তোমাদের আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি যে, তোমরা দু’জন আমাকে ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে নিয়ে যাও। কারণ আমার সাথে তাঁর বিচ্ছিন্ন থাকার মানৎ জায়িয নয়। তখন মিসওয়ার ও ’আবদুর রহমান উভয়ে চাদর দিয়ে ইবনু যুবায়রকে ঢেকে নিয়ে এলেন এবং উভয়ে ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে অনুমতি চেয়ে বললেনঃ আসসালামু আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু’ আমরা কি ভেতরে আসতে পারি? ’আয়িশাহ (রাঃ) বললেনঃ আপনারা ভেতরে আসুন। তাঁরা বললেনঃ আমরা সবাই? তিনি বললেনঃ হাঁ, তোমরা সবাই প্রবেশ কর।
তিনি জানতেন না যে, এদের সঙ্গে ইবনু যুবায়র রয়েছেন। তাই যখন তাঁরা ভেতরে প্রবেশ করলেন, তখন ইবনু যুবায়র পর্দার ভেতর ঢুকে গেলেন এবং ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে জড়িয়ে ধরে, তাঁকে আল্লাহর কসম দিতে লাগলেন এবং কাঁদতে শুরু করলেন। তখন মিসওয়ার ও ’আবদুর রহমান (রাঃ)-ও তাঁকে আল্লাহর কসম দিতে শুরু করলেন। তখন ’আয়িশাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর সঙ্গে কথা বললেন এবং তার ওযর গ্রহণ করলেন। আর তাঁরা বলতে লাগলেনঃ আপনি তো নিশ্চয়ই জানেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্ক বর্জন করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেনঃ কোন মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন রাখা অবৈধ।
যখন তাঁরা ’আয়িশাহ -কে অধিক বুঝাতে ও চাপ দিতে লাগলেন, তখন তিনিও তাদের বুঝাতে ও কাঁদতে লাগলেন এবং বললেনঃ আমি ’মানৎ’ করে ফেলেছি। আর মানৎ তো কঠিন ব্যাপার। কিন্তু তাঁরা বারবার চাপ দিতেই থাকলেন, অবশেষে তিনি ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর সাথে কথা বললেন এবং তার নযরের জন্য (কাফফারা হিসেবে) চল্লিশ জন গোলাম মুক্ত করে দিলেন। এর পরে, যখনই তিনি তাঁর মানতের কথা মনে করতেন তখন তিনি এত অধিক কাঁদতেন যে, তাঁর চোখের পানিতে তাঁর ওড়না ভিজে যেত। [৩৫০৩] (আধুনিক প্রকাশনী-৫৬৩৭ , ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৩৩)
হাদিস নং: ৬০৭৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف، اخبرنا مالك، عن ابن شهاب، عن انس بن مالك، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا تباغضوا، ولا تحاسدوا، ولا تدابروا، وكونوا عباد الله اخوانا، ولا يحل لمسلم ان يهجر اخاه فوق ثلاث ليال ".
৬০৭৬. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা পরস্পর বিদ্বেষ ভাবাপন্ন হয়ো না, হিংসা করো না এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন থেকো না। আর তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা ও পরস্পর ভাই-ভাই হয়ে যাও। কোন মুসলিমের জন্য বৈধ নয় যে, সে তার ভাই থেকে তিন দিনের অধিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে থাকবে। [৬০৬৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৩৪)
হাদিস নং: ৬০৭৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف، اخبرنا مالك، عن ابن شهاب، عن عطاء بن يزيد الليثي، عن ابي ايوب الانصاري، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا يحل لرجل ان يهجر اخاه فوق ثلاث ليال، يلتقيان فيعرض هذا ويعرض هذا، وخيرهما الذي يبدا بالسلام ".
৬০৭৭. আবূ আইউব আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোকের জন্য বৈধ নয় যে, সে তার ভাই-এর সাথে তিন দিনের অধিক এমনভাবে সম্পর্ক ছিন্ন রাখবে যে, দু’জনে দেখা হলেও একজন এদিকে আরেকজন ওদিকে মুখ ঘুরিয়ে রাখবে। তাদের মধ্যে যে আগে সালাম দিবে, সেই উত্তম লোক। [৬২৩৭; মুসলিম ৪৫/৮, হাঃ ২৫৬০, আহমাদ ২৩৬৫৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৩৫)
হাদিস নং: ৬০৭৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد، اخبرنا عبدة، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اني لاعرف غضبك ورضاك ". قالت قلت وكيف تعرف ذاك يا رسول الله قال " انك اذا كنت راضية قلت بلى ورب محمد. واذا كنت ساخطة قلت لا ورب ابراهيم ". قالت قلت اجل لست اهاجر الا اسمك.
وَقَالَ كَعْبٌ حِينَ تَخَلَّفَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَنَهٰى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمُسْلِمِينَ عَنْ كَلاَمِنَا وَذَكَرَ خَمْسِينَ لَيْلَةً
কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ) যখন (তাবূক যুদ্ধের সময়) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে থেকে গিয়েছিলেন, তখনকার কথা উল্লেখ করে বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদেরকে আমাদের সাথে কথাবার্তা বলা নিষেধ করে দিয়েছিলেন। তিনি পঞ্চাশ দিনের কথাও উল্লেখ করেন।
৬০৭৮. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন (একদা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমার রাগ ও খুশী উভয়টাই বুঝতে পারি। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ আপনি তা কীভাবে বুঝে নেন, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ যখন তুমি খুশী থাক, তখন তুমি বলঃ হাঁ, মুহম্মাদের প্রতিপালকের শপথ! আর যখন তুমি রাগান্বিত হও, তখন তুমি বলে থাকঃ না, ইব্রাহীমের প্রতিপালকের শপথ! ’আয়িশাহ(রাঃ) বললেন, আমি বললাম, হাঁ। আমিতো কেবল আপনার নামটি পরিহার করি। [৫২২৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৩৬)
কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ) যখন (তাবূক যুদ্ধের সময়) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে থেকে গিয়েছিলেন, তখনকার কথা উল্লেখ করে বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদেরকে আমাদের সাথে কথাবার্তা বলা নিষেধ করে দিয়েছিলেন। তিনি পঞ্চাশ দিনের কথাও উল্লেখ করেন।
৬০৭৮. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন (একদা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমার রাগ ও খুশী উভয়টাই বুঝতে পারি। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ আপনি তা কীভাবে বুঝে নেন, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ যখন তুমি খুশী থাক, তখন তুমি বলঃ হাঁ, মুহম্মাদের প্রতিপালকের শপথ! আর যখন তুমি রাগান্বিত হও, তখন তুমি বলে থাকঃ না, ইব্রাহীমের প্রতিপালকের শপথ! ’আয়িশাহ(রাঃ) বললেন, আমি বললাম, হাঁ। আমিতো কেবল আপনার নামটি পরিহার করি। [৫২২৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৩৬)
হাদিস নং: ৬০৭৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابراهيم، اخبرنا هشام، عن معمر،. وقال الليث حدثني عقيل، قال ابن شهاب فاخبرني عروة بن الزبير، ان عاىشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت لم اعقل ابوى الا وهما يدينان الدين، ولم يمر عليهما يوم الا ياتينا فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم طرفى النهار بكرة وعشية، فبينما نحن جلوس في بيت ابي بكر في نحر الظهيرة قال قاىل هذا رسول الله صلى الله عليه وسلم في ساعة لم يكن ياتينا فيها. قال ابو بكر ما جاء به في هذه الساعة الا امر. قال " اني قد اذن لي بالخروج ".
৬০৭৯. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার জ্ঞান হবার পর থেকেই আমি আমার বাবা-মাকে ইসলামের অন্তর্ভুক্তই পেয়েছি। আমাদের উপর এমন কোন দিন যায়নি, যে দিনের দু’ প্রান্তে সকালে ও বিকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আসতেন না। একদিন দুপুর বেলা আমরা আবূ বকর (রাঃ)-এর কক্ষে উপবিষ্ট ছিলাম। একজন বলে উঠলেনঃ এই যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তিনি এমন সময় এসেছেন, যে সময় তিনি আমাদের এখানে আসেন না। আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই তাঁকে এ মুহূর্তে নিয়ে এসেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমাকে (মক্কা থেকে) বহির্গমনের আদেশ দেয়া হয়েছে। [৪৭৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৩৭)
হাদিস নং: ৬০৮০
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن سلام، اخبرنا عبد الوهاب، عن خالد الحذاء، عن انس بن سيرين، عن انس بن مالك ـ رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم زار اهل بيت في الانصار فطعم عندهم طعاما، فلما اراد ان يخرج امر بمكان من البيت، فنضح له على بساط، فصلى عليه، ودعا لهم.
وَزَارَ سَلْمَانُ أَبَا الدَّرْدَاءِ فِي عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَكَلَ عِنْدَهُ
সালমান (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় আবূদ্ দারদা (রাঃ)-এর সাথে দেখা করতে যান এবং সেখানে খাবার খান।
৬০৮০. আনাস ইবনু মালিক হতে বর্ণিত যে, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আনসার পরিবারের সাথে দেখা করতে গেলেন, অতঃপর তিনি তাদের সেখানে খাবার খেলেন। যখন তিনি বেরিয়ে আসার ইচ্ছে করলেন, তখন ঘরের এক স্থানে (সালাতের জন্য) বিছানা পাতার আদেশ দিলেন। তখন তাঁর জন্য পানি ছিটিয়ে একটা চাটাই বিছিয়ে দেয়া হলো। তিনি সেটির উপর সালাত আদায় করলেন এবং তাদের জন্য দু’আ করলেন। [৬৭০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৩৮)
সালমান (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় আবূদ্ দারদা (রাঃ)-এর সাথে দেখা করতে যান এবং সেখানে খাবার খান।
৬০৮০. আনাস ইবনু মালিক হতে বর্ণিত যে, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আনসার পরিবারের সাথে দেখা করতে গেলেন, অতঃপর তিনি তাদের সেখানে খাবার খেলেন। যখন তিনি বেরিয়ে আসার ইচ্ছে করলেন, তখন ঘরের এক স্থানে (সালাতের জন্য) বিছানা পাতার আদেশ দিলেন। তখন তাঁর জন্য পানি ছিটিয়ে একটা চাটাই বিছিয়ে দেয়া হলো। তিনি সেটির উপর সালাত আদায় করলেন এবং তাদের জন্য দু’আ করলেন। [৬৭০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৩৮)
হাদিস নং: ৬০৮১
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا عبد الصمد، قال حدثني ابي قال، حدثني يحيى بن ابي اسحاق، قال قال لي سالم بن عبد الله ما الاستبرق قلت ما غلظ من الديباج وخشن منه. قال سمعت عبد الله يقول راى عمر على رجل حلة من استبرق فاتى بها النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله اشتر هذه فالبسها لوفد الناس اذا قدموا عليك. فقال " انما يلبس الحرير من لا خلاق له ". فمضى في ذلك ما مضى، ثم ان النبي صلى الله عليه وسلم بعث اليه بحلة فاتى بها النبي صلى الله عليه وسلم فقال بعثت الى بهذه، وقد قلت في مثلها ما قلت قال " انما بعثت اليك لتصيب بها مالا ". فكان ابن عمر يكره العلم في الثوب لهذا الحديث.
৬০৮১. ইয়াহ্ইয়া ইবনু আবূ ইসহাক হতে বর্ণিত যে, সালিত ইবনু ’আবদুল্লাহ (রহ.) আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ ’ইস্তাবরাক কী’? আমি বললাম, তা মোটা ও সুন্দর রেশমী কাপড়। তিনি বললেনঃ আমি ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমারকে বলতে শুনেছি যে, ’উমার (রাঃ) এক লোকের গায়ে একজোড়া মোটা রেশমী কাপড় দেখলেন। তখন তিনি সেটা নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমাতে এসে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এটি কিনে নিন। যখন আপনার নিকট কোন প্রতিনিধি দল আসবে, তখন আপনি এটি পরবেন। তিনি বললেনঃ রেশমী কাপড় কেবল ঐ লোকই পরবে, যার আখিরাতে) কোন অংশ নেই। এরপর বেশ কিছুদিন পার হবার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’উমার (রাঃ)-এর নিকট এরূপ একজোড়া কাপড় পাঠালেন। তখন তিনি সেটি নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে এসে বললেনঃ আপনি এটা আমার নিকট পাঠালেন, অথচ নিজেই এ জাতীয় কাপড় সম্পর্কে যা বলার তা বলেছিলেন। তিনি বললেনঃ আমি তো এটা একমাত্র এ জন্যে তোমার নিকট পাঠিয়েছি, যেন তুমি এর বদলে কোন মাল সংগ্রহ করতে পার। [৮৮৬]
এ হাদীসের কারণে ইবনু ’উমার কারুকার্য খচিত কাপড় পরতে অপছন্দ করতেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৩৯)
এ হাদীসের কারণে ইবনু ’উমার কারুকার্য খচিত কাপড় পরতে অপছন্দ করতেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৩৯)
হাদিস নং: ৬০৮২
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد، حدثنا يحيى، عن حميد، عن انس، قال لما قدم علينا عبد الرحمن فاخى النبي صلى الله عليه وسلم بينه وبين سعد بن الربيع فقال النبي صلى الله عليه وسلم " اولم ولو بشاة ".
وَقَالَ أَبُو جُحَيْفَةَ آخٰى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ سَلْمَانَ وَأَبِي الدَّرْدَاءِ
وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمٰنِ بْنُ عَوْفٍ لَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ آخٰى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنِي وَبَيْنَ سَعْدِ بْنِ الرَّبِيعِ
আবূ জুহাইফাহ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালমান ও আবূ দারদা (রাঃ)-এর মধ্যে ভাতৃ বন্ধন জুড়ে দেন। ’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ (রাঃ) বলেনঃ আমরা মদিনায় আসলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ও সা’দ ইবনু রাবী (রাঃ) এর মধ্যে ভ্রাতৃ বন্ধন জুড়ে দেন।
৬০৮২. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। ’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ (রাঃ) আমাদের নিকট আসলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ও সা’দ ইবনু রাবী-এর মধ্যে ভ্রাতৃ বন্ধন জুড়ে দেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বিয়ের পর তাঁকে বললেনঃ তুমি ’ওয়ালিমা’ করো, কমপক্ষে একটি ছাগল দিয়ে হলেও। [২০৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৪০)
وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمٰنِ بْنُ عَوْفٍ لَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ آخٰى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنِي وَبَيْنَ سَعْدِ بْنِ الرَّبِيعِ
আবূ জুহাইফাহ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালমান ও আবূ দারদা (রাঃ)-এর মধ্যে ভাতৃ বন্ধন জুড়ে দেন। ’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ (রাঃ) বলেনঃ আমরা মদিনায় আসলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ও সা’দ ইবনু রাবী (রাঃ) এর মধ্যে ভ্রাতৃ বন্ধন জুড়ে দেন।
৬০৮২. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। ’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ (রাঃ) আমাদের নিকট আসলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ও সা’দ ইবনু রাবী-এর মধ্যে ভ্রাতৃ বন্ধন জুড়ে দেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বিয়ের পর তাঁকে বললেনঃ তুমি ’ওয়ালিমা’ করো, কমপক্ষে একটি ছাগল দিয়ে হলেও। [২০৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৪০)
হাদিস নং: ৬০৮৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن صباح، حدثنا اسماعيل بن زكرياء، حدثنا عاصم، قال قلت لانس بن مالك ابلغك ان النبي صلى الله عليه وسلم قال" لا حلف في الاسلام ". فقال قد حالف النبي صلى الله عليه وسلم بين قريش والانصار في داري.
৬০৮৩. ’আসিম (রহ.) হতে বর্ণিত যে, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম আপনি জানেন কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইসলামে প্রতিশ্রুতি নেই? তিনি বললেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো আমার ঘরেই কুরায়শ আর আনসারদের মাঝে পারস্পরিক প্রতিশ্রুতির বন্ধন জুড়ে দেন। [২২৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৪১)
হাদিস নং: ৬০৮৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا حبان بن موسى، اخبرنا عبد الله، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن عروة، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ ان رفاعة، القرظي طلق امراته فبت طلاقها، فتزوجها بعده عبد الرحمن بن الزبير، فجاءت النبي صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله انها كانت عند رفاعة فطلقها اخر ثلاث تطليقات، فتزوجها بعده عبد الرحمن بن الزبير، وانه والله ما معه يا رسول الله الا مثل هذه الهدبة، لهدبة اخذتها من جلبابها. قال وابو بكر جالس عند النبي صلى الله عليه وسلم وابن سعيد بن العاص جالس بباب الحجرة ليوذن له، فطفق خالد ينادي ابا بكر، يا ابا بكر الا تزجر هذه عما تجهر به عند رسول الله صلى الله عليه وسلم وما يزيد رسول الله صلى الله عليه وسلم على التبسم ثم قال " لعلك تريدين ان ترجعي الى رفاعة، لا، حتى تذوقي عسيلته، ويذوق عسيلتك ".
وَقَالَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلاَم أَسَرَّ إِلَيَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَضَحِكْتُ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ إِنَّ اللهَ هُوَ أَضْحَكَ وَأَبْكَى
ফাতিমাহ (রাঃ) বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সংগোপনে একটি কথা বললেন, আমি হাসলাম। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ হাসানো ও কাঁদানোর একমাত্র মালিক।
৬০৮৪. ’আয়িশাহ(রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রিফাআ’ কুরাযী তার স্ত্রীকে ত্বলাক (তালাক) দেন এবং অকাট্য ত্বলাক (তালাক) দেন। এরপর ’আবদুর রহমান ইবনু যুবায়র তাকে বিয়ে করেন। পরে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! তিনি রিফাআ’র কাছে ছিলেন এবং রিফাআ’ তাকে শেষ তিন ত্বলাক (তালাক) দিয়ে দেন এবং তাঁকে ’আবদুর রহমান ইবনু যুবায়র বিয়ে করেন। আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! এর কাছে তো কেবল এই কাপড়ের মত আছে। (এ কথা বলে) তিনি তার ওড়নার আঁচল ধরে উঠালেন। রাবী বলেনঃ তখন আবূ বকর(রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপবিষ্ট ছিলেন এবং সা’ঈদ ইবনু আ’সও ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি লাভের জন্য হুজরার দরজার কাছে উপবিষ্ট ছিলেন।
তখন সা’দ (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ)-কে উচ্চঃস্বরে ডেকে বললেনঃ হে আবূ বকর! আপনি এই স্ত্রী লোকটিকে কেন ধমক দিচ্ছেন না, যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে (প্রকাশ্যে) এসব কথাবার্তা বলছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল মুচকি হাসছিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সম্ভবতঃ তুমি আবার রিফাআ’ এর নিকট ফিরে যেতে চাও। তা হবে না। যতক্ষণ না তুমি তার এবং সে তোমার মিলনের আস্বাদ গ্রহণ করবে। [২৬৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৪২)
ফাতিমাহ (রাঃ) বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সংগোপনে একটি কথা বললেন, আমি হাসলাম। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ হাসানো ও কাঁদানোর একমাত্র মালিক।
৬০৮৪. ’আয়িশাহ(রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রিফাআ’ কুরাযী তার স্ত্রীকে ত্বলাক (তালাক) দেন এবং অকাট্য ত্বলাক (তালাক) দেন। এরপর ’আবদুর রহমান ইবনু যুবায়র তাকে বিয়ে করেন। পরে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! তিনি রিফাআ’র কাছে ছিলেন এবং রিফাআ’ তাকে শেষ তিন ত্বলাক (তালাক) দিয়ে দেন এবং তাঁকে ’আবদুর রহমান ইবনু যুবায়র বিয়ে করেন। আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! এর কাছে তো কেবল এই কাপড়ের মত আছে। (এ কথা বলে) তিনি তার ওড়নার আঁচল ধরে উঠালেন। রাবী বলেনঃ তখন আবূ বকর(রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপবিষ্ট ছিলেন এবং সা’ঈদ ইবনু আ’সও ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি লাভের জন্য হুজরার দরজার কাছে উপবিষ্ট ছিলেন।
তখন সা’দ (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ)-কে উচ্চঃস্বরে ডেকে বললেনঃ হে আবূ বকর! আপনি এই স্ত্রী লোকটিকে কেন ধমক দিচ্ছেন না, যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে (প্রকাশ্যে) এসব কথাবার্তা বলছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল মুচকি হাসছিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সম্ভবতঃ তুমি আবার রিফাআ’ এর নিকট ফিরে যেতে চাও। তা হবে না। যতক্ষণ না তুমি তার এবং সে তোমার মিলনের আস্বাদ গ্রহণ করবে। [২৬৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৪২)
হাদিস নং: ৬০৮৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل، حدثنا ابراهيم، عن صالح بن كيسان، عن ابن شهاب، عن عبد الحميد بن عبد الرحمن بن زيد بن الخطاب، عن محمد بن سعد، عن ابيه، قال استاذن عمر بن الخطاب ـ رضى الله عنه ـ على رسول الله صلى الله عليه وسلم وعنده نسوة من قريش يسالنه ويستكثرنه، عالية اصواتهن على صوته، فلما استاذن عمر تبادرن الحجاب، فاذن له النبي صلى الله عليه وسلم فدخل والنبي صلى الله عليه وسلم يضحك فقال اضحك الله سنك يا رسول الله بابي انت وامي فقال " عجبت من هولاء اللاتي كن عندي، لما سمعن صوتك تبادرن الحجاب ". فقال انت احق ان يهبن يا رسول الله. ثم اقبل عليهن فقال يا عدوات انفسهن اتهبنني ولم تهبن رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلن انك افظ واغلظ من رسول الله صلى الله عليه وسلم. قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ايه يا ابن الخطاب، والذي نفسي بيده ما لقيك الشيطان سالكا فجا الا سلك فجا غير فجك ".
৬০৮৫. ইসমা’ঈল (রহ.) ... সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন ’উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট (প্রবেশের) অনুমতি চাইলেন। তখন তাঁর নিকট কুরাইশের কয়েকজন মহিলা প্রশ্নাদি করছিলেন এবং তাদের আওয়াজ তাঁর আওয়াজের চেয়ে উচ্চ ছিল। যখন ’উমার (রাঃ) অনুমতি চাইলেন, তখন তাঁরা জলদি পর্দার আড়ালে চলে গেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে অনুমতি দেয়ার পর যখন তিনি ভিতরে প্রবেশ করলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসছিলেন। ’উমার (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহ আপনাকে হাসি মুখে রাখুন; হে আল্লাহর রাসূল! তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার নিকট যে সব মহিলা ছিলেন, তাদের প্রতি আমি আশ্চর্য হচ্ছি যে, তাঁরা তোমার আওয়াজ শোনা মাত্রই জলদি পর্দার আড়ালে চলে গেলেন।
’উমার (রাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! এদের ভয় করার ব্যাপারে আপনার হকই বেশি। এরপর তিনি মহিলাদেরকে লক্ষ্য করে বললেনঃ হে নিজের জানের দুশমনরা! তোমরা কি আমাকে ভয় কর, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভয় কর না? তাঁরা জবাব দিলেনঃ আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনেক অধিক শক্ত ও কঠোর লোক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ইবনু খাত্তাব! সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার জীবন, যখনই শয়তান পথ চলতে চলতে তোমার সামনে আসে, তখনই সে তোমার রাস্তা বাদ দিয়ে অন্য রাস্তা ধরে। [৩২৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৪৩)
’উমার (রাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! এদের ভয় করার ব্যাপারে আপনার হকই বেশি। এরপর তিনি মহিলাদেরকে লক্ষ্য করে বললেনঃ হে নিজের জানের দুশমনরা! তোমরা কি আমাকে ভয় কর, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভয় কর না? তাঁরা জবাব দিলেনঃ আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনেক অধিক শক্ত ও কঠোর লোক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ইবনু খাত্তাব! সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার জীবন, যখনই শয়তান পথ চলতে চলতে তোমার সামনে আসে, তখনই সে তোমার রাস্তা বাদ দিয়ে অন্য রাস্তা ধরে। [৩২৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৪৩)
হাদিস নং: ৬০৮৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا سفيان، عن عمرو، عن ابي العباس، عن عبد الله بن عمرو، قال لما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم بالطاىف قال " انا قافلون غدا ان شاء الله ". فقال ناس من اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم لا نبرح او نفتحها. فقال النبي صلى الله عليه وسلم " فاغدوا على القتال ". قال فغدوا فقاتلوهم قتالا شديدا وكثر فيهم الجراحات فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " انا قافلون غدا ان شاء الله ". قال فسكتوا فضحك رسول الله صلى الله عليه وسلم. قال الحميدي حدثنا سفيان بالخبر كله.
৬০৮৬. কুতাইবাহ ইবনু সা’ঈদ (রহ.) ... ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়েফে (অবরোধ করে) ছিলেন, তখন একদিন তিনি বললেনঃ ইনশাআল্লাহ আগামীকাল আমরা ফিরে যাব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কয়েকজন সাহাবী বললেনঃ আমরা তায়েফ জয় না করা পর্যন্ত এ স্থান ত্যাগ করব না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তবে সকাল হলেই তোমরা যুদ্ধে নেমে পড়বে। রাবী বলেনঃ তারা ভোর থেকেই তাদের সাথে ভয়ানক যুদ্ধ শুরু করলেন। এতে তাদের বহুলোক আহত হয়ে গেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইনশাআল্লাহ আমরা আগামীকাল ফিরে চলে যাবো এবং তারা সবাই নিশ্চুপ থাকলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন। [৪৩২৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৪৪)
হাদিস নং: ৬০৮৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى، حدثنا ابراهيم، اخبرنا ابن شهاب، عن حميد بن عبد الرحمن، ان ابا هريرة ـ رضى الله عنه ـ قال اتى رجل النبي صلى الله عليه وسلم فقال هلكت وقعت على اهلي في رمضان. قال " اعتق رقبة ". قال ليس لي. قال " فصم شهرين متتابعين ". قال لا استطيع. قال " فاطعم ستين مسكينا ". قال لا اجد. فاتي بعرق فيه تمر ـ قال ابراهيم العرق المكتل فقال " اين الساىل تصدق بها ". قال على افقر مني والله ما بين لابتيها اهل بيت افقر منا. فضحك النبي صلى الله عليه وسلم حتى بدت نواجذه. قال " فانتم اذا ".
৬০৮৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বললেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললঃ আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। আমি (রমাযানে দিনে) আমার স্ত্রীর সাথে যৌন সঙ্গম করে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ তুমি একটি গোলাম আযাদ করে দাও। সে বললঃ আমার গোলাম নেই। তিনি বললেনঃ তাহলে এক নাগাড়ে দু’মাস সিয়াম পালন কর। সে বললঃ এতেও আমি অপারগ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তবে ষাটজন মিসকীনকে খাদ্য দাও। সে বললঃ তারও ব্যবস্থা নাই। তখন এক ঝুড়ি খেজুর এল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ প্রশ্নকারী কোথায়? এইটি নিয়ে সাদাকা করে দাও। লোকটা বললঃ আমার চেয়েও অধিক অভাবগ্রস্ত আবার কে? আল্লাহর কসম! মদিনার দু’ প্রান্তের মাঝে এমন কোন পরিবার নেই, যে আমাদের থেকে অধিক অভাবগ্রস্ত। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে হেসে দিলেন যে, তাঁর চোয়ালের দাঁতগুলো প্রকাশ পেল এবং তিনি বললেনঃ তাহলে এখন এটা তোমরাই খাও। [১৯৩৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৪৫)
হাদিস নং: ৬০৮৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد العزيز بن عبد الله الاويسي، حدثنا مالك، عن اسحاق بن عبد الله بن ابي طلحة، عن انس بن مالك، قال كنت امشي مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وعليه برد نجراني غليظ الحاشية، فادركه اعرابي فجبذ برداىه جبذة شديدة ـ قال انس فنظرت الى صفحة عاتق النبي صلى الله عليه وسلم وقد اثرت بها حاشية الرداء من شدة جبذته ـ ثم قال يا محمد مر لي من مال الله الذي عندك. فالتفت اليه فضحك، ثم امر له بعطاء.
৬০৮৮. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে হাঁটছিলাম। তখন তাঁর গায়ে একখানা গাঢ় পাড়যুক্ত নাজরানী চাদর ছিল। এক বেদুঈন তাঁকে পেয়ে চাদরখানা ধরে খুব জোরে টান দিল। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাঁধের উপর তাকিয়ে দেখলাম যে, জোরে চাদরখানা টানার কারণে তাঁর কাঁধে চাদরের পাড়ের দাগ বসে গেছে। তারপর বেদুঈনটি বললঃ হে মুহাম্মাদ! তোমার কাছে আল্লাহর দেয়া যে সম্পদ আছে, তাত্থেকে আমাকে দেয়ার আদেশ কর। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকিয়ে হেসে দিলেন এবং তাকে কিছু দান করার আদেশ করলেন। [৩১৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৪৬)
হাদিস নং: ৬০৮৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن نمير، حدثنا ابن ادريس، عن اسماعيل، عن قيس، عن جرير، قال ما حجبني النبي صلى الله عليه وسلم منذ اسلمت، ولا راني الا تبسم في وجهي.
৬০৮৯. জারীর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাঁর কাছে যেতে বাধা দেননি। তিনি আমাকে দেখলেই আমার সামনে মুচকি হাসতেন।