অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৮৩/১. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের অর্থহীন শপথের জন্য আল্লাহ তোমাদেরকে পাকড়াও করবেন না...
মোট ৮৭ টি হাদিস
হাদিস নং: ৬৬৬১ সহিহ (Sahih)
ادم حدثنا شيبان حدثنا قتادة عن انس بن مالك قال النبي صلى الله عليه وسلم لا تزال جهنم تقول هل من مزيد حتى يضع رب العزة فيها قدمه فتقول قط قط وعزتك ويزوى بعضها الى بعض رواه شعبة عن قتادة
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ كَانَ النَّبِيُّصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ أَعُوذُ بِعِزَّتِكَ وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَبْقَى رَجُلٌ بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ فَيَقُولُ يَا رَبِّ اصْرِفْ وَجْهِي عَنْ النَّارِ لاَ وَعِزَّتِكَ لاَ أَسْأَلُكَ غَيْرَهَا وَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اللهُ لَكَ ذَلِكَ وَعَشَرَةُ أَمْثَالِهِ وَقَالَ أَيُّوبُ وَعِزَّتِكَ لاَ غِنَى بِي عَنْ بَرَكَتِكَ

ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ (আল্লাহ্) আমি তোমার ইয্যতের আশ্রয় চাই। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি (কিয়ামতের দিন) জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝের স্থানে থাকবে। সে তখন নিবেদন করবে, হে প্রতিপালক! আমার চেহারাটি জাহান্নামের দিক থেকে ফিরিয়ে দাও। তোমার ইযযতের কসম! এছাড়া আর কিছুই আমি তোমার কাছে চাই না। আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ বলবেন, এ পুরস্কার তোমার আর এরূপ দশ গুণ। আইউব (আঃ) বলেন, তোমার ইয্যতের কসম! তোমার বরকত হতে আমি অমুখাপেক্ষী নই। (আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০৫)


৬৬৬১. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জাহান্নাম সর্বদাই বলতে থাকবে- আরও কি আছে? এমন কি রাববুল ইয্যত তাতে তাঁর পা রাখবেন। ’বাস, বাস’ জাহান্নাম বলবে, তোমার ইয্যতের কসম! সেদিন তার একাংশ অন্য অংশের সঙ্গে মিলিত হয়ে যাবে। শু’বা, ক্বাতাদাহ (রহ.) থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। [৪৮৪৮; মুসলিম ৫১/১৩, হাঃ ২৮৪৮, আহমাদ ১২৩৮৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০৬)
হাদিস নং: ৬৬৬২ সহিহ (Sahih)
الاويسي حدثنا ابراهيم عن صالح عن ابن شهاب ح و حدثنا حجاج بن منهال حدثنا عبد الله بن عمر النميري حدثنا يونس قال سمعت الزهري قال سمعت عروة بن الزبير وسعيد بن المسيب وعلقمة بن وقاص وعبيد الله بن عبد الله عن حديث عاىشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم حين قال لها اهل الافك ما قالوا فبراها الله وكل حدثني طاىفة من الحديث وفيه فقام النبي صلى الله عليه وسلم فاستعذر من عبد الله بن ابي فقام اسيد بن حضير فقال لسعد بن عبادة لعمر الله لنقتلنه
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: (لَعَمْرُكَ) لَعَيْشُكَ.

ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, (لَعَمْرُكَ) অর্থ لَعَيْشُكَ (সূরাহ আল-হিজর ১৫/৭২) অর্থাৎ তোমার জীবনের কসম।


৬৬৬২. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর অপবাদ বিষয়ক হাদীস বর্ণনা করেন। অপবাদ রটনাকারীরা যখন তাঁর সম্পর্কে যা ইচ্ছে তাই অপবাদ রটালো, তখন আল্লাহ্ তাঁকে পূত-পবিত্র বলে প্রকাশ করে দিলেন। রাবী বলেন, উপর্যুক্ত বর্ণনাকারীগণ প্রত্যেকেই হাদীসের এক একটি অংশ আমার কাছে বর্ণনা করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উবাই এর মিথ্যা রটনা থেকে নিরাপত্তা চাইলেন। এরপর উসায়দ ইবনু হুযায়র (রাঃ) দাঁড়ালেন এবং সা’দ ইবনু ’উবাদাহ সম্পর্কে বললেন, আল্লাহর কসম, অবশ্য অবশ্যই আমরা তাকে হত্যা করব। [২৫৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০৭)
হাদিস নং: ৬৬৬৩ সহিহ (Sahih)
محمد بن المثنى حدثنا يحيى عن هشام قال اخبرني ابي عن عاىشة (لا يواخذكم الله باللغو) في ايمانكم قال قالت انزلت في قوله لا والله بلى والله
৬৬৬৩. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (لاَ يُؤَاخِذُكُمْ اللهُ) আয়াতটি- لاَ وَاللهِ (না, আল্লাহর শপথ) এবং بَلَى وَاللهِ

(হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ) এ জাতীয় কথা বলা সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়। [৪৬১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০৮)
হাদিস নং: ৬৬৬৪ সহিহ (Sahih)
خلاد بن يحيى حدثنا مسعر حدثنا قتادة حدثنا زرارة بن اوفى عن ابي هريرة يرفعه قال ان الله تجاوز لامتي عما وسوست او حدثت به انفسها ما لم تعمل به او تكلم
وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: (وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا أَخْطَأْتُمْ بِهِ).
وَقَالَ: (لاَ تُؤَاخِذْنِي بِمَا نَسِيتُ).

এবং আল্লাহর বাণীঃ এ ব্যাপারে তোমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি হলে তোমাদের কোন গুনাহ্ নেই - (সূরাহ আহযাব ৩৩/৫); এবং আল্লাহর বাণীঃ আমার ভুলের জন্য আমাকে পাকড়াও করবেন না- (সূরাহ আহকাফ ১৮/৭৩)।


৬৬৬৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আর আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) অন্যত্র হাদীস মারফূ’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ আমার উম্মাতের ঐ সকল ওয়াস্ওয়াসা ক্ষমা করে দিয়েছেন যা তাদের মনে উদিত হয় বা যে সব কথা মনে মনে বলে থাকে; যতক্ষণ না তা বাস্তবে করে বা সে সম্পর্কে কথা বলে। [২৫২৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০৯)
হাদিস নং: ৬৬৬৫ সহিহ (Sahih)
عثمان بن الهيثم او محمد عنه عن ابن جريج قال سمعت ابن شهاب يقول حدثني عيسى بن طلحة ان عبد الله بن عمرو بن العاص حدثه ان النبي صلى الله عليه وسلم بينما هو يخطب يوم النحر اذ قام اليه رجل فقال كنت احسب يا رسول الله كذا وكذا قبل كذا وكذا ثم قام اخر فقال يا رسول الله كنت احسب كذا وكذا لهولاء الثلاث فقال النبي صلى الله عليه وسلم افعل ولا حرج لهن كلهن يومىذ فما سىل يومىذ عن شيء الا قال افعل ولا حرج
৬৬৬৫. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আমর ইবনু ’আস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন খুতবা দিচ্ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়িয়ে নিবেদন করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি ধারণা করলাম যে, অমুক অমুক রুকনের পূর্বে অমুক অমুক রুকন হবে। এরপর আরেক জন উঠে দাঁড়াল এবং বলল, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক অমুক আমলের পূর্বে অমুক ’আমল হবে, (অর্থাৎ তারা যবেহ, হলক্ ও তাওয়াফ) এ তিনটি কাজ সম্পর্কে জানতে চাইল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ করতে পার, কোন দোষ নেই। ঐ দিন যে সম্পর্কে তিনি জিজ্ঞেসিত হলেন, বললেনঃ করতে পার, কোন দোষ নেই। [৮৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২১০)
হাদিস নং: ৬৬৬৬ সহিহ (Sahih)
احمد بن يونس حدثنا ابو بكر بن عياش عن عبد العزيز بن رفيع عن عطاء عن ابن عباس قال قال رجل للنبي صلى الله عليه وسلم زرت قبل ان ارمي قال لا حرج قال اخر حلقت قبل ان اذبح قال لا حرج قال اخر ذبحت قبل ان ارمي قال لا حرج
৬৬৬৬. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বলল যে, আমি পাথর নিক্ষেপের আগে যিয়ারাত করেছি। তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই। আরেক ব্যক্তি বলল, আমি তো যবেহ করার আগে মাথা মুন্ডন করেছি। তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই। আরেক জন বলল, আমি পাথর নিক্ষেপের আগে যবেহ করেছি। তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই। [৮৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২১১)
হাদিস নং: ৬৬৬৭ সহিহ (Sahih)
اسحاق بن منصور حدثنا ابو اسامة حدثنا عبيد الله بن عمر عن سعيد بن ابي سعيد عن ابي هريرة ان رجلا دخل المسجد فصلى ورسول الله صلى الله عليه وسلم في ناحية المسجد فجاء فسلم عليه فقال له ارجع فصل فانك لم تصل فرجع فصلى ثم سلم فقال وعليك ارجع فصل فانك لم تصل قال في الثالثة فاعلمني قال اذا قمت الى الصلاة فاسبغ الوضوء ثم استقبل القبلة فكبر واقرا بما تيسر معك من القران ثم اركع حتى تطمىن راكعا ثم ارفع راسك حتى تعتدل قاىما ثم اسجد حتى تطمىن ساجدا ثم ارفع حتى تستوي وتطمىن جالسا ثم اسجد حتى تطمىن ساجدا ثم ارفع حتى تستوي قاىما ثم افعل ذلك في صلاتك كلها
৬৬৬৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করছিল। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মসজিদের এক কোণে অবস্থান করছিলেন। লোকটি এসে তাঁকে সালাম করল। তিনি বললেনঃ ফিরে যাও এবং সালাত আদায় কর। কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি। তখন সে ফিরে গেল এবং সালাত আদায় করল। আবার এসে তাঁকে সালাম করল। তিনি বললেনঃ তোমার উপরও সালাম। তুমি ফিরে যাও এবং সালাত আদায় কর। কারণ, তুমি সালাত আদায় করনি। তৃতীয়বারে লোকটি বলল, আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ যখন তুমি সালাতে দন্ডায়মান হবে তখন খুব ভালভাবে ’উযূ করবে। এরপর কিবলামুখী হবে। তারপর তাকবীর বলবে। এরপর কুরআন থেকে যা তোমার জন্য সহজ তা তিলাওয়াত করবে। এরপর ধীরস্থিরভাবে রুকূ করবে। এরপর মাথা উঠাবে। এমনকি সঠিকভাবে দাঁড়িয়ে যাবে। এরপর সিজদা করবে ধীরস্থিরভাবে। এরপর মাথা তুলে সোজা হবে এবং ধীরস্থিরভাবে বসে যাবে। এরপর আবার ধীরস্থিরভাবে সিজদা করবে। তারপর সি্জদা থেকে মাথা উঠিয়ে স্থির হয়ে বসবে। তারপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। এরপর তোমার পুরো সালাতেই এরূপ করবে।[1] [৭৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২১২)
নোট: [1] এ হাদীসটি খুবই স্পষ্টভাবে প্রকাশ করছে যে, সালাতের যাবতীয় কার্যাদি ধীরস্থিরভাবে এবং পূর্ণাঙ্গভাবে করতে হবে। তাড়াহুড়া করে কেবল উঠক বৈঠক করলে তা মোটেই সালাত বলে গণ্য হবে না। এ হাদীসের আলোকে আমরা যেন সালাতে ধীরস্থিরতা অবলম্বন করি।
হাদিস নং: ৬৬৬৮ সহিহ (Sahih)
فروة بن ابي المغراء حدثنا علي بن مسهر عن هشام بن عروة عن ابيه عن عاىشة قالت هزم المشركون يوم احد هزيمة تعرف فيهم فصرخ ابليس اي عباد الله اخراكم فرجعت اولاهم فاجتلدت هي واخراهم فنظر حذيفة بن اليمان فاذا هو بابيه فقال ابي ابي قالت فوالله ما انحجزوا حتى قتلوه فقال حذيفة غفر الله لكم قال عروة فوالله ما زالت في حذيفة منها بقية خير حتى لقي الله
৬৬৬৮. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহূদের যুদ্ধে মুশরিকরা প্রকাশ্যতঃ পরাজিত হলে ইব্লিস চিৎকার করে বলল, হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা পিছনের দিকে ফির। এতে সামনের লোকগুলো পিছনের দিকে ফিরল। তারপর পিছনের লোকদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। হুযাইফাহ ইবনু ইয়ামান (রাঃ) হঠাৎ তাঁর পিতাকে দেখে (মুসলিমদের প্রতি লক্ষ্য করে) বললেন, এ তো আমার পিতা, আমার পিতা। আল্লাহর কসম! তারা ফিরল না। শেষে তারা তাকে হত্যা করল। হুযাইফাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ তোমাদের ক্ষমা করুন। ’উরওয়াহ (রাঃ) বলেন যে, আল্লাহর কসম! মৃত্যু পর্যন্ত হুযাইফাহ (রাঃ)-এর মাঝে এ ব্যাপারটি বিদ্যমান ছিল। [৩২৯০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২১৩)
হাদিস নং: ৬৬৬৯ সহিহ (Sahih)
يوسف بن موسى حدثنا ابو اسامة قال حدثني عوف عن خلاس ومحمد عن ابي هريرة قال قال النبي صلى الله عليه وسلم من اكل ناسيا وهو صاىم فليتم صومه فانما اطعمه الله وسقاه
৬৬৬৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে সায়িম ভুলে কিছু খায় সে যেন তার সওম পূর্ণ করে। কেননা, আল্লাহ্ তাকে খাইয়েছেন ও পান করিয়েছেন।[1] [১৯৩৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২১৪)
নোট: [1] ভুলবশতঃ পেট পুরে পানাহার করলেও সওম নষ্ট হবে না।
হাদিস নং: ৬৬৭০ সহিহ (Sahih)
ادم بن ابي اياس حدثنا ابن ابي ذىب عن الزهري عن الاعرج عن عبد الله ابن بحينة قال صلى بنا النبي صلى الله عليه وسلم فقام في الركعتين الاوليين قبل ان يجلس فمضى في صلاته فلما قضى صلاته انتظر الناس تسليمه فكبر وسجد قبل ان يسلم ثم رفع راسه ثم كبر وسجد ثم رفع راسه وسلم
৬৬৭০. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু বুহাইনাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। প্রথম দু’রাকআতে বসার পূর্বেই তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। এভাবেই সালাত আদায় করতে থাকলেন। সালাত শেষ করলে লোকেরা তাঁর সালামের অপেক্ষা করছিল। তিনি আল্লাহু আকবর বলে সালামের পূর্বে সিজদা করলেন। এরপর তিনি তার মাথা উঠালেন। আবার আল্লাহু আকবর বলে সিজদা করলেন। এরপর আবার মাথা উঠালেন এবং সালাম ফিরালেন। ৭২৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২১৫)
হাদিস নং: ৬৬৭১ সহিহ (Sahih)
اسحاق بن ابراهيم سمع عبد العزيز بن عبد الصمد حدثنا منصور عن ابراهيم عن علقمة عن ابن مسعود ان نبي الله صلى الله عليه وسلم صلى بهم صلاة الظهر فزاد او نقص منها قال منصور لا ادري ابراهيم وهم ام علقمة قال قيل يا رسول الله اقصرت الصلاة ام نسيت قال وما ذاك قالوا صليت كذا وكذا قال فسجد بهم سجدتين ثم قال هاتان السجدتان لمن لا يدري زاد في صلاته ام نقص فيتحرى الصواب فيتم ما بقي ثم يسجد سجدتين
৬৬৭১. ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার তাঁদের নিয়ে যুহরের সালাত আদায় করলেন। তিনি সালাতে কিছু বেশি করলেন বা কিছু কম করলেন। মানসূর বলেন, এই কম-অধিকের ব্যাপারে সন্দেহ ইব্রাহীমের না ’আলক্বামাহর তা আমার জানা নেই। রাবী বলেন, জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের মাঝে কি কিছু কমিয়ে দেয়া হয়েছে, না আপনি ভুলে গেছেন? তিনি বললেনঃ কী হয়েছে? সাহাবাগণ বললেন, আপনি এভাবে এভাবে সালাত আদায় করেছেন। রাবী বলেন, তখন তিনি তাদেরকে নিয়ে দু’টি সিজদা করেন। এরপর বললেন, এ দু’টি সিজদা ঐ ব্যক্তির জন্য যার স্মরণ নেই যে, সালাতে সে কি অধিক কিছু করেছে, না কম করেছে। এমন অবস্থায় সে চিন্তা করে (নির্ভুলটি স্থির করার চেষ্টা করবে)। আর যা বাকি থাকবে তা পুরা করে নেবে। এরপর দু’টি সিজদা করবে। [৪০১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২১৬)
হাদিস নং: ৬৬৭২ সহিহ (Sahih)
حدثنا الحميدي، حدثنا سفيان، حدثنا عمرو بن دينار، اخبرني سعيد بن جبير، قال قلت لابن عباس فقال حدثنا ابى بن كعب، انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏(‏لا تواخذني بما نسيت ولا ترهقني من امري عسرا‏)‏ قال ‏"‏ كانت الاولى من موسى نسيانا ‏"‏‏.‏
৬৬৭২. ’উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আল্লাহর বাণীঃ لاَ تُؤَاخِذْنِي بِمَا نَسِيتُ وَلاَ تُرْهِقْنِي مِنْ أَمْرِي عُسْرًا (মূসা বলল, ’আমার ভুলের জন্য আমাকে পাকড়াও করবেন না, আর আমার ব্যাপারে আপনি অধিক কড়াকড়ি করবেন না) সম্পর্কে শুনেছেন। তিনি বলেছেনঃ মূসা (আঃ)-এর প্রথমটি ভুলবশত হয়েছিল। [৭৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২১৭)
হাদিস নং: ৬৬৭৩ সহিহ (Sahih)
قال ابو عبد الله كتب الي محمد بن بشار حدثنا معاذ بن معاذ حدثنا ابن عون عن الشعبي قال قال البراء بن عازب وكان عندهم ضيف لهم فامر اهله ان يذبحوا قبل ان يرجع لياكل ضيفهم فذبحوا قبل الصلاة فذكروا ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فامره ان يعيد الذبح فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم عندي عناق جذع عناق لبن هي خير من شاتي لحم فكان ابن عون يقف في هذا المكان عن حديث الشعبي ويحدث عن محمد بن سيرين بمثل هذا الحديث ويقف في هذا المكان ويقول لا ادري ابلغت الرخصة غيره ام لا رواه ايوب عن ابن سيرين عن انس عن النبي صلى الله عليه وسلم
৬৬৭৩. শা’বী থেকে বর্ণনা করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেছেন যে, বারাআ ইবনু ’আযিব (রহ.)-এর নিকট কয়েকজন মেহমান ছিল। তিনি তাঁর পরিবার-পরিজনকে তাঁদের জন্য সালাত থেকে ফেরার আগেই কিছু যবেহ করতে হুকুম করলেন, যেন ফিরে এসে তাঁরা আহার করতে পারেন। তখন পরিবারের লোকেরা সালাত থেকে ফেরার আগেই (কুরবানীর পশু) যবেহ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে লোকেরা এ সম্পর্কে বর্ণনা করল। তিনি পুনরায় যবেহ করার জন্য হুকুম করলেন। বারাআ ইবনু ’আযিব (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে এমন একটি বক্রীর বাচ্চা আছে যা দু’টি বড় বকরির মাংসের চেয়েও উত্তম।

ইবনু ’আওন শাবীর মাধ্যমে বর্ণনা করতে গিয়ে এ জায়গায় থেমে যেতেন। তিনি মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রহ.) থেকে এরকমই বর্ণনা করতেন এবং এ স্থানে থেমে যেতেন। আর বলতেন, আমার জানা নেই তিনি ব্যতীত অন্য কারও জন্য এরূপ অনুমতি আছে কিনা?

আইউব ..... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। [৯৫১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২১৭)
হাদিস নং: ৬৬৭৪ সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب حدثنا شعبة عن الاسود بن قيس قال سمعت جندبا قال شهدت النبي صلى الله عليه وسلم صلى يوم عيد ثم خطب ثم قال من ذبح فليبدل مكانها ومن لم يكن ذبح فليذبح باسم الله
৬৬৭৪. জুন্দুব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি ঈদের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর খুৎবা প্রদান করলেন। এরপর বললেনঃ যে ব্যক্তি (সালাতের আগেই) যবেহ করেছে সে যেন তার স্থলে আরেকটি যবেহ করে। আর যে এখনও যবেহ করেনি সে যেন আল্লাহর নাম নিয়ে যবেহ করে। [৯৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২০৮ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২১৮)
হাদিস নং: ৬৬৭৫ সহিহ (Sahih)
محمد بن مقاتل اخبرنا النضر اخبرنا شعبة حدثنا فراس قال سمعت الشعبي عن عبد الله بن عمرو عن النبي صلى الله عليه وسلم قال الكباىر الاشراك بالله وعقوق الوالدين وقتل النفس واليمين الغموس
(وَلاَ تَتَّخِذُوا أَيْمَانَكُمْ دَخَلاً بَيْنَكُمْ فَتَزِلَّ قَدَمٌ بَعْدَ ثُبُوتِهَا وَتَذُوقُوا السُّوءَ بِمَا صَدَدْتُمْ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَلَكُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ)، دَخَلاً مَكْرًا وَخِيَانَةً.

(আল্লাহর বাণী) পরস্পর ধোঁকা দেয়ার জন্য তোমরা তোমাদের শপথকে ব্যবহার করো না। করলে পা স্থির হবার পর পিছলে যাবে। আর তোমাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি- (সূরাহ নাহল ১৬/৯৪)।

دَخَلاً দ্বারা ধোঁকা ও খিয়ানত উদ্দেশ্য।


৬৬৭৫. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আমর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ কবীরা গুনাহসমূহের (অন্যতম) হচ্ছে আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা, পিতামাতার নাফরমানী করা, কাউকে হত্যা করা এবং মিথ্যা কসম করা।[1] [৬৮৭০, ৬৯২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২১৯)
নোট: [1] اليمين الغموس মিথ্যা শপথের তওবা ছাড়া কোন কাফ্ফারা নেই। বলা হয়, এই নামে নাম করণের কারণ হল উহা শপথকারীকে পাপে নিমজ্জিত করে অতঃপর জাহান্নামে নিক্ষেপ করে। (ফাতহুল বারী)
হাদিস নং: ৬৬৭৬ সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا ابو عوانة عن الاعمش عن ابي واىل عن عبد الله قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من حلف على يمين صبر يقتطع بها مال امرى مسلم لقي الله وهو عليه غضبان فانزل الله تصديق ذ‘لك (ان الذين يشترون بعهد الله وايمانهم ثمنا قليلا) الى اخر الاية
৬৬৭৬. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি যদি কোন মুসলিমের সম্পদ ছিনিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে মিথ্যা শপথ করে তবে আল্লাহর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হবে এমন অবস্থায় যে, আল্লাহ্ তার ওপর রাগান্বিত থাকবেন। আল্লাহ্ এ কথার সত্যতা প্রমাণে আয়াত ......الآية إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ অবতীর্ণ করেন। [২৩৫৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২২০)
হাদিস নং: ৬৬৭৭ সহিহ (Sahih)
فدخل الاشعث بن قيس فقال ما حدثكم ابو عبد الرحمن فقالوا كذا وكذا قال في انزلت كانت لي بىر في ارض ابن عم لي فاتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال بينتك او يمينه قلت اذا يحلف عليها يا رسول الله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم من حلف على يمين صبر وهو فيها فاجر يقتطع بها مال امرى مسلم لقي الله يوم القيامة وهو عليه غضبان
৬৬৭৭. এরপর আশ’আস ইবনু কায়স (রাঃ) প্রবেশ করে জিজ্ঞেস করলেন যে, আবূ ’আবদুর রাহমান তোমাদের কাছে কী বর্ণনা করেছেন। লোকেরা বলল, এমন এমন। তখন তিনি বললেন, এ আয়াত আমার ব্যাপারে অবতীর্ণ করা হয়েছে। আমার চাচাতো ভাই-এর জমিতে আমার একটি কূপ ছিল। আমি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হলাম। তিনি বললেনঃ তুমি প্রমাণ হাযির কর অথবা সে শপথ করুক! আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এ কথার উপরে সে তো শপথ করেই ফেলবে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের সম্পদ ছিনিয়ে নেয়ার মানসে কসম করে, অথচ সে তাতে মিথ্যাচারী, তাহলে কিয়ামতের দিন সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে এমতাবস্থায় যে আল্লাহ্ তার উপর রাগান্বিত থাকবেন। [২৩৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২২০)
হাদিস নং: ৬৬৭৮ সহিহ (Sahih)
محمد بن العلاء حدثنا ابو اسامة عن بريد عن ابي بردة عن ابي موسى قال ارسلني اصحابي الى النبي صلى الله عليه وسلم اساله الحملان فقال والله لا احملكم على شيء ووافقته وهو غضبان فلما اتيته قال انطلق الى اصحابك فقل ان الله او ان رسول الله صلى الله عليه وسلم يحملكم
৬৬৭৮. আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আমার সাথী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পাঠাল তাঁর কাছে বাহন চাওয়ার জন্য। তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি তোমাদেরকে কোন কিছুই আরোহণের জন্য দিতে পারব না। তখন আমি তাঁকে ক্ষুব্ধ অবস্থায় পেলাম। এরপর যখন আমি তাঁর কাছে এলাম, তিনি বললেনঃ তুমি তোমার সাথীদের কাছে চলে যাও এবং বল যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ অথবা আল্লাহর রাসূল তোমাদের আরোহণের জন্য বাহনের ব্যবস্থা করবেন। [৩১৩৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২২১)
হাদিস নং: ৬৬৭৯ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد العزيز، حدثنا ابراهيم، عن صالح، عن ابن شهاب، ح وحدثنا الحجاج، حدثنا عبد الله بن عمر النميري، حدثنا يونس بن يزيد الايلي، قال سمعت الزهري، قال سمعت عروة بن الزبير، وسعيد بن المسيب، وعلقمة بن وقاص، وعبيد الله بن عبد الله بن عتبة، عن حديث، عاىشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم حين قال لها اهل الافك ما قالوا، فبراها الله مما قالوا ـ كل حدثني طاىفة من الحديث ـ فانزل الله ‏(‏ان الذين جاءوا بالافك‏)‏ العشر الايات كلها في براءتي‏.‏ فقال ابو بكر الصديق ـ وكان ينفق على مسطح لقرابته منه ـ والله لا انفق على مسطح شيىا ابدا، بعد الذي قال لعاىشة‏.‏ فانزل الله ‏(‏ولا ياتل اولو الفضل منكم والسعة ان يوتوا اولي القربى‏)‏ الاية‏.‏ قال ابو بكر بلى والله اني لاحب ان يغفر الله لي‏.‏ فرجع الى مسطح النفقة التي كان ينفق عليه وقال والله لا انزعها عنه ابدا‏.‏
৬৬৭৯. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী ’আয়িশাহ (রাঃ) এর ব্যাপারে অপবাদ রটনাকারীরা যা বলেছিল তা শুনতে পেলাম। আল্লাহ্ এ মর্মে তাঁর নির্দোষিতা প্রকাশ করে দিয়েছেন। উপরোক্ত বর্ণনাকারীগণ প্রত্যেকেই আমার নিকট উল্লিখিত ঘটনার অংশ বিশেষ বর্ণনা করেছেন। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্ তা’আলা (إِنَّ الَّذِينَ جَاءُوا بِالإِفْكِ) দশখানা আয়াত আমার নির্দোষিতা প্রকাশ করার জন্য অবতীর্ণ করেছেন। আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে মিসতাহ্ ইবনু সালামাহর ভরণ-পোষণ করতেন। অপবাদ দেয়ার কারণে আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! মিসতাহ্ যখন ’আয়িশাহর ব্যাপারে অপবাদ রটিয়েছে; এরপর আমি আর তার জন্য কখনো কিছু খরচ করব না। তখন আল্লাহ্ (وَلاَ يَأْتَلِ أُولُوا الْفَضْلِ.....)الآية এ আয়াত অবতীর্ণ করেন। আবূ বকর (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! আল্লাহ্ আমাকে ক্ষমা করে দিন এটা আমি নিশ্চয়ই পছন্দ করি। তিনি পুনরায় মিসতাহের ভরণ-পোষণের জন্য ঐ খরচ দেয়া শুরু করলেন, যা তিনি পূর্বে তাকে দিতেন এবং তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমি তার খরচ দেয়া কখনো বন্ধ করব না।[1] [২৫৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২২২)
নোট: [1] যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে দান খয়রাত করে, আল্লাহ তার দোষ ত্রুটি ক্ষমা করে দেন।
হাদিস নং: ৬৬৮০ সহিহ (Sahih)
ابو معمر حدثنا عبد الوارث حدثنا ايوب عن القاسم عن زهدم قال كنا عند ابي موسى الاشعري قال اتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم في نفر من الاشعريين فوافقته وهو غضبان فاستحملناه فحلف ان لا يحملنا ثم قال والله ان شاء الله لا احلف على يمين فارى غيرها خيرا منها الا اتيت الذي هو خير وتحللتها
৬৬৮০. আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কতক আশ’আরী লোকের সাথে (বাহন চাওয়ার জন্য) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হলাম। যখন হাজির হলাম, তখন তাঁকে ক্ষুব্ধ অবস্থায় পেলাম। আমরা তাঁর কাছে বাহন চাইলাম। তিনি কসম করে বললেন যে, আমাদেরকে বাহন দিবেন না। এরপর বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি কোন কিছুর ওপর আল্লাহর ইচ্ছা মুতাবিক যখন কসম করি আর তার অন্যটির মাঝে কল্যাণ দেখতে পাই; তাহলে যেটা কল্যাণকর সেটাই করি আর কসমকে ভঙ্গ করি। [৩১৩৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২২৩)
অধ্যায় তালিকা